Category: রাজনীতি

  • প্রথমবারের মতো বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তারেক রহমানের আগমন ও নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস

    প্রথমবারের মতো বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তারেক রহমানের আগমন ও নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস

    প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথমবারের মতো রাজধানীর নয়াপল্টনের বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পৌঁছেছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত হলে নেতাকর্মীরা তাঁর স্বাগত জানাতে স্লোগান দেয়। এর আগের সময়ে, সন্ধ্যা ৭টা ২৩ মিনিটে তাঁর গাড়িবহর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পৌঁছায়, যেখানে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উল্লসিত হয়ে তাঁকে স্বাগত জানিয়ে স্লোগান দেন। এর আগে, সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং সন্ধ্যার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।

    তারেক রহমান যখন দলীয় কার্যালয়ের সামনে পৌঁছান, তখন তিনি গাড়ির দরজায় দাঁড়িয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে দেন। এরপর তিনি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। শনিবার সন্ধ্যায়, তিনি কার্যালয়ের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ধৈর্য্য ধারণ করে আইনশৃঙ্খলার মধ্যে থেকে কাজ করতে হবে এবং যেন সাধারণ মানুষের ভোগান্তি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

    নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমাদের চেষ্টা করতে হবে, সবকিছু যেন স্বাভাবিক থাকে। আমি অফিসে আরও আসবো, তবে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া যাবে না। মানুষের চলাচলে যাতে বিরুদ্ধতা না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘দলীয় কার্যালয়ে আসলে সংগঠনের কাজ করা যায় এবং নেতাকর্মীদের সাথে দেখা করা সম্ভব হয়। আপনারা সহযোগিতা করলে আমি অফিসে আসতে পারব, না হলে পারবেন না।’

    তারেক রহমান আরও বলেন, ‘নেতাকর্মীদের ধৈর্য্য ধারণ করতে হবে, আইনশৃঙ্খলার ভেতরে থেকে কাজ করতে হবে এবং মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।’ তিনি উল্লেখ করেন, দেশের নানা সমস্যা রয়েছে, এগুলো মানুষকে বোঝাতে হবে এবং ধৈর্য্য ধারণে তাদের সহায়তা করতে হবে। তিনি যোগ করেন, ‘মানুষ অনেক প্রত্যাশা নিয়ে আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। তাই কোনও কর্মকাাণ্ডের মাধ্যমে যেন মানুষের কষ্ট বা অসুবিধা না হয়, সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’

    বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি রাস্তাগুলো পরিষ্কার রাখার ওপর জোর দেন, বলেন, ‘আমাদের প্রথম কাজ হলো রাস্তাগুলো ক্লিয়ার করা।’ পাশাপাশি তিনি সতর্ক করে দেন, ভবিষ্যতেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক না রাখা হলে তাঁর পক্ষে সেখানে আসা কঠিন হবে। এই অবস্থায়, সন্ধ্যার আগেই নেতাকর্মীরা ঢাকায় এসে তাঁর অপেক্ষা শুরু করেন। ঘণ্টাকয়েকের বেশি সময় ধরে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থকরা কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়, যেখানে তারা ‘তারেক রহমানের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’শ্লোগানে পুরো এলাকা মুখর করে রাখে।

    দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছানোর পরে, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান জানান, সেখানে গিয়ে তিনি নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং পরে একটি বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ও অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    অতীতে, বিকেল থেকেই পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তাঁরা বিভিন্ন পয়েন্টে সতর্ক অবস্থানে থাকেন। নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে স্লোগান দেন, যেমন ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন শুভেচ্ছা স্বাগত’, ‘ছাত্রদলের পক্ষ থেকে লাল গোলাপ’, এবং ‘তারেক রহমানের নামে শুভেচ্ছা’। এই কারণে, নাইটিয়ংগেল মোড় থেকে নয়াপল্টন পর্যন্ত যানজট সৃষ্টি হয়, যেখানে এক লাইনে গাড়ি চলাচল করছে। এক নারী কর্মী বলেন, ‘দুই বছর আগে আমরা এখানে আসতে পারতাম না। পুলিশ তাড়াতাড়ি গ্রেফতার করত। আর আজ এই সুযোগ পেয়ে আমরা আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ।’ নিরাপত্তার কারণে সব কিছুই যেন আরও স্বাভাবিক হয়ে উঠুক, সেই লক্ষ্যেই এই কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

  • শ্রদ্ধা জানিয়ে জামায়াত আমিরের ভাষণে নৈতিক দায়িত্বের গুরুত্ব

    শ্রদ্ধা জানিয়ে জামায়াত আমিরের ভাষণে নৈতিক দায়িত্বের গুরুত্ব

    মহান স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এসময় তিনি বলেন, আমাদের এই অবদান শুধুমাত্র শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি একটি গভীর নৈতিক দায়িত্ব, যা আমাদের সকলের মাথায় অঙ্গীকার হিসেবে থাকা উচিত। এটি রাষ্ট্রের অন্যতম সর্বোচ্চ আচার, যেখানে সবার পক্ষ থেকে সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রকাশের জন্য সবাই উপস্থিত হয়েছেন।

    ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার সকালে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি প্রार्थনা ও মোনাজাতের পর সাংবাদিকদের তিনি এই মন্তব্য করেন। ডা..shফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, আমাদের বীর শহীদদের জন্য আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছি যেন তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও শান্তি রক্ষা করেন, এবং রহমত বর্ষণ করেন। তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রত্যাশা একটি অহিংস, দুর্নীতিমুক্ত এবং বৈষম্যহীন মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার, যার জন্য সকলকে সচেষ্ট হতে হবে।

    তিনি দেশের সকল মানুষের উদ্দেশ্যে বলেছেন, আজকের এই মুহূর্তে আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা দরকার যেন আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের স্বাধীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি। এই উপলক্ষে তিনি সকল দেশবাসীকে মহান স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন জানিয়েছেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি, জামায়াতের মহাসচিব মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী মহাসচিব রফিকুল ইসলাম খান এমপি, নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি ও জামায়াতের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দ।

  • গণরায়ের বিরুদ্ধ গেলে জনতা তাদের প্রত্যাখ্যান করবে: আসিফ মাহমুদ

    গণরায়ের বিরুদ্ধ গেলে জনতা তাদের প্রত্যাখ্যান করবে: আসিফ মাহমুদ

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, গণরায়কে উপেক্ষা করে সরকার যদি অগ্রসর হতে চায়, তাহলে জনগণ তা মেনে নেবে না। গণরায়ের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেয়া বা তার উপেক্ষা করলে ইতিহাসের পরম্পরায় জনগণই তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) স্বাধীনতা দিবসে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধে শাহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘এটা আপনি দেখেছেন যে, বাংলাদেশের ইতিহাসে অনেক ক্ষমতাবান ও শক্তিশালী সরকার গঠন হয়েছে, কিন্তু যখনই তারা গণরায়ের বিরুদ্ধে গেছে বা তার উপেক্ষা করেছে, তখনই তারা ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে গেছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘১৯৭০ সালের নির্বাচনে জনগণের রায় পেয়ে ক্ষমতা হস্তান্তর না করার ফলশ্রুতি মাঝেই ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়। তেমনি, ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলনের মাধ্যমে পরিবর্তন আসে। দীর্ঘ ১৭ বছর দমন-পীড়নের পরে, যখন সরকার জনগণের রায়ের বিরোধিতা করে শাসনক্ষমতা ধারণের চেষ্টা করেছিল, তবে শেষ পর্যন্ত জনতার আন্দোলনের সামনে তাদের হার মানতে হয়েছে।’

    আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, ‘বর্তমানে যদি গণরায় বা গণভোটের সিদ্ধান্তকে অস্বীকার করে সরকার এগিয়ে যেতে চায়, তাহলে জনগণ তা কখনোই মানবে না। গণভোটে বিপুলসংখ্যক মানুষ “হ্যাঁ” ভোট দিয়ে তাদের সমর্থন জানিয়েছে, সে কারণেই আমাদের বলতে চাই, একাত্তরের রক্তের বিনিময়ে যে স্বপ্ন ও সংস্কার দেখা গেছে, তা বাস্তবায়ন করতে হবে। এই রায় মানা না হলে, ৭০ শতাংশ জনগণ যেন যেকোনো সময় রাস্তায় নামতে দ্বিধা করবে না।’

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘অতএব, আমাদের সবাইকে জনগণের পক্ষে থাকতে হবে, যাতে প্রত্যেকের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুন্দর দেশ গড়ে উঠতে পারে। আর যদি সরকারের মানসিকতা বিপরীতমুখী হয়, তাহলে জনগণের শক্তিকে নিয়ে আবারো মাঠে নামতে হতে পারে, স্বাধীনতা রক্ষা করতে।’

  • প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত তারেক রহমান, নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস

    প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত তারেক রহমান, নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস

    প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এটা প্রথমবারের মতো রাজধানীর নয়াপল্টনের বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এসে উপস্থিত হলেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে তারেক রহমান দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পৌঁছালে নেতাকর্মীরা উল্লাসে মুখর হয়ে তাকে স্বাগত জানান। এর আগে সন্ধ্যা ৭টা ২৩ মিনিটের দিকে তার গাড়িবহর কার্যালয়ের সামনে এসে পৌঁছায়, এ সময় বিশাল সংখ্যক নেতাকর্মী ফেটে পড়েন স্লোগানে, তাকে স্বাগত জানিয়ে। এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। তারেক রহমান গাড়ির দরজায় দাঁড়িয়ে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানান এবং তারপর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। শনিবার সন্ধ্যায় তিনি কার্যালয়ের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান দলের নেতাকর্মীদের দেশের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন, মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ধৈর্য্য ধরে শান্তিপূর্ণভাবে কাজ চালিয়ে যেতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, কোনো পরিস্থিতিতে যেন সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ না হয়, সেই দিকে সবাইকে নজরদারি করতে হবে। নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমাদের চেষ্টা করতে হবে সবকিছু যেন স্বাভাবিক থাকে। আমি অফিসে আরও আসব, তবে রাস্তায় ভিড় ও যানজট সৃষ্টি করা যাবে না। মানুষের চলাচলকে বাধাগ্রস্ত করতে দেওয়া যাবে না।’ তিনি আরও বলেন, দলীয় কার্যালয়ে এসে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সম্পন্ন করা যায় এবং নেতাকর্মীদের সাথে সরাসরি দেখা সম্ভব। ‘আপনাদের সহযোগিতা থাকলে আমি অফিসে আসতে পারব, না হলে আসতে পারব না,’ এ কথা বলেন তিনি। তারেক রহমান নেতাকর্মীদের ধৈর্য্য ও পরিস্থিতি অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের ধৈর্য্য ধরতে হবে, আইনশৃঙ্খলার মধ্যে থেকে কাজ করতে হবে এবং মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, দেশের নানা সমস্যা নিয়ে মানুষের মাঝে বোঝানো ও তাদের ধৈর্য্য ধারণে সহায়তা করতে হবে। বক্তৃতা চলাকালে তিনি বলেন, ‘মানুষ আমাদের অনেক প্রত্যাশা নিয়ে দলের দিকে তাকিয়ে আছে।’ তাই, যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা মানুষের কষ্টের কারণ হয়, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। সড়ক সরব রাখার উপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রথম কাজ হচ্ছে রাস্তা যেন খালি রাখা হয়।’ একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, ভবিষ্যতেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক না থাকলে তার জন্য তার উপস্থিতি কঠিন হয়ে পড়বে। সন্ধ্যার মূল সময়ের আগে, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে তিনি দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পৌঁছালে নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বাসে তাদের স্বাগত জানান। দুপুর থেকে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা কার্যালয়ের আশেপাশে জড়ো হতে থাকেন, বিকেলে সড়কের চারপাশে মানুষের ঢল নামে। তারা বিভিন্ন স্লোগানে পরিপূর্ণ করে তোলে পুরো এলাকা—‘তারেক রহমানের আগমন উৎফুল্ল স্বাগত’, ‘প্রথম নেতা’ সহ নানা শ্লোগান। সন্ধ্যার সময় প্রধানমন্ত্রী অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে তিনি সেখানে উপস্থিত হন এবং গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানকার নেতারা বিভিন্ন সাংগঠনিক বিষয়ে আলোচনা করেন। এই দৃশ্যগুলোতে দেখা যায়, পুরানা পল্টনের নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে সিরাজুল ইসলাম সড়ক পর্যন্ত নেতাকর্মীদের বড় বহর অবস্থান করে আছে, তাদের মাঝে দলের ব্যানার, ফেস্টুন ও বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিচ্ছিন্নভাবে স্লোগান দিচ্ছেন—‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন শুভেচ্ছা স্বাগতম’, ‘তারেক রহমানের জন্য লাল গোলাপের শুভেচ্ছা’। সড়কের এ দৃশ্যের কারণে নয়াপল্টন এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়, যেখানে যানবাহন লেন অনুসারে চলাচল করতে পারেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন পয়েন্টে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। এক নারী নেতা বলেন, ‘দুই বছর আগে আমরা এখানে আসতে পারতাম না, পুলিশের কারণে গ্রেফতার হওয়া একটা রীতিতে রূপ নিয়েছিল। আজকের দিনটি সত্যিই আল্লাহর অশেষ কৃপায় সম্ভব হয়েছে।’ খবর: এইভাবে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি ও নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে বিএনপি নেতাদের মাঝে নতুন মাত্রায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে, যেখানে সাধারণ মানুষও উত্তেজিত ও আশাবাদী।

  • ‘নৈতিক দায়িত্ব পালন করতে এসেছি’, জামায়াতের আমিরের স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন

    ‘নৈতিক দায়িত্ব পালন করতে এসেছি’, জামায়াতের আমিরের স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন

    মহান স্বাধীনতা দিবসের अवसरেআগেই জাতীয় স্মৃতিসৌধে উপস্থিত হয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমি আসছি একটি নৈতিক দায়িত্ব পালন করতে। এই স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানানো আমাদের জন্য একটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আচার। তিনি বলেন, আমরা সবাই মানসিকভাবে এই শহীদদের জন্য গভীর শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি।

    বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ সকালে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে মোনাজাতের পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই কথাগুলো বলেন তিনি।

    জামায়াতের আমির বলেন, আমাদের বীর শহীদদের জন্য আমরা আল্লাহর দরবারে দোয়া করেছি যাতে দেশটির সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা আরও সুদৃঢ় হয়। আমাদের প্রিয় দেশ যেন শান্তির সাথে অগ্রসর হয়, সেজন্য তিনি দোয়া করেছেন।

    তিনি আরও বলেন, আমরা চাই একটি অহিংস, দুর্নীতিমুক্ত ও বৈষম্যহীন মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে। তিনি দেশের সকল নাগরিকের কাছে এই ভাষ্য প্রকাশ করেন, যাতে সবার মধ্যে ঐক্য ও Brotherhood তৈরি হয়। তিনি দেশের স্বস্তি ও উন্নতির জন্য সমবেতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের ন্যায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান এমপি, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি এবং আরও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

  • গণরায়ের বিরুদ্ধে গেলে জনগণই তাদের প্রত্যাখ্যান করবে: আসিফ মাহমুদ

    গণরায়ের বিরুদ্ধে গেলে জনগণই তাদের প্রত্যাখ্যান করবে: আসিফ মাহমুদ

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, গণরায়কে উপেক্ষা করে সরকার যদি সামনে এগিয়ে যেতে চায়, তবে জনগণ তা মানবে না। গণরায়ের অবজ্ঞা করে কোনও স্বৈরাচারী শাসন টেকসই হতে পারে না। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) স্বাধীনতা দিবসে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রতিরোধের জন্য শহীদাদের জন্য শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আপনাদের দেখেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে বহু সরকার গঠনের জন্য গড়ে ওঠা শক্তিশালী শক্তিরা ক্ষণস্থায়ী হয়েছে, কারণ তারা যখনই গণরায়ের প্রতি অবজ্ঞা করে, তখনই তারা ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে যায়। গণরায়ের গুরুত্ব অস্বীকার করে ক্ষমতা ধরে রাখা সম্ভব নয়। এই রায়ই আমাদের মুক্তির পথ নির্দেশ করে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘১৯৭০ সালের নির্বাচনে জনগণের রায় পেয়েও ক্ষমতা হস্তান্তর না করে স্বাধীনতার প্রেক্ষাপট তৈরি করা হয়। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী গণআন্দোনলনের মাধ্যমে পরিবর্তন আসে। দীর্ঘ ১৭ বছর অপকর্মের পরও জনগণের রায় উপেক্ষা করে শাসন চালানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত জনগণের আন্দোলনের কাছে হার মানতে হয় তাঁদের। তাই এখন যদি সরকার জনগণের ভোটকে অবজ্ঞা করে আগানোর চেষ্টা করে, জনগণ তা একদম মানবে না।’

    আসিফ মাহমুদ গণভোটে বিপুল সংখ্যক মানুষ ভোট দিয়ে পরিবর্তনের পক্ষে দাঁড়িয়ে আছে উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা তাঁদের বলব, রক্তের বিনিময়ে অর্জিত সংস্কার এবং নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হলে, যারা এই স্বপ্ন দেখেছেন তাঁদের অবদান অবশ্যই মূল্যায়িত হবে। যদি এই জনমতের বিরুদ্ধে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, তাহলে ৭০ শতাংশ জনগণের ভোট দাতারা রাস্তায় নামতে তৃতীয়বার ভাববে না।’

    তিনি আরও বলেন, ‘অতএব, আসুন সবাই জনগণের পক্ষে থাকি, যাতে আমরা সবাই মিলে সুন্দর এক বাংলাদেশ গড়তে পারি। যদি জনগণের বিপক্ষে থাকি, তবে আবারও আন্দোলনে নামা আমাদের দায়িত্ব আসতে পারে। জনগণের স্বার্থে, জনগণের আশায় আমাদের পারস্পরিক সংহতি অব্যাহত রাখতে হবে।’

  • ঢাকায় জামায়াত-এনসিপি জোটের বিক্ষোভ ডাক

    ঢাকায় জামায়াত-এনসিপি জোটের বিক্ষোভ ডাক

    শনিবার রাজধানীতে সংবিধান সংস্কার ও জুলাই সনদ আদেশের বিরুদ্ধে জামায়াত-এনসিপি জোটের নেতৃত্বাধীন ১১ দলের বিপুল সমাবেশ ও বিক্ষোভের ডাক দেয়া হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে জোটের নেতারা বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় উপস্থিত থাকবেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ১১ দলের লিঁয়াজো কমিটির বৈঠক শেষে জামায়াতের সহকারী সচিব মো. হামিদুর রহমান আযাদ সাংবাদিকদের বলেন, সরকার সংসদ পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছে এবং বর্তমান সরকার শেখ হাসিনার মতোই ফ্যাসিবাদী পথে হাঁটছে। তারা সংবিধানে শুধুমাত্র সংশোধনী আনার চেষ্টা করছে, যা জনগণের ধারণাকে বিভ্রান্ত করে। তিনি জানান, এই বিক্ষোভ সমাবেশ বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটের সামনে অনুষ্ঠিত হবে। আরও জানান, আগামী ৭ এপ্রিল ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈঠক হবে। এর আগে, বুধবার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনে বিরোধী দলীয় নেত্রী ডা. শফিকুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গণভোটের রায় নিয়ে সরকারী কর্মকা-ে আমরা হতবাক ও মর্মাহত হয়েছি। সংসদ অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল বেপরোয়া আন্দোলনের মাধ্যমে জনস্বার্থের দাবি আদায়ে মাঠে নামার ঘোষণা দেয়। তারা দ্বিতীয় দফার আলোচনা শেষে ناقেআউট ও সংশোধিত নীতিমালা না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে সংসদ থেকে বেরিয়ে যান। স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই পরিস্থিতিতে আমরা প্রতিকার চাই। বিষয়টি কোনও দলের নয়, বরং সংবিধান ও গণতন্ত্রের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, আমরা সম্মিলিতভাবে এই অবিচার ও অবমূল্যায়নের বিরুদ্ধে রাস্তায় उतरবো, কারণ দেশ ও জনগণের ভোটের মূল্যায়ন এখন অত্যন্ত জরুরি।

  • ৫টি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এনসিপির মেয়র প্রার্থীর ঘোষণা

    ৫টি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এনসিপির মেয়র প্রার্থীর ঘোষণা

    ঢাকার দুটিসহ দেশের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য দলীয় মেয়র প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), যারা সম্প্রতি চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এই ঘোষণা রোববার (২৯ মার্চ) রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া হয়, যেখানে দলের আহ্বায়ক ও বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করেন।

    নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া, ঢাকা উত্তরে দলের মহানগর উত্তর আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে আছেন জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম। সিলেট সিটিতে রয়েছে দলের মহানগর সিলেটের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. আব্দুর রহমান আঞ্জুম, এবং রাজশাহীতে দলের মহানগর আহ্বায়ক মো. মোবাশ্বের আলী। এই প্রার্থীরা মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

    এনসিপি জানিয়েছে, আগামী এপ্রিলের মধ্যেই বাকি সাতটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্যও প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হবে বলে বিএনপি ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে। তবে এখনো তারা সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে ভাবছে না। বিরোধী দলটি শহরগুলোৎ দলের নেতাদের প্রশাসক পদে বসানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, যেখানে বর্তমান খবরে দেখা গেছে যাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তারা বিএনপির নয়। ফলে, এই পরিস্থিতিতে সবার আগে মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে এনসিপি।

    সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার ইতোমধ্যে বেশ কিছু সিটিতে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে প্রশাসনকে দলীয়করণ করছে। তিনি বলেন, নির্বাচনকালে প্রশাসকদের কে প্রার্থী হতে পারবে না, এবং কোনো দলীয় প্রতীকে ভোট দেওয়া যাবে না। এছাড়া, তিনি ছয় মাসের মধ্যে সকল স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার দাবি জানান।

    সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি নির্ধারিত প্রার্থী ছাড়াও দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন, এর মধ্যে থাকেন দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা সারজিস আলম ও আব্দুল হান্নান মাসউদসহ অন্যান্যরা।

  • জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ঢাকায় বিক্ষোভে ডাক দিয়েছে

    জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ঢাকায় বিক্ষোভে ডাক দিয়েছে

    জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট শনিবার বিকেলে রাজধানীতে সমাবেশ ও মিছিল করে সংবিধান সংশোধন ও ‘জুলাই সনদ আদেশ’ সংক্রান্ত প্রতিবাদ জানাবে।

    আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ১১ দলের লিঁয়াজো কমিটির বৈঠকের পর জামায়াতের সহকারী মহাসচিব হামিদুর রহমান আযাদ এ কথা বলেন। তিনি প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, সরকার সংসদ পরিচালনায় ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে এবং দেশ চলমান রাজনীতিকে স্থবির করতে সংস্কারমূলক দাবি ও প্রস্তাবকে দমন করছে। আযাদ অভিযোগ করেন, সরকার সংবিধান পরিবর্তনকে রোধ করে শুধুমাত্র সীমিত সংশোধনী আনার চেষ্টা করছে, তাই রাজপথেই তাদের সংগ্রামের পথ খুঁজতে হবে।

    তিনি জানান, সমাবেশটি বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া আগামী ৭ এপ্রিল ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের একটি বৈঠকও হবে বলেও তিনি জানান।

    পটভূমি হিসেবে—গত বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যা সোয়া সাড়ে সাতটায় সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গণভোটের ফলের পর সরকারি দলের কর্মকাণ্ডে তারা বিস্মিত ও আহত বোধ করেছেন। সংসদের প্রথম অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধীদল ওয়াকআউট করে। মুলতবি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শেষে, জুলাই সনদ আদেশ জারি না করার বিষয় ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানকে ‘মিসকোড’ করার অভিযোগ তুলে বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে বিরোধীদলীয় সদস্যরা সংসদ চেয়ার থেকে বেরিয়ে যান।

    স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ডা. শফিকুর বলেন, তারা প্রতিকার চেয়েছিলেন—এটা কোনো দলের নয়, এতে সবাই একমত ছিল এবং নির্বাচনের আগে বিষয়টি নিয়ে প্রচারণাও করা হয়েছিল। কিন্তু তারা যে প্রতিকার পায়নি, তা দেশের মানুষের রায়ের প্রতিফলন নয়। এই অবমূল্যায়ন সহ্য করা হবে না—এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিরোধীদল সিদ্ধান্তে ওয়াকআউট করেছে।

  • গণরায়ের বিরুদ্ধে গেলে জনগণই তাদের প্রত্যাখ্যান করবে: এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ

    গণরায়ের বিরুদ্ধে গেলে জনগণই তাদের প্রত্যাখ্যান করবে: এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, গণরায়কে উপেক্ষা করে সরকার এগোতে চাইলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না এবং জনগণই তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। তিনি এই মন্তব্য করেন বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) স্বাধীনতা দিবসে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে।

    আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘‘বাংলাদেশের ইতিহাসে বহু সময় শক্তিশালী বলে বিবেচিত সরকারও ছিল, কিন্তু যখন তারা গণরায়ের বিরুদ্ধে গিয়েছে, তখনই ইতিহাসের পাতা থেকে লোপ পেয়ে গেছে।’’ তিনি স্মরণ করান যে ১৯৭০ সালের নির্বাচনের পর ক্ষমতা হস্তান্তর না করায় ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকা তৈরি হয়েছিল, এবং ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে আবার পরিবর্তন এসেছে।

    তিনি আরও বলেন, ‘‘দীর্ঘ ১৭ বছরের দমন-পীড়নের পরও যদি কেউ জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে শাসন কায়েমের চেষ্টা করে, শেষ পর্যন্ত সেই চেষ্টা টেকেনি।’’ সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে তিনি সতর্ক করেন যে এখনও যদি গণরায় ও গণভোটের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করা হয় এবং তা উপেক্ষা করে সরকারের চলার চেষ্টা করা হয়, জনগণ তা মেনে নেবে না।

    আসিফ মাহমুদ উল্লেখ করেন যে গণভোটে বিপুলসংখ্যক মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘এত রক্তের বিনিময়ে যে সংস্কার ও নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন শহীদদের পরিবার, বাবা-মাতা এবং আহত মুক্তিযোদ্ধারা দেখেছেন, সেটা বাস্তবায়ন করতে হবে। যদি জনরায় বাস্তবায়ন না করা হয়, তাহলে যেই প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিয়েছেন, তাঁরা রাস্তায় নামতে দ্বিতীয়বারো ভাববেন না।’’

    তিনি শেষ করেন, ‘‘অতএব সরকারের কাছে অনুরোধ—জনগণের পক্ষে আসুন যাতে আমরা সবাই মিলে সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে পারি। যদি জনগণের বিরুদ্ধে এগোতে থাকেন, তাহলে স্বাধীনতা রক্ষায় জনগণকে নিয়ে আবার মাঠে নামতে হতে পারে।’’