Category: অর্থনীতি

  • ফেব্রুয়ারির ১৮ দিনে রেমিট্যান্স ছাড়ালো দুই বিলিয়ন ডলার

    ফেব্রুয়ারির ১৮ দিনে রেমিট্যান্স ছাড়ালো দুই বিলিয়ন ডলার

    জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আসন্ন পবিত্র রমজান মাসের কারণে প্রবাসীরা বৈধ পথের মাধ্যমেই দেশকে বেশি অর্থ পাঠাচ্ছেন। এর ফলে, চলতি ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৮ দিনেই দেশে পৌঁছেছে ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) ডলার থেকে বেশি রেমিট্যান্স। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে মাস শেষে রেকর্ডই হবে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচন এবং রমজানের সময়গুলোতে পরিবারের বাড়তি খরচ মেটাতে প্রবাসীরা বেশি করে অর্থ পাঠাচ্ছেন, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রবাসীরা দেশে ৩১৭ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা দেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে গত ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ডলার পাঠানো হয়েছিল, যা ছিল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল গত বছরের মার্চের, যখন ঈদুল ফিতর সময় মোট ৩২৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল।

    ২০২৫ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত মোট প্রবাসী আয় এসেছে ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলার। মাসভিত্তিক চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুলাইতে ২৪৭ কোটি, আগস্টে ২৪২ কোটি, সেপ্টেম্বর ২৬৮ কোটি, অক্টোবর ২৫৬ কোটি, নভেম্বর ২৮৮ কোটি, ডিসেম্বর ৩২২ কোটি এবং জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স প্রবাহিত হয়েছে।

    এদিকে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এই সময়ের মধ্যে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ১৫৬ কোটি ডলার, যা আগের বছর একই সময়ের তুলনায় ২২% বেশি। আগের বছর এই সময়ে রেমিট্যান্স ছিল ১ হাজার ৭৬৩ কোটি ডলার।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ১৭ ফেব্রুয়ারির পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার। তবে, আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী, প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ ২৯ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে প্রবাসীর আয়ে গতি ফিরতে শুরু করে। ব্যাংক কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থ পাচার কমে যাওয়ায় অবৈধ হুন্ডি ব্যবসার প্রভাব কমে এসেছে। পাশাপাশি, ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকায় প্রবাসীরা বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত হচ্ছেন।

  • সোনার দাম ভরিতে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে

    সোনার দাম ভরিতে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) আজ ঘোষণা করেছে যে তারা দেশের সোনার দামে আরও বৃদ্ধি নিয়ে গেছে। নতুন দাম অনুযায়ী, প্রতিভরি (ভরি) সোনার দাম সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে মানসম্পন্ন (২২ ক্যারেট) সোনার প্রতিভরি দাম এখন দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা, যা আগের দিন ছিল ২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৮ টাকা। এই দাম পরিবর্তন শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে কার্যকর হয়।

    বাজুসের জানানো অনুযায়ী, তেজাবি বা পিওর গোল্ড সোনার দামে বাড়তি প্রভাব পড়ায় দেশীয় বাজারে দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এক্ষেত্রে, সবচেয়ে মানসম্পন্ন ২২ ক্যারেটের সোনার দামের নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা প্রতি ভরি, এছাড়া ২১ ক্যারেটের জন্য দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ১০২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতনী পদ্ধতির সোনার ভরি দাম নির্ণয় করা হয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।

    সোনার পাশাপাশি রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের রুপার দাম এখন ৬ হাজার ৭০৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতনী পদ্ধতির রুপার দাম হয়েছে ৪ হাজার ৮০২ টাকা প্রতি ভরি।

    বিশ্ব বাজারে এরই মধ্যে স্বর্ণ ও রুপার দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি নামক বিশ্বস্ত ওয়েবসাইটের তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টা ২৫ মিনিটে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল ৫ হাজার ১০৬ ডলার, যেখানে আগের দিন ছিল ৪ হাজার ৯৭৮ ডলার। এর আগে ৩০ জানুয়ারি এই দাম ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি ছিল ৫ হাজার ৫৫০ ডলার।

    বিশ্ববাজারে গত মাসের শেষে স্বর্ণের দামের ব্যাপক বৃদ্ধির কারণে দেশের বাজারেও দাম আরও বাড়ে। ২৯ জানুয়ারি বাজুস একবারে ভরিপ্রতি ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বৃদ্ধি করে, যার ফলশ্রুতিতে মানসম্পন্ন এক ভরি স্বর্ণের দাম পাঠেন ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায়। এই দাম দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ, এবং এর আগে কোনও সময়ে এত বেশি দাম ওঠেনি।

  • দুই দিনের ব্যবধানে ফের বাড়ল সোনার দাম

    দুই দিনের ব্যবধানে ফের বাড়ল সোনার দাম

    বাংলাদেশের স্বর্ণবাজারে আবারো সোনার দাম বেড়ে গেছে। বাংলাদেশের জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নতুন দরে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার মূল্য ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকায় পৌঁছেছে। এই দাম কার্যকর হয়েছে সকাল ১০টা থেকে।

    বাজুস বলেছে, দেশের বাজারে তেজাবি সোনা বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধির কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সোনার মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের ভরি ১১.৬৬৪ গ্রাম সোনার মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকায়। অন্য ক্যারেটের জন্য দাম হলো: ২১ ক্যারেট ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার ভরি বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকায়।

    তবে এই দামের সঙ্গে যোগ হবে সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি। গহনার নকশা ও মান অনুযায়ী এই মজুরির পরিমাণ বদলে যেতে পারে বলে সংগঠনটি জানিয়েছে।

    এর আগে, ২১ ফেব্রুয়ারি বাজুস সোনার দাম সমন্বয় করেছিল, তখন ২২ ক্যারেটের ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়িয়ে মূল্য নির্ধারিত হয়েছিল ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকায়।

    চলতি বছরে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে ৩২ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০ দফায় দাম বাড়ে এবং ১২ দফায় কমে। গত বছর মোট ৯৩ বার দাম সমন্বয় হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার মূল্য বাড়ানো হয় এবং ২৯ বার কমানো হয়।

    অপরদিকে, রুপার দাম অপরিবর্তিত থাকলেও এর দাম বৃদ্ধি বা হ্রাসের সংখ্যাও কম নয়। বর্তমানে ২২ ক্যারেট রুপার মূল্য বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৭০৭ টাকায়। অন্যান্য ক্যারেটের জন্য মূল্য হলো: ২১ ক্যারেট ৬ হাজার ৪১৫ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট ৫ হাজার ৪৮২ টাকা। এছাড়া, সনাতন পদ্ধতির রুপার মূল্য বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৮২ টাকায়।

    চলতি বছরে রুপার দামেও মোট ১৮ দফা সমন্বয় হয়েছে। এর মধ্যে ১১ দফায় দাম বেড়েছে এবং ৭ দফায় কমেছে। গত বছর মোট ১৩ দফা সমন্বয় হয়, যার মধ্যে ১০ বার দাম বেড়ে এবং ৩ বার কমে।

  • মনসুরকে সরিয়ে নতুন গভর্নর নিয়োগ করলো বাংলাদেশ ব্যাংক

    মনসুরকে সরিয়ে নতুন গভর্নর নিয়োগ করলো বাংলাদেশ ব্যাংক

    বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ শেষ হওয়ায় অবশেষে তার মেয়াদ বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ১৪তম গভর্নর হিসেবে মো. মোস্তাকুর রহমানকে নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

    বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ আবরাউল হাছান মজুমদার স্বাক্ষরিত পৃথক দুই প্রজ্ঞাপনে এ বিষয়টি জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ড. আহসান এইচ মনসুরের নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ এই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাতিল করা হলো, যা ১৩ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে কার্যকর হবে।

    অন্য প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, মোস্তাকুর রহমান কে অন্যান্য সব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে সোমবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) থেকে চার বছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সরকারের সঙ্গে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা ব্যাংক থেকেই গ্রহণ করবেন। এই নিয়োগের অন্যান্য শর্তাদি চুক্তিপত্রে উল্লেখ থাকবে।

    অতিসত্বর কার্যকর এ আদেশটি জনস্বার্থে জারি করা হয়েছে। জানা গেছে, মোস্তাকুর রহমান বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সদস্য এবং হিরা সোয়েটারের মালিক।

    অন্যদিকে, বুধবার দুপুরে গভর্নর সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া না হলে, ড. আহসান এইচ মনসুর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যালয় ত্যাগ করেন। ব্যাংক থেকে বের হওয়ার সময় তিনি বলেন, আমি পদত্যাগ করিনি, তবে খবর শুনেছি। এর বাইরে অন্য কিছু বলেননি।

    সূত্রগুলো জানায়, তিনি সকালে সাধারণ কর্মসূচির জন্য অফিসে উপস্থিত ছিলেন, হঠাৎ করে তার অপসারণের খবর বিভিন্ন মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। একই সঙ্গে নতুন গভর্নর নিয়োগের বিষয়েও গুঞ্জন রটে। এরপর তিনি সহকর্মী বা ঊর্ধ্বতন কোন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা না বলে অফিস ত্যাগ করেন। এর ফলে ব্যাংকের অভ্যন্তরে চাপের সৃষ্টি হয়।

    প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তখনকার গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার ৯ আগস্ট বিকেলে চাকরি থেকে অবসরে যান। এরপর ১৩ আগস্ট ড. আহসান এইচ মনসুরকে নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়, যার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হলো।

  • কথার পরিবর্তে কাজের মাধ্যমে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করছেন নতুন গভর্নর

    কথার পরিবর্তে কাজের মাধ্যমে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করছেন নতুন গভর্নর

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান নিজেকে প্রমাণ করতে চান কাজে। তিনি মনে করেন, কথা নয়, কাজের মাধ্যমে নিজের দক্ষতা ও যোগ্যতা ফুটিয়ে তুলতে হবে। দেশের ১৪তম গভর্নর হিসেবে শপথ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি স্পষ্ট করেছেন, প্রথমে কাজের দিকে মনোযোগ দেবেন, কথা নয়।

    আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রবেশের সময় তাকে স্বাগত জানিয়েছেন ডেপুটি গভর্নর ও অন্যান্য কর্মকর্তারা। সংবাদকর্মীদের সামনে তিনি বলেন, আমি কথায় নয়, কাজের মধ্য দিয়ে আমার দক্ষতা প্রমাণ করতে চাই। এগিয়ে এসেছি, এখন কাজ শুরু, তারপর কথা বলে অগ্রগতি কেউ দেখবে।

    নতুন গভর্নর কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রবেশের আগে অর্থ মন্ত্রণালয়ে যান। সেখানে তিনি কিছু গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সম্পন্ন করে বাংলাদেশ ব্যাংকে ফিরে আসেন।

    বুধবার বিকেলে তকে ৪ বছরের জন্য গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। বিদ্যমান গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের স্থলে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশে আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগের মাধ্যমে তার নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। একই সঙ্গে, সাবেক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়।

    মোস্তাকুর রহমান ১৯৬৬ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাববিজ্ঞান বিভাগে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর তিনি আইসিএমএবি থেকে এফসিএমএ ডিগ্রি অর্জন করেন।

    প্রচ্ছদ ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য গঠিত বিএনপির ৪১ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির ২৩তম সদস্য ছিলেন।

    আর অন্যদিকে, মোস্তাকুর রহমান হেরা সোয়েটার্সের ব্যবস্থাপনা প্রধান এবং পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সদস্য। হেরা সোয়েটার্স নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত একটি পরিবেশবান্ধব কারখানা, যেখানে আধুনিক ও টেকসই পদ্ধতিতে পোশাক তৈরি হয়।

  • ফেব্রুয়ারির ১৮ দিনে রেমিট্যান্স ছাড়ালো দুই বিলিয়ন ডলার

    ফেব্রুয়ারির ১৮ দিনে রেমিট্যান্স ছাড়ালো দুই বিলিয়ন ডলার

    প্রবাসীরা দেশটিতে ঈদুল ফিতর, জাতীয় নির্বাচন ও পবিত্র রমজান মাসের জন্য প্রস্তুতি হিসেবে আগের থেকেও বেশি অর্থ পাঠাচ্ছেন। এই প্রক্রিয়ায়, চলতি ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৮ দিনে বাংলাদেশে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছুঁই ছুঁই করেছে দুই বিলিয়ন ডলার (প্রায় ২০০ কোটি ডলার), যা এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে এই মাস শেষে রেমিট্যান্সের পরিমাণ তিন বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশাও করা হচ্ছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের রাজনৈতিক সংকট এবং রমজানের সময় পরিবারের বাড়তি খরচ মোকাবিলা করতে প্রবাসীরা আরও বেশি অর্থ দেশে পাঠাচ্ছেন। এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে দেশের প্রবাসীরা মোট ৩১৭ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা দেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর আগে, মার্চ ২০২৪ সালে ঈদুল ফিতর সময় ৩২৯ কোটি ডলার পাঠানো হয়েছিল, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

    অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সালে দেশের মোট প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরে, মাসভিত্তিক রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে মোট রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ২ হাজার ১৫৬ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ শতাংশ বেশি। সেখানে, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের এই অগ্রগতি দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য আশার সূচনা করেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪.৫৪ বিলিয়ন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে, ieএমএফের হিসাব অনুযায়ী, প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ কিছু কম—প্রায় ২৯.৮৬ বিলিয়ন ডলার। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই প্রবাসী আয় বাড়তে থাকে। ব্যাংকখাতের কর্মকর্তারা বলছেন, অবৈধ হুন্ডি ব্যবসা কমে যাওয়াসহ, ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকায় প্রবাসীরা বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। এর ফলে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীলতা লাভ করেছে।

  • খুলনা অঞ্চলের কাঁচাপাটের অস্বাভাবিক দামে পাটকলের উৎপাদন বন্ধের শঙ্কা

    খুলনা অঞ্চলের কাঁচাপাটের অস্বাভাবিক দামে পাটকলের উৎপাদন বন্ধের শঙ্কা

    খুলনা অঞ্চলের ইজারা ও বেসরকারি পাটকলগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির কারণে। বর্তমানে পাটের উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে, ফলে বেশ কিছু মিল পাটপণ্য উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছেন। এর ফলে হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়ছে, পাশাপাশি মিলগুলোর আর্থিক লোকসান বাড়ছে এবং বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

    দৌলতপুর এলাকার দৌলতপুর জুট মিলটি প্রায় দেড় মাস ধরে বন্ধ হয়ে আছে। শ্রমিকরা এখানে কাজ করতে এসে দিন কাটাচ্ছেন বিনা কাজে। একই পরিস্থিতি খুলনার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত এক ডজনের বেশি মিলের। কিছু মিল কেবল সীমিত আকারে উৎপন্ন করলেও বেশিরভাগেই কার্যক্রম বন্ধ বা স্থবির। শ্রমিকরা সতর্ক করে বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে তারা স্থায়ীভাবে কর্মচ্যুতি হতে পারে।

    দৌলতপুর জুট মিলে শ্রমিক আসাদুজ্জামান বলেন, দেড় মাস ধরে আমাদের মিল বন্ধ, কাঁচা পাট না থাকায় মালিকরা মিল চালাতে পারছেন না। এভাবে চলতে থাকলে হয়তো আমাদের চাকরি হারাতে হবে, কারণ মালিক চাকরি থেকে ছাঁটাই করতে পারে। আর আমাদের জন্য নতুন কাজের সুযোগও ক্ষীণ।

    একই মিলের শ্রমিক হাবিবুল্লাহ আরও জানান, আমরা কাজ করিা এ দাবি নিয়ে মালিকের কাছ থেকে পেয়ে থাকি দু’টাকা আয়, আর আমাদের মজুরি মাত্র এক টাকা। গত তিন বছর ধরে মিলটি ভালোই চলছিল, কিন্তু গত দেড় মাস থেকে আমরা বসে আছি। মালিক যদি নিজেও বাঁচেন না, তাহলে আমাদের বাঁচানোর কী উপায়? এ সংকটের সমাধানে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

    মিল মালিকরা বলছেন, মৌসুম শুরুর সময় পাটের দাম ছিল প্রায় ৩২০০ টাকা মণ, বর্তমানে তা বেড়ে ৫২০০ টাকা পর্যন্ত উঠে এসেছে। দ্বিগুণের কাছাকাছি দাম বৃদ্ধির ফলে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়েছে, কিন্তু বাজারে পণ্যের মূল্য সে অনুযায়ী বাড়েনি। ফলে উদ্যোক্তারা উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন।

    দৌলতপুর জুট মিলের উৎপাদন কর্মকর্তা মোঃ ইসরাফিল মলি­ক জানান, এখন পাটের দাম বাড়ায় মিল চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আগে যেখানে ৩২০০ টাকায় পাট কিনে প্রতিটি ব্যাগ বিক্রি হত ৮০ টাকা, এখন পাটের দাম ৫২০০ টাকায় পৌঁছেছে। এই দামে উৎপাদন চালিয়ে লাভের মুখ দেখা কঠিন হয়েছে, ফলে শেষ পর্যন্ত মিলের উৎপাদন বন্ধ থাকছে।

    তিনি অভিযোগ করেন, কাঁচা পাটের কৃত্রিম সংকটের সৃষ্টি করা হয়েছে। অভিযোগ মতে, চলতি বছরেও পাটের উৎপাদন মোটেও কম নয়, কিন্তু ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর জন্য মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে। সরকার এখন পর্যন্ত তদারকি না করলে এ খাতে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হবে।

    অর্থনৈতিক ও কৃষি তথ্য বলছে, গত দুই বছরে খুলনা অঞ্চলে পাটের উৎপাদন মোটেও কম হয়নি। কৃষি বিভাগ সূচক অনুযায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩৯ হাজার ৩৪৪ হেক্টরে ৯৪,৬৬৬ মেট্রিক টন, আর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩৮ হাজার ২৮৬ হেক্টরে ৯১,১৩৫ টন পাট উৎপাদিত হয়েছে।

    তবে মিল মালিকদের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে পাট মজুত করে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশ জুট মিল এ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক মোঃ জহির উদ্দিন বলেছেন, বাজারের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারের ভর্তুকি ও তদারকি 늘ানোর উদ্যোগ দরকার। তিনি আরও বলেন, অসাধু মহল কৃত্রিমভাবে পাট মজুত রাখার মাধ্যমে দাম বাড়াচ্ছে এবং এর ফলে সমগ্র খাতে সংকট সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাংক থেকে ঋণ না পাওয়ার সমস্যাও রয়েছে।

    পাট অধিদপ্তর বলছে, পরিস্থিতি নিয়মিত নজরদারিতে রয়েছে। সহকারী পরিচালক সরজিত সরকার জানিয়েছেন, একজন আড়তদার বা ডিলার সর্বোচ্চ এক মাসে ৫০০ মণ পাট মজুত করতে পারবেন। এ বিষয়ে আমরা কঠোর তদারকি করছি, বেশি মজুত থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং বাজারের দাম নিয়ন্ত্রণের জন্য নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।

    খুলনা অঞ্চলে ইজারাকৃত ও বেসরকারি মিল মিলিয়ে মোট ২০টি পাটকল রয়েছে। এসব মিলের মাধ্যমে মাসে প্রায় ২৫ হাজার মেট্রিক টন পাটপণ্য উৎপাদিত হয়, যার একটি বড় অংশ বিদেশে রফতানি হয়। যদি এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে উৎপাদন ও রফতানিতে ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মনসুরকে সরিয়ে নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান নিয়োগ

    বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মনসুরকে সরিয়ে নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান নিয়োগ

    বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ১৪তম গভর্নর হিসেবে মো. মোস্তাকুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

    বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ আবরাউল হাছান মজুমদার স্বাক্ষরিত দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই বিষয়গুলো জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ড. আহসান এইচ মনসুরের নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হয়েছে, যা ১৩ আগস্ট ২০২৪ তারিখে নির্দেশিকায় উল্লেখ ছিল।

    নতুন গভর্নর হিসেবে মোস্তাকুর রহমানের নিয়োগের বিষয়ে জানানো হয়, তিনি অন্যান্য সব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে, তার যোগদানের দিন থেকে চার বছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ পেয়েছেন। তিনি এফসিএমএ শীর্ষ ব্যক্তিত্ব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং সরকারের সঙ্গে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা ব্যাংক থেকেই গ্রহণ করবেন। নিয়োগের অন্যান্য শর্তাদি চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

    অতিদ্রুত কার্যকর এই আদেশটি জনস্বার্থে জারি করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, মোস্তাকুর রহমান বাংলাদেশের পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সংস্থা বিজিএমইএ’র সদস্য ও হিরা সোয়েটার প্রতিষ্ঠানের মালিক। তিনি একজন অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী।

    অন্যদিকে, বুধবার দুপুরে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর কোনও আনুষ্ঠানিক কিছু না জানিয়ে ব্যাংকের কার্যালয় ত্যাগ করেন। তার অবজারভেশনের জন্য কিছু মিডিয়া এই নিয়োগের বিষয়টি জানতে পারলে তিনি জানান, আমি পদত্যাগ করিনি, তবে খবর শুনেছি। এর বাইরে আর কিছু বলেননি তিনি।

    সূত্র থেকে জানা যায়, সকালে অফিসে সাধারণ কার্যক্রম করতে গিয়ে হঠাৎ তার পরিবর্তনের খবর ছড়িয়ে পড়ে। এরপর তিনি কোনও কথা না বলে অফিস ত্যাগ করেন। তার এই আকস্মিক প্রস্থান ব্যাংকের কর্মপরিবেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।

    প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার ৯ আগস্ট বিকেলে পদত্যাগ করেন। এরপর ১৩ আগস্ট ড. আহসান এইচ মনসুরকে নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

  • বাংলাদেশে ভরিতে সোনার দাম ৩ হাজার টাকা বেড়েছে

    বাংলাদেশে ভরিতে সোনার দাম ৩ হাজার টাকা বেড়েছে

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) ঘোষণা করেছে যে দেশের বাজারে সোনার দাম আবারও বাড়ছে। আজ থেকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা ভরি দামের বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে মানসম্পন্ন (২২ ক্যারেট) সোনার ভরির দাম এখন ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা, যা গতকাল ছিল ২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৮ টাকা।

    সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে বাজুস এই নতুন দাম সম্পর্কে জানিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। সংগঠনটি উল্লেখ করে যে সোনার দাম বৃদ্ধির কারণে বিভিন্ন ক্যারেটের সোনার দামও সমন্বয় করা হয়েছে।

    এদিকে, তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দামের এই বৃদ্ধি দেশের বাজারে সোনার দাম আরও ক্লারিটি দিয়েছে। এক্ষেত্রে, মানসম্পন্ন ২২ ক্যারেটের সোনার ভরি নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। এছাড়াও অন্যান্য ক্যারেটের দামের মধ্যে রয়েছে: ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ১০২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ভরি দাম নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।

    সোনার দামের সঙ্গে সঙ্গে রুপার দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম এখন ৬ হাজার ৭০৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের জন্য ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম প্রতি ভরি ৪ হাজার ৮২ টাকা।

    আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে চলমান বৃদ্ধির চিত্রও স্পষ্ট। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টা ২৫ মিনিটে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল ৫ হাজার ১০৬ ডলার, যা আগের দিন ছিল ৪ হাজার ৯৭৮ ডলার।

    অতীতে, গত ৩০ জানুয়ারিতে দাম ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারিতে এটি ছিল ৫ হাজার ৫৫০ ডলার।

    বিশ্ববাজারে সোনার দাম সাধারণত অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকায় দেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে ২৬ জানুয়ারির শেষে দেখা গেছে, এক বারে ভরিপ্রতি সোনার দাম ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়ায়, ফলে মানসম্পন্ন এক ভরি সোনার দাম দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এটি ছিল তখন পর্যন্ত দেশের বাজারে সর্বোচ্চ সোনার দাম, যা আগে কখনো এত বেশি বাড়েনি।

  • দুই দিনের ব্যবধানে ফের বাড়ল সোনার দাম

    দুই দিনের ব্যবধানে ফের বাড়ল সোনার দাম

    দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন দরে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম এখন দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা। এই দাম গতির দুই দিনের ব্যবধানে আবারো বৃদ্ধি পেয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় এক বিজ্ঞপ্তির মধ্য দিয়ে বাজুস এ তথ্য জানিয়েছে। সংগঠনটি জানায়, দেশে তেজাবি সোনা বা পিওর গোল্ডের দাম বাড়ার কারণে সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে নতুন দাম ঘোষণা করা হয়েছে।

    নতুন দরে, ১১.৬৬৪ গ্রাম বা এক ভরি ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্য এখন ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা। অন্য ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্যও বাড়েছে। ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের ভরি এখন ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা। তবে এই দামে সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরির কথা যুক্ত থাকবে। গহনার নকশা ও মান অনুযায়ী মজুরি পরিবর্তিত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

    এর আগে, ২১ ফেব্রুয়ারি বাজুস স্বর্ণের দামে সমন্বয় করে। সেই দিন ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভরি ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারিত হয়েছিল ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।

    এই বছর এখন পর্যন্ত ৩২ বার স্বর্ণের দাম নতুন করে নির্ধারিত হয়েছে। এর মধ্যে ২০ বার দাম বেড়েছে এবং ১২ বার কমেছে। গত বছর মোট ৯৩ বার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার দাম বেড়েছিল এবং ২৯ বার দাম কমেছিল।

    অপরদিকে, এই দাম বৃদ্ধির প্রভাব রুপার মার্কেটে পড়েনি। বর্তমানে ২২ ক্যারেট রুপার ভরি বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৭০৭ টাকায়। ২১ ক্যারেটের ভরি ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার ভরি বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৮২ টাকায়।

    চলতি বছরে রুপার দামে ১৮ দফা সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ বার বেড়েছে এবং ৭ বার কমে। গত বছর মোট ১৩ দফায় রুপার দাম সমন্বয় করা হয়, যার মধ্যে ১০ বার বাড়ে এবং ৩ বার কমে।