সর্বশেষঃ
সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন সঞ্চয়পত্রে মুনাফার হার বাড়লো, সিদ্ধান্ত বাতিল একদিনের ব্যবধানে ফের সোনার দামে বড় আঘাত ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে: জ্বালানি উপদেষ্টা অর্থ উপদেষ্টার ভাষ্য: ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা ছাড়া মূল্যস্ফীতি কমানো অসম্ভব সোনার দাম ফের বেড়েছে, এক দফা কমার পর আবার নতুন মূল্য নির্ধারণ তাসনিম জারা ফুটবল প্রতীকে ভোট চান নির্বাচনে নির্বাচনী প্রস্তুতিতে বিএনপি থেকে জামায়াত-এনসিপির জোট অনেক এগিয়ে: নাহিদ ইসলাম নির্বাচনের অবস্থা বোঝা যাবে প্রচারণার পর, মির্জা ফখরুলের প্রতিশ্রুতি জামায়াতের আমিরের মতে দুই-একদিনের মধ্যে ১১ দলের আসন সমঝোতা হবে তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চলের সফর স্থগিত: মির্জা ফখরুল
সঞ্চয়পত্রে মুনাফার হার বাড়লো, সিদ্ধান্ত বাতিল

সঞ্চয়পত্রে মুনাফার হার বাড়লো, সিদ্ধান্ত বাতিল

সরকার সম্প্রতি এক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর পরিকল্পনা বাতিল করে আগের হারে তা বহাল রেখেছে। রোববার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ এ সম্পর্কিত এক প্রজ্ঞাপন জারি করে, যেখানে জানানো হয় যে ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যে হারে মুনাফা দেওয়া হয়েছিল, আগামী ছয় মাসও সেই হারই বহাল থাকবে। গত বৃহস্পতিবার সরকার প্রথমে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর জন্য একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল, যা বিভিন্ন মহলে সমালোচনার মুখে পড়ে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত শ্রেণি এবং অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা এই সঞ্চয়পত্রের ওপর বেশিভাগ নির্ভরশীল, ফলে সরকারের এই সিদ্ধান্ত তাদের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় বলেও মনে করা হয়।

জানা গেছে, রোববার অফিস খোলার পর উচ্চ পর্যায় থেকে সেই প্রজ্ঞাপন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং মুনাফার হার পূর্বের অবস্থায় রাখতে নতুন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। বর্তমানে সরকারের চার ধরনের সঞ্চয়পত্র এবং পোস্ট অফিসের ফিক্সড ডিপোজিট স্কিম রয়েছে। সেগুলোর সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ — মানে সাড়ে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত — এবং এর বেশি বিনিয়োগের জন্য আলাদা করে মুনাফা দেওয়া হয়। ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণত মুনাফার হার কিছুটা কমে আসে। একজন ব্যক্তির সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্র কেনার সুযোগ রয়েছে। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে যদি কোনো সঞ্চয়পত্র ভেঙে ফেলতে হয়, তাহলে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ বছরে মুনাফার হার আরও কমে যায়। যেখানে মুনাফার টাকা পরিশোধ করা হয়, সেখানে মূল টাকার সঙ্গে নির্ধারিত হারে সমন্বয় করা হয়।

পরিবার সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষে মুনাফার হার ছিল ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ, যা আগে কমিয়ে ১০ দশমিক ৪৪ শতাংশ করা হয়েছিল। নতুন প্রজ্ঞাপনে সেই হার আগের মতোই বহাল রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ থেকে নামিয়ে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশে আনা হয়েছিল। এসব পরিবর্তনসহ সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার আগের মতোই থাকবে।

গত বছর জানুয়ারি থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ট্রেজারি বোন্ডের সাথে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারিত হয়। এ জন্য ৫ এবং ২ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের গড় সুদহার অনুসারে তাদের মুনাফা নির্ধারিত হয়। সম্প্রতি, ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহার কমার কারণে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হারও কমানো হয়। গত বৃহস্পতিবার জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এই নতুন হার ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুনের মধ্যে কেনা সঞ্চয়পত্রে কার্যকর হবে।

সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো, বেশি করে সঞ্চয়পত্রের ওপর নির্ভরশীল। জরুরি পরিস্থিতিতে সঞ্চয়পত্র ভেঙে वित्त সংকট মোকাবেলা করেন তারা, আবার প্রতিমাসে ছোটখাটো আয়ের একটি অংশ সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় আসে। মূল্যস্ফীতির কারণে দীর্ঘসময় দেশজুড়ে দরপতন হয়নি; বরং দুই বছরের বেশি সময় ধরে উচ্চ মূল্যবৃদ্ধি চলমান। যদিও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে এসলেও তা এখনও ৮ থেকে ৯ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, সরকারের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এ হার না কমানোই যথাউচিত।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY Shipon tech bd