Category: রাজনীতি

  • গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী পদত্যাগ করলেন জোনায়েদ সাকি

    গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী পদত্যাগ করলেন জোনায়েদ সাকি

    গণসংহতি আন্দোলনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও শীর্ষ নেতা জোনায়েদ সাকি তার প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব ছেড়েছেন। তাঁর স্থলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে দেওয়ান আব্দুর রশিদ নিলুকে। এই সিদ্ধান্ত মূলত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর হাতিরপুলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নিজেই এই ঘোষণা দেন জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, ‘রাজনীতি ও সরকারকে আলাদা করতে আমি দলীয় প্রধানের দায়িত্ব ছেড়েছি।’

    জোনায়েদ সাকি আরও জানান, জুলাই মাসে জাতীয় সনদ ইস্যু নিয়ে আলোচনায় তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়টি এখন বিতর্কের কেন্দ্রে। তবে, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মতামত বেশি গুরুত্ব পাবে।’

    উল্লেখ্য, গত বছর ৩ নভেম্বর সাভারে দলের ৫ম জাতীয় সম্মেলনে তিনি পুনরায় প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। দীর্ঘ দুই দশকের রাজনীতির মাধ্যমে ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর গণসংহতি আন্দোলন নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন লাভ করে। এই বছর ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোটের শরিক হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জোনায়েদ সাকি।

    বর্তমানে তিনি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন। এর আগে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন, পরে পুনঃসংগঠনের মাধ্যমে শুধুমাত্র পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। এই গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকাকালীন দলীয় প্রধানের দায়িত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক মনে করে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, দলীয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

  • জোনায়েদ সাকি দলীয় পদ থেকে সরে যাচ্ছেন

    জোনায়েদ সাকি দলীয় পদ থেকে সরে যাচ্ছেন

    গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারীর পদ থেকে সরে যাচ্ছেন সংগঠনটির শীর্ষ নেতা জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। শুক্রবার সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য বাচ্চু ভূঁইয়া এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে, এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করতে শনিবার সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে ঢাকার হাতিরপুলে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সংস্থার পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব অপসারণ বিষয়টি পরিষ্কার করার জন্য এ সংবাদ সম্মেলন। এই অনুষ্ঠানে জোনায়েদ সাকি নিজে উপস্থিত থাকবেন এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত থাকবেন নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল, রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য দেওয়ান আব্দুর রশিদ নীলু, মনির উদ্দিন পাপ্পু, ফিরোজ আহমেদ, তাসলিমা আখতার, হাসান মারুফ রুমীসহ বেশ কয়েকজন নেতা। উল্লেখ্য, গত বছর ৩ নভেম্বরের ঢাকার সাভারে সংগঠনটির পঞ্চম জাতীয় সম্মেলনে জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি পুনরায় প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে নির্বাচিত হন। সেই সম্মেলনে ৫৫ সদস্যের নতুন নির্বাহী কমিটিও গঠন করা হয়।

  • জামায়াত-এনসিপি জোট ঢাকা প্রদর্শনে বিক্ষোভের ডাক দিল

    জামায়াত-এনসিপি জোট ঢাকা প্রদর্শনে বিক্ষোভের ডাক দিল

    সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত দাবি ও ‘জুলাই সনদ’ আদেশকে কেন্দ্র করে শনিবার বিকেলে রাজধানী ঢাকায় বিক্ষোভ-সমাবেশ ও মিছিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। এ ঘোষণা বৃহস্পতিবার দুপুরে জোটের লিয়াজো কমিটির বৈঠকের পরে দেওয়া হয়।

    বৈঠকের পর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, সরকার সংসদ পরিচালনায় ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে এবং ক্ষমতা চালাতে ফ্যাসিবাদী পদ্ধতি অবলম্বন করছে। তিনি বলেন, সরকার সংস্কারকে গলদ করে কেবল সংবিধানে আনুষঙ্গিক সংশোধনী আনার চেষ্টা করছে; তাই রাজপথেই আন্দোলন ছাড়া ১১ দলের কোনো বিকল্প নেই।

    আযাদ জানান, সমাবেশব and মিছিল বায়তুল মোকররম মসজিদের উত্তর গেটে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আরও বলেন, আগামী ৭ এপ্রিল জোটের শীর্ষনেতাদের একটি সমন্বয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

    এর আগে বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, গণভোটের রায়কে ঘিরে সরকারি দলের কর্মপদ্ধতিতে তারা বিস্মিত ও আহত। সংসদের প্রথম অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট অংশগ্রহণ স্থগিত করে ওয়াকআউট করেছে।

    জোট সূত্রে জানা যায়, মুলতবির প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার পরে ‘জুলাই সনদ’ আদেশ জারি না করার এবং বিরোধীদলের নেতা ডা. শফিকুর রহমানকে মিসকোড করার অভিযোগ তুলে বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে বিরোধী দলের সদস্যরা সংসদ চেম্বার ত্যাগ করেন।

    স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ডা. শফিকুর বলেন, তারা প্রতিকার চান—এটি কোনো দলের স্বার্থের বিষয় নয়। নির্বাচনের আগে সরকারি দল ও বিরোধী দলসহ সবাই যে সিদ্ধান্তে একমত হয়েছিল এবং তা নিয়ে যারা কথা বলেছেন ও প্রচার করেছিলেন, সেই বিষয়ের যথার্থ প্রতিফলন তারা পাননি। তিনি বলেন, ‘‘আমরা বিরোধীদল হিসেবে এই অবমূল্যায়ন মেনে নিতে পারি না; তাই প্রতিবাদ স্বরূপ আমরা ওয়াকআউট করছি।’’

    জোটের ঘোষণায় দেখা যাবে আগামীকালের মাঠপর্যায়ের কর্মসূচি ও আরও সমন্বয় সভার মাধ্যমে তাদের আন্দোলনকে অগ্রসর করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

  • গণভোটই সংবিধানের চেয়েও সর্বোচ্চ: বিরোধীদলীয় নেতা

    গণভোটই সংবিধানের চেয়েও সর্বোচ্চ: বিরোধীদলীয় নেতা

    জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোট সংবিধানের চেয়েও উর্ধ্বে অবস্থান করছে। তিনি গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবি জানান।

    শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে দলীয় একটি সমাবেশে এই দাবি জানান তিনি। সমাবেশে তিনি ক্ষমতাসীনদের পাশাপাশি প্রধান বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক দলগুলোকেও কড়া আক্রমণ করেন।

    বক্তব্যে ডা. শফিকুর বলেন, বিএনপি জনগণের সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতিগুলোর প্রতি অসততা দেখিয়েছে। অনেকে বলছে সংবিধানে গণভোট নেই—তবে তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘‘বাংলাদেশে প্রথম গণভোট কারা করেছেন? তখন কি তা সংবিধানে ছিল?’’ তার পরিচিতি অনুযায়ী, জনগণের সরাসরি রায়কেই তিনি সংবিধানের চেয়েও বেশি মর্যাদাপূর্ণ বলে অভিহিত করেন।

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, অনেকেই পেছনে ভেতরে গণভোট নিয়ে অনর্থক ছিলেন, কিন্তু প্রকাশ্যে ‘হ্যাঁ’ বলে প্রতিফলিত হয়েছেন। সংসদে তারা যেন ‘‘জান্নাতের টিকিট’’ দাবি করে দেখবে—এমন সরল রূপরেখায় তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন মিডিয়ায় যারা ‘‘জান্নাতের টিকিট’’ বিক্রি করছে, তাদের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

    গণভোটের ফল কার্যকরে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর বলেন, জনগণের রায়কে ত্যাগ করাই ফ্যাসিবাদের সূচনা। তিনি আশ্বস্ত করেন, গত জুলাইয়ের মতো আন্দোলন আবারো হবে এবং জনগণের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ১১ দলীয় জোটের লড়াই চলবে।

    তিনি সবাইকে জুলুমের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাস্তায় নামার ডাক দেন এবং জানান, আগামীকাল ঢাকায় তাদের প্রথম আন্দোলন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে।

    ডা. শফিকুরের ভাষণে ছিল নির্বাচনী ন্যায়বিচার, জনগণের সিদ্ধান্তকে মর্যাদা দেওয়া এবং সাংবিধানিক সংস্কারের পক্ষে দৃঢ় অঙ্গীকার—এসব বার্তাই সমাবেশে প্রধানভাবে উচ্চারিত হয়।

  • জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ঢাকায় বিক্ষোভের ডাক দিলো

    জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ঢাকায় বিক্ষোভের ডাক দিলো

    জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট রাজধানীতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ ও ‘জুলাই সনদ’ আদেশ সংক্রান্ত প্রতিবাদের মধ্যে শনিবার বিকেলে সমাবেশ ও মিছিল করবে বলে ঘোষণা করেছে।

    বৈঠকের পর বৃহস্পতিবার দুপুরে ১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সাংবাদিকদের জানান এই সিদ্ধান্তের কথা। তিনি বলেন, সরকারি দল সংসদ পরিচালনায় ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে এবং সরকার ফ্যাসিবাদী পথে হাঁটছে। সরকার সংস্কারের কথাকে থামিয়ে দিয়ে সংবিধানে কেবল সংশোধনী আনার চেষ্টা করছে, ফলে রাজপথেই আন্দোলনের ছাড়া ১১ দলের আর কোনো বিকল্প নেই।

    আযাদ জানান, বিক্ষোভ সমাবেশটি বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আরও বলেন, আগামী ৭ এপ্রিল ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের একটি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হবে।

    এর আগে বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের রায় নিয়ে সরকারি দলের কর্মকাণ্ডে আমরা বিস্মিত, আহত ও মর্মাহত।

    সংসদের প্রথম অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল ওয়াকআউট করেছে। মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনা শেষে ‘জুলাই সনদ’ আদেশ জারি না করা ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানকে মিসকোড করার অভিযোগ তুলে বুধবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় বিরোধীদলের সদস্যরা სხরত্যাগ করে বাইরে চলে যান।

    স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ডা. শফিকুর বলেন, আমরা প্রতিকার চেয়েছিলাম। বিষয়টি কোনো দলের একার স্বার্থে নয়—নির্বাচনের আগে সরকারি ও বিরোধী সব পক্ষ এ বিষয়টি নিয়ে একমত হয়েছিল এবং আমরা এর পক্ষে কাজও করেছি, প্রচারণাও করেছি। আমরা যে প্রতিকার পেয়েছি না, সেটি শুধু আমাদের নয়, দেশের মানুষের রায়েরও অবমূল্যায়ন। বিরোধীদল হিসেবে এই অবমূল্যায়ন মেনে নেওয়া যায় না; এ কারণেই আমরা প্রতিবাদ স্বরূপ ভাইকআউট করেছি।

  • ডা. শফিকুর: গণভোটই সংবিধানের থেকেও সুপ্রিম, সংস্কারের দাবি

    ডা. শফিকুর: গণভোটই সংবিধানের থেকেও সুপ্রিম, সংস্কারের দাবি

    জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোট সংবিধানের চেয়েও ওপরের অবস্থানে আছে—এই দাবির ভিত্তিতে তিনি সংবিধান সংস্কারের দাবি জানান। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে দলের এক দায়িত্বশীল সমাবেশে তিনি এ বক্তব্য রাখেন।

    তিনি ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধীদলীয় নেতাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “বিএনপি জনগণের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। তারা বলে সংবিধানে গণভোট নেই—কিন্তু প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশের প্রথম গণভোট কে পরিচালনা করেছিল? তখন কি তা সংবিধানে ছিল?” তিনি দাবি করেন, বাস্তবে গণভোটের রায় সংবিধানের ওপরেই অবস্থান করে।

    ডা. শফিকুর আরও বলেন, নির্বাচনের আগপর্যন্ত অনেকেই গণভোটের পক্ষে ছিলেন; কিন্তু যখন দেখলেন তারা দুই-তৃতীয়াংশে জিততে যাচ্ছেন, তখন তাদের মনোভাব পালটে গেল। তিনি সবাইকে গণতন্ত্রকে মেনে গণভোটে একযোগে আসার আহ্বান জানান।

    তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির মধ্যে গোপনে গণভোটের বিরুদ্ধে লোক রয়েছে, কিন্তু প্রকাশ্যে তারা ‘হ্যাঁ’ বলছে। সংসদে আমরা তাদের কাছে ‘জান্নাতের টিকিট’ চেয়ে দেখব—কারা সেটা বিক্রি করছে, সেটা এখন মিডিয়ায় ভেসে বেড়াচ্ছে, এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।

    গণভোটের ফল কার্যকর করার জন্য জনমুখী কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর বলেন, জনগণের রায়কে নাকচ করা হলে সেটাই ফ্যাসিবাদের সূচনা। “জুলাইয়ে যেমন আমরা নামেছিলাম, তেমনই আবার নামবো। জনগণের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ১১ দলের জোটের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে,” তিনি মন্তব্য করেন।

    সমাবেশে তিনি আগামীকালের ঢাকা কেন্দ্রীয় আন্দোলনের প্রথম কর্মসূচি সফল করার কথা জানান এবং সবাইকে অত্যাচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

  • গণরায়কে অবজ্ঞা করলে জনগণেই তাদের প্রত্যাখ্যান করবে: আসিফ মাহমুদ

    গণরায়কে অবজ্ঞা করলে জনগণেই তাদের প্রত্যাখ্যান করবে: আসিফ মাহমুদ

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, গণরায়কে উপেক্ষা করে সরকার এগোতে চাইলে জনগণ তা মেনে নেবে না। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) স্বাধীনতা দিবসে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মনোভাব ব্যক্ত করেন।

    আসিফ মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস সামনে রেখে দেখা যায়—যে শাসকরা গণরায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, তারা দীর্ঘমেয়াদে রাজনীতির মঞ্চ থেকে হারিয়ে গেছে। ‘‘অনেকেই খুব শক্তিশালী মনে হয়েছিল, কিন্তু গণরায়ের বিরুদ্ধে গেলে ইতিহাস তাদের মুছে দিয়েছে,’’ তিনি বলেন।

    তিনি ১৯৭০ সালের নির্বাচনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, নির্বাচনে জনগণের রায় পাওয়া সত্ত্বেও ক্ষমতা হস্তান্তর না করায় ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল। একইভাবে ১৯৯০ সালে স্বৈরাচ্যকে কুহক করে গণআন্দোলনের মাধ্যমে পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছরের দমনপীড়নের পরও যদি জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে শাসন কায়েমের চেষ্টা করা হয়, শেষ পর্যন্ত তা টেকেনা—এই অভিজ্ঞতাই দেশের আছে।

    সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে তিনি আরও বলেছেন, ‘‘এখনও যদি গণরায় ও গণভোটের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করা হয় এবং তা উপেক্ষা করে সরকার এগোতে চায়, তাহলে জনগণ তা সহ্য করবে না।’’

    গণভোটে বিপুলসংখ্যক মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেছে, এত রক্তের বিনিময়ে অর্জিত সংস্কার ও নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন—যা শহীদদের পরিবার, বাবা-মা ও আহত মুক্তিযোদ্ধারা দেখেছেন—সেগুলো বাস্তবায়ন করা বাধ্যতামূলক। তিনি বলেন, ‘‘যদি এই জনরায় বাস্তবায়ন না করা হয়, তাহলে যে ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’তে ভোট দিয়েছেন, তারা রাস্তায় নামতে দ্বিতীয়বারও দ্বিধা করবে না।’’

    তিনি সংবাদিকদের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘‘জনগণের পাশে দাঁড়ান, যাতে আমরা সবাই মিলে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি। যদি জনগণের বিপক্ষে যাওয়া হয়, তাহলে স্বাধীনতা রক্ষার জন্য আবারও মাঠে নামতেই হবে।’’

  • জামায়াত-নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ঢাকায় বিক্ষোভ-সমাবেশের ডাক

    জামায়াত-নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ঢাকায় বিক্ষোভ-সমাবেশের ডাক

    জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট সংবিধান সংস্কার পরিষদ ও ‘জুলাই সনদ’ আদেশ নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে শনিবার বিকেলে ঢাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করবে বলে ঘোষণা দিয়েছে।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে ১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ ঘোষণা দেন।

    আযাদ বলেন, সরকার সংসদ পরিচালনায় ব্যর্থ হয়ে পড়েছে এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান শাসনব্যবস্থা ‘ফ্যাসিবাদী পথে’ এগিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, সরকার প্রকৃত সংস্কারকে গলাগলি দিয়ে সীমিতভাবে শুধু কিছু সংশোধনী আনার চেষ্টা করছে। তাই তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে আন্দোলন চালানোই ১১ দলের একমাত্র উপায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    হামিদুর রহমান আযাদ জানান, শনিবারের সমাবেশ বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ৭ এপ্রিল ১১ দলের শীর্ষনেতাদের বৈঠকও করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

    এর আগে বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যা সোয়া সাতটায় সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান প্রকাশ্যে বলেন, গণভোটের রায় প্রসঙ্গে সরকারি দলের আচরণে তারা হতবাক, আঘাতপ্রাপ্ত ও মর্মাহত।

    সংসদের প্রথম অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধীদল বৈঠক ত্যাগ করে। দীর্ঘ আলোচনার পর মুলতবি প্রস্তাব নিয়ে বিতর্কের এক পর্যায়ে ‘জুলাই সনদ’ আদেশ জারি না করা এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানকে মিসকোড করার অভিযোগ তুলে বিকেলে সাতটার আগেই বিরোধীরাও মঞ্চ ত্যাগ করেন।

    স্পিকারের উদ্দেশে বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান জানান যে তারা প্রতিকার চাইছিলেন এবং বিষয়টি কোনো একদলীয় স্বার্থ নিয়ে নয়; নির্বাচনকালীন সময়ে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছিল, সেগুলোর প্রয়োগের দাবি করেছিলেন তারা। কিন্তু প্রতিকার না পেলে জনগণের রায়ের যথাযথ প্রতিফলন হবে না—এই উদ্বেগ থেকেই বিরোধীদলের এই প্রতিবাদ এবং পরবর্তীকালে ওয়াকআউট।

    জোটের এই ঘোষণার পর রাজধানীতে শনিবারের বিক্ষোভ কতটা বড় হবে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা কেমন হবে—এ নিয়ে রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও প্রশাসনিক প্রস্তুতির দিক থেকে নজর রাখা হবে।

  • ঢাকায় বিক্ষোভের ডাক জামায়াত-এনসিপি জোটের

    ঢাকায় বিক্ষোভের ডাক জামায়াত-এনসিপি জোটের

    শনিবার রাজধানীতে সংবিধান সংস্কার ও জুলাই সনদ আদেশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, সমাবেশ ও মিছিল করবে জামায়াত-এনসিপি জোটের ১১ দল। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ১১ দলের লিয়াজো কমিটির বৈঠকের শেষে জামায়াতের সহকারী সাধারণ সম্পাদক হামিদুর রহমান আযাদ এই ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, সরকারি দল সংসদ পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছে এবং বর্তমান সরকার শেখ হাসিনার মতোই ফ্যাসিবাদী পথে হাঁটছে। তারা সংবিধানে শুধুমাত্র সংশোধনী আনতে চায়, এবং এ জন্য জনগণের রাস্তায় আন্দোলনের কোন বিকল্প নেই। তিনি জানিয়েছেন, এই সমাবেশ বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটের সামনে অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও, আগামী ৭ এপ্রিল ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে নিশ্চিত করেছেন আযাদ। এর আগে, গত বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে সংসদ ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের রায় নিয়ে সরকারি দলের কর্মকাণ্ডে তারা খুবই বিস্মিত, আহত ও মর্মাহত। সংসদের প্রথম অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে, বিরোধী দল ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন সদস্যরা একত্রিত হয়ে ওয়াকআউট করে। মূল কারণ ছিল, জুলাই সনদ আদেশ জারি না করার সিদ্ধান্ত এবং বিরোধী দলের সদস্য ডা. শফিকুর রহমানকে মিসকোড করার অভিযোগ। সোমবার, বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে তারা এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে সংসদ ত্যাগ করেন। স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে শফিকুর রহমান বলেন, “প্রতিকার চেয়েছিলাম। বিষয়টি কোনো দলের বিরুদ্ধে নয়, বরং সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান চাইছিলাম। আমরা একমত হয়েছিলাম, ভোটের সময় এই বিষয়ে সবাই একসঙ্গে দাঁড়িয়েছিলাম। কিন্তু বাস্তবে আমাদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি এবং ভোটের ফল এসে আমাদের প্রত্যাশার ধারেকাছে পৌঁছায়নি। এটি দেশের জন্য হতাশাজনক এবং এর ফলে আমরা অবমূল্যায়িত হয়েছি। আমরা এই অবমূল্যায়নের প্রতিবাদ জানাতে ওয়াকআউট করেছি।”

  • ৫টি সিটি করপোরেশনে এনসিপির মেয়র প্রার্থী ঘোষণা

    ৫টি সিটি করপোরেশনে এনসিপির মেয়র প্রার্থী ঘোষণা

    প্রায় প্রত독 দেশজুড়ে অনুষ্ঠিতব্য পাঁচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলের মেয়র প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), যা মূলত ঢাকার দুটোসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন নগরীর নির্বাচনকেও কেন্দ্র করে। এই সিদ্ধান্তটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ এনসিপি ইতিমধ্যেই তাদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে সিটি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

    রোববার (২৯ মার্চ) রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন দলের আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। উল্লেখ্য, এই প্রার্থীরা আগামী নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

    জানানো হয়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে দলের মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে এগিয়ে যাওয়া মেয়র প্রার্থী হলেন জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম। সিলেট সিটি করপোরেশনে দলের সিলেট মহানগরের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. আব্দুর রহমান আফজাল এবং রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের নেতা মো. মোবাশ্বের আলী মেয়র পদে লড়বেন।

    এনসিপি জানায়, এপ্রিলের মধ্যে আরেকটি সাতটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্যও প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। তারা আশা করছে, ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। তবে বিএনপি ইতিমধ্যে বলেছে, তারা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ইতোমধ্যে শুরু করে দিয়েছে, আর সিটি করপোরেশনের জন্য তারা এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

    সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন সিটিতে প্রশাসক নিয়োগ করে প্রশাসনকে দলীয়করণ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রশাসকদের প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না এবং কোনো দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে সবকটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

    সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মনোনীত পাঁচ মেয়র প্রার্থীর পাশাপাশি দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা সারজিস আলম ও আব্দুল হান্নান মাসউদসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।