Category: প্রযুক্তি

  • খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে ডিজিটাল কমিউনিকেশন চ্যানেল

    খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে ডিজিটাল কমিউনিকেশন চ্যানেল

    কৃষি উৎপাদন বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) কৃষিখাতের অবদান প্রায় ১৪ শতাংশ। পাশাপাশি, শ্রমশক্তির ৪১ শতাংশ মানুষের জীবিকা এ খাতের ওপর নির্ভরশীল । কৃষিপ্ৰধান দেশ হওয়া সত্ত্বেও, বাংলাদেশ তৈরি পোশাক খাত ও প্রবাসী আয়ের ওপর অনেকাংশেই নির্ভরশীল।

    পরিণতিতে দেশে খাদ্যদ্রব্য আমদানির প্রবণতা ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ নির্ভরতা কমিয়ে আনতে ভূমিকা রাখবে কার্যকরী খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খল। আর এক্ষেত্রে সময়োপযোগী কৌশল গ্রহণ করে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে প্রয়োজন শক্তিশালী যোগাযোগ চ্যানেল স্থাপন করা। সঠিক যোগাযোগ চ্যানেলের অভাবে খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খল কী ধরনের প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে পারে? খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খল একটি বিস্তৃত ও জটিল নেটওয়ার্ক, যেখানে গ্রামীণ কৃষক, জেলে, খামারি ও মধ্যস্বত্বভোগী এবং শহুরে খুচরা বিক্রেতারা পরস্পর নির্ভরশীল উপায়ে কাজ করার মাধ্যমে গ্রাম থেকে তাজা শস্য ও মাছ-মাংস শহরের বাজারে নিয়ে আসে। 
    এক্ষেত্রে, সবগুলো পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরশীলতা থাকা সত্ত্বেও, যোগাযোগের ক্ষেত্রে যথেষ্ট দূরত্ব রয়েছে, যা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে দক্ষ সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এবং অদক্ষ সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রান্তিক কৃষকেরা কম মুনাফা পাচ্ছেন এবং খাদ্যপণ্যের অপচয়ও ঘটছে।

    এক্ষেত্রে, সঠিক সময়ে সঠিক তথ্যের আদান-প্রদান নিশ্চিত করার মাধ্যমে শক্তিশালী যোগাযোগ ব্যবস্থা ইতিবাচকভাবে পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলের গতিপ্রকৃতি বদলে দিতে পারে। যা একই সঙ্গে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাপনার সকল অংশীজনদের মুনাফা বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখবে। কার্যকরী যোগাযোগ ব্যবস্থা অংশীদারদের মধ্যে কার্যক্রম পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখবে। নিজেদের মধ্যে যোগাযোগে কার্যকরী চ্যানেলের মাধ্যমে কৃষক, জেলে, মধ্যস্বত্বভোগী এবং খুচরা বিক্রেতারা বাজারের চাহিদা, লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ এবং আবহাওয়ার সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে সক্ষম হবেন। এখানে জনপ্রিয় ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ইমোর কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। যেখানে রয়েছে হাই-কোয়ালিটি ভিডিও কলের সুবিধা। বর্তমানের ইন্টারনেটের যুগে এ ধরনের ডিজিটাল চ্যানেলে সহজেই যোগাযোগ করা যায়। পচনশীল পণ্য ব্যবস্থাপনায় পরিবহন, রিয়েল-টাইমে বাজারমূল্য এবং চাহিদা সম্পর্কে সঠিক ও সময়োপযোগী তথ্যের আদান-প্ৰদান অত্যন্ত জরুরি। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো কৃষক সময়মতো জানতে পারেন যে নির্দিষ্ট একটি খাদ্যপণ্যের চাহিদা বাড়ছে, তবে তিনি তার উৎপাদিত প্যণের মূল্য নির্ধারণে এবং সেই পণ্য সরবরাহে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে পারবেন।

    ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের সাহায্যে কৃষক, জেলে, ও খামারিরা সহজেই মধ্যস্বত্বভোগী বা খুচরা বিক্রেতাদের সাথে যুক্ত হতে পারেন। যা পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করবে। ইতিমধ্যেই কিছু প্রতিষ্ঠান আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষকদের বাজারমূল্য, আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং ফসল ব্যবস্থাপনার বিষয়ে রিয়েল- টাইম তথ্য দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যা খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাপনার ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।

    জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষকেরা তাদের ফসলের উৎপাদন ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন। একইভাবে, ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে কৃষক, জেলে, খামারি, মধ্যস্বত্বভোগী ও খুচরা বিক্রেতাদের মধ্যে সময়মতো যোগাযোগ নিশ্চিত করে খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খলের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। হাই-কোয়ালিটি ভিডিও কল ও ছবি আদান-প্রদানের মাধ্যমে স্বচ্ছতা যেমন নিশ্চিত করা যাবে, তেমনি ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে পারস্পরিক আস্থাও বৃদ্ধি পাবে; পাশাপাশি, গ্রামীণ কৃষক, জেলে ও খামারিদের যোগাযোগ খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।

    দেশের কার্যকরী খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খল সার্বিকভাবে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। গ্রামীণ পর্যায়ে কৃষক, খামারি ও জেলেরা এবং শহরের খুচরা বিক্রেতারা দেশের খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খলের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের মধ্যে রিয়েল-টাইম এবং স্বচ্ছ যোগাযোগ নিশ্চিত করার মাধ্যমে খাদ্য অপচয় যেমন হ্রাস করা যাবে, তেমনি তাদের মুনাফা বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখা সম্ভব। ডিজিটাল যোগাযোগ এক্ষেত্রে অংশীদারদের মধ্যে কার্যকরী যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে দেশজুড়ে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা বাড়াতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।

  • ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ ফাঁদে পড়ে যা হারালেন তরুণী

    ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ ফাঁদে পড়ে যা হারালেন তরুণী

    আতঙ্কের প্রতীক হয়ে উঠছে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’। থাইল্যান্ড, হংকং, লাওসের মতো একাধিক দেশের মাধ্যমে এই প্রতারণা ভারতে চলছে। গত ১০ মাসে এই প্রতারণার মাধ্যমে ২,১৪০ কোটি টাকা হারিয়েছেন ভারতের সাধারণ মানুষ। 

    এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবার সামনে এলো মুম্বাইয়ের এক ২৬ বছরের তরুণীর ঘটনা। অভিযোগে জানা গেছে, ভিডিও কলে তাকে জোর করে পোশাক খুলতে বাধ্য করে প্রতারক এবং তার থেকে প্রায় ২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।

    পুলিশের এফআইআর অনুযায়ী, গত ১৯ নভেম্বর রাতে একটি ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থায় কাজ করা ওই তরুণী একটি ফোন কল পান। প্রতারক নিজেকে দিল্লির পুলিশ অফিসার পরিচয় দিয়ে জানান যে, ওই তরুণীর বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী নরেশ গোয়েলের আর্থিক দুর্নীতির মামলায় যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে তাকে গ্রেপ্তারের ভয় দেখানো হয়।

    প্রতারকের নির্দেশে তরুণীকে একটি হোটেল রুম বুক করতে বাধ্য করা হয় এবং সেখানে একটি ‘ভার্চুয়াল শুনানি’র নাটক তৈরি করা হয়। এরপর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট যাচাইয়ের নামে তার অ্যাকাউন্ট থেকে  প্রায় ২ লাখ টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি ‘বডি ভেরিফিকেশন’-এর অজুহাতে ভিডিও কলে তাকে পোশাক খুলতে বাধ্য করা হয়।

    গত ২৮ নভেম্বর পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন ওই তরুণী। তার অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্তকে শনাক্ত করার কাজ চলছে।

    সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে ডিজিটাল অ্যারেস্টের মতো প্রতারণার বিষয়ে জনগণকে সতর্ক করেন। তিনি জানান, কোনও সরকারি তদন্তকারী সংস্থা অনলাইনে কাউকে ভয় দেখিয়ে বা হুমকি দিয়ে কাজ করে না। এ ধরনের ফোন পেলে দ্রুত ন্যাশনাল সাইবার হেল্পলাইনে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।

  • রোববার ৩ ঘণ্টা বিঘ্নিত হবে ইন্টারনেট সেবা

    রোববার ৩ ঘণ্টা বিঘ্নিত হবে ইন্টারনেট সেবা

    দেশের প্রথম সাবমেরিন ক্যাবলের (এসএমডব্লিউ-৪) রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য রোববার (১ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ৩টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত মোট ৩ ঘণ্টা ক্যাবলটির মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ পরিষেবা বন্ধ থাকবে। শনিবার (৩০ নভেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি)।

    সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রোববার (১ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ৩টা থেকে ভোর ৫টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত (মোট ২ ঘণ্টা ৫৯ মিনিট) কক্সবাজারে স্থাপিত দেশের প্রথম সাবমেরিন ক্যাবল সিস্টেমের সিমিইউ-৪ এর চেন্নাই প্রান্তে চেন্নাই ল্যান্ডিং স্টেশনের কাছে এবং সিঙ্গাপুর প্রান্তে টুয়াস ল্যান্ডিং স্টেশনের কাছে কনসোর্টিয়াম কর্তৃক ক্যাবলের ত্রুটি নিরসনের লক্ষ্যে রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। তাই এই সময়ে সিমিইউ-৪ এর মাধ্যমে কক্সবাজার থেকে চেন্নাই রুটে এবং সিঙ্গাপুর রুটে যুক্ত সার্কিটগুলোর মাধ্যমে সেবা সাময়িকভাবে ব্যাহত হবে। এমন পরিস্থিতিতে সাময়িক অসুবিধার জন্য বিএসসিপিএলসি কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে।

    বিএসসিপিএলসি সিমিউই-৪ এবং সিমিউই-৫ নামের দুটি আন্তর্জাতিক সাবমেরিন ক্যাবল কনসোর্টিয়ামের (কোম্পানি) সদস্য। যেটি বাংলাদেশে সাবমেরিন কেবলসের অধিক ক্ষমতা ও পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করে। বর্তমানে সিমিউই-৪ এবং সিমিউই-৫ ক্যাবল দুটির মাধ্যমে বাংলাদেশের ইন্টারনেট এবং আন্তর্জাতিক ভয়েস ট্র্যাফিক চলছে। সিমিউই-৪ এর জন্য বিএসসিসিএল এর কেবল ল্যান্ডিং স্টেশন রয়েছে কক্সবাজারে। আর সিমি-দউই-৫ এর জন্য বিএসসিসিএলের ল্যান্ডিং স্টেশন চালু হয়েছে পটুয়াখালীর কুয়াকাটাতে।

  • পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে টেলিটক অনলাইন সিম সেবা

    পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে টেলিটক অনলাইন সিম সেবা

    পরীক্ষামূলকভাবে টেলিটক অনলাইন সিম সেবা চালু করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বুধবার (২৭ নভেম্বর) বিকেল থেকে কমার্শিয়াল পাইলটিং হিসেবে রাজশাহী বিভাগের রাজশাহী, নওগাঁ, চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার ১১টি পোস্ট অফিসে এই সেবা শুরু করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সব জেলার পোস্ট অফিসের মাধ্যমে সেবাটি পাওয়া যাবে।

    সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত্ব মোবাইল অপারেটর টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড টেলিটকের সিম গ্রাহকের দরজায় পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের পোস্ট অফিস এবং তাদের বিলি বন্টন সেবাকে একীভূত করেছে।

    যার ফলে অনলাইনে গ্রাহক তার সিম নম্বর পছন্দ ও অর্ডার করে তার সুবিধাজনক ডাকঘর থেকে অথবা বাসায় বসেও সংগ্রহ করতে পারবেন।

    এখন থেকে গ্রাহক তার টেলিটকের পছন্দের সিমটি নিতে নির্দিষ্ট ডাকঘর থেকে ২৫০ টাকা এবং ঘরে বসে সংগ্রহ করতে ৩০০ টাকা মোবাইল ওয়ালেটের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে।

    অটোমেটেড ট্রাকিং নম্বরের মাধ্যমে গ্রাহক সিমের ডেলিভারি অবস্থান জানতে পারবেন। টেলিটকের ওয়েবসাইট teletalk.com.bd এই address এ ‘অনলাইন সিম’ মেন্যুতে গিয়ে অনলাইনে অর্ডার করতে পারবে।

    টেলিটক অনলাইন সিম সেবা চালুর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম ও বিশেষ অতিথি হিসেবে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব ড. মো. মুশফিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

    এছাড়া টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল মাবুদ চৌধুরী, বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মহাপরিচালক এস এম শাহাব উদ্দীনসহ টেলিটক ও ডাক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এসময় উপস্থিত ছিলেন।

  • হোয়াটসঅ্যাপ এবার নিয়ে এলো ড্রাফটস ফিচার

    হোয়াটসঅ্যাপ এবার নিয়ে এলো ড্রাফটস ফিচার

    জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের সুবিধার্থে এবার নিয়ে এলো ড্রাফটস ফিচার। নতুন এ ফিচারে খসড়া বার্তা লেখার ফিচার যুক্ত হয়েছে। অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে এই ফিচারটি আগে থেকেই চালু থাকলেও প্রথমবারের মতো হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীরা এই সুবিধা পাবেন। 

    মূলত এই ফিচারের সাহায্যে ব্যবহারকারীরা আনসেন্ট মেসেজ সেভ করতে পারবেন। এর ফলে অসমাপ্ত মেসেজ আর হারিয়ে যাবে না। কেননা ই-মেইলের মতোই তা ড্রাফট হিসেবেই সেভ হয়ে যাবে স্বয়ংক্রিয় ভাবে।

    অনেক সময়ই এমন হয় কোনো মেসেজ টাইপ করার পর হয়তো তা আর পাঠানো হয় না। এক্ষেত্রে হোয়াটসঅ্যাপ সেটাকে সবুজ রঙের ড্রাফট হিসেবে লেবেল করে দেবে চ্যাট লিস্টে। ফলে অনায়াসেই ব্যবহারকারী ড্রাফট প্রিভিউ ও লেবেলের সাহায্যে সেগুলোকে শনাক্ত করতে পারবেন। চাইলে সেটিকে সম্পূর্ণ করে পাঠিয়ে দিতে পারবেন নির্দিষ্ট নম্বরে।

    এ ছাড়াও বিভিন্ন মানুষের সাথে কথোপকথন ট্র্যাক করতে বা আলাদাভাবে দেখার জন্য কাস্টম লিস্ট তৈরির ফিচার যোগ হয়েছে হোয়াটসঅ্যাপে।  সেই সঙ্গে চালু হয়েছে নতুন এক প্রোগ্রাম যা ব্যবহারকারীদের যেকোনো ডিভাইস থেকে কন্টাক্ট যোগ করার সুযোগ করে দেবে।

  • নিষিদ্ধ হচ্ছে সিঙ্গেলব্যান্ড রাউটার, বাধ্যতামূলক ডুয়াল বা ট্রাইব্যান্ড

    নিষিদ্ধ হচ্ছে সিঙ্গেলব্যান্ড রাউটার, বাধ্যতামূলক ডুয়াল বা ট্রাইব্যান্ড

    বাসা কিংবা অফিসে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য একটি অত্যাবশ্যকীয় ডিভাইস হলো ওয়াই-ফাই রাউটার। দেশের বাজারে এখন সিঙ্গেল, ডুয়াল বা ট্রাই-ব্যান্ডের বিভিন্ন মডেলের রাউটার পাওয়া যায়। তবে শীঘ্রই নিষিদ্ধ হতে যাচ্ছে সিঙ্গেল ব্যান্ডের সকল রাউটার, ব্যবহার করা যাবে শুধু ডুয়াল বা ট্রাই-ব্যান্ড। 

    বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। নতুন সিদ্ধান্তটি কার্যকর হবে ২০২৫ সালের ১ এপ্রিল থেকে।

    বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী বছর থেকে ডুয়াল বা ট্রাই ব্যান্ড সাপোর্ট করে শুধু এমন রাউটারই বিদেশ থেকে আমদানি এবং দেশে উৎপাদন করা যাবে। যে সব ওয়াইফাই রাউটার বাংলাদেশে বাজারজাত করা হবে সে সব রাউটারকে বাধ্যতামূলকভাবে ২.৪-২.৪৮৩ গিগাহার্জ এবং ৫.৭২৫-৫.৮৭৫ গিগাহার্জ, উভয় ব্যান্ড সাপোর্ট করতে হবে। এর মধ্যে যে কোনো একটি ব্যান্ড সাপোর্ট করে এমন ওয়াইফাই রাউটার বাজারজাত করা যাবে না।

    এতে নিম্নমানের এবং কম ব্যান্ডের রাউটার বিদেশ থেকে আমদানি ও দেশে উৎপাদনের রাস্তা বন্ধ হয়ে যাবে। ইন্টারনেটের মান উন্নয়ন ও উচ্চ গতির ডেটা ট্রান্সফারের সুবিধা নিশ্চিত করতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

  • মেটাকে ৮৪ কোটি ডলার জরিমানা করলো ইউরোপীয় ইউনিয়ন

    ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটাকে ৭৯ কোটি ৭৭ লাখ ২০ হাজার ইউরো (৮৪ কোটি ডলার) জরিমানা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অভিযোগ, কোম্পানিটি ফেসবুকের মার্কেটপ্লেসে শ্রেণিবদ্ধ বিজ্ঞাপন পরিষেবায় ব্যবহারকারীদের স্বয়ংক্রিয় প্রবেশাধিকার দেয়ার মাধ্যমে একচেটিয়া ব্যবসা-সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘন করেছে।

    বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুয়ায়ী, কোম্পানিটি নিজেদের প্রভাবশালী অবস্থানের অপব্যবহার করেছে। ইউরোপীয় কমিশনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, মেটার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে অন্য যেসব অনলাইনভিত্তিক শ্রেণিবদ্ধ বিজ্ঞাপন পরিষেবাদাতা বিজ্ঞাপন দেয়, তাদের ওপর অন্যায্য বাণিজ্যিক শর্তারোপ করে ব্যবসা সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘন করেছে মেটা।

    ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিযোগিতা বিভাগের প্রধান মারগ্রেথ ভেসটাগার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ইইউর একচেটিয়া ব্যবসা সংক্রান্ত আইনের অধীনে এটি বেআইনি। মেটার এ ধরণের আচরণ অবশ্যই বন্ধ করা দরকার।’

    “মেটার ‘অপব্যবহারমূলক অনুশীলন’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ইউরোপীয় কমিশন বলেছে, যেহেতু ফেসবুক মার্কেটপ্লেস ফেসবুকের সঙ্গে সংযুক্ত, তাই এটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিতরণ সুবিধা পায়। ফলে এর সঙ্গে প্রতিযোগিরা তাল মেলাতে পারে না।”

    কমিশন আরও বলেছে, ‘ফেসবুক মার্কেটপ্লেসে সব ব্যবহারকারীর সয়ংক্রিয় প্রবেশাধিকার আছে। ইচ্ছা কিংবা অনিচ্ছা স্বত্তেও নিয়মিতভাবে এটি তাঁদের সামনে চলে আসে।’

    এদিকে এ বিষয়ে মেটা বলেছে, ইইউর করা জরিমানার বিপক্ষে আপিল করবে তারা। কোম্পানিটি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ফেসবুক ব্যবহারকারীরা তাদের মার্কেটপ্লেসে যুক্ত হবেন কি হবেন না, তা তারাই ঠিক করেন। বাস্তবতা হচ্ছে, মানুষ ফেসবুকের মার্কেটপ্লেস ব্যবহার করে চায় বলেই করে। তারা এটি ব্যবহার করতে বাধ্য নয়।’

    এ ছাড়া ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে যারা বিজ্ঞাপন দেয় তাদের জন্য শ্রেণিবদ্ধ বিজ্ঞাপন পরিষবার ক্ষেত্রে মেটা অন্যায্য শর্ত বেধে দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে ইউরোপীয় কমিশন। এই শর্তের কারণে অন্যান্য বিজ্ঞাপনদাতাদের বিজ্ঞাপনভিত্তিক তথ্য একচেটিয়াভাবে ব্যবহারের সুবিধা পায় মেটা।

    তবে মেটার দাবি, তারা এই উদ্দেশ্যে বিজ্ঞাপনদাতাদের তথ্য ব্যবহার করে না। আর এমনটি যাতে না হয় তা নিশ্চিত করার জন্য তারা একটি ব্যবস্থা ও নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া তৈরি করেছে।