Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • বাংলাদেশে রোজা শুরু তারিখ জানা গেছে

    বাংলাদেশে রোজা শুরু তারিখ জানা গেছে

    প্রতিবছরের মতো এবারও মুসলিম উম্মাহর জন্য পবিত্র রমজান মাসের সমসাময়িক সময়ের ঘোষণা আসছে। দুবাইয়ের ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড চ্যারিটেবল অ্যাকটিভিটিজ ডিপার্টমেন্টের বর্ষপঞ্জী অনুযায়ী, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের ১৭ থেকে ১৯ তারিখের মধ্যে রমজান মাসের আনুষ্ঠানিক সূচনা হতে পারে। এই সময়ের মধ্যে ফেব্রুয়ারি মাসের ১৮ তারিখ সম্ভবত রমজান মাসের প্রথম দিন হিসেবে গণ্য হবে, তবে এটি চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করবে।

    বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, দুবাইয়ের এই ডিপার্টমেন্টের ২০২৬ সালের সরকারি ছুটি ও ধর্মীয় ইভেন্টের ক্যালেন্ডারের ভিত্তিতে জানানো হয়েছে যে, চলতি বছর রমজান মাসের শেষ দিন হতে পারে ১৯ মার্চ, যা মহান সংজ্ঞা অনুযায়ী চলবে ২৯ বা ৩০ দিন। পরের দিন অর্থাৎ ২০ মার্চ হতে পারে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত।

    এদিকে, হিজরি বর্ষের গণনা চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে। চলমান সময়ে হিজরি মাস রজব চলছে, যা সাধারণত ২৯ বা ৩০ দিনের হয়ে থাকে।

    অন্যদিকে, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের ১২ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন শেষে রোজার মাস শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই সময়ে একে অপরের সাথে সংযুক্ত হয়ে মুসলিম সম্প্রদায় রোজার প্রস্তুতি শুরু করবে।

    সংবাদটি প্রকাশ করলেন আজকের খবর/বিএস।

  • সপরিবারে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকালেন তারেক রহমান

    সপরিবারে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকালেন তারেক রহমান

    বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান সপরিবারে ভারতের মধ্যপ্রদেশের প্রভাবশালী অর্থনীতিবিদ ও সরকারের অন্যতম উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এই গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎটি বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত হয়।

    সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি তার স্ত্রী জোবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানসহ যমুনা ভবনে প্রবেশ করেন। প্রায় দুই ঘণ্টা অনুপস্থিত থাকার পর রাত সোয়া ৯টার দিকে তিনি সেখানে থেকে বিদায় নেন।

    এর আগে, তিনি সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিটে গুলশানের বিএনপি কার্যালয় থেকে বের হন। এরপর ৬টা ৫২ মিনিটে বাসে করে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নামে এক পরিচিতি সম্পন্ন বাসে জোড়া দিয়ে তিনি যমুনার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

    এই সাক্ষাৎ ও চলমান বৈঠকটি রাজনৈতিক অঙ্গণে বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

  • নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নেবে কি না, রিজওয়ানা হাসানের স্পষ্টতা

    নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নেবে কি না, রিজওয়ানা হাসানের স্পষ্টতা

    অসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    নির্বাচনের সম্পর্কে এখনও জনমনে কিছু সংশয় থাকলেও, তিনি স্পষ্ট করে বললেন, নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারীতেই অনুষ্ঠিত হবে। এর সঙ্গে মানুষের মধ্যে বিভিন্ন রকম মিথ্যা প্রচার ছড়ানো হচ্ছে, যা নির্বাচন হবে না এমন সন্দেহ সৃষ্টি করছে। তিনি এই প্রচারবাজির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে বলেন, এর কোনও ভিত্তি নেই এবং এর ফলে কোনও লাভ হবে না।

    সাংবাদিকরা যদি প্রশ্ন করেন যে, আওয়ামী লীগ কি এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে—এ বিষয়ে তিনি জানান, আইন অনুসারে আওয়ামী লীগ স্বচ্ছলভাবে নির্বাচন অংশগ্রহণের সুযোগ পায়নি। তবে, এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেই বললেই চলে, তারপরও সেটি অংশগ্রহণমূলক হবে।

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে যেসব অভিযোগ আসছে, সেটিকে তিনি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। তবে, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হলো প্রতিকার দেওয়া, যা তারা স্পষ্টভাবে করতে পারে।

    বিশ্লেষণ করে রিজওয়ানা হাসান বললেন, যারা পরিবর্তন এবং সংস্কার চাচ্ছেন, তারা অবশ্যই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে রায় দিতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে এই প্রচারণা অব্যাহত থাকবে এবং তা নিরপেক্ষতা নষ্ট করবে না। সরকার আইন পাস করতে পারার ক্ষমতা রাখে এবং এই বিষয়ে তাদের অবস্থান পরিষ্কার। ফলে, গণভোটের প্রচারণাও প্রশ্নবিদ্ধ হবে না।

    অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেন্ট ভিসা স্থগিতের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি জানান, বিষয়টি সরকারের নজরে রয়েছে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখন থেকেই তাতে দ্রুত সমাধানের জন্য কাজ শুরু করবে।

    সংক্ষিপ্তসারে, এই সব প্রসঙ্গে রিজওয়ানা হাসান নির্বাচন ও বৈদেশিক বিষয়গুলো জুড়ে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি পরিষ্কার করে বলেও জানিয়েছেন।

  • শবে মেরাজের ঘটনা থেকে চারটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা

    শবে মেরাজের ঘটনা থেকে চারটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা

    রজব মাস মুসলমানদের জন্য বিশেষ ধর্মীয় গুরুত্ব বহন করে। এই মাসটি তওবা ও আত্মশুদ্ধির জন্য যেমন অতি গুরুত্বপূর্ণ,তেমনি রমজান ماهের প্রস্তুতির সূচনালগ্ন। এই মাসে মানবজাতির জন্য ঘটে গেছে এক বিস্ময়কর ঐতিহাসিক ঘটনা—শবে মেরাজ। সেই রজনীতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা থেকে জেরুজালেমে আসেন, সেখান থেকে সপ্তম আকাশে পৌঁছে আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করেন। এই অবিস্মরণীয় রাতটি মুসলমানদের জন্য অশেষ শিক্ষা এবং নির্দেশনার উৎস।

    উম্মতের জন্য মহানবীর সবচেয়ে প্রিয় উপহার হলো নামাজ। শবে মেরাজের ঘটনায় দেখা যায়, মহানবী (সা.) জেরুজালেমে পৌঁছে হেথা পূর্ববর্তী নবীদের সঙ্গে মিলিত হয়ে নামাজে ইমামতি করেন। এরপর তিনি আকাশে আরোহণ করে আল্লাহর সঙ্গে কথা বলেন। আল্লাহ তাআলা এই রাতে মুসলমানদের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের খরিদ করে দেন। শুরুতে আল্লাহ নির্দেশ দেন ৫০ ওয়াক্ত নামাজের। ফেরার পথে মহানবী হজরত মুসা (আ.)-এর সঙ্গে সাক্ষাত করলে তিনি জানলেন যে, নামাজের সংখ্যা বেশির হয়। তিনি মহানবীকে অনুরোধ করেন, আল্লাহর কাছে বারবার ফিরে গিয়ে সংখ্যা কমানোর জন্য। এভাবে ধাপে ধাপে ৫০ ওয়াক্ত থেকে নামাজের সংখ্যা কমে ৫ ওয়াক্তে এসে দাঁড়ায়। শেষ পর্যন্ত মহানবী (সা.) আর নামাজের সংখ্যা কমানোর জন্য যাননি, কারণ তিনি জানতেন, আল্লাহর সামনে বারবার ফিরে গিয়ে এমন আবেদন করা লজ্জার হবে।

    শবে মেরাজের ঘটনাটি আমাদের জন্য চারটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রদান করে:

    ১. শোনার পরিমিতি ও মানা: মহানবী (সা.) আল্লাহর নির্দেশ শোনার পরে কোনো প্রশ্ন বা আপত্তি না করে তা স্বীকার করেন। এটি আমাদের জন্য স্পষ্ট করে দেয় যে, আল্লাহ ও তার রাসুলের নির্দেশ বিনা প্রশ্নে মানা উচিত।

    ২. উপদেশ গ্রহণের মানসিকতা: মহানবী (সা.) যখন দেখলেন, নামাজ কমানোর জন্য নবীর জন্য কষ্ট হতে পারে, তখন তিনি নিজে চেষ্টা করেন, আল্লাহর কাছে বারবার ফিরে গিয়ে প্রয়োজনমতো পরিবর্তনের জন্য। এটি আমাদের জন্য সূচনামূলক শিক্ষণ, যে অন্যের উপদেশ মনোযোগ দিয়ে গ্রহণ করা উচিৎ।

    ৩. উম্মতের প্রতি গভীর মমতা ও ভালোবাসা: মহানবীর প্রতি অটুট দরদ ও উম্মতের জন্য তার সার্বক্ষণিক চিন্তাভাবনা স্পষ্ট। তিনি নিজের সুবিধার আপসে নয়, উম্মতের সুবিধা ও কষ্ট লাঘবের জন্য সবকিছু করতে প্রস্তুত। এটা আমাদের চর্চার বিষয়, আমরা কি সত্যিই আমাদের ভাই-বোনদের জন্য কিছু করছি?

    ৪. আল্লাহর সামনে লজ্জা ও বিনয়: মহানবী (সা.) আল্লাহর কাছে নামাজের সংখ্যা কমানোর জন্য অনুরোধ করেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর করেন না। কারণ, তিনি জানতেন, আল্লাহর দরবারে লজ্জা ও বিনয়ের অনুভূতি থাকা উচিত। এটা আমাদের প্রতিদিনের জীবনেও প্রয়োগ করতে হবে।

    অতএব, শবে মেরাজের এই ঐতিহাসিক ঘটনাকে গভীরভাবে উপলব্ধি করে আমাদের উচিত, আল্লাহর নির্দেশ যথাযোগ্য মর্যাদা ও বিনয় সহকারে মানা, অন্যের পরামর্শকে গুরুত্ব দেওয়া, উম্মতের জন্য আন্তরিক LOVE দেখানো এবং সব সময় আল্লাহর সামনে লজ্জা ও বিনয় বজায় রাখা। এতে আমাদের জীবন হবে সুন্দর, মহানবীর শিক্ষায় অনুপ্রাণিত ও আল্লাহর রহমত লাভের পথ প্রসারিত হবে।

  • বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে নাগরিক শোকসভা আজ সংসদের দক্ষিণ প্লাজায়

    বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে নাগরিক শোকসভা আজ সংসদের দক্ষিণ প্লাজায়

    সোমবারের দিন, আজ শুক্রবার দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে একটি মানবিক নাগরিক শোকসভা অনুষ্ঠিত হবে। এই অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বিভিন্ন সমাজের শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তি ও নাগরিক অংশগ্রহণ করবেন।

    এই শোকসভা সব রাজনৈতিক দলের জন্য উন্মুক্ত হলেও এটি কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং খালেদা জিয়ার প্রতি সর্বস্তরের মানুষের গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তার আদর্শ থেকে অনুপ্রেরণা লাভের জন্য এক মানবিক উদ্যোগ। সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেনের সভাপতিত্বে এটি আয়োজনের প্রধান সাজসজ্জার দায়িত্বে থাকছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ।

    গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অনুষ্ঠানটির বিস্তারিত সম্পর্কে আলোচন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে, ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, ৩০ ডিসেম্বর দেশের প্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশ ব্যাপক শোকাকুল হয়েছিল। তার জানাজা ও শোকসভা ছিলো এক ব্যাপক শোকের সমাবেশ। নাগরিক সমাজ এই অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছে এবং তার আদর্শ থেকে প্রেরণা নেওয়ার লক্ষ্য রাখছে।

    তিনি আরও জানান, এটি কোনও রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি নয়। যদিও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তবে অভিযোজন ও গাম্ভীর্য রক্ষার জন্য তারা কোনো বক্তব্য দিবে না; বরং বিভিন্ন পেশার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা নিজ নিজ স্থান থেকে ভাষ্য দিবেন।

    শোকসভায় উপস্থিত থাকবেন খালেদা জিয়ার পরিবার, শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীরা। এছাড়া পাহাড়ি জনগোষ্ঠী ও সনাতন ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও বক্তব্য রাখবেন।

    আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অনুষ্ঠানের পবিত্রতা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সেলফি তোলা, হাততালি বা দাঁড়িয়ে থাকা যাবে না। সবাইকে সাদা-কালো পোশাক পরে আসার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    প্রবেশের জন্য নির্ধারিত সময় সকাল ১২টা থেকে গেট খোলা হবে। গেট নম্বর ৬ দিয়ে প্রবেশ করতে হবে এবং বের হবেন আসাদ গেট দিয়ে। গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য গেট নম্বর ১ ও ১২ ব্যবহার করতে হবে, আর পায়ে হেঁটে আসা ব্যক্তিরা কেবল বকুলতলা গেট (নম্বর ১২) দিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন।

    আয়োজকদের মতে, আমন্ত্রণপত্র ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। তবে, আগত অতিথিদের জন্য বিকল্প প্রবেশপত্রের ব্যবস্থা থাকবে। মিডিয়া কাভারেজের জন্য যেমন রিপোর্টার, ক্যামেরাম্যান ও মাল্টিমিডিয়া কর্মীদের জন্যও দরকার হলে আলাদা ইভেন্ট টিকেট দেওয়া হবে।

    সংবাদ সম্মেলনে তারা সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন যেন এই শোকসভা মর্যাদা ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা সহকারে, একটি ঐতিহাসিক ও সম্মানজনক অনুষ্ঠানে রূপ নেয়।

    সূত্র: বাসস

    আজকের খবর/ এমকে

  • ১১ কোটি টাকা দামি এনআইডি তথ্য বিক্রি: ইসির দুই কর্মচারী গ্রেফতার

    ১১ কোটি টাকা দামি এনআইডি তথ্য বিক্রি: ইসির দুই কর্মচারী গ্রেফতার

    জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) জালিয়াতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে নাগরিকদের সংবেদনশীল তথ্য সরবরাহের অভিযোগে কঠোর তদন্তে নামে পুলিশ। অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এই সম্পূর্ণ চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির সাইবার পুলিশ কেন্দ্রের ডিআইজি মোঃ আবুল বাশার তালুকদার বিস্তারিত জানিয়েছেন, গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছেন গজারিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসের সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মোঃ হাবীবুল্লাহ (৪১) ও ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মোঃ আলামিন (৩৯)। তারা মাসের পর মাস সরকারি এনআইডি তথ্য অবৈধভাবে সরবরাহ করে আসছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মাত্র ৩০ দিনেই এই গ্রুপ ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৬০৮টি এনআইডি তথ্য বিক্রি করে, যার মূল্য প্রতি টাকার হিসেব করলে এরা হাতিয়েছেন প্রায় ১১ কোটি টাকা। এ ছাড়া, আলামিনের কাছে থাকা গোপন আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে হাবীবুল্লাহ দেশের বিভিন্ন নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রি করতেন, প্রতি ব্যক্তির জন্য নেওয়া হতো ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। পুলিশ জানায়, সিআইডির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সামপ্রতিক এক সপ্তাহে তারা ১ লাখ ১২ হাজার ১৫০টি তথ্য ও ৩০ দিনের মধ্যে ৩ লাখ ৬৫ হাজারের বেশি এনআইডি তথ্য সরবরাহ করেছেন। ওই সমস্ত অবৈধ কার্যকলাপে বেকসুর মূল হোতাদের বিরুদ্ধে পল্টন মডেল থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। ডিআইজি মোঃ আবুল বাশার তালুকদার বলেন, এই অর্থের মাধ্যমে হাবীবুল্লাহ ঢাকায় বিলাসবহুল জীবনযাপন ও দামী স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন। গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে ওটি পি ট্রান্সফারের মাধ্যমে এনআইডি সার্ভারে প্রবেশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তথ্য বিক্রি করে আসছিল। এই বিষয়ে তদন্ত চলছে, এবং মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

  • বিএনপি জানালো জাইমা রহমানের ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম আইডি

    বিএনপি জানালো জাইমা রহমানের ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম আইডি

    বিএনপি জানিয়েছে, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একমাত্র কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের মধ্যে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে একটি করে আইডি রয়েছে। এই তথ্য বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপির ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মাহদী আমিন নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আমরা নিশ্চিত করছি যে, তারেক রহমানের কন্যা জাইমার ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম আইডি মেটা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সম্প্রতি ভেরিফায়েড করা হয়েছে। ব্লু টিক যুক্ত এই দুটি সোশ্যাল মিডিয়া পেজ ছাড়া তার অন্য কোনো অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট নেই। মাহদী এও জানান, বিএনপির আইটি দপ্তর এখন পর্যন্ত ৫০টিরও বেশি ফেক আইডি ও পেজ রিমুভ করেছেন, যেখানে ডিপফেইক ও এআই-জেনারেটেড ভিডিও পোস্ট করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছিল। কিছু আইডি ও পেজ এখনো অবশিষ্ট রয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে মেটার সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে দল। জাইমা রহমানের এই আইডিগুলোর লিঙ্কগুলো হলো- ফেসবুক: https://www.facebook.com/zzrahman25 এবং ইনস্টাগ্রাম: https://www.instagram.com/zzrahman25।

    তিনি আরও জানান, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রীর নামেও বেশ কিছু ফেক ফেসবুক পেজ খোলা হয়েছে, যেখানে এআই ব্যবহার করে বানানো মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে। এ ব্যাপারে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ডাঃ জোবায়দা রহমানের কোনো সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট বা পেজ নেই। সবাইকে বিভ্রান্তিতে না পড়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়।

    মাহদী আরও বলেন, এটি দুঃখজনক যে, নির্বাচন কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক অপপ্রচার ও misinformation, disinformation ছড়িয়ে পড়ছে। এরই প্রেক্ষিতে বিএনপি নির্বাচন কমিশনের কাছে একটি ফ্যাক্ট-চেকিং সেল গঠনের দাবি জানায়। তারা সরকারের কাছে অনুরোধ করে, দ্রুত এই ফ্যাক্ট-চেকিং সেল কার্যকর করার জন্য।

  • দুদকের মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরের ঝামেলা

    দুদকের মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরের ঝামেলা

    দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নতুন একটি মামলায় জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে Enforcement of Anti-Terrorism Act সহ বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ জমা দিয়েছে। মামলার ভিত্তিতে জানতে পারা গেছে যে, আনিস আলমগীরের নামে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ ও মানিলন্ডারিংয়ের বিস্তারিত তথ্য রয়েছে।

    দুদকের মহাপরিচালক আখতারুজ্জামান জানান, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ তথ্য প্রকাশ করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয় যে, আনিস আলমগীরের কাছে ২৫ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে, পাশাপাশি তার নামে মোট ৪ কোটি ৯ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে স্থাবর সম্পদ রয়েছে ৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা, আর অস্থাবর সম্পদ রয়েছে ১ কোটি ৮৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকা। এছাড়া পরিবারের খরচের জন্য ১৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা খরচ দেখানো হয়েছে। সব মিলিয়ে তার অর্জিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ২৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭৮৯ টাকা।

    অভিযুক্তের বৈধ আয়ের উৎস থেকে তার আয় মোট ৯৯ লাখ ৯ হাজার ৮৫১ টাকা। এই আয় ভেতরে রয়েছে অতীতের সঞ্চয়, টক শো ও কনসালটেন্সি থেকে আয়, প্লট বিক্রি এবং সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক সুদ। কিন্তু, তার সম্পদ ও আয়ের মধ্যে বড় ফারাক পাওয়া যায়, যা মোট অর্জিত সম্পদের প্রায় ৭৭ শতাংশ। এই ফারাকের কারণে তাকে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়।

    আনিসুর রহমান আলমগীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও ফটোগ্রাফি বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষক ছিলেন। পাশাপাশি, তিনি বৈশাখী টিভির সাংবাদিক ও আরটিভির চিফ নিউজ এডিটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৪ ডিসেম্বর রাতে তাকে ডিবি কার্যালয়ে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, এরপর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তার গ্রেফতার দেখানো হয়।

  • রাজধানীতে ভবনে ভয়াবহ আগুন, নিহত ৩

    রাজধানীতে ভবনে ভয়াবহ আগুন, নিহত ৩

    রাজধানীর উত্তরায় একটি সাত তলার ভবনের দ্বিতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও নির্বাপণের কাজ শুরু করে। এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় সকাল আটটা বিশ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে, তবে এরপরও পুরোপুরি নিভে যেখানে যায়নি। সকাল দশটার মধ্যে আগুনের সম্পূর্ণ আগুন নিভিয়ে ফেলা সম্ভব হয়। নিহতের মধ্যে দুই জন নারী এবং একজন পুরুষ রয়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া, আহত হন কমপক্ষে ১৩ জন, যাদের কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।প্রাথমিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা যায়নি। ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন বিষয়টি তদন্ত করছে। এখনো নিহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। এই ভয়াবহ ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে, তবে উদ্ধার ও তদন্ত কাজ দ্রুত চলমান রয়েছে।

  • প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তারেক রহমানের প্রায় দুই ঘণ্টার সাক্ষাৎ

    প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তারেক রহমানের প্রায় দুই ঘণ্টার সাক্ষাৎ

    অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে কথা বললেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাত ৯টা ১১ মিনিটে তিনি ও তার পরিবারের অন্য সদস্যরা সরকারি বাসভবন যমুনা থেকে বেরিয়ে গুলশানের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এর আগে সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিটে তিনি গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে বের হয়ে বাসভবনে যান। বাসভবনে ঢুকলেন ৬টা ৪৭ মিনিটে এবং ৬টা ৫২ মিনিটের মধ্যে বাসভবন ত্যাগ করে তিনি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নামক বাসে করে যমুনার দিকে রওনা হন। বিএনপি চেয়ারম্যান হিসেবে এটি তার প্রথমবারের মতো অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ। এই সাক্ষাৎকালে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। এই দীর্ঘ সাক্ষাৎ ও আলোচনা সম্পর্কিত আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য বিএনপি বা সরকারের প্রেস উইং থেকে আগের রাতে, রাত ৯টা ২৫ মিনিটের আগে প্রকাশ করা হয়নি। উল্লেখ্য, গত ২৫ ডিসেম্বর ১৭ বছর পর দেশে ফিরে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পা রাখার মুহূর্তে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। তখনই তিনি তারেক রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। দেশে ফেরার ২১ দিন পর আজ তিনি তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য বাসভবনে যান। এর মধ্যে, ৩১ ডিসেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজায় তিনি ড. ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এছাড়া, গত বছর ১৩ জুন লন্ডনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তারেক রহমানের মধ্যে একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা যৌথ বিবৃতি দেন। এই বৈঠক থেকেই বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনের তারিখ নির্ধারিত হয় বলে জানা গেছে।