Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • ১৭ বছরের ওয়াকিমুলের ‘এ টু আই স্মার্ট কারে’ চড়লেন প্রধানমন্ত্রী

    ১৭ বছরের ওয়াকিমুলের ‘এ টু আই স্মার্ট কারে’ চড়লেন প্রধানমন্ত্রী

    বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন তরুণ ওয়াকিমুল ইসলাম যে গাড়িটি বানিয়েছেন—‘এ টু আই স্মার্ট কার’—সেই ছোট ব্যাটারি চালিত বাহনে কিছু সময়ের জন্যই correct প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বসে প্রদর্শনী চালিয়ে দেন তিনি। শনিবার (৯ মে) সকালে তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ওয়াকিমুলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে উষ্ম অভ্যর্থনা জানান এবং এই কৃতিত্বকে উৎসাহিত করেন।

    ওয়াকিমুল সামান্য ডিহবিল্ট শিশুর মতো নয়—তিনি নিজেই গাড়িটি সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন এবং মুহূর্তেই প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে গাড়ি চালিয়ে দেখান। প্রধানমন্ত্রীর পেছনে বসে গাড়িটির কার্যকারিতা পরীক্ষা করে তিনি ১৭ বছর বয়সী এই তরুণকে দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে এরকম সৃজনশীল উদ্যম প্রকাশ করার জন্য প্রশংসা করেন।

    প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে কম খরচে আরও আধুনিক ও ব্যবহারবান্ধব স্মার্ট কার তৈরির পরামর্শ দেন এবং এমন সৃজনশীল উদ্যোগে সরকারের পক্ষ থেকে সমর্থনের আশ্বাসও দেন।

    ওয়াকিমুল সাক্ষাৎকালে জানান, আগে সারাদিন বাড়িতেই থাকতেন, একা বাইরে যেতে পারতেন না—এই সমস্যা থেকেই তিনি নিজেভাবে চলাফেরার উপায় খুঁজতে গিয়ে গড়েছেন এই স্মার্ট কার। তিনি প্রয়োজনে সহায়তা পেলে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আরও উন্নত মডেল তৈরি করতে পারবেন এবং সেই গাড়ি কেবল বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদেরই নয়, বয়স্কদের জন্যও ব্যবহার উপযোগী হবে বলেও জানান।

    ওয়াকিমুল যশোরের চৌগাছা সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। তাঁর পিতা একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তাঁর পাশে ছিলেন বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির (বিপিকেস) প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আবদুস সাত্তার দুলাল, যিনি জানান—গাড়িটি একবার চার্জে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে এবং সর্বোচ্চ গতি প্রায় ৪৫ কিমি/ঘণ্টা।

    সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

    ওয়াকিমুলের পরিচ্ছন্ন ও পরিষ্কার ধারণা, সহজগতির ডিজাইন ও দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি—সব মিলিয়ে এই উদ্যোগ থেকে ভবিষ্যতে আরও সাশ্রয়ী ও বহুমুখী স্মার্ট ট্রান্সপোর্ট গড়ে ওঠার সম্ভাবনা থাকলে সরকারিভাবে সহযোগিতা দিলে তা দ্রুত বাস্তবে রুপ নেবে, এটাই অনুষ্ঠানের মূল প্রেক্ষাপট ছিল।

  • নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে ‘নতুন সংগ্রামে’ নামার আহ্বান

    নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে ‘নতুন সংগ্রামে’ নামার আহ্বান

    বিএনপি চেয়ারেন তারেক রহমান দলের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সক্রিয় সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন, দলের সমর্থন ও সমন্বয় ছাড়া সরকারের কাজ সফল হবে না—তাই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের জন্য এখনই ‘নতুন সংগ্রামে’ নামতে হবে।

    শনিবার (৯ মে) সকালে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন (কেআইবি) মিলনায়তনে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। সভায় দলের যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতারা অংশগ্রহণ করেন।

    তারেক রহমান বলেন, ‘‘এক যুদ্ধ শেষ হয়েছে, এখন আরেকটি যুদ্ধ শুরু হয়েছে—এটা হলো আমরা জনগণকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সেগুলো বাস্তবায়ন করা।’’ তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মাঠে থাকা নেতাকর্মীরা নির্বাচনটি কতটা কঠিন ছিল তা প্রত্যক্ষ করেছেন এবং মানুষ আমাদের ম্যানিফেস্টো ও ইশতেহারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

    চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনের আগে তাদের দেওয়া ইশতেহার এখন জনগণের ইশতেহারে রূপ নিয়েছে। ‘‘নির্বাচনের আগ পর্যন্ত এটা ছিল বিএনপির ম্যানিফেস্টো; নির্বাচন ও সরকার গঠনের পরে এটা বাংলাদেশের জনগণের ইশতেহারে পরিণত হয়েছে,’’ তিনি যোগ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে দেশব্যাপী ভোটারদের প্রায় ৫২ শতাংশ ম্যানিফেস্টোর পক্ষে ভোট দিয়েছেন, তাই সেই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাতে হবে।

    তারেক রহমান আরও বলেন, নির্বাচনের আগে তারা সুশাসন, শিক্ষার উন্নয়ন এবং নারী-পুরুষ-শিশু সবাইকে নিরাপদ পরিবেশ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এক সময়ে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে লড়াই চলাকালে যে অত্যাচার-নির্যাতন, গুম-হত্যার ঘটনা ঘটেছে, সেই পরিস্থিতি বদলে Debated ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ফিরে আনাই তাদের লক্ষ্য ছিল।

    তিনি বলেন, সরকার আছে, কিন্তু বিএনপি যদি সহযোগিতা না করে many ক্ষেত্রেই সরকার সফল হবে না। বিএনপির সাফল্য নির্ভর করে এখানে উপস্থিত প্রত্যেকের সরকারের পাশে দাঁড়ানোর ওপর—তারই জন্য মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।

    সকাল পৌনে ১১টায় শুরু হওয়া মতবিনিময় সভাটি দিনব্যাপী রুদ্ধদ্বারের আয়োজন ছিল। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সভার সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান ও এজেডএম জাহিদ হোসেনও ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন।

    এটি ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ওই সংসদীয় নির্বাচনের পর দলের মাঠ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে চেয়ারেন তারেক রহমানের প্রথম বড় মতবিনিময় সভা বলে জানানো হয়েছে।

  • মন্ত্রী না থাকলে কি উন্নয়ন থেমে যাবে? প্রশ্ন গোলাম পরওয়ারের

    মন্ত্রী না থাকলে কি উন্নয়ন থেমে যাবে? প্রশ্ন গোলাম পরওয়ারের

    জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রশ্ন তুলেছেন: প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকেন না এমন এলাকায় কি উন্নয়ন হবে না?

    শুক্রবার কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ভবনে বাংলাদেশ রেলওয়ে এমপ্লয়িজ লীগের কেন্দ্রীয় দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

    গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘‘যে এলাকার নেতারা প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা আইনমন্ত্রী হবে না, সেই এলাকায় কি কোনো উন্নয়ন হবে না? উন্নয়নকে বৈষম্যহীন করতে হলে জাতীয়ভাবে জরিপ করে দেখা উচিত—কোথায় রেল বা সড়ক যোগাযোগ বেশি প্রয়োজন। ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে সরকারকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে।’’

    তিনি জুলাই আন্দোলনের ত্যাগ ও শহীদদের কথা স্মরণ করিয়ে বলেন, ‘‘হাজারো মানুষের রক্ত আর ত্যাগের বিনিময়ে সরকার ক্ষমতায় এলেও এখন আবার বৈষম্যমূলক সমাজ গঠনের চেষ্টা চলছে। হাজার রক্তের বিনিময়ে ক্ষমতায় এসে ন্যায়বিচার না দিয়ে অন্যায় করা হচ্ছে; সেটা শহীদদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।’’

    রেল যোগাযোগের বেহাল দশার কারণ হিসেবে তিনি দুর্নীতিকেই দায়ী করেছেন। বলেন, ‘‘বিশ্বে রেল যোগাযোগ উন্নতির শিখরে উঠছে, অথচ বাংলাদেশে রেল খাত পিছিয়ে যাচ্ছে। এত বড় নেটওয়ার্ককে আমরা আধুনিকায়ন করতে পারিনি।’’ আগামী বাজেটে প্লেস্কেল আর রেলের শ্রমিক-কর্মচারীদের দাবি মেটানো ও আধুনিক রেলপথ গড়ে তোলার জন্য সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আহ্বান জানান তিনি।

    দেশীয় সিদ্ধান্তমূখী নীতির প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘‘বাংলাদেশ এখন নিজস্ব সিদ্ধান্তে চলবে; কোনো বিদেশি শক্তির প্রেসক্রিপশন বা রিমোট কন্ট্রোল মানি না। পূর্ণ স্বাধীন ও সার্বভৌম রাখতে সব ধরনের বহিঃশক্তির হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।’’

    তিনি ট্রেড ইউনিয়নের কর্মকান্ড সংকুচিত করার নীতির তীব্র সমালোচনা করেন এবং বলেন, সরকার শ্রমিক ও শ্রমসংগঠনের ওপর নানা সীমাবদ্ধতা আরোপ করে শ্রমিকদের অধিকার নিলে গণতন্ত্র ও শ্রমিকদের কল্যাণ ক্ষুণ্ন হয়।

    গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, ‘‘একটি কারখানায় বেশি সংখ্যক ট্রেড ইউনিয়ন থাকা উচিত—কারখানা যত বড় হবে, তত বেশি ট্রেড সংগঠন থাকা প্রয়োজন। সংগঠনের সংখ্যা বেশি হলে মালিকপক্ষের সঙ্গে বসে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ে সুবিধা হবে।’’

    সম্মেলনে তিনি সরকারের প্রতি অনুরোধ রাখেন—উন্নয়ন ন্যায়ভিত্তিক ও স্বচ্ছভাবে করতে হবে, রেল ও যোগাযোগ খাতে দুর্নীতি রোধ করে অবকাঠামো উন্নয়নে ত্বরান্বিত উদ্যোগ নিতে হবে এবং শ্রমিক-সংগঠনের মেধা ও অধিকার রক্ষা করতে হবে।

  • জুলাই সনদ ইস্যুতে সরকার টালবাহানা করছে: নাহিদ ইসলাম

    জুলাই সনদ ইস্যুতে সরকার টালবাহানা করছে: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম সরকারকে Juli সনদ ও সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে টালবাহানা করছে বলে অভিযোগ করেছেন।

    শনিবার (৯ মে) রাজধানীর এক হোটেলে ‘সংস্কারে অচলাবস্থা সমাধানে করণীয় কী’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি বলেন, সরকার এ ইস্যুকে এড়িয়ে যেতে চায় এবং সময় টানছে। তাঁর দাবি, সাংবিধানিক সংস্কার সম্পন্ন হবে ধরাবাঁধা, জনগণের অংশগ্রহণ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে—এটাই গ্রহণযোগ্য।

    নাহিদ ইসলাম অবিলম্বে গণভোটের নির্দেশনা অনুযায়ী ‘সাংবিধানিক সংস্কার কাউন্সিল’ গঠনের দাবি জানান। তিনি বলেন, এই কাউন্সিল গঠনেই হবে জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়নের পথ।

    বিএনপির বিরুদ্ধে সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীসহ বিএনপির শীর্ষ নেতারা প্রকাশ্যে গণভোটের পক্ষে বললেও ক্ষমতায় আসার পর তারা সেই অবস্থানকে ত্যাগ করেছে। এভাবে বিএনপি মূলত জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে প্রত্যাখ্যান করছে বলে তিনি আক্রমণ করেন।

    নাহিদ আরও বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য সংসদের ভেতরে ও বাইরে আলোচনা ও কর্মসূচি চলবে, পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ কর্মসুচিও চালানো হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি সরকার ইতিবাচক সাড়া না দেয় তাহলে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে।

    আলোচনায় তিনি জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে স্বচ্ছ ও সার্বভৌম ভিত্তিতে সাংবিধানিক পরিবর্তন আনা না হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নির্বাচনী বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরে পাওয়া সম্ভব হবে না—এ ধরনের বার্তাও দেন নাহিদ ইসলাম।

  • সোনার দাম কমল — প্রতি ভরির নতুন মূল্য কত?

    সোনার দাম কমল — প্রতি ভরির নতুন মূল্য কত?

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) জানিয়েছে দেশের বাজারে সোনার দাম কমানো হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সর্বোচ্চ ভরিতে ২ হাজার ২৫৮ টাকার পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার এক ভরির দাম দুই লাখ ৪০ হাজার ৩৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বাজুসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২২ ক্যারেট সোনার ভরি গতকাল সোমবার (৪ মে) যে দুই লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা ছিল, তা থেকে কমেছে। নতুন দাম মঙ্গলবার সকালে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সকাল ১০টা থেকে কার্যকর করা হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দাম কমে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

    অন্যান্য মানের সোনার প্রতি ভরির নির্ধারিত দামগুলো হলো: ২১ ক্যারেট — দুই লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেট — এক লাখ ৯৬ হাজার ৬৫৫ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা — এক লাখ ৬০ হাজার ১৪৭ টাকা।

    রুপার দাম এই রাউন্ডে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। নির্ধারিত তালিকায় ২২ ক্যারেট রুপার এক ভরির দাম ৫ হাজার ৪৮২ টাকা, ২১ ক্যারেট রুপা ৫ হাজার ১৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৪৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার প্রতি ভরি দাম ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও সোনার মূল্যকে প্রভাবিত করেছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংক্রান্ত উত্তেজনার পর миров বাজারে সোনার দাম বাড়ার পরে মূল্যসমন্বয়ের কারণে ওঠানামা দেখা গেছে। বিশ্ববাজারের গতিপথ সম্পর্কে গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে বলা হয়েছে, এ মুহূর্তে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ৫০০ ডলারে নেমে এসেছে। এর আগের কিছু ডেটাও উল্লেখ করা হয়েছে — ৩০ জানুয়ারি তখন দাম ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি ছিল ৫ হাজার ৫৫০ ডলার।

    বাজারের ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের জন্য বাজুসের এই নতুন মূল্য তালিকা এখন থেকেই প্রযোজ্য থাকবে। কিনতে বা বিক্রি করতে যাওয়ার আগে স্থানীয় বজারের আপডেট দেখতে এবং কাছে থাকা জুয়েলারি সংস্থার নোটিশ খতিয়ে দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

  • টানা দ্বিতীয় দফায় বেড়েছে সোনার দাম

    টানা দ্বিতীয় দফায় বেড়েছে সোনার দাম

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) টানা দ্বিতীয় দফায় সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। বাজুস জানিয়েছে, প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৬ টাকা পর্যন্ত দর বাড়ানোর ফলে ২২ ক্যারেট সোনার ভরিপ্রতি দাম গতকালের তুলনায় বাড়ে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে নতুন দাম বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী গতকাল ২২ ক্যারেটের ভরিপ্রতি দাম ছিল ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা; সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়ালে ২২ ক্যারেটের এক ভরি এখন ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বাজুসের নির্ধারিত অন্যান্য মূল্যগুলোও এভাবে সংশোধন করা হয়েছে: ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২১৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম এক লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকা।

    সোনার সঙ্গে রুপার দামও সামঞ্জস্য করা হয়েছে। ২২ ক্যারেট ভিত্তিক এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা; ২১ ক্যারেটে ৫ হাজার ৫৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ৪ হাজার ৭২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা প্রতি ভরি রুপা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বাজুস বলেছে আন্তর্জাতিক বাজারে তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দাম বাড়ার কারণে স্থানীয় বাজারে দাম সমন্বয় করা হয়েছে। বিশ্ববাজারে লাগাতার উর্ধ্বমুখী হারের কারণ হিসেবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল উত্তেজনা উল্লেখ করা হয়েছে। অনলাইন সাইট গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি অনুসারে বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম প্রায় ৪ হাজার ৭০০ ডলারে পৌঁছেছে।

    প্রসঙ্গত, এর আগে ৩০ জানুয়ারিতে আউন্সপ্রতি সোনার দাম ছিল আনুমানিক ৫ হাজার ২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি বাড়তে বাড়তে ৫ হাজার ৫৫০ ডলারে ওঠেছিল। এছাড়া গত মাসের শেষে বিশ্ববাজারে দর দ্রুত বাড়ার প্রভাব国内 বাজারেও পড়ে; ২৯ জানুয়ারি সকালেই বাজুস একধাক্কায় ভরিপ্রতি ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট সোনার এক ভরি দাম ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় নিয়ে গিয়েছিল— যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ এবং একবারে এত বড় বৃদ্ধি আগে দেখা যায়নি।

    গ্রাহক ও সোনার ব্যবসায়ীদের জন্য এসব নতুন দাম আজ সকাল ১০টা থেকে প্রযোজ্য।

  • ভারত সফলভাবে পরীক্ষা করলো পরমাণু বহনক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র

    ভারত সফলভাবে পরীক্ষা করলো পরমাণু বহনক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র

    ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) উড়িষ্যা উপকূলে একটা পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) সফলভাবে পরীক্ষা করেছে। পরীক্ষা গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সম্পন্ন হয়েছে বলে সরকারি ও প্রতিরক্ষা সূত্রে জানা গেছে।

    টাইমস অফ ইন্ডিয়ার উদ্ধৃতিতে বলা হয়েছে, উত্‍পন্ন তথ্য অনুযায়ী এটি আইসিবিএম শ্রেণির ক্ষেপণাস্ত্র হলেও এটি ‘অগ্নি-৬’ কিনা তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। পরীক্ষার সাফল্য প্রযুক্তিগত দিক থেকে ভারতের রকেট প্রপালশন, দিকনির্দেশনা ব্যবস্থা ও রি-এন্ট্রি প্রযুক্তিতে সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।

    বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন ও উত্তর কোরিয়ার মতো কয়েকটি দেশই আইসিবিএম প্রযুক্তি অর্জন করেছে। ভারতের এই সফল পরীক্ষা দেশটিকে বিশ্বশক্তির এমন এক তালিকায় স্থান দেবে বলে বিশ্লেষকরা বলছেন। পরীক্ষায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রটির দূরত্বসীমা ১০ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি—এমন পাল্লা থাকায় পৃথিবীর অন্যতম অনেক প্রান্তে এটি আঘাত হানতে সক্ষম হবে, বলে প্রতিরক্ষা পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

    উৎক্ষেপণের কয়েক দিন আগে ডিআরডিওয়ের চেয়ারম্যান সমীর ভি. কামাত বলেছেন, সরকারের অনুমতি পেলেই তারা অগ্নি-৬ প্রকল্পে এগোতে প্রস্তুত। এই প্রযুক্তির সফল পরীক্ষার মাধ্যমে ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি ও গাইডেন্স সিস্টেমে বিশ্বস্ততা বাড়ায়, যা দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে আরও মজবুত করবে।

    রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ায়, বিজেপি তাদের অফিসিয়াল এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে মন্তব্য করেছে যে অগ্নি-৬য়ের মতো সক্ষমতা ভারতের মহাশক্তি হিসেবে ওঠানামাকে ত্বরান্বিত করবে এবং দেশটিকে শক্তিশালী জাতিগণের শ্রেণিতে আনবে। তারা রাশিয়ার ১২ হাজার কিলোমিটার পাল্লার সারমাট ও চীনের ১৫ হাজার কিলোমিটার পাল্লার ডিএফ-৪১র মতো সিস্টেমের সঙ্গে তুলনা করেছে।

    একই সময়ে, ডিআরডিও ও ভারতীয় বিমানবাহিনী যৌথভাবে ‘ট্যাকটিক্যাল অ্যাডভান্সড রেঞ্জ অগমেন্টেশন’ (তারা) নামক একটি প্রযুক্তিরও সফল পরীক্ষা করেছে। এই প্রযুক্তি সাধারণ বা লক্ষ্যহীন যুদ্ধাস্ত্রকে নিখুঁত লক্ষ্যভেদী ‘স্মার্ট’ অস্ত্রে রূপান্তর করতে সাহায্য করে—ফলে কৌশলগতভাবে আরও ধাঁচানো ও দক্ষ অস্ত্র ব্যবহার সম্ভব হবে।

    সামগ্রিকভাবে, এই পরীক্ষার সাফল্য ভারতের প্রতিরক্ষা ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে, যদিও কিছু বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এর বিস্তারিত তথ্য ও কর্মক্ষমতা সম্পর্কে আরও স্বচ্ছতা দাবি করেছেন।

  • এন এস রাজা সুব্রমণি সেনা সর্বাধিনায়ক, কৃষ্ণ স্বামীনাথন নৌবাহিনী প্রধান

    এন এস রাজা সুব্রমণি সেনা সর্বাধিনায়ক, কৃষ্ণ স্বামীনাথন নৌবাহিনী প্রধান

    কেন্দ্রীয় সরকার বড় ধরনের প্রতিরক্ষা বদল ঘোষণা করেছে। লেফটেন্যান্ট জেনারেল এন এস রাজা সুব্রমণিকে ভারতের নতুন সেনা সর্বাধিনায়ক (চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ) হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি বর্তমান জেনারেল অনিল চৌহানের স্থলাভিষিক্ত হবেন; চৌহানের মেয়াদ শেষ হবে ৩০ মে। একই সঙ্গে ভাইস অ্যাডমিরাল কৃষ্ণ স্বামীনাথনকে পরবর্তী নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে; বর্তমানে নৌবাহিনী প্রধান দীনেশ কুমার ত্রিপাঠীর কার্যকাল ৩১ মে শেষ হবে এবং তারপর স্বামীনাথন দায়িত্ব নেবেন। শনিবার (৯ মে) এই নিয়োগের খবরে এনডিটিভি প্রথম জানিয়েছিল।

    সেনা সর্বাধিনায়কের ভূমিকায় সুব্রমণি তিন বাহিনী—সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধানদের সমন্বয় করবেন। কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তিনি চিফ অব ডিফেন্স স্টাফের পাশাপাশি সরকারের সামরিক বিষয়ক দপ্তরের সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন।

    সুব্রমণির কর্মজীবন দীর্ঘ এবং বহুমাত্রিক। তিনি জাতীয় ডিফেন্স অ্যাকাডেমি থেকে শিক্ষা গ্রহণের পর ১৯৮৫ সালে গড়ওয়াল রাইফেলসে কমিশনপ্রাপ্ত হন। যুক্তরাজ্যের জয়েন্ট সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজেও তিনি পাঠ নিয়েছেন। দেশে ফিরে পর্বত ব্রিগেডে ব্রিগেড মেজর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং পরে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজেও যোগ দিয়েছিলেন। প্রায় ৩৫ বছর কর্মজীবনে তিনি সংবেদনশীল বহু অঞ্চলে দায়িত্ব নিয়েছেন এবং কাজাখস্থানে ভারতের দূতাবাসে সামরিক দায়িত্বও সামলেছেন। দক্ষতা ও সেবার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একাধিক সম্মান লাভ করেছেন। ২০২৩ সালে তিনি সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডিং ইন চিফ হিসেবে দায়িত্ব পান এবং পরের বছর দেশের ৪৭তম ভাইস সিডিএস হিসেবে কাজ করেছেন। সাম্প্রতিককালে সক্রিয় চাকরি থেকে অবসরের পর জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সামরিক পরামর্শদাতা হিসেবে থাকছিলেন তিনি।

    নির্বাচিত নৌবাহিনী প্রধান কৃষ্ণ স্বামীনাথন বর্তমানে মুম্বাইয়ের পশ্চিম নেভাল কমান্ডের দায়িত্বে রয়েছেন। তার সঙ্গে আগে নৌবাহিনীর উপ-প্রধান হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। তিনি বিভিন্ন যুদ্ধপोतের কমান্ডার ছিলেন—যেগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্ষেপণাস্ত্রবাহী রণতরী আইএনএস বিদ্যুৎ, আইএনএস বিনাশ, করভেট আইএনএস কুলিশ, ক্ষেপণাস্ত্রধ্বংসকারী আইএনএস মহীশূর এবং বিমানবাহী রণতরী আইএনএস বিক্রমাদিত্য। এসব তরফে তার সমুদ্রিক নেতৃত্ব ও অপারেশনাল দক্ষতা তাকে নৌবাহিনী প্রধানের ভূমিকায় নিয়ে এসেছে।

    কেন্দ্রের এই নতুন নিয়োগ আগামী মাসের শেষের দিকে কার্যকর হবে। প্রতিরক্ষা পর্যায়ে এই রদবদল থেকে ভবিষ্যতে কৌশলগত ও অপারেশনাল সিদ্ধান্তে কেমন প্রভাব পড়ে, সেটাই এখন নজরের বিষয়।

  • শার্শায় পরীক্ষা কেন্দ্রে অনৈতিক সহযোগিতা, প্রধান শিক্ষকসহ দুইজন গ্রেপ্তার

    শার্শায় পরীক্ষা কেন্দ্রে অনৈতিক সহযোগিতা, প্রধান শিক্ষকসহ দুইজন গ্রেপ্তার

    যশোরের শার্শা উপজেলায় সরকারি এসএসসি পরীক্ষার এক কেন্দ্রে অনৈতিকভাবে সহযোগিতা করার অভিযোগে প্রধান শিক্ষক শাহানারা খাতুন ও কর্মচারী ফাতেমা খাতুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার পরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    ঘটনাটি শোনা যায় গত ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষার পর থেকে। অভিযোগ অনুযায়ী, বাগআঁচড়া সম্মিলিত গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের ৩০১ নম্বর কক্ষে পরীক্ষার্থী অহনা খাতুনের উত্তরপত্র গোপনে সংগ্রহ করেন প্রধান শিক্ষক শাহানারা খাতুন। পরে একই প্রতিষ্ঠানের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ফাতেমা খাতুনের সহায়তায় সেই উত্তরপত্রে ভুল সংশোধন করে পুনরায় জমা দেওয়া হয়।

    এ ঘটনায় ব্যাপক ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য দেখা দেয়। খবর পেয়ে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার এ কে এম নুরুজ্জামান ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করেন। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের যথার্থতা পাওয়া গেলে শুক্রবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসন তাদের আটক করার নির্দেশ দেন এবং রাতে মামলা দায়ের করা হয়।

    শনিবার (৯ মে) শার্শা থানা প্রধান মারুফ হোসেন ঘটনাটি পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইনের ৮, ৯, ১২ ও ১৩ ধারায় মামলা করা হয়েছে। পরে অভিযুক্ত দুইজনকে আদালতে সোপর্দ করলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার এ কে এম নুরুজ্জামান জানান, তদন্তে অনৈতিক সহযোগিতার প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং পরীক্ষার পবিত্রতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ toler করা হবে না।

    এদিকে ঘটনাস্থল ও মামলার বিষয়ে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারা এই ঘটনার মাধ্যমে শিক্ষাঙ্গনের নৈতিকতা ও পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছেন।

    পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালিয়ে সামনের আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। তদন্তে আরও কেউ জড়িত আছেন কি না তা অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

  • ৪১৩ রানে অলআউট: জন্মদিনে সেঞ্চুরি থেকে বঞ্চিত মুশফিক

    ৪১৩ রানে অলআউট: জন্মদিনে সেঞ্চুরি থেকে বঞ্চিত মুশফিক

    মুশফিকুর রহিমের জন্য আজকের দিনটা ছিল বিশেষ—জন্মদিন। পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে সেই বিশেষ দিনে শতকের সামনে থাকার সুযোগ ছিল মুশফিকের, তবে সেঞ্চুরির আনন্দ ভোগ করতে পারলেন না। লাঞ্চে তিনি যখন ফিরে যান, তখন শতবরার থেকে ২৯ রান দূরে ছিলেন। লাঞ্চের পরই প্রথম ওভারেই শাহিন শাহ আফ্রিদির ফুল-লেন্থ ডেলিভারিতে অফ স্টাম্প উড়ে যাওয়ায় মুশফিক বিদায় নেন। তিনি ১৭৯ বলে ৭১ রানের একটি ধীরস্থির ইনিংস খেলেছেন, যার মধ্যে ছিল ৮টি চার। মুমিনুলের মতো সেঞ্চুরিবঞ্চিত হয়ে মাঠ ছাড়তে হল মোশফিককে।

    টেল-এন্ডারদের সংযুক্তি বাড়ায় দল অধরাই থেমে যায়নি; শেষ পর্যন্ত টাইগাররা আরও ৩৩ রান যোগ করে ৪১৩ রানে অলআউট হয়। পাকিস্তানের তরফে মোহাম্মদ আব্বাস দলকে স্বস্তি দিলেন—তিনি পাঁচ উইকেট নেন। তারই বিরুদ্ধে রক্ষণভঙ্গ করে তাসকিন আহমেদ ১৮ বলে ঝড়ো ২৮ রান করে দলের শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হন।

    মিরপুরে দ্বিতীয় দিন শুরু হয়েছিল মুশফিক ও লিটন দাসের জুটিতে। আগের দিন মুশফিক ৪৮ এবং লিটন অপরাজিত ৮ রানে ছিলেন। দিনের চতুর্থ ওভারে মুশফিক হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করে ব্যাট উঁচিয়ে উদ্‌যাপন করেন। এরপর মোহাম্মদ আব্বাসের ওভারে লিটন দাস ৩৩ রানে আউট হন। মেহেদী মিরাজ বেশি সময় টিকতে পারেননি—১২ বল খেলে একটি চার ও একটি ছয়ে ১০ রান করেন। taিজুল ইসলাম ২৩ বল খেলেন ১৭ রানের দ্রুত ইনিংস।

    বাংলাদেশের ইনিংসের ভিত্তিটা তৈরি হয়েছিল আগের দিনের নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হকের ১৭০ রানের জুটিতে। শুরুতে ৩১ রানে দুই উইকেটের ক্ষতি হয়েছিল—মাহমুদুল হাসান জয় ৮ ও সদমান ইসলাম ১৩ রানে ফিরেছেন। এরপর তৃতীয় উইকেটে মুমিনুল ও শান্ত কড়া প্রতিরোধ গড়ে পাকিস্তানের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন এবং দ্বিতীয় সেশনে পুরোপুরি আধিপত্য দেখান।

    বিরতির ঠিক আগে শান্ত তার টেস্ট ক্যারিয়ারে নবম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন—এটি তার ৭৪তম ইনিংসে পাওয়া সেঞ্চুরি। কিন্তু সেগুলো বেশি টেকেনি; পরে আব্বাসের গুড-লেন্থ ডেলিভারিতে ডিফেন্ড করতে গিয়ে তিনি এলবিডব্লিউ হয়ে আউট হন। শান্ত একটু আক্রমণাত্মক খেললেও মুমিনুল তুলনায় বেশি সংযত ছিলেন। শান্তের পর মুমিনুল ১০২ বলের মধ্যে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এবং আগের দিনের জমা সঙ্গে মিলিয়ে ৯১ রানে থেমে যান; তিনি ২০০তম বলের মোকাবিলায় নোমান আলীর বিরুদ্ধে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন। মুমিনুলের ইনিংসে ছিল ১২টি চার।

    শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ৪১৩ রানে অলআউট হয়ে যায়, যেখানে দলের বড় অংশটা গঠিত হয়েছিল শান্ত-মুমিনুলের জুটির ওপর। মোহাম্মদ আব্বাসের বোলিং ঝাঁকুনিতে পাকিস্তান ম্যাচে ফিরে এসেছে।