Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • জাতি গঠনে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

    জাতি গঠনে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

    জাতি গঠন ও দেশের উন্নয়নে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সক্রিয় সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    আজ মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের অধ্যাপক মুজাফফর আহমদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। তিনি বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় একটি ভাষা শেখারও পরামর্শ দেন, যাতে আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ে।

    অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ১৫৬ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন; তাদের মধ্যে ১৭ জন সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্বটি তাৎপর্যপূর্ণ ও ভয়েসফুল ছিল—প্রধানমন্ত্রী হাসিমুখে বেশিরভাগ প্রশ্নের উত্তর দেন এবং নানা উদ্যোগের কথা জানান।

    ঢাবি চারুকলা অনুষদের অঙ্কন ও চিত্রায়ণ বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী কাবেরী আজাদ সরকারের শিল্পবাজার প্রসারের কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী প্রথমে কাবেরীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, প্রত্যাশা অনুযায়ী সবকিছু একদিনে হয় না; স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে হবে। তিনি বলেন, ‘আপনাদের প্রত্যেক শিক্ষার্থীর ভূমিকা বড়—সোশ্যাল মিডিয়া হোক বা অন্য মাধ্যম। অপিনিয়ন তৈরিতে আপনাদের অংশগ্রহণ জরুরি। রাজনীতিকে সংসদে নিয়ে আসতে হবে; শুধু রাজপথে হৈচৈ করে কিছু নির্মাণ করা সম্ভব নয়।’

    শিক্ষা ও কর্মসংস্থান নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন মোবাশেরুজ্জামান হাসান। তিনি হলে থাকার সমস্যা, চাকরির অনিয়ম, প্রশ্নফাঁস ও স্বজনপ্রীতির উদ্বেগ তুলে ধরেন। উত্তরে প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতি ও অর্থপাচারের ঘটনাগুলো নির্মমভাবে তুলে ধরে বলেন, অতীতের ব্যাপক অনিয়ম ও পাচারের কারণে সরকারের সব সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব হচ্ছে না। তিনি রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের দুর্নীতি, বিভিন্ন অর্থ পাচারসহ বড় বড় অনিয়মের উদাহরণ দেন এবং জানান, ‘জিরো টলারেন্স’ বাস্তবে সহজ নয়; তবে দুর্নীতিরোধে ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের অন্যান্য দিকগুলোও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে—শিক্ষক নিয়োগে রাজনৈতিক প্রবণতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক মান, লাইব্রেরি ও হলে আসন সমস্যা ইত্যাদি নিয়ে তিনি দীর্ঘ আলোচনা করেন। শিক্ষক নিয়োগে মেধাভিত্তিক ব্যবস্থা ও অনুকূল পাবলিকেশন নীতির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি ভিসিকে এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়ার অনুরোধ করেন।

    এক প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতায় একটি দৃষ্টান্তবর্ণনাও ছিল—তিনি জানান, ব্রিটিশ পার্লামেন্ট দেখার সময় যে ‘গাইডেড টুল সিস্টেম’ দেখেছিলেন, সেই অনুপ্রেরণায় বাংলাদেশে স্কুল পড়ুয়াদের পার্লামেন্টে নিয়ে গিয়ে ইতিহাস, সেশন ও বিল্ডিংয়ের ঐতিহ্য প্রদর্শনের উদ্যোগ নেয়ার কথা বলেছেন। ইতিমধ্যে ঢাকার স্কুলগুলোর শিশুদের আনতে শুরু করা হয়েছে; ধীরেসুস্থে অন্যান্য জেলার শিক্ষার্থীরাও আনা হবে বলেও জানান তিনি।

    দেশের ভাষা ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রশ্নে আল আমিন নামের আরেক শিক্ষার্থীর উদ্বেগের প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভাষা সংরক্ষণ মূলত পরিবার ও মানসিকতার ব্যাপার। নিজের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, তার পরিবারের সদস্য বিদেশে থেকেও দেশীয় পরিচয় রাখতে পেরেছেন—এটি পারিবারিক অভ্যাস ও মানসিকতার ফল। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইংলিশ মিডিয়াম পড়ার পাশাপাশি মাতৃভাষার ব্যবহার বাড়ানোর প্রয়োজন আছে।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ১৭ বছরের অন্তর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার স্মৃতি স্মরণ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসটা হাঁটতে হাঁটতে দেখার ইচ্ছে ছিল, যদিও সেই সৌভাগ্য হয়নি। অনুষ্ঠানে তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উষ্ণ আলাপ চালিয়ে যান—‘আপনারা কেমন বাংলাদেশ চান, আমরা কী করতে পারি, আপনারা কী করতে পারেন’—এই প্রশ্নগুলোর ওপর ভিত্তি করে আজকের আলোচনার কথা জানান।

    এর আগে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) আয়োজিত “বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা রূপান্তর: টেকসই উৎকর্ষতার রোডম্যাপ” শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধন করেন। পরে বেলা পৌনে বারোটায় তিনি সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মিলনায়তনে পৌঁছে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ও মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর পাশে উপস্থিত ছিলেন। শেষে উপাচার্য ও সিন্ডিকেট সদস্য প্রধানমন্ত্রীর হাতে শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেন।

  • ৩৪১ পুলিশ সদস্যকে ‘পুলিশ ফোর্স এক্সেমপ্লারি গুড সার্ভিস ব্যাজ-২০২৫’ দিয়ে সম্মাননা

    ৩৪১ পুলিশ সদস্যকে ‘পুলিশ ফোর্স এক্সেমপ্লারি গুড সার্ভিস ব্যাজ-২০২৫’ দিয়ে সম্মাননা

    পুলিশ বাহিনীর ৩৪১ জন সদস্যকে ‘‘পুলিশ ফোর্স এক্সেমপ্লারি গুড সার্ভিস ব্যাজ-২০২৫’’ দিয়ে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। ২০১৫ সালের ১ মার্চ থেকে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ের মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক এবং প্রশংসনীয় সেবার স্বীকৃতিস্বরূপ তাদের এ ব্যাজ প্রদান করা হয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) তাদেরকে ব্যাজ পরিয়ে দেন। অনুষ্ঠানে পাশাপাশি পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কারও বিতরণ করা হয়।

    অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার অভিযানের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে গত ১ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত সফল ইউনিটগুলোকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। ফলাফল অনুযায়ী:

    ক) গ্রুপে — চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ প্রথম, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ দ্বিতীয় ও কুমিল্লা জেলা পুলিশ তৃতীয়।

    খ) গ্রুপে — কক্সবাজার জেলা পুলিশ প্রথম, কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ দ্বিতীয় ও খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ তৃতীয়।

    গ) গ্রুপে — রাজবাড়ী জেলা পুলিশ প্রথম, মাগুরা জেলা পুলিশ দ্বিতীয় ও এপিবিএন তৃতীয়।

    ঘ) গ্রুপে — র‍্যাব-১১, নারায়ণগঞ্জ প্রথম, র‍্যাব-১৫, কক্সবাজার দ্বিতীয় ও র‍্যাব-২, ঢাকা তৃতীয়।

    ঙ) গ্রুপে — ডিবি, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রথম, তেজগাঁও বিভাগ (ঢাকা মেট্রোপলিটন) দ্বিতীয় ও মিরপুর বিভাগ (ঢাকা মেট্রোপলিটন) তৃতীয়।

    মাদকদ্রব্য উদ্ধারের দিক থেকে ২০২৫ সালের ফলাফলেও বিভিন্ন গ্রুপে সেরা ইউনিটদের পুরস্কৃত করা হয়েছে:

    ক) গ্রুপে — ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ প্রথম, কুমিল্লা জেলা পুলিশ দ্বিতীয় ও চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ তৃতীয়।

    খ) গ্রুপে — ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ প্রথম, কক্সবাজার জেলা পুলিশ দ্বিতীয় ও হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ তৃতীয়।

    গ) গ্রুপে — লালমনিরহাট জেলা পুলিশ প্রথম, শেরপুর জেলা পুলিশ দ্বিতীয় ও গাজীপুর জেলা পুলিশ তৃতীয়।

    ঘ) গ্রুপে — র‍্যাব-১৫ (কক্সবাজার) প্রথম, র‍্যাব-৯ (সিলেট) দ্বিতীয় ও র‍্যাব-১১ (নারায়ণগঞ্জ) তৃতীয়।

    ঙ) গ্রুপে — ওয়ারী বিভাগ (ঢাকা মেট্রোপলিটন) প্রথম, তেজগাঁও বিভাগ দ্বিতীয় ও মতিঝিল বিভাগ তৃতীয়।

    চ) গ্রুপে — হাইওয়ে পুলিশ প্রথম, রেলওয়ে পুলিশ দ্বিতীয় ও এপিবিএন তৃতীয়।

    শিল্ড প্যারেড প্রতিযোগিতায় যৌথ মেট্রোপলিটন দল প্রথম স্থান অর্জন করেছে, দ্বিতীয় হয়েছে এপিবিএন দল এবং তৃতীয় হয়েছে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ দল। অনুষ্ঠানে আইজির ব্যাজ, শিল্ড প্যারেড পুরস্কার এবং অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার সংক্রান্ত সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

    আইজিপি অনুষ্ঠানে বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ একটি ঐতিহ্যবাহী ও পেশাদার বাহিনী; দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অপরাধ দমন করতে পুলিশ পুরো জোরে কাজ করে যাচ্ছে। আজকে পুরস্কারপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা তাদের সাহস, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে সেই ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছেন। তিনি দেশের কল্যাণে পুলিশ সদস্যদের আরও আন্তরিক ও নিষ্ঠাবান হয়ে দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান।

  • গোলাম পরওয়ার: উন্নয়নে সরকার করছে চরম বৈষম্য

    গোলাম পরওয়ার: উন্নয়নে সরকার করছে চরম বৈষম্য

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, সরকার উন্নয়নের ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের স্বার্থে সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক করার বিষয়টি সবচেয়ে যৌক্তিক ও জরুরি।

    শনিবার সকাল সাড়ে আটটায় পঞ্চগড়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করার পথে ইউএস-বাংলার একটি ফ্লাইটে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে নামার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিম, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান ও সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী।

    গোলাম পরওয়ার বলেন, সৈয়দপুর বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক করলে বৃহত্তর রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হবে। কিন্তু যদি শুধু নির্দিষ্ট নির্বাচিত এলাকার সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তা হলে সেটি একটি বড় অন্যায় হবে।

    তিনি আরও বলেন, বিএনপি নির্বাচিত এমপিদের এলাকাকে প্রাধান্য দিয়ে নানা উন্নয়ন প্রকল্প বন্টন করছে; ফলে কিছু ক্ষেত্রে নতুন উপজেলা বা বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে, যা সার্বিক জাতীয় গুরুত্ব বিবেচনায় হওয়া উচিৎ নয়। ‘‘প্রবাদ আছে, যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ,’’ বলে মন্তব্য করে তিনি বাস্তবিক পরিস্থিতি তেমনই দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।

    গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, বিএনপি ৭০ শতাংশ জনমতকে উপেক্ষা করে প্রতারণার রাজনীতি করছে। নির্বাচনের আগে যারা “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে ছিলেন, তারা এখন গণভোটের রায় অস্বীকার করছেন। সরকার যদিও বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, বাস্তবে গণভোটের রায় মানা হচ্ছে না—এটিকে তিনি ‘‘জনগণের সঙ্গে মহাপ্রতারণা’’ হিসেবে অভিহিত করেন। তাঁর মতে, বিএনপি যদি জনস্বার্থে এমন ব্যাকপাস খেলতে থাকে, তা হলে তা শুধু দলের জন্যই নয়, দেশের জন্যও ক্ষতিকর প্রমাণিত হতে পারে।

    গণমাধ্যম সম্পর্কিত প্রশ্নে গোলাম পরওয়ার বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় যারা স্বাধীন সাংবাদিকতার কথা বলতেন,現在 তাদের মধ্যে অনেকে বিভিন্ন গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে নেওয়া, সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুত করা ও হয়রানির সঙ্গে জড়িত আছেন। বিশেষত সরকারসমালোচক সাংবাদিকদের টার্গেট করা হচ্ছে—এটি তিনি কঠোরভাবে নিন্দা করেছেন।

    বিমানবন্দরে গোলাম পরওয়ার ও তাঁর সফরসঙ্গীদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম ও জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মনিরুজ্জামান জুয়েল। এছাড়া সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের আমির শফিকুল ইসলাম, সেক্রেটারি মাজহারুল ইসলাম, শহর আমির শরফুদ্দিন খান, সেক্রেটারি মাওলানা ওয়াজেদ আলী, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের শহর সভাপতি আব্দুল মোমিনসহ শতাধিক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

    পরবর্তীতে গোলাম পরওয়ার ও তার সফরসঙ্গীরা সড়কপথে পঞ্চগড়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

  • এনসিপি ঘোষণা করলো ১০০ প্রাথমিক প্রার্থী

    এনসিপি ঘোষণা করলো ১০০ প্রাথমিক প্রার্থী

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রাথমিকভাবে ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভার জন্য সমর্থিত প্রার্থী ঘোষণা করেছে। রোববার (১০ মে) বিকেলে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন।

    সারজিস আলম বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য দলের কাছে হাজারের বেশি আবেদন পৌঁছেছিল। প্রথম ধাপে আজ ১০০ জন — ৫০ জন উপজেলা চেয়ারম্যান ও ৫০ জন পৌরসভার মেয়র প্রার্থী — ঘোষণা করা হল। তিনি জানান, ঈদের আগেই, অর্থাৎ এই মাসের ২০ তারিখে দ্বিতীয় ধাপে আরও ১০০ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং নাম ঘোষণা করার এই প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।

    তিনি আরও বলেন, এনসিপি দেশের নানা এলাকার যোগ্য, গ্রহণযোগ্য ও নির্দোষ নেতাদের সুযোগ দেবে, এমনকি অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরাও যাচাই-বাছাইয়ের পর এনসিপির সমর্থন পেতে পারেন। দলের নীতিমালা ও সার্বিক যাচাই-বাছাই শেষে অন্য দল থেকে যোগ দিতে চাইলে তাদেরকেও সুযোগ দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

    ঘোষিত প্রার্থীদের মধ্যে জেলা ও বিভাগভিত্তিক তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

    খুলনা বিভাগ:

    কুষ্টিয়ার কুমারখালী — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম বাদশা। ভেড়ামারা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: জান্নাতুল ফেরদৌস টনি। বাগেরহাট, চিতলমারি — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইশতিয়াক হোসেন। ফকিরমারি — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: লাবিব আহমেদ। মোংলা — পৌরসভার মেয়র প্রার্থী: মো. রহমত উল্লাহ। বাগেরহাট পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: সৈয়দ মোর্শেদ আনোয়ার। যশোর, বাঘারপাড়া — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইয়াহিয়া জিসান। নোয়াপাড়া — পৌরসভা মেয়র প্রার্থী: শাহজাহান কবির। খুলনা, চালনায় — মেয়র প্রার্থী: এস এম এ রশিদ। চুয়াডাঙ্গা সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: খায়রুল বাশার বিপ্লব। জীবননগর পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: সোহেল পারভেজ। মেহেরপুর, গাংনী পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: শাকিল আহমেদ। ঝিনাইদহ পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: তারেকুল ইসলাম।

    রংপুর বিভাগ:

    পঞ্চগড়, তেঁতুলিয়া — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. হাবিবুর রহমান (হাবিব)। বদায়/বোদা? (বোধ হয় বোদা) — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শিশির আসাদ। দেবীগঞ্জ — পৌর মেয়র প্রার্থী: মাসুদ পারভেজ। ঠাকুরগাঁও, রাণীশংকৈল — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: গোলাম মর্তুজা সেলিম। দিনাজপুর, ফুলবাড়ি — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইমরান চৌধুরী নিশাত। বোচাগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মাওলানা এম এ তাফসির হাসান। ফুলবাড়ি পৌরসভা — পৌর মেয়র প্রার্থী: শিহাব হোসেন। ঘোড়াঘাট — পৌর মেয়র প্রার্থী: মো. আব্দুল মান্নান। হাকিমপুর — পৌর মেয়র প্রার্থী: রায়হান কবির।

    নীলফামারী ও কুড়িগ্রাম এলাকায়:

    নীলফামারী, জলঢাকা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু সাইদ লিয়ন। নীলফামারী সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ড. কামরুল ইসলাম। কুড়িগ্রাম সদর — পৌর মেয়র প্রার্থী: মো. মাসুম মিয়া। লালমনিরহাট, কালিগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শাহ সুলতান নাসির উদ্দিন আহমেদ। রংপুর সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: কৃষ্ণ চন্দ্র বর্মণ। গাইবান্ধা, সাদুল্লাপুর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: খাদিমুল ইসলাম।

    রাজশাহী বিভাগ:

    রাজশাহী, গোদাগাড়ি — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. আতিকুল রহমান। চাঁপাইনবাগঞ্জ, গোমস্তাপুর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু মাসুদ। নওগাঁ, নেয়ামতপুর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: বিশাল আহমেদ। বাদলগাছি — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আসাদ মোর্শেদ আজম। ধামুরহাট — পৌর মেয়র প্রার্থী: মাহফুজার রহমান চৌধুরী (রুবেল)। বগুড়া, শিবগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. জাহাঙ্গীর আলম। দুপচাঁচিয়া — পৌরসভা মেয়র প্রার্থী: আবু বক্কর সিদ্দিক। বগুড়া সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: এ এম জেড শাহরিয়ার। নাটোর সদর — পৌরসভা মেয়র প্রার্থী: আব্দুল মান্নান। পাবনা, চাটমোহর — পৌরসভা মেয়র প্রার্থী: খন্দকার আক্তার হোসেন। সিরাজগঞ্জ, উল্লাপাড়া — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ আদনান। উল্লাপাড়া পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার আল-মামুন লিয়ন।

    সিলেট বিভাগ:

    হবিগঞ্জ, আজমিরীগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. কামাল আহমেদ। হবিগঞ্জ সদর — পৌরসভা মেয়র প্রার্থী: মাহবুবুল বারী চৌধুরী। মৌলভীবাজার, রাজনগর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: খালেদ হাসান। কুলাউড়া — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু রুকিয়ান। সিলেট, কোম্পানিগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ওবায়েদ আহমেদ। কানাইঘাট — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: বোরহান উদ্দিন ইউনূস। ওসমানীনগর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: হাজি মো. মোশাহিদ আলী। জৈন্তাপুর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: জাকারিয়া। গোয়াইনঘাট — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মনসুরুল হাসান।

    ময়মনসিংহ বিভাগ:

    শেরপুর সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার মো. লিখন মিয়া। শেরপুর সদর পৌর — মেয়র প্রার্থী: নূর ইসলাম। জামালপুর সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: অ্যাডভোকেট আবু সাইদ মো. শামিম। নেত্রকোণা, খালিয়াজুড়ি — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. মুশফিকুর রহমান মিন্টু। বারহাটা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শফিকুল হক চৌধুরী (বাবলু)। নেত্রকোণা সদর — পৌরসভা মেয়র প্রার্থী: সোহাগ মিয়া প্রিতম। ময়মনসিংহ, তারাকান্দা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলাম। ভালুকা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: নূরুল ইসলাম। হালুয়াঘাট — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু হেলাল। ধোবাউড়া — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. সাইফুল্লাহ।

    ঢাকা বিভাগ (উত্তর):

    কিশোরগঞ্জ সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আহনাফ সাইদ খান। তাড়াইল — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইকরাম হোসেন। করিমগঞ্জ পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: খায়রুল কবির। সাভার — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শাহাবদুল্লাহ রনি। মানিকগঞ্জ সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আরিফুল ইসলাম। দৌলতপুর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু আব্দুল্লাহ। টাঙ্গাইল, কালিহাতি — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মেহদী হাসান। টাঙ্গাইল পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: মাসুদুর রহমান রাসেল। ভূঞাপুর পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: হাসান ইমাম তালুকদার। শফিপুর পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: মাওলানা আনসার আলী। নরসিংদী সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: সাইফ ইবনে সারওয়ার। গাজীপুর, কালিগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শোয়েব মিয়া।

    ঢাকা বিভাগ (দক্ষিণ):

    নারায়ণগঞ্জ, সেনারগাঁও — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: তুহিন মাহবুব। মুন্সিগঞ্জ, সিরাজদিখান — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আলী নেওয়াজ।

    ফরিদপুর বিভাগ:

    নগরকান্দা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: রেজাউল করিম সবুজ। নগরকান্দা পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: নাজমুল হুদা। ফরিদপুর পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: সাইদ খান। মাদারীপুর পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: মো. হাসিবুল্লাহ। গোপালগঞ্জ পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: ফেরদৌম আমেনা।

    এনসিপি জানিয়েছে যে তারা প্রার্থীদের আরও যাচাই-বাছাই করে ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত তালিকা প্রকাশ করবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিত্বে যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের খোঁজে কাজ চালিয়ে যাবে। সংবাদ সম্মেলনে দলের নেতারা ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ ও স্থানীয় উন্নয়নের অঙ্গীকার পুনরায় জোর দিয়েছেন।

  • অর্থমন্ত্রী: আর্থিক খাতে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না

    অর্থমন্ত্রী: আর্থিক খাতে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আর্থিক খাতসহ সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক সেক্টরে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না এবং এসব প্রতিষ্ঠান শতভাগ পেশাদারভাবে পরিচালিত হবে। তিনি মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লুতে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

    অনুষ্ঠনায় বিএসআইসির চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন সভাপতিত্ব করেন। বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান ও বিএবির চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার।

    মন্ত্রী বলেন, সরকারের কোনো রাজনৈতিক নিয়োগ বা প্রভাব এখানে কার্যকর হবে না; সিদ্ধান্ত গ্রহণ, বিনিয়োগ ও পরিচালনায় পুরোপুরি স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখা হবে। তিনি জানান, যে পরিমাণ মূলধন নিয়ে এই কোম্পানি যাত্রা শুরু করেছে ভবিষ্যতে তা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং এটি কেবল একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান নয়, বরং দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে দৃশ্যমান করে তুলতে একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।

    আলোচনা কালে তিনি দেশের তরুণ প্রজন্মের দুইটি প্রধান সমস্যা — তহবিলের অভাব ও জামানত প্রদানের অক্ষমতা — তুলে ধরে বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে এই সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠার পথ তৈরি করা হয়েছে। বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া হবে স্বচ্ছ, দক্ষ ও পেশাদার।

    অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, এই কর্মসূচিটি তাদের রাজনৈতিক ম্যানিফেস্টোর সঙ্গে সুস্পষ্টভাবে সম্পৃক্ত। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডকে কাজে লাগিয়ে এক কোটির বেশি মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টিই সরকারের লক্ষ্য। বিশেষ করে ক্রিয়েটিভ ইকোনমি বা সৃজনশীল অর্থনীতির जरिये গ্রামীণ ও শহরের যুবসমাজকে মূলধারার অর্থনীতির সাথে সংযুক্ত করা হবে।

    পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগ পরিবেশের সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে আমরা কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় পার করছি। পুঁজিবাজারে সংস্কার এবং প্রয়োজনীয় ডিরেগুলেশনের দিকে এগোচ্ছি। বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করতে দক্ষ ব্যক্তিদের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। দেশি-বিদেশি বড় ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন দাতৃসংস্থা আমাদের সঙ্গে কাজ করছে।

    মন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশের ব্যাংক ও প্রাইভেট সেক্টরের আন্ডার-ক্যাপিটালাইজেশন দূর করতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি শুধু ব্যাংকিং খাতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং আন্তর্জাতিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানগুলোকেও বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত করবে।

    শেষে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় এই প্রকল্পের সফলতার জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত সাপোর্ট দেবেই এবং দেশের কয়েকটি ব্যাংক একত্রে এই ভেঞ্চার ক্যাপিটাল উদ্যোগ নিয়েছে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।

  • বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়ালো ৩৪ দশমিক ২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে

    বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়ালো ৩৪ দশমিক ২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে

    দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ এখন দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সুপারিশকৃত বিপিএম-৬ হিসাব পদ্ধতি অনুসারে রিজার্ভের পরিমাণ হয়েছে ২৯ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার — এই তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সোমবার বিকেলে নিশ্চিত করেছেন।

    মুখপাত্র জানান, বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে সোমবার দেশের রিজার্ভ ছিল দুই হাজার ৯৫৬ কোটি ৫৬ lakh ৬০ হাজার ডলার (প্রায় ২৯.৫৬ বিলিয়ন)। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজ হিসাব অনুযায়ী মোট রিজার্ভ ছিল তিন হাজার ৪২২ কোটি ৬৩ লাখ ৩০ হাজার ডলার (প্রায় ৩৪.২২ বিলিয়ন)।

    এর আগে রোববার এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন (আকু) মার্চ ও এপ্রিল মাসের আমদানি বিল পরিশোধ করে মোট ১৫১ কোটি ৪৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার। ওই বিল পরিশোধের পর আইএমএফভিত্তিক বিপিএম-৬ হিসাব অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল দুই হাজার ৯৪৭ কোটি ৯২ লাখ ৭০ হাজার ডলার; ব্যাংকের নিজ হিসাব অনুযায়ী তখন রিজার্ভ ছিল তিন হাজার ৪১৪ কোটি ২০ হাজার ডলার।

    তুলনামূলকভাবে দেখতে গেলে, গত ৭ মে বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ ছিল তিন হাজার ৯৬ কোটি ৪০ হাজার ডলার এবং ব্যাংকের নিজ হিসাব অনুযায়ী ছিল তিন হাজার ৫৬১ কোটি ৬৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার। এই পরিসংখ্যানগুলো দেখায় রিজার্ভে সাময়িক ওঠা-নামা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক লেনদেন ও ক্লিয়ারিং বার্তার প্রতিক্রিয়ার প্রভাবকে প্রতিফলিত করে। বাংলাদেশ ব্যাংক সময়সাপেক্ষভাবে দেশের রিজার্ভ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে চলেছে।

  • লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় আরও দুই বাংলাদেশি নিখোঁজ

    লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় আরও দুই বাংলাদেশি নিখোঁজ

    লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের ড্রোন হামলায় প্রথমে দুই বাংলাদেশি নিহত হওয়ার পর একই সিরিজের আরেকটি হামলায় আরও দুই জন বাংলাদেশি নিখোঁজ হয়েছেন, এমন তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার ও দূতাবাস।

    সোমবার দুপুরে নাবাতিয়েহ অঞ্চলের জেবদিন এলাকায় এক ড্রোন হামলায় সাতক্ষীরার শফিকুল ইসলাম (৪০) ও মোহাম্মদ নাহিদুল ইসলাম (২০) নিহত হন। এরপর সোমবার রাতেও নাবাতিয়েহের অন্য এক আবাসিক এলাকায় পৃথকভাবে ড্রোন হামলা হলে সেখানে বসবাসরত দুই বাংলাদেশি নিখোঁজ হন বলে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে।

    বৈরুতে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন জানান, নিখোঁজদের থাকার জায়গা সহ পুরো বাড়িটি বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। অনারূদ্ধভাবে মরদেহ উদ্ধার না হওয়ায় তাদের মৃত্যুর বিষয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

    বুধবার নয়—মঙ্গলবার (মূল বিবৃতিতে উল্লেখ করা তারিখ অনুযায়ী) বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘটনাগুলোকে তীব্রভাবে নিন্দা জানিয়ে সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন ও আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় মৃতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়ে এই হামলাকে ‘জঘন্য’ বলে উল্লেখ করেছে।

    বৈরুতে বাংলাদেশ দূতাবাস নিহত শফিকুল ও নাহিদুলের মরদেহ দেশে পাঠানোর জন্য লেবাননের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করছে। একই সঙ্গে সাতক্ষীরায় নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দূতাবাস যোগাযোগ বজায় রেখে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে বলে সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে।

    ঘটনাটি স্থানীয় বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের মধ্যে দুশ্চিন্তা ও শোকের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। দূতাবাস ও মন্ত্রণালয় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং নিখোঁজদের অবস্থান ও হতাহতের বিষয় নিয়ে যেকোনো নতুন তথ্য পাওয়া মাত্র তা পরিবার ও গণমাধ্যমকে জানানো হবে।

  • শুভেন্দু অধিকারীর পিএ খুনে অযোধ্যা থেকে গ্রেপ্তার বিজেপি-ঘনিষ্ঠ ‘শুটার’

    শুভেন্দু অধিকারীর পিএ খুনে অযোধ্যা থেকে গ্রেপ্তার বিজেপি-ঘনিষ্ঠ ‘শুটার’

    পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথ খুনের মামলায় উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে রাজ সিং নামে এক অভিযুক্তকে। উত্তরপ্রদেশ পুলিশ ও এসটিএফ-এর যৌথ অভিযানে হাইওয়ের কাছ থেকে তাঁকে আটক করা হয়েছে, যা দুই রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

    তদন্তকারীরা মনে করছেন, রাজ সিং পেশাদার শুটার। তাদের এখন প্রধান অনুসন্ধান: চন্দ্রনাথ রথ খুনে মূল ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে রাজ সিংয়ের সরাসরি কোনও যোগাযোগ ছিল কি না। গ্রেপ্তারের পর থেকেই কেন্দ্রীয় ও রাজ্য তথ্যভিত্তিক এজেন্সিগুলো উত্তপ্তভাবে তাঁর অপরাধমূলক রেকর্ড ও ব্যক্তিগত যোগাযোগ পরীক্ষা করছে।

    রাজ সিং উত্তরপ্রদেশের বালিয়ার সদর কোতোয়ালি এলাকার আনন্দ নগরের বাসিন্দা। স্থানীয়দের মতে তিনি এলাকায় প্রভাবশালী চরিত্র। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রায়ই কালো স্করপিও গাড়ি চালাতেন, যে গাড়িতে কখনও বিজেপির পতাকা দেখা যেত। এমন নানা কারণে এলাকায় তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে চর্চা ছিল।

    রাজ সিং অখিল ভারতীয় ক্ষত্রিয় মহাসভার উত্তরপ্রদেশ শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত। এর আগেও তিনি বালিয়া নগর প্যালিকা পরিষদের নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। চলতি বছর তিনি চিলকাহার ব্লক থেকে ব্লক প্রধানের মতো স্থানীয় পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে জানা গেছে।

    তদন্তে উঠে এসেছে, রাজ সিংয়ের সঙ্গে কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার ছবি রয়েছে, যা সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। তদন্তকারীরা এসব ছবির সূত্র ধরে রাজনৈতিক সম্পর্ক ও সম্ভাব্য যোগসাজশ খতিয়ে দেখছেন।

    আরেকটি পুরনো মামলা নিয়েও তাঁর বিরুদ্ধে নজর রয়েছে। প্রায় ছয় বছর আগে বালিয়ায় এক শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ডিম ব্যবসায়ীকে গুলি করে নেভানোর অভিযোগ ছিল রাজ সিংয়ের বিরুদ্ধে; সেই মামলায় তিনি জামিনে ছিলেন। তদন্তকারীরা তাৎপর্যপূর্ণভাবে খতিয়ে দেখছেন যে ওই পুরনো ঘটনা ও চন্দ্রনাথ রথ হত্যার ষড়যন্ত্রের মধ্যে কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না।

    উল্লেখ্য, এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এখন সিবিআই করছে। ঘটনায় একটি সাত সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করা হয়েছে, যারা গভীরভাবে সূত্র ও প্রমাণ যাচাই করছেন।

    অপর দিকে, রাজ সিংয়ের পরিবার অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে। তাঁর মা জামবন্ত্রী সিং—যিনি বালিয়া প্রধান ডাকঘরের কর্মী—দাবি করেছেন যে ছেলেকে সূক্ষ্মভাবে ফাঁসানো হচ্ছে। তিনি বলেন, রাজ লখনউয়ে এক বিজেপি নেতার মেয়ের বিয়েতে যোগ দিতে গিয়েছিলেন এবং সেখান থেকে ফেরার পথে গ্রেপ্তার করা হয়েছে; ঘটনার দিন রাজ বালিয়াতে উপস্থিত ছিল—এই দাবির সমর্থনে তিনি সিসিটিভি ফুটেজ দেখানোর আভাস দিয়েছেন।

    অখিল ভারতীয় ক্ষত্রিয় মহাসভারকে সাধারণভাবে রাজপুত সম্প্রদায়ের এক সংগঠন হিসেবে দেখা হয়; নির্দিষ্ট কোন সময়ে তারা করণী সেনার মতো অন্যান্য গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখার তথ্যও ঘনঘন সামনে আসে। দলটি নানা সময়ে স্থান-নামের পরিবর্তন ও হিন্দু ঐতিহ্য সংরক্ষণ ইস্যুতে সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে থাকে, এবং কিছু রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে তাদের নেতাদের উচ্চপদস্থ বিজেপি নেতাদের সঙ্গে উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

    শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহকারীর খুন মামলায় এই গ্রেপ্তার দেশীয় রাজনীতিতে ইতোমধ্যেই সংবেদনশীল পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এখন নজর থাকবে সিবিআই ও এসআইটি-কর্তাদের জেরায়—রাজ সিং কি খুনের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও নেপথ্যের মুখোশধারীদের সম্পর্কে কোন তথ্য দেবে, এবং তদন্ত কোন নতুন মোড় নেবে।

  • সুন্দরবনে অস্ত্র ও গুলিসহ কুখ্যাত বনদস্যু ‘মেজ জাহাঙ্গীর’ আটক

    সুন্দরবনে অস্ত্র ও গুলিসহ কুখ্যাত বনদস্যু ‘মেজ জাহাঙ্গীর’ আটক

    বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সুন্দরবনে বিশেষ অভিযানে অস্ত্র ও গুলিসহ কুখ্যাত বনদস্যু মোঃ জাহিদুল ইসলাম ওরফে ‘মেজ জাহাঙ্গীর’কে আটক করেছে। কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এই তথ্য নিশ্চিত করেন এবং জানান, অভিযানে তার কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও তাজা গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

    কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবনে দস্যু কর্মকাণ্ড দমন ও উপকূলীয় জেলে ও বনজীবীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমানে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দুইটি বিশেষ অভিযান চলছে। এরই অংশ হিসেবে ১২ মে মঙ্গলবার মধ্যরাত সাড়ে একটার দিকে বিসিজিএস তৌহিদ-এর নির্বাহী কর্মকর্তা লে. ইকরা মোহাম্মদ নাসিফের নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল শিবসা নদীর আদাচাই ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন কালীর খাল এলাকায় অভিযান চালায়।

    গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে বনদস্যু বাহিনীর প্রধান মেজ জাহাঙ্গীরকে হাতেনাতে আটক করা হয়। কোস্ট গার্ড সদস্যরা তার দেহ তল্লাশিতে ২টি একনলা বন্দুক এবং ৫ রাউন্ড তাজা গোলাবারুদ উদ্ধার করেন। আটক ব্যক্তির পরিচয় নড়াইল জেলার নড়াগাতী থানার মোঃ জাহিদুল ইসলাম (৫৬) হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

    কোস্ট গার্ড বলছে, দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনের গভীরে নিজের বাহিনী গঠনের মাধ্যমে তিনি দস্যুতা, জেলেদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় এবং জেলেদের আহরিত মৎস্য সম্পদ লুণ্ঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। লে. ইকরা মোহাম্মদ নাসিফ জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে বনজলদস্যুদের কার্যক্রম পুনরায় বাড়তে শুরু করে; সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে কোস্ট গার্ড “জিরো টলারেন্স” নীতি নিয়ে অভিযান চালাচ্ছে।

    নাসিফ আরও জানান, গত কয়েক মাসে করিম শরীফ, ছোট সুমন, ছোট জাহাঙ্গীর, বড় জাহাঙ্গীর, নানা ভাই, আসাবুর ও আলিফ বাহিনীর মতো একাধিক দস্যু দলকে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। এ অভিযানগুলো অব্যাহত থাকবে এবং সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী ও খালে টহল বৃদ্ধি পাবে যতক্ষণ না সমস্ত দস্যু ও তাদের সহযোগীরা নির্মূল হয়ে যায়।

    জব্দকৃত অস্ত্র, গোলা এবং আটককৃতকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে। কোস্ট গার্ড পরিস্থিতি নজরদারি এবং অপপ্রবৃত্তি প্রতিহত করতে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছে।

  • বার্সার উৎসবে লামিনে ইয়ামালের হাতে উড়ল ফিলিস্তিনি পতাকা

    বার্সার উৎসবে লামিনে ইয়ামালের হাতে উড়ল ফিলিস্তিনি পতাকা

    লামিনে ইয়ামাল খেলার জাদুতে বারবার ভক্তদের মন্ত্রমুগ্ধ করেন—রেকর্ড গড়েন, নজর কাড়েন খেলোয়াড়ি কৌশলে। কিন্তু এবার তার বিরুদ্ধে নতুন কারণে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার ঝড় উঠেছে। লা লিগা শিরোপা উদযাপনে বার্সেলোনার ছাদখোলা বিজয়বাসে ইয়ামাল হাতে ফিলিস্তিনি পতাকা উড়িয়েছেন—আর সেই ছবিই ভাইরাল হয়েছে।

    শো-অফ চলাকালে ইয়ামাল একসময় বার্সার জার্সি উন্মোচন করেন; জার্সিতে লেখা ছিল, ‘সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ যে আমি মাদ্রিদিস্তা নই।’ এই কর্মকাণ্ডে বেশ কিছু অনুরাগীর প্রশংসা পাওয়া গেলেও অনেকে তা রাজনৈতিক বার্তার অংশ হিসেবে দেখেছেন।

    স্পেনের গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, লা লিগা শিরোপা জয়ের পর গতকাল আয়োজিত বার্সেলোনার বিজয় উৎসবে সাড়ে সাত লাখেরও বেশি মানুষ উপস্থিত ছিলেন। ক্লাবও এক বিবৃতিতে বলেছে, দর্শকরা তাদের প্রতি অতুলনীয় আবেগ দেখিয়েছেন এবং দল একের পর এক ইতিহাস গড়ছে।

    ঐতিহাসিক প্রসঙ্গও আছে—২০২৩ সালের অক্টোবরেই গাজায় হামলার পর থেকে বার্সেলোনা স্পেনে ফিলিস্তিনপক্ষে আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। ফলে এই ধাঁচের সমর্থনযাওয়া লম্ফড়-উদযাপনকে আরও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দাঁড় করিয়েছে।

    ফুটবলে আবারও নিজেদের শক্তি দেখাল বার্সা; যদিও চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা তাদের শেষবার জিতেছে ২০১৫ সালে, তবু সাম্প্রতিক তিন বছরে ক্লাবটি ঘরোয়া মঞ্চে ধারাবাহিকভাবে সাফল্য পেয়েছে—লা লিগা জয় হয়েছে ২০২৩, ২০২৫ ও ২০২৬ সালে; গত বছর কোপা দেল রে কাপে জিতেছে কাতালানরা; এবং সাম্প্রতিক দুই স্প্যানিশ সুপার কাপও বার্সেলোনার সংগ্রহে আছে।