Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর জানাজা সম্পন্ন

    ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর জানাজা সম্পন্ন

    যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি শেষ শ্রদ্ধার জন্য জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (৬ মে) স্থানীয় সময় বেলা ২টায় টাম্পা এলাকার ইসলামিক সোসাইটি এরিয়াতে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যগণের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষও অংশ নিয়েছেন। এদিকে, জানাজার পরের দিন বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তার মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মরদেহটি প্রথমে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দুবাই পাঠানো হবে, সেখান থেকে ৯ মে ঢাকার ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় এ মরদেহ পৌঁছবে। উল্লেখ্য, গত ১৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অবস্থিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নিখোঁজ হন। কয়েক দিন পরে, ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের কাছে তাদের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে জামিলের রুমমেট ও মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুঘরবেহকে আটক করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের পর, যুক্তরাষ্ট্রে নিহত দুই শিক্ষার্থীকে মর্যাদাপূর্ণ মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করছে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা (ইউএসএফ)। এই ডিগ্রি প্রদান অনুষ্ঠানের জন্য আগামী ৯ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের বসন্তকালীন সমাবর্তনে উপস্থিত থাকবেন তাদের পরিবার। মঙ্গলবার (৫ মে) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি চিঠি দিয়ে মিয়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেটকে এই তথ্য জানিয়েছেন। একই সঙ্গে, নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষে সম্মাননা গ্রহণের জন্য কনস্যুলেটের একজন প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন বলে অনুরোধ জানানো হয়েছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক জামিল আহমেদ লিমন (২৭) ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ের ওপর পিএইচডি করছিলেন। তিনি গত ১৬ এপ্রিল নিখোঁজ হন। তার সঙ্গে নিখোঁজ হন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি (২৭)। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে চলেছেন।

  • গভর্নর রাজি নন, বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রিত্বের শপথ আজ হচ্ছে না

    গভর্নর রাজি নন, বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রিত্বের শপথ আজ হচ্ছে না

    তামিল মানুষজনের মধ্যে উত্তেজনা জাগিয়ে রাখা এবং রাজ্যটির রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হওয়ার পথে এখনো কিছুটা জটিলতা রয়ে গেছে। আজ বৃহস্পতিবার তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিজয় এর শপথ গ্রহণ হচ্ছে না। বিজয় দলের পক্ষে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়া সত্ত্বেও, টিভি দলই রাজ্যের সবচেয়ে বড় দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তবে, তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল, অর্থাৎ গভর্নর রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকর, এখনো এই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেননি। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এই পরিস্থিতিতে, গোপন সূত্রগুলো জানিয়েছে যে, কংগ্রেস দল বিজয় দলের কাছে সমর্থন প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিলেও, সরকার গঠনের জন্য আরও এক বা দুই দিন সময় লাগতে পারে, কারণ সমর্থন জোগাড়ে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। এরই মধ্যে রাজ্যপাল বিধানসভা ভেঙে দিয়েছেন এবং তিনি কেরালার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন, যেখানে তিনি বর্তমানে অতিরিক্ত দায়িত্বে কর্মরত। সূত্রের মতে, গতকাল বুধবার বিজয়ের নেতা তথা সাধারণ সম্পাদক আধভ অর্জুনের সঙ্গে রাজ্যপালের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সেটি স্থগিত করেছে। কারণ, দুইটি বাম দল—সিপিআই এবং সিপিআই(এম)—অতिथि সময় চেয়ে ৮ মে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চেয়েছে। নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে, তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে ১০৮টি আসনে জয় লাভ করে বিজয় টিভিকে ছিল বৃহত্তম দল। সরকার গঠনের জন্য তাদের আরও অন্তত ১০টি আসনের প্রয়োজন ছিল, যা পুরণ করতে হলে কংগ্রেসের পাঁচটি আসনের সমর্থন নিয়ে নয়, বরং এখনো ক্ষয়ক্ষতির দিকে এগোতে হচ্ছে। বর্তমানে, বিজয় শিবিরের আরেকটি প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ। যদিও নির্বাচনের ফলাফলে নির্দলীয় প্রার্থীদের সমর্থন থাকতে পারে, তবে এখনও স্পষ্ট নয় কে তারা হবে। বেশ কয়েকটি আলোচনায় জানা গেছে, দুটি আসনে জয়ী দলের নেতা ভি এস বাবুর সঙ্গে শুক্রবার পর্যন্ত বৈঠক হবে, যার মধ্যে দুজন—সিপিআই ও সিপিআই(এম)—আলাদা বৈঠক করেছেন। তবে, একই সঙ্গে একটি সম্ভাব্য জোটের গুঞ্জন পাওয়া গেছে—সেটি হলো টিভি দল ও এআইএডিএমকে জোট, যা এখনো থেকে বৃহত্তর সমর্থন পাবার সম্ভাবনা রয়েছে। এআইএডিএমকের অন্তত ৩০ জন বিধায়ক টিভিকেকে সমর্থন করতে ইচ্ছুক বলে মনে করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় দল হিসেবে, তামিলনাড়ু কংগ্রেস স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, তারা টিভিকের সঙ্গে সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে স্বাধিকারী। দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত গিরিশ চোদানকর ঘোষণা করেছেন, দক্ষিণ ভারতের বিজেপিকে ক্ষমতায় আনতে তারা আপোস করবেন না এবং বরং একটি ধর্মনিরপেক্ষ সরকারকে সমর্থন করবেন। গতকাল বুধবার, কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারে যুক্ত হতে বিজ্ঞপ্তি দেয়, এবং এ সময় দলের কর্মীরা উল্লাসে ফেটে পড়ে। কংগ্রেসের দাবি, টিভিকেকে সমর্থনে তাদের একমাত্র শর্ত—সংবিধানে বিশ্বাস করে না এমন কোনও ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিকে জোটের বাইরে রাখা। অন্যদিকে, ডিএমকে এই সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করে বলেছে, কংগ্রেস টিভিকেকে সমর্থনের জন্য ‘তামিলনাড়ুর মানুষের পিঠে ছুরি মারছে’। ডিএমকের মুখপাত্র সারাভানন আনাতুরাই বলছেন, টিভিকে মন্ত্রিসভায় দুটো পদ পাওয়ার লোভে কংগ্রেস নিজেদের ধ্বংস করছে। এই একতরফা সমর্থনের সিদ্ধান্ত বিরোধী জোটের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করছে, যা ভারতের রাজনৈতিক জগতে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে। বিজেপির মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা মন্তব্য করেছেন, ‘কংগ্রেস কতজনের সঙ্গে প্রতারণা করেছে, তা তো আর গোপন নয়। ডিএমকের সঙ্গে যারা এই কৌশলে জড়িয়েছে, তারা ভবিষ্যতে সমাজবাদী পার্টির সঙ্গেও কী করতে যাচ্ছে, সেটিই ভাবা যায়।’ তিনি আরও যোগ করেছেন, ‘এটি হলো ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে শেষ কৃত্য, এক ধরনের পতনের সূচনা।’ এই নির্বাচনে টিভির বিশাল বিজয় গেমচেঞ্জার হিসেবে দেখা দিয়েছে, যা ডিএমকে ও এআইএডিএমকের দীর্ঘদিনের দ্বিমেরু রাজনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। কোলাথুরে এম কে স্টালিনের পরাজয়ের পর, তিনি ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। আগামী দিনগুলোতে তামিলনাড়ুর নতুন সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জটিলতা ও পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকছে।

  • ভারত বাংলাদেশকে দ্রুত নাগরিকত্ব যাচাইয়ের আহ্বান জানালো ‘পুশব্যাক’ ইস্যুতে

    ভারত বাংলাদেশকে দ্রুত নাগরিকত্ব যাচাইয়ের আহ্বান জানালো ‘পুশব্যাক’ ইস্যুতে

    বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ বা সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক লোক পাঠানোর আশঙ্কা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর থেকেই হয়ে আসা বিভিন্ন মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়, অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের নিজ দেশে ফিরিয়ে পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এই ধরনের মন্তব্য করা উচিত। সেই সঙ্গে বাংলাদেশকে দ্রুত নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য ভারতের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়। এই প্রসঙ্গে তিস্তা নদীর পানিবণ্টন ও নদী সম্পর্কিত অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলোও ডেপুটি মন্ত্রনালয়ের আলোচনা ও অনুসরণের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে বলে জানানো হয়।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোর এই ধরনের মন্তব্য তারা নজরে এসেছে। তবে মূল গুরুত্ব হচ্ছে, ভারতে অবস্থানরত অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিকদের ফিরিয়ে পাঠানো। এই প্রক্রিয়া সফল করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

    জয়সওয়াল জানান, বাংলাদেশ সরকারের কাছে বর্তমানে ২ হাজার ৮৬০টির বেশি নাগরিকত্ব যাচাইয়ের মামলা ঝুলে আছে। এর মধ্যে বহু আবেদন পাঁচ বছরের অধিক সময় ধরে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি বলেন, দ্রুত এই যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো আরও সহজ ও সুশৃঙ্খল হবে।

    এর আগে বাংলাদেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সীমান্তে সম্ভবত ‘পুশব্যাক’ বা জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বুধবার (৬ মে) তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের পর এ ধরনের ঘটনা ঘটবে বলে তিনি প্রত্যাশা করছেন না। তবে সীমান্ত পরিস্থিতি নজরে রাখতে দেশের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

    অপরদিকে বাংলাদেশো পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানও এ বিষয়ে মন্তব্য করেন। বিএনপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের পর যদি সীমান্তে ‘পুশ ইন’ বা জোরপূর্বক লোক ঢোকানোর ঘটনা ঘটে, বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

    উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে বিজেপি অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকে বড় রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে তুলে ধরে। এই দলটি অভিযোগ করে, তৃণমূল কংগ্রেস সরকার সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশে প্রশ্রয় দিচ্ছে; যদিও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল এই অভিযোগকে বারবার অস্বীকার করে এসেছে।

    অন্যদিকে, তিস্তা নদীর পানিবণ্টন বিষয়েও জয়সওয়াল জানান, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের অভিন্ন নদী সংখ্যা ৫৪টি। এসব নদীর বিষয়ে আলোচনা ও সমাধানের জন্য দুই দেশের মধ্যে একটি সুসংগঠিত দ্বিপক্ষীয় কাঠামো প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, পানিবণ্টন ও নদী ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়মিত বৈঠক ও আলোচনা মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে, তবে তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি বা বিশেষ কোনো অগ্রগতি বা নির্দিষ্ট সমযসীমা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয় নি।

  • পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে মমতার ১৫ বছরের শাসনের অবসান

    পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে মমতার ১৫ বছরের শাসনের অবসান

    পশ্চিমবঙ্গের সপ্তদশ বিধানসভা বিলুপ্ত ঘোষণা করেছেন রাজ্যপাল আর এন রবি। এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে টানা ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার শেষ হচ্ছে। ২০১১ সালে প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন মমতা, এরপর তিনটি মেয়াদে তিনি রাজ্যটির শাসন পরিচালনা করেন।

    বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাজ্য গভর্নর অফিসে এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, ভারতের সংবিধানের ১৭৪ অনুচ্ছেদের ২ নম্বর ধারার সংশ্লিষ্ট ক্ষমতা প্রয়োগ করে ৭ মে থেকে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা বিলুপ্ত করা হয়েছে।

    বিধানসভার মেয়াদ শেষ এবং সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এর ফলে সংবিধানিকভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্যমন্ত্রিত্বের মেয়াদ কার্যত শেষ হয়ে গেছে।

    গত ৪ মে প্রকাশিত নির্বাচনের ফলাফলে ২৯৪ আসনের মধ্যে ২০০টির বেশি আসনে জয় লাভ করে বিজেপি। এই ফলাফল পশ্চিমবংগে প্রথমবারের মতো দলটির সরকার গঠনের পথে এগিয়ে যাওয়ার সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বামফ্রন্ট আর পরে তৃণমূলের দখলে থাকা রাজ্যটি এবার বিজেপির উত্থানে বড় পরিবর্তনের মুখে পড়েছে।

    নির্বাচন শেষ হওয়ার পরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথার মাধ্যমে রাজভবনে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেননি, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা ও আপত্তির জন্ম দেয়। কিছু বিশ্লেষক সংবিধানিক জটিলতার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছিলেন। রাজ্যপালের সিদ্ধান্তের পর এই অনিশ্চয়তা কেটে যায় বলে মনে করা হচ্ছে এবং এখন নতুন মন্ত্রিসভা গঠন ও মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, আগামী ৯ মে রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তীর দিন বিজেপির নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হতে পারে। দলের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য পর্যায়ের নেতারা ইতিমধ্যেই সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিয়েছেন।

    অন্যদিকে, সরকার গঠনের এই সময়ে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে অস্বস্তি বাড়ছে। এই ঘটনায় তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ, বিভিন্ন এলাকায় বিজেপি ও তৃণমূল সম্পৃক্ত কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও হামলার খবর পাওয়া গেছে।

    রবিবার রাতে কলকাতা থেকে ফেরার পথে মধ্যমগ্রামের দোহারিয়ায় শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথের গাড়ির উপরে দুর্বৃত্তরা গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। আহত হন গাড়ির চালক।

    ঘটনার পর থেকেই পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করছে তদন্তকারী দল। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    এ ঘটনায় বিজেপি তৃণমূলকে দোষারোপ করে নিন্দা জানিয়েছে, তবে তৃণমূল এই অভিযোগ অস্বীকার করে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে নিন্দনীয় হিসেবে দেখেছে এবং সকল ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

  • ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২২৮টি স্থাপনা ধ্বংস or ক্ষতিগ্রস্ত

    ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২২৮টি স্থাপনা ধ্বংস or ক্ষতিগ্রস্ত

    মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে চলমান ৪০ দিনের সংঘর্ষের दौरान, ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি telah হয়েছে। সৌজন্যে স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে সম্প্রতি একটি বিশেষ প্রতিবেদনে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২২৮টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। এই হামলায় মূলত লক্ষ্য ছিল মার্কিন সামরিক অবকাঠামো, যার মধ্যে বিমান সংরক্ষণ কেন্দ্র, ব্যারাক, জ্বালানি ডিপো, বিমানবন্দর এবং গুরুত্বপূর্ণ রাডার, যোগাযোগ ও বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জামগুলো। মার্কিন সরকার বা সংশ্লিষ্ট সূত্র এ ব্যাপারে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও তথ্য প্রকাশ করেনি, তবে ধারণা করা হচ্ছে ক্ষয়ক্ষতি অনেক বেশি।

    কয়েক দিন আগে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছিল, অন্তত ১৬টি মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে এখন ওয়াশিংটন পোস্ট জানাচ্ছে, মার্কিনী কর্মকর্তাদের মতে, কিছু লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলার ফলে পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এতে করে অনেক সেনা সরানো ও সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। সামরিক মুখপাত্ররা বলছেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খুব বড় না হলেও নির্দিষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা কিছুটা জটিল। এই ক্ষয়ক্ষতির প্রভাব ও প্রকৃতি সম্পর্কে বিশদ রিপোর্ট যুদ্ধের পরবর্তী সময়ে জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    গত সপ্তাহে মার্কিন যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেট কংগ্রেসে ঘোষণা করেন, ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫ বিলিয়ন ডলার। তবে তিনি এসবও বলেন, এই যুদ্ধের জন্য ব্যবহৃত গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম পরবর্তীতে পুনরুদ্ধার করতে বেশ সময় লাগবে।

    অন্যদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে হামলার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ, পেন্টাগন, কংগ্রেসের কাছে ২০২৭ অর্থবছরের জন্য ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলার বাজেট প্রস্তাব করেছে, যা আগের তুলনায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বেশি।

    ২৮ ফেব্রুয়ারির দিন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালায়। এরপর ইরান পাল্টা আক্রমণে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা চালায়। এতে পুরো অঞ্চলজুড়ে যুদ্ধ আরও তীব্র হয়ে উঠে। তেহরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়, যা থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চাপে পড়েছে। পাশাপাশি, ইরানের অর্থনীতিকে দুর্বল করার জন্য দেশের উভয় উপকূলীয় বন্দরগুলোতে নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। এই পরিস্থিতিতে চলমান সংঘর্ষের ফলে অঞ্চলটি অপ্রতিরোধযোগ্য অস্থির হয়ে উঠেছে।

  • তাঁতি দল নেতা সোনামিয়া হত্যা মামলার আসামি অহিদুল গ্রেফতার

    তাঁতি দল নেতা সোনামিয়া হত্যা মামলার আসামি অহিদুল গ্রেফতার

    খুলনার খালিশপুরে চাঞ্চল্যকর তাঁতি দল নেতা ও সোনামিয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামি মোঃ অহিদুল ইসলাম (৪৫) কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৬ এর বিশেষ অভিযানিক দল। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় র‌্যাবের এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিয়মিত মামলার আসামি, বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিদের গ্রেফতার এবং বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা র‌্যাবের গুরুত্বপূর্ণ অবদান। এই ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে, র‌্যাব-৬ এর সিপিসি স্পেশাল কোম্পানির একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুলনার কলারোয়া থানাধীন তুলসী ডাঙ্গা তানিপাড়া এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে, গত ১২ এপ্রিল খালিশপুরের পুলিশ স্টেশনে সংঘটিত তাঁতি দলের নেতা সোনামিয়া হত্যার মূল আসামি এবং পুলিশী অভিযান দিয়ে গ্রেফতার করে অহিদুলকে। সে খুলনা মহানগরের খালিশপুর গোয়ালখালি এলাকার খন্দকার সুলতান আহমেদের ছেলে। তদন্তে দেখা যায়, অহিদুলের বিরুদ্ধে খুলনা মহানগরীর খালিশপুর, সোনাডাঙ্গা ও সদর থানায় একটি হত্যা চেষ্টা, একটি জুয়ার, এবং আটটি মাদক মামলাসহ মোট ১০টি মামলা রয়েছে। তিনি খালিশপুরের একজন পরিচিত মাদক ব্যবসায়ী। ধৃত আসামিকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র‌্যাবের এই সফল অভিযানের মাধ্যমে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে বলে জানা গেছে।

  • সাতক্ষীরার সীমান্তে বিজিবির জনবল বৃদ্ধি ও টহল জোরদার

    সাতক্ষীরার সীমান্তে বিজিবির জনবল বৃদ্ধি ও টহল জোরদার

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন শেষে ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই সাতক্ষীরার সীমান্তে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এড়াতে কঠোর সতর্কতা ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধ এবং সীমান্তের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত বলেন, সত্যিকার অর্থে, সাতক্ষীরা জেলার পার্শ্ববর্তী এলাকা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে সীমান্ত। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন-২০২৬ এর ভোট পর্যবেক্ষণ শেষে ৪ মে ফলাফলের ঘোষণা হয়। এরপর থেকে সীমান্তে কিছু অশান্তির খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা দেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমরা সতর্ক রয়েছি এবং সীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছি। জেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায়, বিশেষ করে ভোমরা স্থলবন্দরসহ আশপাশের স্থানে, বর্ডার গার্ডসের কর্মকর্তারা সজাগ হিসেবে কাজ করছেন। তারা নিশ্চিত করেছেন যে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে আমার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে—সীমান্তে বিজিবির জনবল বাড়ানো হয়েছে এবং টহল কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। যার মাধ্যমে সীমান্তের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা বা পুশইনের ঘটনা ঘটেনি; পরিস্থিতি নির্বিঘ্ন ও শান্ত। উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, সীমান্তের শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে আইনশৃṅখলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন একযোগে কাজ করছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, নিরাপত্তা জোরদারকাজ চলমান থাকবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে।

  • খুলনায় অস্ত্র মামলায় যুবকের ১৭ বছরের কারাদণ্ড

    খুলনায় অস্ত্র মামলায় যুবকের ১৭ বছরের কারাদণ্ড

    খুলনায় অস্ত্র মামলার পৃথক দু’টি ধারায় মোঃ মেহেদী হাসান মমি জমাদ্দার (২০) নামে এক যুবককে আদালত ১৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন। এই রায় বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনার জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধদমন ট্রাইব্যুনালে বিচারক সাবেরা সুলতানা খানম ঘোষণা করেন। রায়ের সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিল না। তিনি দৌলতপুর থানাধীন পবলা হাস খামার এলাকার বাসিন্দা এবং শামীম জমাদ্দারের ছেলে।

    মামলার তথ্য অনুসারে, ২০২৩ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া ১১টার দিকে দৌলতপুর থানার এসআই আলিমুজ্জামان বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন, দৌলতপুর থানার বিভিন্ন মামলার সন্দেহভাজন আসামি মোঃ মেহেদী হাসান মমি পাবলা ফকিরপাড়ার হক সাহেবের বাড়ির সামনে অবস্থান করছে। এই সংবাদ পাওয়ার পরে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।

    জিজ্ঞাসাবাদে মমি পুলিশকে জানায়, তার কাছে দৌলতপুর থানাধীন কল্পতরু মার্কেটে একটি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ‘নাজ এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি পরিত্যক্ত দোকানের ছাদ থেকে দেশের তৈরি একটি ওয়ান শুটার গান ও ৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে।

    অস্ত্র উদ্ধার এবং মামলার বিষয়ে, ২০২৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর এসআই মোঃ আলিমুজ্জামান বাদী হয়ে থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করেন। পরে, ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মুকুল খান আসামি মমির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালতে মোট ৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়, এর মধ্যে ৭ জন সাক্ষ্য দেন। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন এবং তাকে ১৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন।

  • শ্রম আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ঢাকা শ্রম ট্রাইব্যুনালের আপীল খারিজ

    শ্রম আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ঢাকা শ্রম ট্রাইব্যুনালের আপীল খারিজ

    খুলনা মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের বিরুদ্ধে শ্রম আদালত কর্তৃক দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে করা ঢাকাস্থ শ্রম ট্রাইব্যুনালের আপীল খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। বিচারপতি এস এম দস্তগীর হুসেনের নেতৃত্বে চেয়ারম্যান এবং মোঃ তারেক মুর্শিদ সিদ্দিকীর সদস্য যুগ্ম আদালত এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। ফলে, ২০২০ সালের ২২ ডিসেম্বর শ্রম আদালত কর্তৃক নির্বাহী চেয়ারম্যান সৈয়দ আরাফাত হোসেনের দেয়া রায় অর্থাৎ, খারিজের সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকছে। ওই সময়, আদালত উল্লেখ করেছিল যে, এই মামলাটি দোতরফা মঞ্জুর না হওয়ায় খারিজ করা হয়েছে। পাশাপাশি, নির্দেশ দেয়া হয়েছিল যে, খুলনা মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের কার্যকরী কমিটি নির্বাচন, ইউনিয়নের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিটি গঠন করে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। সেক্ষেত্রে, সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও অফিসের তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনাও দেয়া হয়। এই রায়ের অনুলিপি আগামী দিনগুলোতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সরবরাহ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ইউনিয়নের সাধারণ নির্বাচনের পর, রফিউল ইসলাম টুটুল একটি মামলা করেন শ্রম আদালতে। সেই মামলার ৬ বছর পর ২০২০ সালে রায় হয়, যে মামলার কিছু সময় পরে একই ব্যক্তি শ্রম আপীল ট্রাইব্যুনালে আপীল করেছিলেন, যা পরে খারিজ হয়। এই সিদ্ধান্তের পরে প্রায় পাঁচ বছর পর ইউনিয়নের কার্যক্রম আবার সচল হয়েছে। সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আতিয়ার পারভেজ ও সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমেদ মোল্লা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, আদালতের রায় অনুযায়ী আগামী ৬০ দিনের মধ্যেই ইউনিয়নের নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু হবে।

  • পারস্পরিক সহযোগিতায় মানবতার জন্য নিরাপদ ও সুস্থ খুলনা গড়ে তোলার অঙ্গীকার

    পারস্পরিক সহযোগিতায় মানবতার জন্য নিরাপদ ও সুস্থ খুলনা গড়ে তোলার অঙ্গীকার

    খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি-খুলনা সিটি ইউনিটের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, স্বাধীন বাংলাদেশের পর থেকে ১৯৭৩ সাল থেকে রেড ক্রিসেন্টের অভিযান শুরু হয়। এই সংস্থা বাংলাদেশের উন্নয়ন ও মানবতার সাথে গভীর সম্পর্কযুক্ত। তিনি আরও বলেন, এবারের প্রতিপাদ্য—”ইউনাইটেড ইন হিউম্যানিটি”—আমাদের মনে করিয়ে দেয়, আমরা সবাই জাতি, ধর্ম বা বর্ণ নির্বিশেষে মানবতার প্রতি দায়বদ্ধ। দুর্যোগ, সংঘাত বা কঠিন সময়েও রেড ক্রিসেন্ট মানবতার জন্য কাজ করে যায়, যা আমাদের ঐক্যবদ্ধ করে। পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়িয়ে, মানবতার কল্যাণে একত্রে কাজ করার মধ্য দিয়ে একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও সুস্থ নগরী গড়ার গুরুত্ব তিনি উল্লেখ করেন।

    বৃহস্পতিবার সকালে নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বিশ্ব রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। এই দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘‘ইউনাইটেড ইন হিউম্যানিটি’’।

    আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা সিটি ইউনিটের সাবেক সহসভাপতি শেখ সাদিকুল ইসলাম সাদি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন রেড ক্রিসেন্টের আজীবন সদস্য ও মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এ্যাড. শফিকুল আলম মনা। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউনিটের উপসহকারী পরিচালক রেক্সোনা খাতুন, থ্রি-সি প্রকল্পের এ্যাসিসট্যান্ট প্রোজেক্ট ম্যানেজার মো. আব্দুল মজিদ, এ্যাসিসট্যান্ট প্রোজেক্ট অফিসার সাকিবুল হাসানসহ সংস্থার বিভিন্ন সদস্য, যুবকর্মী, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ।

    আলোচনাসভার আগে মহানগরটির বিভিন্ন স্থান থেকে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে মানববন্ধনের শুভ সূচনা করেন।

    উল্লেখ্য, খুলনা মহানগরে রেড ক্রিসেন্টের অর্থায়নে চলমান রয়েছে ‘ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ক্লিন সিটিস (থ্রিসি)’ প্রকল্প। এর আওতায় নগরীর ২১ ও ২২ নম্বর ওয়ার্ডের স্লাম এরিয়া ছোট সড়ক ও ড্রেন নির্মাণ, সোলার লাইট স্থাপন, প্রাকৃতিক জলাশয় পরিষ্কার, পারিবারিক টয়লেট নির্মাণ ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ক্লাইমেট রেসপনসিভ যাত্রির ছাউনি স্থাপনের কাজ চলছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং নগরীকে আরো স্থায়ী ও টেকসই করে তোলার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।