Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • জেল খাটার কৌতূহলেই ১১ বছরের হোসাইনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা: স্বীকার ৬ কিশোর

    জেল খাটার কৌতূহলেই ১১ বছরের হোসাইনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা: স্বীকার ৬ কিশোর

    নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ১১ বছর বয়সী হোসাইনকে জেল খাটতে কেমন লাগে—এমন কৌতূহলেই ছুরিকাঘাতে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে স্বীকার করেছে পুলিশি তদন্তে গ্রেফতার হওয়া ছয় কিশোর। এই তথ্য সোমবার (২৭ এপ্রিল) জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানান।

    পুলিশের বরাত দিয়ে জানা যায়, ভাসমান ফুল বিক্রেতা সুমনের ছেলে হোসাইন ১৮ এপ্রিল সকালে নিখোঁজ হয়। পাঁচ দিন পর ২৩ এপ্রিল বিকেলে ফতুল্লার ইদ্রাকপুর ব্যাংক কলোনি এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়ির ময়লার স্তূপ থেকে তার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর ফতুল্লা থানা তদন্ত শুরু করলে প্রথমে ইয়াসিন নামে এক কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়।

    ইয়াসিনের দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরে রোববার (২৬ এপ্রিল) সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বরিশাল জেলা সহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আরও পাঁচ কিশোরকে ধরা হয়। তাদের কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।

    পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত সাইফুল, তানভীর ও ইউনুস মিলে ‘খুন করলে জেলে যেতে হয়’– এমন ধারণা নিয়ে অভিজ্ঞতা লাভের উদ্দেশ্যেই পরিকল্পনা করেছিল। তারা হোসাইনকে গাঁজা সেবনের প্রলোভন দেখিয়ে সুযোগে টার্গেট করে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন তাদের আরও তিন সহযোগী—রাহাত, অপর এক কিশোর যার নামও হোসাইন এবং ওমর। একসঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে হোসাইনকে ছুরিকাঘাত করে খুন করা হয় এবং মরদেহ পরিত্যক্ত বাড়িতে ফেলে পালিয়ে যায় বলে তদন্তে বলা হয়েছে।

    গ্রেফতার ছয় কিশোরের সবাই ১৮ বছরের নীচে এবং প্রত্যেকে মাদকাসক্ত বলে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে। মামলার প্রধান আসামি ইয়াসিন হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দিয়েছে।

    জেলা পুলিশ সুপার মুন্সী জানান, এই ঘটনায় অভিযুক্ত আরও একজন কিশোর এখনও পলাতক রয়েছে এবং তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ঘটনার পর পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে; স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ রয়েছে। পুলিশে মামলা হয়েছে এবং তদন্ত ও অনুসন্ধান অব্যাহত আছে।

  • তারেক রহমান: মেয়েদের স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা এবং উপবৃত্তির আশ্বাস

    তারেক রহমান: মেয়েদের স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা এবং উপবৃত্তির আশ্বাস

    বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান বলেছেন, মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে করা হবে এবং ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের জন্য সরকার থেকে উপবৃত্তির ব্যবস্থা করা হবে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টায় যশোর ঈদগাহ ময়দানে জেলা বিএনপির আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব ঘোষণা করেন।

    তারেক রহমান জানান, ১৯৯১-৯৬ সালে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া মেট্রিক পর্যন্ত এবং ২০০১-২০০৬ সালে ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষাকে বিনামূল্যে করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, “বিএনপি শহীদ জিয়ার দল, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার দল। আমরা তাদের অসমাপ্ত কাজগুলো পূরণ করব। ইনশাআল্লাহ মেয়েদের স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত শিক্ষাব্যবস্থা বিনামূল্য করা হবে এবং যারা ভালো রেজাল্ট করবে তাদের জন্য শর্তসাপেক্ষ উপবৃত্তির ব্যবস্থা থাকবে।”

    কৃষি ক্ষেত্রে সরকারের প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রাথমিক পর্যায়ে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণের সুদ মওকুফ করার উদ্যোগ নেবে। তারেক রহমান দাবি করেন, দেশে প্রায় ১২ লাখ কৃষক এই সুবিধা পাবে। তিনি কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে ‘কৃষক কার্ড’ চালুরও প্রতিশ্রুতি দেন এবং জানান, সেই কার্যক্রমও শুরু করা হবে।

    বেকারত্ব সমাধানে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, তরুণ-তরুণীদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে; বন্ধ কল-কারখানা পুনরায় চালু করে পর্যায়ক্রমে কর্মসংস্থানের সুযোগ করা হবে। তারেক রহমান আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে অনেক বন্ধ প্রতিষ্ঠান চালু করতে সক্ষম হবে।

    বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির বিষয়ে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আমাদের শ্রমবাজারে সীমাবদ্ধতা আছে, তাই বেশ কয়েকটি দেশ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইনশাআল্লাহ শিগগিরই এসব দেশে কর্মসংস্থান পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

    জলবিচ্ছিন্নতার সমস্যা ও কৃষি সেচের বিষয়ে তারেক রহমান জানান, আগামী পাঁচ বছরে সমগ্র দেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, খাল খনন হলে আশেপাশের কৃষকরা সেচ পাবেন, মাছ চাষ ও হাঁস পালনসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসা গড়ে তুলতে পারবেন এবং খালের দুপাশে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব হবে।

    খেলাধুলার উন্নয়নে পরিকল্পনার কথা বললে তিনি জানান, আগামী মাসের ২ তারিখে তিনি সিলেট সফর করবেন এবং সেখান থেকেই সমগ্র দেশে পেশাদার খেলোয়াড় তৈরির উদ্যোগ শুরু করা হবে। সরকারের পক্ষ থেকে ৫০০ জন পেশাদার খেলোয়াড়কে সম্মাননা দেওয়া হবে বলে জানান।

    সভায় তারেক রহমান আরও বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের—মসজিদ, মাদ্রাসা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে নিয়োজিত ধর্মীয় নেতারা বহু সময় মানবেতর জীবনযাপন করেন; সরকার গঠিত হলে তাদের সম্মান ও কল্যাণের ব্যবস্থা করা হবে এবং সেই কাজ ইতোমধ্যেই শুরু করার প্রতিশ্রুতি দেন।

    জনসম্মুখে তার বক্তব্যের প্রতিটি উদ্যোগকে তিনি বিএনপির অঙ্গীকার হিসেবে উপস্থাপন করেন এবং জনজোয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে জনগণের দোয়া ও সমর্থন প্রয়োজন।

  • বিএনপি ফ্যাসিবাদী পথে হাঁটছে: জামায়াত আমিরের অভিযোগ

    বিএনপি ফ্যাসিবাদী পথে হাঁটছে: জামায়াত আমিরের অভিযোগ

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান শনিবার (২৫ এপ্রিল) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অভিযোগ করেছেন, বিএনপি পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটা শুরু করেছে। তিনি বললেন, তারা ইতিমধ্যেই সেই পথ ধরে চলছে যা একসময় অন্যরা অনুসরণ করেছিল।

    ডা. শফিকুর বলেন, এক সময় আমরা বিএনপির সঙ্গে মজলুম ছিলেন, কিন্তু এখন আমরা বলতে চাই—তারা আসলে আওয়ামী লীগের মতো হতে পারবে না; সর্বোচ্চ হলে দুর্বল আওয়ামী লীগই হতে পারে। যে আওয়ামী লীগ এক সময় পুরো জাতি বা বিরোধী দলকে কটাক্ষ করত, আজ বিএনপিই সেই একই আচরণ শুরু করেছে।

    তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, আগে আওয়ামী লীগ তাদের অনুগত লাঠিয়াল বাহিনীর মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন স্তরে কর্তৃত্ব কায়েম করেছিল; কিন্তু আজ তাদের সেই ‘লাঠিয়াল’রা পাশে নেই।

    সমাবেশে ডা. শফিকুর বলেন, রাষ্ট্রের মৌলিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে পরিবর্তন আনা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা এবং জনগণকে প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ দেয়ার লক্ষ্যে যে উদ্যোগগুলো দরকার, তাতে বিএনপি সব সময় বাধা দেয়—এটা জাতির সঙ্গে প্রতারণা। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি তাদের ইশতেহারে থাকা ৩১ দফা কর্মসূচির বিরোধিতা করছে এবং এমন আচরণ তাদের যুক্তি-জ্ঞান হারিয়েছে বলে তিনি মনে করছেন।

    জামায়াত আমির বলেন, আন্দোলন ও বিপ্লবে দেশের অনেক মানুষের জীবনের আত্মত্যাগ ছিল—মায়েরা, বাবারা, ভাই-বোনেরা তাদের সন্তান ও স্বজন হারিয়েছিলেন; যদি তারা সেই জীবন না দিয়ে থাকতেন, তাহলে বর্তমান কতিপয়েরা ক্ষমতা ভোগ করতে পাননি। ক্ষমতা হাসিলের আগেই অনেকেই শহীদ ও আহত পরিবারদের প্রতি উদাসীন ছিলেন; শহীদ পরিবারদের দুঃখ-ব্যথা তাদের স্পর্শ করেনি। ৫ আগস্টের পরে ৭ আগস্ট তারা পার্টি অফিসে দাঁড়িয়ে নির্বাচন দাবি করেছিল—তারা শহীদ পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা দেখায়নি, তবুও আজ তারা বিপ্লবের বেনিফিশিয়ারি বলে দাবি করে।

    তিনি আরও স্মরণ করান, যারা বিদেশে ছিলেন তারা দেশের অভ্যুত্থান না হলে দেশে ফিরতে পারতেন না। তিনি বলেন, তার জেলের সহকর্মী আল্লামা মামুনুল হকও বলেছেন যে তখন বিএনপির শীর্ষ নেতারা জেলে হতাশা প্রকাশ করতেন যে আগের শাসকদের ক্ষমতায় থেকে সরানো সম্ভব হবে না; কিন্তু পরে দেখা গেল এটি খোদার দান—কেও কেউ এই ঘটনা ভুলে গেছে এবং এখন অনেকে কৃতিত্ব দাবি করছেন, যা অবৈধ।

    জামায়াতে আমির যোগ করেন, জামায়াতে ইসলামী কারো ন্যায্য অবদান অস্বীকার করে না; আন্দোলনে সবাই অংশ নিয়েছিল। তবু যারা তীরে ফিরে গিয়েছে তাদের কাছে কৃতজ্ঞতা জানানোর আহ্বান জানান—জুলাই আন্দোলনের নায়েরা তোরি নিয়ে ঘাটে ভিড়ে জাতিকে মুক্তির পথ দেখিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ছাত্রসমাজ জীবন বাজি রেখে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, শ্রমিকরা পাশে দাঁড়ায়, মায়েরা রাস্তায় নেমে এসেছিল—এই ত্যাগ একনদে মুছতে হবে না।

    সংসদসংক্রান্ত বিষয়েও তিনি বলেন, তারা প্রথম দিন থেকেই সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি তুলেছিল; শপথগ্রহণে আমরা অনাগ্রহ দেখি, তারা জাতির সঙ্গে করা অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে। এরপর আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা অবরোধ করা হয়েছে। যে আইনগুলো সংশোধন না হলে এবং অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন না হলে, ফ্যাসিবাদী শাসন পরিবর্তিত হবে না—বিএনপি অনেক ক্ষেত্রে পুরনো স্বৈরাচারী সরকারের আইনগুলোকেই রক্ষা করতে চেয়েছে।

    তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক কয়েকদিনে বিভিন্ন স্থানে—শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও—অপরাধী তৎপরতা বাড়ছে; এমনকি থানার ভিতরে ঢুকে দু:খজনকভাবে ডাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর হামলা হয়েছে। এই ঘটনাগুলোকে তিনি ফ্যাসিবাদের লক্ষণ হিসেবে দেখেন এবং বলে দেন, যেদিন বিএনপি গণভোটের রায় অস্বীকার করেছে, সেদিন থেকেই তাদের ফ্যাসিবাদী পথচলা শুরু হয়েছে।

    শেষে ডা. শফিকুর বলেন, তারা এমন বাংলাদেশ চায় না যেখানে মানুষ বাইরে বের হতে কাঁপে। তারা চায় একটি নিরাপদ দেশ—যেখানে শিশু, কিশোর, যুবক-যুবতী, মা-বোনা সুষ্ঠুভাবে চলাফেরা করবে; শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুরি-চোপ পরিহিত পরিবেশ নয়, শ্রেণীকক্ষ-শিক্ষা উপকরণ দেখা যাবে। এমন দাদা-ভাই বা প্রতিহিংসামিশ্রিত সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে; তা না হলে প্রতি বছর জুলাইয়ের মতো জনআন্দোলন ফিরে আসবে এবং একসময় ফ্যাসিবাদের কবর খোড়া হবে।

    তিনি জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানান—সাধারণ মানুষের প্রায় ৭০ শতাংশের রায় মান্য করুন। গণভোটের রায় বাস্তবায়িত না হলে তাদের লড়াই সংসদের ভিতরেও এবং খোলা ময়দানে চলবে, ইনশাআল্লাহ।

  • নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন, এনসিপি তরুণদের সমর্থন করবে: নাহিদ

    নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন, এনসিপি তরুণদের সমর্থন করবে: নাহিদ

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম শুক্রবার বলেন, ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করছে। তিনি বলেন, এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তরুণেরা এগিয়ে আসলে এনসিপি তাদের সমর্থন জানাবে—তাই সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে তিনি তরুণদের আহ্বান জানান।

    নাহিদ ইসলাম এই কথা বলেন শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলস্থ ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে। অনুষ্ঠানটি মূলত বিএনপি’র বহিষ্কৃত নেতা ইসহাক সরকারের, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবালসহ কয়েকজনের এনসিপিতে যোগদান উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছিল।

    উক্ত সভায় নাহিদ বলেন, জাতীয় নির্বাচনের পর গঠিত সরকার গণভোটকে স্বীকৃতি দেয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের উত্তরাধিকারকে বিচ্ছিন্ন করে নির্বাচনকে একটি সাধারণ ক্ষমতা পটপরিবর্তনের ঘটনাই বানিয়ে দিয়েছে। এছাড়া সংবিধান সংক্রান্ত এবং অন্যান্য গুরুত্বর্পূণ সংস্কারবিরোধী অধ্যাদেশ একের পর এক বাতিল করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

    নাহিদ আরও বলেন, ‘ব্যাংক লুটেরাদের জন্য সুযোগ তৈরি হচ্ছে এবং বিভিন্নভাবে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করা হচ্ছে।’ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও পেশীশক্তি ও ক্ষমতার রাজনীতির আধিপত্য আবার ফিরে এসেছে—এমনও অভিযোগ করেছেন তিনি।

    তিনি বলেন, যদি ফ্যাসিবাদ বা নতুন কোনো স্বৈরতন্ত্র সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়, জনগণ তা প্রতিহত করবে এবং এনসিপির ছায়াতলে ঐক্যবদ্ধ হবে। নাহিদ জানান, ইতোমধ্যেই সারাদেশ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া যাচ্ছে এবং সারা দেশে যোগদান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

    দলীয় কার্যক্রম এবং তরুণদের প্রতি বার্তা ადিয়ে তিনি জানান, ‘প্রতি সপ্তাহে আমাদের যোগদান কর্মসূচি চলবে। রাজনীতিসচেতন মানুষ ও তরুণদের আমরা আহ্বান জানাচ্ছি—এ দেশের ভবিষ্যত বিপথে যেতে দেবেন না। যারা রাজনীতি করতে চান বা দেশে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেন, তারা ঐক্যবদ্ধ হন। এনসিপি আপনাদের ধারণ করে সামনে এগোতে চায়।’

    অর্থনৈতিক অবস্থা, গণতন্ত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নাহিদ বলেন, বর্তমান সরকার ক্রমশ ব্যর্থতার দিকে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অনিশ্চিত, গণতন্ত্র নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তাও শঙ্কিত। এসব পরিস্থিতিতে জনগণের পাশে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ানো ছাড়া কোনো উপায় নেই—এমনটাই তার দাবি।

    যোগদানের খবর:

    বিকেলে আইডিইবিতে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দেন বিএনপি’র বহিষ্কৃত নেতা ইসহাক সরকার। এ ছাড়াও অবিভক্ত বাংলার শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবাল (ফ্লোরা), কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র ও রেল অনিয়ম নিয়ে আন্দোলনে নাম করা মহিউদ্দিন রনি এনসিপিতে যোগদান করেন। ফেরসামিন বিদেশে থাকায় তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না; নাহিদ ইসলামসহ অন্যান্য নেতারা মঞ্চে থেকে নতুন সদস্যদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।

  • এপ্রিলের প্রথম ২২ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ২.৪২ বিলিয়ন ডলার

    এপ্রিলের প্রথম ২২ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ২.৪২ বিলিয়ন ডলার

    রেমিট্যান্স প্রবাহের ইতিবাচক ধারা এপ্রিলেও অব্যাহত রয়েছে। চলতি মাসের প্রথম ২২ দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ২.৪২ বিলিয়ন (২৪১ কোটি ৭০ লাখ) মার্কিন ডলার। বর্তমান বাজারদর ধরা হলে (প্রতি ডলার ≈ ১২২ টাকা) এর মূল্য প্রায় ২৯ হাজার ৪৮৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক এই তথ্য বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জানিয়েছে।

    গত বছরের একই সময় রেমিট্যান্স ছিল ২০৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার। তাই চলতি বছরের প্রথম ২২ দিনের সময়ে গত বছরের তুলনায় বেশি এসেছে ৩৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার, যা প্রায় ৪ হাজার ৪৪০ কোটি ৮০ লাখ টাকার সমপরিমাণ।

    দেশে প্রবেশ করা রেমিট্যান্সের ধারার মধ্যে চলতি বছরের মার্চ মাস ছিল এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ — ওই মাসে আসে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছিল গত বছরের মার্চে (৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার), তৃতীয় সর্বোচ্চ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর (৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার) এবং চতুর্থ সর্বোচ্চ এসেছে চলতি বছরের জানুয়ারিতে (প্রায় ৩১৭ কোটি ডলার)।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট দীর্ঘায়িত হলে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়তে পারে। তাই তারা সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্ত অবস্থানে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক ও নীতি নির্ধারকরা এই প্রবণতা পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন—বিশেষত বৈদেশিক আয় নিশ্চিত ও রিজার্ভ বলবান রাখতে।

  • জ্বালানি সংকটের ভয়ে স্থগিত পোশাক খাতের অর্ডার, উদ্বেগ বাড়ছে

    জ্বালানি সংকটের ভয়ে স্থগিত পোশাক খাতের অর্ডার, উদ্বেগ বাড়ছে

    জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় বিদেশি ক্রেতারা বাংলাদেশে নতুন ক্রয়াদেশ দিতে ঝুঁকছে না—এমন তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম (পারভেজ) চৌধুরী। বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

    বিসিআই সভাপতি জানান, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থেকেই অনেক ক্রেতা অর্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছেন। বিশ্ববাজারের অস্থিরতা ও দেশের জ্বালানি সরবরাহ অনিশ্চিত হওয়ায় বিশেষ করে জুলাই ও আগস্টের জন্য যেসব ক্রয়াদেশ শিডিউল করা হয়েছিল, সেগুলোর অনেকটাই ধীরগতি দেখা যাচ্ছে।

    তিনি বলেন, বড় কিছু আন্তর্জাতিক ক্রেতা নেগেটিভ সিগনাল দিচ্ছে এবং কিছু অর্ডার ইতোমধ্যে ভারতসহ অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তাদের ঢাকায় অবস্থিত অফিসগুলো পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা নতুন অর্ডার দিতে পিছু হটছেন, যা তৈরি পোশাক খাত ও দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়কে বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলে দিচ্ছে।

    অন্যদিকে বর্তমান কর কাঠামোও ব্যবসার ওপর চাপ বাড়াচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। লাভ-ক্ষতির পরোয়া না করে এক শতাংশ হারে ন্যূনতম কর দেওয়ার বাধ্যবাধকতা বিশেষত ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত বোঝা তৈরি করেছে। অনেক প্রতিষ্ঠানের মুনাফা না থাকলেও কর দিতে হয়, ফলে তাদের জীবিকা ধরে রাখা কঠিন হয়ে উঠছে।

    বিসিআই সভাপতি ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস এবং রপ্তানি আয় থেকে কর্তন (উৎস কর) কমানোর অনুরোধ জানান। এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এই উৎস কর কমানোর প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন বলে সংবাদে বলা হয়েছে।

    এ ছাড়াও আয়কর আইন ২০২৩-এর ১৪৭ ধারা প্রসঙ্গে আনোয়ার-উল আলম বলেন, কর যাচাইয়ের নামে কোনো প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার সিস্টেম বা নথিপত্র জব্দ করার অসীম ক্ষমতা ব্যবসায়ীদের মধ্যে বড় ধরনের উদ্বেগ সৃষ্টি করছে এবং এটি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।

    প্রাক-বাজেট আলোচনায় ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) ব্যাংক আমানতের মুনাফার ওপর উৎস কর ২০ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামানো এবং নিট সম্পদের ওপর আরোপিত সারচার্জ ধাপে ধাপে বাতিল করার দাবি উত্থাপন করে। তারা করের বোঝা বাড়িয়ে ব্যবসাকে সংকীর্ণ করার বদলে একটি সহায়ক ও বন্ধুমুখী কর ব্যবস্থা গড়ার পরামর্শ দিয়েছে।

    শিল্প-উদ্যোক্তারা বলছেন, যদি জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল না হয় এবং কর কাঠামো সহজীকরণ করা না হয়, তবে দেশের রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা আরও ক্ষয়প্রাপ্ত হবে। সময়োপযোগী উদ্যোগ না নিলে পোশাক খাতসহ রপ্তানি নির্ভর শিল্পগুলোর ওপর প্রতিকূল প্রতিক্রিয়া বাড়বে—এমন সতর্কতা তারা দিয়েছেন।

  • অভিযুক্ত চ্যাটজিপিটিকে জিজ্ঞেস করেছিলেন লাশ গোপনের উপায়, আদালতের নথিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য

    অভিযুক্ত চ্যাটজিপিটিকে জিজ্ঞেস করেছিলেন লাশ গোপনের উপায়, আদালতের নথিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য

    যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা (ইউএসএফ) ক্যাম্পাসে অধ্যয়নরত দুই বাংলাদেশি ডক্টরাল শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টিকে হত্যা করার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে হিশাম আবুঘরবেহকে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি জানায়, আদালতের নথিতে উঠে এসেছে, হিশাম ১৩ এপ্রিল রাতে এআই চ্যাটবট চ্যাটজিপিটিকে ‘কাউকে কালো প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে ডাস্টবিনে ফেলে দিলে কী হয়’ এবং ‘তদন্তকারীরা কীভাবে এটি খুঁজে বের করবে’ বলে জানতে চেয়েছিলেন—যেসব প্রশ্ন নথিতে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

    ২৬ বছর বয়সী হিশামকে জামিল ও বৃষ্টিকে হত্যার অভিযোগে প্রথম-ডিগ্রি মর্ডারের আওতায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। গত ২৪ এপ্রিল টাম্পার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশে লিমনের বিকৃত দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদনে লিমনকে বহুটি ধারাল অস্ত্রের আঘাতে হত্যা করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। পুলিশ ধারণা করছে বৃষ্টিও আর জীবিত নেই এবং তার দেহ সঙ্গী হিশামই সরিয়ে ফেলেছেন।

    আদালতীয় নথিতে বলা হয়েছে, ১৩ এপ্রিল সেই রাতে চ্যাটজিপিটিকে প্রশ্ন করার তিন দিন পর—১৬ এপ্রিল—লিমন ও বৃষ্টি সর্বশেষ দেখা গেছে। পরের দিন, ১৭ এপ্রিল হিশামের এক রুমমেট তাকে কিছু কার্ডবোর্ড বক্স তাদের অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের ডাস্টবিনে ফেলতে দেখেন। পুলিশ ওই ডাস্টবিন তল্লাশি করে লিমনের স্টুডেন্ট আইডি ও তার নামের ক্রেডিট কার্ড উদ্ধার করে।

    পুলিশের খোঁজে একটি ধূসর টি-শার্টও পাওয়া যায়; ওই টি-শার্টের ডিএনএ পরীক্ষায় লিমনের জিনের মিল পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে একটি কিচেন ম্যাটের ডিএনএ বৃষ্টির জিনের সাথেও মেলে। তদন্তে আরও জানা গেছে, হিশাম ওই রাতে বড় ডাস্টবিন ব্যাগ, লাইজল (পরিষ্কারক) ও সুগন্ধি স্প্রে কেনেন এবং তার অ্যাপার্টমেন্টে রক্তের দাগও মিলেছে। তদন্তকারীরা বলছেন, বৃষ্টির ব্যবহৃত গোলাপি ফোন কভারসহ কিছু ব্যক্তিগত বস্তু হিশামের তরফ থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।

    তদন্তে হিশামের প্রথম বক্তব্য ছিল, তিনি ১৬ এপ্রিল লিমন ও বৃষ্টিকে ক্লিয়ারওয়াটারে নামিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু লিমনের ফোনের লোকেশন ডেটা ও সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হিশামের গাড়ি সেই রাতেই হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজে দীর্ঘ সময় টেকেছিল—ইভেন্টসাইট যেখানে পরে লিমনের মরদেহ পাওয়া যায়—যার ফলে তার বক্তব্য বদলাতে বাধ্য হন তিনি।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হিশামের বাঁ হাতের আঙুলে ও পায়ে ক্ষতের চিহ্ন পাওয়া যায়; তিনি দাবি করেন, পেঁয়াজ কাটার সময় দুর্ঘটনায় জখম হয়েছেন। তবে তদন্তকারীরা বলছেন, প্রাপ্ত অব্যাহত তথ্য ও আলামত থেকে বিরূপ চিত্র প্রতীয়মান হচ্ছে।

    হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ অফিস জানিয়েছে, রোববার (২৬ এপ্রিল) তল্লাশিকালে কিছু ‘মানুষের দেহাবশেষ’ উদ্ধার করা হলেও তা এখনও শনাক্ত করা যায়নি। হিশামের বিরুদ্ধে হত্যার পাশাপাশি শারীরিক নির্যাতন, বেআইনি আটক, মৃত্যুর খবর না জানানো, মৃতদেহ সঠিক স্থানে না রাখা ও আলামত নষ্ট করার অভিযোগও আনা হয়েছে। তিনি বর্তমানে জামিন ছাড়াই হিলসবোরো কাউন্টি জেলে আছেন; মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে আগামী মঙ্গলবার।

    হিলসবোরো কাউন্টি পাবলিক ডিফেন্ডার অফিসের হোমিসাইড ব্যুরোর প্রধান জেনিফার স্প্র্যাডলি তাদের পক্ষে কোনো মন্তব্য নেই বলে ইমেইলে জানিয়েছেন। অপরদিকে, চ্যাটজিপিটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই এখনো এই ঘটনার প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করেনি।

    সংবাদমাধ্যম সিএনএনের পূর্বের প্রতিবেদনে জানানো হয়, জামিল লিমন তাকে শেষবার ১৬ এপ্রিল সকালে টাম্পার ইউএসএফ ক্যাম্পাস থেকে প্রায় তিন ব্লক দূরে তার বাড়িতে দেখা গেছে। একই দিন সকালে নাহিদা বৃষ্টিকে ক্যাম্পাসের প্রকৃতি ও পরিবেশ বিজ্ঞান ভবনে দেখা গিয়েছিল। তথ্যসূত্রে বলা হয়েছে, উভয়ই ২৭ বছর বয়সী এবং সম্ভাবনাময় ডক্টরাল গবেষক ছিলেন; তারা বন্ধু হিসেবে শুরু করে সময়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেছিলেন এবং ভবিষ্যতে বিয়ের কথাও ভেবেছিলেন।

    ফ্লোরিডায় তাদের নিখোঁজের খবর জানার পর তাদের বন্ধু ও পরিবারের লোকজন ক্ষণিকের মধ্যে উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন। ঘটনার পর তদন্ত ও সমাজে উদ্বেগ ছড়িয়েছে—স্থানীয় শেরিফের অফিস বলছে এটি একটি গুমরাহ کننده ঘটনা যা পুরো সম্প্রদায়কে দাগ কেটেছে। (সূত্র: এনবিসি নিউজ, সিএনএন)

  • এফবিআই: লিমন হত্যায় পরিকল্পনা নয়, আকস্মিক রাগ—বৃষ্টির নিখোঁজ অনুসন্ধান চলছে

    এফবিআই: লিমন হত্যায় পরিকল্পনা নয়, আকস্মিক রাগ—বৃষ্টির নিখোঁজ অনুসন্ধান চলছে

    ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) বাংলাদেশি ছাত্র জামিল লিমনের মরদেহ গত শুক্রবার সকালে হাওয়ার্ড ফ্র্যাংকল্যান্ড সেতুর কাছে পাওয়া যায়। একই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁর রুমমেট, ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত হিশাম আবুগারবিয়েহকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    অন্য আরেকজন শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টি এখনও নিখোঁজ; তাঁর কোনো নিঃশব্দ বা মরদেহ মেলে না বলে মামলা তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।

    হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের দফতর জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল প্রায় ৯টার দিকে লেক ফরেস্ট এলাকার একটি সহিংস ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে আসে। অভিযুক্ত আবুগারবিয়েহ যখন বাড়ি থেকে বের হতে অস্বীকার করলে সোয়াট টিম ডাকা হয়। শেষে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে বাড়ি থেকে বের হয়ে গ্রেফতার হন।

    পুলিশি রেকর্ডে জানা গেছে, আবুগারবিয়েহর বিরুদ্ধে আগেও অভিযোগ ছিল; ২০২৩ সালে চুরি, মারধর ও গৃহস্থালীর সহিংসতার অভিযোগে দোষী সারানো হয় এবং ২০২৫ সালে তার বিরুদ্ধে আবারও একই ধরনের মামলা দায়ের হয়।

    জামিল লিমন ভূগোল, পরিবেশ বিজ্ঞান ও নীতি বিভাগের ডক্টরাল গবেষক ছিলেন। নাহিদা বৃষ্টি রাসায়নিক প্রকৌশলে পড়াশোনা করতেন। পুলিশ বলেছে, দুজনকে শেষবার ১৬ এপ্রিল দেখা যায়; পরদিন এক পারিবারিক বন্ধু ঘটনাটি পুলিশকে জানায়।

    বৃষ্টির সন্ধানে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের মেরিন ও ডাইভ টিম হাওয়ার্ড ফ্র্যাংকল্যান্ড সেতুর নিকটবতী নদীতে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।

    এফবিআইয়ের সাবেক বিশেষ এজেন্ট ও ইউএসএফ সেন্টার ফর জাস্টিস রিসার্চ অ্যান্ড পলিসির সহপরিচালক ড. ব্রায়ানা ফক্স বলেছেন, ট্যাম্পা বে এলাকাজুড়ে প্রমাণ ছড়িয়ে থাকা দেখে বোঝা যায় এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নয়, বরং হয়তো আকস্মিক রাগের পতনের ফল। তিনি আরও বলেন, ‘‘যেখানে পরিচিতরাই একে অপরকে আক্রমণ করে এবং বয়সও কাছাকাছি থাকে, সেখানে সাধারণত অর্থ, ঈর্ষা কিংবা কোনো ঝগড়াই হত্যার মূল কারণ হয়ে থাকে। এটি হয়তো এক মুহূর্তের রাগ থেকে সৃষ্টি হয়েছে এবং তুচ্ছ কোনো বিষয়ে সংঘটিত হয়েছে।’’

    শেরিফ চ্যাড ক্রোনিস্টার ঘটনাটিকে গভীরভাবে উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করে বলেন, ‘‘জামিল লিমনের মরদেহ পাওয়া হৃদয়বিদারক। আমাদের গোয়েন্দারা নিরলসভাবে কাজ করছে এবং দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের পুরোপুরি জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।’’

    তদন্ত এখনো চলছে; পুলিশ এবং ফেডারেল তদন্তকারীরা প্রাথমিক প্রমাণ, সাক্ষী এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করছিলেন। স্থানীয় কমিউনিটি উদ্বিগ্ন হলেও কর্তৃপক্ষ শান্ত থাকার এবং যেকোন সহায়তার জন্য পুলিশকে তথ্য জানাতে অনুরোধ করেছে।

  • খুলনা প্রেসক্লাবে হামলা: চারের নাম উল্লেখ, ২০-২৫ অজ্ঞাতকে আসামি—গ্রেপ্তার নেই

    খুলনা প্রেসক্লাবে হামলা: চারের নাম উল্লেখ, ২০-২৫ অজ্ঞাতকে আসামি—গ্রেপ্তার নেই

    খুলনা প্রেসক্লাবে ঢুকে সাংবাদিকদের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) রাত সাড়ে আটটার পর প্রশাসনিক কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার দত্ত বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। মামলায় রিপন আকন, গাউস, হালিম ও মিজান নামীয় চারজনকে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে এবং তাদের সাথে জড়িত অজ্ঞাতপরিচয়ের ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়।

    বাদীর বরাত দিয়ে পুলিশের এজাহারে বলা হয়েছে, সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটের দিকে কয়েকজন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র ও ভাঙচুরের সরঞ্জাম নিয়ে প্রেসক্লাবে প্রবেশ করে এবং কয়েকজন সাংবাদিককে লক্ষ্য করে মারধর করে। ঘটনার পর রাতে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালালেও কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

    মামলার তদন্তভার পাওয়া খুলনা থানার সার্ভেন্ট ইনস্পেক্টর বিশ্বজিৎ বসু জানান, মধ্যরাতে মামলা রুজু হওয়ার পর থেকে রাতভর তল্লাশি ও সিসি ক্যামেরা ফুটেজ যাচাই করা হয়েছে। তখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি, তবে অভিযান চলছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল থেকে সিসি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে, ফুটেজের মাধ্যমে হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

    ঘটনার প্রেক্ষাপট জানতে গিয়ে জানা গেছে, রোববার খুলনা প্রেসক্লাবের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রচারণা চলার সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত সভাপতি প্রার্থী ও সাংবাদিক মোস্তফা সরোয়ারের নাম ধরে গালিগালাজ শুরু করে। টিভি খুলনার বিশেষ প্রতিনিধি তরিকুল ইসলাম বিষয়টি জানতে চাইলে তাদের থেকে তাকে থামাতে বলার বদলে সন্ত্রাসীরা তার ওপর হামলা চালায়।

    এই ঘটনায় খুলনা প্রেসক্লাবের সঙ্গে যুক্ত সাংবাদিকরা ও সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধতা প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, প্রেসক্লাবের মতো নিরাপদ স্থানে এ ধরনের সহিংসতা প্রযোজ্য নয়। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে তারা প্রশাসনের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন। এ প্রতিবাদে আজ দুপুর ১২টায় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

    বিএফইউজে সহকারী মহাসচিব এহতেশামুল হক শাওন বলেন, ঘটনাটিতে বহিরাগত কিছু সন্ত্রাসী জড়িত থাকতে পারে যারা কারো ইন্ধনে কাজ করেছে; এটি প্রেসক্লাবের জন্য লজ্জাজনক একটি ঘটনা। তিনি সংশ্লিষ্টদের খুঁজে বের করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।

  • বাগেরহাটে গুরুতর আহতকে ‘নরমাল’ সার্টিফিকেট প্রদানের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

    বাগেরহাটে গুরুতর আহতকে ‘নরমাল’ সার্টিফিকেট প্রদানের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

    বাগেরহাটে এক পরিবারের অভিযোগ—গুরুতর আহত সদস্যকে সাধারণ আঘাতের সার্টিফিকেট দেয়ায় তারা হতাশ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সংবাদপত্রকর্মী ও এলাকাবাসীর সামনে এ অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর, আইজিপি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেন ভুক্তভোগী পরিবার।

    সংবাদ সম্মেলনে আহত ব্যক্তির বোন ইরানী বেগম লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ২ মার্চ রাতে ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে বাহারুল সরদার, শিফাত সরদার, নাসির উদ্দিন শেখ, আমিরুল ইসলাম কুটি ও মোনসেব শেখ নামের কয়েকজন আমাদের বাড়ি থেকে জোরপূর্বক আমার ভাই সোহানকে টেনে-হেঁচড়া করে একটি ফাঁকা স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তারা তার শরীরের বিভিন্ন অংশে বেধরক মারধর করে এবং ছুরিকাঘাত করে তাকে গুরুতর জখম করে। হামলাকারীরা আমাদের পরিবারকেও মারধর করে।

    ইরানী বেগম বলেন, ঘটনার সময় আমি ৯৯৯-এ ফোন করি; পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে আসামীরা আমার ভাইকে খুন করতে ব্যর্থ হয় এবং আমাদের উপর খুন-জখমের ভয় দেখিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে আমরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলেও সঠিক চিকিৎসা ও আন্তরিক সেবা না পেয়ে হতাশ হই। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়—হাসপিটাল থেকে আসামকের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমার ভাইয়ের ইনজুরি সার্টিফিকেট ‘নরমাল’ বা সাধারণ আঘাত হিসেবে দেয়া হয়েছে, যা আমাদের কাছে সময়োপযোগী ও সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিতে বাধা সৃষ্টি করেছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

    তিনি আরও বলেন, আমরা ফকিরহাট থানায় অভিযোগ করতে গেলে অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি; তারা দাবি করেন, আসামীদের রাজনৈতিক প্রভাব অথবা অন্য কোনো কারণে থানায় মামলা নেয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে আমরা পরে আদালতে মামলা দায়ের করি এবং মামলাটি তদন্তের জন্য গোয়েন্দা পুলিশের কাছে পাঠানো হয়েছে। মামলাটি দায়ের করার পর থেকে আসামীরা নিয়মিত তাদের পরিবারের সদস্যদের খুন-জখমের হুমকি দিচ্ছে—এ কারণে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ইরানী বেগম জানান, এলাকার এসব আসামি মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ভূমিদস্যু হিসেবে চিহ্নিত। থানায় সাধারণ ডায়েরি দিলেও কোনো কার্যকর প্রতিকার পাননি।

    সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেন—অসৎভাবে ‘নরমাল’ সার্টিফিকেট প্রদানের কারণ অনুসন্ধান করে হাসপাতালের দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে হামলাকারী সমস্ত আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার ও তাদের হামলা থেকে পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি করেন তারা। প্রশাসন, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইজিপির হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানিয়ে তারা এলাকাবাসীর সুরক্ষা নিশ্চিত করে এসব সন্ত্রাসী ও মাদকগোষ্ঠীকে কড়া হাতে দমন করার আহ্বান জানিয়েছেন।