Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • ট্রাম্পের ইউরোপের ৮ দেশের ওপর শুল্ক, গ্রিনল্যান্ডের অগ্রহণে জটিলতা

    প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনায় বাধা দেওয়ায় বৃহৎ ইউরোপীয় দেশের ওপর আরোপ করেছেন শুল্কের ঝড়। ডেনমার্কসহ উত্তর ও পশ্চিম ইউরোপের আটটি দেশকে লক্ষ্য করে তিনি ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। শনিবার ট্রুথ সোশ্যালের এক পোস্টে ট্রাম্প স্পষ্ট বলেছেন, যতক্ষণ না পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সম্পূর্ণ ও নিঃশর্তভাবে গ্রিনল্যান্ড অর্থাৎ এই বহির্গামী দ্বীপটি কিনতে পারছে, ততক্ষণ এই শুল্ক কার্যকর থাকবে। এই তালিকায় রয়েছে ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস এবং ফিনল্যান্ড। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এই সব দেশের পণ্য আমদানি করলে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে যুক্তরাষ্ট্রে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, পরিস্থিতি যদি উন্নতি না ঘটে, তাহলে ১ জুন থেকে এই শুল্কের হার বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে। ট্রাম্পের মতে, গ্রিনল্যান্ড দখল করা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। তিনি বলেন, ‘এই দেশগুলো অত্যন্ত বিপজ্জনক খেলা খেলছে, যা সহ্য করা যায় না। বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের এই দ্বীপের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া প্রয়োজন।’ তবে এই পদক্ষেপকে ইউরোপীয় দেশগুলো ‘অর্থনৈতিক ব্ল্যাকমেল’ হিসেবে দেখছে। ডেনমার্ক ইতিমধ্যে স্পষ্ট করে দিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড বিক্রি невозможно। এর পাশাপাশি, ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যসহ সাতটি দেশ তাদের নিজ নিজ প্রতিনিধিরা ও সৈন্য পাঠিয়ে ডেনমার্কের সার্বভৌমত্বের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। ন্যাটো মিত্রেরাও এই শুল্কে বিরোধিতা জানিয়েছে। এর ফলে সাধারণত আমদানি শুল্কের অর্থ দেশটির রপ্তানিকারক বা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারকে প্রদান করে। এর ফলে মার্কিন বাজারে ইউরোপীয় ব্র্যান্ড যেমন ভলভো, বিএমডব্লিউ বা এয়ারবাসের পণ্যের দাম দ্রুত বাড়তে পারে। এর বিপরীতে, ইউরোপীয় ইউনিয়নও মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করতে পারে, যা শুরু করবে বড়ো ধরনের বাণিজ্য যুদ্ধের আশঙ্কা। সূত্র: এপি, বিবিসি

  • খামেনি: বিক্ষোভের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল জড়িত

    ইরানজুড়ে একাধিক সপ্তাহ ধরে চলা ব্যাপক বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সরাসরি দায়ী করেছেন দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। শনিবার ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেন, এই সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ষড়যন্ত্র কাজ করছে। তার মতে, এই ষড়যন্ত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ব্যক্তিগতভাবে জড়িত ছিলেন। খামেনি আরও বলেছেন, বিদেশি শক্তিগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু পক্ষ দেশব্যাপী ব্যাপক রক্তপাত ও ধ্বংসযজ্ঞের জন্য দায়ী। তিনি উল্লেখ করেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত নানা শক্তি এই হামলা ও হত্যাকাণ্ড চালিয়ে হাজারো জীবন নষ্ট করেছে। দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই বিক্ষোভে বিদেশি শক্তিগুলোর অংশগ্রহণ স্পষ্ট, যা দেশজুড়ে অস্থিরতা তৈরি করেছে। তেহরান দাবি করেছে, দীর্ঘ দিন ধরে এই অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি ও উসকে দেয়ার জন্য বিদেশি শক্তিরা দায়ী। বিশেষ করে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই বিক্ষোভে হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি আরও গুরুতর করে তুলছে। খামেনি সতর্ক করে বলেছেন, এই সংঘাত দেশের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে না, তবে যারা এই পরিকল্পনায় যুক্ত তারা এর ফল থেকে নিস্তার পাবেন না। তিনি বলেন, “আমরা দেশের জন্য যুদ্ধ চাই না, কিন্তু দেশের অভ্যন্তরীণ কিংবা আন্তর্জাতিক অপরাধীদের জন্য শাস্তি নিশ্চিত করবো।” একই সঙ্গে, শনিবার এক ধর্মীয় উৎসবে নিজের সমর্থকদের উদ্দেশ্যে ভাষণে তিনি বলেন, “আমরা ইরানি জাতির বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ, ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের জন্য দায়ী, তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকেই দোষারোপ করছি।” খামেনি আরও বলেন, এটি মার্কিন ষড়যন্ত্র, যার মূল লক্ষ্য হচ্ছে ইরানকে আবারও মার্কিন সামরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আধিপত্যের নখদ Teethে আনা। সূত্র: এএফপি।

  • শুভেন্দুর বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা

    পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি রুপির মানহানির মামলা দায়ের করেছেন রাজ্যের বিরোধীদল নেতা ও বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। এই মামলার কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন, কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও শুভেন্দু নিজেই কয়লা কেলেঙ্কারিতে জড়িত বলে মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মমতা এই গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের আলিপুর আদালতে শুভেন্দু এই মানহানির মামলা করেন। নিজের এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

    শুভেন্দু পোস্টের মাধ্যমে বলেন, ‘শ্রীমতী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি, আর আপনি জনগণকে বিভ্রান্ত করে যাচ্ছেন। কয়লা কেলেঙ্কারিতে আমার জড়িত থাকার বিষয়ে আপনার কাল্পনিক অভিযোগের পাশাপাশি মানহানির নোটিশের বিষয়ে আপনার জঘন্য অসম্মতিপূর্ণ নীরবতা আপনাকে এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দেবে না।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি বলেছিলাম, আপনার প্রতারণামূলক অপকর্মের জন্য আপনাকে আদালতে আনব। আজ আমি সেই মামলা দায়ের করেছি। দয়া করে দ্রুত আপনার অভিজ্ঞ আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন, নাহলে আপনাকে অবিলম্বে ১০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, যা আমি দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করব।’

    প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে তৃণমূলের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের অফিস ও কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি তল্লাশি চালানোর প্রতিবাদে ৯ জানুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী মমতা পথে নেমেছিলেন। অভিযোগ করেছিলেন, ভোটের আগে তৃণমূলের রণকৌশল চুরি করার জন্য কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা হানা দিয়েছেন। অন্যদিকে, ইডির দাবি ছিল, ২০২০ সালে পুরনো কয়লা মামলার তদন্তের জন্য তারা আইপ্যাকের অফিসে গিয়েছিলেন। এই বিরোধপূর্ণ বক্তব্যের জন্য এখনও বিতর্ক চলমান।

    তবে, ইডির অভিযানের পরদিন, প্রতিবাদরত জনতার সামনে হাজরা মোড়ে এক জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ‘ইডি বলছে, কয়লা পাচার মামলার তদন্ত করতে এসেছিল। কিন্তু আসল প্রশ্ন, কয়লা চুরির টাকা কে খেয়েছে, কীভাবে খেয়েছে? এই সব টাকা গড্ডালিকা করে যায়। এখন তো এতটাই ঢুকে গেছে যে, সোনা (দত্তক পুত্র) হয়ে গিয়েছে। আরেকজন বড় ডাকাত জগন্নাথ, তিনি বিজেপির এক বড় নেতা। এইভাবে কয়লার টাকা জুটে যায় শুভেন্দু অধিকারীর কাছে, অমিত শাহের কাছে।’ এই বিষয়ে আরও বিশদ বিবরণ এনডিটিভি সূত্রে পাওয়া যায়।

  • ইরান প্রস্তুত স্থায়ী ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতার জন্য

    ইরান একপেশে খবর পাওয়া যাচ্ছে যে, তারা দেশের বৈশ্বিক ইন্টারনেট সংযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা করছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ান সূত্রে জানা গেছে, ইরানের সরকারি কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ২০২৬ সালের পর সীমাহীন ইন্টারনেটের প্রবেশাধিকার পুনরায় চালু করবে না। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এই চলমান যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা ব্যবহারে করে সরকার দীর্ঘমেয়াদি ডিজিটাল বিচ্ছিন্নতা কার্যকর করতে পারে, যা দেশের নাগরিকদের জন্য এক প্রকার প্রযুক্তিগত একান্ততা সৃষ্টি করবে।

    ইন্টারনেট স্বাধীনতা সংস্থা ফিল্টারওয়াচের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান সাধারণ সেন্সরশিপ ব্যবস্থা ছাড়াও একটি সম্পূর্ণ পৃথক জাতীয় সিল করা ইনট্রানেট চালু করতে চাইছে। এই ব্যবস্থা অনুযায়ী, শুধুমাত্র সরকারি অনুমোদন বা সুরক্ষা যাচাই প্রাপ্ত ব্যক্তিরাই এই স্বল্প পর্যায়ের নেটওয়ার্কে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। সর্বসাধারণের জন্য থাকবে শুধুমাত্র সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন, বাইরের দুনীর সঙ্গে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন এক ভার্চুয়াল নেটওয়ার্ক, যেখানে নাগরিকরা সীমিত কার্যকলাপ করতে পারবেন।

    সম্প্রতি মাসব্যাপী দেশব্যাপী বিক্ষোভ দমন করতে ইরান দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। ফোন, ইন্টারনেট সেবা প্রায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ইরানের শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বিক্ষোভের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেন, যারা তিনি বলছেন সহিংসতা ছড়াচ্ছে এবং প্রতিবাদকারীদের সহায়তা দিচ্ছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই প্রতিবাদকদের সমর্থন প্রকাশ করেছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তোলে।

    মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এই যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা মূলত বিক্ষোভ দমন কার্যক্রমের আড়ালে প্রকৃত সত্যটিকে গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ঢাকাধীচ্ছে। মার্কিন ভিত্তিক সংস্থা এইচআরএনএর তথ্যে জানানো হয়েছে, এ পর্যন্ত তিন হাজারের বেশি মানুষ হতাহত হয়েছেন, মূলত প্রতিবাদকারীরাই। তবে দেশ ত্যাগ করা ইরানিরা বলছেন, হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে।

  • ইরাকের আইন আল-আসাদ বিমানঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনারা প্রত্যাহার সম্পন্ন

    ইরাকের গুরুত্বপূর্ণ আইন আল-আসাদ বিমানঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনারা সম্পূর্ণভাবে সরে গেছে। এই ঘাঁটিতে মার্কিন সেনার পাশাপাশি অন্য বেশ কয়েকটি দেশের সেনাও ছিল। তবে মার্কিন সেনারা চলে যাওয়ার পরে এই ঘাঁটির পুরো নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর করা হয়েছে ইরাকের সেনাবাহিনীর কাছে।

    দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শনিবার (১৭ জানুয়ারি) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    প্রায় তিন বছর আগে, ২০২০ সালে, ইরাকের রাজধানী বাগদাদে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের চৌকস ইউনিট কুদস ফোর্সের প্রধান কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার পর থেকেই উত্তেজনা বেড়ে যায়। এর প্রতিশোধে ইরান এই ঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, যার ফলে ঘাঁটিটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই হামলার তীব্রতা এত বেশি ছিল যে সেখানে থাকা মার্কিন সেনারা মানসিকভাবে কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়।

    অবশেষে ২০২৪ সালের মধ্যে ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এক চুক্তির মাধ্যমে মার্কিন সেনাদের প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়। এর অংশ হিসেবে, তারা ধীরে ধীরে সরে যায়। ইরাকি সেনাবাহিনীর একজন কর্নেল এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, তবে তিনি জানিয়েছেন যে এখানকার পরিস্থিতি অনুসারে কিছু অল্প সংখ্যক সেনা এখনো অবস্থান করছে। তারা মূলত লজিস্টিক কাজের জন্য রয়েছেন এবং কাজ শেষ হলে তাঁরা भी চলে যাবেন। তিনি নিরাপত্তার কারণে বিস্তারিত কিছু জানাননি।

    প্রত্যাহারের 정확 সময় নিশ্চিত না হলেও শোনা যাচ্ছে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই সেনারা পুরোপুরি ফিরে যাবে এবং ২০২৬ সালের মধ্যে পুরো ঘাঁটি খালি করে দেওয়া হবে।

    এই ঘটনার মাধ্যমে ইরাকের গুরুত্বপূর্ণ এই বিমানঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে দেশের হাতে আসে।

  • সাতক্ষীরা-৩ আসনে মনোনীত প্রার্থীদের সম্পদের বিশ্লেষণ ও নির্বাচনী পরিস্থিতি

    সাতক্ষীরা-৩ আসনে মনোনীত প্রার্থীদের সম্পদের বিশ্লেষণ ও নির্বাচনী পরিস্থিতি

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালিগঞ্জ) আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা সামনের দিকে এগিয়ে আছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কাজী আলাউদ্দীন, জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী হাফেজ মুহাঃ রবিউল বাশার এবং বিএনপি থেকে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ডাঃ মো. শহিদুল আলম। নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় তারা নিজেদের হলফনামা জমা দেন, যেখানে তাদের অর্থ-সম্পদ ও আয়ের বিশদ বর্ণনা রয়েছে।

    বিস্তারিত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কাজী আলাউদ্দীনের ব্যক্তিগত স্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ অর্থের পরিমাণ মাত্র ৩ লাখ টাকা এবং ব্যাংকে ২০ হাজার টাকা জমা রয়েছে। তিনি ১০ তোলা স্বর্ণের মালিক হলেও কোনও স্থাবর সম্পদ নেই। তার মাসিক আয় ব্যবসা থেকে ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা। পারিবারিক সম্পদের ক্ষেত্রে তার স্ত্রী মিসেস ফাতিমা বেগমের নামে ব্যাংকে ২ লাখ টাকা, ১০ তোলা ওজনের স্বর্ণালংকার ও এক লাখ ২০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক পণ্য রয়েছে। স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদের বাজার মূল্য বর্তমানে প্রায় ২০ লাখ ২০ হাজার টাকা। তিনি আরও জানান তার তিন ছেলের নামেও রয়েছে বিভিন্ন স্থাবর সম্পদ, যার মধ্যে রয়েছে চারটি ফ্ল্যাট, দুইটি কৃষি জমি ও বিভিন্ন অপ্রতিভ ভূখণ্ডের মালিক।

    অন্যদিকে, জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী হাফেজ মুহাঃ রবিউল বাশারের বার্ষিক আয় ৬ লাখ ১ হাজার ৫১২ টাকা। এর মধ্যে কৃষি খাতে ৮৬ হাজার ৪শ’, ব্যাংকের লভ্যাংশ ৫১ হাজার ৬২৬ টাকা এবং মাদ্রাসায় চাকরির বেতনের মাধ্যমে তিনি মোট আয় করেন ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৪৮৬ টাকা। তার অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদি অর্থ আছে ১৩ লাখ ৭১ হাজার ৩৩০ টাকা, ব্যাংক জমা ৫ লাখ ৮৯ হাজার ৬৩ টাকা এবং একটিমাত্র গড়ি রয়েছে। স্থাবর সম্পদ হিসেবে তার কাছে রয়েছে ৩ একর কৃষি জমি ও ২০ বিঘার অংশে যৌথ মালিকানাধীন জমি। বিগত সরকারের সময় তার নামে বেশ কিছু মামলা দায়ের হয়েছিল, যার মধ্যে দুটি মামলা বর্তমানে চলমান আছে।

    বিপরীতে, বিএনপি থেকে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. মোঃ শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, তাদের মোট সম্পদ রয়েছে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর মধ্যে অস্থাবর সম্পদ ১ কোটি ৫০ লাখ, এবং স্থাবর সম্পদ প্রস্তুত প্রায় এক কোটি টাকা। তার নগদ অর্থের পরিমাণ ৩৫ হাজার ১১৮ টাকা। ব্যাংকে জমা আছে ৩৮ লাখ ৭০ হাজার ৮৭ টাকা, কোম্পানির শেয়ার ২৫ লাখ ৯৪ হাজার ৫৪ টাকার, এবং একটি ২৬ লাখ টাকা মূল্যের গাড়ি। স্থাবর সম্পদ হিসেবে পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত ১৩৪.৫২ শতক কৃষি জমি, বসত বাড়িসহ আরও কিছু অপ্রতিবর্তনীয় সম্পদ রয়েছে।

    তিনি আরও জানান, তার বার্ষিক আয় ৩৫ লাখ ৫ হাজার ৮৩১ টাকা। এর মধ্যে কৃষি খামার থেকে আয় এক লাখ ৫০ হাজার টাকা, শেয়ার কেনা-বেচা থেকে ৪ লাখ ৪ হাজার quadrিশ ষসে, চিকিৎসা পেশা থেকে ১৩ লাখ ৫৭ হাজার ১৬৭ টাকা, জমি ক্রয় বিক্রয় থেকে ১৫ লাখ ৭৪ হাজার ৯৩ টাকা এবং ব্যাংকের সুদ থেকে ২০ হাজার ৭৫ টাকা আয় করেন। তাঁর স্ত্রীর নামে আছে আরও বিশাল সম্পদের হিসাব—১৭ লাখ ৪৪ হাজার ৬১৬ টাকার আয়ের পাশাপাশি তার পৈত্রিক সূত্র, দানপত্র, নানা অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদ রয়েছে totaling প্রায় ৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

    প্রসঙ্গত, সাতক্ষীরা-৩ আসনে বর্তমানে মোট নয়জন প্রার্থী মনোনয়ন পেয়েছেন। তবে, জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা চারজনের মনোনয়ন বাতিল করেন এবং কিছু প্রার্থী আপিলের মাধ্যমে প্রার্থীতা ফেরত পান। এই আসনে বর্তমানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি থেকে কাজী আলাউদ্দীন, জামায়াত থেকে হাফেজ মুহাঃ রবিউল বাশার, জাতীয় পার্টি থেকে মোঃ আলিফ হোসেন, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি) থেকে রুবেল হোসেন, এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. মোঃ শহিদুল আলম।

  • বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার একজন রোল মডেল

    বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার একজন রোল মডেল

    সাহসী নেতৃত্ব, দেশপ্রেম এবং আত্মত্যাগের জন্য বেগম খালেদা জিয়া দেশের মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি দেশের গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় অসাধারণ অবদান রেখেছেন। খুলনা-২ আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, দীর্ঘ কারাবাস এবং রাজনৈতিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও কখনো তিনি প্রতিহিংসামূলক মনোভাব প্রকাশ করেননি। বরং স্বাধীন সাংবাদিকতা, নীতিনিষ্ঠা, রুচিশীল নেতৃত্ব ও উদারদৃষ্টিভঙ্গির জন্য তিনি দেশের রাজনীতিতে অনুকরণীয় নেত্রী। তাঁর অসামান্য অবদান চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
    গতকাল শনিবার সকাল ১১টায় খুলনা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত ভুক্তভোগী ও সামাজিক নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে ‘খুলনাবাসীর প্রত্যাশা’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। এরপর দুপুর ১২টায় বড় বাজারে কাঁচা ও পাকা মাল আড়ৎ সমিতির উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আলোচনা সভা ও রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন হয়, যেখানে প্রধান অতিথির ভাষণে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, খালেদা জিয়া একজন সৎ, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, আত্মত্যাগী ও দেশপ্রেমিক নেত্রী। তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দারুণ অবদান রেখেছেন। এই অবদানগুলো দেশের ইতিহাসে চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
    উপস্থিত ছিলেন সৈয়দা নার্গিস আলী, জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, কাজী মোঃ রাশেদ, অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, শেখ আব্দুর রশিদ, মহিবুজ্জামান কচি, আনোয়ার হোসেন, শের আলম সান্তু, ইউসুফ হারুন মজনু, একরামুল হক হেলাল, নিয়াজ আহমেদ তুহিন, মজিবর রহমান ফয়েজ, শামসুজ্জামান চঞ্চল, শেখ জামিরুল ইসলামের জামিল, শমসের আলী মিন্টু, ইশহাক তালুকদার, আব্দুল মতিন, মেশকাত আলী, মহিউদ্দিন টারজান, জি এম রফিকুল হাসান, এডভোকেট হালিমা খাতুন, আফসার উদ্দিন মাস্টার, মাজেদা খাতুন, আমিন উদ্দিন, ইকবাল হোসেন, শহীদ খান, শামীম খান ও অন্যান্য স্বনামধন্য নেতৃবৃন্দ।
    নজরুল ইসলাম মঞ্জু আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একজন আদর্শ নেতা, যিনি মানুষের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। তাঁর সাহসী নেতৃত্ব, দৃঢ় বিশ্বাস ও স্বাধীনতা-প্রেমের জন্য তিনি দেশের মানুষের কাছে গভীর শ্রদ্ধা এবং ভক্তি পেয়েছেন। মানুষ তাঁর জানাজায় স্বাভাবিকভাবে চোখের জল ঝরিয়েছেন, কারণ তিনি ছিলেন দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের নেত্রী।
    প্রয়াত এই নেত্রীর স্মরণে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের পক্ষ থেকে দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন হয়, যেখানে বিভিন্ন অতিথি ও নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা সবাই একমত প্রকাশ করেন, বেগম খালেদা জিয়ার জীবনসংগ্রাম ও আদর্শ আমাদের জন্য বিশাল উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যা সবসময় আমাদের অনুপ্রেরণা হিসেবে থাকবে।

  • খুলনায় আধুনিক শিল্প নগরী প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা: ইপিজেডের আদলে উন্নয়ন

    খুলনায় আধুনিক শিল্প নগরী প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা: ইপিজেডের আদলে উন্নয়ন

    খুলনার শিল্প অঞ্চল খ্যাত খালিশপুর ও দৌলতপুর এলাকার প্রাচীন গৌরব ফিরিয়ে আনার জন্য কেন্দ্রীয় বিএনপি ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের ধান শীষের প্রার্থী আলহাজ্ব রকিবুল ইসলাম বকুল এক ব্যাপক পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক অবস্থা উন্নত করতে, বেকারত্ব কমাতে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে তিনি একটি আধুনিক শিল্প নগরী গড়ার পরিকল্পনা করছেন, যা মূলত ইপিজেডের মতোই হবে। এটি খুলনার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলেও তিনি ঘোষণা দেন।

    শনিবার বিকেলে দৌলতপুরের ৩নং ওয়ার্ডের মধ্যডাঙ্গাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সাবেক চেয়ারপারসন, প্রধানমন্ত্রী ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অবিসংবাদী নেতা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলহাজ্ব রকিবুল ইসলাম বকুল। তিনি বলেন, খুলনার মূল সমস্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো বেকারত্ব ও কর্মসংস্থান। এ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে হলে পরিকল্পিত ও আধুনিক শিল্পায়নের কোনো বিকল্প নেই। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, এই অঞ্চলের বিশাল ব্যবসায়িক ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই শিল্পকলকারখানাগুলো।

    রকিবুল ইসলাম বকুল আরও বলেন, এই অচলাবস্থা পরির্বতনের জন্য বন্ধ কলকারখানাগুলো—বিশেষ করে জুট মিলসহ অন্যান্য কারখানা—পুনরায় চালু করতে হবে। প্রযুক্তির আধুনিকীকরণের মধ্য দিয়ে এগুলোর লাভজনক অবস্থায় ফেরানো সম্ভব। তিনি বলেন, খুলনার ভৌগোলিক অবস্থান ও মোংলা বন্দর ব্যবহারে বড় আকারের নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা যায়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা খুলনায় আগ্রহী হয়ে উঠবেন, যা পুরো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক মানচিত্রকে বদলে দিতে পারে।

    বকুলের উদ্দেশ্য হলো, ছোট-বড় সব শিল্পকারখানা পুনরুজ্জীবিত করে হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এবং স্থানীয় যুব সমাজের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। এর মাধ্যমে খুলনার সম্পদসমৃদ্ধ ও শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে তিনি কাজ করছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় মানুষের মাঝে নতুন আলো ও আশার সঞ্চার এই পরিকল্পনাকে আরও প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে।

    দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মোঃ শেখ আকরাম হোসেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ শেখ সাদী, সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক মোঃ চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন, দৌলতপুর থানা ও ওয়ার্ড বিএনপিসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

    এছাড়াও শনিবার দুপুরে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দৌলতপুরের ১ ও ৩নং ওয়ার্ডের মাঝখানে গোলকধামের মোড়ে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন আলহাজ্ব রকিবুল ইসলাম বকুল। শেষমেষ এক বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে দেশ ও জাতির শান্তি ও কল্যাণ কামনা করা হয়, যেখানে বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

  • জাতিসংঘ সনদের ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে খুলনার সাকিবের শান্তি আলোচনা

    জাতিসংঘ সনদের ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে খুলনার সাকিবের শান্তি আলোচনা

    নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হয় এক গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংলাপ, যার শিরোনাম ছিল “The UN Charter at 80: Reimagining Conflict Prevention and Resolution”। এই উচ্চ পর্যায়ের আলোচনায় বাংলাদেশের তরুণ সংগঠক ও আপস যুব সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব করেন সাকিব। বিশ্বব্যাপী কূটনীতিক, নীতিনির্ধারক ও শান্তি বিশেষজ্ঞরা একত্রিত হয়ে এই সভায় সংঘাত প্রতিরোধ এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানে নতুন কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন। বাংলাদেশের তরুণ সমাজের হয়ে সাকিব তাঁর বক্তব্যে গুরুত্ব আরোপ করেন বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে শান্তি স্থাপনে তরুণদের সম্পৃক্ততা আরও বাড়ানোর ওপর। তিনি বলেন, আপস যুব সংগঠন থেকে বৈশ্বিক শান্তি, সহনশীলতা ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতার উপর জোর দিয়ে, তরুণ নেতৃত্বই ভবিষ্যতে শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তুলতে সক্ষম। এই আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে এবং তরুণ নেতৃত্বের ক্ষমতা বিশ্বদরবারে তুলে ধরেছে, যা ভবিষ্যতের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ দিক।

  • খুলনায় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের সাথে নাগরিক সংলাপে খুলনার নানা সমস্যা উঠে আসে

    খুলনায় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের সাথে নাগরিক সংলাপে খুলনার নানা সমস্যা উঠে আসে

    খুলনায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত নাগরিক সংলাপে খুলনার বিভিন্ন সমস্যা ও চাহিদা স্পষ্টতরভাবে উঠে এসেছে। নির্বাচনী উৎসবের মধ্যে কিছু প্রার্থী নিজের ভোটারদের সঙ্গে মিলিত হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরখ করেছেন এবং খুলনার উন্নয়নের জন্য তাদের পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছেন। এই সংলাপের মূল লক্ষ্য ছিল, শহরের নাগরিকদের নানা সমস্যার পরিস্কার পরিচ্ছন্ন চিত্র তুলে ধরা এবং সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের পাশে এগিয়ে আসা।

    সংলাপে অংশ নেওয়া প্রার্থীরা যেমন বলছেন খুলনা শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত হলেও বর্তমানে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জে জর্জরিত। বিশেষ করে খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলসহ বিভিন্ন শিল্প কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া, মালামাল লুটপাটের সঙ্গে জড়িত দুর্বৃত্তবাহিনী, এবং बढ़তে থাকা হত্যাকাণ্ডের সংখ্যায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিগত কয়েক মাসে খুলনায় অন্তত অর্ধশত খুনের ঘটনা ঘটেছে, যা এলাকার শান্তি ও নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় বিশেষ পরিকল্পনা ও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের জন্য বক্তারা জোর দিয়ে বলেন।

    খুলনা-২ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘খুলনা এখন অন্ধকারাচ্ছন্ন নগরী। মাদক ও হত্যার ঘটনা দিন দিন বাড়ছে।’ তিনি আরও জানান, বিএনপি শিগগিরই খুলনাবাসীর জন্য উন্নয়নমূলক নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। অন্যদিকে, খুলনা-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী আমীর এজাজ খাঁন বলেন, ‘খুলনাকে শিল্প ও সংস্কৃতির কেন্দ্রশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হলে উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই বাঁধ ও ব্রিজ নির্মাণ জরুরি।’

    জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক এড. জাহাঙ্গীর হোসাইন হেলাল বলেন, ‘খুলনা পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজন সব ধরনের উদ্যোগ।’ অন্যদিকে, খুলনা-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান কল্যাণ ও উন্নয়নের জন্য নাগরিকদের সাথে সমন্বয় চান। তাঁর বক্তব্য, খুলনা অঞ্চলের সাবেক শিল্পগুন্জে—খালিশপুরের অবস্থা এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। কলকারখানাগুলোর মালামাল লুটপাটের জন্য বহু মানুষ বেকার হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা এখন গুরুতর সমস্যার মুখে। হত্যাকাণ্ডের বেশিরভাগই মাদকের কারণে।’

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নেতা ও সাংবাদিকগণ। বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় খুলনাকে আবারো তার পুরনো গৌরবময় অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব। সংলাপের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশা ও দৃষ্টি থেকেই উঠে আসে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে এবং উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে। আসন্ন নির্বাচনে এইসব দাবি ও চিন্তাভাবনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেন অংশগ্রহণকারীরা।