Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • দুদক অনুমোদন: প্রিমিয়ার ব্যাংকের ইকবাল ও সালাম মুর্শেদীসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে ১১টি মামলা

    দুদক অনুমোদন: প্রিমিয়ার ব্যাংকের ইকবাল ও সালাম মুর্শেদীসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে ১১টি মামলা

    দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বুধবার (২৮ জানুয়ারি) প্রিমিয়ার ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান হেফজুল বারী মোহাম্মদ ইকবাল (এইচ বি এম ইকবাল) ও ব্যাংকের সাবেক পরিচালক ও সাবেক সংসদ সদস্য আবদুস সালাম মুর্শেদীসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে ১১টি মামলার অনুমোদন দিয়েছে। মামলাগুলোতে প্রিমিয়ার ব্যাংকের বিজ্ঞাপনের নামে মোট ১৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

    দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন জানিয়েছেন, অনুমোদিত মামলাগুলো শিগগিরই আদালতে দাখিল করা হবে। তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেছে যে অভিযুক্তরা বিজ্ঞাপনী ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান মাইন্ডট্রি লিমিটেডের সঙ্গে যোগসাজশ করে ২০২১-২০২২ সালে বিজ্ঞাপন প্রচারের নামে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।

    তদন্তে দেখা গেছে, প্রিমিয়ার ব্যাংক বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য মাইন্ডট্রি লিমিটেডকে ১১টি কার্যাদেশে মোট ১৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা প্রদান করে। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিটি চ্যানেলে ১০০ মিনিট করে বিজ্ঞাপন প্রচার করার কথা থাকলেও টেলিভিশনগুলোর ট্রান্সমিশন সার্টিফিকেটে বাস্তবে প্রতিটি চ্যানেলে মাত্র ৫০ মিনিট করে বিজ্ঞাপন প্রচার দেখানো হয়েছে।

    আরও খতিয়ে দেখা গেলে পাওয়া গেছে, উল্লিখিত ১১টি কার্যাদেশের বিপরীতে মাইন্ডট্রি লিমিটেডকে আসলে ৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি ১৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা আত্মসাত হওয়া হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

    দুদকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০১১ সালের ৪ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত সময়ে এইচ বি এম ইকবালের নির্দেশে মাইন্ডট্রি লিমিটেডকে বিজ্ঞাপন প্রচারের নামে অগ্রিম হিসেবে মোট ৪৩৮ কোটি ৭১ লাখ ২৮ হাজার ৪৪৪ টাকা নেওয়ার হিসেব পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২০১১ সালের আগস্ট থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৪২ কোটি ২৯ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪৪ টাকা সমন্বয় দেখানো হলেও ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত ৯৬ কোটি ৪১ লাখ ৪১ হাজার টাকা এখনো অসমন্বিত রয়েছে।

    এই ঘটনার প্রেক্ষিতে দুদক সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারায়, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে।

  • নির্বাচনে নেই যারা, তাদেরকেই গণ্ডগোলের কথা বলছে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

    নির্বাচনে নেই যারা, তাদেরকেই গণ্ডগোলের কথা বলছে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

    পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, এখনও দেশে কোনো গণ্ডগোল বা বিশৃঙ্খলা দেখা যাচ্ছে না এবং এই ধরনের কথা যারা বলছে, তারা মূলত আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না এমন দলগুলোই।

    বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য নির্বাচনী পরিবেশ শৃঙ্খলাবদ্ধ রাখা এবং রাজনৈতিক দলগুলো আপাতত সংযত আচরণ করছে। তবুও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো সহিংসতা ঘটলে তার দায়ভার মূলত ভোটে না থাকা দলগুলোকেই নিতে হবে।

    নির্বাচনী পর্যবেক্ষক ও সংবাদিকদের বিষয়ে তিনি জানান, সরকার চাইবে যত বেশি সম্ভব পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক আসুক, তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিজের উদ্যোগে কোনো অতিরিক্ত ব্যবস্থা করে অগ্রগতি জনাবে না। ভারত থেকে কেউ ভোট পর্যবেক্ষণের জন্য আসতে চাইলে তাদের ভিসা দেওয়ার ওপর সরকার সহায়তা করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    ভারতীয় কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের দেশে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, এটি তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তও হতে পারে। এতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই, তবে এর পেছনে কোনো বিশেষ রাজনৈতিক সংকেত রয়েছে কি না সেটি তিনি নিশ্চিত করে বলেননি।

    দেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি জানান, এখনও তেমন কোনো বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটেনি এবং এ বিষয়ে ভারত সরকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আনুষ্ঠানিক কোনো নোটিশও দেয়নি। যখনই নিরাপত্তার অনুরোধ এসেছে, তা পূরণে চেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

    রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা মূলত মিয়ানমারের রাজ্য রাখাইনের বাসিন্দা। কিছু রোহিঙ্গা বাংলাদেশী পাসপোর্ট নিয়ে সৌদি আরবে গেছেন; তবে পাসপোর্ট বা অন্যান্য ছোটখাটো প্রশাসনিক জটিলতা থাকলেই প্রত্যাবাসন আটকে থাকবে—এমনটা হবে না বলে তিনি আশ্বাস দেন।

    চীনের সহায়তায় ড্রোন কারখানা স্থাপনের বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ প্রয়োজন অনুযায়ী যে কোনো দেশের সাহায্য নিতে পারে এবং এ বিষয়কে কেউ যদি নিন্দা করে তাতেই আমরা বিরক্ত থাকব না। একই সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশ নিজস্ব স্বার্থ বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেবে।

    মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেখা করতে ব্যস্ততার কারণে তিনি যেতে পারেননি বলেও জানান তৌহিদ। পাশাপাশি তিনি নিশ্চিত করেন, ওসমান হাদির ভাই ওমর হাদির যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে দ্বিতীয় সচিব হিসেবে নিয়োগ বহাল থাকবে।

  • বিএনপি এতই খারাপ হলে ওই দুই মন্ত্রী কেন পদত্যাগ করেননি: তারেক রহমান

    বিএনপি এতই খারাপ হলে ওই দুই মন্ত্রী কেন পদত্যাগ করেননি: তারেক রহমান

    বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান বলেছেন, যারা এখন বিএনপিকে দুর্নীতির অভিযোগে আক্রমণ করছে তারা নিজেরাই মিথ্যা বলছে—কারণ ২০০১-২০০৬ সালেও তাদেরই দুইজন মন্ত্রী তখন বিএনপি সরকারের অংশ ছিলেন। যদি বিএনপি এতই দুর্বল ও দুর্নীতিগ্রস্ত হতো, তবে ওই দুই মন্ত্রী কেন তখন পদত্যাগ করে চলে আসেননি? তিনি এ প্রশ্ন তুলেছেন।

    মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহ জেলা সার্কিট হাউস মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় এসব কথা বলেন তারেক রহমান। বেলা ৪টা ০৩ মিনিটে স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানের সঙ্গে মঞ্চে ওঠেন তিনি। বক্তব্য শুরু করার আগে ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি সংসদীয় আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের মঞ্চে দাঁড় করিয়ে পরিচয় করিয়ে দেন। ৪টা ২৬ মিনিটে উপস্থিত জনতাকে সালাম করে বক্তব্য শুরু করেন এবং ৪টা ৫২ মিনিটে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চেয়ে বক্তব্য শেষ করেন। সভার শেষে তার গাড়িবহর গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা হয়।

    তারেক রহমান বলেন, তারা (বহির্গামী বলছে) বিএনপি দুর্নীতির চ্যাম্পিয়ন ছিল—তবে ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়া সরকার ক্ষমতায় যাওয়ার পর দেশ দুর্নীতির করাল শাসন থেকে মুক্ত হতে শুরু করে। ওই সময় যে দুই মন্ত্রী ছিলেন, তারা কেন পদত্যাগ করেননি—এই প্রশ্নের মধ্যে সার্বিকতা বোঝানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ওই দুই মন্ত্রী জানতেন যে বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হস্তে ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন, তাই তারা তখনই বিএনপির সাথে থাকতে চাননি না।

    অনুষ্ঠানে তিনি অভিযুক্ত দলের বৈরিতার উল্লেখ করে বলেন, আন্তর্জাতিক নানা পরিসংখ্যানও প্রমাণ করে যে আগের স্বৈরাচারি শাসনামলে দেশের দুর্নীতির মাত্রা ছিল খুব বেশি। সেই প্রেক্ষাপটে ২০০১ থেকে বদলে যাওয়া পরিস্থিতির কথা তিনি সামনে তুলেছেন।

    নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান ভোটের দিন কার্যকর পদক্ষেপের নির্দেশ দেন—তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ার পর সকলে কেন্দ্রে গিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করে, তারপর লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শুধু ভোট দিয়ে চলে আসলেই হবে না; ভোট পড়া ও ফল রক্ষা নিশ্চিত করতে হবে যেন কেউ ভোট লুট করতে না পারে।

    আগামী ১২ তারিখ ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ভোটের পর খাল খনন কর্মসূচিতে আবার সবাইকে দেখতে চান—সেদিন সবাই কোদাল নিয়ে আসবেন এবং তিনি নিজেও সেখানে থাকবেন।

    সভায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা উল্লসিত স্লোগান দিতে থাকেন—‘তারেক রহমানের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’ ও ‘আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান’—এসময় তাকে লাল গোলাপ দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। মঞ্চে উঠে স্থানীয় নেতারা ময়মনসিংহের তারাকান্দা পৌরসভায় রূপান্তরের দাবি তুলেন।

    তারেক রহমান মঞ্চে ওঠার আগে ধানের শীষ প্রতীকের ২৪ জন প্রার্থী বক্তব্য রাখেন। বক্তাদের মধ্যে ছিলেন ইকবাল হোসেন, সুলতানা আহমেদ বাবু, মোতায়ের হোসেন বাবু, মাহমুদুল হক, ফরিদুল কবির তালুকদার, সিরাজুল হক, মাহবুব রহমান লিটন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু ও লতফুরজ্জামান বাবর। প্রার্থীরা নিজেদের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব ছিল তা ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান এবং স্লোগান দেন—‘নৌকা গেছে ভারতে, ধানের শীষ গদিতে’।

    লতফুরজ্জামান বাবর সভায় বলেন, আমরা ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি আসন তারেক রহমানকে উপহার দিতে চাই এবং ভবিষ্যতে তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই।

  • নারীদের সম্মান না করলে পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকতে বললেন জামায়াত আমির

    নারীদের সম্মান না করলে পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকতে বললেন জামায়াত আমির

    জামায়াতে ইসলামীর আমির ডাঃ শফিকুর রহমান সারাদেশে কর্মরত নারীদের বিরুদ্ধে সংঘটিত হামলাকারীদের কঠোর বার্তা দিয়েছেন। বুধবার বিকেলে রাজধানীর মিরপুর মনিপুর স্কুল মাঠে ঢাকা-১৫ আসনের এক বিশাল মহিলা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি বলেন, যারা মায়েদের গায়ে হাত বাড়িয়েছো, তারা তওবা করে ক্ষমা চাইতে পারে; তবে বলেন, ‘‘আমাদের চেয়ে আমাদের মায়েদের জীবনের মূল্য বেশি। মাকে সম্মান করো, অন্যথায় ভবিষ্যৎ পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকো। মায়েদের প্রতি অবমাননা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।’’

    সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তিনি বলেন, মায়েদের সুবিধার্থে পর্যাপ্ত বাস সার্ভিস চালু করা হবে। এছাড়া ডে কেয়ার ও বেবিকেয়ার সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হবে, যাতে কর্মজীবী মা সন্তান লালন-পালনের পাশাপাশি সম্মানের সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন করতে পারেন। তিনি জানান, এসব উদ্যোগ ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।

    জামায়াত আমির আরও বলেন, মায়েদের জন্য পাঁচ কর্মঘন্টার প্রস্তাবের কারণে কিছু মহল অযথা সমালোচনায় মেতেছে। তবে এই প্রস্তাবটি এমন মায়েদের কথা ভাবেই করা হয়েছে, যারা সন্তান লালন-পালনের জন্য চাকরি ছাড়তে বাধ্য হন। এতে মায়েদের সম্মান ক্ষুন্ন করার কোনো বিষয় নেই—এটাই তার মন্তব্য।

    মায়ের মর্যাদা ও ত্যাগের বিবরণ তুলে তিনি বলেন, একজন মানুষ মায়ের গর্ভে প্রায় ২৮৫ দিন থেকে পৃথিবীতে আসে এবং সন্তানের জীবনের শুরু থেকে বড় হয়ে ওঠা পর্যন্ত মায়ের অবদান অপরিসীম। বর্তমান বাস্তবে শিশুপালনের মূল দায়িত্ব অনেক ক্ষেত্রেই মায়ের ওপরই পড়ে; তাই প্রত্যেক পুরুষের উচিত তার স্ত্রী ও মায়ের সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করা।

    ইসলামের ইতিহাস থেকে উদাহরণ টেনে ডাঃ শফিকুর রহমান বলেন, কঠোর সময়েও নারীরা দায়িত্ব পালন করেছে এবং সাহসী নারীরা—যেমন হযরত নুসাইবা (রাঃ) ও হিন্দা (রাঃ)—ইসলামের পক্ষে আত্মত্যাগ করেছেন; তাদের মতো নারীদের ভবিষ্যতে কোনো ভয় দেখিয়ে থামানো যাবে না। তিনি বলেন, নারীদের জন্য পর্যাপ্ত ওয়াশরুমসহ প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।

    আগামী নির্বাচনের প্রসঙ্গে তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, ১২ তারিখের ভোটে দুটি বিষয় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ—দেশের স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষার প্রশ্নে সবাইকে সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যুবতীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাদের হাতে বেকার ভাতা না দিয়ে যথাযথ শিক্ষা ও ভাষাগত দক্ষতা দিয়ে আত্মমর্যাদার সঙ্গে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করা হবে।

    সমাবেশে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে ১২ ফেব্রুয়ারির বিজয় হবে দেশের মানুষের বিজয়, আর দেশের মানুষের বিজয় মানেই ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠার পথে অগ্রযাত্রা।

  • ‘প্রাণ দুধ’ চালু করলো ‘খাঁটি খামারি সম্মাননা ২০২৬’

    ‘প্রাণ দুধ’ চালু করলো ‘খাঁটি খামারি সম্মাননা ২০২৬’

    দেশের দুগ্ধশিল্পে বিশেষ অবদান রাখা খাঁটি খামারিদের সম্মান জানাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে দেশীয় তরল দুধ ব্র্যান্ড ‘প্রাণ দুধ’। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানের এমসিসিআই সম্মেলন কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে ‘প্রাণ দুধ-খাঁটি খামারি সম্মাননা ২০২৬’ ক্যাম্পেইন।

    ক্যাম্পেইনটির প্রধান উদ্দেশ্য হলো দুগ্ধশিল্পের উন্নয়নে নিবেদিতখোলা খামারিদের কঠোর পরিশ্রম ও অবদানকে সমাজের সামনে তুলে ধরা এবং তাদের অনুপ্রেরণামূলক গল্পের মাধ্যমে আরও মানুষকে দুগ্ধচাষে উৎসাহিত করা। উদ্বোধন কালে সম্মাননা স্মারক উন্মোচন করেন প্রাণ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াছ মৃধা।

    সংস্থার জানানো মতে, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশজুড়ে অবস্থিত প্রাণ ডেইরীর ১২৪টি গ্রামীণ দুধ সংগ্রহ কেন্দ্র (VMCC) থেকে স্পট রেজিস্ট্রেশন শুরু হবে। পাবনা, রংপুর, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, সাতক্ষীরা, খুলনা, যশোর, মাগুরা, কুড়িগ্রাম, নাটোরসহ অন্যান্য এলাকায় থাকা প্রাণ ডেইরীর প্রায় ১৬ হাজার তালিকাভুক্ত খামারি রেজিস্ট্রেশন ফরমে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করবেন।

    রেজিস্ট্রেশনের পর দ্বিতীয় ধাপে জমা হওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বিশেষ জুরি বোর্ড গঠন করা হবে। তারা প্রথমে ১০জন ‘খাঁটি খামারি’ বাছাই করবেন। চূড়ান্ত পর্যায়ে জুরিবোর্ডের দেওয়া নম্বর ও ভোক্তাদের ভোটের সমন্বয়ে সেরা তিন খামারিকে নির্বাচিত করা হবে। সেরা তিনজনকে সম্মাননা স্মারক ও প্রতিজনকে এক লাখ টাকার সমমূল্যের পুরস্কার দেওয়া হবে, আর বাছাইকৃত বাকী সাতজনকে দেওয়া হবে বিশেষ সম্মাননা।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইলিয়াছ মৃধা বলেন, “এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে আমরা দুগ্ধশিল্পের উন্নয়নে অবদান রাখা খাঁটি খামারিদের সম্মানিত ও প্রণোদিত করতে চাই। তাদের অনুপ্রেরণামূলক জীবনী তুলে ধরে মানুষকে গাভি পালনে আগ্রহী করা এবং ভোক্তাদের নিরাপদ, মানসম্মত দুধ পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি সুস্পষ্টভাবে জানানোও আমাদের লক্ষ্য।”

    প্রাণ ডেইরীর চিফ অপারেটিং অফিসার মাকসুদুর রহমান বলেন, “দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রাণ দুধ দেশের অসংখ্য খেটে খাওয়া খামারির পাশে দাঁড়িয়েছে। ন্যায্য মূল্য, প্রশিক্ষণ, ভেটেরিনারি সেবা এবং অন্যান্য সহায়তার ফলে অধিকাংশ খামারির জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।”

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাণের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার (মার্কেটিং) মো. আলী হাসান, প্রাণ ডেইরী’র হেড অব মার্কেটিং সৈয়দ মুস্তায়িন কাদের, ব্র্যান্ড ম্যানেজার ফজলে এলাহি নাঈম ও প্রতিষ্ঠানটির উচ্চ পর্যায়ের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

    ক্যাম্পেইনটি আগামী কয়েক মাস ধরে চলবে এবং এটি খামারিদের কষ্ট ও তাদের গল্পকে সামনে এনে দেশের দুগ্ধশিল্পকে আরও টেকসই ও উন্নত করার লক্ষ্যে কাজ করবে।

  • ব্যাংকগুলো খেলাপিদের নাম-ছবি প্রকাশ ও বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চায়

    ব্যাংকগুলো খেলাপিদের নাম-ছবি প্রকাশ ও বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চায়

    ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের তীক্ষ্ণ বৃদ্ধি নিরসনে একজোট প্রস্তাব দিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)। গত ১২ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সঙ্গে আলোচনার পরে সংগঠনটি এইরকম বিস্তারিত পদক্ষেপগুলোর সুপারিশ ব্যাংককে জমা দিয়েছে।

    এবিবির মূল আকাংক্ষাগুলোতে উল্লেখযোগ্য হল: খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের নাম ও ছবি প্রকাশের অনুমতি, তাদের আদালতের নির্দেশ ছাড়া বিদেশে যাত্রা নিষিদ্ধ করা এবং খেলাপিরা যেন কোনো ব্যবসায়িক সংগঠনের নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে—এরকম বিধান করা। এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করলে খেলাপি ঋণের দ্রুত নিষ্পত্তি ও পুনরাবৃত্তি রোধে সহায়তা হবে বলে তারা মনে করছে।

    ঋণখেলাপি কমাতে এবিবির তিনটি প্রস্তাব

    1) আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কিছু খেলাপি ঋণ আংশিকভাবে অবলোপনের সুযোগ দেওয়া হোক।

    2) লিয়েন করা শেয়ার নগদায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সহযোগিতা নিশ্চিত করুক।

    3) মৃত্যু, মারাত্মক অসুস্থতা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত, গৃহ বা ক্রেডিটকার্ড সংক্রান্ত সুদ মওকুফ করে দ্রুত ঋণ আদায় সক্ষম করার জন্য হেড অব আইসিসির মতামত গ্রহণের শর্ত শিথিল করা হোক।

    নগদ আদায়ে প্রস্তাবিত নির্দেশনা

    – খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের ব্যাংক অথবা আদালতের ছাড়া বিদেশে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা।

    – খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের নাম ও ছবি সম্বলিত তালিকা ব্যাংকগুলোকে প্রকাশ করার অনুমতি দেয়া।

    – খেলাপিদের ব্যবসায়িক সমিতির নির্বাচনে অংশগ্রহণ অযোগ্য ঘোষণা করা।

    বন্ধকী সম্পদ বিক্রিতে সাফলতা বাড়াতে প্রস্তাব

    – ব্যাংকের নিলামে বিক্রয় বা কেনা সম্পত্তি হস্তান্তরের সময় প্রযোজ্য সকল আয়কর ও ভ্যাট প্রত্যাহার করা হোক।

    – নিলাম উৎসাহিত করতে নিলাম ক্রেতাদের আয়কর রেয়াত বা অন্যান্য প্রণোদনা দেওয়া হোক।

    – জেলা প্রশাসকের অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তা স্থানভেদে বাতিল করা হোক যাতে নিলাম প্রক্রিয়া দ্রুত হয়।

    – সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলো নিলামে বিক্রিত সম্পত্তির হস্তান্তরে সর্বোচ্চ সহযোগিতা নিশ্চিত করুক।

    – বন্ধকদাতার অনুপস্থিতিতে ব্যাংক কর্তৃক জমির খাজনা ও জরিপ সম্পন্ন করার সুবিধা নিশ্চিত করা হোক।

    – অর্থঋণ আদালতের মাধ্যমে ব্যাংকের নামে মালিকানা হস্তান্তর হলে নামজারি ও বায়নানামা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিনা খরচে সম্পন্ন করার সুবিধা নিশ্চিত করা।

    মামলা বাস্তবায়নে প্রস্তাবিত দফা

    – খেলাপি ঋণগ্রহীতা ও জামানতদাতাদের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে থাকা আমানত, সঞ্চয়পত্র, মালিকানাধীন সম্পদের তথ্য, আয়কর রিটার্ন, ওয়ারিশ সনদ, জন্ম ও মৃত্যু সনদ, পাসপোর্টের তথ্য আদালতের হস্তক্ষেপ ছাড়া দ্রুতগুলো দিতে সক্ষম করার বিধান।

    – ব্যাংক বা আদালতের বিরুদ্ধে আবেদন করলে মামলার সঙ্গে নির্দিষ্ট পরিমাণ ডাউনপেমেন্ট জমা দেওয়ার শর্ত আরোপ করা।

    – সিআইবি প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালত থেকে স্টে-অর্ডার প্রাপ্তির সুবিধা আইনি সীমার মধ্যে সীমিত করা হোক।

    – উচ্চ আদালতের স্টে-অর্ডারে কিস্তিভিত্তিক অর্থপরিশোধ নিশ্চিত করা এবং নির্দেশনা না মানলে সেটিকে বাতিল হিসেবে গণ্য করার বিচারপ্রক্রিয়া নির্ধারণ করা।

    – উচ্চ আদালত থেকে স্টে-অর্ডার প্রদানে উভয় পক্ষের শুনানি নিশ্চিত করার অনুরোধ।

    – যে জেলাগুলোতে খেলাপি ঋণগ্রহীতার সংখ্যাবেশি, সেখানে দ্রুত পৃথক অর্থঋণ আদালত স্থাপনের সুপারিশ।

    – থানায় খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের আটকাদেশ তৎক্ষণাত কার্যকর করা এবং আদালত থেকে থানায় আটকের আদেশ সাত দিনের মধ্যে প্রেরণ নিশ্চিত করা।

    – অর্থঋণ মামলায় ব্যক্তিগত হাজিরা ছাড়া মামলা পরিচালনার সুযোগ সীমিত করা।

    – দেওয়ানি আটকাদেশের স্থায়ীকরণ ছয় মাসের পরিবর্তে ঋণের পরিমাণ অনুযায়ী সর্বোচ্চ সাত বছরে উন্নীত করা।

    – দ্রুত সময়ের মধ্যে অর্থঋণ আইনে প্রস্তাবিত সংশোধন প্রণয়ন।

    খেলাপি ঋণ না বাড়াতে অবকাঠামোগত প্রস্তাব

    – কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে ভূমি জরিপকারী ও মূল্যায়নকারীর তালিকা জরুরি ভিত্তিতে দাবি ও প্রকাশ।

    – নিবন্ধক বা তহবিল অফিসে বন্ধকী সম্পদের তালিকা সহজে যাচাই করার ব্যবস্থা করণীয়।

    – সিআইবি ডেটাবেসের মতো ব্যক্তিগত সম্পদের ডেটাবেস তৈরি করে তা সহজে যাচাইকরণযোগ্য করা।

    চূড়ান্ত চিত্র

    ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ছয় লাখ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের প্রায় ৩৫.৭৩ শতাংশ। মোট ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৮ লাখ ৩ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা। ব্যাংকাররা মনে করেন, উপরে উল্লিখিত প্রস্তাবনাগুলো কার্যকর হলে খেলাপি ঋণের বৃদ্ধির ধারা ঠেকানো ও সুদমুক্তি, বিক্রয় ও আদায় প্রক্রিয়া দ্রুততর করা সম্ভব হবে। নীতি যদি তড়িৎভাবে গ্রহণ না করা হয়, তবে খেলাপিরা সহজ উপায়ে দায় এড়িয়ে পুনরায় ব্যবস্থার ফাঁকফোকরকে কাজে লাগাতে পারে—এমন আশঙ্কা ব্যক্ত করেছে তারা।

  • মোদির উপস্থিতিতে ভারতের সংসদে বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা

    মোদির উপস্থিতিতে ভারতের সংসদে বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা

    ভারতের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনেই সংসদের উভয় কক্ষে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। বুধবার বাজেট অধিবেশনের শুরুতেই রাজ্যসভা ও লোকসভায় শোকপ্রস্তাব পাঠ করে এবং এক মিনিট নীরবতা পালন করে departed নেতাদের স্মরণ করা হয়। এ সময় বাংলাদেশ হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহও সংসদে উপস্থিত ছিলেন।

    রাজ্যসভায় শোকপ্রস্তাব পাঠ করেন চেয়ারম্যান সি পি রাধাকৃষ্ণন; নথি পেশ হওয়ার আগেই তিনি প্রয়াতদের উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সভায় উপস্থিতরা খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নিস্তব্ধতা পালন করেন, এমনটাই জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই। সেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও উপস্থিত ছিলেন এবং রাজ্যসভার অন্য সদস্যরা দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানান।

    লোকসভায়ও শোকপ্রস্তাব পাস করা হয়। পাশাপাশি মহারাষ্ট্র উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারসহ সম্প্রতি প্রয়াত ভারতের পাঁচজন বিশিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকবার্তা পাঠ করেন স্পিকার ওম বিড়লা। স্পিকার বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা—বিশেষ করে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদারে তার অবদান—স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি আরও বলেন, প্রতিবেশী দেশের প্রভাবশালী নেতাদের স্মরণ করা ভারতের সংসদীয় ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে একাধিকবার কাজ করেছেন এবং বহু বছর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক রাজনীতিতেও তার প্রভাব ছিল। তিনি ৩০ ডিসেম্বর ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন; পরদিন জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত জানাজার পরে তাকে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে দাফন করা হয়।

    খালেদা জিয়ার মৃত্যু সংবাদ প্রকাশ পেতেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্স-এ শোক জানান এবং বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (বর্তমানে চেয়ারম্যান) তারেক রহমানকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি দেন। পরবর্তীতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ৩১ ডিসেম্বর ঢাকায় গিয়ে তারেক রহমানের কাছে ভারতের শোকবার্তা হস্তান্তর করেন। এছাড়া ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ১ জানুয়ারি দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশনে গিয়ে শ্রদ্ধা জানান এবং শোকবইতে খালেদা জিয়ার প্রতি সম্মান জ্ঞাপন করেন।

    ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো এই ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগকে ব্যাখ্যা করেছে—বিশেষত চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর দুই দেশের মধ্যে যে টানাপড়েন দেখা গেছে, সেসবের প্রেক্ষিতে দিল্লির এই শ্রদ্ধা ও যোগাযোগকে কৌশলগত উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    বাজেট অধিবেশনের আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সংসদের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছেন; তার পরেই প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা উপস্থিত থেকে পারম্পরিক বিদায় জানান এবং অধিবেশন শুরুর নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হয়। সংসদের এই অধিবেশন মোট ৬৫ দিনে ৩০ কার্যদিবসের জন্য চলবে এবং ২ এপ্রিল শেষ হওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে। ১৩ ফেব্রুয়ারি কক্ষদ্বয় ছুটিতে যাবে এবং ৯ মার্চ পুনরায় অধিবেশন শুরু হবে। এর মধ্যে স্থায়ী সংসদীয় কমিটিগুলো বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অনুদানের দাবি (Demands for Grants) পর্যালোচনা করবে।

    অধিবেশনের প্রথম পর্যায়ে মূলত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের কেন্দ্রীয় বাজেট সম্পর্কিত আর্থিক কার্যক্রম এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব আলোচনা করা হবে। পরে অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রণয়ন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।

    অর্থনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে ভারতের অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২৯ জানুয়ারি উপস্থাপন করা হবে এবং কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬-২৭ পেশ করা নির্ধারিত আছে ১ ফেব্রুয়ারি। অর্থমন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক বিষয়ক বিভাগ এই সমীক্ষা প্রস্তুত করেছে; এতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের (এপ্রিল–মার্চ) অর্থনীতির অবস্থা, বিভিন্ন সূচকের বিশ্লেষণ এবং আগামী অর্থবছরের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়েছে।

  • ইরান উত্তেজনার মাঝে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যে বিশাল সামরিক মহড়া

    ইরান উত্তেজনার মাঝে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যে বিশাল সামরিক মহড়া

    ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা তীব্র হওয়ার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় ব্যাপক সামরিক মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এই মহড়ার মাধ্যমে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষার পাশাপাশি বিমান ও নৌযুদ্ধ উপকরণ দ্রুত মোতায়েন এবং যুদ্ধ পরিস্থিতিতে টিকে থাকার সক্ষমতা যাচাই করা হবে।

    মঙ্গলবার মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, ‘‘মার্কিন বিমানবাহিনী মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে বহু দিনের একটি প্রস্তুতি মহড়া পরিচালনা করবে, যাতে সেন্ট্রাল কমান্ড এলাকা জুড়ে যুদ্ধ বিমান মোতায়েন, শত্রু বিমান বাহিনীকে ছত্রভঙ্গ করা এবং যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিজেদের টিকে থাকার ক্ষমতা পরীক্ষা করা যাবে।’’ বিবৃতিতে বলা হয়েছে মহড়াটি কয়েক দিন চলবে এবং আঞ্চলিক অংশীদার ও বেসামরিক এবং সামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ে বাস্তবায়িত হবে।

    সেন্টকম বলেছে, নবম বিমান বাহিনী (এয়ার ফোর্সেস সেন্ট্রাল) নেতৃত্বে এই মহড়া দ্রুত চলমান বিমান এবং কর্মীদের জন্য পদ্ধতি যাচাই, বিচ্ছিন্ন অবস্থান থেকে পরিচালনা এবং ন্যূনতম লজিস্টিক পদচিহ্ন রেখে মিশন বজায় রাখায় গুরুত্ব দেবে।

    মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের বিমান বাহিনী কেন্দ্রীয় এবং সম্মিলিত বাহিনী বিমান কম্পোনেন্টের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল ডেরেক ফ্রান্স বলেছেন, ‘‘আমাদের বিমানবাহিনী প্রমাণ করছে যে তারা কঠিন পরিস্থিতিতে — নিরাপদে, সুনির্দিষ্টভাবে এবং আমাদের অংশীদারদের সঙ্গে — শত্রু বিমান বাহিনীকে ছত্রভঙ্গ করে এবং যুদ্ধ অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম।’’

    এরই মধ্যে এ এলাকায় মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং একাধিক যুদ্ধজাহাজ ইরানের আরও কাছে অবস্থান করছে। সেন্টকম আগেই জানিয়েছে, দক্ষিণ চীন সাগর থেকে যাত্রা করে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন নেতৃত্বে একটি বড় নৌবহর ভারত মহাসাগরের পথ ধরে মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের জলসীমায় প্রবেশ করেছে, তবে তা এখনও সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে কোনো আক্রমণের জন্য প্রস্তুত নয়।

    রণতরীতে এফ-৩৫ ও এফ/এ-১৮ টাইপের যোদ্ধা বিমান, ইএ-১৮জি গ্রোলার ইলেকট্রনিক-ওয়ারফেয়ারের প্লেন এবং গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার রয়েছে, যা বিমান ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সক্ষমতা বাড়ায়। ওপেন-সোর্স ফ্লাইট ট্র্যাকারগুলোর তথ্য অনুযায়ী, জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমান ঘাঁটিতে এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের একটি স্কোয়াড্রন মোতায়েন করা হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অভিযানের জন্য বিকল্প পথ থাকবে, বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলো ইতোমধ্যে তাদের আকাশসীমা বা সুবিধা ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবহার করতে দেয়নি।

    এই মোতায়েন ও মহড়ার আচরণকে ঘিরে ইরানের ভেতরও উত্তেজনা বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত এক উপসাগরীয় কর্মকর্তা বলেছেন, চলতি সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সামরিক কমান্ডারদের লক্ষ্য করে বড় পরিসরের আক্রমণের পরিকল্পনা করেছে, এবং এজন্য সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদের সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। মিডল ইস্ট আই সূত্রে ওই কর্মকর্তা আরও জানান, এই সপ্তাহের শেষের দিকে আক্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও সময়সূচি বদলানোর সম্ভাবনাও আছে।

    কোঁফাইনাশনে তিনি জানান, ‘ইরানে হামলা করলে দেশটির পাল্টা প্রতিক্রিয়া কেমন হবে’—এই বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরে আলোচনায় ভিন্নমত দেখা যাচ্ছে।

    উভয়পক্ষের অবস্থান কড়াকড়ি হওয়ায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে এবং তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে—যুক্তরাষ্ট্র হামলা করলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে প্রতিশোধাত্মক হামলার সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ঘোষণা করেছে যে তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনও সামরিক অভিযানে তাদের আকাশসীমা, ভূখণ্ড বা জলসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেবে না।

    ঘটনাবলীর তথ্যসূত্র: সেন্টকম, ওপেন-সোর্স ফ্লাইট ট্র্যাকার, মিডল ইস্ট আই, ইরান ইন্টারন্যাশনাল।

  • নাগরিকবান্ধব আচরে দায়িত্ব পালনের গুরুত্বে জোর দিলেন সেনা প্রধান

    নাগরিকবান্ধব আচরে দায়িত্ব পালনের গুরুত্বে জোর দিলেন সেনা প্রধান

    সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়ন ও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’ (বেসামরিক ক্ষমতা সমর্থন) এর আওতায় মোতায়েন থাকা সেনা সদস্যদের কাজকর্ম পরিদর্শন করতে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান খুলনা পরিদর্শন করেছেন।

    পরিদর্শনের সময় তিনি সরেজমিনে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন, মোতায়েনকৃত সেনা সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন এবং বেসামরিক প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। গতকাল বুধবার দুপুরে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সভায় তিনি ঊর্ধ্বতন সামরিক, বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসন এবং বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসেন।

    সভার আলোচনায় আসন্ন নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় ও সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। সেনা প্রধান পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা, শৃঙ্খলা, ধৈর্য এবং নাগরিকবান্ধব আচরণের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করার ওপর বিশেষ জোর দেন।

    পরিদর্শনকালে জেনারেল অফিসার কমান্ডিং, আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড; জিওসি, ৫৫ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার, যশোর এরিয়া এবং সেনাসদর ও যশোর এরিয়ার উর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি খুলনা বিভাগীয় কমিশনার, বেসামরিক প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও সেখানে ছিলেন।

  • সাতক্ষীরার চার আসনে ১৭৯টি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র, সিসি ক্যামেরা ও কড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত

    সাতক্ষীরার চার আসনে ১৭৯টি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র, সিসি ক্যামেরা ও কড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরার চারটি আসনে মোট ৬০৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৭৯টিকে গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জেলা প্রশাসন। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে এসব কেন্দ্রে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে এবং জেলার সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো হবে বলে জানানো হয়েছে।

    জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা (ডিএসবি) জানায়, এসব কেন্দ্রগুলিতে মোট ভোটকক্ষের সংখ্যা ৩ হাজার ৪১০টি। এর মধ্যে স্থায়ী কেন্দ্র ৩ হাজার ২৮১টি এবং অস্থায়ী কেন্দ্র ১২৯টি। ঝুঁকিপূর্ণ ১৭৯টি কেন্দ্রের বাইরে ৪৩০টি কেন্দ্রকে সাধারণ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে।

    আসনভিত্তিকভাবে কেন্দ্রের বিস্তার হলো—

    – সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া): মোট ১৬৮টি কেন্দ্র; ঝুঁকিপূর্ণ ৫০; সাধারণ ১১৮।

    – সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা): মোট ১৮০টি কেন্দ্র; ঝুঁকিপূর্ণ ৬০; সাধারণ ১২০।

    – সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালিগঞ্জ): মোট ১৬৫টি কেন্দ্র; ঝুঁকিপূর্ণ ৪০; সাধারণ ১২৫।

    – সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর): মোট ৯৬টি কেন্দ্র; ঝুঁকিপূর্ণ ২৯; সাধারণ ৬৭।

    জেলা নির্বাচন অফিস জানিয়েছে, চারটি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ১,৮৩২,৭৭৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯১৭,৮৪৮ জন, নারী ভোটার ৯১৪,৯১৪ জন এবং হিজড়া ভোটার ১৩ জন।

    জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ মাসুদুর রহমান বলেন, নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো হবে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ইনস্টলেশন কাজ চলছে; কাজটি বর্তমানে প্রায় ৭৫–৮০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহেই সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন শেষ হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

    সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মোঃ আরেফিন জুয়েল জানান, কোন কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে তা কেবল নিরাপত্তাজনিত কারণেই নয়; দূরত্ব, ভবনের অবস্থা ও অন্যান্য চলাচলের সমস্যাও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। জেলার চারটি আসনে শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে পুলিশ ও প্রশাসন মিলিয়ে সব ধরনের প্রস্তুতি বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

    জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে আশা করা হচ্ছে, সিসি ক্যামেরা ও শক্তপোক্ত নিরাপত্তা রেখার মাধ্যমে নির্বাচনি পরিবেশকে শান্ত, স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীলভাবে পরিচালনা করা যাবে।