Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • নারায়ণগঞ্জে গ্যাস বিস্ফোরণে পাঁচ দগ্ধ; একজনের মৃত্যু

    নারায়ণগঞ্জে গ্যাস বিস্ফোরণে পাঁচ দগ্ধ; একজনের মৃত্যু

    নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গ্যাস লিকেজ থেকে সংঘটিত বিস্ফোরণে এক পরিবারে পাঁচজন দগ্ধ হন; তাদের মধ্যে বাবা মীর কালাম (৩৫) মঙ্গলবার নয়—আজ সোমবার (১১ মে) বেলা ১১টায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

    ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডাঃ শাওন বিন রহমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, কালামের শ্বাসনালীসহ শরীরের প্রায় ৯৫ শতাংশ পুড়য়ে গেছে। তিনি জানান, কালামের স্ত্রী সায়মা (৩২) ৬০ শতাংশ, ছেলে মুন্না (১২) ৩০ শতাংশ এবং দুই মেয়ে কথা (৪) ৫২ শতাংশ ও মুন্নি (৭) ৩৫ শতাংশ জ্বলেছে। বর্তমানে তাদের সবারই অবস্থাই খুবই আশঙ্কাজনক।

    দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল গত রোববার (১০ মে) সকাল প্রায় ৭টায় ফতুল্লার গিরিধারা এলাকার গ্রামবাংলা টাওয়ারের সামনের বাড়িতে। স্থানীয়রা জানান, ভিটাটির বাসিন্দারা হলেন—সবজি বিক্রেতা মো. কালাম, তাঁর স্ত্রী সায়মা ও শিশু ছেলে-মেয়ে মুন্না, মুন্নি ও কথা।

    পড়শি মো. হাসান জানিয়েছেন, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে হঠাৎ একটি বড় শব্দের মতো বিস্ফোরণ হয় এবং ঘরের ভিতর থেকে আগুন বের হতে দেখেন। লোকজন দ্রুত এগিয়ে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নেয়া হয় এবং পরে বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।

    স্থানীয়রা ও উদ্ধারকারীরা বলছেন, ঘটনা সম্ভবত গ্যাস লিকেজ থেকেই ঘটেছে, তবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দগ্ধদের পরিবারটির পারিবারিক নিবাস পটুয়াখালীর বাউফল থানার বালুকদিয়ে গ্রাম।

    চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, দু’একদিন অন্তর তাদের অবস্থার ওপর নির্ভর করে চিকিৎসা ও প্রগনোসিস সম্পর্কিত তথ্য দেওয়া হবে।

  • সংখ্যালঘুদের রক্ষায় মন্ত্রিত্ব ছাড়তে রাজি ধর্মমন্ত্রী

    সংখ্যালঘুদের রক্ষায় মন্ত্রিত্ব ছাড়তে রাজি ধর্মমন্ত্রী

    ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ বলেছেন, প্রয়োজনে মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দিলেও দেশের সংখ্যালঘুদের ওপর কোনো নির্যাতন সহ্য করবেন না। তিনি সোমবার (১১ মে) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

    মন্ত্রী বলেন, ‘‘ভারতে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগকে অজুহাত করা হলে বাংলাদেশে কেউ সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন করবে—তো আমি সেটি হতে দেব না। প্রয়োজনে মন্ত্রীপদও ছাড়ব, তবু এ দেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করব।’’

    তিনি আরও জানান, এবার হজে খরচ কিছুটা কমানো হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর্যায়ক্রমে আগামী হজ মৌসুমে খরচ আরও কমানো হবে। মন্ত্রী বলেন, ‘‘সরকার অনেক ভালো উদ্যোগ নিচ্ছে এবং দেশের জন্য অনেকই কাজ করছে; এ ধরনের নীতিগুলো কিছু মানুষের পছন্দ না-ও হতে পারে।’’

    ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই আইন দরকার কারণ আমরা স্বচ্ছতায় বিশ্বাসী; অপপ্রচার বন্ধে ও সৎ মানুষদের রক্ষায় এ ধরনের বিধান অপরিহার্য।

    সরকারকে ঘিরে চলছে ষড়যন্ত্রের অভিযোগও তোলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘কিছু মহল গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চায় এবং বিরোধী শক্তি সরকারকে দুর্বল করতে নানা কৌশল নেয়। যারা সরকারের সুফল ভোগ করতে পারেনি বা সুবিধা পাননি, তারা ষড়যন্ত্র করছে—এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’’

    সমাপ্তিতে মন্ত্রী আবারো জোর দিয়ে বলেন যে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান অটল থাকবে, এবং এই নীতির ওপর তিনি ব্যক্তিগত দায়িত্বও বোধ করেন।

  • এনসিপি ঘোষণা করেছে ১০০ উপজেলা ও পৌরসভা প্রার্থী

    এনসিপি ঘোষণা করেছে ১০০ উপজেলা ও পৌরসভা প্রার্থী

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রাথমিকভাবে ১০০টি পদে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। আজ রোববার (১০ মে) বিকেলে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এ প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করেন।

    সারজিস আলম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমরা প্রথম ধাপে ৫০ জন উপজেলা চেয়ারম্যান ও ৫০ জন পৌরসভা মেয়র পদে মোট ১০০ জন এনসিপি সমর্থিত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করছি।” তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য দলের কাছে হাজারেরও বেশি আবেদন এসেছিল; অগ্রাধিকারে থেকেও প্রাথমিকভাবে এই ১০০ জনকে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, “ঈদের আগে, এই মাসের ২০ তারিখে দ্বিতীয় ধাপে আরও ১০০ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করার আশা রাখছি। নাম ঘোষণা প্রক্রিয়াটি চলমান থাকবে।” সারজিস আলম জানিয়েছেন, জাতীয় পর্যায়ে যারা বিভিন্ন দায়িত্বে আছেন বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হলেও যারা গ্রহণযোগ্য, পারিশ্রমিক গ্রহণ করেননি ও মানুষের ওপর জুলুমে অভিযুক্ত নন—তারা এনসিপির প্রার্থী হিসেবে আবেদন করতে পারবে। আবেদনকারীদের ব্যাপকভাবে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে এবং অন্য দল থেকে যোগ দিতে ইচ্ছুকদেরকেই সুযোগ দেয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।

    চেয়ারম্যান ও মেয়র পদে ঘোষিত ১০০ প্রার্থীর মধ্যে বিভাগভিত্তিক নামগুলো নিম্নরূপ:

    খুলনা বিভাগ:

    কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম বাদশা; ভেড়ামারায় উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস টনি; বাগেরহাটের চিতলমারীতে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ইশতিয়াক হোসেন; ফকিরমারীতে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী লাবিব আহমেদ; মোংলা পৌরসভার মেয়র প্রার্থী মো. রহমত উল্লাহ; বাগেরহাট পৌরসভার মেয়র প্রার্থী সৈয়দ মোর্শেদ আনোয়ার; যশোরের বাঘারপাড়ায় উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ইয়াহিয়া জিসান; নোয়াপাড়া পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী শাহজাহান কবির; খুলনার চালনায় মেয়র প্রার্থী এস এম এ রশিদ; চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী খায়রুল বাশার বিপ্লব; জীবননগর পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী সোহেল পারভেজ; মেহেরপুর গাংনী পৌরসভার মেয়র প্রার্থী শাকিল আহমেদ; ঝিনাইদহ পৌরসভার মেয়র প্রার্থী তারেকুল ইসলাম।

    রংপুর বিভাগ:

    পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. হাবিবুর রহমান হাবিব; বোদা উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী শিশির আসাদ; দেবীগঞ্জে পৌর মেয়র প্রার্থী মাসুদ পারভেজ; ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈলে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী গোলাম মর্তুজা সেলিম; দিনাজপুর ফুলবাড়িতে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ইমরান চৌধুরী নিশাত; বোচাগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মাওলানা এম এ তাফসির হাসান; ফুলবাড়ি পৌরসভার মেয়র প্রার্থী শিহাব হোসেন; ঘোড়াঘাট পৌর মেয়র প্রার্থী মো. আব্দুল মান্নান; হাকিমপুর পৌর মেয়র প্রার্থী রায়হান কবির; নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু সাইদ লিয়ন; নীলফামারী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ড. কামরুল ইসলাম; কুড়িগ্রাম সদর পৌর মেয়র প্রার্থী মো. মাসুম মিয়া; লালমনিরহাট কালিগঞ্জে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহ সুলতান নাসির উদ্দিন আহমেদ; রংপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী কৃষ্ণ চন্দ্র বর্মণ; গাইবান্ধা সদুল্লাপুরে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী খাদিমুল ইসলাম।

    রাজশাহী বিভাগ:

    রাজশাহীর গোদাগাড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. আতিকুল রহমান; চাঁপাইনবাগঞ্জ গোমস্তাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু মাসুদ; নওগাঁ নেয়ামতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী বিশাল আহমেদ; বাদলগাছীতে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আসাদ মোর্শেদ আজম; ধামুরহাটে পৌর মেয়র প্রার্থী মাহফুজার রহমান চৌধুরী রুবেল; বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম; দুপচাঁচিয়ায় পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী আবু বক্কর সিদ্দিক; বগুড়া সদরে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী এ এম জেড শাহরিয়ার; নাটোর সদর পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী আব্দুল মান্নান; পাবনার চাটমোহর পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী খন্দকার আক্তার হোসেন; সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়ায় উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ আদনান; উল্লাপাড়া পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আল-মামুন লিয়ন।

    সিলেট বিভাগ:

    হবিগঞ্জ আজমিরিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. কামাল আহমেদ; হবিগঞ্জ সদর পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী মাহবুবুল বারী চৌধুরী; মৌলভীবাজার রাজনগর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী খালেদ হাসান; কুলাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু রুকিয়ান; সিলেট কোম্পানিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ওবায়েদ আহমেদ; কানাইঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী বোরহান উদ্দিন ইউনূস; ওসমানীনগর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হাজি মো. মোশাহিদ আলী; জৈন্তাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী জাকারিয়া; গোয়াইনঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মনসুরুল হাসান।

    ময়মনসিংহ বিভাগ:

    শেরপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মো. লিখন মিয়া; সদর পৌর মেয়র প্রার্থী নূর ইসলাম; জামালপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবু সাইদ মো. শামিম; নেত্রকোণার খালিয়াজুড়িতে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. মুশফিকুর রহমান মিন্টু; বারহাট্টায় উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী শফিকুল হক চৌধুরী বাবলু; নেত্রকোণা সদর পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী সোহাগ মিয়া প্রিতম; ময়মনসিংহের তারাকান্দায় উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলাম; ভালুকা উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী নূরুল ইসলাম; হালুয়াঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু হেলাল; ধোবাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সাইফুল্লাহ।

    ঢাকা বিভাগ (উত্তর):

    কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আহনাফ সাইদ খান; তাড়াইল উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ইকরাম হোসেন; করিমগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী খায়রুল কবির; সাভার উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহাবদুল্লাহ রনি; মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আরিফুল ইসলাম; দৌলতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু আব্দুল্লাহ; টাঙ্গাইল কালিহাতিতে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মেহদী হাসান; টাঙ্গাইল পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী মাসুদুর রহমান রাসেল; ভূঞাপুর পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী হাসান ইমাম তালুকদার; শফিপুর পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী মাওলানা আনসার আলী; নরসিংদী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী সাইফ ইবনে সারওয়ার; গাজীপুর কালিগঞ্জে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী শোয়েব মিয়া।

    ঢাকা বিভাগ (দক্ষিণ):

    নারায়ণগঞ্জ সেনারগাঁওয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী তুহিন মাহবুব; মুন্সিগঞ্জ সিরাজদিখানে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আলী নেওয়াজ।

    ফরিদপুর বিভাগ:

    ফরিদপুর নগরকান্দায় উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী রেজাউল করিম সবুজ; নগরকান্দা পৌরসভার মেয়র প্রার্থী নাজমুল হুদা; ফরিদপুর পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী সাইদ খান; মাদারীপুর পৌরসভার মেয়র প্রার্থী মো. হাসিবুল্লাহ; গোপালগঞ্জ পৌরসভার মেয়র প্রার্থী ফেরদৌম আমেনা।

    এনসিপি বলেছে, প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা তৈরি পর্যন্ত যাচাই-বাছাই ও আলোচনা চলবে। দলের নেতা-কর্মী ও সাধারণ জনগণের প্রতিক্রিয়া বিবেচনায় ভবিষ্যতে এই তালিকায় পরিবর্তন বা সংযোজনও হতে পারে।

  • গোলাম পরওয়ারের অভিযোগ: উন্নয়নে সরকার করছে চরম বৈষম্য

    গোলাম পরওয়ারের অভিযোগ: উন্নয়নে সরকার করছে চরম বৈষম্য

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সাংসদ মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, সরকার উন্নয়ন কাজে চরমভাবে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক করা সবচেয়ে যৌক্তিক ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। এটি বৃহত্তর রংপুর ও দিনাজপুর এলাকার দীর্ঘদিনের দাবি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    শনিবার সকাল সাড়ে আটটায় পঞ্চগড় যাচ্ছিলেন এমন সময় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সৈয়দপুরে নামার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন। তিনি সতর্ক করেন, যদি নির্বাচিত এলাকার সুবিধার কথা চিন্তা করে এই বিমানবন্দর অন্যত্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাহলে সেটি অন্যায় ও অন্যায়ের শামিল হবে।

    সফরসঙ্গী হিসেবে তার সঙ্গে ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিম, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি এডভোকেট আতিকুর রহমান এবং সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী। ওই সময় বিমানবন্দরে নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম ও জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মনিরুজ্জামান জুয়েলও তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

    গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, বিএনপি’র নির্বাচিত এমপিদের এলাকা হওয়ায় কোথাও নতুন উপজেলা হচ্ছে, কোথাও বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে; অথচ জাতীয় গুরুত্বের ক্ষেত্রে এসব উন্নয়ন ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় সমভাবে হওয়া উচিত ছিল। তিনি একটি প্রবাদ উদ্ধৃত করে বলেন, “যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ” — বর্তমান বাস্তবতায় সেই রূপটাই দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন।

    তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি ক্ষমতায় এসে তারাই ভ‚মিকা পাল্টিয়েছে; ৭০ শতাংশ জনমতকে উপেক্ষা করে তারা প্রতারণার রাজনীতি করছে। নির্বাচনের আগে যারা “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে ছিলেন, তারা এখন গণভোটের রায় অস্বীকার করছেন — এ আচরণকে তিনি জনগণের সঙ্গে মহাপ্রতারণা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। দুর্নীতিপূর্ণ ও ব্যাকপাস-ধর্মী রাজনীতির ফল বিএনপি-সহ পুরো দেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা ব্যক্ত করেন তিনি।

    গণমাধ্যম বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় যারা স্বাধীন সাংবাদিকতার কথা বলেছিল, বর্তমানেই সেই কয়েকজন এখন বিভিন্ন গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ, সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুত ও হয়রানির মতো কাজে জড়িয়ে পড়ছেন। বিশেষত সরকারের সমালোচনাকারী সাংবাদিকদের টার্গেট করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

    বিমানবন্দর আলোচনার পর গোলাম পরওয়ার ও তার সফরসঙ্গীরা সড়কপথে পঞ্চগড়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এ সময় সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের আমির শফিকুল ইসলাম, সেক্রেটারি মাজহারুল ইসলাম, শহর আমির শরফুদ্দিন খান, সেক্রেটারি মাওলানা ওয়াজেদ আলী, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের শহর সভাপতি আব্দুল মোমিনসহ শতাধিক নেতা-কর্মী সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

  • সোনার দাম কমল, প্রতি ভরি এখন কত?

    সোনার দাম কমল, প্রতি ভরি এখন কত?

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) দেশের বাজারে সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রতি ভরি সোনারের দাম সর্বোচ্চ ২,২৫৮ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে।

    সংগঠনটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরি দাম সোমবার (৪ মে) ছিল দুই লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা; এখন তা নেমে এসেছে দুই লাখ ৪০ হাজার ৩৩৭ টাকায়। নতুন এই দর মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

    বাজুস জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দাম কমাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাজারেও মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। বেঁধে দেওয়া দর অনুসারে অন্যান্য মানের সোনার দামগুলো হল: ২১ ক্যারেট প্রতি ভরি দুই লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেট প্রতি ভরি এক লাখ ৯৬ হাজার ৬৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি এক লাখ ৬০ হাজার ১৪৭ টাকা।

    রুপার দাম এই সমন্বয়ে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি দাম ৫ হাজার ৪৮২ টাকা; ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ১৯০ টাকা; ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৪৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা।

    আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটেও সোনার বাজার ওঠানামা করছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে সোনার দাম বাড়তে থাকলেও পরে স্বল্পটা মানিয়ে নেওয়া হয়েছে। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানানো হয়েছে, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম প্রায় ৪,৫০০ ডলারে নেমে এসেছে। এর আগের দিকে এই দাম ছিল বেশি — ৩০ জানুয়ারি প্রায় ৫,২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি ছিল প্রায় ৫,৫৫০ ডলার।

  • বাজুসের ঘোষণা: টানা দ্বিতীয়বার বাড়ল সোনার দাম

    বাজুসের ঘোষণা: টানা দ্বিতীয়বার বাড়ল সোনার দাম

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) টানা দ্বিতীয়বার সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সর্বোচ্চ এক ভরি সোনার দাম সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৬ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। নতুন মূল্য আজ সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরির দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকায়। গতকাল এই দাম ছিল দুই লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা, ফলে এক দিনে দাম বেড়েছে ২ হাজার ২১৬ টাকা।

    অন্য কেটাগরিগুলোতে নির্ধারিত দামগুলো হলো: ২১ ক্যারেট প্রতি ভরিতে দুই লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেট প্রতি ভরিতে দুই লাখ ২১৩ টাকা (প্রতিটি ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত অনুসারে) এবং সনাতনী পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম এক লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকা।

    সোনার পাশাপাশি রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। নির্ধারিত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের হিসেবে এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৫ হাজার ৫৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৭২৪ টাকা এবং সনাতনী পদ্ধতির রুপার দাম ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা।

    বাজুস জানিয়েছে, তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দাম বাড়ায় স্থানীয় বাজারে মূল্যসমন্বয় করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে 최근 ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল পাল্টাপাল্টি উত্তেজনার কারণে সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকায় দেশীয় দরও ওঠানামা করছে। বিশ্ববাজার ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানানো হয়েছে, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ৭০০ ডলার। সূত্রে আরও বলা হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে আগে ৩০ জানুয়ারি আউন্সপ্রতি দাম ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি ৫ হাজার ৫৫০ ডলার ছিল।

    গত মাসের শেষের দিকে বিশ্ববাজারে সোনার দাম দ্রুত বাড়তে থাকায় দেশের বাজারেও রেকর্ড মাত্রায় বৃদ্ধির ঘটনা ঘটেছিল। ২৯ জানুয়ারি একবারে প্রতি ভরিতে ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়ানোর পর ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম একসময় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় পৌঁছেছিল—এখানেই দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দেখা গিয়েছিল।

  • প্রমোদতরীর যাত্রীদের মধ্যে মার্কিন ও ফরাসি নাগরিকদের দেহে হান্টাভাইরাস শনাক্ত

    প্রমোদতরীর যাত্রীদের মধ্যে মার্কিন ও ফরাসি নাগরিকদের দেহে হান্টাভাইরাস শনাক্ত

    আর্জেন্টিনা থেকে যাত্রা করা একটি বিলাসবহুল প্রমোদতরীতে হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটায় আন্তর্জাতিকভাবে সতর্কতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট দেশের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এটিকে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন।

    ওশুয়াইয়া থেকে ১ এপ্রিল যাত্রা শুরু করা এমভি হন্ডিয়াস নামের ক্রুজযানটিতে থাকা বা এযান থেকে ফিরে আসা করেই এখন পর্যন্ত তিন যাত্রী মারা গেছেন—একজন ডাচ, তার স্ত্রী এবং পরে একজন জার্মান নাগরিক। ডব্লিউএইচও নিশ্চিত করেছে যে মৃতদের একজন ৬৯ বছর বয়সীর শরীরে হান্টাভাইরাস পাওয়া গিয়েছে।

    বৃহস্পতিবার দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাহাজ থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা দুই জনের শরীরে ভাইরাসটির অ্যান্ডিস স্ট্রেইন শনাক্ত হয়েছে—তাদের মধ্যে একজন মার্কিন, একজন ফরাসি নাগরিক। মার্কিন স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানান, প্রত্যাবাসন ফ্লাইটে থাকা আরেকজন মার্কিন নাগরিকেরও হালকা উপসর্গ দেখা গেছে; প্রতিটি আক্রান্তকে অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবে বায়োকনটেইনমেন্ট ইউনিটে নেয়া হয়েছিল।

    ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্টেফানি রিস্ট জানিয়েছে, প্যারিসে একজন নারী আইসোলেশনে আছেন এবং তাঁর অবস্থা খারাপির দিকে গেছে; তাঁর সংস্পর্শে আসা ২২ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তারা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এছাড়া জাহাজের অন্য যাত্রী ও ক্রুদের মধ্যে যোগাযোগস্থাপন ও ট্রেসিং কার্যক্রম চলছে—অনেকে যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাষ্ট্র ও সুইজারল্যান্ডে বিমানযোগে গেছেন বলে জানা গেছে।

    রুট ও যাত্রীসংখ্যা: ওশেনওয়াইড এক্সপেডিশনস পরিচালিত এমভি হন্ডিয়াস ক্রুজটি উশুয়াইয়া থেকে ব্রিটিশশাসিত দক্ষিণ জর্জিয়ার দিকে যাত্রা করছিল; যাত্রায় প্রাথমিকভাবে প্রায় ২৮টি দেশের প্রায় ১৫০ যাত্রী ও ক্রু ছিলেন। যাত্রাটি আটলান্টিকের দূরবর্তী অঞ্চলগুলো অতিক্রম করে বিশেষ অভিজ্ঞতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। জাহাজটি সেন্ট হেলেনায় নোঙর করে কিছু যাত্রী নেমে গেলে তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। বর্তমানে জাহাজটি কেপ ভার্দের কাছাকাছি তিন দিন নোঙর করার পরে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের দিকে চলছে।

    স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও জাহাজের অপারেটর জানিয়েছেন, নেদারল্যান্ডস থেকে সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞরা আছেন এবং প্রয়োজন হলে কেপ ভার্দে এসে জাহাজে আরোহণ করবেন। কর্তৃপক্ষ দ্রুত পরীক্ষা, আইসোলেশন ও কন্টাক্ট ট্রেসিং করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।

    হান্টাভাইরাস সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা: হান্টাভাইরাস মূলত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মধ্যেই থাকে। মানুষের সংক্রমণ সাধারণত ইঁদুরের প্রস্রাব, মল বা অন্যান্য শরীরিক তরল থেকে তৈরি কণার মাধ্যমে বায়ুতে ছড়িয়ে পরার ফলে শ্বাসের মাধ্যমে ঘটে। খুব বিরলভাবে ইঁদুরের কামড় বা আঁচড় দিয়েও সংক্রমিত হতে পারে।

    এই ভাইরাস দুই ধরনের গুরুতর রোগ সৃষ্টি করতে পারে—হান্টাভাইরাস পালমোনারি সিনড্রোম (HPS), যা শুরুর দিকে ক্লান্তি, জ্বর ও পেশিতে ব্যথা দিয়ে শুরু হয়ে পরে শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত জটিলতায় চলে যেতে পারে; এবং হেমোরেজিক ফিভার উইথ রেনাল সিনড্রোম (HFRS), যা প্রধানত কিডনি আক্রান্ত করে এবং রক্তচাপ কমে, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ ও কিডনি বিকলতা ঘটাতে পারে। সিডিসি অনুপ্রাণিত হিসেবে উল্লেখ করে যে শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত উপসর্গ দেখা দিলে মৃত্যুহার প্রায় ৩৮ শতাংশ হতে পারে।

    বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো নিয়মিত তথ্য প্রকাশ করছে এবং সংক্রমণ রোধে যে যার জায়গা থেকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করছে। সাধারণ মানুষের জন্য নির্দেশনা হলো—যদি জ্বর, শ্বাসকষ্ট বা অসামান্য ক্লান্তি দেখা দেয় তবে দ্রুত চিকিৎসা নিন এবং মৃদু উপসর্গ হলেও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে জানান।

    সূত্র: বিবিসি

  • শুভেন্দু: ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্ত বেড়ার জমি বিএসএফকে হস্তান্তর

    শুভেন্দু: ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্ত বেড়ার জমি বিএসএফকে হস্তান্তর

    পশ্চিমবঙ্গ সরকার বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি ৪৫ দিনের মধ্যে ভারতের সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী (বিএসএফ)-কে হস্তান্তর করবে—এমন ঘোষণা দিয়েছেন নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেওয়া ছয়টি সিদ্ধান্তের মধ্যে এটিই ছিল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা।

    শুভেন্দু অধিকারী বলেন, রাজ্যের জনমিতিক চিত্র বদলে গেছে, তাই সীমান্ত নিরাপত্তা শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি জানান, ভূমি ও রাজস্ব সচিব এবং রাজ্যের মুখ্যসচিবকে জমি হস্তান্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় জমি ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে। তিনি এটাও বলেছিলেন যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিএসএফকে এই হস্তান্তরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে যে অবৈধ অভিবাসন ঠেকানো ছিল বিজেপির নির্বাচনী প্রচারের একটি কেন্দ্রীয় ইস্যু। নির্বাচনী সময় দলটির দাবি ছিল যে তৎকালীন তৃতীয়মূল সরকার সীমান্ত যথেষ্ট কার্যকরভাবে রক্ষা করেনি, ফলে নিকট প্রতিবেশী বাংলাদেশ থেকে অনেকে অবৈধভাবে দেশভুক্ত হয়েছেন।

    অপর একটি বড় সিদ্ধান্ত ছিল রাজ্যে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবীমা প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’ বাস্তবায়ন করা। শুভেন্দু জানান, প্রধানমন্ত্রী নামযুক্ত সকল কেন্দ্রীয় প্রকল্প রাজ্যজুড়ে কার্যকর করা হবে। এর ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের কয়েক বছরের বিরোধিতির পর এ বিষয়েijakan পরিবর্তন এসেছে।

    শুভেন্দু আরও স্পষ্ট করে বলেন, তাঁর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের গণকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো বাতিল করবে না। এর মধ্যে রয়েছে বহুল আলোচিত ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ও। মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের জানান, রাজ্যে চলমান উপকারভোগীভিত্তিক সব প্রকল্প অব্যাহত থাকবে।

    লক্ষ্মীর ভান্ডার ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার চালিত একটি প্রধান প্রকল্প, যা ২০২১ সালে চালু করা হয়। এই কর্মসূচির মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল নারীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হতো—তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতিভুক্ত ২৫–৬০ বছর বয়সী নারীরা মাসে সর্বোচ্চ ১,২০০ টাকা পান, অন্য শ্রেণির নারীরা মাসে ১,০০০ টাকা পান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রকল্পটি মমতা সরকারের ভোটকৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল, বিশেষ করে নারী ভোটারদের মধ্যে।

    রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট হিসেবে বলা যেতে পারে, গত মাসের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি তৃণমূল কংগ্রেসকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করে ২৯৪ আসনের মধ্যে ২০৭টি আসন পেয়ে রাজ্যে প্রথম বিজেপি সরকার গঠন করেছে। দল নির্বাচনী প্রচারক্রমে ভোটার তালিকা সংশোধন, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং রাজ্যব্যাপী ৯০ লাখ ৮০ হাজার নাম বাদ পড়ার অভিযোগসহ বিভিন্ন ইস্যুতে তীব্র আক্রমণ করে।

    মোটকথা, নবনির্বাচিত সরকার সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলো চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে—একই সঙ্গে চলমান সামাজিক সহায়তা প্রকল্পগুলোও বজায় রাখার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

  • শার্শায় কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় দুই বন্ধুর মৃত্যু

    শার্শায় কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় দুই বন্ধুর মৃত্যু

    যশোরের শার্শা উপজেলায় বুধবার ভোরে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। সোমবার (১১ মে) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে নাভারন-সাতক্ষীরা মহাসড়কের উলাশী খাজুরা এলাকায় কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে তোজাম্মেল হোসেন (৪০) ও শাহিন আলম (৪২) নিহত হন।

    নিহত তোজাম্মেল হোসেন উলাশী গ্রামের মৃত আতিয়ার গাইনের ছেলে এবং শাহিন আলম একই গ্রামের সিদ্দিক হোসেনের ছেলে। স্থানীয়রা জানান, তারা ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন এবং দিনের শুরুতে মোটরসাইকেল যোগে নিয়মিত মতো উলাশী থেকে নাভারনের দিকে যাচ্ছিলেন।

    পথিমধ্যে খাজুরা এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগতির একটি মালবাহী কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই ওই দুই আরোহীর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং স্থানীয়রা দ্রুত ছুটে এসে উদ্বিগ্ন হয়ে উদ্ধার তৎপরতা চালান।

    খবর পেয়ে সেখানকার লোকজন ঘটনাস্থলে ঢুকে দ্রুত পুলিশের কাছে খবর দিলে নাভারন হাইওয়ে থানা পুলিশ পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। নিহতদের সঙ্গে থাকা লোকজন ও স্থানীয়রা ঘটনার পর উত্তেজিত হলে ঘাতক কাভার্ডভ্যানটিকে আটক করে।

    নাভারন হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোপাল কর্মকার জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং ঘাতক কাভার্ডভ্যান জব্দ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন আছে এবং ঘটনার সঠিক কারণ তদন্ত করে নেয়া হবে।

    বাস্তবিক ক্ষতি ও পরিবার-পরিজনের শোকের মধ্যে স্থানীয় সূত্রে নিহতদের সমবয়সী বন্ধুদের আকস্মিক মৃত্যু এলাকায় দুঃখের ছাপ ফেলেছে। তদন্তকারীরা দূরবর্তী বিষয়ে স্পষ্টতা পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে পুলিশ জানায়।

  • কৃষকের ঘাম-পরিশ্রমেই দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত: আজিজুল বারী হেলাল

    কৃষকের ঘাম-পরিশ্রমেই দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত: আজিজুল বারী হেলাল

    খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, বিএনপি সবসময় মানুষের ভোটাধিকার, গণতন্ত্র ও মানবিক মূল্যবোধ রক্ষার রাজনীতি করে। দেশের প্রকৃত উন্নয়ন কেবল বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; প্রকৃত উন্নয়ন তখনই মেলে যখন গ্রামের কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ সক্ষমভাবে উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে পারে।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তিই হচ্ছে কৃষি। কৃষকদের ঘাম ও পরিশ্রমের ওপর নির্ভর করেই দেশের খাদ্য安全তা নিশ্চিত হয়। তাই কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থার বিস্তার, উন্নত বীজ, সার ও প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করা অত্যন্ত জরুরি।

    এমপি আজ রোববার তেরখাদা উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বিএনপি কৃষকবান্ধব নীতিতে বিশ্বাস করে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া শিক্ষাব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যখাতের উন্নতি ছাড়া কোনো জাতিই স্থায়ীভাবে এগোতে পারে না—শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা আধুনিক ও সহজলভ্য করা উচিত। তরুণ সমাজকে মাদক ও সন্ত্রাস থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানো প্রয়োজন, যোগ করেন তিনি।

    অনুষ্ঠানে তিনি উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ‘অভ্যন্তরীণ বোরো ধান ও চাল সংগ্রহ-২০২৬’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। পরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ (২০২৫-২০২৬ অর্থবছর) অনুসারে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে টিন ও নগদ অর্থ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

    উপজেলা পরিষদের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এডিপি প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য স্যানিটারি মেশিন, বেঞ্চ, ক্রীড়া সামগ্রী, পিপি মেশিন, ডায়াবেটিক মেশিন, ওয়েট মেশিনসহ শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনও তিনি করেন। এরপর তিনি ছাগলাদাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন এবং লস্করপুর সড়কের উদ্বোধন করেন।

    অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন তেরখাদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিস তাহমিনা সুলতানা নীলা। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম নুরুন্নবী, তেরখাদা থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ শহিদুল্লাহ, কৃষি কর্মকর্তা শিউলি মজুমদার, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হানিফ শিকদার, জেলা বিএনপি নেতা জুলফিকার আলী জুলু, এনামুল হক সজল, উপজেলা বিএনপি সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির আহবায়ক চৌধুরী কাওসার আলী, সাবেক আহবায়ক চৌধুরী ফখরুল ইসলাম বুলু, সাবেক সদস্য সচিব এফ এম হাবিবুর রহমান, জেলা কৃষক দল নেতা শেখ আবু সাঈদ, বিএনপি নেতা রবিউল হোসেন, সরদার আব্দুল মান্নান, ইকরাম হোসেন জমাদ্দার, মোল্লা মাহবুবুর রহমান, সাজ্জাদ হোসেন নান্টা, শরিফ নাইমুল হক, মোল্লা হুমায়ূন কবির, মিল্টন হোসেন মুন্সী, বিল্লাল হোসেন, শেখ আজিজুর রহমান আজিবার, আবুল হোসেন বাবু মোল্লা, যুবদল নেতা চৌধুরী আমিনুল ইসলাম মিলু, গোলাম মোস্তফা ভুট্টো, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক সোহাগ মুন্সী, উপজেলা কৃষক দলের আহবায়ক রাজু চৌধুরী, সদস্য সচিব সাবু মোল্লা, ছাত্রদল নেতা সাব্বির আহমেদ টগর, সাবেক ছাত্রদল নেতা আমিনুল ইসলাম আমিন, চৌধুরী আশাবুর রহমান প্রমুখ।

    আজিজুল বারী হেলাল শেষবারে বলেন, ‘‘কৃষি খাতকে শক্তিশালী করা, গ্রামীণ অর্থনীতি গতিশীল করা, শিক্ষা-স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় গুণগত পরিবর্তন আনা এবং তরুণদের জন্য সৃজনশীল সুযোগ সৃষ্টি করাই দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি।’’