Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • টেকনাফে মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে দুই বাংলাদেশি কিশোর গুলিবিদ্ধ

    টেকনাফে মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে দুই বাংলাদেশি কিশোর গুলিবিদ্ধ

    কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ঝিমংখালী এলাকায় মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে দুই বাংলাদেশি কিশোর গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল ওই ইউনিয়নের কেউড়া বাগান।

    আহতরা হলেন হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কানজরপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ সোহেল (১৩) ও মোঃ ওবাইদ উলাহ (১৫)। স্থানীয়রা ও পরিবারের সদস্যরা জানান, সকালে তারা দুইজন কেউড়া বাগানে লাকড়ি কুড়াতে যায়। এতে মিয়ানমারের অভ্যন্তর থেকে হঠাৎ গোলাগুলি শুরু হলে সেখান থেকে ছোড়া গুলি বাংলাদেশে এসে তাদের দাগে।

    বাসিন্দারা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে উখিয়া হাসপাতালে নেয়। বর্তমানে দুই কিশোরই ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সোহেলের মামা মোঃ ইসমাইল জানান, এক কিশোরের পা ও বুকে এবং আরেকজনের বুকে গুলি লেগেছে; তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ ঘটনার পর সীমান্তবর্তী এলাকা আতঙ্ক-grস্থ হয়ে পড়েছে।

    ঘটনাস্থলেই উপস্থিত ৬৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোঃ জহিরুল ইসলাম বলেন, সকালে মিয়ানমারের অভ্যন্তর থেকে গোলাগুলির আওয়াজ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, তদন্ত চলছে—প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে ওই দুইজন সীমান্তের কাছাকাছি গেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। সীমান্তে বিজিবির চেকপোস্ট ও টহল জোরদার করা হয়েছে।

    এটির আগে গত ১১ জানুয়ারি হোয়াইক্যং সীমান্তে মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে হুজাইফা আফনান নামের এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়েছিল। এরপরের দিন একই এলাকায় স্থল মাইন বিস্ফোরণে জেলে আবু হানিফের একটি পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এসব ঘটনায় সীমান্তবর্তী বসবাসকারীরা দীর্ঘদিন ধরেই ভয়-আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

    পাশাপাশি মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে বিমান হামলা, ড্রোন আক্রমণ, মর্টার শেল ও বিস্ফোরণের ঘটনা চলছেই। সরকারি জাঁতা বাহিনী মংডু টাউনশিপের আশপাশে আরাকান আর্মি (এএ) অবস্থানে বিমান হামলা জোরদার করেছে। আরাকান আর্মির সঙ্গে স্থলভাগে রোহিঙ্গাদের তিনটি সশস্ত্র গোষ্ঠীও সংঘর্ষে জড়িয়েছে—ফলত: সীমান্ত পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল ও উত্তেজনাপূর্ণ হচ্ছে।

  • ভোট উপলক্ষে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা: মোটরসাইকেল ৭২ ঘণ্টা বন্ধ, ট্যাক্সি-ট্রাক একদিন নিষিদ্ধ

    ভোট উপলক্ষে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা: মোটরসাইকেল ৭২ ঘণ্টা বন্ধ, ট্যাক্সি-ট্রাক একদিন নিষিদ্ধ

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের চলাচলে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। ইসি জানিয়েছে, মোটরসাইকেল চলাচল আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ৭২ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে।

    আর ট্যাক্সি ক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে ১১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে ভোটের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত।

    নির্বাচন কমিশন এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিবকে চিঠি দিয়েছে। চিঠি ইসির উপ-সচিব মনির হোসেন সই করেছেন।

    তবে সব ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা একইরকমভাবে কঠোর হবে না—কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে শিথিলতা থাকবে। ইসির চিঠিতে বলা হয়েছে যে নিম্নোক্ত যানবাহন ও কার্যক্রম নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে বা অনুমতি সাপেক্ষে চলাচল করতে পারবে:

    – আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী ও প্রশাসনের যানবাহন।

    – অনুমোদিত পর্যবেক্ষক ও নির্বাচন সংক্রান্ত কর্মকর্তাদের পরিবহন।

    – জরুরি সেবা নিয়ে নিয়োজিত যানবাহন, ওষুধ ও স্বাস্থ্যসামগ্রীর পরিবহন।

    – সংবাদপত্রবাহী সকল ধরনের যানবাহন।

    – বিমানবন্দরে যাওয়া বা বিমানবন্দর থেকে ফিরে আসার জন্য আত্মীয়স্বজনসহ যাত্রীবাহী যানবাহন (টিকিট বা প্রযোজ্য প্রমাণ দেখাতে হবে)।

    – প্রতিদ্বন্দ্বী প্রত каждой প্রার্থীর জন্য স্থানীয় পর্যায়ে একটি যানবাহন এবং প্রতিটি নির্বাচনী এজেন্টের (যথাযথ নিয়োগপত্র/পরিচয়পত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে) জন্য একটি যানবাহন, সব কিছুর জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমোদন বাধ্যতামূলক।

    – নির্বাচনী কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ইসি বা রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমোদন সাপেক্ষে চলতে পারবে।

    – টেলিযোগাযোগ সেবা জরুরি সেবার আওতায় গণ্য করা হবে; তাই বিটিআরসি ও বিটিআরসি থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের যানবাহন চলাচলে ছাড় পাবে।

    – জাতীয় মহাসড়ক, বন্দরসংলগ্ন সড়ক এবং আন্তঃজেলা বা মহানগর থেকে যাতায়াতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ রাস্তাগুলোতেও নিষেধাজ্ঞা শিথিল রাখা হবে।

    নির্বাচন কমিশন সূত্রে বলা হয়েছে, এসব ব্যতিক্রম এবং চলাচলের অনুমোদন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ফেরি-অফিসার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষদের মাধ্যমে কড়াকড়িভাবে পরিচালিত হবে, যাতে নির্বাচনী কার্যক্রম নির্বিঘ্নে ও আইনগতভাবে সম্পন্ন করা যায়।

  • অন্যায়ভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করলে জনগণ তা প্রতিরোধ করবে

    অন্যায়ভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করলে জনগণ তা প্রতিরোধ করবে

    নির্বাচন যদি ২০১৪, ২০১৮ বা ২০২৪ সালের মতো পুনরাবৃত্তিমূলকভাবে হয়, তা কখনই গ্রহণযোগ্য হবে না; এমন ধরণের নির্বাচন দেশের মানুষ মেনে নেবে না — মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ডাঃ সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। মঙ্গলবার মগবাজারে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডাঃ তাহের সতর্ক করে বলেন, কেউ যদি অন্যায়ভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার চিন্তা করে, সেটা দুঃস্বপ্নের মতোই থেকে যাবে। জনগণ তা আবারও প্রতিরোধ করবে এবং আন্দোলনের মাধ্যমে সেই শক্তিকে পতিত করবে।

    তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর সদস্যদের মধ্যে নারীর অংশগ্রহণ প্রায় ৪৩ শতাংশ এবং সদস্যসংখ্যা দেড় কোটির কম নয়। রাজনৈতিক দলসমূহে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য রাখার আরপিওর বিধান পূরণ করতে সক্ষম একমাত্র দলই তারা। এরপরও অনেকে অপপ্রচারের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীকে নারী বিষয়ে অগ্রাহ্য প্রদর্শনের চেষ্টা করছেন; যা বাস্তবে সঠিক নয় — এমনটাই তার মন্তব্য।

    নির্বাচন যে অত্যন্ত নিকটে এসেছে বলেই উল্লেখ করে ডাঃ তাহের বলেন, এই নির্বাচনে জামায়াতের নারী সদস্যরা অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা গ্রহন করছেন। পুরুষ কর্মীদের পাশাপাশি নারীরাও বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং ভোট চাইছেন।

    দলের পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে সারাদেশে নারী ভোটাররাই জামায়াতকে বেশি সমর্থন দেবেন বলে তাদের মূল্যায়ন। কারণ, মহিলারা শান্তিপ্রিয় এবং বিশৃঙ্খলা ও উগ্রতাকে পছন্দ করেন না। নিজের নির্বাচনী এলাকা চৌদ্দগ্রামেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নারীদের ভোট পুরুষদের চেয়ে বেশি পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ।

    তাহের অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষরা জামায়াতের নারীরা যতটা সক্রিয় হয়েছে তা sehen অনিশ্চিত হয়ে তাদের কর্মক্ষমতাকে থামাতে নারীদের ওপর আক্রমণ ও হেনস্তা শুরু করেছে। ভয়-ভীতি দেখিয়ে একটি ভীতিকর পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে নারীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে; বক্তৃতায় জিহ্বা কেটে ফেলার হুমকি এবং ‘‘জামায়াতকে ভোট দিলে হাত নিয়ে যাবে’’ জাতীয় ধরনের ভয়ভীতি ছড়ানো হচ্ছে।

    তিনি নারীদের সম্মান ও নিরাপত্তার ওপর জোর দিয়ে বলেন, নারীরা আমাদের মা, বোন ও কন্যা — তাদের সম্মান রক্ষা সব দাবি-দাওয়া ও রাজনৈতিক দলগুলোর হাস্যকল্প হওয়া উচিত নয়। যারা নারী অধিকার বলে চিৎকার করেন, তারাই এখন রাজনৈতিক কারণে নারীদের ওপর আক্রমণ করছেন — এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।

    নির্বাচন কমিশন যে নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছে, সেটাও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। ডাঃ তাহের বলেন, যদি নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ না হয়, তার ফলদেশ-বিদেশে গ্রহণযোগ্য হবে না এবং তা জাতির ভবিষ্যৎকে অন্ধকার ও নেতিবাচক দিকে নিয়ে যাবে।

    তিনি সতর্ক করেন যে শুধু রাজনৈতিক দলগুলো নয়, সরকারেরও এখানে বড় ভূমিকা আছে; যদি জোর করে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করা হয়, তার পরিণতি আগের চেয়ে আরও ভয়াবহ হতে পারে। জামায়াতসহ সব রাজনৈতিক দলকেই দায়িত্বশীল আচরণ করে সুষ্ঠু ও নির্ভেজাল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হবে, নতুবা দেশের ক্ষতি হবে।

    ডাঃ তাহের আরও জানান, বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক সংঘর্ষে নারী কর্মীরা আহত ও প্রতিবন্ধিতার মুখে পড়েছেন; অনেকেই দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। কেন্দ্র দখল, হুমকি-ধামকি ও মারধরের মতো ঘটনা নির্বাচনকালীন বেশ কিছুস্থানে ঘটছে। তার মতে, জনপ্রিয়তাহীন প্রতিপক্ষরা কেন্দ্র দখল করে জেতার কৌশল বেছে নিচ্ছে এবং এধরণের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে বিজয়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে।

    শেষে তিনি পুনরায় সবাইকে আহ্বান জানান—নারী হোক বা পুরুষ, সবারই দায়িত্ব সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখা এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার। সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের উপস্থিত ছিলেন।

  • বিএনপি এত খারাপ হলে ২০০১–২০০৬ সালের ওই দুই মন্ত্রী কেন পদত্যাগ করেননি: তারেক রহমান

    বিএনপি এত খারাপ হলে ২০০১–২০০৬ সালের ওই দুই মন্ত্রী কেন পদত্যাগ করেননি: তারেক রহমান

    বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, যারা এখন বিতর্কিত এক দল বদলা‑খোঁজা স্বৈরাচারের ভাষা ব্যবহার করে বিএনপির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলছে, তারা মিথ্যা বলছে। তাঁর প্রশ্ন ছিল—বিএনপি যদি সত্যিই এতই দুর্নীতিগ্রস্ত হত, তবে ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের সময়ে ওই সরকারের құрамে থাকা তাদের দুইজন মন্ত্রী কেন তখন পদত্যাগ করেননি?

    মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহ জেলা সার্কিট হাউস মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি। মঞ্চে ওঠেন বিকাল ৪টা ৩ মিনিটে পরিচালক স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানসহ। জনসভায় উপস্থিত লোকদের প্রতি সালাম জানিয়ে বক্তব্য শুরু করেন বিকাল ৪টা ২৬ মিনিটে এবং ধানের শীষের পক্ষে মত চাইতে তিনি বক্তব্য শেষ করেন বিকাল ৪টা ৫২ মিনিটে। এর পর তার গাড়িবহর গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা হয়।

    বক্তৃতার সময় তিনি ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি সংসদীয় আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের মঞ্চে দাঁড় করিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। তিনি বলেন, “তৎকালীন সরকারের সেই দুই মন্ত্রী জানতেন বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিতেন না, তাই তারা পদত্যাগ করেনি।” তিনি আরো বলেন, আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানও দেখায় যে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারের সময় দেশ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত ছিল, কিন্তু ২০০১ সালে যখন বেগম খালেদা জিয়া দায়িত্ব নেন, তখন থেকেই দুর্নীতি দমন শুরু হয়।

    তারেক রহমান এমন কোনো দলকে তীব্রভাবে নিন্দা করেন যারা এখন বিএনপিকে দোষারোপ করে—তার যুক্তি, সরকারের প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত ওই দলের দুই মন্ত্রীর পদে থাকা নিজেই তাদের বক্তব্যের মিথ্যা প্রমাণ।

    নেতাকর্মীদের প্রতি তিনি ভোটের গুরুত্ব নিয়ে অনুরোধ করে বলেন, ভোটের দিন সবাই তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে কেন্দ্র গিয়েই ফজরের নামাজ আদায় করবেন। এরপর লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেবেন; কেবল ভোট দিয়ে চলে এসে নয়, ভোটের ফলাফল লক্ষ্য করে থাকতে হবে যাতে কেউ আমাদের ভোট লুট করতে না পারে।

    আগামী ১২ তারিখ ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের পর আবার খাল খনন কর্মসূচিতে সবাইকে নিয়ে মিলিত হবেন—সেদিন সবাই কোদাল নিয়ে সামনে হাজির হবে এবং তিনি নিজেও থাকবেন।

    নেতৃত্ব আগমনের আগে-পরেই স্থানীয় নেতাকর্মীরা স্লোগান দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। উপস্থিতরা “তারেক রহমানের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম” ও “আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান” স্লোগান দেন এবং মঞ্চে তাঁর প্রতি লাল গোলাপ তুলে শ্রদ্ধা জানানো হয়। মঞ্চে ওঠার আগে স্থানীয় নেতারা ময়মনসিংহের তারাকান্দাকে পৌরসভা করার দাবি জানান।

    মঞ্চে ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি আসনের ধানের শীষ প্রার্থীরা বক্তব্য রাখেন; তাদের মধ্যে ছিলেন ইকবাল হোসেন, সুলতানা আহমেদ বাবু, মোতায়ের হোসেন বাবু, মাহমুদুল হক, ফরিদুল কবির তালুকদার, সিরাজুল হক, মাহবুব রহমান লিটন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু ও লুৎফুরজ্জামান বাবর। প্রার্থীরা নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করার দাবি জানান এবং সমর্থকদের একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

    লোকজন ‘নৌকা গেছে ভারতে, ধানের শীষ গদিতে’ শ্লোগান দেন। লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন, “আমরা ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি আসন তারেক রহমানকে উপহার দিতে চাই এবং ভবিষ্যতে তাঁকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই।”

  • স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড: প্রতি ভরিতে ৫,২৪৯ টাকা বৃদ্ধি

    স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড: প্রতি ভরিতে ৫,২৪৯ টাকা বৃদ্ধি

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) একদিনের ব্যবধানে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে। এতে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ৪৪০ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

    বাজুস সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাতে প্রকাশ করা বিজ্ঞপ্তিতে এই পরিবর্তন জানায়। নতুন দাম মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) থেকে কার্যকর হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ (পিওর গোল্ড) ও সামগ্রিক অবস্থার প্রেক্ষিতে মূল্যসমন্বয় করা হয়েছে।

    নতুন মূল্যতালিকা অনুসারে প্রতিটি ভরির দামসুচি হলো:

    ২২ ক্যারেট — ২ লাখ ৬২ হাজার ৪৪০ টাকা

    ২১ ক্যারেট — ২ লাখ ৫০ হাজার ৪৮৪ টাকা

    ১৮ ক্যারেট — ২ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৪ টাকা

    সনাতন পদ্ধতি — ১ লাখ ৭৬ হাজার ৫৯৩ টাকা

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই বিক্রয়মূল্যে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে। গহনার নকশা ও মানভেদের কারণে মজুরিতে পরিবর্তন হতে পারে।

    এর আগে গত ২৫ জানুয়ারি বাজুস এক দফা দাম বাড়িয়েছিল; তখন ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৫৭ হাজার ১৯১ টাকা (তার ওপর ১,৫৭৪ টাকা বৃদ্ধি)। সেই সমন্বয়ের পর ২১ ক্যারেটের দাম ছিল ২ লাখ ৪৫ হাজার ৫২৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের— ২ লাখ ১০ হাজার ৪১৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি দাম ছিল ১ লাখ ৭২ হাজার ৯১৯ টাকা। ওই দাম ২৬ জানুয়ারি থেকে কার্যকর ছিল।

    চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম মোট ১৪ দফা সমন্বয় করা হয়েছে; এর মধ্যে ১১ দফায় দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ৩ দফায় দাম কমেছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল—তাদের মধ্যে ৬৪ বার দাম বেড়ে এবং ২৯ বার কমে।

    স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। রুপার ক্ষেত্রে প্রতি ভরিতে ৫২৫ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ৭৫৭ টাকা। অন্যান্য রুপার দরগুলো হলো:

    ২১ ক্যারেট — ৭ হাজার ৪০৭ টাকা

    ১৮ ক্যারেট — ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা

    সনাতন পদ্ধতি — ৪ হাজার ৭৮২ টাকা

    বছরভর রুপার দামও এখন পর্যন্ত ১১ দফা সমন্বয় হয়েছে।

  • খাঁটি খামারিদের গৌরবে সম্মাননা দিচ্ছে ‘প্রাণ দুধ’

    খাঁটি খামারিদের গৌরবে সম্মাননা দিচ্ছে ‘প্রাণ দুধ’

    দেশের দুগ্ধশিল্পে বিশেষ অবদান রাখা খাঁটি খামারিদের সম্মাননা দেওয়ার উদ্যোগ শুরু করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় তরল দুধ ব্র্যান্ড ‘প্রাণ দুধ’। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানের এমসিসিআই সম্মেলন কেন্দ্রে উদ্বোধন করা হয়েছে ‘প্রাণ দুধ–খাঁটি খামারি সম্মাননা ২০২৬’ ক্যাম্পেইন।

    ক্যাম্পেইনের মূল উদ্দেশ্য হলো দুগ্ধশিল্পের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করা খাঁটি খামারিদের সম্মানিত করা ও তাদের অনুপ্রেরণামূলক গল্পগুলো তুলে ধরে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে দুগ্ধখামারি পেশায় আগ্রহী করে তোলা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রাণ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াছ মৃধা সম্মাননা স্মারক উন্মোচন করেন।

    প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রাণ ডেইরীর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা ১২৪টি গ্রামীণ দুধ সংগ্রহ কেন্দ্র (ভিএমসিসি) থেকে স্পট রেজিস্ট্রেশন শুরু হবে। এখানে প্রাণ ডেইরীর তালিকাভুক্ত প্রায় ১৬ হাজার খামারি অংশ নিয়ে রেজিস্ট্রেশন ফর্মে প্রয়োজনীয় তথ্য জমা প্রদান করবেন। অংশগ্রহণকারীদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে পরে একটি বিশেষ জুরিবোর্ড গঠন করা হবে, যাতে সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিরা থাকবেন।

    জুরিবোর্ড প্রতিদ্বন্দ্বীর তথ্য-বিবরণী যাচাই করে প্রথমে ১০ জন ‘খাঁটি খামারি’ বাছাই করবে। চূড়ান্ত নির্বাচনে জুরিবোর্ডের দেওয়া নম্বর ও ভোক্তাদের ভোটের সমন্বয়ে সেরা তিন খামারিকে চিহ্নিত করা হবে। বিজয়ীদের জন্য থাকবে সম্মাননা স্মারক এবং লক্ষ টাকার সমমূল্যের পুরস্কার; বাছাইয়ে স্থান করা বাকি সাতজনকেও বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হবে।

    ইলিয়াছ মৃধা অনুষ্ঠানে বলেন, “এই উদ্যোগের মাধ্যমে যারা দুগ্ধশিল্পের বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন তাদের সম্মানিত ও অনুপ্রাণিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। তাদের জীবন সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প তুলে ধরে অন্যদেরও গাভি পালনে আগ্রহী করা হবে। পাশাপাশি ভোক্তাদের কাছে নিরাপদ ও মানসম্মত দুধ পৌঁছে দেওয়ার আমাদের অঙ্গীকারও এই উদ্যোগের মাধ্যমে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা হবে।”

    প্রাণ ডেইরীর চিফ অপারেটিং অফিসার মাকসুদুর রহমান জানান, “দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রাণ দুধ দেশের অসংখ্য খেটে খাওয়া খামারিদের পাশে থেকে ন্যায্য মূল্য, প্রশিক্ষণ ও ভেটেরিনারি সহায়তা দিয়েছে। এর ফলে অনেক খামারির জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।”

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রাণের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার (মার্কেটিং) মো. আলী হাসান, প্রাণ ডেইরীর হেড অব মার্কেটিং সৈয়দ মুস্তায়িন কাদের, ব্র্যান্ড ম্যানেজার ফজলে এলাহি নাঈমসহ প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • মধ্যপ্রাচ্য সূত্র: চলতি সপ্তাহেই ইরানে হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

    মধ্যপ্রাচ্য সূত্র: চলতি সপ্তাহেই ইরানে হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

    মধ্যপ্রাচ্যের গালফ অঞ্চলের একাধিক কর্মকর্তার বরাতে সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সামরিক হামলা চালাতে পারে। এই হামলায় ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের টার্গেট করা হতে পারে বলে সূত্রগুলো দাবি করেছে।

    সূত্ররা জানায়, হামলা এ সপ্তাহে ঘটার সম্ভাবনা আছে, তবে সময়সূচি পরিবর্তিতও হতে পারে। হামলার পরিকল্পনা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরে তৎপর আলোচনা চলছে এবং ওই আলোচনাকে কর্মকর্তারা ‘উত্তপ্ত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

    আইএনভেস্টিগেশনগুলোতে বলা হয়েছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায় তাহলে ইরান কীভাবে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখাবে—এটি নিয়ে এখনই নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না। ওই কারণে হামলার সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে বিভিন্ন কৌশলগত বিকল্প যাচাই করা হচ্ছে।

    গত মাসের শেষ দিকে ইরানে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী আন্দোলনকে সরকার কঠোরভাবে দমন করেছে। সেই সময় থেকেই যুক্তরাষ্ট্র বিক্ষোভকারীদের ওপর সরকারী জবাবদিহিতার দাবি করে এবং ইরানকে নানাভাবে চাপে রাখতে হুমকি দিয়েছে। আশপাশের রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে এই সামরিক বিকল্পও আলোচনায় এসেছে।

    এক সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের সরকারি প্রতিষ্ঠান দখল নেওয়ার আহ্বান করেছিলেন, কিন্তু দুই দিন পর তিনি আবার বলেন, ইরান সরকার আর বিক্ষোভকারীদের হত্যা করছে না—এমন মন্তব্যও করেছেন। ট্রাম্পের এই বদলানো কণ্ঠস্বরকে কেউ কেউ হামলাজনিত পরিকল্পনা আড়াল রাখার কৌশল হিসেবে দেখেছেন, আবার অনেকে বলছেন তিনি সত্যিই হামলার কথা থেকে সরে এসেছেন।

    ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিষয়ে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সৌদি আরব, কাতার ও ওমানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এই তিন দেশ সরাসরি ইরানে সামরিক হামলার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং প্রভাবশালী কূটনৈতিক ভূমিকা রাখছে।

    মিডল ইস্ট আইকে দেওয়া এক মার্কিন সূত্র বলেছেন, তখনকার সময় হামলা না করার সিদ্ধান্ত ছিল ‘সাময়িক’। আর একটি গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, ট্রাম্প এখনও ইরানের সরকার পরিবর্তনের পরিকল্পনা পুরোপুরি ত্যাগ করেননি।

    সূত্র: মিডল ইস্ট আই

  • ভি কামাকোটিকে পদ্মশ্রী: ‘গোমূত্র গবেষণা’কে ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক

    ভি কামাকোটিকে পদ্মশ্রী: ‘গোমূত্র গবেষণা’কে ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক

    আইআইটি মাদ্রাজের পরিচালক ভি কামাকোটি যাতে পদ্মশ্রী পাচ্ছেন—এই ঘোষণার পর থেকেই নতুন করে বিতর্ক বেগেছে। শিক্ষা ও গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কার পেলেও সামাজিক মাধ্যমে কেরালা কংগ্রেসের ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য ঘটনাকে রাজনীতিক রঙ দেয়। পাল্টা জবাবে জোহো করপোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা শ্রীধর ভেম্বু কড়া প্রতিক্রিয়া দেন এবং এর ফলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়।

    ২০২২ সাল থেকে আইআইটি মাদ্রাজের দায়িত্বে থাকা ভি কামাকোটি পদ্মশ্রী পাওয়ার পর বলেছেন, এই সম্মান ‘‘ব্যক্তিগত নয়, সমষ্টিগত অর্জন’’ এবং তিনি ‘‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’’ লক্ষ্যে আরও কাজ করার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন। কিন্তু পুরস্কার ঘোষণার পর কেরালা কংগ্রেস তাদের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে ব্যঙ্গাত্মক একটি পোস্ট করে—কামাকোটির পুরনো একটি মন্তব্য টেনে ‘‘গোমূত্র গবেষণা’’কে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার জন্য অভিনন্দন জানানো হয়।

    গতবছর কামাকোটি জানিয়েছিলেন যে গোমূত্রে অ্যান্টি‑ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি‑ফাঙ্গাল গুণ থাকতে পারে এবং তা আইবিএসসহ কিছু রোগে সহায়ক হতে পারে—সেই মন্তব্য নিয়েই তখনও বিতর্ক ছিল। কেরালা কংগ্রেসের ব্যঙ্গকে কেন্দ্র করেই বিষয়টি আবারো রাজনীতি ও বিজ্ঞান আলোচনা দুটোই জুড়ে যায়।

    শ্রীধর ভেম্বু কেরালা কংগ্রেসের কটাক্ষের জবাবে লেখেন, ভি কামাকোটি ‘‘ডিপ‑টেক’’ গবেষক; মাইক্রোপ্রসেসর ডিজাইনসহ জটিল প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে কাজ করেছেন এবং দেশের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন—তাই তার সম্মান পুরোপুরি প্রাপ্য। ভেম্বু আরও বলেন যে গোমূত্র ও গোবরের মাইক্রোবায়োম নিয়ে বৈজ্ঞানিকভাবে অনুসন্ধানের বড় সম্ভাবনা আছে এবং এটিকে কেবল ‘‘ঔপনিবেশিক মানসিকতা’’ থেকে বাতিল করে দেওয়া উচিত নয়।

    তারপর কেরালা কংগ্রেস পাল্টা প্রশ্ন তোলে—কেন শুধু গরুর গোবর ও গোমূত্র নিয়েই গবেষণা করা হচ্ছে, অন্য প্রাণীর ক্ষেত্রে কেন নজর দেওয়া হয়নি? তারা মধ্যপ্রদেশে পঞ্চগব্য নিয়ে সরকারি অর্থপোষিত একটি গবেষণার উদাহরণ টেনে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও তুলে বলে দেয়।

    মুহূর্তেই বিতর্ক আরও তীব্র রূপ নেয়। কেরালা কংগ্রেস শ্রীধর ভেম্বুকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়—যদি গোমূত্র প্রকৃতিই এত কার্যকর হয়, তাহলে একজন বিলিয়নিয়ার হিসেবে ভেম্বু নিজেই কেন ওই গবেষণায় বড়জোর বিনিয়োগ করছেন না; যদি তা ক্যানসারের মতো গুরুতর রোগ সারাতে কার্যকর প্রমাণিত হয়, তাহলে তা ভারতের বিশ্বদরবারে বড় অবদান হবে।

    এই ঘটনা আবার একবার শিক্ষা, বিজ্ঞান ও রাজনীতির সীমারেখা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। সামাজিক মাধ্যমেও সমর্থন এবং সমালোচনার মধ্যে তীব্র আলোচনা চলছে, যেখানে বৈজ্ঞানিক যুক্তি, রাজনৈতিক তকমা ও ব্যক্তিগত আক্রমণ—সবই মিলেমিশে গেছে।

    সূত্র: দ্য ওয়াল

  • ব্যালট বিপ্লবেই খালেদা জিয়ার প্রতি অন্যায় বিচার হবে: রকিবুল ইসলাম বকুল

    ব্যালট বিপ্লবেই খালেদা জিয়ার প্রতি অন্যায় বিচার হবে: রকিবুল ইসলাম বকুল

    বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল বলেছেন, আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ওপর যে দীর্ঘকালীন চরম অবিচার ও নিপীড়ন করা হয়েছিল, তা জনগণ ভোট দিয়ে দাঁতভাঙা জবাব দেবে।

    গতকাল মঙ্গলবার ১নং ওয়ার্ডের স্থানীয় আয়োজনে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। বকুল বলেন, বঙ্গদেশের সাধারণ মানুষ এখন স্পষ্টভাবে দেখে ফেলেছে যে, দেশনেত্রীকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখার জন্য নানা ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। তাকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারারুদ্ধ রাখা হয়েছে শুধুমাত্র তার আপোষহীন নেতৃত্বের কারণে।

    রকিবুল বকুল আরও বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগ ও সংগ্রাম প্রতিটি দেশপ্রেমিক নাগরিকের জন্য অনুপ্রেরণা। গত ১৭ বছর শাসকগোষ্ঠী জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে যে দুর্নীতি ও দুঃশাসন কায়েম করেছিল, তার সমাপ্তি হবে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে।

    তিনি উপস্থিত নেতা-কর্মী ও ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, ব্যালটই হচ্ছে সবচেয়ে বড় শক্তি; সেটিই ব্যবহার করে স্বৈরাচারী শক্তির অবসান ঘটানো সম্ভব। খুলনা ও সারাদেশের মানুষ আজ ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকায় বেগম জিয়ার মুক্তি এবং গণতন্ত্রের বিজয় সুনিশ্চিত করা মাত্রই সম্ভব হবে। জনগণ যদি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের অধিকার প্রয়োগ করে, তখনই ব্যালট বিপ্লব ঘটবে এবং সেই বিপ্লবের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার প্রতি করা সকল অন্যায়ের বিচার নিশ্চিত হবে।

    দোয়া মাহফিলে খুলনা মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী, সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক মোঃ চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেনসহ অঙ্গসংগঠনের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এর পাশাপাশি ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বেলায়েত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাইনুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ কবির হোসেন টিটু, ওয়ার্ড নেতারা সৈয়দ হুমায়ুন কবীর, কাজী নেহিবুল হাসান নেইম ও মাসুদ মাসুদ কবীর প্রমুখও উপস্থিত ছিলেন। থানা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও পথসভায় উপস্থিত ছিলেন।

  • গৃহবধূ থেকে গণতন্ত্রের অটল নেতা: বেগম খালেদার সংগ্রাম আলোকচিত্রে

    গৃহবধূ থেকে গণতন্ত্রের অটল নেতা: বেগম খালেদার সংগ্রাম আলোকচিত্রে

    সাধারণ এক গৃহবধূ হয়ে গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী হয়ে ওঠার সেই দীর্ঘ পথকে ফিরে দেখার জন্য খুলনায় অনুষ্ঠিত হয়েছে দুই দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনী। শহীদ হাদিস পার্কে আয়োজন করা এ প্রদর্শনীতে বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্থান, ব্যক্তিজীবন, আন্দোলন-সংগ্রাম, কারাবন্দি সময় ও রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন—এসব অধ্যায়ের প্রায় একশোর মতো স্থিরচিত্র স্থান পেয়েছে। প্রতিটি ছবি যেন সংগ্রাম আর ত্যাগের একেকটি জীবন্ত দলিল।

    প্রদর্শনীর উদ্বোধনকালে পার্কের মুক্তমঞ্চে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও সংগ্রাম নিয়ে নির্মিত একটি বিশেষ ভিডিও ডকুমেন্টারি দেখানো হয়, যা অনেক দর্শকের চোখে জল এনে দেয় এবং নতুন প্রজন্মকে তাঁর জীবনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়।

    উদ্বোধনী দিনে বেলা সাড়ে ১১টায় আয়োজিত আলোচনা সভার প্রধান আলোচক ছিলেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ। তিনি বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া শুধু একজন রাজনীতিবিদ নন—তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের একটি প্রতীক। তাঁর জীবন ও সংগ্রাম নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হবে।”

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক রাকিবুল হাসানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, তৎকালীন সংসদ সদস্য সৈয়দা নার্গিস আলী, বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটি ঢাকার সভাপতি মারুফ রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সুজন মাহমুদ।

    বক্তারা মিলিতভাবে বলেন, দীর্ঘ স্বৈরাচার, নির্যাতন ও কারাবরণের মধ্যেও বেগম খালেদা জিয়া আপস করেননি; গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর আদর্শ ও সংগ্রাম বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অম্লান হয়ে থাকবে।

    প্রদর্শনীতে বিভিন্ন পেশা ও বয়সের মানুষ—শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ দর্শনার্থীর উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে বলছিলেন, এমন আয়োজন নতুন প্রজন্মকে দেশনেত্রীর জীবন ও আদর্শ জানতে এবং উপলব্ধি করতে সহায়ক হবে।

    আয়োজকরা জানান, দুই দিনব্যাপী এই প্রদর্শনীর মূল লক্ষ্য বেগম খালেদা জিয়ার সংগ্রামী জীবনের গল্প মানুষের হৃদয়ে গভীরভাবে পৌঁছে দেওয়া। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেগম রেহানা ঈসা, এডভোকেট তছলিমা খাতুন ছন্দা, কে এম হুমায়ুন কবির, হাফিজুর রহমান মনি, শরিফুল ইসলাম টিপু, আশরাফুল ইসলাম নূর, জাকির ইকবাল বাপ্পি, নাসিরুদ্দিন, ইসহাক আসিফ, মো. রাকিবুল হাসান, মাসুদুল হক হারুন, নুরুল হুদা পলাশ, শেখ সরোয়ার ও শাহিন মল্লিক রাজু।