Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • জুনের মধ্যেই মাঠ থেকে সব সেনা প্রত্যাহার, ব্যারাকেই ফিরবে সদস্যরা

    জুনের মধ্যেই মাঠ থেকে সব সেনা প্রত্যাহার, ব্যারাকেই ফিরবে সদস্যরা

    আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামী ৬ জুন থেকে ধাপে ধাপে মাঠ থেকে সেনাসদস্যদের চূড়ান্ত প্রত্যাহার শুরু হবে এবং জুন মাসের মধ্যেই সব সদস্যকে ব্যারাকে ফিরিয়ে আনা হবে। দূরবর্তী জেলা থেকে প্রথম দফায় প্রত্যাহার করা হবে, এরপর বিভাগীয় শহর ও বড় জেলা থেকে ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহার করা হবে বলে সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে।

    গতকাল (মঙ্গলবার) কোর কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিএনপি সরকার গঠনের পর কোর কমিটি প্রথমবারের মতো বৈঠক করেছে। গত ২১ এপ্রিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে এই কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকেও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, বিজিবি মহাপরিচালকসহ আইনশৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রায় আড়াই ঘণ্টা সময়ব্যাপী সভায় মাঠ থেকে সেনা প্রত্যাহার, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সারাদেশে চাঁদাবাজি, পুলিশের পোশাক পরিবর্তনসহ নানা বিষয় আলোচনা হয়েছে।

    পটভূমি: ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই—সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিকে কেন্দ্র করে বিকট আন্দোলন–দাঙ্গায় তখনকার আওয়ামী লীগ সরকার কারফিউ জারি করে সৈন্য নামায়। পরবর্তীতে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর পুলিশ বাহিনীর কার্যক্রম ভেঙে পড়ায় সেনাবাহিনী মাঠেই রয়ে যায়। অন্তর্বর্তী সরকার ওই বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতাও দিয়েছিল। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ২০২৪ সালের আগস্টেই জানান যে, পুলিশ পুনর্গঠিত হলে সেনাসদস্যরা ব্যারাকে ফিরে যেতে চান। এরপর থেকেই বিভিন্ন সময় কিছু সেনাসদস্যকে মাঠ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

    তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষ করে নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে সেনাসদস্যরা মাঠে ছিলেন; এখনো সারাদেশে আনুমানিক ১৭ হাজার সেনা মাঠপর্যায়ে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিভিন্ন সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠির মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে মাঠ থেকে সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছিল। সূত্র বলছে, দীর্ঘ সময় মাঠে দায়িত্ব পালন করতে করতে সদস্যরা ক্লান্ত, তাদের বিশ্রামের প্রয়োজন—এটিই প্রত্যাহারের একটি বড় কারণ।

    কোর কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানানো হবে বলে সূত্রে জানা গেছে। বৈঠকে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়—

    – ২০২৪-এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গ্রেপ্তার হওয়া সাংবাদিকদের ব্যাপারেও আলোচনা হয়। যাদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অপরাধ নেই, তাদের ক্ষেত্রে জামিন না আটকানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং যারা দেশের বাইরে যেতে চান তাদের বিরুদ্ধে হয়রানি না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    – আওয়ামী লীগ শাসনকালে আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স পেয়েছেন যারা—তাদের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বৈঠক সূত্র জানায়।

    – ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকদের জন্য গানম্যান দেওয়ার সিদ্ধান্তও হয়।

    – মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করার ও जनসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

    – সারাদেশে চাঁদাবাজি রোধে যাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রমাণ আছে, তাদের নামে মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়; চাঁদাবাজিতে জড়িত হলে রাজনৈতিক পরিচয় দেখা হবে না—এ ধরনের নির্দেশও রয়েছে।

    – পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলকে প্রেক্ষিতে সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

    – পুলিশের পোশাক পরিবর্তন বিষয়েও আলোচনা হয়। আইজিপি পুলিশের প্যান্ট খাকি না রাখার অনুরোধ করেন, তবে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় সরকারি দরকার অনুযায়ী নেভি ব্লু শার্ট ও খাকি প্যান্টই সরকারি ইউনিফর্ম হিসেবে থাকবে।

    কোর কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে আগামী ৬ জুন থেকে প্রত্যাহার কার্যক্রম শুরু হলে, প্রথম ধাপে দূরবর্তী জেলার উপর দিয়ে প্রত্যাহার করা হবে এবং পরবর্তী কয়েক দিনে ধাপে ধাপে বড় শহর ও জেলা থেকে সেনা সরানো হবে—মোট মিলিয়ে জুন মাসের মধ্যেই মাঠ থেকে সম্পূর্ণ প্রত্যাহার সম্পন্ন করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

    বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র এই সিদ্ধান্তের কথা প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছে। সূত্র: প্রথম আলো।

  • নাসির-তামিমা মামলার রায় ঘোষণা ১০ জুন

    নাসির-তামিমা মামলার রায় ঘোষণা ১০ জুন

    অন্যের স্ত্রী প্রলুব্ধ করে সঙ্গে নিয়ে যাওয়া, ব্যভিচার ও মানহানির অভিযোগে করা মামলার রায় ঘোষণা হবে আগামী ১০ জুন। এই দিন ধার্য করেছেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত, যেখানে বুধবার (৬ মে) উভয় পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়।

    শুনানিতে বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশরাত হাসান আসামিদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাজা চেয়েছেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু তাদের নির্দোষ দাবি করে খালাসের আবেদন করেন। শুনানিতে নাসির হোসাইন ও তামিমা সুলতানা তাম্মি উভয়েই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

    মামলাটি ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তাম্মির সাবেক স্বামী রাকিব হাসানের দায়ের করা অভিযোগ থেকেই শুরু হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, তাম্মি ও রাকিবের বিয়ে হয় ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি এবং তাদের একটি আট বছর বয়সী কন্যা রয়েছে। তাম্মি পেশায় কেবিন ক্রু। ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাম্মি ও ক্রিকেটার নাসির হোসেনের বিয়ে সংক্রান্ত ছবি ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি রাকিবের নজরে আসে এবং পরবর্তীতে পত্র-পত্রিকায় বিষয়টি সম্পর্কে তিনি জানতে পারেন।

    বাদীর বক্তব্য, রাকিবের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক চলমান অবস্থায় তাম্মি নাসিরকে বিয়ে করেছেন, যা ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় আইনের পরিপন্থী; তাম্মিকে প্রলুব্ধ করে নাসির তাকে নিজের কাছে নিয়ে গেছেন; এরপর তাম্মি ও নাসিরের সম্পর্কের ফলে রাকিব ও তাদের কন্যা মানসিক কষ্টে পড়েছেন এবং রাকিবের মানহানি হয়েছে।

    পরে বিচার প্রক্রিয়ায় ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি আদালত নাসির ও তাম্মির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন। নাসিরের শাশুড়ি সুমি আক্তারকে পরে মামলায় অব্যাহতি দেওয়া হয়। উভয় পক্ষের রিভিশন আবেদন ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি খারিজ করে ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুর্শিদ আহাম্মেদ বিচার চলার নির্দেশ দেন এবং সুমির অব্যাহতি বহাল রাখেন।

    মামলায় মোট ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে; সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে ১৬ এপ্রিল। আসামিদের আত্মপক্ষ শুনানি ১০ মার্চ অনুষ্ঠিত হয়। তাম্মির সাফাই সাক্ষীর বক্তব্য শেষ হওয়ার পর আদালত ৬ মে যুক্তিতর্কের জন্য দিন ধার্য করেন, যা আবশ্যিক শুনানির পর ৬ মে অনুষ্ঠিত হয় এবং রায় ঘোষণার দিন ১০ জুন ঠিক করা হয়।

  • এনসিপি ১০ মে ঘোষণা করবে উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থীর তালিকা

    এনসিপি ১০ মে ঘোষণা করবে উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থীর তালিকা

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেছেন, পরিকল্পিত সময়সীমা মেনে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভার জন্য উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র প্রার্থী দেওয়ার কথা ছিল। ব্যক্তিগত ও সংগঠনগত কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যার কারণে ওই সময়সীমা পিছিয়ে গেছে।

    তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি আগামী ১০ মে’র মধ্যে এনসিপি থেকে প্রাথমিকভাবে সমর্থিত উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থীদের তালিকা ঘোষণা করতে পারবো।’

    সারজিস আলম মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর বাংলামোটর রূপায়ন টাওয়ারের দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে রাজনৈতিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিকদের যোগদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।

    তিনি আরও জানান, এ মাসের মধ্যেই সাতটি সিটি কর্পোরেশনের জন্য এনসিপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে। বর্তমানে এনসিপি একটি ১১ দলীয় জোটের অংশ হিসেবে বিরোধী হিসেবে কাজ করছে এবং সংসদে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। তবুও তারা সংগঠনকে স্থায়ীভাবে শক্তিশালী করে এককভাবে স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ‘সাংগঠনিকভাবে ও রাজনৈতিকভাবে শক্ত হয়ে উঠার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আমরা নিজে প্রার্থী দেবো’—দাবি করেন সারজিস আলম।

    তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে টালবাহানা করে দূর্নীতিপুর্ণ উদ্দেশ্যে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত করার পরিকল্পনা করছে এবং ইতিমধ্যেই জেলা পরিষদ ও সিটি কর্পোরেশনগুলোর প্রশাসনিক কাজ প্রশাসনকে তুলে দিয়েছে।

    সারজিস আলম বলেন, ‘উপজেলা পর্যায়ে এখন কার্যকরি চেয়ারম্যান নেই। তারা আবার ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার চেষ্টা শুরু করেছে; এমনকি উপজেলা পরিষদ বিলুপ্ত করার কথাও শোনা যাচ্ছে। এমন ধরনের চেষ্টা তাদেরই জন্য ক্ষতিকর হবে।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, সিটি কর্পোরেশন ও উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচনের খসড়া এ বছরের মধ্যে করা উচিত এবং এই নির্বাচন দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

  • ড. নাদিমুর রহমানসহ নিজামীর পরিবারের সদস্য ও ‘ওয়ারিয়র্স অব জুলাই’ এনসিপিতে যোগ দিলেন

    ড. নাদিমুর রহমানসহ নিজামীর পরিবারের সদস্য ও ‘ওয়ারিয়র্স অব জুলাই’ এনসিপিতে যোগ দিলেন

    জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিলেন জামায়াতে ইসলামের সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামীর ছোট ছেলে ড. মোহাম্মদ নাদিমুর রহমান, ফরায়েজী আন্দোলনের নেতা হাজী শরীয়তুল্লাহর বংশধর আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন, গাজীপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক এম এ এইচ আরিফ এবং ‘ওয়ারিয়র্স অব জুলাই’ সংগঠনের অনেকে। মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলামোটরের রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দেন।

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ড. মোহাম্মদ নাদিমুর রহমান বর্তমানে তুরস্কের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত থাকায় সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারেননি; তিনি অনলাইনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি যুক্ত হয়েছেন। দলীয় সূত্রের দাবি, ‘ওয়ারিয়র্স অব জুলাই’ সংগঠনের প্রায় চার হাজার সদস্য এনসিপিতে যোগ দিয়েছে; তবে সেই সংগঠনের মধ্যে সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ৫০ জন।

    হাজী শরীয়তুল্লাহর বংশধর আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তিনি বংশগত মর্যাদা দেখে রাজনীতি করছেন না; ‘‘হাজী শরীয়াতুল্লাহ কোনো রাজা ছিলেন না, তিনি সাধারণ কৃষক-জনগণের নেতা ছিলেন। আমি উত্তরসূরী হয়েও এনসিপিতে একজন শ্রমিকসদৃশ কর্মী হয়ে কাজ করব। আমরা কোনো নেতার ইবাদত করি না; যদি কোনো নেতা ভুল পথে যাওয়া শুরু করে, দল থাকায় আমরা তাকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে পারব। দলের মধ্যে ভুল হলে আমি ন্যায়ের পক্ষে কথা বলতে চাই এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে চাই।’’

    এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, দেশের বিভ্রান্ত রাজনীতি ফেরাতে এনসিপি কাজ করবে। তিনি সংসদে বিএনপিকে প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ করে বলেন, এতে দেশ কোনো শুভ ফল পাবে না। তিনি অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

    দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম সরকারকে কঠোরভাবে সমালোচনা করে বলেন, স্থানীয় সরকারগুলোর গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো তারা নিজেদের ভাগ-বাটোয়ারা ও লুটপাটের মাধ্যম বানিয়ে ফেলেছে। তিনি দ্রুত সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান এবং আশা প্রকাশ করেন এগুলো এ বছরের মধ্যেই আয়োজন করা হবে।

    দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বর্তমান সরকারকে জাতির সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ এনে বলেন, ‘‘এমন প্রতারণার ইতিহাসে যারা আশ্রয় নিয়েছে, শেষ পর্যন্ত জনগণের বিদ্রোহের মুখোমুখি হয়েছে।’’ তিনি আরো বলেন, হোসাইন মুহাম্মদ এরশাদের সময়ে প্রশাসক নিয়োগের মতো সংবিধানবিরোধী ব্যবস্থায় রাষ্ট্র পরিচালনার চেষ্টা ঘটেছে; একইভাবে তарেক রহমানও একই ছক ব্যবহার করে রাষ্ট্র পরিচালনার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন।

    সংবাদ সম্মেলনের শেষে নতুন যোগদানকারীদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

  • এপ্রিল মাসে রেমিট্যান্স পৌঁছালো ৩১২ কোটি ৭০ লাখ ডলার

    এপ্রিল মাসে রেমিট্যান্স পৌঁছালো ৩১২ কোটি ৭০ লাখ ডলার

    সদ্য শেষ হওয়া এপ্রিল মাসে দেশে এসেছে ৩১২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। বাংলাদেশব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান রোববার এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, এপ্রিলে প্রত্যেকদিন গড়ে দেশে পাঠানো হয়েছে প্রায় ১০ কোটি ৪২ লাখ ডলার করে।

    গত সালের একই সময়ে (এপ্রিল) রেমিট্যান্স ছিল ২৭৫ কোটি ২০ লাখ ডলার, ফলে বছরজুড়ে এ প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৯৩৩ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ১৯.৫০ শতাংশ বৃদ্ধি প্রদর্শন করে।

    এর আগে মার্চে এক মাসে রেকর্ড ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে—যা কোনো এক মাসে সর্বোচ্চ। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে যথাক্রমে এসেছে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার এবং ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার। ডিসেম্বরে ছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ, এবং নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার।

    অন্যদিকে অক্টোবর ও সেপ্টেম্বর মাসে যথাক্রমে এসেছে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার এবং ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার। আগস্ট ও জুলাইয়ে যথাক্রমে ছিল ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার এবং ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

    এ দিকে সম্পূর্ণ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশকে পাঠিয়েছেন মোট ৩০.৩২ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স—যা কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরের জন্য দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় রেকর্ড।

  • সোনার দাম কমল: প্রতি ভরিতে নতুন দাম কত

    সোনার দাম কমল: প্রতি ভরিতে নতুন দাম কত

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) দেশের বাজারে সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। সংগঠনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নতুন দাম মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রতি ভরি সোনার দাম সর্বোচ্চ ২,২৫৮ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। বেঁধে দেওয়া নতুন মূল্য অনুযায়ী সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের এক ভরির দাম নির্ধারিত হয়েছে ২,৪০,৩৩৭ টাকা। যেখানে গত সোমবার (৪ মে) ২২ ক্যারেটের দাম ছিল ২,৪২,৪৯৫ টাকা।

    অন্যান্য মাপকাঠিতে মূল্য দাঁড়িয়েছে:

    ২১ ক্যারেট — প্রতি ভরি ২,২৯,৪৩১ টাকা

    ১৮ ক্যারেট — প্রতি ভরি ১,৯৬,৬৫৫ টাকা

    সনাতন পদ্ধতির সোনা — প্রতি ভরি ১,৬০,১৪৭ টাকা

    বাজুস জানিয়েছে, তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার আন্তর্জাতিক দাম নেমে আসায় স্থানীয় বাজারেও দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

    রূপার দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। নির্ধারিত মূল্যে ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি দাম রয়েছে ৫,৪৮২ টাকা; ২১ ক্যারেট ৫,১৯০ টাকা; ১৮ ক্যারেট ৪,৪৯০ টাকা; এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৩,৩৮৩ টাকা।

    আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সংঘর্ষে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আগে ঊর্ধ্বমুখী হলেও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দর ওঠানামা করেছে। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানা যায়, আন্তর্জাতিক বাজারে এখন প্রতি আউন্স সোনার দাম আবার নেমে এসে প্রায় ৪,৫০০ ডলার হয়েছে। তুলনামূলকভাবে আগে ৩০ জানুয়ারি এটি ছিল প্রায় ৫,২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ৫,৫৫০ ডলার পর্যায়ে ওঠানামা করছিল।

    বাজুসের এই সিদ্ধান্তের ফলে স্থানীয় স্বর্ণ ব্যবসায়ী এবং ক্রেতাদের জন্য মূল্য প্রবণতা কিছুটা স্বচ্ছতা পাওয়া যাবে বলে মন্তব্য করা হচ্ছে।

  • আরব সাগরে আটকা পড়া ভারতীয় নাবিকদের জরুরি সহায়তা দিয়েছে পাকিস্তান

    আরব সাগরে আটকা পড়া ভারতীয় নাবিকদের জরুরি সহায়তা দিয়েছে পাকিস্তান

    পাকিস্তানের নৌবাহিনী আরব সাগরে ইঞ্জিন ত্রুটিতে আটকা পড়া ভারতীয় জাহাজ এমভি গৌতমের নাবিকদের জরুরি খাদ্য, ওষুধ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত পাকিস্তানি সামরিক বিবৃতির বরাত দিয়ে রয়টার্স সংবাদ এ তথ্য জানিয়েছে।

    জাহাজটিতে মোট ছয়জন ক্রু রয়েছিলেন—তার মধ্যে পাঁচজন ভারতীয় এবং একজন ইন্দোনেশীয় নাগরিক। কয়েক দিন আগে ওমানের বন্দর থেকে ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পর মাঝপথে জাহাজটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায় এবং জাহাজটি সাগরে ভাসতে থাকে। দ্রুত রসদ শেষ হওয়ায় ক্রুদের মধ্যে খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য জরুরি সরবরাহের তীব্র সংকট দেখা দেয় এবং এমভি গৌতম থেকে এসওএস সংকেত পাঠানো হয়।

    এসওএস বার্তা প্রথমে মুম্বাই শাখা মারিটাইম রেসকিউ অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশন সেন্টার (এমআরসিসি) গ্রহণ করে। বার্তা পাওয়ার পর এমআরসিসি ইসলামাবাদে যোগাযোগ করে এবং পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের কাছে সহায়তা চায়। পাকিস্তান আবেদনটি মেনে আরব সাগরে তাদের নৌবাহিনীর জাহাজ পিএমএসএস কাশ্মির পাঠায়।

    পাকিস্তানি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অভিযানে জাহাজটিকে খাদ্য, ওষুধ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করা হয়েছে এবং ক্রুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে দেশটির সামুদ্রিক উদ্ধারকারী সংস্থা পাকিস্তান মেরিটাইম সিকিউরিটি এজেন্সিও (পিএমএসএ) সহায়তা করেছে।

    কাতারের ইংরেজি দৈনিক দ্য গালফ টাইমস টুইটারে পাকিস্তানি নৌবাহিনীর কাছে থেকে নাবিকদের রসদ সরবরাহের ছবি প্রকাশ করেছে।

    গত মাসেও পাকিস্তান নৌবাহিনী আরব সাগরে আটকা পড়া আরেক জাহাজের ১৮ জন ক্রুকে উদ্ধার করেছিল; ওই নাবিকদের মধ্যে ছিল চীনা, মিয়ানমার, ভিয়েতনাম, বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার নাগরিকরা।

    সূত্র: রয়টার্স, এনডিটিভি অনলাইন

  • ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের দোরগোড়ায় যুক্তরাষ্ট্র

    ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের দোরগোড়ায় যুক্তরাষ্ট্র

    ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র এক পৃষ্ঠার একটি সমঝোতামূলক স্মারকের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ বন্ধের সবচেয়ে কাছাকাছি পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউজ। নিউজমাধ্যম এক্সিওস বুধবার (৬ মে) এ খবর জানিয়েছে।

    হোয়াইট হাউজ মনে করছে, ওই সংক্ষিপ্ত সমঝোতা স্মারক যুদ্ধ স্থগিত বা বন্ধের ঘোষণা দেবে এবং একইসঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা চালানোর জন্য একটি কাঠামো তৈরি করবে। স্মারকটি বাস্তবে রূপ নিতে পারলে তা হবে একটি প্রাথমিক চুক্তি, যার ওপর ভিত্তি করে পরে বিস্তৃত আলোচনা ও চূড়ান্ত চুক্তি করা হবে।

    সূত্রটি বলেছে, সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়ন হলে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখার প্রতিশ্রুতি দেবে; এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র নানা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে, ইরানের জব্দ করা বিলিয়ন ডলার মুক্ত করবে এবং নৌ-অবরোধ তুলে নেবে। একইভাবে ইরান হরমুজ প্রণালীতে আরোপিত কিছু বিধিনিষেধ তুলে নেবে।

    এই প্রাথমিক স্মারকে মোট ১৪টি দফা থাকবে বলে জানা গেছে। স্মারক সংক্রান্ত আলোচনা চালাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফ ও জার্ড ক্রুসনার, যারা ইরানের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথাবার্তা চালাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তা বলছেন, আলোচনায় অগ্রগতি থাকার কারণে ট্রাম্প হরমুজে নতুন কোনো অভিযান থেকে এক ধাপ সরে এসেছেন।

    এক্সিওস জানায়, স্মারক ঘোষণা হলে ৩০ দিনের একটি সময়সীমা শুরু হবে। ওই সময়ে হরমুজ খোলা রাখা, ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আলোচনাগুলো হতে পারে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে বা সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়।

    আলোচনার সময় ধীরে ধীরে ইরান হরমুজ সংক্রান্ত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করবে এবং যুক্তরাষ্ট্র নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও অর্থ মুক্তির মতো পদক্ষেপ নেবে। তবে এই সবকিছু ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে। যদি আলোচনা ভেস্তে যায় তবে যুক্তরাষ্ট্র আবারও নৌ-অবরোধ আরোপ বা সামরিক বিকল্প বিবেচনা করতে পারে।

    সমঝোতায় ইরান কতদিন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখবে তা নিয়েও আলোচনা চলছে। এখনকার প্রস্তাবনায় ১২ বছরের কথা বলা হচ্ছে, যা প্রয়োজনে ১৫ বছর পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছরের সহজ শর্ত চানি; আর ইরান শুরুতেই পাঁচ বছরের প্রস্তাব রেখেছিল।

    এছাড়া ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এমন প্রতিশ্রুতিও স্মারকে যুক্ত করার চেষ্টা চলছে। ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম সীমিত বা বন্ধ করার অনুরোধ, আইএইএ’র (জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আণবিক সংস্থা) পরিদর্শন প্রদান এবং সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম স্থানান্তর করার বিষয়টিও আলোচ্য। এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, কিছু ক্ষেত্রে সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে।

    তবে সবকিছুতে এখনো চূড়ান্ত সম্মতি নেই। মার্কিন কর্মকর্তারা এক্সিওসকে বলছেন, ইরানি নেতৃত্বের মধ্যে বিভাজন রয়েছে, ফলে তারা সহজেই একমত হবে কি না তা অনিশ্চিত। আরও বলা হচ্ছে, এই প্রাথমিক স্মারকও হতে নাও পারে। সমঝোতা স্মারকে যে শর্তগুলো আনা হচ্ছে সেগুলো বাস্তবায়িত হবে কিনা তা একটি চূড়ান্ত চুক্তির ওপর নির্ভর করবে—আর সেই চুক্তি না হলে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হতে পারে।

  • এসএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণ: যশোর বোর্ডে কেন্দ্র সচিবসহ ৩ জনকে অব্যাহতি

    এসএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণ: যশোর বোর্ডে কেন্দ্র সচিবসহ ৩ জনকে অব্যাহতি

    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এসএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। যশোর শিক্ষা বোর্ড বৃহস্পতিবার কেন্দ্র সচিবসহ তিনজনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে এবং বলেছে—ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীর ফলাফলে কোনো প্রভাব পড়বে না।

    ঘটনাটি ঘটে ৩০ এপ্রিল, যখন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছিল। কালীগঞ্জ উপজেলার সলিমুন্নেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রের ২০৪ নম্বর কক্ষে নলডাঙ্গা ইব্রাহিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের অনিয়মিত পরীক্ষার্থী সাদিয়া খাতুন অংশ নেন। নিয়ম অনুযায়ী অনিয়মিত পরীক্ষার্থীর জন্য পৃথক প্রশ্নপত্র থাকলেও কক্ষ পরিদর্শকরা ভুলবশত তাকে নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্রই প্রদান করেন।

    পরীক্ষা শেষে বাড়ি গিয়ে বিষয়টি বুঝতে পেরে সাদিয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানালে তদন্ত করে বিষয়টি নিশ্চিত হয়। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কেন্দ্রের দুই কক্ষ পরিদর্শক—সূন্দরপুর চাঁদবা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুস সালাম ও ক.পি.কে.বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাসির উদ্দীন—কে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    এ ঘটনায় কেন্দ্র সচিব ও সলিমুন্নেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিদৌরা আক্তারকেও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তার বদলে সহকারী প্রধান শিক্ষক গৌতম তরফদারকে নতুন কেন্দ্র সচিব হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

    বিদৌরা আক্তার বলেন, অনিয়মিত পরীক্ষার্থীর জন্য যে বিশেষ প্রশ্নপত্র ছিল, তিনি তা সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বুঝিয়ে চিহ্নিত করে দিয়েছিলেন এবং এর ভিডিও প্রমাণও আছে। তবুও কেন তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে তা তিনি মেনে নিতে পারছেন না।

    কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেছেন, বিষয়টি তার কাছে পরিচিত এবং যশোর শিক্ষাবোর্ড প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল আলিম বলেন, তিনি কেন্দ্র সচিব পরিবর্তনের খবর শুনেছেন, তবে এখনও লিখিত নির্দেশনা পাননি।

    যশোর শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. আব্দুল মতিন নিশ্চিত করেছেন যে ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের দায়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং ওই পরীক্ষার্থীর কোনো ক্ষতি হবে না—যে প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছে, তার অনুযায়ীই উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হবে।

    ঘটনাটি পরীক্ষাকেন্দ্রে তদারকি ও দায়িত্ব পালনের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে অনিয়মিত পরীক্ষার্থীর জন্য পৃথক প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনায় আরও সতর্কতা এবং দৃঢ় তদারকির প্রয়োজনীয়তা বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

  • মুক্তিপণের দাবিতে সুন্দরবন থেকে ২২ জেলে অপহরণ

    মুক্তিপণের দাবিতে সুন্দরবন থেকে ২২ জেলে অপহরণ

    সাতক্ষীরা জেলার সুন্দরবন থেকে জলদস্যু আলিম ও নানাভাই বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে মুক্তিপণের দাবিতে ২২ জন জেলে অপহরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার সকাল থেকে সোমবার সন্ধ্যার মধ্যে সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের চুনকুড়ি, মালঞ্চ নদীর আগা, চালতেবেড়, মাইটভাঙা ও পশুরতলা খাল থেকে অস্ত্রের মুখে এসব জেলেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

    জলদস্যুরা অপহৃতদের মধ্যে পাঁচজনকে মারধর করে মুক্তিপণ পাঠানোর শর্তে ছেড়ে দিয়েছে; বাকী ১৭ জন এখনও জিম্মি রয়েছেন। আহত ও ফিরে আসা জেলেরা জানিয়েছে, তারা সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ, রমজাননগর ও ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। ঘটনার পর এলাকাবাসীর মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

    এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত জিম্মি থাকা ১৭ জন জেলের নাম ও তথ্য (বয়সসহ) নিম্নরূপ:

    সিংহড়তলী গ্রামের আবুল ফকিরের ছেলে মোমনি ফকির (৩০), হরিনগর গ্রামের মুর্শিদ আলম (৪০), হরিনগর গ্রামের মিজানুর শেখের ছেলে ইসমাইল শেখ (২৮), মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে আব্দুল করিম (৪৮), সেন্ট্রাল কালিনগর গ্রামের ছাত্তার সানার ছেলে আব্দুস সামাদ (৪০), কুলতলি গ্রামের মনোহর সরকার (৩৪), চুনকুড়ি গ্রামের গোলাম মোস্তফারের ছেলে আল মামুন (১৬), রুহুল আমিনের ছেলে হুমায়ুন (২৬), খালেক মোল্যার ছেলে মনিরুল (২৫), আব্দুল হাইয়ের ছেলে রবিউল (৩০), গণেশ মন্ডলের ছেলে সঞ্জয় (৫২), বড় ভেটখালী গ্রামের আলমগীরের ছেলে আলআমিন (৩৭), ফরেজ গাজীর ছেলে শাহাজান (৫০), জুলফিকারের ছেলে আবুল বাসার বাবু (৩৫), কদমতলার ছাকাত গাজীর ছেলে রেজাউল (৩৫), দক্ষিন কদমতলার সাদেক সর্দারের ছেলে আব্দুস সালাম (৫৫) এবং ধুমঘাট গ্রামের কওছার গাজীর ছেলে আবুল কালাম (৪০)।

    মুক্তিপণ দাবীতে মারধর করে ছেড়ে দেয়া পাঁচ জেলের নাম হল: কুলতলি গ্রামের মৃত নিরাপদ সরকারের ছেলে ধ্রুবো সরকার (৩৮), দক্ষিন কদমতলা গ্রামের সুবোল মন্ডলের ছেলে হৃদয় মন্ডল (৫৩), হরিনগর গ্রামের বাবুর আলী গাইনের ছেলে সবুর গাইন (৫০), সিংহড়তলীর গোলদার পাড়ের ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩২) এবং আনছার গাজীর ছেলে ইউনুস আলী (২৬)।

    অপহৃতদের আত্মীয়-স্বজন, মহাজন এবং ফিরে আসা জেলেরা জানান, তারা সুন্দরবনে অভিযান চালাতে আগে সাতক্ষীরা রেঞ্জের কদমতলা ও কৈখালী স্টেশন থেকে অনুমতিপত্র নিয়ে গিয়েছিলেন। মৎস্যশিকারের সময় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অবস্থায় জলদস্যুদের সদস্যরা তাদের ধরে নিয়ে গেছে। পরিবারের এক পরিচিত সূত্র (নাম প্রকাশ না করার শর্তে) বলেন, এখনো পর্যন্ত জলদস্যুরা কোনো নির্দিষ্ট মুক্তিপণের অংক জানাননি; মোবাইল নেটওয়ার্ক ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গে মুক্তিপণ দাবি জানাতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। তারা সরকারের কাছে দ্রুত জেলেদের উদ্ধার করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

    ফিরে আসা জেলাদের বক্তব্য, জলদস্যুরা লোকালয়ের কাছাকাছি এলাকা থেকেও জেলেদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে এবং ব্যাপক মারধর করছে, ফলে সুন্দরবনের তীরবর্তী জেলেরা এখন ভীত ও অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে।

    সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মশিউর রহমান জানিয়েছেন, জেলেদের অপহরণের বিষয়টি তারা ইতিমধ্যে কোস্টগার্ডকে অবহিত করেছে এবং দ্রুত বড় আকারে অভিযান চালানো হবে। শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. খালেদুর রহমান বলেছেন, অপহরণের বিষয়টি এখনও পর্যন্ত জেলের কোনো পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় জানানো হয়নি; আপনারা আমাদের মাধ্যমে জানানো হলে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

    স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, নিরাপত্তা বাড়ানো না হলে সুন্দরবনের জেলে সম্প্রদায় আরও আক্রান্ত হতে পারে; তারা দ্রুত সরকারের হস্তক্ষেপ ও নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানিয়েছে।