Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • বৈদ্যুতিক বাস ও ট্রাক আমদানিতে বড় শুল্ক-ছাড়, কেবল ১৫% ভ্যাট বহাল

    বৈদ্যুতিক বাস ও ট্রাক আমদানিতে বড় শুল্ক-ছাড়, কেবল ১৫% ভ্যাট বহাল

    পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক যাতায়াত ব্যবস্থা উৎসাহিত করার লক্ষ্যে দেশি নীতিনির্ধারকরা বৈদ্যুতিক যানবাহন আমদানি সহজ করার একটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রোববার (৩ মে) রাতের মন্ত্রিসভা বৈঠকে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ কর্তৃক প্রস্তাবিত এই ছাড় অনুমোদন করা হয়।

    বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এইচ.এস কোড-৮৭০২.৪০.০০ আওতাভুক্ত ন্যূনতম ১৭ আসনবিশিষ্ট সম্পূর্ণ নতুন বৈদ্যুতিক বাস আমদানি করলে কাস্টমস ডিউটি (CD), রেগুলেটরি ডিউটি (RD), সম্পূরক শুল্ক (SD), আগাম কর (AT) ও অগ্রিম আয়কর (AIT) থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে। তবে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ১৫ শতাংশ অপরিবর্তিত থাকবে; ফলে আমদানিকারকদের উপর মোট করভার থাকবে মাত্র ১৫ শতাংশ। সাধারণ যাত্রী পরিবহণে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে আমদানিকৃত বাসগুলোর জন্য এই সুবিধা প্রযোজ্য থাকবে, কিন্তু শিক্ষার্থী পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত বাস এতে অন্তর্ভুক্ত নয়।

    একই ধরনের শুল্ক-ছাড় নতুন বৈদ্যুতিক ট্রাকের ক্ষেত্রেও দেওয়া হবে, যেখানে গাড়িটির ধারণক্ষমতা ৫ টন বা তার বেশি হবে। সরকার জানিয়েছে এই বিশেষ সুবিধা আগামী ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে এবং শিগগিরই এ সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

    এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আমদানি খরচ কমে পরিবহন খাতে দ্রুত বৈদ্যুতিক যানবাহন সীমাবদ্ধ সময়ে আনতে উৎসাহিত হওয়া, বায়ুমণ্ডল দূষণ হ্রাসে সহায়তা করা এবং অবকাঠামো আধুনিকীকরণের পথে ধাক্কা দেওয়া ছাড়াও ব্যক্তিগত ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি নেয়ার প্রণোদনা দেওয়ার আশা করা হচ্ছে।

  • বিইআরসি ঘোষণা: মে মাসে ১২ কেজি এলপিজির দাম অপরিবর্তিত—১,৯৪০ টাকা

    বিইআরসি ঘোষণা: মে মাসে ১২ কেজি এলপিজির দাম অপরিবর্তিত—১,৯৪০ টাকা

    রোববার (৩ মে) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) জানিয়েছে যে মে মাসে ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে — প্রতি সিলিন্ডার ১,৯৪০ টাকা। কমিশনের সিদ্ধান্ত আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হবে।

    বিইআরসি সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম অপরিবর্তিত রাখার পূর্বশর্ত হিসেবে গত মাসে দুইবার মূল্যসমন্বয় করা হয়েছিল। ২ এপ্রিল একবার ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয় ১,৭২৮ টাকায় এবং পরে ১৯ এপ্রিল আরও ২১২ টাকা বৃদ্ধি করে তা ১,৯৪০ টাকায় উন্নীত করা হয়।

    অন্যদিকে অটোগ্যাসের দামেও সামান্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। ভোক্তা পর্যায়ে মূসকসহ অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটারে ২ পয়সা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৯ টাকা ৫২ পয়সা। উল্লেখ্য, পূর্বে ২ এপ্রিল প্রতি লিটারে ১৭ টাকা ৯৪ পয়সা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭৯ টাকা ৭৭ পয়সা এবং ১৯ এপ্রিল পুনরায় ৯ টাকা ৭৩ পয়সা বাড়িয়ে তা করা হয় ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা।

    বিইআরসি এই দামসমূহ নিয়ে যথাযথ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে এবং ভোক্তাদের জন্য নতুন মূল্য সন্ধ্যা ছয়টা থেকে প্রযোজ্য হবে।

  • সংস্কারে বিএনপি সরকার প্রতারণার অভিযোগ; জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বাধ্য করা হবে

    সংস্কারে বিএনপি সরকার প্রতারণার অভিযোগ; জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বাধ্য করা হবে

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা বলছেন, নির্বাচনের আগে করা প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসে বিএনপি সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে। তারা আরো জানান, এইভাবে চললে সরকার কর্তৃত্ববাদী হবে—এমনটা রোধ করতে হলে ‘জুলাই সনদ’ কার্যকর করে সরকারকে বাধ্য করতে হবে।

    রোববার (৩ মে) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের মুক্তিযোদ্ধা হলে এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজনে ‘জ্বালানি, অর্থনীতি, মানবাধিকার, সংস্কার ও গণভোট’ শীর্ষক জাতীয় কনভেনশনে এসব বক্তব্য রাখেন নেতারা। অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী সেশনের সভাপতিত্ব করেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির সহ-প্রধান সারোয়ার তুষার। প্যানেলিস্ট ছিলেন সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক হান্নান মাসউদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী ও সমাজবিজ্ঞানী মির্জা হাসান। সেশনটির moderation করেন জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন।

    হান্নান মাসউদ বলেন, সংসদের প্রথম অধিবেশনের পর থেকে স্পষ্ট হয়েছে এটি প্রতারণা ও প্রবঞ্চনার সংসদ। সরকার যেসব অধ্যাদেশ করে ক্ষমতা বাড়িয়েছে, সে বিষয়গুলোকে আইন করে নিয়েছে; কিন্তু যেসব আইন সরকারি জবাবদিহি নিশ্চিত করবে, সেগুলো তারা উপেক্ষা করেছে বা বাতিল করেছে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, আগে একটি অন্তর্বর্তী গঠনের মাধ্যমে স্থানীয় নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অপসারণের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল—এখন সেই বিধান এমনভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে যে ব্যাখ্যা- বিশ্লেষণ ছাড়াই স্থানীয় প্রতিনিধিকে সরিয়ে পছন্দমতো প্রশাসক বসানো যাবে।

    তিনি আরও বলেন, পুলিশের কমিশনসহ কিছু সংস্কার প্রথমে কিছু অংশে এগিয়েছে—কিন্তু সরকারে এসে বিএনপি এই প্রস্তাব থেকে সরে গেছে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় স্থাপনের মতো চাওয়াগুলোও বাতিল করা হয়েছে। এসবকিছুই দলের নির্বাচনি ইশতেহার ও পূর্ব প্রতিশ্রুতির পরিপন্থী দাবি করে হান্নান।

    রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী বলেন, ১৯৯১ সালে রাজনৈতিক দলগুলো একত্রে যে সংস্কার প্রস্তাব করেছিল, বিএনপি ক্ষমতায় এসে সেগুলোর কোনোোটিই বাস্তবায়ন করেনি। ২৪-এর অভ্যুত্থানের পর যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে জনস্বপ্ন ভেঙে গেছে—একটি নির্দিষ্ট এলিট, সিভিল-মিলিটারি-ব্যুরোক্রেসি ক্ষমতা ছাড়তে নারাজ। তিনি প্রশাসনিক উচ্চপদস্থদের কথাবার্তায় দ্বিচারিতা ও মিথ্যার কড়া সমালোচনা করেন এবং বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সংসদে দেওয়া কিছু বক্তব্য যদি কোনো অন্য দেশে হত, সেক্ষেত্রে তৎক্ষণাৎ পদত্যাগের দাবি উঠত।

    সমাজবিজ্ঞানী মির্জা হাসান ‘জুলাই সনদ’-কে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অনন্য কার্যক্রম হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, এর মূল লক্ষ্য ছিল বিচার, শাসন ও নির্বাহী—এই তিন শাখার মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা। তিনি বলেন, শুরুর দিকে সংবিধান সংস্কারের কিছু প্রস্তাব ছিল অনেকটাই রেডিক্যাল—যেমন একই ব্যক্তি সরকারপ্রধান ও দলের প্রধান সম্পাদন করতে পারবে না—কিন্তু বিএনপির চাপেই কিছু জায়গায় সমঝোতা করতে হয়েছে। তবুও যেগুলো রক্ষা করা গেছে, সেগুলো বড় অর্জন ছিল এবং সেগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে দেশ বরফল লাভ করতো।

    এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, বিএনপি সরকার সংস্কার বাস্তবায়নে আগ্রহী নয়; কিছু লোক দীর্ঘদিন তাদের ‘বেনিফিট অব ডাউট’ দিতে চেয়েছিল, কিন্তু সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর এই সন্দেহও ওঠে গেছে। তিনি দাবি করেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ক্ষমতা একচেটিয়াভাবে উপভোগ করতে চায় এবং তারা সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করে নিজের প্রার্থীদের সুবিধা করে নিচ্ছে। সারোয়ার তুষার আরও বলেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় লোক বসানো যায় না—এ ধরনের পদক্ষেপ রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তিনি প্রশ্ন তুলেন, যদি সবাই নিজ দল থেকে লোক বসায়, তবু রাষ্ট্রপতি-সদৃশ নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য কেউ তারা খুঁজে পাচ্ছে না কি?

    সেশন সভাপত আখতার হোসেন বলেন, বিএনপি যদি সত্যিই সংস্কার চায় না, তাহলে তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে ক্ষমতার অনির্দিষ্ট উপভোগ। তিনি উল্লেখ করেন, ‘নোট অব ডিসেন্ট’ নিয়ে বিএনপি যে জোরালো দাবি করছে, বাস্তবে সংবিধান সংস্কার কমিশনে অনেক গুরুত্বপূর্ন বিষয়ে যেটায় সকলের একমত ছিল, নোট অব ডিসেন্টের কোনো গুরুত্ব হয়নি। আরও বলেন, গণভোটে থাকা চার প্রশ্নের কোনটায় বিএনপির আপত্তি তা স্পষ্ট করা দরকার—কারণ গণভোটের প্রশ্নগুলোর মধ্যে ছিল উচ্চকক্ষের প্রতিনিধিত্ব, পিআর অনুযায়ী আসন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নতুন ফর্মুলা ও সাংবিধানিক নিয়োগের জন্য নিরপেক্ষ বোর্ড গঠন ইত্যাদি বিষয়। তিনি শেষ করেন, সংবিধান পরিবর্তন বনাম নতুন সংবিধান রেখার মধ্যবর্তী সমাধান হিসেবে যা প্রস্তাব করেছিলাম—সংবিধান সংস্কার পরিষদ—বিএনপি এখন সেখান থেকেও সরে এসেছে।

    কনভেনশনটি নাগরিক-হিতৈষী আলোচনায় সংগঠিত হলেও বক্তারা জাতীয় সংস্কার, জবাবদিহি এবং জনগণের সঙ্গে রাজনৈতিক চুক্তি রক্ষার উপর জোর দেন।

  • কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ঘোষণা করল বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজ-মেডিকেলে ২৯টি কমিটি

    কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ঘোষণা করল বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজ-মেডিকেলে ২৯টি কমিটি

    কেন্দ্রীয় ছাত্রদল একযোগে দেশের সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন কলেজ, তিনটি মেডিকেল কলেজ, জেলা ও মহানগরে মিলিয়ে মোট ২৯টি কমিটি ঘোষণা করেছে। কিছু কমিটি নতুনভাবে গঠন করা হয়েছে, আর বাকিগুলোকে পূর্ণাঙ্গ, আংশিক পূর্ণাঙ্গ বা বর্ধিত করা হয়েছে।

    শুক্রবার (২ মে) কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এসব কমিটি অনুমোদনের কথা জানানো হয়।

    ৭টি বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি

    বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি, কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে আংশিক কমিটি, পুণ্ড্র ইউনিভার্সিটিতে আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি এবং জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ধিত কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

    ৯টি মহানগর কমিটি

    ঢাকা মহানগর উত্তর, ঢাকা মহানগর পশ্চিম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও ঢাকা মহানগর পূর্ব—এগুলোতে প্রত্যেকটিতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ময়মনসিংহ মহানগর, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা এবং ময়মনসিংহ উত্তর জেলা—এসব স্থানেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি রয়েছে। জামালপুর মহানগরেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে এবং কুমিল্লা মহানগর কমিটি আংশিক পূর্ণাঙ্গভাবে গঠন করা হয়েছে।

    ৫টি জেলা কমিটি

    নেত্রকোনা, নরসিংদী, হবিগঞ্জ, খাগড়াছড়ি ও মানিকগঞ্জ—এসব জেলায় পূর্ণাঙ্গ জেলা ছাত্রদল কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    ৫টি কলেজ কমিটি

    জয়পুরহাট সরকারি কলেজে আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি, ঢাকা কলেজে বর্ধিত কমিটি, আনন্দমোহন কলেজে পূর্ণাঙ্গ কমিটি, নারায়ণগঞ্জের হাজী মিছির আলী ডিগ্রি কলেজে আংশিক কমিটি এবং নারায়ণগঞ্জ কলেজে আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়া হয়েছে।

    ৩টি মেডিকেল কলেজ

    ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ, সিরাজগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ ও জামালপুর মেডিক্যাল কলেজ—এগুলোতেও আংশিক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের এই ঘোষণায় সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর স্থানীয় কার্যক্রম ও নেতৃত্ব বণ্টন কিভাবে এগোবে তা এখন পর্যবেক্ষণ করা হবে। আরও বিস্তারিত জানতে বা সদস্য পরিচিতি দেখতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের বিজ্ঞপ্তি ও অফিসিয়াল ঘোষণাপত্র দেখা যেতে পারে।

  • প্রাইজবন্ড (১০০ টাকা) ১২৩তম ড্র: প্রধান পুরস্কার ৬ লাখ টাকা

    প্রাইজবন্ড (১০০ টাকা) ১২৩তম ড্র: প্রধান পুরস্কার ৬ লাখ টাকা

    ১০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ডের ১২৩তম ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার অফিসের সম্মেলন কক্ষে ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ ড্র অনুষ্ঠিত হয়।

    প্রধান ফলাফল:

    – প্রথম পুরস্কার (৬,০০,০০০ টাকা): বিজয়ী সিরিজ নম্বর ০০০১০৩৫।

    – দ্বিতীয় পুরস্কার (৩,২৫,০০০ টাকা): বিজয়ী নম্বর ০০৪৭৭৪৮।

    – তৃতীয় পুরস্কার (প্রতি পুরস্কার ১,০০,০০০ টাকা) — বিজয়ী নম্বরগুলো: ০৫৩৮২৮৯ ও ০৬৭৫৩৮২।

    – চতুর্থ পুরস্কার (প্রতি পুরস্কার ৫০,০০০ টাকা) — বিজয়ী নম্বরগুলো: ০৪০০৪৫১ ও ০৫৬৭৬৪৪।

    এবারের ড্র একক সাধারণ পদ্ধতিতে (প্রত্যেক সিরিজের জন্য একই নম্বর) পরিচালিত হয়েছে। প্রচলনযোগ্য ৮৪টি সিরিজের মধ্যে ৪৬টি সাধারণ সংখ্যা পুরস্কারের যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এই ড্র-এর আওতাভুক্ত সিরিজগুলো হলো: কক, কখ, কগ, কঘ, কঙ, কচ, কছ, কজ, কঝ, কঞ, কট, কঠ, কড, কঢ, কথ, কদ, কন, কপ, কফ, কব, কম, কল, কশ, কষ, কস, কহ, খক, খখ, খগ, খঘ, খঙ, খচ, খছ, খজ, খঝ, খঞ, খট, খঠ, খড, খঢ, খথ, খদ, খন, খপ, খফ, খব, খম, খল, খশ, খষ, খস, খহ, গক, গখ, গগ, গঘ, গঙ, গচ, গছ, গজ, গঝ, গঞ, গট, গঠ, গড, গঢ, গথ, গদ, গন, গফ, গব, গম, গল, গশ, গষ, গপ, গস, গহ, ঘক, ঘখ, ঘগ, ঘঘ, ঘঙ এবং ঘচ।

    পঞ্চম পুরস্কার হিসেবে ১০,০০০ টাকা করে মোট ৪০ জন বিজয়ী আছে। তাদের নম্বরগুলো হলো:

    ০০২১৭৪৯, ০২১৭৪১৯, ০৪৬১৪৭২, ০৫৮৮৯৬৬, ০৭৪৯৭৪০, ০০২২১৮১, ০২৪৬০৪৫, ০৪৬২০৫৬, ০৫৯৬৩৪৬, ০৭৫৯৯০৮, ০০৫৬৩৭৮, ০২৯৬৪০২, ০৪৭৮০১৫, ০৬০০৪৪০, ০৭৭২৭৭৩, ০০৯২৩৫৬, ০৩১১১৩০, ০৪৮০৫৬৭, ০৬০৭৩৪৯, ০৮১৩৬৫৯, ০১৪৪৫৬৭, ০৩৫৬৯৪২, ০৫১২০২৪, ০৬৩৯৩৬৭, ০৮৪৮০৪৬, ০১৫৫৩৯৮, ০৩৯৩২৭৭, ০৫৫১২২১, ০৬৪২০০২, ০৮৪৯৬১৪, ০১৫৫৯৩৪, ০৪১৩৫০১, ০৫৬৪৭৬০, ০৬৫০১১৯, ০৯২২৫৯৭, ০১৭৫৭৯২, ০৪৫২৪৪১, ০৫৭৩৮৬৫, ০৬৮৮৭৭৩ এবং ০৯৪৭৬৬৫।

    বিজয়ীদের জন্য নির্ধারিত অর্থ ও পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য এবং আনুষ্ঠানিক ফলাফল সংশ্লিস্ট প্রতিষ্ঠান থেকে প্রকাশ করা হবে। বিজয়ীরার দাবি ও নম্বর যাচাইয়ের জন্য অফিসিয়াল নোটিশ দেখে নেয়া উচিত।

  • এপ্রিলের ২৯ দিনে রেমিট্যান্স পৌঁছালো ৩০০ কোটি ২০ লাখ ডলার

    এপ্রিলের ২৯ দিনে রেমিট্যান্স পৌঁছালো ৩০০ কোটি ২০ লাখ ডলার

    চলতি এপ্রিলে প্রথম ২৯ দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন মোট ৩০০ কোটি ২০ লাখ ডলার—অর্থাৎ প্রায় ৩.০০২ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বৃহস্পতিবার এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

    এ সময় গড়ে প্রতিদিন দেশের কাছে এসেছে প্রায় ১০ কোটি ৩৫ লাখ ডলার (প্রায় ১০৩.৫ মিলিয়ন ডলার)। বিশেষ করে ২৯ এপ্রিলেই এককভাবে এসেছে প্রায় ৯৪ কোটি ডলার, যা মাসভিত্তিক রেমিট্যান্সে বড় কোনো স্পাইক সৃষ্টি করেছে।

    চলতি এপ্রিলে প্রাপ্ত রেমিট্যান্স গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে—এপ্রিল ২০২৫ এ দেশে আসে ২৬০ কোটি ৮০ লাখ ডলার (প্রায় ২.৬০৮ বিলিয়ন ডলার)। এ বছর এপ্রিলের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি।

    এর আগে গত মার্চে দেশের ইতিহাসে রেকর্ড ভেঙে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসে; মার্চে ৩.৭৫৫ বিলিয়ন ডলার (৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার) পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতেও রেমিট্যান্স তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি হয়েছে—জানুয়ারিতে প্রায় ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং ফেব্রুয়ারিতে প্রায় ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

    সংস্থা ও নীতিনির্ধারকদের জন্য এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বৈদেশিক মুদ্রার জোগান বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করছে।

  • যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ অগ্রাহ্য করে এশিয়ায় পৌঁছল ইরানের বিশাল তেল ট্যাংকার

    যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ অগ্রাহ্য করে এশিয়ায় পৌঁছল ইরানের বিশাল তেল ট্যাংকার

    ওমান উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর নজরদারি ও ঘোষিত অবরোধ উপেক্ষা করে এশিয়া-প্যাসিফিক এলাকায় পৌঁছে গেছে ইরানের একটি ভলিউমপূর্ণ তেলবাহী জাহাজ। পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ট্যাংকার ট্র্যাকার্স ডটকম রোববার (৩ মে) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    সংস্থার বরাতে জানা যায়, ন্যাশনাল ইরানিয়ান ট্যাংকার কোম্পানির মালিকানাধীন ওই ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার (ভলৃৎ জাহাজ) প্রায় ১৯ লাখ ব্যারেল বা তারও বেশি অপরিশোধিত তেল বহন করছে, যার বাজার মূল্য আনুমানিক ২২০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ২২ কোটি টাকা)।

    ট্যাংকার ট্র্যাকার্স বলেছে, জাহাজটিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ‘হিউজ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এক সপ্তাহেরও বেশি সময় আগে জাহাজটি শ্রীলংকার উপকূলে দেখা গিয়েছিল। বর্তমানে এটি লম্বক প্রণালী পার করে ইন্দোনেশিয়ার রিয়াউ দ্বীপপুঞ্জের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

    প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, ১৩ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ ঘোষণা করার সময় জাহাজটি ইরানি জলসীমায় ছিল। এছাড়া, ২০ মার্চ মালাক্কা প্রণালি থেকে ইরানের উদ্দেশে রওনা দেয়ার পর থেকে জাহাজটি তার অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এআইএস) বন্ধ রেখেছে, যা চলাচল লুকানোর ইঙ্গিত দেয়।

    আল জাজিরা ইরানের গণমাধ্যমের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত অন্তত ৫২টি ইরানি জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত অবরোধ লঙ্ঘন করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সূত্র বলেছে, অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে তারা প্রায় ৪১টি ইরান সংশ্লিষ্ট জাহাজকে গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছে।

    ওয়াশিংটন দাবি করছে, অবরোধ কার্যকরভাবে কাজ করছে এবং এতে ইরানের তেল prihodায় ব্যাপক রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে; তাদের কথায়, ইরান এখন তেল রপ্তানি করতে সীমাবদ্ধ এবং উৎপাদন অব্যাহত থাকলেও তেল মজুত করে রাখতে বাধ্য হবে। পরিস্থিতি দুপক্ষের দাবি-প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঝে থেকে আন্তর্জাতিক জলপথের নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক চলাচল কেমনভাবে প্রভাবিত হবে তা নজরদারি করা হচ্ছে।

  • খুলনায় নিখোঁজ ৩৫ বছর বয়সী যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    খুলনায় নিখোঁজ ৩৫ বছর বয়সী যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    খুলনায় নিখুম এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (০৩ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর রেলওয়ে নিউ কলোনি থেকে নাজমুল (৩৫) নামের ওই যুবকের মরদেহ পাওয়া যায়। তিনি স্থানীয় আলী আহমেদ ফারাজীর ছেলে।

    খুলনা থানা সূত্রে জানা যায়, নাজমুল শুক্রবার রাত থেকে নিখোঁজ ছিল। খুলনা থানার ওসি (তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, শুক্রবার রাতে তিনি বাবার কাছে দুই হাজার ৫০০ টাকা চেয়েছিল; টাকা দিতে অস্বীকার করলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। এর আগেও নাজমুল এই ধরনেরভাবে রাতভর বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেছেন বলে পরিবার জানিয়েছে। নিখোঁজ থাকার সময় পরিবারের লোকজন তার সন্ধান করেননি।

    রোববার সকালে পরিবারের সদস্যরা ঘরের সামনে গিয়ে নাজমুলকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে দ্রুত পরিবারের অন্য সদস্যদের জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ নিচে নামিয়ে প্রথম উদ্যোগ গ্রহণ করে। সুরতহাল রিপোর্ট করার পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

    পুলিশ বলছে, ঘটনা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তদন্ত করা হচ্ছে এবং মৃত্যুর সঠিক কারণ ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে।

  • বাবর ছাড়াই পাকিস্তান ক্রিকেট দল ঢাকায়

    বাবর ছাড়াই পাকিস্তান ক্রিকেট দল ঢাকায়

    নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে সিরিজ শেষ হয়ে গেলেও বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের বিশ্রতির সময় খুব একটা মেলেনি; লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্তসহ অনেকেই এখন পরবর্তী টেস্ট সিরিজের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির পর এবার বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ দুটি টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান।

    পাকিস্তান ক্রিকেট দল ঢাকায় পৌঁছেছে। আজ ভোর পাঁচটার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে তাদের বহনকারী বিমান। শান মাসুদের নেতৃত্বে ঢাকায় নেমেছে পাকিস্তানের বেশিরভাগ খেলোয়াড়; তবে দলের নেতৃত্বপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন বাবর আজম এই সময় ঢাকায় নেই। তিনি পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) ফাইনালে অংশ নেওয়ার কারণে প্রথম ধাপের বাংলাদেশ সফরে যোগ দিতে পারছেন না।

    পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) কয়েক দিন আগে ১৬ সদস্যের টেস্ট স্কোয়াড ঘোষণা করেছিল, যে দলে বাবর আজমের নাম ছিল। কিন্তু পিএসএলের ফাইনালে পেশোয়ার জালমির নেতৃত্বে খেলায় ব্যস্ত থাকার কারণে তিনি প্রথমে সফরে যোগ দিচ্ছেন না। তবু দলটির বেশিরভাগ ক্রিকেটারই আজ ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন এবং বিমানবন্দর থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সরাসরি হোটেলে নেয়া হয়েছে।

    টিমে চারজন নতুন মুখও আছেন — আমাদ বাট, আবদুল্লাহ ফজল, আজান আওয়াইস ও মুহাম্মদ গাজী ঘোরি। এই সিরিজ দিয়েই পাকিস্তানের টেস্ট দলের কোচ হিসেবে অভিষেক করতে যাচ্ছেন সরফরাজ আহমেদ। ব্যাটিং কোচ হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন আসাদ শফিক, আর বোলিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব সামলাবেন উমর গুল।

    বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার প্রথম টেস্ট ম্যাচ শুরু হবে ৮ মে, মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। দ্বিতীয় টেস্ট মাঠে গড়াবে ১৬ মে, সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। দুটি টেস্টই বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হিসেবে পরিচালিত হবে।

    পিসিবি ঘোষিত পাকিস্তানের ১৬ সদস্যের টেস্ট স্কোয়াড (বিবৃতি অনুযায়ী):

    শান মাসুদ (অধিনায়ক), বাবর আজম (পিএসএল ফাইনালের কারণে প্রথম দলে অনুপস্থিত), মোহাম্মদ রিজওয়ান, শাহীন শাহ আফ্রিদি, সালমান আলী, আবদুল্লাহ ফজল, আমাদ বাট, আজান আওয়াইস, হাসান আলী, ইমাম উল হক, খুররম শেহজাদ, মোহাম্মদ আব্বাস, মুহাম্মদ গাজী ঘোরি, নোমান আলী, সাজিদ খান, সৌদ শাকিল।

    পেসাশক্তি ও নতুন কোচিং স্টাফ নিয়ে পাকিস্তান টেস্ট দলের আগমন তর্কসাপেক্ষ হলেও সিরিজটি প্রতিযোগিতামূলক হবে বলে প্রতীয়মান—বিশেষ করে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ দরকারি পয়েন্ট জিততে উভয় দলের আগ্রহ থাকবে।

  • টুর্নামেন্ট শুরুর আগে আমরা বহুবার হাত মেলিয়েছিলাম: সালমান আগা

    টুর্নামেন্ট শুরুর আগে আমরা বহুবার হাত মেলিয়েছিলাম: সালমান আগা

    খেলার আগমুহূর্ত, টস, বিরতি কিংবা ম্যাচ শেষ—প্রতিপক্ষ দুই দলের ক্রিকেটারদের মধ্যকার হাত মেলানো ক্রিকেটে দীর্ঘদিনের সৌজন্যতাবোধ। কিন্তু ২০২৫ এশিয়া কাপে ভারত ও পাকিস্তানের অধিনায়করা মাঠে সেই রীতিটা মানেননি। সেই অস্বাভাবিক ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলি আগা বলেছেন, টুর্নামেন্ট শুরুর আগে তাদের সঙ্গে তার একাধিক বার হাত মেলানো হয়েছিল।

    পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘নো হ্যান্ডশেক’ ট্রেন্ড ছড়িয়ে পড়ে। মাঠে সেই মনোভাব বাস্তবায়ন করেন ভারতের অধিনায়ক সুর্যকুমার যাদব; টসের সময় তিনি সালমানের সঙ্গে হাত মেলাতে অস্বীকার করেন। সালমান জানিয়েছেন, ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফট তাঁকে টসের আগে আলাদাভাবে ডেকে বলেছিলেন যে সুর্য তাঁর সঙ্গে হাত মেলাবেন না—এই কথা শুনে তিনি অবাক হন, কারণ টুর্নামেন্ট শুরুর আগে প্রেসকনফারেন্সে এবং ট্রফির ফটোশ্যুটের সময়ও তারা হাত মেলিয়েছিলেন।

    এ প্রসঙ্গে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম এআরআই–এর পডকাস্টে সালমান আগা বলেন, “টুর্নামেন্টের আগে আমরা একটি সংবাদ সম্মেলনে হাত মেলিয়েছি। ট্রফি নিয়ে ফটোশ্যুটেও একই রকম আচরণ ছিল। তাই আমি টসের সময় স্বাভাবিকভাবেই আশা করছিলাম যে সবকিছু ঠিক থাকবে। নিশ্চয়ই আমারও একটা ধারণা ছিল যে সবকিছু এমন নাও হতে পারে, কিন্তু হাত মেলানোই হবে না তা ভাবিনি।”

    তিনি আরও জানান, “আমি তখন পাকিস্তান দলের মিডিয়া ম্যানেজারকে সঙ্গে নিয়ে টসে গিয়েছিলাম। ম্যাচ রেফারি আমাকে আলাদা করে নিয়ে বললেন, ‘ওরা এমনটা করতে যাচ্ছে, কোনো হ্যান্ডশেক হবে না, তাই প্রস্তুত থাকুন।’ আমি বলেছিলাম—‘হাত মেলাবে না মেলাবে।’ এটা এমন কিছু ছিল না যে আমি হাত মেলাতে মরিচ্ছিলাম। টসের পর ম্যাচ শেষে আমরা হেরে প্যাভিলিয়নের দিকে গিয়ে হাত বাড়িয়েছিলাম, তখনও একই আচরণ দেখলাম।”

    সালমান এমন আচরণের সমর্থক নন। তিনি বলেন, “আমি যদি পাকিস্তানের অধিনায়ক হই, তখন অনেক তরুণ আমাকে দেখে অনুকরণ করবে। তাই হ্যান্ডশেক না করা—এই ধরনের আচরণ আমি সমর্থন করি না। একজন রোল মডেল হিসেবে এমন আচরণ ঠিক নয়।”

    একই পডকাস্টে পাকিস্তানের পেসার হাসান আলিও ঘটনা নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “আমার মতে এমন পরিস্থিতি হলে ম্যাচ না হওয়াটা উত্তম ছিল। দুই দল পরস্পর সমঝোতায় এসে ম্যাচ না করার সিদ্ধান্ত নিতে পারত এবং পয়েন্ট ভাগাভাগি করে নিত।”

    ঘটনাটি ক্রীড়ানীতির সীমা, সৌহার্দ্য এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে বর্তমান উত্তেজনার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। সালমান ও হাসানের মন্তব্যও সেই বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে—ক্রিকেটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবেই, কিন্তু খেলাধুলার অনুশাসন ও সৌজন্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হলে তা সমাধানের উপায় খুঁজতেই হবে।