Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • পল্লবীতে যুবদল নেতা কিবরিয়ার হত্যায় দুই ‘শুটার’ গ্রেপ্তার: র‌্যাব

    পল্লবীতে যুবদল নেতা কিবরিয়ার হত্যায় দুই ‘শুটার’ গ্রেপ্তার: র‌্যাব

    র‌্যাব জানিয়েছে, ঢাকার মিরপুরের পল্লবীতে যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যা করার ঘটনায় দুই জন ‘শুটার’কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি রিভলবার ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

    আজ (শুক্রবার) র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখা থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে। র‌্যাব জানিয়েছে গ্রেফতারকৃতরা কিবরিয়ার হত্যার কিলিং মিশনে অংশগ্রহণ করেছিল। বিস্তারিত তথ্য আজ র‌্যাব-৪ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হবে।

    নিহত গোলাম কিবরিয়া পল্লবী থানার যুবদলের সদস্যসচিব ছিলেন। জানান যায়, তিনি চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয় করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিক্রি করতেন।

    গত বছরের ১৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় মিরপুর-১২ নম্বরের বি ব্লকে ‘বিক্রমপুর হার্ডওয়্যার অ্যান্ড স্যানিটারি’ নামের একটি দোকানে তিনজন মুখোশধারী দুর্বৃত্ত ঢুকে খুব কাছ থেকে কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যা করে। হামলার সময় দুর্বৃত্তরা দ্রুত পালিয়ে যেতে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশায় ওঠে; অটোরিকশার চালক দ্রুত না চালালে দুর্বৃত্তরা তাকে কোমরে গুলি করে আহত করে।

    কিবরিয়ার স্ত্রী সাবিহা আক্তার দীনা মিরপুর পল্লবী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় পাঁচজনকে আসামী করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত পরিচয়ের আরও সাত-আটজনকে অভিযুক্ত হিসেবে নাম উল্লেখ করা রয়েছে।

    র‌্যাবের এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি মামলার তদন্ত দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আজ সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব আরও বিস্তারিত তথ্য এবং গ্রেপ্তারকদের সম্পর্কে জানাবে।

  • ২৬ মার্চ: জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

    ২৬ মার্চ: জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

    মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভোর ছয়টায় তারা স্মৃতিসৌধে পৌঁছে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের প্রতি নীরবে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। কিছুক্ষণ তারা শহীদদের স্মৃতির প্রতি বিনম্রতার সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সমন্বয়ে একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় স্যালুট দেয়। পরে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীপরিষদ সদস্যদের নিয়ে পৃথকভাবে শ্রদ্ধা জানান।

    প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের তথ্য অনুযায়ী, স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তারা ঢাকা ফেরার আগে সকাল সাতটার মধ্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাবেন।

    এরপর সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন। কুচকাওয়াজে বিভিন্ন বাহিনীর প্রদর্শনী ও একুশ শতকের দক্ষতাকে তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে।

    মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীর উদ্দেশে বাণী প্রকাশ করেছেন। বাণীতে তিনি ২৬ মার্চকে জাতীয় জীবনের গৌরবময় ও ঐতিহাসিক দিন হিসেবে স্মরণ করে বলেন, এই দিনে আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে যাদের আত্মত্যাগের কথা ভাবি তাদেরই কারণে পেয়েছি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। তিনি সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা, নির্যাতিত মা ও বোনদের এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মনিবেদিত প্রত্যেককে গভীর কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করেন এবং সকল শহীদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।

    দিবসটি নানা স্মৃতি ও আবেগে ভরপুর; শহীদদের ত্যাগকে সম্মান জানিয়ে সারাদেশে ও প্রবাসে থাকা বাংলাদেশিরা আজ নিজেদের একাত্মতা ও স্বাধীনতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন।

  • গণরায়ের বিরুদ্ধে গেলে জনগণই তাদের প্রত্যাখ্যান করবে: আসিফ মাহমুদ

    গণরায়ের বিরুদ্ধে গেলে জনগণই তাদের প্রত্যাখ্যান করবে: আসিফ মাহমুদ

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, যদি সরকার গণরায়কে উপেক্ষা করে সামনে এগোতে চায় তাহলে জনগণ তা মেনে নেবে না এবং একে ইতিহাসও প্রত্যাখ্যান করবে। তিনি এই মন্তব্য করেন বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) স্বাধীনতা দিবসে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়।

    আসিফ মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে শক্তিশালী অনেক সরকার গঠন করেছেন, কিন্তু যারা কখনোই গণরায়ের বিরুদ্ধে গিয়েছেন তারা ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে গেছেন। ‘‘আপনারা দেখেছেন, যারা গণরায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে—they শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে নাই,’’ তিনি যুক্ত করেন।

    তিনি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জনগণের রায় পাওয়া সত্ত্বেও ক্ষমতা হস্তান্তর না করাই ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধের প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিল। একইভাবে ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন শেষ পর্যন্ত পরিবর্তন এনেছিল। এরপরও দীর্ঘ ১৭ বছরের দমনপীড়নের পর জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে শাসন কায়েমের যে চেষ্টা হয়েছিল, সেটাও জনগণের বিক্ষোভের মুখে টিকেনি, যোগ করেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের এই উপদেষ্টা।

    তিনি আরও বলেন, ‘‘এখনও যদি গণরায় ও গণভোটের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করা হয় এবং তা উপেক্ষা করে সরকার এগিয়ে যেতে চায়, তাহলে জনগণ তা মেনে নেবে না।’’

    গণভোটে বিপুলসংখ্যক মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘‘আমরা বলি, এত রক্তের বিনিময়ে যে সংস্কার এবং নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন আমাদের শহীদদের পরিবার, বাবা-মা ও আহত সহযোদ্ধারা দেখেছে—সেগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। যদি এই জনরায় বাস্তবায়ন না করা হয়, তাহলে যাঁরা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলেছেন—দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ—তাঁরা রাস্তায় নামতে দ্বিতীয়বার ভাববে না।’’

    তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে দেশের ভবিষ্যত গঠন করার জন্য সবাইকে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাবেন এবং সতর্ক করে বলেন, ‘‘আপনারা জনগণের বিপক্ষে গেলে আমাদের আবার স্বাধীনতা রক্ষার জন্য মাঠে নামতেই হতে পারে।’’

  • স্বাধীনতা দিবসে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা: ‘নৈতিক দায়িত্ব পালন করতে এসেছি’, বললেন জামায়াত আমির

    স্বাধীনতা দিবসে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা: ‘নৈতিক দায়িত্ব পালন করতে এসেছি’, বললেন জামায়াত আমির

    মহান স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তারা এখানে এসেছে নৈতিক দায়িত্ব পালন করতে। তিনি বলেন, এটা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ উৎসব—সবার মতো তাদেরও শ্রদ্ধা জানানো উচিত ছিল।

    বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মোনাজাতে অংশ নিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের জন্য দোয়া করার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

    জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘‘আমরা বীর শহীদদের মর্যাদা রক্ষায় আল্লাহর দরবারে দোয়া করেছি। দেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও জনজীবনে শান্তি-বিশ্রাম ও রহমত বর্ষিত হোক—এই প্রত্যাশা নিয়েই দোয়া করেছি।’’

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তারা একটি অহিংস, দুর্নীতিমুক্ত ও বৈষম্যহীন মানবিক বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি সাধারণ মানুষকে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

    এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান এমপি, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কামাল হোসেন এমপি।

  • ক্রেডিট কার্ডে ঋণসীমা বেড়ে ৪০ লাখ, নতুন গাইডলাইন জারি

    ক্রেডিট কার্ডে ঋণসীমা বেড়ে ৪০ লাখ, নতুন গাইডলাইন জারি

    বাংলাদেশ ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড পরিচালনা পুরোপুরি সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও গ্রাহকবান্ধব করতে নতুন গাইডলাইন প্রকাশ করেছে। রোববার ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

    দৈনন্দিন জীবনে নগদ বহনের বিকল্প হিসেবে ব্যক্তিগত ব্যবহারে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। এ বাজারের পরিধি ও কার্যক্রম বিস্তৃত হওয়ায় বিদ্যমান জটিলতা দূর ও সেবা মানোন্নয়ন করার লক্ষ্যে পুরনো নীতিমালা হালনাগাদ করে পূর্ণাঙ্গ নির্দেশনা তৈরি করা হয়েছে।

    নতুন গাইডলাইনে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার, ভোক্তা অধিকার রক্ষার পাশাপাশি বিরোধ নিষ্পত্তি ও অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণের প্রসার করা হয়েছে। দায়িত্বশীল ঋণদান উৎসাহিত করে নগদবিহীন লেনদেনকে আরও নিরাপদ ও স্বচ্ছ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গাইডলাইনে অন্তর্ভুক্ত প্রধান বিষয়গুলোর মধ্যে আছে — গাইডলাইনের প্রযোজ্যতা ও সংজ্ঞা, ক্রেডিট কার্ডের প্রকারভেদ, গ্রাহকের যোগ্যতার মানদণ্ড, ঋণসীমা ও সুদের হার নির্ধারণ, কার্ড ইস্যু ও বিপণন নীতিমালা, বিলিং ও আদায় প্রক্রিয়া, গ্রাহকের তথ্য গোপনীয়তা ও অধিকার সংরক্ষণ, বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা, পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার নির্দেশনা।

    একটিও মূল পরিবর্তন হচ্ছে ঋণসীমা। পূর্বে যেখানে সর্বোচ্চ ঋণসীমা ছিল ২৫ লাখ টাকা, তা বাড়িয়ে এখন ৪০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অনিরাপদ (আনসিকিউর্ড) ঋণের সীমাও ১০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ২০ লাখ টাকায় ওঠানো হয়েছে। এছাড়া গ্রাহকের অভিযোগ, অনিয়ম ও জালিয়াতি প্রতিরোধ, কার্ডভিত্তিক লেনদেনের পরিশোধ সংক্রান্ত জটিলতা ও বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হয়েছে।

    নতুন নির্দেশনার বাস্তবায়ন ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে। গ্রাহকরা যেন নিরাপদে কার্ড ব্যবহার করতে পারে, অনিয়ম-জালিয়াতি বন্ধ থাকে এবং বিতর্ক দ্রুত সমাধান হয়— সেই লক্ষ্যেই এই গাইডলাইন গঠন করা হয়েছে।

  • আয়কর রিটার্ন জমার শেষ সময় ৩১ মার্চ

    আয়কর রিটার্ন জমার শেষ সময় ৩১ মার্চ

    ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ব্যক্তি আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হতে মাত্র সাত দিন বাকি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে সব করদাতার রিটার্ন জমা দেওয়া সম্পন্ন করতে হবে। সাধারণত সময়সীমা প্রতি বছর ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত থাকলেও এবার তিন ধাপে বাড়িয়ে শেষ সময় ৩১ মার্চ নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এনবিআর ঘোষণা করেছে এবার থেকে আয়কর রিটার্ন অনলাইনেই বাধ্যতামূলকভাবে দাখিল করতে হবে। ফলে করদাতারা ঘরে বসেই এনবিআরের নির্দিষ্ট পোর্টালে গিয়ে ই-রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিনেও অনলাইন সেবা চালু থাকবে।

    এনবিআরের তথ্যে বর্তমানে দেশে প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষেরও বেশি টিআইএনধারী রয়েছেন। করযোগ্য আয় থাকলে তাদের জন্য রিটার্ন জমা করা বাধ্যতামূলক। ইতোমধ্যে প্রায় ৪১ লক্ষ করদাতা রিটার্ন জমা দিয়েছেন এবং ৫০ লক্ষের বেশি করদাতা অনলাইনে রিটার্ন জমাবার জন্য নিবন্ধন করেছেন।

    অনলাইনে রিটার্ন জমা দেয়ার সহজ ধাপগুলো হলো: প্রথমে এনবিআরের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের পর ব্যবহারকারী নাম ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে রিটার্ন সাবমিট করতে হবে। অনলাইনে জমা দেওয়ার সময় সাধারণত কাগজপত্র আপলোড করতে হয় না—প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে।

    রিটার্ন জমা দেওয়া হলে একই সিস্টেমেই অনলাইনে কর পরিশোধের সুযোগ আছে। ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট/ক্রেডিট কার্ডের পাশাপাশি বিকাশ, রকেট, নগদসহ বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে পেমেন্ট করা যাবে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়া করে রিটার্ন জমা দিলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ভুলের কারণে জরিমানা বা আইনি জটিলতায় পড়তে হতে পারে। তাই সময় থাকতেই রিটার্ন প্রস্তুত করে জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

    রিটার্ন জমার আগে করদাতাদের জন্য কিছু প্রয়োজনীয় করার তালিকা: আয়ের সব উৎস ও ব্যয়ের হিসাব আগে থেকে প্রস্তুত রাখা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (টিএন/আয়ের প্রমাণ, ব্যাংক স্টেটমেন্ট ইত্যাদি) সংগ্রহ করা, অনলাইন সিস্টেমে লগইন করে সব তথ্য ভালোভাবে যাচাই করা, জমা দেওয়ার আগে একবার পুরো রিটার্ন যাচাই করা এবং প্রয়োজনে পেশাদার কর পরামর্শকের সহায়তা নেওয়া।

    কর প্রশাসন মনে করিয়ে দিয়েছে—সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই রিটার্ন জমা দিলে ঝামেলা এড়ানো যাবে এবং অনলাইন ব্যবস্থার সুবিধা পুরোপুরি ব্যবহার করা যাবে। সময় বাঁচান, ভুল এড়ান এবং নিরাপদে অনলাইন রিটার্ন জমা দিন।

  • পেন্টাগনের বিবেচনায়: মধ্যপ্রাচ্যে আরও প্রায় ১০ হাজার সেনা পাঠানো

    পেন্টাগনের বিবেচনায়: মধ্যপ্রাচ্যে আরও প্রায় ১০ হাজার সেনা পাঠানো

    একদিকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে বিরতির জন্য শান্তি আলোচনা করার কথা বলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প; অন্যদিকে পেন্টাগন যুদ্ধের বিকল্প হিসেবে আরও কড়া সামরিক পদক্ষেপ বিবেচনা করছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত প্রায় ১০ হাজার স্থলসেনা পাঠানোর সম্ভাব্য পরিকল্পনা খতিয়ে দেখছে।

    প্রতিবেদনে ওই পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত কয়েকজন কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য এই বাহিনীতে পদাতিক সৈন্য ও সাঁজোয়া যান অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের খবরে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ইতিমধ্যে ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের কিছু ইউনিট, প্রায় পাঁচ হাজার জনবল এবং প্রায় দুই হাজার প্যারাট্রুপারকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে; এখন তাদের সঙ্গে আরও প্রায় ১০ হাজার সেনা যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

    তবে এসব সৈন্য ঠিক কোথায় মোতায়েন করা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এই বিষয়ে জানতে হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বিবিসি; তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

    একই সময়ে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানিয়েছেন, ইরান সরকারের অনুরোধে তিনি ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার সিদ্ধান্তকে ১০ দিন স্থগিত রেখেছেন। ট্রাম্প লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র স্থানীয় সময় ৬ এপ্রিল রাত ৮টা পর্যন্ত ওই হামলা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে তেহরান সেই অনুরোধের কথা অস্বীকার করেছে।

    সংক্ষিপ্তভাবে বলা যায়, দুই ধরণের সংকেত একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে—একটি কূটনৈতিক দরজার খোলা ইঙ্গিত, আরেকটি সামরিক সম্ভাবনার প্রস্তুতি। পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ এবং ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত দ্রুত পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • ট্রাম্পের দাবি: ইরান আমাকে সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল

    ট্রাম্পের দাবি: ইরান আমাকে সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের শীর্ষ নেতা করার অনানুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে এক বিস্ময়কর দাবি করেছেন তিনি। তবে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। খবর অনুসারে প্রথম তথ্য ইন্ডিয়া টুডি থেকে এসেছে।

    রিপাবলিকান তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠানে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ট্রাম্প জানান, তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল যে ইরানের নেতারা তাকে পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দেখতে চায়। ট্রাম্প বলেন, আমি বলেছি না, ধন্যবাদ, আমি এটা চাই না।

    একই সভায় ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ বা সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলছে এবং ইরান এতটাই চাপের মধ্যে যে তারা চুক্তি করতে মরিয়া। তিনি বলেন, আমরা মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে অসাধারণ সাফল্য পেয়েছি এবং তারা এখন আলোচনা করতে চাইছে, কিন্তু তাদের ভয়ের কারণ তাদের জনগণ তাদের বিরুদ্ধে যেতে পারে।

    তবে তেহরান এই দাবিগুলো সরাসরি খারিজ করেছে। ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফাকারি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, আপনারা কি এমন অবস্থায় পৌঁছে গেছেন যে নিজেই নিজের সঙ্গে কথা বলেন? আমরা আগেই বলেছি, আমাদের মতো মানুষ আপনার সঙ্গে কোনো চুক্তি করবে না। এখন নয়, ভবিষ্যতে নয়।

    মার্কিন গণমাধ্যমের বরাতে বলা হচ্ছে, পাকিস্তানসহ কিছু মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ওয়াশিংটন তেহরানে একটি ১৫ দফা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। ওই প্রস্তাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা, হিজবুল্লাহ ও অন্যান্য প্রক্সি গোষ্ঠীর প্রতি সমর্থন কমানো এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার মতো শর্ত থাকা বলা হচ্ছে।

    ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ জানায়, তেহরান মার্কিন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে নিজস্ব পাঁচ দফা পাল্টা প্রস্তাব পাঠিয়েছে। ফার্সের খবরে বলা হয়েছে, সংগৃহীত প্রস্তাবে স্পষ্ট করা হয়েছে যে যুদ্ধে সমাপ্তি ইরানের শর্তে হবে।

    বর্তমান পরিস্থিতিতে দাবিটিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তুলে ধরার চেষ্টা চলছে এবং দুই পক্ষের বক্তব্যে তীব্র পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। অনাগত সময়ে কীভাবে কূটনৈতিক আলোচনা এগোবে এবং এলাকার স্থিতিশীলতায় এর প্রভাব কী হবে, তা আন্তর্জাতিক মনোযোগ কাড়ছে।

  • খুলনায় ছিনতাই চলাকালে এক ছিনতাইকারীর গুলিতে অপর ছিনতাইকারী নিহত

    খুলনায় ছিনতাই চলাকালে এক ছিনতাইকারীর গুলিতে অপর ছিনতাইকারী নিহত

    খুলনায় ছিনতাইয়ের সময় একজন ছিনতাইকারীর গুলিতে অপর এক ছিনতাইকারী নিহত হয়েছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে দিঘলিয়া উপজেলার স্টিমার ঘাট সংলগ্ন পপুলার জুট মিল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয়রা জানান, দৌলতপুরের দেয়াড়া এলাকার মোবাইল রিচার্জ ও মুদি ব্যবসায়ী তাহিদুল ইসলাম (২৮) সাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে দেয়াড়া স্টিমার ঘাটের কাছে পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা ৩-৪ জন ছিনতাইকারী তাকে থামিয়ে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।

    বাধা দিলে ধস্তাধস্তি শুরু হয় এবং এক পর্যায়ে ছিনতাইকারীরা গুলির শব্দ করে। গুলিতে তাদের নিজ দলের এক সদস্য সাগর গুলিবিদ্ধ হন। পরে ঘটনাস্থল থেকে বাকিরা পালিয়ে যায়।

    স্থানীয়রা গুলিবিদ্ধ সাগরকে উদ্ধার করে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত সাগরের বাড়ি দিঘলিয়া উপজেলার দেয়াড়া এলাকায়।

    আহত ব্যবসায়ী তাহিদুল ইসলাম বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম জানান, গুলিতে নিহত ব্যক্তির মরদেহ হাসপাতালে মর্গে রাখা হয়েছে এবং আহত ব্যক্তি চিকিৎসাধীন আছেন। এখনও কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি; পুলিশ ঘটনায় জড়িত আসামিদের ধরতে কাজ করছে।

  • খুলনায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত

    খুলনায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত

    মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহিদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে খুলনায় বৃহস্পতিবার মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। শতকরা নম্বর শ্রদ্ধা-ভঙ্গিমায় শহরজুড়ে জাতীয় অনুভূতি ঝুঁকে পড়েন সাধারণ মানুষ부터 প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলো পর্যন্ত।

    সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে গল্লামারী শহিদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে সূচনা হয় উৎসবের। এ সময় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইনে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘোষণা করা হয়। সরকারি, আধাসরকারি, স্বশাসিত ও বেসরকারি ভবনগুলো জাতীয় পতাকা হাতে তুলে নেয়া হয় এবং শহরের প্রধান সড়ক ও দিগন্তরেখা জাতীয় পতাকা দিয়ে সজ্জিত করা হয়।

    গল্লামারী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের আয়োজনেও উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মোখতার আহমেদ, কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, পুলিশের রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ রেজাউল হক, কেএমপি কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকার, পুলিশ সুপারসহ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, আনসার-ভিডিপি, কেডিএ, নৌপুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, রাজনৈতিক ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

    সকাল সাড়ে আটটায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মোখতার আহমেদ। একই স্থানে পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, বিএনসিসি, ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য বাহিনীর কুচকাওয়াজ ও সমবেত মর্যাদাপূর্ণ প্রদর্শন অনুষ্ঠিত হয় এবং তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ উপস্থিতি ও কুচকাওয়াজকারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথি হিসেবে বিভাগীয় কমিশনার সালাম গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে রেঞ্জ ডিআইজি, কেএমপি অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    নগর ভবনে কেসিসি আয়োজিত শিশুদের চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। কেসিসি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কেসিসির প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান ও প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা সহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

    খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিস ও পিআইডির উদ্যোগে শহিদ হাদিস পার্কে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডিটোরিয়ামে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মোখতার আহমেদ। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ‘জাতির সূর্য সন্তান’ বলে অভিহিত করে তাদের ত্যাগ ও আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করছি, সরকারের দোরগোড়ায় তাদের সবসময় সেবা ও সহায়তা নিশ্চিত থাকবে বলে আশ্বাস দেন।

    জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকারের সভাপতিত্বে আয়োজনিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কেএমপি অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান, পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি তফায়েল আহমেদ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, বাংলাাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের মহানগর ও জেলা ইউনিটের নেতারা এবং শহিদ সাকিব রায়হানের মাতাসহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

    দিবসটি উপলক্ষে শহরের বিভিন্ন সিনেমা হল এবং উন্মুক্ত স্থানে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়। হাসপাতাল, জেলখানা, বৃদ্ধাশ্রম, এতিমখানা, পথশিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র, প্রতিবন্ধী কল্যাণ কেন্দ্র, শিশু দিবাযতœ কেন্দ্র এবং অন্যান্য সামাজিক প্রতিষ্ঠানে উন্নতমানের খাবার পরিবেশনের মাধ্যমে সেবা নিশ্চিত করা হয়। জাতির শান্তি ও অগ্রগতির জন্য মসজিদে, মন্দিরে, গীর্জায় ও অন্যান্য পূজা স্থানে বিশেষ প্রার্থনা ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

    বিআইডব্লিউটিএ রকেট ঘাটে সকাল ৯টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নৌবাহিনীর জাহাজ সাধারণ জনতার দর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি ভবন ও স্থাপনায় আলোকসজ্জা করা হয়। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা (টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, ফুটবল ও কাবাডি) অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সকল পার্ক ও বিভাগীয় জাদুঘর শিশুদের জন্য বিনামূল্যে খোলা রাখা হয়।

    প্রতিদিনের মতো খুলনা বেতার বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করে এবং স্থানীয় পত্রিকাগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশের মাধ্যমে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে। রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও নানা কর্মসূচি দিয়ে দিবসটি পালনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে দেশের স্বাধীনতার শিক্ষা ও স্মৃতিকে নতুন করে জীবন্ত রেখেছে।