Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • ঢাকা–করাচি নন-স্টপ ফ্লাইট কাল থেকে শুরু

    ঢাকা–করাচি নন-স্টপ ফ্লাইট কাল থেকে শুরু

    ঢাকা-করাচি রুটে নন-স্টপ ফ্লাইট আগামীকাল ২৯ জানুয়ারি থেকে পুনরায় চালু হচ্ছে। ট্রানজিট না থাকার ফলে যাত্রীদের সময় বাঁচবে এবং খরচও কমবে—বিমান কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

    বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস প্রথম পর্যায়ে সপ্তাহে দুই দিন—বৃহস্পতিবার ও শনিবার—ঢাকা-করাচি-ঢাকা নন-স্টপ ফ্লাইট পরিচালনা করবে। প্রায় দেড় দশক পর পাকিস্তানে আবারও যাত্রীবাহী বিমানের অবতরণ ঘটছে, যা দুই দেশের আকাশপথ যোগাযোগে নতুন ধাক্কা যোগ করবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

    এই রুটে ব্যবহার হবে ১৬২ আসনের বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজ, যা ঢাকা থেকে করাচি পর্যন্ত প্রায় ১,৪৭১ মাইল পথ পাড়ি দেবে। বিমান কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রথম ফ্লাইটের সব টিকিট ইতিমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে এবং দ্বিতীয় ফ্লাইটের ৮০ শতাংশের বেশি আসনও বুক হয়ে গেছে।

    বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম বলেন, সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ায় যাত্রীরা তিন ঘণ্টার মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন এবং ট্রানজিটের ঝামেলা না থাকায় ভ্রমণ আরও সচ্ছন্দ ও নিরাপদ হবে।

    এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি কার্গো পরিবহনেও নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা ব্যবসা-বাণিজ্য ও অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি করবে। দ্য বাংলাদেশ মনিটরের সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুল আলম আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই নন-স্টপ সংযোগ দুই দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে।

    পটভূমি: নিরাপত্তাজনিত কারণে ২০১২ সালে ঢাকা-করাচি রুটে ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছিল। ততদিন যাত্রীরা প্রায়ই দুবাই, দোহা বা অন্যান্য মধ্যপ্রাচ্যের ট্রানজিট হাব ব্যবহার করে ভ্রমণ করতেন, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল ছিল। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নতুন সরাসরি রুট চালু হলে রাউন্ড ট্রিপে ৩০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত সাশ্রয়ের সম্ভাবনা রয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ভাড়া হিসেবে ৫১ হাজার টাকার আশেপাশে যাতায়াত সম্ভব হতে পারে।

    যাত্রী ও ব্যবসায়িকরা বিমানের অফিস বা ওয়েবসাইট থেকে শিডিউল, টিকিট এবং অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য জেনে নেবেন।

  • ড. মুহাম্মদ ইউনূস না আসায় ৩৩২ নম্বর এআইকে পাঠালেন প্রধান উপদেষ্টা

    ড. মুহাম্মদ ইউনূস না আসায় ৩৩২ নম্বর এআইকে পাঠালেন প্রধান উপদেষ্টা

    “প্রথমেই মাফ চাইছি—প্রধান উপদেষ্টা মহোদয় আজ উপস্থিত হতে পারেননি, কর্মে ব্যস্ত থাকায় তিনি ৩৩২ নম্বর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)কে পাঠিয়েছেন। আপনাদের সামনে হাজির আছি আমি। আমি চেষ্টা করব তিনি যা বলতে চেয়েছিলেন সেটা যেন আপনাদের কাছে তুলে ধরতে পারি, আশা করি তিনি সন্তুষ্ট হবেন।” — এভাবে শুরু করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষ থেকে পাঠানো বক্তব্য, রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র (বিসিএফসিসি) এ আজ বুধবার অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে।

    ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধান উপদেস্টার নাম প্রকাশ করে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। একই সঙ্গে তিনি উদ্ভাবনী প্রতিভা উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’-এর ওয়েবসাইট ও লোগো উন্মোচন করেন।

    এই আয়োজনটি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ (বিএইচটিপিএ) এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস) যৌথভাবে বাস্তবায়ন করেছে। এক্সপোটি চার দিনব্যাপী চলবে এবং আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘ক্রিয়েট হিয়ার, কানেক্ট এভরিহোয়ার’ শিরোনামে ভবিষ্যৎ কেন্দ্রিক একটি আকর্ষণীয় প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়। বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা প্রযুক্তিখাতে উদ্ভাবন, দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে আকর্ষণ ক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন। পরে তিনি প্রদর্শনীর বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং তরুণ উদ্ভাবকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন—তাতে নতুন আইডিয়া ও সম্ভাবনার আলাপচারিতা দেখতে পাওয়া যায়।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। সভার সভাপতিত্ব করেন আইসিটি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী। বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামও এতে বক্তব্য দেন।

    চার দিনব্যাপী এই এক্সপোতে উদ্ভাবনী ডিজিটাল ডিভাইস, মোবাইল প্রযুক্তি, ই-স্পোর্টসসহ বিভিন্ন সেক্টরের প্রদর্শনী রয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় ছাড় ও বিশেষ অফার থাকায় ব্যবসায়িক যোগাযোগ সৃষ্টির সুযোগও পাওয়া যাবে। প্রদর্শনীর সময়ে ডিজিটাল রূপান্তর, স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম, ডিপ-টেক এবং উৎপাদন ও রপ্তানির ভিশন নিয়ে মোট পাঁচটি সেমিনার ও চারটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

    অনলাইনে অথবা স্থলীয়ভাবে নিবন্ধনের মাধ্যমে প্রদর্শনীটি সকলের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। দর্শকদের সুবিধার্থে পুরো ভেন্যুতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট প্রযুক্তির মাধ্যমে উচ্চগতির ওয়াই-ফাই সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিভিন্ন শিল্পখাত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, স্টার্টআপ ও উদ্ভাবকরা এখানে তাদের প্রযুক্তি ও ধারণা বিনিময়ের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার দিক নির্ধারণ করবেন—যা এই এক্সপোকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম করে তুলেছে।

  • অন্যায়ভাবে ক্ষমতায় ওঠার চেষ্টা হলে জনগণ তা প্রতিহত করবে: ডাঃ সৈয়দ তাহের

    অন্যায়ভাবে ক্ষমতায় ওঠার চেষ্টা হলে জনগণ তা প্রতিহত করবে: ডাঃ সৈয়দ তাহের

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের নায়েবে আমীর ডাঃ সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ২০১৪, ২০১৮ বা ২০২৪ সালের মতো পুনরাবৃত্তিমূলক নির্বাচন যদি ঘটায়, সেসব নির্বাচন কখনই গ্রহণযোগ্য হবে না এবং দেশের মানুষ তা মেনে নেবে না। মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান।

    ডাঃ তাহের বলেন, কেউ যদি অন্যায়ভাবে বা জোর করে ক্ষমতায় যাওয়ার চিন্তা করে, সেটি শুধু তাদের জন্য দুঃস্বপ্নই হবে। জনগণ আন্দোলনের মাধ্যমে তা পুনরায় প্রতিহত করবে এবং ঐ ধরনের শক্তিকে পতিত করবে।

    তিনি দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামীই একমাত্র রাজনৈতিক দল যাদের সদস্যদের মধ্যে ৪৩ শতাংশ নারী এবং তাদের সংখ্যা দেড় কোটির কম নয়। দলের আরপিওতে রাজনৈতিক দলগুলোতে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য রাখার বিধান থাকা সত্ত্বেও একমাত্র জামায়াতই তা সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে, বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    তবে, সমাজে কিছু মহল অপপ্রচারের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামের নারীদের গুরুত্ব কমে দেখাতে চায়। ডাঃ তাহের বলেন, ‘‘যাদের দলে নারী সদস্য বেশি সেখানে যদি গুরুত্ব কম বলে ধরা হয়, তাহলে যে দলে নারী কম তাদের গুরুত্ব কেমন হবে—এই প্রশ্নই তাদের অপপ্রচারের বাস্তবতাকে উন্মোচিত করে।’’

    নির্বাচন সামনে রেখে তিনি জানান, জামায়াতে ইসলামের নারী সদস্যরা অত্যন্ত সক্রিয়; তারা পুরুষ কর্মীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারের সাথে যোগাযোগ করছেন এবং ভোট চাচ্ছেন। দলীয় পর্যালোচনায় তাদের ধারণা, সারাদেশে নারী ভোটাররাই জামায়াতকে বেশি সমর্থন দেবেন—কারণ মহিলারা শান্তিপ্রিয় এবং বিশৃঙ্খলা বা উগ্রতাকে তারা অপছন্দ করেন।

    নিজের নির্বাচনি এলাকা চৌদ্দগ্রামে ডাঃ তাহের বলেন, তাঁর মূল্যায়ন অনুযায়ী তিনি পুরুষের চেয়ে নারী ভোট বেশি পাবেন; পুরুষেরও সমর্থন পাবেন, তবে নারীরা কর্মে বেশি সক্রিয় এবং জয়ের দিক থেকে এগিয়ে থাকবেন। সারাদেশে নারীরা এভাবে কাজ করছেন বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    তাহের অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষরা জামায়াতের নারী কর্মীদের তৎপরতা থেকে ভয় পাচ্ছে; তাই তারা সারাদেশে নারীদের উপর আক্রমণ ও হেনস্তা করছে এবং ভয়-ভীতি দেখিয়ে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, ‘‘নারীরা আমাদের মা, বোন ও কন্যা—তাদের সম্মান ও নিরাপত্তা রক্ষাই আমাদের সকলের দায়িত্ব।’’

    তিনি আরও বলেন, যারা আগে নারী অধিকার ও স্বাধীনতার কথা বলেন, তারা এখন রাজনৈতিক কারণ দেখিয়েই নারীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ইতোমধ্যে হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে; কাঁধে অস্ত্রধারী হামলা থেকে শুরু করে ভয়ঙ্কর হুমকিও দেয়া হচ্ছে—কিছু লোক বলেন জামায়াতকে ভোট দিলে হাত নিয়ে যেতে পারবে না, এমন ধরের হুমকি-সক্রিয়তাও আছে।

    নির্বাচন কমিশনের প্রতিশ্রুতিকে গুরুত্ব দিয়ে ডাঃ তাহের বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধান প্রতিশ্রুতি হওয়া উচিত একটি নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করা; কারণ অসুষ্ঠু ও পক্ষপাতদুষ্ট নির্বাচন দেশের ভিতকে নষ্ট করবে এবং দেশের ভবিষ্যতকে অন্ধকারময় করবে।

    তিনি সরকার এবং সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানান—জোর করে ক্ষমতায় গেলে তার ফল আগের চেয়েও ভয়াবহ হবে। জামায়াতসহ সব দলকে দায়িত্বশীল আচরণ করে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে; তা না হলে দেশের উন্নতি ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হবে এবং সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

    ডাঃ তাহের আরও বলেন, বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক সংঘর্ষে নারী কর্মীরা আহত হয়েছেন এবং অনেকেই দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছেন না। কেন্দ্র দখল ও নিয়ন্ত্রণের জন্য হুমকি-ধামকি ও মারধরের ঘটনা বাড়ছে; এতে নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রভাবিত হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রতিপক্ষদের একটি বড় কৌশলই হচ্ছে কেন্দ্র দখল করা, কারণ তারা জানে সাধারণ ভোটে তাদের জনপ্রিয়তা কম।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান আইনজীবী এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

  • বিএনপি এতই খারাপ হলে তাদের দুই মন্ত্রী কেন পদত্যাগ করেননি: তারেক রহমান

    বিএনপি এতই খারাপ হলে তাদের দুই মন্ত্রী কেন পদত্যাগ করেননি: তারেক রহমান

    বিএনপি সভাপতি তারেক রহমান বলেছেন, যারা এখন বিএনপির বিরুদ্ধে কথা বলছে—তারা এমন একটি দলের প্রতিনিধি, যারা পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচ্যের কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে বিএনপিকে আক্রমণ করছেন। তারা বলছে বিএনপি দুর্নীতির চ্যাম্পিয়ন ছিল; আমার প্রশ্ন, ২০০১-২০০৬ সালে যখন বিএনপি সরকারে ছিল, তখন ওই দলেরও দুজন মন্ত্রী ছিল—যদি বিএনপি সত্যিই এতই খারাপ হতো, তাঁরা তখন কেন পদত্যাগ করে বেরিয়ে আসেননি, বলেন তিনি।

    মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহ জেলা সার্কিট হাউস মাঠে আয়োজিত বিশাল এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। বেলা ৪টা ০৩ মিনিটে স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানের সঙ্গে মঞ্চে ওঠেন তারেক রহমান। বক্তব্যের শুরুতে তিনি ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি সংসদীয় আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের মঞ্চে এনে জনগণের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।

    তারেক রহমান ৪টা ২৬ মিনিটে জনতাকে সালাম জানিয়ে বক্তব্য শুরু করেন এবং ৪টা ৫২ মিনিটে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চেয়ে বক্তব্য শেষ করেন। সমাপ্তির পর তার গাড়িবহর গাজীপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

    তিনি বলেন, ওই দুই মন্ত্রী পদত্যাগ করেনি কারণ তারা জানতেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতি দমন বিষয়ে কঠোর ছিলেন এবং দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিতেন না। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পরিসংখ্যান দেখায় পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারী শাসনের সময় দেশ দুর্নীতিতে ডুবেছিল, কিন্তু ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়া দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে দুর্নীতির অবাধ বিস্তার রোধে কাজ শুরু হয়।

    তারেক রহমান অভিযোগ করেন, আজ যারা বিএনপিকে দোষারোপ করছে, তাদেরই সেই দুই মন্ত্রীর উপস্থিতি প্রমাণ করে তারা মিথ্যা বলছে।

    নেতাকর্মীদের কাছে তিনি ভোটসংক্রান্ত গুরুতর নির্দেশনা দেন—ভোটের দিন তাহাজ্জুদের নামাজ পড়বেন, সবাই মিলে কেন্দ্রে গিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করবেন এবং তারপর লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেবেন। শুধু ভোট দিয়ে চলে আসলেই হবে না; ভোটের ফলাফল কড়া-গণ্ডায় বুঝে নিতে হবে যাতে কেউ আমাদের ভোট লুট করতে না পারে।

    আগামী ১২ তারিখ ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভোটের পর খাল খনন কর্মসূচিতে আবার জনগণের সঙ্গে দেখা হবে; সবাইকে কোদাল নিয়ে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানান এবং নিজেও সেখানে থাকবেন।

    সভায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা স্লোগানে তাকে স্বাগত জানান; ‘তারেক রহমানের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’ ও ‘আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান’ স্লোগান করেন। ময়মনসিংহের পক্ষ থেকে তাকে লাল গোলাপ দিয়ে শুভেচ্ছা জানান হয়। স্থানীয় নেতারা মঞ্চে তাকে উপস্থিত দেখে টারাকান্দাকে পৌরসভায় রূপান্তরের দাবি জানান।

    তারেক রহমান মঞ্চে ওঠার আগে ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি আসনের ধানের শীষ প্রার্থীরা বক্তব্য দেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ইকবাল হোসেন, সুলতানা আহমেদ বাবু, মোতায়ের হোসেন বাবু, মাহমুদুল হক, ফরিদুল কবির তালুকদার, সিরাজুল হক, মাহবুব রহমান লিটন, মোস্তাফিজур রহমান বাবলু ও লৎফুরজ্জামান বাবর।

    প্রার্থীরারা নিজেদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে দলের নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান এবং স্লোগান দেন—‘নৌকা গেছে ভারতে, ধানের শীষ গদিতে’। লৎফুরজ্জামান বাবর বলেন, আমরা ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি আসন তারেক রহমানকে উপহার দিতে চাই এবং ভবিষ্যতে তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই।

  • স্বর্ণের নতুন রেকর্ড — ভরিতে ৫ হাজার ২৪৯ টাকা বাড়লো

    স্বর্ণের নতুন রেকর্ড — ভরিতে ৫ হাজার ২৪৯ টাকা বাড়লো

    দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বগতি মূর্ছিত করে নতুন রেকর্ড গড়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্য়াসোসিয়েশন (বাজুস) একদিনের ব্যবধানে ভরিতে ৫ হাজার ২৪৯ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করেছে ২ লাখ ৬২ হাজার ৪৪০ টাকায়, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

    বাজুস সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাতে প্রকাশ করা একটি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায়। নতুন দাম মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) থেকে কার্যকর হবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবং সার্বিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

    নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২,৬২,৪৪০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২,৫০,৪৮৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২,১৪,৭৩৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১,৭৬,৫৯৩ টাকা।

    বাজুস জানিয়েছে, ক্রেতাদের কলে স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে। তবে গহনার নকশা ও মানভেদে মজুরির হার পরিবর্তিত হতে পারে।

    এর আগে গত ২৫ জানুয়ারি বাজুস ভরিতে ১ হাজার ৫৭৪ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করেছিল ২,৫৭,১৯১ টাকায়, যা তখন ছিল সর্বোচ্চ। সেদিন থেকে একদিন পরই আবার নতুন রেকর্ড ঠেকছে।

    চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশে স্বর্ণের দাম মোট ১৪ দফা সমন্বয় করা হয়েছে; এর মধ্যে ১১ দফায় দাম বেড়েছে এবং ৩ দফায় দাম কমেছে। তথ্য অনুযায়ী গত বছর ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল।

    স্বর্ণের সঙ্গে সঙ্গে রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ভরিতে ৫২৫ টাকা বৃদ্ধি করে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ৭৫৭ টাকায়, যা রুপারও সর্বোচ্চ মূল্য। নতুন দামে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৭ হাজার ৪০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৭৮২ টাকা। চলতি বছরে রুপার দাম মোট ১১ দফা সমন্বয় করা হয়েছে।

    বাজারে স্বর্ণ-রুপার এই ধারাবাহিক মূল্য ওঠানামা গ্রাহক ও গহনার ব্যবসায়ীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বাজুসের ঘোষণা অনুসারে ক্রেতাদের বিক্রয়-ক্রয় করতে গেলে নতুন মূল্য ও সংযোজ্য ভ্যাট ও মজুরি বিবেচনায় রাখতে হবে।

  • প্রাণ দুধের ‘খাঁটি খামারি সম্মাননা ২০২৬’ যাত্রা শুরু

    প্রাণ দুধের ‘খাঁটি খামারি সম্মাননা ২০২৬’ যাত্রা শুরু

    দেশের দুগ্ধশিল্পে বিশেষ অবদান রাখা খাঁটি খামারিদের সম্মাননা দিতে শুরু করেছে জনপ্রিয় তরলদুধ ব্র্যান্ড ‘প্রাণ দুধ’। আজ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানের এমসিসিআই সম্মেলন কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় ‘প্রাণ দুধ-খাঁটি খামারি সম্মাননা ২০২৬’ ক্যাম্পেইনের।

    ক্যাম্পেইনের মূল উদ্দেশ্য হলো দুগ্ধশিল্পে নিবেদিত খামারিদের অনবদ্য পরিশ্রম ও অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাদের অনুপ্রেরণামূলক জীবনগল্প তুলে ধরে সমাজের আরও মানুষকে গাভিপালন ও দুগ্ধশিল্পের টেকসই উন্নয়নে অংশ নিতে উৎসাহিত করা। অনুষ্ঠানে সম্মাননা স্মারক উন্মোচন করেন প্রাণ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াছ মৃধা।

    প্রাণ ডেইরীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী ১লা ফেব্রুয়ারি থেকে দেশজুড়ে পাবনা, রংপুর, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, সাতক্ষীরা, খুলনা, যশোর, মাগুরা, কুড়িগ্রাম, নাটোরসহ অন্যান্য এলাকায় অবস্থিত প্রাণ ডেইরীর ১২৪টি গ্রামীণ দুধ সংগ্রহ কেন্দ্র (ভিএমসিসি) থেকে স্পট রেজিস্ট্রেশন শুরু হবে। এই কেন্দ্রগুলোতে প্রাণ ডেইরীর তালিকাভুক্ত মোট ১৬ হাজার দুটি খামারি রেজিস্ট্রেশন ফর্মে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করবেন।

    রেজিস্ট্রেশন শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় ধাপে নাম ভূক্ত খামারিদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে ওই খাতের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বিশেষ জুরিবোর্ড গঠন করা হবে। জুরিবোর্ড প্রথমে ১০ জন ‘খাঁটি খামারি’ চূড়ান্ত করবে। এরপর জুরিবোর্ডের নম্বর ও ভোক্তাদের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে সেরা তিন খামারি নির্ধারণ করা হবে। বিজয়ীদেরকে সম্মাননা স্মারক ও এক লাখ টাকার সমমূল্যের পুরস্কার দেওয়া হবে। বাকি সাত জনকেও বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হবে।

    ইলিয়াছ মৃধা অনুষ্ঠানে বলেন, “এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা দুগ্ধশিল্পে নিবেদিত খামারিদের সম্মানিত ও অনুপ্রাণিত করতে চাই। তাদের সংগ্রামী জীবন ও সফলতার গল্প তুলে ধরে অন্যদেরও গাভি লালন‑পালনে উৎসাহিত করার লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি ভোক্তাদের কাছে নিরাপদ ও মানসম্মত দুধ পৌঁছে দেওয়ার প্রাণ দুধের অঙ্গীকারও আমরা সামনে আনতে চাই।”

    প্রাণ ডেইরীর চিফ অপারেটিং অফিসার মাকসুদুর রহমান বলেন, “প্রাণ দুধ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের হাজার হাজার খেটে খাওয়া খামারির পাশে দাঁড়িয়েছে। ন্যায্য মূল্য প্রদান, প্রশিক্ষণ, ভেটেরিনারি সেবা ও বিভিন্ন সহায়তার ফলে বহু খামারির জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।”

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাণের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার (মার্কেটিং) মো. আলী হাসান, প্রাণ ডেইরীর হেড অব মার্কেটিং সৈয়দ মুস্তায়িন কাদের, ব্র্যান্ড ম্যানেজার ফজলে এলাহি নাঈমসহ প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। কর্তৃপক্ষ বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় খামারিদের ক্ষমতায়ন এবং দেশি দুগ্ধশিল্পের টেকসই উন্নয়নে নতুন আন্দোলন সৃষ্টি করার আশা করা হচ্ছে।

  • বাজেট অধিবেশনে ভারতের দুই কক্ষে খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকপ্রস্তাব

    বাজেট অধিবেশনে ভারতের দুই কক্ষে খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকপ্রস্তাব

    ভারতের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনেই সংসদের উভয় কক্ষে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকপ্রস্তাব আনা ও গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভা ও নিম্নকক্ষ লোকসভায় বুধবার থেকেই এই প্রস্তাব উপস্থাপন শুরু হবে বলে জানা গেছে।

    খালেদা জিয়া ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর ভোরে ঢাকায় এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। প্রয়াত রাজনীতিকটি ৮০ বছর বয়সে দেশে-বিদেশে বহুসংখ্যক অনুসারী রেখে গেছেন; তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) একজন শীর্ষ নেতা এবং তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন — দু’টি পূর্ণ মেয়াদ ও একটি স্বল্প মেয়াদী।

    অধিবেশন শুরু হবে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর যৌথ অধিবেশনে ভাষণের মাধ্যমে। এর পর রাজ্যসভায় কার্যতালিকা অনুসারে এল. গণেশন ও সুরেশ কলমাদির মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব নেওয়া হবে। লোকসভায়ও সাবেক সাংসদ শালিনী পাতিল, ভানু প্রকাশ মির্ধা, সত্যেন্দ্র নাথ ব্রহ্ম চৌধুরী, সুরেশ কলমাদি এবং কবীন্দ্র পুরকায়স্থের প্রতি শোকপ্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    রাজ্যসভায় পার্লামেন্ট সচিব ২৬৯তম রাজ্যসভা অধিবেশনে উভয় কক্ষে পাস হওয়া এবং রাষ্ট্রপতির সম্মতি পাওয়া বিলগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণী টেবিলে উপস্থাপন করতে পারেন। এই তথ্যগুলো সংসদের স্বাভাবিক কার্যবিবরণীর অংশ হিসেবে ধরা হচ্ছে।

    এ(adj) অধিবেশন মোট ৬৫ দিনে ৩০টি কার্যদিবস সংবলিত এবং এটি ২ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি উভয় কক্ষ একসঙ্গে বিরতি নেবে এবং ৯ মার্চ থেকে অধিবেশন পুনরায় শুরু হবে। বিরতির সময়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অনুদান দাবির (Demands for Grants) পর্যালোচনার দায়িত্ব সংসদের স্থায়ী কমিটিগুলোর ওপর রাখা হয়েছে।

    অধিবেশনের প্রথম পর্যায়ে মূলত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের কেন্দ্রীয় বাজেট সংক্রান্ত আর্থিক কার্যক্রম ও রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনার জন্য নেয়া হবে বলে সংসদ সূত্রে আশা করা হচ্ছে।

    অন্যদিকে, ভারতের অর্থনৈতিক সমীক্ষা (ইকোনমিক সার্ভে) ২৯ জানুয়ারি উপস্থাপন করা হবে এবং কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬-২৭ ঘোষণা করা হবে ১ ফেব্রুয়ারি। অর্থমন্ত্রক ও এর অর্থনৈতিক শাখা এই সমীক্ষা প্রণয়নে ব্যাপকভাবে জড়িত হয়েছে; এতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের অর্থনৈতিক অবস্থা ও আগামী বছরের দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্লেষণ করে তুলে ধরা হয়েছে।

    খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ভারতীয় সংসদে শোকপ্রস্তাব নেয়া রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গীকার হিসেবেও দেখা হচ্ছে — এটি দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধার প্রতিফলন বলেই মনে করছেন কৌঁসুলি পর্যায়ের কয়েকজন পর্যবেক্ষক।

  • চলতি সপ্তাহেই ইরানে হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: কর্মকর্তারা বলছেন পরিকল্পনা ‘উত্তপ্ত’

    চলতি সপ্তাহেই ইরানে হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: কর্মকর্তারা বলছেন পরিকল্পনা ‘উত্তপ্ত’

    মধ্যপ্রাচ্যের নিম্নখাতের কয়েকজন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে একটি সামরিক হামলা চালাতে পারে। খবরটিতে বলা হয়েছে, যদি হামলা করা হয় তা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদেরকে লক্ষ্য করে করা হতে পারে।

    তবে হামলার সময়সূচি চূড়ান্ত নয়—সূত্ররা বলেন সময় পরিবর্তন হতে পারে। একই সঙ্গে তারা উল্লেখ করেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরে ইরানের বিরুদ্ধে নীতিনির্ধারণ ও কৌশল নিয়ে যে আলোচনা চলছে, সেটা এখন অনেকে ‘উত্তপ্ত’ বলে опис করছে।

    ইরানে গত মাসের শেষের দিকে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকেই তেলেগুলো বাড়ে। সরকার দমন অভিযান শানিয়েছে, এবং ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন সময় ইরানে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছে বলে জানা যায়।

    এক পর্যায়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের সরকারি নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আহ্বানও জানান। কিন্তু কয়েক দিন পর তিনি বলেছেন, ইরান সরকার আর বিক্ষোভকারীদের হত্যা করছে না—প্রতিক্রিয়াটা নিয়ে নানা ব্যাখ্যা হয়েছে। অনেকে মনে করেছেন তিনি হামলার পরিকল্পনা গোপন রাখতে এমন মন্তব্য করেছেন, আবার অনেকে বলছেন তিনি হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন।

    এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্টকের টানাপোড়েন কমাতে সৌদি আরব, কাতার ও ওমান সক্রিয়ভাবে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে এবং তারা সরাসরি সামরিক হামলার বিরোধী।

    মিডল ইস্ট আইকে একটি মার্কিন সূত্র অবশ্য জানান, এ মুহূর্তে হামলা না করার সিদ্ধান্ত ছিল কেবল সাময়িক; আর একটি গোয়েন্দা সূত্র বলেছে, ট্রাম্প প্রশাসন এখনও ইরানের সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্য সম্পূর্ণভাবে ত্যাগ করেনি।

    সূত্র: মিডল ইস্ট আই

  • সৎ শাসকই দেশের উন্নয়ন ঘটাবে: গোলাম পরওয়ার

    সৎ শাসকই দেশের উন্নয়ন ঘটাবে: গোলাম পরওয়ার

    খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনের প্রার্থী ও বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামীর জেলা সেক্রেটারি গোলাম পরওয়ার বলেছেন, দুর্নীতিমুক্ত দেশের নির্মাণে জনসাধারণের ভোটই পরিবর্তন আনতে পারে। তিনি বলেন, নাগরিকরা দাঁড়িপাল্লা প্রতীককে ভোট দিয়ে একজন সৎ শাসককে ক্ষমতায় বসাবেন—তাহলেই দেশ থেকে দুর্নীতি, বৈষম্য ও হিংসা নির্মূল হবে এবং ন্যায় ও ইনসাফের প্রতিষ্ঠা হবে।

    বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের কুলবাড়িয়া ওয়ার্ডে আয়োজিত উঠান বৈঠক ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেছিলেন, ক্ষমতায় থাকা কোনো দলের স্বার্থ অনুসরনে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে না; সেখানে আর দাঙ্গা-হিংসা, মারামারি বা অর্থনৈতিক লুটপাট থাকবে না। বিগত সরকার চালিত সময়ে দেশের অর্থপাচার ও লুটপাট ব্যাপকভাবে হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন এবং বলেন, এখনই দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে রূপান্তর ঘটানোর সময় এসেছে।

    গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ও জনজাগরণের মাধ্যমে দেশে অযাচিত শাসন ব্যবস্থা বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পেয়েছে এবং নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতিকে ভোট দিয়ে জামায়েত ইসলামীকে ক্ষমতায় আনার আহ্বান জানান তিনি। ক্ষমতায় এলে প্রত্যন্ত ও অবহেলিত এলাকাগুলোর গ্রামের অবকাঠামো — রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে বলে বক্তব্যে আশ্বাস দেন তিনি।

    সভায় কুলবাড়িয়া ওয়ার্ড নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি শেখ কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াত অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মঈনুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোক্তার হোসেন, মাওলানা মতিউর রহমান হাফেজ মইনুদ্দিন, শেখ রুহুল আমিন, রাজিকুল ইসলাম, শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন, বাবলুর রহমান ফকির বাতি, আব্দুস সোবহান ও রবিউল ইসলাম রবি প্রমুখ।

    তিনি একই দিনে মঠবাড়িয়া, চুকনগর আবাসন প্রকল্প এলাকা, গোবিন্দকাটি, কাঁঠালতলাসহ বিভিন্ন স্থানে উঠান বৈঠক ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যও রাখেন।

  • রূপসা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুই রিভলবার উদ্ধার

    রূপসা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুই রিভলবার উদ্ধার

    খুলনার রূপসা থানা এলাকায় র‍্যাব-৬ একটি বিশেষ অভিযানে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুইটি রিভলবার উদ্ধার করেছে।

    র‍্যাবের প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাত সোয়া ৯টার দিকে উপজেলার নৈহাটি এলাকায় একটি ঘর থেকে অস্ত্র দুটি উদ্ধার করা হয়। অভিযানটি পরিচালনা করে র‍্যাব-৬ এর সিপিসি স্পেশাল কোম্পানির একটি দল।

    র‍্যাব জানায়, নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে রূপসা থানাধীন ৩ নম্বর নৈহাটি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সামন্তসেনা পঁচার বটতলা গুচ্ছগ্রামে ওই ঘরে তল্লাশি চালানো হয় এবং সেখানে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুইটি রিভলবার পাওয়া যায়।

    উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে একটি যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি কোল্ট মডেল ১৮৭৮ সিক্স-শুটার রিভলবার রয়েছে।

    র‍্যাব আরও জানায়, উদ্ধারকৃত রিভলবার দুটির জব्ती ক্রিয়া উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনানুগ কার্যক্রম শেষে এসব অস্ত্র সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে রূপসা থানা বিপরীতে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    র‍্যাব বলেছে, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে যাতে অবৈধ অস্ত্র বিস্তার রোধ করে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।