Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান ও পরিবারের ২২ কোটি ৬৫ লাখ ৫২ হাজার ৩৩০ টাকার সম্পদ ক্রোক

    সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান ও পরিবারের ২২ কোটি ৬৫ লাখ ৫২ হাজার ৩৩০ টাকার সম্পদ ক্রোক

    অবৈধভাবে সংগৃহীত সম্পদ হস্তান্তর ও গোপনের চেষ্টা করার অভিযোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এবং তাঁর পরিবারের বিভিন্ন সদস্যদের বেশ কিছু সম্পদ ক্রোক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ওই সকলের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছে।

    দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এই আবেদন করলে, ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ রোববার এসব নির্দেশ দেন বলে দুপুরে দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ জানিয়েছেন।

    দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে, আছাদুজ্জামান মিয়া, তাঁর স্ত্রী আফরোজা জামান, দুই ছেলে — আসিফ শাহাদাৎ ও আসিফ মাহদিন, মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা, শ্যালিকা পারভীন সুলতানা এবং শ্যালক হারিচুর রহমান— এ পরিবারের নাম করে ঢাকার রমনা, জোয়ার সাহারা, মোহাম্মদপুরের রামচন্দ্রপুর, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প, গাজীপুরের কালীগঞ্জ, ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা ও ভাঙ্গায় মোট ২২ কোটি ৬৫ লাখ ৫২ হাজার ৩৩০ টাকার বাড়ি, ফ্ল্যাট ও জমি রয়েছে।

    দুদক জানায়, আয়ের উৎসের বাইরে থাকা এই সম্পদের বিষয়ে অভিযোগ অনুসন্ধান করতে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি দল গঠন করা হয়েছে। তদন্তে তাদের কাছে তথ্য মিলেছে যে পরিবারের সদস্যরা অবৈধভাবে অর্জিত এসব সম্পদ অন্যত্র হস্তান্তর বা স্থানান্তর করার, কিংবা গোপন বা নাশ করার চেষ্টা করছিলেন। বিশ্বস্ত সূত্রে জানায়, এসব কারণে তৎক্ষণাত ক্রোক করে রাখাই অনুসন্ধানের স্বার্থে জরুরি বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, যদি সম্পদগুলো ক্রোক না করা হয় তবে ভবিষ্যতের বিচারে রাষ্ট্রের অনুকূলে তা বাজেয়াপ্ত করা কঠিন হবে এবং ফলে রাষ্ট্রকে অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে। তাই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও সম্ভাব্য প্রক্রিয়া থেকে সম্পদের অপচয় রোধ করতে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

  • জাহাঙ্গীর আলম: ‘আ.লীগ বা ছাত্রদল নয়, সরকার ক্রিমিনালদের জামিনের বিরুদ্ধে’

    জাহাঙ্গীর আলম: ‘আ.লীগ বা ছাত্রদল নয়, সরকার ক্রিমিনালদের জামিনের বিরুদ্ধে’

    লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ বা ছাত্রদল নয়, সরকার ক্রিমিনালদের জামিনের বিরুদ্ধে।’

    রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কৃষি সংক্রান্ত ব্রিফিংয়ের সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। সভায় বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির তথ্য তুলে ধরা হয় এবং কৃষির উন্নয়ন নিয়ে উপদেষ্টা বিস্তারিত প্রজননা দেন।

    তবে ব্রিফিংয়ের সময় সাংবাদিকরা বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের পারোলে মুক্তি না পাওয়া বিষয়েও প্রশ্ন করেন — তাঁর স্ত্রী ও নয় মাসের শিশু সন্তানের মৃত্যুসহ ঘটনার পটভূমি সম্পর্কে জানতে চাইলে উপদেষ্টা স্পষ্টভাবে জানান, তিনি কেবল কৃষি নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দেবেন।

    এক সাংবাদিক তাকে স্মরণ করিয়ে দেন, ‘আপনি তো স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাও’। এসময় জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘না, স্বরাষ্ট্রের সময় আমি ডাকব।’ পরে আরেক সাংবাদিক ‘আপনি তো দায়বদ্ধ’ বললে তিনি বলেন, ‘না, আমি দায়বদ্ধ না। আজকে আমি কৃষির জন্য ডেকেছি। কৃষি ছাড়া বলব না। আপনারা কৃষির ওপর জিজ্ঞেস করবেন।’

    পরবর্তীতে একই ঘটনায় আরও প্রশ্ন উঠলে সভাকক্ষে থেকে চলে যান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

    পটভূমি: সম্প্রতি বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামকে নিয়ে বাড়িতে ঘটানো ঘটনায় তার স্ত্রী ও নয় মাসের শিশুর মৃত্যুর পাশাপাশি তিনি নিজেও নিহত হয়েছেন—এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। অভিযোগ উঠেছে, লাশ দেখতে পারোলে সাদ্দামকে মুক্তি দেওয়া হয়নি।

    তবে বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে বাগেরহাট জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, সাদ্দামের পরিবার পারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করেনি; বরং তারা জেলগেটে লাশ দেখানোর অনুরোধ করেছেন। ঘটনার সম্পূর্ণতা ও তদন্ত চালু আছে এবং আলোচনা এখনও চলছে।

  • তারেক রহমান: বিএনপি ক্ষমতায় এলে দুর্নীতি কঠোরভাবে দমন করবে

    তারেক রহমান: বিএনপি ক্ষমতায় এলে দুর্নীতি কঠোরভাবে দমন করবে

    বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের ভোটে ক্ষমতায় এলে দলটি যেকোনো মূল্যে দুর্নীতির উৎস বন্ধ ও দুর্নীতিবাজদের প্রতিহত করবে। তিনি আজ শনিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে এ কথা জানান।

    তারেক বলেন, পরিকল্পনা গ্রহণ করাই যথেষ্ট নয়—আমরা যদি দুর্নীতি ও অনৈতিকতাকে নিয়ন্ত্রণ না করতে পারি, তবে কোনো পরিকল্পনাই সফল হবে না। অতীতের অভিজ্ঞতার ওপর ভর করে তিনি দাবি করেন যে দুর্নীতি দমন করায় বিএনপির সক্ষমতা আছে এবং জনগণের সামনে এই দলের প্রতিশ্রুতি সেটা নিশ্চিত করবে।

    বক্তৃতায় তিনি স্মরণ করেন যে বিএনপি আগে ক্ষমতায় থেকে আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা মজবুত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। তিনি বলেন, ক্ষমতায় থাকলে দলের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদেরও ছাড় দেয়া হবে না এবং সংহতভাবে দেশের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।

    তারেক জনসমক্ষে ভোটের অধিকার রক্ষা করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি যাতে কারো দ্বারা ভোট অধিকার কেড়ে নেওয়া না যায়, সেটি নিশ্চিত করার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। চট্টগ্রামের মানুষসহ সারাদেশের জনগণ নিরাপদ পরিবেশে বসবাসের দাবি জানায়; এ নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনলেই ব্যবসা-বাণিজ্য ও জীবনমান ফিরবে বলেও দাবি করেন তিনি।

    শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক বলেন, ক্ষমতায় এলে প্রতিটি স্তরে বাস্তবমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা দেয়া হবে—যাতে শিক্ষার্থীরা কেবল সার্টিফিকেট না নিয়ে বাস্তবে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সক্ষম হয়।

    স্বাস্থ্য খাতে তিনি বলেন, বিস্তৃত হাসপাতাল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেয়ার বদলে গ্রামে-গঞ্জে সেবা পৌঁছে দেওয়াকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এ লক্ষে এক লাখ স্বাস্থ্যসেবী নিয়োগের পরিকল্পনা আনা হয়েছে, যাতে মা-বোন ও শিশুরা ঘরে বসেই প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারে।

    দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষক সুরক্ষার কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের কাছে ‘কৃষক কার্ড’ পৌঁছে দেয়া হবে যাতে তারা বিভিন্ন সহায়তা পায়। চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল কেটে পুনরায় ঢালু ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে—কারণ অনেক এলাকা খাল-নালা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে পানিতে ডুবে যায়।

    শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সম্পর্কেও তারেক বলেন, বিএনপির আমলেই ইপিজেড গড়ে উঠেছে এবং লাখো মানুষ কাজ পেয়েছে। আগামী নির্বাচনে দল পুনরায় ক্ষমতায় এলে আরও ইপিজেড স্থাপন করে চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানীতে পরিণত করা হবে।

    দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, দীর্ঘ দুই দশক পর শনিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামে ফিরেছেন তারেক রহমান। তিনি ২৪ জানুয়ারি সন্ধ্যে ৭টা ২০ মিনিটের বিমান বিজি-১৪৭ে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে সরাসরি নগরীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে রাত্রিযাপনের পর রোববার সকালে তরুণদের সঙ্গে পলিসি ডায়ালগে যোগ দেন এবং পরে পলোগ্রাউন্ডের মহাসমাবেশে অংশ নেন। সফর শেষে তিনি ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে একাধিক পথসভায় যোগ দেবেন বলে জানা গেছে।

    সমাবেশকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম নগরীকে কঠোর নিরাপত্তার আওতায় রাখা হয়েছে; প্রায় দুই হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয় এবং মঞ্চসহ পুরো এলাকা রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোন—এই তিন স্তরে ভাগ করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    তারেক বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা ও পরবর্তী গণআন্দোলনের পরে দেশ একটি অর্থবহ পরিবর্তন চাইছে—যেখানে প্রতিটি নাগরিক উন্নত শিক্ষা ও সুচিকিৎসা পাবে। কেবল সমালোচনাই নয়, ক্ষমতায় এলে বিএনপি বাস্তব কাজ করে জনগণের অধিকার নিশ্চিত করবে—এটাই তাদের বার্তা।

  • চাঁদাবাজদের জন্য ‘কমপ্লিট লাল কার্ড’ ঘোষণা জামায়াত আমিরের

    চাঁদাবাজদের জন্য ‘কমপ্লিট লাল কার্ড’ ঘোষণা জামায়াত আমিরের

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে এখন ‘চাঁদাবাজি’ নামক এক নিকৃষ্ট পেশার জন্ম হয়েছে এবং তাদের জন্য তাঁর পক্ষ থেকে ‘কমপ্লিট লাল কার্ড’ থাকবে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ‘আমরা কারো সন্তানকে চাঁদাবাজি করতে দেব না। যারা এই পথ বেছে নিয়েছেন, তারা ফিরে আসুন; না হলে বিচারকে মুখোমুখি হতে হবে।’

    রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর ঢাকা-৪ ও ঢাকা-৫ নির্বাচনী আসনের উদ্যোগে আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আগামী ১২ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের আগে আয়োজিত এই সমাবেশে তিনি বক্তব্য দেন।

    বক্তব্যের শুরুতেই ডা. শফিকুর রহমান গত জুলাই আন্দোলনের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। এক সম্মাননা স্মারক তিনি এক শহীদের বোনের হাতে তুলে দিয়ে বলেন, ‘এই সম্মান আমার প্রাপ্য নয়; এটি সেই শহীদদের প্রাপ্য যারা জালিমের সামনে বুক পেতে দাঁড়িয়েছিল।’

    যুব সমাজকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘‘আমরা যুবকদের হাতে ‘বেকার ভাতা’ তুলে দিয়ে তাদের অলস করে রাখতে চাই না। তাদেরকে দক্ষ কারিগরে পরিণত করতে হবে, যাতে তারা দেশের গঠনকারী শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে।’’ তিনি আরও বলেন, সাধারণ শিক্ষা, আলিয়া বা কউমি—এই সব মাধ্যমেই কর্মমুখী ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

    নারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় বিশেষ গুরুত্বারোপ করে আমির বলেন, ‘আমাদের মা-বোনদের ইজ্জত আমাদের জীবনের চেয়েও মূল্যবান। তাদের কর্মক্ষেত্রে ও যাতায়াতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিতে হবে।’ তিনি বলেন, শহরগুলোর ব্যস্ত সময়গুলোতে শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য বিশেষ ইভনিং বাস সার্ভিস চালু করা হবে এবং সরকারি বাসের নিচতলাটি মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হবে।

    নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন ও সেবা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি ব্যবহার করার ঘোষণা দেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা দুটি অ্যাপস চালু করবো—একটির মাধ্যমে চাঁদাবাজদের গোপনে চিহ্নিত করা যাবে, আর অন্যটির মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সরাসরি তাদের সমস্যা জানাতে পারবে।’ এছাড়া নির্বাচিত হলে জনপ্রতিনিধিদের প্রতি ছয় মাসে একবার সরাসরি জনগণের সামনে হাজির হয়ে তাদের প্রশ্নের উত্তর ও সম্পদের হিসাব দিতে হবে বলেও তিনি জানান।

    ঢাকা-৪ ও ঢাকা-৫ আসনের জলাবদ্ধতা ও নদী দূষণ নিয়ে তিনি কঠোর এক হুঁশিয়ারি দেন। বলেন, ‘যদি আমরা দেশ পরিচালনার সুযোগ পাই, তাহলে ওই এলাকার এমপি, মেয়র ও কাউন্সিলরদের বছরে চারবার সেই দূষিত নদীর পানিতে গোসল করানো হবে। যখন তারা নিজে ওই পানিতে নামবেন, তখনই নদী পরিষ্কার রাখতে তাদের বাধ্য করা সম্ভব হবে।’

    জুলাই আন্দোলনের শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দাবি করে তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের গণহত্যাকারীদের ক্ষমা নেই। জুলাইয়ের চেতনা এখনও জাগ্রত। কেউ যদি নির্বাচনের ফলাফল নেওয়ার পরে অন্যভাবে বদলানোর চেষ্টা করে, তবে ছাত্র-জনতা তা রুখে দেবে।’ প্রশাসনকে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব থেকে বিরত থেকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বানও করেন তিনি।

    বৃহৎ এই জনসভায় ১০ দলীয় জোটের স্থানীয় নেতারা, শহীদ পরিবারগুলোর সদস্য এবং সাধারণ মানুষের বিশাল সমাগম ছিল। সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান ভোটারদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, আগামী ১২ তারিখ ‘ইনসাফ ও আজাদির’ পক্ষে রায় দেবেন—এভাবেই শেষ করে তিনি তাঁর বক্তব্য।

  • সোনার রেকর্ড দর: এক ভরিতে ২২ ক্যারেট সোনা ২ লাখ ৫২ হাজার ছাড়াল

    সোনার রেকর্ড দর: এক ভরিতে ২২ ক্যারেট সোনা ২ লাখ ৫২ হাজার ছাড়াল

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) একদিনের ব্যবধানে আবারও দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সর্বোচ্চ প্রতি ভরিতে ৮ হাজার ৩৪০ টাকা বাড়ানো হয়েছে, ফলে ২২ ক্যারেটের সোনার এক ভরির দাম ছাড়িয়ে গেছে দুই লাখ ৫২ হাজার ৪৬৭ টাকা — যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড।

    বাজুস এই ঘোষণা বুধবার (২১ জানুয়ারি) করেছে এবং নতুন দাম বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। সংস্থার বক্তব্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক বাজারে তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার মূল্য বাড়ায় স্থানীয় বাজারেও দাম ওঠে।

    বিশ্বজুড়ে স্বর্ণের দর সম্পর্কিত ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি দেখাচ্ছে, বৈশ্বিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪,৮০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। এই আন্তর্জাতিক উর্ধ্বগতি স্থানীয় বাজারে মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে আনা হয়েছে।

    নতুন ঘোষণা অনুযায়ী সোনার দামগুলো হলো: ২২ ক্যারেট—প্রতি ভরি ২,৫২,৪৬৭ টাকা; ২১ ক্যারেট—প্রতি ভরি ২,৪০,৯৭৮ টাকা; ১৮ ক্যারেট—প্রতি ভরি ২,০৬,৫৬৯ টাকা; এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা—১,৬৯,৬৫৩ টাকা।

    সোনার সঙ্গে সঙ্গে রুপার দামও বাড়েছে। বাজুস জানিয়েছে, রুপার নতুন দর অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৬,৮৮২ টাকা, ২১ ক্যারেট—৬,৫৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেট—৫,৫৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৪,২০০ টাকা।

    দাম বৃদ্ধির এই ঘোষণা গহনা ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের ওপর প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা যাচ্ছে; ক্রেতাদের জন্য খরচ বেড়ে যাবে এবং ব্যবসায়ীদেরও মূল্য নির্ধারণ পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন হতে পারে। বাজুসের পরবর্তী আপডেট বা বাজারে প্রতিক্রিয়া গুরুত্বসহকারে নজর রাখার পরামর্শ রয়েছে।

  • ট্রাম্পের শুল্কের চেয়েও বিপজ্জনক হতে পারে চীনের রেকর্ড বাণিজ্য উদ্বৃত্ত

    ট্রাম্পের শুল্কের চেয়েও বিপজ্জনক হতে পারে চীনের রেকর্ড বাণিজ্য উদ্বৃত্ত

    ২০২৬ সালের প্রথম দুই সপ্তাহেই চীনের সাম্প্রতিক বাণিজ্য পরিসংখ্যান বিশ্ব মনোযোগ কেড়ে নিয়েছে। ২০২৫ সালে চীনের বার্ষিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রেকর্ড ১.২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়—এটি বিশ্ব ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। তথ্য প্রকাশের পর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারক এ ফলাফলকে নতুন উদ্বেগ হিসেবে দেখছেন।

    নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ব্রুকিংস ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো ঈশ্বর প্রসাদ মন্তব্য করেছেন, মুক্ত বাণিজ্য ব্যবস্থার জন্য চীনের এই বিশাল উদ্বৃত্ত ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা শুল্কের চেয়েও বড় ঝুঁকি হতে পারে। তাঁর যুক্তি—চীনের সস্তা পণ্য কেবল উন্নত দেশগুলোর শিল্পকে নয়, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোকেও প্রতিযোগিতায় দুর্বল করে দিচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে রপ্তানিভিত্তিক প্রবৃদ্ধির ওপর নির্ভর করলে আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক বাণিজ্য ব্যবস্থা আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

    অন্যদিকে চীনা রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবাল টাইমস’-এর সাবেক প্রধান সম্পাদক হু সিজিন ১৬ জানুয়ারি উইবোতে লিখেছেন, এই উদ্বৃত্ত ওয়াশিংটনের অভিজাত শ্রেণিকে আতঙ্কিত করেছে। তাঁর ভাষ্যে, ‘‘চীনের অর্থনীতি অত্যন্ত স্থিতিস্থাপক; কোনো বাণিজ্য যুদ্ধ দিয়েই একে দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়।’’ হু আরও যোগ করেন, চীনের রপ্তানি জোরালো হওয়ার পেছনে জোর-জবরদস্তি নয়, বরং পণ্য উৎপাদনে সততা ও পরিশ্রম আছে।

    বাণিজ্য উদ্বৃত্তের গঠন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় এটি একপাশে শক্তিশালী রপ্তানি ও অন্যপাশে দুর্বল আমদানি—এই অনুপাত থেকেই এসেছে। ২০২৫ সালে চীন-মার্কিন শুল্ক যুদ্ধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রপ্তানি ২০ শতাংশ কমলেও আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, আসিয়ান ও ইইউ-তে রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে; আফ্রিকায় তা রেকর্ড ২৫.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী পণ্যের চাহিদা, চীনের উৎপাদনখাতে মুদ্রাসঙ্কোচন ও ইউয়ানের মূল্যহ্রাস মিশে চীনা পণ্যকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও সাশ্রয়ী করে তুলেছে।

    তবে আমদানির দিকটি পুরোটা সঙ্গে নেই। ২০২৫ সালে চীনের মোট আমদানি মাত্র ০.৫ শতাংশ বাড়ে—অর্থাৎ রপ্তানির ৬.১ শতাংশ বৃদ্ধির সঙ্গে তুলনীয় নয়। অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদার স্থবিরতা প্রধান কারণ। ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে ভোক্তাসামগ্রীর খুচরা বিক্রির প্রবৃদ্ধি ধীরে ধীরে কমে—নভেম্বরে তা তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ১.৩ শতাংশে নেমে আসে। একই সময় আবাসন খাতে সংকটের ফলে স্থাবর সম্পদে বিনিয়োগও সংকুচিত হয়েছে; এমনকি ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবারের মতো বার্ষিক বিনিয়োগে পতনের আশঙ্কাও করা হচ্ছে। ফল হিসেবে আমদানির গতি ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।

    গত বছর সাত মাসে চীনের মাসিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল; তুলনামূলকভাবে ২০২৪ সালে এটা মাত্র একবার ঘটেছিল—এটিই নির্দেশ করে যে এই ভারসাম্যহীনতা আকস্মিক নয়, বরং ধারাবাহিক। বিশ্বপেক্ষায় এই বিশাল রপ্তানিটা একদিকে অর্থনৈতিক শক্তি ও বিশ্বব্যবস্থায় সরবরাহশৃঙ্খলের পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখছে; এটি মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করেছে এবং উন্নত দেশগুলোর স্তরে মূল্যস্ফীতির চাপ কমিয়েছে। অন্যদিকে, অত্যধিক রপ্তানিনির্ভরতা চীনের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির কাঠামোগত ভারসাম্যহীনতাকে তীব্র করতে পারে—আভ্যন্তরীণ চাহিদি দুর্বল থাকলে দেশের অর্থনীতি বহুদূরপ্রসারি ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এছাড়া বাণিজ্যিক অংশীদারদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়লে প্রতিরোধমূলক কৌশল, শুল্ক বা অন্যান্য বাধা আরোপের ঝুঁকি বেড়ে যাবে।

    আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়াও এসেছে। ২০২৫ সালের প্রথম ১১ মাসে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার পর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা সতর্ক করে বলেছেন—চীন যদি রপ্তানিমুখী মডেলের ওপর অনড় থাকে, তা বিশ্ব বাণিজ্যে উত্তেজনা বাড়াবে। ফরাসি রাষ্ট্রপ্রধান ইমানুয়েল মাখোঁ ইস্যুতে সতর্ক করে বলেছেন, বেইজিং যদি ইউরোপের সঙ্গে এই ভারসাম্যহীনতা সমাধান না করে, তাহলে ইইউ অতিরিক্ত শুল্কসহ কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।

    এদিকে বেইজিং আনয়াসহ পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও দেখা যায়। চলতি মাসের শুরুতে গুয়াংডং পরিদর্শনে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং বলেন, দেশে আমদানি বাড়ানো এবং আমদানি-রপ্তানির মধ্যে আরও সুষমতা বজায় রাখা প্রয়োজন। বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাও জানিয়েছেন, বিশেষ টার্গেট ক্রয়, সমন্বিত বাণিজ্য মেলা ইত্যাদির মাধ্যমে আমদানি বাড়াতে সরকার কাজ করবে। সরকার ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে ফটোভোলটাইক পণ্যের ওপর রপ্তানি ভ্যাট রিবেট বাতিল করা হবে; ব্যাটারি পণ্যে রিবেট ধাপে ধাপে কমিয়ে ভবিষ্যতে বন্ধ করা হবে। এছাড়া এই মাসে চীন ও ইইউ’র মধ্যে বৈদ্যুতিক গাড়ি সম্পর্কিত একটি সমঝোতা হয়নি—চীনা গাড়ি নির্মাতারা অ্যান্টি-সাবসিডি শুল্কের বদলে ন্যূনতম মূল্য বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ব্যবসা চালানোর সুযোগ পাচ্ছে।

    চীনের বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত কি আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ—এর উত্তর নির্ভর করে কয়েকটি বিষয়ের ওপর: রপ্তানি থেকে অর্জিত আয় দেশীয় চাহিদি ও বিনিয়োগে ফিরছে কি না, রপ্তানি বৃদ্ধিই আমদানিকে ত্বরান্বিত করছে কি না, এবং বাণিজ্যিক নীতিতে কীভাবে সমন্বয় করা হচ্ছে। হু সিজিনের মতো অনেকে বলেছেন—এটি চীনের শক্তির প্রমাণ; অন্যদিকে ঈশ্বর প্রসাদের মতো অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন—এই অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি উভয়ের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ।

    চীনের রেকর্ড বাণিজ্য উদ্বৃত্ত বিশ্ব অর্থনীতির জন্য সম্ভাব্য সুবিধা আর ঝুঁকি—দুইটাই বহন করছে। এখন প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট নীতিগত আবেদন ও আন্তঃদেশীয় সমঝোতা, যাতে এই উদ্বৃত্ত বিশ্ব ও চীনের জন্য স্থিতিশীল ও সহায়ক ফল করে। সূত্র: বিজনেস টাইমস।

  • চীনের সঙ্গে বাণিজ্য করলে কানাডার ওপর ১০০% শুল্ক আরোপের হুমকি দিলেন ট্রাম্প

    চীনের সঙ্গে বাণিজ্য করলে কানাডার ওপর ১০০% শুল্ক আরোপের হুমকি দিলেন ট্রাম্প

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যদি কানাডা চীনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে তাহলে তিনি তৎক্ষণিকভাবে সব কানাডিয়ান পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবেন। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই হুঁকি দেন।

    ট্রাম্প লিখেছেন, “কানাডা ব্যবহার করে চীন তাদের সস্তা পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকিয়ে দেবে — যদি কেউ এটা ভাবেন, তারা ভুল বুঝছেন।” তার ভাষায়, চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে উঠলে যুক্তরাষ্ট্রে কানাডা থেকে আসা সব পণ্যে বিড়ে ১০০% শুল্ক চাপানো হবে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প কানাডার এক ব্যক্তিকে সম্বোধন করে ‘গভর্নর কার্নি’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং বিদ্রুপাত্মক মন্তব্যও করেছেন; তিনি নিয়মিতভাবে কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

    কানাডার মন্ত্রী ডোমিনিক লেব্লাঙ্ক শনিবার মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্সে লিখে বিষয়টি খণ্ডন করেছেন। তিনি বলেন, “চীনের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য করার কোনো তোড়জোড় আমাদের নেই।” লেব্লাঙ্ক আরও জানান, গত সপ্তাহে চীনের সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছে সেটি শুল্ক সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা দূর করে।

    মন্ত্রী বলেন, নতুন সরকার দেশটির অর্থনীতি শক্তিশালী করতে কাজ করছে এবং দেশের ভেতরে ও বাইরে বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বকে আরও মজবুত করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

    ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই কানাডিয়ান পণ্যে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন এবং মাঝে মাঝে কানাডাকে নিয়ে তীব্র মন্তব্যও করেন।

    (সূত্র: আলজাজিরা)

  • শীতঝড়ে যুক্তরাষ্ট্রে ১০ হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল

    শীতঝড়ে যুক্তরাষ্ট্রে ১০ হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল

    শীতকালীন ঝড়ের কারণে শনিবার থেকে সোমবারের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১০ হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, জানিয়েছে ফ্লাইটট্র্যাকিং সাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়্যার।

    ফ্লাইটঅ্যাওয়্যারের তথ্য অনুযায়ী শনিবারেই উত্তরে টেক্সাস ও ওকলাহোমায় ঝড়ের তাণ্ডবে তিন হাজার চারশোরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছিল। ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ (DFW) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে এবং নিকটবর্তী ডালাস লাভ ফিল্ড থেকে ৬৪ শতাংশ ফ্লাইট বন্ধ ছিল। ওকলাহোমা সিটি থেকেও প্রায় ৯০ শতাংশ ফ্লাইট বাতিলের তালিকায় ছিল।

    রবিবার বাতিলের সংখ্যা আরও বাড়ে — আবহাওয়ার কারণে ওই দিন প্রায় ৬ হাজার ৪০০টিরও বেশি ফ্লাইট বন্ধ ছিল। ঝড় উপকূলের দিকে অগ্রসর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এর প্রভাব পূর্বাভিমুখেও ছড়িয়ে পড়েছে; ওয়াশিংটন ডিসির রিগ্যান জাতীয় বিমানবন্দর থেকে রবিবারের জন্য প্রায় ৯০ শতাংশ ও উত্তর ক্যারোলিনার শার্লট ডগলাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৭৩ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছিল।

    সোমবারও ইতিমধ্যেই সাত শতাধিক ফ্লাইট বাতিল করার খবর পাওয়া গেছে। কর্তৃপক্ষ বলছে ঝড় বদলাতে শুরু করলে বিমান সংস্থাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের তাঁদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য রুট পুনর্গঠন ও পুনঃবুকিংয়ের কাজ করবে, কিন্তু বিশাল সংখ্যক বাতিল ও দেরির কারণে ভ্রমণে সমস্যা চলতেই পারে।

    দক্ষিণ-মধ্য আমেরিকায় তুষারপাত ও বিপজ্জনক বরফ জমে থাকা এবং তার বিস্তার পূর্ব দিকে বাড়ার সতর্কতা দেয়া হয়েছে। মার্কিন আবহাওয়া দফতর বলছে টেক্সাস থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত দুই হাজার মাইলেরও বেশি এলাকায় এই শীতকালীন ঝড় আঘাত হানতে পারে। পরিস্থিতি সম্পর্কে আপডেট পেতে যাত্রীরা তাদের বিমানবন্দর ও বিমান সংস্থার খবরাখবর নিয়মিত দেখতে বলেছে কর্তৃপক্ষ।

  • খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আইসিএমএবির সিএমএ প্রোগ্রামে কোর্স মওকুফ সুবিধা পাবে

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আইসিএমএবির সিএমএ প্রোগ্রামে কোর্স মওকুফ সুবিধা পাবে

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন (বিএ) ডিসিপ্লিন এবং হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট (এইচআরএম) ডিসিপ্লিনের সঙ্গে দি ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি)-এর পৃথক দুটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। রবিবার, ২৫ জানুয়ারি বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সভাকক্ষে এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

    সমঝোতা স্মারকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে স্বাক্ষর করেন ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ নূরুন্নবী এবং আইসিএমএবির পক্ষে স্বাক্ষর করেন ভাইস-প্রেসিডেন্ট এস এম জহির উদ্দিন হায়দার। স্বাক্ষরের পর উভয় পক্ষ সমঝোতা স্মারক বিনিময় করেন।

    ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ নূরুন্নবী অনুষ্ঠানে বলেন, স্বাক্ষরিত এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও আইসিএমএবি বাংলাদেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং উচ্চমানের পেশাদার কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট তৈরিতে কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তুলবে। তিনি বলেন, সময়োপযোগী যৌথ কার্যক্রম গ্রহণ, একাডেমিক ও পেশাদার সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার মাধ্যমে লক্ষ্যটি অর্জন করা হবে।

    দুইটি পৃথক এমওইউ শিক্ষার্থীদের পেশাদার হিসাবরক্ষণ শিক্ষায় নতুন সুযোগ খুলে দেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এর ফলে দেশে দক্ষ, যোগ্য ও মানসম্পন্ন ব্যবস্থাপনা হিসাবরক্ষক তৈরিতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায় প্রশাসন স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. রুমানা হক, ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিনের প্রধান প্রফেসর ড. মোঃ নূর আলম, প্রফেসর শেখ মাহমুদুল হাসান, এইচআরএম ডিসিপ্লিনের প্রধান মোঃ মেহেদী হাসান, আইসিএমএবির ভাইস-প্রেসিডেন্ট এস এম জহির উদ্দিন হায়দার, সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম উদ্দিন এবং খুলনা ব্রাঞ্চের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক মোঃ এনামুল হক। দুই ডিসিপ্লিনের শিক্ষক ও আইসিএমএবির কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

    সমঝোতা স্মারকে বলা হয়েছে, উভয় প্রতিষ্ঠান অডিট ও হিসাবরক্ষণ শিক্ষার মানোন্নয়নে যৌথ গবেষণা, প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও কর্মশালাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করবে। একই সঙ্গে কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টিং শিক্ষার প্রসারে একাডেমিক ও পেশাদার সম্পর্কের একটি শক্ত ভিত্তি গড়ে তোলার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

    এমওইউর একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আইসিএমএবির সিএমএ প্রোগ্রামে কোর্স মওকুফ সুবিধা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিন থেকে বিবিএ ডিগ্রি প্রাপ্তরা নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে সিএমএ প্রোগ্রামে একাধিক কোর্সে মওকুফ পাবেন। একইভাবে এইচআরএম ডিসিপ্লিন থেকে বিবিএ ইন এইচআরএম শেষ করা শিক্ষার্থীরাও নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে আইসিএমএবির সিএমএ প্রোগ্রামে কোর্স মওকুফ সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।

    আরও এক সুবিধা হলো, যারা বিবিএ অধ্যয়নের পাশাপাশি সিএমএ প্রোগ্রাম অনুসরণ করতে চান, তারা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে বিষয়ভিত্তিক বা ‘সাবজেক্ট টু সাবজেক্ট’ ভিত্তিতে মওকুফ সুবিধা পাবে। উদাহরণস্বরূপ, বিবিএ অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য ন্যূনতম ৩.০০ সিজিপিএ অর্জন করতে হবে; একইভাবে এইচআরএম ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীদের জন্য ৪.০০ স্কেলে ন্যূনতম ৩.০০ গড় জিপিএ থাকা সাপেক্ষে তালিকাভুক্ত আইসিএমএবি বিষয়গুলোতে বিষয়ভিত্তিক মওকুফ দেওয়ার সুযোগ থাকবে।

    এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পেশাদার যোগ্যতা অর্জনে দ্রুততা পাবেন এবং আইসিএমএবির সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ হিসাবরক্ষক হিসেবে গড়ে ওঠার পথ সুগম হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ও আইসিএমএবি দুপক্ষই এই অংশীদারিত্বকে দীর্ঘমেয়াদি ও ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • মানুষ আমাদেরকে হাস্যোজ্জ্বল মুখে গ্রহণ করছে: নজরুল ইসলাম মঞ্জু

    মানুষ আমাদেরকে হাস্যোজ্জ্বল মুখে গ্রহণ করছে: নজরুল ইসলাম মঞ্জু

    খুলনা-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক ও সর্বাধিক জনপ্রিয় দল; মানুষের কাছে এটি অত্যন্ত প্রিয়। দীর্ঘসময় মানুষ ভোট দিতে না পারায় এবার নির্বাচনী উত্তেজনা তীব্র হওয়ায় ভোটের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। আমরা প্রচারণায় ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি এবং মানুষ আমাদেরকে হাস্যোজ্জ্বল মুখে গ্রহণ করছেন—তারা চান জনপ্রিয় দল বিএনপির প্রার্থীরা জয়ী হোক। মঞ্জু মনে করেন জনগণের আস্থা থাকায় বিএনপি প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জিতবে।

    তিনি বলেন, বিএনপি বিগত ১৬ বছর ধরে জনগণের দাবি আদায়ে রাজপথে ছিল এবং উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

    রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় নগরীর ৩০ নং ওয়ার্ডের রূপসা স্ট্যান্ড রোড, চানমারী বাজার, খ্রিস্টান পাড়া ও অন্যান্য এলাকায় গণসংযোগকালে এসব কথা বলেন তিনি। সেই সময় দলের পক্ষে লিফলেট বিতরণও করা হয়।

    মঞ্জু আরও বলেন, জাতির প্রিয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া সর্বোচ্চ জনপ্রিয়তায় আছেন এবং তার অনুপস্থিতির শোক মানুষ এখনও ভুলতে পারেনি। আমাদের নেতা তারেক রহমান ১৭ বছর পর দেশে ফিরেছেন এবং একটি কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এসেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন এবারের নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবপরায়ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে এবং নিরাপত্তার কোন শঙ্কা নেই।

    গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, মহিবুজ্জামান কচি, হাসানুর রশিদ মিরাজ, মাহবুব হাসান পিয়ারু, একরামুল হক হেলাল, শের আলম সান্টু, এডভোকেট মাসুম রশিদ, কেএম হুমায়ুন কবির, ইউসুফ হারুন মজনু, নিয়াজ আহমেদ তুহিন, শামসুজ্জামান চঞ্চল, কামরান হাসান, আলমগীর কবির, মীর কবির হোসেন, সালাউদ্দিন বুলবুল, সওগাতুল ইসলাম, আলম হাওলাদার, নূরুল ইসলাম লিটন, মেহেদী হাসান লিটন, হাসিনা আকরাম, সাইমুন ইসলাম রাজ্জাক, রোকেঢা ফারুক, সেলিম বড় মিয়া, স্বপন হাওলাদার, মাসুদ খান বাদল, সমির সাহা, আবু তালেব, এসএম আব্দুর রব, শাহআলম, ইয়াকুব আলী, মোহাম্মদ আলী, পারভেজ আলম খান, সিরাজ মোল্লা, মহিউদ্দিন মঈন, জাহান আলী, শাহাদাৎ গাজী, ফিরোজ আহমেদ, আল আমিন হক পাপ্পু, জিএম মুজিবর রহমান, মো. মুন্না, খালেক গাজী, খায়রুল আলম, হানিফ ফরাজী, শামসুর রহমান নিশান, মামুনুর রহমান, ফারুক হোসেন খান, ইউনুচ মোল্লা, আব্দুর রশিদ, আব্দুল করিম, আলাউদ্দিন আলম, শাহনাজ পারভীন রিক্তা, মামুন রেজা ও নাজমা করিমসহ বিএনপির থানা, ওয়ার্ড ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং এলাকার সাধারণ মানুষ।