Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • এনসিপি নেতা সারজিস আলম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি

    এনসিপি নেতা সারজিস আলম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সারজিস আলম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেল পৌনে তিনটার দিকে পেটব্যথা অনুভব করলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি রাজধানীর ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন তার ছোট ভাই সাহাদাত হোসেন সাকিব। সারজিস আলমের নিষ্ঠুরতা বা রোগনির্ণয় সম্পর্কিত বিস্তারিতগুলো এখনও প্রকাশ্যে না এওয়ায়, পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া ও ভালোবাসা চাওয়া হয়েছে।

  • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: বর্তমান সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর ৪৬৪ হত্যা ও ৬৬৬ ধর্ষণের মামলা

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: বর্তমান সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর ৪৬৪ হত্যা ও ৬৬৬ ধর্ষণের মামলা

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর (১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে) সারা দেশে ৪৬৪টি হত্যা এবং ৬৬৬টি ধর্ষণ মামলা দায়ের হয়েছে। এসব হত্যা মামলায় ৬০৪ জন এবং ধর্ষণ মামলায় ৫৩০ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে হত্যা মামলার ১১ জন ও ধর্ষণ মামলার ৭১ জন আসামি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

    আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য কুমিল্লা-৪ (হাসনাত আবদুল্লাহ) কর্তৃক করা প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রশ্নোত্তর চলাকালীন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিষয়টি আলোচনা হয়।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হত্যা ও ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত সকল আসামির বিরুদ্ধে কড়া শাস্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মামলাগুলো অত্যন্ত নিবিড়ভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। যথাযথ সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিলের কাজও চলমান রয়েছে।

    জমি দখল, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডকে নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে (জামায়াতের এমপি মো. মুজিবুর রহমানের প্রশ্ন) তিনি বলেন, এসব কর্মকাণ্ড সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর এবং এসব অপরাধের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, গত প্রায় ১৫ বছরে ক্ষমতায় থাকা দলের সময় তারা অনুগত সন্ত্রাসী বাহিনীর মাধ্যমে ভূমি দখল, জল ও বালুমহাল দখল, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও অন্যান্য অবৈধ কাজ করানোর ফলে জনজীবন কষ্টের মুখে পড়ে। বর্তমান সরকারের পদক্ষেপে এসব অপরাধে জড়িত অনেকেই গ্রেপ্তার হয়েছে এবং আইনের আওতায় আনার ফলে অপরাধ অনেকাংশে কমে এসেছে বলেও মন্ত্রী উল্লেখ করেন।

    অন্য এক প্রশ্নের জবাবে (জামায়াতে ইসলামীর এমপি চট্টগ্রাম-১৫ শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্ন) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গুম কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে সংরক্ষিত রয়েছে। নিখোঁজ বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের এবং তাদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তাসহ সকল ধরনের সহায়তা প্রদান অব্যাহত আছে।

    মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়ার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের মোট শূন্যপদ বর্তমানে ২,১৮,৫৫৪টি। এর মধ্যে পুলিশ পদের সংখ্যা ২,০৭,৭৪৫টি, নন-পুলিশ পদ ৮,০৪৭টি এবং নন-পুলিশ আউটসোর্সিং পদ ২,৭৬২টি। অতিরিক্তভাবে নতুন করে ১৪,৫০০টি পদ সৃষ্টি করা হচ্ছে, যার মধ্যে এএসপি ৫০০টি, এসআই (নিরস্ত্র) ৪,০০০টি এবং ১০,০০০টি কনস্টেবল পদ রয়েছে। বর্তমানে ২,৭০৩টি কনস্টেবলের শূন্যপদে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে এবং সরাসরি ২,০০০ জন এএসআই নিয়োগ করা হবে বলেও তিনি জানান।

    বিএনপির সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সারের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনগণের নিরাপত্তা বিধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পুলিশের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও নেয়া পদক্ষেপের ফলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং জনগণের নিরাপত্তা বিধানে কার্যকর ব্যবস্থা গৃহীত হচ্ছে।

  • নাহিদের তরুণদের আহ্বান: সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন, এনসিপি সমর্থন করবে

    নাহিদের তরুণদের আহ্বান: সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন, এনসিপি সমর্থন করবে

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়করণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠে এসেছে। তিনি জাতীয় দরবারে নয়, ঘরোয়া রাজনীতিতেও ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ করতে তরুণদের সামনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

    শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) অডিটোরিয়ামে এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নাহিদ বলেন, ‘‘আপনারা সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন। এনসিপি আপনাদের সমর্থন জানাবে।’’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তরুণদের শক্তি এনসিপির সমর্থনে জোরালো সাড়া সৃষ্টি করবে।

    অনুষ্ঠানে নাহিদ আরও জানান, জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে সরকার গণভোটের ফলাফলকে অস্বীকার করেছে এবং ওই নির্বাচনকে সাধারণ ক্ষমতাসীন পরিবর্তনের নির্বাচন হিসেবে উপস্থাপন করেছে। তিনি বলেন, ‘‘সংবিধান ও গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের অনেক অধ্যাদেশ এই সরকার একে একে বাতিল করে দিচ্ছে। ব্যাংক লুটেরাদের জন্য সুযোগ তৈরি হচ্ছে এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নানাভাবে দলীয়করণ করা হচ্ছে।’’

    বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও পেশিশক্তি ও ক্ষমতার রাজনীতির পুনরুজ্জীবন দেখছেন তিনি। নাহিদ বলেন, ‘‘ফ্যাসিবাদ বা কোনো নতুন/পুরনো স্বৈরশাসন গড়ে উঠলে জনগণ আবারও সংগঠিত হবে এবং এনসিপির ছায়াতলে ঐক্য গড়ে উঠবে। আমরা ইতোমধ্যেই সারাদেশ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছি।’’

    দলীয় কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা সম্পর্কে তিনি জানান, ‘‘প্রতি সপ্তাহেই আমাদের যোগদান কর্মসূচি চলবে। সারাদেশের রাজনীতিসচেতন মানুষ ও তরুণদের আমরা আহ্বান জানাচ্ছি — আমাদের সবার দায়িত্ব রয়েছে, এই দেশকে আর বিপথে যেতে দেবেন না। যারা রাজনীতি করতে চান, যারা পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেন, তারা ঐক্যবদ্ধ হোন; এনসিপি আপনাদের ধারণ করে সামনে এগোতে চায়।’’

    বর্তমান সরকারের ব্যর্থতার কথা তুলে ধরে নাহিদ বলেন, ‘‘অর্থনৈতিক পরিস্থিতি টলমটলে, দেশের গণতন্ত্র নিয়ে গুরুতর আশঙ্কা রয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই অবস্থায় জনগণের পাশে একত্রে না দাঁড়ালে আমাদের আর কোনো উপায় নেই; আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।’’

    অনুষ্ঠানে বিএনপি’র বহিষ্কৃত নেতা ইসহাক সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগদান করেন। এছাড়া শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবাল (ফ্লোরা), কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনি এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন। ফেরসামিন বিদেশে থাকায় তিনি শারীরিকভাবে উপস্থিত ছিলেন না; অন্যরা মঞ্চে ছিলেন। নাম ঘোষণা করার পরই ইসহাক সরকার, নুরুজ্জামান কাফি ও মহিউদ্দিন রনিকে নাহিদ ইসলাম ফুল দিয়ে বরণ করেন।

    প্রধান অতিথি ও দলের শীর্ষ নেতারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং ‘‘রাজনৈতিক নেতা ও নাগরিকদের এনসিপিতে যোগদান’’ শীর্ষক এই কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়। নাহিদ এবং দলীয় নেতারা আবারও তরুণ সমাজকে ভোট ও নির্বাচনী প্রস্তুতির মাধ্যমে অংশগ্রহণের জন্য উদ্দীপ্ত করলেন।

  • জামায়াত আমিরের অভিযোগ: বিএনপি ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে

    জামায়াত আমিরের অভিযোগ: বিএনপি ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে

    জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, বিএনপি পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদের রাস্তা ধরে হাঁটা শুরু করেছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

    ডা. শফিকুর বলেন, একসময় বিএনপির সঙ্গে তারা একসঙ্গে ছিল এবং তখন তাদেরও নির্যাতন ভোগ করতে হয়েছে। কিন্তু এখন বিএনপি আচরণে এমন বদল ঘটিয়েছে যে, তারা একে সময়কার আওয়ামী লীগের অনুকরণ করছে না বরং ফ্যাসিবাদী মনোভাব গ্রহণ করছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা একসময় লাঠিয়াল বাহিনী ব্যবহার করে ক্ষমতা কায়েম করেছিল, আজ তারা সেই স্তরের সহায়ক পায়নি।

    জামায়াত আমির আরো বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় যেসব মৌলিক পরিবর্তন দরকার—সুশাসন প্রতিষ্ঠা, সত্যিকারের স্বাধীনতার স্বাদ জনগণকে দেওয়া—এসব বিষয়ে বিএনপি বিরোধিতা করে চলেছে, যা জাতির সঙ্গে প্রতারণা। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি তাদের ইশতেহারে থাকা ৩১ দফা কর্মসূচির প্রতিবাদ করছে, এমনকি নিজেরাই সেই মর্ম বোঝার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে বলে দাবি করেন।

    ডা. শফিকুর রহমান শহীদ পরিবারের বেদনাকে উল্লেখ করে বলেন, যদি ২৪–এর ঘটনাগুলো না ঘটত, যদি সেই মায়েরা-বাবারা-ভাই-বোনেরা জীবন না দিত, তাহলে বর্তমান ক্ষমতা ভোগ্য হতো না। তবে ক্ষমতায় আসার আগে তাঁদের কষ্টে যে সহমর্মিতা দেখানো উচিত ছিল, তা হয়নি। ৫ ও ৭ আগস্টের পরেও শহীদ পরিবার ও আহতদের প্রতি কোন কার্যকর মনোভাব দেখা যায়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

    তিনি বলেন, যারা বিদেশে ছিলেন, তারা দেশে ফেরার সুযোগ পেয়েছেন—এটিও ওই আন্দোলনের ফল। জেলে থাকা সংগ্রামী নেতাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেকেই বিশ্বাস করতেন ৪১ নম্বর বিভাগের আগেই কোনো সরকারের পরিবর্তন হবে না; কিন্তু পরে ঘটে যাওয়া সবকিছুকে তিনি ‘খোদার দান’ ও ‘মিরাকল’ হিসেবে আখ্যা দেন এবং কেউ কেউ এটি নিজেদের কৃতিত্ব বলে দাবি করলে তা মিথ্যাচার বলেই খণ্ডন করেন।

    জামায়াতে ইসলামি কখনোই অন্যদের ন্যায্য অবদানকে অবমূল্যায়ন করে না—এই বার্তাও দেন তিনি। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্র, শ্রমিক, মা-বোনেরা সবই জীবন বাজি রেখে অংশ নিয়েছিলেন; তাদের ত্যাগ ভুলে যাওয়া চলবে না। আন্দোলনের নেতাদের সম্মান করা শিখতে হবে এবং তাদের প্রতি তুচ্ছ আচরণ বন্ধ করতে হবে।

    সংসদে সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি, শপথ না নেওয়া ও প্রতিশ্রুতিভঙ্গের মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা—এসবকেও সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, যে আইনগুলো না বদলালে বা অধ্যাদেশ বাস্তবায়িত না হলে স্বৈরাচারী শাসনের পরিবর্তন সম্ভব হবে না, সেসব বিষয়ে বিএনপি বিশৃঙ্খলা ও বাধা সৃষ্টি করছে। সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন স্থানে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশে ছাত্রসংগঠনের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর হামলার কথাও তিনি উল্লেখ করেন এবং অভিযোগ করেন, এসবই दर्शায় যে বিএনপি ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে।

    ডা. শফিকুর বলেন, তিনি এমন এক বাংলাদেশ চান যেখানে সকালবেলা শিশুরা, কিশোর-কিশোরীরা, নারী-পুরুষ নির্বিঘ্নে ঘরে থেকে বের হতে পারবে; যেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুরি-কাছুরি নয়, কেবল খাতা-কলম থাকবে; যেখানে কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তি শিক্ষার্থীদের পথ আটকাবে না। তিনি বলেন, এই সংস্কৃতিকে বন্ধ করা প্রয়োজন; না হলে ‘জুলাই’ আন্দোলন বারবার ফিরে আসবে এবং শেষপর্যন্ত ফ্যাসিবাদের কবর লেখা হবে।

    শেষে তিনি সবাইকে শুভ বুদ্ধির আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে এবং ৭০ শতাংশ মানুষের রায় মানতে হবে। যদি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করা হয়, তবে তাদের লড়াই সংসদের ভেতর এবং খোলা ময়দান—দুই জায়গাতেই চলবে, ইনশাআল্লাহ।

  • এপ্রিলের প্রথম ২২ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ২.৪২ বিলিয়ন ডলার

    এপ্রিলের প্রথম ২২ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ২.৪২ বিলিয়ন ডলার

    রেমিট্যান্স প্রবাহের ইতিবাচক ধারা চলতি এপ্রিলেও অব্যাহত আছে। এই মাসের প্রথম ২২ দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ২.৪২ বিলিয়ন (২৪১ কোটি ৭০ লাখ) মার্কিন ডলার। বর্তমান বাজারদর ধরে (প্রতি ডলার ১২২ টাকা) তা টাকায় দাঁড়ায় প্রায় ২৯ হাজার ৪৮৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা — তথ্যটি জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল)।

    গত বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স ছিল ২০৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার। তুলনায় চলতি বছরের প্রথম ২২ দিনে প্রায় ৩৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার বেশি এসেছে, যা টাকায় প্রায় ৪ হাজার ৪৪০ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

    ঐতিহাসিক পরিসংখ্যান দেখালে, দেশের সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় এসেছে চলতি বছরের মার্চে, তখন প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এর বাইরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছিল গত বছরের মার্চে (৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ), তৃতীয় সর্বোচ্চ ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে (৩২২ কোটি ৬৬ লাখ) এবং চতুর্থ সর্বোচ্চ চলতি বছরের জানুয়ারিতে (প্রায় ৩১৭ কোটি) রেকর্ড হয়েছে।

    অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়তে পারে। তাই তারা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্ত অবস্থায় রাখার ওপর জোর দিচ্ছেন যাতে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলা করা যায়।

  • জ্বালানি সংকটে পোশাক খাত ঝুঁকিতে: বিদেশি ক্রেতারা নতুন অর্ডার স্থগিত

    জ্বালানি সংকটে পোশাক খাত ঝুঁকিতে: বিদেশি ক্রেতারা নতুন অর্ডার স্থগিত

    বিদেশি ক্রেতারা সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় বাংলাদেশে নতুন ক্রয়াদেশ স্থগিত করছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম (পারভেজ) চৌধুরী। তিনি মনে করছেন আগামী দুই থেকে তিন মাসে জ্বালানি পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে—এই আশঙ্কাতেই অনেক ক্রেতা অর্ডার দিতে সতর্কতা পালটেছেন। ফলে তৈরি পোশাক খাতসহ দেশের প্রধান রপ্তানি খাত বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এসব কথা তিনি বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় বলেন।

    বিসিআই সভাপতি আরও বলেন, বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভ্রাট নিয়ে বিদেশি ক্রেতাদের উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে জুলাই ও আগস্ট মাসের সম্ভাব্য অনেকে ক্রয়াদেশ ইতোমধ্যে ধীরগতিতে পড়েছে। বড় কিছু ক্রেতা নেতিবাচক সঙ্কেত দিচ্ছে এবং কিছু অর্ডার ভারতসহ অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতাও দেখা দিচ্ছে।

    তিনি জানান, বিদেশি ক্রেতাদের ঢাকা অফিসগুলো যতই পরিস্থিতি সামাল দিতে চেষ্টা করুক, তাদের শীর্ষ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরাই নতুন অর্ডার দেওয়া থেকে পিছু হটছেন। ফলে সরবরাহ চেইন ও কর্মসংস্থানেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    আনোয়ার-উল আলম বর্তমান কর কাঠামোকে ব্যবসাবান্ধব না ও ছোট-মাঝারি উদ্যোক্তাদের ওপর চাপ বৃদ্ধি করে এমনটিই উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, লাভ-লোকসান নির্বিশেষে ন্যূনতম ১ শতাংশ কর নির্ধারণ অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য বড় চাপ সৃষ্টি করেছে; অনেক ক্ষেত্রে মুনাফা না থাকলেও কর দিয়ে প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। তিনি ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস এবং রপ্তানি আয়ের ওপর উৎস কর কমানোর দাবি জানান। তবে এনবিআর চেয়ারম্যন মোঃ আবদুর রহমান খান উৎস কর কমানোর প্রস্তাব নাকচ করেছেন।

    আয়কর আইন ২০২৩-এর ১৪৭ ধারা প্রসঙ্গে বিসিআই সভাপতি সতর্ক করে বলেন, কর যাচাইয়ের নামে যেকোনো প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার সিস্টেম বা নথিপত্র জব্দ করার অবারিত ক্ষমতা ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে এবং ব্যবসার পরিবেশে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।

    প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আরও দাবি জানিয়েছে কোম্পানির ব্যাংক আমানতের মুনাফার ওপর উৎস কর ২০ শতাংশ থেকে নামিয়ে ১০ শতাংশ করার এবং নিট সম্পদের ওপর প্রযোজ্য সারচার্জ ধাপে ধাপে বাতিলের। তারা করের বোঝা বাড়ানো এড়িয়ে ব্যবসা-সহায়ক কর কাঠামো গড়ার আহ্বানও জানায়।

    শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল না হলে এবং কর কাঠামো সহজীকরণ না হলে দেশের রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। তারা বলেন দ্রুত বাস্তবসম্মত জ্বালানি ও কর নীতিমালা চালু করা না হলে রপ্তানিতে ভয়াবহ প্রভাব পড়তে পারে।

  • জাতিসংঘের এনপিটি সম্মেলনে ইরানকে সহ-সভাপতি নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্র ক্ষুব্ধ

    জাতিসংঘের এনপিটি সম্মেলনে ইরানকে সহ-সভাপতি নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্র ক্ষুব্ধ

    জাতিসংঘের পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) পর্যালোচনার মাসব্যাপী সম্মেলন সোমবার নিউইয়র্কের সদরদফতরে শুরু হয়েছে। সভায় ভিয়েতনামকে সভাপতি এবং ৩৪টি দেশকে সহ-সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। তন্মধ্যে ইরানকেও একজন সহ-সভাপতি করা হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এবং এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলাপচর্চা ও কটাক্ষের ঘটনা দেখা দিয়েছে।

    ভিয়েতনামের জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধি দো হুং ভিয়েতে বলেছেন, ‘এটা জোট নিরপেক্ষতা প্রদর্শন করে; অন্যান্য রাষ্ট্রগুলোই ইরানকে বেছে নিয়েছে।’ তিনি নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও স্বতন্ত্র হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

    অন্যদিকে মার্কিন অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও বিস্তার রোধ ব্যুরোর সহকারী সচিব ক্রিস্টোফার ইয়াও এই সিদ্ধান্তকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ইরানকে সহ-সভাপতি করা হল এনপিটির প্রতি একটি ‘অপমান’ এবং বলেছে, ‘ইরান দীর্ঘদিন ধরে এনপিটির প্রতিশ্রুতির প্রতি অবজ্ঞা দেখিয়েছে এবং পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে উঠা প্রশ্নগুলোর সমাধানে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক নজরদারি সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।’ তিনি এই নির্বাচনকে সম্মেলনের বিশ্বাসযোগ্যতার পক্ষে বিব্রতকর ও লজ্জাজনক আখ্যা দিয়েছেন।

    এপর্যন্ত তেহরানের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থায় ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি রেজা নাজাফি মার্কিন অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে আক্রমণ করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রই এমন একমাত্র দেশ যারা যুদ্ধক্ষেত্রে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে, এবং এখন তারা নিজ অস্ত্রাগার সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ চালিয়ে যাচ্ছে—তবু তারা নিজেকে বিচারকের আসনে প্রতিষ্ঠা করতে চায়।’

    বিশ্লেষকদের চোখে এনপিটি সম্মেলনে ইরানের এই স্থান এবং তৎপর প্রতিক্রিয়াগুলো মূলত ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘদিনের পারমাণবিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পড়ে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার পুনরায় বলেছিলেন, ‘ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না।’ অপরদিকে তেহরান বারবার জোর দিয়ে দাবি করে এসেছে যে তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার রয়েছে এবং তা কেবল শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করবে; কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো ধারনা করে যে ইরানের কর্মকাণ্ডের লক্ষ্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি।

    এই কাদামাটি এবং রাজনৈতিক বিবাদ চলতে থাকবে কি না—এবং তা সম্মেলনের আলোচ্যসূচি ও ফলাফলে কী প্রভাব ফেলবে—তাই এখন কঠিন প্রশ্ন। সূত্র: রয়টার্স

  • ইরানের নতুন প্রস্তাবে সন্তুষ্ট নন ট্রাম্প

    ইরানের নতুন প্রস্তাবে সন্তুষ্ট নন ট্রাম্প

    ইরানের যুদ্ধবিরতি বিষয়ে তিন স্তরের নতুন প্রস্তাবে পারমাণবিক কর্মসূচি তৎক্ষণাত অন্তর্ভুক্ত না থাকায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই প্রস্তাব নিয়ে ‘সন্তুষ্ট নন’, জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা—রয়টার্স বৃহস্পতিবার ওই প্রতিবেদনে এই কথা জানিয়েছে।

    হোয়াইট হাউস মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছিলেন, ট্রাম্প তার জ্যেষ্ঠ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে বসে প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করেছেন। ওই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ‘তিনি এই প্রস্তাবে সন্তুষ্ট নন।’

    ইরানের প্রস্তাবটি তিনটি পর্যায়ে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে যুদ্ধ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে বলা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে যে ইরান ও লেবাননে আর কোনও আগ্রাসী হামলা হবে না।

    দ্বিতীয় পর্যায়ে বলা হয়েছে, যদি প্রথম স্তরের শর্ত মেনে নেওয়া হয়, তখন পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালির পরিচালনা ও প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে আলোচনা চালানো হবে—এর মধ্যে ব্যবস্থাপনা ও তদারকির নিয়ম নির্ধারণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

    তৃতীয় পর্যায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরের সঙ্গে সম্পর্কিত সব পক্ষ মীমাংসায় পৌঁছালে তখন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলাপ শুরু করা হবে। অর্থাৎ পারমাণবিক বিষয়ে আলোচনার সিদ্ধান্ত শেষ পর্যায়ে নেওয়া হবে।

    ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন যদি তেহরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার সংলাপে বসতে চায়, তাহলে নতুন প্রস্তাবের ভিত্তিতেই আলোচনা হতে পারে। এর মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দিয়েছে বলে জানান ইরানি কর্তারা।

    এদিকে গত দু’দিনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পাকিস্তান, ওমান ও রাশিয়ায় সফর করেছেন। তিনি হরমুজ প্রণালি ও যুদ্ধবিরতি নিয়ে তেহরানের প্রস্তাব তুলে ধরে সমর্থন আদায়ে কাজ করেছেন।

  • খুলনা প্রেসক্লাবে হামলার দুই আসামি জামিনে মুক্ত

    খুলনা প্রেসক্লাবে হামলার দুই আসামি জামিনে মুক্ত

    খুলনা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই জনকে আদালত জামিনে মুক্তি দিয়েছেন। পুলিশ তাদের সোমবার রাত ১টায় নগরীর নিরালা আবাসিক এলাকার দীঘির পাড় থেকে গ্রেপ্তার করেছিল। আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে আদালতে তোলা হলে বিকাল ৩টায় খুলনার মুখ্য মহানগর হাকিম তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। তারা কারাগারে যেতেই পারেনি; প্র arrest থেকে মুক্তি পেতে তাদের পক্ষে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধান লেগেছে।

    জামিনপ্রাপ্তরা হলেন—দক্ষিণ নিরালা ১০ নম্বর রোডের বাসিন্দা, বাসতুল্লাহ গাজীর ছেলে বাবুল গাজী (৫৬) এবং উত্তর হরিণটানা এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হাইয়ের ছেলে মো. সবুজ (৪১)। উভয়েই পেশায় দর্জি এবং আখতার চেম্বারের একটি টেইলার্সে চাকরি করেন।

    মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিশ্বজিত কুমার বসু জানান, ঘটনার পর প্রেসক্লাব থেকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। ফুটেজে এই দুইজনকে শনাক্ত করা গেছে। ঘটনার পর থেকে তারা অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে মিলিয়ে পলাতক ছিলেন। পুলিশের সোর্সের মাধ্যমে তাদের অবস্থান পাওয়া যায় এবং subsequently গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকার্যে তারা কোনো কার্যকর তথ্য দিচ্ছেন না বলেও জানানো হয়েছে।

    উল্লেখ্য, রবিবার খুলনা প্রেসক্লাবের নির্বাচনী প্রচারণার সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত উপস্থিত হয়ে সভাপতি প্রার্থী—খুলনা থেকে প্রকাশিত দৈনিক প্রবর্তনের সম্পাদক মোস্তফা সরোয়ারের নাম ধরে ডাকা-চিৎকার ও গালিগালাজ শুরু করে। তখন এখন টেলিভিশনের খুলনা প্রতিনিধি হিসেবে থাকা তরিকুল ইসলাম ঘটনাসম্পর্কে জানতে চাইলে দুর্বৃত্তরা তাঁর ওপরও হামলা চালায়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতেই মামলাটি করা হয় এবং পরে গ্রেপ্তার ও জামিনমূলক প্রক্রিয়া পরিচালিত হলো।

  • খুলনায় তাঁতীদল নেতা সোলা মিয়া হত্যা মামলায় ‘ন্যাটা’ রনি গ্রেফতার

    খুলনায় তাঁতীদল নেতা সোলা মিয়া হত্যা মামলায় ‘ন্যাটা’ রনি গ্রেফতার

    খুলনার খালিশপুরে তাঁতীদল নেতা সোনা মিয়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে র‌্যাব-৬ সোমবার সন্ধ্যায় মোঃ রনি ওরফে ‘ন্যাটা’ রনিকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকরণ ঘটে বাগেরহাট সদর থানার বাসস্ট্যান্ড ট্রাফিক মোড় সংলগ্ন একটি বাস কাউন্টার থেকে।

    র‌্যাব-৬ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) পাঠানো একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নিহত সোনা মিয়াকে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে ন্যাটা রনিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। র‌্যাবের হাতে থাকা গোপন সংবাদের ভিত্তিতেই অভিযান চালানো হয়।

    সূত্রে জানানো হয়, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে রনি পালিয়ে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছিল। র‌্যাব গত সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বাগেরহাটে গোপন সংবাদের সূত্র ধরে তাকে শনাক্ত করে এবং বাস কাউন্টার থেকে গ্রেফতার করে।

    গ্রেফতার ব্যক্তির বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে হত্যাসহ মোট ছয়টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া খালিশপুর থানা এলাকায় তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগও রয়েছে। গ্রেফতারের পর রনিকে খালিশপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আইনগত 프로ক্রিয়েটি চলছে।

    র‌্যাব হিসাব মতে মামলার তদন্ত ও অপরাধীদের গ্রেপ্তারে সংশ্লিষ্ট থানার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে, এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে পরে বিস্তারিত বলা হবে।