Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • শিনজো আবে হত্যায় অভিযুক্ত তেতসুইয়া ইয়ামাগামিকে আজীবন কারাদণ্ড

    শিনজো আবে হত্যায় অভিযুক্ত তেতসুইয়া ইয়ামাগামিকে আজীবন কারাদণ্ড

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবেকে গুলি করে হত্যা করার দায়ে অভিযুক্ত তেতসুইয়া ইয়ামাগামিকে জাপানের বিচারপ্রক্রিয়ায় আজীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। সাড়ে তিন বছর আগে এ ধাঁচের নিপীড়ক ঘটনা জাপানকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল; বুধবার সেই হত্যাকাণ্ডের মামলায় রায় ঘোষণা করা হলো।

    ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২২ সালের জুলাইয়ে পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর নারা-র এক নির্বাচনী প্রচারের মঞ্চে। তখন ৬৭ বছরের শিনজো আবে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন; হাতে তৈরি বন্দুক নিয়ে হঠাৎই ওই মঞ্চে তেতসুইয়া ইয়ামাগামি গুলি চালান। ঘটনায় তিনি ঘটনাস্থলেই গ্রেপ্তার হন; নিহত আবের বয়স ছিল ৬৭ বছর, এবং তখনই ইয়ামাগামির বয়স ছিল ৪৫।

    নারা জেলা আদালতে বিচারের সময় অক্টোবরে প্রথম শুনানিতে ইয়ামাগামি তার দায় স্বীকার করেছিলেন, তাই দোষ প্রমাণে আলাদা লড়াই ছিল না। রায় ঘোষণার মূল প্রশ্ন ছিল সাজার তীব্রতা কত হবে। রায় পড়ার সময় বিচারক শিনিচি তানাকা এই ঘটনার বর্ণনা ‘‘জঘন্য’’ বলে করেন এবং বলেন, বড় জনসমাবেশে বন্দুক ব্যবহার করা অত্যন্ত বিপজ্জনক ও দণ্ডনীয় অপরাধ।

    প্রসিকিউটররা হত্যার জন্য অভিযুক্তকে মৃত্যুদণ্ড চান, তারা এটিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরের যুগে জাপানে বিরল ও অত্যন্ত মারাত্মক একটি ঘটনা বলে আখ্যায়িত করেছেন। অপরদিকে রক্ষাকারী আইনজীবীরা মামলার পটভূমি হিসেবে ইউনিফিকেশন চার্চ-সম্পর্কিত পারিবারিক সমস্যা তুলে ধরে ২০ বছরের কম কালের সাজা চেয়েছিলেন।

    আচরণ ও রায়ের পর আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ইয়ামাগামির সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে কি না। এঘটনাটি দেশজুড়ে রাজনৈতিক সহিংসতার বিষয়ে ব্যাপক আলোচনার ঝড় তোলে এবং বহু মানুষের মনে শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছিল।

  • সাতক্ষীরার চার আসনে ২০ প্রার্থীর মাঝে প্রতীক বরাদ্দ

    সাতক্ষীরার চার আসনে ২০ প্রার্থীর মাঝে প্রতীক বরাদ্দ

    সাতক্ষীরার চারটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী ২০ প্রার্থীর মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মিজ আফরোজা আখতার জেলা-স্তরের রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে প্রতীক বরাদ্দ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।

    রিটার্নিং কর্মকর্তা সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় সবাইকে আচরণবিধি মেনে চলার নির্দেশ দেন এবং যদি আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলে সতর্ক করেন। অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান, জেলার বিজিবি প্রধান ও আনসার কমান্ডান্টসহ অন্য কয়েকজন কর্মকর্তাও নির্বাচন-পরিপ্রেক্ষিত বিষয়ে বক্তব্য রাখেন।

    প্রতীক বরাদ্দের ফলাফল অনুযায়ী সাতক্ষীরার চারটি আসনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামি, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রত্যেক দল থেকে চারজন করে প্রার্থী পেলেন নির্দিষ্ট প্রধান প্রতীক। এছাড়া অন্যান্য দলের ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও বিভিন্ন প্রতীক পেয়েছেন।

    প্রতীক বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রার্থীরা হলেন:

    সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া): বিএনপির হাবিবুল ইসলাম হাবিব (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামির মো. ইজ্জত উল্লাহ (দাড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শেখ মো. রেজাউল করিম (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির জিয়াউর রহমান (লাঙ্গল) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের ইয়ারুল ইসলাম (ডাব)।

    সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা): বিএনপির আব্দুর রউফ (ধানের শীষ), জামায়াতের মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক (দাড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির আশরাফুজ্জামান (লাঙ্গল), বাংলাদেশ জাসদের ইদ্রিস আলী (মটরগাড়ি) ও ইসলামী আন্দোলনের মুফতী রবিউল ইসলাম (হাতপাখা)।

    সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালিগঞ্জ): স্বতন্ত্র প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপি সদস্য ডা. শহিদুল আলম (ফুটবল), বিএনপির কাজী আলাউদ্দীন (ধানের শীষ), জামায়াতের হাফেজ রবিউল বাশার (দাড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির আলিপ হোসেন (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলনের ওয়েজ কুরনী (হাতপাখা) ও বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি)র রুবেল হোসেন (রকেট)।

    সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর): বিএনপির ড. মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান (ধানের শীষ), জামায়াতের জিএম নজরুল ইসলাম (দাড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলনের এইচ এম মিজানুর রহমান (হাতপাখা) ও জাতীয় পার্টির আব্দুর রশিদ (লাঙ্গল)।

    পটভূমি: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন দলের অনেক প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। এর মধ্যে ২৯ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা ১৯টি মনোনয়নপত্র বৈধ ও ১০টি বাতিল ঘোষণা করেন। এরপর করা আপিলের ফলে চারজনকে বৈধ ঘোষণা করা হয়। মোট ২৩ জনের মধ্যে ২০ জানুয়ারি তিনজন প্রত্যাহার করলে চূড়ান্তভাবে ২০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হন এবং বুধবার দুপুরে তাদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ করা হয়।

    জেলার নির্বাচনপ্রক্রিয়া স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ ও আইনসঙ্গতভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করবে বলে অনুষ্ঠানে পুনরায় আশ্বাস দেওয়া হয়।

  • ত্রয়োদশ নির্বাচনে খুলনা বিভাগে ৩৬ আসনে মোট ২০১ প্রার্থীর প্রতীক বরাদ্দ

    ত্রয়োদশ নির্বাচনে খুলনা বিভাগে ৩৬ আসনে মোট ২০১ প্রার্থীর প্রতীক বরাদ্দ

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় ৩৬টি আসনে মোট ২০১ জন প্রার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, প্রতীক বরাদ্দ শেষ হওয়ায় আজ বৃহস্পতিবার থেকে প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতে পারবেন। বিধিমতো ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার ৪৮ ঘণ্টা আগে পর্যন্ত প্রচারণা চালানো যাবে।

    খুলনা বিভাগে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য জেলা ও আসনভিত্তিক প্রতীক বরাদ্দের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নরূপ:

    খুলনা (৬টি আসন, ৩৮ প্রার্থী)

    খুলনা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আ স ম জামশেদ খোন্দকার বুধবার প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দেন। বরাদ্দকৃত প্রতিধর্ষীরা:

    – খুলনা-১ (দাকোপ-বটিয়াঘাটা): মোট ১২ প্রার্থী — সুনীল শুভ রায় (বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, মোমবাতি), মো: জাহাঙ্গীর হোসেন (জাতীয় পার্টি, লাঙ্গল), কৃষ্ণ নন্দী (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি, দাঁড়িপাল্লা), কিশোর কুমার রায় (বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি, কাস্তে), মো: আবু সাঈদ (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, হাতপাখা), প্রসেনজিৎ দত্ত (জেএসডি, তারা), আমির এজাজ খান (বিএনপি, ধানের শীষ), প্রবীর গোপাল রায় (বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি, রকেট), সুব্রত মন্ডল (বাংলাদেশ সমঅধিকার পরিষদ, দোয়াত কলম), অচ্যিন্ত কুমার মন্ডল (স্বতন্ত্র, ঘোড়া), গোবিন্দ হালদার (স্বতন্ত্র, কলস) ও জি এম রোকনুজ্জামান (গণঅধিকার পরিষদ, ট্রাক)।

    – খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা): তিন প্রার্থী — শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল (জামায়াতে ইসলামি, দাঁড়িপাল্লা), নজরুল ইসলাম মঞ্জু (বিএনপি, ধানের শীষ) ও মুফতি আমানুল্লাহ (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, হাতপাখা)।

    – খুলনা-৩ (খালিশপুর-দৌলতপুর-আড়ংঘাটা): দশ প্রার্থী — মো: আ: আউয়াল (ইসলামী আন্দোলন, হাতপাখা), রকিবুল ইসলাম (বিএনপি, ধানের শীষ), মোহাম্মাদ মাহফুজুর রহমান (জামায়াত, দাঁড়িপাল্লা), মো: মুরাদ খান লিটন (স্বতন্ত্র, ঘুড়ি), মঈন মোহাম্মাদ মায়াজ (স্বতন্ত্র, ফুটবল), জনার্দন দত্ত (বাসদ, মই), শেখ আরমান হোসেন (এনডিএম, সিংহ), মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন (জাতীয় পার্টি, লাঙ্গল), মো: আবুল হাসানত সিদ্দিক (স্বতন্ত্র, জাহাজ) ও এস এম আরিফুর রহমান মিঠু (স্বতন্ত্র, হরিণ)।

    – খুলনা-৪ (রূপসা-তেরখাদা-দিঘলিয়া): চার প্রার্থী — ইউনুস আহম্মেদ শেখ (ইসলামী আন্দোলন, হাতপাখা), এস কে আজিজুল বারী (বিএনপি, ধানের শীষ), এস এম সাখাওয়াত হোসাইন (খেলাফত মজলিস, দেয়াল ঘড়ি) ও এস এম আজমল হোসেন (স্বতন্ত্র, ফুটবল)। উল্লেখ্য, এই আসনটি খেলাফত মজলিসকে জোটসঙ্গী হিসেবে দিয়েছে।

    – খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা): চার প্রার্থী — গোলাম পরওয়ার (জামায়াতে ইসলামি, দাঁড়িপাল্লা), মোহাম্মাদ আলী আসগর (বিএনপি, ধানের শীষ), চিত্ত রঞ্জন গোলদার (বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি, কাস্তে) ও শামিম আরা পারভীন ইয়াসমীন (জাতীয় পার্টি, লাঙ্গল)।

    – খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা): পাঁচ প্রার্থী — মো: আবুল কালাম আজাদ (জামায়াতে ইসলামি, দাঁড়িপাল্লা), এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী (বিএনপি, ধানের শীষ), মো: আছাদুল ফকির (ইসলামী আন্দোলন, হাতপাখা), প্রশান্ত কুমার মন্ডল (বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি, কাস্তে) ও মো: মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর (জাতীয় পার্টি, লাঙ্গল)।

    বাগেরহাট (৪টি আসন, ২৩ প্রার্থী)

    জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা বুধবার দুপুরে সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতীক বরাদ্দ করেন। বাগেরহাটে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এমএ এইচ সেলিম তিনটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘ঘোড়া’ প্রতীক নিয়েছেন। প্রধান বরাদ্দ:

    – বাগেরহাট-১: আট প্রার্থী — স্বতন্ত্র এমএ এইচ সেলিম (ঘোড়া), মো. মাসুদ রানা (জেলা বিএনপি, ফুটবল)সহ মোট আটজনের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ।

    – বাগেরহাট-২ ও বাগেরহাট-৩: এমএ এইচ সেলিম ঘোড়া প্রতীক পেয়েছেন।

    – বিভিন্ন আসনে বিএনপি, জামায়াত, মুসলিম লীগ, এবি পার্টি, জাতীয় পার্টি-জেপি ও অন্যান্যদের দলীয় প্রতীকও অনানুষ্ঠানিকভাবে বরাদ্দ করা হয়েছে; তালিকাভুক্ত প্রার্থীরা যথাক্রমে তাদের দলীয় চিহ্ন পেয়েছেন।

    – বাগেরহাট-৪: স্বতন্ত্র কাজী খায়রুজ্জামান শিপন হরিণ প্রতীক পেয়েছেন; এ আসনে বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন ও অন্যান্য দলের প্রার্থীরাও জোট হিসেবে দলীয় প্রতীকের অধিকারী হয়েছেন।

    সাতক্ষীরা (৪টি আসন, ২০ প্রার্থী)

    জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মিজ আফরোজা আখতার জেলার সম্মেলন কক্ষে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রার্থীদের প্রতীক তুলে দেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা আচরণবিধি মেনে চলার অনুরোধ করেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক থাকার কথা জানিয়েছেন। বরাদ্দের ধরণ:

    – সাতক্ষীরা-১: হাবিবুল ইসলাম হাবিব (বিএনপি, ধানের শীষ), মোঃ ইজ্জত উল্লাহ (জামায়াত, দাঁড়িপাল্লা), শেখ মোঃ রেজাউল করিম (ইসলামী আন্দোলন, হাতপাখা), জিয়াউর রহমান (জাতীয় পার্টি, লাঙ্গল) ও ইয়ারুল ইসলাম (বাংলাদেশ কংগ্রেস, ডাব)।

    – সাতক্ষীরা-২: আব্দুর রউফ (বিএনপি, ধানের শীষ), মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক (জামায়াত, দাঁড়িপাল্লা), আশরাফুজ্জামান (জাতীয় পার্টি, লাঙ্গল), ইদ্রিস আলী (বাংলাদেশ জাসদ, মোটরগাড়ি) ও মুফতী রবিউল ইসলাম (ইসলামী আন্দোলন, হাতপাখা) প্রমুখ।

    – সাতক্ষীরা-৩: ডা. শহিদুল আলম (স্বতন্ত্র/বিএনপি কেন্দ্রীয়, ফুটবল), কাজী আলাউদ্দীন (বিএনপি, ধানের শীষ), হাফেজ রবিউল বাশার (জামায়াত, দাঁড়িপাল্লা), আলিপ হোসেন (জাতীয় পার্টি, লাঙ্গল), ওয়েজ কুরনী (ইসলামী আন্দোলন, হাতপাখা) ও রুবেল হোসেন (বিএমজেপি, রকেট)।

    – সাতক্ষীরা-৪: ড. মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান (বিএনপি, ধানের শীষ), জিএম নজরুল ইসলাম (জামায়াত, দাঁড়িপাল্লা), এইচ এম মিজানুর রহমান (ইসলামী আন্দোলন, হাতপাখা) ও আব্দুর রশিদ (জাতীয় পার্টি, লাঙ্গল)।

    যশোর (৬টি আসন, ৩৫ প্রার্থী)

    যশোর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বুধবার প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রচারণার উদ্বোধন করেন। প্রধান বরাদ্দ:

    – যশোর-১ (শার্শা): চার প্রার্থী — মুহাম্মদ আজিজুর রহমান (জামায়াত, দাঁড়িপাল্লা), জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল (জাতীয় পার্টি, লাঙ্গল), নুরুজ্জামান লিটন (বিএনপি, ধানের শীষ) ও বকতিয়ার রহমান (ইসলামী আন্দোলন, হাতপাখা)।

    – যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা): আট প্রার্থী — মোছাঃ সাবিরা সুলতানা (বিএনপি, ধানের শীষ), মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ (জামায়াত, দাঁড়িপাল্লা), ইদ্রিস আলী (ইসলামী আন্দোলন, হাতপাখা), ইমরান খান (বাসদ, মই), শামসুল হক (বিএনএফ, টেলিভিশন), রিপন মাহমুদ (এবি পার্টি, ঈগল) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ জহুরুল ইসলাম (ঘোড়া) ও মেহেদী হাসান (ফুটবল)। নোট: জহুরুল ইসলাম পরে মনোনয়ন প্রত্যাহার ঘোষণার সংবাদ করেছেন, কিন্তু প্রত্যাহারের কাগজপত্র দাখিল করেননি।

    – যশোর-৩ (সদর): ছয় প্রার্থী — অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (বিএনপি, ধানের শীষ), মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেন (ইসলামী আন্দোলন, হাতপাখা), আব্দুল কাদের (জামায়াত, দাঁড়িপাল্লা), খবির গাজী (জাতীয় পার্টি, লাঙ্গল), নিজামুদ্দিন অমিত (জাগপার, চশমা) ও রাশেদ খান (সিপিবি, কাস্তে)।

    – যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর): সাত প্রার্থী — এম নাজিম উদ্দিন-আল-আজাদ (স্বতন্ত্র, মোটরসাইকেল), বায়েজীদ হোসাইন (ইসলামী আন্দোলন, হাতপাখা), মতিয়ার রহমান ফারাজি (বিএনপি, ধানের শীষ), মাওলানা আশেক এলাহী (খেলাফত মজলিস, দেয়াল ঘড়ি), গোলাম রসুল (জামায়াত, দাঁড়িপাল্লা), জহুরুল হক (জাতীয় পার্টি, লাঙ্গল) ও সুকৃতি কুমার মণ্ডল (বিএমজেপি, রকেট)।

    – যশোর-৫ (মণিরামপুর): পাঁচ প্রার্থী — এম এ হালিম (জাতীয় পার্টি, লাঙ্গল), গাজী এনামুল হক (জামায়াত, দাঁড়িপাল্লা), জয়নাল আবেদীন (ইসলামী আন্দোলন, হাতপাখা), রশীদ আহমদ (বিএনপি, ধানের শীষ) ও শহীদ মোঃ ইকবাল হোসেন (স্বতন্ত্র, কলস)।

    – যশোর-৬ (কেশবপুর): পাঁচ প্রার্থী — জিএম হাসান (জাতীয় পার্টি, লাঙ্গল), আবুল হোসেন আজাদ (বিএনপি, ধানের শীষ), মাহমুদ হাসান (এবি পার্টি, ঈগল), মোক্তার আলী (জামায়াত, দাঁড়িপাল্লা) ও শহিদুল ইসলাম (ইসলামী আন্দোলন, হাতপাখা)।

    চুয়াডাঙ্গা (২টি আসন, ৬ প্রার্থী)

    রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ কামাল হোসেন জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে নমুনা প্রতীক তুলে দেন।

    – চুয়াডাঙ্গা-১: শরীফুজ্জামান (ধানের শীষ), মাসুদ পারভেজ রাসেল (দাঁড়িপাল্লা) ও জহুরুল ইসলাম আজিজী (হাতপাখা)।

    – চুয়াডাঙ্গা-২: মাহমুদ হাসান খান বাবু (ধানের শীষ; তাঁর পক্ষ থেকে খালিদ মাহমুদ মিল্টন নমুনা প্রতীক গ্রহণ করেন), রুহুল আমীন (দাঁড়িপাল্লা) ও হাসানুজ্জামান সজীব (হাতপাখা)।

    নড়াইল (২টি আসন, ১৫ প্রার্থী)

    জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. আব্দুল ছালামের কার্যালয়ে বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রতীক বরাদ্দকাজ সম্পন্ন হয়। নড়াইল-১ ও নড়াইল-২ এ মোট ১৫ জন প্রার্থী প্রতীকের অধিকারী হয়েছেন, এর মধ্যে নড়াইল-১ এ বিএনপি’র জেলা সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম (ধানের শীষ) প্রধান প্রার্থী। উল্লেখযোগ্যভাবে নড়াইল-১ এ তিনজন বিদ্রোহী বিএনপি প্রার্থীও স্বতন্ত্র প্রতীক পেয়েছেন। নড়াইল-২ তে দলীয় ও স্বতন্ত্র মিশ্র তালিকা করা হয়েছে; সেখানে গণঅধিকার পরিষদ, সাংস্কৃতিক মুক্তি জোট ও অন্যান্যদের প্রতীকও বরাদ্দ হয়েছে।

    ঝিনাইদহ (৪টি আসন, ২১ প্রার্থী)

    জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে বরাদ্দকৃত প্রতীকের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়। ঝিনাইদহে বিএনপি’র সিদ্ধান্ত অমান্য করে ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ স্বতন্ত্র হিসেবে কাপ-পিরিচ প্রতীক পেয়ে আলোচনায় এসেছেন। অন্যান্য আসনের বরাদ্দ:

    – ঝিনাইদহ-১: মো. আসাদুজ্জামান (বিএনপি, ধানের শীষ), এএসএম মতিউর রহমান (দাঁড়িপাল্লা/১০ দলীয় জোট), মতিয়ার রহমান (এবি পার্টি, ঈগল), শহিদুল এনাম (বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী), কাঁচি) ও মনিকা আলম (জাতীয় পার্টি, লাঙ্গল)।

    – ঝিনাইদহ-২: মো. আব্দুল মজিদ (বিএনপি, ধানের শীষ), আলী আজম মোহাম্মদ আবু বকর (জোট, দাঁড়িপাল্লা), আসাদুল ইসলাম (বাসদ, মই), আবু তোয়াব (সিপিবি, কাস্তে), মমতাজুর রহমান (ইসলামী আন্দোলন, হাতপাখা) ও সওগাতুল ইসলাম (জাতীয় পার্টি, লাঙ্গল)।

    – ঝিনাইদহ-৩: মেহেদী হাসান (বিএনপি, ধানের শীষ), অধ্যাপক মতিয়ার রহমান (দাঁড়িপাল্লা/১০ দলীয় জোট), ইসলামী আন্দোলন প্রার্থী (হাতপাখা) ও সুমন কবির (গণঅধিকার পরিষদ, ট্রাক)।

    – ঝিনাইদহ-4: রাশেদ খাঁন (বিএনপি, ধানের শীষ), মাওলানা আবু তালেব (দাঁড়িপাল্লা/১০ দলীয় জোট), সাইফুল ইসলাম ফিরোজ (স্বতন্ত্র/বিএনপি বিদ্রোহী, কাপ-পিরিচ), আব্দুল জলিল (ইসলামী আন্দোলন, হাতপাখা), খনিয়া খানম (গণফোরাম, উদীয়মান সূর্য) ও এমদাদুল ইসলাম বাচ্চু (জাতীয় পার্টি, লাঙ্গাল)।

    মাগুরা (২টি আসন, ১১ প্রার্থী)

    জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোঃ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বুধবার জেলা সম্মেলন কক্ষে প্রতীক বরাদ্দ করেন।

    – মাগুরা-১ (৯১): মনোয়ার হোসেন খান (বিএনপি, ধানের শীষ), জাকির হোসেন মোল (জাতীয় পার্টি, লাঙ্গল), আব্দুল মতিন (জামায়াতে ইসলামি, দাঁড়িপাল্লা), শম্পা বসু (সমাজতান্ত্রিক দল-বাদ, মই), মোঃ খলিলুর রহমান (গণঅধিকার পরিষদ, ট্রাক) ও মোঃ নাজিরুল ইসলাম (ইসলামী আন্দোলন, হাতপাখা) এবং কাজী রেজাউল ইসলাম (বাংলাদেশ কংগ্রেস, ডাব)।

    – মাগুরা-২ (৯২): নিতাই রায় চৌধুরী (বিএনপি, ধানের শীষ), মুরতারশেদ বিল্লাহ (জামায়াত, দাঁড়িপাল্লা), মশিয়ার রহমান (জাতীয় পার্টি, লাঙ্গল) ও মোস্তফা কামাল (ইসলামী আন্দোলন, হাতপাখা)।

    কুষ্টিয়া (৪টি আসন, ২৫ প্রার্থী)

    জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বুধবার কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন সম্মেলনকক্ষে বিভিন্ন দলের ২৫ প্রার্থীর মাঝে প্রতীক তুলে দেন। উল্লেখ্য, পূর্বে বৈধ ঘোষিত ২৭ প্রার্থীর মধ্যে কিছু পদক্ষেপ ও আপিলের ফলে চূড়ান্ত তালিকা ২৫ জনে নির্ধারণ হয়েছে। প্রধান বরাদ্দ:

    – কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর): রেজা আহামেদ (বিএনপি), বেলাল উদ্দিন (জামায়াতে ইসলামি), বদিরুজ্জামান (বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট), আমিনুল ইসলাম (ইসলামী আন্দোলন), সাহাবুল ইসলাম (গণঅধিকার পরিষদ), শাহরিয়ার জামিল (জাতীয় পার্টি) ও গিয়াস উদ্দিন (জেএসডি) — মোট আটজন।

    – কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা): রাগীব রউফ চৌধুরী (বিএনপি), আব্দুল গফুর (জামায়াতে ইসলামি), নুর উদ্দিন আহমেদ (বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি), মোহাম্মদ আলী (ইসলামী আন্দোলন) ও বাবুল আক্তার (ইসলামী ফ্রন্ট)।

    – কুষ্টিয়া-৩ (সদর): জাকির হোসেন সরকার (বিএনপি), মুফতি আমীর হামজা (জামায়াত), মীর নাজমুল ইসলাম (বাসদ), মোছাঃ রুমপা খাতুন (বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি), মোহাঃ শরিফুল ইসলাম (গণঅধিকার পরিষদ) ও আবদুল্লাহ আখন্দ (ইসলামী আন্দোলন)।

    – কুষ্টিয়া-৪ (খোকসা-কুমারখালী): সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী (বিএনপি), আফজাল হোসেন (জামায়াত), আনোয়ার খাঁন (ইসলামী আন্দোলন), তরুণ কুমার ঘোষ (মাইনরিটি জনতা পার্টি), আব্দুল হাকিম মিয়া (গণফোরাম) ও শহিদুল ইসলাম (বাংলাদেশ লেবার পার্টি)।

    মেহেরপুর (২টি আসন)

    জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবির মঙ্গলবার প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বিতরণ করেন:

    – মেহেরপুর-১: মোট চার প্রার্থী — মাসুদ অরুণ (বিএনপি, ধানের শীষ), মাওলানা তাজ উদ্দিন খান (জামায়াত, দাঁড়িপাল্লা), আব্দুল হামিদ (জাতীয় পার্টি, লাঙ্গল) ও এড. মিজানুর রহমান (সিপিবি, কাস্তে)।

    – মেহেরপুর-২ (গাংনী): তিন প্রার্থী — আমজাদ হোসেন (বিএনপি, ধানের শীষ), নাজমুল হুদা (জামায়াত, দাঁড়িপাল্লা) ও আব্দুল বাকী (জাতীয় পার্টি, লাঙ্গল)।

    সার্বিকভাবে প্রতীক বরাদ্দের কার্যক্রম শেষ হওয়ায় বিভাগের সব সম্প্রদায়ের প্রার্থীরা এখন তাদের নির্বাচনী কর্মসূচি তৎপরভাবে পরিচালনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। নির্বাচনী আচরণবিধি অনুসরণ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান করা হয়েছে।

  • আইসিসি ভোটে বাংলাদেশ পেল মাত্র ২টি সমর্থন

    আইসিসি ভোটে বাংলাদেশ পেল মাত্র ২টি সমর্থন

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) President আমিনুল ইসলাম বুলবুল শেষ মুহূর্তে ব্যাপক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা করেছিলেন। গত কয়েক দিনে তিনি বিভিন্ন দেশের ক্রিকেট বোর্ডের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করে সমর্থন আদায় করার চেষ্টা করেন। তবুও অধিকাংশ বোর্ডের সমর্থন মিলেনি এবং বাংলাদেশ সেই লড়াই জিততে পারেনি।

    আজ সন্ধ্যায় আইসিসির বোর্ড বৈঠকে বাংলাদেশ ইস্যুতে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়। বিসিবির একটি দায়িত্বশীল সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, ভোটে বাংলাদেশ মাত্র ২টি ভোট পেয়েছে এবং সিদ্ধান্ত হয়েছে ১২-২ ব্যবধানেই। ভোটে ১২টি পূর্ণ সদস্য বোর্ড ও ২টি সহযোগী দেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশের পক্ষে কেবল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ভোট দিয়েছে।

    ভোটের পর আইসিসি একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে যে ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ীই অনুষ্ঠিত হবে এবং বাংলাদেশের নির্ধারিত সব ম্যাচই ভারতেই হবে। বিসিবি আগেই দাবি করা ছিল যে তাদের সব матч শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নিতে হবে—এই প্রস্তাব নিয়ে আইসিসি বোর্ড ভিডিও কনফারেন্সে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয় যে টুর্নামেন্টের এত কাছাকাছি সময়ে ভেন্যু পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

    বিসিবি সূত্র জানিয়েছে, আইসিসি বিসিবিকে পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর নির্দেশ দিয়েছে। বিসিবিকে এক দিনের সময় দেয়া হয়েছে। যদি বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ভারতে অংশগ্রহণ না করে, তাহলে বিশ্বকাপে ‘সি’ গ্রুপে তাদের স্থলে স্কটল্যান্ডকে দেখা যেতে পারে।

    বর্তমানে সবাই অপেক্ষায় আছে যে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিসিবি কী সিদ্ধান্ত জানাবে। সূত্র: আজকের পত্রিকা।

  • আইসিসির কাছ থেকে ‘অলৌকিক’ সমাধান আশা করছেন বিসিবি সভাপতি

    আইসিসির কাছ থেকে ‘অলৌকিক’ সমাধান আশা করছেন বিসিবি সভাপতি

    আতঙ্ক বা প্রত্যাশার এক পঙক্তির মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ ক্রিকেট: যদি ভারত গিয়ে না খেলতে হয় তাহলে আইসিসির সবশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়বে বাংলাদেশ। তবুও অংশগ্রহণের বিষয়ে নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত এখনো নেয়নি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

    বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানিয়েছেন, বিষয়টি চূড়ান্ত করার আগে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে (আইসিসি) আরও সময় চান—সরকারের সঙ্গে ‘শেষবারের মতো’ কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য। বুধবার (২১ জানুয়ারি) আইসিসির সঙ্গে এক ভিডিও বৈঠকের পর তিনি বলেছেন, নিরাপত্তার বিষয়টিকে পুনর্বিবেচনার জন্য ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সময় দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন এবং আইসিসি সেই সময় দিয়েছেন।

    বুলবুল বলেন, “আমি আইসিসিকে বলেছি, সরকারের সঙ্গে শেষবার কথা বলার সময় চাই। আমি সরকারকে চাপ দিতে চাই না। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার—ভারত আমাদের জন্য নিরাপদ নয়। আমরা শ্রীলঙ্কায় খেলতে চাই।” তিনি জানান, সরকারের চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া পাওয়ার পর তা আইসিসিকে জানিয়ে দেয়া হবে।

    বিসিবি সভাপতির কথায় স্পষ্ট হতাশা মিশে আছে—বিশ্বকাপে খেলতে প্রত্যেকের ইচ্ছা আছে, কিন্তু নিরাপত্তা প্রশ্নে সরকারকে পুরো পরিস্থিতি বিবেচনা করতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে তিনি আইসিসির কাছ থেকে কোনো ‘অলৌকিক’ সমাধানের আশাও করছেন বলে জানিয়েছেন।

    ইএসপিএনক্রিকইনফো জানিয়েছে, আইসিসির সঙ্গে বৈঠকে বিসিবির একমাত্র প্রতিনিধি ছিলেন আমিনুল ইসলাম। সেখানে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে দিলেও গ্রুপ পরিবর্তনের প্রস্তাব খারিজ করা হয়েছে। বিসিবি আয়ারল্যান্ড কিংবা জিম্বাবুয়ে’র সঙ্গে গ্রুপ বদলের প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু শ্রীলঙ্কা নতুন কোনো দলকে গ্রুপে নিতে রাজি হয়নি বলে জানা গেছে।

    বর্তমানে বাংলাদেশ গ্রুপ ‘সি’ তে রয়েছে—একই গ্রুপে আছে ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেপাল ও ইতালি। সূচি অনুযায়ী টাইগারদের প্রথম তিনটি ম্যাচ কলকাতায় এবং শেষটি মুম্বাইয়ে। উদ্বোধনী দিনে, ৭ ফেব্রুয়ারি, দলটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাঠে নামার কথা রয়েছে।

    নিরাপত্তা ইস্যুর সূত্রপাত মূলত ৩ জানুয়ারি। ওই দিন ভারতীয় বোর্ড (বিসিসিআই) আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্সকে বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে ছাড়তে বললে বিষয়টি বিবেচনায় আসে। আনুষ্ঠানিক কারণ না জানালেও কূটনৈতিক উত্তাপের প্রেক্ষিতে ঘটনাটি তুলনামূলকভাবে গুরুতরভাবে দেখা হয়। এর পরদিন, ৪ জানুয়ারি, বিসিবি সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে আইসিসিকে জানায়—নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশ দল ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলবে না। তারপরেও একাধিক বৈঠকের পর বিসিবির অবস্থান সহজে বদলায়নি।

    অন্যদিকে আইসিসি মোস্তাফিজ ইস্যুকে বিশ্বকাপ নিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত নয় বলে বিবেচনা করেছে। তাদের যুক্তি ছিল—একটি ঘরোয়া লিগে একজন খেলোয়াড়ের ব্যাপারে ঘটনার সঙ্গে বিশ্বকাপের নিরাপত্তা কাঠামোর কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই।

    এখন দৃষ্টিপথে সরকারি সিদ্ধান্তই—বিসিবি সরকারের চূড়ান্ত অবস্থানের উত্তর অপেক্ষায় আছে। সময় খুবই কম; সিদ্ধান্ত না বদলালে বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের বাদ পড়া প্রায় নিশ্চিত বলে দৃশ্যমান।

  • চিত্রনায়িকা জয়শ্রী কবির আর নেই

    চিত্রনায়িকা জয়শ্রী কবির আর নেই

    প্রখ্যাত চিত্রনায়িকা জয়শ্রী কবির আর নেই। গত ১২ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।

    মৃত্যুর সংবাদ প্রথম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান তাঁর ভাগ্নে জাভেদ মাহমুদ। তিনি জানান, জয়শ্রী কবির এককালের জনপ্রিয় নায়িকা ও ১৯৬৮ সালের ‘মিস ক্যালকাটা’। তিনি সত্যজিৎ রায়ের সিনেমা প্রতিদ্বন্দ্বী এবং পরিচালক আলমগীর কবিরের সীমানা পেরিয়ে, রুপালি সৈকতে, সূর্য কন্যা ও মোহনা–র মতো সিনেমায় অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

    পরিবার বা নিকটজন এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যুর কারণ জানাতে পারেনি। জাভেদ মাহমুদ জানান, লন্ডনে অনেক দিন ধরেই তিনি অসুস্থ ছিলেন।

    জয়শ্রী দীর্ঘদিন লন্ডনে বসবাস করছিলেন এবং সেখানে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যের শিক্ষকতা করতেন। প্রায় এক দশক আগে তিনি একবার ঢাকায় এসেছিলেন; তারপর আর স্থায়ীভাবে বাংলাদেশে দেখা যায়নি।

    জয়শ্রী ১৯৫২ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন; পারিবারিক নাম জয়শ্রী রায়। সাউথ পয়েন্ট স্কুলে পড়াশোনা করে ১৯৬৮ সালে ‘মিস ক্যালকাটা’ হওয়া তাঁর früতের সফল মুহূর্তগুলোর মধ্যে একটি। ১৯৭০ সালে সত্যজিৎ রায়ের পরিচালিত প্রতিদ্বন্দ্বী সিনেমার মাধ্যমে তিনি চলচ্চিত্রে প্রবেশ করেন; এরপর ১৯৭৬ সালে মুক্তি পায় অসাধারণ যেখানে তিনি উত্তম কুমারের বিপরীতে অভিনয় করেন। পরবর্তীকালে তিনি বাংলাদেশি চলচ্চিত্রেও কাজ করে বহুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

    ১৯৭৫ সালে আলমগীর কবিরের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়, যা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি; প্রায় তিন বছরের মাথায় দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটে। তাদের সংসারে এক পুত্র সন্তান—লেনিন সৌরভ কবির—রয়েছেন। বিবাহ বিচ্ছেদের পর জয়শ্রী প্রথমে কলকাতায় যান এবং পরে লন্ডনে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন; সেখান থেকে ছেলের সঙ্গে তিনি জীবনযাপন করেছেন।

    জয়শ্রী কবিরের মৃত্যুতে চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এক শান্ত ও মাধুর্যপূর্ণ কণ্ঠ নীরব হয়ে গেল। পরিবারের তরফ থেকে পরবর্তীতে যদি আরও তথ্য জানানো হয়, তা সংবাদ মাধ্যমের মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।

  • ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের সোনালী দিনের খ্যাতিমান নায়ক ও উজ্জ্বল নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ আর নেই। দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করার পর ৮২ বছর বয়সে তিনি না ফেরার দেশে চলে গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

    বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান মৃত্যুর খবর গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। ইলিয়াস জাভেদ ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে জন্মগ্রহণ করেন। পরে পরিবারের সঙ্গে পাঞ্জাবে চলে গেলেও নির্মাণশিল্পের আকর্ষণে তিনি ঢাকার চলচ্চিত্র অঙ্গনেই স্থায়ী হন।

    জানি গেছে, দীর্ঘদিন ক্যান্সারে আক্রান্ত থাকা এই শিল্পী আরও নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। গত বছরের এপ্রিলে তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

    সংবাদমাধ্যমকে জাভেদের স্ত্রী ডলি চৌধুরী বলেন, আজ সকালে তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হয়। দীর্ঘ দিনের চিকিৎসাসেবা মূলত বাসাতেই চলছিল; হাসপাতাল থেকে চিকিৎসক ও নার্সরা বাড়িতে এসে দেখাশোনা করতেন। আজ সকালে দুই নার্স এসে জানান, তার শরীর ঠান্ডা হয়ে গেছে। এরপর অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    জ্যেষ্ঠ এই অভিনেতার সিনেমাজীবন শুরু হয় নৃত্য পরিচালনার মাধ্যমে; পরে নায়ক হিসেবে পরিচিতি পান। ১৯৬৪ সালের উর্দু চিত্রনাট্য ‘নয়ী জিন্দেগি’তে নায়ক হিসেবে রুপালি পর্দায় তাঁর অভিষেক হলেও ১৯৬৬ সালে ‘পায়েল’ সিনেমার বিপরীতে শাবানার সঙ্গে অভিনয় করে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন। চলচ্চিত্র পরিচালক মুস্তাফিজই তাকে ‘জাভেদ’ নামে পরিচিত করেন।

    তার পর থেকেই একের পর এক ব্যবসাসফল ছবিতে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের মনে ‘ড্যান্সিং হিরো’ হিসেবে স্থায়ী স্থান করে নেন। ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৮৪ সালে তিনি জনপ্রিয় নায়িকা ডলি চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। আসল নাম ছিলেন রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

    জাভেদের উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে: মালেকা বানু, নিশান, পাপী শত্রু, রক্ত শপথ, সাহেব বিবি গোলাম, কাজল রেখা, অনেক দিন আগে, আজও ভুলিনি, কঠোর, মা বাবা সন্তান, রাখাল রাজা, রসের বাইদানী, জীবন সঙ্গী ও আবদুল্লাহ।

    সত্তর ও আশির দশকের দর্শকদের কাছে ইলিয়াস জাভেদ ছিল পর্দার প্রাণবন্ত নাচ আর তীক্ষ্ণ অ্যাকশনের এক অনন্য মিশ্রণ। তাঁর প্রয়াণে বাংলা চলচ্চিত্রের এক স্বতন্ত্র অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো। দীর্ঘদিন নীরবে চিকিৎসা নিয়ে থাকা এই গুণী শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধানাজ্ঞা ও সমবেদনা।

  • ফ্ল্যাটের পাশাপাশি নগদও: ওসমান হাদির পরিবার পাচ্ছে মোট ২ কোটি টাকা

    ফ্ল্যাটের পাশাপাশি নগদও: ওসমান হাদির পরিবার পাচ্ছে মোট ২ কোটি টাকা

    সরকার শহীদ শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির পরিবারকে জীবিকা ও বাসস্থানের সহায়তার জন্য মোট দুই কোটি টাকা দেবে। এর মধ্যে ঢাকায় ফ্ল্যাট কেনার জন্য এক কোটি টাকা এবং জীবিকা নির্বাহের জন্য আলাদাভাবে নগদ এক কোটি টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার নয়—বৈঠকে—আজ (বুধবার) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের মাধ্যমে ফ্ল্যাট কেনার জন্য এক কোটি টাকা অনুদান অনুমোদন করা হয়েছে এবং প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে জীবনযাপনের খরচ হিসেবে আলাদাভাবে এক কোটি টাকা দেওয়া হবে। ফলত পরিবারের মোট সহায়তা দুই কোটি টাকা হবে।

    ফ্ল্যাটটি ঢাকার লালমাটিয়ায় সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য নির্মিত ‘দোয়েল টাওয়ার’ সম্মিলিত আবাসিক ভবনে ১ হাজার ২১৫ বর্গফুটের একটি ইউনিট। এ ফ্ল্যাট কেনার জন্য অনুদান অনুমোদনের নথিপত্র অর্থ বিভাগের তরফ থেকে গতকাল মঙ্গলবার অনুমোদন করা হয়। সূত্র জানান, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে এ অনুদানের জন্য আবেদন করা হয়েছিল এবং অর্থ বিভাগ স্ত্রী ও সন্তানদের পরিচয় নিশ্চিত করার শর্তে আবেদন মঞ্জুর করেছে।

    পুলিশি তদন্ত অনুযায়ী ঘটনার প্রেক্ষাপটও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। গণপ্রতিরোধ চিত্রে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা করেছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরপরই ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। প্রথমে ঢাকা মেডিকেলে অস্ত্রোপচার করা হয়; পরে তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়। সেখানকার সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে নয়টায় তিনি মারা যান।

    ওসমান হাদির হত্যার মূল অভিযুক্ত ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সল করিম বর্তমানে ভারতে পালিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাঁর মৃত্যুর পর প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষণা করেছিলেন যে রাষ্ট্র তাঁর স্ত্রী ও সন্তানের দায়িত্ব নেবে এবং ঘটনার পরে এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হয়।

    এদিকে ওই পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরেকটি খবর—শহীদ ওসমান বিন হাদির ভাই ওমর বিন হাদি ১৫ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে বাংলাদেশ উচ্চকমিশনের সহকারী হাইকমিশনে দ্বিতীয় সচিব হিসেবে তিন বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান, যা অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তে করা হয়।

  • মাইলস্টোন ট্রাজেডি: ৬ মাস ও ৩৫ অপারেশনের পর বাড়ি ফিরল আবিদুর রহিম

    মাইলস্টোন ট্রাজেডি: ৬ মাস ও ৩৫ অপারেশনের পর বাড়ি ফিরল আবিদুর রহিম

    রাজধানীর উত্তরায় বিমান বিধ্বস্তের ক্ষতিগ্রস্ত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র আবিদুর রহিম (১২) শেষ পর্যন্ত ছয় মাস চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন। জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের কর্তৃপক্ষ বুধবার (২১ জানুয়ারি) সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

    প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক নাসির উদ্দিন জানান, ঘটনার দিন ২১ জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত আবিদ এখানে চিকিৎসাধীন ছিল—মোট ছয় মাস বা প্রায় ১৮০ দিন। ওই সময়ে তাদের ইনস্টিটিউটে মোট ৩৫ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং আবিদ ছিল তাদের মধ্যে সর্বশেষ রোগী। তার দেহের প্রায় ২২ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। আঘাতের সঙ্গে ইনহেলেশন বার্ন, মুখ পুড়ে যাওয়া এবং দুই হাত জঘন্যভাবে পোড়ার মতো জটিলতা ছিল। ঘটনার সময় সে ক্লাসরুমের সামনের সারির পাশে ছিল।

    অধ্যাপক নাসির জানান, আবিদের অবস্থার তীব্রতা দেখে প্রথমে তাকে পাঁচ দিন আইসিইউতে রাখা হয় এবং এরপর ছয় দিন হাইডি-পেন্ডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) চিকিৎসা চালানো হয়। মোট ১৭২ দিন কেবিনে থাকার পর ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে তিনি ছাড়পত্রের যোগ্য হন। দুই হাতে গুরুতর ক্ষতির কারণে তাকে ফ্যাসেকটমি করা হয়েছিল—চামড়া কেটে বিভিন্ন শল্যচিকিৎসা করে হাত রক্ষা করা হয়। পুরো চিকিৎসার সময় তার শরীরে মোট ৩৫টি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে; ছোট ধরনের অপারেশন ছিল ২৩টি এবং চামড়া লাগানো হয়েছে ১০বার। মূলত মুখ ও হাতের ফ্ল্যাপ কাভারেজ করা হয়েছে।

    দীর্ঘ সময় হাসপাতালের শয্যায় থাকার কারণে সূর্যালোক ও বাড়ির পরিবেশ থেকে দূরে থাকায় শরীরে বিভিন্ন গ্রাফিক্যাল ও শারীরিক জটিলতা তৈরি হয়েছিল; সেগুলো কাটাতে এখন নিয়মিত থেরাপি প্রয়োজন। সঠিক পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হাসপাতালটি চেষ্টা করছে যেন আত্মীয়-পরিজনদের কাছে ফিরলেও নিয়মিত চিকিৎসা ও থেরাপি নেওয়া চালিয়ে যেতে পারে।

    পরিচালক আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “আজ আমাদের আনন্দের দিন—আবিদ আজ বাড়ি যাচ্ছে। এই চিকিৎসায় যারা সহযোগিতা করেছেন—চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতালের প্রতিটি কর্মকর্তা কর্মচারী—তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। অনেক সময় আমাদের ডিউটির সীমা ছিল না, সবাই স্বপ্রণোদিত ভাবে কাজ করেছেন। পরিবারের পক্ষেও অনেক ত্যাগ সহ্য করা হয়েছে; তাদের সহযোগিতাও ছিল অভিনন্দনীয়।” তিনি জানান, সরকার এই চিকিৎসার ব্যয় বহন করার নির্দেশ থাকার কারণে হাসপাতাল কোনো ব্যক্তিগত আর্থিক অনুদান নেয়নি।

    অধ্যাপক নাসির আরও বলেন, মাইলস্টোন ঘটনার মতো বড় বিপর্যয়ে আন্তর্জাতিক মানের ওষুধ ও ড্রেসিং ম্যাটেরিয়াল ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা গেছে। ভবিষ্যতে এমন মানসম্পন্ন চিকিৎসা সরবরাহে প্রস্তুত থাকতে মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং সরকারের কাছ থেকে সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। তিনি জানান, যারা এখন পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়েছেন তাদের অন্তত দুই বছরেরও বেশি সময় নিয়মিত ফলো-আপে থাকতে হতে পারে; এজন্য একটি বিশেষ সেলও খোলা হয়েছে যেন চিকিৎসার যেকোনো সমস্যা থাকলে সমাধান দেওয়া যায়।

    আবিদুর রহিমের বাবা আবুল কালাম আজাদ আবেগভরে বলেন, “আমার ছেলে আজ ছয় মাস চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরছে—এটা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। আমি তাকে জিজ্ঞেস করি, ‘আজ কেমন লাগছে?’ সে বলল, ‘বাবা, আজ আমার ঈদের মত লাগছে।’ চিকিৎসক ও নার্সদের সহযোগিতায় আমি অভিভূত।” তিনি আরও জানান, ছেলেটি কৃতিষ্ঠভাবে বিশেষ এক চিকিৎসককে ‘অদ্ভুত ডাক্তার’ হিসেবে ডাকত—তার নাম ফোনে সেইভাবেই সেভ আছে।

    আবু কালাম সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আহত ও নিহতদের জন্য যে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছিল তা এখনও ঠিকভাবে দেওয়া হয়নি। ছেলেকে বাড়ি পাঠানোর পরে আরও অনেক চিকিৎসা-বিকল্প অপেক্ষা করছে, যেগুলোর ব্যয় পরিবার বহন করতে পারবে না—সেজন্য তিনি ক্ষতিপূরণের পরিমাণ পুনঃনির্ধারণের আবেদন জানান।

    সংবাদ সম্মেলনে আবিদ নিজেও কথা বলার চেষ্টা করেন; “আজ আমি হাসপাতাল থেকে চলে যাচ্ছি” বলে কেঁদে পড়েন। অনুষ্ঠানে হাসপাতালের যুগ্মপরিচালক অধ্যাপক ডা. মারুফুল ইসলাম, জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমানসহ অন্যান্য চিকিৎসক ও নার্সরা উপস্থিত ছিলেন।

    উল্লেখ্য, গত বছরের ২১ জুলাই বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ওপর বিধ্বস্ত হয়। এতে অনেকে আহত হন—জাতীয় বার্নে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৩৬ জন চিকিৎসা নিয়েছিলেন।

  • মব করে জনমত প্রভাবিত করার দিন শেষ: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

    মব করে জনমত প্রভাবিত করার দিন শেষ: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

    রাজধানীর মিরপুর পীরেরबাগে জামায়াতের নারী কর্মীদের বিরুদ্ধে হওয়া হেনস্তা ও হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার (২১ জানুয়ারি) আহতদের দেখতে হাসপাতালে গিয়ে তিনি বলেন, এখন মানুষ অনেক বেশি সচেতন; মব করে জনমত প্রভাবিত করার দিনের শেষ হয়েছে।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যদি কাউকে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করতে দেখা যায়, সেটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জানান। তারা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। কোনো ব্যক্তি বা কোনো দলের অধিকার নেই বনেদি বা অরাজক মব সৃষ্টি করার। জামায়াত নোংরা মব ও সহিংসতার কঠোর নিন্দা জানায় এবং এমন ঘটনার স্থায়ী সমাধান চাইছে।

    তিনি আরও বলেন, আমরা চাই এই মব-ঘটনাই এখানেই শেষ হয়ে যাক। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকতেই পারে, তবে সেটাকে শান্তিপূর্ণ ও আইনি পথে রাখতে হবে। সবাই জনগণের কাছে যাবে, নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করবে এবং দলীয় অঙ্গীকারগুলো সামনে তুলে ধরবে। তারপর জনগণ অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বিচার করে সিদ্ধান্ত নেবে কাদের ওপর আস্থা রাখবে।

    জামায়াত আমির বলেন, তাদের অঙ্গীকার স্পষ্ট: তারা দুর্নীতি ও দুঃশাসনমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়তে চায় যেখানে কোনোভাবে ফ্যাসিজম ফিরে আসবে না। ঠিক এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে তারা পরপর দু’টি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে বলে জানান তিনি।

    ডা. শফিকুর রহমান ৩শ’ আসনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদেরও সংবর্ধনা জানিয়ে বলেন, জনগণের প্রতি আস্থা রাখুন। নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখুন এবং ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করুন যাতে ভোটাররা নিজের পছন্দমতো প্রতীক চিহ্নিত কাগজে ভোট দিয়ে নির্বিঘ্নে বাক্সে পৌঁছে দিতে পারে।