Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • জাতিসংঘের দাবি, বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চান

    জাতিসংঘের দাবি, বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চান

    বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সক্রিয়ভাবে নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে জাতিসংঘ গুরুত্ব দিয়ে মনোযোগ দিচ্ছে, যাতে নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ এবং সকলের জন্য অংশগ্রহণের উপযোগী হয়। জাতিসংঘের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের দপ্তর থেকে এই বিষয়ে মন্তব্য করেন ডেপুটি মুখপাত্র ফারহান হক। এক সাংবাদিক বাংলাদেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, জাতিসংঘের মূল লক্ষ্য হলো দেশটিতে নির্বাচনের প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সব সময় স্পষ্টভাবে বলেছি যে, এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করাই গুরুত্বপূর্ণ যেখানে প্রত্যেক নাগরিক নিরাপদে তাদের ভোটাধিকার ব্যবহার করতে পারবেন এবং ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে।’ এই স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের অধিকার নির্বাচনের সময় এবং পরে গণতন্ত্র রক্ষা এবং একে সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকে। জাতিসংঘের এই প্রস্তাবনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি বার্তা, যার মাধ্যমে তারা জানাতে চায় যে, নির্বাচন যেন স্বচ্ছ, সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য হয়। এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি দ্রুত এগিয়ে চলেছে, যেখানে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি।

  • Trump হুঁশিয়ারি: পৃথিবী থেকে ইরানকে ‘মুছে ফেলার’ সম্ভাবনা

    Trump হুঁশিয়ারি: পৃথিবী থেকে ইরানকে ‘মুছে ফেলার’ সম্ভাবনা

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নেতাদের উদ্দেশে শক্ত ভাষায় সতর্ক করে বলেছেন, যদি ইরানের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে হত্যার হুমকি অব্যাহত থাকে, তবে দেশটিকে পৃথিবী থেকে মুছে ফেলা হবে। এই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি, যা দ্য হিল নামের একটি মার্কিন গণমাধ্যমও প্রকাশ করেছে।

    মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) নিউজ নেশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের উচিত নয় এমন হুমকি দেওয়া। তিনি আরও জানান, আমি আগেই নির্দেশনা দিয়েছি—যদি আমার কিছু ঘটে, তাহলে পুরো ইরানকে ধ্বংস করে দেওয়া হবে।

    ট্রাম্প মনে করেন, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন চলাকালে বাইডেন প্রশাসনের গোয়েন্দা কর্মকর্তা ওদের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য হত্যার হুমকি সম্পর্কে ব্রিফ করেছিলেন। এ বিষয়ে তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মেরিক গারল্যান্ড জানিয়েছেন, এই ষড়যন্ত্রের পেছনে ২০২০ সালে ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল কাসেম সোলাইমানির হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা থাকতে পারে। সোলাইমানির মৃত্যুদণ্ডে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অভিযান সফল হয়েছিল।

    এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের উচিত ছিল বিষয়গুলোকে জাতির কাছে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা। সাবেক ও বর্তমান প্রেসিডেন্টদের একে অপরের রক্ষা করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। তিনি আরও জানান, আমার স্পষ্ট নির্দেশনা আছে—যদি কিছু ঘটে, তবে ইরান পুরো পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।

    পূর্বে ট্রাম্প বলেছিলেন, যদি ইরান তার জীবনবাজি রেখে তাকে হত্যা করার চেষ্টা করে, তাহলে দেশটিকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হবে। কর্মকর্তাদের নির্দেশের ফলে তিনি এই কথা বলেছিলেন, যা ইরানের জন্য এক ভয়াবহ বিপদ হতে পারে।

    অপরদিকে, ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত তিন হাজার ৩০০ এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এর জেরে ট্রাম্প বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের উপর যদি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র মোবাইল সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। তবে বর্তমানে তাকে জানানো হয়েছে যে, এসব হত্যাকাণ্ড আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।

    এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি অভিযোগ করেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করছে। এক সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, তারা ইরানকে ছাড় দিতে চায় না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আমরা যুদ্ধ চাচ্ছি না, তবে দেশের অভ্যন্তরীণ অপরাধীদের ও দেশের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীদের কোন ছাড় দেওয়া হবে না।

  • গাজায় যুদ্ধাপরাধের জন্য অভিযুক্ত নেতানিয়াহু বোর্ড অব পিসে যোগ দিচ্ছেন

    গাজায় যুদ্ধাপরাধের জন্য অভিযুক্ত নেতানিয়াহু বোর্ড অব পিসে যোগ দিচ্ছেন

    গাজার পরিস্থিতি এখন বিশ্ববোধক এক সংকটের কেন্দ্রে। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ নামে একটি নতুন সংগঠন গড়ে উঠছে, যেখানে যোগ দিচ্ছে দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু। এই খবরটি বুধবার (২১ জানুয়ারি) ইসরায়েলি সরকারি দপ্তর নিশ্চিত করেছে এবং এটি প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইসরায়েল ও আল-জাজিরা।

    শুরু থেকেই এই বোর্ডের নেতৃত্বে থাকবেন ট্রাম্প নিজে, যিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে এই সংগঠনে যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ট্রাম্পের ভাষ্য, যারা এই বোর্ডে যোগ দিতে ১ বিলিয়ন ডলার দান করবে, তারা আজীবন সদস্য হিসেবে সম্মানিত হবেন।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই উদ্যোগের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী বিকল্প জাতিসংঘের বিকল্প হিসেবে তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ট্রাম্প নিজেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন, হয়তো এই বোর্ড জাতিসংঘের স্থলাভিষিক্ত হবে।

    এখন পর্যন্ত এই বোর্ডে যোগদান করেছেন আর্জেন্টিনা, আজারবাইজান, বেলারুশ, হাঙ্গেরি, কাজাখস্তান, মরক্কো, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ভিয়েতনামসহ অন্যান্য দেশ। সর্বশেষ যোগ দিয়েছেন ইসরায়েল।

    অপরদিকে, আন্তর্জাতিক আদালত (আইসিসি) গাজায় গণহত্যার অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। এছাড়া, গত বছর নভেম্বরে গাজায় হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে নেতানিয়াহু এবং তার সরকারের কিছু চরমপন্থী নেতা বিরুদ্ধে তুরস্কও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।

    এমন পরিস্থিতিতে, নেতানিয়াহুর মতো একজন যুদ্ধাপরাধীর হাতে এই শান্তির সংগঠনের নেতৃত্ব দেওয়া অনেকের কাছে প্রশ্নের মুখে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ট্রাম্পের ‘শান্তির’ নামে গড়া এই বোর্ডের বিরুদ্ধে অস্পষ্ট নানা ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠতে পারে, যা আন্তর্জাতিকভাবে নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

  • পাকিস্তানে করাচির গুল প্লাজার অগ্নিকাণ্ডে ৩০ জনের মরদেহ উদ্ধার

    পাকিস্তানে করাচির গুল প্লাজার অগ্নিকাণ্ডে ৩০ জনের মরদেহ উদ্ধার

    প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় করাচির ব্যস্ত শপিং কমপ্লেক্স গুল প্লাজায় এখনও নিখোঁজের সংখ্যা বিপুল। গত ১৭ জানুয়ারি শনিবার এই দুর্যোগের শুরু হয়, যেখানে প্রথম আগুন লাগে প্লাজার বেসমেন্টে এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পুরো পাঁচ তলায়। ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই এই ভয়াবহ আগুনের সূত্রপাত ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের মাত্রা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে হয়।

    ১৯৮০ সালে নির্মিত এই শপিং কমপ্লেক্সটির বিশাল আকার, যা একটি ফুটবল মাঠের থেকেও বড়। এখানে রয়েছে ১ হাজার ২ শতাধিক দোকান, কিন্তু আগুনে অধিকাংশ দোকান পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই ধরণের বড় অগ্নিকাণ্ড এর আগে করাচিতে ঘটেনি।

    অগ্নিদগ্ধদের মধ্যে বেশিরভাগই দোকানের মালিক ও কর্মচারী, যারা মরদেহ উদ্ধারের পর ১৫ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় এখন মোট মৃতের সংখ্যা ৬১ জনে পৌঁছায়, তবে নিখোঁজের সংখ্যা এখনো ৪০ জনের বেশি। উদ্ধারকার্য চলাকালে ৩০ জনের দগ্ধ মরদেহ গুল প্লাজার একটি দোকান থেকে উদ্ধার করা হয়, যার মধ্যে নতুন করে ১৫ জনের পরিচয় জানা গেছে। নিখোঁজের সংখ্যার সঙ্গে মৃত্যুর সংখ্যা এভাবেই দ্রুত বাড়ছে বলে ধারণা করছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস।

    ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গুল প্লাজার মোট ২৬টি গেট ছিল, তবে এর মধ্যে ২৪টি সবসময় বন্ধ থাকত, যার কারণে অগ্নিকাণ্ডের সময় শত শত মানুষ আটকা পড়েছিলেন। মার্কেটের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল অনুপযুক্ত ও নষ্ট, যা পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তোলে।

    তদন্তে জানা গেছে, আগুন লাগার পর দোকানগুলো শাটার বন্ধ করে দিয়েছিল, যা তাদের প্রাণহানির কারণ বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা। উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক আসাদ রাজা জানিয়েছেন, ঘটনাটি তদন্ত চলছে এবং অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হতাহত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। সিন্ধি সরকার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, যারা এখন পর্যন্ত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এই ঘটনাটি করাচির ইতিহাসে অন্যতম ভয়ংকর অগ্নিকাণ্ড হিসেবে রেকর্ড হচ্ছে।

  • শিনজো আবের হত্যায় খুনির আমৃত্যু কারাদণ্ড

    শিনজো আবের হত্যায় খুনির আমৃত্যু কারাদণ্ড

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবেকে গুলি করে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আজীবন কারাদণ্ড দেয় জাপানের আদালত। এশিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী অর্থনীতির দেশকে স্তব্ধ করে দেওয়ার এই হত্যাকাণ্ডের প্রায় সাড়ে তিন বছর পর বুধবার রায় ঘোষণা করা হয়, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

    ১৯৫৯ সালে জন্ম নেওয়া শিনজো আবেকে ২০২২ সালের জুলাইয়ে পশ্চিম জাপানের নারা শহরে এক নির্বাচনী প্রচারের সময় হত্যা করা হয়। তখন তিনি বক্তৃতা দিচ্ছিলেন, আর ওই সময় হাতে তৈরি বন্দুক দিয়ে একজন ৪৫ বছর বয়সীতেতসুইয়া ইয়ামাগামি তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ ঘটনার পরই তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। নিহতের বয়স ছিল ৬৭ বছর।

    নারা ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে বিচার শুরুর সময়, অক্টোবর মাসে, প্রথম শুনানিতেই ইয়ামাগামি হত্যার দোষ স্বীকার করে নেয়। এ জন্য তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়, যা আদালতের জন্য এক স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ছিল। তখনকারঠা সব চোখ ছিল কেমন ধরনের শাস্তি হবে তা নিয়ে। রায় ঘোষণার সময় বিচারক শিনিচি তানাকা এই গুলির ঘটনায় বলেছেন, এই ঘটনার ভাষা ‘জঘন্য’ এবং তিনি বলেন, “বড় জনসমাগমে বন্দুকের ব্যবহার অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং দুষ্কৃতিকারী অপরাধ।”

    রায় ঘোষণার আগে, কৌঁসুলিরা খুনি ইয়ামাগামির জন্য আজীবন কারাদণ্ডের দাবি করেছিলেন। তারা উল্লেখ করেছিল যে, জাপানে এ রকম ঘটনা খুবই বিরল এবং ব্যাপক গুরুত্বের জন্য এই হত্যাকাণ্ডকে ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধপরবর্তী অন্যতম মারাত্মক ও নজিরবিহীন ঘটনা’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়। তবে, ইয়ামাগামির আইনজীবীরা তার জন্য কম করে ২০ বছরের দণ্ডের আবেদন জানায়, মূলত এই ঘটনায় ইউনিফিকেশন চার্চের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পারিবারিক বিষয়কে কেন্দ্র করে।

    বিচার শেষে জানা যায়, ইয়ামাগামির বিরুদ্ধে আপিলের জন্য সিদ্ধান্ত হলে, তার আইনজীবীরা সেটি ঘোষণা করবে। ভবিষ্যতে এই ব্যাপারে তারা কি করছেন, তা পরে জানানো হবে।

  • পাইকগাছায় ৩ অবৈধ ইটভাটা ও ৫০টি কয়লা চুল্লি উচ্ছেদ

    পাইকগাছায় ৩ অবৈধ ইটভাটা ও ৫০টি কয়লা চুল্লি উচ্ছেদ

    খুলনার পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালী এলাকায় অনুমোদনবিহীন তিনটি ইটভাটা এবং অর্ধশতাধিক কাঠভিত্তিক কয়লা চুল্লি অবৈধভাবে পরিচালিত হয়ে আসছিল। দীর্ঘ দিন ধরে এসব অবৈধ স্থাপনা থেকে নিঃসৃত ধোঁয়া, ছাই ও দূষণ পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

    বুধবার দুপুরে পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনা ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে চাঁদখালী বাজারের সংলগ্ন এলাকায় থাকা এসব অবৈধ স্থাপনা ভাঙচুর করা হয়। অভিযানে ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং আনসারসহ প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন সদস্য অংশ নেন। ভেঙে ফেলা ইটভাটাগুলির মধ্যে রয়েছে ফতেপুরের এডিবি ব্রিকস, বিবিএম ব্রিকস এবং স্টার ব্রিকস। অভিযানের সময় এলাকার সাধারণ মানুষ উত্তেজিত হয়ে উপস্থিত থাকেন এবং উৎসুকভাবে দেখেন।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, পরিবেশ ও জনস্বার্থ রক্ষায় প্রশাসন অব্যাহতভাবে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোনো অনুমতিহীন ইটভাটা বা চুল্লি আর পরিচালনা করা যেতে পারে না। এটি একদিনের অভিযান নয়, ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে। সাহায্যকারী কমিশনার (ভূমি) ফজলে রাব্বি জানান, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে যদি কেউ অনুমোদনহীন ভাটা বা চুল্লি চালু করে, তাহলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    স্থানীয় জনগোষ্ঠী এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের আশায়, নিয়মিত এ ধরনের অভিযান চললে পরিবেশের পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনও নিরাপদ থাকবে।

  • পাইকগাছায় বিধবা নারীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা

    পাইকগাছায় বিধবা নারীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা

    পাইকगাছায় শ্রীলেখা সানা (৬০) নামে এক বিধবা নারীর ওপর দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহত শ্রীলেখা উপজেলার সোলাদানা ইউনিয়নের দীঘা গ্রামের মৃত ফণীন্দ্র নাথ সানার স্ত্রী। ঘটনা ঘটে গতকাল বুধবার সকাল ১০টার দিকে, যখন তার রান্নাঘর থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়রা জানায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে দুর্বৃত্তরা পুলিশ বা এলাকাবাসীর নজরদারির বাইরে থাকা সুযোগে এ ঘটনা ঘটায়। তারা তার ওপর তরবারি বা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাকুপি করে গুরুতর আঘাত করে। তখন সে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় রান্না ঘরে পড়ে থাকতো। বুধবার সকাল ১০টার দিকে পরিবারের লোকজন তাকে ডাকাডাকি করে কেউ সাড়া না পেলে দরজা ভেঙে বাইরে থেকে প্রবেশ করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে। খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ও সিআইডির একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। ঘটনার তদন্ত করে সিআইডি জানিয়েছে, এটি পূর্ব পরিকল্পিত একটি হত্যাকাণ্ড। পরে মৃতদেহ উদ্ধার করে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। পুলিশ বলছে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কী উদ্দেশ্য বা অপরাধীরা কারা সেটি এখনো জানা যায়নি, তবে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ওসি গোলাম কিবরিয়া জানান, এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং জড়িতদের খুঁজে বের করতে পুলিশ তৎপর।

  • গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও বাকস্বাধীনতা পুনরুদ্ধারে সবাদের একক প্রচেষ্টা জরুরি

    গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও বাকস্বাধীনতা পুনরুদ্ধারে সবাদের একক প্রচেষ্টা জরুরি

    বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি গণতান্ত্রিক, ভোটাধিকারভিত্তিক এবং সুরক্ষিত সর্ম্পদে বিশ্বাসী বাংলাদেশ গড়ে তোলাই বিএনপি’র মূল লক্ষ্য। এই উদ্দেশ্যে খুলনা-২ আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের সংসদ সদস্য প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র, ভোটাধিকার এবং বাকস্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করতে হলে শহীদ সহযোদ্ধাদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হবে। তাদের আত্মদান বৃথা যেতে দিতে পারেন না আমরা। বুধবার সকালে তিনি খুলনা মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক, শিক্ষকমন্ডলী ও কর্মচারীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন। পরে সকালে খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক আ স ম জমশেদ খোন্দকারের হাতে ধানের শীষ প্রতীক পেয়ে যান তিনি। দুপুরে হোটেল ক্যাসেল সালামে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বিকেলে রূপসা স্ট্যান্ড রোডে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের আয়োজনে শ্রমিক সমাবেশ ও বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল হয়, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি মহিলাদের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘ ১৭ বছর ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটদানে বিরত ছিল। এখন তারা চায় নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে। অতীতে ভোটাধিকার হরণের অপপ্রয়াস দীর্ঘ সময় ধরে চলেছে; এসবের অবসান ঘটাতে হবে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে। বিএনপিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু নেত্রীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে তারা সফল হয়নি; বাংলাদেশে বিএনপি গড়ে উঠেছে। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একটি মুক্ত, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করে জনগণের ইচ্ছানুযায়ী সরকার গঠন করা। এই সভা-সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন তরিকুল ইসলাম জহির, রেহেনা ঈসা, অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, হাসানুর রশিদ মিরাজ, শের আলম সান্টু, মহিবুজ্জামান কচি, অনুয়ার হোসেন, মুজিবর রহমান ও আরও অনেকে। নজরুল ইসলাম মঞ্জু আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেনি। এখন তারা চান, নিরাপদে গিয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে। আমাদের আসল কাজ হচ্ছে, অতীতের মত ভোটাধিকার হরণের অপচেষ্টা বন্ধ করে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। ভবিষ্যতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হত্যার পেছনের ফাঁদে অনেককেই ফেলেছিল। যারা এই হত্যার সঙ্গে জড়িত, তারা বিএনপি-কে ধ্বংসের চেষ্ঠা করেছে। কিন্তু নেতা বেগম খালেদা জিয়া তাদের ব্যর্থ করে বাংলাদেশে বিএনপি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিফলন সৃষ্টি করেছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বিএনপি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ইচ্ছায় সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়েছে। অনুষ্ঠানগুলোতে উপস্থিত ছিলেন তরিকুল ইসলাম জহির, রেহেনা ঈসা, অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, হাসানুর রশিদ মিরাজ, শের আলম সান্টু, মহিবুজ্জামান কচি ও অনেকে। একই দিনে, মহানগর বিএনপি তাদের নির্বাচনী কার্যক্রমের জন্য একটি উপ-কমিটি গঠনের সভাও অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে আগামী ২২ জানুয়ারি নগরীর ফেরিঘাট মোড় থেকে প্রার্থীর লিফলেট বিতরণের কর্মসূচি নির্ধারিত হয়েছে। সবাইকে এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

  • ফকিরহাটে চুরির অভিযোগে গৃহিনী খুনের ঘটনা

    ফকিরহাটে চুরির অভিযোগে গৃহিনী খুনের ঘটনা

    ফকিরহাটে এক বাড়িতে চুরি করতে এসে দুর্বৃত্তরা গৃহিনী মমেনা বেগম (৪২)কে হত্যা করেছে। ঘটনাটি ঘটে উপজেলার বাহিরদিয়া-মানসা ইউনিয়নের মধ্যবাহিরদিয়া এলাকায়। নিহত গৃহিনী হলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বিল্লাল খাঁনের স্ত্রী ও স্থানীয় ইউপি সদস্য খাঁন জাহিদ হাসানের জ্যেষ্ঠা স্ত্রী।

    ঘটনার রাতেই নিহতের স্বামী বিল্লাল খাঁন থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বুধবার (২১ জানুয়ারী) রাত ১০টার দিকে বিল্লাল খাঁন মানসা বাজারে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ছিলেন। তিনি বাড়ি ফিরলে দেখতে পান তার স্ত্রী ঘরের ভেতর মৃত অবস্থায় পড়েছিলেন।

    খবর পেয়ে বাহিরদিয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এস আই ওহিদুল হকসহ পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা মরদেহটি উদ্ধার করে প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেন ও তার পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

    পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, মরদেহের মুখমণ্ডলে একাধিক আঘাতের চিহ্ন এবং কানের নিচেও আঘাতের দাগ দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে কিল-ঘুসি মারার পাশাপাশি গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, চুরির সময় চোর চিনেই ফেলায় তাকে হত্যা করা হয়েছে।

    নিহত গৃহিনীর স্বামী জানান, তিনি দোকান থেকে বাড়ি ফিরে দেখেন তার স্ত্রী ঘরের মধ্যে পড়ে আছেন। ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে একা ছিলেন। দুর্বৃত্তরা তার স্ত্রীকে মারধর করে নগদ ২৩ হাজার টাকা, দুটি স্বর্ণের রুলি ও এক জোড়া কানের দুল চুরি করে নিয়ে গেছে।

    ফকিরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় রাতেই স্বামী বিল্লাল খাঁন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। বর্তমানে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে এবং মামলাটির তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে।

  • তরুণদের আধুনিক প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষিত করে বেকারত্ব দূর করবেন

    তরুণদের আধুনিক প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষিত করে বেকারত্ব দূর করবেন

    দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির মূল চালিকা শক্তি হলো তরুণ সমাজ। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তরুণদের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ জাগিয়ে তুলতে হবে, যাতে তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ ও সবল হতে পারেন। বিএনপি কেন্দ্রীয় ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ্ব রকিবুল ইসলাম বকুল এই মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মকে আধুনিক ও দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা হবে, যা দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য। তাদের জন্য দক্ষতা অর্জনের প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি।

    গতকাল বুধবার আড়ংঘাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয় আয়োজিত এক দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি। এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিএনপি চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায়। উপস্থিত ছিলেন আড়ংঘাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয় সেন্টারের সভাপতি শেখ মনিরুল ইসলাম, দৌলতপুর থানা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মতলেবুর রহমান মিতুলসহ অন্য নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠান শেষে মহানগর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ শেখ সাদী, সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক মোঃ চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন, সাবেক ইমাম মাওলানা মোঃ মোদাচ্ছের হোসেন ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে দেশের সার্বিক কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ এবং নেতা-কর্মীরা এ দোয়া মাহফিলে অংশ নেন, যা দেশের শান্তি ও উন্নতি কামনামূলক গুরুত্বপূর্ণ একটি আয়োজন।