Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • সেনাপ্রধান: যুদ্ধের জন্য নয়, যুদ্ধ এড়াতেই আমরা প্রস্তুতি নেই

    সেনাপ্রধান: যুদ্ধের জন্য নয়, যুদ্ধ এড়াতেই আমরা প্রস্তুতি নেই

    সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, আমরা যুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে প্রস্তুতি নিই না; আমাদের প্রস্তুতির লক্ষ্য হলো দেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করে সংঘাত এড়িয়ে যাওয়া। কার্যকর পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নের জন্য শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অপরিহার্য — এই ভাবনাই তার বক্তৃতার মূল ভিত্তি ছিল।

    বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে মিরপুরের ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে (এনডিসি) ‘ক্যাপস্টোন কোর্স ২০২৬/১’–এর সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিন সপ্তাহব্যাপী কোর্সটি ৫ থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত চলেছে এবং এতে মোট ৪৫ জন ফেলো অংশগ্রহণ করেন; তাদের মধ্যে সংসদ সদস্য, জ্যেষ্ঠ সামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন প্রতিনিধি, কূটনীতিক ও ব্যবসায়ীরাও ছিলেন।

    সেনাপ্রধান জোর দিয়েছেন যে দেশের আমদানি-রপ্তানি সমুদ্রপথনির্ভর হওয়ায় নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে তিনি বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নেরও গুরুত্ব তুলে ধরেন — দক্ষ নৌ ও বিমান শক্তি না থাকলে আন্তর্জাতিক মেরুদণ্ড ধরে রাখা কঠিন হবে।

    জ্বালানি নিরাপত্তা বিষয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, স্বাধীনতার দীর্ঘ পাঁচ দশক পার হলেও দ্বিতীয় রিফাইনারি না হওয়ার ফলে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। দেশে মাত্র একটিই রিফাইনারি থাকায় চাহিদা মিটতে অল্প পরিমাণ তেল পরিশোধন করা সম্ভব হয় এবং বাকি জ্বালানি বহুমূল্যে আমদানি করতে হয়।

    আন্তর্জাতিক উত্তেজনার প্রভাবও স্মরণ করিয়ে দেন সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল সম্পর্কিত উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালীর মতো কৌশলগত অঞ্চলের সঙ্কট সরাসরি জ্বালানি সরবরাহে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের জীবনেও প্রভাব পড়ছে।

    রোহিঙ্গা সংকটকে তিনি জাতীয় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে বলেন, এর স্থায়ী সমাধানের জন্য রাজনীতি, সমাজ ও নিরাপত্তা খাত—সকলকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে।

    সমাপনী বক্তব্যে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এনডিসিতে এ ধরনের কোর্সের সংখ্যা আরও বাড়বে এবং অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের ক্ষেত্রে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়ন ও নিরাপত্তায় সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন।

    ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. ফয়জুর রহমানও কোর্সের অংশগ্রহণকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও আন্তঃক্ষেত্রীয় সংলাপের মাধ্যমে জাতীয় মেলবন্ধন গড়ে তোলার গুরুত্ব সম্পর্কে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, কোর্সটি কৌশলগত সচেতনতা বৃদ্ধি, গঠনমূলক চিন্তাভাবনার বিকাশ এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিয়ে একক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    সমাপনী অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনী ও বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, এনডিসির অনুষদ এবং অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • ফজলুর রহমানকে নিয়ে মন্তব্য: কুষ্টিয়া-৩ এমপি মুফতি আমির হামজাকে ফের আইনি নোটিশ

    ফজলুর রহমানকে নিয়ে মন্তব্য: কুষ্টিয়া-৩ এমপি মুফতি আমির হামজাকে ফের আইনি নোটিশ

    কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজাকে আবারও আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জেলা ছাত্রশক্তি নেতা মো. আই-ইয়াশ ইমনের পক্ষে জজ কোর্টের আইনজীবী নুরুল ইসলাম এই নোটিশ দেন।

    নোটিশে বলা হয়েছে, দশ দিনের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না দিলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে যে, আমির হামজা কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনসম্মুখে নানা সময় অশোভন উক্তি ও অপপ্রচার করে চলেছেন। অভিযোগে বলা হয় তিনি ফজলুর রহমানকে ‘ফজু পাগলা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন, পাবনা মানসিক হাসপাতালে পাঠানোর কথা বলেছেন এবং এমনকি কুকুর মারার ইনজেকশনের মতো মন্তব্যও করেছেন। নোটিশে দাবি করা হয়েছে এসব বক্তব্য একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সম্মান ক্ষুণ্ন করেছে এবং ফলে ফজলুর রহমান সামাজিক, মানসিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

    নোটিশ পাঠানোর পেছনে আই-ইয়াশ ইমন বলেন, ‘ফজলুর রহমান আমার পছন্দের ব্যক্তি এবং একটি সম্মানিত বীর মুক্তিযোদ্ধা। তাকে নিয়ে এই ধরনের মন্তব্য চলতে দেওয়া যায় না—এজন্য আইনি পদক্ষেপ নিয়েছি।’

    আমির হামজার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন রিসিভ করা হয়নি।

    উল্লেখ্য, চলতি মাসেই এমপি আমির হামজাকে দুই দফা আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। গত ১ এপ্রিল এক ব্যক্তি মো. হৃদয় হাসানের মাধ্যমে আইনজীবী আব্দুল মজিদকে দিয়ে নোটিশ পাঠানো হয়, যেখানে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ বন্ধ রাখার প্রসঙ্গে ৫০ কোটি টাকার ঘুষের প্রস্তাব দেওয়ার সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করার দাবি ছিল। এরপর ১৩ এপ্রিল সদর উপজেলার রবিউল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির হয়ে জেলা জজ কোর্টের আইনজীবী আব্দুল মজিদের মাধ্যমে আমির হামজাকে আরেকটি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল, যা জেলা প্রশাসককে নিয়ে করা বিতর্কিত মন্তব্য সংক্রান্ত।

    এই মুহূর্তে ঘটনাটি নিয়ে উভয়পক্ষের মন্তব্য যোগাড় না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি স্থির রয়েছে।

  • সরকার ভুল পথে গেলে নারী এমপিরাও সরব হবেন: হামিদুর রহমান আযাদ

    সরকার ভুল পথে গেলে নারী এমপিরাও সরব হবেন: হামিদুর রহমান আযাদ

    জামায়াতের সহকারী সাধারণ সম্পাদক হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সরকার যদি ভুল পথে চলে বা জনবিরোধী সিদ্ধান্ত নেয়, বিরোধীদলের অন্যান্য সদস্যদের মতো সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যরাও সমানভাবে সোচ্চার হবেন। তিনি তথ্যগুলো মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) নির্বাচন ভবনে জামায়াত জোটের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে জানান।

    আযাদ বলেন, ‘‘আমরা আশা করছি নারী আসনের জন্য যে ১৩টি কম্বাইন তালিকা জমা দিয়েছি, সেগুলোর বিরুদ্ধে আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকবে না। এই ১৩টি আসন প্রতিটি তালিকার ভিত্তিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার কথা; আমরা আশা করি ফলাফলও তেমনি হবে।’’

    তিনি বলেন, কমিশনের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সংসদও চলমান অবস্থায় রয়েছে, তাই যদি মনোনীতরা সময়মতো সংসদে যোগদান করতে পারেন তাহলে জাতি ও বিশেষত নারী সমাজের প্রত্যাশামতো নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে—এটাই তারা চান। কমিশন যেন বিপরীত কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি না করে, এটাই তাদের প্রত্যাশা এবং তারা এ বিষয়ে আশ্বাসও পেয়েছেন বলেও আযাদ জানান।

    আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, মনোনীত ১৩ জন সদস্য নির্বাচিত হয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষে সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব করবেন। দেশের ও জাতির স্বার্থে আইন প্রণয়নসহ সকল কাজে নারীরা সম্পূর্ণ মর্যাদাপূর্ণ ও কার্যকর সংসদ সদস্য হিসেবে ভূমিকা রাখবেন; সংবিধান তাদের সেই সুযোগ দিয়েছে।

    হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, এই ১৩ জন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি বিরোধীদলের সঙ্গে কাতারে থেকে দেশ গড়ায় ও জাতি গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন। পার্লামেন্টে জামায়াতসহ বিরোধীদলীয়দের নীতি ও ভূমিকা সবসময় ন্যায়সম্মত ও জনকল্যাণমুখী হবে—এমনটাই তাদের সিদ্ধান্ত; এ বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান (জামায়াতের আমির) ইতোমধ্যে ভাষ্য দিয়েছেন।

    আযাদ বলেন, ‘‘যদি সরকার অন্যায় বা জনবিরোধী সিদ্ধান্ত নেয়, আমাদের অন্যান্য বিরোধীদলীয় সদস্যদের মতো নারী সদস্যরাও একসঙ্গে কণ্ঠ তুলে প্রতিবাদ করবেন। ৭৭ জনের সঙ্গে ১৩ জন যুক্ত হয়ে মোট ৯০ জন বিরোধীদলীয় সদস্য একসঙ্গে সংসদে ভূমিকা পালন করবে—এমনটাই আমাদের প্রত্যাশা।’’

    গণভোট সংক্রান্ত প্রশ্নে তিনি বলেন, গণভোটের রায় অনুযায়ী সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা আছে; তা না হওয়ায় তারা ১১ দলীয় জোট হয়ে সরকারের জনরায় উপেক্ষার প্রতিবাদ করে পার্লামেন্টের বাইরে ও ভেতরে কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও রাজপথে পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

    মনোনয়ন সম্পর্কিত বিতর্ক নিয়ে তিনি জানিয়েছেন, জামায়াতে পরিবারে একাধিক সংসদ সদস্য রাখার নীতি না থাকার কারণে দলের আমিরের সহধর্মিণীকে সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন দেয়া হয়নি; পরিবর্তে শহীদ পরিবারের একজন মা, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারসহ সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।

    এনসিপির প্রার্থী মুনিরা শারমিন সরকারি চাকরি থেকে অবসরের তিন বছর পূর্ণ না হলে প্রার্থী হতে পারবেন না—এমন আলোচনার প্রেক্ষিতে আযাদ আশা প্রকাশ করেন যে এ সংক্রান্ত কোনো কারণে মনোনয়নপত্র বাতিল হবে না।

    সংবিধিবদ্ধ তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল, আপিল গ্রহণ ২৬ এপ্রিল, আপিল নিষ্পত্তি ২৭ ও ২৮ এপ্রিল, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৯ এপ্রিল, প্রতীক বরাদ্দ ৩০ এপ্রিল এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে।

  • বিএনপি সংরক্ষিত নারী আসনে সংখ্যালঘু ৪ নারীকে মনোনয়ন

    বিএনপি সংরক্ষিত নারী আসনে সংখ্যালঘু ৪ নারীকে মনোনয়ন

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের চার নারীকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। সোমবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী মনোনীত নারীদের নাম ঘোষণা করেন। মনোনয়নপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন নিপুণ রায় চৌধুরী, আন্না মিনজ, সুবর্ণা শিকদার ঠাকুর এবং মাধবী মারমা।

    বিএনপি মনোনয়নে বৈচিত্র্য ও সামাজিক প্রতিনিধিত্বকে গুরুত্ব দিয়েছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে 눈에 পড়া নাম আন্না মিনজ। আন্না ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র ডিরেক্টর (প্রোগ্রাম) হিসেবে কর্মরত এবং তিনি আদিবাসী ওরাও সম্প্রদায়ের একজন সফল উন্নয়নকর্মী। নাটোরের বাসিন্দা আন্না জানিয়েছেন, তিনি সুবিধাবঞ্চিত সংখ্যালঘু, খ্রিস্টান ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর হয়ে কাজ করবেন। তার স্বামী জন গোমেজ বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ধর্মবিষয়ক সহ-সম্পাদক বলে দলীয় পরিচয় প্রচলিত রয়েছে।

    গোপালগঞ্জ থেকে মনোনয়নপ্রাপ্ত সুবর্ণা শিকদার ঠাকুর একজন শিক্ষক এবং মথুয়া বহুজন সমাজ ঐক্যজোটের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে পরিচিত। সংরক্ষিত আসনে তার মনোনয়ন ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু আলোচনায় তথ্যে ভিন্নতা দেখা গেছে—কিছু তথ্য বলছে তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগ কমিটির সদস্য। কিন্তু তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘‘আমি বিএনপি’র একজন সমর্থক, কোনো স্থানীয় কমিটিতে নেই।’’ তাঁর স্বামী পদ্মনাভ ঠাকুর একজন সময়ের যুবদলের নেতা ছিলেন।

    বান্দরবানের মাধবী মারমা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য ও দলের মহিলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত। দলীয় নেতারা বলেন, সংরক্ষিত আসনের এই তিনটি মনোনয়নের মাধ্যমে তারা সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন।

    দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব বলেছে, এসব মনোনয়নে সামাজিক ও সাম্প্রদায়িক বৈচিত্র্য বজায় রাখা হয়েছে যাতে বিভিন্ন প্রেক্ষাপট থেকে আসা নারীরা জাতীয় রাজনীতিতে প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন। বিএনপির এই উদ্যোগকে সমর্থকরা স্বাগত জানানোর পাশাপাশি কিছু তথ্য যাচাই-নিরীক্ষারও আবেদন করেছেন। দল এবং মনোনীত প্রার্থীরা এবিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দিচ্ছেন বলে জানানো হয়েছে।

  • জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় পোশাক খাতের অর্ডার স্থগিত, উদ্বেগ বেড়েছে

    জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় পোশাক খাতের অর্ডার স্থগিত, উদ্বেগ বেড়েছে

    বৈদেশিক ক্রেতাদের জ্বালানি সংকটের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় নতুন ক্রয়াদেশ স্থগিত হচ্ছে—এমন চিত্র জানিয়েছে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম (পারভেজ) চৌধুরী।

    তিনি বলেন, আগামী দুই থেকে তিন মাসে জ্বালানি পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে এমন আশঙ্কায় অনেক বিদেশি ক্রেতা বাংলাদেশে অর্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করছেন। এ পরিস্থিতি তৈরি পোশাক খাতসহ দেশের প্রধান রপ্তানি খাতগুলোকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। এসব কথা তিনি বলেন বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায়।

    বিসিআই সভাপতি আরও বলেন, বিশ্ববাজারের অস্থিরতার সঙ্গে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা মিলিয়ে ক্রেতাদের উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে আগামী জুলাই ও আগস্ট মাসে অনুমান করা অনেক ক্রয়াদেশ ইতোমধ্যেই ধীরগতির হয়ে এসেছে। অনেক বড় ক্রেতা নেতিবাচক সংকেত দিচ্ছে এবং কিছু অর্ডার ভারতসহ অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে।

    তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা-অফিসগুলো পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও শীর্ষ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা বাংলাদেশে নতুন অর্ডার দিতে এখন পিছু হটছেন। এর ফলে অর্ডার শূন্যতাও বাড়তে পারে এবং রপ্তানি আয় সংকুচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    অন্য দিকে, বর্তমান কর কাঠামোও ব্যবসায়ীদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে বলে জানান আনোয়ার-উল আলম। লাভ-লোকসান নির্বিশেষে এক শতাংশ হারে ন্যূনতম কর পরিশোধের বাধ্যবাধকতা অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে; বিশেষত ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তারা এতে বেশি প্রভাবিত হচ্ছেন। মুনাফা না থাকলেও কর দিতে হচ্ছে, যা অনেকের জন্য প্রতিষ্ঠান চালিয়ে যাওয়াকে কঠিন করে তুলছে।

    এই প্রেক্ষাপটে তিনি ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য করসংক্রান্ত প্রণালী পুনর্বিন্যাস এবং রপ্তানি আয় থেকে উৎস কর কমানোর দাবি জানান। তবে এনবিআরের চেয়ারম্যান মোঃ আবদুর রহমান খান প্রস্তাবিত উৎস কর কমানোর অনুরোধটি নাকচ করেছেন বলে জানানো হয়েছে।

    আয়কর আইন-২০২৩-এর ১৪৭ ধারা প্রসঙ্গে বিসিআই সভাপতি বলেন, কর যাচাইয়ের নামে কোনও প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার সিস্টেম বা নথিপত্র জব্দ করার অবারিত ক্ষমতা ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে। এ ধরণের ব্যবস্থা ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা বাড়ায় এবং বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণে বাধা সৃষ্টি করে।

    প্রাক-বাজেট আলোচনায় ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) ব্যাংক আমানতের মুনাফার ওপর উৎস কর ২০ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ নামানো ও নিট সম্পদের ওপর আরোপিত সারচার্জ ধাপে ধাপে বাতিলের দাবি করেন। শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল না হলে এবং কর কাঠামো সহজীকরণ না হলে দেশের রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও দুর্বল হয়ে পড়বে।

  • অর্থমন্ত্রী: দেশের বৈদেশিক ঋণ ৭৮,০৬৭.২০ মিলিয়ন ডলার

    অর্থমন্ত্রী: দেশের বৈদেশিক ঋণ ৭৮,০৬৭.২০ মিলিয়ন ডলার

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী martes বিকেলে সংসদে জানান, বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বর্তমানে ৭৮,০৬৭.২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তিনি এই তথ্য জানান জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৮তম দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে।

    স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা প্রশ্ন করে জানতে চান, বর্তমানে দেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ কত এবং ঋণ পরিশোধে এখন পর্যন্ত কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানতে চান, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে কোনো ঋণ পরিশোধ করেছেন কি না।

    জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, হিসাব অনুযায়ী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সরকারের বৈদেশিক ঋণের স্থিতি ৭৮,০৬৭.২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তিনি আরও জানান যে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ সরকারি দফতর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) পরিচালনা করে।

    অর্থমন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন, প্রতিটি অর্থবছরে ঋণের মূল ও সুদসহ পরিশোধযোগ্য সামগ্রিক ব্যয় নিরূপণের জন্য একটি প্রক্ষেপণ তৈরি করা হয় এবং সেই অনুযায়ী বাজেটে অর্থ সংরক্ষণ করা হয়। বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়সূচি ও নিয়ম মেনে বছরের বাকি সময়ে ঋণ পরিশোধ করা হয়।

    তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ৯০.৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে।

  • হরমুজ প্রণালী থেকে আদায় করা টোলের প্রথম অর্থ ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা

    হরমুজ প্রণালী থেকে আদায় করা টোলের প্রথম অর্থ ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা

    ইরানের পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর ওপর আরোপিত টোল থেকে সংগৃহীত প্রথম অর্থ ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে। এই তথ্য তিনি বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজকে জানান।

    ডেপুটি স্পিকার হামিদরেজা হাজিবাবেই বলেন, ‘‘হরমুজ থেকে পাওয়া টোলের প্রথম অর্থ ইরানের সেন্ট্রাল ব্যাংকে ঢুকেছে।’’ তিনি toutefois কীভাবে এই রাজস্ব সংগ্রহ করা হয়েছিল বা কে তা পরিশোধ করেছে—তাদের পরিচয় কিংবা সংগ্রহের পদ্ধতি—এই বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি।

    এর আগেই তেহরান জানিয়েছিল তারা কেবল ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ দেশগুলোর জাহাজকে হরমুজে চলাচলের অনুমতি দেবে এবং প্রতিটি জাহাজ থেকে প্রায় ২০ লক্ষ ডলার পর্যন্ত টোল নেওয়া হবে। তবে সেই ঘোষণার সময় কীভাবে টোল নির্ধারণ করা হবে কিংবা বাস্তবে আদায় হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ে স্পষ্টতা ছিল না।

    অন্যদিকে, সংসদের এক জ্যেষ্ঠ সদস্য আলিরেজা সালিমি তাসনিমকে বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে শুনেছেন যে ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলো থেকে টোল আদায় করেছে। তিনি জানান, ‘‘প্রতি জাহাজ থেকে সংগৃহীত রাজস্বের পরিমাণ ভিন্ন হয়—এটি নির্ভর করে পণ্যের ধরন ও পরিমাণ এবং বহন করা ঝুঁকির মাত্রার ওপর। এই রাজস্ব কীভাবে ও কী পরিমাণে আদায় করা হবে, তা ইরানই নির্ধারণ করে।’’

    এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটও উত্তপ্ত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ১২ এপ্রিল নিজের ট্রুথ স্যোশাল পেজে জানান যে তিনি মার্কিন নৌবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক জলসীমায় থাকা প্রতিটি জাহাজকে খুঁজে বের করে আটক করতে, যেগুলো ইরানকে টোল দিয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন যে ‘‘যে অবৈধ টোল দেবে, গভীর সমুদ্রে তার যাত্রা নিরাপদ থাকবে না।’’

    ইরানের টোল আদায় ও তার বাস্তব প্রভাব কিভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া কেমন হবে—এসব নিয়ে এখনো অনেক প্রশ্ন রয়ে গেছে। সরকারি ঘোষণাপত্রে পাওয়া সীমিত তথ্য অনুযায়ী প্রথম অর্থটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ঢুকেছে, কিন্তু পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও টোলাদায়ের বিস্তারিত এখনো পরিস্কার নয়।

    সূত্র: তাসনিম নিউজ, বিবিসি

  • ট্রাম্পের পোস্টে দাবি: ভারত ও চীনের মানুষ শুধু সন্তান জন্ম দিতে যুক্তরাষ্ট্রে আসে

    ট্রাম্পের পোস্টে দাবি: ভারত ও চীনের মানুষ শুধু সন্তান জন্ম দিতে যুক্তরাষ্ট্রে আসে

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি বিতর্কিত পডকাস্ট শেয়ার করে বলছেন, ভারত ও চীন থেকে আসা অনেকে কেবল সন্তান জন্ম দিতে যুক্তরাষ্ট্রে যায়। ট্রাম্প যে পডকাস্টটি শেয়ার করেছেন সেটি মার্কিন রাজনৈতিক ভাষ্যকার ও রেডিও উপস্থাপক মাইকেল স্যাভেজের ‘‘স্যাভেজ নেশন’’ প্রোগ্রাম। সেখানে স্যাভেজ দুই দেশকে ‘জাহান্নাম’ হিসেবে উল্লেখ করে অভিবাসনবিরোধী তীব্র মন্তব্য করেছেন।

    স্যাভেজের মূল অভিযোগ ছিল, এই দুই এশীয় দেশের মানুষরা গর্ভাবস্থার নবম মাসে যুক্তরাষ্ট্রে এসে সন্তান জন্ম দিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করে, তারপর তাদের পরিবারের সবাইকে এখানে নিয়ে আসে। তিনি এমনকি ভারতীয় ও চীনা অভিবাসীদের ‘ল্যাপটপধারী গ্যাংস্টার’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার সম্মান ভঙ্গ করেছে এবং দেশের জন্য বড় ধরনের ক্ষতি করেছে—এমন অভিযোগও করেছেন।

    পডকাস্টে স্যাভেজ আরও বলেন, তিনি একসময় ভারতীয়দের সমর্থক ছিলেন, কিন্তু পরে অনলাইন ও হাই-টেক খাতে তাদের প্রভাব দেখে বদলে গেছেন। এছাড়া তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব প্রদানের ধারণাটিকে সমালোচনা করে বলেন, এই বিষয়টি কেবল আদালতের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়—এটি নিয়ে জাতীয় গণভোট হওয়া উচিত।

    স্যাভেজের বক্তব্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানকে ‘‘বিমানযাত্রার যুগের আগে’’ লেখা বলে মন্তব্য করে বলেন, এখন মানুষ গর্ভাবস্থার নবম মাসে প্লেনে করে এখানে আসে—এই নতুন বাস্তবতাকে ন্যায্যভাবে বিচার করতে সংবিধান আপডেট হওয়া প্রয়োজন, এমনই তত্ত্ব তিনি উত্থাপন করেছেন।

    ট্রাম্প এই পডকাস্টটি শেয়ার করেছেন এমন সময় যখন এক দিন আগেই তিনি সিএনবিসি-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে দাবি করেন যে, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব অন্য কোনো দেশে নেই। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো সেই দাবি তথ্যগতভাবে ভুল বলে উল্লেখ করেছে। বাস্তবে বিশ্বের তিন ডজনেরও বেশি দেশে জন্মসূত্রে স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব প্রদানের বিধান আছে; এর মধ্যে রয়েছে কানাডা, মেক্সিকো এবং দক্ষিণ আমেরিকার অধিকাংশ দেশ।

    ট্রাম্পের পোস্টটি প্রকাশের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে; বিশেষ করে ভারত ও চীনের মধ্যে ক্ষমতাসীন ও সাধারণ স্তরে ক্ষোভ ও সমালোচনা ছড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, নির্বাচনী অঙ্ক গুণে ট্রাম্প আবারও কঠোর অভিবাসনবিরোধী অবস্থান নিচ্ছেন এবং নির্বাচনী কৌশল হিসেবে এমন উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচার করছেন।

    সূত্র: এনডিটিভি

  • শার্শায় ভুল প্রশ্নপত্রে এসএসসি পরীক্ষা, ১২ শিক্ষার্থী অনিশ্চয়তায়

    শার্শায় ভুল প্রশ্নপত্রে এসএসসি পরীক্ষা, ১২ শিক্ষার্থী অনিশ্চয়তায়

    যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া কেন্দ্রে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষার অভিযোগে অন্তত ১২ জন শিক্ষার্থী ফেলনির্ভর অনিশ্চয়তায় পড়েছে। এ ঘটনায় কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষার সময়। বাগআঁচড়া সম্মিলিত গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র (কেন্দ্র নং-৫৩১)-এর ২০৬ নম্বর কক্ষে ওই দিন ২৩ জন নিয়মিত পরীক্ষার্থী অংশ নেন। পরীক্ষা শেষে এক পরীক্ষার্থী বুঝতে পারেন যে তিনি ২০২৫ সালের পুরনো সিলেবাস অনুযায়ী ছাপানো প্রশ্নপত্রেই পরীক্ষা দিয়েছেন, যদিও তিনি নতুন সিলেবাসের পরীক্ষার্থী। ওই শিক্ষার্থীর সতর্কতার পর আরও ১১ জন শিক্ষার্থীর একই ভুল হয়ে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।

    এই তথ্য জানা গেলে কেন্দ্র ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৎক্ষণাৎ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কর্তৃপক্ষ দ্রুত পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্র ত্যাগ করতে বললে অনেকে দিশেহারা হয়ে পড়ে এবং কয়েকজন কান্নায় ভেঙে পড়েন।

    শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন করছেন—একই কক্ষের একই সময়ে একই পরীক্ষার দুটি ভিন্ন প্রশ্নপত্র কীভাবে পৌঁছালো? দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা প্রশ্নপত্র আগে যাচাই করেননি কেন? এই ভুলের দায় কে নেবে? এসব প্রশ্ন নিয়েই তাদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ।

    অভিভাবকরাও ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এমন গাফিলতির কারণে তাদের সন্তানদের ফলাফল ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে পড়েছে। তারা অভিযোগের গঠনমূলক তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।

    এই বিষয়ে হল সুপার ও সহকারী শিক্ষক ফারুক হোসেন বলেন, ‘‘একই কক্ষে ভিন্ন প্রশ্নপত্র কীভাবে এলো, তা আমরা নিজেও বুঝতে পারছি না। বিষয়টি শিক্ষা বোর্ডকে জানানো হবে।’’ শার্শা উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার নুরুজ্জামান বলেন, ‘‘ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে, তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।’’

    শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

    বর্তমানে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি উঠেছে এবংffected শিক্ষার্থীদের সম্ভাব্য ক্ষতি কীভাবে নিরসন করা হবে সে বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ দাবি করা হচ্ছে। নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ন্যায্য সমাধান যেন নিশ্চিত করা হয়, এই দাবিতেই সমতল করছে স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

  • খুলনায় জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধন

    খুলনায় জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধন

    জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধন আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) খুলনার শহিদ হাদিস পার্কে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। এবারের সপ্তাহের প্রতিপাদ্য ছিল— ‘পুষ্টি বৈষম্যের দিন শেষ, গড়বো স্বনির্ভর বাংলাদেশ’।

    প্রধান অতিথি বক্তব্যে নজরুল ইসলাম মঞ্জু সবাইকে প্রতিদিন শাক-সবজি ও ফলমূল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্যাকেটজাত ও অস্বাস্থ্যকর খাবার থেকে বিরত থাকতে হবে এবং খাদ্য উৎপাদন, পরিবহন, সংরক্ষণ ও রান্নায় পুষ্টিগুণ বজায় রাখার চেষ্টা করতে হবে। এমন খাবার মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়—এ কারণে পুষ্টি ও নিরাপদ খাদ্য গ্রহণে সকলকে গুরুত্ব দেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

    অনুষ্ঠানটি খুলনা সিভিল সার্জন ডা. মোছাঃ মাহফুজা খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার দপ্তরের উপপরিচালক মোঃ আরিফুল ইসলাম ও ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোঃ মিজানুর রহমান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সিভিল সার্জন দপ্তরের সিনিয়র স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোঃ আবুল কালাম আজাদ।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরে কেসিসি প্রশাসকের নেতৃত্বে শহিদ হাদিস পার্ক থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শুরু হয়। শোভাযাত্রাটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে খুলনা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। আয়োজনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন এবং পুষ্টিকর খাদ্যের গুরুত্বকে সামনে রেখে সচেতনতামূলক বার্তা তুলে ধরা হয়।

    আয়োজকরা জানিয়েছেন, পুষ্টি সপ্তাহে বিভিন্ন সচেতনতা কার্যক্রম, পরামর্শ সেবা ও খাদ্য সম্পর্কিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জনগণকে পুষ্টির বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করা হবে। সকলেই মেলে পুষ্টি ও নিরাপদ খাদ্যের অভ্যাস গড়ে তুললে সুস্থ ও স্বনির্ভর সম্প্রদায় গঠনে সহায়ক হবে—এই প্রত্যাশা করা হয়।