Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • জবানবন্দিতে শফিকুল: স্বীকারোক্তি না দিলে লাশ কেটে সমুদ্রে ভাসানোর হুমকি দেওয়া হয়েছিল

    জবানবন্দিতে শফিকুল: স্বীকারোক্তি না দিলে লাশ কেটে সমুদ্রে ভাসানোর হুমকি দেওয়া হয়েছিল

    আওয়ামী লীগের সময় র‍্যাবের টিএফআই সেলে গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের ব্যবহৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ এ জবানবন্দি দেয়া সময় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ঢাকা মহানগর (পল্টন) জোনের সহকারী সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, জঙ্গি হওয়া সম্পর্কে স্বীকারোক্তি না দিলে তাদের লাশ কেটে সমুদ্রে ভাসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়া হয়। সোমবার (০৪ মে) ট্রাইব্যুনালে ৪ নম্বর সাক্ষী হিসেবে শফিকুল এই কথা বলেন।

    জবানবন্দিতে শফিকুল বলেন, ২০২২ সালের ১৩ জানুয়ারি জাপান গার্ডেন সিটির কাছে থেকে মাইক্রোবাসে তুলে নেয়া হয় তাকে। তুলে নেওয়া ব্যক্তিরা নিজেদের প্রশাসনের লোক বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। ধরে রাখা কক্ষটির আয়তন ছিল মাত্র চার ফুট দৈর্ঘ্য ও চার ফুট প্রস্থ। সেখানে তাকে জিজ্ঞাসা করা হতো কোনো মাত্রায় জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত কি না এবং স্বীকারোক্তি দিতে বলা হতো।

    স্বীকার না করলে লাঠি দিয়ে পেটানো হতো, তিনি বলেন। এক পর্যায়ে তাকে এক চেয়ারে বেঁধে অন্য দুই বন্দী—শায়খ আব্দুর রহমান ও জসিম উদ্দিন রহমানীকে সার্ফ এক্সেল দিয়ে ধুয়ে তাদের পেট থেকে সবকিছু বের করা হয়েছে বলে দেখানো হয়েছিল এবং একই রকম স্বীকারোক্তি না দিলে লাশ কেটে টুকরো করে সমুদ্রে ভাসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। অন্য হুমকিতে বলা হয়েছে, এখানে রেখে কাউকে পাগল বানিয়ে পরে ঢাকা শহরে ছেড়ে দেওয়া হবে; ঢাকার অনেক পাগল তাদেরই তৈরি বলে একজন জানিয়েছিলেন।

    শফিকুল আরও বলেন, স্বীকারোক্তি না দেয়ায় তাকে বসতে, শুতে বা ঘুমাতে দেয়া হতো না; বেশি সময় দাঁড় করিয়ে রাখা হতো। যে কোনো সময় ঘুমাতে দেখা গেলে পেছন হাতে হাতকড়া লাগিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হবে বলে বলা হতো। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকায় মেরুদণ্ডে প্রচণ্ড ব্যথা হয় এবং চোখ বেঁধে রাখায় মাথাব্যথা ও ঘোর লাগার মতো অবস্থা হয়েছিল, পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়ায় চোখ বের হয়ে যেতে পারে এমনও অনুভব হয়েছে।

    বন্দি থাকা অবস্থায় গোসলের জন্য একবারে মাত্র তিন মিনিট সময় দেয়া হতো বলে তিনি জানান। গোসলের সময় একজন ভেতরে ঢুকে বেদম মারধর শুরু করতেন। বাথরুমের দরজা খোলা রাখা হতো এবং বাইরে একজন রক্ষী দাঁড়াত। পানি দেয়া হতো ট্যাপ থেকে; গোসলের জন্য একমাত্র একহাতের হাতে লাগানো হাতকড়া খুলে দেয়া হতো। আটক অবস্থায় দাঁত পরিষ্কারের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। যে ঘরে রাখা হয়েছিল সেখানে জানালা, লাইট বা ফ্যানও ছিল না।

    এই মামলায় মোট ১৭ আসামির মধ্যে বর্তমানে ১০ জন গ্রেপ্তার রয়েছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন র‍্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, কর্নেল কে এম আজাদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম, সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) খায়রুল ইসলাম, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মশিউর রহমান জুয়েল ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন।

    পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক এম খুরশিদ হোসেন, র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ এবং সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন।

    শফিকুলের জবানবন্দি ট্রাইব্যুনালে গ্রহণ করা হয়েছে; তার দেওয়া বিবরণ তদন্ত ও মামলার অন্যতম প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

  • হাইকোর্ট অপারগতা প্রকাশ করলো, মনিরা শারমিনের রিট অন্য বেঞ্চে শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা

    হাইকোর্ট অপারগতা প্রকাশ করলো, মনিরা শারমিনের রিট অন্য বেঞ্চে শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা

    সোমবার (৪ মে) হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিলের বৈধতা নিয়ে করা রিটটি শুনতে অপারগতা প্রকাশ করেছে। বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের বেঞ্চ রিট শুনতে অনুপস্থিত থাকার কারণ হিসেবে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি আহমেদ সোহেলের ও মনিরা শারমিনের বাড়ি একই সংসদীয় আসনে পড়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে, বলে আইনজীবীরা জানান।

    রিটের পক্ষে উপস্থিত থাকা জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম, ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন লিপু বলেন, এই রিটটি সম্ভাব্যভাবে আগামীকাল বিচারপতি রাজিক আল জালিলের নেতৃত্বাধীন অন্য একটি হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি দেওয়া হতে পারে।

    পটভূমি: সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করে। রিটার্নিং কর্মকর্তা গত ২৩ এপ্রিল মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেন এবং পরে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব মঈন উদ্দীন খান সাংবাদিকদের জানান, সরকারি চাকরি ত্যাগের তিন বছর সময়সীমা পূরণ না হওয়ার কারণেই মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

    মনিরা শারমিন জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে পরিচিত। নথি অনুযায়ী তিনি ২০২৩ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে অফিসার জেনারেল পদে যোগদান করেছিলেন এবং দুই বছর পর, গত বছরের ডিসেম্বরে, সে চাকরি থেকে অবসর নেন। এনসিপিতে তার যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বও তিনি ২০২৫ সালের মার্চে übernehmen করেছেন।

    আসন্ন শুনানিতে রিটের গ্রহণযোগ্যতা ও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বৈধতা কেন্দ্রীয় ইস্যু থাকবে—বিশেষ করে সরকারি চাকরি ছাড়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা মেনে হয়নি বলে যে কারণটি দেয়া হয়েছে তা নিয়েই তর্ক হবে। আগামী দিনগুলোতে মামলার শুনানি হলে সেসব নানা আইনগত ও প্রামাণ্য দিক খতিয়ে দেখা হবে।

  • বিএনপি সংস্কারে প্রতারণা করছে; ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে সরকারের বাধ্যতা দাবি এনসিপির

    বিএনপি সংস্কারে প্রতারণা করছে; ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে সরকারের বাধ্যতা দাবি এনসিপির

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা অভিযোগ করেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় এসে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে এবং আগে দেওয়া সংস্কারের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেছে। তারা বলছেন, এভাবে চললে সরকার আরও বেশি কর্তৃত্ববাদী হবে — এজন্য জুলাই সনদসহ ঘোষণা করা সংস্কারগুলো বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করা দরকার।

    রোববার (৩ মে) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত ‘জ্বালানি, অর্থনীতি, মানবাধিকার, সংস্কার ও গণভোট’ শীর্ষক জাতীয় কনভেনশনে এসব কথা বলেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি। কনভেনশনের উদ্বোধনী সেশনে সভাপতি ছিলেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। স্বাগত ভাষণ দেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির সহ-প্রধান সারোয়ার তুষার। প্যানেলিস্ট হিসেবে বক্তব্য রাখেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক হান্নান মাসউদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী ও সমাজবিজ্ঞানী মির্জা হাসান। সেশন পরিচালনা করেন জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন।

    হান্নান মাসউদ কনভেনশনে বলেন, সংসদের প্রথম অধিবেশনের পর তাঁকে দেখে মনে হয়েছে এটি ‘প্রতারণা ও প্রবঞ্চনার সংসদ’। তিনি বলেন, যে অধ্যাদেশগুলো সরকারের ক্ষমতা বাড়াবে সেগুলো আইন হয়ে গেছে, অথচ যেগুলো সরকারকে জবাবদিহিতায় বাধ্য করে সেগুলো ল্যাপস করে বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, সাম্প্রতিক অতীতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ ও প্রশাসক নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়—কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই নির্বাচিত প্রতিনিধিকে সরিয়ে পছন্দমতো প্রশাসক বসানো সম্ভব হয়ে উঠেছে।

    হান্নান আরও অভিযোগ করেন যে, বিএনপির প্রস্তাবনা অনুযায়ী যে কিছু কাঠামোগত বদল আনা হয়েছিল, তা সরকারে গিয়ে পাল্টে গেছে; পুলিশের স্বাধীনতা ও নিয়োগ নিয়ে যে কমিশন হওয়া প্রয়োজন ছিল, তা এখন বিএনপির পক্ষে গ্রহণযোগ্য নয়, এবং কিছু ভালো উদ্যোগ বাতিলও করা হয়েছে।

    রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী বলেন, ১৯৯১ সালে রাজনৈতিক দলগুলো মিলে যে সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছিল, বিএনপি ক্ষমতায় এসে তার কোনোটিই বাস্তবায়ন করেনি। তিনি বলেন, ক্ষমতায় থাকা এলিট—সিভিল-বিউরোক্রেসি ও মিলিটারি—সংস্কারের বিরোধী; তারা নিজেদের অস্তিত্ব ও ক্ষমতা ছাড়তে রাজি নয়, তাই সংস্কার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সদ্যকৃত বক্তব্যকে তুলে ধরে বলেন, যদি এমন মিথ্যে বক্তব্য কোনো উন্নত দেশে অমীমাংসিতভাবে দেয়া হত, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গত পদত্যাগ করতে হতো।

    সমাজবিজ্ঞানী মির্জা হাসান ‘জুলাই সনদ’কে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অনন্য একটি উদ্যোগ বলে বর্ণনা করেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে এই সনদের মূল লক্ষ্য তিনটি শাখার—বিচার, আইনসভা ও কার্যনির্বাহী—মধ্যে শক্তির ভারসাম্য সুনিশ্চিত করা। তিনি বলেন, সাংবিধানিক সংস্কার কমিটির প্রথম পর্যায়ে অনেক র‌্যাডিক্যাল প্রস্তাব ছিল; উদাহরণ হিসেবে ধরা হয়েছিল যে একই ব্যক্তি একসঙ্গে দলের প্রধান ও সরকারপ্রধান হতে পারবেন না। বিএনপির চাপের কারণে অনেক ক্ষেত্রে আপস করা হলেও যে অংশগুলো রক্ষা পেয়েছিল, সেগুলোর বাস্তবায়নও একটি বড় অর্জন হত।

    কনভেনশনে বক্তারা আরও জানান, বিএনপি ক্ষমতায় এসে সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয়করণ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংক্রান্ত কিছু অধ্যাদেশ বাতিলের মাধ্যমে তাদের প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছে। সারোয়ার তুষার বলেন, অনেককে সাময়িকভাবে ‘উপকার অস্তিত্বশীল সন্দেহ’ (benefit of doubt) দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু প্রথম অধিবেশনের ঘটনার পর এটা স্পষ্ট যে বিএনপি আর সংস্কার করতে চায় না।

    এছাড়া তিনি বলেন, সরকারের লোকবল নিয়োগের যুক্তি দিয়ে সরকার যদি সবাইকে নিজের লোক বনিয়ে বসায়, সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীন রয়ে যেতে পারবে না। এমনকি, রাষ্ট্রপতি-পদসহ উচ্চ পদে দলের অতি-স্বার্থান্বেষী নিয়োগ সম্ভব হবে না—অর্থাৎ সার্বজনীন ও আপামরজনগণের স্বার্থ রক্ষায় এমন কৌশল গ্রহণ করা উচিত নয়।

    সেশন সভাপতি আখতার হোসেন বলেন, বিএনপি বারবার ‘নোট অব ডিসেন্ট’ নিয়ে কথা বললেও প্রকৃত বিষয়গুলোতে অধিকাংশই ঐকমত্য রয়েছে; নোট অব ডিসেন্টকে মূল অগ্রাধিকার বানানো উচিত নয়। তিনি বিএনপিকে প্রশ্ন করে বলেন, গণভোট বা রেফারেন্ডামের যে চারটি প্রশ্নে তাদের আপত্তি আংশিক, তা পরিষ্কার করতে হবে—কোন অংশে আপত্তি আছে তা জানাতে হবে। তিনি আরও বলেন, সংবিধান সংশোধন বনাম নতুন সংবিধান—মাঝামাঝিভাবে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের আইডিয়া ছিল এবং সেটি বহুবিধ আলোচনায় একমত হয়েছিল; কিন্তু বিএনপি সেই জায়গা থেকে সরে এসেছে।

    কনভেনশন থেকে বক্তারা এককভাবে দাবি করেন যে, শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতি দিয়ে নয়, বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশব্যাপী সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে। তারা বলছেন, যদি সরকার কখনোও আলোচ্য সংস্কারগুলো অনুশীলনে না আনে, তাহলে গণতান্ত্রিক পথে নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক দলগুলো তা বাস্তবায়নের জন্য ঐক্যে কাতর হওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না।

  • খুলনায় অভিভাবকহীন ছাত্রদল: কমিটি নেই, কার্যক্রম স্থবির

    খুলনায় অভিভাবকহীন ছাত্রদল: কমিটি নেই, কার্যক্রম স্থবির

    খুলনায় প্রধান বিরোধী ছাত্রসংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বর্তমানে এক অনিশ্চিত ও অভিভাবকহীন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। মহানগর ও জেলা স্তরে দীর্ঘদিন কমিটি না থাকায় সাংগঠনিক কর্মকা-র্যে উল্লেখযোগ্য স্থবিরতা নেমে এসেছে। ৫ আগস্ট ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরে zwar কিছু চাঞ্চল্য দেখা গেলেও চূড়ান্ত নেতৃত্ব না থাকায় নেতাকর্মীরা এখনও অপেক্ষার মধ্যে রয়েছেন।

    দলীয় কার্যক্রম ফিরে আনতে এবং নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণে কেন্দ্রীয়ভাবে তৎপরতা শুরু করা হলেও খুলনার স্থানীয় কমিটিগুলোতে দায়িত্বশীল কোনো ‘অভিভাবক’ না থাকায় মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম সীমিত রয়ে গেছে। বিএনপি’র কেন্দ্রীয় ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল বর্তমানে খুলনা ছাত্রদলের কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াটি তদারকি করছেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। বকুল একই সঙ্গে জাতীয় সংসদের হুইপ হওয়ায় স্থানীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণেও তার প্রভাব বেশ বেশি বলেই বোঝা যাচ্ছে।

    দলীয় কাগজপত্র অনুযায়ী, ২৪ মার্চ ২০২১ সালে ইশতিয়াক আহমেদ ইস্তিকে আহবায়ক ও তাজিম বিশ্বাসকে সদস্য-সচিব করে খুলনা মহানগর ছাত্রদলের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটি মহানগরের ৩১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৫টিতে, ১৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ৫টি থানায় ইউনিট কমিটি গঠন করে সংগঠনকে শক্ত করার চেষ্টা করেছিল। তবে তিন বছরের মাথায়, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে সেই মহানগর কমিটিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

    জেলা ছাত্রদলের চিত্র আরও দীর্ঘসূত্রী। ১৩ অক্টোবর ২০১৬ সালে মান্নান মিস্ত্রিকে সভাপতি ও গোলাম মোস্তফা তুহিনকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত জেলা কমিটি চলতি সময় টানা আট বছর দায়িত্ব পালন করে। এই সময়ে তারা জেলার ৩১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ ৯টি থানায় ইউনিট কমিটি গঠন করেছিল। মহানগরের মতো একই দিনে—১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪—এই জেলা কমিটিটিও বিলুপ্ত করা হয়।

    কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব জানিয়েছে, ৫ আগস্ট ২০২৪-এ যোগ্যতা-সংকট ও মেয়াদোত্তীর্ণতার কারণ দেখিয়ে মহানগর ও জেলা কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এটি জানালেও দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে নতুন কমিটি ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি। ফলে মাঠ পর্যায়ে ইউনিট স্তরের কমিটিগুলো থাকলেও স্থানীয়ভাবে কোনো শীর্ষ নেতৃত্ব না থাকায় বাস্তবে সংগঠন নেতাহীন হয়ে পড়েছে।

    একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে এখন ব্যাপক যাচাই-বাছাই ও তদন্ত শুরু করা হয়েছে। বিএনপি’র কেন্দ্রীয় ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল নিজেই এই প্রক্রিয়াটি তদারকি করছেন। সূত্রের বরাতে বলা হচ্ছে, সম্ভাব্য নেতাদের পটভূমি, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও দুর্নীতির অভিযোগসহ নানা দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    মহানগর পর্যায়ে শীর্ষ পদ নিয়ে আলোচনায় থাকা নেতাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সদস্য-সচিব তাজিম বিশ্বাস, আরিফুল ইসলাম আরিফ, হেদায়েত উল্লাহ দিপু, মোঃ শাকিল আহমেদ, মাজহারুল ইসলাম রাসেল, আব্দুল হক শাহিন, হাসান ফকির, সৈয়দ ইমরান, নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া, রাজু আহমাদ, আব্দুস সালাম, রাশিউর রহমান রুবেল, রাজিবুল ইসলাম বাপ্পি, নাজমুল ইসলাম ও মুশফিকুর রহমান অভি প্রমুখ।

    জেলা পর্যায়ে নেতৃত্বের সম্ভাব্য তালিকায় এগিয়ে আছেন গাজী শহিদুল, মাসুম বিল্লাহ, মশিউর রহমান শফিক, ফিরোজ আহমেদ আদল, অনিক আহমেদ, ইয়ামিন ইসলাম, ইসমাইল হোসেন খান, আবু জাফর ও ইমতিয়াজ সুজন।

    জেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা অনিক আহমেদ বলেন, “মামলার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করলে প্রকৃত ত্যাগীরা নেতৃত্বে আসবে।” মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সদস্য-সচিব তাজিম বিশ্বাস বলেন, “ছাত্রদল যদিও বিএনপির সহযোগী সংগঠন, তবু এটি দলের প্রাণ। ছাত্রদলের মাধ্যমেই নতুন কর্মীরা দলের সঙ্গে যুক্ত হয়। দেশের রাজনৈতিক সিনানিতে অনেক মন্ত্রী ও সাংসদই আগে ছাত্রনেতা ছিলেন। দলকে গতিশীল করতে দ্রুত একটি কার্যকরি কমিটি প্রয়োজন।”

    বর্তমানে ঈষৎ অনিশ্চয়তা কাটিয়ে কার্যকর নেতৃত্ব চূড়ান্ত করতে কত দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা দলের ভবিষ্যত কর্মযোগিতা নির্ধারণ করবে। নতুন কমিটি কবে ঘোষণা করা হবে এবং অনুজ্জীবিত ইউনিটগুলোতে নেতৃত্ব কীভাবে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করা যাবে—এসবই এখন খুলনার ছাত্রদলের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ।

  • এপ্রিল মাসে রেমিট্যান্স ৩১২ কোটি ৭০ লাখ ডলার

    এপ্রিল মাসে রেমিট্যান্স ৩১২ কোটি ৭০ লাখ ডলার

    সদ্য বিদায়ী এপ্রিল মাসে দেশে এসেছে ৩১২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। যা রেকর্ড করলে প্রতিদিন গড়ে আনুমানিক ১০ কোটি ৪২ লাখ ডলার এসেছে, জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

    গত বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স ছিল ২৭৫ কোটি ২০ লাখ ডলার; এই নথিতে বছরের ব্যবধানে বাড়তি প্রবাহ দেখা গেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে প্রবাসী আয় হিসেবে এসেছে মোট ২ হাজার ৯৩৩ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ১৯ দশমিক ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি।

    আগের মাসগুলোর মধ্যে অভিযোজনে, গত মার্চে এক মাসে সবচেয়ে বেশি—৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স পাঠানো হয়েছিল, যা দেশের ইতিহাসে কোনো এক মাসে সর্বোচ্চ হিসেবে নথিভুক্ত।

    অন্য মাসগুলোর তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে যথাক্রমে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার এবং ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার এসেছে। ডিসেম্বরে রেমিট্যান্স ছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার, নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার।

    অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ও ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার এসেছে। আগস্টে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার এবং জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

    এদিকে সামগ্রিকভাবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার, যা প্রায় ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ ডলারের সমান। এটি দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।

  • এপ্রিলের ২৯ দিনে প্রবাসী আয় ৩০০ কোটি ২০ লাখ ডলার ছাড়াল

    এপ্রিলের ২৯ দিনে প্রবাসী আয় ৩০০ কোটি ২০ লাখ ডলার ছাড়াল

    চলতি এপ্রিলে প্রথম ২৯ দিনে প্রবাসীরা দেশে মোট ৩০০ কোটি ২০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। (যেটি প্রায় ৩.০০২ বিলিয়ন ডলার)

    মুখপাত্র জানান, এ সময়ে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে প্রায় ১০ কোটি ৩৫ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। বিশেষ উল্লেখযোগ্য, শুধু ২৯ এপ্রিলেই দেশে এসেছে ৯৪ কোটি ডলার রেমিট্যান্স।

    ঊর্ধ্বগতির তুলনায় গত বছরে একই সময়ে (এপ্রিল, ২০২৫) রেমিট্যান্স ছিল ২৬০ কোটি ৮০ লাখ ডলার। দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ক্রমান্বয়ে শক্তিশালী হয়েছে — এর আগে মার্চে এক মাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড ভেঙে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন প্রায় ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার (৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার)।

    চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতেও মাসিক রেমিট্যান্স ৩ বিলিয়ন ডলারের ঘরে উঠেছিল; জানুয়ারিতে পাঠানো হয় ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, ধারাবাহিকভাবে উচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ দেশীয় বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয়ে সহায়ক এবং স্থিতিশীলতা আনার দিক থেকে ইতিবাচক সংকেত প্রদান করছে।

  • ৩০ দিনের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করতে চায় ইরান

    ৩০ দিনের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করতে চায় ইরান

    ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত স্থায়ীভাবে শেষ করতে একটি ১৪ দফার নতুন শান্তি প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাবে সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর পরিবর্তে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সব অমীমাংসিত ইস্যু চূড়ান্ত করার দাবি নেওয়া হয়েছে। তেহরান বলেছে, এটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ৯ দফার পরিকল্পনার জবাব। আল জাজিরার প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর কাছাকাছি সংবাদমাধ্যম নূর নিউজের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, প্রস্তাবিত ১৪ দফার মধ্যে রয়েছে—ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত সব মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, নৌ-অবরোধ (মারিটাইম ব্লকেড) বন্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করার দাবি। পাশাপাশি লেবাননে ইসরায়েলের অভিযানসহ অঞ্চলটিতে চলা সব ধরনের উগ্র কার্যক্রম বন্ধ করার শর্তও রাখা হয়েছে।

    গত সপ্তাহে ইরানের আগের একটি প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাখ্যান করেছিল; তখনকার ঘটনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নাম উল্লেখিত ছিলেন। তবু দুপক্ষের মধ্যে পর্দার আড়ালে আলোচনা অব্যাহত আছে এবং তিন সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিটি এখনো কার্যকর রয়েছে।

    আজ (রোববার, ৩ মে) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি এই আলোচনায় অংশগ্রহণ করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় থাকা ওমান এবারও শান্তি প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

    তেহরানের কড়া ৩০ দিনের সময়সীমা এবং সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবির সামনে واشنگটনের প্রতিক্রিয়া কেমন হবে, তা এখনও অনিশ্চিত। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার হলে দ্রুত কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা গড়ে উঠতে পারে, নতুবা তীব্র রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপের মধ্যে সংঘাত আবারও জোড়ালো হতে পারে।

  • ইরানের হামলায় আমিরাতে আগুন: ফুজাইরাহ পেট্রোলিয়াম স্থাপনায় ড্রোন আঘাত

    ইরানের হামলায় আমিরাতে আগুন: ফুজাইরাহ পেট্রোলিয়াম স্থাপনায় ড্রোন আঘাত

    সংযুক্ত আরব আমিরাতে ফের হামলার অভিযোগ এসেছে ইরানের বিরুদ্ধে। দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করলেও একটি ইরানি ড্রোন ফুজাইরাহর পেট্রোলিয়াম শিল্প এলাকায় আঘাত হেনেছে, যা বড় অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি করেছে। এটি গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর আমিরাতে হওয়া প্রথম হামলা বলে বিবেচিত হচ্ছে।

    ফুজাইরাহ মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে সঙ্গে সঙ্গে বেসামরিক প্রতিরক্ষা দল মোতায়েন করা হয়েছে। হামলায় তিনজন ভারতীয় নাগরিক আহত হন এবং তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে ইরান থেকে মোট চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। তদের মধ্যে তিনটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে এবং একটি সমুদ্রে পড়েছে।

    মন্ত্রণালয় এক্স (প্রাক্তন টুইটার)-এ দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে নাগরিকদের নিশ্চয়তা দিয়েছে যে দেশের বিভিন্ন স্থানে যে বিস্তৃত শব্দ শোনা গেছে তা ছিল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার কারণে।

    ইরানের পক্ষ থেকে এই হামলার বিষয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

    প্রসঙ্গত, সূত্র বলছে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে আকস্মিক হামলা শুরু করলে জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, তেল-গ্যাস ক্ষেত্র ও অন্যান্য জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। পরে গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর তেহরান সব ধরনের হামলা স্থগিত করেছিল। (সূত্র: আলজাজিরা)

  • সুন্দরবনে অস্ত্রের মুখে মৌয়াল ও জেলে অপহৃত, মুক্তিপণ দাবি

    সুন্দরবনে অস্ত্রের মুখে মৌয়াল ও জেলে অপহৃত, মুক্তিপণ দাবি

    সাতক্ষীরা রেঞ্জের আওতাধীন সুন্দরবনে গত রোববার (৩ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অস্ত্রের মুখে এক মৌয়াল ও এক জেলেকে অপহরণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের সংবাদে জানা যায়, মাহমুদা নদীর মাইটভাঙা খাল এলাকায় ওই সময় বনদস্যু আলিফের সদস্যরা তাদের তুলে নিয়ে যায়।

    অপহৃতরা হলেন শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের হরিনগর গ্রামের মৌয়াল আব্দুল করিম (৪৮) এবং একই এলাকার জেলে ইসমাইল হোসেন (২৮)। তাদের সহকর্মীরা দাবি করেছেন, অপহরণকারীরা তাদের হাত-পা বেঁধে গভীর বনের দিকে নিয়ে যায়।

    ঘটনার পর যারা ফিরে এসেছেন—জেলে আব্দুল আলিম ও শামীম হোসেন—তারা জানান, অপহরণকারীরা ইসমাইলকে ছাড়া গেলে ৬০ হাজার টাকার মুক্তিপণ দাবি করেছে। আব্দুল করিমের বিষয়ে ওই দল এখনও কোনো দাবি জানায়নি বলে ফিরে আসা জেলেরা জানিয়েছেন।

    পরিপ্রেক্ষিত জানা গেছে, গত ২৬ ও ২৮ এপ্রিল আলাদা দুটি নৌকায় এসব বনজীবী তাদের দলের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কদমতলা স্টেশন থেকে প্রয়োজনীয় পাস নিয়ে পশ্চিম সুন্দরবনে প্রবেশ করেন। তারা মধু আহরণ ও মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে সেখানে অবস্থান করছিলেন।

    এ ঘটনায় সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মশিউর রহমান জানান, তাদের কাছে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আসেনি; তবে বিষয়টি তদন্ত করা হবে এবং খোঁজাখবর নেয়া হবে। শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ খালেদুর রহমান বলেন, সাধারণত অপহৃতদের আত্মীয়রা নিরাপত্তার স্বার্থে কথা প্রকাশ করেন না, তবে যদি কোনো ভুক্তভোগীর স্বজন কিংবা নগদ ধারদেনকারীদের কাছে থেকে অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে আইনগত কর্মপদ্ধতি নেয়া হবে।

    স্থানীয়রা বলছেন, সুন্দরবনে মধু আহরণ ও মাছ শিকার নিয়ে ঢুকতে হলে পাস থাকা সত্ত্বেও নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকে। এলাকাবাসী ও বনকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে; তারা দ্রুত উদ্ধারের পাশাপাশি বনাঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন। কর্তৃপক্ষের তৎপরতা ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় আশা করা হচ্ছে অপহৃতরা শিগগিরই ফিরে আসবেন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • খুলনায় রাজু হাওলাদার গুলিবিদ্ধ, অবস্থাঃ আশঙ্কাজনক

    খুলনায় রাজু হাওলাদার গুলিবিদ্ধ, অবস্থাঃ আশঙ্কাজনক

    খুলনায় রাজু হাওলাদার (৪৫) নামের একজনকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। তিনি পেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। চিকিৎসকেরা তার অবস্থাকে আশঙ্কাজনক উল্লেখ করেছেন।

    জানায়, ঘটনাটি সোমবার নগরীর লবণচরা থানা এলাকায় সংঘটিত হয় বলে প্রাথমিক খবর পাওয়া গেছে। গুলিবিদ্ধ রাজু বাগেরহাট এলাকার ইউনূস হাওলাদারের ছেলে। হাসপাতালে ভর্তি করলে তার আহত অবস্থার জন্য তৎক্ষণাত চিকিৎসা শুরু করা হয়।

    রাজুর সঙ্গে থাকা এক নারী জানান, গুলিবিদ্ধ যুবক তার ছেলের বন্ধু। আহত অবস্থায় তিনি তার বাড়িতে অবস্থান নেন এবং জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন বুঝে তাকে হাসপাতালে আনা হয়।

    কেএমপি সহকারী পুলিশ কমিশনার শিহাব করীম বলেন, একটি যুবক লবণচরা এলাকায় গুলি করার শিকার হয়েছেন; পুলিশ ঘটনার সন্ধান ও তদন্ত করছে। তবে ঠিক কোথায় তার ওপর হামলা হয়েছে তা এখনই নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।