Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • নারায়ণগঞ্জ হত্যাকাণ্ডে শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন, বিচার শুরু

    নারায়ণগঞ্জ হত্যাকাণ্ডে শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন, বিচার শুরু

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মঙ্গলবার (১৩ মে) নারায়ণগঞ্জে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনার সঙ্গে জড়িত শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্তি গঠন করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে।

    ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল শুনানি শেষ করে অভিযোগ গঠন করার আদেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার ওপেনিং স্টেটমেন্ট বা সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করার জন্য আগামী ১০ জুন দিন ধার্য করেছেন আদালত।

    প্রসিকিউশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ ও ২১ জুলাই এবং ৫ আগস্ট—এই তিন দিনে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও সাইনবোর্ড এলাকায় পৃথকভাবে সংঘটিত হামলায় মোট ১০ জন নিহত হন। ঘটনার তিনটি আলাদা কেসে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

    অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, তার ছেলে অয়ন ওসমান ও ভাতিজা আজমেরী ওসমানসহ মোট ১২ জন। প্রসিকিউশনের যুক্তি অনুযায়ী, ওই সময়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রেক্ষিতে অভিযুক্তরা সশস্ত্র ছিলেন এবং গুলি ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালানোয় বহু মানুষ আহত হন। মামলা পরিচালনা করা প্রসিকিউশনের দাবি, শামীম ওসমান ওই ঘটনাগুলোর অন্যতম প্রধান অপরাধী।

    প্রসিকিউশন বলেছেন, শামীম ওসমান তখনকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে নিয়মিত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ রাখতেন বলে কল রেকর্ড ও সিডিআর ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়েছে।

    আদালতকে দেওয়া ব্যাখ্যায় প্রসিকিউশন আরও জানিয়েছে, সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতা ফতুল্লা ও নারায়ণগঞ্জ শহর থেকে শুরু করে পরে সিদ্ধিরগঞ্জ এবং চিটাগং রোড পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল। এই ঘটনাগুলোতে বিভিন্ন স্থানে লোকজনকে নিশানা করে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

    আসামিপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি শুনার পর ট্রাইব্যুনাল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে ব্যাপকতার সঙ্গে বিচারের পথ শুরু করল। আগামী ১০ জুন অনুষ্ঠেয় ওপেনিং স্টেটমেন্টে রাষ্ট্রপক্ষ মূল বক্তব্য উপস্থাপন করবে এবং এরপর সাক্ষ্য-প্রশ্নোত্তর ও সুপাঠ্য প্রমাণ উপস্থাপনার মাধ্যমে মামলা চালানো হবে।

    খবর নিশ্চিত করা গেছে যে, আদালতে জমা দেওয়া প্রমাণপত্রের মধ্যে কল রেকর্ড, সিডিআর এবং ঘটনাস্থলের নানা বিবরণী রয়েছে, যা বিচারকরা বিচার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচনা করবেন। মামলার পরবর্তী তারিখ ও কার্যবিবরণী সম্পর্কে ট্রাইব্যুনাল নির্ধারিত সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আরও সিদ্ধান্ত জানাবে।

  • কোরবানির চামড়ার নতুন মূল্য ঘোষণা

    কোরবানির চামড়ার নতুন মূল্য ঘোষণা

    আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর চামড়ার নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এবারে লবণযুক্ত গরুর চামড়ায় প্রতি বর্গফুটে ২ টাকা ও খাসির চামড়ায় ৩ টাকা বৃদ্ধি আনা হয়েছে।

    বুধবার (১৩ মে) বিকেলে কোরবানি সংক্রান্ত সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে অনুষ্ঠিত সভার পর সচিবালয়ে সংবাদ-brিফিংয়ে এ ঘোষণা দেন বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

    ঘোষণায় বলা হয়েছে, এ বছর লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম ঢাকার মধ্যে প্রতি বর্গফুটে ৬২–৬৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, আর ঢাকার বাইরে তা হবে ৫৭–৬২ টাকা। গত বছর ঢাকায় ওই চামড়ার দাম ছিল ৬০–৬৫ এবং ঢাকার বাইরে ৫৫–৬০ টাকা—সুতরাং প্রতি বর্গফুটে গড়ে ২ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

    অন্য দিকে দেশের সব অঞ্চলে খাসির চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি বর্গফুটে ২৫–৩০ টাকা এবং বকরির চামড়া নির্ধারিত আছে ২২–২৫ টাকা। গত বছর খাসির চামড়া ছিল প্রতি বর্গফুটে ২২–২৭ টাকা এবং বকরের চামড়া ছিল ২০–২২ টাকা।

    মন্ত্রী জানান, ‘‘প্রতিবছর প্রায় ১ কোটি পশু কোরবানি দেয়া হয় এবং সেখান থেকে সংগৃহীত চামড়া দেশীয় শিল্পে ব্যবহৃত হয়। প্রয়োজনে কিছু সময়ের জন্য ওয়েট-ব্লু চামড়া রফতানি করার সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে, তবে সে বিষয়ে পরে সরকার জানাবে।’’

    চামড়া নষ্ট না হয়ে শিল্পে কাজে লাগানো যায় তা নিশ্চিত করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে লবণ সরবরাহ করা হবে। সংরক্ষণ ও প্রাথমিক নিরাপত্তা বিধি বিষয়ে মাংস ব্যবসায়ীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং মাদ্রাসাগুলোতেও প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। এসব কার্যক্রম ও লবণ সরবরাহে সরকারের আনুমানিক খরচ হবে ২০ কোটি টাকা বলে তিনি জানান।

    চামড়া পাচার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং সমন্বিত উদ্যোগে দেশীয় চামড়া ও চামড়া শিল্পকে এগিয়ে নেওয়ার পদক্ষেপ নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মন্ত্রী।

  • এনসিপি ঘোষণা করল ১০০ উপজেলা ও পৌরসভা প্রার্থী

    এনসিপি ঘোষণা করল ১০০ উপজেলা ও পৌরসভা প্রার্থী

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রথম ধাপে ১০০ জন প্রার্থী ঘোষণা করেছে। রোববার (১০ মে) বিকেলে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এসব প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন।

    সারজিস আলম বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছিল। সে জাতীয় অনুসন্ধান ও যাচাই-বাছাই শেষে প্রাথমিকভাবে আজ ১০০ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হলো। তিনি জানান, আগামী ঈদের আগেই—এই মাসের ২০ তারিখে—দ্বিতীয় ধাপে আরও ১০০ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং এই তালিকা বাড়ানো হবে।

    তিনি আরও বলেন, এনসিপি প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় দেশব্যাপী যারা বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্বে আছেন বা নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন, কিংবা অন্য কোনো প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলের কর্মী—যারা গ্রহণযোগ্য, জনমনে বিশ্বাসযোগ্য এবং কোনোভাবেই জুলুম-অপরাধ বা ফ্যাসিস্ট কার্যকলাপে যুক্ত নয়—তারা এনসিপির প্রার্থী হিসেবে আবেদন করতে পারবেন। পার্টি সার্বিকভাবে যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজন হলে অন্য দল থেকেও যোগ陽গ চাইলে সুযোগ করে দেবে।

    চেয়ারম্যান ও মেয়র পদে ঘোষিত ১০০ প্রার্থীর মধ্যে ৫০ জন উপজেলা চেয়ারম্যান ও ৫০ জন পৌরসভার মেয়র প্রার্থী রয়েছেন। নিচে বিভাগভিত্তিক প্রার্থীদের নামগুলো (যথাক্রমে) দেওয়া হলো:

    খুলনা বিভাগ: কুষ্টিয়ার কুমারখালী — অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম বাদশা (উপজেলা চেয়ারম্যান), ভেড়ামারা — জান্নাতুল ফেরদৌস টনি (উপজেলা চেয়ারম্যান), বাগেরহাট চিতলমারি — ইশতিয়াক হোসেন (উপজেলা চেয়ারম্যান), ফকিরমারা — লাবিব আহমেদ (উপজেলা চেয়ারম্যান), মোংলা পৌরসভা — মো. রহমত উল্লাহ (মেয়র), বাগেরহাট পৌরসভা — সৈয়দ মোর্শেদ আনোয়ার (মেয়র), যশোর বাঘারপাড়া — ইয়াহিয়া জিসান (উপজেলা চেয়ারম্যান), নোয়াপাড়া পৌরসভা — শাহজাহান কবির (মেয়র), খুলনা চালনা — এস এম এ রশিদ (মেয়র), চুয়াডাঙ্গা সদর — খায়রুল বাশার বিপ্লব (উপজেলা চেয়ারম্যান), জীবননগর পৌরসভা — সোহেল পারভেজ (মেয়র), মেহেরপুর গাংনী পৌরসভা — শাকিল আহমেদ (মেয়র), ঝিনাইদহ পৌরসভা — তারেকুল ইসলাম (মেয়র).

    রংপুর বিভাগ: পঞ্চগড় তেঁতুলিয়া — মো. হাবিবুর রহমান হাবিব (উপজেলা চেয়ারম্যান), বোদা — শিশির আসাদ (উপজেলা চেয়ারম্যান), দেবীগঞ্জ — মাসুদ পারভেজ (পৌর মেয়র), ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈল — গোলাম মর্তুজা সেলিম (উপজেলা চেয়ারম্যান), দিনাজপুর ফুলবাড়ি — ইমরান চৌধুরী নিশাত (উপজেলা চেয়ারম্যান), বোচাগঞ্জ — মাওলানা এম এ তাফসির হাসান (উপজেলা চেয়ারম্যান), ফুলবাড়ি পৌরসভা — শিহাব হোসেন (মেয়র), ঘোড়াঘাট — মো. আব্দুল মান্নান (মেয়র), হাকিমপুর — রায়হান কবির (মেয়র), নীলফামারী জলঢাকা — আবু সাইদ লিয়ন (উপজেলা চেয়ারম্যান), নীলফামারী সদর — ড. কামরুল ইসলাম (উপজেলা চেয়ারম্যান), কুড়িগ্রাম সদর — মো. মাসুম মিয়া (পৌর মেয়র), লালমনিরহাট কালিগঞ্জ — শাহ Sultan নাসির উদ্দিন আহমেদ (উপজেলা চেয়ারম্যান), রংপুর সদর — কৃষ্ণ চন্দ্র বর্মণ (উপজেলা চেয়ারম্যান), গাইবান্ধা সাদুল্লাপুর — খাদিমুল ইসলাম (উপজেলা চেয়ারম্যান).

    রাজশাহী বিভাগ: গোদাগাড়ি — মো. আতিকুল রহমান (উপজেলা চেয়ারম্যান), চাঁপাইনবাগঞ্জ গোমস্তাপুর — আবু মাসুদ (উপজেলা চেয়ারম্যান), নওগাঁ নেয়ামতপুর — বিশাল আহমেদ (উপজেলা চেয়ারম্যান), বাদলগাছী — আসাদ মোর্শেদ আজম (উপজেলা চেয়ারম্যান), ধামুরহাট — মাহফুজার রহমান চৌধুরী রুবেল (পৌর মেয়র), বগুড়া শিবগঞ্জ — মো. জাহাঙ্গীর আলম (উপজেলা চেয়ারম্যান), দুপচাঁচিয়া পৌরসভা — আবু বক্কর সিদ্দিক (মেয়র), বগুড়া সদর — এ এম জেড শাহরিয়ার (উপজেলা চেয়ারম্যান), নাটোর সদর পৌরসভা — আব্দুল মান্নান (মেয়র), পাবনা চাটমোহর — খন্দকার আক্তার হোসেন (পৌর মেয়র), সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়া — ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ আদনান (উপজেলা চেয়ারম্যান), উল্লাপাড়া পৌরসভা — ইঞ্জিনিয়ার আল-মামুন লিয়ন (মেয়র).

    সিলেট বিভাগ: হবিগঞ্জ আজমিরিগঞ্জ — মো. কামাল আহমেদ (উপজেলা চেয়ারম্যান), হবিগঞ্জ সদর পৌরসভা — মাহবুবুল বারী চৌধুরী (মেয়র), মৌলভীবাজার রাজনগর — খালেদ হাসান (উপজেলা চেয়ারম্যান), কুলাউড়া — আবু রুকিয়ান (উপজেলা চেয়ারম্যান), সিলেট কোম্পানিগঞ্জ — ওবায়েদ আহমেদ (উপজেলা চেয়ারম্যান), কানাইঘাট — বোরহান উদ্দিন ইউনূস (উপজেলা চেয়ারম্যান), ওসমানীনগর — হাজি মো. মোশাহিদ আলী (উপজেলা চেয়ারম্যান), জৈন্তাপুর — জাকারিয়া (উপজেলা চেয়ারম্যান), গোয়াইনঘাট — মনসুরুল হাসান (উপজেলা চেয়ারম্যান).

    ময়মনসিংহ বিভাগ: শেরপুর সদর — ইঞ্জিনিয়ার মো. লিখন মিয়া (উপজেলা চেয়ারম্যান), সদর পৌর মেয়র প্রার্থী — নূর ইসলাম, জামালপুর সদর — অ্যাডভোকেট আবু সাইদ মো. শামিম (উপজেলা চেয়ারম্যান), নেত্রকোণা খালিয়াজুড়ি — মো. মুশফিকুর রহমান মিন্টু (উপজেলা চেয়ারম্যান), বারহাটা — শফিকুল হক চৌধুরী বাবলু (উপজেলা চেয়ারম্যান), নেত্রকোণা সদর পৌরসভা — সোহাগ মিয়া প্রিতম (মেয়র), ময়মনসিংহ তারাকান্দা — ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলাম (উপজেলা চেয়ারম্যান), ভালুকা — নূরুল ইসলাম (উপজেলা চেয়ারম্যান), হালুয়াঘাট — আবু হেলাল (উপজেলা চেয়ারম্যান), ধোবাউড়া — মো. সাইফুল্লাহ (উপজেলা চেয়ারম্যান).

    ঢাকা বিভাগ (উত্তর): কিশোরগঞ্জ সদর — আহনাফ সাইদ খান (উপজেলা চেয়ারম্যান), তাড়াইল — ইকরাম হোসেন (উপজেলা চেয়ারম্যান), করিমগঞ্জ পৌরসভা — খায়রুল কবির (মেয়র), সাভার — শাহাবদুল্লাহ রনি (উপজেলা চেয়ারম্যান), মানিকগঞ্জ সদর — আরিফুল ইসলাম (উপজেলা চেয়ারম্যান), দৌলতপুর — আবু আব্দুল্লাহ (উপজেলা চেয়ারম্যান), টাঙ্গাইল কালিহাতি — মেহদী হাসান (উপজেলা চেয়ারম্যান), টাঙ্গাইল পৌরসভা — মাসুদুর রহমান রাসেল (মেয়র), ভূঞাপুর পৌরসভা — হাসান ইমাম তালুকদার (মেয়র), শফিপুর পৌরসভা — মাওলানা আনসার আলী (মেয়র), নরসিংদী সদর — সাইফ ইবনে সারওয়ার (উপজেলা চেয়ারম্যান), গাজীপুর কালিগঞ্জ — শোয়েব মিয়া (উপজেলা চেয়ারম্যান).

    ঢাকা বিভাগ (দক্ষিণ): নারায়ণগঞ্জ সেনারগাঁও — তুহিন মাহবুব (উপজেলা চেয়ারম্যান), মুন্সিগঞ্জ সিরাজদিখান — আলী নেওয়াজ (উপজেলা চেয়ারম্যান).

    ফরিদপুর বিভাগ: ফরিদপুর নগরকান্দা — রেজাউল করিম সবুজ (উপজেলা চেয়ারম্যান), নগরকান্দা পৌরসভা — নাজমুল হুদা (মেয়র), ফরিদপুর পৌরসভা — সাইদ খান (মেয়র), মাদারীপুর পৌরসভা — মো. হাসিবুল্লাহ (মেয়র), গোপালগঞ্জ পৌরসভা — ফেরদৌম আমেনা (মেয়র).

    এনসিপি বলেছে, এই ঘোষণা প্রক্রিয়া চলমান থাকবে এবং বিচ্ছিন্নভাবে আরও প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। দল দাবি করেছে—যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে জনগণের পাশে দাঁড়াতে চান তারা।

  • সরকার উন্নয়নে বৈষম্য করছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

    সরকার উন্নয়নে বৈষম্য করছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সাংসদ মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সরকার উন্নয়নের ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক করা সবচেয়ে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত। এটি বৃহত্তর রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলের দীর্ঘদিনের দাবি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    শনিবার সকাল সাড়ে আটটায় পঞ্চগড় যাচ্ছিলেন বলে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সৈয়দপুরে নামার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। যদি নির্বাচিত এলাকায় সুবিধা দেওয়ার কারণে এই ধরনের প্রকল্প অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়, তাতে অত্যন্ত অনিয়ম ও অন্যায় হবে—মনে করেন তিনি।

    গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘‘কয়েক জায়গায় দেখা যাচ্ছে বিএনপি-র নির্বাচিত এমপিদের এলাকায় নতুন উপজেলা কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে। কিন্তু জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় এসব উন্নয়ন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সুষমভাবে হওয়া উচিত ছিল।’’

    একই সঙ্গে তিনি বিএনপি’র আচরণকে কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ‘‘প্রবাদ আছে, যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ—এখন ওটাই বাস্তবে দেখা যাচ্ছে। বিএনপি ক্ষমতায় এসে সেই ভূমিকাই নিচ্ছে। তারা সাতটি দশকের জনমতের বড় অংশকে উপেক্ষা করে প্রতারণার রাজনীতি করছে। নির্বাচনের আগে ‘হ্যাঁ’ বলেছিল যারা, এখন তারা গণভোটের রায় অস্বীকার করছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বললেও সরকার বাস্তবে গণভোটের রায় মানছে না—এটি জনগণের সঙ্গে বিশাল প্রতারণা।’’ তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি যখন জনস্বার্থে পেছন ফিরে দাঁড়ায়, তাতে উল্টো ক্ষতি সরকার ও দেশের জন্য উভয় ক্ষেত্রে ঘটতে পারে।

    গণমাধ্যম সম্পর্কেও তিনি উদ্বেগ ব্যক্ত করেন। গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় যারা স্বাধীন সাংবাদিকতার কথা বলেছিল, আজ তাদের মধ্যেই অনেকে বিভিন্ন গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ, সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুত করা ও হয়রানির ক্ষেত্রে জড়িত। বিশেষ করে সরকারের সমালোচক সাংবাদিকদের টার্গেট করা হচ্ছে।’’

    এর আগে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে তাকে ও তার সফরসঙ্গী নেতৃবৃন্দকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম এবং জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মনিরুজ্জামান জুয়েল। সেখানে সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের আমির শফিকুল ইসলাম, সেক্রেটারি মাজহারুল ইসলাম, শহর আমির শরফুদ্দিন খান, সেক্রেটারি মাওলানা ওয়াজেদ আলী, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের শহর সভাপতি আব্দুল মোমিনসহ শতাধিক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

    গোলাম পরওয়ারের সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিম, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি এডভোকেট আতিকুর রহমান এবং সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী। এরপর তারা সড়কপথে পঞ্চগড়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

  • ২৮ ব্যাংকের ক্ষতিতে দায়ী ৬ ব্যক্তি ও শিল্পগোষ্ঠী — বাংলাদেশ ব্যাংকের রিপোর্ট

    ২৮ ব্যাংকের ক্ষতিতে দায়ী ৬ ব্যক্তি ও শিল্পগোষ্ঠী — বাংলাদেশ ব্যাংকের রিপোর্ট

    বাংলাদেশ ব্যাংক দাবি করেছে, আওয়ামী লীগের শাসনকালে ২৮টি ব্যাংকের ক্ষতির পেছনে মূলত ছয় ব্যক্তি ও কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর দায় রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিপোর্টে এস আলম, বেক্সিমকো, ওরিয়ন ও নাসা গ্রুপসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছে।

    রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাধ্য হয়েই এসব গ্রুপকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার ফলে বড় অঙ্কের অর্থ পাচার হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, পাচার হওয়া অর্থ ফিরে আনার কাজ চলছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, বেক্সিমকো, ওরিয়ন, এস আলম, সিকদার ও নাসা গ্রুপের কর্মকাণ্ডের কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো—জনতা ও অগ্রণী—সহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    শাস্ত্রীয় দিক ছাড়াও ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক কয়েকটি ব্যাংক—এসআইবিএল, ফার্স্ট সিকিউরিটি ও আল-আরাফাহ—এবং বেসরকারি পর্যায়ের ইউসিবি, আইএফআইসি, ন্যাশনাল ব্যাংকও এতে প্রভাবিত হয়েছে বলে রিপোর্টে বলা হয়েছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু দায় স্বীকার করেই হবে না — পাচার হওয়া টাকা দ্রুত ফেরত এনে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তারা আরো বলেন, যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা অনিয়মে জড়িত থাকেন, তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা অপরিহার্য। নতুবা দেশের ব্যাংকিং খাতের ওপর মানুষের আস্থা ফেরত পাওয়া কঠিন হবে।

    বিআইবিএমের সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী মন্তব্য করেছেন, ঋণদান সংক্রান্ত নীতিমালা স্পষ্টভাবে আছে—কোন ব্যক্তি কতপর্যন্ত ঋণ নিতে পারবে, কতদিনের জন্য এবং কীভাবে। যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংক জেনে-বুঝে নিয়ম ভঙ্গ করে ও ওয়েভার দিয়ে থাকে, তাহলে তারও দায় আছে এবং ব্যাংককে তার দায়িত্ব নিতেই হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, বিভিন্ন সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর বহিরাগত চাপও ছিল; কিছু ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পর্যায় থেকে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল। এই চাপের কারণে ভিন্নভাবে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হতে হয়েছে—যেগুলো এড়ানো সম্ভব ছিল না। তিনি আরও জানান, যে ভুলগুলো হয়েছে সেগুলো সংশোধন করে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার কাজও চলছে।

    রিপোর্ট প্রকাশের পর বিশ্লেষকরা পুনরায় জোর দিয়েছেন—তৎক্ষণাত তদন্ত, আইনগত ব্যবস্থা ও দণ্ড নিশ্চিত করা না হলে দেশের আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা ও জনগণের আস্থা দুর্বল হয়ে যাবে।

  • অর্থমন্ত্রী: আর্থিক খাতে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না

    অর্থমন্ত্রী: আর্থিক খাতে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আর্থিক খাতসহ সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক সেক্টরে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না এবং এসব প্রতিষ্ঠান শতভাগ পেশাদার ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। তিনি মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লুতে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

    অনুষ্ঠান সভাপতি ছিলেন বিএসআইসির চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন। এতে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান ও বিএবির চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার।

    অর্থমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি যে পরিমাণ মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে তা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। এটি কেবল একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান নয়; সমগ্র স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে দৃশ্যমান করে তোলার ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য দরজা খুলে দেওয়ার একটি প্ল্যাটফর্ম হবে।

    তিনি বলেন, আমাদের তরুণ প্রজন্মের প্রধান দুইটি সমস্যা হলো তহবিলের অভাব ও জামানত জোটানোতে অক্ষমতা। এই উদ্যোগ উভয় বাধা কাটিয়ে তুলতে সক্ষম হবে। এখানে বিনিয়োগ সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ হবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, দক্ষ ও পেশাদার প্রক্রিয়ায়।

    মন্ত্রী আরও বলেন, এই উদ্যোগ সরকারের রাজনৈতিক ম্যানিফেস্টোর সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডকে কাজে লাগিয়ে এক কোটি মানুষের জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই সরকারের বড় লক্ষ্য। বিশেষ করে সৃজনশীল অর্থনীতির মাধ্যমে গ্রাম-শহরের তরুণদের অর্থনীতির মূলধারায় আনা হবে।

    আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা কঠিন সময় পার করছি এবং পুঁজিবাজারে সংস্কার নিয়ে কাজ চলছে; অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণও ধীরে ধীরে কমানো হবে। বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার ব্যবস্থায় দক্ষ ব্যক্তিদের পরামর্শদাতা হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। দেশি-বিদেশি বড় ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন দাতা সংস্থা আমাদের সঙ্গে কাজ করছে। এছাড়া ব্যাংক ও প্রাইভেট সেক্টরের আন্ডারক্যাপিটালাইজেশন দূর করতেও আমাদের কার্যক্রম আছে।

    আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি কেবল ব্যাংকিং খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; এটি আন্তর্জাতিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানগুলোকেও বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী করবে। অর্থ মন্ত্রণালয় এ প্রকল্পের সফলতার জন্য সব ধরনের নীতিগত সহায়তা দেবে। দেশের অনেক ব্যাংক মিলে যে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

    মন্ত্রী শেষ দিকে পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বজায় রাখা হবে—এটাই এই উদ্যোগের মূল প্রতিশ্রুতি।

  • হরমুজ প্রণালিতে টোল আরোপ করা যাবে না: যুক্তরাষ্ট্র ও চীন একমত

    হরমুজ প্রণালিতে টোল আরোপ করা যাবে না: যুক্তরাষ্ট্র ও চীন একমত

    যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা একমত হয়েছেন যে হরমুজ প্রণালির মতো আন্তর্জাতিক জলপথে চলাচলকারী জাহাজের ওপর কোনো দেশ বা সংস্থা টোল আরোপ করতে পারবে না, জানিয়েছে রয়টার্স—মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবরণে।

    সপ্তাহজুড়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকের আগেই এই অবস্থানটি প্রকাশ পেয়েছে এবং বিশ্লেষকরা মনে করছেন—হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও চলাচল এই আলোচনার একটি গুরুত্বপুর্ণ বিষয় হতে পারে।

    মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এপ্রিল মাসে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে এক ফোনালাপ হয়; ওই আলাপেও এই বিষয়টি আলোচনা করা হয়।

    মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র টমি পিগোট রয়টার্সকে বলেন, তারা একমত হয়েছেন যে হরমুজ প্রণালির মতো আন্তর্জাতিক জলপথ দিয়ে চলাচলের জন্য কোনো দেশ বা সংস্থাকে টোল আদায়ের অনুমতি দেয়া যায় না।

    চীনের দূতাবাসও যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যকে সরাসরি অস্বীকার করেনি। তারা বলেছে, সব পক্ষ মিলেমিশে কাজ করলে প্রণালিটিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল দ্রুত পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে—এটাই তাদের আশা। উল্লেখ্য, সম্মুখের কালে এই পথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়ে থাকে।

    তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলার পরে ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথটি প্রায় পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা লাগে।

  • আস্থা ভোটে জিতলেন থালাপতি বিজয়, তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রীর পদ নিশ্চিত

    আস্থা ভোটে জিতলেন থালাপতি বিজয়, তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রীর পদ নিশ্চিত

    আস্থাভোটে জয় حاصل করে তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজের অবস্থান শক্ত করে তুলেছেন থালাপতি বিজয়। বুধবার বিধানসভার আস্থা ভোটে মোট ১৪৪ জন বিধায়ক তাঁর পক্ষে ভোট দেন; বিরোধীভাবে ২২ জন ভোট দেন এবং ৫ জন ভোটদানে বিরত থাকেন।

    গত মাসের নির্বাচনে থালাপতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম (টিভিকে) ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে—রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে দলীয় দখল রেখেছে এমন ডিএমকে ও এআইএডিএমকের ৬২ বছরের আধিপত্য ভেঙে দিতে পারে। টিভিকের নির্বাচনী প্রতীক ছিল ‘হুইসেল’, আর আস্থা ভোটের পর বিজয় নিজেই বলেছিলেন, “হুইসেল ইতিহাস বদলে দিয়েছে।”

    বিজয় শপথ গ্রহণ করে সাংবাদিকদের বলেন, তারা নিজেদেরকে একটি সংখ্যালঘু সরকার হিসেবে অভিহিত করবেন এবং এমন একটি সরকার গঠন করবেন যা সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা করবে।

    আস্থা ভোটের পূর্বের ঘটনাবলীতে বড় চমক আসে এআইএডিএমকের ভেতর থেকেই। ভোটাভুটির আগে ডিএমকে তাদের ৫৯ জন বিধায়ক নিয়ে ওয়াকআউট করে। আনুষ্ঠানিকভাবে এআইএডিএমকের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বিজয়ের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। তবু দলটির ২৪ জন বিধায়ক দলীয় প্রধান ইডাপ্পাদি কেপালানিস্বরামের—or—ইডাপ্পাদি পালানিস্বামীর নির্দেশ অমান্য করে বিজয়ের পক্ষে ভোট দেন, যা দলটির অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে স্পষ্টভাবে সামনে আনেছে।

    এই বিদ্রোহের নেতৃত্বে ছিলেন এআইএডিএমকের জ্যেষ্ঠ নেতা সি ভি শানমুগাম ও এস পি ভেলুমানি। গত সপ্তাহ থেকেই তাদের নেতৃত্বে একটি অংশ বিজয়কে সমর্থনের দাবি জানিয়ে দলীয় স্তরে চাপ সৃষ্টি করছিল। স্থানীয় গণমাধ্যমে দেখা গেছে, দলের কয়েকজন বিধায়ক পুদুচেরির একটি রিসোর্টে অবস্থান নিয়ে নেতৃত্ব পরিবর্তন ও টিভিককে সমর্থন নিয়ে আলোচনা করেছেন।

    শানমুগাম এক ব্রিফিংয়ে জানান, “ডিএমকের কাছে তিনবার, আর সর্বশেষ টিভিকের কাছে টানা চারটি নির্বাচনী পরাজয় দলের বর্তমান অবস্থাকে সংকটময় করে তুলেছে।” তিনি বলেন, তাঁর উদ্দেশ্য দল ভাঙানো নয়; তবে এখন এআইএডিএমকের ভেতরে নতুন ক্ষমতার লড়াই সজাগভাবে দুর্ভাবনা তৈরি করেছে।

    এদিকে এআইএডিএমকির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বিদ্রোহী নেতাদের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি দীর্ঘ পোস্টে তারা অভিযোগ করেছে যে শানমুগাম, ভেলুমানি ও কয়েকজন বিদ্রোহী নেতা টিভিকের কাছে মন্ত্রীত্বের দাবিতে গিয়েছিলেন।

    রাজ্য রাজনীতিতে এই ঘটনাগুলো নতুন করে রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে দিতে পারে—টিভিকের দ্রুত উত্থান, ঐতিহ্যবাহী দুটি শক্তির কাঁপুনি এবং এআইএডিএমকের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসা বিদ্রোহ—সব মিলিয়ে পরবর্তী রাজনীতিক ভূখণ্ডে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

  • নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন: খুলনায় প্রেসব্রিফিং

    নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন: খুলনায় প্রেসব্রিফিং

    খুলনা প্রেসক্লাবে খুলনা বিভাগীয় জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনেও বুধবার (১৩ মে) সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন সংক্রান্ত প্রেসব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ূন কবির বালু মিলনায়তনে আয়োজিত ওই বৈঠকে প্রেসব্রিফিং করেন বিভাগীয় জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক গাজী জাকির হোসেন।

    প্রেসব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ‘‘ফ্যামিলি কার্ড’’ দেশের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত একটি স্মার্ট কার্ড। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১০ মার্চ রাজধানীর কড়াইল বস্তি সংলগ্ন টিএন্ডটি মাঠে ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন করেন। প্রথম ধাপে দেশের ১৪টি উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের মোট ৩৭,৫৬৭টি হতদরিদ্র পরিবার প্রতি মাসে দুই হাজার পাঁচশত টাকা করে প্রাপ্ত হচ্ছে। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে প্রথম ধাপে ৫,২৭৫ জনের মধ্যে ৪,১৫৮ জনকে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে সারাদেশে প্রাথমিকভাবে ৫০ লাখ দরিদ্র পরিবারকে কার্ড দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

    খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি সরকারি অগ্রাধিকার তালিকার একটি বড় প্রকল্প। সরকারের পরিকল্পনা আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে মোট ২০ হাজার কিলোমিটার নদি-খাল খনন, পুনঃখনন ও উদ্ধার করার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়া খাল খননের মাধ্যমে দেশের ৫৪টি জেলায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। খুলনা অঞ্চলের মধ্যে যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশী খালসহ খুলনা জেলার ডুমুরিয়া, বটিয়াঘাটা, দাকোপ, দিঘলিয়া, তেরখাদা, রূপসা, পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলায় খাল খননের কাজ চলমান রয়েছে।

    পরিবেশ রক্ষা ও ভোক্তাশীলতা বাড়াতে সরকার আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি নিয়েছে। এই উদ্যোগে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৩.৫ লক্ষের বেশি সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। নারী, যুবক-যুবতী ও গ্রামীণ জনগণ সমানভাবে এতে অংশ নেবে। পাশাপাশি ১০ হাজার নতুন উদ্যোক্তা গড়ে তোলা হবে, যা আনুমানিক আড়াই লক্ষাধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। নারীদের চলাচল ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তায় বিআরটিসির মাধ্যমে মহিলা বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগও নেয়া হয়েছে।

    কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ভূমিহীন ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য ভর্তুকি, সহজ শর্তে লোন, বীজ ও সারসহ মোট ১০ ধরনের বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। প্রধানমন্ত্রী ১৪ এপ্রিল টাঙ্গাইলের শহিদ মারুফ স্টেডিয়ামে প্রথম ধাপে কৃষক কার্ডের সুবিধার উদ্বোধন করেন। এই কার্ডে বার্ষিক দুই হাজার পাঁচশত টাকা নগদ সুবিধা রাখা হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে প্রথম ধাপে ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার মোট ২২,০৬৫ জন ভূমিহীন, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষককে কার্ড দেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে দেশের ১৬.৫ মিলিয়ন (একশত ৬৫ লাখ) কৃষক এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

    প্রচার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের গণযোগাযোগ অধিদপ্তর গত ১৮০ দিনে ব্যাপক মাঠ পর্যায়ের কাজ করেছে। তারা এক হাজার ২১টি উঠান বৈঠক/কমিউনিটি সভা, ২০২টি নারী সমাবেশ, ১১,০৬০টি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, ৩,২৪৮ ইউনিট সড়ক প্রচার, ১৪টি কৃষক সমাবেশ, ২২টি ফ্যামিলি সমাবেশ, ৩৪০টি প্রধান ঘোষিত অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচির উদ্বোধনের লাইভ সম্প্রচার ও ২,৩৬১টি অনলাইন প্রচারণা বাস্তবায়ন করেছে। খুলনা বিভাগীয় জেলা তথ্য অফিস ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ১৫২টি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, ৬৫টি সড়ক প্রচার, ১০টি উঠান বৈঠক, ২টি নারী সমাবেশ, ১টি ফ্যামিলি সমাবেশ ও ৪টি লাইভ সম্প্রচার করেছে। প্রেসব্রিফিংয়ে বলা হয়, এগুলো নিয়মিতভাবে চালিয়ে যাওয়া হবে।

    প্রেসব্রিফিংয়ে খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোস্তফা সরোয়ার ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ তারিকুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। খুলনার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে সংবাদ সংগ্রহ করেন। বিভাগীয় জেলা তথ্য অফিসের উপপরিচালক মোঃ ইব্রাহিম-আল-মামুন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন বিষয়ে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন।

    উল্লেখ্য, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের অধীনে থাকা ৬৪টি জেলা ও ৪টি উপজেলা তথ্য অফিসে সমন্বিতভাবে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন সম্পর্কিত একই ধাঁচের প্রেসব্রিফিং একযোগে অনুষ্ঠিত হয়।

  • দেবহাটায় অনুমতি ছাড়াই বালু উত্তোলন, সবুজ ইসলামকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা

    দেবহাটায় অনুমতি ছাড়াই বালু উত্তোলন, সবুজ ইসলামকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা

    দেবহাটায় অবৈধভাবে ড্রেজিং করে বালু উত্তোলনের দায়ে সবুজ ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। এ অভিযান বুধবার (১৩ মে) দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিলন সাহার নেতৃত্বে পরিচালিত হয়।

    সাজাপ্রাপ্ত সবুজ ইসলাম আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা এলাকার মাছুম্মেল হকের ছেলে। তদন্তে জানা যায়, তিনি আন্দুলপোতা এলাকার একটি মাছের ঘর থেকে অনুমতি ছাড়াই ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে বালু উত্তোলন করছিলেন, যা স্থানীয় পরিবেশ ও জলজ বাসস্থানের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ছিল।

    অভিযানকারীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী জরিমানা আদায় করে। দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিলন সাহা বলেন, পরিবেশ নষ্টকারী এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম toler করা হবে না এবং ভবিষ্যতেও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।