Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী: নারীদের জন্য এলপিজি কার্ডে ভর্তুকি মূল্যে সিলিন্ডার

    জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী: নারীদের জন্য এলপিজি কার্ডে ভর্তুকি মূল্যে সিলিন্ডার

    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, দেশের নারীদের রান্নার কাজ সহজ ও সাশ্রয়ী করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘এলপিজি কার্ড’ প্রদানের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। এই কার্ড পেলে গৃহিণীরা ভর্তুকি মূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে পারবেন।

    বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় তিনি এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

    প্রতিমন্ত্রী জানান, যশোর থেকে আনা ঘোষণায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ভবিষ্যতে প্রত্যেক মহিলাকে রান্নার কাজ সহজ করতে একটি করে এলপিজি কার্ড প্রদান করা হবে। কার্ডধারীরা সরকারি ভর্তুকি সুবিধা পেয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে সিলিন্ডার কিনতে পারবে, ফলে গ্যাসের খরচে পরিবারের উপর চাপ অনেক কমবে।

    এই আলোচনা চলাকালে প্রতিমন্ত্রী একটি দুঃখজনক স্মৃতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গতকাল রাজপথের সাথি কচুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন ইরান উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আসার পথে মারা গেছেন। তিনি আরও জানান, যশোরে একটি পূর্ণাঙ্গ করোনারি কেয়ার ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগ ২০ বছর আগে নেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বাক্সবন্দি অবস্থায় পড়ে আছে। তার ফলে হৃদরোগীরা ঢাকা বা খুলনা জেতার পথে প্রাণ হারাচ্ছেন; এই বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

    প্রতিমন্ত্রী আরও স্মরণ করান, গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) যশোরের শার্শায় এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নিজেই ‘এলপিজি কার্ড’ চালুর কথা ঘোষণা করেন। তিনি বলছেন, পারিবারিক সচ্ছলতার জন্য চালু থাকা ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর পাশাপাশি গৃহিণীদের রান্নার জ্বালানি সংকট দূর করতে এই বিশেষ কার্ড ব্যবহার করা হবে।

    সরকারি এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে গৃহিণীদের দৈনন্দিন রান্নার খরচে লক্ষণীয় সুবিধা আসার পাশাপাশি গ্রামীণ ও নগর ভোক্তাদের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

  • সংসদের রীতি মেনে প্রধানমন্ত্রীর আচরণ প্রশংসিত

    সংসদের রীতি মেনে প্রধানমন্ত্রীর আচরণ প্রশংসিত

    বুধবার (২৯ এপ্রিল) মধ্যাহ্ন বিরতির পর সংসদের বিকেল অধিবেশনে আইনমন্ত্রীর বক্তব্য চলাকালীন কক্ষে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। তিনি নিজ আসনে না বসে বক্তার সামনের সারির ওপর দিয়েই পেছনে দুই সারি বসেন এবং আইনমন্ত্রীর বক্তৃতা শেষ হওয়ার পরে নিজের আসনে ফিরে যান।

    সংসদের চলমান রীতির মধ্যে আছে—যখন কোনো সদস্য কেন্দ্রীয় মঞ্চে বক্তব্য দিচ্ছেন, তখন তাঁর সামনে দিয়ে হেঁটে যাওয়া বা ওই লাইনের সামনে বসা উচিত নয়। প্রধানমন্ত্রীর এই আচরণকে সেই রীতি মেনে চলা হিসেবে দেখা হয়েছে।

    এ ঘটনার পর ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল তা উত্থাপন করে সংসদ সদস্যদের কাছে এ থেকে শিক্ষা গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “মাননীয় সদস্যবৃন্দ, আমরা মহান জাতীয় সংসদে সর্বদা একটি শৃঙ্খলা চাই। আজকে মাননীয় সংসদ নেতা যে ডিসেন্সি এবং শৃঙ্খলার নিদর্শন দেখিয়েছেন, আমরা অন্যান্য সম্মানিত সদস্যরা তা পর্যবেক্ষণ করব। মাননীয় আইনমন্ত্রীর সামনের আসন ছিল মাননীয় সংসদ নেতার; যেহেতু ফ্লোর ক্রসিং হবে, তাই তিনি দুই সারি পেছনে বসেন। এটা আমি একটা উদাহরণ দিচ্ছি, আসুন আমরা শিক্ষা গ্রহণ করি।”

    ডেপুটি স্পিকারের মন্তব্যে সংসদিক শৃঙ্খলা ও পার্লামেন্টারি রীতির প্রতি গুরুত্ব আরোপিত হয়েছে। সংসদ সদস্যদের মধ্যে ভদ্রতা ও নিয়মাবলীর প্রতিফলন বজায় রাখার আহ্বানও তিনি জানান।

  • জামায়াত আমির শফিকুর রহমান: বিএনপি ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে

    জামায়াত আমির শফিকুর রহমান: বিএনপি ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিএনপি পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদের পথে হেঁটে চলছে। এসব মন্তব্য তিনি শনিবার (২৫ এপ্রিল) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত সমাবেশে করেন।

    ডা. শফিকুর বলেন, ‘‘একসময় আমরা একসঙ্গে মজলুম ছিলাম। আমি বিনয়ের সঙ্গে বলতে চাই—আপনারা হাজার চেষ্টা করলেও ওই আওয়ামী লীগ হতে পারবেন না; বড়জোর দুর্বল আওয়ামী লীগ হতে পারবেন। যে আওয়ামী লীগ একসময় পুরো জাতিকে নিয়ে কিংবা বিরোধী দলকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করত, আজ তাদের কী দশা? আপনারা ঠিক একই কাজ শুরু করেছেন।’’

    তিনি সতর্ক করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় এবং পরে আওয়ামী লীগ তাদের পোষ্য লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে, তবে কটূক্তি করে বলেন, আজ তাদের সেই ‘লাঠিয়াল’দের কেউ পাশে এসে দাঁড়ায়নি।

    জামায়াত আমির অভিযোগ করেন যে রাষ্ট্রসংস্থাগুলোতে প্রয়োজনীয় সংস্কার না হলে সুশাসন নিশ্চিত করা যাবে না। তিনি বলেন, ‘‘রাষ্ট্রের মৌলিক যে সমস্ত জায়গায় পরিবর্তন দরকার—সুশাসন স্থাপন ও সত্যিকার স্বাধীনতার স্বাদ জনগণকে দেওয়ার লক্ষ্যে—প্রতিটি বিষয়ে বিএনপি বিরোধিতা করে চলেছে। এটি জাতির সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণা।’’

    শফিকুর রহমান আরও বলেন, বিএনপি তাদের ইশতেহারে থাকা ৩১ দফা কর্মসূচিরই বিরোধিতা করছে এবং কখনো কখনো নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিও ভুলে যাচ্ছে। তিনি জেলহ্যাঁত সহকর্মীদের স্মরণ করে বলেন, যারা বিদেশে ছিলেন তারা জাতীয় পরিবর্তনের সুবাদে দেশে ফিরতে পেরেছেন; কিন্তু কিছু নেতা এখন মহিমা দাবি করে আন্দোলনের একনায়ক হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে—যা ভুল দাবি, বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    অতীতের ত্যাগ ও শহীদ পরিবারদের কথা স্মরণ করে জামায়াত আমির অনুরোধ করেন, তাদের সম্মান করতে শিখুন। তিনি বলেন, ‘‘জুলাই আন্দোলনের নায়করা জীবন বাজি রেখে তরণী নিয়ে ঘাটে ভিড়েছে, ছাত্র সমাজ, শ্রমিক, মায়েরা সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে—এই বিজয় ও ত্যাগ ভুলে যাবেন না।’’

    সংসদে প্রথম দিন থেকেই তারা সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি তোলেন এবং শপথ গ্রহণ করে থাকলেও অন্যরা তা করেনি—এমন অভিযোগও তোলেন তিনি। তিনি আরো বলেন, জরুরি আইন সংশোধন এবং অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন না হলে স্বৈরাচারী মনোভাব পরিবর্তন হবে না, আর বিএনপি সেই পুরোনো স্বৈরাচারী ব্যবস্থাকে বজায় রাখতে চাইছে বলে তিনি মনে করেন।

    সমাবেশে তিনি সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিভিন্ন স্থানে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে সংঘটিত সহিংসতার কথা উল্লেখ করে বলেন, গণভোটের রায় অস্বীকার করার পর থেকেই বিএনপি ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে।

    শেষে ডা. শফিকুর বলেন, ‘‘আমরা এমন এক বাংলাদেশ চাই যেখানে শিশুরা, কিশোর-কিশোরী, যুবক-যুবতীরা, আমাদের মা-বোনেরা নিরাপদে সড়কে বের হতে পারবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বই-কলম দেখতে চাই; হাতে দা-কুড়াল দেখতে চাই না। যদি এই সংস্কৃতি বন্ধ না করা হয়, তখন প্রতি বছর ‘জুলাই’ ফিরে আসবে এবং ফাইনালি ফ্যাসিবাদের কবর লেখা হবে। জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান দেখান; গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে আমাদের লড়াই সংসদের ভেতরেও এবং খোলা ময়দানেও চলবে, ইনশাআল্লাহ।’’

  • ২৪ ঘণ্টায় আবারও কমল স্বর্ণের দাম

    ২৪ ঘণ্টায় আবারও কমল স্বর্ণের দাম

    দেশের বাজারে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও কমেছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বুধবার সকালেই এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ভরিতে ২,২১৬ টাকা কমিয়ে নতুন করে ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই নতুন দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ (পিওর গোল্ড)-এর মূল্য হ্রাস পাওয়ায় সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন মূল্য অনুযায়ী প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২,৪২,৪৯৫ টাকা। অন্যান্য ক্যার্টের দাম হলো: ২১ ক্যারেট — ২,৩১,৪৭২ টাকা; ১৮ ক্যারেট — ১,৯৮,৪০৫ টাকা; এবং সনাতনী পদ্ধতিতে প্রতি ভরি স্বর্ণ — ১,৬১,৬০৫ টাকা।

    এর আগে, ২৮ এপ্রিলেও বাজুস দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল; তখন ২২ ক্যারেটের এক ভরি ২,৪৪,৭১১ টাকা ছিল। সেই সমন্বয়ে ২১ ক্যারেটের দাম ছিল ২,৩৩,৫৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২,০২১৩০ টাকা এবং সনাতনী পদ্ধতির মাপকাঠিতে প্রতি ভরি স্বর্ণ ১,৬৩,০৬৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

    চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশে স্বর্ণের দাম মোট ৫৮ বার সমন্বয় করা হয়েছে; এর মধ্যে বৃদ্ধি ঘটেছে ৩২ দফায় এবং কমেছে ২৬ দফায়। গত বছর (২০২৫) মোট ৯৩ বার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; সেগুলোর মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল।

    স্বর্ণের দামের এই পরিবর্তনের মধ্যে রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫,৪৮২ টাকায়; ২১ ক্যারেট — ৫,১৯০ টাকা; ১৮ ক্যারেট — ৪,৪৯১ টাকা; এবং সনাতনী পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩,৩৮৩ টাকায়। চলতি বছর রুপার দাম মোট ৩৬ বার সমন্বয় করা হয়েছে; তাতে ১৯ বার দাম বাড়ানো ও ১৭ বার কমানো হয়েছে। ২০২৫ সালে রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল মোট ১৩ বার, যার মধ্যে ১০ বার বেড়েছিল ও ৩বার কমেছিল।

    বাজারের এই ওঠানামা গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের জন্য জরুরি খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে, তাই স্বর্ণ-রুপা ক্রয়-বিক্রয় করার আগে সর্বশেষ মূল্য জানাশোনা করে নেওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞরা দিচ্ছে।

  • সিঙ্গার‑বেকো’র ‘ঈদুল আযহা ভরপুর সল্যুশন অফার’: ঘষলেই জেতার সুযোগ হাউসফুল অ্যাপ্লায়েন্স ও উপহার

    সিঙ্গার‑বেকো’র ‘ঈদুল আযহা ভরপুর সল্যুশন অফার’: ঘষলেই জেতার সুযোগ হাউসফুল অ্যাপ্লায়েন্স ও উপহার

    ঈদুল আযহার আনন্দকে আরও উৎসবমুখর করতে সিঙ্গার‑বেকো আয়োজন করেছে ভরপুর ‘সল্যুশন অফার’ ক্যাম্পেইন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের গ্রাহকরা এখন আকর্ষণীয় ছাড় ও হাজার হাজার বিনামূল্যে পণ্যের সুযোগ পাচ্ছেন।

    কোনোও সিঙ্গার‑বেকো রিটেইল স্টোর কিংবা অনুমোদিত ডিলার পয়েন্ট থেকে কেনাকাটা করলে গ্রাহকদের অনন্য ‘সল্যুশন কার্ড’ দেওয়া হবে। সেই কার্ড ঘষলেই পাওয়া যাবে অবাক করা পুরস্কার—অর্থাৎ মুহূর্তেই জিতে নিতে পারেন বিশেষ হাউসফুল অ্যাপ্লায়েন্স।

    হাউসফুল অ্যাপ্লায়েন্স হিসেবে রয়েছে একটানা গৃহস্থালির সব প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির পূর্ণ সেট: টেলিভিশন, রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার, ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, গ্রাইন্ডার ও গ্যাস বার্নার।

    মেগা প্রাইজ ছাড়াও প্রতিটি নির্দিষ্ট কোটার কেনাকাটায় গ্রাহকরা টেলিভিশন, রেফ্রিজারেটর, ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, গ্রাইন্ডার বা গ্যাস বার্নারের মতো একটি আকর্ষণীয় পণ্য জেতার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি রয়েছে নিশ্চিত ডিসকাউন্ট, যা দিয়ে গ্রাহকরা এই উৎসবে তাদের প্রয়োজনের পণ্যগুলো আরও সহজে আপগ্রেড করতে পারবেন।

    আধুনিক পরিবারের চাহিদা ও আনন্দকে মাথায় রেখে সাজানো এই ক্যাম্পেইনের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রতিটি পরিবারের ঈদ কেনাকাটাকে স্মরণীয় ও সুবিধাজনক করে তোলা। ক্যমপেইনটি ঈদুল আযহার আগের দিন পর্যন্ত চলবে এবং সারা দেশের সব সিঙ্গার‑বেকো আউটলেট ও অনুমোদিত ডিলার পয়েন্টে পাওয়া যাবে।

    বিস্তারিত জানতে নিকটস্থ সিঙ্গার‑বেকো আউটলেটে যোগাযোগ করুন বা ২৪/৭ টোল-ফ্রি কাস্টমার সার্ভিস নম্বরে কল করুন: ০৮০০০০১৬৪৮২।

  • মমতার হুঙ্কার: ‘দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ফের ক্ষমতায় আসছি’

    মমতার হুঙ্কার: ‘দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ফের ক্ষমতায় আসছি’

    পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতিবিখ্যাত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, তার দল দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আবারো ক্ষমতায় ফিরবে। বুধবার বিকাল সওয়া ৩টায় ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনে ভোট দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

    মমতা বলেন, ‘আমার কাছে যে তথ্য আছে, সে অনুযায়ী বিজেপি হারছে। তৃণমূল দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করবে।’ তিনি আত্মবিশ্বাসী ভাষায় দলের জয়ের পূর্বাভাস দেন।

    আরেকদিকে ভবানীপুর কেন্দ্রেই এই নির্বাচনের তোলপাড়কারী প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী সকালের সময় নিজের ভোট দেওয়ার পর হাসিমুখে বেরিয়ে মমতাকে আক্রমণ করেছেন। শুভেন্দু দাবি করেন, তিনি ৩০ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জিতে বাড়ি ফিরবেন এবং মমতার বয়সের উল্লেখ করে বলেন, ‘ওনার বয়স হয়েছে, এবার ভোট দিয়ে বাড়ি চলে যান।’

    নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বুধবার বিকেল ৩টায় রাজ্যজুড়ে গড় ভোটহার দাঁড়িয়েছে ৭৮.৬৮ শতাংশ। জেলার হিসাবে পূর্ব বর্ধমানেই সবচেয়ে বেশি উপস্থিতি—৮৩.১১ শতাংশ; তার ঠিক পরে হুগলি ৮০.৭৭ শতাংশ ভোটহারে রয়েছে।

    এই দফায় মোট ১৪২টি আসনে ভোটাভুটি চলছে এবং লাইভ ভোটের জন্য নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ৩ কোটি ২১ লাখ। উল্লেখ্য, গত ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত প্রথম ধাপে প্রায় সাড়ে তিন কোটি ভোটারের মধ্যে প্রায় ৯২ শতাংশ ভোট পড়েছিল।

    এটি রাজ্যের নির্বাচনপ্রক্রিয়ার দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত পর্ব; ফলে আজকের ফলই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারীর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে বলে রাজনৈতিক মহলে ধারণা। ২০২১ সালের নির্বাচনে এই ১৪২ আসনের মধ্যে তৃণমূল পেয়েছিল ১২৩টি আসন, বিজেপি পেয়েছিল ১৮টি এবং বামফ্রন্ট ১টি। ফল গণনা ও ঘোষণা হবে ৪ মে।

    সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, জি নিউজ

  • চীন মে মাসে ৫ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি রপ্তানি অনুমোদন, তালিকায় বাংলাদেশ

    চীন মে মাসে ৫ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি রপ্তানি অনুমোদন, তালিকায় বাংলাদেশ

    চীন মার্চে সব ধরনের জ্বালানি রপ্তানি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পর মে মাসে মোট ৫ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এই পরিমাণটি সম্ভাব্য এপ্রিল রপ্তানির তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

    সূত্রগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালীতে ঝামেলা বেড়ে যাওয়ায় কাঁচা তেল ও জ্বালানির সরবরাহ ব্যাহত হয়েছিল। নিজেদের অভ্যন্তরীণ জোগান ও বাজার সুরক্ষায় বেইজিং মার্চ থেকে রপ্তানিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ চালু করেছিল।

    রয়টার্সের অনুসারে, মে থেকে অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, লাওস, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কাসহ এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের কয়েকটি দেশে জ্বালানি সরবরাহ শুরু হতে পারে। চীন নিজেই রপ্তানির পরিমাণ ও গন্তব্য ঠিক করবে, তবে ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিফর্ম কমিশন ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ নিয়ে তৎক্ষণিক মন্তব্য করেনি।

    জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী কেপলার ট্র্যাকিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর চীন হংকং এর বাইরে মাসে গড়ে প্রায় ১৬ লাখ টন পেট্রোল, ডিজেল ও জেট ফুয়েল রপ্তানি করত। আন্তর্জাতিক বাজারে লভ্যাংশ বেশি হওয়ায় রাষ্ট্রায়ত্ত শোধনাগারগুলোও রপ্তানি পুনরায় চালুর জন্য চাপ দিচ্ছিল। অন্যদিকে, চীনের অভ্যন্তরীণ জ্বালানির দাম তুলনামূলকভাবে কম থাকায় স্থানীয় শোধনাগারগুলোর মুনাফা সংকুচিত হয়েছে।

    অনুমোদিত ৫ লাখ টনের মধ্যে শীর্ষ শোধনাগার সিনোপেক সবচেয়ে বেশি অংশ পেয়েছে; পেট্রোচায়নাকে অনুমতি দেয়া হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার টন এবং সিএনওওসিকে ৪০ হাজার টন রপ্তানি করার। বিশ্লেষকরা বলছেন, মোট রপ্তানির অন্তত ৪০ শতাংশ ডিজেল ও জেট ফুয়েল হতে পারে।

    এসব সিদ্ধান্ত এলাকার জ্বালানি চাহিদা পূরণে কিছুটা সহায়ক হবে বলে আশা করা হলেও, বেইজিং কেবল নিয়ন্ত্রিতভাবে ও প্রয়োজন অনুযায়ী রপ্তানি বাড়াচ্ছে। বাজার এবং জ্যামিতিক সরবরাহ পরিস্থিতি অনুযায়ী ভবিষ্যতে রপ্তানির আরও পরিবর্তন আসতে পারে।

  • সাতক্ষীরায় জেলা পর্যায়ের প্রাথমিক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন

    সাতক্ষীরায় জেলা পর্যায়ের প্রাথমিক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটানো এবং প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস ও দলগত মনোভাব গড়ে তোলা উদ্দেশ্যে সাতক্ষীরায় জেলা পর্যায়ের প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক ও বালিকা) ২০২৬ শুরু হয়েছে।

    বুধবার সকালেই সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আখতার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ রুহুল আমীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার মোঃ আরেফিন জুয়েল, বিপিএম।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অর্ণব দত্ত, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ‘ডাবলু’, জেলা জামায়াতের উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি জি এম মনিরুল ইসলাম (মিনি), জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান, সাবেক ফিফা রেফারি তৈয়েব হাসান বাবু, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির শেখ নুরুল হুদা, সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান, জেলা ওলামা দলের সভাপতি মাওলানা আনিসুর রহমান আজাদী, শহর জামায়াতের সেক্রেটারি খোরশেদ আলম এবং জেলা ফুটবল কোচ ইকবাল কবির খান (বাপ্পি) প্রমুখ।

    টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে বালিকা বিভাগে মাঠে নামে আশাশুনি শরাফপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হাদিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বালক বিভাগের উদ্বোধনী খেলায় আশাশুনি আনুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দেবহাটা টাউন শ্রীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সঙ্গে।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা-নেত্রী, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের বিভিন্ন কর্মকর্তা, পাশাপাশি জেলা জুড়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা জানান, টুর্নামেন্টটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রীড়া চেতনা জাগ্রত করবে এবং সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ভবিষ্যতের ক্রীড়াবিদ গঠনে সহায়ক হবে।

  • নড়াইলের কালিয়ায় ক্লাস চলাকালে নারিকেল গাছ ভেঙে পড়ে, ২ শিক্ষার্থী গুরুতর আহত

    নড়াইলের কালিয়ায় ক্লাস চলাকালে নারিকেল গাছ ভেঙে পড়ে, ২ শিক্ষার্থী গুরুতর আহত

    নড়াইলের কালিয়া পৌরসভার শামসুন্নাহার কিন্ডারগার্টেন বিদ্যালয়ে বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে ক্লাস চলাকালে ঝড়ো হাওয়ার প্রেক্ষিতে বিদ্যালয়ের পাশে থাকা এক পুরনো নারিকেল গাছ ভেঙে টিনের ছাদের একটি শ্রেণিকক্ষের ওপর পড়ে যায়। ঘটনায় ক্লাসে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং দুই শিশু গুরুতর আহত হন।

    আহতদের মধ্যে সিয়াম শেখ (১১) ছোট কালিয়া গ্রামের নুর জামালের ছেলে, আরেকজন মাজেদুল ইসলাম (৯) রামনগর গ্রামের জহির শেখের ছেলে। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে তাদের উদ্ধার করে কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর সিয়ামের অবস্থাকে আশঙ্কাজনক বিবেচনা করে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

    স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই নারিকেল গাছটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। হঠাৎ শুরু হওয়া ঝড়ে গাছটি ভেঙে পড়লে শ্রেণিকক্ষের ওপর সরাসরি আঘাত লাগে, ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিশাল ভয় সৃষ্টি হয়।

    ঘটনার তৎক্ষণাত পরিদর্শনে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা দ্রুত করতে বলে। এলাকায় এই দুর্ঘটনা নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য দেখা দেয় এবং অভিভাবকরা স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন। তারা বলছেন, আগে থেকেই গাছটি ছাঁট বা অপসারণ করে নেওয়া গেলে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা যেত।

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে সন্তোষজনক কোনো ব্যাখা দিতে পারেনি বলে এলাকাবাসী বলেন। বিষয়টি তদন্তে, কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিন্নাতুল ইসলাম জানান, আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার ব্যাপারে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং তাদের চিকিৎসার সকল খরচ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বহন করতে বলা হয়েছে। এছাড়া স্কুলের সকল নথিপত্র তলব করা হয়েছে; যদি গাফিলতি প্রমাণিত হয়, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    প্রতিবেশী এবং অভিভাবকরা দ্রুত দায়িত্বশীল পদক্ষেপ না নিলে নিরাপত্তার শূন্যতা থেকে আরও অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটবে বলে সতর্ক করেছেন।

  • বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি

    বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি

    চট্টগ্রামে বৃষ্টি কারণে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। আম্পায়াররা বিকেল ৪টা ১৮ মিনিটে ম্যাচ বাতিলের সিদ্ধান্ত দেন।

    সকালে প্রায় ১১টা থেকেই বৃষ্টি শুরু হয়ে intermittently জোরে-কমে চলছিল, কিন্তু থামার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। অবিরত বৃষ্টির ফলে মাঠে খেলা শুরু করানো সম্ভব হয়নি এবং আম্পায়াররা কাট-অফ টাইমের প্রায় এক ঘণ্টা আগেই ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন।

    প্রотোকল অনুযায়ী যদি ম্যাচকে বৈধ গণ্য করতে কমপক্ষে ৫ ওভার খেলা প্রয়োজন হয়, তাহলে খেলা শুরু হতে হতো বিকেল ৫টা ১৬ মিনিটের মধ্যে। পুরো ম্যাচ খেলানোর জন্য বিকেল ৩টা ১০ মিনিটের মধ্যে খেলা শুরু করা লাগত। কিন্তু বৃষ্টি থামায়নি, ফলে এই সময়সীমা পূরণ করা সম্ভব হয়নি।

    চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নতমানের। মাঠ কিউরেটর জাহিদ রেজা বাবু জানিয়েছেন, বৃষ্টি থামলে প্রায় ৪০ মিনিটের মধ্যে মাঠ খেলার উপযোগী করা যাবে। তবু বৃষ্টির ধারাবাহিকতায় সেই সুযোগ হয়নি।

    এর আগে গত সোমবার সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে এগিয়ে গিয়েছিল। আজকের ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় সিরিজ নির্ধারণী হবে আগামী ২ মে ঢাকার মিরপুরে, শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত শেষ ম্যাচ।