Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • প্রতিবন্ধীদের অধিকার ও সেবা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

    প্রতিবন্ধীদের অধিকার ও সেবা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

    প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার রক্ষায় ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে অবিলম্বে কার্যকর উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে প্রতিবন্ধীবান্ধব অবকাঠামো, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতে তৎপর হওয়া প্রয়োজন।

    বুধবার (১৩ মে) সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় এসব নির্দেশনা দিলেন তিনি। সভাটি প্রতিবন্ধীদের অধিকার সুরক্ষা ও সেবা নিশ্চিতকরণে করণীয় নির্ধারণে আয়োজন করা হয়েছিল।

    প্রধানমন্ত্রী সভায় বলেন, সমাজের প্রতিটি স্তরে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মর্যাদা ও সক্ষমতাকে বাস্তবে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতেই হবে।

    তিনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরকে ভবন নির্মাণ নীতিমালায় হাসপাতাল, রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় যাতায়াত যোগ্য অবকাঠামো ও উপযুক্ত স্বচ্ছন্দ টয়লেট নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। কক্ষের দরজার প্রস্থ ও নকশা এমনভাবে নির্ধারণের কথা বলেন, যাতে হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীরা সহজেই প্রবেশ-প্রস্থান করতে পারেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীদের জন্য পরিকল্পিত ইলেকট্রিক বাসেও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যাত্রীদের সুবিধার সুযোগ রাখতে হবে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান-সম্প্রচার বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    তিনি দেশের প্রতিবন্ধী স্কুলগুলো ঠিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে কি না খতিয়ে দেখতে ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশ দেন এবং ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ প্রতিযোগিতায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

    সভায় সিদ্ধান্ত হয়, প্রাথমিকভাবে ১০ জেলা ও ১০ উপজেলা কেন্দ্র করে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের স্বাস্থ্য ও পুনর্বাসন সেবা নিশ্চিত করতে ‘শিশু স্বর্গ’ প্রকল্প চালু করা হবে এবং দ্রুত এ কার্যক্রম শুরু করা হবে।

    সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ. বি. এম. আব্দুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা আবদুস সাত্তার দুলালও অংশ নেন।

  • শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন, ট্রাইব্যুনালে বিচার শুরু

    শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন, ট্রাইব্যুনালে বিচার শুরু

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠন করে সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ মোট ১২ জনের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম formally শুরু করেছে। অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারপ্রক্রিয়া চালু হলো। আদালত আগামী ১০ জুন ওই মামলায় ওপেনিং স্টেটমেন্ট (সূচনা বক্তব্য) উপস্থাপনের জন্য নির্ধারণ করেছে।

    বুধবার (১৩ মে) ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেল এই অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। শুনানিতে আসামিপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক বিবেচনা করা হয়েছিল।

    প্রসিকিউশনের বক্তব্যে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ ও ২১ জুলাই এবং ৫ আগস্ট—এই তিন দিনে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও সাইনবোর্ড এলাকায় পৃথক ঘটনার সূত্র ধরে শিশু গোপসহ মোট ১০ জন নিহত হন। এ ঘটনায় মোট তিনটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

    আসামিদের মধ্যে সাবেক এমপি শামীম ওসমান, তাঁর ছেলে অয়ন ওসমান ও ভাতিজা আজমেরী ওসমানসহ মোট ১২ জন রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই সময় ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময়ে আসামিরা ভারি অস্ত্র ও দেশীয় তৈরির অস্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের হামলা চালায়, যার ফলে বহু মানুষ আহত হন।

    প্রসিকিউশন দাবি করেছে যে এই ঘটনায় অন্যতম প্রধান আসামি শামীম ওসমান। ট্রাইব্যুনালে বলা হয়েছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় তিনি তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও তৎকালীন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে নিয়মিত মোবাইল যোগাযোগ রাখতেন; ওই কল রেকর্ড ও সিডিআর আদালতে দাখিল করা হয়েছে।

    আরও জানানো হয়েছে, অভিযুক্তরা নারায়ণগঞ্জের একাধিক স্থানে সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল; শুরুতে ঘটনার কেন্দ্র ছিল ফতুল্লা ও নারায়ণগঞ্জ শহর, পরে সহিংসতা সিদ্ধিরগঞ্জ ও চিটাগং রোড পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।

    অভিযোগ গঠন হতেই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হওয়ায় পরবর্তী কার্যক্রমে ওপেনিং স্টেটমেন্টের তারিখে পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে এবং সেখান থেকে সাক্ষ্য প্রমাণ গ্রহণের প্রক্রিয়া এগোবে।

  • এনসিপি প্রাথমিকভাবে ১০০ উপজেলা ও পৌরসভা প্রার্থীর নাম ঘোষণা

    এনসিপি প্রাথমিকভাবে ১০০ উপজেলা ও পৌরসভা প্রার্থীর নাম ঘোষণা

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে ১০০জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। রোববার (১০ মে) বিকেলে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এই তালিকা উন্মোচন করেন।

    সারজিস আলম বলেন, প্রতি আসনে প্রার্থী নির্বাচন করার জন্য দলের কাছে হাজারেরও বেশি আবেদন এসেছে। প্রথম ধাপে ১০০ জন — যেখানে ৫০ জন উপজেলা চেয়ারম্যান ও ৫০ জন পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী — ঘোষণা করা হলো। তিনি আরও জানান, ঈদের আগেই, এই মাসের ২০ তারিখে দ্বিতীয় ধাপে আরও ১০০ জনের নাম ঘোষণা করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং পরবর্তী সময়েও ধাপে ধাপে প্রার্থী ঘোষণা করার প্রক্রিয়া চলবে।

    সারজিস আলম বলেন, এনসিপি যে কাউকে সুযোগ দেবে—অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের থাকা বা না থাকার ওপর ভিত্তি করে নয়—তবে আবেদনকারীর গ্রহণযোগ্যতা, মানুষের প্রতি আচরণ ও অপরাধ বা উগ্র রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ততার মুক্ত থাকা এসব দিক দেখে যাচাই-বাছাই করে নেওয়া হবে। অন্য দলের যারা ন্যায্য, গ্রহণযোগ্য এবং পরিচ্ছন্ন সুনাম রাখেন, তাদেরকেও প্রার্থী হিসেবে নিউট্রে নেওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে।

    এনসিপি কর্তৃক ঘোষণা করা প্রার্থীদের নাম বিভাগ অনুযায়ী নিচে দেওয়া হলো —

    খুলনা বিভাগ:

    কুষ্টিয়ার কুমারখালী — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম বাদশা

    ভেড়ামারা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: জান্নাতুল ফেরদৌস টনি

    বাগেরহাট, চিতলমারী — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইশতিয়াক হোসেন

    ফকিরমারা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: লাবিব আহমেদ

    মোংলা — পৌরসভার মেয়র প্রার্থী: মো. রহমত উল্লাহ

    বাগেরহাট পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: সৈয়দ মোর্শেদ আনোয়ার

    যশোর, বাঘারপাড়া — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইয়াহিয়া জিসান

    নোয়াপাড়া পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: শাহজাহান কবির

    খুলনা, চালনা — পৌরসভার মেয়র প্রার্থী: এস এম এ রশিদ

    চুয়াডাঙ্গা সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: খায়রুল বাশার বিপ্লব

    জীবননগর পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: সোহেল পারভেজ

    মেহেরপুর, গাংনী — পৌরসভার মেয়র প্রার্থী: শাকিল আহমেদ

    ঝিনাইদহ পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: তারেকুল ইসলাম

    রংপুর বিভাগ:

    পঞ্চগড়, তেঁতুলিয়া — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. হাবিবুর রহমান হাবিব

    পঞ্চগড়, বোদা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শিশির আসাদ

    দিনাজপুর, দেবীগঞ্জ — পৌর মেয়র প্রার্থী: মাসুদ পারভেজ

    ঠাকুরগাঁও, রাণীশংকৈল — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: গোলাম মর্তুজা সেলিম

    দিনাজপুর, ফুলবাড়ি — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইমরান চৌধুরী নিশাত

    বোচাগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মাওলানা এম এ তাফসির হাসান

    ফুলবাড়ি পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: শিহাব হোসেন

    ঘোড়াঘাট — পৌর মেয়র প্রার্থী: মো. আব্দুল মান্নান

    হাকিমপুর — পৌর মেয়র প্রার্থী: রায়হান কবির

    নীলফামারী, জলঢাকা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু সাইদ লিয়ন

    নীলফামারী সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ড. কামরুল ইসলাম

    কুড়িগ্রাম সদর — পৌর মেয়র প্রার্থী: মো. মাসুম মিয়া

    লালমনিরহাট, কালিগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শাহ সুলতান নাসির উদ্দিন আহমেদ

    রংপুর সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: কৃষ্ণ চন্দ্র বর্মণ

    গাইবান্ধা, সাদুল্লাপুর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: খাদিমুল ইসলাম

    রাজশাহী বিভাগ:

    রাজশাহী, গোদাগাড়ি — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. আতিকুল রহমান

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ, গোমস্তাপুর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু মাসুদ

    নওগাঁ, নেইমতপুর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: বিশাল আহমেদ

    নাোগাঁ, বাদলগাছী — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আসাদ মোর্শেদ আজম

    ঢামুরহাট — পৌর মেয়র প্রার্থী: মাহফুজার রহমান চৌধুরী রুবেল

    বগুড়া, শিবগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. জাহাঙ্গীর আলম

    দুপচাঁচিয়া — পৌরসভা মেয়র প্রার্থী: আবু বক্কর সিদ্দিক

    বগুড়া সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: এ এম জেড শাহরিয়ার

    নাটোর সদর — পৌরসভা মেয়র প্রার্থী: আব্দুল মান্নান

    পাবনা, চাটমোহর — পৌরসভা মেয়র প্রার্থী: খন্দকার আক্তার হোসেন

    সিরাজগঞ্জ, উল্লাপাড়া — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ আদনান

    উল্লাপাড়া পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার আল-মামুন লিয়ন

    সিলেট বিভাগ:

    হবিগঞ্জ, আজমিরিগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. কামাল আহমেদ

    হবিগঞ্জ সদর — পৌরসভা মেয়র প্রার্থী: মাহবুবুল বারী চৌধুরী

    মৌলভীবাজার, রাজনগর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: খালেদ হাসান

    কুলাউড়া — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু রুকিয়ান

    সিলেট, কোম্পানীগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ওবায়েদ আহমেদ

    কানাইঘাট — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: বোরহান উদ্দিন ইউনূস

    ওসমানীনগর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: হাজি মো. মোশাহিদ আলী

    জৈন্তাপুর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: জাকারিয়া

    গোয়াইনঘাট — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মনসুরুল হাসান

    ময়মনসিংহ বিভাগ:

    শেরপুর সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার মো. লিখন মিয়া

    শেরপুর সদর পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: নূর ইসলাম

    জামালপুর সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: অ্যাডভোকেট আবু সাইদ মো. শামিম

    নেত্রকোনা, খালিয়াজুড়ি — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. মুশফিকুর রহমান মিন্টু

    বারহাটা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শফিকুল হক চৌধুরী বাবলু

    নেত্রকোনা সদর পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: সোহাগ মিয়া প্রিতম

    ময়মনসিংহ, তারাকান্দা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলাম

    ভালুকা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: নূরুল ইসলাম

    হালুয়াঘাট — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু হেলাল

    ধোবাউড়া — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. সাইফুল্লাহ

    ঢাকা বিভাগ (উত্তর):

    কিশোরগঞ্জ সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আহনাফ সাইদ খান

    তাড়াইল — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইকরাম হোসেন

    করিমগঞ্জ পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: খায়রুল কবির

    সাভার — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শাহাবদুল্লাহ রনি

    মানিকগঞ্জ সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আরিফুল ইসলাম

    দৌলতপুর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু আব্দুল্লাহ

    টাঙ্গাইল, কালিহাতি — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মেহদী হাসান

    টাঙ্গাইল পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: মাসুদুর রহমান রাসেল

    ভূঞাপুর পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: হাসান ইমাম তালুকদার

    শফিপুর পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: মাওলানা আনসার আলী

    নরসিংদী সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: সাইফ ইবনে সারোয়ার

    গাজীপুর, কালীগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শোয়েব মিয়া

    ঢাকা বিভাগ (দক্ষিণ):

    নারায়ণগঞ্জ, সেনারগাঁও — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: তুহিন মাহবুব

    মুন্সিগঞ্জ, সিরাজদিখান — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আলী নেওয়াজ

    ফরিদপুর বিভাগ:

    নগরকান্দা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: রেজাউল করিম সবুজ

    নগরকান্দা পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: নাজমুল হুদা

    ফরিদপুর পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: সাইদ খান

    মাদারীপুর — পৌরসভা মেয়র প্রার্থী: মো. হাসিবুল্লাহ

    গোপালগঞ্জ — পৌরসভা মেয়র প্রার্থী: ফেরদৌম আমেনা

    দল সূত্রে জানানো হয়েছে, ঘোষিত এই তালিকা প্রাথমিক; চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা আরও যাচাই-বাছাই ও সমন্বয়ের পর গঠন করা হবে।

  • সরকার উন্নয়নে চরম বৈষম্য করছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

    সরকার উন্নয়নে চরম বৈষম্য করছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার উন্নয়নের বরাদ্দ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে চরম বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। তিনি বলছেন, উত্তরাঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য সৈয়দপুর বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক করা সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত এবং এর দীর্ঘদিনের দাবি রংপুর ও দিনাজপুরের জনগণের।

    শনিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে পঞ্চগড় যাওয়ার উদ্দেশ্যে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে করে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে নামার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি এড. আতীকুর রহমান ও সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী।

    গোলাম পরওয়ার বলেন, সৈয়দপুর বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক না করে অন্যত্র এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সেটি নির্বাচিত এলাকা প্রাধান্য দেওয়ার ফল—যা নিছক অন্যায়। তিনি বলেন, জাতীয় গুরুত্ব বিবেচনায় উন্নয়ন কাজগুলো ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলে থাকা উচিত; শুধু কিছু নির্বাচিত এলাকার স্বার্থে নয়।

    জামায়াতের এই নেতা আরো মন্তব্য করেন, দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় যারা ক্ষমতায় এসেছে তাঁরা জনগণের ৭০ শতাংশ মতকে উপেক্ষা করে প্রতারণার রাজনীতি করছে। নির্বাচনের আগে “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে যারা ছিলেন, এখন তারা গণভোটের রায় অস্বীকার করছে—একে তিনি জনগণের সঙ্গে মহাপ্রতারণা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার জুলাই সংক্রান্ত সনদ বাস্তবায়নের কথা বললেও প্রকৃতপক্ষে গণভোটের রায় মানছে না, যা দেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

    সংবাদমাধ্যম সম্পর্কে প্রশ্নে গোলাম পরওয়ার বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় যারা স্বাধীন সাংবাদিকতার কথা বলেছিল, এখন তাদেরাই বিভিন্ন গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত। সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুত করা, হয়রানি ও সমালোচনাকারী সাংবাদিকদের টার্গেট করার মতো অভিযোগ তুলেন তিনি।

    এর আগে বিমানবন্দরে তাঁকে এবং সফরসঙ্গীদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম ও জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মনিরুজ্জামান জুয়েল। এছাড়া সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের আমির শফিকুল ইসলাম, সেক্রেটারি মাজহারুল ইসলাম, শহর আমির শরফুদ্দিন খান, সেক্রেটারি মাওলানা ওয়াজেদ আলী, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের শহর সভাপতি আব্দুল মোমিনসহ শতাধিক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

    এই গ্রীষ্মকালীন বিমানবন্দর প্রবেশ ও সভা শেষে গোলাম পরওয়ার ও তাঁর সফরসঙ্গীরা সড়কপথে পঞ্চগড়ের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

  • অর্থমন্ত্রী: আর্থিক খাতে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না

    অর্থমন্ত্রী: আর্থিক খাতে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আর্থিক খাতসহ সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক সেক্টরে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না। মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লুতে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন বিএসআইসির চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন। সেই সঙ্গে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান ও বিএবির চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারি কোনো রাজনৈতিক নিয়োগ বা চাপ এখানে কাজ করবে না; প্রতিষ্ঠানটি শতভাগ পেশাদার মানদণ্ডে পরিচালিত হবে। যে মূলধন দিয়ে বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি যাত্রা শুরু করেছে, ভবিষ্যতে তা আরও বাড়ানো হবে বলেও তিনি জানান। এটা কেবল একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান নয়, দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে দৃশ্যমান করে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।

    তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মের সামনে সবচেয়ে বড় দুটি প্রতিবন্ধকতা হলো তহবিলের অভাব এবং জামানত দিতে না পারা। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দুইটি বাধাই দূর করার চেষ্টা করা হয়েছে। বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া হবে স্বচ্ছ, দক্ষ ও পেশাদার।

    মন্ত্রী আরও বলেন, এই উদ্যোগ দেশের রাজনৈতিক ম্যানিফেস্টোর সঙ্গে সরাসরি সমন্বিত। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডকে কাজে লাগিয়ে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। বিশেষত ক্রিয়েটিভ ইকোনমির মাধ্যমে গ্রামীণ ও শহরের যুবসমাজকে অর্থনীতির মূল ধারায় আনা হবে।

    আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফিরে আনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে আমরা কিছু কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি; তাই পুঁজিবাজারে সংস্কার ও প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক পরিবর্তন আনার দিকে এগোচ্ছি। বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারের জন্য দক্ষ ব্যক্তিদের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। দেশি-বিদেশি বড় ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা এবং বিভিন্ন দাতা সংস্থা আমাদের সঙ্গে কাজ করছে। দেশের ব্যাংক ও বেসরকারি খাতের আন্ডার-ক্যাপিটালাইজেশন দূর করতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    অবশেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই স্টার্টআপ কোম্পানি শুধু ব্যাংকিং খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, আন্তর্জাতিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানগুলোকেও বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে। অর্থ মন্ত্রণালয় এই প্রকল্পকে সফল করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের নীতি সমর্থন দেবে। দেশের বিভিন্ন ব্যাংক যৌথভাবে যে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল উদ্যোগ নিয়েছে, তা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের পথ খুলে দেবে।

  • ব্যাংক লুটপাট: ৬ ব্যক্তি ও শিল্পগোষ্ঠীকে দায়ী করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

    ব্যাংক লুটপাট: ৬ ব্যক্তি ও শিল্পগোষ্ঠীকে দায়ী করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

    বাংলাদেশ ব্যাংক এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২৮টি ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পিছনে ছয়জন ব্যক্তি ও কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর দায় রয়েছে। প্রতিবেদনে নাম উল্লেখ করা হয়েছে এস আলম, বেক্সিমকো, ওরিয়ন ও নাসা গ্রুপের সঙ্গে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও সিকদারকে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঋণের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও কিছু অংশ পাচার হয়েছে, যা দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে গভীর ক্ষতির মুখে ফেলেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ও অগ্রণী ব্যাংককে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া শরীয়াহভিত্তিক ইসলামী ব্যাংক, সার্ভিস ব্যাংকগুলোর নাম—এসআইবিএল, ফার্স্ট সিকিউরিটি, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকসহ বেসরকারি খাতের ইউসিবি, আইএফআইসি ও ন্যাশনাল ব্যাংকও প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ আছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন বড় অঙ্কের লুটপাট দ্রুত ও দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা না করলে দেশের ব্যাংকিং খাতের ওপর জনগণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাদের দাবি, পাচার করা অর্থ ফিরে আনতে দ্রুত পদক্ষেপ এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যেসব কর্মকর্তার ভূমিকা ছিল, তাদেরও আইনের আওতায় আনা উচিত।

    বিআইবিএম-এর সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী বলেছেন, ঋণের পরিমাণ, মেয়াদ ও আবেদন প্রক্রিয়া—সবকিছুর জন্য নীতিমালা রয়েছে। যদি বাংলাদেশ ব্যাংক জেনে-শুনেই নিয়ম ভঙ্গ করে ওয়েভার দিয়ে থাকে, তাহলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককেও তার দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা থাকতে হবে। এই নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাজই এসব কাণ্ড-কলাপ পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক দোষ স্বীকার করে জানিয়েছে, বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও অন্যান্য চাপের কারণে কিছু ক্ষেত্রে অনিচ্ছাকৃতভাবে সুবিধা দিতে হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এখন পাচার করা অর্থ ফেরত আনার চেষ্টা চালাচ্ছে। ব্যাংকটির মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘‘কোন প্রেক্ষাপটে আমাদের কর্মকর্তারা এই কাজের সঙ্গে জড়িত বা জড়িত হতে বাধ্য ছিলেন—কয়েকটি এক্সটার্নাল ফোর্স ছিল এবং কিছু ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল।’’

    প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিশেষজ্ঞরা আবারো জোর দিয়ে বলেছেন, তদন্ত পর্যাপ্ত ও স্বচ্ছ হতে হবে; দোষীদের বিচার যেন দ্রুত ও öffentlichenভাবে নিশ্চিত করা হয়। ন্যাপকৃত ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা ছাড়া পুনরায় একই ধরনের দূর্নীতি রোধ করা কঠিন হবে এবং জনআস্থা ফিরে আনা যাবে না।

  • আস্থাভোটে জয়ী মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়

    আস্থাভোটে জয়ী মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়

    দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুর বিধানসভায় অনুষ্ঠিত আস্থাভোটে জয়ী হয়ে নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজের অবস্থান পাকা করেছেন থালাপতি বিজয়। বুধবারের ভোটে ১৪৪ জন বিধায়ক তার পক্ষে ভোট দেন; বিপক্ষে পড়েছে ২২টি, আর পাঁচজন ভোটদানে বিরত ছিলেন।

    গত মাসের নির্বাচনে বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম (টিভিকে) ঐতিহাসিক জয় তুলে নিয়ে রাজ্যের দীর্ঘদিনের দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তি ডিএমকে ও এআইএডিএমকের ৬২ বছরের আধিপত্য ভাঙে। এই প্রেক্ষাপটে আস্থা ভোটে বিজয়ের সফলতাই টিভিকের রাজনৈতিক জয়ের শেষ পরিণতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    ফল ঘোষণার পর বিজয় বলেন, ‘হুইসেল ইতিহাস বদলে দিয়েছে।’ টিভিকের নির্বাচনী প্রতীক ছিল ‘হুইসেল’, যা দলের জয়ের প্রতীক হিসেবে জনমনে শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “আমরা নিজেদের সংখ্যালঘু সরকার বলব। আমরা এমন এক সরকার, যা সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা করবে।”

    ভোটাভুটির আগে ডিএমকে তাদের ৫৯ জন বিধায়ক নিয়ে ওয়াকআউট করে। অন্যদিকে এআইএডিএমকের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার নির্দেশ দেয়; তবুও দলের ভেতর থেকে বড় অঙ্কের বিদ্রোহ দেখা গেছে।

    এআইএডিএমকের ২৪ জন বিধায়ক দলীয় প্রধান ইডাপ্পাদি কে পালানিস্বামীর নির্দেশ অমান্য করে বিজয়ের পক্ষে ভোট দেন, যা দলটিতে গভীর বিভাজন ও ভাঙনের ইঙ্গিত প্রকাশ করে। এই বিদ্রোহী অংশটির নেতৃত্বে ছিলেন দলের জ্যেষ্ঠ নেতা সি ভি শানমুগাম ও এস পি ভেলুমানি; তাদের কয়েকজন নেতা পুদুচেরির একটি রিসোর্টে অবস্থান নিয়ে নেতৃত্ব পরিবর্তন ও টিভিকে সমর্থন নিয়ে আলোচনা চালিয়েছিলেন বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।

    শানমুগাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘তিনবার ডিএমকের কাছে ও সর্বশেষ টিভিকের কাছে টানা চারটি নির্বাচনী পরাজয় দলের বর্তমান অবস্থাকে সংকটময় করে তুলেছে।’ তিনি দাবি করেছেন যে দলের ভাঙার কোনো ইচ্ছা নেই, কিন্তু এখন এটি নতুন ক্ষমতার লড়াইয়ের অধ্যায় সূচিত করছে।

    অন্য দিকে এআইএডিএমকে বিদ্রোহী নেতাদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে দলটি অভিযোগ করেছে যে শানমুগাম, ভেলুমানি ও অন্যান্য বিদ্রোহী নেতারা টিভিকের কাছে মন্ত্রীত্বের পদ চেয়েছিলেন।

    আস্থা ভোটের এই ফল ও দলের অভ্যন্তরীণ টানাপড়েনের প্রেক্ষিতে তামিলনাাড়ুর রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন দিক নির্দেশনার অপেক্ষা শুরু হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে এসব ফ্র্যাকচারের রাজনৈতিক ফলাফল রাজ্য রাজনীতির গতিপথকে আরও স্পষ্ট করবে।

  • হরমুজ প্রণালিতে টোল আরোপের বিরোধিতা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন

    হরমুজ প্রণালিতে টোল আরোপের বিরোধিতা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন

    যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ঊর্ধ্বতন কূটনীতিকরা একমত হয়েছেন যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর কোনো দেশ বা সংস্থা টোল আরোপ করতে পারে না—এই তথ্য মঙ্গলবার রয়টার্সের মাধ্যমে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকের আগে দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনায় হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নাবিকতা বিষয়টি মুখ্য হিসেবে উঠেছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

    মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এপ্রিল মাসে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ও একাধিক মার্কিন উচ্চপদস্থ কূটনীতিকের মধ্যে ফোনালাপে এই বিষয়টি ওঠে। মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, আন্তর্জাতিক নৌপথ—বিশেষ করে হরমুজের মতো প্রণালী—দিয়ে চলাচল করার জন্য কারো কাছে টোল আদায়ের অনুমতি দেয়া যায় না এবং এ ধরনের অবস্থান দেশগুলোর মধ্যে মিল রয়েছে।

    চীনের দূতাবাসও যুক্তরাষ্ট্রের এই বক্তব্য সরাসরি অস্বীকার করেনি। তারা জানিয়েছেন, সব পক্ষ মিলিয়ে কাজ করলে প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল দ্রুত ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে—এটাই তাদের উদ্দেশ্য।

    হরমুজ প্রণালীকে বিশ্ববাণিজ্যে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে দেখা হয়। যুদ্ধ বা উত্তেজনার আগে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হতো, তাই প্রণালীতে বন্ধ বা ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বরাদ্দ ও বাজারে তাৎপর্যপূর্ণ ঝটকা পড়ে। সংবাদটি বলছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলার পর ইরান প্রণালিটি প্রায় বন্ধ করে দেয়—যার পরিপ্রেক্ষিতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ বাড়ে।

    কূটনৈতিক পর্যায়ে যে সমঝোতার কথা বলা হয়েছে, তা যদি বাস্তবে কার্যকর হয় তাহলে হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক চলাচল পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে তা সাহায্য করতে পারে। আগামী ট্রাম্প-শি বৈঠকে এই বিষয়টি কীভাবে এগোয়, তা আন্তর্জাতিক বাজার ও অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • খুলনায় নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন নিয়ে বিভাগীয় প্রেসব্রিফিং

    খুলনায় নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন নিয়ে বিভাগীয় প্রেসব্রিফিং

    খুলনা বিভাগীয় জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন ও প্রচার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে একটি ব্যাপক প্রেসব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার (১৩ মে) খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবির বালু মিলনায়তনে সংগঠিত এই ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দেন খুলনা বিভাগীয় জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক গাজী জাকির হোসেন। সভায় ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, נשיםদের জন্য গাড়ি, কৃষক কার্ড ও কৃষি ঋণ মওকুফসহ প্রধান অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়।

    ফ্যামিলি কার্ড: সামাজিক নিরাপত্তার নতুন উদ্যোগ

    প্রেসব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ফ্যামিলি কার্ড হলো বর্তমান সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় প্রবর্তিত একটি স্মার্ট কার্ড। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১০ মার্চ রাজধানীর কড়াইল বস্তি সংলগ্ন টিএন্ডটি মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্ড উদ্বোধন করেন। প্রথম ধাপে দেশের ১৪টি উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের মোট ৩৭,৫৬৭টি দরিদ্র পরিবার মাসে ২,৫০০ টাকা করে সুবিধা পাচ্ছে। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে ৫,২৭৫জন উপকারভোগীর মধ্যে ৪,১৫৮ জনকে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। ধীরে ধীরে দেশের প্রায় ৫০ লাখ দরিদ্র পরিবারকে এই কার্ড সুবিধার আওতায় আনা হবে।

    খাল খনন ও পুনঃখনন: জলসম্পদ উদ্ধারে বৃহৎ পরিকল্পনা

    খনন ও পুনরুদ্ধার কর্মসূচির অধীনে আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে মোট ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল খনন ও পুনঃখনন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়া খাল খননের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এর ধারাবাহিকতায় যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশী খালসহ খুলনার ডুমুরিয়া, বটিয়াঘাটা, দাকোপ, দিঘলিয়া, তেরখাদা, রূপসা, পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলায় খনন কার্যক্রম চলছে।

    বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণ: সবুজ কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি

    সরকার আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এই উদ্যোগ সরাসরি ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৩.৫ লক্ষ (৩৫০,০০০) সবুজ কর্মসংস্থান তৈরি করবে এবং নারী, যুবক-যুবতী ও গ্রামীণ জনগণ সমানভাবে এতে অংশ নেবে। পাশাপাশি ১০,০০০ নতুন উদ্যোক্তা গড়ে তোলা হবে, যা আনুমানিক ২৫০,০০০-এর বেশি অতিরিক্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। নারী চলাচলের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিআরটিসি মহিলা বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।

    কৃষক কার্ড ও কৃষি সহায়তা

    কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ভূমিহীন ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য ভর্তুকি, সহজ কিস্তিতে ঋণ, বীজ ও সারসহ মোট ১০ ধরণের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ১৪ এপ্রিল টাঙ্গাইলের শহিদ মারুফ স্টেডিয়ামে প্রথম পর্যায়ের কৃষক কার্ড কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। কার্ডধারীরা বার্ষিক ২,৫০০ টাকা নগদ সুবিধা পাবেন। পরীক্ষামূলকভাবে প্রথম ধাপে ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় ২২,০৬৫ জন ভূমিহীন, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষককে কার্ড প্রদান করা হয়েছে। ভবিষ্যতে লক্ষ্যমাত্রা ১৬.৫ মিলিয়ন (১১৬৫ লাখ?) কৃষককে এই সুবিধার আওতায় আনা।

    জনসংযোগ কার্যক্রম: মাঠ পর্যায়ে প্রচারণা

    গণযোগাযোগ অধিদপ্তর জানায়, গত ১৮০ দিনে তারা মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক জনসংযোগ কার্যক্রম চালিয়েছে: ১,০২১টি উঠান বৈঠক/কমিউনিটি সভা, ২০২টি নারী সমাবেশ, ১১,০৬০টি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, ৩,২৪৮ ইউনিট সড়ক প্রচার, ১৪টি কৃষক সমাবেশ, ২২টি ফ্যামিলি সমাবেশ, ৩৪০টি প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত অগ্রাধিকার মূলক কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের লাইভ সম্প্রচার এবং ২,৩৬১টি অনলাইন প্রচারণা। খুলনা বিভাগীয় জেলা তথ্য অফিসও ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ১৫২টি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, ৬৫টি সড়ক প্রচার, ১০টি উঠান বৈঠক, ২টি নারী সমাবেশ, ১টি ফ্যামিলি সমাবেশ এবং ৪টি লাইভ ব্রডকাস্ট বাস্তবায়ন করেছে। এ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।

    অনুষ্ঠান ও উপস্থিতি

    প্রেসব্রিফিংয়ে খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোস্তফা সরোয়ার এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃ তরিকুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। খুলনার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সরকারি নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন সংক্রান্ত ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন বিভাগীয় জেলা তথ্য অফিসের উপপরিচালক মোঃ ইব্রাহিম-আল-মামুন।

    উল্লেখ্য, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীনে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় দেশের ৬৪টি জেলা ও ৪টি উপজেলা তথ্য অফিসে একযোগে বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে প্রচার কার্যক্রম ও প্রেসব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।

  • দেবহাটায় অনুমতি ছাড়াই ড্রেজিং: সবুজ ইসলামকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৩০ হাজার টাকা জরিমানা

    দেবহাটায় অনুমতি ছাড়াই ড্রেজিং: সবুজ ইসলামকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৩০ হাজার টাকা জরিমানা

    দেবহাটা উপজেলায় অনুমতি ছাড়াই ড্রেজিং করে বালু উত্তোলনের অভিযোগে সবুজ ইসলামকে ভ্রাম্যমাণ আদালত বুধবার (১৩ মে) ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। অভিযানটি পরিচালনা করেন দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিলন সাহা।

    জরিমানা প্রাপ্ত ব্যক্তি আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা এলাকার মাছুম্মেল হকের ছেলে সবুজ ইসলাম বলে জানানো হয়েছে।

    অভিযান সূত্রে জানা গেছে, সবুজ ইসলাম আন্দুলপোতা এলাকার একটি মাছের ঘের থেকে অনুমতি না নিয়ে ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে বালু উত্তোলন করছিলেন। প্রশাসনের পদক্ষেপে বলা হয়েছে, অনিয়ম করে বালু উত্তোলন করলে তীরভাঙন, পরিবেশগত ক্ষতি ও স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

    ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিলন সাহা বলেন, পরিবেশ ধ্বংসকারী এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, স্থানীয়দেরও এই ধরনের অনিয়ম দেখা মাত্র প্রশাসনকে জানাতে হবে যাতে পরিবেশ রক্ষা করা যায়।