Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • পবিত্র ঈদুল আজহার জন্য ২৫ মে থেকে ৩১ মে টানা সাত দিন সরকারি ছুটি

    পবিত্র ঈদুল আজহার জন্য ২৫ মে থেকে ৩১ মে টানা সাত দিন সরকারি ছুটি

    মন্ত্রিসভা আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার কারণে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য টানা সাত দিনের ছুটি অনুমোদন করেছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই ছুটির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়—মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকারি ছুটি থাকবে। তবে ঈদকে সামনে রেখে ২৩ ও ২৪ মে (শনি ও রোববার) অফিস খোলা থাকবে।

    একই বৈঠকে ‘জাতীয় পাবলিক টয়লেট নীতিমালা ২০২৬’ এর খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ এই নীতিমালার উদ্যোগী।

    নীতিমালার মূল উদ্দেশ্যগুলো হলো: জনসাধারণের মধ্যে পাবলিক টয়লেট ব্যবহার, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা; সারাদেশে স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্মত পাবলিক টয়লেট সহজলভ্য করা; নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী, প্রবীণ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ব্যবহারবান্ধব সুবিধা নিশ্চিত করা; টয়লেট ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা বজায় রাখতে কার্যকর ব্যবস্থাপনা ও অর্থায়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলা; এবং বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ, মূল্যায়ন করে প্রয়োজনে নীতিমালাটি সময়োপযোগী করা।

    শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ব্যবহারের শিক্ষা জোরদার করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় কার্যক্রম নেবে। ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে নারীদের জন্য পৃথক টয়লেট বাধ্যতামূলক করা হবে। সকল টয়লেটের বর্জ্য সুরক্ষিতভাবে সংরক্ষণের জন্য সেফটি ট্যাংক নির্মাণের নিয়ম প্রণয়ন করা হয়েছে, যাতে কোনো অবস্থাতেই বর্জ্য নদী, খাল-বিল বা অন্য কোনো জলাশয়ে পড়ে পানি দূষণ না ঘটতে পারে।

    সড়ক ও মহাসড়কের উপযুক্ত স্থানে নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক পাবলিক টয়লেট স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সমন্বয় করবে। নীতিমালাটি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগভিত্তিক সময়নির্ধারিত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হবে।

    এই সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে ‘জাতীয় পাবলিক টয়লেট নীতিমালা ২০২৬’—এর খসড়া মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদিত হয়েছে।

  • ৭ জুন বাজেট অধিবেশন: সংসদে পেশ হবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট

    ৭ জুন বাজেট অধিবেশন: সংসদে পেশ হবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট

    রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আগামী ৭ জুন (রোববার) বিকেল ৩টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন আহ্বান করেছেন। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭২(১) অনুযায়ী ঢাকার শেরে বাংলা নগরের জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে এই অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।

    এই অধিবেশনেই প্রধান আকর্ষণ হবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের পেশ ও প্রেক্ষিত আলোচনা—বাজেট পেশ থেকে অনুমোদন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এখানেই সম্পন্ন হবে।

    জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার (৭ মে) এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংসদ সচিবালয় অধিবেশন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার লক্ষ্যে দরকারি সকল প্রস্তুতি শুরু করেছে।

    সংসদ সচিবালয়ের উপসচিব শওকত আকবর স্বাক্ষরিত চিঠিতে বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়কে এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশের অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সংসদ সচিবালয় সংসদ টেলিভিশন, রেডিও, সংবাদপত্র এবং অন্যান্য সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রচারের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে।

    প্রতি বছর জুন মাসে বাজেট প্রস্তাবনা এবং ওপর আলোচনা-টর্কের জন্য সংসদ অধিবেশন বসে; তাই এই অধিবেশনকে সাধারণত ‘বাজেট অধিবেশন’ বলা হয়। এবারও অব্যাহত থাকবে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন লক্ষ্য ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা প্রতিফলিত করার লক্ষ্যে বাজেট উপস্থাপন ও সংসদ সদস্যদের বিস্তারিত আলোচনার ধারাবাহিকতা। দেশের অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে এ অধিবেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং সারাদেশে এর প্রতি নজর থাকবে।

  • ১০ মে ঘোষণা করবে এনসিপি: উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়রপ্রার্থীদের তালিকা

    ১০ মে ঘোষণা করবে এনসিপি: উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়রপ্রার্থীদের তালিকা

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দাবি করেছে, আগামী ১০ মে তাদের প্রাথমিকভাবে সমর্থিত উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে। এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম মঙ্গলবার (০৫ মে) রাজধানীর বাংলামোটর রূপায়ণ টাওয়ারে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত নাগরিক যোগদানের অনুষ্ঠানে এ সংবাদ জানান।

    সারজিস আলম বলেন, আগে পরিকল্পনা ছিল ৩০ এপ্রিলের মধ্যে ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভার প্রার্থীদের ঘোষণা করা হবে। তবে ব্যক্তিগত এবং সামগ্রিক কিছু জটিলতার কারণে সময় কিছুটা পিছিয়ে গেছে। এখন তারা আশা করছেন, ১০ মে’er মধ্যে প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব হবে।

    তিনি আরও জানান, এই মাসের মধ্যেই সাতটি সিটি কর্পোরেশনে এনসিপি সমর্থিত মেয়রপ্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে। বর্তমানে এনসিপি একটি ১১ দলীয় জোটের অংশ; তারা বিরোধী দল হিসেবে সংসদে অবদান রাখছেন। একই সঙ্গে দলটি এককভাবে সাংগঠনিক ও রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার প্রস্তুতিও চালাচ্ছে, তাই স্থানীয় নির্বাচনে নিজস্ব প্রার্থীদের ঘোষণা করা হবে বলে তিনি জানান।

    সারজিস আলম বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তাদের ইচ্ছা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি টালাশ বলিয়ে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরে নেওয়ার। তিনি আরও বলেন, বিএনপি ইতোমধ্যেই জেলা পরিষদ ও সিটি কর্পোরেশনগুলোর প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে এনেছে বলে অভিযোগ করেন।

    তিনি আরো যুক্ত করেন, উপজেলা পর্যায়ে কার্যকর উপজেলা চেয়ারম্যান নেই এবং তারা পূর্বের শাসকদলগুলোর মতো ক্ষমতা সংকুচিত করার চেষ্টা করছে। ‘‘শুনছি তারা উপজেলা পরিষদ বিলুপ্ত করার উদ্যোগ নেয়ার চেষ্টা করছে’’—এমন ষড়যন্ত্রের নাম দিয়ে তিনি সতর্ক করেছেন যে এমন পদক্ষেপ তাদেরই জন্য ক্ষতিকর হবে।

    শেষে সারজিস আলম দরকারীয় আর্জি জানান যে সিটি কর্পোরেশন ও উপজেলা ও পৌরসভা সংক্রান্ত নির্বাচন এ বছরের মধ্যেই সম্পন্ন করা উচিত, যাতে স্থানীয় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত না হয়।

  • সোনার দাম কমল, প্রতি ভরিতে নতুন দাম কত?

    সোনার দাম কমল, প্রতি ভরিতে নতুন দাম কত?

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) দেশের বাজারে সোনার দাম কমানোর ঘোষণা করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এবার প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ২ হাজার ২৫৮ টাকা পর্যন্ত দাম কমানো হয়েছে। নতুন মূল্য মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

    বাজুসের ঘোষণায় সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার প্রতিভর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ৪০ হাজার ৩৩৭ টাকা। এর আগে সোমবার (৪ মে) এটি ছিল দুই লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা। সংগঠনের ভাষ্য অনুযায়ী তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দাম কমায় স্থানীয় বাজারেও মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

    অন্য ক্যারেটগুলোর নতুন দরগুলো হচ্ছে: ২১ ক্যারেট প্রতি ভরি দুই লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেট প্রতি ভরি এক লাখ ৯৬ হাজার ৬৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি এক লাখ ৬০ হাজার ১৪৭ টাকা।

    সোনার দাম পরিবর্তনের সঙ্গে মিল রেখে রুপার দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি দাম রয়েছে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা; ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ১৯০ টাকা; ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৪৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা।

    আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটেও গত কিছু সময় সোনার মূল্য ওঠানামা করেছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের পর বিশ্ববাজারে সোনার দাম বাড়ে, পরে মূল্য সমন্বয়ের মধ্য দিয়ে ওঠা-নামা করেছে। বিশ্বস্ত সূত্র গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি অনুযায়ী বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৫০০ ডলারে। এর আগে ৩০ জানুয়ারি ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি একসময় ৫ হাজার ৫৫০ ডলারে তা উঠেছিল।

  • টানা দ্বিতীয় দফায় সোনার দাম বাড়ল

    টানা দ্বিতীয় দফায় সোনার দাম বাড়ল

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) টানা দ্বিতীয় দফায় সোনার দাম বাড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানায় যে বাজারে সোনার মূল্য প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়ানো হয়েছে এবং নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার এক ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা, যা গতকের তুলনায় বেড়েছে৷ গতকাল ২২ ক্যারেটের দাম ছিল দুই লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা।

    অন্যান্য ক্যারেটের নির্ধারিত দামগুলো হলো: ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২১৩ টাকা (২০০,২১৩ টাকা) এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকা। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দামের ওঠানামা বিবেচনা করে স্থানীয় বাজারে এই সমন্বয় করা হয়েছে।

    সোনার সঙ্গে রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ২২ ক্যারেট মানের রুপার এক ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ২১ ক্যারেট রুপা ৫ হাজার ৫৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেট রুপা ৪ হাজার ৭২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা।

    বিশ্ববাজারে সোনার মূল্য ঊর্ধ্বমুখী থাকার পেছনে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সংঘাতসহ ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাব উল্লেখ করেছে বাজার বিশ্লেষকরা। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানানো হয়েছে, বর্তমানে আন্তর্জাতিক দর প্রতি আউন্স সোনার দাম প্রায় ৪ হাজার ৭০০ ডলারে পৌঁছেছে।

    তথ্য অনুযায়ী গত ৩০ জানুয়ারি আউন্সপ্রতি দাম ছিল প্রায় ৫ হাজার ২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি তা ৫ হাজার ৫৫০ ডলারে ওঠে। এছাড়া গত মাসের শেষের দিকে বিশ্ববাজারে সোনার ধারাবাহিক উত্থানের কারণে দেশীয় বাজারেও দাম বাড়তে থাকে। ২৯ জানুয়ারি সকালে একবারে ভরিপ্রতি ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়ে বাজুস ২২ ক্যারেট সোনার দাম সংগ্রহ করে এক পর্যায়ে দুই লাখ ৮৬ হাজার টাকায় পৌঁছে দিয়েছিল; যা দেশের ইতিহাসে রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হয়।

    বাজুসের 이번 ঘোষণায় স্থানীয় ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে মূল্য ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা বাড়বে বলে 예상 করা হচ্ছে। বাজার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক দর ও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত সোনার দর ওঠানামা করতে পারে।

  • রাজ্যপাল ভেঙে দিলেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা; মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৫ বছরের শাসনের অধ্যায় বন্ধ

    রাজ্যপাল ভেঙে দিলেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা; মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৫ বছরের শাসনের অধ্যায় বন্ধ

    রাজ্যপাল আর এন রবি বৃহস্পতিবার (৭ মে) পশ্চিমবঙ্গের সপ্তদশ বিধানসভা ভেঙে দিয়েছেন। রাজ্যপালের অফিস থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভারতের সংবিধানের ১৭৪(২)(খ) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে ৭ মে থেকে বিধানসভা বিলুপ্ত করা হলো।

    এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই টানা ১৫ বছর রাজ্যের শাসনভারোমধ্য ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসপ্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের অধ্যায় বিচ্ছিন্ন হলো বলে রাজনৈতিক পর্যালোচকদের কয়েকটি মন্তব্যে দেখা যাচ্ছে। মমতা প্রথমবার ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হন এবং এরপর তিনবারের জন্য রাজ্য পরিচালনা করেন।

    গত ৪ মে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনের সরকারি ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পর ২৯৪ আসনের মধ্যে ২০০-এর বেশি আসনে জয় পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি), ফলে প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের পথে এগিয়ে এসেছে কেন্দ্রীয় শাসিত দলটি। নির্বাচনের ফল প্রকাশের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই শরীরগত ও সাংবিধানিকভাবে নতুন সরকারের পথ পরিষ্কার হচ্ছে।

    নির্বাচনের ফলের পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথা অনুযায়ী রাজভবনে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেননি, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে সন্দেহ ও আলোচনা দেখা দিয়েছিল। রাজ্যপালের এই সিদ্ধান্তের পরে সেই অনিশ্চয়তা অনেকাংশে কাটল এবং এখন নতুন মন্ত্রিসভা গঠন ও নতুন মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন—এই প্রক্রিয়া শুরু হবে। বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সম্ভবত ৯ মে (রবীন্দ্রজন্মজয়ন্তী) হতে পারে; কেন্দ্র ও রাজ্য পর্যায়ের নেতা-নেত্রীরা ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছেন।

    এর মধ্যে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ বিবেচনায় নেমে এল আরও এক উত্তেজক ঘটনা। বুধবার রাতে কলকাতা থেকে ফেরার পথে মধ্যমগ্রামের দোহারিয়ার কাছে হামলা চালিয়ে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন এবং গাড়িচালক বুদ্ধদেব বেরা আহত হন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী এই ঘটনায় তিনজনকে সন্দেহজনক হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।

    ঘটনার পর রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে; তদন্তকারীরা সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা, আলামত সংগ্রহ ও অন্যান্য অনুসন্ধান চালাচ্ছেন। পুলিশ জানিয়েছে হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত দোষীদের খুঁজে বের করতে সব রকম চেষ্টা চলছে।

    এই ঘটনার দায় চাপানোর লড়াইয়ে বিজেপি তৃণমূলকে অভিযুক্ত করেছে, ট্যাগার অপরদিকে ঘটনার নিন্দা জানিয়ে কোনো রাজনৈতিকভাবে সম্পর্কিত হতেই অস্বীকার করেছে এবং নির্বাচনের পরের সহিংসতার সব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করেছে।

    সরকার গঠন, শপথ ও নিরাপত্তা-পরিস্থিতি—এসব মিলিয়ে এখন পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। আগামী কয়েক দিনে কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য স্তরের সিদ্ধান্ত এবং তদন্তের অগ্রগতি রাজ্যের রাজনৈতিক চিত্র আরও স্পষ্ট করবে।

  • ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২২৮ ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত

    ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২২৮ ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত

    ইরানের সঙ্গে চলমান ৪০ দিনের সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত অন্তত ২২৮টি ঘাঁটি বা স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে বলে স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে বুধবার প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল বিমানসংরক্ষণ কভার, ব্যারাক, জ্বালানি মজুদ কেন্দ্র, বিমানসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ রাডার, যোগাযোগ ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সরকারি স্বীকারোক্তির চেয়েও অনেক বেশি বলে সাংবাদিকদের কাছে বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন।

    এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন বলেছিলো যে অঞ্চলের কমপক্ষে ১৬টি মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু ওয়াশিংটন পোস্টের স্যাটেলাইটভিত্তিক বিশ্লেষকরা অন্যান্য অনেক স্থাপনারও ক্ষয়ক্ষতি শনাক্ত করেছেন, ফলে মোট সংখ্যা অনেক বেড়েছে।

    পেন্টাগন সূত্রে জানা গেছে, হামলার হুমকি কিছু ঘাঁটিকে এমনভাবে ঝুঁকিপূর্ণ করেছে যে সেখানে স্বাভাবিকভাবে সেনা মোতায়েন কড়াকড়ি করা হয়েছে। কমান্ডাররা যুদ্ধ শুরুর প্রথম থেকেই তাদের বাহিনীর বড় অংশকে ইরানের লক্ষ্যভূমি থেকে সরিয়ে এনেছেন যাতে আরও বড় আঘাত এড়ানো যায়।

    তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সামরিক মুখপাত্র ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেছেন যে বিশেষজ্ঞদের বর্ণনা থেকে সরাসরি ‘বিস্তৃত ভঙ্‌গ’ বা সম্পূর্ণ ব্যর্থতার ছবি আঁকাটা ঠিক নয়। ক্ষতির নিরূপণ জটিল এবং কিছু ক্ষেত্রে স্যাটেলাইট চিত্র থেকে তৈরি ধারণা বিভ্রান্তিকর হতে পারে। তিনি যোগ করেছেন, যুদ্ধ শেষ হলে কমান্ডাররা পূর্ণাঙ্গ ও নিশ্চিত তথ্য দেবেন।

    গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেট কংগ্রেসে জানিয়েছিলেন যে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে খরচ দাঁড়াবে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার (২৫০০ কোটি ডলার)। তিনি আরও বলেছেন যে ব্যবহৃত গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম পুনরায় সংগ্রহ করতে মাস কিংবা বছর লাগতে পারে।

    একই সঙ্গে পেন্টাগন ২০২৭ অর্থবছরের জন্য কংগ্রেসের কাছে প্রায় ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি বাজেট চেয়েছে, যা আগের তুলনায় প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বেশি।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালায় এবং উত্তরে পাল্টা আঘাত করলে সংঘাত দ্রুত পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ে। তেহরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ করে যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে রাখে, বদলে ওয়াশিংটন ইরানের উপকূলীয় বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করে দেশটির অর্থনীতিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। এই কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা অঞ্চলজুড়ে স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকিতে ফেলেছে।

    ওয়াশিংটন পোস্টের রিপোর্টটি সার্বিকভাবে ইঙ্গিত করে যে সংঘাতের মানবিক ও কৌশলগত প্রভাব অনেক বিস্তৃত এবং শুধুমাত্র ঘাঁটিগুলোর ক্ষয়ক্ষতি হিসেব দিয়ে পুরো চিত্র বোঝা যাবে না। পরিস্থিতি সম্পর্কে চূড়ান্ত ও পরিমাপযোগ্য তথ্য যুদ্ধবিরতি বা যুদ্ধাবস্থার শেষে সামরিক ও সরকারি কর্তৃপক্ষই দিতে পারবে।

  • বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও রূপসার পিঠাভোগ: ঠাকুর বংশের ঐতিহ্য

    বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও রূপসার পিঠাভোগ: ঠাকুর বংশের ঐতিহ্য

    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কেবল বাংলা সাহিত্যের প্রতিস্ঠিত কবি ছিলেন না—তিনি বাঙালি জাতির সাংস্কৃতিক ও মানসিক পরিচয়ের এক অনিবার্য প্রতীক। তাঁর পরিবারগত শিকড় খুঁজলে রূপসার পিঠাভোগ গ্রামের সাথে জোড়া ইতিহাসটি চলে আসে। রূপসা উপজেলার ঘাটভোগ ইউনিয়নের পিঠাভোগ পল্লী ঠাকুর বংশের পৈতৃক স্মৃতিবাহী স্থান হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    পিঠাভোগ-ঘাটভোগ ভৈরব নদীর তীরভূমিতে গড়ে ওঠা প্রাচীন জনপদ। ভৈরব অববাহিকার স্রোতের ধারায় বহু প্রাচীন বসতি গড়ে উঠেছিল; ইতিহাসে জানা যায়, হযরত খানজাহান আলীর আগমনেরও আগে এখানেই জনপদ গড়ে উঠেছিল। পিঠাভোগের প্রাচীন গোত্রীয় ব্রাহ্মণ পরিবারগুলোর মধ্যে কুশারী গোত্র বিশেষভাবে পরিচিত।

    কুশারী বংশের উত্‍পত্তি কন্যাকুঞ্জ (কান্যকুব্জ) থেকে আগত শাণ্ডিল্য গোত্রীয় ব্রাহ্মণদের সঙ্গে যুক্ত। বংশগাথায় বলা হয়, খিতীশ নামক এক শাণ্ডিল্য বংশীয় পুরুষের বংশধর বঙ্গদেশে সারি জুড়ে বসতি গড়েন এবং বর্ধমানের ‘কুশ’ গ্রাম থেকে কুশারী গোত্রের উৎপত্তি ঘটে। মধ্যযুগে কুশারী বংশের বিভিন্ন শাখা ঢাকা, বাকুড়া ও খুলনার দিকে ছড়িয়ে পড়ে। খুলনার পিঠাভোগে উত্তর পার্শ্বে রামগোপাল কুশারী বসতি স্থাপন করেন; তাঁর পুত্র জগন্নাথ কুশারীই পরবর্তীকালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতৃকূলের মূল পুরুষ বলে পরিচিত।

    পিরালী জাতের সংক্ষিপ্ত কাহিনি ঐ অঞ্চলের সামাজিক ইতিহাসের একটি অদ্ভুত অধ্যায়। খুলনা জেলার দক্ষিণ ডিহি গ্রামের রায়-চৌধুরী পরিবার থেকে সৃষ্ট পিরালী ব্রাহ্মণের উত্পত্তি সম্পর্কিত কথারা এলাকায় প্রচলিত। ঐ সময়ের প্রশাসনিক পরিবেশ, স্থানীয় সম্পর্ক ও ধর্মান্তরের ঘটনাবলি মিশে গিয়ে পিরালী শাখার আবির্ভাব ঘটে। ইতিহাসে উল্লেখিত এক বিবরণের সূত্রে জানা যায়, প্রশাসনিক পরিস্থিতি ও ব্যক্তিগত সংঘর্ষের ফলে কিছু পরিবার ইসলাম গ্রহন করলে অন্য কিছুকে পিরালী নামে ডাকা হয়; এই বংশেই পরবর্তীতে পিঠাভোগের জগন্নাথ কুশারীর সঙ্গে বিবাহসূত্র ঘটে।

    কুশারী থেকে ‘ঠাকুর’ উপাধি উদ্ভবের কথাও লোকজ এসেছে। পঞ্চানন কুশারী নামে এক ব্যক্তি ভাগীরথীর তীরবর্তী গোবিন্দপুরে (কলকাতা-অঞ্চলের কাছে) বসতি স্থাপন করেন। তিনি নৌ-সংক্রান্ত ব্যবসা ও খাদ্যসামগ্রী সরবরাহের কাজ করায় স্থানীয় নাবিক ও শ্রমিকরা তাঁকে আনৈতিক সম্মানসূচকভাবে ‘ঠাকুর’ বলে ডাকা শুরু করেন; সময়ের ধারায় সেই ডাকটি উপাধি হয়ে যায়। পঞ্চাননের সেই বংশধর নীলমণি ঠাকুর জোড়াসাঁকোতে বসতি স্থাপন করেন। ঐ বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারে ১৮৬১ সালে জন্ম নেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

    রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিকর্ম বিস্তৃতি ও বৈচিত্র্য অনন্য—কবিতা, গান, উপন্যাস, ছোটগল্প, প্রবন্ধ ও নাটকসহ বহু শৈলীর মধ্যে তিনি কাজ করেছেন। তাঁর রচনাবলি ব্যাপক: প্রায় ৫২টি কব্যগ্রন্থ, আনুমানিক ২০০০ গান, কুড়ি-প্লাস উপন্যাস ও অচিন্ত্যনীয় সংখ্যক ছোটগল্প ও প্রবন্ধ—এক কথায় সমগ্র জীবন জুড়ে সাহিত্যচর্চা ছিল তাঁর মূল আকর্ষণ। তাঁর সমগ্র রচনা ‘রবীন্দ্র রচনাবলী’ হিসেবে ৩২ খন্ডে সংকলিত হয়েছে; চিঠিপত্র পৃথকভাবে ১৯ খন্ডে প্রকাশিত আছে। রবীন্দ্রনাথ রবীন্দ্রনৃত্যের প্রবর্তক; আর শিল্পচর্চায় তিনি সত্তর পেরিয়ে চিত্রাঙ্কনে মন দেন—প্রায় ২৫০০-এরও বেশি স্কেচ ও ছবি আঁকা রেকর্ড করা আছে, যার একটি বড় অংশ শান্তিনিকেতনেই সংরক্ষিত। ১৯২৬ সালে তাঁর চিত্র প্রদর্শনী প্যারিসে অনুষ্ঠিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক দিক থেকেও তা প্রশংসিত হয়।

    কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্য ও সাহিত্যকর্ম — ‘কবি কাহিনী’, ‘বনফুল’, ‘মানসী’, ‘সোনার তরী’, ‘চিত্রা’, ‘গীতাঞ্জলি’— এবং উপন্যাসের মধ্যে ‘গোরা’, ‘ঘরে বাইরে’, ‘চতুরঙ্গ’, ‘নৌকাডুবি’ ইত্যাদি জাতীয় ও আঞ্চলিক পাঠকপ্রিয়। নাটক, প্রবন্ধ ও অনুবাদ-রচনাতে তাঁর অবদান সমসাময়িক বিষয় ও সাংস্কৃতিক প্রশ্নে গভীর প্রভাব ফেলে।

    শেষ কথা—পিঠাভোগ কেবল একটি গ্রাম নয়; এটি রবীন্দ্রনাথের পূর্বপুরুষদের স্মৃতি ও কুশারী-ঠাকুর বংশের ইতিহাস সংরক্ষিত একটি ঐতিহ্যভূমি। যদিও বংশের কিছু শাখা বাড়তি সম্পদ ও সামাজিক অবস্থান লাভ করলেও সময়ের সাথে বিচার-বিবাদ ও বিভাজন তাদের জীবিকা ও সম্পত্তি প্রভাবিত করেছে। তবু পিঠাভোগের কুশারী বাড়ি বাঙালি ইতিহাসে একটি স্মরণীয় স্থান হিসাবে থেকে যায়—রবীন্দ্রনাথকে ব্যক্তিগত ও ঐতিহাসিক প্রসঙ্গে বোঝার এক গুরুত্বপূর্ণ সূত্র।

    সূত্র: যশোর–খুলনার ইতিহাস

  • চিতলমারীতে জুস নিয়ে তর্ক: জামায়াত নেতা মোজাহিদকে কুপিয়ে হত্যা

    চিতলমারীতে জুস নিয়ে তর্ক: জামায়াত নেতা মোজাহিদকে কুপিয়ে হত্যা

    বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় জুস কেনাকে কেন্দ্র করে সড়াসড়ি কাটা কথাকাটির পর মোঃ মোজাহিদ মোল্লা (৪২) নামে এক মুদি দোকানীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার হিজলা ইউনিয়নের হিজলা পশ্চিমপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

    নিহত মোজাহিদ মোল্লা ওই গ্রামের সরোয়ার মোল্লার ছেলে এবং বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামের হিজলা ইউনিয়ন শাখার ৩নং ওয়ার্ডের সভাপতি ছিলেন। তার মৃত্যুর খবর পেয়ে স্থানীয় ও দৃষ্টান্তশীল রাজনৈতিক নেতারা শোক জানিয়েছেন; এগুচ্ছে বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মশিউর রহমান ও উপজেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দের সমবেদনার কথা।

    পুলিশ, হাসপাতালে অনলাইন খবর ও এলাকাবাসী জানান, বৃহস্পতিবার সকালে মোজাহিদ দোকানের সামনে বসে ছিলেন। তখন বায়জিদ শেখ (৪০) নামে এক ব্যক্তি তার কাছ থেকে একটি জুস কিনে এক কস ঢালি নিয়ে বলেন জুসটি ভালো লাগছে না। দোকানদার মোজাহিদ জুসটি চেখে জানায় এটা খারাপ না—এমনই কথাকাটাকাটির সূত্র ধরে উভয়ের মধ্যে বাকবিতন্ডা শুরু হয়।

    এক পর্যায়ে বায়জিদ হাতে থাকা হাসুয়া (ঘাস কাটার ধরনের কাস্তে) দিয়ে মোজাহিদের গলার কাছে কোপ দেন। কোপ লেগে মোজাহিদ গুরুতর আহত হন। উত্তেজিত জনতা পরে বায়জিদের বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে তাকে পিটিয়ে আহত করে। স্থানীয়রা আহত মোজাহিদকে দ্রুত চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে আহত বায়জিদকে পুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে।

    ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন চিতলমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নজরুল ইসলাম। তিনি জানান, ঘটনার পর পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার প্রতিযোগিতা বিধিতে বায়জিদ শেখকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মামলা দায়ের ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    অপরদিকে, বায়জিদ খাপাড়া গ্রামের বাদশা শেখের ছেলে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। সংঘটিত ঘটনায় এলাকায় শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করায় পুলিশ অতিরিক্ত সতর্ক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

    নিহত মোজাহিদ মোল্লার একজন স্ত্রী এবং তিনটি কন্যাসহ—হাফিজ, ফারিয়া ও ফারহানা—নামে তিনটি শিশু সন্তান রয়েছে। স্থানীয় সমাজ ও রাজনৈতিক নেতারা পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে এবং দ্রুত ন্যায়বিচার দাবি করেছে। কর্তৃপক্ষ ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধান করছে এবং তদন্ত চলমান আছে।

  • জেলা পর্যায়ের প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট সমাপ্ত

    জেলা পর্যায়ের প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট সমাপ্ত

    জেলা পর্যায়ের প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক ও বালিকা)-২০২৬-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় খালিশপুর পোর্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের আয়োজনে ওই অনুষ্ঠান হয়।

    উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ অহিদুল আলম সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চ্যাম্পিয়ন ও রানার-আপ দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) কানিজ ফাতেমা লিজা।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক পরিচালক খান জুলফিকার আলী জুলু এবং খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক এস এম আসাদুজ্জামান মুরাদ। শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় সমর্থকদের উপস্থিতিতে প্রতিযোগিতার বিজয়ী শিক্ষার্থীরা সনদপত্র ও পুরস্কার গ্রহণ করে।

    টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা মাঠে হার-জয় উভয় থেকেই মূল্যবান অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। জেলা পর্যায়ের এই প্রতিযোগিতা প্রাথমিক স্তরের খেলাধুলা ও প্রতিভা উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং ভবিষ্যতে অধিকতর ক্রীড়া সম্ভাবনার পথ প্রশস্ত করবে—এমনটাই জানান আয়োজকরা।