Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • কুমিল্লায় আদালতের এজিপি ও এক যুবক অস্ত্রসহ আটক

    কুমিল্লায় আদালতের এজিপি ও এক যুবক অস্ত্রসহ আটক

    কুমিল্লায় পুলিশ কুমিল্লা আদালতের এক সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এজিপি) ও এক যুবককে অস্ত্র, ম্যাগাজিন ও গুলিসহ আটক করেছে। অভিযানে উদ্ধার হয়েছে ১টি বিদেশি পিস্তল, ২টি ম্যাগাজিন এবং মোট ১০টি গুলি।

    আজ বৃহস্পতিবার সকালে নগরের টমছমব্রিজ এলাকা থেকে প্রথমে আরিফুল ইসলাম (৩৬) নামে এক যুবককে আটক করা হয়। আটককালে তাঁর কাছ হতে পাঁচটি গুলি এবং একটি ছুরি পাওয়া যায়। পরে আরিফুলের মোবাইল তল্লাশি করে অস্ত্রের ছবি শনাক্ত করা হলে তিনি তদন্তে জানান যে ছবিটি কুমিল্লা আদালতের এজিপি আই এম মাসুদুল হক ওরফে মাসুমের বাসায় রয়েছে।

    আরিফুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের দ্রুত অভিযান চালিয়ে মাসুদুল হক (৫১)-এর বাড়ি তল্লাশি করা হয়। ওয়ার্ডরোব থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন এবং আরও পাঁচটি গুলি উদ্ধার করা হয়। উভয় ব্যক্তিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এভাবে মোট ১০টি গুলিই উদ্ধার হয়েছে—৫টি আরিফুলের কাছ থেকে এবং ৫টি মাসুদুলের বাড়ি থেকে।

    মাসুদুল হককে জামায়াতপন্থী আইনজীবী হিসেবে পরিচিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামের নায়েবে আমির এ কে এম এমদাদুল হকের ছোট ভাই। আরিফুল ইসলাম কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার ধর্মপুর এলাকার বাসিন্দা।

    কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ইপিজেড পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, টমছমব্রিজ এলাকা থেকে সকাল ছয়টার পর আরিফুলকে আটক করা হয় এবং পরে মাসুদুলের বাড়ি থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়। তিনি বলেন, তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।

    অভিযোগ ও ঘটনার বিষয়ে জানাতে কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামের নায়েবে আমির এ কে এম এমদাদুল হকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোনে সাড়া দেননি।

    কুমিল্লা আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) কাইমুল হক জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থেকে বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবহিত হয়েছেন। থানার মামলার নথিপত্র পেলেই সরকারি কৌন্সিলরের সঙ্গে পরামর্শ করে এই বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে লিখবেন; এরপর মন্ত্রণালয় এজিপি হিসেবে মাসুদুলের দায়িত্বসংক্রান্ত পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।

    সূত্র: প্রথম আলো

  • হাদি হত্যা: ফয়সালের ‘ঘনিষ্ঠ সহযোগী’ রুবেলকে ৬ দিনের রিমান্ড

    হাদি হত্যা: ফয়সালের ‘ঘনিষ্ঠ সহযোগী’ রুবেলকে ৬ দিনের রিমান্ড

    ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় পুলিশের দাবির প্রেক্ষিতে ঢাকা আদালত ফয়সাল রুবেল আহমেদ (৩৩) কে ছয় দিনের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

    তদন্ত কর্মকর্তার আবেদন মোকাবেলায় বৃহস্পতিবার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম রিমান্ডের আদেশ দেন। প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই মো. রুকনুজ্জামান এই তথ্য জানিয়েছেন।

    সিআইডি জানিয়েছে, বুধবার রাতে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জের আটি নয়াবাজার এলাকা থেকে ডিবি পুলিশের সহায়তায় রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের বক্তব্যে রেজিস্টার অনুযায়ী তিনি প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের ‘ঘনিষ্ঠ সহযোগী’ বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।

    গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রোর (পূর্ব) সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঞা তার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর জামাল উদ্দিন মার্জিন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। রুবেলের পক্ষে আদালতে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।

    আদালতে রুবেল বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আমি কোনোভাবেই জড়িত নই, আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ। তিনি দাবি করেন, তথ্য যাচাই-বাছাই করলে সেও নির্দোষ প্রমাণিত হবে এবং সামাজিক মাধ্যমে নিজেই হাদির হত্যার বিচার দাবি করেছিলেন।

    রুবেল আরো বলেন, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী তার বন্ধু। করোনার সময় টিম পজিটিভ বাংলাদেশে যোগ দিয়েছিলেন এবং মানবিক কাজ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, তিনি কোনও রাজনৈতিক দলের সক্রিয় সদস্য নন, বর্তমানে একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন এবং মোটেই দোষী নন। হত্যাকাণ্ডের তিন মাস আগে লাইসেন্স বিক্রির বিষয়ে ফয়সালের সঙ্গে মাত্র তিন মিনিটের কথোপকথন হয়েছে, বলে দাবি করেছেন তিনি।

    তদন্ত কর্মকর্তার রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে লক্ষ্য করে নির্বাচনী পরিপ্রেক্ষিতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা এবং প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীদের মনোবল দুর্বল করা লক্ষ্যে রুবেল ও তার সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে শরীফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে বলে তথ্য রয়েছে। একই সময়ে পুলিশের অভিযোগে ঘটনার পর রুবেল আত্মগোপনে চলে যান এবং তিনি ফয়সাল করিম মাসুদের কাছে ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। তদন্তে রুবেলের নাম-ঠিকানা যাচাই-বাছাই চলছে, মামলার মূল রহস্য উদঘাটন ও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে গুরুত্বসহকারে জিজ্ঞাসাবাদ করতে রিমান্ড প্রয়োজন, এমনটাই আদালতে বলা হয়েছিল।

    আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত রুবেলকে ৬ দিনের হেফাজত দেয়।

    ঘটনার পটভূমি: ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে দুর্বৃত্তরা শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুরুতর অবস্থায় ঢামেকে নেওয়া হলে অপারেশনের পর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেয়ার কথা বলা হয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানেই ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।

    হাদির গুলিবিদ্ধ হবার পর ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের এ বিষয়ে মামলা করেন। পরে হাদির মৃত্যুতে মামলাটি হত্যা হিসেবে রূপান্তরিত হয়।

    মামলাটি প্রথমে ডিবি তদন্ত করে। ডিবি ৬ জানুয়ারি প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ (রাহুল/দাউদ)সহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে। চার্জশিটভুক্ত ১৭ আসামির মধ্যে বর্তমানে ১১ জন কারাগারে রয়েছে, আর প্রধান ফয়সালসহ ৬ জন পলাতক বলে পুলিশ জানিয়েছে।

    ডিবির দেওয়া চার্জশিটকে না মেনে মামলার বাদী ১৫ জানুয়ারি নারাজি আবেদন করেন। ওইদিন শুনানি শেষে আদালত নারাজি আবেদন মেনে সিআইডিকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। আগামী ২৫ জানুয়ারি অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য রয়েছে।

  • বিএনপি বহিষ্কার করল ৫৯ বিদ্রোহী প্রার্থী

    বিএনপি বহিষ্কার করল ৫৯ বিদ্রোহী প্রার্থী

    দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অভিযোগে ৫৯ জন বিদ্রোহী প্রার্থীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বিএনপি। বুধবার সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগের দফায় ৩০ ডিসেম্বর বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় ১১ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। নতুন এই আদেশে বহিষ্কৃত নেতাদের দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।

    বহিষ্কৃতদের নাম বিভাগ ও আসনভিত্তিকভাবে নিচে দেওয়া হলো:

    রংপুর বিভাগ:

    দিনাজপুর-২: আ ন ম বজলুর রশিদ, দিনাজপুর-৫: এ জেড এম রেজয়ানুল হক, নীলফামারী-৪: রিয়াদ আরাফান সরকার রানা।

    রাজশাহী বিভাগ:

    নওগাঁ-৩: পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি, নাটোর-১: তাইফুল ইসলাম টিপু ও ডা. ইয়াসির আরশাদ রাজন, নাটোর-৩: দাউদার মাহমুদ, রাজশাহী-৫: ইসফা খাইরুল হক শিমুল ও ব্যারিস্টার রেজাউল করিম, পাবনা-৩: কে এম আনোয়ারুল ইসলাম, পাবনা-৪: জাকারিয়া পিন্টু।

    খুলনা বিভাগ:

    কুষ্টিয়া-১: নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা, নড়াইল-২: মনিরুল ইসলাম, যশোর-৫: অ্যাডভোকেট শহিদ ইকবাল, সাতক্ষীরা-৩: ডা. শহীদুল আলম, বাগেরহাট-১: ইঞ্জিনিয়ার মাসুদ, বাগেরহাট-৪: খায়রুজ্জামান শিপন।

    বরিশাল বিভাগ:

    বরিশাল-১: আব্দুস সোবহান, পিরোজপুর-২: মোহাম্মদ মাহমুদ হোসেন।

    ঢাকা বিভাগ:

    নারায়ণগঞ্জ-১: সাবেক সাংসদ ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি নেতা মোহাম্মাদ দুলাল হোসেন, নারায়ণগঞ্জ-২: মো. আতাউর রহমান খান আঙুর, নারায়ণগঞ্জ-৩: অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম; টাঙ্গাইল-১: মোহাম্মাদ আলী, টাঙ্গাইল-৩: লুৎফর রহমান খান আজাদ, টাঙ্গাইল-৫: ফরহাদ ইকবাল।

    নরসিংদী-৫: মো. জামাল আহমেদ চৌধুরী, মুন্সিগঞ্জ-১: মো. মুমিন আলী, মুন্সিগঞ্জ-৩: মো. মহিউদ্দিন।

    ময়মনসিংহ বিভাগ:

    কিশোরগঞ্জ-১: রেজাউল করিম চুন্নু, কিশোরগঞ্জ-৫: শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল; ময়মনসিংহ-১: সালমান ওমর রুবেল, ময়মনসিংহ-১০: এবি সিদ্দিকুর রহমান, ময়মনসিংহ-১১: মো. মোর্শেদ আলম; নেত্রকোণা-৩: মো. দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া, শেরপুর-৩: মো. আমিনুল ইসলাম বাদশাহ।

    মাদারিপুর-১: লাভলু সিদ্দিকী, মাদারিপুর-১: কামাল জামাল নুরুউদ্দিন মোল্লা, মাদারিপুর-২: মিল্টন বৈদ্য; রাজবাড়ী-২: নাসিরুল হক সাবু, গোপালগঞ্জ-২: এম এস খান মঞ্জু ও সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, গোপালগঞ্জ-৩: হাবিবুর রহমান হাবিব।

    সিলেট বিভাগ:

    সুনামগঞ্জ-৩: আনোয়ার হোসেন, সুনামগঞ্জ-৪: দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন, সিলেট-৫: মামুনুর রশীদ (চাকসু), মৌলভীবাজার-৪: মহসিন মিয়া মধু, হবিগঞ্জ-১: শেখ সুজাত মিয়া।

    কুমিল্লা বিভাগ:

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১: কামরুজ্জামান মামুন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫: কাজী নাজমুল হোসেন তাপস, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬: কৃষিবিদ সাইদুজ্জামান কামাল; কুমিল্লা-২: আব্দুল মতিন, কুমিল্লা-৭: আতিকুল আলম শাওন, চাঁদপুর-৪: এম এ হান্নান।

    চট্টগ্রাম বিভাগ:

    চট্টগ্রাম-১৪: মিজানুল হক চৌধুরী, শফিকুল ইসলাম রাহী, চট্টগ্রাম-১৬: লিয়াকত আলী (চেয়ারম্যান); নোয়াখালী-২: কাজী মফিজুর রহমান, নোয়াখালী-৬: ফজলুল আজীম ও তানবীর উদ্দীন রাজীব।

    বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দলের শৃঙ্খলা রক্ষাসহ আগামির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সকল পর্যায়ে সম্মিলিত ও নিয়মিত সিদ্ধান্ত প্রয়োগই বিএনপির নীতি। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থিতা কার্যকর করার মতো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কড়াকড়ি অব্যাহত থাকবে।

  • নতুন পোশাকে ফ্যাসিবাদ ফিরে এলে ৫ আগস্টের পুনরাবৃত্তি হবে: জামায়াত আমির

    নতুন পোশাকে ফ্যাসিবাদ ফিরে এলে ৫ আগস্টের পুনরাবৃত্তি হবে: জামায়াত আমির

    জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের ছায়াও তিনি আর দেখতে চান না। নতুন কোনো নাম বা নতুন কোনো সাজে ফ্যাসিবাদ ফিরে এলে ৫ আগস্টের সেই ভয়াবহ পরিণতি আবারও ঘটবে—তাই সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে এবং ফ্যাসিবাদের যে কোনো চিহ্ন দ্রুত নির্মূল করার চেষ্টা করতে হবে।

    বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর আদর্শ স্কুল মাঠে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, জমায়েতভুক্ত যারা এখানে বসে আছেন, তাদের মধ্যে কমপক্ষে ৪০ শতাংশ মানুষ গত তিনটি নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি, এমনকি অনেকেই জীবনে একবারও ভোট দেননি। যারা এই ভোট কেড়ে নিয়েছিল, তাদের তিনি ‘ভোট ডাকাত’ বলে অভিহিত করেন। ‘‘আপনি কি নতুন কোনো ভোট ডাকাত দেখতে চান? আমরা চাই না,’’ তিনি বলেন।

    তিনি বলেন, এই ৪০ শতাংশই হলো বিপ্লবের মূল শক্তি। তাদের হাত ধরেই আন্দোলন শুরু হয়েছে এবং তাদের কারণেই আজ জনসমাবেশে আমরা কথা বলছি। ‘‘আপনাদেরকে স্যালিউট,’’ বলেন আমির। কিন্তু তিনি যোগ করেন, সংগ্রাম এখানেই শেষ হবে না—দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত তারা ফিরে যাবে না।

    শফিকুর রহমান বলেন, যারা নিজেদের দলের লোকদের চাঁদাবাজি, দখল-বাণিজ্য, মামলাবাজি, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, মানুষ হত্যা, গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যা—এসব থেকে বিরত রাখতে পারে, তারা ভবিষ্যতের জন্য যোগ্য নেতৃত্ব দিতে পারবে। আর যারা এসব থেকে নিজেকে দূরে রাখতে পারে না, তারা যত রঙিন স্বপ্নই দেখুক, জাতি তাদের চক্রান্ত বুঝে ফেলবে এবং তাদের প্রতি কোনো সহানুভূতি দেখাবে না।

    তিনি সরাসরি কারো বিরুদ্ধে আক্রমণ না করলেও স্মরণ করিয়ে দেন, যাদের দ্বারা ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছিল এবং যারা তাদের মূল দোসর ছিল, তারা এখনতখন দৃশ্যমান নয়। ফ্যাসিবাদের পৃষ্ঠপোষকদের প্রতি তিনি অনুরোধ জানান—‘‘আমরা যে কষ্ট ভোগ করেছি, তা যেন আর কেউ জনগণের ওপর না ফেলে। মেহেরবানী করে এই কষ্ট আর কেউ যেন না দেয়।’’

    তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এখনও কিছু জায়গায় ফ্যাসিবাদের ছায়া কাজ করছে। যদি তা বন্ধ করা না যায়, আগামী ১২ তারিখ জনগণ দুই রকমের ‘না’ ভোট এবং অনেকগুলো ‘না’ ভোট দেবে, ইনশাআল্লাহ। জনগণের মুখে এখন পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা এবং রাজনীতির কাঠামো বদলের ইচ্ছা স্পষ্ট হওয়ায় তিনি আশাবাদী যে গণভোটে মানুষ বদলের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ বলবে।

    ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষায় শিশু-তরুণ-যুবক-বৃদ্ধ এবং নারী—সবাই রাস্তায় নেমেছে। নির্বাচনী মাঠে ১০ দলীয় ঐক্যের প্রার্থীরাও মাঠে রয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ১০ দলকে বিজয়ী করা মানে আধিপত্যবাদের, চাঁদাবাজদের, দখলদারদের, ফ্যাসিবাদের, ব্যাংক ডাকাতদের এবং নারীর ইজ্জত লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে বড় একটি প্রতিবাদ ও আন্দোলন গড়ে ওঠা।

  • ঐতিহাসিক রেকর্ড: এক ভরি সোনার দাম ছুঁলো ২ লাখ ৪৪ হাজার

    ঐতিহাসিক রেকর্ড: এক ভরি সোনার দাম ছুঁলো ২ লাখ ৪৪ হাজার

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। সমিতি বলছে, প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ২৪৯ টাকা বাড়ানোর ফলে ভালো মানের সোনার দাম দুই লাখ ৪৪ হাজার টাকার Zucker-এর ওপরে উঠে গেছে — যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

    বাজুস মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায় এবং নতুন দাম আগামী ২১ জানুয়ারি বুধবার থেকে কার্যকর হবে বলেছে।

    সংগঠনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বৈশ্বিক বাজারে তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দাম বাড়ায় স্থানীয় বাজারেও মূল্য বাড়তে বাধ্য হয়েছে। বিশ্বস্ত সূত্র হিসেবে গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি থেকে জানা গেছে, বৈশ্বিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৭৪৫ ডলারের ওপরে উঠেছে।

    নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী সবচেয়ে ভালো মানের মোট ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২,৪৪,১২৮ টাকা। অন্য শ্রেণির দামগুলো হল: ২১ ক্যারেট — ২,৩২,৯৮৮ টাকা, ১৮ ক্যারেট — ১,৯৯,৭৪৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা — ১,৬৩,৮২১ টাকা।

    সোনার সঙ্গে রূপার দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। জানানো হয়েছে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৬,৫৯০ টাকা; ২১ ক্যারেট — ৫,২৯৯ টাকা; ১৮ ক্যারেট — ৫,৪২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৪,০৮২ টাকা।

    ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সুবিধার্থে বাজুসের এই নতুন সিদ্ধান্ত সম্পর্কে সতর্ক থাকা দরকার, কারণ দাম কার্যকর হওয়ার পর বাজারে তাৎক্ষণিক পরিবর্তন হতে পারে।

  • সোনার ভরি দাম ছুঁল রেকর্ড — ২ লাখ ৫২ হাজার ৪৬৭ টাকা

    সোনার ভরি দাম ছুঁল রেকর্ড — ২ লাখ ৫২ হাজার ৪৬৭ টাকা

    একদিনের ব্যবধানে ফের দেশের বাজারে সোনার দাম বেড়ে রেকর্ড গড়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) বুধবার (২১ জানুয়ারি) জানায়, প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৮ হাজার ৩৪০ টাকা বাড়ানোর ফলে ভালো মানের সোনার দাম দুই লাখ ৫২ হাজার ৪৬৭ টাকা ছাড়িয়েছে — যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

    বাজুসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন এই দাম আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। সমিতি বলেছে বৈশ্বিক বাজারে পিওর গোল্ড (তেজাবি সোনা) দামের ওঠানামার প্রভাবেই স্থানীয় বাজারে মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে।

    আন্তর্জাতিক বাজারের তথ্যদাতা গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি জানিয়েছে, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্সে ৪,৮০০ ডলারের কাছাকাছি উঠেছে, যেটিও স্থানীয় দর বাড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে কাজ করেছে।

    নতুন প্রতি ভরি দর অনুযায়ী দামগুলো হলো:

    – ২২ ক্যারেট: ২,৫২,৪৬৭ টাকা

    – ২১ ক্যারেট: ২,৪০,৯৭৮ টাকা

    – ১৮ ক্যারেট: ২,০৬,৫৬৯ টাকা

    – সনাতন পদ্ধতি: ১,৬৯,৬৫৩ টাকা

    সোনার সঙ্গে সঙ্গে রুপার দামও বাড়েছে। প্রতি ভরির রুপার মূল্য ধার্য করা হয়েছে:

    – ২২ ক্যারেট: ৬,৮৮২ টাকা

    – ২১ ক্যারেট: ৬,৫৩২ টাকা

    – ১৮ ক্যারেট: ৫,৫৯৯ টাকা

    – সনাতন পদ্ধতি: ৪,২০০ টাকা

    বিশ্ববাজারের ওঠানামা এবং স্থানীয় চাহিদা-সরবরাহকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে দাম আবার পরিবর্তিত হতে পারে, বলে বাজার বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।

  • কাশ্মীরে ২০০ ফুট খাদে সাঁজোয়া যান পড়ে, ১০ ভারতীয় সেনা নিহত

    কাশ্মীরে ২০০ ফুট খাদে সাঁজোয়া যান পড়ে, ১০ ভারতীয় সেনা নিহত

    জম্মু ও কাশ্মীরের ডোডা জেলায় বৃহস্পতিবার দুপুরে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১০ ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি ভাদেরওয়াহ-চাম্বা আন্তরাজ্য সড়কের খানি টপ নামে ৯ হাজার ফুট উচ্চতার এলাকায় ঘটে।

    সেনাবাহিনীর বরাত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৭ থেকে ২১ জন জওয়ানকে বহনকারী একটি বুলেটপ্রুফ সাঁজোয়া যান খানি টপ থেকে সামান্য নিচের দিকে চলছিল। তখনই চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি প্রায় ২০০ ফুট গভীর খাদে পড়ে যায়। প্রতিকূল আবহাওয়া ও পিচ্ছিল পাহাড়ি রাস্তা দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    পুলিশ, সেনাবাহিনী ও স্থানীয়বাসী দ্রুত উদ্ধার-কর্মসূচি শুরু করলে ঘটনাস্থলেই চারজন জওয়ানের মরদেহ পাওয়া যায়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে ও চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়, বলে উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন।

    বার্তা সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় আহত ১০ জন জওয়ানের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হোয়াইট নাইট কোরের নির্দেশনায় আহতদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে উধমপুর কমান্ড হাসপাতালে এয়ারলিফট করা হয়েছে। ডোডার অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার সুমিত কুমার ভূটিয়াল জানিয়েছেন, আহতদের জীবন রক্ষার জন্য সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন এখনও উদ্ধার ও তদন্ত কাজ চালাচ্ছে। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানতেARN তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

    ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন জম্মু ও কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা। এক বার্তায় তিনি নিহত জওয়ানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পরিবারসমূহের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহও নিহত জওয়ানদের পরিবারদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

    দুর্ঘটনায় নিহত এবং আহত জওয়ানদের পরিবার ও সহকর্মীদের প্রতি প্রশাসন ও সেনাবাহিনী সহানুভূতি জানাচ্ছে এবং ঘটনার পূর্ণ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

  • গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আলোচনা শেষে আট দেশের ওপর শুল্ক হুমকি প্রত্যাহার করেছেন ট্রাম্প

    গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আলোচনা শেষে আট দেশের ওপর শুল্ক হুমকি প্রত্যাহার করেছেন ট্রাম্প

    দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে সম্ভাব্য চুক্তি খতিয়ে দেখার কথা রয়েছে এবং সেই আলোচনার ভিত্তিতে তিনি আট ইউরোপীয় দেশের ওপর শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন।

    ট্রাম্প তাঁর নিজের সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মটিতে বলেন, দাভোসে নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুটের সঙ্গে ‘ভাল ও ফলপ্রসূ’ আলোচনা হয়েছে। ওই বৈঠক থেকে গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত একটি সম্ভাব্য চুক্তির রূপরেখা তৈরি হয়েছে বলে তিনি জানান।

    প্রেসিডেন্ট বলেন, যদি ওই সমাধান চূড়ান্ত হয় তবে তা যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর জন্যই ভালো হবে। সেই ভিত্তিতেই ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হতে যাওয়া ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা তিনি স্থগিত রাখছেন। ট্রাম্প উল্লেখ করেন, গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত ‘দ্য গোল্ডেন ডোম’ নামের বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা হচ্ছে এবং অগ্রগতির তথ্য পরে জানানো হবে।

    ট্রাম্প আরও বলেন, উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা — প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ দূত এবং অন্যান্য সদস্যরা — ওই আলোচনায় যুক্ত থাকবেন এবং তারা সরাসরি তাকে জানাবেন।

    এর আগে ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন যে ডেনমার্ক থেকে গ্রিনল্যান্ড কেনার কোনো চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাজ্যসহ আটটি ইউরোপীয় দেশের কাছ থেকে আমদানি হওয়া ‘কোনোও সব ধরনের’ পণ্যের ওপর তিনি ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবেন; পরে সেই হার ১ জুন থেকে ২৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়া হবে বলেও তিনি হুমকি দিচ্ছিলেন। এই আট দেশের মধ্যে ছিল যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক — সবাইই ন্যাটোর সদস্য দেশ।

    ট্রাম্প আরও বলেছেন, তিনি গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের বিষয়ে ‘তাৎক্ষণিক আলোচনা’ চান, তবে জোরপূর্বক কোনো ভূখণ্ড দখলের ইচ্ছা নেই। তিনি আর্কটিক অঞ্চলের গলমান বরফ এবং সেখানে বর্ধিত প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে তুলে ধরে জানিয়েছেন, খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

    দেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত এই দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির কথাও তিনি উল্লেখ করেন; পিটুফিক ঘাঁটিতে বর্তমানে শতাধিক মার্কিন সামরিক সদস্য স্থায়ীভাবে অবস্থান করে। রাশিয়া ও চীনের সক্রিয় উপস্থিতি বাড়ার প্রেক্ষাপটে পুরো আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারের গুরুত্ব বাড়ছে, এবং সেই প্রেক্ষিতে গ্রিনল্যান্ডের গুরুত্বও বেড়েছে—তিনি এ কথাও বলেন।

    ডেনমার্ক থেকে গ্রিনল্যান্ড কেনার বা বিষয়ে চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ট্রাম্প শুল্ক আরোপের হুমকি তুলে রাখার কথা বলেছিলেন, কিন্তু দাভোসে আলোচনার পর তিনি ওই হুমকি প্রত্যাহার করে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুল্ক আরোপ না করার ঘোষণা দিয়েছেন।

  • নতুন বাংলাদেশ গড়ার যাত্রায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান: নজরুল ইসলাম মঞ্জু

    নতুন বাংলাদেশ গড়ার যাত্রায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান: নজরুল ইসলাম মঞ্জু

    খুলনা-২ আসনের ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু powied বলেছেন, দেশের বর্তমান জনপ্রিয় নেতা আজ সিলেট থেকে নিজ প্রচারণা শুরু করেছেন। তিনি বলেন, সারাদেশে ধানের শীষের নতুন একটি আন্দোলন ও যাত্রা শুরু হচ্ছে এবং খুলনা মহানগর বিএনপি সেই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে। মঞ্জু বলেন, ‘‘১৬ বছরের দুরশাসনমুক্ত একটি নতুন বাংলাদেশ গঠনের আন্দোলন এবং জুলাই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় নতুন প্রতিশ্রুতির যাত্রা শুরু হয়েছে, সেই যাত্রাকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিএনপির নবনির্বাচিত চেয়ারপারসন তারেক রহমান।’’

    বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় খুলনা মহানগর বিএনপির আয়োজনে খুলনা-২ আসনে ধানের শীষের লিফলেট বিতরণ ও প্রচারণার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মঞ্জু।

    তিনি আরও বলেন, পূর্বের স্বৈরাচারী শাসনামলে ভোটাররা যথাযথভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। এবারের আসন্ন নির্বাচনে ভোটাররা শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ পরিবেশে ভোট দিতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এছাড়া তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশের গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও বাকস্বাধীনতা পুনরুদ্ধারে শহীদসহযোদ্ধাদের রক্তের ঋণ শোধ করা অত্যাবশ্যক। আমাদের সহযোদ্ধারা যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তা বৃথা যেতে দেওয়া হবে না।’’

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি এডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা, পরিচালনা করেন মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন। অনুষ্ঠানে খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মনি, জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, সৈয়দা নার্গিস আলী, খান রবিউল ইসলাম রবি, কাজী মো. রাশেদ, রেহানা ঈসা, আরিফুজ্জামান অপু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, কেএম হুমায়ুন কবীর, আসাদুজ্জামান আসাদসহ মহানগর, থানা, ওয়ার্ড ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

    প্রচারণা ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি নগরীর ফেরিঘাট মোড় থেকে শুরু করে পিকচার প্যালেস মোড় অতিক্রম করে দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে সমাপ্ত হয়।

  • তাদের প্রটোকল বিএনপির চেয়ে তিনগুণ বাড়ান: তারেক রহমান

    তাদের প্রটোকল বিএনপির চেয়ে তিনগুণ বাড়ান: তারেক রহমান

    বিএনপির নাম না করে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. ইউনূস ও সরকারের উপদেষ্টাদের প্রতি বিএনপির অনুরোধ—একটি নির্দিষ্ট দলের প্রটোকল বিএনপির প্রটোকলের তিনগুণ করে দেওয়া। তিনি মোলভীবাজারের আইনপুরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী পথসভায় এই কথা বলেন।

    তারেক রহমান বলেন, “আমি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানকে বিনীত অনুরোধ করবো, বিএনপির পক্ষ থেকে এবং লাখো জনগণের পক্ষ থেকে—আপনারা তাদের প্রটোকল যদি দরকার মনে করেন, তিনগুণ করে দিন। তারা মানুষকে বিভ্রান্ত করছে এবং মানুষ এটা বুঝে ফেলেছে। মানুষ তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠছে; আমরা চাই না কেউ ক্ষিপ্ত হয়ে বেআইনি কিছু করে বসুক। এজন্য সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ থাকবে।”

    দেশকে বাঁচাতে আগামী নির্বাচনে জয়ী হতে হবে—বলেই ভোটের আবেদন করেন তিনি। ‘ধানের শীষ’ চিহ্নে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক বলেন, “আগামী মাসের ১২ তারিখে যে নির্বাচন হতে যাচ্ছে, সেখানে আমাদের জয় নিশ্চিত করতে হবে। বহু মানুষ গণতন্ত্রের জন্য নিজের তাজা রক্ত দিয়েছে; অনেকেই গুম ও খুনের মতো সংঘাতের শিকার হয়েছে। সেই বলিদানের মর্যাদা রক্ষায় এবং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য ধানের শীষে সিল দিতে হবে।”

    দেশ পুনর্গঠন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ফিরিয়ে আনতে হবে, মানুষের কথা বলার অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। ধানের শীষই একমাত্র দল যে এই নিশ্চয়তা দিতে পারে। যখন আমরা ক্ষমতায় ছিলাম, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদসহ সব নির্বাচন মোটামুটি সুষ্ঠুভাবে হয়েছে। মানুষ তখন নির্বিঘ্নে সরকারের সমালোচনা করতে পেত এবং গুম-হত্যার ঘটনা ছিল না।”

    তারেক রহমান দেশের উন্নয়ন নিয়ে তার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পত্রিকা ও সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর খবর ছড়ানো হচ্ছে—মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন জায়গায় এনআইডি ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে।

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, “গত ১৫-১৬ বছরে জনগণের ভোট ডাকাতি হয়েছে; এখন একটি দল আবার ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। পত্রিকা ও সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা যাচ্ছে যে তারা ব্যালট পেপার গায়েব করছে এবং ভোটচুরি শুরু করেছে। তাই আমি আপনাদের কাছে বিনীত অনুরোধ করব—সকলকে অত্যন্ত সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে।”

    বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় কিছু দল দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল এবং তাদের ভূমিকার কারণে বহু মানুষ শহীদ ও আহত হয়েছেন। জামায়াতের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ইতিহাস মুছে ফেলা যাবে না; তখনকার ঘটনাগুলো আজও জনমানসে রয়ে গেছে।

    সভায় উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বার্তা দেন—সচেতন থাকুন, প্রতারক চক্রকে শনাক্ত করুন এবং আগামী নির্বাচনে গণতন্ত্র ও দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনে সক্রিয় ভূমিকা রাখুন।