Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • ফতুল্লায় গ্যাস লিকেজের বিস্ফোরণে দগ্ধ পাঁচজনই প্রাণ হারালেন

    ফতুল্লায় গ্যাস লিকেজের বিস্ফোরণে দগ্ধ পাঁচজনই প্রাণ হারালেন

    নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গত রোববার গ্যাস লিকেজ থেকে ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণে দগ্ধ আরও একজন মারা গেছেন। শুক্রবার (১৫ মে) সকালে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন সায়মা (৩৫)। এই মৃত্যুর সঙ্গে ঘটনায় দগ্ধ পাঁচজনই একে একে মারা গেলেন।

    নিহত সায়মার শরীরের প্রায় ৬০ শতাংশ জ্বালা লাগার চিহ্ন ছিল। তিনি গুরুতর আঘাত নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

    এর আগে একই ঘটনায় সায়মার স্বামী মো. কালাম (৪০), ছেলে মুন্না (১২), মেয়ে কথা (১০) এবং ছোট মেয়ে মুন্নি (৭) মারা যান। চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী কালামের দেহের প্রায় ৯৫ শতাংশ, মুন্নার ৩০ শতাংশ, কথার ৫২ শতাংশ এবং মুন্নির ৩৫ শতাংশ দগ্ধ ছিল। জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ঘটনাটি ঘটে গিরিধারা এলাকার নয়তলা ভবনের নিচতলায়, যা মো. শাহজাহান মিয়ার মালিকানাধীন। বদ্ধ কক্ষে গ্যাস জমে থাকা অবস্থায় ভাড়াটিয়া কালাম লাইটার দিয়ে সিগারেট জ্বালানোর চেষ্টা করলে অগ্নিস্ফুলিঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে কালামের পরিবারের পাঁচ জনই দগ্ধ হন এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সবাই মারা যান।

    পরিবারের এই মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের পরিবারিক বিস্তারিত এবং ঘটনার তদন্ত নিয়ে কর্মকর্তারা কাজ করে যাচ্ছেন।

  • বড়লেখা সীমান্তে অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঢুকতে গিয়ে ভারতীয় দম্পতি আটক

    বড়লেখা সীমান্তে অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঢুকতে গিয়ে ভারতীয় দম্পতি আটক

    মৌলভীবাজারের বড়লেখা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় এক ভারতীয় দম্পতিকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    শুক্রবার (১৫ মে) সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের গান্ধাই এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। বিজিবি তাদের কাছ থেকে ভারতীয় পরিচয়পত্র এবং একটি মোবাইল ফোন জব্দ করেছে।

    আটকরা হলেন কামরুল আহমেদ (৩২) ও তার স্ত্রী হুসনা বেগম লস্কর (২৪)। বিজিবির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছেন যে সীমান্ত পেরিয়ে তারা অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করার চেষ্টা করছিলেন।

    বিজিবি সূত্র জানায়, কামরুল আহমেদ ২০১৪ সালে দালালের মাধ্যমে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে গিয়েছিলেন। পরের বছর ২০১৫ সালে তিনি সেখানে ভারতীয় নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। পরে তিনি ভারতের হাইলাকান্দি জেলার লালা গ্রামের তাজ উদ্দিন লস্করের মেয়ে হুসনা বেগম লস্করের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

    বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান খান জানান, বিজিবি আটককৃত দম্পতিকে থানায় হস্তান্তর করেছে। পুলিশ তাদের পরিচয় ও ঘটনার সবকিছু যাচাই-বাছাই কর করছে। বিজিবির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এজাহার দাখিল করা হবে এবং মামলার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    বিজিবি জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কোনো ব্যক্তি বা চক্র আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

  • খুলনা জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ফিরোজকে অব্যাহতি, ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আবু জাফর

    খুলনা জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ফিরোজকে অব্যাহতি, ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আবু জাফর

    খুলনা জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণার মাত্র ১৫ ঘণ্টা পর জেলা আহ্বায়ক ফিরোজ আহমেদকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবু জাফরকে জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    এই সিদ্ধান্ত বুধবার (১৩ মে) কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে ফিরোজ আহমেদকে অব্যাহতি দেয়া হলো। সিদ্ধান্তটি সাংগঠনিক গতিশীলতা ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থে অবিলম্বে কার্যকর হবে।

    আগে মঙ্গলবার রাতে খুলনা মহানগর ও জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্রীয় সংসদের পৃথক অনুমোদন পত্রে খুলনা মহানগর আহবায়ক কমিটিতে তাজিম বিশ্বাসকে আহবায়ক, আরিফুর রহমান আরিফকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও হাবিবুর রহমান খান বিপ্লবকে সদস্য সচিব করে ৪৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

    একইভাবে খুলনা জেলা আহবায়ক কমিটিতে প্রথমে ফিরোজ আহমেদকে আহবায়ক, আবু জাফরকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও খান ইসমাইল হোসেনকে সদস্য সচিব করে ৩০ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি অনুমোদন করা হয়েছিল। কিন্তু পরে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে ফিরোজকে সাবেক করা হয় এবং আবু জাফরকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্বভার প্রদান করা হয়।

  • নানা অভিযোগ তুলে চট্টগ্রাম মহানগরের ২২ এনসিপি নেতা একযোগে পদত্যাগ

    নানা অভিযোগ তুলে চট্টগ্রাম মহানগরের ২২ এনসিপি নেতা একযোগে পদত্যাগ

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগাঁও মহানগর কমিটির ২২ জন নেতা নানা অভিযোগ তুলে একযোগে পদত্যাগ করেছেন। তারা সদ্য ঘোষিত ১৬৮ সদস্যের মহানগর আহ্বায়ক কমিটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ ছিলেন।

    কমিটি ঘোষণার পরপরই শুক্রবার (১৫ মে) দফতর সম্পাদক মোহাম্মদ রাফসান জানি রিয়াজ সাংবাদিকদের বলে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার (১৪ মে) মীর মোহাম্মদ শোয়াইবকে আহ্বায়ক এবং আরিফ মঈনুদ্দীনকে সদস্য সচিব করে ১৬৮ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হলেও রাতেই ২২ নেতার পদত্যাগের ঘোষণা আসে।

    পদত্যাগী নেতারা অভিযোগ করেছেন যে কমিটিতে অযোগ্য ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়েছে। তাদের কথায়, কিছু নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, পদ বাণিজ্য (টাকার বিনিময়ে পদ-বণ্টন), নারী কেলেঙ্কারি এবং মামলার মাধ্যমে অর্থ উপার্জনসহ মারাত্মক অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগ রয়েছে।

    রাফসান জানি রিয়াজ বলেন, ‘‘দলের জন্য যারা নিবেদিতপ্রাণ ও ত্যাগী, তাদের মূল্যায়ন করা হয়নি। আমরা এই কমিটির পুনর্মূল্যায়ন দাবি করছি। বিষয়টি কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে জানানো হবে।’’

    কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও পদত্যাগ করেছেন হুজ্জাতুল ইসলাম সাঈদ। তিনি বলেন, ‘‘আমরা আদর্শ, নৈতিকতা ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক চর্চার প্রত্যাশায় এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলাম। সাম্প্রতিক কমিটি গঠন ও বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে আমরা হতাশ। রাজনৈতিক সংগঠনে দুর্নীতি ও ব্যক্তিস্বার্থের চর্চা গ্রহণযোগ্য নয়। ভবিষ্যতেও আমরা জনস্বার্থ, ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক সংস্কৃতির পক্ষে কাজ করবো।’’

    পদত্যাগ করা ২২ নেতার মধ্যে রয়েছেন:

    সৈয়দ এহছানুল হক (যুগ্ম আহ্বায়ক), কামরুল কায়েস (যুগ্ম আহ্বায়ক), মো. সোহরাব চৌধুরী (যুগ্ম সদস্যসচিব), হামিদুল ইসলাম (যুগ্ম সদস্যসচিব), বদিউল আলম (যুগ্ম সদস্যসচিব), মোহাম্মদ সরোয়ার আলম (যুগ্ম সদস্যসচিব), ইকবাল মাসুদ (যুগ্ম সদস্যসচিব), রকিবুল ইসলাম (সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক), ডা. মাহতাব উদ্দিন আহমদ (সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক), হুজ্জাতুল ইসলাম সাঈদ (সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক), সাদমানুর রহমান চৌধুরী (সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক), সুফি মোহাম্মদ মিনহাজ (সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক), মোহাম্মদ কারিওল মাওলা (সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক), মোহাম্মদ আকরাম হোসেন (সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক), মোশাররফ হোসেন রবিন (সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক), নুরুল আবছার সাইবান (সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক), মোস্তফা রাশেদ আজগর (সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক), মোহাম্মদ রাফসান জানি রিয়াজ (দফতর সম্পাদক), মো. নুরুদ্দীন (সমাজকল্যাণ সম্পাদক), মোহাম্মদ বেলাল হোসেন (সহ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক), মো. ওমর সাঈদ (সদস্য) এবং তাহজীব চৌধুরী (সদস্য)।

    এ ব্যাপারে এনসিপি কেন্দ্রীয় বা মহানগর নেতৃত্বের তরফ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পদত্যাগ করা নেতারা বলছেন, যদি দাবি মানা না হয় তবে তারা দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়কে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে কর্মপন্থা নিয়ে বিবেচনা করবে।

  • মেটাল কার্ড রূপান্তরে সতর্কবার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক

    মেটাল কার্ড রূপান্তরে সতর্কবার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক

    বাংলাদেশ ব্যাংক ডেবিট ও ক্রেডিট প্লাস্টিক কার্ডকে মেটাল কার্ডে রূপান্তর করার বিষয়ে গ্রাহকদের সতর্ক করেছে। অননুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে এমন রূপান্তরের প্রলোভনে ফাঁসিতে পড়তে যাতে না হয়, সেধারণের সতর্কতা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    ব্যাংকের বার্তায় বলা হয়েছে, কিছু অননুমোদিত তৃতীয় পক্ষ গ্রাহকদের প্লাস্টিক কার্ডকে মেটাল কার্ডে রূপান্তর করার প্রস্তাব দিয়ে সংবেদনশীল তথ্য,如 কার্ড নম্বর, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ও সিভিভি (CVV) চাওয়ার চেষ্টা করছে। এসব প্রতিষ্ঠান কোনো ব্যাংক বা নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত নয় এবং গ্রাহকের তথ্য শেয়ারের ফলে গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো হিসেবে উল্লেখ করেছে—

    (ক) কার্ডের গোপনীয় তথ্য ফাঁস হয়ে জালিয়াতি ঘটতে পারে।

    (খ) অনুমোদন ছাড়াই অননুমোদিত লেনদেন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

    (গ) গ্রাহকের অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে।

    (ঘ) সামগ্রিকভাবে কার্ড ব্যবস্থাপনায় ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।

    বার্তায় গ্রাহকদের অনুরোধ করা হয়েছে যে, কোনো অননুমোদিত প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির কাছে কার্ড সংক্রান্ত তথ্য দেবেন না এবং প্লাস্টিক কার্ডকে মেটাল কার্ডে রূপান্তর করার প্রলোভনে পড়বেন না। কার্ড সংক্রান্ত যেকোনো সেবা নেওয়ার সময় শুধুমাত্র আপনার ব্যাংকের অনুমোদিত চ্যানেলগুলিই ব্যবহার করুন।

    ব্যাংকসমূহ আপনার আর্থিক নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন—এই কারণে ওটিপি (One-Time Password) বা কার্ডের কোনো গোপন তথ্য কোনো অবস্থাতেই শেয়ার করবেন না। যদি কোনো সন্দেহজনক কার্যক্রম লক্ষ্য করেন, მაშინই আপনার ব্যাংকের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করুন।

  • দেশের বাজারে আবারও কমল স্বর্ণের দাম

    দেশের বাজারে আবারও কমল স্বর্ণের দাম

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এক সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে। শুক্রবার (১৫ মে) সকালে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা। নতুন এই দাম আজ সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ (পিওর গোল্ড)-এর মূল্য কমার প্রেক্ষিতে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই সমন্বয় করা হয়েছে।

    নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম নির্ধারিত হয়েছে:

    – ২২ ক্যারেট: ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা

    – ২১ ক্যারেট: ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭২ টাকা

    – ১৮ ক্যারেট: ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০৫ টাকা

    – সনাতন পদ্ধতি: ১ লাখ ৬১ হাজার ৬০৫ টাকা

    এর আগে বাজুস গত ৭ মে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল। সেই সময়ে ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম করা হয়েছিল ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা। সে সময় ২১ ক্যারেটের দাম রাখা হয়েছিল ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ছিল ২ লাখ ২১৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি ছিল ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকা। ওই সমন্বয়ও তখন সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছিল।

    চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম মোট ৬৪ বার সমন্বয় করা হয়েছে; যার মধ্যে দাম বাড়ানো হয়েছে ৩৫ দফা এবং কমানো হয়েছে ২৯ দফা। গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; তখন ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয় এবং ২৯ বার দাম কমানো হয়েছিল।

  • সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের সফল অভিযান: করিম শরীফ বাহিনীর ৩ সদস্য আটক, অস্ত্র-গুলিসহ ৪ জেলে উদ্ধার

    সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের সফল অভিযান: করিম শরীফ বাহিনীর ৩ সদস্য আটক, অস্ত্র-গুলিসহ ৪ জেলে উদ্ধার

    বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের গভীরে জলদস্যু ও বনদস্যু দমনে কোস্টগার্ড আরও এক বড় সফলতা অর্জন করেছে। সুন্দরবনের পূর্ব বন বিভাগের শ্যালা নদীর মরা চানমিয়া খালী অঞ্চলে গত ১৩ মে রাতে কোস্টগার্ডর একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে কুখ্যাত ‘করিম শরীফ বাহিনী’-এর তিনজন সক্রিয় সদস্যকে আটক করে। একই সঙ্গে দস্যুদের কাছ থেকে ৪ জন জেলেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও যোগাযোগ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে বলে আজ (১৫ মে) মিডিয়াকে কোস্টগার্ড কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন নিশ্চিত করেন।

    গোপন সূত্রের তথ্য পাওয়ার পর দ্রুত ইঞ্জিনচালিত বোট নিয়ে টহলরত কোস্টগার্ডের বিশেষ দল শ্যালা নদীর ওই মরা খালের মুখে অবস্থান নেয়। ভোরারাতের অন্ধকারে বনের ভেতর গোপন থাকা দস্যুদের উপস্থিতি টের পেয়ে কোস্টগার্ড এগোলে তারা আচমকা চারদিক থেকে বোট ও জওয়ানদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কোস্টগার্ডও আত্মরক্ষার প্রয়োজনে পাল্টা গুলি চালায় এবং প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী তীব্র বন্দুকযুদ্ধের পর এক পর্যায়ে দস্যুরা পিছু হটতে শুরু করে।

    ঘটনাস্থল অনুসন্ধান করে কোস্টগার্ড বন বিভাগের সহায়তায় জঙ্গলের কাঁদা ও নতুন ঘিষে ঢুকে তল্লাশি চালায়। বনদস্যুদের গহীন স্থানে ধাওয়া করে বাধা পেরিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আটককৃতদের নাম পরিচয় জানতে পারে— মোহাম্মদ মেহেদী হাসান (২৫), মোহাম্মদ রমজান শরীফ (১৯) ও মোহাম্মদ এনায়েত মিয়া (২৫)। তাদের বাড়ি বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ ও ভাঙ্গা থানার ফরিদপরে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতি ও জেলেদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করত।

    অস্ত্র ও সামগ্রীর তল্লাশিতে উদ্ধার করা হয়েছে ৩টি একনলা বন্দুক, ১টি সচল পিস্তল, ৪৯ রাউন্ড তাজা বন্দুকের গুলি, ১৮৭ রাউন্ড এয়ারগান গোলা (ছরড়া), ২টি উচ্চক্ষমতার ওয়াকিটকি সেট এবং ৪টি ওয়াকিটকি চার্জার। তল্লাশির এক পর্যায়ে বন বিভাগের সহায়তায় হাত-পা বেঁধে কঠোর পাহারায় থাকা ৪ জন সাধারণ জেলেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক ভাষ্য অনুযায়ী এই জেলেদের কয়েক দিন আগে অপহরণ করা হয়েছিল এবং তাদের পরিবারের কাছে বড় অঙ্কের মুক্তিপণ দাবির প্রস্তুতি ছিল।

    কোস্টগার্ডের লেফটেন্যান্ট ইকরা মোহাম্মদ নাসিফ জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে সুন্দরবনে অবৈধ অনুপ্রবেশ, সরকারি কাজে বাধা, কোস্টগার্ডের ওপর গুলিবর্ষণ, অবৈধ অস্ত্র রাখাসহ ডাকাতি এবং অপহরণের অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্র এবং অন্যান্য মালামাল বন্দোকেও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত যাচাই-বাছাই শেষে স্থানীয় থানায় হস্তান্তর করা হবে।

    কোস্টগার্ড জানায়, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখা এবং জেলে, বাউয়ালী ও মৌয়ালীদের নিরাপদভাবে জীবিকা নির্বাহের পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। এখনও পরবর্তী তল্লাশি ও অভিযানের কাজ অব্যাহত আছে এবং বনাঞ্চল পরিষ্কার করার লক্ষ্যে যৌথভাবে পদক্ষেপ জোরদার করা হবে বলে বাহিনী জানায়।

  • বাগেরহাটে মামাতো ভাইয়ের ছুরিকাঘায় ১৮ বছরের ফুফাতো ভাই নিহত

    বাগেরহাটে মামাতো ভাইয়ের ছুরিকাঘায় ১৮ বছরের ফুফাতো ভাই নিহত

    বাগেরহাট শহরের বাসাবাটি বাইনেবাড়ি এলাকায় গভীর রাতে মামাতো ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে ফুফাতো ভাই মো. আম্মার (১৮) নিহত হয়েছেন। ঘটনা বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে ঘটে।

    পরিবারের সদস্যরা ঘটনার পর অভিযুক্ত আলী আব্দুল্লাহ (২৩)-কে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে তার কাছ থেকে একটি রক্তমাখা ছুরি জব্দ করে পুলিশে হস্তান্তর করেন। নিহত আম্মার ওই এলাকার এ এইচ এম তাসলিম মাহমুদের ছেলে। আটক আলী আব্দুল্লাহ বাগেরহাট শহরের সাহাপাড়া এলাকার মাহমুদ উন্নবীর ছেলে এবং নিহতের মামাতো ভাই বলে পুলিশ জানায়।

    পুলিশ ও পরিবারের বর্ণনায়, বৃহস্পতিবার রাতে আলী আব্দুল্লাহ ফুফুর বাড়িতে বেড়াতে আসেন। রাতের খাবার শেষে মামাতো-ফুফাতো দুই ভাই বাড়ির দোতলায় ঘুমোতে যান। গভীর রাতে হঠাৎ চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা দোতলায় ছুটে গেলে আম্মারকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষনা করেন।

    বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শামীম হোসেন বলেন, দুই পরিবারের মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধ ছিল, তাই ঘটনাটি জমি নিয়ে বিবাদের রেশ থেকেও ঘটতে পারে। তিনি জানান, নিহতের বুক ও পিঠে ছুরির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং প্রচণ্ড রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হতে পারে।

    পুলিশ অভিযুক্ত আলী আব্দুল্লাহকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

  • কলকাতায় জুমার নামাজকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, রাজাবাজারে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন

    কলকাতায় জুমার নামাজকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, রাজাবাজারে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন

    কলকাতার রাজাবাজার এলাকায় শুক্রবার (১৫ মে) জুমার নামাজকে ঘিরে পুলিশের সঙ্গে একদল মুসল্লির বাগ্‌বিতণ্ডা ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। দুপুরের দিকে রাস্তায় নামাজ পড়ার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে যান চলাচল ব্যাহত হলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দাঁড়ায়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজাবাজার ক্রসিংয়ের একাংশ জুড়ে নামাজ পড়তে শুরু করলে জনবহুল ওই সড়কে যানজট তৈরি হয়। পুলিশ যখন যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য বাধা দিলে কয়েকজন মুসল্লির সঙ্গে তর্কবিবাদ গড়ে ওঠে এবং উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় থানা থেকে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পরে প্রয়োজনীয় সতর্কতার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনীও মোতায়েন করা হয়।

    পুলিশ জানিয়েছে, নামাজ পড়তে জড়ো হওয়া মানুষের উদ্দেশ্য ছিল শান্তিপূর্ণ। প্রশাসনের নতুন বিধি-নিষেধ সম্পর্কে অনেকেরই সঠিক ধারণা না থাকায় তারা রাস্তার ওপরেই নামাজ শুরু করেন। পুলিশ বিষয়টি বুঝিয়ে বললে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং অনেকে সহযোগিতা করেন।

    ঘটনার পর থেকেই এলাকাজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত টহল শুরুর ফলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। দোকানপাট ও বাজারও ইতোমধ্যেই সচল রয়েছে। প্রশাসন সতর্ক থেকে জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

  • মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট ধার শহরের কামাল মাওলা মসজিদের অংশ মন্দির হিসেবে ঘোষণা

    মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট ধার শহরের কামাল মাওলা মসজিদের অংশ মন্দির হিসেবে ঘোষণা

    ভারতের মধ্যপ্রদেশের ধার শহরে অবস্থিত প্রায় হাজার বছরের পুরনো কামাল মাওলা দরগা ও মসজিদের একটি অংশকে মন্দির হিসেবে ঘোষণা করেছে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। একই রায়ে মুসলিম সম্প্রদায়কে রাজ্য সরকারের কাছে নামাজের জন্য খোলা অন্য কোনো স্থান চেয়ে নিতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    ভোজশালা নামে পরিচিত ওই স্থাপনা ও কামাল মাওলা মসজিদকে ঘিরে অনেক দিন ধরেই বিতর্ক চলছিল। হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলো দাবি করে আসছে যে মসজিদটির ভিত্তি আসলে রাজা ভোজের সময়ে তৈরি করা প্রাচীন সরস্বতী মন্দির; অন্যদিকে মুসলিম পক্ষ এটিকে কামাল মাওলা মসজিদ বলে দাবি করে।

    দীর্ঘদিন ধরে রাজ্য সরকার সে জায়গায় পরিচালনায় নরম নীতি বহাল রেখেছিল—মঙ্গলবার হিন্দুদের পুজা ও শুক্রবার মুসলিমদের নামাজ করার অনুমতি দেওয়া হতো, আর বাকি দিনগুলোতে সাধারণভাবে প্রবেশের ছাড়া বেশি কার্যকলাপ সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু ২০২২ সালে ‘হিন্দু ফ্রন্ট ফর জাস্টিস’সহ কয়েকটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন মসজিদে মুসলিমদের নামাজ বন্ধ করার দাবিতে আদালতে যায়।

    এই মামলার প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়াকে (এএসআই) ওই স্থানের বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছিল। ৯৮ দিন ধরে চালানো সমীক্ষার পরে এএসআই আদালতে প্রায় দুই হাজার পাতার প্রতিবেদন জমা করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমান মসজিদের নিচে পারমার বংশের আমলে তৈরি একটি বড় কাঠামোর অস্তিত্ব ছিল।

    শুক্রবার বিচারপতি বিজয়কুমার শুক্ল ও বিচারপতি অলোক অবস্থীর বেঞ্চ ওই মামলায় হিন্দু পক্ষের পক্ষে রায় দেন। আদালত বিবেচনা করে উল্লেখ করেছে যে বিভিন্ন ইতিহাসগত তথ্য ও নথি বিশ্লেষণে দেখা গেছে ওই স্থানে হিন্দু উপাসনার ধারাবাহিকতা কখনও সম্পূর্ণভাবে থেমে যায়নি। পাশাপাশি ঐতিহাসিক সাহিত্যেও বিতর্কিত এলাকাটি রাজা ভোজের শিক্ষা ও সংস্কৃতিকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত আছে — এই কারণগুলো বিবেচনায় নিয়ে অংশটিকে মন্দির হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, বলা হয় রায়ে।

    আদালতের নির্দেশে ভবিষ্যতে ভোজশালার ঐ অংশের সংরক্ষণ ও রক্ষার তত্ত্বাবধান করবে এএসআই; সংরক্ষণ কার্যক্রমে তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। হিন্দু পক্ষের আবেদনকারীরা লন্ডনের একটি জাদুঘর থেকে সরস্বতীর মূর্তি এনে সেখানে স্থাপন করতে চান এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে সেই সম্পর্কিত একাধিক আবেদন জমা রয়েছে; আদালত বলেছে, কেন্দ্র সেই আবেদনগুলো বিবেচনা করতে পারে।

    অন্যদিকে মুসলিম পক্ষ সমীক্ষা প্রতিবেদন ও রায়কে পক্ষপাতদুষ্ট বলে অভিযোগ করেছে এবং নামাজের স্থানের বিষয়ে সরকারের কাছে বিকল্পের ব্যবস্থা চেয়ে নিতে নির্দেশ দেয়া হলেও সেটি নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে।

    এই ঘটনার প্রেক্ষাপট দেশের ঐতিহাসিক সম্পদ সংরক্ষণ, সংগ্রামরত সম্প্রদায়ের অনুভূতি ও ধর্মীয় অধিকার—এসব বিষয়কে নিয়ে নতুন করে বিতর্ক ছুঁড়ে দিয়েছে। সরকার, আদালত ও আরকিওলজিস্টদের সিদ্ধান্ত ও তার বাস্তবায়ন ভবিষ্যতে এই ধরণের সংবেদনশীল কেসে কী precedent (আগাম নির্দেশ) স্থাপন করে, তা খতিয়ে দেখা হবে।

    সূত্র: এনডিটিভি, আনন্দবাজার