Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র রুখতে হবে: তারেক রহমান

    নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র রুখতে হবে: তারেক রহমান

    বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান বলেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে জনগণ এবং তা হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, কিছু মহল নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে; সেই ষড়যন্ত্র রুখে দিতে তিনি সর্বসাধারণকে সরাসরি উপস্থিত হয়ে মাঠে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী ও আশপাশের এলাকার হাজার হাজার সমর্থক।

    সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন, বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি বিপ্লব টিকিয়ে রাখতে এবং সেচের আওতা বাড়াতে তিনি প্রথম দিকে থমকে থাকা প্রায় এক হাজার কোটি টাকার পদ্মা সেচ প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত করবেন। তিনি আশ্বাস দেন, ধানের শীষ বিজয়ী হলে এই প্রকল্পের সুফল রাজশাহী থেকে শুরু করে পঞ্চগড় পর্যন্ত প্রত্যেক কৃষকের ঘরে পৌঁছে দেওয়া হবে।

    তারেক রহমান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় খাল খননের কাজ শুরু হয়েছিল এবং পরবর্তীতে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার শাসনামলে নেওয়া বড় সেচ প্রকল্পগুলো উত্তরবঙ্গের কৃষিকে সমৃদ্ধ করেছিল। তিনি গলায় কষ্ট নিয়ে বলেন, পদ্মা নদী কেন্দ্রিক যে বিশাল সেচ প্রকল্পটির নিজস্ব বাজেট ছিল প্রায় এক হাজার কোটি টাকা, সেটি গত ১৬ বছরে পরিকল্পিতভাবে থামিয়ে রাখা হয়েছে। ফলে প্রকল্পটি আজ প্রায় বন্ধপ্রায়। আমাদের লক্ষ্য ঐতিহাসিক ওই প্রকল্পকে পুনরায় পূর্ণ সক্ষমতায় কার্যকর করা—এটাই তার প্রকল্পের প্রধান অঙ্গ।

    বিএনপি চেয়ারম্যান আশ্বস্ত করেন, সেচ ব্যবস্থা কেবল রাজশাহীতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; রাজশাহী থেকে শুরু করে উপরের পঞ্চগড় পর্যন্ত সেচের পানি পৌঁছানো হবে। উৎপাদন বাড়লে কৃষকের আয় বাড়বে, কৃষক হাসলেই দেশের উন্নয়ন হবে—এ কথাই তিনি বারবার উদ্ধৃত করেন।

    রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম চাষিদের দুর্দশার কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, আম সংরক্ষণের কোনো আধুনিক ব্যবস্থা নেই। ক্ষমতায় এলে আম সংরক্ষণের জন্য বিশেষায়িত কোল্ড স্টোরেজ ও গুদাম নির্মাণ করা হবে, যাতে মৌসুমে আম পচে যাওয়ার ভয় কমে এবং চাষিরা ন্যায্য মূল্য পায়।

    সেচ প্রকল্পের পাশাপাশি তিনি পদ্মা নদীর ওপর নতুন একটি ‘পদ্মা ব্রিজ’ নির্মাণের আশ্বাস দেন, যা নির্মিত হলে উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ আর অর্থনীতি ব্যাপকভাবে উন্নত হবে। পাশাপাশি প্রান্তিক নারী-শক্তি শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে প্রতিটি পরিবারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর প্রতিশ্রুতি দেন; এই কার্ডের মাধ্যমে মা-বোনেরা সরাসরি সরকারি সুবিধা পাবেন এবং স্বনির্ভর হবেন।

    ২২ বছর পর সরাসরি রাজশাহীতে উপস্থিত হয়ে জনসভায় তারেক রহমানের আগমন দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন, উন্নয়ন ও নির্বাচনী বার্তাগুলো প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। তিনি পুনরায় বন্ধ্যা করে বলেন, ‘ধানের শীষ শুধু প্রতীক নয়, এটা উত্তরবঙ্গের কৃষকের ভাগ্য বদলের চাবিকাঠি।’

    সমাবেশে রাজশাহী বিভাগের আট জেলাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে লক্ষাধিক মানুষ সমবেত হন, যা শহরকে কার্যত অচল করে দেয়। জনতার এই প্রভাব ও মহত্ত্বের মাঝেই তারেক রহমান নির্বাচনী লড়াই জোরদার করার আহ্বান জানিয়ে সভা শেষ করেন।

  • নাহিদ ইসলাম: একটি দল সারা দেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে

    নাহিদ ইসলাম: একটি দল সারা দেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘একটি দল নির্বিচারে সারা দেশে মামলা দিচ্ছে, মামলা-বাণিজ্য করছে এবং জনকে প্রতারণার শিকার করছে।’ তিনি বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমগ্নলে নির্বাচনী পথসভায় এসব কথা বলেন। ওই সভা অনুষ্ঠিত হয় মৌলভীবাজার-৪ আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী প্রীতম দাশের পক্ষে।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আপনারা শুনেছেন ৩১ দফার কথা — তারা ৩১ দফার সঙ্গেও প্রতারণা করছে। মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে কেউ প্রতারিত হবেন না।’ তিনি অভিযোগ করেন যে কিছু গোষ্ঠী রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের অপপ্রচারের জন্য রাজনৈতিক মামলা ব্যবহার করছে।

    তিনি আরও বলেন, ‘৫ আগস্টের পরকার বাংলাদেশ নতুন হবে। ৫ আগস্টের আগে কী পরিণতি হয়েছিল, তা আমরা দেখেছি; আর এমন পরিস্থিতি আর চাই না। আইন-শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে, যারা নির্দোষ তাদের হয়রানি করা হবে না।’

    নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা দেখেছি একটি দল সারা দেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে; তারা জামায়াতে ইসলামীর এক উপজেলা সেক্রেটারি কোথাও হত্যা করেছে—এমন জঘন্য ঘটনায় ১১ দলীয় জোট সহ্য করবে না। জনগণ ভোটের মাধ্যমে জবাব দেবে।’

    তিনি নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান। ‘তারা যদি নিরপেক্ষ না থাকে, তাহলে ১১ দলীয় জোট তা মেনে নিবে না,’ নাহিদ বলেন। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে জোট শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও তরুণদের কর্মসংস্থানের বিষয়ে কাজ করবে।

    আহ্বায়ক আরও বলেন, ‘এ আসনে আমরা প্রীতম দাশকে মনোনীত করেছি। আমরা মৌলভীবাজার-৪ আসনকে গুরুত্ব দিয়েছি। প্রীতম দাশ চা-শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি আদায়ের জন্য ফ্যাসিস্ট আমলে জেলও কেটেছেন।’ তিনি প্রীতমকে সমর্থন করার আহ্বান জানান।

    নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, ‘১১ দলীয় জোট ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গঠন করবে। আমরা চাই না চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের হাতে আবার ক্ষমতা পাক, বা নতুন কোনো স্বৈরাচারের উত্থান হোক। ১১ দলীয় জোট মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকবে। ১২ ফেব্রুয়ারি আমরা ফল পাবই, ইনশা আল্লাহ।’ তিনি জানান, এনসিপির রাজনৈতিক যাত্রা মৌলভীবাজার-৪ থেকেই শুরু হয়েছে।

    নির্বাচনী পথসভায় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখপাত্র ও নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঞা, মৌলভীবাজার-৪ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী প্রীতম দাশ ও আরও অনেকে।

  • তৃতীয় দফায় বাড়ল আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় — নতুন সময়সীমা ২৮ ফেব্রুয়ারি

    তৃতীয় দফায় বাড়ল আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় — নতুন সময়সীমা ২৮ ফেব্রুয়ারি

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আজ শুক্রবার (২৯ জানুয়ারি) আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় এক মাস বাড়িয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে। এটি আয়ের কর রিটার্ন দাখিলের তৃতীয় দফার সময় বাড়ানো। একইসঙ্গে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলে সমস্যা হওয়া করদাতারা কাগজভিত্তিক রিটার্ন দাখিলের জন্য আবেদন করতে পারবেন ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

    এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব (কর আইন-১) মো. একরামুল হকের স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, আয়কর আইন, ২০২৩ এর ধারা ৩৩৪ অনুযায়ী জনস্বার্থে এবং সরকারের অনুমোদনক্রমে স্বাভাবিক ব্যক্তি ও হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের করদাতাদের রিটার্ন দাখিলের নির্ধারিত তারিখ ৩১ জানুয়ারি থেকে পরিবর্তন করে ২৮ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করা হলো।

    অন্য একটি বিশেষ আদেশে (এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান স্বাক্ষরিত) আয়কর আইন, ২০২৩ এর ধারা ৩২৮(৪) অনুযায়ী লাইনে থাকা বেশিরভাগ স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতাদের জন্য ই-রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে বিশেষ আদেশ নং-১/২০২৫ এর ক্রমিক নং-১ এ যেসব করদাতার নাম উল্লেখ রয়েছে তারা এ থেকে ব্যতিরেকে থাকতে পারে।

    ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন বা ফাইলিংয়ে সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট করদাতা ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যথাযথ কারণ দেখিয়ে উপ-কর কমিশনারের কাছে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন গ্রহণের পর সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত বা যুগ্ম কর কমিশনারের অনুমোদন পেলে তারা কাগজভিত্তিক রিটার্ন দাখিলের অনুমতি পাবেন।

    এনবিআরের তথ্যমতে এ পর্যন্ত প্রায় ৪৭ লাখ ব্যক্তি শ্রেণির করদাতা ই-রিটার্ন সিস্টেমে রেজিস্ট্রেশন করেছেন; এর মধ্যে প্রায় ৩৪ লাখ করদাতা ইতোমধ্যেই তাদের রিটার্ন দাখিল করেছেন।

    আইন অনুযায়ী সাধারণভাবে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের রিটার্ন প্রতি বছর ৩০ নভেম্বরের মধ্যে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে চলতি বছরে বিশেষ পরিস্থিতির কারণে দুই দফায় মোট দুই মাস সময় বাড়ানোর পরে এবার তৃতীয় দফায় আরও এক মাস সময় নির্ধারণ করা হলো। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা না দিলেই করদাতাদের জরিমানা কর এবং সরকারি কর রেয়াত বা রিবেট সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হতে হয়।

    এনবিআরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতি ও সরকারি ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যস্ততাকে বিবেচনা করে দ্রুতকরণের চাপ না দিয়ে নিশ্চিত, সঠিক ও শান্ত পরিবেশে রিটার্ন দাখিল নিশ্চিত করার জন্য সময় বাড়ানো হয়েছে। করদাতাদের জন্য পরামর্শ—সম্ভব হলে এখনই অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন ও রিটার্ন সম্পন্ন করুন; সমস্যা হলে সময়মতো সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে আবেদন করুন।

  • এক লাফে ভরি ১৬ হাজার বাড়লো সোনা; ২২ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ৮৬ হাজার ছাড়াল

    এক লাফে ভরি ১৬ হাজার বাড়লো সোনা; ২২ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ৮৬ হাজার ছাড়াল

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) আবারও দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। বুধবার নয়, বৃহস্প‌তিবার (২৯ জানুয়ারি) সংগঠন জানিয়েছে, প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার টাকায় পর্যন্ত দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন মূল্য আজ সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে কার্যকর হয়েছে।

    বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তেজাবি (পিউর গোল্ড) সোনার আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়ায় স্থানীয় বাজারের দামও বাড়ানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকার তথ্যও সংগঠন তুলে ধরেছে। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি অনুসারে বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৫,৫৫০ ডলার অতিক্রম করেছে।

    নতুন দাম অনুযায়ী দেশের বাজারে বিভিন্ন গুণমানের প্রতি ভরির দাম হচ্ছে— ২২ ক্যারেটের মূল্য ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা, ২১ ক্যারেট ২ লাখ ৭২ হাজার ৯৯৬ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ৩৩ হাজার ৯৮০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৯৩ হাজার ৩৯ টাকা।

    সোনার পাশাপাশি রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৫৭৩ টাকা; ২১ ক্যারেট ৮ হাজার ১৬৪ টাকা; ১৮ ক্যারেট ৬ হাজার ৯৯৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৭৮২ টাকা।

    বাজুসের এই ঘোষণার পরে গ্রাহক ও জুয়েলারিদের মধ্যে সর্তকতা বেড়েছে; যারা সোনা-রুপা কেনার বা বিক্রির পরিকল্পনা করছেন তারা স্থানীয় ডিলারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বশেষ দাম নিশ্চিত করে নেবেন বলে বাজার সূত্রে জানিয়েছে।

  • মালয়েশিয়ায় নিপাহ সতর্কতা: ভারত–বাংলাদেশ থেকে আসা যাত্রীদের বিশেষ স্ক্রিনিং শুরু

    মালয়েশিয়ায় নিপাহ সতর্কতা: ভারত–বাংলাদেশ থেকে আসা যাত্রীদের বিশেষ স্ক্রিনিং শুরু

    প্রাণঘাতী নিপাহ ভাইরাসের সম্ভাব্য বিস্তার রোধে আগাম সতর্কতার অংশ হিসেবে মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক প্রবেশপথগুলোতে বিশেষ স্ক্রিনিং কার্যক্রম চালু করেছে। এবার লক্ষ্যভিত্তিকভাবে বিশেষ করে ভারত ও বাংলাদেশ থেকে আগত যাত্রীদের দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে।

    বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জুলকেফলি আহমদ এই পদক্ষেপের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, দেশের সব আন্তর্জাতিক প্রবেশপথে বডি টেম্পারেচার মাপার যন্ত্র সচল করা হয়েছে যাতে যাত্রীদের মধ্যে জ্বর—নিপাহের প্রাথমিক উপসর্গ—দ্রুত শনাক্ত করা যায়।

    মালয়েশিয়া ভারত ও বাংলাদেশকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় রেখেছে এবং সেখান থেকে আগত যাত্রীদের উপর লক্ষ্যভিত্তিক স্ক্রিনিং চালানো হবে। তবে এই যাত্রীদের জন্য আলাদা কোনো প্রবেশপথ বা রুট নির্ধারণ করা হয়নি; সাধারণ অভিবাসন প্রক্রিয়ার মধ্যেই তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

    স্ক্রিনিং চলাকালীন যদি কারো শরীরের তাপমাত্রা বাড়তে দেখা যায় বা নিপাহ-সংশ্লিষ্ট কোনো উপসর্গ ধরা পড়ে, তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বিশেষ মেডিকেল টিমের কাছে পাঠিয়ে পরবর্তী স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী জুলকেফলি আহমদ বলেন, এই ব্যবস্থা নেওয়ার পেছনে বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও ঝুঁকি পর্যালোচনাই প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে যাচ্ছি, যাতে আমাদের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানের এবং সময়োপযোগী থাকে।’

    মালয়েশিয়ার এই উদ্যোগটি ভারতের সাম্প্রতিক নিপাহ সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশও তাদের বিমানবন্দরগুলোতে অনুরূপ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা বাড়িয়েছে। মালয়েশিয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগও দেশজোড়া প্রবেশপথে উচ্চ সতর্কতা বজায় রেখে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে।

  • ইরান: মার্কিন হামলা হলে তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী জবাব দিতে সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত — আরাগচি

    ইরান: মার্কিন হামলা হলে তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী জবাব দিতে সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত — আরাগচি

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিকূল পদক্ষেপের ক্ষেত্রে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তাৎক্ষণিক এবং শক্তিশালী জবাব দিতে সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত। তিনি এই মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুনরায় সামরিক হুমকি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে।

    আরাগচি বুধবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “আমাদের সাহসী সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে—আমাদের প্রিয় ভূমি, আকাশ ও সাগরের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসনের তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী জবাব দিতে তাদের আঙুল ট্রিগারে রয়েছে।”

    তিনি আরো বলেছেন, গত বছরের সংঘটিত সামরিক ঘটনার অভিজ্ঞতা ইরানকে মূল্যবান শিক্ষা দিয়েছে এবং তা তাদের প্রতিক্রিয়া ক্ষমতা বাড়িয়েছে। “১২ দিনের যুদ্ধে শেখা শিক্ষাগুলো আমাদের আরো শক্তিশালী ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা দিয়েছে,” যুক্ত করেছেন আরাগচি।

    ট্রাম্পও সোশ্যাল মিডিয়ায় আবারো ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর কণ্ঠে সতর্ক করে লিখেছেন, “ইরানের দিকে একটি বিশাল নৌবহর যাচ্ছে। এটি দ্রুত ও কার্যকরভাবে তার মিশন সম্পন্ন করতে প্রস্তুত, প্রয়োজন হলে জোর ও সহিংসতা ব্যবহার করে।” তিনি আরও বলেছেন, “আশা করি ইরান দ্রুত আলোচনার টেবিলে বসবে এবং একটি ন্যায্য চুক্তি করবে—কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নেই। সময় কমে আসছে।”

    বিশ্লেষকরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহরের মোতায়েন মূলত শক্তি প্রদর্শন এবং ইরানকে আলোচনায় আনার কৌশল। কাতারের বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আদনান হায়াজনে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র বার্তা দিচ্ছে—যদি তোমরা আমাদের চাওয়া অনুসরণ না করো, ক্ষমতায় জোর প্রদর্শন করা হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, আঞ্চলিক পক্ষের আবেদন হয়তো কৌশলগত সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলবে না।

    ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে হুমকির পরিবেশে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা নেই। আরাগচি বলেছেন, “আমাদের অবস্থান স্পষ্ট: হুমকির সঙ্গে আলোচনা যায় না। আলোচনার সময়ই সম্ভব যখন আর কোনো হুমকি বা অতিরিক্ত দাবি থাকবে না।” একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরান সবসময়ই পারস্পরিকভাবে উপকারি ও ন্যায়সঙ্গত পারমাণবিক চুক্তি স্বাগত জানাবে, যা শান্তিপূর্ণ প্রযুক্তি নিশ্চিত করে এবং পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিরোধ করে।

    আঞ্চলিক পরিস্থিতিও তীব্র হচ্ছে। হার্মুজ প্রণালী এলাকায় তেহরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী কার্যক্রম বাড়ছে এবং ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড সতর্ক করেছে যে, কোনো প্রতিবেশী দেশ যদি মার্কিন হামলায় তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে, তাহলে তাকে “শত্রু” হিসেবে গণ্য করা হবে।

    এদিকে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তারা তাদের আকাশসীমা কোনো হামলার জন্য ব্যবহার করতে দেবে না। মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র দুইপক্ষের সঙ্গে আলাদা আলাদা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে যাতে অঞ্চলে শান্তি বজায় থাকে এবং নতুন অস্থিতিশীলতার চক্র সৃষ্টি না হয়।

    বিশ্লেষকদের মতে, সংকট এড়াতে কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকলেও সামরিকভাবে এখনো তৎপরতা কৌশলের অংশে রয়েছে। পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা না গেলে অচিরেই আরও তীব্র উত্তেজনার মুখোমুখি হতে পারে—এটাই বিন্দুমাত্র কম নয় বলে সতর্ক করে দিচ্ছেন পর্যবেক্ষকরা।

  • চিতলমারীতে স্বপদে বহালের দাবিতে মানববন্ধনে হামলা, আহত ৫

    চিতলমারীতে স্বপদে বহালের দাবিতে মানববন্ধনে হামলা, আহত ৫

    বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার থানা রোডে শনিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে মমিনুল হক টুলু বিশ্বাসের বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে হামলার ঘটনা ঘটে; এতে কমপক্ষে পাঁচ জন আহত হয়েছেন। মানববন্ধন শুরু হয় সকাল সাড়ে ১০টায়।

    ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধন চলাকালে প্রতিপক্ষের কিছু লোক উপস্থিত সভা-সমাবেশে আগ্রাসীভাবে ঢুকে পড়ে এবং নারী-পুরুষভাবে অংশ নেওয়া অচলাদের ওপর হামলা চালায়। খবর পেয়ে দ্রুত উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

    আহতদের মধ্যে রয়েছেন শীতল মন্ডল (৬২), সুরেন মজুমদার (৬৫), হাসিবুল বিশ্বাস (৫০), জানজার শেখ (৪৫) এবং একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নারী। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা স্থানীয়ভাবে প্রদান করা হয়েছে।

    পরে জানা যায়, গত ২৬ জানুয়ারি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মমিনুল হক টুলু বিশ্বাসকে দলীয় নীতিমালা ভঙ্গ ও সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার কারণে বহিস্কার করা হয়। এই সিদ্ধান্তে প্রতিবাদ জানিয়ে বৃহস্পতিবার থানা রোডে টুলু বিশ্বাসের স্বপদে বহাল রাখার দাবিতে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ মানববন্ধন করেন।

    আহতরা বলেন, টুলু বিশ্বাস বিএনপিতে নিবেদিতপ্রাণ; গতিতে ৩৫ বছর ধরে দলের সঙ্গে যুক্ত থাকা অবস্থায় তিনি নানা হয়রানি ও মামলার শিকার হয়েছেন। তারা দাবি করেন, দলের সুদিনের সময়ে কেন তাকে বহিস্কার করা হলো তা তারা জানেন না এবং দলের অভিভাবক সরোণ বা তারেক রহমানের কাছে পুনর্বহালের অনুরোধ জানিয়েছেন।

    বহিস্কৃত নেতা মমিনুল হক টুলু বিশ্বাস বলেন, ‘‘যারা কেন্দ্রীয় নেতাদের বিভ্রান্ত করে আমাকে বহিস্কার করেছে, তাদের বিচার আল্লাহর ওপর ছেড়েছি। আমার বিচার করার দায়িত্ব আমি তারেক রহমানের ওপর ছেড়ে দিয়েছি; আশা করি দল আমার প্রতি অন্যায় কাজ করবে না।’’

    চিতলমারী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হাসান অপু বলেন, উপজেলা বিএনপির কোনো নেতাকর্মি মানববন্ধনে হামলার সঙ্গে জড়িত নয়; তারা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন।

    চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়েছিল; বর্তমানে পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাজ্জাদ হোসেনও বলেন, সেখানে কিছু হাতে-হাতি ঘটা ছুঁইছুঁই ঘটনা হয়েছে, যা মিলিতভাবে শান্তিপূর্ণভাবে সামাল দেওয়া হয়েছে।

  • ১১টি শূন্যপদের লিখিত পরীক্ষার জন্য ৫ সদস্যের কমিটি গঠন

    ১১টি শূন্যপদের লিখিত পরীক্ষার জন্য ৫ সদস্যের কমিটি গঠন

    খুলনা সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে গঠিত কমিটির ১১তম সভা গতকাল বুধবার নগর ভবনের শহিদ আলতাফ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রশাসক মোঃ মোখতার আহমেদ। কেসিসি’র কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এই কমিটি স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪-এর ধারা ২৫(ক)(২) মোতাবেক স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক গঠিত বলে সভায় জানানো হয়।

    সভায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ওয়াসা কর্তৃক স্যুয়ারেজ লাইন স্থাপনের ফলে নগরীর রাস্তা খনন কাজকে আসন্ন গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ পর্যন্ত, অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং খননকৃত রাস্তার মেরামতের জটিলতা নিরসনের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের সঙ্গে উভয় সংস্থার সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি উপস্থিত রেখে আলোচনা করার অনুরোধ পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    দুদকের তদন্তাধীন সাতটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সম্পর্কিত বিল পরিশোধ বিষয়ে দুদকের মতামত গ্রহনের সিদ্ধান্ত নির্বাহী কর্তৃপক্ষ নেয়। এছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন পানি সরবরাহ প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জামানতের অর্থ পরিশোধ করার অনুমোদন দেয়া হয়।

    কেডিএ কর্তৃক নির্মাণাধীন সড়কে (খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রায়েরমহল পর্যন্ত) কেসিসি’র মালিকানাধীন জমি ব্যবহারের বিষয়ে অনাপত্তি না দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। রূপসা ঘাট নিয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র সঙ্গে চলমান মামলার কারণে ঘাটের পন্টুন মেরামত নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে আইন উপদেষ্টার মাধ্যমে আদালতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার কথাও বলা হয়েছে।

    মশক নিধনে বিমান বাহিনী কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা-২০২৫ অনুসরণ করে জিটুজি পদ্ধতিতে ২ হাজার লিটার এডাল্টিসাইড ও ২ হাজার লিটার লার্ভিসাইড ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। নগর ভবনের প্রবেশ পথের পশ্চিম পাশে খুলনা সিটি এরিয়ার ম্যাপ স্থাপন, অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কেসিসি’র বিভিন্ন আবেদন ফরমের মূল্য সমন্বয় এবং কেসিসি পেট্রোল পাম্পকে অটোমেশনের আওতায় আনার সিদ্ধান্তও সভায় গৃহীত হয়।

    মিস্ত্রিপাড়া বাজারের বাতিলকৃত ১৪টি মাছ পট্টির বরাদ্দের বিরুদ্ধে জমাকৃত সেলামীর অর্থ ফেরত প্রদান করার এবং নতুনভাবে বরাদ্দ প্রদানের উদ্যোগ নেয়ার সিদ্ধান্তও নেয়া হয়েছে। সর্বশেষ, কেসিসি’র ১১টি শূন্য পদে জনবল নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা গ্রহণের জন্য ৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয় এবং মৌখিক পরীক্ষার জন্য প্রতিনিধি প্রদানের অনুরোধ জানিয়ে মন্ত্রণালয়ে পত্র প্রেরণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

    সভায় কেসিসি’র সচিব আরিফুল ইসলাম সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কোহিনুর জাহান। এছাড়া কেএমপি, খুলনা ওয়াসা, কেডিএ, সড়ক ও জনপথ, এলজিইডি, বিভাগীয় স্বাস্থ্য, ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স, বিআইডব্লিউটিএ ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা কার্যালয় এবং ওয়ার্ডের সক্ষম কর্মকর্তাগণ সভায় অংশ নেন।

    সভায় আরও জানা যায় যে প্রশাসক মোঃ মোখতার আহমেদ সভাপতি হিসেবে উপস্থিত অতিথিদের হাতে নতুন বছরের জন্য কেসিসি কর্তৃক প্রস্তুতকৃত ডায়েরী হস্তান্তর করেন।

  • চাঁদাবাজমুক্ত খুলনা গড়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন রকিবুল বকুল

    চাঁদাবাজমুক্ত খুলনা গড়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন রকিবুল বকুল

    খুলনা-৩ আসনের ধানের শীষ প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল বলেছেন, জনগণের ভোট পেলে খুলনার পবিত্র মাটিতে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের কোনো স্থান থাকবে না। নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আয়োজিত একটি পথসভায় তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন।

    বকুল বলেন, বিগত বছরগুলোতে খুলনাবাসী নানাভাবে শোষণ ও চাঁদাবাজির শিকার হয়েছে। সাধারণ ব্যবসায়ীরা স্বচ্ছন্দে ব্যবসা করতে পারেনি, এবং সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা বিঘ্নীত হয়েছে। তাই খুলনার উন্নয়ন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি চাঁদাবাজদের সিন্ডিকেট ভেঙে ফেলবেন বলে প্রত্যাশা ও প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

    বুধবার বিকেলে পাবলা সবুজ সংঘ মাঠে অনুষ্ঠিত সবুজ সাথী প্রি-ক্যাডেট স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় বিএনপি ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের ধানের শীষ প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল এসব কথা বলেন। তিনি আরও জানান, জনগণের আমানত হিসেবে নির্বাচনে জয়লাভ করে সংসদে গেলে তিনি একটি সুন্দর, নিরাপদ ও সন্ত্রাসমুক্ত খুলনা উপহার দেবেন।

    বকুল বলেন, ধানের শীষ শান্তির প্রতীক; এই প্রতীক জয়ী হলে সাধারণ মানুষের অধিকার পুনরুদ্ধার হবে। তিনি অভিযোগ করেন যে, কিছু নির্দিষ্ট গোষ্ঠী খুলনার সম্পদ লুটছে এবং জনসাধারণকে ভয়ভীতি দেখিয়ে শাসন করছে। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ মার্কায় ভোট দিয়ে তাকে জয়ী করার আহ্বান জানালেন।

    তিনি বলেন, খুলনার প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় শান্তি ফিরিয়ে আনাই হবে তার মূল লক্ষ্য। নির্বাচিত হলে কোনো দলের পরিচয়েই কেউ চাঁদাবাজি বা দখলদারিত্ব করতে পারবে না—এ বিষয়ে তিনি কঠোর হুশিয়ারি দেন।

    অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সবুজ সাথী প্রি-ক্যাডেট স্কুলের অধ্যক্ষ মোঃ শাহীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী, সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক মোঃ চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন, সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ মুশাররফ হোসেন, দৌলতপুর থানা বিএনপির সভাপতি মুর্শিদ কামাল, বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান খন্দকার আলমগীর কবির, পাবলা সবুজ সংঘের সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম, খুলনা মহানগর জাসাসের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার নুর ইসলাম বাচ্চু এবং পাবলা সবুজ সংঘ মসজিদের সভাপতি আলহাজ্ব এইচ এ রহিম।

    এছাড়া মোঃ মতলেবুর রহমান, মিতুল, প্রফেসর সাইফুল ইসলাম, জয়নাল আবেদীন, শেখ আনসার আলীসহ দৌলতপুর থানা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

  • আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে মোস্তাফিজ — পেলেন সুখবর

    আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে মোস্তাফিজ — পেলেন সুখবর

    বছরের শুরুটা মোটেই সুখকর হয়নি মোস্তাফিজুর রহমানের জন্য। আইপিএলে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে সংগ্রহ করার পরই কলকাতা নাইট রাইডার্স তাঁকে ছেঁটে ফেললে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা জাগে। কীর্তি আজাদ, রবীচন্দ্রন অশ্বিনসহ বহু বিশিষ্ট ভারতীয় খেলোয়াড়ও তাঁর বাদ পড়ার বিষয়ে মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু নতুন বছরের প্রথম মাসে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কৌশলে মোস্তাফিজ কিছুটা পুনরুদ্ধার করেছেন—আইসিসি-র সাপ্তাহিক র‍্যাঙ্কিংয়ে উনি উন্নতি করে সুখবর পেয়েছেন।

    আইসিসি সাপ্তাহিক হালনাগাদে দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি বোলার র‍্যাঙ্কিংয়ে মোস্তাফিজ এক ধাপ উঠে এখন সপ্তম স্থানে। তাঁর রেটিং পয়েন্ট ৬৬৫। সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিলেন গত বছরের ডিসেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে। গত বছর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে মোস্তাফিজ খেলেছেন ২০টি ম্যাচ, নিয়েছেন ২৬ উইকেট এবং তাঁর ইকোনমি ছিল ৬.০৯।

    মোস্তাফিজের সঙ্গে সঙ্গে আরেক তরুণ বোলার রিশাদ হোসেনেরও র‍্যাঙ্কিংয়ের উন্নতি হয়েছে। রিশাদ এখন এক ধাপ এগিয়ে সপ্তরহণ করে ১৭ নম্বরে উঠে এসেছেন; তাঁর রেটিং পয়েন্ট ৬১৯। গত বছর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে রিশাদই বাংলাদেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৩ উইকেট নিয়েছিলেন।

    আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি বোলারদের তালিকায় পাকিস্তানের লেগস্পিনার আবরার আহমেদ এখন চতুর্থ স্থানে; সমান ৬৯১ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে নিউজিল্যান্ডের জ্যাকব ডাফির সঙ্গেও তিনি যৌথভাবে চতুর্থ। আফগানিস্তানের স্পিনার মুজিব উর রহমান পাঁচ ধাপ এগিয়ে এখন নবম স্থানে পৌঁছেছেন; তাঁর রেটিং পয়েন্ট ৬৫৬। মুজিব সাম্প্রতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে অসাধারণ ভূমিকা রেখেছেন—সিরিজে মোট ৬ উইকেট নিয়েছেন এবং একটি ম্যাচে হ্যাটট্রিকও করেছেন।

    আজ বিশাখাপত্তনমে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে ভারত-নিউজিল্যান্ড সিরিজের চতুর্থ টি-টোয়েন্টি। সিরিজের মাঝেই আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ে আরও কিছু বড় নামের স্থান পরিবর্তন হয়েছে—জসপ্রীত বুমরা চার ধাপ এগিয়ে এখন ১৩ নম্বরে দাঁড়িয়ে; নিউজিল্যান্ড সিরিজে দুই ম্যাচে তাঁর ইকোনমি ৬.৫৭ এবং মোট ৩ উইকেট আছে। আরো একটি চোখে পড়া নাম বরুণ চক্রবর্তী; ৭৮৭ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি বোলারদের মধ্যে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন।

    টি-টোয়েন্টিতে অলরাউন্ডার র‍্যাঙ্কিংয়ে হার্দিক পান্ডিয়া এক ধাপ এগিয়ে তৃতীয় স্থানে উঠেছেন; নিউজিল্যান্ড সিরিজে টানা তিনটি টি-টোয়েন্টিতে তিনি মোট ৪ উইকেট নিয়েছেন এবং ব্যাটিংয়ে করেছেন ২৫ রান, হার্দিকের রেটিং পয়েন্ট ২৪৮। জিম্বাবুয়ের সিকান্দার রাজা ২৮৯ পয়েন্ট নিয়ে অলরাউন্ডার তালিকায় শীর্ষে আছেন। পাকিস্তানের সাইম আইয়ুবও অলরাউন্ডার র‍্যাঙ্কিংয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন; তাঁর রেটিং পয়েন্ট ২৭৭।

    ব্যাটারদের তালিকায় অভিষেক শর্মা ৯২৯ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন। ফিল সল্ট ও তিলক ভার্মা যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন—তাদের রেটিং পয়েন্ট ৮৪৯ ও ৭৮১। ভারতের ব্যাটসম্যান সূর্যকুমার যাদব টি-টোয়েন্টি ব্যাটিং র‍্যাঙ্কিংয়ে পাঁচ ধাপ এগিয়ে সপ্তম স্থানে উঠে এসেছেন; তাঁর রেটিং পয়েন্ট ৭১৭। নিউজিল্যান্ড সিরিজে সূর্যকুমার দুইটি ফিফটি করেছেন এবং সিরিজে সর্বোচ্চ ১৭১ রান সংগ্রহ করেছেন। অভিষেক শর্মাও সিরিজে ১৫২ রান করেছেন, যার মধ্যে ২৫ জানুয়ারি গুয়াহাটিতে ১৩ বলেই একটি ফিফটি ছিল।

    ভারত নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজে প্রথম তিনটি টি-টোয়েন্টি জিতে সিরিজ নিশ্চিত করেছে; এখনো দুটি ম্যাচ বাকি রয়েছে। মোস্তাফিজসহ বাংলাদেশি ক্রিকেটপ্রেমীরা অবশ্য আশা রাখছেন, সামনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ ও পারফরম্যান্সে আরও স্থায়ীত্ব এসে তাঁরা আরও ওপরে উঠবেন।