Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • চীন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে চায়

    চীন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে চায়

    চীন বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব আরও গভীর এবং বাস্তব সহযোগিতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বেইজিংয়ে বুধবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এসব প্রতিশ্রুতি দেন এবং দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন।

    বৈঠকে উভয় পক্ষ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং বৈঠক শেষে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। ওয়াং ই বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ঐতিহ্যগত বন্ধুত্বকে আরও মজবুত করতে চায় বেইজিং এবং পারস্পরিক রাজনৈতিক আস্থা ও বাস্তব সহযোগিতা জোরদারে তাদের আগ্রহ রয়েছে। তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশের জাতীয় উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে থাকতে চায়।

    ওয়াং ই আরও জানান, চীন বাংলাদেশে একতা ও স্থিতিশীলতা রক্ষা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন পুনরুজ্জীবিত করা এবং সাধারণ জনগণের জীবনমান উন্নয়নে বাংলাদেশের নতুন সরকারের উদ্যোগকে সমর্থন করছে। তিনি বলেন, চীন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করে বাংলাদেশকে সহায়তা অব্যাহত রাখবে।

    দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্র হিসেবে চীন অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো, পানি সংরক্ষণ, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, সবুজ উন্নয়ন ও ডিজিটাল অর্থনীতিকে উল্লেখ করেছে। পাশাপাশি চীন বলেছে, বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগকে সমর্থন করতে তারা বাংলাদেশের জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উচ্চমানের বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্প সমন্বয় করতে প্রস্তুত। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, চীনের উন্নয়নমূলক সম্পর্ক কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয় এবং তৃতীয় পক্ষ এসব সম্পর্ককে বিঘ্নিত করতে পারবে না।

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও চীন দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং চীন সবসময় বাংলাদেশের আস্থাভাজন অংশীদার। তিনি জানান, নতুন সরকার চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও নিবিড় করতে আগ্রহী এবং তাইওয়ান ইস্যুতে বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে চীনের পাশে আছে—বাংলাদেশ এক চীন নীতি অনুসরণ করে এবং চীনের জাতীয় পুনর্মিলনের আকাঙ্ক্ষাও বাংলাদেশ সমর্থন করে।

    ড. খলিলুর রহমান চীনের দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতাকে সাধুবাদ জানিয়ে বলছেন, বাংলাদেশ সম্পর্ককে সার্বিকভাবে আরও গভীর করে двountryয়েককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চায়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ চীনা বিনিয়োগকে স্বাগত জানায় এবং চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য স্থিতিশীল ও উপযুক্ত ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

  • নাসির ও তামিমার মামলার রায় ঘোষণার দিন—১০ জুন

    নাসির ও তামিমার মামলার রায় ঘোষণার দিন—১০ জুন

    ঢাকার একটি আদালত ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও তাঁর স্ত্রী তামিমা সুলতানা (তাম্মি) বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণার দিন ১০ জুন নির্ধারণ করেছেন। বুধবার (৬ মে) অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে উভয় পক্ষের যুক্তি-প্রতিযোগিতা শেষে রায় ঘোষণার জন্য এ দিন ধার্য করা হয়।

    বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশরাত হাসান সাক্ষ্য-প্রমাণের পর আসামিদের সর্বোচ্চ দণ্ড দাবি করেন। বিপরীতে আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু তাদের নির্দোষ দাবি করে খালাসের আবেদন করেন। উভয় পক্ষই শুনানিতে আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

    ঘটনার সূত্রপাত ঠিক করা হয়েছে ২০২১ সালের দিকে। ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১ তাম্মির সাবেক স্বামী রাকিব হাসান ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। বিবরণে বলা হয়েছে, তাম্মি ও রাকিবের বিবাহ হয়েছে ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি এবং তাদের একটি আট বছরের মেয়েও আছে। তাম্মি পেশায় কেবিন ক্রু। ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তাম্মি ও নাসিরের বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি রাকিবের নজরে আসে এবং পরে পত্রপত্রিকায় ব্যাপারটি জানতে পারেন।

    আভিযোগে বলা হয়েছে, রাকিবের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক চলমান থাকতেই তাম্মি নাসিরকে বিয়ে করেছেন, যা ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় আইনের পরিপ্রেক্ষিতে অবৈধ। এছাড়া তাম্মিকে প্রলুব্ধ করে নিজের কাছে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে। এই অনৈতিক ও আইনবিরুদ্ধ সম্পর্কের ফলে রাকিব ও তাদের কন্যা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছেন এবং রাকিবের উপর অপূরণীয় মানহানির ক্ষতিও হয়েছে, দাবি করেছেন মামলা করার সময় তিনি।

    অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয় ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২-এ। মামলায় নাসিরের শাশুড়ি সুমি আক্তারকে পরে অব্যাহতি দেওয়া হয়। দুই পক্ষই বিভিন্ন আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন আবেদন করেন। এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুর্শিদ আহাম্মেদ উভয় পক্ষের রিভিশন নামঞ্জুর করে মামলাটি চলবে বলে নির্দেশ দেন এবং সুমি আক্তারের অব্যাহতি বহাল রাখেন।

    মামলায় মোট ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে এবং সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় ১৬ এপ্রিল। এছাড়া মামলার মধ্যে আসামিদের আত্মপক্ষ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাম্মির সাফাই সাক্ষীর জবাব শেষে আদালত যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য ৬ মে দিন ধার্য করেন; ওই দিনই উভয় পক্ষ যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য ১০ জুন নির্ধারণ করা হয়।

  • নিজামির পুত্র, হাজী শরীয়তুল্লাহর বংশধর ও ‘ওয়ারিয়র্স অব জুলাই’রা এনসিপিতে যোগ

    নিজামির পুত্র, হাজী শরীয়তুল্লাহর বংশধর ও ‘ওয়ারিয়র্স অব জুলাই’রা এনসিপিতে যোগ

    জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর মতিউর রহমান নিজামীর ছোট ছেলে ড. মোহাম্মদ নাদিমুর রহমান, ফরায়েজী আন্দোলনের নেতা হাজী শরীয়তুল্লাহর বংশধর আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন, গাজীপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক এমএএইচ আরিফ ও ‘ওয়ারিয়র্স অব জুলাই’ সংগঠনের সদস্যরা। মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারের এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের কথা জানান।

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ড. মোহাম্মদ নাদিমুর রহমান বর্তমানে তুরস্কের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত থাকায় সশরীরে উপস্থিত ছিলেন না; তিনি অনলাইনের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন। আয়োজকরা দাবি করেন, ‘ওয়ারিয়র্স অব জুলাই’ দলের প্রায় চার হাজার সদস্য এনসিপিতে যোগ দিয়েছে, যদিও ওই অনুষ্ঠলে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন প্রায় ৫০ জন সদস্য।

    হাজী শরীয়তুল্লাহর বংশধর আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্যে বলেন, ‘‘হাজী শরীয়াতুল্লাহ কোনো রাজা ছিলেন না; তিনি দেশের সাধারণ কৃষক জনতার নেতা ছিলেন। নেতা আর রাজা হওয়ার মধ্যে মৌলিক পার্থক্য আছে। আমি এনসিপিতে একজন কর্মী হিসেবে থেকে দলের নীতির সঠিকতা বজায় রাখতে কাজ করব। যদি কোনো নেতা ভুল পথে চলে, দল থেকে আমরা তাঁকে ফেরাতে কাজ করবো; যদি দলের কোন সিদ্ধান্ত অন্যায় হয়ে থাকে, সেখানে আমি ন্যায়ের পক্ষে কথা বলবো এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াবো।’’

    এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, ‘‘দেশের পথ হারানো রাজনীতির হাল ধরবে এনসিপি। সংসদে যারা প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতার পরিচয় দিচ্ছে—তাদের কাজ ভালো ফল দেবে না। আমরা অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আহ্বান জানাচ্ছি।’’

    দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম_bn(সারজিস আলম?) অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোকে বর্তমান শাসকদল নিজেদের ভাগবাটোয়ারা ও লুটপাটের মঞ্চ বানানোর চেষ্টা করছে। তিনি দ্রুত সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান এবং বললেন এগুলো এ বছরের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত।

    দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সরকারকে তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘‘বর্তমান সরকার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং তা সংসদে উলঙ্গভাবে প্রকাশ করেও লজ্জা পায় না। ইতিহাস সাক্ষী—যারা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে, শেষমেষ জনগণের দ্বারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘হোসাইন মুহাম্মদ এরশাদের মতো প্রশাসক নিয়োগে দেশ চালানোর চেষ্টা যারা করে—they are attempting the same model—and তারেক রহমানও এরশাদের পথেই যেতে চাইছে; তারা গণতন্ত্রকে কেবল তাদের রাজনৈতিক সুবিধার একটি হাতিয়ার বানিয়েছে।’’

    সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে নতুন যোগদানকারীদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে দলীয় নেতৃত্ব ও নতুন সদস্যদের মধ্যে স্বাগত ও সংক্ষিপ্ত আলাপচারিতাও অনুষ্ঠিত হয়।

  • ১০ মে এনসিপি ঘোষণা করবে উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থীর তালিকা

    ১০ মে এনসিপি ঘোষণা করবে উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থীর তালিকা

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেছেন, শনিবার ৩০ এপ্রিলের মধ্যে দলের হয়ে ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভায় উপজেলা চেয়ারম্যান এবং পৌরমেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করার ভাবনা ছিল। তবে ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক কিছু কারণে সেই সময়সীমা মানা সম্ভব হয়নি, ফলে ঘোষণা পিছিয়ে গেছে।

    তিনি বলেন, আমরা এখন আশা করছি আগামী ১০ মে’র মধ্যে এনসিপি প্রাথমিকভাবে সমর্থিত উপজেলার চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করতে পারব।

    সারজিস আলম আজ (০৫ মে), রাজধানীর বাংলামোটর রূপায়ন টাওয়ারস্থ দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে রাজনৈতিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিকদের যোগদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে যোগদানের প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, দলকে শক্তিশালী করে স্থানীয় পর্যায়ে এককভাবে প্রতিযোগিতা করার প্রস্তুতি চলছে।

    তিনি আরও জানান, এ মাসের মধ্যেই সাতটি সিটি কর্পোরেশনে এনসিপি সমর্থিত মেয়রপ্রার্থীদের নাম জানানো হবে। বর্তমানে তারা একটি ১১ দলীয় জোটে থাকা সত্ত্বেও একদিকে বিরোধী দল হিসেবে সংসদে ভূমিকা পালন করছে, অন্যদিকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হয়ে এককভাবেও ভোট প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে।

    সারজিস আলম অভিযোগ করেন, বিএনপি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি টানাটানি করে পিছিয়ে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে এবং ইতোমধ্যে জেলা ও সিটি কর্পোরেশন পর্যায়ে প্রশাসন প্রদানের কাজ করছে। তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়ে এখন কোন কার্যকর উপজেলা চেয়ারম্যান নেই; তারা ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার জন্য পুরোনো কৌশল আবার শুরু করেছে এবং এমন কথাও শুনতে পাচ্ছি যে উপজেলা পরিষদ বিলুপ্ত করার চেষ্টা চলছে।

    এই ধরনের পদক্ষেপ তারা নিলে তা তাদের জন্য ক্ষতিকর হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি এবং দাবি করেছেন, সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচনের ব্যবস্থা এ বছর থেকেই সম্পন্ন করা উচিত।

  • এপ্রিল মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ৩১২ কোটি ৭০ লাখ ডলার

    এপ্রিল মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ৩১২ কোটি ৭০ লাখ ডলার

    সদ্য শেষ হওয়া এপ্রিল মাসে দেশে প্রবাসীরা পাঠিয়েছে ৩১২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। যা প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০ কোটি ৪২ লাখ ডলার হয়ে দাঁড়ায়—এই তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

    গত বছরের একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৭৫ কোটি ২০ লাখ ডলার, ফলে বছর ব্যবধানে প্রবাহ বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৯৩৩ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯.৫০ শতাংশ বৃদ্ধি।

    এক নজরে মাসভিত্তিক কিছু পরিসংখ্যান: মার্চে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার ডলার—এটি এক মাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড। ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারি মাসে যথাক্রমে এসেছে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ও ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার। ডিসেম্বরে এসেছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ; নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার।

    আগস্ট ও জুলাইয়ে এসেছে যথাক্রমে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ও ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার; সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের রেমিট্যান্স ছিল যথাক্রমে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ thousand ও ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ thousand ডলার।

    এদিকে, গণ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীদের মোট রেমিট্যান্স দাঁড়িয়েছে ৩০.৩২ বিলিয়ন (অর্থাৎ ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ) মার্কিন ডলার—যা কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রাপ্তি হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।

  • সোনার দাম কমল: ২২ ক্যারেট ভরি নেমে ২,৪০,৩৩৭ টাকায়

    সোনার দাম কমল: ২২ ক্যারেট ভরি নেমে ২,৪০,৩৩৭ টাকায়

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) দেশের বাজারে সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সোনার দাম সর্বোচ্চ ভরিতে ২,২৫৮ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। নতুন মূল্য বুধবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

    বাজুস জানিয়েছে যে তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার আন্তর্জাতিক মূল্য কমায় স্থানীয় বাজারে দাম কমানো সম্ভব হয়েছে। প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নির্ধারিত নতুন মূল্য অনুযায়ী সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার মূল্য এখন ২ লাখ ৪০ হাজার ৩৩৭ টাকা। গতকাল সোমবার (৪ মে) একই ক্যারেটের দাম ছিল ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা।

    অন্যান্য ক্যারেটের নতুন দামগুলো হচ্ছে: ২১ ক্যারেট প্রতি ভরি ২ লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেট প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৬ হাজার ৬৫৫ টাকা এবং সনাতনী পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার ১৪৭ টাকা।

    রুপার দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি দাম ৫ হাজার ৪৮২ টাকা; ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ১৯০ টাকা; ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৪৯০ টাকা এবং সনাতনী পদ্ধতির রুপার প্রতি ভরি দাম ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা।

    বিশ্ববাজারে গত কিছু সময় ধীরে ধীরে ওঠানামা দেখা গেছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনার পর সোনার দাম বেড়ে ওঠে; পরবর্তীতে মূল্য সামঞ্জস্য হওয়ায় নেভে এসেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম এখন প্রায় ৪,৫০০ ডলার নেমে এসেছে — যেখানে গত ৩০ জানুয়ারি এই মূল্য ছিল প্রায় ৫,২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি ছিল প্রায় ৫,৫৫০ ডলার।

  • মধ্যমগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে হত্যা

    মধ্যমগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে হত্যা

    পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়া এলাকায় বুধবার রাতে গুলোধর্ষণে নিহত হন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথ। পুলিশের বরাতে দেশীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, হৃদয়বিদারক এই ঘটনার সময় তাঁর মাথায় পরপর তিনটি গুলি নোট করা হয়েছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতের সময় চন্দ্রনাথের গাড়িকে লক্ষ্য করে হামলা করা হয়। দুর্বৃত্তরা গাড়ির পিছু নিয়ে দোহাড়িয়ার একটি স্থানে পৌঁছালে অন্তত চারটি রাউন্ড গুলি ছোড়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হামলার সময় তার সঙ্গে থাকা বুদ্ধদেব বেরা আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

    চন্দ্রনাথ রথ পূর্ব মেদিনীপুর জেলার হলেও উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে বসবাস করতেন। রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য অনুযায়ী তিনি শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘদিনের ভরসা ও ব্যক্তিগত সহকারী ছিলেন—২০১৮ সাল থেকে অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলেন এবং শুভেন্দুর ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক সব কাজকর্ম, যোগাযোগ ও সভা-সমাবেশের তদারকি করতেন।

    সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম থেকে জয়ী হয়েছেন। নির্বাচনের তত্ত্বাবধানে এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনায় চন্দ্রনাথর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ন। এই মুহূর্তে শুভেন্দুর রাজনৈতিক অবস্থান ও দলের পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র আলোচনা—সেই প্রেক্ষাপটে তার ঘনিষ্ঠ সহকারীর ওপর এই হামলার ফলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পরিকল্পনার কথা অনেকে উল্লেখ করছেন।

    ঘটনার পর দ্রুত পুলিশ, র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স ও কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকা ঘিরে ফেলে। গুলিবিদ্ধ যানবাহন উদ্ধার করে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। জেলা পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে, তবে এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

    খবর পেয়ে বিজেপির একাধিক নেতা ও বিধায়ক ঘটনাস্থল এবং হাসপাতালে ছুটে বেড়ান। তারা আহত এবং নিহত ব্যক্তির পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন এবং প্রাথমিক বিবরণ সংগ্রহ করেন; অনেকে এই ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে অভিহিত করেছেন।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে, বিশেষ করে দ্বিতীয় দিক থেকে গুলিবর্ষণের মতো ঘটনায় জনজীবন অস্থির হয়ে পড়েছে। পুলিশ পুলিশের ওপর চাপা দেয়ার পাশাপাশি এলাকায় পর্যাপ্ত চেকপোস্ট স্থাপন ও তল্লাশির কাজ বাড়িয়েছে।

    প্রসঙ্গক্রমে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও পরিকল্পনাকারীদের খুঁজে বের করতেই তদন্ত চলছে। পুলিশ সম্ভব প্রমাণ সংগ্রহ ও সিসিটিভি ফুটেজ, মুঠোফোন কল রেকর্ড ও সានিনদের বয়ান যাচাই করছে। ঘটনার সব দিক পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত বা মন্তব্য করা হয়নি।

  • এক পৃষ্ঠার সমঝোতা স্মারক: ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের দোরগোড়ায় যুক্তরাষ্ট্র

    এক পৃষ্ঠার সমঝোতা স্মারক: ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের দোরগোড়ায় যুক্তরাষ্ট্র

    হোয়াইট হাউস মনে করছে, এক পৃষ্ঠার সমঝোতা স্মারকই ইরানের সঙ্গে চলমান শত্রুতা শেষ করে দিতে পারে। ওই স্মারকের সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য একটি বিস্তারিত আলোচনার কাঠামোও স্থাপন করা হবে — এ খবর বুধবার (৬ মে) প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম এক্সিওস।

    সংবাদটি বলছে, দুই পক্ষ যদি ঐ স্মারকে সম্মত হয়, তাহলে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখার প্রতিশ্রুতি দেবে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে, ইরানের জব্দ থাকা কয়েক বিলিয়ন ডলার ছেড়ে দেবে এবং নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে। একই সঙ্গে ইরান হরমুজ প্রণালীতে আরোপিত কিছু বিধিনিষেধ তুলে নেবার কথাও ভাবছে।

    তবে এখনও কোনো চূড়ান্ত সম্মতি হয়েছে বলে বলা যাচ্ছে না। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন ইস্যুতে যে আপোষ হয়েছে, সেগুলো মিলিয়ে এখন পরিস্থিতি সামান্য হলেও সুষ্ঠুভাবে এগোচ্ছে — তথাপি মূল বিরোধগুলো মুছে যায়নি। স্মারকের শর্তগুলো বাস্তবায়িত হবে কীভাবে তা এক চূড়ান্ত চুক্তির ওপর নির্ভর করবে; যদি তা ব্যর্থ হয়, পরিস্থিতি পুনরায় জটিল বা তীব্র হলে সামরিক উত্তেজনা বাড়তে পারে।

    এক্সিওসকে মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, ইরানি নেতৃত্ব আদেশে কিংবা নীতিগত একমত না হওয়ায় চূড়ান্ত সম্মতি টানাটানির মধ্যে পড়তে পারে। ফলে এই প্রাথমিক সমঝোতা স্মারকটিও শেষ পর্যন্ত না হতে পারে বলে তারা সন্দিহান।

    সমঝোতা স্মারকটি এক পৃষ্ঠার একটি খসড়া যাতে মোট ১৪টি দফা আছে। এই বিষয়গুলো নিয়ে ইরানের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জার্ড ক্রুসনার। মার্কিন দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ায় ট্রাম্প হরমুজে নতুন কোনো অভিযানের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন।

    পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্মারক গ্রহণ করা হলে মধ্যপ্রাচ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হবে এবং এরপর ৩০ দিনের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনার সময়সীমা শুরু হবে। ওই সময়ে হরমুজ খোলা রাখা, ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত রাখা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সমঝোতা চূড়ান্ত করার জন্য আলাপচারিতা চলবে। সেই আলোচনা হতে পারে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে বা সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়।

    আলোচনার ধাপগুলোতে ধীরে ধীরে ইরান হরমুজে আরোপিত বিধিনিষেধ উঠিয়ে নেবে এবং যুক্তরাষ্ট্র নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও অর্থ মুক্তি প্রদান করবে — তবে সবকিছুই পর্যায়ক্রমে হবে। আর যদি আলোচনাগুলো ভেস্তে যায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় নৌ-অবরোধ আরোপ বা সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের পথে ফিরতে পারে।

    তারা ইরান কতদিন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখবে সেটাও নিয়ে আলোচনা করছে; এ মুহূর্তে ১২ বছরের কথা বলা হচ্ছে এবং তা ১৫ বছর পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছরের রকমের শর্ত দিয়েছিল, কিন্তু ইরান প্রথমে মাত্র ৫ বছর সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখার প্রস্তাব দিয়েছিল।

    সমঝোতা স্মারকে ইরানের পক্ষ থেকে চুক্তিভিত্তিক প্রতিশ্রুতি থাকতে পারে যে তারা কখনই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক সুবিধাগুলোর কার্যক্রম সীমিত বা বন্ধ রাখার বিষয়টিও আলোচনার সূচনায় রয়েছে। পাশাপাশি ইরানকে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-র তত্ত্বাবধানে পরিদর্শন ও নজরদারি দিতে হবে।

    আর এক বাবি হল সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়ামের স্থানান্তর—এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, এগুলো যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে আনা হতে পারে।

    সূত্র: এক্সিওস

  • নড়াইলে ঘুমন্ত স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, স্বামী গ্রেফতার

    নড়াইলে ঘুমন্ত স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, স্বামী গ্রেফতার

    নড়াইলের বাহিরগ্রাম মধ্যপাড়া এলাকায় আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে ঘুমন্ত স্ত্রীর উপর তলোয়ারنما বটিতে আঘাত করে হত্যার অভিযোগে স্বামী সাকিব শেখ (২৫)কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রাত দেড়টার দিকে ঘটেছে এই নৃশংস ঘটনা।

    নিহত গৃহবধূ খাদিজা আক্তার চাঁদনী (২০) খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলার আলকা গ্রামের কালাম শেখের মেয়ে। অভিযুক্ত সাকিব শেখ একই উপজেলার দামোদার গ্রামের জাহিদ শেখের ছেলে। তাদের সংসারে সাড়ে তিন বছর বয়সী একটি ছেলে, তুফান, রয়েছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত সোমবার (৪ মে) দুপুরে খুলনা থেকে সাকিব ও চাঁদনী নড়াইলের বাহিরগ্রাম মধ্যপাড়া এলাকায় সাকিবের খালুর বাড়িতে যেতে। রাতের খাবার শেষে সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। রাত দেড়টার দিকে ঘুমন্ত অবস্থায় সাকিব চাঁদনীকে বটি দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন। চাঁদনীর চিৎকারে স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    স্থানীয়দেরও অভিযোগ, সাকিব মাদকাসক্ত এবং কর্মবিমুখ হওয়ায় দম্পতির মাঝে প্রায়ই পারিবারিক কলহ থাকত। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাকিবও পারিবারিক কলহের বিষয়টি স্বীকার করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    নড়াইল সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ কামরুজ্জামান জানান, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং সন্দেহভাজন সাকিবকে আটক করেছি। ঘটনার সঙ্গে ব্যবহৃত খড় কাটা বটি, বিছানার চাদরসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং তদন্ত চলছে।

  • এসএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণ: যশোর বোর্ডে কেন্দ্র সচিবসহ তিনজনকে অব্যাহতি

    এসএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণ: যশোর বোর্ডে কেন্দ্র সচিবসহ তিনজনকে অব্যাহতি

    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এসএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে যশোর শিক্ষা বোর্ড কেন্দ্র সচিবসহ তিনজনকে গতিবরে অব্যাহতি দিয়েছে। বোর্ড আশ্বস্ত করেছে, ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীর ফলাফলে কোনো প্রভাব পড়বে না।

    জানা গেছে, ৩০ এপ্রিল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলার সলিমুন্নেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষার সময় এ দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটে। কেন্দ্রের ২০৪ নম্বর কক্ষে নলডাঙ্গা ইব্রাহিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের অনিয়মিত পরীক্ষার্থী সাদিয়া খাতুন অংশ নিই। অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য পৃথক প্রশ্নপত্র থাকা সত্ত্বেও কক্ষ পরিদর্শকরা ভুলবশত তাকে নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র বিতরণ করেন।

    পরীক্ষা শেষে বাড়িতে পৌঁছে পরিস্থিতি টের পেয়ে সাদিয়া বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানায়। পরে তদন্ত করে বিষয়টি সত্য প্রমাণিত হওয়ায় কক্ষ পরিদর্শক—সুন্দুরপুর চাঁদবা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুস সালাম এবং কে.পি.কে.বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাসির উদ্দীনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

    ঘটনায় কেন্দ্র সচিব ও সলিমুন্নেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিদৌরা আক্তারকেও স্থানে থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাঁর জায়গায় সহকারী প্রধান শিক্ষক গৌতম তরফদারকে নতুন কেন্দ্র সচিব হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।

    বিদৌরা আক্তার অব্যাহতির বিষয়ে জানান, অনিয়মিত পরীক্ষার্থীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নপত্র তিনি সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের চিহ্নিত করে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন এবং এই বিষয়ে ভিডিও প্রমাণও আছে। তবুও কেন তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, তা তিনি বোধগম্য করেন না।

    কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা রয়েছে এবং যশোর শিক্ষাবোর্ড প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল আলিম জানান, কেন্দ্র সচিব পরিবর্তনের কথা তিনি শুনেছেন, তবে এখনো লিখিত কোনও নির্দেশনা পাননি।

    যশোর শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. আব্দুল মতিন বলেন, ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের দায়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে ওই পরীক্ষার্থীর কোনো ক্ষতি হবে না এবং সে প্রশ্নপত্র অনুযায়ী তার উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হবে।

    ঘটনাটি পরীক্ষাকেন্দ্রে তদারকি ও দায়িত্ব পালনের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য পৃথক প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আরও কঠোর সতর্কতা ও নির্ধারিত প্রটোকল অনুসরণের দাবি তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।