Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • পিসিবি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রতি সংহতিতে তিন বিকল্প ভাবছে

    পিসিবি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রতি সংহতিতে তিন বিকল্প ভাবছে

    পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ বজায় রেখে বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানাতে তিনটি বিকল্প সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম সামা টিভির প্রতিবেদনের সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

    সূত্র বলছে, পিসিবির অভ্যন্তরে আলোচনা চলছে: কীভাবে টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারেন এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতি সহমর্মিতা ও প্রতিবাদ প্রকাশ করা যায়। বিষয়গুলো বোর্ডের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে গুরুত্বসহকারে তোলা হয়েছে এবং কর্মকর্তারা, সাবেক ক্রিকেটাররাও এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন।

    পিসিবি চেয়ারম্যান মোহসিন নকভি বোর্ড কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সাবেক খেলোয়াড়দের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। পিএসএল–সংক্রান্ত এক কর্মশালাতেও বিষয়টি উঠে আসে এবং সেখানে নকভি বাংলাাদেশ দলের পক্ষে জোরালো অবস্থান ব্যক্ত করেন। নকভি বলেন, বাংলাদেশ দলকে “অবহেলা ও অপমান” করা হয়েছে এবং তাদের একা ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়।

    পিসিবি যে তিনটি বিকল্প ভাবছে, সেগুলো হলো:

    – কালো বাহুবন্ধনী পরা: পাকিস্তানি খেলোয়াড়রা ম্যাচে কালো বাহুবন্ধনী পরে মাঠে নামতে পারেন, যা বাংলাদেশের প্রতি সংহতির প্রতীক হবে।

    – ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জন: ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচটি বয়কট করার চিন্তা চলছে, যা ভারতের নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে নেওয়া হতে পারে।

    – জয় উৎসর্গ করা: বিশ্বকাপে পাকিস্তান যে ম্যাচগুলো জিতবে, সেগুলো বাংলাদেশি ক্রিকেট সমর্থকদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    সূত্র জানায়, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন পাকিস্তানের সরকার—প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। মোহসিন নকভির সঙ্গে তার একটি বৈঠক আজ নির্ধারিত আছে; ওই বৈঠকেই সিদ্ধান্ত করা হবে যে পাকিস্তান বিশ্বকাপে কীভাবে অংশ নিবে এবং কোন প্রতিবাদমূলক পথ অনুসরণ করা হবে।

    পিসিবি কর্মকর্তারা বলেছেন, কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পাকিস্তানের ক্রিকেটীয় স্বার্থকে প্রধান্য দিয়ে একই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতি সংহতির বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হবে। মোহসিন নকভি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অবস্থান নীতিনির্ভর এবং পাকিস্তান সেই নীতিকে সম্মান করে; তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, ক্রিকেটকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা কারও জন্যই ভালো নয়।

    পিসিবি জানিয়েছে, সরকার যা সিদ্ধান্ত দেবে, বোর্ড সেটাই অনুসরণ করবে এবং আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের বিষয়টি সেই সিদ্ধান্তের আলোকে চূড়ান্ত হবে।

  • ছাদখোলা বাসে ট্রফি নিয়ে রাজশাহী ঘুরলেন শান্ত-মুশফিকরা

    ছাদখোলা বাসে ট্রফি নিয়ে রাজশাহী ঘুরলেন শান্ত-মুশফিকরা

    বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বাদশ আসরের চ্যাম্পিয়ন হয়ে শহরজুড়ে উল্লাসে ভাসছে রাজশাহী। গত শুক্রবার চট্টগ্রাম রয়্যালসকে হারিয়ে শিরোপা জেতার আনন্দ ভাগ করার জন্য রাজশাহী ওয়ারিয়র্স দলের খেলোয়াড়রা ট্রফি নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ শহরের বিভিন্নস্থলে পদযাত্রা করেন।

    সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ছাদখোলা বাসে রয়্যালগুলোর ট্রফি মাথায় নিয়ে রাবি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে দলটি। তারা কাজলা গেট দিয়ে ঢুকে প্যারিস রোড ও জোহা চত্বর প্রদক্ষিণ করে মেইন গেট দিয়ে বেরিয়ে যান।

    টিম বাসের চারপাশে ছাত্রছাত্রী ও স্থানীয়দের ভিড় চোখে পড়ে। অনেক শিক্ষার্থী নিজেরা পরা টি-শার্ট বাসের দিকে ছুঁড়ে দেওয়ায় শান্ত, মুশফিক ও তামিমের কাছ থেকে অটোগ্রাফ নিয়েছে তারা। ছাদখোলা বাস থেকে খেলোয়াড়রা বা হাতে থাকা জার্সি বাড়িতে ছুড়ে দিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দেয়। জার্সি সংগ্রহ করতে গেলে শিক্ষার্থীদের উত্তেজনা পরিষ্কার দেখা গেছে।

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাহিম হাসান বলেন, “রাজশাহী চ্যাম্পিয়ন হয়েছে—এটা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। সরাসরি খেলোয়াড়দের দেখতে পারছি, খুব উত্তেজিত।” তিনি জানিয়েছেন, এটি তার প্রথম অভিজ্ঞতা যেখানে ছাদখোলা বাসে সরাসরি ট্রফি উদযাপন দেখছেন।

    রাবি স্কুলের শিক্ষার্থীরাও সংবর্ধনায় অংশ নেয়। তারা বলেন, বিপিএলে রাজশাহীর জয় মানে তাদেরও আনন্দ; দল দ্বিতীয়বার শিরোপা জেতায় খুশি। কেউ কেউ আক্ষেপও করেছেন যে সবাই জার্সি পায়নি—কোনো এক শিক্ষার্থী একটুকরো জার্সি পেয়ে সেটিও কেড়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন কিছু শিক্ষার্থী।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাঈমুর রহমান শান্ত-মুশফিকদের কাছ থেকে জার্সি পেয়েছেন। তিনি বলেন, “জার্সি পেয়ে আমি খুব খুশি। আমি রিজিওনাল লোকাল না হলেও রাজশাহীর জয় আমাকে আনন্দ দিয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকপক্ষকে ধন্যবাদ, তারা ভালো দল গড়েছে এবং এখন শহরের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করছে।”

    উল্লেখ্য, বিপিএলের ফাইনাল ম্যাচে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে হারিয়ে রাজশাহী দ্বিতীয়বার শিরোপা জিতেছে। এর আগে ২০১৯–২০ মৌসুমে দলটি প্রথমবার শিরোপা জয় করেছিল। ট্রফি নিয়ে এই আনন্দে রাজশাহী শহর এখন উৎসবমুখর।

  • ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদের মৃত্যু

    ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদের মৃত্যু

    ঢালিউডের স্বপরিচিত নায়ক ও কালজয়ী নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ আর নেই। গত দীর্ঘ সময় ক্যানসারে ভুগে ৮২ বছরে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন), খবরটি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান।

    জাভেদ দীর্ঘদিন ধরেই ক্যানসারসহ নানা জটিল শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। গত বছরের এপ্রিলেও তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। কিছুদিন ধরেই তিনি বাড়িতেই চিকিৎসাসেবা নিচ্ছিলেন; হাসপাতালে থাকা সময় ও পরবর্তীতে চিকিৎসক ও দুজন নার্স নিয়মিত তার দেখাশোনা করছিলেন। আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হলে দুজন নার্স জানান তার সারা শরীর ঠান্ডা ছিল, এরপর অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সংবাদমাধ্যমকে মৃত অভিনেতার স্ত্রী ডলি চৌধুরী এই তথ্যটি জানিয়েছেন।

    ইলিয়াস জাভেদ ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে জন্মগ্রহণ করেন। পরে সপরিবারে পাঞ্জাবে চলে গেলেও ভাগ্যে খোদ তাঁকে ঢাকার চলচ্চিত্র অঙ্গনে নিয়ে আসে। ১৯৬৪ সালে উর্দু সিনেমা ‘নয়ী জিন্দেগি’ দিয়ে রুপালি পর্দায় নায়ক হিসেবে অভিষেক ঘটে তার। সত্যিকারের খ্যাতি আসে ১৯৬৬ সালে মুক্তি পাওয়া ‘পায়েল’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে, যেখানে তার বিপরীতে ছিলেন কিংবদন্তি নায়িকা শাবানা। পরিচালক মুস্তাফিজই তার নাম দেন ‘জাভেদ’।

    নৃত্যপরিচালনাই ছিল তার ক্যারিয়ারের শুরু; পরে নায়ক ও নৃত্যশিল্পী হিসেবে থেকে যান দর্শকদের মনে। একের পর এক ব্যবসাসফল ছবি উপহার দিয়ে তিনি দর্শকদের মধ্যে ‘ড্যান্সিং হিরো’ হিসেবে টিকে ছিলেন। পেশাগত জীবনে তিনি শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৮৪ সালে তিনি বিখ্যাত নায়িকা ডলি চৌধুরীর হাতেই বিবাহিত হন।

    জাভেদের উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে ‘মালেকা বানু’, ‘নিশান’, ‘পাপী শত্রু’, ‘রক্ত শপথ’, ‘সাহেব বিবি গোলাম’, ‘কাজল রেখা’, ‘অনেক দিন আগে’, ‘আজও ভুলিনি’, ‘কঠোর’, ‘মা বাবা সন্তান’, ‘রাখাল রাজা’, ‘রসের বাইদানী’, ‘জীবন সঙ্গী’ ও ‘আবদুল্লাহ’ প্রভৃতি।

    সত্তুর ও আশির দশকের দর্শকদের কাছে ইলিয়াস জাভেদ ছিলেন পর্দা কাঁপানো নাচ ও আকর্ষণীয় অ্যাকশনের এক আদর্শ মিশ্রণ। তাঁর প্রয়াণে বাংলা চলচ্চিত্রের একটি স্বতন্ত্র অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। চলতি সময় তার প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা জানিয়ে অনেকেই শোক প্রকাশ করছেন।

  • ওশিওয়ারায় গুলি ছোড়ার ঘটনায় বলিউড অভিনেতা কামাল আর খান গ্রেফতার

    ওশিওয়ারায় গুলি ছোড়ার ঘটনায় বলিউড অভিনেতা কামাল আর খান গ্রেফতার

    মুম্বাইয়ের ওশিওয়ারা এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে গুলি ছোড়ার অভিযোগে বলিউড অভিনেতা ও চলচ্চিত্র সমালোচক কামাল আর খান (কেআরকে)কে মুম্বাই পুলিশ গ্রেফতার করেছে। আদেশ অনুযায়ী তাকে শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) আদালতে পেশ করা হবে।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ওই এলাকায় চার রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনার ভিত্তিতে মুম্বাই পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করে এবং সন্দেহের জেরে কেআরকেকে আটক করে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়।

    জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন যে গুলিগুলো তাঁর লাইসেন্সপ্রাপ্ত বন্দুক থেকেই ছোড়া হয়েছিল। তবে অভিনেতার দাবি, তিনি কাউকে আঘাত করার উদ্দেশ্যে গুলি করেননি। পুলিশকে তিনি জানিয়েছেন যে, বন্দুক পরিষ্কার করার পর সেটি ঠিকভাবে কাজ করছে কি না পরীক্ষা করতে তিনি নিজের বাড়ির সামনের ম্যানগ্রোভ বরাবর লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়েছিলেন। পরে বাতাসে লাফানো বা বাতাসের দিক পরিবর্তনের কারণে গুলিগুলো লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পাশের একই আবাসিক ভবনে লাগেছে।

    মুম্বাই পুলিশ ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চালাচ্ছে; সিসিটিভি ফুটেজ, শুটিংয়ের দিকনির্দেশনা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য যাচাই করা হচ্ছে।

    কামাল আর খান বলিউডে বিতর্কিত মুখ হিসেবে পরিচিত। ২০২২ সালে এক যৌন হেনস্তার মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল এবং সামাজিক গণমাধ্যমে তারকাদের নিয়ে কটাক্ষসহ উসকানিমূলক মন্তব্যের জন্য তার বিরুদ্ধে একাধিক মানহানি ও আইনি মামলা আছে। এখনকের গ্রেফতারি ও ঘটনার তদন্ত সেই প্রেক্ষাপটে প্রবাসীদের নজর কেড়েছে।

  • জামায়াত আমিরের দৃঢ় দৃঢ়তা: দুর্নীতি করব না ও সহ্য করব না

    জামায়াত আমিরের দৃঢ় দৃঢ়তা: দুর্নীতি করব না ও সহ্য করব না

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্টভাবে বলেছেন, আমাদের কখনো দুর্নীতি করবেন না এবং দুর্নীতি সহ্য করব না। তিনি রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর ধূপখোলা মাঠে এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, আমরা দেশকে লুটেপুটে খাওয়ার জন্য ক্ষমতায় আসিনি। বরং আমাদের লক্ষ্য— দেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয় নিশ্চিত করা। ডা. শফিকুর রহমান প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, এক দল সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছে তারা দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করবে। কিন্তু সেই দলটির ৩৯ জন সংসদ সদস্য প্রার্থীই ঋণখেলাপি। কৌশলে তাদের প্রার্থী করা হয়েছে, এভাবে তারা কীভাবে দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করবে?

    নিজের পূর্ববর্তী একটি বক্তব্যের স্মৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমার একটা বক্তব্য নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল, মহাসাগরে ঢেউ উঠেছিল। আমি বলেছিলাম, দেশের জনগণ একজন জালিমকে বিদায় করে আবার কারো হাতে দেশ তুলে দিতে চায় না। এই কথা কি আজ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে?”

    ভোটের দিন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না জানিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, “পরবর্তী ১২ তারিখে যদি কেউ দুর্বৃত্তরা ভোটের বাক্সে হাত দেয়, তবে জনগণের সহায়তায় তাদের হাত গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।”

    দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় বা বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপের বিষয়ে তিনি কড়া ভাষায় বলেন, “বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির জন্য যখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, তখন কেউ প্রকাশ্যে হস্তক্ষেপ করছে। আমরা এই হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, অনুরোধ জানাচ্ছি— আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আর নাক গলাবেন না। এতদিন যা হয়েছে, তা টিস্যু দিয়ে মুছে ফেলেন। এখন থেকে এর পুনরাবৃত্তি হতে দেয়া হবে না। ইনশাআল্লাহ, বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে বিশ্বদরবারে দাঁড়াবে।”

    তিনি আরও বলেন, “সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকবে, তবে কারো চাপ বা আধিপত্য স্বীকার করব না। অনেকেই আমাদের দেশে নাক গলাচ্ছে; এ সব আমরা মানতে পারি না। আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়েই কোনো বিদেশি শক্তি নাক গলাতে পারবেন না।”

    অভিযুক্ত জুলাদা ১৮ কোটি দেশের নয়, বরং প্রত্যেক দেশের একেকজন মানুষের আগ্রহ। তিনি বলেন, “অবশ্যই দেশের ১৮ কোটি মানুষের স্বার্থ জড়িত এই যুদ্ধে। কাউকে বলে দেয়া যাবে না, এই যুদ্ধের মূল মাস্টাররা দেশের মানুষ— কেউ এককভাবে এই যুদ্ধের কৌশল নির্ধারণ করেনি।”

    জনগণকে তিনি আশ্বস্ত করে বলেছেন, “আপনাদের দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন থাকলে আমরা এগিয়ে যাব। আল্লাহর ওপর ভরসা রেখেই আমাদের বলেছি— চাঁদা নেব না, চাঁদা দেব না। দুর্নীতি করব না এবং তা সহ্য করব না।”

  • প্রতিপক্ষ নিয়ে কথা বললে জনগণের কোনো লাভ হবে না: তারেক রহমান

    প্রতিপক্ষ নিয়ে কথা বললে জনগণের কোনো লাভ হবে না: তারেক রহমান

    বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নিয়ে কথা বলে জনগণের কোনো লাভ হয় না। তিনি উল্লেখ করেন, আমি যদি আজ আমাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নিয়ে কথা বলতাম, তবে তা সম্ভব ছিল। কিন্তু জনগণের সুবিধার জন্য আমাদের উচিত পরিকল্পনা করে সেই সব সংকট মোকাবেলা করা—যেমন খাল খনন, স্বাস্থ্যসেবা বৃদ্ধি, তরুণপ্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা। এসব উদ্যোগই আসলে জনগণের জন্য বাস্তব সুবিধা নিয়ে আসবে।

    রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে ফেনী শহরের সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে তিনি এ সব কথা বলেন। সেখানে তিনি দেশের মানুষের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, তিনি দেশে ফিরে দেশের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা সাজিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে, নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড প্রদান, যার মাধ্যমে প্রতিমাসে একজন গৃহিণী অল্প কিছু আর্থিক সহায়তা পাবে। তিনি বলেন, অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এই সামান্য সহায়তা দিয়ে কেমন করে পরিবার চলে? তবে আমরা নিশ্চিত, এক সপ্তাহের জন্য একটু সহযোগিতা থাকলে অনেকের জীবন সহজ হয়ে উঠবে। একইভাবে কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা দিয়ে সার, বীজ ও কীটনাশক সরাসরি farmers এর কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

    ফেনীবাসীর স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা মেনে তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ আমরা একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করব। পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকাগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে একটি ব্যাপক শHealthcare system তৈরি করছি যাতে মানুষ হাসপাতালে না গিয়ে নিজের বাড়িতে রোগের চিকিৎসা পেতে পারে। এভাবে যাদের কাছে সুযোগ আছে, তারা সাধারণ মানুষদের কষ্ট কমাতে কাজ করবে।

    তারেক রহমান আরও বলেন, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য আমাদের দাবি আছে। এর পাশাপাশি আমাদের একটাই প্রত্যাশা, ধানের শীষের বিজয় হওয়া। কারণ, আমরা কি-না বলি, তা করা আমাদের কর্তব্য, এবং জনগণের সরাসরি সাহায্যেই আমাদের শক্তি।

    তিনি উল্লেখ করেন, সারা দেশে খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এক বছর আগে ফেনীসহ আশপাশের অঞ্চলগুলোতে ভয়াবহ বন্যায় থাকতে পড়েছিল, ঘরবাড়ি, ফসল ও গবাদি পশুর ব্যাপক ক্ষতি হয়। সেজন্য সারা দেশে খাল খননের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা আরও উন্নত করা হবে।

    তারেক রহমান আরও বলেন, দেশের তরুণ-তরুণীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে আমরা কProgram চালু করব। যেমন নাটোরে ইপিজেডের মতো ফেনী অঞ্চলেও উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে করে এখানকার যুবক-যুবতীরা আরও বেশি কাজের সুযোগ পাবেন।

    বক্তা বলেন, অনেক মানুষ বিদেশে অবস্থান করছে। তাদের জন্য প্রশিক্ষণ ও ভাষা শেখানোর ব্যবস্থা করে আমরা কর ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার আয়ের পথ সুগম করতে চাই। এর ফলে তারা ভালো বেতন পাবে, সেই অর্থ দেশে পাঠাতে পারবে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

    সর্বশেষ তিনি বলেন, ১৫ বছর ধরে মানুষের ভোটে ভোটের অধিকার ও বাকস্বাধীনতা হরণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে সেই স্বৈরাচার পতনের পর পরিবর্তনের হাতেখড়ি হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষ বিজয় হলে, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই পরিকল্পনাগুলি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। তিনি নিশ্চিত করেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণই সকল ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু।

    অবশেষে, সমাবেশে তিনি নোয়াখালীর বিভিন্ন সংসদীয় আসনের ধানের শীষের প্রার্থীদের পরিচিতি করিয়ে দেন। তদ্ব্যতীত, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ফেনীতে শহীদ পরিবার ও আহতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

  • আমরা ৫ বছর আমানতের চৌকিদার হতে চাই: ডা. শফিকুর রহমান

    আমরা ৫ বছর আমানতের চৌকিদার হতে চাই: ডা. শফিকুর রহমান

    বিগত দিনগুলির শাসকরা দেশের মালিক হওয়ার চেষ্টায় লিপ্ত থাকলেও জামায়াতে ইসলামী জনগণের সেবক ও চৌকিদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, মানুষের টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করার কোনও ইচ্ছে আমাদের নেই। যদি আপনাদের বিশ্বাস করে আপনারা আমাদের কাছে আমানত দেন, তাহলে আগামী পাঁচ বছর ধরে আমরা এই আমানত রক্ষা করতে চায়। স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমরা দেশের মালিক হবো না, বরং দায়িত্বের ধারক হিসেবে কাজ করবো।

    রোববার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে ঢাকা-৭ আসনের আওয়ামী লীগের মনোনীত ও ১০ দলীয় জোট সমর্থিত সংসদ সদস্য প্রার্থী হাফেজ হাজী মো. এনায়েত উল্লাহর নির্বাচনী জনসভার প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন। এ জনসভার বিষয় ছিল ‘চলো একসাথে গড়ি বাংলাদেশ’। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম এবং ডাকসু ভিপি ও ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক সাদিক কায়েম। সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ও আসনের আয়োজক আব্দুর রহমান।

    ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, যারা বলছেন, তারা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়বেন, তারা আগে নিজরা সঠিক হন। বেছে বেছে ঋণখেলাপিদের নিয়ে নির্বাচন করা ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখা সম্ভব নয়। দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় যদি সত্যিই আগ্রহী হন, তাহলে ঋণখেলাপিদের বাদ দিন। তাদেরকে বাদ দিয়ে কাজ শুরু করলে জাতি আপনাদের কাছেও সম্মান দেখাবে।

    বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, যে দল চাঁদা না পেলে নিজের দলের লোকদেরই হত্যা করে, সে দলের সঙ্গে দাঁড়ানো উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, আমরা এখন এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি যে, অস্তিত্বের প্রশ্নে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আলোর পথে হাঁটব না তো অন্ধকারের দিকে যেতে হবে। আপনাদের কি পথ বেছে নেবেন?

    যুবকদের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা যুবকদের বেকার ভাতা দিচ্ছি না, বরং তাদের হাতে কাজ দেব, যাতে তারা সম্মানের সঙ্গে জীবন যাপন করতে পারে। যুবকরাই আমাদের প্রেরণা ও শক্তি।

    গণভোটের ব্যাপারে তিনি বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে স্বাধীনতার পক্ষে, আর ‘না’ মানে দাসত্বের পক্ষে। আমাদের প্রত্যাশা, আমরা স্বাধীনতা চাই, গোলামি আমরা চাই না। ‘হ্যাঁ’ মানে নিপীড়িত ও মজলুমের পক্ষে, আর ‘না’ মানে শাসকশ্রেণির অত্যাচার, চাঁদাবাজি ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে। ঘরে ঘরে আমরা ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে প্রচারণা চালাবো। ইনশাআল্লাহ, ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হবে।

    ঢাকা-৭ আসনের প্রার্থী হাজী মো. এনায়েত উল্লাহকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়ে জামায়াতে ইসলামী নেতারা বলেন, ওল্ড ইজ গোল্ড। যত পুরনো হয়, ততই খাঁটি হয়। আমরা পুরানে ঢাকাকে আধুনিক করব না, বরং গোল্ড বানাবো। আপনারা ভোট দিয়ে এনায়েত উল্লাহকে বিজয়ী করুন যেন পুরান ঢাকাকে আসল গোল্ডে রূপান্তর করা যায়।

    বক্তব্য শেষে ডা. শফিকুর রহমান তার হাতে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক তুলে দেন এনায়েত উল্লাহর জন্য।

    নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, গত বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রতীক বরাদ্দের পর বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে সব দলের নির্বাচনী প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টার মধ্যে প্রচারণা শেষ হবে।

  • তারেক রহমানের নির্দেশ: ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র পাহারা দেবেন সমর্থকরা

    তারেক রহমানের নির্দেশ: ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র পাহারা দেবেন সমর্থকরা

    নেতা-কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে ভোট গণনা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা নজরদারি চালাতে নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রবিবার রাত সাড়ে ৮টায় চৌদ্দগ্রাম স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এ নির্দেশ প্রদান করেন।

    তারেক রহমান বলেন, ‘ভোটের দিন সকাল থেকেই ইবাদত পড়তে হবে। তাহাজ্জুদ নামাজ শেষে সবাই তাদের ভোট কেন্দ্রের সামনে যাবেন। সেখানে গিয়ে জামাতে ফজর নামাজ আদায় করবেন এবং এরপরই কেন্দ্রীয় পাহারায় থাকুন।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘তাহাজ্জুদের নামাজের মতো ফজর নামাজও জামাতে পড়ে ভোট কেন্দ্রের সামনে দৃঢ় উপস্থিত থাকুন। কেউ যেন কোনও ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করতে না পারে, এজন্য ভোটের পুরো কর্মকাণ্ডের আওতায় থাকুন।’ এরপর তিনি জোর দিয়ে প্রশ্ন করেন, ‘এটি কি সবাই মানতে রাজি? কেউ কি এর সাথে একমত?’ সমাবেশে উপস্থিত নেতা-কর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ‘হ্যাঁ’ বললে তিনি আলহামদুলিল্লাহ বলে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

    চৌদ্দগ্রামের এই আন্দোলনমূলক সমাবেশের জন্য বিকাল থেকে নেতা-কর্মীরা গ্রাম থেকে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে সমবেত হন। পুরো মাঠ তাতে পরিপূর্ণ হয়ে যায় মাগরিবের নামাজের আগেই।

    অঞ্চলটি বর্তমানে কুমিল্লা-১১ আসন হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হচ্ছেন কামরুল হুদা, আর জামায়াতের জন্য মনোনীত সদস্য হচ্ছেন দলটির নায়েবে আমীর সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

    তারেক রহমান তার বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা যদি সরকার গঠন করতে পারি, আমাদের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে কাজ শুরু করব। সম্প্রতি কিছু ব্যক্তি আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলছেন, আমরা মানুষকে ধোঁকা দিচ্ছি। তবে আমি প্রশ্ন করি, আপনি কি আমাদের প্রত্যেকে চেনেন? আমি কি কি করছি, তা তো আপনি জানেন। তাহলে কেন মানুষকে ধোঁকা দেব? এর কোনও অর্থ হয় না।’

    তিনি বলেন, ‘বিএনপি আলহামদুলিল্লাহ সফলভাবে কয়েকবার সরকার পরিচালনা করেছে। আমাদের এই অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী আমাদের কাজ বাস্তবায়িত হবে। বর্তমানে একমাত্র বিএনপিই সেই দল, যারা দেশ পরিচালনা করার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা রাখে।’

    আরও তিনি চৌদ্দগ্রামকে ‘শস্য ভান্ডার এলাকা’ হিসেবে অভিহিত করে কৃষক কার্ড, মসজিদ- মাদ্রাসার ইমাম-মোয়াজ্জিনদের জন্য সরকারি সন্মাননা এবং তাদের জন্য অতিরিক্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনার কথা বলেন। ভবিষ্যতে সরকার গঠন হলে চৌদ্দগ্রামে খাল খননেরও পরিকল্পনা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।

    বক্তব্যের সময় তারেক রহমান স্বস্তিহীনভাবে কাশি দেন, লাল টুপি পড়ে তিনি বলেন, ‘মাথার মধ্যে ঠাণ্ডা লেগেছে, জ্বর আসছে। আমি এখন শক্তিতে ভাষণ দিতে পারছি না। একটু শান্ত হয়ে শুনুন।’

    তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির নেতারা আমাদের বদনাম করছে, এটা করার কোনও সমস্যা নেই। আমরা জনস্বার্থে কাজ করছি। ভোট পেলে, আল্লাহর রহমতে, আমরা সরকার গঠন করে আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব এবং দেশের জন্য কাজ চালিয়ে যাব।’ তারেক রহমানের এই বক্তব্যের শেষে সোয়াগাজী মাঠে অন্যান্য বিএনপি প্রার্থীরাও বক্তব্য রাখেন।

    তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বিএনপি যদি ক্ষমতায় আসে, তাহলে কী কী কর্মকাণ্ড করবে এবং তা ক কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তার ওপর এক ধারণা প্রকাশ করেন। তিনি ভোটারদের প্রতি ক্ষমতা দখলের জন্য ধানের শীষের প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

    এরপর তারেক রহমানের দ্বিতীয় দিনের নির্বাচনী প্রচারণা চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড, ফেনীর পাইলট স্কুল মাঠ, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম খেলার মাঠ ও সোয়াাগাজী ডিগবাজি মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। ভবিষ্যতে দাউদকান্দির কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ও নারায়ণগঞ্জের বালুর মাঠেও বক্তব্য রাখবেন বিএনপি প্রধান।

  • তারেক রহমান: বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির ঠুঁটি চেপে ধরবে

    তারেক রহমান: বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির ঠুঁটি চেপে ধরবে

    বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন যে, দেশের জনগণের ভোটে ক্ষমতায় এলে দলটি সৎভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর সংগ্রাম চালাবে। তিনি বলেন, ক্ষমতায় গেলে বিএনপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, কোনোভাবেই দুর্নীতি চলতে দেবে না এবং তা টেকসইভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে। তারেক রহমান এই কথাগুলো চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে অনুষ্ঠিত এক বিশাল জনসভার সময় বলেন।

    তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল দুর্নীতিকে নিয়ন্ত্রণে আনা। অতীতে বিএনপি এর ক্ষমতায় থাকাকালীনই এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে সফলতা দেখিয়েছে, যা দেশের মানুষের স্বার্থে। তারা প্রতিজ্ঞা করেছেন, আবার ক্ষমতায় গেলে যতটুকুই চ্যালেঞ্জ থাকুক না কেন, দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে, এটাই বিএনপির অঙ্গীকার।

    তারেক রহমান অতীতের সরকার পরিচালনার সময়ের উদাহরণ দেন, যেখানে জানানো হয়, ৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বিএনপি সরকার দুর্নীতির মাধ্যমে দেশকে নিম্নগতিতে নিয়ে গিয়েছিল। তবে ২০০১ সালে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ধীরে ধীরে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি উন্নতি করতে শুরু করেন।

    তিনি বলেন, যেকোনো পরিকল্পনা সফল করতে হলে দুটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে—সবার প্রথমে নাগরিক নিরাপত্তা, যাতে তারা নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে, ব্যবসা ও কর্মসংস্থান নির্বিঘ্নে চালাতে পারে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে আইনশৃঙ্খলার কঠোর ব্যবস্থাপনা থাকবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে বিএনপি তাদের শাসনামলে দেশের আইনশৃঙ্খলাকে কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণ করে নিজেদের শক্ত অবস্থান দেখিয়েছে।

    তিনি জানান, যদি আবারও ক্ষমতায় আসতে সক্ষম হন, তাহলে দেশের সাধারণ মানুষ নিরাপদে জীবন যাপন করতে পারবে। এছাড়াও, তিনি সতর্ক করে বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি যেন কারো মাঝ থেকে ভোটের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা না হয়, সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

    বিএনপির এই নেতা বলেন, চট্টগ্রামসহ দেশের সমস্ত অঞ্চলের মানুষ চায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করতে। এই শহর নিরাপদ থাকলে ব্যবসা-সাধারণ জীবন আরও এগিয়ে যাবে। তিনি উল্লেখ করেন, চট্টগ্রামের যেসব সন্তান শিক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নের জন্য লড়াই করছে, তাদের জন্যও এইদিন বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

    তিনি জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণের রায়ে ভবিষ্যতে সরকার গঠন হলে শিক্ষাব্যবস্থা ব্যাপক পরিবর্তন করা হবে। যেখানে শিক্ষার্থী শুধু সার্টিফিকেট নয়, বরং স্বনির্ভর হয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে। এই দৃষ্টিভঙ্গিতে দক্ষতা ও বাস্তবতার উপর ভিত্তি করে শিক্ষাদান নিশ্চিত করা হবে।

    স্বাস্থ্য খাতে তিনি বলেন, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা উন্নত করতে আমরা বড় ধরনের হাসপাতালে নির্মাণের পরিকল্পনা না করে, বেশি জোড় দেব নিজেদের ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানোর দিকে। এজন্য এক লাখ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে, যাতে মা-অভিভাবা ও শিশুরা জরুরি ভিত্তিতে প্রাথমিক চিকিৎসা পেতে পারে।

    তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা অর্জন দেশের জন্য অনেক বড় অর্জন, যা এখন আবার ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে রক্ষা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরিবর্তনের এই ধারা অব্যাহত থাকলে সকল নাগরিক উন্নত শিক্ষা ও সুচিকিৎসার সুফল পাবে। তিনি বলেন, জনগণের জন্য কাজ করা বিএনপির মূল লক্ষ্য, কেবল সমালোচনায় নয়, কর্মকাণ্ডেও তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

    দ্রব্যমূল্য ও কৃষক সুরক্ষার বিষয়ে তিনি জানান, উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের হস্তান্তর করা হবে কৃষক কার্ড, যাতে তারা সরকারি সুবিধা পায়। ঘটনার বিবরণে বলেন, জলাবদ্ধতা সমস্যা মোকাবেলার জন্য খাল-নালা খোড়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    চট্টগ্রামের শিল্প ও কর্মসংস্থানের জন্য তিনি আশ্বাস দেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে নতুন ইপিজেড নির্মাণ করা হবে, যা এখানকার অনেক মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করবে। বিএনপির সভাপতি হিসেবে তারেক রহমানের এই সফর ২০০৫ সালের পর প্রথম চট্টগ্রামে দীর্ঘ দিন পরে। বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি হোটেলে যান এবং সেখানে বিশ্রাম নেন।

    পরদিন সকালে তিনি তরুণদের সঙ্গে এক পলিসি ডায়ালগে অংশ নেন এবং পরে গোলযোগের বিষয়ে বিভিন্ন পথসভায় ভাষণ দেন। চট্টগ্রামসহ অন্যান্য জেলা সফর শেষে তিনি ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে আরও গণসংযোগের পরিকল্পনা করেছেন।

    সীমান্তে নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যেখানে তিন স্তর বিভক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা—রেড জোন, ইয়েলো জোন ও গ্রিন জোন—নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়োজিত। উল্লেখ্য, তারেক রহমান সর্বশেষ ২০০৫ সালে নগরীর একটি জনসভায় যোগ দিয়েছিলেন।

  • নির্বাচনী প্রচারে ড্রোন ব্যবহার শোভন নয়: ইসি নির্দেশ

    নির্বাচনী প্রচারে ড্রোন ব্যবহার শোভন নয়: ইসি নির্দেশ

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মত গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন পর্বে প্রচুর জনসমাগম ও গণসঙ্গীতের জন্য নানা ধরনের আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার হয়। তবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্বাচন কার্যক্রমের জন্য জারি করা ‘নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫’ এর মধ্যে নতুন নির্দেশনা দিয়ে নিশ্চিত করেছে যে, নির্বাচনি প্রচার, ভোটগ্রহণ ও আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের সময় কোনো প্রকার ড্রোন বা কোয়াডকপ্টার ব্যবহার করা যাবে না। এই নির্দেশনা নির্বাচন কেন্দ্রিক সব ধরনের কার্যক্রমে বাস্তবায়ন হবে।

    বিশেষত, বিধিমালার ৯ অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, নির্বাচনী প্রচারণার সময় যানবাহন, মিছিল, জনসভা কিংবা শোডাউনের জন্য কোনো ড্রোন, হেলিকপ্টার বা অন্য কোনও আকাশযান ব্যবহার করতে Hinduযোগ্য নয়। তবে, দলীয় নেতৃত্ব বা উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা নিজের যানবাহনে যোগে পারিপার্শ্বিক নিরাপত্তার জন্য হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে পারেন, কিন্তু সেই সময় লিফলেট, ব্যানার বা অন্য প্রচার সামগ্রী আকাশপথে নিক্ষেপ বা প্রদর্শন করা যাবে না।

    অতিরিক্তভাবে, বয়ান অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় বা ভোটের সময় কোনো ধরনের মিছিল বা শোডাউন চলবে না, এবং মনোনয়ন দাখিলের সময়ে নির্দিষ্ট সংখ্যা থেকে বেশি ব্যক্তি উপস্থিত থাকতে পারবে না। নির্বাচনকালীন সময়ে ভোটকেন্দ্রের ভেতর ও বাইরে নির্ধারিত অনুমোদিত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ মোটরসাইকেল বা যান্ত্রিক বাহন চালাতে পারবে না।

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নির্বাচনী প্রচার ও ভোটগ্রহণের সময় কোনো ড্রোন, কোয়াডকপ্টার বা অনুরূপ যন্ত্র ব্যবহার করতে বারণ করা হয়েছে। এর ফলে পর্যবেক্ষক জরিপ, প্রচারণা বা অন্য কোনও কাজের জন্য এই প্রযুক্তির ব্যবহার বন্ধ থাকবে।

    অন্যদিকে, ১১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীর পক্ষে দেয়াল লেখালেখি বা অংকন করে প্রচারণা চালানো নিষেধ। আরও বলা হয়েছে, নির্বাচনী প্রতীকের জন্য জীবন্ত প্রাণী ব্যবহার করা যেতে পারবে না।

    নির্বাচনী এই বিধিমালাগুলোর বাস্তবায়ন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার পরিকল্পনা অনুযায়ী, সব রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। নির্বাচন কমিশন এই নিয়মগুলো কঠোরভাবে পালন করার জন্য তৎপর। এটাই এখন মূল দায়িত্ব যেন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন হয়।