Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • চলমান কারখানা রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান পোশাক মালিকরা

    চলমান কারখানা রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান পোশাক মালিকরা

    দেশের তৈরি পোশাক খাতে বন্ধ কারখানার ঝুঁকি বাড়ার প্রেক্ষাপটে বর্তমানে চালু থাকা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো টিকিয়ে রাখতে প্রধানমন্ত্রী থেকে জরুরি নীতিগত এবং অর্থনৈতিক সহায়তা চেয়েছেন খাতের উদ্যোক্তারা।

    আজ সোমবার সচিবালয়ের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর শীর্ষ নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন। বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু ও বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নেয়।

    বৈঠকে উদ্যোক্তারা বলেছিলেন, বিদ্যমান ব্যাংক ঋণের বোঝা, এনবিআরের রাজস্ব-কর সংক্রান্ত জটিলতা, জ্বালানির অনিশ্চিত সরবরাহ ও বৈশ্বিক বাজারের অনিশ্চয়তা—এসব মিলিয়ে চলমান কারখানাগুলোও ভেঙে পড়ার পথে। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আরও অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার আশংকা রয়েছে। তাই তারা নীতিগত ভর্তুকি, আর্থিক সহজলভ্যতা ও জরুরি বানিজ্য সহায়তা চেয়েছেন যাতে পরিচালনায় থাকা ফ্যাক্টরিগুলো বন্ধ না হয়ে যায়।

    ব্যাংকিং ও এনবিআর সংক্রান্ত সমস্যা আলোচনায় গুরুত্ব পায়। উদ্যোক্তারা ঋণ, শুল্ক, ট্যাক্স ও কাস্টমস সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরলে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধান নেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি ব্যবসায়ীদের এসব সমস্যা লিখিতভাবে জমা দেওয়ার অনুরোধও করেন যাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

    বৈঠকের পরে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “শিল্প টিকিয়ে রাখতে এখন সবচেয়ে জরুরি ব্যাংকিং ও নীতিগত সহায়তা। বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু করার পাশাপাশি বর্তমানে সচল কারখানাগুলো রক্ষা করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী আমাদের উদ্বেগ গুরুত্ব সহকারে শুনেছেন, যা উদ্যোক্তাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।”

    বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, “বর্তমান বৈশ্বিক পরিবেশে পোশাক খাত নানা চাপের মোকাবিলা করছে; আমরা সেই বাস্তব সমস্যা তুলে ধরেছি। প্রধানমন্ত্রী আমাদের কথা গুরুত্ব দিয়ে শুনেছেন এবং সমাধানে আশ্বাস দিয়েছেন—এটি ইতিবাচক।”

    প্রতিনিধিদল সরকারের এলডিসি উত্তরণ পিছিয়ে দেওয়ার উদ্যোগের কথাও স্বাগত জানায়। তাদের মতে, যদি জাতিসংঘে এই উদ্যোগ অনুমোদিত হয়, তা বাংলাদেশের রপ্তানির উপর আর্থিক সুবিধা কিছু সময়ের জন্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে এবং শিল্পখাতকে প্রস্তুতির সময় দেবে।

    সভায় প্রধানমন্ত্রী রপ্তানি বহুমুখীকরণের ওপর জোর দেন এবং উদ্যোক্তাদের প্রচলিত পোশাকপণ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সিল্ক, ম্যান-মেইড ফাইবারভিত্তিক পণ্যসহ নতুন খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরামর্শ দেন। তিনি এসব পরিবর্তনকে সমর্থন করে নীতিগত সহযোগিতারও আশ্বাস দেন।

    জ্বালানি সংকটের বিষয়টিও আলোচ্য ছিল। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহ উৎপাদন ব্যয় বেড়ে দিচ্ছে এবং সময়মতো উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে; এতে সরকারের ইতিবাচক ভূমিকা প্রয়োজন। সভায় সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

    বৈঠকে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • গাজীপুরে রাউৎকোনায় চারজন গলা কেটে, এক শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যা: ফরেনসিক

    গাজীপুরে রাউৎকোনায় চারজন গলা কেটে, এক শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যা: ফরেনসিক

    গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়ি থেকে উদ্ধার পাঁচজনের মধ্যে মায়ো শারমিন খানমসহ চারজনকে গলা কেটে এবং এক শিশুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে—এটাই জানিয়েছে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন।

    ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক মাজহারুল হক আজ সোমবার (১১ মে) জানান, ময়নাতদন্তে নিহতদের মধ্যে শারমিন খানম, তার ভাই রসুল মোল্লা এবং মেয়ে মিম ও মারিয়ার মৃত্যুর কারণ গলা কাটা হিসেবে নিশ্চিত হয়েছে। এছাড়া এক ছোট কন্যাশিশুর মৃত্যু শ্বাসরোধের ফলে ঘটেছে। হত্যার আগে তাদেরকে কোনো চেতনানাশক বা বিষযুক্ত খাদ্য খাইয়ে নেওয়া হয়েছে কি না তা নির্ণয়ের জন্য পেটের কনটেন্টসহ অন্যান্য নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডি ল্যাবে পাঠানো হয়েছে; ল্যাব রিপোর্ট এলে বিস্তারিত জানানো হবে।

    কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম জানান, ঘটনার প্রধান আসামি হিসেবে নিহত শারমিনের স্বামী ফোরকান মিয়াকে নাম করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও তিন-চারজনকে আসামি করে কাপাসিয়া থানায় মামলা করা হয়েছে। পুলিশ 여러 দল নিয়ে ফোরকানকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে। এ ঘটনার সাথে যুক্ত সন্দেহে বর্তমানে দুজনকে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে রাখা হয়েছে। তদন্ত চলছে; মূল আসামি গ্রেপ্তার হলেই হত্যার বিস্তারিত রহস্য উদঘাটন সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    পুলিশের বয়ান অনুযায়ী, ঘটনাটি গত শুক্রবার রাতেই ঘটেছিল। ঘটনার পর থেকেই গৃহকর্তা মো. ফোরকান পলাতক রয়েছে। স্থানীয়রা এবং তদন্তকারীরা এখন খোঁজখবর ও আইনানুগ পরবর্তী পদক্ষেপে দ্রুততার সঙ্গে কাজ করছেন।

  • মিয়া গোলাম পরওয়ার: উন্নয়নে সরকার চরম বৈষম্য করছে

    মিয়া গোলাম পরওয়ার: উন্নয়নে সরকার চরম বৈষম্য করছে

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সরকার উন্নয়নের কাজে ভূগোলভিত্তিক বৈষম্য করছে এবং উত্তরাঞ্চলের জন্য সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক করার আবেদন যৌক্তিক ও জরুরি। শনিবার সকালে পঞ্চগড় যাওয়ার পথে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সৈয়দপুরে নামে তিনি এবং সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বললেন।

    মর্যাদার সঙ্গে তিনি বলেন, সৈয়দপুর বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক হওয়া বৃহত্তর রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলের বহুদিনের দাবি। যদি নির্বাচনী সুবিধা বা নির্দিষ্ট এলাকার স্বার্থ বিবেচনায় এটিকে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়, তাহলে তা অন্যায় হবে।

    সে সময়ে তাঁর সঙ্গে ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিম, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আইনজীবী আতিউর রহমান এবং সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী।

    জামায়াত নেতা আরও বলেন, নির্বাচিত এমপিদের প্রভাবেই নানা উন্নয়নকাজ নির্দিষ্ট এলাকায়集中 হচ্ছে—কোথাও নতুন উপজেলা, কোথাও বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে—যা সার্বিক জাতীয় স্বার্থের বিপরীত। এসব প্রকল্প ভৌগোলিকভাবে সমভাবে ছড়ানো উচিত ছিল বলে তাঁর দাবি।

    এক সমকথনে তিনি বললেন, “প্রবাদ আছে, যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ।” বাস্তবে এখন সেই অবস্থাই লক্ষ্য করছেন তিনি। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক দলগুলো ৭০ শতাংশ জনমত উড়িয়ে দিয়ে প্রতারণামূলক রাজনীতিতে লিপ্ত হয়েছে। নির্বাচনের আগে যাঁরা “হ্যাঁ” বা সমর্থনে ছিলেন, এখন তাঁরা গণভোটের রায় অস্বীকার করছেন—এটি জনগণের সঙ্গে বিরাট একটি প্রতারণা বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি জানান, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বলা হলেও কাজে তা দেখা যাচ্ছে না এবং এভাবে জনস্বার্থে ব্যাকপাস খেললে দেশের ক্ষতিই হবে।

    সংবাদমাধ্যম নিয়ে বলিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় যারা স্বাধীন সাংবাদিকতার কথা বলেছিল, এখন তাদেরই মধ্যে অনেকেই বিভিন্ন গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ, সাংবাদিকদের চাকরি থেকে বরখাস্ত এবং হয়রানির সঙ্গে জড়িত। বিশেষ করে সরকারের সমালোচক সাংবাদিকদের টার্গেট করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    বিমানবন্দরে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম এবং জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মনিরুজ্জামান জুয়েল। এছাড়া সৈয়দপুর উপজেলার জামায়াতের আমির শফিকুল ইসলাম, সেক্রেটারি মাজহারুল ইসলাম, শহর আমির শরফুদ্দিন খান, সেক্রেটারি মাওলানা ওয়াজেদ আলী, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের শহর সভাপতি আব্দুল মোমিনসহ শতাধিক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

    সবশেষে তিনি সফরসঙ্গীদের নিয়ে সড়কপথে পঞ্চগড়ের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন।

  • এনসিপি প্রথম ধাপে ১০০ উপজেলা ও পৌরসভায় চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থী ঘোষণা

    এনসিপি প্রথম ধাপে ১০০ উপজেলা ও পৌরসভায় চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থী ঘোষণা

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রথম ধাপে ১০০টি কেন্দ্র—৫০টি উপজেলা চেয়ারম্যান ও ৫০টি পৌরসভা মেয়র প্রার্থী—ঘোষণা করেছে। আজ রোববার (১০ মে) বিকেলে দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন।

    সারজিস আলম বলেন, ‘‘প্রাথমিকভাবে আমরা আজ ১০০ জন এনসিপি সমর্থিত উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী ঘোষণা করছি। নির্বাচনের জন্য হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছিল। তাছাড়া যাচাই-বাছাই করে ধাপে ধাপে আরও প্রার্থী ঘোষণা করার পরিকল্পনা আছে।’’

    তিনি আরও জানান, ঈদের আগে—এই মাসের ২০ তারিখে—দ্বিতীয় ধাপে আরও ১০০ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করার লক্ষ্যে কাজ চলছে। পাশাপাশি দলের নীতি অনুযায়ী যারা বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্বে আছেন, নেতৃত্ব দিচ্ছেন বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীও যদি যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য হন—বিশেষত যারা মানুষের ওপর নিপীড়ন বা অপরাধমূলক কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না—তাদেরকেও এনসিপির প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। কমিশনের নিয়মাবলি ও পার্টির যাচাই-বাছাই শেষে অনুকূল প্রার্থীদের সুযোগ দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে বলে তিনি জানান।

    চেয়ারম্যান ও মেয়র পদে ঘোষিত এই ১০০ প্রার্থীর নাম বিভাগ অনুযায়ী নিচে তুলে ধরা হলো:

    খুলনা বিভাগ:

    কুষ্টিয়ার কুমারখালী — অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম বাদশা; ভেড়ামারা — জান্নাতুল ফেরদৌস টনি; বাগেরহাট চিতলমারি — ইশতিয়াক হোসেন; ফকিরমারি — লাবিব আহমেদ; মোংলা পৌরসভা — মো. রহমত উল্লাহ; বাগেরহাট পৌরসভা — সৈয়দ মোর্শেদ আনোয়ার; যশোর বাঘারপাড়া — ইয়াহিয়া জিসান; নোয়াপাড়া পৌরসভা — শাহজাহান কবির; খুলনা চালনা — এস এম এ রশিদ; চুয়াডাঙ্গা সদর — খায়রুল বাশার বিপ্লব; জীবননগর পৌরসভা — সোহেল পারভেজ; মেহেরপুর গাংনী পৌরসভা — শাকিল আহমেদ; ঝিনাইদহ পৌরসভা — তারেকুল ইসলাম।

    রংপুর বিভাগ:

    পঞ্চগড় তেঁতুলিয়া — মো. হাবিবুর রহমান হাবিব; বোদা — শিশির আসাদ; দেবীগঞ্জ — মাসুদ পারভেজ (পৌর মেয়র); ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈল — গোলাম মর্তুজা সেলিম; দিনাজপুর ফুলবাড়ি — ইমরান চৌধুরী নিশাত; বোচাগঞ্জ — মাওলানা এম এ তাফসির হাসান; ফুলবাড়ি পৌরসভা — শিহাব হোসেন; ঘোড়াঘাট — মো. আব্দুল মান্নান; হাকিমপুর — রায়হান কবির; নীলফামারী জলঢাকা — আবু সাইদ লিয়ন; নীলফামারী সদর — ড. কামরুল ইসলাম; কুড়িগ্রাম সদর (পৌর মেয়র) — মো. মাসুম মিয়া; লালমনিরহাট কালিগঞ্জ — শাহ সুলতান নাসির উদ্দিন আহমেদ; রংপুর সদর — কৃষ্ণ চন্দ্র বর্মণ; গাইবান্ধা সাদুল্লাপুর — খাদিমুল ইসলাম।

    রাজশাহী বিভাগ:

    গোদাগাড়ি — মো. আতিকুল রহমান; চাঁপাইনবাগঞ্জ গোমস্তাপুর — আবু মাসুদ; নওগাঁ নেয়ামতপুর — বিশাল আহমেদ; বাদলগাছি — আসাদ মোর্শেদ আজম; ধামুরহাট (পৌর মেয়র) — মাহফুজার রহমান চৌধুরী রুবেল; বগুড়া শিবগঞ্জ — মো. জাহাঙ্গীর আলম; দুপচাঁচিয়া পৌরসভা — আবু বক্কর সিদ্দিক; বগুড়া সদর — এ এম জেড শাহরিয়ার; নাটোর সদর পৌরসভা — আব্দুল মান্নান; পাবনা চাটমোহর পৌরসভা — খন্দকার আক্তার হোসেন; সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়া — ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ আদনান; উল্লাপাড়া পৌরসভা — ইঞ্জিনিয়ার আল-মামুন লিয়ন।

    সিলেট বিভাগ:

    হবিগঞ্জ আজমিরিগঞ্জ — মো. কামাল আহমেদ; হবিগঞ্জ সদর পৌরসভা — মাহবুবুল বারী চৌধুরী (মেয়র প্রার্থী); মৌলভীবাজার রাজনগর — খালেদ হাসান; কুলাউড়া — আবু রুকিয়ান; সিলেট কোম্পানিগঞ্জ — ওবায়েদ আহমেদ; কানাইঘাট — বোরহান উদ্দিন ইউনূস; ওসমানীনগর — হাজি মো. মোশাহিদ আলী; জৈন্তাপুর — জাকারিয়া; গোয়াইনঘাট — মনসুরুল হাসান।

    ময়মনসিংহ বিভাগ:

    শেরপুর সদর — ইঞ্জিনিয়ার মো. লিখন মিয়া; সদর পৌর মেয়র — নূর ইসলাম; জামালপুর সদর — অ্যাডভোকেট আবু সাইদ মো. শামিম; নেত্রকোনা খালিয়াজুড়ি — মো. মুশফিকুর রহমান মিন্টু; বারহাট্টা — শফিকুল হক চৌধুরী বাবলু; নেত্রকোনা সদর পৌরসভা — সোহাগ মিয়া প্রিতম; ময়মনসিংহ তারাকান্দা — ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলাম; ভালুকা — নূরুল ইসলাম; হালুয়াঘাট — আবু হেলাল; ধোবাউড়া — মো. সাইফুল্লাহ।

    ঢাকা বিভাগ (উত্তর):

    কিশোরগঞ্জ সদর — আহনাফ সাইদ খান; টাড়াইল — ইকরাম হোসেন; করিমগঞ্জ পৌরসভা — খায়রুল কবির (মেয়র); সাভার — শাহাবদুল্লাহ রনি (উপজেলা চেয়ারম্যান); মানিকগঞ্জ সদর — আরিফুল ইসলাম; দৌলতপুর — আবু আব্দুল্লাহ; টাঙ্গাইল কালিহাতি — মেহদী হাসান; টাঙ্গাইল পৌরসভা — মাসুদুর রহমান রাসেল; ভূঞাপুর পৌরসভা — হাসান ইমাম তালুকদার; শফিপুর পৌরসভা — মাওলানা আনসার আলী; নরসিংদী সদর — সাইফ ইবনে সারওয়ার; গাজীপুর কালিগঞ্জ — শোয়েব মিয়া।

    ঢাকা বিভাগ (দক্ষিণ):

    নারায়ণগঞ্জ সেনারগাঁও — তুহিন মাহবুব; মুন্সিগঞ্জ সিরাজদিখান — আলী নেওয়াজ।

    ফরিদপুর বিভাগ:

    নগরকান্দা উপজেলা — রেজাউল করিম সবুজ; নগরকান্দা পৌরসভা — নাজমুল হুদা (মেয়র); ফরিদপুর পৌরসভা — সাইদ খান (মেয়র); মাদারীপুর পৌরসভা — মো. হাসিবুল্লাহ (মেয়র প্রার্থী); গোপালগঞ্জ পৌরসভা — ফেরদৌম আমেনা (মেয়র প্রার্থী)।

    এনসিপি আগামি ধাপে আরও প্রার্থী ঘোষণা করবে বলে জানানো হয়েছে। দলটি বলেছে, তারা যাচাই-বাছাই শেষে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য ও নৈতিক মান বজায় রাখার মতো প্রার্থীদের সামনে তুলে ধরবে।

  • সোনার দাম কমল — প্রতি ভরির নতুন মূল্য কত?

    সোনার দাম কমল — প্রতি ভরির নতুন মূল্য কত?

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) জানিয়েছে যে দেশীয় বাজারে সোনার দাম কমানো হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এবার সর্বোচ্চ প্রতি ভরিতে ২,২৫৮ টাকা পর্যন্ত মূল্যহ্রাস করা হয়েছে। নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

    বাজুস জানিয়েছে তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দাম কমায় স্থানীয় বাজারেও দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাই পুরোভাগে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার ভরির মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ২,৪০,৩৩৭ টাকা—যা সোমবার (৪ মে) ছিল ২,৪২,৪৯৫ টাকা।

    অন্যান্য কেটের সোনার নতুন দাম হচ্ছে: ২১ ক্যারেট প্রতি ভরি ২,২৯,৪৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেট প্রতি ভরি ১,৯৬,৬৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি ১,৬০,১৪৭ টাকা।

    রুপার দাম এই রাউন্ডে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বেঁধে দেওয়া দাম অনুযায়ী ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি দাম ৫,৪৮২ টাকা, ২১ ক্যারেট ৫,১৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪,৪৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩,৩৮৩ টাকা রয়েছে।

    আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটও মূল্য ওঠানামায় প্রভাব ফেলেছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল উত্তেজনার প্রভাবে প্রথমে সোনার বৈশ্বিক মূল্য ঊর্ধ্বমুখী হয়েছিল; পরে দর সমন্বয়ের সঙ্গে তা ওঠানামা করছে। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি-র তথ্য অনুযায়ী এখন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম প্রায় ৪,৫০০ ডলারে নেমে এসেছে। আগের দিকে ৩০ জানুয়ারি এটি ছিল প্রায় ৫,২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি ছুঁয়েছিল ৫,৫৫০ ডলার।

    বাজুসের এই দাম প্রচলিত রেট হিসেবে চলবে, যা স্থানীয় জুয়েলারি ও বাজারে কেনাবেচার নির্দেশিকা হিসেবে বিবেচিত হবে।

  • আবার বাড়ল সোনার দাম: ২২ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ৪৪,৭১১ টাকা

    আবার বাড়ল সোনার দাম: ২২ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ৪৪,৭১১ টাকা

    টানা দ্বিতীয় দফায় সোনার দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে, নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

    বাজুস জানিয়েছে, প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৬ টাকা পর্যন্ত মূল্য বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর ফলে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার এক ভরির দাম বেড়ে দুই লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা হয়েছে; যা গতকাল ছিল দুই লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা।

    সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার আন্তর্জাতিক দর বাড়ায় স্থানীয় বাজারে এই সমন্বয় করা হয়েছে। বেধে দেওয়া মূল্যের অনুযায়ী অন্যান্য ক্যারেট অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করা হয়েছে—২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেট প্রতি ভরি ২,০০,২১৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকা।

    সোনার সঙ্গে রুপার দামও সমন্বয় করা হয়েছে। ২২ ক্যারেট রুপার এক ভরির দাম নির্ধারিত হয়েছে ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ২১ ক্যারেট রুপা ৫ হাজার ৫৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেট রুপা ৪ হাজার ৭২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার এক ভরি ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা।

    বিশ্ববাজারে রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সোনার দর গত কয়েক মাসে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানা যায়, আন্তর্জাতিক বাজারে এখন প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম প্রায় ৪ হাজার ৭০০ ডলারে পৌঁছেছে। এর আগে ৩০ জানুয়ারি আউন্সপ্রতি দাম ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি এক পর্যায়ে ৫ হাজার ৫৫০ ডলার নজিরিত হয়েছিল।

    উল্লেখ্য, গত মাসের শেষের দিকে বিশ্ববাজারে সোনার দর দ্রুত বাড়ায় দেশের বাজারেও রেকর্ড বৃদ্ধির দেখা মিলেছিল—২৯ জানুয়ারি সকালেই বাজুস একবারে ভরিপ্রতি ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট সোনার দাম ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় নির্ধারণ করেছিল, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ হিসেবে রেকর্ড হয়।

  • লেবাননের জেবদিনে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত

    লেবাননের জেবদিনে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত

    লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের নাবাতিহ জেলায় জেবদিনে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশি শ্রমিকসহ মোট তিনজন নিহত হয়েছেন। সংবাদমাধ্যম ল’অরিয়াঁ তুদে (L’Orient Today) আজ সোমবার (১১ মে) এই তথ্য জানিয়েছে। তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

    সূত্রটি জানায়, নিহত অপরজন একটি সিরীয় নাগরিক ছিলেন এবং তারা ওই এলাকায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। হামলাটি একটি বসতবাড়িতে ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই ড্রোন হামলা গতকাল করা হয়েছিল। পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকার কারণে স্থানীয় কর্মী ও বাসিন্দারা সঙ্কটে রয়েছেন।

    ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় শক্তিশালী লেবাননি সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহও পাল্টা আঘাত চালিয়ে যাচ্ছে। ল’ব’অরিয়াঁ তুদে জানিয়েছে, হিজবুল্লাহ আজও ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

    সংবাদটিতে আরও বলা হয়েছে, ১৬ এপ্রিল একটি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়া হয়; তবু সীমান্ত দেওয়ালে সহিংসতা থামেনি এবং তাতে সাধারণ মানুষের বাড়িঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সূত্র: ল’অরিয়াঁ তুদে

  • ক্রুজযাত্রার পরে এক মার্কিন ও এক ফরাসি নাগরিকের দেহে হান্টাভাইরাস শনাক্ত

    ক্রুজযাত্রার পরে এক মার্কিন ও এক ফরাসি নাগরিকের দেহে হান্টাভাইরাস শনাক্ত

    আর্জেন্টিনা থেকে যাত্রা করা এক বিলাসবহুল ক্রুজশিপে হান্টাভাইরাস ছড়ানোর ঘটনা আন্তর্জাতিক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলেছে, জাহাজে থাকা বা তা থেকে নামার পর পর্যন্ত তিনজন যাত্রী মারা গেছেন এবং পরে মার্কিন ও ফরাসি দুই প্রতাবাসীর দেহে ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

    জাহাজটির নাম এমভি হন্ডিয়াস। এটি ১ এপ্রিল আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া থেকে ওশেনওয়াইড এক্সপেডিশনস পরিচালিত ভ্রমণে যাত্রা শুরু করেছিল। ওশেনওয়াইড জানিয়েছে জাহাজটিতে প্রাথমিকভাবে প্রায় ২৮টি দেশের প্রায় ১৫০ জন যাত্রী ও ক্রু ছিলেন, ভারতের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফিলিপাইন, রাশিয়া ও ইউরোপের নানা দেশের নাগরিকরা ছিল এতে।

    ঘটনার ক্রমে ১১ এপ্রিল জাহাজে একজন ডাচ ব্যক্তি মারা যান। তার মৃত্যুর কারণ তখন স্পষ্ট ছিল না। প্রায় দুই সপ্তাহ পর, ২৪ এপ্রিল তার স্ত্রীর সঙ্গে সেন্ট হেলেনায় তার মরদেহ জাহাজ থেকে নামানো হয় এবং তাকে দক্ষিণ আফ্রিকায় নেওয়া হলে জোহানেসবার্গের একটি হাসপাতালে তিনি মারা যান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পরে নিশ্চিত করেছে যে ৬৯ বছর বয়সী ওই নারী হান্টাভাইরাসে সংক্রমিত ছিলেন। এরপর ২ মে আরও একজন জার্মান যাত্রী মারা গেলে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে তিন হয়েছে।

    অভিযানকারীরা ভাইরাসের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের চিহ্নিত ও শনাক্ত করার বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, সংস্পর্শে থাকা অনেক যাত্রী বিমানে করে যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাষ্ট্র, সুইজারল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে ফিরে গিয়েছেন।

    দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাহাজ থেকে দেশে ফেরানো দুই ব্যক্তির শরীরে ভাইরাসের অ্যান্ডিস স্ট্রেইন শনাক্ত করা হয়েছে—এই স্ট্রেইনটি ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়াতে পরিচিত। এরপরই আরও দুই দেশ থেকে আক্রান্ত সংবাদ আসে: মার্কিন এবং ফরাসি নাগরিকদের দেহে হান্টাভাইরাস ধরা পড়েছে।

    আমেরিকার স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, প্রত্যাবাসন ফ্লাইটে নিয়ে আসা দ্বিতীয় একজন মার্কিন নাগরিকের মধ্যে মৃদু উপসর্গ দেখা গেছে; নিরাপত্তার কারণে উভয় আক্রান্ত যাত্রীকে ‘বায়োকন্টেইনমেন্ট ইউনিটে’ করে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। ফরাসি স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্টেফানি রিস্ট বলেছেন, প্যারিসে একজন নারী আইসোলেশনে আছেন এবং তার স্বাস্থ্যের অবনতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তার সংস্পর্শে আসা ২২ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

    হন্ডিয়াস জাহাজটি সেন্ট হেলেনায় নোঙর করার পর সাতজন ব্রিটিশসহ মোট ৩০ জন যাত্রী নেমে যায়; অপারেটর তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলে জানিয়েছে। ওই অপারেটর জানিয়েছে, নেদারল্যান্ডস থেকে দুইজন সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ জাহাজে যোগ দেবার জন্য আসছেন এবং কেপ ভার্দে থেকে সম্ভব হলে তারা জাহাজে আরোহণ করবেন। কেপ ভার্দের কাছে তিন দিন নোঙ্গর করার পর এমভি হন্ডিয়াস এখন স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের দিকে যাচ্ছে।

    হান্টাভাইরাস কী?

    হান্টাভাইরাস হলো এমন এক ধরনের ভাইরাস যা প্রধানত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মধ্যে বাস করে। সাধারণত ইঁদুরের প্রস্রাব, মল বা লালা শুকিয়ে কণার আকারে বাতাসে ছড়ালে মানুষ শ্বাসের মাধ্যমে আক্রান্ত হয়। যদিও বিরল, তবুও ইঁদুরের কামড় বা আঁচড়ের মাধ্যমেও সংক্রমণ ঘটতে পারে।

    এই ভাইরাস দুই ধরনের গুরুতর রোগের কারণ হতে পারে। প্রথমটি হান্টাভাইরাস পালমোনারি সিনড্রোম (এইচপিএস), যার শুরুতে ক্লান্তি, জ্বর ও পেশির ব্যথা দেখা যায় এবং পরে শ্বাসকষ্ট ও ফুসফুসে সমস্যা উন্নতি করতে পারে। সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) তথ্যমতে, শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত উপসর্গ দেখা দিলে মৃত্যুর হার প্রায় ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

    দ্বিতীয়টি হেমোরেজিক ফিভার উইথ রেনাল সিনড্রোম (এইচএফআরএস), যা প্রধানত কিডনিকে আক্রান্ত করে এবং নিম্ন রক্তচাপ, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ, কিডনি বিকলতা ইত্যাদি জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

    স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো এই ঘটনার তদন্ত ও সংক্রমণ রোধে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট করা হচ্ছে যাতে সম্ভাব্য সংক্রমণ দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

    সূত্র: বিবিসি, ডব্লিউএইচও, স্থানীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অপারেটর ওশেনওয়াইড এক্সপেডিশনস।

  • সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে এক মৌয়াল গুরুতর আহত

    সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে এক মৌয়াল গুরুতর আহত

    সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের পায়রাটুনি খালে মধু সংগ্রহের সময় বাঘের আক্রমণে বাবলু গাজী (৪৮) নামে এক মৌয়াল গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ডুমুরিয়া গ্রামের মালেক গাজীর ছেলে।

    মৌয়ালরা জানিয়েছেন, রোববার (১০ মে) সকাল আটটার দিকে মাঝি ইউসুফ গাজীর নেতৃত্বে প্রায় ১০ জনের একটি দল পায়রাটুনি খালে মধু ভাঙতে যান। কাজের সময় হঠাৎ ঝোপের আড়াল থেকে একটি বাঘ বের হয়ে বাবলুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তার চিৎকারে সঙ্গে থাকা অন্যান্য মৌয়ালরা হুঙ্কার দিয়ে লাঠি নিয়ে এগিয়ে গেলে বাঘটি ভয়ে বনের দিকে পালিয়ে যায়।

    অবস্থান সংকট হওয়ায় সহকর্মীদের সহযোগিতায় বাবলুকে উদ্ধার করে স্থানীয় এলাকায় নিয়ে আসা হয়। প্রথমে তাকে শ্যামনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলেও শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

    বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা ফজলুল হক জানিয়েছেন, গত ৬ মে তাদের একটি দল বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন থেকে পারমিট নিয়ে সুন্দরবনে মধু আহরণে যায়। দলের মধ্যে থাকা বাবলু গাজীকে বাঘে আক্রমণ করে গুরুতর আহত করা হয়; তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরায় নেওয়া হয়েছে।

  • যশোরে সাবেক এমপি শাহীন চাকলাদারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

    যশোরে সাবেক এমপি শাহীন চাকলাদারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

    যশোর জেলা ও দায়রা জজ আদালত সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলার চার্জশিট গ্রহণ করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। আজ সোমবার (১১ মে) চার্জশিটের ওপর শুনানি শেষে জজ মাহমুদা খাতুন এ আদেশ জানান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পিপি নূর আলম পান্নু।

    পেছনের বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের রাজনৈতিক-৪ শাখা সব ধরনের অস্ত্রের লাইসেন্স স্থগিত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। ওই প্রজ্ঞাপনে নির্দেশ দেওয়া হয় লাইসেন্সধারীদের ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের অস্ত্র সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দিতে হবে। কিন্তু শাহীন চাকলাদার তার লাইসেন্সকৃত পিস্তল (নম্বর-৬৯৪৪৬) পুলিশে জমা দেননি। পরে তদন্তকালে এসআই তারেক মোহাম্মদ আল নাহিয়ান জানান, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর পালিয়ে যাওয়ার দিনই শাহীন চাকলাদার অস্ত্রসহ আত্মগোপনে চলে যান। পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।

    মামলায় বলা হয়েছে, সরকারি নির্দেশ অমান্য করে অস্ত্র নিয়ে পালিয়ে যাওয়ায় তিনি সন্ত্রাসী ও দুষ্কৃতকারীদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অস্ত্রটি অবৈধ কাজে ব্যবহার করতে পারেন—এ ধরনের আশঙ্কা পুলিশ করেছে। কোতোয়ালি থানার এসআই সাইফুল ইসলাম এ ঘটনার একটি অভিযোগ দায়ের করে ২০২৫ সালের ২৮ মে কোতোয়ালি থানায় অস্ত্র আইন অনুযায়ী মামলা করেন। তদন্ত শেষে দায়িত্বরত কর্মকর্তা শাহীন চাকলাদারকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন। পরে মামলাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বদলি করা হয় এবং আজ আদালত চার্জশিট গ্রহণ করে পলাতক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।

    প্রসঙ্গত, গত বছরের ২২ জানুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় আদালত শাহীন চাকলাদারের চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। এছাড়া ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের সময় যশোর শহরের চিত্রামোড়ের পাঁচ তারকা হোটেল এবং পরে কাজীপাড়ায় তার বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল। স্থানীয়রা জানান, ওই ঘটনাগুলোর আগে তিনি সপরিবারে আত্মগোপনে যান। জনশ্রুতি রয়েছে, রাজনীতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি ভারতের কলকাতায় অবস্থান করছেন—তবে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য জানা যায়নি।