Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • বাস-ট্রেন-লঞ্চে প্রতিবন্ধীদের বিনা ভাড়া নিশ্চিত করা হবে: ডা. জোবাইদা রহমান

    বাস-ট্রেন-লঞ্চে প্রতিবন্ধীদের বিনা ভাড়া নিশ্চিত করা হবে: ডা. জোবাইদা রহমান

    শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধকতা যেন কোনোভাবেই একজন ব্যক্তির স্বাভাবিক জীবনযাত্রার পথে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়—এমন অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জোবাইদা রহমান। তিনি জানান, দেশের বাস, ট্রেন ও লঞ্চে বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য বিনা ভাড়ায় যাতায়াতের একটি আইনি বিধান আনাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে প্রতিবন্ধীদের স্বাস্থ্যসেবা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ‘শিশু স্বর্গ মডেল’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

    ডা. জোবাইদা রহমান বলেন, ‘‘বিজ্ঞানের সহায়তায় দ্রুত ও সঠিক সেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। সময়মত চিকিৎসা ও সহায়তা পেলে বিশেষভাবে সক্ষম শিশু-কিশোরদের লুকিয়ে থাকা প্রতিভা বিকশিত হতে পারে। ‘শিশু স্বর্গ’ প্রকল্প শিশু-কিশোর ও তাদের মায়েদের জন্য কার্যকর একটি সাপোর্ট গ্রুপ হিসেবে কাজ করবে।’’ তিনি আরও বলেন, আত্মবিশ্বাসই মায়েদের এবং শিশু-কিশোরদের বিষণ্নতার অন্ধকার কাটিয়ে স্বাবলম্বী ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে নিতে সাহায্য করে।

    ডা. জোবাইদা প্রতিবন্ধীবান্ধব জাতীয় নাগরিক সেবা গড়ে তোলার মাধ্যমে সমাজে তাদের মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন এবং আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে প্রতিটি বিশেষভাবে সক্ষম শিশু পরিবারের, সমাজ ও দেশের জন্য অনুকরণীয় হয়ে উঠতে পারে।

    অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম; পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি; সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল; প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম (ডোনার)।

    অনুষ্ঠান সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। সহ-সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস।

    সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে ইউনিসেফের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি স্ট্যানলি গোয়াভুয়া; রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলাম (রিজু); ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান (মিল্টন) এবং প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আ. ন. ম. মনোয়ারুল কাদির (বিটু)।

    অনুষ্ঠানটি ছিল প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তাদের পরিবারদের ক্ষমতায়ন, সময়োপযোগী চিকিৎসা ও সমাজিক সমর্থন নিশ্চিতকরণের প্রতিশ্রুতি ও সমন্বিত উদ্যোগ গঠনের একটি পদক্ষেপ।

  • ঈদের বাজারে ছড়ানোর উদ্দেশ্যে জাল টাকা ছাপানো হচ্ছিল, ৩ জন গ্রেপ্তার

    ঈদের বাজারে ছড়ানোর উদ্দেশ্যে জাল টাকা ছাপানো হচ্ছিল, ৩ জন গ্রেপ্তার

    আসন্ন কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে ঢাকায় জাল টাকা ছাপানোর সময় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তিনজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ জাল নোট ও জাল টাকা তৈরির সরঞ্জামজিনা উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, তিনটি মেশিনে দিন-রাত জাল নোট ছাপানো হচ্ছিল।

    ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান। গ্রেফতারকৃতদের নাম— মো. মজিবুর রহমান, মো. দুলাল মৃধা ও মো. মামুন।

    ডিবি জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল বুধবার (১৩ মে) উত্তরাপূর্ব থানার সমবায় বাজার (বিডিআর) মার্কেটের সামনে প্রথম পড়ে অভিযান চালিয়ে জাল টাকা কেনাবেচার সময় মজিবুরকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে ৪ লাখ টাকার জাল নোট এবং জাল টাকা বিক্রির ৪০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। মজিবুরের দেওয়া তথ্যে অনুযায়ী পরে গাজীপুর মহানগরের বাসন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুলাল মৃধা ও মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে আরও ৩৪ লাখ টাকার জাল নোট জব্দ করা হয়।

    অভিযানে একটি ল্যাপটপ, তিনটি কালার প্রিন্টার, সোনালি রঙের ফয়েল পেপার, সিকিউরিটি ট্যাগ, জলছাপযুক্ত কাগজ, আংশিকভাবে প্রিন্ট করা হাজার টাকার নোট, তরল গাম, কাটার ও জলছাপ বসানোর ডাইসও উদ্ধার করা হয়েছে।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে তারা দীর্ঘদিন ধরে জাল টাকা তৈরি করে ঢাকাসহ গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে আসছিল। তারা আসন্ন ঈদ-উল-আজহার সময় পশুর হাট ও বিপণিবিতানে জাল টাকা ছড়িয়ে দেবার পরিকল্পনা করেছিল।

    ডিবি জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় একাধিক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় উত্তরাপূর্ব থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।

  • এনসিপি ঘোষণা করলো ১০০ জন উপজেলা ও পৌরসভা প্রার্থী

    এনসিপি ঘোষণা করলো ১০০ জন উপজেলা ও পৌরসভা প্রার্থী

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রাথমিকভাবে ১০০ জন প্রার্থী ঘোষণা করেছে। রোববার (১০ মে) বিকেলে দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এই প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন।

    সারজিস আলম বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছিল। সেই প্রার্থীদের মধ্য থেকে প্রাথমিকভাবে ১০০ জনের নাম ঘোষণা করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ঈদের আগেই—এ মাসের ২০ তারিখে—দল দ্বিতীয় ধাপে আরও ১০০ জনের নাম ঘোষণা করার পরিকল্পনা করছে এবং নাম ঘোষণা ও যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।

    প্রধান সংগঠক বলেন, এনসিপি যে কাউকে সুযোগ দিতে প্রস্তুত, এমনকি অন্যান্য রাজনৈতিক দলের যারা গ্রহণযোগ্য, জনগণের প্রতি অনুকম্পাশীল এবং কোনো ধরনের অত্যাচার, ফ্যাসিস্টী কার্যক্রম বা অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না—তারা চাইলে এনসিপিতে যোগ দিয়ে প্রার্থীতা দাবি করতে পারবেন। দল প্রয়োজনীয়ভাবে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেবে এবং অন্য কোনো দলের প্রার্থীও থাকলে তাদেরও সুযোগ দেয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।

    চেয়ারম্যান ও মেয়র পদে ঘোষিত ১০০ প্রার্থীর মধ্যে ৫০ জন উপজেলা চেয়ারম্যান ও ৫০ জন পৌরসভা মেয়র প্রার্থী রয়েছেন। নিচে বিভাগ অনুযায়ী ঘোষিত প্রার্থীদের নাম দেওয়া হলো—

    খুলনা বিভাগ:

    কুষ্টিয়ার কুমারখালী — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম বাদশা; ভেড়ামারা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: জান্নাতুল ফেরদৌস টনি; বাগেরহাট, চিতলমারি — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইশতিয়াক হোসেন; ফকিরমারি — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: লাবিব আহমেদ; মোংলা পৌরসভা — মেয়রপ্রার্থী: মো. রহমত উল্লাহ; বাগেরহাট পৌরসভা — মেয়রপ্রার্থী: সৈয়দ মোর্শেদ আনোয়ার; যশোরের বাঘারপাড়া — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইয়াহিয়া জিসান; নোয়াপাড়া পৌরসভা — মেয়রপ্রার্থী: শাহজাহান কবির; খুলনার চালনা — মেয়রপ্রার্থী: এস এম এ রশিদ; চুয়াডাঙ্গা সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: খায়রুল বাশার বিপ্লব; জীবননগর পৌরসভা — মেয়রপ্রার্থী: সোহেল পারভেজ; মেহেরপুর, গাংনী পৌরসভা — মেয়রপ্রার্থী: শাকিল আহমেদ; ঝিনাইদহ পৌরসভা — মেয়রপ্রার্থী: তারেকুল ইসলাম।

    রংপুর বিভাগ:

    পঞ্চগড়, তেঁতুলিয়া — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. হাবিবুর রহমান হাবিব; বোদা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শিশির আসাদ; দেবীগঞ্জ — পৌর মেয়রপ্রার্থী: মাসুদ পারভেজ; ঠাকুরগাঁও, রাণীশংকৈল — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: গোলাম মর্তুজা সেলিম; দিনাজপুর, ফুলবাড়ি — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইমরান চৌধুরী নিশাত; বোচাগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মাওলানা এম এ তাফসির হাসান; ফুলবাড়ি পৌরসভা — মেয়রপ্রার্থী: শিহাব হোসেন; ঘোড়াঘাট — পৌর মেয়রপ্রার্থী: মো. আব্দুল মান্নান; হাকিমপুর — পৌর মেয়রপ্রার্থী: রায়হান কবির; নীলফামারী, জলঢাকা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু সাইদ লিয়ন; নীলফামারী সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ড. কামরুল ইসলাম; কুড়িগ্রাম সদর — পৌর মেয়রপ্রার্থী: মো. মাসুম মিয়া; লালমনিরহাট, কালিগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শাহ সুলতান নাসির উদ্দিন আহমেদ; রংপুর সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: কৃষ্ণ চন্দ্র বর্মণ; গাইবান্ধা, সাদুল্লাপুর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: খাদিমুল ইসলাম।

    রাজশাহী বিভাগ:

    রাজশাহীর গোদাগাড়ি — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. আতিকুল রহমান; চাঁপাইনবাগঞ্জ, গোমস্তাপুর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু মাসুদ; নওগাঁ, নেয়ামতপুর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: বিশাল আহমেদ; বদলগাছী — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আসাদ মোর্শেদ আজম; ধামুরহাট — পৌর মেয়রপ্রার্থী: মাহফুজার রহমান চৌধুরী (রুবেল); বগুড়ার শিবগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. জাহাঙ্গীর আলম; দুপচাঁচিয়া — পৌর মেয়রপ্রার্থী: আবু বক্কর সিদ্দিক; বগুড়া সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: এ এম জেড শাহরিয়ার; নাটোর সদর পৌরসভা — মেয়রপ্রার্থী: আব্দুল মান্নান; পাবনার চাটমোহর পৌরসভা — মেয়রপ্রার্থী: খন্দকার আক্তার হোসেন; সিরাজগঞ্জ, উল্লাপাড়া — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ আদনান; উল্লাপাড়া পৌরসভা — মেয়রপ্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার আল-মামুন লিয়ন।

    সিলেট বিভাগ:

    হবিগঞ্জ, আজমিরিগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. কামাল আহমেদ; হবিগঞ্জ সদর — পৌর মেয়রপ্রার্থী: মাহবুবুল বারী চৌধুরী; মৌলভীবাজার, রাজনগর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: খালেদ হাসান; কুলাউড়া — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু রুকিয়ান; সিলেট, কোম্পানিগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ওবায়েদ আহমেদ; কানাইঘাট — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: বোরহান উদ্দিন ইউনূস; ওসমানীনগর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: হাজি মো. মোশাহিদ আলী; জৈন্তাপুর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: জাকারিয়া; গোয়াইনঘাট — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মনসুরুল হাসান।

    ময়মনসিংহ বিভাগ:

    শেরপুর সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার মো. লিখন মিয়া; সদর পৌর মেয়রপ্রার্থী: নূর ইসলাম; জামালপুর সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: অ্যাডভোকেট আবু সাঈদ মো. শামিম; নেত্রকোনা, খালিয়াজুড়ি — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. মুশফিকুর রহমান মিন্টু; বারহাট্টা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শফিকুল হক চৌধুরী বাবলু; নেত্রকোনা সদর পৌরসভা — মেয়রপ্রার্থী: সোহাগ মিয়া প্রিতম; ময়মনসিংহ, তারাকান্দা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলাম; ভালুকা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: নূরুল ইসলাম; হালুয়াঘাট — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু হেলাল; ধোবাউড়া — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. সাইফুল্লাহ।

    ঢাকা বিভাগ (উত্তর):

    কিশোরগঞ্জ সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আহনাফ সাইদ খান; তাড়াইল — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইকরাম হোসেন; করিমগঞ্জ পৌরসভা — মেয়রপ্রার্থী: খায়রুল কবির; ঢাকা, সাভার — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শাহাবদুল্লাহ রনি; মানিকগঞ্জ সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আরিফুল ইসলাম; দৌলতপুর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু আব্দুল্লাহ; টাঙ্গাইল, কালিহাতি — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মেহদী হাসান; টাঙ্গাইল পৌরসভা — মেয়রপ্রার্থী: মাসুদুর রহমান রাসেল; ভূঞাপুর পৌরসভা — মেয়রপ্রার্থী: হাসান ইমাম তালুকদার; শফিপুর পৌরসভা — মেয়রপ্রার্থী: মাওলানা আনসার আলী; নরসিংদী সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: সাইফ ইবনে সারওয়ার; গাজীপুর, কালীগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শোয়েব মিয়া।

    ঢাকা বিভাগ (দক্ষিণ):

    নারায়ণগঞ্জ, সেনারগাঁও — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: তুহিন মাহবুব; মুন্সিগঞ্জ, সিরাজদিখান — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আলী নির্ঝর নেওয়াজ।

    ফরিদপুর বিভাগ:

    ফরিদপুর, নগরকান্দা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: রেজাউল করিম সবুজ; নগরকান্দা পৌরসভা — মেয়রপ্রার্থী: নাজমুল হুদা; ফরিদপুর পৌরসভা — মেয়রপ্রার্থী: সাইদ খান; মাদারীপুর পৌরসভা — মেয়রপ্রার্থী: মো. হাসিবুল্লাহ; গোপালগঞ্জ পৌরসভা — মেয়রপ্রার্থী: ফেরদৌম আমেনা।

    দল জানায়, প্রাথমিক তালিকা ঘোষণার পর যাচাই-বাছাই ও স্থানীয় মতামতহীনতার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত তালিকা উন্নীত করা হবে। পরবর্তী ধাপের ঘোষণা ও আরও প্রার্থীদের নাম জানালে দেশব্যাপী তাদের কার্যক্রমটি তৎপরতার সঙ্গে চলবে।

  • সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে খুলনা জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক ফিরোজকে অব্যাহতি; আবু জাফর ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক

    সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে খুলনা জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক ফিরোজকে অব্যাহতি; আবু জাফর ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক

    খুলনা জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা হওয়ার মাত্র ১৫ ঘণ্টার মধ্যে জেলা আহবায়ক ফিরোজ আহমেদকে সংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবু জাফরকে জেলা দলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বুধবার (১৩ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে ফিরোজ আহমেদকে পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে এবং আবু জাফরকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক করা হয়েছে। সিদ্ধান্তটি সাংগঠনিক গতিশীলতা ও ধারাবাহিকতা রক্ষার লক্ষ্যে অবিলম্বে কার্যকর হবে।

    গতকাল মঙ্গলবার রাতে খুলনা মহানগর ও জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। দুইটি আলাদা পত্রে ওই কমিটি অনুমোদনে রাকিব ও নাছিরের স্বাক্ষর ছিল। বড় কমিটি হিসেবে খুলনা মহানগর আহ্বায়ক কমিটিতে তাজিম বিশ্বাসকে আহ্বায়ক, আরিফুর রহমান আরিফকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও হাবিবুর রহমান খান বিপ্লবকে সদস্য সচিব করে মোট ৪৩ সদস্যের কমিটি অনুমোদন করা হয়েছে।

    এছাড়া খুলনা জেলা আহ্বায়ক কমিটিতে ফিরোজ আহমেদকে আহ্বায়ক, আবু জাফরকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও খান ইসমাইল হোসেনকে সদস্য সচিব করে ৩০ সদস্যের ওই কমিটি অনুমোদন করা হয়েছিল—যার পরিপ্রেক্ষিতে ফিরোজকে দ্রুত অব্যাহতি দেওয়া হল এবং আবু জাফরকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক করা হলো।

    ছাত্রদল সূত্রে জানা যায়, দ্রুত এই পরিবর্তন করে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সংগঠনের কার্যক্রমে ব্যাঘাত এড়াতে এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে চাইছে।

  • ইরানের অভিযোগ: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধে আমিরাত সরাসরি সহায়তা করেছে

    ইরানের অভিযোগ: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধে আমিরাত সরাসরি সহায়তা করেছে

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, তেহরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে এবং আমিরাতের সরাসরি সহায়তায় ওই আগ্রাসন চালানো হয়েছে। ভারতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে যোগদানকালে বৃহস্পতিবার টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই অভিযোগ জানান।

    আরাঘচি বলেন, ‘‘এই আগ্রাসনে সংযুক্ত আরব আমিরাত একটি সক্রিয় অংশীদার ছিল—এ বিষয়টি নিয়ে কোনো সংশয় নেই।’’ তিনি আরো বলেন, সংঘাত শুরু হওয়ার সময় আমিরাত নিন্দা জানানিও অস্বীকার করেছিল এবং পরবর্তীকালে তাদের অংশগ্রহণ ও সম্ভবত আমাদের বিরুদ্ধে সরাসরি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টিও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

    ইসরায়েলের যে দাবি তা নিয়েও আরাঘচি মন্তব্য করেন যে, চলমান যুদ্ধে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে একটি ‘গোপন’ বৈঠক হয়েছে—এই অভিযোগ ইসরায়েলের পক্ষ থেকে করা হয়। তবে আবু ধাবি ওই গোপন সফরের কথা অস্বীকার করেছে।

    পটভূমি হিসেবে আরাঘচি স্মরণ করান যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ঘটানো হামলার পর ইরান পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে মার্কিন মিত্রদের লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায়, যার ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ে। সেই উত্তেজনার মধ্যে থেকে ৮ এপ্রিল থেকে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে।

    আরাঘচি ও ইরান বারবার অভিযোগ করেছে যে কিছু উপসাগরীয় দেশ তাদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করে মার্কিন বাহিনীকে হামলার সুবিধা দিচ্ছে। কিন্তু ওই উপসাগরীয় দেশগুলো এই ধরনের অভিযোগ বারবার প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে যে সংঘাত শুরুর আগেই তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল—তারা তাদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা কোনো পক্ষকে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেবে না।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বিশ্লেষকরাও বিভিন্ন সময়ে আমিরাতের সম্ভাব্য জড়িত থাকার কথা উত্থাপন করেছেন। এর উত্তরে, চলতি মাসের শুরুতে আবু ধাবি ইরানকে দায়ী করে বলেছিল যে ফুজাইরাহ অঞ্চলের একটি জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে; ইরান সেই অভিযোগ নাকচ করেছে।

    সূত্র: এএফপি।

  • ২৮ ব্যাংকের ক্ষতির ঘটনায় দায়ী ৬ ব্যক্তি ও শিল্পগোষ্ঠী: বাংলাদেশ ব্যাংকের রিপোর্ট

    ২৮ ব্যাংকের ক্ষতির ঘটনায় দায়ী ৬ ব্যক্তি ও শিল্পগোষ্ঠী: বাংলাদেশ ব্যাংকের রিপোর্ট

    বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২৮টি ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পিছনে ছয় ব্যক্তি ও কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর দায় রয়েছে। প্রতিবেদনে নাম উঠে এস আলম, বেক্সিমকো, ওরিয়ন ও নাসা গ্রুপসহ কিছু বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও গোষ্ঠীর।

    রিপোর্ট অনুযায়ী এসব গোষ্ঠী ও ব্যক্তিদের অনুকূল পলিসি ও অস্বাভাবিক ছাড়ের কারণে ব্যাংকগুলোর বিপুল পরিমাণ ঋণ চাপ পরেছে এবং অনেক টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক যেমন জনতা ও অগ্রণীর পাশাপাশি শরিয়াহভিত্তিক ইসলামী ব্যাংকগুলো—এসআইবিএল, ফার্স্ট সিকিউরিটি, আল-আরাফাহসহ বেসরকারি ইউসিবি, আইএফআইসি ও ন্যাশনাল ব্যাংকও এ ঘটনায় প্রভাবিত হয়েছে।

    বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিয়েছেন, শুধুমাত্র অর্থ ফেরত জোগাড় করলেই সমস্যা মিটবে না; দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আইনি আওতায় নিয়ে আসাও জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ কুপ্রভাব রোধ করা যায়।

    বিআইবিএমের সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে বলেছেন, ঋণ নীতিমালা স্পষ্ট—কারা কত ঋণ নেবে, কত সময়ের জন্য নেবে তা সবই নিয়মে আছে। যদি বাংলাদেশ ব্যাংক জেনে‑শুনেই বড় গোষ্ঠীগুলোকে ছাড় দিয়েছে, তাহলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককেও তার দায়িত্ব স্বীকার করতে হবে এবং নীতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সেই সময় বিভিন্ন বাইরের চাপ ও কিছু ক্ষেত্রে সরকারের উচ্চস্তরের নির্দেশনার প্রভাব থাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত সুবিধা দিতে বাধ্য হতে হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, এসব ইস্যুতে কিছু এক্সটারনাল ফোর্সেস কাজ করেছে এবং কখনও‑কখনও রেগুলেটর হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকেরও এসময় এগুলো উপেক্ষা করার ক্ষমতা ছিল না।

    তবে খাত সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করেছেন যে, দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর বিচার না হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাংকিং খাতের প্রতি আস্থা ক্ষুণ্ণ হবে। এজন্য দ্রুতভাবে যাচাই‑বাছাই, দায়ীদের আইনি প্রক্রিয়ায় আনা এবং হারানো অর্থ ফেরত আনার পূর্ণাঙ্গ উদ্যোগের দাবি তোলা হচ্ছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে ও দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেয়া হবে এবং এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও দ্রুততা বজায় রাখা হবে।

  • অর্থমন্ত্রী: আর্থিক খাতে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না

    অর্থমন্ত্রী: আর্থিক খাতে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আর্থিক খাতে এবং সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক সেক্টরে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা রাজনৈতিক নিয়োগ থাকবে না; এটি শতভাগ পেশাদারিভিত্তিকভাবে পরিচালিত হবে।

    মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লুতে ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিএসআইসির চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন। একই সঙ্গে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং বিএবির চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার।

    মন্ত্রী বলেন, যেভাবে এই স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি যাত্রা শুরু করেছে তার মূলধন ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। এটি শুধু একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান নয়, বরং দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে দৃশ্যমান করে উঠানোর একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হবে।

    তিনি উল্লেখ করেন, আমাদের তরুণ প্রজন্মের প্রধান দুইটি বাধা হলো ফান্ডের অভাব এবং জামানত প্রদানের অক্ষমতা। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ওই দুই বাধা সরানো হচ্ছে ও বিনিয়োগ গ্রহণে সচ্ছতা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা হবে।

    অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, এই উদ্যোগ আমাদের রাজনৈতিক ম্যানিফেস্টোর সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত এবং দেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগিয়ে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করবে। বিশেষ করে ক্রিয়েটিভ ইকোনমি বা সৃজনশীল অর্থনীতি প্রসারে গ্রাম-শহরের তরুণদের অর্থনীতির মূলধারায় আনা হবে।

    আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তিনি জানান, বর্তমানে আমরা অর্থনীতিতে কিছু কঠোর সময় পার করছি; তাই পুঁজিবাজার সংস্কার ও তদারকিতে জোর দেওয়া হচ্ছে। বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার সম্পর্কিত সিদ্ধান্তগ্রহণে দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, দেশি ও বিদেশি বড় ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট কম্পানিসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থা আমাদের সঙ্গে কাজ করছে। দেশের ব্যাংক ও প্রাইভেট সেক্টরের আন্ডার-ক্যাপিটালাইজেশন দূর করতে সরকার নানা পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

    মন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, এই স্টার্টআপ কোম্পানি শুধু ব্যাংকিং সেক্টরে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং আন্তর্জাতিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশের দিকে আকৃষ্ট করবে। অর্থ মন্ত্রণালয় এই প্রকল্পের সফলতার জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত সমর্থন দিবে।

    তিনি শেষে বলেন, অনেকগুলো ব্যাংক একসাথে মিলে এই ভেঞ্চার ক্যাপিটাল উদ্যোগ নেয়ায় তা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য কার্যকর সুযোগ তৈরি করবে।

  • উত্তরপ্রদেশে ঝড়-বৃষ্টিতে মৃতের সংখ্যা ১০০ ছাড়াল

    উত্তরপ্রদেশে ঝড়-বৃষ্টিতে মৃতের সংখ্যা ১০০ ছাড়াল

    ভারতের উত্তরপ্রদেশে গতকাল তীব্র ঝড় ও ভারী বৃষ্টিতে মৃতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে এবং কয়েকশ লোক আহত হয়েছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকায় বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে, হাজার হাজার গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে এবং অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে।

    সরকারী সূত্রে এনডিটিভি জানিয়েছে, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে প্রয়াগরাজ জেলায় — সেখানে কমপক্ষে ২১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। ভাদোহীতে ১৮ জন, মির্জাপুরে ১৫ জন, ফতেহপুরে ১০ জন ও উন্নাও ও বদায়ুন জেলায় প্রত্যেকে ৬ জন করে মারা গেছেন। প্রতাপগড় ও বেরেলিতে চারজন চারজনের, এবং সীতাপুর, রায়বেরলি, চান্দৌলি, কানপুর দেহাত, হারদোই ও সমভলে থেকেও বহু মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

    কর্মকর্তারা বলেন, কাঁচা ঘর বল্লিষ্ঠ ঝড়ে ধসে পড়া, গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়া এবং বজ্রপাতে এসব প্রাণহানির সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে ফসল নষ্ট হয়েছে এবং গবাদি পশুও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

    স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বুধবার সন্ধ্যায় আবহাওয়ায় হঠাৎ পরিবর্তন এনে তীব্র বেগে বাতাস বইতে শুরু করে। বাতাসে উড়ন্ত বড় বড় বিলবোর্ড, টিনের চালা ও ভাঙা গাছগুলো বহু জায়গায় গাড়ির ওপর পড়ে যায় এবং কয়েকটি সড়ক বন্ধ হয়ে পড়ে।

    ঘটনাস্থলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বারেলির বামিয়ানা গ্রামের একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, এক ব্যক্তি প্রবল বাতাসে টিনের চালাসহ প্রায় ৫০ ফুট দূরে একটি ফিল্ডে ছিটকে পড়ছেন — এই দৃশ্য স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও আতঙ্ক বাড়িয়ে দিয়েছে।

    উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ দিয়ে পুনরুদ্ধার কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ত্রাণ ও সহায়তা পৌঁছে দিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে উদ্ধারকাজ ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এছাড়া ফসলের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে রাজস্ব ও কৃষি বিভাগ এবং বিমা কোম্পানিকেও দ্রুত জরিপ করে সরকারের কাছে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। উদ্ধারকাজ ও জরিপ চলমান রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত আছে।

    সূত্র: এনডিটিভি

  • নবগঠিত খুলনা মহানগর ছাত্রদলের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু

    নবগঠিত খুলনা মহানগর ছাত্রদলের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু

    নবগঠিত খুলনা মহানগর ছাত্রদল আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করেছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) জোহরের নামাজের পর দলটির নেতৃবৃন্দ খুলনা মহানগর বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি এম. নুরুল ইসলাম দাদুসহ দলের প্রয়াত নেতাদের কবর জিয়ারত করেন এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।

    কবর জিয়ারতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র বিভিন্ন সময়ের পরিচিত নাম — কাজী সেকেন্দার আলী ডালিম, সৈয়দ ঈসা, নুরুজ্জামান খোকন, ওহিদুজ্জামান চঞ্চল, আবুল কালাম আজাদ, আজিজুল হাসান দুলু ও এস এম কামাল হোসেন। এসময় তারা স্বাধীনতার মহানায়ক ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, আরাফাত রহমান কোকো, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সকল শহীদ, বিগত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের শহীদ এবং জুলাই–আগস্ট আন্দোলনের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন।

    কর্মসূচিটি খুলনা মহানগর ছাত্রদলের নবনির্বাচিত আহবায়ক তাজিম বিশ্বাস ও সদস্য সচিব হাবিবুর রহমান বিপ্লবের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন আরিফুর রহমান আরিফ, রিয়াজুল খান মুরাদ, আব্দুল আহাদ শাহিন, এস এম ইউসুফ, আরিফুল ইসলাম, মেরাজ হোসেন মানিক, রাকিবুল ইসলাম সাজিদ, নাসিম রহমান নাহিদ, সাইফুল্লাহ মানসুর তাজিম, রিফাত ইসলাম, এম এম মুন্না, এস এম আলমগীর হোসেন, রাকিব হাসান, তরিকুল ইসলাম নকিব, বেল্লাল মুস্তাকিম রাজ, সাজ্জাদ হোসেন রিপ্পি, ইসমাইল হোসেন, ইসরাইল হোসেন টুটুল, ইমরান মল্লিক, নাঈম খান, আরিফুজ্জামান আসিফ, আল আমিন হোসেন, তরিকুল ইসলাম নাহিদ, মো. আলামিন, মাহিন রহমান, সোহেল আহমেদ, রায়হান শেখ, নাজমুল হুদা জনি, নাইম মীর, সালমী তারেক, টুটুল ও মো. সজীব হোসেনসহ মহানগর ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

    কবর জিয়ারতের পরে নেতা-কর্মীরা বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ধারণ করে ছাত্রদল গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো অপশক্তির বিরুদ্ধে নিরন্তর সংগ্রামে থাকবে। তারা আরও জানান যে, ত্যাগ, আদর্শ ও দেশপ্রেমের রাজনীতিকেই সামনে রাখেই নবগঠিত মহানগর ছাত্রদল সংগঠনকে শক্তিশালী ও গতিশীল করতে কাজ করবে।

  • বাগেরহাটে ভৈরব তীরের বধ্যভূমি আধুনিকায়নের কাজ শুরু

    বাগেরহাটে ভৈরব তীরের বধ্যভূমি আধুনিকায়নের কাজ শুরু

    বাগেরহাট শহরের ভৈরব নদীর তীরে অবস্থিত বধ্যভূমি আধুনিকায়নের কাজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মাদ জাকির হোসেন উদ্বোধন করেন।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আবু রিয়াদ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসাঃ আতিয়া খাতুন, বাগেরহাট জেলা বিএনপির সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর রহমান আলম, বিএনপি নেতা এস্কেন্দার হোসেন, কামরুজ্জামান শিমুল, আবুল কালাম আজাদ বুলুসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

    জেলা পরিষদের অর্থায়নে এই বধ্যভূমি সংস্কার ও আধুনিকায়নের কাজ করা হবে। কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ লক্ষ টাকায়। জীর্ণ-শিথিল ও ভাঙাচোরা অবস্থায় থাকা এই স্থানটি পুনরুদ্ধার করে শহরের সৌন্দর্য ও পরিবেশ উন্নত করাই মূল উদ্দেশ্য বলে জানানো হয়েছে।

    স্থানীয়রা আশা করছেন আধুনিকায়নের ফলে ভৈরব নদীর তীরবর্তী এই ঐতিহাসিক জায়গাটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ হয়ে উঠবে, এবং आसपासের মানুষের ব্যবহার ও শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে।