Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • সিদ্ধিরগঞ্জে ডিএনডি লেকে গোসল করতে নেমে দুই মাদরাসা ছাত্রের লাশ উদ্ধার

    সিদ্ধিরগঞ্জে ডিএনডি লেকে গোসল করতে নেমে দুই মাদরাসা ছাত্রের লাশ উদ্ধার

    নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার ডিএনডি লেকে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ থাকা দুই মাদরাসা ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) ভোর সাড়ে ছয়টায় বার্মাস্ট্যান্ড নয়াপাড়া এলাকার ১ নম্বর ব্রিজ সংলগ্ন লেকের পানিতে তাদের লাশ ভাসতে দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।

    সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মাসুম বিল্লাহ ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ দ্রুত গিয়ে লাশ দুটি উদ্ধার করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। পরিবারের কেউ অভিযোগ না করায় বিভাগীয় কার্যক্রম শেষে লাশ দুইটি আত্মীয়দের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    নিহতরা হলেন মনিরুল (১৫) ও শুভ (১৫)। তারা গোদনাইল বাগপাড়া আলিম মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। মনিরুলের পিতা মোহাম্মদ জাকির; তাদের পরিবার মাগুরার মোহাম্মদপুর থানার পাল্লা গ্রামের বলে জানা গেছে। বর্তমানে তারা নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চৌধুরী বাড়ি ভূঁইয়াপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। অপরজন শুভ’র পিতা মিজান শিকদার; তাদের নিবাস পটুয়াখালীর মরিচবুনিয়া। শুভ পরিবারসহ নারায়ণগঞ্জের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মুনলাইট এলাকায় থাকতেন।

    পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১১ মে) দুপুরে মাদরাসার পরীক্ষা শেষ করে পাঁচ বন্ধু নাভানা মাঠে ফুটবল খেলে এবং পরে ডিএনডি লেকের বার্মাস্ট্যান্ড নয়াপাড়া এলাকার ১ নম্বর ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে গোসল করতে নামে। গোসল শেষের পর তিনজন বাড়ি ফিরে গেলেও মনিরুল ও শুভ ফিরে না আসায় তারা নিখোঁজ বলে পরিবারের সদস্যরা রাতে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে।

    পরিবারের অনুরোধ ও স্থানীয়দের সহায়তায় মঙ্গলবার ভোরে লেকের পানিতে লাশ মিললে পুলিশকে জানানো হয় এবং পুলিশ ঘটণাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তদন্তের প্রয়োজনীয় দিকগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে এসআই মাসুম বিল্লাহ জানান।

  • পশুরহাটে চাঁদাবাজি রোধে ১৬৬১১৩ হটলাইন চালু করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    পশুরহাটে চাঁদাবাজি রোধে ১৬৬১১৩ হটলাইন চালু করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, কোরবানির সব পশুরহাটে চাঁদাবাজি প্রতিরোধে বিশেষ হটলাইন চালু করা হবে এবং আড্ডা–হাটে আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। এসব ঘোষণা তিনি মঙ্গলবার (১২ মে) সচিবালয়ে আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বৈঠকের পর সাংবাদিকদের বলেন।

    মন্ত্রী জানান, সরকারের কাছে কোরবানিকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির তথ্য রয়েছে এবং এসব রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেবে। চাঁদাবাজির ঘটনা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর জানানোর জন্য তিনি সকলকে ১৬৬১১৩ নম্বরে ফোন করার অনুরোধ করেছেন।

    ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। মৎস্য ও পশুসম্পদ নিশ্চিত রাখতে এবং নিরাপত্তা জোরদার করতে পুলিশ হেডকোয়ার্টারে ঈদের আগের ও পরের সাতদিন মনিটরিং সেল চালু রাখা হবে বলে তিনি জানান। এছাড়া যারা নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন তাদেরকে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    মন্ত্রী আরও জানান, রাজধানীতে মোট ২৬টি পশুরহাট স্থাপন করা হবে—উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৫টি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১১টি। কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণের জন্য সরকার বিনামূল্যে লবণ সরবরাহ করবে; এর জন্য ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা ছিল গার্মেন্টস কর্মীদের বেতন-ভাতা ঈদের আগে পরিশোধ নিশ্চিত করার বিষয়টি। এই বিষয়ে বিজিএমইএ ও বিকিএমইএ ইতোমধ্যেই রাজি হয়েছে, বলে মন্ত্রী জানান।

    সালাহউদ্দিন আহমদের এই বক্তব্যে ভোক্তা ও পশুসম্পদ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক ও সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে, যেন শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদভাবে কোরবানি উৎসব পালিত করা যায়।

  • এনসিপি ঘোষণা করলো ১০০ জন উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী

    এনসিপি ঘোষণা করলো ১০০ জন উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রাথমিকভাবে ১০০টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। রোববার (১০ মে) বিকেলে দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ৫০ জন উপজেলা চেয়ারম্যান ও ৫০ জন পৌরসভা মেয়রপ্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেন।

    সারজিস আলম জানান, নির্বাচনের জন্য হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছিল। সেখান থেকে যাচাই-বাছাই করে প্রথম ধাপে ১০০ জনের নাম ঘোষণা করা হলো। তিনি বলেন, “ঈদের আগেই—অর্থাৎ এই মাসের ২০ তারিখে—দ্বিতীয় ধাপে আরও ১০০ জন প্রার্থীর নাম প্রকাশ করার আশা রাখছি। আমাদের নাম ঘোষণা প্রক্রিয়া চলতেই থাকবে।”

    মন্ত্রী বলেন, এনসিপি শুধুমাত্র নিজেদের ক্যাডারই নয়; দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে যারা জনগণের মধ্যে গ্রহণযোগ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার বা অন্যায় কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না—এসব ক্ষেত্রে অন্য রাজনৈতিক দল থেকে কেউ আবেদন করলে তাদেরও সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। “আমরা সার্বিক যাচাই-বাছাই করে উপযুক্তপ্রার্থীদের গ্রহণ করবো,” তিনি যোগ করেন।

    এনসিপি ঘোষিত প্রার্থীদের বিভাগভিত্তিক তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

    খুলনা বিভাগ

    কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম বাদশা;

    ভেড়ামারা উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: জান্নাতুল ফেরদৌস টনি;

    বাগেরহাট চিতলমারি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইশতিয়াক হোসেন;

    ফকিরমারী উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: লাবিব আহমেদ;

    মোংলা পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: মো. রহমত উললা;

    বাগেরহাট পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: সৈয়দ মোর্শেদ আনোয়ার;

    যশোর বাঘারপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইয়াহিয়া জিসান;

    নোয়াপাড়া পৌরসভায় মেয়রপ্রার্থী: শাহজাহান কবির;

    খুলনা চালনা পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: এস এম এ রশিদ;

    চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: খায়রুল বাশার বিপ্লব;

    জীবননগর পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: সোহেল পারভেজ;

    মেহেরপুর গাংনী পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: শাকিল আহমেদ;

    ঝিনাইদহ পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: তারেকুল ইসলাম।

    রংপুর বিভাগ

    পঞ্চগড় তেঁতুলীয়া উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. হাবিবুর রহমান হাবিব;

    বোদা উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শিশির আসাদ;

    দেবীগঞ্জ পৌরমেয়রপ্রার্থী: মাসুদ পারভেজ;

    ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈল উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: গোলাম মর্তুজা সেলিম;

    দিনাজপুর ফুলবাড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইমরান চৌধুরী নিশাত;

    বোচাগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মাওলানা এম এ তাফসির হাসান;

    ফুলবাড়ি পৌরসভায় মেয়রপ্রার্থী: শিহাব হোসেন;

    ঘোড়াঘাট পৌরমেয়রপ্রার্থী: মো. আব্দুল মান্নান;

    হাকিমপুর পৌরমেয়রপ্রার্থী: রায়হান কবির;

    নীলফামারী জলঢাকা উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু সাইদ লিয়ন;

    নীলফামারী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ড. কামরুল ইসলাম;

    কুড়িগ্রাম সদর পৌরমেয়রপ্রার্থী: মো. মাসুম মিয়া;

    লালমনিরহাট কালিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শাহ সুলতান নাসির উদ্দিন আহমেদ;

    রংপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: কৃষ্ণ চন্দ্র বর্মণ;

    গাইবান্ধা সাদুল্লাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: খাদিমুল ইসলাম।

    রাজশাহী বিভাগ

    গোদাগাড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. আতিকুল রহমান;

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ গোমস্তাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু মাসুদ;

    নওগাঁ নেইমতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: বিশাল আহমেদ;

    বাদলগাছী উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আসাদ মোর্শেদ আজম;

    ধামুরহাট পৌরমেয়রপ্রার্থী: মাহফুজার রহমান চৌধুরী রুবেল;

    বগুড়া শিবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. জাহাঙ্গীর আলম;

    দুপচাঁচিয়া পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: আবু বক্কর সিদ্দিক;

    বগুড়া সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: এ এম জেড শাহরিয়ার;

    নাটোর সদর পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: আব্দুল মান্নান;

    পাবনা চাটমোহর পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: খন্দকার আক্তার হোসেন;

    সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ আদনান;

    উল্লাপাড়া পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার আল-মামুন লিয়ন।

    সিলেট বিভাগ

    হবিগঞ্জ আজমিরিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. কামাল আহমেদ;

    হবিগঞ্জ সদর পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: মাহবুবুল বারী চৌধুরী;

    মৌলভীবাজার রাজনগর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: খালেদ হাসান;

    কুলাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু রুকียน;

    সিলেট কোম্পানিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ওবায়েদ আহমেদ;

    কানাইঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: বোরহান উদ্দিন ইউনূস;

    ওসমানীনগর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: হাজি মো. মোশাহিদ আলী;

    জৈন্তাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: জাকারিয়া;

    গোয়াইনঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মনসুরুল হাসান।

    ময়মনসিংহ বিভাগ

    শেরপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার মো. লিখন মিয়া;

    শেরপুর সদর পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: নূর ইসলাম;

    জামালপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: অ্যাডভোকেট আবু সাইদ মো. শামিম;

    নেত্রকোনা খালিয়াজুড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. মুশফিকুর রহমান মিন্টু;

    বারহাট্টা উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শফিকুল হক চৌধুরী বাবলু;

    নেত্রকোণা সদর পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: সোহাগ মিয়া প্রিতম;

    ময়মনসিংহ তারাকান্দা উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলাম;

    ভালুকা উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: নূরুল ইসলাম;

    হালুয়াঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু হেলাল;

    ধোবাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. সাইফুল্লাহ।

    ঢাকা বিভাগ (উত্তর)

    কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আহনাফ সাইদ খান;

    তাড়াইল উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইকরাম হোসেন;

    করিমগঞ্জ পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: খায়রুল কবির;

    সাভার উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শাহাবদুল্লাহ রনি;

    মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আরিফুল ইসলাম;

    দৌলতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু আবদুল্লাহ;

    টাঙ্গাইল কালিহাতি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মেহদী হাসান;

    টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: মাসুদুর রহমান রাসেল;

    ভূঞাপুর পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: হাসান ইমাম তালুকদার;

    শফিপুর পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: মাওলানা আনসার আলী;

    নরসিংদী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: সাইফ ইবনে সারওয়ার;

    গাজীপুর কালীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শোয়েব মিয়া।

    ঢাকা বিভাগ (দক্ষিণ)

    নারায়ণগঞ্জ সেনারগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: তুহিন মাহবুব;

    মুন্সিগঞ্জ সিরাজদিখান উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আলী নেওয়াজ।

    ফরিদপুর বিভাগ

    নগরকান্দা উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: রেজাউল করিম সবুজ;

    নগরকান্দা পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: নাজমুল হুদা;

    ফরিদপুর পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: সাইদ খান;

    মাদারীপুর পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: মো. হাসিবুল্লাহ;

    গোপালগঞ্জ পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: ফেরদৌম আমেনা।

    এনসিপি বলেছে যে প্রাথমিক তালিকা ঘোষণার মধ্য দিয়ে তাদের প্রার্থিতা প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং পরবর্তী ধাপে আরও প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। দলটি যোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনায় রেখে প্রার্থীদের বাছাই করে নেওয়ার ব্যাপারে জোর দিয়েছে, এবং অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্যরাও শর্তসাপেক্ষে আবেদন করতে পারবে, যদি তারা দলের নীতিমালা ও যাচাই-বাছাইয়ে উত্তীর্ণ হন।

  • অর্থমন্ত্রী: আর্থিক খাতে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না

    অর্থমন্ত্রী: আর্থিক খাতে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আর্থিক খাতসহ দেশের সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক সেক্টরে কোনো ধরনের রাজনৈতিক নিয়োগ বা হস্তক্ষেপ গ্রহণ করা হবে না। তিনি বলেন, এ প্রতিষ্ঠান হবে শতভাগ পেশাদারভিত্তিক—রাজনৈতিক প্রভাব এখানে কাজ করবে না।

    মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লুতে নতুন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি (বিএসআইসি)–এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিএসআইসির চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন সভাপতিত্ব করেন। এছাড়া বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং বিএবির চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার।

    অর্থমন্ত্রী বেঠিকভাবে বলেন, বিএসআইসি যেই মূলধন নিয়ে উদ্বোধন করেছে তা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। এটি শুধু একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান হবে না, বরং দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে দৃশ্যমান ও সমর্থনযোগ্য করে তোলার একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।

    মন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের তরুণ প্রজন্মের প্রধান দুটি প্রতিবন্ধকতা হলো ফান্ডের ঘাটতি এবং জামানত প্রদানের অক্ষমতা। বিএসআইসি–র মাধ্যমে এই দুইটি বাধা দূর করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এখানে বিনিয়োগ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, দক্ষ ও পেশাদার উপায়ে।

    আর্থমন্ত্রী বলেন, এই উদ্যোগটি তাদের রাজনৈতিক ম্যানিফেস্টো’র সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। সরকার ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডকে কাজে লাগিয়ে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। বিশেষ করে ক্রিয়েটিভ ইকোনমি বা সৃজনশীল অর্থনীতির মাধ্যমে গ্রামীণ ও শহরের তরুণদের অর্থনীতির মূলধারায় যুক্ত করা হবে।

    পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগ পরিবেশ পুনর্গঠনের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে আমরা কঠিন সময় পার করছি; তাই পুঁজিবাজার সংস্কার ও নিয়মের পুনর্বিবেচনা (কিছু ক্ষেত্রে ‘সিরিয়াস ডিরেগুলেশন’)–এ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার ব্যবস্থায় দক্ষ উপদেষ্টাদের নিয়োগ করা হয়েছে এবং দেশি-বিদেশি বড় ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন দাতা সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা হচ্ছে।

    মন্ত্রী যোগ করেন, দেশের ব্যাংক ও প্রাইভেট সেক্টরের আন্ডার-ক্যাপিটালাইজেশন দূর করতে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিএসআইসি কেবল ব্যাংকিং খাতে বিনিয়োগেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এটি আন্তর্জাতিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানগুলোকেও বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে।

    সমাপ্তিতে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় এ প্রকল্পের সফলতার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের নীতিগত সহায়তা প্রদান করবে। দেশের কয়েকটি ব্যাংক যৌথভাবে যে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তা দেশের স্টার্টআপ ও অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।

  • রিজার্ভ দাঁড়ালো ৩৪.২২ বিলিয়ন ডলার, আইএমএফ পদ্ধতিতে ২৯.৫৬ বিলিয়ন

    রিজার্ভ দাঁড়ালো ৩৪.২২ বিলিয়ন ডলার, আইএমএফ পদ্ধতিতে ২৯.৫৬ বিলিয়ন

    বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ এখন ৩৪ দশমিক ২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) গ্রহণযোগ্য বিপিএম-৬ হিসাবনীতি অনুসারে রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৯ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারে। সোমবার (১১ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    মুখপাত্র জানান, আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে দেশের রিজার্ভ ছিল দুই হাজার ৯৫৬ কোটি ৫৬ লাখ ৬০ হাজার ডলার। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী মোট রিজার্ভ ছিল তিন হাজার ৪২২ কোটি ৬৩ লাখ ৩০ হাজার ডলার।

    তিনি আরও বলেন, রোববার এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন (আকু) মার্চ ও এপ্রিল মাসের আমদানি বিল পরিশোধ করেছে ১৫১ কোটি ৪৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার। ওই বিল পরিশোধের পর আইএমএফ পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়িয়েছিল দুই হাজার ৯৪৭ কোটি ৯২ লাখ ৭০ হাজার ডলার। একই সময় ব্যাংকের নিজ হিসাব ছিল তিন হাজার ৪১৪ কোটি ২০ হাজার ডলার।

    এ ছাড়াও, গত ৭ মে বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ ছিল তিন হাজার ৯৬ কোটি ৪০ হাজার ডলার; সেই সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাব অনুসারে মোট রিজার্ভ ছিল তিন হাজার ৫৬১ কোটি ৬৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার।

    বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিতভাবে রিজার্ভ সংক্রান্ত তথ্য আপডেট করে থাকে এবং আন্তর্জাতিক হিসাবনীতি অনুযায়ী বিভিন্ন উপাদান ভিন্নভাবে গণনা হওয়ায় ব্যাংকের নিজস্ব হিসাব ও আইএমএফ পদ্ধতির মধ্যে পার্থক্য দেখা যায়।

  • বিজয়ের নির্দেশে তামিলনাড়ুতে ৭১৭ সরকারি মদের দোকান বন্ধ

    বিজয়ের নির্দেশে তামিলনাড়ুতে ৭১৭ সরকারি মদের দোকান বন্ধ

    তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয়ের নির্দেশে রাজ্যের ৭১৭টি সরকারি মদের দোকান বন্ধ বা সরিয়ে নেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার জারি হওয়া সরকারি আদেশে বলা হয়েছে, ধর্মীয় উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বাসস্ট্যান্ডের কাছাকাছি থাকা এই দোকানগুলো দুই সপ্তাহের মধ্যে বন্ধ করা বা স্থানান্তর করা হবে।

    ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তামিলনাড়ু স্টেট মার্কেটিং করপোরেশন (তাসম্যাক) পরিচালিত ওই দোকানগুলো মন্দির, মসজিদ, গির্জা, স্কুল, কলেজ এবং বাসস্ট্যান্ড থেকে ৫০০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে থাকলে সিদ্ধান্তের আওতায় পড়বে। সরকারের তথ্যে রাজ্যে মোট ৪৭৬৫টি সরকারি মদের দোকান রয়েছে; বন্ধের তালিকায় থাকা ৭১৭টির মধ্যে ২৭৬টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পাশে, ১৮৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছে এবং ২৫৫টি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত।

    বিজয় দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই সিদ্ধান্তকে তার সরকার সামাজিক সংস্কার ও জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। অন্যদিকে তাসম্যাক রাজ্যের অন্যতম বড় রাজস্ব উৎস হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত সরকারের আয়ের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভিত্তিতে প্রশ্ন উঠেছে।

    রোববার তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া ৫১ বছর বয়সী অভিনেতা-রাজনীতিক জোসেফ বিজয়ের দল টিভিকে এককভাবে সবচেয়ে বড় দল হয়ে ওঠার পর কংগ্রেস, বামদল, ভিসিকে ও মুসলিম লিগের সমর্থনে রাজ্যে প্রথমবারের মতো জোট সরকার গঠন করেছে। বর্তমানে বিধানসভায় তার দলের ১০৭টি আসন আছে; শরিকদের ১৩ বিধায়কের সমর্থন নিয়ে তিনি শিগগিরই আস্থা ভোটের মুখোমুখি হবেন।

    মদের দোকান বন্ধের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি নতুন সরকার কয়েকটি জনকল্যাণমূলক উদ্যোগও অনুমোদন করেছে — আবাসিক গ্রাহকদের জন্য মাসে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, নারী নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য একটি বিশেষ বাহিনী গঠন এবং প্রতিটি জেলায় মাদকবিরোধী একটি ইউনিট স্থাপন। সেগুলোও শীঘ্রই বাস্তবে কেমনভাবে প্রয়োগ হবে, সেটাও নজরকাড়া বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • সুন্দরবনে অস্ত্র ও গুলিসহ কুখ্যাত বনদস্যু ‘মেজ জাহাঙ্গীর’ আটক

    সুন্দরবনে অস্ত্র ও গুলিসহ কুখ্যাত বনদস্যু ‘মেজ জাহাঙ্গীর’ আটক

    বন ও উপকূলীয় মাছ ধরাকে নিরাপদ করতে দক্ষিণ অঞ্চলের বিশেষ অভিযানে সফলতা দেখিয়েছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। সুন্দরবনের কুখ্যাত বনদস্যু সংগঠনের প্রধান মোঃ জাহিদুল ইসলাম ওরফে ‘মেজ জাহাঙ্গীর’ (৫৬) কে আটক করা হয়েছে; তার কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও লাইভ গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়—এই তথ্য কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন নিশ্চিত করেছেন।

    কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের সূত্রে জানা যায়, সরকার গ্রহনকৃত নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বর্তমানে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” ও “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামের দুটি সাঁড়াশি অভিযান চলছে। সেই অভিযানেরই অংশ হিসেবে ১২ মে রাত পেয়ে ১টার দিকে বিসিজিএস তৌহিদ-এর নির্বাহী কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ইকরা মোহাম্মদ নাসিফের নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল সুন্দরবনের শিবসা নদীর আদাচাই ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন কালীর খাল এলাকায় তল্লাশি চালান।

    গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত ওই অভিযানে মেজ জাহাঙ্গীরকে হাতেনাতে আটক করা হয়। কোস্টগার্ড সদস্যদের উদ্ধারকৃত জিনিসপত্রের মধ্যে রয়েছে ২টি একনলা বন্দুক এবং ৫ রাউন্ড তাজা গুলি। আটক ব্যক্তির স্বীকারোক্তি ও তালিকার ভিত্তিতেই এসব উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে।

    আটক মোঃ জাহিদুল ইসলাম নড়াইল জেলার নড়াগাতী থানার বাসিন্দা। বহুদিন ধরেই তিনি সুন্দরবনের গভীরে নিজের একটি বাহিনী গঠন করে রেখেছিলেন এবং স্থানীয় জেলেদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়, জেলেদের আহরিত মৎস্য সম্পদ লুণ্ঠনসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

    বিসিজিএস তৌহিদ-এর নির্বাহী কর্মকর্তা লে. ইকরা মোহাম্মদ নাসিফ জানান, গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে বন ও জলদস্যু তৎপরতা পুনর্বার বাড়তে শুরু করে। এরপর বিভিন্ন বাহিনীর তৎপরতার কারণে কিছুটা সঙ্কুচিত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যস্ততা সুযোগ নিয়ে কয়েকটি স্বার্থান্বেষী মহল সুন্দরবনে নতুন করে কার্যক্রম শুরু করার চেষ্টা করেছিল। এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনায় কোস্টগার্ড “জিরো টলারেন্স” নীতিতে অভিযান পরিচালনা করছে।

    নাসিফ আরও জানান, গত কয়েক মাসে করিম শরীফ, ছোট সুমন, ছোট জাহাঙ্গীর, বড় জাহাঙ্গীর, নানা ভাই, আসাবুর ও আলিফ বাহিনীর মতো একাধিক দস্যু দলকেও এসব অভিযানের মধ্য দিয়ে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। দুর্ভাগ্যবশত কিছু দলে এখনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলছে; তাদেরকেও ধাপে ধাপে নির্মূল করা হবে বলে তিনি জানান।

    জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ এবং আটককৃত জাহিদুল ইসলামকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। কোস্টগার্ড পাল্টা জানিয়েছে, বনদস্যু ও তাদের সহযোগীদের সমূলে নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী ও খালে এই ধরনের বিশেষ অভিযান ও টহল অব্যাহত থাকবে।

  • খুলনায় ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও গুমের চেষ্টা: অভিযোগ করেছেন দ্বিতীয় স্ত্রী

    খুলনায় ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও গুমের চেষ্টা: অভিযোগ করেছেন দ্বিতীয় স্ত্রী

    খুলনায় অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী কালী শংকর সাহা অরবিন্দুকে অপহরণ ও গুম করার চেষ্টার অভিযোগ জানিয়েছেন তার দ্বিতীয় স্ত্রী অনামিকা দাস (পপি)। সোমবার তিনি এ অভিযোগ করে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপের অনুরোধ করেছেন।

    অনামিকা জানান, দীর্ঘ ১৪ বছর স্বামী পরিত্যক্তা হিসেবে সন্তানকে নিয়ে খুলনায় বসবাস করেছিলেন। সে সময়ে কালী শংকর সাহা অরবিন্দু তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং হিন্দু বিবাহ আইন অনুসারে ৮ এপ্রিল ২০২৬ তার বাবা-মায়ের উপস্থিতিতে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

    তবে তিনি বলেন, কালী শংকরের প্রথম পক্ষের লোকজন—বিশেষত ছেলে ডাঃ হিমেল সাহা ও পুত্রবধূ তন্নী দেবনাথ—এ বিয়েকে মেনে নেননি। বিয়ের পর থেকেই অনামিকা অভিযোগ করেন, প্রথম পক্ষের লোকজন তাকে মানসিকভাবে নির্যাতন, হুমকি ও অপমান করেছে এবং অনেক সময় বাড়িতে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে।

    সংবাদ সম্মেলনে অনামিকা আরও জানান, গত ১৬ এপ্রিল কৌশলে her স্বামীকে আটকে রেখে তাঁর মোবাইল ফোন জব্দ করে নেওয়া হয়। পরে তিনি জানতে পারে যে তাকে খুলনা থেকে জোরপূর্বক ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনার পর তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেছেন (সিআর নং ৯৪১/২৬)। আদালত_search warrant_ জারি করলেও এখন পর্যন্ত স্বামীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

    অনামিকা অভিযোগ করেন, স্বামীকে অসুস্থ বলে ঢাকায় আটকে রাখা হচ্ছে এবং জোরপূর্বক সম্পত্তি হস্তান্তরের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে তাঁর স্বামীকে দেশের বাইরে নেওয়ারও পরিকল্পনা চলছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তার ওপর চলমান মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন আড়াল করতে এ দাবি জানানো হচ্ছে বলে মনে করেন।

    সংবাদ সম্মেলনে অনামিকা দাস প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি কালী শংকর সাহা অরবিন্দুকে দ্রুত উদ্ধার করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এবং তাকে বিদেশে নেওয়া রোধের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

  • ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ ক্রিকেটে চিতলমারী চ্যাম্পিয়ন — খুলনা বিভাগীয় মাঠে খেলবে

    ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ ক্রিকেটে চিতলমারী চ্যাম্পিয়ন — খুলনা বিভাগীয় মাঠে খেলবে

    শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণের মঞ্চ ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ ক্রিকেটে বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলার ক্ষুদে খেলোয়াড়রা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আগামী ১৯ মে তারা খুলনা বিভাগীয় মাঠে প্রতিনিধিত্ব করবে।

    সোমবার (১১ মে) বাগেরহাট স্টেডিয়ামে জেলা পর্যায়ের ফাইনালে মোড়েলগঞ্জ উপজেলা ১০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৭৬ রান করে রানার্স-আপ হয়। জবাবে চিতলমারীর অধিনায়ক সৌমিক সমাদ্দারের নেতৃত্বে দল ১০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ৭৭ রানে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করে চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে নেয়।

    চ্যাম্পিয়ন দলের আলী মাহামুদ (নোবেল) নিঃসন্দেহে ম্যাচের তারকা। তিনি টুর্নামেন্ট সেরা, ম্যাচসেরা ও সেরা বোলারের খেতাব অর্জন করেন — বোলিং ও সাধারণ খেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে দলের জয়ে বড় ভুমিকা রাখেন।

    এর আগে রোববার (১০ মে) সেমিফাইনালে কচুয়া উপজেলার বিরুদ্ধে খেলায় চিতলমারীর তারিফ শেখ ২ ওভারে ৫ উইকেট শিকার করে নজর কাড়েন এবং সেই পারফরম্যান্সের জন্য ‘ম্যাচ বল’ অর্জন করেন।

    ফাইনাল ম্যাচ শেষে সোমবার বিকেলে বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন কৃতি খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি তুলে দেন। মঙ্গলবার (১২ মে) চিতলমারী দলের ম্যানেজার ও ক্রীড়া শিক্ষক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন বিন্দু এ সংক্রান্ত তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন যে এই দল খুলনা বিভাগীয় মঞ্চেও ভালো করেই বাগেরহাটের নাম উজ্জ্বল করবে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় পর্যায়ে দেশের জন্য প্রতিভা যোগাবে।

  • ক্রীড়া বেটিংয়ে জড়িতদের ১০ বছরের কারাদণ্ড চাইলেন তামিম

    ক্রীড়া বেটিংয়ে জড়িতদের ১০ বছরের কারাদণ্ড চাইলেন তামিম

    এক সময়ে ক্রীড়া বেটিংয়ে জড়িতদের জন্য ১০ বছরের কারাদণ্ডসহ কড়া শাস্তির প্রস্তাব করেছিলেন তামিম ইকবাল। বর্তমানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাড-হক কমিটির সভাপতি হিসেবে তিনি চাইলে সেই উদ্যোগ অগ্রগতির পথে নিতে পারেন। তামিম জানিয়েছেন, বেটিং ও ক্রীড়া দুর্নীতির শাস্তি নিয়ে তিনি ইতোমধ্যে সংসদের স্পিকার, ক্রীড়ামন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করেছেন।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তামিম বলেন, বিষয়টি সম্ভব এবং তিনি এটি নেওয়ার চেষ্টা করছেন। ‘আমি শুধু বেটিং নয়, পুরো ক্রীড়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর আইন চাই। এখন দুর্নীতিবাজদের সবচেয়ে বেশি শাস্তি নিষেধাজ্ঞা; তাদের বুঝতে হবে ধরা পড়লে জেলও হতে পারে। তাহলে দুর্নীতি পুরোপুরি বন্ধ হবে না—তবে অনেক কমে যাবে,’ তিনি বলেন।

    চলমান বাংলাদেশ–পাকিস্তান মিরপুর টেস্টে সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত থাকায় তামিম তাদের সামনেই বিষয়টি তুলেছেন বলে জানান। এছাড়া ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলামের সঙ্গেও তার নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে এবং তাদেওর সঙ্গে ওই বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    তামিম অতীতের স্মৃতি তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা ছোটবেলায় শুধু খেলতাম—জয়-পরাজয়, রান করা, উইকেট নেওয়া। এখন ছোটরাও এসবের সঙ্গে বেটিংয়ের মাধ্যমে জড়াচ্ছে; এটা শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বব্যাপী সমস্যা। যেমন চুরি করলে জেলে যাওয়ার শিক্ষা দেওয়া হয়, তেমনি বেটিংয়ে জড়ালে জেলে যেতে হতে পারে—এটা শেখাতে হবে।’

    ক্রিকেট বোর্ড পরিচালনায় দক্ষ পেশাদারদের ব্যবহার করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘ক্রিকেট আমার পটভূমি, তাই এ দিকটি আমি বেশি বুঝি। কিন্তু বোর্ড চালাতে ভারসাম্য দরকার—অর্থনীতি, টেন্ডার, ক্রয় প্রক্রিয়া, স্পন্সরশিপ, মার্কেটিং, ব্র্যান্ডিং—এসবেও অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। এজন্য একজন সিইও আছেন; অন্য ক্ষেত্রে দক্ষ মানুষদের কাজে লাগাতে হবে। খেলোয়াড়দের সুযোগ-সুবিধা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পরিবর্তন দরকার এবং আমি সেই দিকে মনোযোগ দিচ্ছি।’

    ভারতীয় সাংবাদিক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন বিসিবির ব্যাংক হিসাবগুলোতে প্রায় ১৩০০ কোটি টাকা অপ্রয়োগ অবস্থায় রয়েছে—এ প্রসঙ্গে তামিম বলেন, ‘আমি চাই আমাদের খেলোয়াড়রা ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে লড়াই করুক। কিন্তু তাদের জন্য আমরা কী করেছি? যদি আমরা সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তাঁদের সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা না দিই, তখন তাদের কাছ থেকে বেশি প্রত্যাশা করা কি ন্যায্য? আমার মনে হয় না।’

    তামিম আরও বলেন, ‘টাকা স্থায়ী আমানতে রেখে দিলে আইসিসি বা স্পন্সররা সেজন্য অতিরিক্ত অনুদান বা সহযোগিতা দেয় না। তাই এই টাকা উন্নয়ন, অবকাঠামো ও খেলায় প্রকৃত বিনিয়োগে ব্যবহার করা উচিত—কমপক্ষে একটি শক্তিশালী পাইপলাইন ও অবকাঠামো তৈরি করার জন্য। এরপর খেলোয়াড়দের উপরে দায়িত্বে নামার সুযোগ থাকবে।’