Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • বাস, ট্রেন ও লঞ্চে প্রতিবন্ধীদের বিনা ভাড়ায় যাতায়াত নিশ্চিত করা হবে: ডা. জোবাইদা রহমান

    বাস, ট্রেন ও লঞ্চে প্রতিবন্ধীদের বিনা ভাড়ায় যাতায়াত নিশ্চিত করা হবে: ডা. জোবাইদা রহমান

    শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধকতা কখনোই কোনো ব্যক্তির স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না—এই প্রত্যয়ের সঙ্গে এমন ঘোষণা দিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি ও বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জোবাইদা রহমান। তিনি বলেন, দেশের বাস, ট্রেন ও লঞ্চে প্রতিবন্ধীদের জন্য বিনা ভাড়ায় যাতায়াতের আইনগত ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে তাদের মর্যাদা ও সার্বিক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা যায়।

    বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে রাজধানীর কুড়াইল বস্তিতে প্রতিবন্ধীদের স্বাস্থ্যসেবা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আয়োজিত ‘শিশু স্বর্গ মডেল’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা জানান তিনি। অনুষ্ঠানটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজনে সম্পন্ন হয়।

    ডা. জোবাইদা রহমান আরও বলেন, বিজ্ঞানের সহায়তায় সঠিক ও সময়োপযোগী সহযোগিতা নিশ্চিত করা জরুরি—নির্দিষ্ট সময়ে চিকিৎসা ও সহায়তা পেলে বিশেষ করে সক্ষম শিশু-কিশোরদের লুকিয়ে থাকা প্রতিভা বিকশিত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। ‘শিশু স্বর্গ’ প্রকল্পটি শিশু-কিশোর ও তাদের মায়েদের জন্য একটি কার্যকর সাপোর্ট গ্রুপ হিসেবে কাজ করবে, যা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং মানসিক অশান্তি কমাতে সাহায্য করবে।

    তিনি যোগ করেন, আত্মবিশ্বাসই মা ও শিশু-কিশোরদের বিষণ্নতার অন্ধকার থেকে বের করে স্বাবলম্বী ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে নিতে পারে। এজন্য প্রতিবন্ধীবান্ধব জাতীয় নাগরিক সেবা গড়ে তুলে সমাজে তাদের মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করা উচিত। প্রতিটি বিশেষভাবে সক্ষম শিশু যদি উপযুক্ত সহায়তা পায়, তারা পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য অনুকরণীয় হয়ে উঠতে পারে—এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার।

    অনুষ্ঠানটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়; স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস সহ-সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সেমিনারে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে ইউনিসেফের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি স্ট্যানলি গোয়াভুয়া, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলাম (রিজু), ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান (মিল্টন) এবং প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির (বিটু) প্রমুখ।

    অনুষ্ঠান থেকে উচ্চস্বরে উঠে এসেছে বার্তা—সমাজের সব স্তরে প্রতিবন্ধীদের পূর্ণ অংশগ্রহণ ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই আমাদের নৈতিক দায়িত্ব; আর এজন্য সরকারি নীতিমালা, আইন ও স্থানীয় উদ্যোগগুলোকে ত্বরান্বিত করতে হবে।

  • আসন্ন ঈদে বাজারে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে জাল টাকা ছাপানো হচ্ছিল; ৩ জন গ্রেপ্তার

    আসন্ন ঈদে বাজারে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে জাল টাকা ছাপানো হচ্ছিল; ৩ জন গ্রেপ্তার

    ঢাকা মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) আসন্ন কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে বাজারে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে জাল টাকা ছাপানোর সময় তিনজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ জাল নোট ও জাল টাকা তৈরির সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়েছে।

    ডিবি বলছে, তারা তিনটি মেশিনে দিনরাত জাল নোট ছাপাচ্ছিল। খবরটি নিশ্চিত করে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্যও জানান।

    গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মো. মজিবুর রহমান, মো. দুলাল মৃধা ও মো. মামুন। ডিবি জানায়, গোয়েন্দা তল্লাশির ভিত্তিতে বুধবার (১৩ মে) উত্তরা উত্তরপূর্ব থানার সমবায় বাজার (বিডিআর মার্কেট) এলাকা এবং পরে গাজীপুর মহানগরের বাসন থানার এলাকায় পৃথক অভিযান চালানো হয়।

    উত্তরাপূর্ব থানার সমবায় বাজার এলাকায় জাল টাকা কেনাবেচার সময় মজিবুরকে হাতেনাতে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে চার লাখ টাকার জাল নোট এবং জাল টাকা বিক্রির ৪০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। মজিবুরের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে গাজীপুরে অভিযান করে দুলাল মৃধা ও মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়; তাদের কাছ থেকে আরও ৩৪ লাখ টাকার জাল নোট জব্দ করা হয়।

    অভিযানে একটি ল্যাপটপ, তিনটি কালার প্রিন্টার, সোনালি ফয়েল পেপার, সিকিউরিটি ট্যাগ, জলছাপযুক্ত কাগজ, আংশিক প্রিন্ট করা এক হাজার টাকার নোট, তরল গাম, কাটার এবং জলছাপ বসানোর ডাইসও উদ্ধার করা হয়েছে। ডিবি জানিয়েছে এগুলো দিয়ে পেশাদারভাবে জাল নোট তৈরির কাজ চালানো হচ্ছিল।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে তারা দীর্ঘদিন ধরে জাল টাকা তৈরি করে ঢাকার পাশাপাশি গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে আসছিল। আসন্ন ঈদ-উল-আজহার সময় পশুর হাট ও বিপণিবিতানে জাল টাকা ছড়িয়ে দেওয়া তাদের প্রধান পরিকল্পনার মধ্যে ছিল।

    ডিবি জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় একাধিক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় উত্তরা উত্তরপূর্ব থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়েছে এবং সঠিক মালিকানা ও চক্রের মোট পরিধি খতিয়ে দেখার জন্য তদন্ত চলছে।

  • এনসিপি প্রাথমিকভাবে ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভার প্রার্থী ঘোষণা করল

    এনসিপি প্রাথমিকভাবে ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভার প্রার্থী ঘোষণা করল

    আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে প্রাথমিক ধাপে ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভার জন্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আজ রোববার (১০ মে) বিকেলে দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এসব প্রার্থীর নাম প্রকাশ করেন।

    সারজিস আলম বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে আজ ১০০ জন এনসিপি-সমর্থিত উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌরসভা মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করছি।’ তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়ে। তাছাড়া, আগামী ঈদের আগেই—আশা করা যাচ্ছে এ মাসের ২০ তারিখে—দ্বিতীয় ধাপে আরও ১০০ জনের নাম ঘোষণা করা হবে। নাম ঘোষণার এই প্রক্রিয়া চলতে থাকবে বলেও তিনি জানান।

    মুখ্য সংগঠক আরও বলেন, ‘নির্বাচনের জন্য এনসিপিতে যোগ দিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের যারা দায়িত্ব পালন করছেন বা নেতৃত্ব দিচ্ছেন, এবং এমন ব্যক্তিরাও আবেদন করতে পারবেন যারা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হলেও গ্রহণযোগ্য, পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত নয়, মানুষের ওপর জুলুমের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় এবং ফ্যাসিস্ট বা অপরাধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নয়। আমরা যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেব এবং অন্য কোনো দল থেকে যারা যোগ দিতে চান তাদেরকেও সুযোগ দেয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।’

    চেয়ারম্যান ও মেয়র পদে এনসিপির ঘোষিত ১০০ প্রার্থীর মধ্যে ৫০ জন উপজেলা চেয়ারম্যান ও ৫০ জন পৌরসভার মেয়র প্রার্থী। নিচে বিভাগভিত্তিক প্রার্থীদের নাম তুলে ধরা হলো:

    খুলনা বিভাগ

    কুষ্টিয়ার কুমারখালী — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম বাদশা

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: জান্নাতুল ফেরদৌস টনি

    বাগেরহাট, চিতলমাড়া — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইশতিয়াক হোসেন

    বাগেরহাট, ফকিরমারা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: লাবিব আহমেদ

    মোংলা পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: মো. রহমত উল্লাহ

    বাগেরহাট পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: সৈয়দ মোর্শেদ আনোয়ার

    যশোর, বাঘারপাড়া — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইয়াহিয়া জিসান

    নোয়াপাড়া পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: শাহজাহান কবির

    খুলনা, চালনা — মেয়র প্রার্থী: এস এম এ রশিদ

    চুয়াডাঙ্গা সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: খায়রুল বাশার বিপ্লব

    জীবননগর পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: সোহেল পারভেজ

    মেহেরপুর, গাংনী পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: শাকিল আহমেদ

    ঝিনাইদহ পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: তারেকুল ইসলাম

    রংপুর বিভাগ

    পঞ্চগড়, তেঁতুলিয়া — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. হাবিবুর রহমান হাবিব

    পঞ্চগড়, বোদা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শিশির আসাদ

    পঞ্চগড়, দেবীগঞ্জ — পৌর মেয়র প্রার্থী: মাসুদ পারভেজ

    ঠাকুরগাঁও, রাণীশংকৈল — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: গোলাম মর্তুজা সেলিম

    দিনাজপুর, ফুলবাড়ি — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইমরান চৌধুরী নিশাত

    বোয়াগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মাওলানা এম এ তাফসির হাসান

    ফুলবাড়ি পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: শিহাব হোসেন

    ঘোড়াঘাট — পৌর মেয়র প্রার্থী: মো. আব্দুল মান্নান

    হাকিমপুর — পৌর মেয়র প্রার্থী: রায়হান কবির

    নীলফামারী, জলঢাকা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু সাইদ লিয়ন

    নীলফামারী সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ড. কামরুল ইসলাম

    কুড়িগ্রাম সদর — পৌর মেয়র প্রার্থী: মো. মাসুম মিয়া

    লালমনিরহাট, কালিগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শাহ সুলতান নাসির উদ্দিন আহমেদ

    রংপুর সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: কৃষ্ণ চন্দ্র বর্মণ

    গাইবান্ধা, সাদুল্লাপুর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: খাদিমুল ইসলাম

    রাজশাহী বিভাগ

    রাজশাহী, গোদাগাড়ি — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. আতিকুল রহমান

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ, গোমস্তাপুর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু মাসুদ

    নওগাঁ, নেয়ামতপুর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: বিশাল আহমেদ

    নওগাঁ, বাদলগাছী — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আসাদ মোর্শেদ আজম

    ধানমন্ডি ধামুরহাট — পৌর মেয়র প্রার্থী: মাহফুজার রহমান চৌধুরী রুবেল

    বগুড়া, শিবগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. জাহাঙ্গীর আলম

    দুপচাঁচিয়া — পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী: আবু বক্কর সিদ্দিক

    বগুড়া সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: এ এম জেড শাহরিয়ার

    নাটোর সদর — পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী: আব্দুল মান্নান

    পাবনা, চাটমোহর — পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী: খন্দকার আক্তার হোসেন

    সিরাজগঞ্জ, উল্লাপাড়া — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ আদনান

    উল্লাপাড়া পৌরসভায় — মেয়র প্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার আল-মামুন লিয়ন

    সিলেট বিভাগ

    হবিগঞ্জ, আজমিরিগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. কামাল আহমেদ

    হবিগঞ্জ সদর — পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী: মাহবুবুল বারী চৌধুরী

    মৌলভীবাজার, রাজনগর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: খালেদ হাসান

    মৌলভীবাজার, কুলাউড়া — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু রুকিয়ান

    সিলেট, কোম্পানিগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ওবায়েদ আহমেদ

    সিলেট, কানাইঘাট — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: বোরহান উদ্দিন ইউনূস

    ওসমানীনগর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: হাজি মো. মোশাহিদ আলী

    জৈন্তাপুর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: জাকারিয়া

    গোয়াইনঘাট — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মনসুরুল হাসান

    ময়মনসিংহ বিভাগ

    শেরপুর সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার মো. লিখন মিয়া

    শেরপুর সদর পৌর — মেয়র প্রার্থী: নূর ইসলাম

    জামালপুর সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: অ্যাডভোকেট আবু সাইদ মো. শামিম

    নেত্রকোণা, খালিয়াজুড়ি — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. মুশফিকুর রহমান মিন্টু

    বারহাট্টা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শফিকুল হক চৌধুরী বাবলু

    নেত্রকোণা সদর পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: সোহাগ মিয়া প্রিতম

    ময়মনসিংহ, তারাকান্দা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলাম

    ভালুকা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: নূরুল ইসলাম

    হালুয়াঘাট — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু হেলাল

    ধোবাউড়া — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. সাইফুল্লাহ

    ঢাকা বিভাগ (উত্তর)

    কিশোরগঞ্জ সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আহনাফ সাইদ খান

    তাড়াইল — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইকরাম হোসেন

    করিমগঞ্জ পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: খায়রুল কবির

    সাভার — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শাহাবদুল্লাহ রনি

    মানিকগঞ্জ সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আরিফুল ইসলাম

    দৌলতপুর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু عبدالله

    টাঙ্গাইল, কালিহাতি — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মেহদী হাসান

    টাঙ্গাইল পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: মাসুদুর রহমান রাসেল

    ভূঞাপুর পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: হাসান ইমাম তালুকদার

    শফিপুর পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: মাওলানা আনসার আলী

    নরসিংদী সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: সাইফ ইবনে সারওয়ার

    গাজীপুর, কালিগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শোয়েব মিয়া

    ঢাকা বিভাগ (দক্ষিণ)

    নারায়ণগঞ্জ, সেনারগাঁও — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: তুহিন মাহবুব

    মুন্সিগঞ্জ, সিরাজদিখান — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আলী নেওয়াজ

    ফরিদপুর বিভাগ

    নগরকান্দা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: রেজাউল করিম সবুজ

    নগরকান্দা পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: নাজমুল হুদা

    ফরিদপুর পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: সাইদ খান

    মাদারীপুর পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: মো. হাসিবুল্লাহ

    গোপালগঞ্জ পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: ফেরদৌম আমেনা

    এনসিপি কর্তারা জানিয়েছেন, প্রার্থী মনোনয়ন ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া ধারাবাহিকভাবে চলবে। আগামী ঘোষিত সময়সূচী অনুযায়ী দ্বিতীয় ধাপের নামও তৎপরতার সঙ্গে ঘোষণা করবে দল।

  • খুলনা জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক ফিরোজকে অব্যাহতি; আবু জাফর ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক

    খুলনা জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক ফিরোজকে অব্যাহতি; আবু জাফর ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে খুলনা জেলা আহবায়ক ফিরোজ আহমেদকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবু জাফরকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক নিযুক্ত করা হয়েছে। কমিশন ঘোষণার মাত্র ১৫ ঘণ্টার মধ্যে এই পরিবর্তন করা হলো।

    আজ বুধবার (১৩ মে) কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সিদ্ধান্তটি অনুমোদন করেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ওই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সংগঠনের গতিশীলতা ও ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বার্থে সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    গতকাল রাতেই খুলনা মহানগর ও জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় সংসদের পৃথক দুইটি অনুমোদিত পত্রে দুটোরই অনুমোদন দেখানো হয়। ঘোষণা অনুযায়ী খুলনা মহানগর আহবায়ক কমিটিতে তাজিম বিশ্বাসকে আহবায়ক, আরিফুর রহমান আরিফকে সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক এবং হাবিবুর রহমান খান বিপ্লবকে সদস্য সচিব করে মোট ৪৩ সদস্যের কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

    এর পাশাপাশি খুলনা জেলা আহবায়ক কমিটিতে ফিরোজ আহমেদকে আহবায়ক, আবু জাফরকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং খান ইসমাইল হোসেনকে সদস্য সচিব করে ৩০ সদস্যের কমিটি অনুমোদিত হয়েছিল। কিন্তু কমিটি ঘোষণার মাত্র কিছু ঘণ্টার মধ্যে ফিরোজ আহমেদকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে আবু জাফরকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক করা হয়েছে।

    কেন্দ্র থেকে জানানো হয়েছে এই সিদ্ধান্ত সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই নেওয়া হয়েছে।

  • অর্থমন্ত্রী: আর্থিক খাতে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না

    অর্থমন্ত্রী: আর্থিক খাতে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, আর্থিক খাতসহ সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক সেক্টরে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না; এসব প্রতিষ্ঠান শতভাগ পেশাদারভাবে পরিচালিত হবে। তিনি এসব কথা বলেন মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লুতে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায়।

    অনুষ্ঠানে বিএসআইসির চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন সভাপতিত্ব করেন। বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান ও বিএবির চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার।

    মন্ত্রী বলেন, সরকারের কোনো রাজনৈতিক নিয়োগ বা প্রভাব এখানে কাজ করবে না; পরিচালনা ও বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, দক্ষ ও পেশাদার প্রক্রিয়ার অধীনে হবে। তিনি আরও জানান, বিএসআইসি যে মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে তা ভবিষ্যতে আরও বাড়ানো হবে এবং প্রতিষ্ঠানটি শুধু বিনিয়োগকারি হিসেবেই নয়, দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে দৃশ্যমান করে তোলার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হবে।

    আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্মের সবচেয়ে বড় দুইটি সমস্যা হলো ফান্ডের অভাব এবং জামানত প্রদানের অক্ষমতা। নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে সেই বাধা দুটোই কমানো সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি সুবিধাজনক বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত সাপোর্ট মন্ত্রণালয় দেবে।

    মন্ত্রী আরও জানান, তারা পুঁজিবাজার সংস্কার ও দরকারি ডিরেগুলেশনের মাধ্যমে আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দিকে কাজ করছেন। বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারের জন্য দক্ষ ব্যক্তিদের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং দেশি-বিদেশি বড় ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট ফার্ম ও বিভিন্ন দাতা সংস্থা ইতোমধ্যে আমাদের সঙ্গে কাজ করছে। ব্যাংক ও প্রাইভেট সেক্টরের আন্ডার-ক্যাপিটালাইজেশন দূর করতেও নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    অর্থমন্ত্রী আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, বিএসআইসি শুধু ব্যাংকিং সেক্টরে সীমাবদ্ধ থাকবে না; এটি আন্তর্জাতিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করবে। সরকারের ম্যানিফেস্টোর লক্ষ্য অনুযায়ী ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগিয়ে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে সৃজনশীল অর্থনীতি বা ক্রিয়েটিভ ইকোনমির মাধ্যমে গ্রামীণ ও শহরের তরুণদের অর্থনীতির মূলধারায় নেওয়া হবে।

    মন্ত্রী বলেন, দেশের কয়েকটি ব্যাংক একত্রে এই ভেঞ্চার ক্যাপিটাল উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। অর্থ মন্ত্রণালয় পুরো প্রকল্পটির সফলতার জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা প্রদান করবে।

  • উত্তরপ্রদেশে তীব্র ঝড়-বর্ষণে প্রাণহানি ১০০ ছাড়াল

    উত্তরপ্রদেশে তীব্র ঝড়-বর্ষণে প্রাণহানি ১০০ ছাড়াল

    ভারতের উত্তরপ্রদেশে বুধবার সন্ধ্যায় শুরু হওয়া তীব্র ঝড় ও ভারী বৃষ্টিতে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে। কর্তৃপক্ষ জানান, শতাধিক মানুষ মারা গেছেন এবং আরও কয়েকশ আহত হয়েছেন। রাজ্যজুড়ে হাজার হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে হাজার হাজার গাছ ও বিদ্যুৎখুঁটি উপড়ে পড়েছে।

    সরকারি ও সংবাদসংস্থার তথ্য অনুযায়ী প্রয়াগরাজে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি দেখা গেছে — কমপক্ষে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভাদোহীতে ১৮ জন, মির্জাপুরে ১৫ জন, ফতেহপুরে ১০ জন, উন্নাও ও বদায়ুনে প্রত্যেকে ছয়জন করে মারা গেছেন। প্রতাপগড় ও বারেলিতে চারজন করে প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া সীতাপুর, রায়বেরেলি, চান্দৌলি, কানপুর দেহাত, হারদোই ও সম্ভল থেকেও মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

    কর্মকর্তারা বলছেন, প্রধানত কাঁচা ঘরধ্বস, উপড়ে পড়ে গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি এবং বজ্রপাতে এসব মৃত্যু ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঝড়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং গবাদি পশুও হানি এসেছে — এসবের প্রাথমিক ক্ষতি নিরূপণের কাজ শুরু হয়েছে।

    প্রতিকূল আবহাওয়া হঠাৎ তীব্র আকার নেওয়ায় বুধবার সন্ধ্যায় রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকায় ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়। প্রচণ্ড বাতাসে রাস্তাগুলোতে বড় বড় বিলবোর্ড ও টিনের চালা উড়ে যান, অনেক ক্ষেত্রে এগুলো যানবাহনের উপর পড়ে; ফলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়।

    সামাজিক মাধ্যমে ঝড়ের সময় ও পরে নেওয়া অসংখ্য ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। বারেলির বামিয়ানা গ্রামের একটি ভিডিওতে দেখা যায় কেবলমাত্র বাতাসের ধাক্কায় একজন ব্যক্তি একটি টিনের চালাসহ উড়ে গিয়ে প্রায় ৫০ ফুট দূরে একটি মাঠে পড়ছেন — ভিডিওটি ঝড়ের ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করে তোলে।

    উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ নিহতদের প্রতি শোক প্রকাশ করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দফতরগুলোকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং উদ্ধারকার্য ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এছাড়া ফসলের ক্ষতির আনুমানিক হিসাব জানাতে রাজস্ব ও কৃষি বিভাগসহ বিমা কোম্পানিগুলোকে দ্রুত জরিপ করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনায় উদ্ধৃতি দিয়েছে এনডিটিভি।

  • ইরানের অভিযোগ: যুদ্ধে মার্কিনদের সহায়তা করেছে আমিরাত

    ইরানের অভিযোগ: যুদ্ধে মার্কিনদের সহায়তা করেছে আমিরাত

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবি করেছেন, তেহরানের বিরুদ্ধে চলা সাম্প্রতিক সহিংসতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যোগ দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। তিনি এই মন্তব্য করেছেন ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে ভারতে থাকা অবস্থায় টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায়।

    আরাঘচি বলেছেন, এই আগ্রাসনে সংযুক্ত আরব আমিরাত একটি সক্রিয় অংশীদার এবং এতে কোনো সন্দেহ রাখা যায় না। তিনি আরও দাবি করেছেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আমিরাত কেবল নিন্দা জাহির করেই বিরত ছিল না, বরং সরাসরি অংশ নিয়েছিল এবং সম্ভবত তেহরানের বিরুদ্ধে কিছু পদক্ষেপও নিয়েছে।

    ইসরায়েল বলেছে, চলমান যুদ্ধের সময় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের একটি ‘গোপন’ বৈঠক ইউএই-তে হয়েছে। আরাঘচি এই দাবির কথাও উল্লেখ করেছেন। তবে আবু ধাবি ওই গোপন ভ্রমণের কথা অস্বীকার করেছে।

    ফেব্রুয়ারি ২৮-এ মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার পরে ইরান প্রতিশোধ হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের ওপর পাল্টা হামলা চালায়—তাতে ইসরান ও আমিরাতের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে। এরপর থেকে বিরোধ বাড়তে থাকায় দুই দেশের সম্পর্ক তীক্ষ্ণ হয়ে ওঠে; গত ৮ এপ্রিল থেকে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি বজায় আছে বলে জানানো হয়েছে।

    ইরান বারবার অভিযোগ করেছে যে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে মার্কিন বাহিনীকে হামলা চালানোর সুযোগ দিচ্ছে। অন্যদিকে, ওই উপসাগরীয় দেশগুলো এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে তারা সংঘাতের আগে থেকেই প্রতিজ্ঞা করেছিল যে তাদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা কাউকে ইরানের বিরুদ্ধে হামলার কাজে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বিশ্লেষকরাও আমিরাতের জড়িত থাকার বিষয়ে বিভিন্ন দাবি তুলেছেন। বিপরীতে, চলতি মাসের শুরুতে আমিরাতের ফুজাইরাহ অঞ্চলের একটি জ্বালানি স্থাপনায় দুর্বল ড্রোন হামলার অভিযোগে আবু ধাবি ইরানকে দায়ী করেছিল; ইরান সেই অভিযোগ খারিজ করেছে।

    আরাঘচির মন্তব্যের সূত্র হিসেবে ফরাসি সংবাদসংস্থা এএফপির প্রতিবেদনকে উল্লেখ করা হচ্ছে। সংঘাত ও সম্পর্কজটিলতা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন মন্তব্য এবং প্রতিক্রিয়া চলছে, যা ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

  • ব্যাংক লুটপাটের দায়ে ৬ ব্যক্তি ও শিল্পগোষ্ঠীর নাম

    ব্যাংক লুটপাটের দায়ে ৬ ব্যক্তি ও শিল্পগোষ্ঠীর নাম

    বাংলাদেশ ব্যাংক একটি প্রতিবেদনে বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২৮টি ব্যাংকের বড় ধরণের ক্ষতির পেছনে ছয় ব্যক্তি ও কয়েকটি শিল্পগোষ্ঠী দায়ী। প্রতিবেদনে এস আলম, বেক্সিমকো, ওরিয়ন, নাসা গ্রুপের নামসহ সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং সিকদার পরিবারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঋণের সূত্রে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের ফলে ব্যাংকগুলো বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকিতে পড়েছিল। রাষ্ট্রায়ত্ত অথব অগ্রণী ও জনতা ব্যাংকসহ শরিয়াহভিত্তিক ইসলামী ব্যাংক, সিআইবিএল (SIBL), ফার্স্ট সিকিউরিটি, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক এবং বেসরকারি খাতের ইউসিবি, আইএফআইসি ও ন্যাশনাল ব্যাংকও এই লুটপাটের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, সময়ের চাপ ও বিভিন্ন বাহ্যিক ঝুকির কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিছু সংস্থাকে অনৈতিক সুবিধা দিতে বাধ্য হয়েছিল। এরপরও এখন পাচারের অর্থ ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, কিছু ক্ষেত্রে বহিরাগত চাপ ছিল এবং এমনকি রাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায় থেকে বিভিন্ন ইস্যুতে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংক অগ্রাহ্য করতে পারত না।

    বিশ্লেষকরা দাবি করছেন, শুধু টাকা ফেরানোই যথেষ্ট নয়—দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং যারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভেতরে অনিয়মে জড়িত ছিলেন, তাদেরও আইনের আওতায় আনা জরুরি। নেই হলে দেশের সাধারণ মানুষের ব্যাংকে আস্থা আরো বাড়বে না বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

    বিআইবিএমের সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী বলেন, একজন কর্পোরেট দরিদ্র কতটা ঋণ নিতে পারে, কত দিন বা কী শর্তে নিতে পারে—এসবই নীতিমালায় নির্দিষ্ট। যদি বাংলাদেশ ব্যাংক জেনে শুনে এসব সংস্থাকে ছাড়পত্র বা ছাড় দিয়ে থাকে, তাহলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককেও দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে। এটি তাদের দায়িত্ব ছাড়া আর কেউই করতে পারে না।

    বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক পাচারের অর্থ উদ্ধার ও ফিরিয়ে আনার কাজ জোরদার করেছে। সম্পাদকীয় ও বিশ্লেষকরা বলছে, দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা না হলে দেশের ব্যাংকিং খাতের ওপর জনগণের বিশ্বাস ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

  • চিতলমারী: কোরবানির জন্য ১১,৭৮১টি পশু প্রস্তুত — চাহিদা ৭,১২১, উদ্বৃত্ত ৪,৪৬০

    চিতলমারী: কোরবানির জন্য ১১,৭৮১টি পশু প্রস্তুত — চাহিদা ৭,১২১, উদ্বৃত্ত ৪,৪৬০

    বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে মোট ১১,৭৮১টি পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ের চাহিদা হচ্ছে ৭,১২১টি পশু, ফলে উদ্বৃত্ত থাকবে ৪,৪৬০টি পশু, যা বিভিন্ন হাট ও বাজারে বিক্রি করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, চিতলমারীতে মোট ১,৪০৫ জন খামারি রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১,০৪২ জন গরুখামারি এবং ৪৫ জন ছাগলখামারি করোনোর আবহে কোরবানির পশু প্রস্তুত করেছেন। প্রস্তুতকৃত পশুসম্ভারের ভগ্নাংশ অনুযায়ী রয়েছে ৪,৩২৩টি ষাঁড়, ২,২১২টি গাভী ও ৫,২৪৬টি ছাগল।

    সামান্য ব্যবসায়িক উদাহরণ হিসেবে সাইদ ডেইরি ফার্মের মালিক মোঃ সোহাগ শেখ জানিয়েছেন, তিনি এবারের ঈদে ১৬টি ষাঁড় প্রস্তুত রেখেছেন। তিনি বলেন, গো-খাদ্যের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় খামারিরা লাভ নিয়ে অনিশ্চিত; খরচ বেড়ে যাওয়ায় মূল্য পাওয়া না গেলে লোকসানের আশঙ্কা আছে। পাশাপাশি খামারিরা আশঙ্কা করছেন, শেষ মুহূর্তে সীমান্তের ভারতীয় গরু যদি বাজারে প্রবেশ করে তাহলে দাম অচল হয়ে যেতে পারে, ফলে তাদের ন্যায্য মূল্য পাওয়া কঠিন হবে। শেষ মুহূর্তে ভালো দামের আশায় অনেক খামারিই এখনই পশুর পরিচর্যায় আরও তৎপরতা যোগ করেছেন এবং বিক্রি শুরু করেছেন।

    চিতলমারী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ আহমেদ ইকবাল বলেন, ‘আমরা খামারিদের নিয়মিত খোঁজখবর রাখছি। চাহিদার তুলনায় এখানে প্রায় ৫ হাজার পশু বেশি রয়েছে, তাই কোরবানির পশু সংকটের কোনো ব্যাপার নেই।’

    চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে পশুবাহী ট্রাক, হাটবাজার ও পশু ব্যবস্থাপনায় চাঁদাবাজি বা হয়রানি রোধে থানা পুলিশ কড়াকড়ি রেখেছে। তিনি বলেন, ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ লেনদেন নিশ্চিত করতে পুলিশ মাঠে তৎপর রয়েছে।

    প্রস্তুতকৃত উদ্বৃত্ত পশুগুলো উপজেলা ও জেলার বাইরে বিভিন্ন হাট ও বাজারে বিক্রি করা হবে বলে জানান কর্তৃপক্ষ।

  • নবগঠিত খুলনা মহানগর ছাত্রদল কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু

    নবগঠিত খুলনা মহানগর ছাত্রদল কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু

    নবগঠিত খুলনা মহানগর ছাত্রদল আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরু করেছে কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে। খুলনা মহানগর বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি এম. নুরুল ইসলাম দাদু, বিএনপি নেতা কাজী সেকেন্দার আলী ডালিম, সৈয়দ ঈসা, নুরুজ্জামান খোকন, ওহিদুজ্জামান চঞ্চল, আবুল কালাম আজাদ, আজিজুল হাসান দুলু ও এস এম কামাল হোসেনের কবর জিয়ারত করেই শুক্রবার নয়—বরং বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সংগঠনটি তাদের কর্মসূচি শুরু করে।

    জোহরের নামাজের পর নেতৃবৃন্দ নিহত নেতাদের কবর জিয়ারত করে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে তারা জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, আরাফাত রহমান কোকো, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সব শহীদ এবং গত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

    কবর জিয়ারত ও দোয়া-পাঠের এই কর্মসূচি পরিচালনা করেন মহানগর ছাত্রদলের নবনির্বাচিত আহ্বায়ক তাজিম বিশ্বাস ও সদস্য সচিব হাবিবুর রহমান বিপ্লব। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আরিফুর রহমান আরিফ, রিয়াজুল খান মুরাদ, আব্দুল আহাদ শাহিন, এস এম ইউসুফ, আরিফুল ইসলাম, মেরাজ হোসেন মানিক, রাকিবুল ইসলাম সাজিদ, নাসিম রহমান নাহিদ, সাইফুল্লাহ মানসুর তাজিম, রিফাত ইসলাম, এম এম মুন্না, এস এম আলমগীর হোসেন, রাকিব হাসান, তরিকুল ইসলাম নকিব, বেল্লাল মুস্তাকিম রাজ, সাজ্জাদ হোসেন রিপ্পি, ইসমাইল হোসেন, ইসরাইল হোসেন টুটুল, ইমরান মল্লিক, নাঈম খান, আরিফুজ্জামান আসিফ, আল আমিন হোসেন, তরিকুল ইসলাম নাহিদ, মো. আলামিন, মাহিন রহমান, সোহেল আহমেদ, রায়হান শেখ, নাজমুল হুদা জনি, নাইম মীর, সালমী তারেক, টুটুল, মো. সজীব হোসেনসহ মহানগর ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।

    কবর জিয়ারত শেষে নেতৃবৃন্দ বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের আদর্শকে ধারণ করে তারা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দেশবিরোধী সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামে এগিয়ে চলবে। তারা আরও বলেন যে ত্যাগ, আদর্শ ও দেশপ্রেমকে সামনে রেখে নবগঠিত মহানগর ছাত্রদল সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করার জন্য কাজ করবে।