Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ চলছে, কিছু এলাকায় বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির সতর্কতা

    মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ চলছে, কিছু এলাকায় বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির সতর্কতা

    আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দেশের কয়েকটি এলাকায় মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বইছে এবং তা আল্পসময়ে প্রশমিত হতে পারে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি-শিলাবৃষ্টিসহ বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাব্যতা রয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার (পাঁচ দিনের) পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    পরিবারিকভাবে দেখা যায়, পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় লঘুচাপের বর্ধিতাংশ অবস্থান করছে; এ কারণেই আঞ্চলিকভাবে বায়ুচলাচলে পরিবর্তন হচ্ছে এবং অস্থির আবহাওয়া তৈরি হতে পারে।

    বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অনেকে অঞ্চলে অস্থায়ী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় দমকা হাওয়া, বজ্রসহ বৃষ্টি ও বিদ্যুৎ চমকানোর সঙ্গে বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এ সময়ে সারাদেশে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ১–২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে; রাতের তাপমাত্রাও সামান্য নিচে আসতে পারে।

    রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলা—এই এলাকাগুলোতে বর্তমানে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বইছে; পরবর্তী সময়ে তা ধীরে ধীরে প্রশমিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা পরবর্তী ৩৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে; কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির প্রবণতাও থাকতে পারে। এই সময় দেশের দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়ার লক্ষণ দেখাবে।

    শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা পরবর্তী ৩৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে, কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টি হবে। দেশের অন্যান্য স্থানে আংশিক মেঘলা আকাশ থাকলেও প্রধানত আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। এ সময়ে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    রোববার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা পরবর্তী ৩৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে; বিক্ষিপ্ত শিলাবৃষ্টির শঙ্কাও রয়েছে। দেশে অধিকাংশ স্থানে আংশিক মেঘলা বা শুষ্ক আবহাওয়া দেখা দেবে। সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা একটু বাড়তে পারে।

    সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা পরবর্তী ৩৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশ থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

    বর্ধিত পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মোট মিলিয়ে এ সময়ে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামগ্রিকভাবে বাড়ার প্রবণতা থাকতে পারে। বজ্রসহ বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনার কারণে স্থানীয়ভাবে দুর্যোগ-সম্বন্ধীয় সমস্যার সম্ভাবনা থাকলে সতর্ক থাকা বাঞ্ছনীয়।

  • নাহিদ ইসলাম: ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে

    নাহিদ ইসলাম: ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে। তিনি এই অভিযোগটি করেছেন আজ শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায়।

    নাহিদ বলেন, ইতিহাস সাক্ষ্য—এই দেশে গণআন্দোলনে ও যুদ্ধ কালে সবচেয়ে বেশি শোষিতদের রক্ত দিয়েছে শ্রমিক-কর্মচারীরা। ১৯৪৭ সালের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী নানা গণ-অভ্যুত্থানে জীবন বিসর্জন দিয়েছে অধিকাংশই শ্রমজীবী মানুষ।

    তিনি আরো বলেন, ‘‘শ্রমজীবী মানুষের রক্তের ওপর ক্ষমতায় এসে এক মাসের মধ্যেই বিএনপি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। নতুন যে সরকার গঠন হয়েছে, তারা শ্রমিকদের রক্তে অধিষ্ঠিত হয়েও নতুন বাংলাদেশের সঙ্গে বেইমানি করেছে; গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করেছে। এই সরকার গণবিরোধী প্রকৃতির—ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে।’’

    অন্যদিকে নাহিদ অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দেওয়া অধ্যাদেশগুলো আইন করার এবং সংস্কার বাস্তবায়নের যে প্রতিশ্রুতি ছিল, সেগুলোও বিএনপি ভঙ্গ করেছে। তিনি বললেন, ‘‘রাজনীতিতে ওয়াদা ভঙ্গের পরিণতি ভালো হবে না। আমরা গণ-আন্দোলন গড়ে শ্রমিকদের অধিকারসহ প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে বাধ্য করব।’’

    নাহিদ জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘‘আমরা একটি নতুন জাতীয় ঐক্যে আবির্ভূত হয়েছি। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে শ্রমিকদের প্রতি আমাদের যে অঙ্গীকার ছিল—বৈষম্যহীন একটি বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি—তা বাস্তবে রূপ দিতে হবে। রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজের প্রতিটি স্তরে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে হবে; নতুন বন্দোবস্তে শ্রমিকদের অংশ নিশ্চিত করতে হবে; সেই লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’’

    তিনি উল্লেখ করেন যে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, জাতীয় নাগরিক পার্টি ও জাতীয় শ্রমিক শক্তি ঐক্যের পথে কাজ করছে।

    শ্রমিকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জবাবদিহিমূলক করার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ বলেন, ‘‘ঐক্যবদ্ধ হোন — আপনাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের নেতৃত্ব দিতে হবে। নতুন বাংলাদেশের পথে, জুলাইয়ের বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে।’’

    রাজপথে নামার প্রস্তুতির তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘এবার কেবল সংসদ নয়; রাজপথের প্রস্তুতিও নিতে হবে। গণ-আন্দোলনের মাধ্যমেই বর্তমান সরকারকে বাধ্য করে জুলাই সনদ, গণভোট এবং শ্রমিকদের অধিকারসহ প্রতিটি দাবিকে বাস্তবায়িত করানো হবে।’’

  • এশিয়ার বাজারকে লক্ষ্য করে উদ্ভাবনী হোম সলিউশন ও বৃদ্ধির কৌশল ঘোষণা করল LG

    এশিয়ার বাজারকে লক্ষ্য করে উদ্ভাবনী হোম সলিউশন ও বৃদ্ধির কৌশল ঘোষণা করল LG

    বিশ্বখ্যাত ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ড LG Electronics (LG) কোরিয়ার বুসানে ৭–১০ এপ্রিল আয়োজন করা InnoFest 2026 APAC ইভেন্টে এশিয়া প্যাসিফিক বাজারের জন্য তাদের সর্বশেষ হোম অ্যাপ্লায়েন্স ও ভবিষ্যৎ কৌশল উপস্থাপন করেছে। প্রায় ২০টি দেশ থেকে ২০০টিরও বেশি ব্যবসায়িক পার্টনার ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে এটি LG-এর ২০২৬ InnoFest সিরিজের সমাপ্তি অনুষ্ঠান হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়।

    ‘Innovation, Forward Together’ থিমে অনুষ্ঠিত প্রদর্শনীতে LG দেখিয়েছে কিভাবে এশীয় ভোক্তা জীবনধারা, আবাসনের বাস্তবতা ও ব্যবহারিক চাহিদা বিবেচনায় রেখে প্রযুক্তিনির্ভর, টেকসই এবং স্থানীয়কৃত হোম সলিউশন তৈরি করছে। স্থানীয় সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যগুলোর সঙ্গে K Tech উদ্ভাবন মিলিয়ে কোম্পানি বাস্তবসম্মত সমাধান উন্মোচন করেছে।

    লন্ড্রি কেয়ার সেগমেন্টে LG তাদের লন্ড্রি পোর্টফोलিওকে শক্তিশালী করেছে নতুন WashTower™ লাইনআপের মাধ্যমে। বিশেষ করে এশিয়ায় ছোট ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্টের অবস্থান বিবেচনায় রেখে নতুন ২৫ ইঞ্চি মডেল চালু করা হয়েছে; এ ছাড়া ২৪ ইঞ্চি ও ২৭ ইঞ্চি সংস্করণও থাকছে। ঘনবসতিপূর্ণ বাড়িতে সীমিত জায়গায় সর্বোচ্চ সুবিধা দিতে এই ডিজাইন করা হয়েছে।

    নতুন টপ-লোড ওয়াশারগুলোতে AI Direct Drive™ (AI DD™) প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে, যা কাপড়ের ধরন ও ময়লার মাত্রা শনাক্ত করে ওয়াশ মুভমেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় করে। TurboWash™ 3D প্রযুক্তি ব্যবহার করে সম্পূর্ণ ওয়াশ সাইকেল ৩০ মিনিটেরও কম সময়ে শেষ করা সম্ভব। পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় ডিটারজেন্ট ডিসপেনসার প্রতিটি লোডের জন্য সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করে দেয়।

    LG WashCombo™ অল-ইন-ওয়ান ওয়াশার-ড্রায়ার এক ইউনিটেই ধোয়া ও শুকানোর সুবিধা দেয়। Inverter Heat Pump™ প্রযুক্তি বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিশ্চিত করে—যা বিদ্যুৎ ব্যয়ের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ন এমন বাংলাদেশসহ এশিয়ার বাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা।

    স্মার্ট ও কমপ্যাক্ট কিচেন সলিউশনেও LG নতুন প্রজন্মের রেফ্রিজারেটর উন্মোচন করেছে। Fit & Max ডিজাইন এবং Zero Clearance Hinge দেয়ালের সঙ্গে ফাঁকা জায়গা কমিয়ে বিল্ট-ইন লুক দেয়ার পাশাপাশি স্টোরেজ ক্ষমতা সর্বোচ্চ করছে।

    LG-এর উন্নত Ice Solution চার ধরনের বরফ দেয়—Craft Ice™, Cubed, Crushed ও Mini Craft—যা দৈনন্দিন ব্যবহারের পাশাপাশি অতিথি আপ্যায়নের জন্যও কার্যকর। ডিশওয়াশার সেগমেন্টে এক ঘণ্টার ওয়াশ-এন্ড-ড্রাই সাইকেল, QuadWash™ Pro এবং Dynamic Heat Dry+ প্রযুক্তি দ্রুত ও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে বर्तन পরিষ্কার করে। উল্লেখ্য, LG-এর প্রধান কিছু মডেলে A-গ্রেড এনার্জি এফিসিয়েন্সিও অর্জিত হয়েছে।

    AI চালিত স্মার্ট হোম অভিজ্ঞতার অংশ হিসেবে LG তাদের AI Home Vision প্রদর্শন করেছে। ThinQ ON™ AI Home Hub প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে LG-এর স্মার্ট অ্যাপ্লায়েন্স ও IoT ডিভাইসগুলো একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে ব্যবহারকারীর জন্য আরও সহজ, স্বয়ংক্রিয় ও ব্যাক্তিগতকৃত জীবনযাপন নিশ্চিত করে। এই প্ল্যাটফর্ম ধাপে ধাপে এশিয়ার বিভিন্ন বাজারে চালু হবে।

    দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি কৌশলের অংশ হিসেবে LG তাদের Subscribe সাবস্ক্রিপশন সার্ভিসও সম্প্রসারণ করছে। এই সেবার মাধ্যমে গ্রাহকরা কিস্তিভিত্তিক পেমেন্ট সুবিধা ছাড়াও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও সেবা পাবে—যা বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল এশীয় বাজারগুলোর জন্য সম্ভাবনাময় অপশন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    LG Electronics Asia Pacific-এর আঞ্চলিক সিইও জেসুং কিম বলেন, “এশিয়া আমাদের অন্যতম দ্রুতবর্ধমান ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাজার। InnoFest 2026 আমাদের পার্টনারদের সঙ্গে ভবিষ্যৎ ভিশন ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি শেয়ার করার একটি প্ল্যাটফর্ম। আমরা স্থানীয় জীবনযাত্রার চাহিদা মেনে AI-চালিত হোম সলিউশন পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

    LG Home Appliance Solution Company (HS) সম্পর্কে: HS হোম অ্যাপ্লায়েন্স ও AI হোম সলিউশনের ক্ষেত্রেএকটি বিশ্বব্যাপী নেতৃস্থানীয় প্রতিষ্ঠান। কোম্পানি উদ্ভাবনী কোর প্রযুক্তি, এনার্জি-সাশ্রয়ী ডিজাইন ও টেকসই সমাধানের মাধ্যমে গ্রাহকদের জীবনমান উন্নয়নেই কাজ করে যাচ্ছে। বিস্তারিত জানতে: www.LG.com/global/newsroom/

  • রেমিট্যান্স বাড়ায় রিজার্ভ ফের ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

    রেমিট্যান্স বাড়ায় রিজার্ভ ফের ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

    গেল মার্চে রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয় এসে রিজার্ভে জোরালো প্রভাব ফেলেছে; চলতি এপ্রিলেও তা অব্যাহত থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক আবারও বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার কেনার মাধ্যমে রিজার্ভ বাড়িয়েছে। ফলে দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত পুনরায় ৩৫ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ৩০ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার। এক মাস আগের তুলনায়—১৬ মার্চের তথ্যে—মোট রিজার্ভ ছিল ৩৪ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ২৯ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার; তাই এক মাসে মোট রিজার্ভ প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে।

    তবে মোট রিজার্ভের সবটিই ব্যবহারযোগ্য নয়। স্বল্পমেয়াদি দায়-দায়িত্ব ও অন্যান্য আবদ্ধতা বাদ দিলে যে নিট রিজার্ভ থাকে, সেটিই বাস্তবিকভাবে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ব্যাংক অভ্যন্তরীণভাবে ‘ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ’ হিসাব করে থাকে এবং সে হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে এটি প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলার। সাধারণত অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয়ের সমপরিমাণ রিজার্ভকে নিরাপদ ধরা হয়; যদি মাসিক আমদানি ব্যয় গড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার ধরা হয়, এই ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ দিয়ে প্রায় পাঁচ মাসের বেশি আমদানির ব্যয় মিটানো সম্ভব।

    অতীতে রিজার্ভ চাপে পড়ে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ ১৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল। তখন বৈদেশিক ঋণ ও বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার সংগ্রহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়েছিল। ২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বতী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর নতুন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর রিজার্ভ থেকে বিক্রি কমিয়ে দেন এবং হুন্ডি-অর্থপাচার রোধ ও বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা জোরদারের লক্ষ্যে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন উৎস থেকে ডলার সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়ার ফলে ধীরে ধীরে রিজার্ভ স্হিতি স্থিতিশীল হতে শুরু করে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, প্রবাসী আয় বাড়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ছে এবং রিজার্ভ শক্তিশালী হচ্ছে। বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজন অনুযায়ী ডলার কিনছে, ফলে রিজার্ভ ফের ভালো অবস্থানে এসেছে। তিনি আরও জানান, ডলারের দর যদি অতিরিক্ত নিম্নে পড়ে, তাহলে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে—সুশৃঙ্খল বাজার পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    রেমিট্যান্স প্রবাহের সাম্প্রতিক গতিবিধি উল্লেখযোগ্য: চলতি এপ্রিলের প্রথম ১৫ দিনে দেশে এসেছে ১৭৯ কোটি ডলার—গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১.৫ শতাংশ বেশি। গত বছরের একই সময়ে এটি ছিল ১৪৭ কোটি ডলার। গত কয়েক মাস ধরে প্রবাহ ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে; মার্চে প্রবাসীরা একক মাসে পাঠিয়েছেন ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা দেশের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ। তার আগে ফেব্রুয়ারি ছিল ৩০২ কোটি, জানুয়ারি ৩১৭ কোটি এবং ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ডলার।

    চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে মোট ৫৬১ কোটি ডলার ক্রয় করেছে, যা রিজার্ভ পুনর্গঠনে সহায়ক হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক বাজারে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার কারণে জ্বালানি তেলের দামে অস্থিরতা বিরাজ করছে; এসব ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও রিজার্ভের বৃদ্ধি সংশ্লিষ্টদের কাছে স্বস্তির পরিচায়ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈদেশিক মুদ্রার পর্যাপ্ত সঞ্চয় থাকলে অপ্রত্যাশিত শক মোকাবেলায় দেশের সক্ষমতা বেড়ে যায়।

  • আইইএ প্রধানের সতর্কবার্তা: ইউরোপে জেট ফুয়েল মজুদ মাত্র ৬ সপ্তাহ

    আইইএ প্রধানের সতর্কবার্তা: ইউরোপে জেট ফুয়েল মজুদ মাত্র ৬ সপ্তাহ

    আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরল জানিয়েছেন, ইউরোপে যাত্রীবাহী বিমান চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত জেট ফুয়েলের মজুদ মাত্র ছয় সপ্তাহের সমপরিমাণ অবশিষ্ট আছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই মজুদ দ্রুতই শেষ হয়ে গেলে পরবর্তীতে ফ্লাইট বাতিল এবং বিমানসেবা বিঘ্নিত হতে পারে।

    বিরল আরও বলেছেন যে, বর্তমান মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা যদি দ্রুত শীতল না হয় তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেন্ডেন্ট এবং বার্তা সংস্থা এপি‑তে প্রদত্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘাত বা সরবরাহ প্রবাহে বিঘ্ন হলে জ্বালানি সংকট তীব্রতর হবে।

    আইইএ প্রধানের ভাষ্য অনুযায়ী, তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহে ব্যাঘাত বাড়লে তা বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর করবে এবং মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে। সরবরাহ সংকটের সরাসরি প্রভাব হিসেবে পেট্রোল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা সাধারণ ভোক্তা ও ব্যবসায়িক খরচ উভয়কেই প্রভাবিত করবে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান মজুদ ও বাণিজ্য পথগুলোর স্থিতিশীলতা রক্ষা করার জন্য দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ ও বিকল্প সরবরাহ উৎস অন্বেষণ করা জরুরি। যদি তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে এ বছরের মধ্যেই এ ধরনের জ্বালানি সংকট বিমান চলাচল ও অর্থনীতিতে ملموس প্রভাব ফেলতে পারে।

    সংক্ষেপে, আইইএ প্রধানের সতর্কবার্তা এই মুহূর্তের জ্বালানি অবস্থাকে ঘনিষ্ঠভাবে মনিটর করার আহ্বান জানাচ্ছে — নাহলে ছয় সপ্তাহের মধ্যে ইউরোপে বিমানচলায় বড় ধরণের ঝুঁকি দেখা দেবে।

  • পোপ লিও: কয়েকজন স্বৈরশাসক বিশ্বকে ধ্বংসের পথে

    পোপ লিও: কয়েকজন স্বৈরশাসক বিশ্বকে ধ্বংসের পথে

    ক্যামেরুন সফরে বামেন্ডার সেন্ট জোসেফ ক্যাথেড্রালে বক্তব্য দিতে গিয়ে পোপ লিও মন্তব্য করেছেন, বর্তমান বিশ্ব কয়েকজন স্বৈরশাসকের কার্যকলাপের কারণে ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, কিছু নেতাই ধর্মকে ব্যবস্থাপনা এবং সহিংসতা বৈধ করানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন।

    পোপ আরও জানান যে, যুদ্ধ ও সংঘাতের পেছনে বিপুল পরিমাণ অর্থ — বিলিয়ন ডলার — ব্যয় হচ্ছে, যেখানে সেই অর্থ শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং পুনর্গঠনের মতো ন্যূনতম জরুরি খাতে থাকা উচিত ছিল। তিনি বিশ্বনেতাদের এই অগ্রহণযোগ্য অগ্রাধিকারের প্রশংসা করেননি।

    তার ভাষণটি বিশ্লেষকেরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান কুটনৈতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে দেখছেন। পোপ সরাসরি ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম না করে কথাগুলো বলেন, তবে কিছু মহলের মতে তার মন্তব্য সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-ইরান সংক্রান্ত উত্তেজনার সঙ্গে সংযুক্ত।

    এরপরই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পোপের অবস্থানের সমালোচনা করে আরও বলেন, ধর্মীয় নেতাদের রাজনীতি থেকে দূরে থাকা উচিত। 이에 পোপ স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তিনি রাজনীতিতে যুক্ত হতে চান না — তার বক্তব্য শান্তি, সংলাপ ও বহুপাক্ষিক সমাধানকে অনুপ্রাণিত করার ওপর দিয়ে সীমাবদ্ধ।

    সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।

  • চুয়াডাঙ্গায় বজ্রপাতে স্কুলছাত্রসহ ২ জন নিহত

    চুয়াডাঙ্গায় বজ্রপাতে স্কুলছাত্রসহ ২ জন নিহত

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলায় বজ্রপাতে দুইজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন দামুড়হুদার পারকৃষ্ণপুর গ্রামের মেমনগর বিডি হাই স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র আজিম উদ্দিন (১৪) ও জীবননগর উপজেলার বাঁকা ইউনিয়নের ঘোষনগর গ্রামের কৃষক রাসেল উদ্দিন (২৫)। ঘটনা দুটি বৃহস্পতিবার দুপুরে পৃথক স্থানে ঘটে।

    স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হঠাৎ বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হলে আজিম উদ্দিন বাবার জন্য মাঠে খাবার নিয়ে যাওয়ার পর বাড়ি ফিরছিল। পারকৃষ্ণপুরের বালিগাদার মাঠে ফেরার পথে বজ্রপাত হলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

    অন্যদিকে জীবননগরের বাঁকা ইউনিয়নের ঘোষনগর গ্রামে রাসেল উদ্দিন বাড়ির পাশে থাকা কৃষিজমিতে তামাকের জ্বালানি সংগ্রহ করছিলেন। হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

    দর্শনা থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান ও জীবননগর থানার ইনচার্জ (ওসি) সোলাইমান শেখ নিহত হওয়ার ঘটনা এবং সময়কালটি নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয়রা দুই পরিবারকে সহায়তা দিচ্ছেন এবং ঘটনা নিয়ে এলাকায় শোক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।

  • খুলনা বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৭ শিশু ভর্তি

    খুলনা বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৭ শিশু ভর্তি

    খুলনা বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুনভাবে ৯৭ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ মুজিবর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    দপ্তরের দেওয়া তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত বিভাগের ১০ জেলার হাসপাতালে মোট ১,৩৩৩ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। এ সময় ৬৮ জনের হাম শনাক্ত করা হয়েছে এবং মারা গেছে ১০ শিশু।

    জেলায় জেলায় অবস্থার বিবরণে কুষ্টিয়া সবচেয়ে বেশি অনিকট: সেখানে মোট ৫২৪ জন শিশু ভর্তি। অন্যান্য জেলায় ভর্তি রোগীর সংখ্যা হলো— মাগুরা ১৮৬, যশোর ১৫৮, খুলনা ১৩৩, মেহেরপুর ৮৫, সাতক্ষীরা ৭২, ঝিনাইদহ ৬৪, নড়াইল ৪৫, বাগেরহাট ৩৪ এবং চুয়াডাঙ্গা ৩২।

    একদিনে নতুন ভর্তি ৯৭ জনের ভেতরে জেলার ভিত্তিক বণ্টন হয়েছে— কুষ্টিয়া ৩৯, সাতক্ষীরা ২, খুলনা ৭, যশোর ১৩, বাগেরহাট ১৩, চুয়াডাঙ্গা ৩, ঝিনাইদহ ৪, মাগুরা ৮, নড়াইল ৭ এবং মেহেরপুরে ১ জন।

    খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালনার দপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতি মনিটরিং করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও তত্ত্বাবধানে শিশুদের রাখা হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের হামের কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে অনুরোধ করা হয়েছে।

  • তামিম: এবার দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলব

    তামিম: এবার দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলব

    কয়েক দিন আগে আমিনুল ইসলাম বুলবুল নেতৃত্বে থাকা বিসিবি পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। নতুন করে গঠন করা হয়েছে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি, যার সভাপতি করা হয়েছে দেশের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে।

    নতুন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তামিম একের পর এক উদ্যোগ নিয়েছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলোয়াড়দের বেতন বাড়ানো, মাঠে লিগ ফেরানোর কাজ এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। এবার তিনি দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। বিসিবির একটি ভিডিওবার্তায় এই কথা জানিয়েছেন তিনি।

    তামিম বলেন, সাধারণত আমরা প্লেয়ার বা স্টাফদের সমস্যার দিকে মনোযোগ দিই, তাদের সঙ্গে আলোচনা করি। কিন্তু বছরের পর বছর আমরা আমাদের সবচেয়ে বড় স্টেকহোল্ডার—যারা মাঠে এসে খেলা দেখেন, আমাদের ফ্যানস—তাদের সঙ্গে কথা বলি না বা চেষ্টা করিনি। এই রীতিটি পরিবর্তন করতে তিনি চান।

    তিনি বলেন, ‘‘যখন কেউ মাঠে খেলাধুলা দেখতে আসবেন, তাদের অভিজ্ঞতাটা একটা দারুণ অভিজ্ঞতা হওয়া উচিত। দর্শক যেন বাসায় গিয়ে বলতে পারে—আজ আমি অসাধারণ পরিবেশে খেলা দেখেছি।’’ তিনি মাঠে দর্শকদের সুবিধাদি—গেট থেকে ঢোকার ব্যবস্থা, সিটে পৌঁছানো, পানির ব্যবস্থা, খাবার-দাবারের ব্যবস্থা ইত্যাদি নিয়ে কথা বলতে চান এবং এই সব বিষয়ে দর্শকদের মতামত নিতে চান।

    সব দর্শককে একসঙ্গে ডেকে বসানো সম্ভব নয় জানিয়ে তামিম বললেন, নতুন কিছু কার্যক্রমের মাধ্যমে ক্রাউড থেকে কয়েকজন দর্শক—৫ বা ১০ জন র্যান্ডমভাবে—নিয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে তাদের সঙ্গে বসে কথা বলবেন। মাঠে দর্শকদের অভিজ্ঞতা জানতে চান তিনি, কোথায় সমস্যা হচ্ছে তা খোঁজার জন্য।

    তিনি আরও জানান, আসন্ন নিউজিল্যান্ড সিরিজ থেকেই এই উদ্যোগ শুরু করা হবে। ‘‘ইনশাল্লাহ ১৭ তারিখে, নিউজিল্যান্ডের সাথে আমাদের হোম সিরিজের প্রথম ম্যাচ থেকে আমরা এই কাজটি শুরু করব,’’ বলেন তামিম।

    অবশেষে তামিমের শব্দে বোঝা যায়—শুধু ক্রিকেট উন্নত করাই নয়, খেলাপ্রেমীদের অভিজ্ঞতাও উন্নত করাই এখন তার এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকারের অংশ।

  • খুলনায় অটিজম ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ

    খুলনায় অটিজম ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ

    যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন ক্রীড়া পরিদপ্তরের বার্ষিক ক্রীড়া কর্মসূচি ২০২৫-২৬-এর আওতায় খুলনা জেলায় অটিজম ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়ে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে সমাপ্তি টেঁকেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে খুলনা জেলা ক্রীড়া অফিসের ব্যবস্থাপনায় এই কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।

    খুলনা জেলার বিভিন্ন স্পেশাল চাইল্ড স্কুল ও সংস্থা থেকে আগত বালক-বালিকারা উৎসাহের সঙ্গে বিভিন্ন ক্রীড়া কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতার মঞ্চ ছিল উচ্ছ্বাস-আনন্দে ভরপুর; অংশগ্রহণকারীরাও আত্মবিশ্বাস ও আনন্দে দিনটি কাটায়। অনুষ্ঠানে তাদের অভিভাবক ও গার্ডিয়ানরা পাশে থেকে উৎসাহ যুগিয়েছেন।

    পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-পরিচালক (মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা), খুলনা অঞ্চল — মোঃ কামরুজ্জামান। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা, স্পেশাল চাইল্ড স্পোর্টিং এসোসিয়েশন খুলনা — এসএম খালিদ হোসেন পিউ; সমাজসেবক ও ক্রীড়া অনুরাগী মোঃ কাইজার আহমেদ; স্পেশাল চাইল্ড স্পোর্টিং এসোসিয়েশনের সভাপতি শেখ হেমায়েত উল্লাহ; বিভাগীয় ফুটবল কোচ (বিএফএ) শেখ আশরাফ হোসেন; এবং কোচ খন্দকার আলিমুল, মোঃ আমির আলী, ওবায়দুর রহমান, রুপা মাহমুদ, মৌসুমী খানম, নাসিমা, সীমা আক্তার ও রুমা আশরাফসহ অন্যরা।

    অনুষ্ঠানে খুলনা জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মোঃ আলীমুজ্জামান সভাপতিত্ব করেন। তিনি শিশুদের অংশগ্রহণ ও সাহসের প্রশংসা করে ক্রীড়ার মাধ্যমে তাদের সামাজিক সমন্বয় ও আত্মনির্ভরতা বৃদ্ধির গুরুত্ব তুলে ধরেন। পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে আনন্দব্যঞ্জক হাসি ও উচ্ছ্বাস দেখা যায়, এবং উপস্থিত অতিথি-দর্শকরা তাদের কৃতিত্বকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান।

    এই ধরনের ক্রীড়া আয়োজন বিশেষ শিশুদের ক্ষমতা-কোষ্ঠ বাড়াতে, আত্মবিশ্বাস জাগাতে এবং সমাজে তাদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে—এটাই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ছিল।