Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • ‘ঝুমুল’ বৃষ্টিতে সিলেট-ময়মনসিংহে আগাম বন্যার শঙ্কা

    ‘ঝুমুল’ বৃষ্টিতে সিলেট-ময়মনসিংহে আগাম বন্যার শঙ্কা

    প্রবল বৃষ্টিপাতের একটি প্রাক-মৌসুমি বৃষ্টি বলয় ‘ঝুমুল’ বাংলাদেশে ঢুকতে শুরু করেছে—এমনই সতর্কতা দিল বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম লিমিটেড (বিডব্লিউওটি)। সংস্থাটি শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) এ পূর্বাভাস জানিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও দেশের উত্তরাঞ্চলের কিছু স্থানে বিক্ষিপ্ত কালবৈশাখীসহ বজ্রবৃষ্টি দেখা গেছে।

    আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল—বিশেষ করে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে আগাম বন্যার শংকা জেগে উঠেছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস আরও ঘণীভূত এই আশঙ্কাকে।

    আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন, উত্তরাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি হচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। তার ভাষ্য, শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ৯৬ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে, ফলে ওই বিভাগের কিছু অংশে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    বিডব্লিউওটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান বলেন, ‘ঝুমুল’ বৃষ্টিপাতের বলয় আগামী ৭ মে পর্যন্ত কার্যকর থাকতে পারে। এই সময়ে দেশের প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ এলাকায় বজ্রবৃষ্টি, কালবৈশাখী ঝড় ও কোথাও কোথাও অতিভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে।

    উজানের ভারতের মেঘালয়, আসাম ও চেরাপুঞ্জি এলাকায় বড় পরিমাণ বৃষ্টি (প্রতিসময়ে প্রায় ৫০০-৭০০ মিমি) হতে পারে—যার ফলে পাহাড়ি ঢল সৃষ্টি হয়ে দেশের সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিচু এলাকায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে। তবে এসব বন্যা সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম; পানি দ্রুত নেমে যেতে পারে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

    আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, বৃষ্টিপাত প্রথমদিকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকলেও ২৮ বা ২৯ এপ্রিল থেকে ধীরে ধীরে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ২৯ এপ্রিল থেকে ৫ মে পর্যন্ত জাতীয় বিস্তারে ৭০-৮০ শতাংশ এলাকায় নিয়মিত ঝড়বৃষ্টি रहने সম্ভাবনা রয়েছে—যদিও মাঝে এক-দুই দিনের বিরতি দেখা দিতে পারে।

    ঝড়ের সময় দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০-৮০ কিমি পর্যন্ত অপেক্ষাকৃত বেশি থাকতে পারে; কিছু অঞ্চলে এর চেয়েও বেশি বা কম হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে হাওর অঞ্চলের চলমান ধান কাটা ও কৃষি কাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা আছে। দীর্ঘ সময় টানা বৃষ্টি হলে কৃষি উৎপাদনে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকছে।

    বিডব্লিউওটির পূর্বাভাসে বলা হয়েছে—সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কিশোরগঞ্জের কিছু নিচু এলাকায় অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের নদী-হাওরে পানি আকস্মিকভাবে বাড়তে পারে।

    কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশের ফেসবুক পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার রাত ৭টা থেকে রোববার সকাল ৮টার মধ্যে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের ওপর দিয়ে কালবৈশাখী ঝড়, বজ্রপাত ও ভারী বৃষ্টিপাতের প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।

    আবহাওয়া অধিদফতরও জানিয়েছে, ঢাকাসহ ছয় বিভাগে আগামী কয়েকদিনে বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে এবং শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার (পাঁচ দিনের) পূর্বাভাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে।

    এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ‘‘তাপমাত্রা ৪৫-৫৭ ডিগ্রি’’ জাতীয় গুজবটি বিডব্লিউওটির মশিউর রহমান সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, এমন কোনো সম্ভাবনা নেই; বরং বৃষ্টিপাত বাড়ার ফলে তাপমাত্রা কমার প্রবণতা দেখা যাবে।

    আবহাওয়া দফতর ও বিপর্যয় প্রস্তুতিমন্ত্রীদের পরামর্শ: ঝড়-বৃষ্টির সময় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা, খোলা মাঠে না থাকা, নদীপথে যাতায়াত সীমিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত বা নিম্নাঞ্চলে অগ্রিম প্রস্তুতি নেওয়া। স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

  • তনু হত্যা মামলায় রিমান্ড শেষে সাবেক সেনা সদস্য হাফিজুর কারাগারে

    তনু হত্যা মামলায় রিমান্ড শেষে সাবেক সেনা সদস্য হাফিজুর কারাগারে

    কুমিল্লায় তনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক সেনা সদস্য হাফিজুর রহমানকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আব্দুল্লাহ আমান এই আদেশ দেন।

    পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সূত্রে জানা যায়, তিন দিন জিজ্ঞাসাবাদের সময় যে তথ্য হাতে এসেছে তা যাচাই-বাছাই করার পর আদালতে হাফিজুরকে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও তদন্তের স্বার্থ বিবেচনায় তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রিমান্ডকালে পাওয়া তথ্যগুলো যাচাই করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, “রিমান্ডে আমরা আসামিকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। কিছু তথ্য পাওয়া গেছে, সেগুলো এখন যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে সবকিছু এই মুহূর্তে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। এছাড়া তাঁর ডিএনএ সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

    এর আগে গত বুধবার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হকের আদালত হাফিজুর রহমানের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    পিবিআই সূত্র জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুরকে গ্রেপ্তার করা হয়। দীর্ঘ প্রায় দশ বছর পর এই মামলায় এটি প্রথম প্রথম গ্রেপ্তারি—যা পুনরায় তনু হত্যাকাণ্ডকে আলোচনায় এনেছে।

    তদন্তসূত্রে আরও বলা হয়েছে, ৬ এপ্রিল মামলার সপ্তম তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে আবেদন করে তিন সন্দেহভাজনের—অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সৈনিক শাহিনুল আলম—ডিএনএ নমুনা ক্রস-ম্যাচের অনুমতি চান। আদালতের নির্দেশনার পরে তদন্তে গতি আসে এবং সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে মামলাটি দীর্ঘদিন ধরেই বিচারপ্রক্রিয়ায় রয়েছে। এ পর্যন্ত চারটি সংস্থার সাতজন তদন্ত কর্মকর্তা মামলাটি দেখেছেন এবং নির্ধারিত অনেক তারিখ পেরিয়ে গেলেও মামলার মূল রহস্য উদঘাটনে দীর্ঘ সময় ধরা পড়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীরা বলছেন, চলমান জিজ্ঞাসাবাদ ও পরীক্ষার ফলে ঘটনার বাকি কড়িগুলোও ধীরে ধীরে পরপর খুলে আসবে।

  • জামায়াত আমির: বিএনপি ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে

    জামায়াত আমির: বিএনপি ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিএনপি পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটা শুরু করেছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতের সমাবেশে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

    ডা. শফিকুর বলেন, একসময় বিএনপি ও জামায়াত একসঙ্গে নির্যাতিত ছিলেন; কিন্তু এখন বিএনপি আওয়ামী লীগের মতো আচরণ শুরু করেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, আওয়ামী লীগ কেবল নিজের পোষ্য লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে সমাজ-জোড়ে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিল—কিন্তু সেই দুর্দিনে আজ তাদের পাশে কেউ দাঁড়ায়নি, আর এখন বিএনপি ঠিক একই পথ ধরছে।

    তিনি আরো বলেন যে, রাষ্ট্রগঠন ও সুশাসন চালানোতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনগুলোতে বিএনপি বাধা দিচ্ছে এবং যেসব পদক্ষেপ সত্যিকার স্বাধীনতার স্বাদ জনগণকে দিতে পারে, সেগুলোই বিএনপি প্রতিহত করছে। এভাবে তারা জাতির সঙ্গে প্রতারণা করছে, অভিযোগ করেন জামায়াত আমির।

    ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেন, বিএনপি তাদের ইশতেহারে থাকা ৩১ দফার কর্মসূচির বিরোধিতাই চালাচ্ছে এবং এমনকি যে নীতিগুলো তারা আগে প্রচার করেছে, সেগুলোর বিরোধিতাতেই তাদের আচরণ মিলছে।

    সমাবেশে তিনি শহীদ পরিবারের ত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘‘জুলাই না হলে—মায়েরা, বাবারা, ভাইবোনেরা যদি জীবন না দিত—আপনারা ক্ষমতায় আসতে পারতেন না। কিন্তু ক্ষমতায় আসার আগেই আপনি তাদের ভুলে গিয়েছেন। শহীদ পরিবার কষ্টে কাঁদছিল, তখন আপনারা তাদের কাছে ছুটে যাননি।’’ তিনি ৫ ও ৭ আগস্টের ঘটনাগুলোর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সেই সময় নির্বাচনের দাবি তুললেও শহীদ পরিবারের কষ্ট তাদের স্পর্শ করেনি।

    এছাড়া তিনি স্মরণ করেন, যারা বিদেশে ছিলেন, তারা এখন দেশে ফিরে এসেছে—এবং এ বৈপ্লবিক পরিবর্তন না হলে অনেকেই দেশে ফিরবারও কল্পনা করতে পারতেন না। তিনি জেলের সহকর্মী আল্লামা মামুনুল হকের কথাও তুলে ধরেন যে, জেলেই বিএনপির শীর্ষ নেতারা হতাশা প্রকাশ করতেন যে নির্দিষ্ট সময়ে ক্ষমতাচ্যুত করা যাবে না। ২৪-এর অভ্যুত্থানের পর এক নেতা যখন তাকে এগুলো উপস্থাপন করলেন, তখন তারা তা ‘খোদার দান’ বলে মনে করেছিলেন—কিন্তু পরে তা ভুলে গেছেন, যোগ করেন তিনি। কেউ কেউ এখন আন্দোলনের ‘মাস্টারমাইন্ড’ দাবি করেন—এগুলো তিনি ভুয়া বলে অভিহিত করেন।

    জামায়াত আমির বলেন, আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে সকলের অবদানের ভিত্তিতে সম্মান দেখাতে হবে; কোনো নায়কের অবদানের অস্বীকার করা উচিত নয়। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময়ে ছাত্র-যুবক, শ্রমিক, মা-বোনেরা—সকলেই জীবন বাজি রেখে অংশ নিয়েছিলেন; তাদের ত্যাগ ভুলে যাওয়া চলে না।

    পাঠ্যসূচি, আইনগত সংস্কার ও সংসদীয় দাবির কথাও উল্লেখ করে ডা. শফিকুর বলেন, তারা প্রথম দিন থেকেই সংসদে সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি তুলেছিল; কিন্তু অন্যান্যরা শপথ নেয়নি এবং জাতির সঙ্গে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। তিনি বলেন, যে আইনগুলো সংশোধন না হলে, এবং অধ্যাদেশ বাতিল না হলে ‘ফ্যাসিবাদী শাসন’ বদলানো যাবে না—কিন্তু বিএনপি সেই সব আইনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।

    তিনি সমালোচনা করে উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিভিন্ন স্থানে—শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ঢাবি সহ—নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে; এমনকি থানার ভিতরেও যে ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ হয়েছে তা দুঃখজনক। এইসব ঘটনা প্রতীয়মান করায় তিনি বলছেন যে বিএনপি ফ্যাসিবাদের পথে যাচ্ছেই।

    শেষে ডা. শফিকুর আহ্বান করেন, তারা এমন একটি বাংলাদেশ চায় যেখানে সবাই নিরাপদে ঘর থেকে বের হতে পারে—শিশু, কিশোর, যুবক-যুবতী ও নারীরা নির্ভয়ে চলাচল করবে; শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুরি কুঠোর দেখা যাবে না, বরং খাতা-কলম দেখা যাবে। তিনি বলেন, যদি বর্তমান সংস্কৃতি নষ্ট না করা হয়, তাহলে প্রতি বছর ‘জুলাই’ ফিরে আসবে এবং অবশেষে ফ্যাসিবাদের কবর খোদাই হবে। জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান দেখাতে এবং ৭০ ভাগ মানুষের রায় মেনে নিতে তিনি সরকারকে আহ্বান জানান এবং বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে তাদের লড়াই সংসদের ভেতরে ও খোলা ময়দান—দুই জায়গাতেই চলবে, ইনশাআল্লাহ।

  • তরুণদের আহ্বান নাহিদের: সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন, এনসিপি থাকবে পাশে

    তরুণদের আহ্বান নাহিদের: সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন, এনসিপি থাকবে পাশে

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সারাদেশের তরুণরা নির্বাচনের জন্য সচেতন হয়ে প্রস্তুতি নিক, এনসিপি তাদের সবরকম সমর্থন দেবে। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অফ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীন সরকার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করছে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিঘ্নিত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘‘নির্বাচনের পরে গঠিত সরকার গণভোটকে অস্বীকার করেছে এবং জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানকে এ নির্বাচন থেকে আলাদা করে সাধারণ ক্ষমতা হস্তান্তরে পরিণত করার চেষ্টা করা হয়েছে। সংবিধান সংশোধনসহ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলো বাতিল ও ব্যাহত করা হচ্ছে।’’

    তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভাঙাচোরা এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজনৈতিক ক্ষমতার পুনরূত্থান দেখা যাচ্ছে। ‘‘ব্যাংক লুটেরাদের জন্য সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পেশিশক্তি ও ক্ষমতার রাজনীতির দাপট আবার বাড়ছে—এই সব দেখে জনগণ উদ্বিগ্ন। যদি ফ্যাসিবাদ বা কোনো নতুন/পুরোনো স্বৈরতন্ত্র টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়, জনগণ সংগঠিত হবে এবং এনসিপির ছায়াতলেই ঐক্যবদ্ধ হবে,’’ তিনি বলেন।

    নাহিদ দাবি করেন, এনসিপি সারাদেশে কাজ করে যাচ্ছে এবং প্রতিসপ্তাহ যোগদান অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। তিনি রাজনৈতিকভাবে সচেতন মানুষ ও তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘‘এই দেশকে আমরা আর বিপথে যেতে দিতে পারি না। যারা রাজনীতি করতে চান ও পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেন, তারা ঐক্যবদ্ধ হোন। এনসিপি আপনাদের ধারণ করে সামনের দিকে এগোতে চায়।’’

    বর্তমান সরকারের ক্রমবর্ধমান ব্যর্থতার কথাও তুলে ধরে নাহিদ বলেন, ‘‘অর্থনৈতিক ব্যবস্থাই টালমাটাল, গণতন্ত্র নিয়ে শঙ্কা রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণের পাশে দাঁড়ানোই এখন একমাত্র পথ। আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি, ইনশাআল্লাহ।’’

    অনুষ্ঠানে বিএনপি’র বহিষ্কৃত নেতা ইসহাক সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দেন। তাদের সঙ্গে অবিভক্ত বাংলার নেতা শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবাল (ফ্লোরা), কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি এবং রেল অনিয়ম নিয়ে আন্দোলনকারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনিও এনসিপিতে যোগ দেন। ফেরসামিন বিদেশে থাকায় তিনি অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারেননি।

    এনসিপির শীর্ষ নেতারা মঞ্চে উপস্থিত থেকে নতুন যোগদানকারীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। সভায় উপস্থিত নেতারা আগামী সময়ে সাধারণ মানুষ, বিশেষত তরুণদের মধ্য থেকে আরও বেশি যোগদান আশা করছেন এবং দেশও সমাজে পরিবর্তন আনতে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান।

  • জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় স্থগিত পোশাক খাতের ক্রয়াদেশ, রপ্তানিতে উদ্বেগ

    জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় স্থগিত পোশাক খাতের ক্রয়াদেশ, রপ্তানিতে উদ্বেগ

    দেশে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় বিদেশি ক্রেতারা নতুন ক্রয়াদেশ স্থগিত করায় তৈরি পোশাক খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম (পারভেজ) চৌধুরী।

    বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি বলেন, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে জ্বালানি ও বিদ্যুতের পরিস্থিতি আরও এতটা খারাপ হতে পারে—এমন আশঙ্কায় অনেক বিদেশি ক্রেতা বাংলাদেশে অর্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে খুবই সতর্ক হয়ে উঠেছেন। এই শিথিলতা দেশের প্রধান রপ্তানিমুখী খাতগুলোকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের চ্যালেঞ্জে ফেলে দিতে পারে।

    আনোয়ার-উল আলম বলেন, বিশ্ববাজারের অস্থিরতার সঙ্গে দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে জুলাই ও আগস্ট মাসে পৌঁছানো বেশ কয়েকটি সম্ভাব্য ক্রয়াদেশ ইতিমধ্যেই ধীরগতির হয়ে গেছে। বড় বড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো নেতিবাচক সঙ্কেত দিচ্ছে এবং কিছু অর্ডার ভারতসহ অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, অনেক বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ঢাকার অফিসগুলো যতটা সম্ভব পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করলেও শীর্ষ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা নতুন অর্ডার দিতে পিছছেন। এ অবস্থায় শিল্প প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ও উৎপাদন-শিডিউলে অনিশ্চয়তা দেখা দিচ্ছে।

    বিসিআই সভাপতি বর্তমান কর কাঠামোকে ব্যবসাবান্ধব নয় বলেও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, লাভ-লোকসান নির্বিশেষে এক শতাংশ হারে ন্যূনতম কর পরিশোধের বাধ্যবাধকতা অনেক প্রতিষ্ঠানের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তারা এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। মুনাফা নেই এমন সেক্টরেও কর দিতে হচ্ছে, যা অনেক প্রতিষ্ঠানকে টিকে থাকা কঠিন করে দিচ্ছে।

    তিনি ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস ও রপ্তানি আয় থেকে কাটা উৎস কর কমানোর প্রস্তাব জানিয়েছেন। তবে এনবিআর চেয়ারম্যান মোঃ আবদুর রহমান খান এই উৎস কর কমানোর প্রস্তাব নাকচ করেছেন বলে সংগঠনের প্রতিনিধিরা জানান।

    আয়কর আইন ২০২৩-এর ধারা ১৪৭ প্রসঙ্গে আনোয়ার-উল আলম বলেন, কর যাচাইয়ের নামে প্রতিষ্ঠানগুলোর কম্পিউটার সিস্টেম বা নথিপত্র জব্দ করার অবারিত ক্ষমতা ব্যবসায়ীদের মধ্যে অপরিসীম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং এ রকম অনিশ্চয়তা ব্যবসার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

    প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) কোম্পানির ব্যাংক আমানতের মুনাফার ওপর উৎস কর ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে নামানোর এবং নিট সম্পদের ওপর আরোপিত সারচার্জ ধাপে ধাপে বাতিল করার দাবি জানিয়েছে। ব্যবসা সংগঠনগুলো করের বোঝা বাড়ানোর বদলে ব্যবসা-সহায়ক ও সহজ কর কাঠামো গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন।

    শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো গতিশীলতা এবং প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতা ও কর কাঠামো সরলীকরণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তারা সতর্ক করেছেন, যদি এই দুইটি বিষয় দ্রুত সমাধান না করা যায়, তাহলে দেশের রপ্তানি খাতের প্রতিযোগীতামূলক শক্তি আরও দুর্বল হয়ে পড়বে।

  • এপ্রিলের প্রথম ২২ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ২.৪২ বিলিয়ন ডলার

    এপ্রিলের প্রথম ২২ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ২.৪২ বিলিয়ন ডলার

    রেমিট্যান্স প্রবাহের ইতিবাচক ধারা চলেছে এবারও। চলতি মাসের প্রথম ২২ দিনে প্রবাসীরা মোট প্রায় ২.৪২ বিলিয়ন (২৪১ কোটি ৭০ লাখ) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের বুধবার নয়, বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জানানো তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান বাজারদরে (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে) এ পরিমাণ প্রায় ২৯ হাজার ৪৮৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

    গত বছরের একই সময় রেমিট্যান্স ছিল ২০৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার। তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয়ে বেড়েছে ৩৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার—যা প্রায় ৪ হাজার ৪৪০ কোটি ৮০ লাখ টাকার সমমান।

    এর আগে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় আসে চলতি বছরের মার্চে; ওই মাসে দেশে পাঠানো হয়েছিল ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড করা হয়েছিল গত বছরের মার্চে, যখন রেমিট্যান্স ছিল ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। তৃতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স রেকর্ড করা হয়েছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে (৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার) এবং চতুর্থ সর্বোচ্চ হিসেবে ছিল চলতি বছরের জানুয়ারি (৩১৭ কোটি ডলার)।

    অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, যদি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট দীর্ঘায়িত হয়, বিশ্ব অর্থনীতির মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়তে পারে। সে কারণে তারা দেশীয় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্ত অবস্থায় রাখার ওপর জোর দিচ্ছেন—ভবিষ্যতে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

  • ২০ বছর পর গাজার দেইর আল-বালাহে পৌরসভা নির্বাচন শুরু

    ২০ বছর পর গাজার দেইর আল-বালাহে পৌরসভা নির্বাচন শুরু

    ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার দেইর আল-বালাহ শহরে শনিবার সকাল থেকে পৌরসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। গত দুই দশক ধরে উপত্যকায় কোনও নির্বাচন হয়নি, তাই স্থানীয়রা এই মুহূর্তকে এ অঞ্চলের রাজনৈতিক জীবনে এক বিরল ও اہم ঘটনা হিসেবে দেখছেন।

    গাজার সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৬ সালের ২৫ জানুয়ারি। তখন আত্মরক্ষাসহ বিভিন্ন সমর্থন নিয়ে সশস্ত্র ইসলামী রাজনৈতিক গোষ্ঠী হামাস জয়ী হয়ে উপত্যকায় কার্যত ক্ষমতা গ্রহণ করে। পরে হামাস সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী দল ফাতাহকে উৎখাত করে। পশ্চিম তীরের সরকারী শরিক দল হিসেবে ফাতাহ এখনও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) অংশ এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অংশীদার।

    রয়টার্সের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলা হচ্ছে, ২০০৭ সালের পরে গাজায় প্রায় সব ধরনের নির্বাচন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ২০০৬ সালের পর থেকে প্রায় ২০ বছর পর্যন্ত উপত্যকায় আপাতত নির্বাচন হয়নি।

    আরও বলা হয়েছে যে ২০২৩ সালের সংঘর্ষ ও পরবর্তী সময়ের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পর আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার ফলশ্রুতিতে ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষরিত হয়। সেই যুদ্ধবিরতির শর্তগুলোর মধ্যে একটি ছিল গাজার ক্ষমতা সাময়িকভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর থেকে আলাদা একটি টেকনোক্র্যাট প্রশাসনের হাতে হস্তান্তর করা। কয়েক মাস আগে এমন একটি টেকনোক্র্যাট সরকার গঠিত হয় এবং তার অধীনে এ স্থানীয় নির্বাচন করা হচ্ছে, বলে কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। (এই অংশটি রয়টার্সের প্রতিবেদনভিত্তিক)

    পশ্চিম তীরের ক্ষমতাসীন পিএ জোট এই নির্বাচনের মাধ্যমে গাজার রাজনীতিতে ফের অংশ নেয়ার সম্ভাবনা খুঁজছে বলে বিশ্লেষকরা বলছেন। ইউরোপ ও মধ্যপ্রচ্যের বেশ কিছু দেশের সরকারও গাজার এই স্থানীয় নির্বাচনের পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। তাদের মতে, ফিলিস্তিনে নির্বাচিত সরকার থাকলে পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গাজা মিলিয়ে ভবিষ্যতে স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনে এটি সহায়ক হতে পারে।

    দেইর আল-বালাহে স্থানীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তারা গাজার সব শহরে নির্বাচন আয়োজন করতে চেয়েছিল; কিন্তু ইসরায়েলি অভিযানে অন্যান্য শহরগুলো ব্যাপকভাবে ধ্বংস হওয়ায় এবং ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার না হওয়ায় আপাতত শুধু দেইর আল-বালাহ শহরটিতেই ভোটগ্রহণ সম্ভব হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, অন্যান্য শহরের তুলনায় এখানে ক্ষয়ক্ষতি অপেক্ষাকৃত কম।

    নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী দেইর আল-বালাহ পৌর নির্বাচনে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ৭০,৪৪৯ জন। শহরজুড়ে মোট ১২টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে; বেশিরভাগ কেন্দ্রই জাতিসংঘের সহায়তায় তাবু স্থাপন করে তৈরি করা হয়েছে।

    হামাস এই নির্বাচন বয়কট ঘোষণা করেছে, তবে রয়টার্স জানিয়েছে যে হামাসের সঙ্গে সম্পর্কিত কয়েকজন ব্যক্তি এবারে প্রার্থী হয়েছেন। স্থানীয়রা সাধারণত ভোটকে স্বাগত জানিয়েছে। এক ভোটার রয়টার্সকে বলেছেন, তিনি জন্ম থেকেই নির্বাচন বিষয়ে শুনে আসছেন, আর আজ নিজের চোখে দেখে বুঝতে পেরেছেন নির্বাচন কি রকম একটি প্রক্রিয়া। অনেকেই বলছেন, দীর্ঘ সময়ে চাপিয়ে দেওয়া বাস্তবতা বদলাতে তারা অংশ নিতে চান।

    পশ্চিমা কূটনীতিকরা বলছেন, দেইর আল-বালাহে নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন হলে তা গাজার অন্যান্য অংশে নির্বাচনের পথ সুগম করতে পারে এবং দুই দশক পর গাজায় নির্বাচিত সরকারের সম্ভাবনা জোরাল করবে।

    সূত্র: রয়টার্স

  • ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার হিশাম: উঠে আসছে অস্বস্তিকর অতীত

    ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার হিশাম: উঠে আসছে অস্বস্তিকর অতীত

    ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার হওয়া ২৬ বছর বয়সী হিশাম সম্পর্কে নতুন করে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয় তদন্তকারীরা তাঁর অতীত আচরণ ও পূর্বের অভিযোগগুলো এখন তদন্তের মূল ফোকাসে রেখেছেন।

    হিলসবোরো কাউন্টি ডেপুটি চিফ জোসেফ মাউরার জানিয়েছেন, লিমন নামের শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় হিশামকে একাধিক অভিযোগে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ তালিকায় রয়েছে মৃত্যুর খবর চেপে রাখা, মৃতদেহ অবৈধভাবে সরানো, আলামত নষ্ট করা, ভুলভালভাবে কারাবন্দি হিসেবে দেখানো এবং পারিবারিক সহিংসতা ও শারীরিক আঘাত দেয়া। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে লিমনের মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণ করা হবে বলে তদন্তকারী জানান।

    সংবাদমাধ্যম নিউযউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে হিশাম মার্কিন নাগরিক এবং ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সাবেক ছাত্র; ২০২১ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত তিনি ম্যানেজমেন্ট বিষয়ক পড়াশোনা করলেও হত্যাকাণ্ডের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকাভুক্ত ছিলেন না। স্থানীয় আদালত ও শেরিফ অফিসের রেকর্ডে তার বিরুদ্ধে পূর্বে সহিংসতার সাতাসম্পর্কিত অভিযোগ উঠেছে।

    আদালতের নথিতে দেখা যায়, ২০২৩ সালের মে ও সেপ্টেম্বর মাসে হিশামের বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ ছিল। একই সময়ে তার নামে একটি জনশূন্য বাড়ি থেকে চুরির অভিযোগও করা হয়েছিল, যা তখন তুলনামূলকভাবে হালকা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। পরিবারের একাধিক সদস্যও তাঁর আচরণ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন; তাদের মধ্যে কেউ কেউ হিশামের বিরুদ্ধে দুইটি পারিবারিক সুরক্ষা নিষেধাজ্ঞার জন্য আবেদন করেন এবং আদালত থেকে একটি আবেদন মঞ্জুরও হয়। এছাড়া তার বিরুদ্ধে নানা ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের রেকর্ডও রয়েছে।

    লিমনের লাশ উদ্ধার ও গ্রেপ্তারের ঘটনাটি ছিল স্থানীয় পুলিশের জন্য নাটকীয়। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ট্যাম্পার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতু থেকে লিমনের ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ হিশামের পরিবারের বাড়ি থেকে একটি পারিবারিক সহিংসতার ফোন পায়। পুলিশ সেখানে গেলে হিশাম বাড়ির ভেতর নিজেকে অবরুদ্ধ করে আত্মসমর্পণ করতে অস্বীকার করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বিশেষ সোয়াট টিমকে ডেকে আনা হয় এবং বেশ কিছু সময়ের নাছাছড়া ও উত্তেজনার পর সোয়াট টিমের চাপে অবশেষে হিশাম আত্মসমর্পণ করেন।

    এ ঘটনার সঙ্গে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির নিখোঁজ থাকা এখনো একটি বড় প্রশ্নছাঁয়া। বিশ্ববিদ্যালয়সূত্র ও পরিবারের পক্ষ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রায় এক সপ্তাহ নিখোঁজ থাকার পর নিশ্চিত করা হয়েছে যে জামিল লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি—দুইজনই প্রাণ হারিয়েছেন। লিমনের ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করা হয় এবং পরে শনিবার (২৫ এপ্রিল) বৃষ্টির মৃত্যুও তার পরিবার কর্তৃক নিশ্চিত করা হয়। বৃষ্টির ভাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, তার বোনও হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন।

    এই ঘটনার ফলে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটি ও ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার ছাত্রদের মধ্যে গভীর শোক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনার সঠিক কারণ ও প্রেক্ষাপট উদঘাটনে তৎপর রয়েছেন। তদন্তকারীরা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, সিসিটিভি ফুটেজ ও সম্ভাব্য সাক্ষীর বৌদ্ধিক বিবৃতির ওপর ভর করে ঘটনাটির তদন্ত চালাচ্ছেন।

    প্রতিবাদি ও অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কোনো বিচারিক সিদ্ধান্ত এখনই নেওয়া হয়নি; হিশামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুযায়ী তদন্ত ও বিচার চলছে। তদন্ত সংক্রান্ত নতুন কোনো তথ্য প্রকাশ হলে কর্তৃপক্ষ তা পরিবারের সঙ্গে শেয়ার করবে এবং সমাজকেও জানানো হবে।

  • চুয়াডাঙ্গায় মৌমাছির কামড়ে ভ্যানচালকের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গায় মৌমাছির কামড়ে ভ্যানচালকের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় মৌমাছির আক্রমণে ভ্যানচালক আনিছুর রহমান (৪৫) মারা গেছেন। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল নাগাদ জয়রামপুর শেখপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয়রা জানান, কাজ শেষে ভ্যান নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন আনিছুর রহমান। জয়রামপুর শেখপাড়া এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ একটি ঝাঁক মৌমাছি তার উপর ঝাপিয়ে পড়ে এবং তিনি গুরুতর আহত হন।

    পড়শিরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেন। হাসপাতাল নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

    নিহত আনিছুর রহমান দামুড়হুদা বাজারপাড়া এলাকার আবু গাইনের ছেলে। খবর পেয়ে এলাকায় শোক ছড়িয়ে পড়ে।

    দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ঘটনার বিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।

  • রামপালের মল্লিকের বেড়ের ‘জাহিদুল গ্যাং’ নেতা জাহিদুল র‍্যাবের হাতে আটক

    রামপালের মল্লিকের বেড়ের ‘জাহিদুল গ্যাং’ নেতা জাহিদুল র‍্যাবের হাতে আটক

    বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার মল্লিকের বেড় এলাকার বছর ধরার জঙ্গলের মতো দুর্ধর্ষ নামে পরিচিত জলদুল—নামটা জাহিদুল। র‍্যাব-৬ তাকে খুলনা টোল প্লাজার কাছ থেকে গ্রেপ্তার করে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত আনুমানিক পৌনে আটটার দিকে তাকে আটক করা হয়।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আটক জাহিদুলের বিরুদ্ধে অন্তত তিনটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। ২০০৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে তাঁর নাম উল্লেখ করে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। এসব ঘটনায় মারামারি, চাঁদাবাজি, ঘের দখল, চুরি, দস্যুতা, নারী নির্যাতন, হত্যা চেষ্টাসহ আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী নানা অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার কারণে তাকে ধরে ফেলা স্থানীয়ভাবে কঠিন ছিল বলে জানায় প্রত্যক্ষদর্শীরা।

    রামপাল থানার তদন্ত কর্মকর্তা (তদন্ত ওসি) সুব্রত বিশ্বাস বলেন, “দীর্ঘদিন পলাতক থাকা এই আসামি মোঃ জাহিদুলকে র‍্যাব খুলনা টোল প্লাজা এলাকা থেকে আটক করে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। থানায় অফিসিয়াল কাজকর্মের পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।” তিনি জানিয়েছেন, ওয়ারেন্টভুক্ত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    মামলার বাদী ও স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে জাহিদুলের অপরাধমূলক আচরণ তাদের জন্য নানারকম দুর্ভোগ ডেকে এনেছিল। এক বাদী বলেন, “আসামি পলাতক থাকার কারণে আমরা বিরাট সমস্যায় পড়ে গিয়েছিলাম। এখন গ্রেপ্তারের পর আশা করছি ন্যায়বিচার হবে। দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচারের দাবি রাখি।”

    স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, জাহিদুল এলাকায় নানা ধরনের অপরাধে জড়িত ছিল এবং তার সক্রিয়তার ফলে বহু পরিবার বিপর্যস্ত হয়েছিল। তারা আশ্বাস দিয়েছেন যে র‍্যাব ও পুলিশি সহায়তায় বাকি পলাতক আসামিদেরও দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

    রামপাল থানাসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে অপরাধী চক্রের পুরো লেনদেন ও সাবেক সহযোগীদের খোঁজে কাজ করছে বলে জানানো হয়েছে।