Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • মনিরা শারমিনের রিট শুনতে হাইকোর্ট বেঞ্চ অপারগতা প্রকাশ করেছে

    মনিরা শারমিনের রিট শুনতে হাইকোর্ট বেঞ্চ অপারগতা প্রকাশ করেছে

    হাইকোর্ট একটি রিট শুনানির সময় যে বেঞ্চটি পর্যালোচনা করছিল, তা মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিলের বৈধতা সংক্রান্ত রিটটি শুনতে অপারগতা প্রকাশ করেছে।

    সোমবার (৪ মে) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ রিটটি শুনতে অপারগতা জানায়। আইনজীবীদের according, বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও মনিরা শারমিন একই সংসদীয় আসনের বাসিন্দা হওয়ায় তিনি নিজে রিটটি শুনতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

    রিটের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রধান পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম, ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান এবং অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন লিপু। তারা জানান, রিটটি আগামীকাল বিচারপতি রাজিক আল জলিলের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি হতে পারে।

    পরিপ্রেক্ষিত: গত ২৩ এপ্রিল রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তে মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়। পরে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব মঈন উদ্দীন খান সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি চাকরি ছাড়ার পর তিন বছর পূর্ণ না হওয়ায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

    মনিরা শারমিন জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি ২০২৫ সালের মার্চে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পান। ২০২৩ সালের নভেম্বরে তিনি বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে অফিসার জেনারেল পদে যোগ দেন এবং দুই বছর পর গত বছরের ডিসেম্বরে চাকরি থেকে অবসর নেন।

    এ বিষয়ে আদালত অপারগতা ঘোষণা করার পর রিটের ভবিষ্যৎ কবে ও কীভাবে কার্যকর হবে— তা মুলত আগামী বেঞ্চের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। আদালতির অপারগতা ঘোষণার ফলে আপিলকারী ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষে পরবর্তী তর্ক ও পদক্ষেপগুলোর জন্য সময়সূচি বদলাতে পারে।

  • ইসি নুসরাত তাবাসসুমের নামে গেজেট করার সিদ্ধান্ত নিলেন

    ইসি নুসরাত তাবাসসুমের নামে গেজেট করার সিদ্ধান্ত নিলেন

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থী ও এনসিপি নেত্রী নুসরাত তাবাসসুমের নামে গেজেট প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন কমিশন নথিতে স্বাক্ষর করে গেজেট করার কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে, যা জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ সোমবার (৪ মে) নিশ্চিত করেছেন।

    জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার বলেন, আমরা নুসরাত তাবাসসুমের নামে গেজেট করার জন্য নথিতে স্বাক্ষর করে ফেলেছি; এখন এটি বিজি প্রেসে পাঠানো হবে।

    নিসচরিতভাবে, নুসরাত এবং আরেক প্রার্থী এনসিপি নেত্রী মনিরা শারমিনদের মধ্যে ওই আসনের পরিস্থিতি আদালতেও গড়িয়েছে। মনোনয়নপত্র বাতিল করা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মনিরা শারমিনের করা রিটের শুনানি আগামীকাল মঙ্গলবার (৫ মে) অনুষ্ঠিত হবে। যদি শুনানিতে ভিন্ন কোনো নির্দেশনা আসে, তখন সেই অনুযায়ী কাজ করা হবে; তবে আপাতত নির্বাচনী কমিশনের কাছে এ বিষয়ে কোনো নতুন নির্দেশনা নেই, জানান সংশ্লিষ্ট কমিশনার।

    ঘটনার পটভূমি— ২১ এপ্রিল, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে নানা বিতর্কের মধ্যে নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র জামায়াত জোটের হয়ে দাখিল করা হয়। সময়ের পরে জমা হওয়ায় রিটার্নিং কর্মকর্তা তা গ্রহণ করতে বিরত থাকেন। এরপর ২৩ এপ্রিল মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বাতিল হয়ে যায়। মনিরা সরকারি ব্যাংক থেকে অবসর নেওয়ার তারিখ থেকে তিন বছর পূর্ণ না হওয়াকে মোটিভ হিসেবে এই বাতিলের বিষয়টি আলোচিত ছিল।

    নুসরাত পরে হাইকোর্টে রিট করেন; শুনানি শেষে আদালত তার মনোনয়নপত্র গ্রহণের নির্দেশ দেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা শনিবার (২ মে) বাছাই করে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন এবং রোববার (৩ মে) সেই অনুযায়ী বৈধ প্রার্থীর তালিকায় নুসরাতের নাম প্রকাশ করেন। নির্বাচন আইনের প্রক্রিয়া মেনে বাছাইয়ে বৈধ ঘোষণা করার পর আইন অনুযায়ী একদিন অপেক্ষা করা যায়; কমিশন বলছে তারা দুই দিন অপেক্ষা করেছে এবং এখনও কোনো উচ্চতর আদেশ পাননি।

    ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যদি মনিরা শারমিনের রিটের শুনানি শেষে আদালত তাঁর মনোনয়নপত্র গ্রহণ করতে বলেন, তাহলে ওই আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এবং জামায়াত জোটের প্রার্থীরা ভোট দিয়ে দুই প্রার্থীর মধ্যে একজনকে বেছে নিবে। আর যদি আদালত মনিরার মনোনয়নপত্র খারিজের নির্দেশ দেন, তাহলে নুসরাত ওই আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে জায়গা নেবেন।

    নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ সংসদের সংরক্ষিত আসনগুলোর বণ্টন করে দিয়েছে— বিএনপি জোটকে ৩৬টি, স্বতন্ত্র জোটকে একটি এবং জামায়াত জোটকে ১৩টি আসন। নুসরাত-মনিরার আসনটি ছাড়া বাকি ৪৯টিতে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল না; সেসব আসনের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে ইতোমধ্যে শপথ নিয়েছেন।

    কমিশন বলছে, আগামী শুনানির ফলাফল অনুযায়ী তারা দ্রুত নেয়া সিদ্ধান্ত কার্যকর করবেন এবং প্রয়োজনীয় গেজেট প্রকাশ ও অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা পূরণ করবে।

  • সংস্কার নিয়ে বিএনপি সরকার প্রতারণা করছে; ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে বাধ্য করতে হবে

    সংস্কার নিয়ে বিএনপি সরকার প্রতারণা করছে; ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে বাধ্য করতে হবে

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বলছে, সংস্কার নিয়ে বিএনপি সরকার ভোটের সময় জনগণের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সে প্রতিশ্রুতিতে তারা থাকেনি—এবং সেটি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা। সরকারের এভাবে চললে তা কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠবে; এজন্য ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে রাজনৈতিকভাবে বাধ্য করা প্রয়োজন।

    রোববার (৩ মে) রাজধানীর কাকরাইল ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের মুক্তিযোদ্ধা হলে এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি আয়োজিত ‘জ্বালানি, অর্থনীতি, মানবাধিকার, সংস্কার ও গণভোট’ শীর্ষক জাতীয় কনভেনশনে এসব মন্তব্য করা হয়।

    অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী সেশনে সভাপতিত্ব করেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির সহ-প্রধান সারোয়ার তুষার। প্যানেলিস্ট ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক হান্নান মাসউদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী এবং সমাজবিজ্ঞানী মির্জা হাসান। সেশন পরিচালনা করেন জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন।

    হান্নান মাসউদ বলেন, সংসদের প্রথম অধিবেশনের পরই স্পষ্ট হয়ে গেছে এটি একটি ‘প্রতারণা ও প্রবঞ্চনার সংসদ’—কারণ যে আইনগুলো সরকারকে শক্তিশালী করবে সেসব জোর করে পাশ করা হয়েছে, কিন্তু যেগুলো সরকারকে জবাবদিহি করবে সেগুলো এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, অতীতে একটি অন্তর্বর্তী সরকার স্থানীয় প্রতিনিধিদের সরানোর জন্য একটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল; বর্তমান নির্বাচিত সরকার সেটি আইনে পরিণত করেছে, যার ফলে স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিদের কোন ব্যাখ্যা ছাড়া অপসারণ করা সম্ভব হচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, পুলিশের যেমন কমিশনের কথা বিএনপি প্রস্তাব করেছিল, সেটি করা হলেও সরকার পরে তা পছন্দ করছে না এবং অন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগগুলো বাতিল করা হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংক্রান্ত প্রস্তাবনাও বাতিল করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী মনে করিয়ে দেন, ১৯৯১ সালে যে সংস্কারগুলো রাজনৈতিক দলের মিলিত প্রস্তাবে উঠে এসেছিল, বিএনপি ক্ষমতায় এসে সেগুলো বাস্তবায়ন করেনি। ২৪-এর অভ্যুত্থানের পর যে প্রকল্পগুলো সাজানো হয়েছিল, সেগুলো বাস্তবে প্রতারকভাবে ভেস্তে দেওয়া হয়েছে—তিনি বললেন দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক এলিট, সিভিল-মিলিটারি-বুরোক্রেসি ক্ষমতা ছাড়তে চায় না, তাই সংস্কারকে ঠেকানো হয়েছে। তিনি আরও বলেছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ যদি কোনো উন্নত দেশের পার্লামেন্টে এমন বক্তব্য দিতেন, সেদিনই পদত্যাগ করতে হতো।

    সমাজবিজ্ঞানী মির্জা হাসান ‘জুলাই সনদ’কে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অনন্য বরননা করেছেন। তার ভাষ্য, সনদের মূল দিক হলো বিচার, শাসন ও নির্বাহ—এই তিন প্রধান অঙ্গের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করা। সংবিধান সংস্কার কমিটির প্রাথমিক প্রস্তাবগুলো অনেক অংশেই র‌্যাডিক্যাল ছিল—উদাহরণ হিসেবে একই ব্যক্তি সরকারপ্রধান ও দলের প্রধান না হওয়া—কিন্তু রাজনৈতিক চাপে কিছু বিষয় কম্প্রোমাইজ করা হয়েছে। তবু যে অর্জনগুলো রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে, সেগুলোও বড় অর্জন ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, বিএনপি সরকার বাস্তুচ্যুত হয়েছে—তা সংস্কার করতে ইচ্ছুক নয়। তিনি বলেন, অনেকেই বিএনপিকে ‘বেনিফিট অব ডাউট’ দেবার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে সরকার সংস্কার থেকে সরে এসেছে।

    তুষার আরও অভিযোগ করেন, সরকার সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করে ভোটের ইশতেহার ভঙ্গ করেছে; এরই মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তুলেন, কোনো সরকার বলে বলে নেয় যে ‘আমরা সরকার, তাই সব জায়গায় আমাদের লোক বসাবো’—কিন্তু সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোক বসানো গ্রহণযোগ্য নয়।

    সেশন সভাপতি আখতার হোসেন বলেছিলেন, বিএনপি স্বাধীনতা ও সংস্কার করতে চায় না; তারা ক্ষমতাকে নিরঙ্কুশ উপভোগ করতে চায়। তিনি ‘নোট অব ডিসেন্ট’ সম্পর্কে বলেন, মূল বিষয়ে ব্যাপক ঐক্যমত্য আছে; যদি কারও ভিন্ন মত থাকে, সেটাও পাশবত উপস্থাপন করা হবে—তাই স্বতন্ত্র মত প্রকাশের বহুমাত্রিকতা নীতি অনুযায়ী সুস্পষ্ট। গণভোট-সংক্রান্ত চারটি প্রশ্নে বিএনপির আপত্তি কিসের ওপর, সেটি পরিষ্কার করতে হবে—কারণ গণভোটে প্রস্তাবিত বিষয়গুলোর মধ্যে অনেকটি সম্পর্কে সব পক্ষই একমত ছিল।

    অবশেষে বক্তারা সম্মত হয়, যদি সরকার বাস্তবে সংস্কার কার্যকর না করে এবং প্রতিশ্রুতি থেকে সরে যায়, তাহলে প্রশাসনিক ও সমাজিক চাপে বিএনপিকে ‘জুলাই সনদ’ তথা সংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়নে বাধ্য করা হবে—কেবল কথাতেই নয়, বাস্তব পরিবর্তনের মাধ্যমে।

  • খুলনায় অভিভাবকবিহীন ছাত্রদল: সাংগঠনিক কার্যক্রম থমকে, পদপ্রার্থীরা লবিংয়ে

    খুলনায় অভিভাবকবিহীন ছাত্রদল: সাংগঠনিক কার্যক্রম থমকে, পদপ্রার্থীরা লবিংয়ে

    খুলনায় বর্তমানে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এক অস্থির ও অভিভাবকবিহীন সময় পার করছে। মহানগর ও জেলা পর্যায়ে দীর্ঘদিন কমিটি না থাকার কারণে সংগঠনটি কার্যত সাংগাঠনিক শস্থতায় পড়ে আছে। ৫ আগস্ট ২০২৪-এর রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কিছুটা চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলেও চূড়ান্ত নেতৃত্ব না থাকায় নেতাকর্মীরা সিদ্ধান্তহীন পরিস্থিতির মধ্যে আছে এবং বিভিন্ন পদপ্রার্থীরা তৎপরভাবে লবিং চালাচ্ছেন।

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল—যিনি খুলনা-৩-আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ—নিজেই খুলনার কমিটি সম্পর্কিত প্রক্রিয়া তদারকি করছেন। মাঠ পর্যায়ে কিছু ইউনিট কমিটি এখনো কার্যকর থাকলেও মহানগর ও জেলা স্তরের ‘শীর্ষ অভিভাবক’ না থাকায় সমন্বয় ও নেতৃত্বের স্বচ্ছ অভাব দেখা দিয়েছে।

    মহানগর ছাত্রদলের পূর্ববর্তী কমিটি ২০২১ সালের ২৪ মার্চ গঠিত হয়েছিল, যেখানে ইশতিয়াক আহমেদ ইস্তিকে আহ্বায়ক ও তাজিম বিশ্বাসকে সদস্য-সচিব করা হয়। ওই সময় এই কমিটি ১৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ৫টি থানা ও মহানগরের ৩১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৫টিতে নতুন ইউনিট গঠন করে সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তিন বছরের মাথায়, ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ওই কমিটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

    জেলা ছাত্রদলের পরিস্থিতি আরও দীর্ঘসূত্রি — ২০১৬ সালের ১৩ অক্টোবর মান্নান মিস্ত্রিকে সভাপতি ও গোলাম মোস্তফা তুহিনকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত জেলা কমিটি টানা আট বছর দায়িত্ব পালন করে। এই সময় তারা জেলার ৩১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ ৯টি থানায় ইউনিট কমিটি গঠন করেছিল। মহানগরের সঙ্গে একই দিনে, ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর এই জেলা কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়।

    কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনকে লক্ষ্য করে মহানগর ও জেলা কমিটি বিলুপ্তির ঘোষণা করলেও, দেশের রাজনৈতিক অনিশ্চিততার কারণে নির্দিষ্ট নতুন কমিটি দেয়ার কাজ অপর্যাপ্ত রয়ে গেছে। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্বের শূন্যতা তৈরি হয়েছে এবং সংগঠনের গতিশীলতা নষ্ট হচ্ছে।

    নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে এখন ব্যাপক যাচাই-বাছাই ও তদন্ত চলছে—এটি একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। খুলনা মহানগর ছাত্রদলের শীর্ষ পদে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক সদস্য-সচিব তাজিম বিশ্বাস, আরিফুল ইসলাম আরিফ, হেদায়েত উল্লাহ দিপু, মোঃ শাকিল আহমেদ, মাজহারুল ইসলাম রাসেল, আব্দুল হক শাহিন, হাসান ফকির, সৈয়দ ইমরান, নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া, রাজু আহমেদ, আব্দুস সালাম, রাশিউর রহমান রুবেল, রাজিবুল ইসলাম বাপ্পি, নাজমুল ইসলাম ও মুশফিকুর রহমান অভি প্রমুখ।

    জেলা ছাত্রদলের নেতৃত্বে নামের তালিকায় এগিয়ে আছেন গাজী শহিদুল, মাসুম বিল্লাহ, মশিউর রহমান শফিক, ফিরোজ আহমেদ আদল, অনিক আহমেদ, ইয়ামিন ইসলাম, ইসমাইল হোসেন খান, আবু জাফর ও ইমতিয়াজ সুজন প্রভৃতি।

    জেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা অনিক আহমেদ বলেন, “মামলার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে যদি কমিটি করা হয়, তাহলে প্রকৃত ত্যাগীরা নেতৃত্বে আসবেন।” মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সদস্য-সচিব তাজিম বিশ্বাস বলেন, “ছাত্রদল হয়তো বিএনপি’র সহযোগী সংগঠন, কিন্তু এটি দলের প্রাণ। ছাত্রদলের মাধ্যমে নতুন কর্মীরা রাজনৈতিক জীবনে প্রবেশ করে—বর্তমান সংসদের অনেকেই ছাত্রনেতা হিসেবে শুরু করেছিলেন। দলকে ফের গতিশীল করতে দ্রুত নতুন কমিটি গঠন জরুরি।”

    এখন সময় প্রার্থী-চর্চা ও লবিংয়ের; তবে সংগঠনের স্থিতিশীলতা ফেরাতে দলে পরিষ্কার নেতৃত্ব ও স্বচ্ছতা জরুরি বলে পর্যবেক্ষকরা বলছেন।

  • এপ্রিলের ২৯ দিনে রেমিট্যান্স ছাড়ালো ৩ বিলিয়ন ডলার

    এপ্রিলের ২৯ দিনে রেমিট্যান্স ছাড়ালো ৩ বিলিয়ন ডলার

    চলতি এপ্রিলের প্রথম ২৯ দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন মোট ৩০০ কোটি ২০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স, যা প্রায় ৩.০০২ বিলিয়ন ডলারের সমান। এ সময়ের গড় দৈনিক রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ১০ কোটি ৩৫ লাখ ডলার।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বৃহস্পতিবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিশেষ করে ২৯ এপ্রিল একক দিনে দেশে এসেছে ৯৪ কোটি ডলার রেমিট্যান্স, যা মাসব্যাপী প্রবাহকে বাড়িয়ে দিয়েছে।

    এপ্রিলের এই আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় অনেক বেশি; গত বছরের ওই মাসে রেমিট্যান্স ছিল ২৬০ কোটি ৮০ লাখ ডলার (প্রায় ২.৬০৮ বিলিয়ন ডলার)। আগেই চলতি বছরের মার্চে রেকর্ড ভেঙে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে—ওই মাসে প্রায় ৩.৭৫ বিলিয়ন (প্রায় ৩৭৫ কোটি) ডলার) পাঠানো হয়েছিল।

    এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতেও রেমিট্যান্স তিন বিলিয়ন ডলারের ওপর ছিল। জানুয়ারিতে প্রায় ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং ফেব্রুয়ারিতে প্রায় ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

    সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্রবাসী আয় শক্তিশালী অবস্থায় রয়েছে, যা বৈদেশিক মুদ্রা যোগান ও দেশের রিজার্ভকে সহায়তা করছে।

  • এপ্রিল মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ৩১২ কোটি ৭০ লাখ ডলার

    এপ্রিল মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ৩১২ কোটি ৭০ লাখ ডলার

    সদ্য শেষ হওয়া এপ্রিল মাসে দেশে এসেছে ৩১২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। এতে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে প্রায় ১০ কোটি ৪২ লাখ ডলার, জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসাইন খান।

    মুখপাত্রের কথায়, গত এপ্রিল মাসে রেমিট্যান্স আনা হয়েছে ৩১২ কোটি ৭০ লাখ ডলার, যেখানে গত বছরের একই সময়ে ছিল ২৭৫ কোটি ২০ লাখ ডলার। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য বেড়েছে।

    চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে দেশে এসেছে মোট ২ হাজার ৯৩৩ কোটি ২০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স, যা গত বছরের তুলনায় ১৯ দশমিক ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি।

    এর আগে গত মার্চে দেশে এসেছিল ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা কোনো এক মাসের হিসাবে দেশের সর্বোচ্চ রেকর্ড। হিসাব অনুসারে ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারিতে যথাক্রমে দেশে এসেছে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার এবং ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার। ডিসেম্বরে রেমিট্যান্স ছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার; নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার।

    অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে যথাক্রমে দেশে আসে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার এবং ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স। আগস্ট ও জুলাইয়ে ছিল ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার এবং ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

    এদিকে, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছর জুড়ে প্রবাসীরা মোট ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরের হিসাবে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়।

  • ৩০ দিনের মধ্যে যুদ্ধ সমাপ্তের দাবিতে ইরানের ১৪ দফা শান্তি প্রস্তাব

    ৩০ দিনের মধ্যে যুদ্ধ সমাপ্তের দাবিতে ইরানের ১৪ দফা শান্তি প্রস্তাব

    ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত স্থায়ীভাবে শেষ করার লক্ষ্যে ১৪ দফার একটি নতুন শান্তি প্রস্তাব ঘোষণা করেছে। প্রস্তাবে সাময়িক যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর বদলে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সকল অমীমাংসিত বিষয় নিষ্পত্তির দাবি রাখা হয়েছে। তেহরান জানিয়েছে এটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া ৯ দফার পরিকল্পনার জবাবে দেওয়া পাল্টা প্রস্তাব। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য বলা হয়েছে।

    নিরাপত্তা বাহিনীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সংবাদমাধ্যম নূর নিউজ অনুযায়ী, ইরানের ১৪ দফায় অন্যতম প্রধান দাবি হচ্ছে—স্যাং সমস্ত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা; নৌ-অবরোধ বন্ধ করা; এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার করা। এছাড়া লেবাননে ইসরাইলি অভিযানের মতো এই অঞ্চলের সব ধরনের সামরিক হামলা ও শত্রুতা বন্ধ করার শর্তও এতে রাখা হয়েছে।

    গত সপ্তাহে ইরানের আগের একটি প্রস্তাব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তবু দুই পক্ষের মধ্যে পর্দার আড়ালে আলোচনা চলছে এবং তিন সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিটি এখনও কার্যকর রয়েছে।

    এদিকে আজ (রোববার, ৩ মে) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদির মধ্যে এ বিষয়ে ফোনালাপ হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করা ওমান এবারের শান্তি প্রক্রিয়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো ধারণা করছে।

    ইরানের নতুন ১৪ দফা প্রস্তাবে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করায় বিরোধ নিষ্পত্তি দ্রুততার সঙ্গে না হলে আলোচনা আরও কঠোর হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে—তবে এই প্রস্তাবের প্রতি আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক উত্তর আগামী দিনগুলোতে স্পষ্ট হবে।

  • পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন?

    পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন?

    পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি যদি নিরঙ্কুশভাবে সাফল্য লাভ করে, তাহলে প্রথমবার রাজ্য সরকার গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে—আর সেই বাস্তবতার সামনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে: কে হবে পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী?

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পূর্বে ঘোষণা করেছেন যে পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী ‘‘একজন বাঙালি’’ হবেন। তবু এখনও কেন্দ্রীয় দল আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নাম ঘোষণা করেনি। দলের ভেতরে ও রাজনৈতিক মহলে কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘুরছে। তালিকার সর্বোচ্চ আলোচনায় আছেন শুভেন্দু অধিকারী।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সংবাদমাধ্যমের মতে, গত পাঁচ বছর বিরোধী নেতা হিসেবে বিধানসভায় শুভেন্দুর ভূমিকা তাকে শক্ত দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তিনি নন্দীগ্রাম ছাড়াও ভবানিপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়েছেন। প্রাথমিক গণনার ট্রেন্ড অনুযায়ী ভবানিপুরে তিনি লিড বজায় রেখেছেন বলে দাবি করেছেন এবং মমতাকে হারানোর ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছেন। তবে এনডিটিভিকে সোমবার দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদ সংক্রান্ত সরাসরি মন্তব্য এড়িয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘‘আমি এই স্পর্শকাতর প্রশ্নে কোনও মন্তব্য করব না। বিজেপি সম্মিলিত নেতৃত্ব—নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে আমরা লড়েছি এবং ফল বেরোচ্ছে।’’

    শুভেন্দুর পাশাপাশি দিলীপ ঘোষের নামও আলোচনায় রয়েছেন। তিনি দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি ও হেভিওয়েট নেতা; খড়গপুর সদর থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বড় ব্যবধানে এগিয়ে আছেন বলে বলা হচ্ছে। দলের তৃণমূল কর্মীপ্রশাখার সঙ্গে তার সম্পর্ক ও দল গড়ায় ভূমিকা তাকে মুখ্যমন্ত্রী সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্যে একজন করে তুলেছে।

    রাজ্যের বর্তমান বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও নানাভাবে নজরে পড়ছেন—তিনি দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ এবং রাজনৈতিক বক্তৃতা ও তত্ত্বগত দিক থেকে প্রশংসিত। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও সাবেক রাজ্য সম্পাদক সুকান্ত মজুমদারও দলের কৌশল নির্ধারণ ও ওয়াররুম সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কারণে পছন্দনীয় প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের নামটিও সম্ভাব্যদের তালিকায় আছে; তিনি উত্তরবঙ্গে দলকে মজবুত করার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং মাথাভাঙা কেন্দ্র থেকে লড়েছেন। আর রাজনৈতিক-সাংবাদিক লড়াই থেকে আসা পদ্মভূষণ পুরস্কার প্রাপ্ত স্বপন দাশগুপ্তকে বিজেপির বুদ্ধিজীবী প্ররোচনার প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে—তাকে ‘‘ভদ্রলোক’’ রাজনীতির মুখ হিসেবেও দেখা হয়।

    এখনকার ফলাফলের প্রাথমিক ছবি অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য বলছে—২৯৩টি বিধানসভা আসনের মধ্যে বিজেপি ১৯৯টিতে এগিয়ে আছে, তৃণমূল ৮৮টিতে এগিয়ে; পাশাপাশি সিপিএম ও কংগ্রেস প্রত্যেকে ২টি-২টি আসনে এগিয়ে এবং অন্যান্যরা ২টিতেই এগিয়ে রয়েছে (সূত্র: আনন্দবাজার)।

    চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং আনুষ্ঠানিক ঘোষণা রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হাতে। নাম ঘোষণার আগে দলের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক কৌশল, জোট-সমীকরণ এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সমন্বয় সবই বিবেচনায় নেওয়া হবে।

  • সুন্দরবনে বনদস্যুদের হাতে মৌয়াল ও জেলে অপহৃত, মুক্তিপণের দাবি

    সুন্দরবনে বনদস্যুদের হাতে মৌয়াল ও জেলে অপহৃত, মুক্তিপণের দাবি

    সাতক্ষীরা রেঞ্জের আওতাধীন পশ্চিম সুন্দরবনে অস্ত্রের মুখে এক মৌয়াল ও এক জেলেকে অপহৃত করা হয়েছে বলে তাদের সহকর্মীরা অভিযোগ করেছেন।

    স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রোববার (৩ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাহমুদা নদীর মাইটভাঙা খাল থেকে চলে আসে অপহরণের খবর। তারা দাবি করছেন, বনদস্যু আলিফ বাহিনীর সদস্যরা অস্ত্র দেখিয়ে ওই দুজনকে জিম্মি করে নিয়ে গেছে।

    অপহৃতরা হলেন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের হরিনগর গ্রামের বাসিন্দা মৌয়াল আব্দুল করিম (৪৮) ও জেলে ইসমাইল হোসেন (২৮)। আব্দুল করিম প্রয়াত শেখ আব্দুর রহমানের পুত্র।

    ফিরে আসা জেলে আব্দুল আলিম ও শামীম হোসেন জানান, অপহরণকারীরা নিজেদের আলিম ওরফে আলিফ নামে পরিচয় দিয়েছেন এবং অস্ত্রের মুখে করিম ও ইসমাইলকে ধরে গভীর বনের দিকে নিয়ে গেছেন। পরে ইসমাইলকে মুক্তির জন্য ৬০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়; তবে আব্দুল করিমের মুক্তির বিষয়ে এখনও অপহরণকারীরা কিছু জানাননি।

    জানানো হয়েছে, গত ২৬ ও ২৮ এপ্রিল পৃথকভাবে তারা নৌকায় সুন্দরবনে প্রবেশ করেন। কদমতলা স্টেশন থেকে পাস (অনুমতি পত্র) নিয়ে তারা মধু আহরণ ও মাছ শিকার করার উদ্দেশ্যে সেখানে অবস্থান করছিলেন।

    সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মশিউর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত তাদের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ওঠেনি; তবে তারা সংশ্লিষ্ট ঘটনার বিষয়টি খোঁজখবর নেবে। শ্যামনগর থানার ওসি খালেদুর রহমান বলেন, সাধারণত জিম্মি থাকা অবস্থায় পরিবারের লোকজন নিরাপত্তার কারণে প্রশাসনকে তথ্য জানান না; কেউ অভিযোগ করলে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।

  • গোপালগঞ্জে বাস চাপায় ভ্যানচালক ঝন্টু মোল্যা নিহত, ৭ জন আহত

    গোপালগঞ্জে বাস চাপায় ভ্যানচালক ঝন্টু মোল্যা নিহত, ৭ জন আহত

    গোপালগঞ্জে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপীনাথপুর এলাকায় আজ সোমবার (৪ মে) সকালে যাত্রীবাহী একটি বাসের চাপায় ভ্যানচালক ঝন্টু মোল্যা (৪৫) নিহত হয়েছেন। ভাটিয়াপাড়া হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকনউজ্জামান ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।

    ওসি রোকনউজ্জামান জানান, ঢাকা থেকে খুলনাগামী ফাল্গুনী পরিবহনের একটি বাস ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সেটি একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও একটি ভ্যানকে চাপা দেয়। এতে ভ্যানচালক ঝন্টু মোল্যা ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং ইজিবাইকে থাকা আরও সাতজন যাত্রী আহত হন।

    ক্ষতিগ্রস্তদের স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করালে সেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে। নিহত ঝন্টু মোল্যা গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের, আখুব্বর মোল্যার ছেলে বলে পরিবার ও পুলিশ জানিয়েছে।

    পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর ঘাতক বাসটিকে আটক করা হয়েছে এবং ঘটনার কারণ তদন্ত করা হচ্ছে।