Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • ফুয়েল পাস অ্যাপ: রেজিস্ট্রেশন ও ব্যবহার—ধাপে ধাপে নির্দেশনা

    ফুয়েল পাস অ্যাপ: রেজিস্ট্রেশন ও ব্যবহার—ধাপে ধাপে নির্দেশনা

    জ্বালানি তেলের সুষ্ঠু বণ্টন ও ফিলিং স্টেশনে শৃঙ্খলা আনতে দেশে চালু করা হয়েছে ‘ফুয়েল পাস’ ব্যবস্থা। এ জন্য সরকার একটি ওয়েবসাইট এবং মোবাইল অ্যাপ চালু করেছে। পরীক্ষামূলকভাবে রাজধানীর সোনার বাংলা (আসাদ গেট) ও ট্রাস্ট (তেজগাঁও) ফিলিং স্টেশনে কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং ইতোমধ্যে রেজিস্ট্রেশনকারীর সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে।

    কেন এ ব্যবস্থা? জনসাধারণকে নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি অনলাইনে বরাদ্দ করে দিলে অপ্রয়োজনীয় ভিড় ও অপচয় কমে, জ্বালানি বিতরণে স্বচ্ছতা বাড়ে—এটাই সরকারের লক্ষ্য। এ প্রসঙ্গে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র মনির হোসেইন চৌধুরী জানান, অনেকেই ইতোমধ্যে নিবন্ধিত হলেও এখনও অনেকে পুরো প্রক্রিয়াটি ঠিকমতো বুঝতে পারছেন না। তাই নিচে রেজিস্ট্রেশন ও অ্যাপ ব্যবহারের সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো।

    ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশন (fuelpass.gov.bd):

    1. ওয়েবসাইটে ঢুকে চার ধাপে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। প্রথম ধাপে গাড়ির নিবন্ধন সম্পর্কিত তথ্য দিতে হবে—এটি বিআরটিএর ডেটাবেইসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে।

    2. তথ্য 제출ের পর আপনার মোবাইল নম্বরেই একটি ওটিপি (OTP) যাবে। ওই কোড যাচাই করে বাকি অ্যাকাউন্ট তথ্য পূরণ করলে নিবন্ধন সম্পন্ন হবে।

    3. রেজিস্ট্রেশনের সময় যে কাগজপত্রগুলো লাগবে: জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), গাড়ির রেজিস্ট্রেশন বই (ব্লু বুক), ড্রাইভিং লাইসেন্স, সচল মোবাইল নম্বর এবং পাসপোর্ট সাইজ ছবি।

    অ্যাপ থেকে রেজিস্ট্রেশন ও ব্যবহার:

    1. গুগল প্লে স্টোর থেকে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ ডাউনলোড করে ওয়েবসাইটের মতোই অ্যাপে নিবন্ধন করা যাবে।

    2. অ্যাপ খুললে দুটি অপশন থাকবে—সাধারণ ব্যবহারকারী এবং ফিলিং স্টেশন অপারেটর। ব্যবহারকারী হিসেবে লগইন করলে আপনার গাড়ির তথ্য ও বরাদ্দকৃত জ্বালানির পরিমাণ দেখা যাবে।

    3. অ্যাপে দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক বরাদ্দ কত—সবই স্পষ্টভাবে দেখানো থাকবে। ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি নেওয়ার সময় অ্যাপের কিউআর কোড স্ক্যান করে লেনদেন সংরক্ষণ করা হবে। আপনার পূর্ববর্তী লেনদেনগুলো ‘হিস্ট্রি’ অংশে দেখা যাবে।

    কিছু টিপস ও সতর্কতা:

    – রেজিস্ট্রেশনের সময় নিশ্চিত করুন আপনার দেওয়া মোবাইল নম্বর সচল আছে এবং বিআরটিএতে গাড়ির তথ্য সঠিকভাবে আছে।

    – ওটিপি না এলে মোবাইল নেটওয়ার্ক বা নম্বর সঠিক আছে কি না যাচাই করুন, প্রয়োজনে পুনরায় চেষ্টা করুন।

    – ব্যক্তিগত তথ্য সাবধানে আপলোড করুন এবং ছবি/ডকুমেন্ট স্পষ্ট রাখুন যাতে যাচাইয়ে সমস্যা না হয়।

    সরকার আশা করছে, ফুয়েল পাস সিস্টেম চালু হলে জ্বালানি বিতরণ আরও স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত হবে এবং ফিলিং স্টেশনে অযথা ভিড় ও অপচয় কমবে। পরীক্ষামূলক প্রয়োগ সফল হওয়া পর্যন্ত কয়েকটি স্টেশনে সেবা সীমাবদ্ধ থাকতে পারে; প্রয়োজনে সরকারি অনলাইনে দেওয়া নির্দেশনা কিংবা আপডেট দেখাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উৎস হবে।

  • বিএনপি সরকার দেশে ‘নতুন ফ্যাসিবাদ’ গড়ে তুলছে: জামায়াত আমির

    বিএনপি সরকার দেশে ‘নতুন ফ্যাসিবাদ’ গড়ে তুলছে: জামায়াত আমির

    জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কী এবং-কি ভাবে দলীয় করে উপঢৌকন দিচ্ছে, যা বাস্তবে নতুন ফ্যাসিবাদ ও নীরব বাকশাল গঠনের প্রচেষ্টা। তিনি বলেন, পুরনো স্বৈরাচারী শাসনের নিদর্শন আজও জীবন্ত আছে এবং এই নতুন রূপের শাসন প্রবলভাবে রুখে দেওয়া হবে।

    বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতের জাতীয় সংসদ অধিবেশনের পর সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। এর আগে বিরোধী দল গুম প্রতিরোধ, বিচার বিভাগ ও স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত কিছু বিতর্কিত বিলের বিরুদ্ধে সংসদ থেকে সাময়িক ওয়াকআউট করে।

    তিনি মন্তব্য করেন, ‘‘আজকের অধিবেশনে এমন কিছু বিল উত্থাপন করা হয়েছে যা সরাসরি জনগণের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। আমরা প্রতিবাদ করতে চাইলে সংসদে আমাদের বক্তব্য জানার সুযোগ সীমিত করা হচ্ছে। বিরোধী সদস্যদের জন্য মাত্র দুই থেকে ছয় মিনিট সময় বরাদ্দ থাকে, অথচ মন্ত্রীরা সময়সীমা ছাড়াই ঘণ্টা-ঘণ্টা বক্তব্য দেন। স্পিকারের এই ভারসাম্যহীন আচরণ সংসদীয় রীতির পরিপন্থী ও বিরোধী কণ্ঠরোধের প্রমাণ।’’

    বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নষ্ট করার বাহ্যিক চেষ্টা হিসেবে তিনি অভিযোগ তুলেন যে সরকার এমন আইন পাস করছে যার ফলে বিচারক নিয়োগ ও নিয়ন্ত্রণ কার্যত নির্বাহী শাখার নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে। ডা. শফিকুর বলেন, ‘‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় যে নিরপেক্ষ নীতিমালা ছিল, সেটি বাতিল করে তারা পুরনো দলীয় নিয়োগবিধিতে ফিরে গেছে। এর ফলেই অতীতে যেভাবে দলীয় বিচারপতি উঠে এসেছে, ভবিষ্যতেও একই অনুশীলনের পুনরাবৃত্তি ঘটবে।’’

    স্থানীয় সরকারের বিল নিয়ে তিনি বিশেষ সতর্কতাও জাহির করেন। জেলা পরিষদ, উপজেলা, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে সরিয়ে প্রশাসক নিয়োগ করা হচ্ছে—এভাবে স্থানীয় স্তরগুলোকে দলীয়করণ করা হচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ। বিএনপির ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাবের কথাও তুলে তিনি বলেন, আইনগত বা বিশেষ কারণে ছাড়া প্রশাসক সুইচ করা যাবে না; তবু সরকারি যুক্তি ছাড়া বিভিন্ন স্তরে প্রশাসক বসিয়ে স্থানীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে।

    দেশে চলমান কয়েকটি উপ-নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘‘১৯৯৪ সালের মাগুরার কলঙ্কিত নির্বাচনের স্টাইল আজ বগুড়া ও শেরপুরে পুনরায় দেখা গেছে। দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়—এটি আবারও প্রমাণিত হলো। শেরপুর-৩ আসনে আমাদের কর্মী হত্যা হয়েছে, আরেকজনকে হত্যা করা হয়েছে—এই খুনিদের চিহ্নিত করে বিচারের দাবি আমরা করছি।’’

    তবে তিনি আশ্বস্ত করে জানান, তারা সংসদ বর্জন করেনি; তারা সংসদে থাকবেন এবং জনগণের অধিকারের পক্ষে কথা বলবেন। কিন্তু যদি জনস্বার্থবিরোধী আইন পাস করা হয়, তখন বিরোধী কণ্ঠ আবারো জোরালোভাবে উঠবে। ডা. শফিকুর বলেন, ‘‘জনগণ পূর্বেও ফ্যাসিবাদ রুখে দিয়েছে, ভবিষ্যতেও কেউ যদি নতুন করে ফ্যাসিবাদ বা বাকশাল কায়েম করতে চায়, আমরা—ইনশাআল্লাহ—জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সেটাও রুখে দেব।’’

    সংবাদ সম্মেলনে বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ জামায়াতে ইসলামী ও বিরোধী জোটের শীর্ষস্থানীয় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

  • ৮ মাসে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি দ্বিগুণ: দুই লাখ কোটি টাকার ওপরে

    ৮ মাসে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি দ্বিগুণ: দুই লাখ কোটি টাকার ওপরে

    চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) প্রথম আট মাসে বাংলাদেশে পণ্যের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৬৯১ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকার ওপরে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই ঘাটতি ছিল ১,৩৭১ কোটি ডলার। এসব তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যালান্স অব পেমেন্ট (বিওপি) হালনাগাদ প্রতিবেদন।

    প্রধান কারণগুলোতে রয়েছে আমদানি বৃদ্ধি ও বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে দেশের আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪,৬১৭ কোটি ডলার (প্রায় ৪৬.১৪ বিলিয়ন ডলার), যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫.৬ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরে একই সময়ে আমদানি ছিল প্রায় ৪৩.৭৪ বিলিয়ন ডলার।

    অন্যদিকে পণ্য রপ্তানি আয় হয়েছে ৩০.০৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের ২৯.২৬ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় মোটামুটি স্থিতিশীল—আনুমানিক ২.৬ শতাংশ অনুকূল পরিবর্তন। অর্থাৎ রপ্তানির প্রবৃদ্ধি আমদানির বৃদ্ধিকে ধরতে পারেনি; ফলে পণ্যের বাজারে এই স্বল্পতার কারণে সামগ্রিক বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধি পেয়েছে।

    খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশেষ করে গত ফেব্রুয়ারি মাসে রমজানকে সামনে রেখে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, ডাল ও খেজুরসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি বাড়ায় সার্বিক আমদানিই বেড়ে যায়। একই সময়ে রপ্তানি আয় ততোটা দ্রুত বাড়েনি—এই ছেদই বাণিজ্য ঘাটতির প্রধান কারণ বলে তারা মনে করছেন। তাদের পরামর্শ, দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে আমদানি নিয়ন্ত্রণ ও রপ্তানি বুস্ট করার ওপর জোর দিতে হবে।

    চলতি হিসাব-অবস্থা (কারেন্ট একাউন্ট) বর্তমানে সামান্য ঋণাত্মক; ফেব্রুয়ারি শেষে কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ঘাটতির পরিমাণ ছিল আনুমানিক ১০০ মিলিয়ন ডলার, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে তা ছিল ১৪৭ মিলিয়ন ডলার। তবে সমগ্র আর্থিক বিনিময়ের ওপর নেগেটিভ প্রভাব পড়লেও ওভারঅল ব্যালান্স উন্নত অবস্থায় আছে—আলোচিত সময়ের সামগ্রিক লেনদেন (ওভারঅল ব্যালান্স) ছিল ৩৪৩ মিলিয়ন ডলার, যেখানে আগের বছর একই সময়ে এটি -১১৫ মিলিয়ন ডলার (ঋণাত্মক) ছিল।

    রেমিট্যান্সও বৃদ্ধি পেয়েছে: অর্থবছরের প্রথম আট মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা মোট ২,২৪৫ কোটি ডলার (প্রায় ২২.৪৫ বিলিয়ন ডলার) রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের একই সময়ের ১,৮৮৭ কোটি ডলারের তুলনায় প্রায় ২১.৪ শতাংশ বাড়তি।

    প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) ঘাটতি বা উত্থান-পতন দেখিয়েছে—গত অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে এফডিআই ছিল ১০৬ কোটি ডলার, কিন্তু চলতি সময়ে তা নামিয়ে এসেছে ৮৭ কোটি ডলারে। পাশাপাশি শেয়ারবাজারে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগ নিট হিসেবে নেতিবাচক অবস্থায় আছে; চলতি অর্থবছরে শেয়ারবাজারে বাইরের বিনিয়োগে নেট আউটফ্লো প্রায় ৮ মিলিয়ন ডলার হয়েছে, যা আগের বছরের সমপরিমাণ নেতিবাচকের কাছাকাছি অবস্থানই নির্দেশ করে।

    সংক্ষেপে বলা যায়, বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে অভ্যন্তরীণ আমদানির তীব্রতার ফলে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে। নীতিনির্ধারকরা আমদানি নিয়ন্ত্রণ, রপ্তানি বাড়ানো ও বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার পরামর্শ দিচ্ছেন, অন্যথায় অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়তে পারে।

  • ১৭টি ব্যাংক লোকসানে, সিএসআরে ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নেমেছে

    ১৭টি ব্যাংক লোকসানে, সিএসআরে ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নেমেছে

    ২০২৪ সালে বাংলাদেশে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এক কঠিন বছর পার করল—বহু ব্যাংক আর্থিক চাপের মুখে পড়ে এবং সিএসআর খাতে ব্যয়ও নাটকীয়ভাবে কমেছে। বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রিপোর্ট করা ওই সময়ে ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক সিএসআর খাতে মোট মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। আগের বছরের তুলনায় এটি প্রায় ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা প্রায় ৪২ শতাংশ কম।

    অর্থাৎ বিগত এক দশকে সিএসআর খাতে এটিই সর্বনিম্ন ব্যয়। পূর্বে ২০১৫ সালে খাতে সবচেয়ে কম ব্যয় ছিল ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা—তার তুলনায় এ বার প্রায় ১৮২ কোটি টাকা (৩৪.৫৭ শতাংশ) কম ব্যয় হওয়া খাতটিতে নতুন নিম্নমুখী প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়। পাশাপাশি সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ধারাবাহিকভাবে সিএসআর ব্যয় কমছে: রিপোর্টে ২০২২ সালে ব্যয় ছিল ১,১২৯ কোটি টাকা, ২০২৩ সালে ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ এবং পরবর্তী বছরে ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকায় নামে আসে—দুই বছরের ব্যবধানে সিএসআর ব্যয় প্রায় ৫১৩ কোটি টাকা বা ৪৫ শতাংশের বেশি কমে গেছে।

    ব্যাংক খাতের সূত্রগুলোর মতে, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতা—বিশেষ করে ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও সরকার পরিবর্তনের প্রভাব এবং কিছু ব্যাংকের অনিয়ম ও অর্থ পাচারের তথ্য প্রকাশ—ব্যাংকিং খাতে বড় আঘাত করেছিল। কাগজে-কলমে প্রদর্শিত মুনাফার বিপরীতে প্রকৃত আর্থিক অবস্থা সামনে আসতে থাকে, খেলাপি ঋণের কারণে প্রকৃত লোকসান প্রকাশ পায় এবং কিছু শরীয়াভিত্তিক ব্যাংক বিশেষভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। দুর্বল ব্যাংকগুলোর স্থিতিশীলতা ফেরাতে সরকার কয়েকটি ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

    ব্যাংকারদের দাবি, রাজনৈতিক চাপও সিএসআর ব্যয় কমানোর একটি বড় কারণ। পূর্বের রাজনৈতিক সময়ে বিভিন্ন স্তর থেকে অনুদান বা সহায়তার জন্য ব্যাংকগুলোর ওপর চাপ থাকাতো; ফলে অনেক ক্ষেত্রেই ব্যয় প্রকৃত সামাজিক দায়বদ্ধতার আওতার বাইরেও চলে যেত। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনাবলি ও পরবর্তী গঠনতন্ত্র পরিবর্তনের পরে সেই ধরনের চাপ অনেকটাই কমে গেছে, ফলে ব্যাংকগুলো এখন তুলনামূলকভাবে সংযতভাবে সিএসআর খরচ করছে।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জরুরি, কারণ রাজনৈতিক প্রভাব থাকলে এই অর্থ অনুৎপাদনশীল কাজে খরচ হতে পারে এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার মূল উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের দিকনির্দেশনায় ব্যাংকগুলোর নিট মুনাফার একটি অংশ সিএসআর হিসেবে ব্যয় করার কথা বলা আছে—যার মধ্যে প্রস্তাবিত অনুপাত: ৩০ শতাংশ শিক্ষা, ৩০ শতাংশ স্বাস্থ্য, ২০ শতাংশ পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং বাকি ২০ শতাংশ অন্যান্য ক্ষেত্রে। তবে প্রতিবেদনের অনুযায়ী, বাস্তবে নির্দেশনার সঙ্গে পুরোপুরি মানা হচ্ছে না: ওই রিপোর্টকালে ব্যাংকগুলো তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে বেশি (৩৬ শতাংশ) ব্যয় করেছে ‘অন্যান্য’ খাতে; শিক্ষায় ব্যয় ছিল ২৮.৫৩ শতাংশ, পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে মাত্র ১০ শতাংশ এবং স্বাস্থ্য খাতেও উল্লেখযোগ্য অংশ আছে।

    প্রতিবেদন অনুসারে রিপোর্টকালে ১১টি ব্যাংক সিএসআর খাতে কোনো তৎপরতা দেখায়নি। সেগুলো হলো—জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    আরও উল্লেখযোগ্য, ২০২৪ সালে মোট ১৭টি ব্যাংক নিট মুনাফা অর্জন করতে পারেনি। লোকসানবহুল ব্যাঙ্কগুলোর তালিকায় রয়েছে: জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান। এর মধ্যে ছয়টি লোকসানকারী ব্যাংক সত্ত্বেও সিএসআর খাতে অর্থ ব্যয় করেছে—এবং সেগুলো হলো এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক।

    সংক্ষেপে, ব্যাংকিং খাতে সংকটের ছায়া ও রাজনৈতিক ও আর্থিক অনিশ্চয়তার প্রভাবেই সিএসআর ব্যয় নাটকীয়ভাবে কমেছে; বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই গ্রাফ বদলানো গেলে সমাজকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোর উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে—তাই স্বচ্ছতা, নিয়মনীতি মেনে চলা ও কার্যকর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

  • রিপোর্টে: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের অভিযানে ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের ৫২ কর্মকর্তার মৃত্যু দাবী

    রিপোর্টে: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের অভিযানে ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের ৫২ কর্মকর্তার মৃত্যু দাবী

    কয়েকটি মিডিয়া ও অনলাইন সূত্রে দাবি করা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পরিকল্পিত সামরিক ও গোয়েন্দা অভিযানে ইরানের সামরিক, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কাঠামোর শীর্ষ পর্যায়ের অন্তত ৫২ জন কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এই হামলাগুলো যদি সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে তা কেবল ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়—ইরানের সামরিক কمان্ড, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারে গভীর ভাঙন তৈরি করবে। তবে উল্লেখ্য, এই দাবিগুলো অনেক ক্ষেত্রেই স্বাধীনভাবে যাচাই যোগ্যতা পাননি এবং সরকারিভি বা নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক সূত্র থেকে সম্মিলিতভাবে স্বীকৃতি পাওয়া যায়নি।

    ক্ষমতার কেন্দ্রকে আঘাত—দাবি ও অনিশ্চয়তা

    কিছু রিপোর্টে তালিকার শীর্ষেই আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যত্র বলা হয় শীর্ষ পর্যায়ের আরও একাধিক রাজনীতিবিদ ও সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন—যেমন আলী লারিজানি, আলী শামখানি ইত্যাদি। তবে এসব সংবাদের সত্যতা নিয়ে নানামুখী দাবি-প্রতিমত চলছে এবং স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে এ ধরনের রিপোর্টে সরাসরি কৃতকার্য বলে ঘোষণা না করে ‘দাবি করা হয়েছে’ বা ‘সূত্র বলছে’ বলে উপস্থাপন করা জরুরি।

    সামরিক নেতৃত্বে ধারাবাহিক ক্ষতি—প্রতিবাদের প্রভাব

    রিপোর্টগুলোর ভিত্তিতে বলা হচ্ছে, গঠনতান্ত্রিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদে একের পর এক শীর্ষ ব্যক্তি হত্যা হওয়ায় সামরিক ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে вакুম তৈরি হয়েছে। যেমন চিফ অব স্টাফ, উচ্চ র‌্যাঙ্কিং কমান্ডার এবং অপারেশন প্রধানদের দাবিকৃত হত্যাকাণ্ড ইরানের সামরিক সমন্বয়কে দুর্বল করেছে—যদি এই দাবিগুলো সত্যি হয়। ধারাবাহিক নেতৃত্বক্ষয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও оператив নির্দেশনার ধারাবাহিকতা ব্যাহত করে, ফলে সামরিক প্রতিক্রিয়া ও প্রতিরক্ষা ঝুঁকিতে পড়ে।

    আইআরজিসি এবং আঞ্চলিক শক্তি

    রিপোর্টে বলা হয়েছে আইআরজিসি (ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস)-এর উচ্চপদস্থ কমান্ডার ও তিনটি প্রধান শাখা—স্থল, নৌ ও মহাকাশ—লক্ষ্যবিহিতভাবে আঘাত পেয়েছে। মহাকাশ বাহিনী বা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রোগ্রামের প্রধানদের ওপর হামলা হলে এসব কর্মসূচি কার্যকারিতাহীন হয়ে পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন। নৌ বাহিনীর শীর্ষ সুরক্ষাব্যবস্থা দুর্বল হলে পারস্য উপসাগরে ইরানের উপস্থিতি ও অপারেশনাল ক্ষমতা সীমিত হবে, যা আঞ্চলিক সামরিক ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলতে পারে।

    গোয়েন্দা কাঠামোতে টেকনিক্যাল আঘাত

    রিপোর্ট অনুযায়ী ইরানের গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও লক্ষ্যবস্তু ছিল। গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় বা আইআরজিসি-র গোয়েন্দা শাখার একাধিক নাম উল্লেখ করা হয়েছে যাদের হত্যার দাবি উঠেছে। এ ধরনের লক্ষ্যভিত্তিক আক্রমণ নির্দেশ করে যে হামলাকারীরা গভীর গোয়েন্দা-infiltration ও সুনির্দিষ্ট আক্রমণের মাধ্যমে উচ্চস্তরের বৈঠক পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহে সক্ষম হয়েছে—যা দেশের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা প্রকাশ করে। আবারও বলছি, এসব দাবির স্বাধীন যাচাই বহুলাংশে অনুপস্থিত।

    পারমাণবিক কর্মসূচি ও কুদস ফোর্সে প্রভাব

    কয়েকটি আলাদা ও পুরনো ঘটনাকে অন্তর্ভুক্ত করে রিপোর্টগুলো বলছে, পারমাণবিক গবেষণা ও সংশ্লিষ্ট নেতাদের ওপরও লক্ষ্যবস্তু অবস্থান করছিল—যেমন মোহসেন ফাখরিজাদেহর হত্যাকাণ্ড (যা কয়েক বছর আগে ঘটেছিল)। কুদস ফোর্সের উচ্চপদস্থদের হত্যার ফলে ইরানের আঞ্চলিক প্রক্সি নেটওয়ার্ক—সিরিয়া, লেবানন ও অন্যান্য অঞ্চলে—ও দুর্বল হয়েছে বলে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। কাসেম সোলাইমানির ২০২০ সালের হত্যাকাণ্ডই ছিল এ ধরনের নেটওয়ার্কে বড় আঘাতের একটি পূর্বসূরী।

    অভ্যন্তরীন নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক প্রভাব

    রিপোর্টে বলা হয়েছে বাসিজ বা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপরও আঘাত হয়েছে, যা ভেতরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে কাঁপিয়ে তুলতে পারে। দীর্ঘমেয়াদিভাবে এই ধরনের লক্ষ্যভিত্তিক অপারেশন দুর্বল নেতৃত্ব, ভীতি এবং অভ্যন্তরীণ অবিশ্বাস বাড়াতে পারে—যা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

    কৌশলগত মূল্যায়ন

    এই আক্রমণ/নির্ধারণগুলো যদি যাচাইযোগ্য হয়, তাহলে কয়েকটি জিনিস স্পষ্ট হবে: একটি, হামলাগুলো অত্যন্ত নিখুঁত ও তথ্যনির্ভর ছিল; দুই, শীর্ষ নেতৃত্বের ধারাবাহিক ক্ষতি সামরিক ও গোয়েন্দা সমন্বয়কে দুর্বল করেছে; তিন, ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারে তা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, এসব দাবি যাচাই না হলে পরিস্থিতি সম্পর্কে কেবল অনুমানেই সীমাবদ্ধ থাকা ছাড়া উপায় নেই।

    ভবিষ্যৎ चुन challenge

    ইরানের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হবে—নতুন দক্ষ নেতৃত্ব গঠন, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা ব্যবস্থার পুনর্গঠন এবং অভ্যন্তরীণ-আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার। তাত্ত্বিকভাবে এসব করাই সম্ভব হলে দেশটি ধীরে ধীরে সমন্বয় ও প্রতিরোধ ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করতে পারে; কিন্তু ধারাবাহিক লক্ষ্যভিত্তিক আক্রমণ থাকলে তা সহজ হবে না।

    নোট: এই প্রতিবেদনে যে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মৃত বা আহত বলে দাবি করা হয়েছে, সেগুলো প্রধানত তৃতীয় পক্ষের উৎস ও অনলাইন রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব খবর সরকারি বা আন্তর্জাতিক নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে সম্মিলিতভাবে যাচাই না হওয়া পর্যন্ত তাদের বাস্তবতা নিয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।

  • ৪০ দিন পর খুলল আল-আকসা: ফজরের নামাজে হাজির হাজারো মুসল্লি

    ৪০ দিন পর খুলল আল-আকসা: ফজরের নামাজে হাজির হাজারো মুসল্লি

    ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদ পুনরায় খুলে দিয়েছে, যা প্রায় ৪০ দিনেরও বেশি সময় ধরে নজিরবিহীনভাবে বন্ধ ছিল।

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যৌথ হামলা শুরুর পর প্রথমবারের মতো সেখানে ফজরের নামাজ আদায় করেন বেশী করে বলা যায় ৩,০০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি মুসল্লি। অনলাইনে ছড়ানো ভিডিওতে দেখা গেছে মসজিদের গেট খুলতেই সিংহভাগ মানুষ অঙ্গিনায় ঢুকছে, দীর্ঘদিন পরে আল-আকসায় ফিরে এসে খুশি ও облегчতাবোধ করছে।

    কয়েকটি ভিডিওতে দেখা গেছে স্বেচ্ছাসেবক ও মসজিদের কর্মীরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা করে, মসজিদ এবং মুসল্লিদের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

    ইসরায়েল সাম্প্রতিক সময় আল-আকসা বন্ধ করে ফেলে এবং ফিলিস্তিনি মুসলমানদের সেখানে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছিল। এমনকি রমজান, ঈদুল ফিতর ও জুমার নামাজের সময়ও মসজিদ বন্ধ ছিল। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা বললেও ফিলিস্তিনিরা এই যুক্তি মানতে অস্বীকার করেছে। একই সময়ে ইসরায়েল অন্যান্য জায়গায় বড় ইহুদি ধর্মীয় সমাবেশকে অনুমতি দিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

    অনেকে বলছেন, যুদ্ধে উদ্বেগকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে ইসরায়েল আল-আকসার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করছে—যার মধ্যে আছে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, সময়সূচি নির্ধারণ এবং অনুমোদিত কার্যক্রম সীমিত করা।

    পুরনো জেরুজালেমের আল-আকসা দীর্ঘকাল ধরে ‘স্ট্যাটাস কো’ নামে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার আওতায় চালিত হয়ে আসে—অর্থাৎ মসজিদে প্রবেশ, নামাজ আদায় ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব মূলত মুসলিম কর্তৃপক্ষের হাতে থাকার কথা। কিন্তু ফিলিস্তিনিরা অভিযোগ করেছেন ইসরায়েল বহু বছর ধরে এই ব্যবস্থাকে লঙ্ঘন করে আসছে, বিশেষ করে উগ্র জাতীয়তাবাদী ইসরায়েলিদের প্রবেশ ও প্রার্থনার অনুমতি দিয়ে ফিলিস্তিনিদের সম্মতি উলঙ্গ করে।

    এই এলাকার ওপর ইসরায়েলের দখল আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপকভাবে অনৈতিক বা অবৈধ বিবেচিত হয়; অংশবিশেষে বলা হয়—দখলকারী শক্তির ওই ভূখণ্ডের ওপর সার্বভৌমত্ব নেই এবং সেখানে স্থায়ী পরিবর্তন চাপিয়ে দেওয়া যায় না।

    মসজিদ পুনরায় খোলার পরই উগ্র জাতীয়তাবাদী ইসরায়েলিরা প্রায় প্রতিদিন অনুপ্রবেশ শুরু করেছে এবং তাদের সেখানে থাকা সময়ও বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে ফজরের নামাজের পর মুসল্লিদের বের করে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বহু ইসরায়েলি সেখানে ঢোকে; তাদের মধ্যে অনেককে পুলিশি নিরাপত্তায় প্রার্থনা ও নাচ করতে দেখা গেছে।

    যুদ্ধের আগে এই ধরনের ইহুদি অনুপ্রবেশ সাধারণত কর্মদিবসে দুই শিফটে সীমাবদ্ধ ছিল—সকাল ৭টা থেকে ১১টা এবং দুপুর ১টা ৩০ থেকে ২টা ৩০ পর্যন্ত। এই পদ্ধতি প্রথম চালু হয় ২০০৩ সালে দ্বিতীয় ফিলিস্তিনি ইন্তিফাদের সময় এবং ২০০৮ সালে এটি আরও কাঠামোবদ্ধ করে নেওয়া হয়; তখন সকালে সীমিতসংখ্যক দলে সর্বোচ্চ তিন ঘণ্টার অনুমতি দেওয়া হতো। পরবর্তীতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় সময় ও শিফট দুটোই ধীরে ধীরে বাড়ানো হয়েছিল।

    ইরান যুদ্ধের আগে যে নতুন সময়সূচি অনুমোদিত হয়েছিল, তাতে এখন অনুপ্রবেশ চলে সকাল ৬টা ৩০ থেকে ১১টা ৩০ এবং দুপুর ১টা ৩০ থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত—মোট সাড়ে ছয় ঘণ্টার মতো সময়। জেরুজালেম গভর্নরেট এই সময় বাড়াকে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ বলে আখ্যায়িত করেছে এবং জানিয়েছে, এ ধরনের পরিবর্তন স্ট্যাটাস কোকে দুর্বল করার এবং সময়ভিত্তিক বিভাজন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা নির্দেশ করে—বিশেষ করে ৪০ দিন পর মসজিদ খোলার এই প্রেক্ষাপটে।

    সূত্র: মিডল ইস্ট আই

  • খুলনায় ছেলের লাঠি আঘাতে মা নিহত

    খুলনায় ছেলের লাঠি আঘাতে মা নিহত

    খুলনার রূপসা উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের খান মোহাম্মাদপুর গ্রামে পারিবারিক ঝগড়ার জেরে এক অভিনেত্রিক (sic) ঘটনা ঘটেছে; ছেলের লাঠি আঘাতে মা নিহত হয়েছেন।

    ঘটনা শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে সাড়ে আটটার দিকে সংঘটিত হয়। নিহত মিম্মি বেগম (৪৪) স্থানীয় বাসিন্দা ও হামিদুল ইসলামের স্ত্রী। স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, পারিবারিক বিবাদ বাড়তেই মামলায় নামাজকরা—নাদিম ইসলাম তার মাকে আক্রমণ করে। তিনি পাশের গাছের ডাল দিয়ে মিম্মি বেগমের মাথায় আঘাত করলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারাত্মকভাবে আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে মারা যান।

    স্থানীয়রা আহত অবস্থায় মিম্মিকে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দিলে আইচগাতি ক্যাম্পের পুলিশ পৌনে ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত ছেলেকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে। তবে অভিযুক্তকে ক্যাম্পে নেওয়ার সময় স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা বাধা দেয় এবং একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। দলের সুরক্ষার্থে পুলিশকে কাছেই থাকা একটি বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয়।

    ঘটনার খবর পেয়ে খুলনা জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। সার্কেল এসপি এ সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং ডিবি পুলিশের সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

    রূপসা উপজেলার আইচগাতি ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. উজ্জ্বল হোসেন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। পুলিশ বলছে, ঘটনার পরবর্তী তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা দ্রুত নিশ্চিত করা হবে।

    প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে; নিহত মিম্মির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নিকটস্থ হাসপাতাল পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে এই হঠাৎ ঘটনার কারণে শোক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।

  • জার্মান পরিবেশ কমিটির প্রতিনিধিদল খুলনায়—জলবায়ু ঝুঁকি ও সমাধান নিয়ে মতবিনিময়

    জার্মান পরিবেশ কমিটির প্রতিনিধিদল খুলনায়—জলবায়ু ঝুঁকি ও সমাধান নিয়ে মতবিনিময়

    ফেডারেল রিপাবলিক অব জার্মানির পার্লামেন্টের পরিবেশ বিষয়ক কমিটির একটি প্রতিনিধি দল গতকাল বৃহস্পতিবার খুলনা সফর করেছে। সফরের অংশ হিসেবে দুপুরে প্রতিনিধি দল নগরীর এক অভিজাত হোটেলে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হয়।

    বৈঠকে কেসিসি প্রশাসক অতিথিদের খুলনার জনগণের পক্ষ থেকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, খুলনা দেশের অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল। সমুদ্রপৃষ্ঠের বৃদ্ধি, লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখানে বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। এসব মোকাবিলায় অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই সমাধান দরকার বলে তিনি জোর দিয়েছেন।

    প্রশাসক মঞ্জু জার্মান সহায়তার প্রশংসা করে বলেন, ২০১০ সাল থেকে খুলনা সিটি কর্পোরেশন জার্মান সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সাথে কাজ করে এসেছে এবং শহরে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। তিনি ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতা অব্যাহত রাখার জন্য আগত প্রতিনিধিদের কাছে অনুরোধ জানান।

    ফেডারেল জার্মান সংসদের পরিবেশ কমিটির প্রতিনিধি দলটি ৭ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশে সফর করে আসছে। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল শহরাঞ্চলে থাকা জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জগুলো সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে একটি পূর্ণাঙ্গ ধারণা লাভ করা। বিকেলে তারা জার্মান সরকারের আর্থিক সহায়তায় খুলনায় ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত বিভিন্ন জলবায়ু সহনশীল প্রকল্পের স্থানীয় ক্ষেত্র পরিদর্শন করেন।

    সভায় কেসিসির পক্ষ থেকে জার্মান সরকারের কাছে আগামী কার্যক্রমে সমর্থন চাইতে বলা হয়—বিশেষ করে জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো, প্রকৃতি নির্ভর সমাধান, উন্নত ড্রেনেজ ও পানি ব্যবস্থাপনা, টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর পরিকল্পনার মতো বিষয়গুলোতে।

    বৈঠকে অংশগ্রহণকারী জার্মান প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন পার্লামেন্ট সদস্য ও পরিবেশ বিষয়ক কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান মাইকেল থিউস। দলের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন পার্লামেন্ট সদস্য সাচছা ভান বিক, ম্যানুয়েল ক্রাউথাউসেন, ড. ফ্রানজিসকা কার্সটেন, জুলিয়া ছানেইদার, ভাইওলেটা বুক এবং পলিসি অফিসার ইলেফদেরিওস আসলানিডিস। বাংলাদেশে যোগদানের সময় কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, চীফ প্ল্যানিং অফিসার আবির উল জব্বার, এডভাইজার শেখ মাহমুদুল আহসানসহ অন্যান্য স্থানীয় কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। সভা পরিচালনা করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবান অ্যান্ড রুরাল প্ল্যানিং ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মোঃ জাকির হোসেন।

    প্রতিনিধিদল এবং কেসিসির এই সংলাপটি খুলনার জলবায়ু প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার দিকনির্দেশনা নির্ধারণে সহায়ক হবে—এমনটাই প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

  • বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজের সময় বদলে, সব ম্যাচ হবে দিনের আলোতে

    বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজের সময় বদলে, সব ম্যাচ হবে দিনের আলোতে

    নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজটি চলতি মাসের ১৭ তারিখ থেকে শুরু হচ্ছে। প্রথম ঘোষণায় সিরিজের সবকটি ম্যাচ দিবারাত্রির—that is, রাতের আলোতে—খেলা হবে, কিন্তু বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সময়সূচি বদলিয়েছে।

    বৃহস্পতিবার বিসিবি জানিয়েছে, ওয়ানডে সিরিজের সব ম্যাচ শুরু হবে বেলা ১১টায়। ওয়ানডের পর যে টি-টোয়েন্টি সিরিজটি হবে, সেটিও দিন খেলায় করা হবে এবং এসব ম্যাচ দুপুর ২টায় শুরু হবে। এর ফলে ফ্লাডলাইট ব্যবহার ন্যূনতম রাখা হবে এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্য ত্বরান্বিত হবে।

    বৃহস্পতিবারের সিদ্ধান্তের আগেই বুধবার বিসিবির এডহক কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল বলেন, ‘বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে নিউজিল্যান্ড সিরিজের সময় পরিবর্তন—ওয়ানডে ম্যাচে ১১টা অথবা সাড়ে ১১টা, টি-টোয়েন্টি বেলা ২টা অথবা আড়াইটায় হতে পারে।’

    বিসিবির এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য খেলার অভাব ছাড়াই বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিশ্চিত করা, পাশাপাশি দর্শক ও সম্প্রচারকে সামঞ্জস্যপূর্ণ সময় দেওয়া। নতুন সময়সূচি মেনে মাঠে গড়ালে ম্যাচগুলো দিনের আলোয় অনুষ্ঠিত হবে এবং খেলা নির্বিঘ্নে আয়োজন করার লক্ষ্যে কার্যক্রম শুরু হবে।

  • ৪ ওভারে ৭ রানে নাহিদ রানার ৩ উইকেট, শরিফুল পেলেন ১

    ৪ ওভারে ৭ রানে নাহিদ রানার ৩ উইকেট, শরিফুল পেলেন ১

    পিএসএল ম্যাচে পেশাওয়ার জালমি একদমা বিধ্বংসী ক্রিকেট খেলেছে—বিধ্বস্ত করেছে করাচি কিংসকে। জালমি ২৪৬ রানে ইনিংস গড়ে ভারতের মতো আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দেখানোর পর কিংসকে মাত্র ৮৭ রানে গুটিয়ে দিয়ে ১৫৯ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পায়।

    জয়ের মূল কারণ ছিল বোলিংয়ে ধারাবাহিক ওয়ান-টুচারের কাজ। তরুণ পেসার নাহিদ রানার শীতল ও কনসেন্ট্রেটেড বোলিং দেখবার মতো ছিল। ৪ ওভার বল করে তিনি মাত্র ৭ রান দিয়ে ৩টি উইকেট নেন এবং ২৪ বলে ২০টি ডট বল গড়া তার প্রভাব স্পষ্ট ছিল—ব্যাটসম্যানরা ধরাছোঁয়ার সুযোগই পেল না।

    অফ স্পিনে ইফতিখার আহমেদও দুর্ধর্ষ ছিলেন—৩ উইকেট নিয়েছেন মাত্র ৯ রানে। এছাড়া বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলামও পাওয়ার প্লেতে আঁটসাঁট বল করে ৩ ওভারে ২৩ রান দিয়ে ডেভিড ওয়ার্নারের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে দলের ভালো শুরু এনে দেন।

    বাতিল করে দেওয়ার মতো এক ব্যাটিং কীর্তি ছিল কুসাল মেন্ডিসের। ৫২ বলে ১৪ চার ও ৪ ছয় দিয়ে তিনি ১০৯ রান করে ম্যাচসেরা হলেন। অন্যদিকে অধিনায়ক বাবর আজম ইনিংস জুড়ে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে ৫১ বলে অপরাজিত ৮৭ রানে থাকেন, যা দলকে একটি শক্ত ভিত্তি দিয়েছে।

    কিংসের ইনিংস শুরুতেই সমস্যা। প্রথম ওভারে ইফতিখার মুহাম্মাদ ওয়াসিমকে ফেরান। পরের ওভারে শরিফুলের প্রথম বলেই ডেভিড ওয়ার্নার আউট হওয়া ম্যাচের অন্যতম মোড়—ওয়ার্নারকে তার ব্যাক অফ লেংথ ডেলিভারিতে থামাতে পারলেন না বাঁহাতি ব্যাটসম্যান, বেটের ওপর থেকে বাউন্ডারি উদ্দেশ্যে গিয়ে অফ সাইডে লেগে যায়। ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে দৌড়ে এসে ফারহান ইউসুফ দুর্দান্ত ডাইভ করে অবিশ্বাস্য ক্যাচ নেন। এ ম্যাচের আগে ওয়ার্নার সিডনিতে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন—আরও একদমই দুর্ভাগ্যজনক অধ্যায় ছিল তার জন্য, কারণ এদিন তিনি প্রথম বলেই ফেরেন।

    কিংসের চেজ শুরু থেকে ধারাবাহিক উইকেট হারায়। নাহিদের প্রথম ওভারে (ইনিংসের পঞ্চম ওভার হিসেবে) আজম খান একমাত্র রান নেন; দ্বিতীয় ওভারেই নাহিদ সাদ বেগকে শর্ট বল টপ করার চেষ্টা করতে গিয়ে ওপরে তুলে দেন এবং নিজেই ক্যাচ ধরেন—এটাই নাহিদের দ্বিতীয় ওভার থেকে তার প্রথম উইকেট। পরে ১৪তম ওভারে তিনি খুশদিল শাহকে কিপারের গ্লাভসে ধরা পড়তে দেন এবং একই ওভারে অ্যাডাম জাম্পাকেও সরাসরি বোল্ড করে দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন। নিজের কোটার শেষ ওভারে নাহিদ কেবল এক রান খরচ করে বোলিং শেষ করেন।

    মোটের ওপর ইফতিখার ও নাহিদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং এবং শরিফুলের পাওয়ার প্লে আক্রমণই কিংসকে ভেঙে দিয়েছেন। নাহিদের আগের ম্যাচে (হায়দরাবাদ কিংসমেনের বিপক্ষে) ৩ ওভারে ৩০ রান দিয়ে উইকেটহীন ছিলেন—তবে আজ তিনি চমক দেখালেন। আর আসরে শরিফুলও আগের দুই ম্যাচে উইকেটশূন্য ছিলেন; আজ তাঁর বোলিং ফের দলের জন্য ফলপ্রসূ প্রমাণিত হল।

    মোটকথা, পেশাওয়ার জালমির ব্যাটিং–বোলিং মিলেই এ দারুণ জয়। কিংসের জন্য ম্যাচটি ছিল হতাশাজনক, আবার জালমির হয়ে কুসাল মেন্ডিস ও নাহিদ রানার প্রদর্শন বিশেষভাবে দৃষ্টিগ্রাহ্য ছিল।