Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • ঈদুল আজহা: ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রির সময়সূচি ঘোষণা

    ঈদুল আজহা: ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রির সময়সূচি ঘোষণা

    বাংলাদেশ রেলওয়ে ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভিড় সামলাতে ও যাত্রীদের যাত্রা সহজ করতে আগাম টিকিট বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অনলাইনে ঈদের যাত্রার আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হবে আগামী ১৩ মে থেকে। ফেরত যাত্রার আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হবে ২১ মে থেকে।

    যাত্রার টিকিট বিক্রির সূচি (অনলাইন):

    ১৩ মে — ২৩ মে-র টিকিট

    ১৪ মে — ২৪ মে-র টিকিট

    ১৫ মে — ২৫ মে-র টিকিট

    ১৬ মে — ২৬ মে-র টিকিট

    ১৭ মে — ২৭ মে-র টিকিট

    ফেরত যাত্রার টিকিট বিক্রির সূচি:

    ২১ মে — ৩১ মে-র টিকিট

    ২২ মে — ১ জুন-র টিকিট

    ২৩ মে — ২ জুন-র টিকিট

    ২৪ মে — ৩ জুন-র টিকিট

    ২৫ মে — ৪ জুন-র টিকিট

    নিয়ম ও শর্ত: একজন যাত্রী উল্লিখিত ঈদ অগ্রিম যাত্রা এবং ফেরত যাত্রার প্রতিটির ক্ষেত্রে একবার করে টিকিট ক্রয় করতে পারবেন এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ চারটি টিকিট কেনার অনুমতি থাকবে। আগাম (ঈদ) ও ফেরত যাত্রার টিকিট রিফান্ডযোগ্য নয়।

    যাত্রার দিনে, যাত্রীদের চাহিদা অনুযায়ী উচ্চ শ্রেণি ছাড়া মোট আসনের ২৫ শতাংশ পর্যন্ত স্ট্যান্ডিং টিকিট স্টেশন কাউন্টার থেকে বিক্রয় করা হবে। এছাড়া ফেরত যাত্রার টিকিট উল্লিখিত সূচি অনুযায়ী প্রতিদিন সকাল ৮টায় থেকে ইস্যু করা হবে।

    ভ্রমণকারীদের বলা হচ্ছে নির্ধারিত সময় ও শর্ত খেয়াল রেখে টিকিট সংগ্রহ করবেন এবং ভিড় এড়াতে অনলাইনে টিকিট নেওয়ার সুবিধা ব্যবহার করবেন। 자세ি তথ্য ও আপডেটের জন্য রেলওয়ের অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

  • সেনাপ্রধান: দেশের ইতিহাসে এতো চমৎকার নির্বাচন আগে হয়নি

    সেনাপ্রধান: দেশের ইতিহাসে এতো চমৎকার নির্বাচন আগে হয়নি

    সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, দেশের ইতিহাসে এত চমৎকার নির্বাচন আগে কখনো হয়নি। সামরিক ও অসামরিক বাহিনী একসঙ্গে কাজ করলে যেকোনো কঠিন কাজও সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব এবং এই নির্বাচন তার প্রমাণ—এমন বক্তব্য তিনি রাখেন।

    মঙ্গলবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে ভার গ্রহণের আগে ও বক্তব্যকালে সেনাপ্রধান এসব কথা বলেন। সম্মেলনের আগে বক্তব্য দেন নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধান এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টাও।

    সেনাপ্রধান ডিসিদের উদ্দেশে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘‘আপনারা জাতিকে একটি চমৎকার নির্বাচন উপহার দিয়েছেন। আমরা পাশে ছিলাম, কিন্তু নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব পুরোপুরি আপনারাই পালন করেছেন।’’

    তিনি স্মরণ করান যে, এক সময়ে দেশে আশা-নিরাশার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং অনেকেই বলেছিলেন নির্বাচন হবে না। তবে সেই দৃষ্টিভঙ্গিকে ভুল প্রমাণ করে ‘‘দেশ ও জাতিকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে’’ আনা হয়েছে। সেনাপ্রধান বলেন, ‘‘এটি ছোট কোনো অর্জন নয়।’’

    ডিসিদের প্রতি বার্তায় তিনি আরও বলেন, যেকোনো প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর সহায়তা চাইলে তা দ্রুত পাওয়া যাবে। সংশ্লিষ্ট সেনা ফরমেশনকে জানালে তারা তাৎক্ষণিকভাবে সহযোগিতা করবে। দুর্যোগ, দুর্ঘটনা বা অন্য যেকোনো পরিস্থিতিতে প্রশাসনের সহযোগী হিসেবে সেনাবাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।

    সেনাপ্রধানের এই মন্তব্যে সরকারি ও সামরিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে কঠিন দায়িত্ব সুচারুভাবে সম্পাদনের ওপর জোরই প্রতিফলিত হয়।

  • সোনার দাম কমল — প্রতি ভরি এখন কত?

    সোনার দাম কমল — প্রতি ভরি এখন কত?

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) দেশের বাজারে সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে প্রকাশ হওয়া বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রতি ভরি সর্বোচ্চ ২,২৫৮ টাকা পর্যন্ত সোনার দাম কমানো হয়েছে। নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

    বাজুস জানিয়েছে তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দাম কমার প্রভাবেই স্থানীয় বাজারে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। এ অনুযায়ী সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২,৪০,৩৩৭ টাকা। তুলনায় সোমবার (৪ মে) এক ভরি ২২ ক্যারেট সোনার দাম ছিল ২,৪২,৪৯৫ টাকা।

    অন্যান্য কারাটের দরও নতুনভাবে নির্ধারিত হয়েছে। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম রাখা হয়েছে ২,২৯,৪৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি দাম এক লাখ ৯৬,৬৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম হয়েছে এক লাখ ৬০,১৪৭ টাকা।

    রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেট রুপার এক ভরি দাম ৫,৪৮২ টাকা, ২১ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি দাম ৫,১৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪,৪৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার প্রতি ভরি দাম ৩,৩৮৩ টাকা রাখা হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটেও গত কয়েক মাসে স্বর্ণের মূল্য ওঠানামা করেছে। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে বলা হয়, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম কমে ৪,৫০০ ডলারে নেমে এসেছে। এর আগে এই দামের মধ্যে গত ৩০ ও ২৯ জানুয়ারি শীর্ষ পর্যায়ে ৫,২০০ ও ৫,৫৫০ ডলার দেখা গিয়েছিল।

    বাজুসের এই সিদ্ধান্ত সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের জন্য মূল্যমান নির্ধারণে রেফারেন্স হিসেবে কার্যকর থাকবে। যারা সোনা কেনা-বিক্রি করেন, তারা বাজুস ঘোষণার ওপর ভিত্তি করে স্থানীয় বাজারে লেনদেন চালিয়ে যাবেন।

  • এপ্রিলের রেমিট্যান্স ৩১২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার

    এপ্রিলের রেমিট্যান্স ৩১২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার

    সদ্য বিদায়ী এপ্রিল মাসে দেশে এসেছে ৩১২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান রোববার এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, এপ্রিল মাসে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে প্রায় ১০ কোটি ৪২ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

    গত বছরের একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স ছিল ২৭৫ কোটি ২০ লাখ ডলার; অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে প্রবাহ বাড়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে এসেছে মোট ২ হাজার ৯৩৩ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বছরান্তরে ১৯.৫০ শতাংশ বৃদ্ধিকে নির্দেশ করে।

    দেশে রেমিট্যান্সের গত কয়েক মাসের ধারা দেখে মনে হয় প্রবাহ মোটামুটি ধারাবাহিক রয়েছে। মার্চে ছুটি শেষে দেশে এসেছে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার ডলার—এটি এক মাসে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড করা রেমিট্যান্স।

    ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারি মাসে যথাক্রমে এসেছে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ও ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার। ডিসেম্বরে এ সংখ্যা ছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার, আর নভেম্বরে এসেছিল ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার।

    অক্টোবর ও সেপ্টেম্বর মাসে যথাক্রমে আসে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ও ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার। আগস্ট ও জুলাইয়ে যথাক্রমে রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ও ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

    এদিকে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীরা মোট ৩০.৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা কোনও নির্দিষ্ট অর্থবছরে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড হিসেবে ধরা হয়েছে।

  • পদত্যাগ করব না মমতা, বললেন—‘ভোট লুট করা হয়েছে’

    পদত্যাগ করব না মমতা, বললেন—‘ভোট লুট করা হয়েছে’

    পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলের পর বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট লুটের অভিযোগ এনে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করবেন না বলে ঘোষণা করেছেন তৃণমূল supremo মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার (৫ মে) কালীঘাটে অনুষ্ঠিত নির্বাচন পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কথা বলেন।

    প্রশ্ন—“কখন পদত্যাগ করবেন?”—এর জবাবে মমতা বলেন, “কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি। জোর করে ভোট লুট করা হয়েছে। ইস্তফার প্রশ্ন আসে কোথা থেকে?” তিনি আরও বলেন, “এমনি জিতলে কোনও অভিযোগ থাকত না। হার-জিত তো থাকেই। কিন্তু তা হয়নি। আমরা হারিনি। ওরা লুট করেছে।”

    মমতা অভিযোগ করেন যে ভোট গণনাকেন্দ্রে তাঁর প্রচারক ও এজেন্টদের বাধা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে আমার এজেন্টদের ঢুকতে দেয়নি। সিসিটিভি বন্ধ রেখে ভেতরে ওরা আমার পেটে লাথি মেরেছে, পেছনে লাথি মেরেছে।” তার কথায়, একজন নারী হিসেবে তিনি অপমানিত বোধ করছেন এবং তাঁর সাথে যে আচরণ হয়েছে, তাতে অন্যরা কীভাবে অত্যাচারিত হচ্ছে তা বোঝা যায়।

    তৃণমূলের পক্ষ থেকে তিনি নিশ্চিত করেন যে দল কর্মীদের পাশে আছে এবং লড়াই চালিয়ে যাবে। “ঘুরে দাঁড়াবো,” যোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সকল নেতা ফোন করে সমবেদনা ও পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন, যার মধ্যে রবিবারের দিন নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন—সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, উদ্ধব ঠাকরে, অখিলেশ যাদব, হেমন্ত সোরেনরা ফোন করেছিলেন। মমতা বলেন, অখিলেশ আজ আসতে চেয়েছিল; তিনি কাল আসতে বলেছেন এবং ধীরে ধীরে জোটকে আরও শক্তিশালী করা হবে।

    সংবাদ সম্মেলনে মমতার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, ডেরেক ও’ব্রায়েন ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

    সূত্র: আনন্দবাজার

  • কেরালায় ইতিহাস: ফাতিমা থাহিলিয়া আইইউএমএলের প্রথম নারী বিধায়ক

    কেরালায় ইতিহাস: ফাতিমা থাহিলিয়া আইইউএমএলের প্রথম নারী বিধায়ক

    কেরালার নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় রচিত হলো। কোজিকোড় জেলার পেরাম্বরা আসনে আইইউএমএল মনোনীত ফাতিমা থাহিলিয়া বিজয়ী হয়ে দলের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হলেন। ক্ষমতাসীন বাম জোটের বরিষ্ঠ নেতা টিপি রামকৃষ্ণনকে পরাজিত করে তার এই জয় অনেককে অবাক করেছে।

    স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, পেরাম্বরা আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই সিপিআইয়ের ঘাঁটি হিসেবে পরিগণিত—১৯৮০ সাল থেকে এখানে ওই দলটির প্রভাব ছিল শক্ত। তবু ফাতিমার দুর্দান্ত লড়াই ও সমর্থকের জোরদার প্রচারণা এই ধারাকে বদলে দিল।

    ফাতিমা থাহিলিয়া একজন আইনজীবী ও কোজিকোড় পৌরসভার কাউন্সিলর। তার এই জয়কে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা কেরালার রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের নিদর্শন হিসেবে দেখছেন। দীর্ঘদিন ধরে বামদের দখলে থাকা আসনে এই ফলাফল নতুন সমীকরণ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক চিত্রকে বদলে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    নির্বাচনের সময় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ) অভিযোগ করেছিল যে, এলডিএফ তাদের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক প্রচারণা চালিয়েছে এবং বিষয়টি তারা নির্বাচন কমিশনের কাছে তুলে ছিল।

    আইইউএমএল এইবার মোট ২৭ জন প্রার্থী দিয়েছিল, তার মধ্যে মাত্র দুজনই নারী ছিলেন; ফাতিমা তাদের একজন। দলের ইতিহাসে আগে দু’জন নারী প্রার্থী মনোনয়ন পেয়লেও কেউ জয়ী হননি—এবার ফাতিমার জয় তাই দলীয় ইতিহাসেও তাৎপর্যপূর্ণ।

    ফাতিমার রাজনৈতিক জীবনের গোড়াপত্তন ছাত্ররাজনীতির মধ্যেই। তিনি মুসলিম স্টুডেন্টস ফেডারেশনের (এমএসএফ)-এর নারী শাখা ‘হারিতা’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। ২০১২ সালে গঠিত এই সংগঠনটি আইইউএমএল সমর্থক নারী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে এবং কলেজ ক্যাম্পাসে দলটির প্রভাব বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

    পরবর্তীতে এমএসএফ-এর কিছু শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে এবং সেই ঘটনাকে ঘিরে দলের ভেতরে উত্তাপ দেখা দেয়। অভিযোগ চাপা দেওয়ার চেষ্টার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোয় ফাতিমা দলীয় দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হন এবং হারিতা সংগঠনও ভেঙে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়—এই বিষয়গুলো কেরালার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে দীর্ঘ দিন আলোচনার বিষয় ছিল।

    বর্তমানে ফাতিমা আইইউএমএলের যুব সংগঠন মুসলিম ইয়ুথ লিগের সম্পাদক হিসেবে কাজ করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, তিনি কেরালার রাজনীতিতে এক নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব করছেন—যাঁরা দলগত পরিচয়ের ভেতর থেকেও নারী অধিকার, অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র এবং সংস্কারের প্রশ্নগুলো সামনে আনতে নারাজ হন না। তার জয় কেবল একটি আসনই বদলায়নি; কেরালার রাজনৈতিক ভেতরকেও নতুন ভাবনা, নতুন নেতৃত্ব ও নারী অংশগ্রহণের সম্ভাবনা দেখিয়েছে।

  • খুলনায় গুলিবিদ্ধ যুবককে ঢাকায় নেয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সে গুলি

    খুলনায় গুলিবিদ্ধ যুবককে ঢাকায় নেয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সে গুলি

    খুলনায় গুলিবিদ্ধ আড়াই চল্লিশ বছরের যুবক রাজু হাওলদারকে (৩৮) ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তরা অ্যাম্বুলেন্সও লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পেটের কাছে এক গলার ক্ষত হয়ে গুরুতর অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

    পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত মতে, সোমবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যার পর লবণচরা থানার কোবা মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় দুর্বৃত্তরা রাজুকে লক্ষ করে গুলি করে। গুলির সঠিক সময় এবং হামলার স্থান সম্পর্কে কেউ নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেননি। এক গুলি তার পেটে লাগে।

    আহত রাজুর সঙ্গে থাকা এক নারী জানান, তিনি আহত যুবকের পরিচিত — তার ছেলে ওই যুবকের বন্ধু। আহত অবস্থায় রাজু zunächst তাদের বাড়িতে আশ্রয় নেয়, পরে চিকিৎসার প্রয়োজন দেখা দিলে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

    রাজু হাওলদার লবণচরা থানার শিপইয়ার্ড এলাকার, ইউনুস হাওলদারের ছেলে বলে স্থানীয়রা জানান। গুরুতর আহত হওয়ায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন।

    ঢাকায় নেয়ার পথে রাত সাড়ে বারটার দিকে রূপসা উপজেলার কুদির বটতলা এলাকায় পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা অ্যাম্বুলেন্সকে লক্ষ্য করে পুনরায় গুলি চালায়। অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. ফারুক দ্রুত গাড়িটি কাটাখালী হাইওয়ে থানায় নিয়ে গিয়ে আশ্রয় নেন। পরে হাইওয়ে পুলিশের সহযোগিতায় রক্ষা পেয়ে আবারও ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়া হয়।

    অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. ফারুক বলেন, খুলনা মেডিকেল কলেজ থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার পর কুদির বটতলা এলাকায় পৌঁছালে সন্ত্রাসীরা গুলি চালায়। গুলি গাড়িতে লেগে যাওয়ার আশঙ্কায় তিনি ঝটপটে থানায় আশ্রয় নেন।

    কাটাখালী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাফর আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গুলিবিদ্ধ এক রোগীকে ঢাকায় নেওয়ার পথে দুর্বৃত্তরা অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করে গুলি চালায়; পরে পুলিশি সহায়তায় অ্যাম্বুলেন্সটিকে নিরাপদে সীমানা পার করে দেয়া হয়।

    খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার শিহাব করীম বলেন, লবণচরা এলাকায় একজন যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, তবে ঠিক কোথায় এবং কখন তার ওপর হামলা হয়েছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশের কাছে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা আছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

    বর্তমানে রাজুর শারীরিক অবস্থা ও ঢাকায় পৌঁছে তার চিকিৎসার সবশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে হাসপাতাল থেকে তৎকালীন কোনো বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায়নি। ঘটনার বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে।

  • খুলনায় প্রতিবন্ধী যুবকের হত্যায় প্রধান আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    খুলনায় প্রতিবন্ধী যুবকের হত্যায় প্রধান আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    খুলনার তেরখাদা উপজেলার প্রতিবন্ধী যুবক ইতুদুল ইসলাম (ওরফে ইতু) হত্যা মামলায় প্রধান আসামি মো. জামিল আহম্মেদকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে আদালত। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

    আজ মঙ্গলবার (৫ মে) খুলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক জিএম নাজমুস শাহাদাৎ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জামিল আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

    আদালত সূত্রে জানা যায়, তেরখাদা উপজেলার গাজীপুর গ্রামের শাহজাহান শেখের ছেলে জামিলের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধী যুবক ইতুদুল ইসলামকে হত্যা করার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ দণ্ড দেওয়া হয়েছে। মামলার সাক্ষ্য ও প্রমাণাদি পর্যালোচন করে বিচারক এই সিদ্ধান্ত নেন।

    অপর তিন আসামি—জাকির হোসেন, আফরিন বেগম ও মো. আজিজুল শেখ—অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাদের খালাস দিয়েছেন। রায়ের পর মামলার বাদী পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করলেও স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘদিনের বিচারপ্রক্রিয়ার এই রায়ে মামলার একটি শেষপর্যায়ের নিষ্পত্তি হয়েছে।

  • আইসিসি টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে শ্রীলঙ্কাকে ছাড়িয়ে বাংলাদেশ অষ্টম

    আইসিসি টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে শ্রীলঙ্কাকে ছাড়িয়ে বাংলাদেশ অষ্টম

    আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে এক ধাপ এগিয়ে অষ্টম স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। বার্ষিক হালনাগাদের ফলে টাইগাররা এই উন্নতি দেখিয়েছে।

    র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী, চলতি বছর সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ভারত; তাদের পয়েন্ট ২৭৫। দ্বিতীয় স্থানে আছে ইংল্যান্ড (২৬২ পয়েন্ট) এবং তৃতীয় স্থানে অস্ট্রেলিয়া (২৫৮ পয়েন্ট)।

    আইসিসির বার্ষিক হালনাগাদে উল্লেখ করা হয়েছে যে ২০২৫ সালের মে মাসের পর থেকে খেলা ম্যাচগুলোকে ১০০ শতাংশ গুরুত্ব এবং তার আগের দুই বছরের ম্যাচগুলোকে ৫০ শতাংশ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা সাম্প্রতিক ফলাফলগুলোর প্রভাব বাড়ায়।

    শীর্ষ সাত দলের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি। চতুর্থ স্থানে নিউজিল্যান্ড (২৪৭ পয়েন্ট), পঞ্চমে দক্ষিণ আফ্রিকা (২৪৪ পয়েন্ট), ষষ্ঠে পাকিস্তান (২৪০ পয়েন্ট) এবং সপ্তমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ (২৩৩ পয়েন্ট) রয়েছে।

    অপরদিকে, শ্রীলঙ্কা ৬ পয়েন্ট হারিয়ে নবম স্থানে নেমেছে। তাদের পেছনে থেকে বাংলাদেশ ২২৫ পয়েন্ট নিয়ে অষ্টম স্থানে উঠেছে — সাম্প্রতিক হালনাগাদে বাংলাদেশের পয়েন্ট বেড়েছে ১।

    দশম স্থানে আছে আফগানিস্তান (২২০ পয়েন্ট)। একাদশ ও দ্বাদশ স্থানে যথাক্রমে জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ড অপরিবর্তিত রয়েছে।

    এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র ৬ পয়েন্ট বাড়িয়ে দুই ধাপ এগে ১৩তম স্থানে উঠে এসেছে; নেদারল্যান্ডস ও স্কটল্যান্ড এখন যথাক্রমে ১৪ ও ১৫ নম্বরে।

    আইসিসির হালনাগাদে সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোর গুরুত্ব বাড়ায় র‍্যাঙ্কিংয়ে ওঠানামা দেখা যাচ্ছে, ফলে আগামী সময়ে দলগুলো আরও সামনে-পেছনে হতে পারে।

  • ঢাকার অনূর্ধ্ব-১৪ একাডেমী কাপ: এসবিআলী খুলনা সেমিফাইনালে

    ঢাকার অনূর্ধ্ব-১৪ একাডেমী কাপ: এসবিআলী খুলনা সেমিফাইনালে

    বাংলাদেশ ফুটবল সাপোর্টার্স ফোরামের আয়োজনে, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহযোগিতায় এবং বসুন্ধরা কিংসের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত বসুন্ধরা কিংস বিএফএসএফ অনূর্ধ্ব-১৪ একাডেমী কাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে এসবিআলী ফুটবল একাডেমী, খুলনা।

    সোমবার (৪ মে) ঢাকার কমলাপুরে বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে দিনের প্রথম ম্যাচে এসবিআলী খুলনা ও হরিয়ান ফুটবল একাডেমী, রাজশাহী মুখোমুখি হয়। খেলায় এসবিআলী ভাঙতে পারে রাজশাহীর প্রতিরোধ এবং ৩-১ গোলে জয় তুলে নেয়। দলের পক্ষে ইমরান, শিশির ও অন্তর এক করে গোল করেন। ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় (ম্যান অফ দ্য ম্যাচ) নির্বাচিত হন ইয়াসিন।

    এসবিআলী ফুটবল একাডেমীর জয় তাদের সেমিফাইনালে উঠিয়ে দেয়; পরবর্তী ম্যাচ সেমি ফাইনাল হবে ৬ মে বিকেল ৪টায়। দল খেলায় সামর্থ্য ও সংগ্রামী মনোভাব দেখিয়েছে, যা আগামী রাউন্ডে ভালো ফল পাঠাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    এসবিআলী ফুটবল একাডেমীর খেলোয়াড়রা: আকাশ, হামিম, হোসাইন, জামিল, রিফাত, ইয়াসিন, শিশির, অন্তর, সুজন, সাব্বির, অংকন, বাইজিদ, সৌরভ, অনিক, রোহিত, তাজ, ইমরান, আবির, নাফিস, রাফি ও আইয়ান। টিম ম্যানেজার: মোহাম্মদ ইউসুফ আলী। কোচিং স্টাফ: চীফ কোচ শহিদুল ইসলাম ও সহকারী কোচ নুরুল ইসলাম শিমুল।