Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দিলো আইসিসি, জায়গা পেলো স্কটল্যান্ড

    বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দিলো আইসিসি, জায়গা পেলো স্কটল্যান্ড

    ২১ জানুয়ারি আইসিসি তাদের পূর্ণ সদস্য দেশের বোর্ড পরিচালকদের নিয়ে ভার্চুয়াল সভা করে। মূল আলোচ্য ছিল—বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশ যদি ভারত না যায়, তাহলে কী করা হবে। সভায় মর্যাদাশীল সদস্যদের ভোটে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়: বাংলাদেশ খেলতে চাইলে ভারতেই যেতে হবে, নাহলে বিকল্প দলকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। বাংলাদেশকে তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু দেশের অবস্থান অনড় থাকায় সময়সীমা শেষ হওয়ার পরই আইসিসি বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে আমন্ত্রণ জানায়—এই খবর ক্রিকবাজও নিশ্চিত করেছে।

    স্কটল্যান্ডকে ‘সি’ গ্রুপে নেওয়া হয়েছে। তারা কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইতালি ও ইংল্যান্ডের সঙ্গে তিনটি ম্যাচ খেলবে এবং পরে মুম্বাইয়ে নেপালের বিপক্ষে তাদের শেষ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

    চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত সকালের মধ্যে নেওয়া হয়। আইসিসি সিইও সংযোগ গুপ্ত বোর্ডকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশী দাবিগুলো আইসিসির নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এবং এই পরিস্থিতিতে বিকল্প দলকে খেলায় নেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না। ওই চিঠির অনুলিপি বিসিবি সভাপতি ও আইসিসির বোর্ড সদস্য আমিনুল ইসলামকে পাঠানো হয়েছে।

    একই চিঠিতে আইসিসি ক্রিকেট স্কটল্যান্ডকেও আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানায় বলে উল্লেখ রয়েছে। ক্রিকবাজ স্কটল্যান্ডের সিইও ট্রুডি লিন্ডব্লেডের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে, সরাসরি সাড়া না পাওয়া গেলেও দুবাই ও এডিনবার্গের মধ্যে কিছু যোগাযোগ হয়েছে বলে জানা গেছে।

    গতকাল (শুক্রবার) দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত আইসিসি বৈঠকেই এই সিদ্ধান্তের ওপর চূড়ান্ত মূর্ততা আসে, যেখানে আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহ বিষয়টি নির্ধারণ করেন।

    শেষ পর্যন্ত, বাংলাদেশ অন্য ভেন্যু পরিবর্তনের আপ্রসত চেষ্টা হিসেবে আইসিসির বিবাদ নিষ্পত্তি কমিটিকে (ডিআরসি) আবেদন করেছিল; তবে ওই কমিটি তাদের আপিল খারিজ করলে আইসিসির সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।

  • ওশিওয়ারায় গুলি ছোড়ার অভিযোগে বলিউড অভিনেতা কামাল আর খান গ্রেফতার

    ওশিওয়ারায় গুলি ছোড়ার অভিযোগে বলিউড অভিনেতা কামাল আর খান গ্রেফতার

    মুম্বাইয়ের ওশিওয়ারা এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে গুলিবর্ষণের ঘটনায় বলিউড অভিনেতা ও চলচ্চিত্র সমালোচক কামাল আর খান, পরিচিত নাম কেআরকে,কে মুম্বাই পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) তাকে আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।

    পুলিশ সূত্রে পাওয়া খবর ও ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ওশিওয়ারার একটি আবাসনে একের পর এক চারটি গুলির শব্দ ধরা পড়ে। সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কেআরকে পুলিশকে জানান যে গুলিগুলো তার লাইসেন্সপ্রাপ্ত বন্দুক থেকেই ছোড়া হয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, কাউকে আঘাত করার কোনো উদ্দেশ্য তার ছিল না। তিনি পুলিশের কাছে জানিয়েছেন যে ভাষ, বন্দুক পরিষ্কার করার পর সেটি ঠিকভাবে কাজ করছে কি না তা যাচাই করার জন্য বাড়ির সামনে ম্যানগ্রোভের দিকে গুলি ছোড়েন। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, বাতাসের গতিবেগের কারণে গুলিগুলো লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পাশের একটি আবাসিক ভবনেই পড়ে।

    পুলিশ বলেছে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তদন্ত এখনও চলছে এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ও সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ চলছে। কেআরকের বিরুদ্ধে কোথায় কোন অভিযোগ দায়ের করা হবে তা তদন্তের পর নির্ধারিত হবে।

    কামাল আর খান বলিউডে বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। ২০২২ সালে তিনি এক যৌন হেনস্তার মামলায় গ্রেফতার হওয়ার ইতিহাস রয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে তারকাদের নিয়ে কটাক্ষ ও উসকানিমূলক মন্তব্যের কারণে তার বিরুদ্ধে একাধিক মানহানি ও আইনি মামলাও রয়েছে।

    ঘটনাস্থল ও তদন্ত সম্পর্কে পরবর্তী তথ্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বিবৃতির অপেক্ষা করা হচ্ছে।

  • ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা ও কণ্ঠরস মাপা নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ আর নেই। দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করার পর সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি ৮২ বছর বয়সে মৃত্যু বরণ করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

    মৃত্যুর বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান। ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়রে জন্মগ্রহণ করেন ইলিয়াস জাভেদ। পরে সপরিবারে পাঞ্জাবে বসবাস করার পর কর্মজীবন তাকে ঢাকার চলচ্চিত্র অঙ্গনে নিয়ে আসে।

    পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন জাভেদ এবং নানা ধরনের শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। গত বছরের এপ্রিলেও তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। শেষ সপ্তাহগুলোতে বাড়িতে রেখে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল; হাসপাতাল থেকে দুইজন নার্স এসে কিছুদিন ধরে পরামর্শ ও যত্ন দিচ্ছিলেন। জাভেদের স্ত্রী ডলি চৌধুরী বলেন, আজ সকালে তাঁর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হয়, দুই নার্স এসে জানান তাঁর শরীর ঠান্ডা। এরপর অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ক্যারিয়ারের শুরুটা হয় নৃত্য পরিচালক হিসেবে; পরে নায়ক হিসেবেও রূপালি পর্দায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ১৯৬৪ সালে উর্দু সিনেমা ‘নয়ী জিন্দেগি’ দিয়ে নায়ক হিসেবে অভিষেক হয় তাঁর। কিন্তু আসল সাফল্য আসে ১৯৬৬ সালে নির্মিত ‘পায়েল’ সিনেমার মাধ্যমে, যেখানে কিংবদন্তি অভিনেত্রী শাবানার সঙ্গে তার জুটি দর্শকপ্রিয়তা পায়। পরিচালক মুস্তাফিজই তাকে ‘জাভেদ’ নামে পরিচিত করেছেন।

    একের পর এক ব্যবসাসফল ছবি দিয়ে ৭০ ও ৮০-এর দশকের দর্শকদের মনে তিনি ‘ড্যান্সিং হিরো’ নামে দৃঢ় জায়গা করে নেন। ব্যক্তিজীবনে ১৯৮৪ সালে তিনি জনপ্রিয় নায়িকা ডলি চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। জাভেদের আসল নাম ছিল রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি একশর বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

    জাভেদ অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে: মালেকা বানু, নিশান, পাপী শত্রু, রক্ত শপথ, সাহেব বিবি গোলাম, কাজল রেখা, অনেক দিন আগে, আজও ভুলিনি, কঠোর, মা বাবা সন্তান, রাখাল রাজা, রসের বাইদানী, জীবন সঙ্গী ও আবদুল্লাহ।

    ইলিয়াস জাভেদের প্রয়াণ বাংলা চলচ্চিত্রের একটি স্বতন্ত্র অধ্যায়ের সমাপ্তি মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন অসুস্থ জীবন কাটানোর পর তিনি শান্তিপূর্ণভাবে না ফেরার দেশে চলে গেছেন; চলচ্চিত্র অঙ্গন ও ভক্ত সমাজে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

  • ট্রাম্পের শুল্কের চেয়েও বড় ঝুঁকি: চীনের রেকর্ড বাণিজ্য উদ্বৃত্ত

    ট্রাম্পের শুল্কের চেয়েও বড় ঝুঁকি: চীনের রেকর্ড বাণিজ্য উদ্বৃত্ত

    ২০২৬ সালের মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে চীনের সাম্প্রতিক বাণিজ্য পরিসংখ্যান বিশ্ব অর্থনীতির নজর কাড়ে। ২০২৫ সালে চলমান শুল্ক যুদ্ধের মধ্যেও চীনের রপ্তানি কমেনি—বরং বাড়েছে। ফলে বছর শেষে দেশটির বার্ষিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রেকর্ড ১.২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা বিশ্ব ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

    এই তথ্য প্রকাশের পরই অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে উদ্বেগ জাগে। কর্নেল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের সিনিয়র ফেলো ঈশ্বর প্রসাদ নিউ ইয়র্ক টাইমসে লেখা নিবন্ধে সতর্ক করেছেন যে, মুক্ত বাণিজ্য রক্ষা করতে চীনের এত বড় উদ্বৃত্ত ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কের চেয়েও বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাঁর যুক্তি—চীনের সস্তা পণ্য শুধুমাত্র উন্নত দেশগুলোর উৎপাদনকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, নিম্ন এবং মধ্যআয়ের দেশগুলোর শিল্পগুলোও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারছে না। এতে আন্তর্জাতিক নিয়ম-নীতিভিত্তিক বাণিজ্য ব্যবস্থার শৃঙ্খলাও ঝুঁকিতে পড়ে।

    অন্যদিকে গ্লোবাল টাইমসের সাবেক প্রধান সম্পাদক হু সিজিন উইবোতে লিখেছেন, এই উদ্বৃত্ত ‘ওয়াশিংটনের অভিজাত শ্রেণিকে আতঙ্কিত করে তুলেছে’। তাঁর ভাষ্য, চীনের অর্থনীতি অত্যন্ত স্থিতিশীল এবং শুধুমাত্র বাণিজ্য-নীতির মাধ্যমেই একে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না; চীনের পণ্য রপ্তানি জোরে নয়, বাজারের চাহিদা ও প্রতিস্পর্ধার মাধ্যমে হচ্ছে।

    বিশাল রেকর্ড উদ্বৃত্তের পিছনে কারণগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এক দিকে শক্তিশালী রপ্তানি প্রবাহ, অন্য দিকে আমদানির দুর্বল গতি। ২০২৫ সালে চীনের মোট আমদানির বৃদ্ধি মাত্র ০.৫ শতাংশ—যা রপ্তানির ৬.১ শতাংশ বৃদ্ধির তুলনায় অত্যন্ত কম। ফলে উদ্বৃত্তের ব্যবধান ক্রমশ বাড়ছে। অভ্যন্তরীণ চাহিদার দুর্বলতা, ভোক্তা বিক্রির ধীরগতিঃ বিশেষ করে নভেম্বর মাসে খুচরা বিক্রির প্রবৃদ্ধি তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ১.৩ শতাংশে নেমে এসেছিল। একই সঙ্গে আবাসন খাতের সংকট ও বিনিয়োগের মন্থরতার কারণে আমদানির ওপর চাপ পড়েছে; ধারণা করা হচ্ছে ১৯৯৮ সালে তথ্য সংগ্রহ শুরু হওয়ার পর প্রথমবার বার্ষিক বিনিয়োগে পতন দেখা দিতে পারে।

    আঞ্চলিক বাজার পরিবর্তনও দেখা যায়—যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রপ্তানি শুল্কের কারণে ২০ শতাংশ কমলেও আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, আষিয়ান ও ইইউ-র বাজারে রপ্তানি বেড়েছে। আফ্রিকায় রপ্তানি রেকর্ড ২৫.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউয়েনের বহুমাসিক মুদ্রাস্ফীতি কমে যাওয়া এবং মুদ্রানীতির ফলে চীনা পণ্যের আন্তর্জাতিক মূল্যে প্রতিযোগিতামূলকতা বাড়ায় এই প্রবৃদ্ধি সুসংহত হয়েছে। ফলত ২০২৫ সালের সাতটি মাসে চীনের মাসিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল—যা পূর্বের বছরের মাত্র একবারের তুলনায় অনেক বেশি।

    এই পুরো চিত্রটি দ্ব্যর্থহীনভাবে ইঙ্গিত করে যে—চীনের রপ্তানি-নির্ভরতা গভীর এবং তা দীর্ঘমেয়াদে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির কাঠামোগত ভারসাম্যহীনতা বৃদ্ধি করতে পারে। যদি বৈশ্বিক চাহিদা খারাপ হয়ে যায়, চীন একটি অনাকাঙ্ক্ষিত চতুর্ভুজে আটকে যেতে পারে: শক্তিশালী রপ্তানি থাকলেও দুর্বল অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং বিনিয়োগ। ফলে বাণিজ্য অংশীদাররাও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেয়ার প্ররোচনা পেতে পারে—শুল্ক, অ্যান্টি-সাবসিডি বা অন্যান্য বিধিনিষেধের আভাস বাড়তে পারে।

    আন্তর্জাতিকভাবে সতর্কবার্তাও এসেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেছেন, যদি চীন একঘেয়েমি রপ্তানিমুখী প্রবৃদ্ধি মডেলে অনড় থাকে, তবে তা বিশ্ব বাণিজ্যে উত্তেজনা বাড়াতে পারে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ সতর্ক করে বলেছেন, বেইজিং যদি ইইউ’র সঙ্গে বাণিজ্যিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়, তবে ইইউ চীনা পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের মতো কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হতে পারে।

    চীনের অভ্যন্তরে নীতিনির্ধারকরা বিষয়টিকে লক্ষ করেছেন। গুয়াংডং পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং জানিয়েছেন, আমদানির পরিধি বাড়ানো এবং আমদানি-রপ্তানির মধ্যে সুষমতা রাখাই এখন সরকারী অগ্রাধিকার। বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাও বলেছেন, সমন্বিত বাণিজ্য মেলা ও লক্ষ্যভিত্তিক ক্রয়ের মাধ্যমে আমদানির দ্রুত বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে।

    একই সঙ্গে বেইজিংয়ের কিছু বাস্তব পদক্ষেপও দেখা যাচ্ছে। চলতি মাসে ঘোষণা করা হয়েছে, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে ফটোভোলটাইক পণ্যের ওপর রপ্তানি ভ্যাট রিবেট (কর ফেরত) বাতিল করা হবে; ব্যাটারি পণ্যের ক্ষেত্রে রিবেট ধীরে ধীরে কমিয়ে আগামী বছরে পুরোপুরি বন্ধ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এছাড়া চীন ও ইইউয়ের মধ্যে বৈদ্যুতিক গাড়ি নিয়ে এক সমঝোতা হয়েছে—চীনা গাড়ি নির্মাতারা এখন অ্যান্টি-সাবসিডি শুল্কের বদলে ন্যূনতম মূল্য বজায় রাখার দায়িত্ব নিয়ে বাজার প্রবেশ করতে পারবে। এসব পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের উদ্বেগ কমানোর চেষ্টাও বলা যায়।

    শেষ কথা: চীনের এই বৃহৎ বাণিজ্য উদ্বৃত্ত বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একই সঙ্গে আশীর্বাদ এবং উদ্বেগ উভয়ই। চীনের উৎপাদনশক্তি ও সাশ্রয়ী পণ্যের সরবরাহ বিশ্বের মূল্যচাদরে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে; কিন্তু অতিরিক্ত রপ্তানি-নির্ভরতা এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদার দুর্বলতা যদি টেকসইভাবে সমাধান না করা যায়, তবে তা ভবিষ্যতে নীতিগত উত্তেজনা ও বাণিজ্যিক প্রতিরোধের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। যে প্রশ্নগুলো নির্ধারণ করবে উত্তরটি—রপ্তানি আয় কি অভ্যন্তরীণ বাজারে ফিরছে, রপ্তানির আয় আমদানিকে ত্বরান্বিত করতে পারছে কি না, এবং বাজারগুলি কতটা আরও উন্মুক্ত হচ্ছে।

    সূত্র: বিজনেস টাইমস।

  • সোনার প্রতি ভরির দাম ছাড়াল ২ লাখ ৫০ হাজার, দেশের সর্বোচ্চ রেকর্ড

    সোনার প্রতি ভরির দাম ছাড়াল ২ লাখ ৫০ হাজার, দেশের সর্বোচ্চ রেকর্ড

    একদিনের ব্যবধানে আবারও বাড়লো সোনার দাম। বুধবার (২১ জানুয়ারি) বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে এক ভরি সোনার দাম বৃদ্ধি পেয়ে রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে—ভালো মানের সোনার প্রতি ভরির দাম এখন ২ লাখ ৫২ হাজার টাকার ওপরে। বাজুসের বিজ্ঞপ্তি অনুসারে নতুন এই দাম আগামীকাল ২২ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

    সংগঠনটি বলেছে, বৈশ্বিক বাজারে পিওর গোল্ডের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারে এতো বড় ধাক্কা এসেছে। আন্তর্জাতিক বাজার অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে স্বর্ণের দাম বাড়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে; তথ্য অনুসারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম 4,800 ডলারের উপরে উঠেছে, যা স্থানীয় কটকশা মূল্য নির্ধারণে প্রভাব ফেলেছে।

    নতুন নির্ধারিত দামের বিবরণ অনুযায়ী:

    – ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম: ২,৫২,৪৬৭ টাকা

    – ২১ ক্যারেটের এক ভরি: ২,৪০,৯৭৮ টাকা

    – ১৮ ক্যারেটের এক ভরি: ২,০৬,৫৬৯ টাকা

    – সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনা: ১,৬৯,৬৫৩ টাকা

    সোনার সঙ্গে রুপার (চাঁদা) দামও বেড়েছে। নতুন হারের তালিকায় রুপার দামগুলো হলো:

    – ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা: ৬,৮৮২ টাকা

    – ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা: ৬,৫৩২ টাকা

    – ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা: ৫,৫৯৯ টাকা

    – সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা: ৪,২০০ টাকা

    বাজুসের এ ঘোষণার ফলে বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে সর্তকতা দেখা যাচ্ছে। অলঙ্কার ও বিনিয়োগকারী উভয়ের জন্যই নতুন দাম কার্যকর হওয়ায় আগামী কয়েক দিনে স্বর্ণবাজার ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার দিকে যাবে কি না তা দেখা হবে।

  • জর্জিয়ায় পারিবারিক বিবাদে এক ভারতীয় গুলি করে স্ত্রীসহ চার আত্মীয়কে হত্যা

    জর্জিয়ায় পারিবারিক বিবাদে এক ভারতীয় গুলি করে স্ত্রীসহ চার আত্মীয়কে হত্যা

    যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের লরেন্সভিলে পারিবারিক বিবাদের জের ধরে শুক্রবার ভোরে এক ভারতীয় ব্যক্তির গুলিতে স্ত্রীসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আটলান্টায় নিযুক্ত ভারতীয় কনস্যুলেট শোক প্রকাশ করে নিহতদের পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছে—জানায় এনডিটিভি।

    ঘটনাটি স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে ব্রুক আইভি কোর্ট এলাকার ১০০০ ব্লকে ঘটে, বলে জানিয়েছে গুইনেট কাউন্টি পুলিশ। সেখানে পৌঁছালে একটি আবাসিক বাড়ির ভেতরে চারজন প্রাপ্তবয়স্কের মরদেহ পাওয়া যায়; প্রত্যেকের শরীরে গুলিবিদ্ধ ও প্রাণঘাতী চিহ্ন ছিল।

    পুলিশ নাম উল্লেখ করে জানিয়েছে, অভিযুক্তের নাম বিজয় কুমার (৫১) এবং তিনি আটলান্টার বাসিন্দা। নিহতরা হলেন তাঁর স্ত্রী মীমু ডোগরা (৪৩), গৌরব কুমার (৩৩), নিধি চন্দর (৩৭) ও হরিশ চন্দর (৩৮)।

    ঘটনার সময় বাড়িতে তিনটি শিশু উপস্থিত ছিল। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিজেদের রক্ষা করতে শিশুরা একটি আলমারির ভেতরে লুকিয়ে পড়েছিল; তাদের মধ্যে একজন ৯১১-এ ফোন করে গুরুত্বপূর্ন তথ্য দিতে সক্ষম হলে পুলিশ কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। শিশুরা আহত হননি এবং পরে পরিবারের এক সদস্য তাদের নিয়ে যান।

    আটলান্টায় নিযুক্ত ভারতের কনস্যুলেট জেনারেল এক বিবৃতিতে ঘটনার প্রতি গভীর শোক ব্যক্ত করেছে। কনস্যুলেট জানায়, নিহতদের মধ্যে একজন ভারতীয় নাগরিক ছিলেন, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং শোকাহত পরিবারকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

    গুইনেট কাউন্টি পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চারটি অ্যাগ্রাভেটেড অ্যাসল্ট (গুরুতর হামলা), চারটি ফেলনি মার্ডার (ফৌজদারি হত্যার) অভিযোগ, চারটি ম্যালিস মার্ডার (উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হত্যার) অভিযোগ, একটি প্রথম ডিগ্রির শিশুদের প্রতি নিষ্ঠুরতার অভিযোগ এবং দুটি তৃতীয় ডিগ্রির শিশু নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

    পুলিশ ও কনস্যুলেটের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ঘটনাটিকে পারিবারিক বিরোধে সংঘটিত একটি ট্র্যাজেডি হিসেবে বর্ণনা করেছে। মামলা ও তদন্তের পরবর্তী ধাপ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা জানালে তা অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • পাকিস্তানে বিয়ের অনুষ্ঠানে আত্মঘাতী বোমা হামলা, নিহত অন্তত ৭

    পাকিস্তানে বিয়ের অনুষ্ঠানে আত্মঘাতী বোমা হামলা, নিহত অন্তত ৭

    পাকিস্তানের সীমান্তসংলগ্ন জেলা দেরা ইসমাইল খান জেলার একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে শুক্রবার আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত সাতজন নিহত এবং অনেকে আহত হয়েছেন। দেশটির পুলিশ জানায়, হামলা সেই ভবনটিকে লক্ষ্য করে চালানো হয় যেখানে শান্তি কমিটির সদস্যরা অবস্থান করছিলেন।

    পুলিশ কর্মকর্তা মুহাম্মদ আদনান বলছেন, বিস্ফোরণের প্রথম খবরে তিনজনই ঘটনাস্থলে মারা গিয়েছিল; পরে হাসপাতালে নেওয়া আহতদের মধ্যে আরও চারজন মারা গেলে মৃতের সংখ্যা সাতに পৌঁছায়। আহতদের মধ্যে অনেকে রাজশাহী চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং হতাহত সংখ্যা প্রাথমিকভাবে প্রায় এক ডজন হিসেবে বলা হচ্ছে।

    এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পাকিস্তানে ক্রমবর্ধমান জঙ্গি হামলার সমস্যা আরও সামনে এসেছে। সরকার স্থানীয় স্তরে জঙ্গিদের মোকাবিলায় শান্তি কমিটি গঠন করে থাকে; এসব কমিটিতে স্থানীয় বাসিন্দা ও বয়োজ্যেষ্ঠরা থাকে এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় শান্তি-নিয়ন্ত্রণে তাদের ভূমিকা থাকে। পুলিশের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ওই বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত অংশগ্রহণকারী বা কমিটির সদস্যদেরই লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

    এপর্যন্ত কারা হামলার দায়িত্ব নিয়েছে তার কোনো দাবি আসেনি। তবে আফগানিস্তান-সীমান্তের উভয় পাশে সক্রিয় একাধিক জঙ্গিগোষ্ঠী রয়েছে; তাদের মধ্যে পাকিস্তানি তালেবান বা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) একটি প্রধান সশস্ত্র সংগঠন। পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, টিটিপি স্থানীয়দের শান্তি প্রচেষ্টাকে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে আখ্যায়িত করে এবং কড়া অবস্থান নিচ্ছে।

    পাকিস্তানি তালেবান ১৯৯৭ সাল থেকে সক্রিয় এবং তারা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র লড়াই চালিয়ে এসেছে; তাদের লক্ষ্য দেশের সংবিধান বদলে নিজেদের কঠোর ইসলামি আইন প্রতিষ্ঠা করা। ইসলামাবাদ অভিযোগ করে এসেছে যে আফগান তালেবান আফগানিস্তান থেকে টিটিপিকে আক্রমণের পরিকল্পনা ও সহায়তা করছে, কিন্তু কাবুল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে যে জঙ্গিবাদ পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা।

    এই ঘটনার খবরে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে সূত্র হিসেবে দেখা গেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আহতদের উদ্ধার ও ঘটনাস্থল নিরাপত্তা বাড়াতে কাজ করছে, আর ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে।

  • খুলনা-৪: বিএনপি প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

    খুলনা-৪: বিএনপি প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬কে সামনে রেখে খুলনা-৪ (রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়া) আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। শনিবার, ২৪ জানুয়ারি, তিনি উপজেলার ভিত্তিতে মোট ৭৪টি উন্নয়ন পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি উপস্থাপন করেন।

    হেলাল তার বক্তব্যে বলেছিলেন, নদী ও প্রকৃতিবেষ্টিত এই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের অবহেলা দূর করে একটি সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও আধুনিক খুলনা-৪ গড়ে তোলা তার প্রধান লক্ষ্য। তাই অবকাঠামো, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শিল্প ও কৃষিসহ সামাজিক নিরাপত্তাকে তিনি অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

    ইশতেহারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে রয়েছে: ভৈরব নদীর ওপর দ্বিতীয় সেতুর নির্মাণ, অসমাপ্ত নগরঘাট ও রেলিগেট সেতুর কাজ দ্রুত শেষ করা, নদীভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণ এবং রূপসা উপজেলায় ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের মাধ্যমে নিরাপদ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা। রূপসা ফেরিঘাটকে টোলমুক্ত করা ও সেখানে আধুনিক পরিবহন স্ট্যান্ড নির্মাণও তার পরিকল্পনার অংশ।

    স্বাস্থ্য খাতে তিনি দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে রূপান্তর, রূপসায় ১০০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল এবং তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

    শিক্ষার ক্ষেত্রে যোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারি করণের প্রচেষ্টা, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও লাইব্রেরি স্থাপন এবং বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্র চালু করার পরিকল্পনা ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

    কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে তিনি ইপিজেড স্থাপন, আইটি ও ফ্রিল্যান্সিং ট্রেনিং সেন্টার, কোল্ড স্টোরেজ, দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ প্ল্যান্ট এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প গড়ে তোলার কথা বলেন। কৃষকদের জন্য বিনামূল্যে বীজ-সার, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি প্রচলন ও সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের প্রতিশ্রুতিও প্রদান করা হয়।

    অপরাধ ও অনিয়ন্ত্রিত কার্যকলাপ মোকাবিলায় তিনি মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির ঘোষণা করেন। পাশাপাশি নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা এবং পরিবেশ সংরক্ষণেও জোর দেওয়ার প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করেন।

    ইশতেহার ঘোষণা শেষে হেলাল বলেন, এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে তিনি খুলনা-৪ আসনকে একটি আদর্শ ও উন্নত জনপদে রূপান্তরিত করার কাজ করবেন।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য খান রবিউল ইসলাম রবি, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মোল্লা খায়রুল ইসলাম, জিএম কামরুজ্জামান টুকু, অধ্যাপক মনিরুল হক বাবুল, শেখ আব্দুর রশিদ, আব্দুস সালাম, আছাফুর রহমান, আশরাফুল ইসলাম নুর, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আতাউর রহমান রনু, গোলাম মোস্তফা তুহিন, রূপসা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোল্লা সাইফুর রহমান, তেরখাদা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক চৌধুরী কাওছার আলী, আবু সাঈদ, সেতারা সুলতানা, গোলাম ফারুক, শেখ আবু সাঈদ, ফখরুল ইসলাম চৌধুরী, শরিফ নাইমুল ইসলাম, আবুল কাশেম, রেজাউল ইসলাম রেজা, মো. রয়েল, খালেদা পারভিন সিনথিয়া এবং শিহাবুল ইসলাম সিহাব।

  • ধর্মভেদ বাদে সকলের উন্নয়ন নিশ্চিত করবো: আজিজুল বারী হেলাল

    ধর্মভেদ বাদে সকলের উন্নয়ন নিশ্চিত করবো: আজিজুল বারী হেলাল

    খুলনা-৪ আসনের ধানের শীষ প্রার্থী ও বিএনপি তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, ধর্মীয় ভেদাভেদ থেকে মুক্ত রেখে সকল ধর্মের মানুষের উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। কে কোন ধর্মের প্রতিনিধি—তা বড় বিষয় নয়, সবাই সম অধিকার নিয়ে বাস করবে এবং সম্প্রদায়ের মধ্যে সাদৃশ্য ও সৌহার্দ্য আরও দৃঢ় করা হবে। তিনি আরও বলেন, ধর্মের নামে কোনো বৈষম্য স্বীকার করা হবে না।

    এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত রূপসা উপজেলার শ্রীফলতলা ইউনিয়নের পালেরহাট মাঠে জনসভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল আই’র জনপ্রিয় উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয়।

    নারীর নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে হেলাল বলেন, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ রোধে এবং নারীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। ‘‘নারী সমাজকে সম্মান ও নিরাপত্তা ছাড়া বাস্তব উন্নয়ন সম্ভব নয়,’’ তিনি যুক্ত করেন।

    মাদক ও সন্ত্রাস দমন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে হেলাল বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ নয়—ধর্ম চর্চা ও ক্রীড়া সংস্কৃতির প্রসারও অপরাধ দমন ও সুস্থ সামাজিকতা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিটি পরিবারকে বাল্যকাল থেকে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে এবং খেলাধুলাকে বাড়িয়ে যুবসমাজকে অপরাধ থেকে দূরে রাখা হবে। তিনি আশ্বাস দেন, বিএনপি সরকার গঠিত হলে তিনটি উপজেলায় তিনটি আধুনিক স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে।

    নাগরিক সেবায় স্বচ্ছতা ও ভূমি অফিসের দুর্নীতির প্রসঙ্গ উঠে আসলে তিনি বলেন, ইউনিয়নসহ উপজেলার ভূমি অফিসগুলোতে কোনো অনৈতিক আর্থিক লেনদেন ছাড়াই সেবা নিশ্চিত করা হবে এবং দালালমুক্ত ভূমি দফতর গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আগামীতেও এমন ধরনের অভিযোগ পেলে সাংবাদিক ও জনগণকে নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি হুমকি উচ্চারণ করেন।

    নিজের বিরুদ্ধে প্রায়ই মিথ্যা মামলা ও কারাবরণ সংক্রান্ত প্রশ্নে হেলাল বলেন, ‘‘চ্যালেঞ্জ মেনে না নিলে নেতৃত্ব গড়ে ওঠে না। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে আমি প্রস্তুত।’’ তিনি অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানই নিজের রাজনীতির মূল আদর্শ হিসেবে অভিহিত করেন।

    প্রশ্ন-উত্তর পর্বে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল ফজল হেলাল, মেডিকেল শিক্ষার্থী রাহুল, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি জয় নোটন বাড়ই, ফিফা রেফারি মনির ঢালী, সাংবাদিক কৃষ্ণ গোপাল সেন, বাকির হোসেন, প্রধান শিক্ষক বিউটি পারভিন, হাফিজুর রহমান, আঃ কুদ্দুসসহ শতাধিক সাধারণ জনগণ অংশ নেন।

    অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব আবু হোসেন বাবু, যুগ্ম আহ্বায়ক মোল্লা খায়রুল ইসলাম, জিএম কামরুজ্জামান টুকু, এনামুল হক সজল, রূপসা উপজেলা বিএনপি আহ্বায়ক মোল্লা সাইফুর রহমান, তেরখাদা আহ্বায়ক চৌধুরী কাউসার আলী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান রুনু, উপজেলা বিএনপি সদস্য সচিব জাবেদ হোসেন মল্লিক, আনিসুর রহমান, জেলা বিএনপি নেতা শেখ আলী আজগর, এম এ সালাম, মোল্লা রিয়াজুল ইসলাম, আছাফুর রহমান, জেলা যুবদল নেতা গোলাম মোস্তফা তুহিন, তাঁতিদল নেতা মাহমুদুল আলম লোটাসসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণজনে আনন্দের পরিবেশ বজায় ছিল এবং সঙ্গীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট শিল্পী কুদ্দুস বয়াতী।

  • ম্যাচ-ফিক্সিং অভিযোগের মধ্যে বিসিবি পরিচালক মোখলেসুর রহমান শামীম পদত্যাগ

    ম্যাচ-ফিক্সিং অভিযোগের মধ্যে বিসিবি পরিচালক মোখলেসুর রহমান শামীম পদত্যাগ

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ম্যাচ ফিক্সিং নিয়ে ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিসিবি পরিচালক মোখলেসুর রহমান শামীম সব পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। এই ঘোষণা এসেছিল বিপিএলের ১২তম আসরের ফাইনালের মধ্যেই, যখন বিষয়টি নিয়ে সার্বিক আলোচনা তীব্র হয়েছিল।

    শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি নিজের ফেসবুক পোস্টে শামীম নিশ্চিত করেছেন যে তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে থাকা পরিচালক পদসহ অডিট কমিটির চেয়ারম্যানসহ সমস্ত দায়িত্ব থেকে সরছেন। তিনি জানান, মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে অভিযোগের স্বাধীন, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত নিশ্চিত করা।

    ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অডিট কমিটির চেয়ারম্যানসহ আমার সব দায়-দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যেন একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত নিশ্চিত করা যায়। এটি কোনোভাবেই দায় স্বীকার নয়; বরং দেশের ক্রিকেট ও প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখার প্রতি আমার দায়বদ্ধতার প্রকাশ।’

    শামীম আরো বলেছেন, ‘এই সিদ্ধান্ত নেয়া কষ্টের হলেও বিশ্বাস করি, ব্যক্তিগত অবস্থানের চেয়ে দেশের ক্রিকেটের সুনাম সবার আগে।’ তিনি জানিয়েছেন যে তদন্তে তিনি পূর্ণ সহযোগিতা করবেন এবং দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস রাখেন যে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবে।

    এই পদত্যাগ সংবাদটির ফলে বোর্ড ও ক্রিকেট অঙ্গনে এখন তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা রয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ ও তদন্ত প্রতিবেদনই ভবিষ্যতে ঘটনার চিত্র স্পষ্ট করবে।