Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • আসামের মুখ্যমন্ত্রীর বিতর্কিত মন্তব্যে ঢাকায় কড়া প্রতিবাদ, হাইকমিশনারকে তলব

    আসামের মুখ্যমন্ত্রীর বিতর্কিত মন্তব্যে ঢাকায় কড়া প্রতিবাদ, হাইকমিশনারকে তলব

    ঢাকা আক্রমণাত্মক মন্তব্য দাঁড় করাতে cijjh? — correction: likely a stray — I’ll produce final JSON without stray

    ঢাকা আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সম্প্রতি করা আপত্তিকর মন্তব্য সম্পর্কে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পবন কুমার ভাদেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে বাংলাদেশের ওই প্রতিবাদ জানানো হয় এবং একটি কূটনৈতিক নোট হস্তান্তর করা হয়।

    ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগে ডেকে এনে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানানো হয়। এইজন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দপ্তরে রাজ্যপাল ইশরাত জাহান পড়েছিলেন।

    ঘটনাচক্রে আসামের মুখ্যমন্ত্রী একটি টিভি সাক্ষাৎকারে (এবিপি লাইভ) প্রশ্নের উত্তরে বলেন, বাংলাদেশের ‘উৎসের’ সন্দেহভাজন অনিবন্ধিত ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানো ভারতের জন্য নিয়মতান্ত্রিকভাবে কঠিন। তিনি মন্তব্য করেন যে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ রাত অবধি অপেক্ষা করে এবং যখন সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কেউ উপস্থিত থাকে না, তখন অন্ধকারে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের সীমান্তে ঠেলে দেয়া হয়।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কূটনৈতিক পত্রে উল্লেখ করেছে, আসামের মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের পরিপ্রেক্ষিতে অবমাননাকর ও বিভ্রান্তিকর। বিশেষ করে যে জাতীয় ‘পুশব্যাক’ বা সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বলা হয়েছে, তা বাংলাদেশ সরকার অনাকাঙ্ক্ষিত ও অগ্রহণযোগ্য বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

    কূটনৈতিক নোটে আরও বলা হয়েছে, স্পর্শকাতর দ্বিপাক্ষিক ইস্যুতে কোন প্রকার তথ্য-প্রমাণ ছাড়া জনসমক্ষে এমন মন্তব্য করা দুই দেশের সম্পর্কের পক্ষে সহায়ক নয়। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ ও সীমান্ত সংক্রান্ত যে কোনো সমস্যার সমাধান আন্তর্জাতিক বিধি এবং বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক কাঠামোর মাধ্যমে চায়।

    ঢাকা হাইকমিশনারের মাধ্যমে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের প্রত্যেককে এমন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে, যেগুলো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারে। হাইকমিশনার পবন কুমার ভাদা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য গ্রহণ করেছেন এবং তা তাঁর সরকারের নিকট পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

    দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সংবেদনশীল বিষয়গুলো কূটনৈতিক চ্যানেল ও আলোচনা-সমাধানের মাধ্যমে মোকাবিলা করার ওপর জোর দিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সংযম ও সংলাপের আহ্বান করা হয়েছে।

  • বিদ্যুৎ বিভাগের দাবি: দুই দিন দেশে লোডশেডিং ছিল না

    বিদ্যুৎ বিভাগের দাবি: দুই দিন দেশে লোডশেডিং ছিল না

    বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, দেশের কোথাও টানা দুই দিন লোডশেডিং হয়নি। তাদের দাবি, গত মঙ্গলবার ও বুধবার (২৮ ও ২৯ এপ্রিল) সারাদেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে বিদ্যুৎ বিভাগ।

    এর আগে গত ২৭ এপ্রিল বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছিলেন যে পরবর্তী সপ্তাহ থেকে দেশে বিদ্যুতের পরিস্থিতি উন্নত হবে এবং লোডশেডিং কমে আসবে।

    তবে কিছুদিন আগেই, ২৩ এপ্রিল বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্মসচিব উম্মে রেহানা জানিয়েছিলেন যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধজনিত পরিস্থিতির কারণে প্রয়োজনীয় জ্বালানি আমদানিতে বিঘ্ন ঘটেছে। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ দেয়া যাচ্ছিল না।

    এই পরিস্থিতিতে গ্রাম ও শহরের মধ্যে লোডশেডিং সমন্বয় করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, রাজধানী ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে প্রতি এলাকায় ১১০ মেগাওয়াট করে লোডশেডিং চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং প্রয়োজনে শহরেও লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যাতে বৈষম্য কমানো যায়।

  • সংবিধান সংস্কারের দাবিতে ১১ দলের নতুন কর্মসূচি, খুলনায় বিভাগীয় সমাবেশ ২০ জুন

    সংবিধান সংস্কারের দাবিতে ১১ দলের নতুন কর্মসূচি, খুলনায় বিভাগীয় সমাবেশ ২০ জুন

    সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।

    জোটটি জানিয়েছে, ১৬ মে রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হবে এবং পরবর্তীতে দেশের সব বিভাগীয় শহরে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। খুলনায় প্রথম ধাপে ইতিবাচক সমাবেশের দিন ধার্য করা হয়েছে ২০ জুন।

    বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলের বৈঠকের পর এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ।

    হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সংবিধান সংস্কারের পক্ষে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ রায় দিয়েও সরকার সেই জনভোটকে উপেক্ষা করছে। নির্বাচনের আগেই প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন সরকার সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভরসায় সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ এড়িয়ে ছলচাতুরি করছে।

    জোটের ঘোষিত বিভাগীয় সমাবেশের সূচি মতে: ১৬ মে রাজশাহী; ১৩ জুন চট্টগ্রাম; ২০ জুন খুলনা; ২৭ জুন ময়মনসিংহ; ১১ জুলাই রংপুর; ১৮ জুলাই বরিশাল এবং ২৫ জুলাই সিলেট।

    আযাদ বলেন, আসন্ন ঈদুল আজহার কারণে মে মাসে কেবল একটি বিভাগীয় সমাবেশ রাখা হয়েছে; ঈদের ছুটির পর জুন থেকে পূরোদমে আন্দোলন ও সমাবেশ পুনরায় শুরু হবে। প্রতিটি বিভাগীয় সমাবেশে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সব জেলা ও মহানগরের নেতা-কর্মী এবং সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করা হবে।

    তিনি আরও জানান, বিভাগীয় সমাবেশের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় সভারও আয়োজন করা হবে। বিশেষ করে শিক্ষক, আইনজীবী, চিকিৎসক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথোপকথনের মাধ্যমে জনমত গঠন করা হবে। দেশের সাতটি বিভাগে বিষয়ভিত্তিক সেমিনারও চালানো হবে।

    সরকারকে উদ্দেশ্য করে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক বলেন, জনগণের রায় নিয়ে ‘‘ছিনিমিনি খেলা’’ চলছে এবং এ অবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও জোরালো করতে হবে। তিনি ছাত্র সমাজকেও এই আন্দোলনে সক্রিয় ও সজাগ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

    জোটের বক্তব্য অনুযায়ী, ‘গণভোট অনুমোদিত জুলাই আদেশ’ অনুসারে সংবিধান সংস্কারের দাবিতে বর্তমানে তাদের দুই সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি চলছে। গত ১৮ এপ্রিল রাজধানীতে এবং ২৫ এপ্রিল অন্যান্য মহানগরে ১১ দল গণমিছিল করেছে। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী আগামী ২ মে দেশের সব জেলা শহরে গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে।

    বৈঠক ও ব্রিফিংয়ে দলীয় নেতৃত্বের এই বার্তা— সংবিধানভিত্তিক দাবি বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে এবং বৃহত্তর অংশগ্রহণের মাধ্যমে সরকারের পরিকল্পিত কৌশলকে প্রতিহত করা হবে।

  • তরুণদের আহ্বান নাহিদের: সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন, এনসিপি সমর্থন দেবে

    তরুণদের আহ্বান নাহিদের: সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন, এনসিপি সমর্থন দেবে

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণের মাধ্যমে কণ্ঠরোধ করছে। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, “আপনারা সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন। এনসিপি আপনাদের সমর্থন জানাবে।”

    অনুষ্ঠনাটি ছিল নেতৃত্ব ও সাধারণ নাগরিকদের এনসিপিতে যোগদানের উদযাপন। এতে বিএনপি থেকে বহিস্কৃত নেতা ইসহাক সরকার, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবাল (ফ্লোরা), কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি এবং রেলের অনিয়মবিরোধী আন্দোলনে পরিচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনি আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দেন। ফেরসামিন বিদেশে থাকায় উপস্থিত থাকতে পারেননি; অন্যরা অনুষ্ঠানে মঞ্চে ছিলেন এবং তাঁদের পরিচয় ঘোষণার পর নাহিদ ইসলাম ফুল দিয়ে তাঁদের বরণ করেন।

    বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনের পর গঠিত সরকার গণভোটকে অস্বীকার করেছে এবং সেই নির্বাচনকে একটি সাধারণ ক্ষমতার পটপরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, সংবিধান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের বিধানগুলো একে একে বাতিল করার মাধ্যমে সরকার নিজস্ব স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, ব্যাংক লুটেরাদের জন্য সুযোগ তৈরির মতো পদক্ষেপ নেয়ার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধীরে ধীরে দলীয়করণ করা হচ্ছে।

    বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পেশিশক্তি ও ক্ষমতার রাজনীতির পুনরুজ্জীবন ঘটছে—এমন অভিযোগও তুলেন নাহিদ। তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদ বা নতুন কোনো স্বৈরতন্ত্র তথা পুরোনো স্বৈরতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখার যেকোনো চেষ্টার বিরুদ্ধে জনগণ আবারও সংগঠিত হবে। জনগণ এনসিপির ছায়াতলেই ঐক্যবদ্ধ হবে—আমরা সেই সাড়া সারাদেশ থেকে পাচ্ছি।”

    এনসিপি সারাদেশে কার্যক্রম জোরদারের কথাও জানিয়েছেন নাহিদ। তিনি বলেন, “প্রতি সপ্তাহেই আমাদের যোগদান কর্মসূচি চলবে। রাজনীতি-সচেতন মানুষ ও তরুণদের কাছে আমাদের আহ্বান: এই দেশের ভবিষ্যত নিয়ে আমাদের সবার দায়িত্ব রয়েছে। যারা রাজনীতি করতে চান ও পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেন, তারা ঐক্যবদ্ধ হন। এনসিপি আপনাদের ধারণ করে এগোতে চায়।”

    বর্তমান সরকারের ব্যর্থতার দিক দিয়ে ক্রমশ ধাক্কা খাচ্ছে—এমন মন্তব্য করে নাহিদ বলেন, দেশের অর্থনীতি টালমাটাল এবং গণতন্ত্র নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা নিয়েও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। তিনি বলেন, “এসব পরিস্থিতিতে জনগণের পাশে ঐক্যবদ্ধভাবে না দাঁড়ালে আমাদের আর কোনো উপায় নেই। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি, ইনশাআল্লাহ।”

  • বাজুস টানা চার দফায় সোনার দাম কমালো

    বাজুস টানা চার দফায় সোনার দাম কমালো

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) দেশের বাজারে টানা চতুর্থবার সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। 이번 রূপে প্রতি ভরি সোনার দাম সর্বোচ্চ ২ হাজার ২৫৮ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। ফলে সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার এক ভরি দাম দুই লাখ ৪০ হাজার ৩৩৭ টাকায় নেমে এসেছে, যা গতকাল ছিল দুই লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা।

    বাজুস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এই নতুন দাম বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে। সংগঠনের বক্তব্য—তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার আন্তর্জাতিক দর কমায় স্থানীয় বাজারে দর সমন্বয় করা হয়েছে, তাই মূল্য হ্রাস করা হয়েছে।

    বেঁধে দেওয়া নতুন আভ্যন্তরীণ দাম অনুযায়ী অন্যান্য ক্যারেটের দরও নির্ধারণ করা হয়েছে: ২১ ক্যারেট প্রতি ভরি দুই লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেট প্রতি ভরি এক লাখ ৯৬ হাজার ৬৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি এক লাখ ৬০ হাজার ১৪৭ টাকা।

    রুপার দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ২২ ক্যারেট রুপার এক ভরি দাম ৫ হাজার ৪৮২ টাকা, ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ১৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৪৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা।

    আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সংক্রান্ত উত্তেজনার ফলে কিছু সময় আগে বিশ্ববাজারে সোনার দাম বাড়ে; এরপর মূল্য ওঠানামা করে। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম প্রায় ৪,৫০০ ডলারে নেমে এসেছে। জানুয়ারিতে এই দামের শীর্ষ প্রায় ১,৫৫০ ডলারের কাছাকাছি উঠেছিল।

    স্থানীয় ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য এখনই শপিং বা কেনাবেচা করার সময়-পরিকল্পনা করা উচিত, কারণ বিশ্ববাজারের ওঠানামা দেশের বাজারেও সরাসরি প্রভাব ফেলে।

  • প্রাইজবন্ডের ১২৩তম ড্র: পুরস্কারজয়ীদের তালিকা

    প্রাইজবন্ডের ১২৩তম ড্র: পুরস্কারজয়ীদের তালিকা

    ১০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ডের ১২৩তম ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ড্রে প্রথম পুরস্কার—৬ লাখ টাকা—জিতে নিয়েছেন সিরিজ নম্বর ০০০১০৩৫। দ্বিতীয় পুরস্কার (৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা) পেয়েছেন ০০৪৭৭৪৮ নম্বরপ্রাপ্ত ব্যক্তি।

    তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে দুইজন করে ১ লাখ টাকা পেয়েছেন; বিজয়ী নম্বরগুলো ০৫৩৮২৮৯ ও ০৬৭৫৩৮২। চতুর্থ পুরস্কার (৫০ হাজার টাকা) বিতরণ করা হয়েছে দুটি নম্বর arasında: ০৪০০৪৫১ ও ০৫৬৭৬৪৪।

    এই ড্রটি বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

    প্রচলনযোগ্য ১০০ টাকা মূল্যমানের মোট ৮৪টি সিরিজের মধ্যে এবারে ৪৬টি সাধারণ সংখ্যা পুরস্কারের জন্য যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। ড্রটি একক সাধারণ পদ্ধতিতে (অর্থাৎ প্রত্যেক সিরিজের জন্য একই নম্বর) পরিচালিত হয়েছে। নেওয়া সিরিজগুলো হলো: কক, কখ, কগ, কঘ, কঙ, কচ, কছ, কজ, কঝ, কঞ, কট, কঠ, কড, কঢ, কথ, কদ, কন, কপ, কফ, কব, কম, কল, কশ, কষ, কস, কহ, খক, খখ, খগ, খঘ, খঙ, খচ, খছ, খজ, খঝ, খঞ, খট, খঠ, খড, খঢ, খথ, খদ, খন, খপ, খফ, খব, খম, খল, খশ, খষ, খস, খহ, গক, গখ, গগ, গঘ, গঙ, গচ, গছ, গজ, গঝ, গঞ, গট, গঠ, গড, গঢ, গথ, গদ, গন, গফ, গব, গম, গল, গশ, গষ, গপ, গস, গহ, ঘক, ঘখ, ঘগ, ঘঘ, ঘঙ ও ঘচ।

    পঞ্চম পুরস্কার হিসেবে ১০ হাজার টাকা করে ৪০ জন পুরস্কারজয়ী রয়েছেন। তাদের নম্বরগুলো হলো: ০০২১৭৪৯, ০২১৭৪১৯, ০৪৬১৪৭২, ০৫৮৮৯৬৬, ০৭৪৯৭৪০, ০০২২১৮১, ০২৪৬০৪৫, ০৪৬২০৫৬, ০৫৯৬৩৪৬, ০৭৫৯৯০৮, ০০৫৬৩৭৮, ০২৯৬৪০২, ০৪৭৮০১৫, ০৬০০৪৪০, ০৭৭২৭৭৩, ০০৯২৩৫৬, ০৩১১১৩০, ০৪৮০৫৬৭, ০৬০৭৩৪৯, ০৮১৩৬৫৯, ০১৪৪৫৬৭, ০৩৫৬৯৪২, ০৫১২০২৪, ০৬৩৯৩৬৭, ০৮৪৮০৪৬, ০১৫৫৩৯৮, ০৩৯৩২৭৭, ০৫৫১২২১, ০৬৪২০০২, ০৮৪৯৬১৪, ০১৫৫৯৩৪, ০৪১৩৫০১, ০৫৬৪৭৬০, ০৬৫০১১৯, ০৯২২৫৯৭, ০১৭৫৭৯২, ০৪৫২৪৪১, ০৫৭৩৮৬৫, ০৬৮৮৭৭৩ ও ০৯৪৭৬৬৫।

    উপরোক্ত নম্বরধারীরা যথাক্রমে ঘোষিত পুরস্কার পাবে। বিজয়ীদের জন্য প্রাপ্তি ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় অফিসিয়াল নির্দেশনা কর্তৃপক্ষ থেকে জানানো হবে।

  • জ্বালানি তেল ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ দামে

    জ্বালানি তেল ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ দামে

    ইরানকে কৌশলগতভাবে টার্গেট করার সম্ভাব্য সামরিক পরিকল্পনা হোয়াইট হাউসকে জানানো হবে—এমন সংবাদ প্রকাশিত হতেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম তীব্রভাবে বাড়তে শুরু করেছে।

    বৃহস্পতিবার এশীয় বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেল প্রায় ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলারের ওপরে পৌঁছায়, যা ২০২২ সালের রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকে সর্বোচ্চ মূল্য। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ২.৩ শতাংশ বাড়ে এবং ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০৯ ডলারে দাঁড়ায়।

    জুন ডেলিভারির ব্রেন্ট ফিউচার কন্ট্রাক্টের মেয়াদ বৃহস্পতিবার শেষ হচ্ছে। এদিকে এশিয়ার সকালের লেনদেনে তুলনামূলকভাবে সক্রিয় জুলাই কন্ট্রাক্টটি প্রায় ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ১১৩ ডলারে উঠেছিল। ফিউচার চুক্তি হচ্ছে নির্দিষ্ট এক দিনে কোনো সম্পদ কেনা বা বিক্রি করার বিধিবদ্ধ চুক্তি, তাই এগুলোতে মূল্য ওঠানামা বাজারের অনুভূতিকে দ্রুত প্রতিফলিত করে।

    অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনের সূত্রে বলা হয়েছে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের ওপর ধারাবাহিকভাবে ‘স্বল্প ও তীব্র’ হামলা চালানোর পরিকল্পনা তৈরি করেছে, যেখানে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে অবকাঠামোও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এছাড়া হরমুজ প্রণালির একাংশ দখল করে সেটি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের উপযোগী করে তোলার একটি পরিকল্পনাও রয়েছে—যার জন্য স্থলভাগে প্রশস্ত সেনা মোতায়েনের সম্ভবনা থাকছে।

    বিবিসি এই বিষয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এবং হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করে মন্তব্যের চেষ্টা করেছে। খবরের সূত্রে আরও বলা হয়, তেহরান হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করা জাহাজগুলোকে হুমকি দেয়া অব্যাহত রাখলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোকে অবরোধ করে রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছে—যার ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    এ ধরনের ‘দীর্ঘমেয়াদি’ অবরোধের প্রস্তুতির খবর বেরোনোর পর বুধবার তেলের দাম প্রায় ৬ শতাংশ বেড়ে যায়। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামরিক পরিকল্পনার কথা বাজারে প্রতিফলিত হওয়ায় তরতর করে দর বাড়ছে, যা সরাসরি জ্বালানি ও পরিবহন খরচে প্রভাব ফেলতে পারে।

  • ভূমধ্যসাগরে আট দিন ভেসে ২৬ অভিবাসীর প্রাণহানি, ৭ জন উদ্ধার

    ভূমধ্যসাগরে আট দিন ভেসে ২৬ অভিবাসীর প্রাণহানি, ৭ জন উদ্ধার

    উন্নত জীবনের স্বপ্নে ইউরোপগামী একটি নৌকায় আট দিন ভেসে থাকার পর অন্তত ২৬ জন অভিবাসীর প্রাণহানি ঘটেছে—রয়টার্সের প্রতিবেদনে এমন শঙ্কা জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের তথ্যে নির্দিষ্টভাবে ১৭ জনের মৃত্যুর বিষয় নিশ্চিত করা হয়েছে এবং আরও ৯ জনকে নিখোঁজ বলে গণনা করা হচ্ছে; একই সময়ে সাত জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

    ঘটনায় হতাশা ও মানবিক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। জানানো হয়েছে, নৌকা নৌগতি-বিকল থাকার ফলে এ লোকগুলো আট দিন ধরে সমুদ্রের তীর থেকে দূরে ভেসে ছিল। বিশুদ্ধ পানীয় জল ও খাবারের তীব্র অভাবই তাদের মরার প্রধান কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    রবিবারের খবর অনুযায়ী উদ্ধারকর্মীরা লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলের তোবরুক শহরের কাছাকাছি সমুদ্র থেকে তাদের উদ্ধার করেন; এই অভিযানে লিবিয়ার ন্যাশনাল আর্মি নৌবাহিনী এবং কোস্ট গার্ডের সঙ্গে রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরাও অংশ নিয়েছিল। নিরাপত্তা সূত্র বলেছে, কয়েক দিনের মধ্যে নিখোঁজ রয়েছেন বলেও যে নয়জনের মরদেহ তীরে ভেসে আসার সম্ভাবনা রয়েছে সেই আশাও প্রকাশ করা হয়েছে।

    এ পর্যন্ত মৃতদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। রেড ক্রিসেন্টের প্রচারিত কয়েকটি ছবিতে দেখা যায়, উদ্ধারকারী দল মৃতদেহগুলো কালো প্লাস্টিক ব্যাগে ভরে পিকআপের পেছনে বোঝাই করছেন—এরই মধ্যে তীব্র আবেগ ও নিন্দার ছোঁয়া দেখা গেছে।

    লিবিয়া দীর্ঘদিন ধরেই সাব-সাহারান আফ্রিকান অভিবাসীদের জন্য ইউরোপ যাওয়ার একটি প্রধান ট্রানজিট পথ হয়ে আছে। বহু ব্যক্তি যুদ্ধ, পীড়া ও দারিদ্র্য থেকে বাঁচতে মরুভূমি ও সমুদ্র পাড়ি দিয়ে বিপজ্জনক পথ পাড়ি দেয়; মানবপাচার চক্রগুলো এই পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।

    এ প্রসঙ্গে, লিবিয়ান অ্যাটর্নি জেনারেল রয়েছেন উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপে—গত মঙ্গলবার ত্রিপোলির ফৌজদারি আদালত পশ্চিম লিবিয়ার জুয়ারার অপরাধী চক্রের চার সদস্যকে মানবপাচার, মুক্তিপণের জন্য অপহরণ ও নির্যাতনের দায়ে সর্বোচ্চ ২২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড প্রদান করেছে।

    অ্যাটর্নি জেনারেলের তথ্য অনুযায়ী, আরেকটি পৃথক মামলায় পাবলিক প্রসিকিউটরের কার্যালয় তোবরুক থেকে অভিবাসীদের একটি নটিনাটিগ নৌকায় পাঠানোয় জড়িত অন্য একটি চক্রকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছে। ওই নৌকাটি ডুবে যাওয়ায় পূর্বে ৩৮ জন সুদানি, মিশরীয় ও ইথিওপিয়ান নাগরিকের মৃত্যু হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

    ঘটনাগুলো স্থানীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে মানবপাচার এবং জীবনহানির বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা হিসেবে দেখানো হচ্ছে। এক্ষেত্রে লিবিয়ায় স্থায়ীভাবে নিরাপদ অভিবাসনবিধি ও পাল্টা অপরাধী নেটওয়ার্ক ভাঙতে কার্যকর তদন্ত ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা জরুরি—এমনটাই বলছে মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা।

    এই ট্র্যাজেডি অভিবাসীদের পরিবার-স্বজনের ওপর গভীর দুঃখ ছড়াচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আবারও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যে মানবিক সুরক্ষা ও নিরাপদ পথ না থাকলে মানুষ জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলে বিপজ্জনক পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়। উদ্ধারের পরও আহত ও ক্লান্ত সবার জন্য নৌকা থেকে সরানো চিকিৎসা ও সহায়তার আহ্বান জানানো হয়েছে।

  • মহান মে দিবস আজ: শ্রমিক অধিকার ও পেশাগত সুরক্ষার ডাক

    মহান মে দিবস আজ: শ্রমিক অধিকার ও পেশাগত সুরক্ষার ডাক

    শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের দীর্ঘ সংগ্রামের স্মরণে আজ বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে মহান মে দিবস। বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে পালনকৃত এবারের অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য— ‘‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নব প্রভাত’’। দিবসটি বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৮০টির বেশি দেশে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালন করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে উদযাপিত হচ্ছে।

    দিবসটির ঐতিহাসিক সূচনা ঘটে ১৮৮৬ সালের ১ মে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে। শিল্প বিপ্লবের পরে শ্রমিকরা দিনে ১০–১৬ ঘণ্টা কাজ করতে বাধ্য হওয়ায় তারা দৈনন্দিন কর্মদিবস আট ঘণ্টায় সীমাবদ্ধ করার দাবিতে সংগঠিত হয়। ঐ বছরের ১ মে ব্যাপক ধর্মঘট ও বিক্ষোভ শুরু হয়; আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ৪ মে হে মার্কেটে বোমা বিস্ফোরণ ঘটে এবং পুলিশের গুলিতে বহু মানুষ আহত ও নিহত হন। পরে কয়েকজন শ্রমিকনেতাকে বিতর্কিতভাবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও প্রতিবাদকে জ্বালানি দেয়। ১৮৮৯ সালের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে গ্রহণের পর থেকে এই দিনটি বিশ্বজুড়ে শ্রমিক অধিকার ও ন্যায়তার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

    দিবসটি উপলক্ষে সকল গণমাধ্যম নানা রচনা ও অনুষ্ঠান প্রচার করবে। বাংলাদেশে সরকারি ছুটির পাশাপাশি কর্মসূচি, আলোচনা ও সমাবেশের মাধ্যমে দিনটি গুরুত্ব ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালিত হবে।

    রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন ‘মহান মে দিবস এবং জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে বলেছেন, দেশের উন্নয়নে শ্রমজীবী মানুষের অবদান অপরিসীম; শ্রমিকরাই দেশের অগ্রযাত্রার মূল চালিকাশক্তি। তিনি শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি করা এবং সামাজিক সুরক্ষা জোরদারের ওপর জোর দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি জানান, মালিক-শ্রমিক মধ্যে সুসম্পর্ক ও পেশাগত স্বাস্থ্য সুরক্ষার মাধ্যমে একটি শ্রমিকবান্ধব, মানবিক ও ন্যায়নিষ্ঠ রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বের অগ্রপংক্তিতে অবস্থান করবে—এটাই তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও মহান মে দিবস এবং পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস উপলক্ষে প্রদত্ত বাণীতে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি নিয়মিত মজুরি পর্যালোচনার মাধ্যমে ন্যায্য মজুরি ও নারী-পুরুষ সমান মজুরি নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। পাশাপাশি প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য আর্থিক সুরক্ষা ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতের লক্ষ্যে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও তিনি ব্যক্ত করেছেন।

    দিবসটি উপলক্ষে কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকাল ১০টায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এক আলোচনা সভা, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। সভার সভাপতি থাকবেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

    এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে নয়াপল্টনে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন তারেক রহমান। বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান জানান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ পর্যায়ের জাতীয় ও শ্রমিক নেতারা সেখানে বক্তব্য দেবেন এবং তারা লক্ষাধিক শ্রমজীবী মানুষের উপস্থিতির প্রত্যাশা করছে।

    মহান মে দিবস স্মরণ করিয়ে দেয় শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাস ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকারকে; একই সঙ্গে আজকের দিনে এই দাবিগুলোকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার আহ্বান আরও শক্তিশালী হবার উপযুক্ত মুহূর্ত।

  • চুয়াডাঙ্গায় ইউপি পরিষদে সংঘর্ষ: চেয়ারম্যান লোটাসকে ঘেরাও, দুই চেয়ারম্যানকে ধাওয়া

    চুয়াডাঙ্গায় ইউপি পরিষদে সংঘর্ষ: চেয়ারম্যান লোটাসকে ঘেরাও, দুই চেয়ারম্যানকে ধাওয়া

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুর ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান মোজাহিদুর রহমান জোয়ার্দ্দার (লোটাস) কে ঘেরাও করে রাখা এবং ইট-পাটকেল ছোড়াসহ বিরোধী লোকেরা হামলা চালানোর ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বেলা প্রায় ১১টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এসব ঘটনা ঘটে।

    ঘটনার বর্ণনায় জানা যায়, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জেলা প্রশাসন খাদিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোজাহিদুর রহমান জোয়ার্দ্দার লোটাসকে সাময়িকভাবে অপসারণ করে সেখানে প্রশাসক নিয়োগ দেয়। পরে চেয়ারম্যান হাইকোর্টে রিট করেন এবং আদালত তাকে পরিষদে বসে দাপ্তরিক কার্যক্রম চালানোর অনুমতি দেন।

    হাইকোর্টের নির্দেশের পর বৃহস্পতিবার সকালে লোটাস পরিষদে গিয়ে অফিস শুরু করলে স্থানীয় কিছু মানুষ সেখানে গিয়ে তাকে সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে। ঘিরে ধরে তাঁকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়া হয় এবং চেয়ারম্যানের কক্ষে ঢুকে চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করা হয়। কিছু সময় কক্ষে বন্ধ করে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন চেয়ারম্যান। পরে তার সমর্থকরাও ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলাকারীদের ধাওয়া করলে হামলাকারীরা পালানোর সময় পড়িয়ে রেখেযাওয়া চারটি মোটরসাইকেলে ভাঙচুর চালানো হয়।

    চেয়ারম্যান মোজাহিদুর রহমান জোয়ার্দ্দার বলেন, সকালে অফিস করছিলাম। কিছু লোক এসে আমাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়, দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে এবং কিছুক্ষণ কক্ষে আটকে রেখে হামলা চালায়। পুরো ঘটনা সিসিটিভি ক্যামেরায় রেকর্ড আছে, পরে আমার গ্রামের লোক এসে আমাকে উদ্ধার করে।

    একই সময়ে উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এজাজ ইমতিয়াজ বিপুল এবং কালিদাসপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শেখ আশাদুল হক মিকাও একই ধরনের বাধার সম্মুখীন হন। তারা respective পরিষদে বসে অফিস করতে গেলে স্থানীয়রা তাদের সরিয়ে দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় উভয়স্থলে থানা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

    চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, ঘটনাগুলো সম্পর্কে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। খাদিমপুর ঘটনায় জসিম নামের এক ব্যক্তিকে থানায় নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

    আলমডাঙ্গার সঙ্গে সম্পর্কিত আরও এক খবর হলো, হাইকোর্টের রিটের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন একইভাবে চিৎলা ইউপি চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান সরোয়ার, খাসকররা ইউপি চেয়ারম্যান তাসফির আহমেদ লাল ও ডাউকি ইউপি চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলামকেও ইউনিয়ন পরিষদে বসে দাপ্তরিক কার্যক্রম করার অনুমতি দিয়েছে।

    পুলিশি তৎপরতা ও স্থানীয় নেতাদের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি আপাতত শান্ত থাকলেও ঘটনাটি এলাকায় উত্তেজনা ও রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।