Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • আজিজ আহমেদের ভাই আনিস আহমেদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

    আজিজ আহমেদের ভাই আনিস আহমেদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

    রোববার ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মোঃ সাব্বির ফয়েজের আদালত সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব:) আজিজ আহমেদের ভাই আনিস আহমেদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। এই আদেশ দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দেয়া হয়েছে বলে আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোঃ রিয়াজ হোসেন তথ্য নিশ্চিত করেন।

    দুর্নীতির মাধ্যমে নিজ ও পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ সংক্রান্ত তদন্তের স্বার্থে আদালত এই নিষেধাজ্ঞার নির্দেশ দেন। দুদক সূত্রে জানা যায়, সংস্থাটির পক্ষে সহকারী পরিচালক সাজ্জাত হোসেন আনিস আহমেদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন।

    আবেদনে বলা হয়েছে, জেনারেল (অব:) আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে নিজ নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং বিভিন্ন ব্যাংক ও হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে উঠেছে যে তিনি মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও দুবাইয়ে ব্যবসা পরিচালনা ও বাড়ি ক্রয়সহ কয়েকটি লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

    বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, আজিজ আহমেদের সহযোগী হিসেবে পরিচিত তাঁর ভাই আনিস আহমেদ বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। সুষ্ঠু ও অবাধ তদন্ত নিশ্চিত করতে আদালত আনিসের দেশত্যাগ রাখা অপরিহার্য বলে বিবেচনা করেছেন। তদন্তকারীদের পর্যবেক্ষণ অনুসারে এই নিষেধাজ্ঞা আইনানুগ প্রক্রিয়া বজায় রেখে অনুসন্ধান সহজতর করবে।

  • গবেষণা: দেশের প্রায় ৪.৮৮ শতাংশ মানুষ মাদক ব্যবহার করে

    গবেষণা: দেশের প্রায় ৪.৮৮ শতাংশ মানুষ মাদক ব্যবহার করে

    সম্প্রতি এক জাতীয় গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ এক বা একাধিক ধরনের মাদক ব্যবহার করছে — যা দেশের মোট জনসংখ্যার আনুমানিক ৪.৮৮ শতাংশ। গবেষণায় মাদক ব্যবহারকারীদের বড় অংশ তরুণ এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ ১৮ বছর হওয়ার আগেই মাদক গ্রহণ শুরু করে।

    গবেষণার ফলাফল রবিবার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের কনফারেন্স হলে প্রকাশ করা হয়। ‘বাংলাদেশে মাদক অপব্যবহারকারী ব্যক্তিদের সংখ্যা, ধরন ও সংশ্লিষ্ট কারণসমূহ’ শীর্ষক এই গবেষণা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অর্থায়নে বিএমইউ ও রিসার্চ অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্টস লিমিটেড (আরএমসিএল) যৌথভাবে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত পরিচালনা করে।

    গবেষণায় দেশের আট বিভাগ থেকে ১৩ জেলা ও ২৬ উপজেলা মিলিয়ে ৫ হাজার ২৮০ জনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এ গবেষণায় পরিমাণগত (কোয়ান্টিটেটিভ) এবং গুণগত (কোয়ালিটেটিভ)অনুমোদিত পদ্ধতি দুটোই ব্যবহার করা হয়েছে।

    বিভাগভিত্তিক তুলনায় ময়মনসিংহে মাদক ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি (৬.০২ শতাংশ), তার পর রংপুর (৬.০০ শতাংশ) ও চট্টগ্রাম (৫.৫০ শতাংশ)। তুলনামূলকভাবে রাজশাহী (২.৭২ শতাংশ) ও খুলনায় (৪.০৮ শতাংশ) হার কম। সংখ্যার বিচারে সবচেয়ে বেশি মাদক ব্যবহারকারী বাস করেন ঢাকায় — প্রায় ২২.৮৭ লক্ষ; এরপর চট্টগ্রাম (প্রায় ১৮.৭৯ লক্ষ) ও রংপুর (প্রায় ১০.৮০ লক্ষ)। বিভাগের আনুমানিক সংখ্যা দেয়া হয়েছে: বরিশাল ৪,০৪,১১৮, চট্টগ্রাম ১৮,৭৯,৫০৩, ঢাকা ২২,৮৭,৯৭০, খুলনা ৭,২৬,২১০, ময়মনসিংহ ৭,৬০,৮১২, রাজশাহী ৫,৬৬,৫০৯, রংপুর ১০,৮০,৫৮৮ ও সিলেট ৪,৮৮,১৪১।

    প্রকারভেদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে গাঁজা সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত—প্রায় ৬১ লক্ষ মানুষ গাঁজা ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে ইয়াবা/মেথামফেটামিন (প্রায় ২৩ লক্ষ), মদ (প্রায় ২০ লক্ষ), এবং কোডিনযুক্ত কাশির সিরাপ, ঘুমের ওষুধ ও হেরোইনসহ অন্য পণ্য। গবেষণার প্রধান গবেষক, বিএমইউ’র ডিন অধ্যাপক ডাঃ সাইফউল্লাহ মুন্সী জানান, দেশের মাদক ব্যবহারে গাঁজার দখল সবচেয়ে বেশি, তার পরে ইয়াবা, হেরোইন, ফেন্সিডিল ও কোডিনজাত সিরাপের ব্যবহার লক্ষ্য করা গেছে।

    গবেষণায় আরও দেখা গেছে ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদকগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় ৩৯ হাজার — এ ধরনের ব্যবহারকারীরা এইচআইভি, হেপাটাইটিসসহ সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন।

    স্থানভিত্তিক বিশ্লেষণে বোঝা গেছে, যদিও শহরে মাদক ব্যবহারকারীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি, গ্রামাঞ্চলেও মাদকের বিস্তার দ্রুত বেড়েছে। গবেষকরা সতর্ক করেছেন, গ্রামীণ এলাকাতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনকভাবে খারাপ হচ্ছে।

    বয়সভিত্তিক তথ্য বলছে, মাদক ব্যবহারকারীর বেশিরভাগই তরুণ। প্রায় ৩৩ শতাংশ ব্যক্তি ৮ থেকে ১৭ বছর বয়সে শিশু অবস্থায় প্রথম মাদক গ্রহণ শুরু করেছে, আর ৫৯ শতাংশ প্রথম মাদক গ্রহণ শুরু করেছে ১৮–২৫ বছর বয়সে।

    গবেষণাপত্রে মাদকসেবনের প্রধান ঝুঁকিকর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বেকারত্ব, বন্ধুমহলের প্রভাব, আর্থিক অনিশ্চয়তা, পারিবারিক অস্থিরতা, মানসিক চাপ ও অনানুষ্ঠানিক পেশায় যুক্ত থাকা। প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, মাদক তাদের কাছে সহজলভ্য।

    প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মাদক সমস্যা শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়—এটি একটি বড় জনস্বাস্থ্য সংকট। প্রতিরোধ, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও সামাজিক পুনঃঅন্তর্ভুক্তির ওপর জোর দেয়া জরুরি। বিএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডাঃ মোঃ শাহিনুল আলম বলেন, মাদক প্রতিরোধে রাজনৈতিক দলগুলোরও বহুমুখী অঙ্গীকার প্রয়োজন; কোনো পরিবারের কেউই নিরাপদ নয়—সবারই ঝুঁকি রয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ হাসান মারুফ জানান, সামাজিক আন্দোলন ও সম্মিলিত উদ্যোগের মধ্য দিয়েই দেশের মানুষকে মাদক মুক্ত করা সম্ভব।

    অনুষ্ঠানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ গোলাম আজম, কো-ইনভেস্টিগেটর অধ্যাপক ডাঃ মোঃ তাজুল ইসলাম, কো-ইনভেস্টিগেটর ফোরকান হোসেন, বিএমইউ’র পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইরতেকা রহমান, অতিরিক্ত পরিচালক (সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল) ডাঃ মোঃ শাহিদুল হাসান বাবুল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    গবেষকরা শেয়ার করেছেন, অপরাধমূলক কড়া শাস্তি ছাড়াও ব্যাপক জনসচেতনতা, তরুণদের লক্ষ্য করে শিক্ষামূলক কার্যক্রম, সহজলভ্য চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবা, এবং মাদক সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত নীতি জরুরি—তবেই এই ক্রমবর্ধমান জনস্বাস্থ্যঝুঁকি সামাল দেয়া সম্ভব হবে।

  • ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিলেন তারেক

    ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিলেন তারেক

    বিএনপি নেতা তারেক রহমান নেতাকর্মী, সমর্থক ও ভোটারদের ভোট গণনা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ভোটকেন্দ্র ও ভোট বাক্স পাহারা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। রবিবার বিকেল সাড়ে আটটায় চৌদ্দগ্রামের স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এ আহ্বান জানান।

    সমাবেশে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের দিন আগে রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়বেন, এরপর ভোটকেন্দ্রের সামনে গিয়ে সবাই মিলে ফজরের জামাতে নামাজ আদায় করবেন এবং ফজরের নামাজের পর সরাসরি ভোটকেন্দ্রের সামনে দাঁড়িয়ে ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত পাহারা দিবেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, যাতে কেউ কোনো ষড়যন্ত্র করতে না পারে, কোনো প্রকার অনিয়ম বা জোরজবরদস্তি না ঘটে তাতে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

    তারেকের বক্তব্যে নেতাকর্মীরা সমর্থন জানালে তিনি ‘আলহামদুলিল্লাহ’ মন্তব্য করেন। সমাবেশে বিকাল থেকেই গ্রাম থেকে ছোট ছোট মিছিল হয়ে নেতা-কর্মীরা মাঠে জমায়েত হতে থাকেন এবং মাগরিবের নামাজের আগেই পুরো মাঠ জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

    কুমিল্লা-১১ আসন (চৌদ্দগ্রাম) এ বছর রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ আখ্যায়িত করেছেন তিনি। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী কামরুল হুদা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, আর জামায়াতের প্রার্থী হচ্ছেন দলের নায়েবে আমীর সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

    তারেক রহমান জানিয়েছেন, সরকার গঠনে পারলে বিএনপি তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে। কিছু লোক গত কয়েক দিন ধরে সামাজিকভাবে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে বলছে বিএনপি মানুষের সাথে ঠকাচ্ছে—এমন অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘আপনারা আমাকে চেনেন, আমাদের প্রার্থীকে চেনেন। মানুষকে ধোঁকা দিয়ে আমাদের কী লাভ? আমাদের আপনাদের কাছে আসতেই হবে, আমরা রাজনীতি করি—ভোট চাই।’’

    তিনি আরো বলেন, বিএনপি পূর্বে কয়েকবার দেশ পরিচালনা করেছে, তাই অভিজ্ঞতা আছে; পরিকল্পনা গ্রহণ করলে তা কিভাবে ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত করতে হবে সেটাও জানে। চৌদ্দগ্রামকে ‘শস্য ভাণ্ডার’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র চাষীদের জন্য কৃষক কার্ড দেওয়া, মসজিদ-মাদরাসার ইমাম-মোয়াজ্জিনদের সরকারি সম্মানী এবং তাঁদের জন্য অতিরিক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির কথা বলেছেন। এছাড়াও চৌদ্দগ্রামে খাল খননের কাজ করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন ভবিষ্যতে সরকার গঠিত হলে।

    সমাবেশে কথা বলার সময় তারেককে কাশির সমস্যা দেখা দিলে তিনি বলেছিলেন, ‘‘মাথায় ঠান্ডা লেগেছে, জ্বর আসছে—এজন্য জোরে কথা বলতে পারছি না। একটু ধীরে শুনেন।’’ তবে তা সত্ত্বেও তার বক্তব্যে জোরালো ন্যারেটিভ বজায় রেখেছেন।

    তিনি আরও মন্তব্য করেন, বিরোধীরা বিএনপির বিষয়ে বদনাম করছে — করুক, এতে আমাদের আপত্তি নেই; আমাদের কাজ দেশের জন্য, মানুষের জন্য কি করতে পারি সেই পরিকল্পনাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। দল সরকার গঠনে সক্ষম হলে ‘‘ওয়ান-টু-থ্রি’’ পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ শুরু করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন।

    সমাবেশ শেষে তারেক আরও কুমিল্লা ও চাঁদপুরের বিভিন্ন আসনে প্রার্থীদের নিয়ে মৌখিক সমর্থন ও প্রচার করেন। তিনি আগের ও পরের দিন চট্টগ্রাম পলোগ্রাউন্ড ময়দান, ফেনী পাইলট স্কুল মাঠ, চৌদ্দগ্রাম খেলার মাঠ ও সোয়াগাজী ডিগবাজি মাঠে বক্তব্য রাখেন। ভবিষ্যতে দাউদকান্দির কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ এবং নারায়ণগঞ্জের বালু মাঠেও সমাবেশ ও ভাষণ রাখার কথা রয়েছে।

    সমাবেশে তিনি আবারও ধানের শীষ প্রতীককে জোর দিয়ে দাবি করেন এবং ভোটারদের ওই প্রার্থীকে বিজয়ী করে তোলার আহ্বান জানান।

  • তারেক রহমান: বিএনপি ক্ষমতায় এলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে

    তারেক রহমান: বিএনপি ক্ষমতায় এলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে

    বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় এলে দলটি যে কোনও মূল্যে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে। তিনি এ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শনিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে।

    সভায় তারেক রহমান বলেন, আমরা যত মত পরিকল্পনা গ্রহণ করই না কেন, দুটি বিষয় ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না হলে সেই পরিকল্পনা সফল হবে না। তিনি বলেন, অতীতে বিএনপি প্রমাণ করেছে—এই বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণে শুধু বিএনপিই সক্ষম। তিনি এই দুইটি বিষয়কে আখ্যায়িত করেন জনগণের প্রাপ্য অধিকার; বিশেষ করে মানুষের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যাতে তারা নিরাপদে চলাফেরা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকরি নির্বাহ করতে পারে।

    দলের চেয়ারম্যান আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে আইনশৃঙ্খলা কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণ করবে। তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, অতীতে যখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল তখন অনৈতিক কাজে জড়িত দলের লোকদেরও ছাড় দেওয়া হয়নি। একই নীতি প্রয়োগ করে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে, যাতে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।

    তারেক রহমান সমাবেশে উপস্থিত জনতাকে সতর্ক করে বলেন, ‘‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি যেন কেউ আমাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে—সেজন্য সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।’’ তিনি যোগ করেন, চট্টগ্রামসহ দেশের মানুষ নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে চায়; একটি নিরাপদ চট্টগ্রাম হলে ব্যবসা-বাণিজ্য আরও গতিশীল হবে এবং জনজীবন স্বাভাবিক হবে।

    শিক্ষা খাতে পরিবর্তনের অঙ্গিকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, জনগণের সরকার গঠন করলে শিক্ষা ব্যবস্থাকে কার্যকরি ও দক্ষতাভিত্তিক করা হবে। সেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু সার্টিফিকেটই পাবেন না, বরং নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হবেন এবং সহজে চাকরি পাবেন—এটাই সরকারের লক্ষ্য হবে।

    স্বাস্থ্য খাত নিয়ে তিনি জানান, গ্রামে-গ্রামে নারীর এবং শিশুর স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এক লাখ স্বাস্থ্যসেবী নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হবে। এর ফলে মা-বোন ও শিশুরা ঘরে বসেই প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সেবা পাবে। সম্পূর্ণ শারীরিক অবকাঠামো নির্মাণের পরিবর্তে সেবা পৌঁছে দেওয়া তাদের অগ্রাধিকার হবে।

    দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও কৃষক সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। কৃষি উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের হাতে ‘কৃষক কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে তারা প্রয়োজনীয় সার, বীজ ও যন্ত্রপাতি পায়। চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা দূর করতে খাল-নালা খনন এবং পুনরুদ্ধারের কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

    চট্টগ্রামের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান সম্পর্কিত পরিকল্পনায় তিনি বলেন, বিএনপির আমলে ইপিজেড তৈরি হয়ে লাখো মানুষকে কাজ করেছে—পুনরায় ক্ষমতায় এলে আরও ইপিজেড স্থাপন করা হবে এবং চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানীতে রূপান্তর করা হবে।

    তারেক রহমান শনিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামে পৌঁছান। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিজি-১৪৭ তিনি সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে সরাসরি রেডিসন ব্লু হোটেলে যান এবং সেখানে রাত্রিযাপন করেন। দলের সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে তিনি তরুণদের সঙ্গে পলিসি ডায়ালগে অংশ নেন এবং পরে পলোগ্রাউন্ডের মহান সমাবেশে যোগ দেন। চট্টগ্রাম সফর শেষে ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে পথসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

    সমাবেশকে কেন্দ্র করে নগরী কঠোর নিরাপত্তার আওতায় রাখা হয়েছিল; প্রায় দুই হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন হয়েছিল এবং মঞ্চসহ এলাকা তিন স্তরে ভাগ করে রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোন নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

    সমাবেশে তারেক রহমান ব্রিটিশ বাংলায় মতপ্রকাশ ও পরিকল্পনাগুলো তুলে ধরেন এবং জনসমক্ষে আরও একবার বিএনপির প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন যে—দুর্নীতি প্রতিরোধ ও মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা তাদের সরকারের শীর্ষ অগ্রাধিকার থাকবে।

  • স্বর্ণের দাম ভাঙল সব রেকর্ড: এক ভরি ২ লাখ ৫৭ হাজার ১৯১ টাকা

    স্বর্ণের দাম ভাঙল সব রেকর্ড: এক ভরি ২ লাখ ৫৭ হাজার ১৯১ টাকা

    দেশের বাজারে সোনার দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছে ইতিহাসের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। ২২ ক্যারেট তথা সবচেয়ে ভালো মানের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম বাড়িয়ে ১ হাজার ৫৭৪ টাকা করা হলে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৭ হাজার ১৯১ টাকা।

    এই দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পাকা সোনা) মূল্য বাড়াকে জোর দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, এই নতুন দাম সোমবার (২৬ জানুয়ারি) থেকে কার্যকর হবে।

    বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং ও প্রাইস মনিটরিংয়ের বৈঠকে রোববার এই দাম বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডাঃ দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

    বিবরণ অনুযায়ী অন্যান্য মানের সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে এভাবে:

    – ২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ১ হাজার ৫১৬ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ২ লাখ ৪৫ হাজার ৫২৭ টাকা।

    – ১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ১ হাজার ২৮৩ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ২ লাখ ১০ হাজার ৪১৯ টাকা।

    – সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ১ লাখ ৭২ হাজার ৯১৯ টাকা।

    সোনা ছাড়াও রূপার দামও বাড়িয়ে দিয়েছে বাজুস:

    – ২২ ক্যারেট রুপা: প্রতি ভরি ৩৫০ টাকা বাড়িয়ে ৭ হাজার ২৩২ টাকা।

    – ২১ ক্যারেট রুপা: প্রতি ভরি ৪০৮ টাকা বাড়িয়ে ৬ হাজার ৯৪০ টাকা।

    – ১৮ ক্যারেট রুপা: প্রতি ভরি ৩৫০ টাকা বাড়িয়ে ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা।

    – সনাতন পদ্ধতি রুপা: প্রতি ভরি ২৩৩ টাকা বাড়িয়ে ৪ হাজার ৪৩২ টাকা।

    গত কয়েক সপ্তাহে সোনার দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে — এ মাসেই ইতোমধ্যে নানা দিনে বাড়ানো হয়েছে দাম; ২২ জানুয়ারি ৮ হাজার ৩৯৯ টাকা, ২১ জানুয়ারি ৫ হাজার ২৪৯ টাকা, ২০ জানুয়ারি ৪ হাজার ১৯৯ টাকা, ১৫ জানুয়ারি ২ হাজার ৬২৫ টাকা, ১৩ জানুয়ারি ৪ হাজার ১৯৯ টাকা এবং ১১ জানুয়ারি ১ হাজার ৫০ টাকা। এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি গ্রাহক ও গহনা ব্যবসায়ীদের ওপর তাত্ক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে।

  • ট্রাম্পের শুল্কের চেয়েও বেশি বিপজ্জনক হতে পারে চীনের বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত

    ট্রাম্পের শুল্কের চেয়েও বেশি বিপজ্জনক হতে পারে চীনের বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত

    ২০২৬-এর শুরুতেই চীনের সাম্প্রতিক বাণিজ্য পরিসংখ্যান বিশ্ব অর্থনীতির মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। ২০২৫ সাল জুড়ে শুল্কযুদ্ধের চাপ থাকা সত্ত্বেও চীনের রপ্তানি না কমে বেড়েছে এবং দেশটির বার্ষিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রেকর্ড—প্রায় 1.2 ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার—অন্তর্জাতিকভাবে নজির সৃষ্টি করেছে।

    এই তথ্য প্রকাশিত হতেই কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন কর্নেল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের সিনিয়র ফেলো ঈশ্বর প্রসাদ। তিনি নিউ ইয়র্ক টাইমসে মন্তব্য করেছেন যে, মুক্ত বাণিজ্য রক্ষার দিক থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কের চেয়েও বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে চীনের এত বড় বাণিজ্য উদ্বৃত্ত। তার যুক্তি—চীনের সস্তা পণ্য শুধু উন্নত দেশগুলোর শিল্পকে নয়, নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোর শিল্পকেও প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়া কঠিন করে তুলছে; এতে বিশ্ব বাণিজ্যের নিয়ম-নীতি ভঙ্গের ঝুঁকি বাড়ছে।

    অন্যদিকে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসের সাবেক প্রধান সম্পাদক হু সিজিন সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। তিনি মনে করেন, এই উদ্বৃত্ত ওয়াশিংটনের অভিজাত শ্রেণিকে আতঙ্কিত করেছে, কারণ চীনের অর্থনীতি অত্যন্ত স্থিতিস্থাপক এবং কোনো বাণিজ্য যুদ্ধ দিয়েই সহজে দমন করা যায় না। হু সিজিন আরও জানান যে, চীনের পণ্য রপ্তানি জোর করে বা বাধ্য করে নয়—এগুলো বাজারে প্রতিযোগিতায় জিতেছে সততা, সাশ্রয়ী মূল্য ও শ্রমঘন উৎপাদনের কারণে।

    এই রেকর্ড উদ্বৃত্তের পেছনে মূল কারণগুলো স্পষ্ট: শক্তিশালী রপ্তানি প্রবাহ আর দুর্বল আমদানি। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রপ্তানি প্রায় ২০% কমলেও আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকা, আসিয়ান ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে—আফ্রিকায় রপ্তানি বেড়েছে রেকর্ড ২৫.৮%। একদিকে বিশ্বব্যাপী চাহিদা স্থিতিশীল থাকার পাশাপাশি ইউয়ানের দুর্বলতা ও চীনের মুদ্রাসঙ্কোচন চীনা পণ্যের আন্তর্জাতিক মূল্যে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা দিয়েছে।

    অন্যদিকে, ২০২৫ সালে চীনের মোট আমদানি মাত্র 0.5% বাড়ে—রপ্তানির 6.1% বৃদ্ধির তুলনায় অনেক কম। অভ্যন্তরীণ চাহিদার অনির্দিষ্টতা, ভোক্তা গৃহীত ব্যয় কমে যাওয়া ও বিনিয়োগে মন্দা আমদানির মন্থরতার মূল কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে। ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে ভোক্তা পণ্যের খুচরা বিক্রির বৃদ্ধির হার ধারাবাহিকভাবে কমে আসে; বিশেষ করে নভেম্বর মাসে বৃদ্ধি ছিল কেবল 1.3%, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। আবাসন খাতের সংকটও বিনিয়োগকে চাপে রেখেছে এবং ধারণা করা হচ্ছে ১৯৯৮ সালে তথ্য সংগ্রহ শুরু করার পর প্রথমবারের মতো বার্ষিক বিনিয়োগে পতন আসতে পারে।

    আরেকটি উদ্বেগজনক সূচক—২০২৫ সালের সাত মাহে চীনের মাসিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত প্রতিটি মাসেই ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল; তুলনায় ২০২৪ সালে এটি কেবল একবার ঘটেছিল। এই ধারাবাহিকতা দেখায় যে, শক্তিশালী রপ্তানি ও কাঁচামাল-নির্ভর আমদানির কমতি কোনো সংক্ষিপ্ত কার্যকর নয়, বরং কাঠামোগত প্রবণতা।

    এই অবস্থার সুবিধা ও অসুবিধা দুটোই রয়েছে। শক্তিশালী রপ্তানি চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে সমর্থন করছে এবং বিশ্বে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য সরবরাহ করে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করছে—বিশেষ করে উন্নত দেশগুলোর দামের চাপ কমাতে চীনা পণ্যের বড় ভুমিকা থাকতে পারে। কিন্তু উদ্বৃত্তের ধারাবাহিকতা চীনের ওপর রপ্তানিমুখী অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা নির্দেশ করছে। যদি অভ্যন্তরীণ ভোক্তা ও বিনিয়োগ বাড়ানো না যায়, তাহলে চীন এমন এক চক্রে আটকে যেতে পারে যেখানে বৈশ্বিক চাহিদা ভালো থাকা সত্ত্বেও দেশীয় চাহিদা দুর্বল থেকে যায়। আন্তর্জাতিক স্তরেও এ ধরনের ভারসাম্যহীনতা বাণিজ্য অংশীদারদের ক্ষুব্ধ করতে পারে এবং চীনা পণ্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ বা শুল্ক আরোপ বাড়িয়ে দিতে পারে।

    আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়াও শুরু হয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা সতর্ক করেছেন যে, যদি চীন রপ্তানিমুখী প্রবৃদ্ধি মডেলে অনড় থাকে, তবে তা বিশ্ব বাণিজ্যে উত্তেজনা বাড়াতে পারে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁও বলছেন, যদি বেইজিং ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যিক ভারসাম্য নিরসনে ব্যর্থ হয়, তাহলে ইইউকে চীনা পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করতে হতে পারে।

    বেইজিং নিজেও নীরবে বসে নেই। গুয়াংডং পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং বলেছেন, আমদানির পরিধি বাড়ানো এবং আমদানি-রপ্তানির মধ্যে সমতা কায়েম করা জরুরি। বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাওও ঘোষণা দিয়েছেন যে, চলতি বছরে বাণিজ্য মেলা ও লক্ষ্যভিত্তিক ক্রয়ের মাধ্যমে আমদানির পরিমাণ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হবে। পাশাপাশি চীন শুরু করেছে কিছু নীতিগত বদলে—২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে ফটোভোলটাইক পণ্যের ওপর রপ্তানি ভ্যাট রিবেট বাতিল করা হচ্ছে; ব্যাটারি পণ্যের ক্ষেত্রে রিবেটের হারও ধাপে ধাপে কমিয়ে আনা হবে। তদুপরি, চীন ও ইইউয়ের মধ্যে বৈদ্যুতিক যানবাহনের শুল্ক নিয়ে একটি সমঝোতা হয়েছে, যেখানে চীনা নির্মাতারা অ্যান্টি-সাবসিডি শুল্কের বদলে ন্যূনতম মূল্য বজায় রাখার শর্তে ব্যবসা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

    শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন থেকেই যায়—এই বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত কি চীনের ও বিশ্বের জন্য আশীর্বাদ, নাকি অভিশাপ? উত্তর নির্ভর করছে—রপ্তানি থেকে অর্জিত আয় কি চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারে ফিরছে, তা কি আমদানিকে ত্বরান্বিত করছে, এবং বাজারগুলো কীভাবে আরও উন্মুক্ত হচ্ছে। বাস্তবে উত্তর সম্ভবত একদম ধ্রুব নয়: হু সিজিনের তুলনায় অতটা আশাব্যঞ্জক নাও হতে পারে, আর প্রসাদের মতো আতঙ্কিত হওয়ার কথাও সবক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে চীনের নীতিতে—কি করে তারা আমদানি বাড়ায়, অভ্যন্তরীণ চাহিদি জাগায় এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের সঙ্গে সমন্বয় করে। সূত্র: বিজনেস টাইমস।

  • বিবিসির প্রখ্যাত সাংবাদিক ও একাত্তরের বন্ধু মার্ক টালি আর নেই

    বিবিসির প্রখ্যাত সাংবাদিক ও একাত্তরের বন্ধু মার্ক টালি আর নেই

    বিবিসির প্রখ্যাত সাংবাদিক ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের পাশে থাকা মার্ক টালি আর নেই। রোববার দিল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি; বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।

    টালির মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন তাঁর সাবেক সহকর্মী সতীশ জ্যাকব। ব্রিটিশ-ভারতীয় এই সাংবাদিক দীর্ঘ সময় ধরে বিবিসির দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করেছেন এবং দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে খবর সংগ্রহ করতেন। নয়া দিল্লিতে তিনি প্রায় ২০ বছর বিবিসির দক্ষিণ এশিয়া করেসপন্ডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    ৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে বিবিসি রেডিওতে মার্ক টালির প্রতিবেদনের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। পাকিস্তানি বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ ও বাঙালির দুর্দশার চিত্র বিশ্বের শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর রিপোর্টই ছিল অন্যতম প্রধান উৎস। তিনি ১৯৭১ সালের এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে তখনকার পূর্ব পাকিস্তানে এসে ঢাকা থেকে সড়ক পথে রাজশাহী পর্যন্ত যাত্রা করেছিলেন। সেই সফরটি ছিল বিশেষ—পাকিস্তানী কর্তৃপক্ষ তখনই দু’জন সাংবাদিককে বাংলাদেশে আসার অনুমতি দিয়েছিল।

    টালি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যখন সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছে এবং মনে করেছিল তারা পরিস্থিতা নিয়ন্ত্রণে রেখেছে, তখন আমাদের ঢুকতে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। আমার সঙ্গে তখন ব্রিটেনের টেলিগ্রাফ পত্রিকার যুদ্ধবিষয়ক সংবাদদাতা ক্লেয়ার হলিংওয়ার্থ ছিলেন।’ তিনি আরও জানিয়েছিলেন, স্বাধীনভাবে প্রতিকূল এলাকার পরিস্থিতি দেখে তাদের রিপোর্টের বিশেষ গুরুত্ব তৈরি হয়েছিল এবং তিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়ক ধরে রাজশাহীর পথে গ্রামগুলো জ্বলন্ত অবস্থায় দেখেছেন।

    ১৯৩৫ সালের ২৪ অক্টোবর কলকাতার টালিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন মার্ক টালি। বিবিসি থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে কাজ চালিয়ে যান। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১২ সালে তাকে ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’ দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছিল।

    মার্ক টালির নিষ্ঠা ও সাহসী সাংবাদিকতার উদ্যোগ অনেকের কাছে স্মরণীয় থাকছে। একজন আন্তর্জাতিক সাংবাদিক হিসেবে তিনি যে সত্যকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরেছিলেন, সেটাই তাঁর সবচেয়ে বড় কর্মফল এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে তাঁর অনবদ্য অবদান বজায় থাকবে।

  • জাভায় ভয়াবহ ভূমিধস: মৃত ১১, নিখোঁজ প্রায় ৭৯

    জাভায় ভয়াবহ ভূমিধস: মৃত ১১, নিখোঁজ প্রায় ৭৯

    ইন্দোনেশিয়ার প্রধান দ্বীপ জাভায় তীব্র বৃষ্টিপাতের ফলে প্রকাণ্ড একটি ভূমিধসে কমপক্ষে ১১ জন মারা গেছেন এবং প্রায় ৭৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে রোববার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে।

    পশ্চিম জাভার মাউন্ট বুড়াংরাং ঢাল থেকে নামা এই ধসে পাসির লানগু গ্রামের ৩৪টি বাড়ি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। ঘরবাড়ি কাদা, বড় বড় পাথর ও উপকুলীয় গাছের নিচে চাপা পড়ায় বহু মানুষ আটকে পড়েছে। স্থানীয়রা অনেককে তৎক্ষণাতই অস্থায়ী সরকারি আশ্রয়ে সরিয়ে এনেছেন।

    উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকে হাতে-কলমে ও কৃষিকাজের সরঞ্জাম ব্যবহার করে আটকে থাকা মানুষদের বের করার চেষ্টা করছেন। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, কাদায় ঢেকে থাকা মরদেহ ও আহতদের বের করতে হাতে খুঁটিনাটি সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে। ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা প্রায় অসম্ভব কারণ ভূমি খুবই নরম ও অস্থিতিশীল; তাই উদ্ধারকর্মীরা কাদা মধ্যে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছেন।

    ইন্দোনেশিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট গিবরান রাকাবুমিং রাকা শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেছিলেন যে দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় ভূমি ব্যবস্থাপনা ও পুনর্বিন্যাসকে গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি স্থানীয় প্রশাসন, বিশেষ করে পশ্চিম জাভা ও পশ্চিম বন্দুংকে সতর্ক করে বলেন যে ভূমি পরিবর্তন ও অযত্নের কারণে ঝুঁকি বাড়ছে, সেগুলো মেটাতে ব্যবস্থা নিতে হবে।

    বসার্নাস (জাতীয় উদ্ধারদল) প্রধান মোহাম্মদ শাফি জানান যে খারাপ আবহাওয়া ও বিস্তীর্ণ ভূপ্রকৃতি উদ্ধারকার্যকে জটিল করেছে। ধস এখনও চলমান ও ভূপৃষ্ঠ অস্থিতিশীল থাকায় কাজ খুব সতর্কতার সঙ্গে করতে হচ্ছে। তিনি জানান, ড্রোন, খোঁজকারী কুকুর ও সকল উপলব্ধ সম্পদ ব্যবহার করা হচ্ছে, তবে উদ্ধারকাজে আগে নিরাপত্তাই নিশ্চিত করা হবে।

    ইন্দোনেশিয়ায় সাধারণত অক্টোবর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত মৌসুমি বৃষ্টিপাত ও উচ্চ জোয়ারের কারণে নানাদিক থেকে বন্যা ও ভূমিধস ঘটে। দেশটি ১৭ হাজারেরও বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত এবং বহু মানুষ পাহাড়ি ও উপকূলীয় এলাকায় বসবাস করে। এই ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রা সরাসরি প্রভাবিত করে এবং উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে সময় বেশি লাগে।

    স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও উদ্ধারদল ঘটনাস্থলে সক্রিয়ভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের তাত্ক্ষণিক চিকিৎসা ও আশ্রয়ের বন্দোবস্ত করা হচ্ছে, পাশাপাশি নিখোঁজদের খোঁজে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।

  • খুলনায় ৫০ বছরে সমুদ্রসদৃশ লবণাক্ততার আশঙ্কা, সুন্দরবন ও কৃষি ঝুঁকিতে

    খুলনায় ৫০ বছরে সমুদ্রসদৃশ লবণাক্ততার আশঙ্কা, সুন্দরবন ও কৃষি ঝুঁকিতে

    চলমান তৃতীয় উপকূলীয় পানি সম্মেলনে পানি ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, আগামী ৫০ বছরের মধ্যে খুলনা শহরের পানির লবণাক্ততা সমুদ্রের পানির কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি উৎপাদনে বিপুল ক্ষতি হতে পারে।

    রোববার খুলনার সিএসএস আভা সেন্টারে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে গবেষক, নীতিনির্ধারক, উন্নয়নকর্মী ও সাংবাদিকরা গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা আদানপ্রদান করেন। সম্মেলনের উদ্বোধনী প্লেনারি সেশনে বিশেষ অতিথি ড. আইনুন নিশাত এই ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন এবং লবণাক্ততা বৃদ্ধির ফলে ঘটতে পারে এমন প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক করেন।

    ড. নিশাত উল্লেখ করেন, লবণাক্ততা বাড়লে সুন্দরবনে সুন্দরী গাছ কমে গিয়ে গরান গাছের আধিপত্য বাড়বে। এছাড়া লবণসহিষ্ণু কীটপতঙ্গসহ বিভিন্ন প্রজাতির ধারা পরিবর্তিত হবে, যা অঞ্চলটির জৈববৈচিত্র্যে বড় ধরনের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনবে। একই সঙ্গে প্রচলিত কৃষি ফসলের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে — সম্ভাব্যভাবে অর্ধেকের কাছাকাছি নেমে আসার আশঙ্কাও রয়েছে।

    তিনি বলেন, এই সংকট মোকাবিলায় দ্রুত উপকূল রক্ষা বাঁধ মেরামত করা এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পৃষ্ঠস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিতেই হবে। পানির উৎসগুলোর সুরক্ষা না করলে ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের মানুষকে টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

    সম্মেলনের বিভিন্ন সেশনে ডিস্যালিনেশন, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, নিরাপদ পানির প্রযুক্তি, পানি দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস ঝুঁকি, জিআইএসভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ, নগর পানি ব্যবস্থাপনা এবং নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর পানি সংকটের বাড়তি প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    বক্তারা জানান, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নিরাপদ পানির সংকট ক্রমেই মানবিক ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বিকল্প না থাকায় অনেক মানুষ লবণাক্ত পানি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক স্বাস্থ্যসমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

    একই সঙ্গে সম্মেলনে পানি ন্যায়বিচারকে মৌলিক মানবাধিকারের অংশ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলা হয়, সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। স্থানীয় থেকে জাতীয় পর্যায়ে নীতিগত দুর্বলতা কাটিয়ে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

    তৃতীয় উপকূলীয় পানি সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং জাতীয়-আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনে উঠে এসেছে রাজনৈতিক সহযোগিতা, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং স্থানীয় জ্ঞানকে একসঙ্গে কাজে লাগিয়ে উপকূলীয় পানিসংকট মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তা।

  • রকিবুল বকুলের আহবান: ১২ ফেব্রুয়ারি সতর্ক থাকুন — খুলনার উন্নয়ন ও ভোটাধিক্য রক্ষায়

    রকিবুল বকুলের আহবান: ১২ ফেব্রুয়ারি সতর্ক থাকুন — খুলনার উন্নয়ন ও ভোটাধিক্য রক্ষায়

    কেন্দ্রীয় বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনে ‘ধানের শীষ’ প্রার্থীর সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সংসদ নির্বাচনের সময় স্থানীয় ভোটার ও দলীয় নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বিগত দিনের মতো পবিত্র ভোটের অধিকার আর কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।

    রবিবার যোগীপোল ইউনিয়নের ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের আয়োজিত ধারাবাহিক পথসভা ও গণসংযোগে এসব বক্তব্য দেন বকুল। একই দিনে খানজাহান আলী থানার আয়োজনে অনুষ্ঠিত দোয়া ও আলোচনা সভায় তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন; সেখানে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাতের জন্য দোয়া করা হয়।

    বকুল বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি আমাদের জন্য এক অগ্নিপরীক্ষা। কোনো অশুভ শক্তি বা স্বার্থান্বেষী মহল সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার হরণ করতে পারবে না—এ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য পাড়া-পাড়া অতন্দ্র প্রহরীর মতো সতর্ক থাকতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘদিন গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল; এবার সেই অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার সময় এসেছে।

    খুলনার সার্বিক উন্নয়ন ও শান্তি-শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বকুল বলেন, খুলনা ঐতিহ্যবাহী শিল্প-ব্যবসায়িক শহর; এর সমৃদ্ধি স্থিতিশীল পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে খুলনার মানুষ নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিরতা থেকে মুক্তি চায়—তারা নিরাপদ পরিবেশে বসবাস, বিনিয়োগ ও জীবিকা নির্বাহে সক্ষম হতে চায়।

    তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফিরিয়ে আনার কাজ করা হবে। ‘শহর নিরাপদ থাকলে ব্যবসা-বাণিজ্য আরও গতিশীল হবে,’ বলেও মন্তব্য করেন বকুল। খুলনার খালিশপুর, দৌলতপুর ও খানজাহান আলী থানার শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য হবে। তিনি বলেন, তারা এমন এক খুলনা চান যেখানে কেউ কারো অধিকার হরণ করতে পারবে না এবং আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হবে।

    অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন খানজাহান আলী থানা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মীর কায়ছেদ আলী। সভার সভাপতি ছিলেন ৮নং ওয়ার্ড নির্বাচন কমিটির আহ্বায়ক মোসাদ্দেক আলী বিশ্বাস। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী, সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মোঃ চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন, খানজাহান আলী থানা বিএনপির সভাপতি কাজী মিজানুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ হাওলাদার আব্বাস।

    এর পাশাপাশি ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শেখ তৈয়েবুর রহমান, ইমাম হাফেজ মাওলানা মফিজুর রহমান, ৯নং ওয়ার্ড সদস্য সচিব মোঃ মাহবুব শেখ, ৮নং ওয়ার্ড সদস্য সচিব মোজাফ্‌ফর হোসেনসহ থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের অনেক নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আয়োজিত দোয়া-মাহফিল ও পথসভায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নেন; তারা ধানের শীষের পক্ষে স্লোগান দিয়ে এলাকাকে মুখরিত করে তোলে এবং ১২ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় পাহারা রেখে ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার করে।