Category: জাতীয়

  • জয় ও পলকের বিরুদ্ধে পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণ ১৬ এপ্রিল নির্ধারণ

    জয় ও পলকের বিরুদ্ধে পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণ ১৬ এপ্রিল নির্ধারণ

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আগামী ১৬ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, দেশের গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যাযজ্ঞকে সহজতর করা হয়েছিল।

    রোববার (১২ এপ্রিল) ট্রাইব্যুনালে তৃতীয় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ইমদাদুল হক মোল্লা। তিনি বলেন, চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের সময় ইন্টারনেট সেবা সরকারী সিদ্ধান্তে বন্ধ ছিল।

    ইমদাদুল জবানবন্দিতে আরও জানান, আগুন লেগেছিল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ভবনে; সরাসরি কোনো ডাটা সেন্টারে নয়। তবে কিছু ফাইবার অপটিক ক্যাবল পুড়ে যাওয়ার ফলে ট্রান্সমিশনে বাধা দেখা দিয়েছিল। তার যুক্তি ছিল, একটি ডাটা সেন্টার বন্ধ হলেও সারাদেশে সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ব্যাহত হওয়া উচিৎ ছিল না, কারণ দেশে আরও ১৫-১৬টি ডাটা সেন্টার রয়েছে।

    জবানবন্দি শেষে সাক্ষীকে জেরা করেন পলকের আইনজীবী লিটন আহমেদ। এই মামলায় সজীব ওয়াজেদ জয় পলাতক রয়েছেন; তার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলম আইনি লড়াই করছেন। অপর আসামি জুনায়েদ আহমেদ পলক বর্তমানে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।

    পেছনের ঘটনাপট: গত ১৮ ফেব্রুয়ারি এই মামলায় প্রসিকিউশন পক্ষে আদালতে সূচনা বক্তব্য পেশ করা হয়, যেখানে জয় ও পলককে জুলাই গণহত্যার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। এর আগে ২১ জানুয়ারি আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে এবং মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।

    প্রসিকিউশনের দাবি, গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ সজীব ওয়াজেদ জয়ের কাছ থেকেই চলে এবং তা বাস্তবায়ন করতেন জুনায়েদ আহমেদ পলক; তাদের এই কর্মকাণ্ড মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়ে। কিন্তু আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

    ট্রাইব্যুনাল ৪ ডিসেম্বর এই মামলার অভিযোগ গ্রহণ করে; ওই দিন জয়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়া্না জারি করা হয় এবং পলককে ওই ঘটনার মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার দেখানো হয়। ট্রাইব্যুনালে তাদের বিরুদ্ধে মোট তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১৬ এপ্রিল।

  • মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলে দেওয়ার চেষ্টা জোরদার করছে সরকার: মাহদী আমিন

    মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলে দেওয়ার চেষ্টা জোরদার করছে সরকার: মাহদী আমিন

    প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানোর কার্যক্রম দ্রুত পুনরায় শুরু করতে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। রোববার (১২ এপ্রিল) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

    উপদেষ্টা বলেন, শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়াটি কম খরচে এবং সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালিত হবে—এটি নিশ্চিত করতে সরকার ইতোমধ্যেই নানা উদ্যোগ নিয়েছে। যাতে কোনো সিন্ডিকেট বা অনিয়ম প্রবেশ করতে না পারে, সে লক্ষ্যে মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

    তিনি জানান, বিষয়টি দুই দেশের সরকারের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ এবং উভয় পক্ষই ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যেমন আগ্রহী, তেমনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীও সহযোগিতামূলক নিরাপত্তা ও বিধি-বিধানের তাগিদ দিয়েছেন।

    শ্রমিক পাঠানো কখন থেকে শুরু হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন বলেন, পুরো প্রক্রিয়াটি এখনও চলমান। তবে যত দ্রুত সম্ভব কার্যক্রম পুনরায় চালু করার জন্য সব সংশ্লিষ্ট দিক মাথায় রেখে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

    মামলা সংক্রান্ত প্রসঙ্গ ছোঁড়া হলে তিনি বলেন, দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত রয়েছে এবং বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করছে; অপরাধে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে এবং নির্দোষদের ন্যায়বিচার পাওয়া যাবে।

    ক্রেডিবল রিক্রুটমেন্ট এজেন্সির প্রসঙ্গে তিনি জানান, এটি কোনো নতুন সিন্ডিকেট গঠনের উদ্যোগ নয়। মালয়েশিয়ার জন্য শ্রমিক নিয়োগসহ সব দেশের ক্ষেত্রে একই মানদণ্ড প্রয়োগ করা হবে এবং এজেন্সি নির্বাচন নির্দিষ্ট যোগ্যতার ভিত্তিতেই করা হবে।

    উপদেষ্টা আরও বলেন, স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে ধীরে ধীরে প্রবাসী ব্যয়ের বোঝা কমানো হবে এবং বেশি মানুষের বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে। সরকারের লক্ষ্যই হল সিন্ডিকেট ভেঙে দেয়া এবং প্রবাসী কর্মসংস্থানের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।

  • শুধুমাত্র করোনার বিরুদ্ধে নয়, হাম ও রুবেলার বিরুদ্ধে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার

    শুধুমাত্র করোনার বিরুদ্ধে নয়, হাম ও রুবেলার বিরুদ্ধে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার

    স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত বলেছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দেশের হামের প্রাদুর্ভাব রোধে সরকার দৃढ़ভাবে কাজ করছে। তিনি জানান, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে ১৮টি জেলাকে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে ৩০টি উপজেলাকে শনাক্ত করা হয়েছে। এসব অঞ্চলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ৫ এপ্রিল থেকে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

    রোববার (১২ এপ্রিল) রাজধানীর কড়াইলের এরশাদ মাঠে হাম-রুবেলার টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান। অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত বলেন, পর্যায়ক্রমে ঢাকার বড় সিটি কর্পোরেশনসহ অন্যান্য এলাকায়ও এই টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে। আগামী ২০ তারিখ থেকে বাংলাদেশের সব জেলায় এই হামের টিকাদান অভিযান চালানো হবে।

    তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে আমাদের দ্রুত এই কাজগুলো সম্পন্ন করতে হবে। জনগণের কাছে আমাদের বার্তা পৌঁছে দিতে হবে যে, আমরা সবাই একসঙ্গে এই মহামারি থেকে মুক্তি পেতে সংগ্রাম করছি। জনগণের স্বপ্ন ছিল, স্বৈরাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, সেটি ধরে রাখতে আমাদের এই কাজগুলো গুরুত্বপূর্ণ।

    স্বাস্থ্যপ্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, আমরা জনগণের জন্য সব সময় নিবেদিত থাকি। তাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ও তাদের কাজের ফল দেখানোর মাধ্যমে আমাদের বিশ্বাস আরও জোরদার হচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য নিয়ে আমরা গভীরভাবে সচেতন।

    তিনি বলেন, অনেক সময় মানুষ বলে থাকেন, রাজনীতিবিদরা নির্বাচনের সময় উপস্থিত হয়, তারপর তারা কম যায়। এই ক্যাম্পেইনটি তাই এক সুযোগ, যাতে আমরা সাধারণ মানুষের মধ্যে সত্যিকারের তথ্য পৌঁছে দিতে পারি।

    অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত বলেন, সঠিক তথ্য দিয়ে যখন জনগণের কাছে যাব, তখন তারা সত্যটি বুঝতে পারবে। অতীতেও আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার হয়েছে, এখনও হচ্ছে, তবে সাধারণ মানুষ এখন অনেক সচেতন।

    মায়েদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যারা ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুকে দেখছেন, তাদের অবশ্যই এই টিকা দিতে হবে। এই টিকা কতটা কার্যকর, তা নির্ভর করছে আপনার শিশুটি এই টিকা নিয়েছে কি না। এই টিকা ছাড়া আমাদের সন্তানের নিরাপত্তা সম্ভব নয়।

    প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, হাম সংক্রমণ দ্রুত ছড়ায়, তাই সময়মতো টিকা দিয়ে এটি প্রতিরোধ করাও সহজ। এটি মূলত গোষ্ঠী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, যার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট জনসংখ্যার বড় অংশকে টিকার মাধ্যমে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করা হয়। বেশি সংখ্যক শিশুকে টিকাদানে সফল হলে হাম করার সুযোগ কমে যাবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন বলেন, ডিএনসিসির নিজস্ব কোনও জেনারেল হাসপাতাল নেই, তবে মহাখালীতে আমাদের একটি হাসপাতাল রয়েছে, যা বর্তমানে কোভিড হাসপাতালে স্থানান্তরিত। তিনি বলেন, আমরা চাই, এই হাসপাতালটি উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব ভবনে স্থানান্তর করে সাধারণ জনগণের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা সম্পন্ন করতে। এর জন্য আমরা পরিদর্শন করে সেখানে কিছু অব্যবস্থা নজরে এনেছি; একটি পূর্ণাঙ্গ জেনারেল হাসপাতাল গড়ে তোলার পরিকল্পনা চলমান।

    উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর গবেষণা কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, ইউনিসেফ ও ডব্লিউএইচও প্রতিনিধিদলের সদস্যসহ আরও অনেকে।

  • সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা জনগণের আশ্বাস দিয়েছে: তারেক রহমান

    সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা জনগণের আশ্বাস দিয়েছে: তারেক রহমান

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জুলাই আন্দোলনে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা জনগণকে আশান্বিত করেছে। তিনি রোববার (১২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনীর একটি দরবারে অংশগ্রহণকালে এই মন্তব্য করেন। এই অনুষ্ঠানে সংগঠিত ছিলেন ঢাকা সেনানিবাসে কর্মরত জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা ও অন্যান্য সদস্যরা।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি এবং আগামী ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে সেনাবাহিনী তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে কখনও নির্বাচন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাহিনীর ভূমিকা আরো স্বচ্ছ ও পেশাদার হতে হবে।

    শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সামরিক আধুনিকায়নে অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, যদি সেনাবাহিনী ঐক্যবদ্ধ থাকে, তবে কোনো শক্তি বাংলাদেশকে পরাস্ত করতে পারবে না। জিয়াউর রহমান যে দেশপ্রেমের অগ্নিশিখা সেনাবাহিনীতে জ্বালিয়েছিলেন, তা যেন কখনো নিভে না যায়। বর্তমান সরকার সেনাবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে বলে তিনি জানান। তিনি মন্তব্য করেন, যদি বাহিনী শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে বাংলাদেশ কেউ পরাজিত করতে পারবে না।

    তারেক রহমান আরও বলেন, অতীতে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র ও ঘটনাক্রমের মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে দুর্বল করার চেষ্টা করা হয়েছে। পিলখানা হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওই ঘটনার মাধ্যমে সেনাবাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং পরে নানা কারণে বাহিনীকে বিতর্কিত করার চেষ্টা বাড়ানো হয়।

    বিশেষ করে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে সফলভাবে অংশগ্রহণ করানোর জন্য বিএনপি সরকারের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সেনাবাহিনী কোনো ব্যক্তির বা দলের সম্পত্তি নয়; এটি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে।

    অতিরিক্ত, তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশের প্রতিটি সেক্টর সংস্কার ও সকল মানুষের উন্নয়নেও আমরা মনোযোগী। বিএনপি জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছিল এবং এই সরকার সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তারেক রহমান শেষত: বলেন, দেশের সামগ্রিক স্বার্থে এবং মেরামতের লক্ষ্যে তারা এই কাজগুলো অব্যাহত রাখবে।

  • স্কুলছাত্রী গণধর্ষণের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের দপ্তরি গ্রেফতার

    স্কুলছাত্রী গণধর্ষণের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের দপ্তরি গ্রেফতার

    কুষ্টিয়ার মিরপুরে এক স্কুলছাত্রী অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে, তার শরীরে ধর্ষণের চিহ্ন ছিল। এই ঘটনা নিশ্চিত করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক হোসেন ইমাম জানান, মেয়েটির শরীরের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, পরীক্ষায় ধর্ষণের রিপোর্ট পজেটিভ এসেছে। অপরদিকে, এই ঘটনায় মেয়েটির মা শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাতে মিরপুর থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন, যেখানে বিদ্যালয়ের দপ্তরি হামিদুল ইসলামকে একমাত্র আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছে। শনিবার দুপুরে মিরপুর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম নিশ্চিত করেন, হামিদুল ইসলামকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এই সময় শিশুটির শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আর এম ও হোসেন ইমাম বলেন, মেয়েটি ধর্ষণের শিকার হয়েছে এবং তার শরীরের পরীক্ষার রিপোর্ট পজেটিভ এসেছে। গাইনি ওয়ার্ডের মেডিকেল অফিসার সুষ্মিতা বিশ্বাস জানান, মেয়েটির শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে মিরপুর উপজেলার একটি স্কুল থেকে অচেতন অবস্থায় ওই শিশুকে উদ্ধার করা হয়। সে ওই স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। প্রথমে তাকে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ওই দিন স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠান শেষে সবাই বাড়ি ফিরে গেলেও ওই শিশু বাড়ি ফিরেনি। পরে পরিবারের সদস্যরা তার খোঁজ নিতে গিয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে দপ্তরির কাছ থেকে বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষে শিশুটির খোঁজ করেন।

  • দূরপাল্লার ট্রেনে যুক্ত হচ্ছে ফ্রি ওয়াইফাই পরিষেবা

    দূরপাল্লার ট্রেনে যুক্ত হচ্ছে ফ্রি ওয়াইফাই পরিষেবা

    সরকার পর্যটন উন্নয়নে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করার লক্ষ্য নিয়ে দেশের সব বিমানবন্দর এবং দূরপাল্লার ট্রেনে বিনামূল্যে ওয়াইফাই পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন শুরুর পথে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।শনিবার দুপুরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত ‘সবার জন্য ইন্টারনেট’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।মন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক ও দ্রুত ইন্টারনেট সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার জন্য সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর অংশ হিসেবে, বর্তমানে দেশের চারটি ট্রেনে পরীক্ষামূলকভাবে ইন্টারনেট পরিষেবা চালু হয়েছে। এর মধ্যে দু’টি ট্রেন কক্সবাজার রুটে চলাচল করছে। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালগুলোতেও বিনামূল্যে ওয়াইফাই চালু করা হচ্ছে।তিনি জানান, দেশের সব বিমানবন্দর ও রেলওয়ে স্টেশনসহ দূরপাল্লার ট্রেনগুলোর জন্য পর্যায়ক্রমে এই ফ্রি ওয়াইফাই সেবা চালুর কাজ শুরু হয়েছে। একই সাথে পর্যটন কেন্দ্রগুলোকে এই সুবিধার আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। তবে, পর্যটকদের সাথে ব্যবসায়ী ও শহরের বাসিন্দারা সৌজন্যমূলক আচরণ করলে এই উদ্যোগে সফলতা আসবে।সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার করতেও গুরুত্ব দিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা ট্রলার ও জেলেদের নিরাপত্তার জন্য স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সুবিধা দ্রুত চালু করতে হবে। এতে ঘূর্ণিঝড়ের আগাম সতর্কতা, জলদস্যুতা প্রতিরোধ ও জরুরি যোগাযোগ সহজ হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।সভায় প্রযুক্তি শিক্ষার প্রসারে গুরুত্ব জোরদার করে মন্ত্রী বলেন, উপজেলা পর্যায়ে ইন্টারনেটের বিস্তার, ফ্রিল্যান্সিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শিখানোর জন্য বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যাতে দক্ষ জনবল তৈরি হয়।

  • নতুন দুই এমপি শপথ গ্রহণ করলেন

    নতুন দুই এমপি শপথ গ্রহণ করলেন

    তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনের নবনির্বাচিত দুই সংসদ সদস্য আজ শপথ গ্রহণ করেছেন। রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবনের স্পিকারের কার্যালয়ে তাদের শপথ বাক্য পাঠ করান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এরপর তারা শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এ সময় সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, চিফ হুইপসহ সংসদ সচিবালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    এর আগে, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবের স্বাক্ষরিত গেজেটের মাধ্যমে জানানো হয় যে, শেরপুর-৩ আসনে বিজয়ী হয়েছেন মো. মাহমুদুল হক রুবেল এবং বগুড়া-৬ আসনের উপ-নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন মো. রেজাউল করিম বাদশা। উল্লেখ্য, শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচনের আগেই একজন প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় ভোট স্থগিত হয়েছিল। পরে নতুন তারিখে ৯ এপ্রিল সেখানে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

    অপরদিকে, গত ১০ এপ্রিল বাজেয়াপ্ত নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসনে নির্বাচিত হন। এরপর তিনি আসনটি ছেড়ে দিলে সেটি শূন্য ঘোষণা করা হয় এবং ৯ এপ্রিল সেখানে উপ-নির্বাচন হয়।

    উল্লেখ্য, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ২৯৭টি আসনে নির্বাচন হয়েছিল। এর মধ্যে বিএনপি ২০৯টি, জামায়াতে ইসলামি ৬৮টি, স্বতন্ত্র ৭টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি, এবং অন্যান্য দল ও স্বাধীন প্রার্থী বিভিন্ন আসনে বিজয় লাভ করেন।

    বর্তমানে পর্যন্ত ২৯৮ জন সংসদ সদস্য শপথ গ্রহণ সম্পন্ন করেছেন। তবে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল এখনও গণনা চলছে, কারণ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ফল ঘোষণা করা হয়নি। মামলার নিষ্পত্তি শেষে আসল ফলাফল প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।

  • শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ দাবি পুনর্ব্যক্ত, নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আভাস

    শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ দাবি পুনর্ব্যক্ত, নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আভাস

    বাংলাদেশ ভারতের কাছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর দাবি পুনরায় তুলেছে—এমনটাই জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) মরিশাসের পোর্ট লুইসে নবম ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলন থেকে দেশে ফেরার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি একই সঙ্গে বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের কথাও আভাস দেন। এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু।

    খলিলুর রহমান জানান, চলতি সপ্তাহে দিল্লি সফরে তিনি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। এসময় বাংলাদেশ existing প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের অনুরোধ পুনরায় জানিয়েছে। কৌশলগত কারণে বৈঠকের সব বিস্তারিত তথ্য তিনি এখনই প্রকাশ করেননি।

    ২০১৪ সালের নয়—(মেটা-টেক্সট বাদ) ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকায় ছাত্র-জনতার তীব্র গণ-আন্দোলনের পরে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়েন এবং বর্তমানে দিল্লিতে অবস্থান করছেন। দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া বর্তমানে ভারত সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।

    এর আগে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (বর্তমানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী) খলিলুর রহমানের দিল্লি সফরের কয়েক দিন পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠায়। ওই চিঠিতে বলা হয়, দেশের আদালতে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাদের প্রত্যর্পণের আবেদন করা হয়েছিল।

    ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল তখন একটি বিবৃতিতে জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রত্যর্পণের অনুরোধটি বর্তমানে ভারতের নিজস্ব বিচারিক ও অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় পরীক্ষা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ভারত বাংলাদেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থ রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    প্রশ্ন করলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, ‘তরিকের ভারত সফর অবশ্যই হবে, তবে এখনও তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। আগামী কয়েক সপ্তাহে সফরের প্রস্তুতির জন্য নানা কর্মসূচি নেওয়া হবে।’ তিনি আরও জানান, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীরা ইতোমধ্যেই চিঠি আদান-প্রদান ও টেলিফোনে কথা বলেছেন এবং উভয়পক্ষই সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী।

    খলিলুর দিল্লির বৈঠকগুলোকে নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আমরা সম্পর্কের অগ্রযাত্রা দেখতে পাবো বলে আশা করছি।’ তিনি আরও জানান, বৈঠকে ভারত কর্তৃক গত এক বছর ধরে সীমিত করা ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালু করার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

    পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি ঘাটতি মোকাবিলায় ভারতের সহায়তা চাওয়াও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, বর্তমান সংকট আরও জটিল রূপ নিলে ১৯৭০-এর দশকের তেলসংকটের মতো উন্নয়নের গতিকে ধাক্কা দিতে পারে, তাই এ সমস্যার বিরুদ্ধে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও সমন্বিতভাবে 대응 করা জরুরি।

    এ বছর বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ আঞ্চলিক সংগঠনটিকে সক্রিয় করার আগ্রহ দেখাচ্ছে—এও জানিয়ে দেন খলিলুর। পাশাপাশি দীর্ঘদিন স্থগিত থাকা সার্ক সম্মেলন পুনরায় শুরু করার ওপর তিনি জোর দেন। খলিলুর বলেন, ‘যদি আমরা সবাই মিলে কাজ করি এবং যেসব কারণে কিছু দেশ অংশ নিতে অনিচ্ছুক—সেই কারণগুলো দূর করতে পারি, তবে সার্ক সম্মেলনে কোনো বাধা থাকার কথা নেই; এটি মূলত অন্যদের কাছে পৌঁছানোর বিষয়।’

  • মার্চে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩২ জন নিহত: রোড সেফটি ফাউন্ডেশন

    মার্চে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩২ জন নিহত: রোড সেফটি ফাউন্ডেশন

    রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের হিসাব অনুযায়ী গত মার্চ মাসে দেশে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা ছিল ৫৭৬টি; এসব ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৫৩২ জন এবং আহত হয়েছেন ২,২২১ জন। নিহতদের মধ্যে নারী ৬৬ জন এবং শিশু ৯৮ জন রয়েছে।

    একই সময়ে জলপথে ১৪টি দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত, ২৭ জন আহত এবং ৩ জন নিখোঁজ ছিলেন। রেলপথে ঘটে ৪৮টি দুর্ঘটনায় ৬৭ জন প্রাণ হারান এবং ২২৪ জন আহত হন।

    রোড সেফটি ফাউন্ডেশন শনিবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদাটি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং ফাউন্ডেশনের নিজস্ব তথ্য।

    যানবাহনভিত্তিক তদন্তে দেখা যায়, নিহতদের মধ্যে মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী সর্বাধিক—২০৪ জন; তিন চাকার যানবাহনের যাত্রী (ইজিবাইক, সিএনজি, অটোরিকশা, অটোভ্যান, লেগুনা) ৯৪ জন; প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস আরোহী ৪৬ জন; বাসের যাত্রী ৪৫ জন; ট্রাক/পিকআপ/ট্রাক্টর আরোহী ২৮ জন; স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী ২৩ জন (নসিমন, পাখিভ্যান, ভটভটি, টমটম, মাহিন্দ্র) এবং সাইকেল আরোহী ১৩ জন ছিলেন।

    দুর্ঘটনার ধরনে ১৬৬টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২৩১টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা, ৮৬টি পথচারীকে চাপা/ধাক্কা, ৮২টি ব্যাক-এন্ড (পেছনে ধাক্কা) দুর্ঘটনা এবং ১১টি অন্যান্য কারণে ঘটেছে। সড়কে সংঘটিত এসব ঘটনায় মোট ১,০০৮টি যানবাহন জড়িত ছিল। যানবাহনের ধরন অনুযায়ী ভাঙা পরিসংখ্যানে বাস ১৩৩টি, ট্রাক ১২০টি, মোটরসাইকেল ২৪৪টি, তিন চাকা ২০০টি, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ৬৫টি, প্রাইভেটকার ৪২টি, পিকআপ ৪১টি, কাভার্ড ভ্যান ৩৭টি সহ অন্যান্য বিভিন্ন ধরনের গাড়ি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    ভৌগোলিকভাবে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি—১২৬টি দুর্ঘটনায় ১৩৭ জন নিহত হয়েছেন। সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম—২৭টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় মার্চে ৪৬টি দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত ও ৬৯ জন আহত হয়েছেন।

    ফেব্রুয়ারিতে দেশে প্রতিদিন গড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটেছিল ১৫.৪২ জন; মার্চে এটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭.১৬ জন—ফলে মৃত্যুহার বেড়েছে প্রায় ১১.২৮ শতাংশ। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে অধিকাংশ দুর্ঘটনার কারণ অতিরিক্ত গতি; ফলে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারায়। তারা আরও বলেছে যেসব কারণে দুর্ঘটনা বেশি ঘটছে সেগুলো হলো ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, খারাপ সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকদের বেপরোয়া মনোভাব, অদক্ষতা এবং শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতা।

    ফাউন্ডেশন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করেছে—গতি নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিভিত্তিক নজরদারি বাড়ানো, চালকদের প্রেরণামূলক ও দক্ষতামূলক প্রশিক্ষণ দেয়া এবং দুর্বল সড়ক ও যানবাহন সমূহ দ্রুত সংস্কার করা। এসব উদ্যোগ ছাড়া সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি রোধ করা যাবে না, তাদের মত।

  • রোড সেফটি ফাউন্ডেশন: মার্চে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩২ জন নিহত

    রোড সেফটি ফাউন্ডেশন: মার্চে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩২ জন নিহত

    রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের রিপোর্টে বলা হয়েছে, চলতি বছরের মার্চে সারাদেশে মোট ৫৭৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩২ জন নিহত ও ২,২২১ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে নারী ৬৬ জন এবং শিশু ৯৮ জন রয়েছে।

    রিপোর্টে আরও জানানো হয়েছে, একই সময়ে ১৪টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত, ২৭ জন আহত ও ৩ জন নিখোঁজ ছিল। রেলপথে ৪৮টি দুর্ঘটনায় ৬৭ জন প্রাণ হারান এবং ২২৪ জন আহত হন।

    এই তথ্য জানিয়ে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলেন, প্রতিবেদনটি তৈরি করতে তারা ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং নিজেদের তথ্য ব্যবহার করেছে।

    যানবাহনভিত্তিক নিহতের বিশ্লেষণে দেখা যায়— মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ২০৪ জন, তিন চাকার যানবাহনের যাত্রী (ইজিবাইক, সিএনজি, অটোরিকশা, অটোভ্যান, লেগুনা) ৯৪ জন, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস আরোহী ৪৬ জন, বাস যাত্রী ৪৫ জন, ট্রাক-পিকআপ-ট্রাক্টরের আরোহী ২৮ জন, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী (নসিমন, পাখিভ্যান, ভটভটি, টমটম, মাহিন্দ্র) ২৩ জন এবং সাইকেল আরোহী ১৩ জন নিহত হয়েছেন।

    দুর্ঘটনার ভৌগলিক বিশ্লেষণে মোট ৫৭৬টির মধ্যে ১৭১টি জাতীয় মহাসড়কে, ২৬৪টি আঞ্চলিক সড়কে, ৭০টি গ্রামীণ সড়কে, ৬২টি শহরের সড়কে এবং ৯টি অন্যান্য স্থানে ঘটেছে। দুর্ঘটনার ধরন অনুযায়ী ১৬৬টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২৩১টি গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারানো, ৮৬টি পথচারী চাপা বা ধাক্কা, ৮২টি পেছন থেকে আঘাত ও ১১টি অন্যান্য কারণে ঘটেছে।

    মার্চে মোট ১,০০৮টি যানবাহন দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল; এর মধ্যে বাস ১৩৩টি, ট্রাক ১২০টি, মোটরসাইকেল ২৪৪টি, তিন চাকা ২০০টি, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ৬৫টি, প্রাইভেটকার ৪২টি, মাইক্রোবাস ১৯টি সহ নানা ধরনের যানবাহন রয়েছে।

    আঞ্চলিক দিক দিয়ে ঢাকার বিভাগে সবচেয়ে বেশি — ১২৬টি দুর্ঘটনায় ১৩৭ জন নিহত হয়েছেন। সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ও নিহতের সংখ্যা সিলেট বিভাগে— ২৭টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত। রাজধানী ঢাকায় ৪৬টি দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত ও ৬৯ জন আহত হয়েছেন।

    ফেব্রুয়ারি মাসে প্রতিদিন গড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ছিলেন ১৫.৪২ জন, সেখানে মার্চে এটি বেড়ে হয়েছে ১৭.১৬ জন— যা প্রায় ১১.২৮ শতাংশ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। রোড সেফটি ফাউন্ডেশন মনে করে অধিকাংশ দুর্ঘটনার মূল কারণ অতিরিক্ত গতি, যার ফলে চালকরা নিয়ন্ত্রণ হারান। তারা সুপারিশ করেছে গতি নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো এবং চালকদের প্রেরণামূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি।

    সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, অপর প্রধান কারণ হিসেবে রয়েছে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, খারাপ বা ত্রুটিপূর্ণ সড়ক, চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা এবং শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা। তারা সুদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্ত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে।