Category: সারাদেশ

  • প্রেমের বিয়ের এক বছর পর গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী আটক

    প্রেমের বিয়ের এক বছর পর গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী আটক

    মাদারীপুরে প্রেমের সম্পর্কের ভিত্তিতে বিয়ের এক বছর পূর্তির পর মহান রহস্যজনকভাবে মারা গেলেন গৃহবধূ মিম আক্তার (২৫). এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকায় তার স্বামীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয়দের সাহায্যে।

    ২৫ ফেব্রুয়ারি রাত ৩টার দিকে শহরের বিসিক শিল্পনগরীতে এই ঘটনা ঘটে। নিহত মিম আক্তার কালকিনি উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের উত্তর কানাইপুর গ্রামের নান্নু হাওলাদারের মেয়ে। অন্যদিকে, তার স্বামী রিয়াদ খান (একেএম আব্দুল্লাহ নোমান), সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের কালাইমারা গ্রামের আব্দুস সাত্তার খানের ছেলে।

    ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, প্রায় এক বছর আগে রিয়াদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের সূত্রে মিমের বিয়ে হয়। এরপর তারা শহরের বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় একটি ভাড়াটিয়া বাসায় বসবাস করছিলেন।

    গত বুধবার রাতের দিকে হঠাৎ করে রিয়াদ তার পরিবারের কাছে জানায়, মিমের মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ সময়, অভিযুক্ত স্বামীকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। এই ঘটনার সত্যতা ও কারণ উদ্ঘাটনের জন্য স্বজন ও এলাকাবাসী তদন্ত ও দ্রুত দোষীদের শাস্তির দাবি করেছেন।

    মিমের চাচা মো. খবির হাওলাদার বলেন, আমার ভাতিজির মৃত্যুটা আমি মানতে পারছি না। ওর বাবা নেই, আমি ছোটবেলা থেকেই ওকে বড় করেছি। এই মৃত্যু রহস্যের পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে, তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

    এই বিষয়ে মাদারীপুর সদর মডেল থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, গৃহবধূর মৃত্যুর ব্যাপারে স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। মরদেহের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে নিশ্চিত হওয়া যাবে এটি হত্যা বা আত্মহত্যা। এছাড়াও, নিহতের পরিবারের দেওয়া অভিযোগ অনুযায়ী তদন্ত চালিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • কালীগঞ্জে নিখোঁজ শিশু সন্তানের মরদেহ বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার

    কালীগঞ্জে নিখোঁজ শিশু সন্তানের মরদেহ বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার

    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বাদুরগাছা গ্রামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার হয়েছে, যা একদিন নিখোঁজ থাকার পর বিকট আবহে জানার অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে পুলিশ বাদুরগাছা গ্রামের আব্দুল জব্বার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেফটিক ট্যাংক থেকে চার বছর বয়সী তাবাসসুমের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে। এই শিশুটি মহেশপুর উপজেলার ভৈরবা এলাকার নজরুল ইসলামের মেয়ে। আপাতত ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটিকে হত্যা করে পরে মরদেহটিকে বস্তায় ভরে সেফটিক ট্যাংকে ফেলে দেওয়া হয়। পরিবারটি বর্তমানে কালীগঞ্জের বারবাজারের বাদেডিহি গ্রামে ভাড়া থাকছিল। শিশুটির বাবা নজরুল হোসেন একজন দর্জির দোকানে কর্মচারী এবং মা হালিমা খাতুন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। শিশুটি বুধবার বিকেল সাড়ে ২টার পর থেকে নিখোঁজ ছিল এবং পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করলেও তার সন্ধান পাননি। বৃহস্পতিবার সকালে মাঠে যাওয়ার পথে এক কৃষক রক্তাক্ত অবস্থায় একটি বস্তা দেখতে পান। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে করে তিনি পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তা খুলে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে, পাশাপাশি আতঙ্কও বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং জড়িতদের দ্রুত বিচারের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

  • খুলনায় দিনেদুপুরে ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা

    খুলনায় দিনেদুপুরে ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা

    খুলনায় আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে একটি ভয়ঙ্কর জম্মে পড়েছে। শহরের খানজাহান আলী থানাধীন আফিল গেট এলাকার একটি পেট্রোল পাম্পের কাছে, বিসমিল্লাহ মোটরসের সামনে, এক ব্যবসায়ীকে দুর্বৃত্তরা গুলি করে হত্যা করেছে। নিহত ব্যক্তির নাম শেখ সোহেল (৪৫), তিনি মাছের ঘের ও ইন্টারনেট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ঘটনাটি ঘটে দুপুর আড়াইটার দিকে, যখন তিনি পেট্রোল পাম্পের পাশে থাকা একটি মোটরসাইকেল মেরামতের জন্য এসেছিলেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে আসা দুইজন দুর্বৃত্ত তার মাথায় লক্ষ্য করে গুলি চালায়। হামলার পরে তারা দ্রুত পালিয়ে যায়, আর শেখ সোহেল গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায় যে, এখন ঘটনাস্থলে তদন্ত চলাছিল, এর ফলে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায়। নিহতের লাশ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি, সিআইডির একটি বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে এসে পরীক্ষানিরীক্ষা চালাচ্ছে। পুলিশ কর্মকর্তা হাওলাদার সানওয়ার হুসাইন মাসুম বলেন, এই হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত এবং দুর্বৃত্তদের দ্বারা সংঘটিত। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন নিহত শেখ সোহেল, যিনি অন্যদের সঙ্গে থাকাকালীন এ ভয়ঙ্কর হামলার শিকার হন। এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে অফিসার বলেন, হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে গেছে এবং নিহতের মরদেহ মর্গে পাঠানোর জন্য প্রস্তুতি চলছে।

  • খুলনায় জাতীয় ভোটার দিবস উদযাপনের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

    খুলনায় জাতীয় ভোটার দিবস উদযাপনের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

    আগামী ২ মার্চ উদযাপিত হবে জাতীয় ভোটার দিবস, এর প্রস্তুতি হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আবু সায়েদ মো: মনজুর আলম সভাপতিত্ব করেন।

    উপস্থিতিদের মধ্যে সভায় বক্তৃতা করেন বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তারা। এবারকার দিবসের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘ভোটারদের শক্তি, গণতন্ত্রের মুক্তি’, যা তরুণ সমাজকে উদ্বুদ্ধ করতে এক অসাধারণ উদ্যোগ।

    সভায় উল্লেখ করা হয়, একজন নাগরিকের বয়স ১৬ বছর হলে তিনি ভোটার হতে পারবেন এবং এর জন্য নিবন্ধন করানো প্রয়োজন। ভোটার হলে বিভিন্ন সুবিধা যেমন সরকারি সুযোগ-সুবিধা লাভের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। নতুন ভোটারদের জন্য সতর্কতার সাথে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে ডাটাবেস তৈরি করার ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা। বিশেষ করে, রোহিঙ্গাদের ভোটার করে না তোলার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়।

    প্রস্তুতিমূলক সভার সকল সদস্য যাতে নতুন ভোটারদের সঠিক ডাটাবেস সরবরাহ করে, সে বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। একইসঙ্গে, সরকারি দপ্তর, স্কুল, মসজিদ ও ধার্মিকস্থান ভিত্তিক ইমামদের মাধ্যমে যুবশক্তিকে উদ্বুদ্ধ করতে আহ্বান জানানো হয়।

    সভায় জানানো হয়, ২ মার্চ সকাল সাড়ে ১০টায় খুলনা আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসের কার্যালয়ে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন সকাল সোয়া ১১টায় আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার সম্মেলনকক্ষে আলোচনা সভা এবং নতুন ভোটারদের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণের আয়োজন থাকবে।

    উপস্থিত ছিলেন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফয়সল কাদের, সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার মো: সোহেল সামাদ, কেএমপির উপপুলিশ কমিশনার আব্দুল্লাহ আল-মাসুম এবং অন্যান্য সরকারি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি। এই সভার মাধ্যমে প্রস্তুতি ও উদ্বুদ্ধকরণের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করে তুলতে প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে।

  • নড়াইলে চার খুনের ঘটনায় একপক্ষের ৬৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার ১০

    নড়াইলে চার খুনের ঘটনায় একপক্ষের ৬৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার ১০

    নড়াইলের সদরে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বাবাসহ চারজন খুনের ঘটনা ঘটেছে। এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে অবশেষে এক পক্ষের বিরুদ্ধে ৬৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    প্রিয়জনহারানোর এই ঘটনায় বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সে সময় পুলিশে মামলা করেন নিহত খলিল শেখের ছেলে রুবেল শেখ। তবে অন্য পক্ষের কেউ এ ঘটনায় এখনও অভিযোগ করেনি। এই ঘটনার পর থেকে পুলিশ এখন পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে।

    বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পুলিশ সদর দপ্তরের তদন্ত কর্মকর্তা ও থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজয় কুমার কুণ্ডু সময় সংবাদকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    অভিযুক্ত গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছেন: সদর উপজেলার শোলপুর গ্রামের অলীপ সরকার (৩৫), অচিন্ত টিকাদার (৫৫), গোবরা গ্রামের শাকিল শেখ (২৭), সিংগা গ্রামের ইউপি সদস্য মোশফিকুর রহমান ওরফে মোফাজ্জেল (৫৫), তারপুর গ্রামের সদর মোল্য (৩৬), তৈয়ব শিকদারের ছেলে সূর্য শিকদার লাজুক (৩২), জসিম মোল্লা (৩৬), একই গ্রামের রনি শিকদার (২৯), বড়কুলা গ্রামের হালিম ফকির (৬০) এবং কালিয়া উপজেলার খড়রিয়া গ্রামের তুফান মোল্লা (৩০)।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিংগাশোলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. খয়েরুজ্জামান মোল্যা খয়ের ও খলিল শেখের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছিল। এর জের ধরে বহুবার পাল্টাপাল্টি হামলা সংঘটিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে সেহরির সময় ‘খয়ের’ চেয়ারম্যানের সমর্থকরা খলিল শেখের অনুসারীদের উপর হামলা চালায়, গুলি ছোড়ে এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এই হামলায় খলিল শেখ, তার ছেলে তাহাজ্জুদ শেখ এবং তার চাচাতো ভাই ফেরদৌস শেখ ঘটনাস্থলে খুন হন।

    আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় চিকিৎসকরা নিহত খলিল শেখ, তাহাজ্জুদ শেখ ও ফেরদৌস শেখের মরদেহ ঘোষনা করেন। এরপর মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মরদেহগুলো সিংগাশোলপুর বিদ্যালয় মাঠে জানাযা শেষে কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর সাথে একই দিন একই গ্রামের অহিদুর ফকিরের মরদেহ তারাপুরে দাফন করা হয়েছে।

  • রূপসায় আসামি ছিনিয়ে নিতে পুলিশের উপর হামলা, আটক ১২

    রূপসায় আসামি ছিনিয়ে নিতে পুলিশের উপর হামলা, আটক ১২

    রূপসায় এজাহারভুক্ত আসামি ধরতে গিয়ে গত মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে রহিমনগর গ্রামে পুলিশ ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনায় পুলিশ ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আছেন মহিদুল শেখ, নওরিন সুলতানা (নর্গিস বেগম), নাসিমা বেগম, মহিদুল শেখ মফিদুল, তমা আফরোজ নিপা, ফারুক শেখ, খন্দকার আফজাল উদ্দিন, রশিদুল ইসলাম, মোঃ ইমরান, মোঃ মিজানুর রহমান, মোঃ নাইম ইসলাম, এবং নার্গিস খাতুন। এই সবাই রহিমনগর, ঠাকুরগাঁও, রূপসা থানার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।

    ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত মঙ্গলবার বিকেলে রূপসা থানার এসআই মোঃ আশরাফুল আলম একটি মামলার আসামি জহির শেখকে গ্রেফতার করতে রহিমনগর কাস্টমসঘাটে অভিযান চালান। আসামিকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যাবার সময় আসামিরা চিৎকার চেচামেচি করতে শুরু করে। এ সময় তারা পুলিশকে আটকে দিতে, ধাক্কাধাক্কি করতে এবং আসামিকে ছিনিয়ে নেয়ার জন্য ছত্রভঙ্গ করে। অভিযানে থাকা পুলিশ সদস্যরা বাধা দিলে আসামিরা তাদের সাথে ধস্তাধস্তি করে পিছু নেয়।

    এ ঘটনায় কয়েকজন পুলিশ সদস্যসহ পুলিশের একাধিক সদস্য আক্রান্ত হন। অজ্ঞাতনামা ৫০ থেকে ৬০ জনের মতো লোকজন ওই সময় জহিরকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশের উপস্থিতি দেখে তারা পুলিশ ও সহকারী কর্মকর্তাদের উপর এলোপাতাড়ি মারপিট চালায়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং অভিযুক্তদের আটক করতে অভিযান চালায়। রাতভর তদন্ত ও তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ ১২ জনকে গ্রেফতার করে।

    অভিযানে বাধা দেয়ার কারণ এবং দুষ্কৃত কার্যের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ সুপারসহ অন্যান্য কর্মকর্তা নির্দেশনা দেন। পুলিশ জানায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা এবং দুষ্কৃত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ সুপার আরও জানান, এই ঘটনায় জড়িত সবাইকে আদালতের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে এবং এলাকার শান্তি বজায় রাখতে পুলিশি অভিযান চলমান থাকবে।

  • মোরেলগঞ্জে চাঁদা demanding গণমাদ্রাসা নির্মাণে কাজ বন্ধ, তদন্তে পুলিশ

    মোরেলগঞ্জে চাঁদা demanding গণমাদ্রাসা নির্মাণে কাজ বন্ধ, তদন্তে পুলিশ

    বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে মাদ্রাসার একটি নির্মাণ প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই অভিযোগের পর থেকে স্থানীয় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ঠিকাদার এস এম বদিউজ্জামান। বুধবার পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্ত এবং পরিদর্শন করেছেন।

    অভিযোগে জানা গেছে, মোরেলগঞ্জ উপজেলার গুলিশাখালী ফাজিল মাদ্রাসার ৪তলা ভবনের কাজ চলছিল। এটির নির্মাণকাজ দেখভাল করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ওসমান আলী। কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে কিছু স্থানীয় ব্যক্তি, বিশেষ করে নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের বিএনপি প্রচার সম্পাদক মোঃ হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে ৭-৮ জন ভবনের কাজের বিরুদ্ধে বাধা সৃষ্টি করে আসছিল। তারা দুই লাখ টাকা চাঁদার দাবি করলেও, ঠিকাদাররা তা দিতে অস্বীকার করেন। কিন্তু ২৩ ফেব্রুয়ারি দুপুরের দিকে হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে লোকজন এসে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়ে গালিগালাজ করে এবং হুমকি দেয়, এমনকি অভিযোগ বা মামলায় জড়িয়ে মারধর বা ক্ষতি করার ভয় দেখায়।

    ঠিকাদার এস এম বদিউজ্জামান জানিয়েছেন, তারা সকল নিয়ম মেনে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু হাফিজুর রহমান ও তার লোকজন চাঁদা দাবি করে, দিতে অস্বীকার করায় তারা কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। তিনি আরও জানান, এই বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

    অপরদিকে, মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান দাবি করেছেন, তার ওপর বাড়ি থেকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি তা দিতে পারেননি। তিনি বলেন, স্বচ্ছভাবে কাজ হচ্ছে না, অনিয়মের কারণে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

    মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বারী বলেছেন, প্রতিষ্ঠানটির কাজ যথাযথ নিয়মে চলছিল, তবে কিছু স্থানীয় ব্যক্তি চাঁদা দাবি করে চাপ সৃষ্টি করছে, যার কারণে কাজ বন্ধের ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছেন।

    মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুর রহমান জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষামন্ত্রীর অর্থায়নে গুলিশাখালী ফাজিল মাদ্রাসার এই ৪তলা ভবনের কাজ চলতি বছরের নভেম্বরে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে, যার মোট ব্যয় প্রায় ১ কোটি ৩৭ লাখ ৮৩ হাজার টাকা।

  • তেরখাদায় ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করতে চাই রূপসা ও দিঘলিয়ায় বিস্তার

    তেরখাদায় ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করতে চাই রূপসা ও দিঘলিয়ায় বিস্তার

    খুলনা-৪ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপি’র তথ্য সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, আমি বিএনপি’র এমপি নই, আমি তেরখাদা, দিঘলিয়া ও রূপসায় বসবাসকারী সকল মানুষের প্রতিনিধি। তিনি জানান, বিএনপি’র চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার জন্য কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। আমি এই ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করে রূপসা ও দিঘলিয়ায় তা ব্যাপ্ত করতে চাই।

    এ বিষয়ে তিনি বুধবার দুপুরে তেরখাদার উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে জনসম্পৃক্ত বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এই কথা জানান। সভার আগে উপজেলা চত্বরে বনজ বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে দিনব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এমপি আজিজুল বারী হেলাল। এই সুযোগে তিনি বলেন, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তার অবস্থান দৃঢ়। অপরাধী যদি নিজের দলের বা আত্মীয়স্বজন হন, তবুও তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। তবে তিনি প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে ও যেন কোনও নিরীহ মানুষ হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে নজরদারি বজায় রাখার আহ্বান জানান।

    তিনি আরও বলেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়, এটি জনস্বাস্থ্যের সাথে সরাসরি জড়িত। সকলকে উৎসাহিত করতে হবে যাতে যেখানে যেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয় তা বন্ধ করে ডাস্টবিন ব্যবহারে অভ্যস্ত হন। জলমহল ব্যবস্থাপনায় তিনি বলেন, স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যেন প্রকৃত জেলেরা উপকৃত হয়, এবং কোনও প্রভাবশালী গোষ্ঠী সুবিধা নিতে না পারে। কেন্দ্রীয় উদ্যোগে তেরখাদাকে একটি মডেল উপজেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে আন্তরিকতা ও সমন্বয় অপরিহার্য বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    খাল খননের ব্যাপারে এমপি হেলাল বলেন, তেরখাদায় অনেক পরিত্যক্ত জমি ও ভরাট খাল রয়েছে, যেগুলো পরিকল্পিত ব্যবহারে কৃষি, মাছের চাষ ও পরিবেশের জন্য বিপ্লব ঘটাতে সক্ষম। খাল পুনঃখননের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা কমানো, সেচের উন্নয়ন ও বর্ষাকালে পানি ধারণের ক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব। তিনি প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ খালের তালিকা তৈরি করে পর্যায়ক্রমে প্রজেক্ট বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন।

    সভায় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম নুরুন্নবী, সিনিয়র মৎস্য অফিসার মোঃ সাইদুজ্জামান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মুজাহিদুল ইসলাম, কৃষি কর্মকর্তা শিউলি মজুমদারসহ আরও বিভিন্ন কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিগণ।

    এরপর বিকেলে তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন এমপি আজিজুল বারী হেলাল। দিনব্যাপী কর্মসূচির সমাপ্তি হিসেবে তিনি বিকেলে ইখড়ি কাটেংগা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত গণইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, যুগ্ম-আহ্বায়ক খান জুলফিকার আলী জুলু, সাবেক সদস্য সচিব আবু হোসেন বাবু, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা কবিরুল ইসলাম, জেলা বিএনপি নেতা শেখ আব্দুর রশিদসহ আরও অনেক নেতা-কর্মী ও স্থানীয় নেতৃngrুপ। এই অনুষ্ঠানে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

  • মাদারীপুরে প্রেমের বিয়ের এক বছরের মাথায় গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী আটক

    মাদারীপুরে প্রেমের বিয়ের এক বছরের মাথায় গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী আটক

    মাদারীপুরে প্রেমের সম্পর্কের কারণে বিয়ের এক বছর যেতে না যেতেই রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে মিম আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূর। ঘটনাটি এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং পুলিশ অভিযুক্ত স্বামীকে আটক করেছে।

    ১৫ ফেব্রুয়ারি বুধবার রাত ৩টায় শহরের বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত মিম আক্তার কালকিনি উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের উত্তর কানাইপুর গ্রামের নান্নু হাওলাদারের মেয়ে। অপর দিকে অভিযুক্ত রিয়াদ খান (অথবা একেএম আব্দুল্লাহ নোমান) সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের কালাইমারা গ্রামের আব্দুস সাত্তার খানের ছেলে।

    ভুক্তভোগীর পরিবারের ও এলাকাবাসীর জানামতে, প্রায় এক বছর আগে রিয়াদের সাথে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে বিয়ে হয় মিমের। এরপর তারা শহরের বিসিক শিল্পনগরীতে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।

    রাতের অন্ধকারে হঠাৎ রিয়াদ খোঁজ দেন তার স্ত্রীর মৃতদেহের। সোমবার রাতে মারা যাওয়ার খবর পরিবারের কাছে পৌঁছালে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এরই মধ্যে স্থানীয়রা স্বামী রিয়াদ খানকে আটক করে পুলিশে খবর দেন।

    এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে স্বজনরা আসন্ন তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের কঠোর শাস্তি দাবী করছেন। নিহতের চাচা মো. খবির হাওলাদার বলেন, আমার ভাতিজির এমন মৃত্যু আমাদের জন্য অপূর্ণ শোক। ওর বাবা জীবিত নেই, আমি ছোটবেলা থেকে ওকে বড় করে এই শোক সহ্য করতে পারছি না। এই রহস্যের উদঘাটন ও অপরাধীর কঠোর শাস্তি চাই।

    এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় তার স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে নিশ্চিত হওয়া যাবে এটি হত্যা না আত্মহত্যা। নিহতের পরিবারের লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত তদন্ত করে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • কালীগঞ্জে নিখোঁজ শিশুর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার, হত্যার সন্দেহ

    কালীগঞ্জে নিখোঁজ শিশুর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার, হত্যার সন্দেহ

    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় একজন চার বছরের শিশুর অন্ধকার mঅন্ধকার আবদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার সকাল ২৬ ফেব্রুয়ারি, বাদুরগাছা গ্রামে, যেখানে স্থানীয় একটি স্কুলের পেছনে সেফটিক ট্যাংকের ভিতর থেকে শিশুটির বস্তাবন্দি দেহটি উদ্ধার করা হয়।

    নিহত শিশুটি তাবাসসুম নামে পরিচিত, মহেশপুর উপজেলার ভৈরবা এলাকার নজরুল ইসলামের মেয়ে। বর্তমানে তার পরিবার বাদুরগাছা গ্রামে ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছিল।

    পরিবারের ধারণা, শিশুটি বুধবার বিকেল সাড়ে ২টার পর থেকে নিখোঁজ ছিল। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করলেও তার সন্ধান পাননি।

    বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় এক কৃষক আব্দুল জব্বার বিদ্যালয়ের পেছনের মাঠে একটি রক্তাক্ত বস্তা দেখতে পান। এ দেখে তিনি পুলিশে খবর দেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তা খুলে শিশুটির দেহ উদ্ধার করে। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ জেল্লাল হোসেন জানান, প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী মনে হচ্ছে, শিশুটিকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়েছে এবং বাবার কাছে নেওয়ার পর তাকে হত্যা করে দেহটি বস্তাবন্দি করে সেফটিক ট্যাংকে ফেলে রাখা হয়। পুলিশ তদন্ত ও মূল অপরাধী শনাক্ত করার জন্য কাজ করছে।

    এই ঘটনা এলাকায় ব্যাপক শোক ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।