আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে বাংলাদেশের ১১দলীয় রাজনৈতিক জোটের মধ্যে আসন ও প্রার্থী বণ্টনের চূড়ান্ত সমঝোতা সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীর বসুন্ধরা সহযোগিতা কেন্দ্র থেকে তিনি এ তথ্য দেন। তিনি বলেন, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য দলগুলো দীর্ঘ মাস ধরে বিভিন্ন ডাকে বৈঠক করেছে, যেখানে মূলত আটটি দল অংশগ্রহণ করে। পরে তাদের মধ্যে আরও তিনটি দল যুক্ত হয়। প্রধান দলগুলো হলো- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)। এই সমঝোতার ভিত্তিতে আরও তিনটি দল—জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)—ও যুক্ত হয়। ফলে মোট ১১ দল অংশগ্রহণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়। নির্বাচনের প্রাক্কালে, জামায়াত ২৭৬টি আসনে এবং ইসলামী আন্দোলন ২৬৮টি আসনে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়। একইসঙ্গে এনসিপি ৪৭টি, এবি পার্টি ৫৩টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৯৪টি, খেলাফত মজলিস ৬৮টি, এলডিপি ২৪টি, খেলাফত আন্দোলন ১১টি, নেজামে ইসলাম পার্টি ৬টি, জাগপা ৩টি ও বিডিপি ২টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়। তবে আসন বণ্টনের বিষয়ে অসন্তোষ দেখা দেয়, ফলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোট থেকে বের হয়ে যাওয়ার গুঞ্জনও ওঠে। তবে শেষমেশ বিভিন্ন আলোচনার পর দলগুলো আসন সমঝোতা করতে রাজি হয়। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দুই-এক দিনের মধ্যেই দেওয়া হবে। জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলছেন, এই আসন সমঝোতা দৃশ্যমান হলে, ভবিষ্যতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বও আরও দৃঢ় হবে। তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মাঝে দলের প্রতি আস্থা রয়েছে এবং তাদের আশা, আগামী নির্বাচনে জনগণ জামায়াতকে সমর্থন করবে। তিনি আরও বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সবাই একজোট হয়ে কাজ করছে। জনগণের ভোটাধিকার রক্ষা ও নির্বাচন সুষ্ঠু হলে, যারা সরকারে থাকতে চায় বা অন্য দলগুলো পছন্দ করে, তাদেরকেও সঙ্গে নেওয়া হবে। বেশ কিছু সময় ধরে গণমাধ্যমের একটি পক্ষের দিকমোড় নেয়া নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করে তিনি বলেন, গণমাধ্যম যেন স্বাধীনভাবে কাজ করে। তারা যদি নিজেদের দায়িত্ব ভুলে যায় বা সরকারপন্থী হয়, তবে সেটি জনগণের জন্য ক্ষতিকর হবে। তারা মনে করেন, গণমাধ্যমের বৈচিত্র্য ও স্বাধীনতা জনগণের গুরুত্বপূর্ণ অধিকার। তিনি শেষ পর্যায়ে বলেছেন, জনগণ তাদের ভোটাধিকারে দখল দেওয়ার জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাবে, এবং যদি এই সুযোগ আরও দীর্ঘদিন বন্ধ থাকে, তাহলে ভবিষ্যৎে তাদের ভোটের অধিকার হরণের অন্ধকারে ডুবতে পারে।
Leave a Reply