Month: December 2025

  • বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু: দেশের রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা ও শূন্যতা সৃষ্টি

    বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু: দেশের রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা ও শূন্যতা সৃষ্টি

    বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের ঘোষণা দেন দলীয় নেতা ও চিকিৎসকরা। এই অপূরণীয় ক্ষতি আর শোকের ভিড়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক গভীর শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিবৃতি দিয়ে জানান, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শুধু দল নয়, বরং পুরো জাতির জন্যই বড় এক হেরফের হয়ে গেল। এটা নেত্রীর আত্মার শান্তির জন্য আমাদের গভীর শোক ও দুঃখের ভাষা মেলা কঠিন। তিনি আরও বলেন, এই শূন্যতা শুধুই রাজনৈতিক নয়; এটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্যও অপূরণীয় ক্ষতি।

    মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে এই শোকের সংবাদ জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, আমরা কখনো ভাবিনি, আজ এই দিনটি দেখতে হবে। আমরা অমূল্য প্রত্যাশা করেছিলাম, সবার মতোই তিনি আবার সুস্থ হয়ে উঠবেন। কিন্তু এই দুঃসংবাদ আমাদের সবাইকে খুবই বিষন্ন করে তুলেছে। তারা ডাক্তার শাহাবুদ্দিনের ঘোষণা শুনিয়েছেন, সকাল ৬টায় আমাদের গণতন্ত্রের মা, আমাদের নেত্রী এই পৃথিবীর আলোর মুখ দেখলেন না। তার জন্য আমরা গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি।

    মির্জা ফখরুল জানিয়েছেন, এই শোক অপ্রতুল, অপূরণীয়। দেশের ইতিহাসে এই নেত্রীর অবদান অপরিসীম, তার জীবন ও সংগ্রাম তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুসরণীয়। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া তাঁর সারাজীবন মানুষের অধিকার, কল্যাণ ও গণতন্ত্রের জন্য কাজ করে গেছেন। এখন তিনি আমাদের মাঝে নেই—এটা আমাদের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। রাজনৈতিক কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে আমাদের পক্ষে এই শূন্যতা পূরণ করা সম্ভব নয়। দেশের রাজনীতি এক বিশাল শূন্যতা অনুভব করছে, যা পূরণ হওয়া সহজ নয়।

    বিএনপির মহাসচিব আরও বলেন, সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন করার জন্য একটি বিশেষ ক্যাবিনেট বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকে তার মরদেহের ব্যবস্থা, জানাজার আনুষ্ঠানিকতা ও রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদান ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা হবে। সরকার ও দলের নেতারা এই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে সামনে আরও কাজ করবেন এবং সব কিছু জানিয়েছেন জনগণের সামনে transparently তুলে ধরা হবে।

  • খালেদা জিয়া কোনো নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করেননি

    খালেদা জিয়া কোনো নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করেননি

    বাংলাদেশের জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া আজ আর আমাদের মধ্যে নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার ভোর ৬টায় তিনি পৃথিবীর আলোর আলো থেকে চিরবিদায় নেন। তাঁর অকাল মৃত্যু দেশের রাজনীতি ও জনগণের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে থেকে থাকবে।

    খালেদা জিয়া ছিলেন এক অসাম্প্রদায়িক, আপসহীন নেতা, যিনি জীবনে কখনো নির্বাচনে পরাজয় মেনে নেননি। প্রায় চার দশক ধরে বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে তিনি ছিলেন এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। ১৯৯১ সাল থেকে শুরু করে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি তিনটি সংসদ নির্বাচনে প্রতিবারই জয় লাভ করেন এবং তিনি নির্বাচনী এলাকাগুলোর ইতিহাসে নিজস্ব জায়গা করে নিয়েছেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সবগুলোতেই জয়ী হন।

    অবাক করা বিষয় হলো, ২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচন বয়কট করে, এমনকি ২০১৮ সালে তার দুর্নীতির মামলার কারণে আদালতের বিধান অনুযায়ী তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারলেন না। ২০২৪ সালের নির্বাচনও বিএনপি বয়কট করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে, তিনি অনেকটা ক্ষমতা থেকে দূরে থাকলেও, তার প্রতিপত্তি ও জনপ্রিয়তা আজও অবিচল। দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যে তিনি তার আসনকে নিয়ে ভাবতে পারেননি। তবুও, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আয়োজিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি তার তিনটি আসন থেকে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।

    প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর দায়িত্বকাল ছিল ছয় বছর, তবে দ্বিতীয় দফায় মাত্র এক মাসের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

    বিএনপির মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, ১৯৯১ সালে সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে খালেদা জিয়া ও তার দল বিজয়ী হয়। ওই সময় তিনি দেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর নেতৃত্বে সংবিধানে দ্বাদশ সংশোধনী আনা হয়, যা রাষ্ট্রপতি শাসিত থেকে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে।

    ১৯৯৬ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর একমাসের জন্য তিনি ষষ্ঠ সংসদের প্রধানমন্ত্রী থাকেন। পরবর্তীতে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু হওয়ার পরে ২০০১ সালে পুনরায় নির্বাচনে জয়ী হন, তবে ওই নির্বাচনে তার দল বিএনপি হেরে যায় এবং তিনি হন প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা।

    ২০০১ সালে তিনি তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এরপর ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর তিনি বিরোধী দলের নেতৃত্বে থাকেন। কৈশোর থেকে শুরু করে রাজনীতিতে তাঁর পথচলা ছিল সংগ্রামী, আর তার সাহস ও নেতৃত্বের জন্য তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ এক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত হন।

  • বিএনপি থেকে রুমিন ফারহানা ও আরও ৮ নেতার বহিষ্কার

    বিএনপি থেকে রুমিন ফারহানা ও আরও ৮ নেতার বহিষ্কার

    বিএনপি শুক্রবার তার সাংগঠনিকstructure অনুযায়ী দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য নয়জন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে। এর মধ্যে রয়েছেন দলের সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, দলের কেন্দ্রীয় সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, মোহাম্মদ শাহ আলম, হাসান মামুন, আব্দুল খালেক, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহাসচিব তরুণ দে, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম নীরব, সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মামুনুর রশিদ (চাকসু মামুন) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্চারামপুর উপজেলা বিএনপি সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ। মঙ্গলবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী tarafından প্রত্যেকের নাম ঘোষণা করে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

  • খালেদা জিয়া: একটি বর্ণাঢ্য ও প্রয়াত নেত্রীর জীবনকাহিনী

    খালেদা জিয়া: একটি বর্ণাঢ্য ও প্রয়াত নেত্রীর জীবনকাহিনী

    বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একজন অবিসংবাদিত নেত্রী হিসেবে বিবেচিত খালেদা জিয়া ছিলেন ‘আপসহীন নেত্রী’। তার দীর্ঘ জীবনের অর্জন, সংগ্রাম ও শোকের গল্প দেশের বহু হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলেছে। তিনি বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতির একজন ক্ষণজন্মা নেতা, যিনি জীবনভর সংগ্রাম, সাফল্য ও বেদনার প্রতিচ্ছবি আঁকেছিলেন।

    খালেদা জিয়ার জন্ম ১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে। তার বাবার নাম ইস্কান্দার মজুমদার, মা তৈয়বা বেগম। পরিবারের তিন কন্যার মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। তার শৈশব কেটেছে পরিশ্রমে, পরিচ্ছন্নতা ও ফুলের প্রতি গভীর ভালোবাসায়। পড়াশুনা আগেই শুরু করেন সেন্ট জোসেফ কনভেন্টে, পরে দিনাজপুর সরকারি স্কুল ও সুরেন্দ্রনাথ কলেজ থেকে উচ্চ শিক্ষা সম্পন্ন করেন। ছোটবেলায় তাকে ‘পুতুল’ ডাক নাম দেওয়া হয়েছিল কেননা তার অবয়ব হয়েছিল খুব সুন্দর।

    বিবাহ life: ১৯৬০ সালে ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের সঙ্গে দিনাজপুরের বালুবাড়িতে বিয়ে হয় তার। এই দম্পতির দুই ছেলে— তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকো। জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে দেশের রাষ্ট্রপতি হন এবং ১৯৮১ সালের ৩০ মার্চ তিনি শহীদ হন। তার মৃত্যুর পর খালেদা জিয়া রাজনৈতিক জীবনে প্রবেশ করেন।

    মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে, তিনি বেশ কিছু সময় আত্মগোপনে ছিলেন, পরে ১৬ মে ঢাকায় এসে নৌপথে ঢাকায় প্রবেশ করেন। পাকিস্তানি সেনারা ১৯৭১ সালের ২ জুলাই সিদ্ধেশ্বরীর বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে সেনানিবাসে বন্দি করে। স্বাধীনতা লাভের পর তিনি মুক্তি পান এবং সংসার ও রাজনৈতিক জীবনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

    রাজনৈতিক জীবনের শুরু: তার রাজনৈতিক জীবন ১৯৮২ সালে বিএনপিতে যোগদানের মাধ্যমে শুরু হয়, তখন তার বয়স ছিল ৩৬। তিনি প্রথমে দলের ভাইস চেয়ারপারসন ও পরে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে তার পরিচিতি আরও বৃদ্ধি পায়। ১৯৯১ সালে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এরপর ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে আবার প্রধানমন্ত্রী হন। তার নেতৃত্বে বিএনপি বিভিন্ন নির্বাচনে জয়ী হয়, যা তার রাজনৈতিক জীবনের বড় সাফল্য।

    তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তিনি দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তবে তার জীবনেও রয়েছে বিতর্ক, বিশেষ করে দুর্নীতির অভিযোগে। তবে তার দৃঢ়তা ও সংগ্রামী চেতনা তাকে দেশের মানুষের হৃদয়ে অম্লান করে রেখেছে। তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রোগে ভুগে শেষ পর্যন্ত শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন ২০২৩ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি।

    তার জীবনের শেষ সময়ে, যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন, তিনি বিভিন্ন অসুস্থতায় ভুগছিলেন। ২৩ নভেম্বর ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর আর আরোগ্য লাভ সম্ভব হয়নি। অবশেষে, তিনি তাঁর প্রিয় মাতৃভূমির জন্য বিদায় নিলেন। তার জীবন ও কর্ম দেশবাসীর জন্য সত্যিই এক অনুপ্রেরণার ইতিহাস।

  • সজীব ওয়াজেদ জয় খালেদা জিয়ার মৃত্যুকে বাংলাদেশের জন্য বড় ধাক্কার ব্যাখ্যা

    সজীব ওয়াজেদ জয় খালেদা জিয়ার মৃত্যুকে বাংলাদেশের জন্য বড় ধাক্কার ব্যাখ্যা

    বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি মনে করেন, এই মৃত্যুটি বর্তমান বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় এক বড় ধাক্কা। মঙ্গলবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি এক পোস্টে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।

    সজীব ওয়াজেদ জয় তার পোস্টে বলেন, “বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে, যখন সাধারণ মানুষ নিরাপত্তার অভাবে ভুগছেন এবং দেশকে অস্থিতিশীল ও বিরাজনীতিকরণের অপচেষ্টা চলছে, তখন তার এই চলে যাওয়া বাংলাদেশের উত্তরণের পথে এক গভীর প্রভাব ফেলবে।”

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, “অতীতের নানা বিরাজনীতিকরণ প্রক্রিয়ায় তিনি শিকার হয়েছেন, তবুও নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি অসংখ্য সাফল্য অর্জন করেছেন এবং দেশের জন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণে অবদান রেখে গেছেন। তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।” তবে, তিনি এই সময় বাংলাদেশের জন্য একটি বড় ঝটকের বিষয় হিসেবে তার মৃত্যুকে তুলে ধরেন।

    অবশেষে, সজীব ওয়াজেদ জয় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি বেগম খালেদা জিয়ার অসংখ্য সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।

  • খালেদা জিয়ার শ্রদ্ধায় ৩৩ দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারের বাসস্থান ত্যাগ

    খালেদা জিয়ার শ্রদ্ধায় ৩৩ দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারের বাসস্থান ত্যাগ

    বুধবার ৩১ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর বারিধারার কূটনৈতিক জোনে অবস্থিত বাংলাদেশে নিযুক্ত ৩৩টি দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার পদত্যাগ করেছেন। এই পদক্ষেপটি ছিল বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশগ্রহণ ও শ্রদ্ধা জানাতে, যা ঢাকার রাজনৈতিক ইতিহাসের এক স্মরণীয় মুহূর্তে পরিণত হয়েছে।

    রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররা মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের দিকে রওনা হয়েছেন, যেখানে তারা বেগম খালেদা জিয়ার শেষ বিদায় জানাতে এবং তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করতে উপস্থিত থাকবেন। এসময় তারা দেশের বাইরে থাকা বিভিন্ন রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সাথে একত্রে উপস্থিত থাকবেন। এর মধ্যে রয়েছেন চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনইচি, কানাডার হাইকমিশনার অজিত শিং, অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল, ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, মার্কিন অস্থায়ী রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন ও মালয়েশিয়ার অস্থায়ী রাষ্ট্রদূত আমির অফির আবু হাসানসহ আরো অনেকেই।

    এর পাশাপাশি, ঢাকায় অবস্থিত বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশন, জাতিসংঘ, এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন গভীর শোক প্রকাশ করেছে। মঙ্গলবার এ সমস্ত সংস্থা তাদের সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুক পেজে বিবৃতি প্রকাশ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুতে শোক ও সমবেদনা জানিয়েছে।

    বেগম খালেদা জিয়ার নামাজের জানাজা আগামী বুধবার বিকেল ২টায় দেশের সংসদ স্থাপনার দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা পড়াবেন বায়তুল মোকাররমের খতিব। এরপর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তাকে ঢাকার শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে দাফন করা হবে।

    এই সময় তার পরিবারের সদস্য, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা, বিদেশি কূটনীতিক, এবং বিএনপি মনোনীত নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।

    উল্লেখ্য, বেগম খালেদা জিয়া মঙ্গলবার ভোর ৬টায় এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে শোকের ছায়া নেমে আসে।

  • যতদূর চোখ যায়, মানুষ আর মানুষ

    যতদূর চোখ যায়, মানুষ আর মানুষ

    সংসদ ভবন এলাকা এখন মানুষের ঢলনে মোড়া। এখানে থেকে যতদূর চোখ যেতে দেখা যাচ্ছে, শুধু মানুষই মানুষ। তারা সবাই এসেছে নেত্রী খালেদা জিয়াকে শেষ বিদায় জানাতে। জীবনের শেষ মুহূর্তে তিনি শুধু বিএনপি ও দেশের মূল নেতা নয়, একই সঙ্গে মানুষের প্রিয় এক প্রতীক হয়ে উঠেছেন। এই জনস্রোত স্পষ্ট করে দিয়েছে—খালেদা জিয়ার জন্য দেশের মানুষ কেমন গভীর আবেগে ভাসছেন।

    সারা দেশ থেকে মানুষ এখন রাজধানীতে এসে যেন তার শেষ বিদায়ে অংশ নিয়েছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা এই জনসমুদ্রে প্রকৃতি যেনও এরই সঙ্গে সম্মতি জানাচ্ছে—প্রকৃতি নিজেও খালেদা জিয়াকে বিদায় জানাতে প্রস্তুত। গত কয়েকদিনের কনকনে ঠাণ্ডা ঢেকে গিয়েছিল শহর, কিন্তু আজ উঁচু সূর্যের ঝলকানি ও মিষ্টি রোদে একটু স্বস্তি ফিরে এসেছে আগত মানুষের মুখে।

    দুপুর দেড়টার সময় সংসদ ভবনের আশপাশে, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও সংলগ্ন সড়কগুলো সবই মানুষের ঢলে ভরে গেছে। এই ঢল পৌঁছে গেছে ফার্মগেট এলাকাও।

    খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে দুপুর ২টায়, যার পরে তাকে তার স্বামী জিয়াউর রহমানের পাশে সমাহিত করা হবে। এই শোকাবহ মুহূর্তে সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী আজ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে এবং তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোকের কথা জানানো হয়েছে।

    নিরাপত্তার কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে সকাল ১১টা ৪৮ মিনিটের দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খালেদা জিয়ার মরদেহ পৌঁছায়। এটি নিয়ে আসা হয় লাল-সবুজ পতাকায় মোড়ানো ফ্রিজার ভ্যানে, যা রাষ্ট্রীয় প্রোটোকে নিরাপদে বাহন করে নিয়ে এসেছে।

    এর আগে, সকাল ১১টার দিকে গুলশানে অবস্থিত ছেলে তারেক রহমানের বাসা থেকে মরদেহ বহনকারী ফ্রিজার ভ্যানটি যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে খালেদা জিয়ার মরদেহ নেয়া হয়।

    গতকাল রাতে, ভোর ৬টায়, চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন খালেদা জিয়া। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ফুসফুস, লিভার, কিডনি ও ডায়াবেটিসসহ নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। তার মৃত্যুতে মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে, আর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষ গভীর শ্রদ্ধাজ্ঞলি তাকে বিদায় জানাতে আসছেন।

  • খালেদা জিয়ার জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা উপস্থিত

    খালেদা জিয়ার জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা উপস্থিত

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শেষ জানাজায় অংশ নিতে আজ রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে পৌঁছেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে তিনি সেখানে পৌঁছান। তার সঙ্গে কয়েকজন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যও উপস্থিত ছিলেন। জানাজার আগে, বুধবার দুপুর ২টার দিকে নির্ধারিত সময়ে এই নামাজ অনুষ্ঠিত হতে ছিল, তবে মানুষের ব্যাপক সমাগমের কারণে তা পরে()]। জানাজায় অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু মানুষ এসেছেন। উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ অন্যান্য শীর্ষ নেতা। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ও অন্যান্য বাহিনী প্রধানরাও জানাজার স্থলে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এভারকেয়ার হাসপাতালে থেকে খালেদা জিয়ার মরদেহ গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসায় পৌঁছায়। সেখানে তার স্বজনরা ও নেতাকর্মীরা শেষবারের মতো তাকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তার ছেলে এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মায়ের কফিনের পাশে বসে কোরআন তেলাওয়াত করেন। জানাজার উদ্দেশ্যে সকাল থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অসংখ্য মানুষ ছুটে এসেছেন। দেশব্যাপী সাধারণ মানুষের মাঝেও তার প্রতি গভীর श्रद्धা ও দুঃখের ছাপ দেখা যাচ্ছে। জানাজা শেষে, তাকে তার স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের পাশে দাফন করা হবে। এই শোকাবহ দিনটি বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য এক গভীর শূন্যতা সৃষ্টি করেছে।

  • তারেক রহমানের সঙ্গে নেপাল-ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

    তারেক রহমানের সঙ্গে নেপাল-ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

    বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে বিএনপি ভবনে তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা এবং ভুটানের পররাষ্ট্র ও বৈদেশিক বাণিজ্য মন্ত্রী লিয়নপো ডি. এন. ধুংগেল। বিএনপির মিডিয়া সেলে জানানো হয়েছে, এই বৈঠকের সময় তারা তারেক রহমানের হাতে শোকবার্তা প্রদান করেন। এই সাক্ষাৎটি বিশেষ önem रखनेা কারণ, এর আগে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ঢাকায় ঢুকেন নেপালের ও ভুটানের এই দুই মন্ত্রী, গোপালগঞ্জে বাংলাদেশি নেত্রীর মৃত্যুর শোক প্রকাশ করতে। উল্লেখ্য, বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ঐদিন ভোরে মারা যান। এই দুঃখজনক পরিস্থিতিতে নেতৃবৃন্দের সাথে শোক ও সমবেদনা প্রকাশের জন্য তারা বাংলাদেশে এসেছেন।

  • ই-সিগারেট ও ভেপ নিষিদ্ধের জন্য অধ্যাদেশ জারি

    ই-সিগারেট ও ভেপ নিষিদ্ধের জন্য অধ্যাদেশ জারি

    ই-সিগারেট, ভেপ, পাশাপাশি সব ধরনের ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্ট, কুম্ভি পাতা ও টেন্ডু পাতায় মোড়ানো বিড়ি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করা হয়েছে।

    সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এই অধ্যাদেশটি অনুমোদন পায়, যা আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে সহ-সাক্ষরিত। এই নতুন নিদের্শনা ২০০৫ সালে গৃহীত ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইনের সংশোধনী হিসেবে জারি করা হয়েছে। এতে তামাক, তামাকজাত দ্রব্য, নিকোটিন ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট উপাদানের সংজ্ঞা স্পষ্টভাবে নতুনভাবে নির্ধারিত হয়েছে।

    অধিনিয়মে উল্লেখ করা হয়েছে, ই-সিগারেট, ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট, নিকোটিন পাউচসহ অন্যান্য নিকোটিনজাত দ্রব্যের তালিকায় যোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি কুম্ভি পাতা ও টেন্ডু পাতায় মোড়ানো বিড়ি সম্পূর্ণভাবে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

    অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম বা এর যন্ত্রাংশ তৈরি, আমদানি, বিক্রয়, প্রচার, বিপণন, বিতরণ বা ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবেন না। একই সঙ্গে ভেপিং বা ভেপারও নিষিদ্ধ। এই অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ তিন মাসের জেল বা দুই লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। দ্বিতীয় বা আরো বেশি বার অপরাধ করলে দণ্ড দ্বিগুণ হবে।

    কারো কোম্পানি যদি এই নিয়ম লঙ্ঘন করে, তবে তার মালামাল জব্দ করা হবে এবং মালিক, ব্যবস্থাপক বা অন্য দায়িত্বরত ব্যক্তির জন্য ছয় মাসের জেল বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা নির্ধারিত। এই ধরনের অপরাধে লাইসেন্স বাতিলেরও প্রস্তাব আছে।

    কোনো ব্যক্তি ই-সিগারেট বা এর যন্ত্রাংশ ব্যবহার করলে তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে।

    এছাড়া, কুম্ভি পাতা ও টেন্ডু পাতা বা অন্য গাছের পাতায় মোড়ানো বিড়ি উৎপাদন, আমদানি, সংরক্ষণ, বিক্রয়, পরিবহন বা ক্রয়-বিক্রয় করলে তিন মাসের কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকার জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। কোম্পানি এই অপরাধে জড়িত থাকলে তাদের লাইসেন্স বাতিল, আর্থিক জরিমানা বা লেনদেন স্থগিত করা যেতে পারে।

    সবশেষে, কুম্ভি বা টেন্ডু পাতা দিয়ে মোড়ানো বিড়ি ব্যবহার করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানার শাস্তি দেওয়া হবে। এই কঠোর নিয়মের মাধ্যমে বাংলাদেশের তামাক ও ই-সিগারেটের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিতেই এই সম্প্রতি আইনি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।