Month: January 2026

  • নির্বাচনে সহিংসতা রোধে সব বাহিনীকে নির্দেশ দিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    নির্বাচনে সহিংসতা রোধে সব বাহিনীকে নির্দেশ দিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সহিংসতা প্রতিরোধে সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—এই কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে শান্তি ও উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখতে সবাই যেন their দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করে, তা নিশ্চিত করতে সদা সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এই কথা জানান তিনি। সভাটি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আয়োজিত হয়।

    স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘‘কোনো স্থানে যদি কোনো ব্যালটবাক্স ছিনতাই করা হয়, তাহলে পোলিং অফিসার থেকে শুরু করে প্রেসাইডিং অফিসার কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউই বঞ্চিত থাকবে না—এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

    প্রশাসনকে নিয়ে তিনি বলেন, এবার তারা নিরপেক্ষভাবে সরকারি কর্মচারীর মতো কাজ করবে—কোনো দলের পক্ষে নয়, কোনো পার্টির লেজুড় হবে না এবং কাউকে বিশেষ সুবিধা দেবে না। সকলকে নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালনে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    শেরপুরে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রসঙ্গে জানিয়ে তিনি বলেছেন, অনেক সময় গ্রেপ্তার কার্যক্রমে সময় লাগে, তবুও যারা ঘটনায় জড়িত তারা অবশ্যই আইনগতভাবে গ্রেপ্তার করা হবে। প্রশাসনের সব স্তরের কর্মকর্তারা থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় মারামারি হলে তা থামাতে একবারে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া কিংবা বাধা পড়া প্রাকৃতিক—তবে এ ধরনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বতন্ত্র চেষ্টা থাকবে।

    নির্বাচনের দিনেও সহিংসতার আশঙ্কা করা হচ্ছে কি না জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘‘বিগত নির্বাচনগুলোর মধ্যে এবারের নির্বাচনই সবচেয়ে ভালো একটি নির্বাচন হবে।’’ তিনি আশা প্রকাশ করেন যে সর্বস্তরের সম্মিলিত সতর্কতা ও কর্তব্যপরায়ণতা নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু করবে।

  • গণমানুষের অধিকার আদায়ে সবসময় জনগণের পাশে থাকবে বিএনপি: নজরুল ইসলাম মঞ্জু

    গণমানুষের অধিকার আদায়ে সবসময় জনগণের পাশে থাকবে বিএনপি: নজরুল ইসলাম মঞ্জু

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, আমরা একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি — যেখানে প্রশিক্ষিত যুবকেরা উন্মুক্ত কর্মসংস্থানে অংশ নিয়ে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে এবং দেশ গঠনে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে।

    মঞ্জু বলেন, আমরা চাই এমন একটি সমাজ যেখানে ভয় ও শোষণের বদলে প্রতিষ্ঠিত হবে সত্য, ন্যায় ও ইনসাফ। থাকবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি। সরকারি-বেসরকারি সকল দপ্তর দালাল ও দুর্নীতিমুক্ত হবে। সেখানে মানুষের কণ্ঠঅধিকার রোধ করা যাবে না; বরং প্রত্যেক মানুষের মতামত পরবর্তী পথচলার নতুন শক্তি হবে।

    বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে তিনি ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের মিস্ত্রীপাড়া বাজারে (সকাল সাড়ে ৯টায়) এবং ২১ নম্বর ওয়ার্ডের জব্বার মার্কেট, রেলওয়ে মার্কেট, নান্নু সুপার মার্কেট ও মশিউর রহমান মার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকায় (সকাল সাড়ে ১০টায়) গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করেন।

    গণসংযোগকালে মঞ্জু প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, খুলনার সোনালি দিনগুলো আবার ফিরে আসুক। বন্ধ হয়ে যাওয়া কল-কারখানাগুলো আবার জেগে উঠবে কর্মমুখর শ্রমিকের হাসি আর উৎপাদনশীল যন্ত্রের গর্জনে। খুলনার প্রতিটি অলিগলি, পাড়া-মহল্লা আবার প্রাণচঞ্চল হবে তরুণদের সাংস্কৃতিক চর্চা ও খেলাধুলায়। সমাজ হবে মাদকমুক্ত এবং সবাই মিলে সমৃদ্ধির সোপানে উঠব; এই প্রত্যয়ে তিনি নতুন একটি খুলনা গড়ার আহবান জানান।

    মঞ্জু আরও বলেন, এই সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য গণমানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে বিএনপি সবসময় জনগণের পাশে ছিল, আছে এবং থাকবে। প্রিয় খুলনার ঐতিহ্য, সম্মান ও ভবিষ্যৎ রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপি সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা, সাবেক ছাত্রনেতা রুহুল আজিম রুমি, মাহবুব হাসান পিয়ারু, একরামুল হক হেলাল, শের আলম সান্টু, আনোয়ার হোসেন, নিয়াজ আহমেদ তুহিন, শামসুজ্জামান চঞ্চল, হাসান মেহেদী রিজভী, আবু সাঈদ শেখ, মহিবুল্লাহ শামীম, শফিকুল ইসলাম শফি, আব্দুল জব্বার, রবিউল ইসলাম রবি, মেশকাত আলী, নুর ইসলাম, মনিরুল ইসলাম মাসুম, নাসির খান, ওহিদুজ্জামান খসরু, আলমগীর ব্যাপারী, শামীম খান, মোস্তফা কামাল, রিয়াজুর রহমান, মাহবুব হোসেন, খায়রুল ইসলাম লাল, মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু, শামসুর রহমান লিচু, আবু বক্কর, অলিয়ার রহমান অলি, মোহাম্মদ আলী, আহসান কবির শাহিন, ওহিদুল ইসলাম, খান মঈনুল ইসলাম মিঠু, জাকারিয়া লিটন, মাজেদা খাতুন, মনিরুল আজম, মোফাজ্জেল হোসেন, গোলকি সাঈদ, কামরুল ইসলাম, মাসুদ রেজা, ইলিয়াস হোসেন, রফিকুল ইসলাম, আবুল কাশেম, জাহিদুর রহমান, আল আমিন তালুকদার প্রিন্স, ইউনুচ শেখ, ঈসা শেখ, আরিফুল ইসলাম, টিপু হাওলদার, কাওসার দাদো, আজহার, বেল্লাল, মাসুদ খান, মনিরুজ্জামান মনি, মহসীন, মিজানুর সরদার, রবিউল আলম, পান্না, টিটুসহ বিএনপি থানা, ওয়ার্ড ও অন্যান্য অঙ্গদলের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।

  • ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে শ্রীলঙ্কায় বাড়তি নিরাপত্তা

    ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে শ্রীলঙ্কায় বাড়তি নিরাপত্তা

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে শ্রীলঙ্কা অংশগ্রহণকারী দলের নিরাপত্তায় এলিট সশস্ত্র ইউনিট মোতায়েন করবে। বিশেষ করে ভারত ও পাকিস্তানের মুখোমুখি ম্যাচগুলোর দিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে, বলে এএফপিকে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

    ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজক দেশ হিসেবে শ্রীলঙ্কা আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত দ্বীপদেশে অনুষ্ঠিতব্য মোট ২০টি ম্যাচের আয়োজন করবে। ওই তালিকার একটি প্রধান ম্যাচ—গ্রুপ ‘এ’-এর ভারত ও পাকিস্তানের লড়াই—নির্ধারিত হয়েছে ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে।

    দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনা দীর্ঘদিন ধরেই ক্রিকেট মাঠে প্রতিফলিত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, গত বছরের চার দিনের সংঘাতের পর সেই উত্তেজনা আরও বেড়েছে। শ্রীলঙ্কার ক্রীড়া মন্ত্রী সুনিল কুমারা গামাগে এএফপিকে বলেন, সরকার টুর্নামেন্টটি নির্বিঘ্নে আয়োজন করাকে ‘সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারে’ রেখেছে এবং ভারত-পাকিস্তান ম্যাচগুলোর ব্যাপারে ‘বিশেষ নজর’ রাখা হচ্ছে।

    পুলিশ ও নিরাপত্তা সূত্র জানায়, সাধারণত রাষ্ট্রপ্রধানদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত элিট কমান্ডো ইউনিটগুলোই এবার সব দলের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে। এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, খেলোয়াড়দের বিমানবন্দর ত্যাগের মুহূর্ত থেকে ফের বিমানবন্দরে পৌঁছানো পর্যন্ত সশস্ত্র নিরাপত্তা দেয়া হবে।

    ইতিহাসগতভাবে নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারত ও পাকিস্তান একে অপরের দেশে খেলতে নাও যেতে পারে—এমন পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ‘‘হাইব্রিড মডেল’’ অনুসরণ করা হয়েছে। এ ধারাবাহিকতায় আইসিসি তাদের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নিয়েছে।

    নিরাপত্তা উদ্বেগ তুলে বাংলাদেশও শুরুতে তাদের ভারতে হওয়ার ম্যাচ আয়োজন না করার অনুরোধ করেছিল; কিন্তু আইসিসি সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করলে বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে এবং তাদের স্থলে স্কটল্যান্ডকে যুক্ত করা হয়। বাংলাদেশকে সমর্থন জানিয়ে পাকিস্তানও টুর্নামেন্ট বয়কটের ইঙ্গিত দিয়েছিল, যদিও বিষয়টি চূড়ান্ত হয়নি।

    শ্রীলঙ্কা এ সময় আঞ্চলিক বিরোধে জড়াতে নারাজ থাকার বার্তাও বারবার দিয়েছেন। দেশটির ক্রিকেট সেক্রেটারি বান্দুলা দিসানায়েকে এএফপিকে বলেছেন, কলম্বো কোনোভাবেই আঞ্চলিক বিবাদে ভগ্নদৈত্য হতে চায় না এবং ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে বিরোধে শ্রীলঙ্কা নিরপেক্ষ থাকবে—এই তিন দেশই শ্রীলঙ্কার বন্ধু।

    প্রয়োজনে ভবিষ্যতে যেকোনো দেশের জন্য টুর্নামেন্ট আয়োজন করতেও শ্রীলঙ্কা প্রস্তুত বলে তিনি যোগ করেছেন। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক ভেন্যুগুলোর উন্নয়নের কাজও চালানো হয়েছে: কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাবে নতুন ফ্লাডলাইট স্থাপন করা হয়েছে এবং ক্যান্ডির পাল্লেকেলে স্টেডিয়াম গত নভেম্বরে আঘাত হানা প্রাণঘাতী ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে থেকে রক্ষা পেয়েছে। ওই স্টেডিয়ামে শুক্রবার শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডের মধ্যে একটি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ হওয়ার কথা রয়েছে।

  • চাঁদাবাজমুক্ত ও সন্ত্রাসমুক্ত খুলনা গড়ার অঙ্গীকার রকিবুল বকুলের

    চাঁদাবাজমুক্ত ও সন্ত্রাসমুক্ত খুলনা গড়ার অঙ্গীকার রকিবুল বকুলের

    খুলনার পবিত্র মাটিতে যদি জনগণের ভোটে তিনি নির্বাচিত হন, তবে সেখানে কোনো চাঁদাবাজ বা সন্ত্রাসীর স্থান থাকবে না—এমন শক্ত প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন খুলনা-৩ আসনের ধানের শীষ প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল।

    বুধবার বিকেলে পাবলা সবুজ সংঘ মাঠে অনুষ্ঠিত পথসভায় বকুল বলেন, গত কয়েক বছরে খুলনাবাসী নানাভাবে শোষণ ও চাঁদাবাজির শিকার হয়েছে। সাধারণ ব্যবসায়ীরা শান্তিতে ব্যবসা করতে পারেননি এবং সাধারণ মানুষের জীবন-মালরক্ষাও বিঘ্নিত হয়েছে। এ অবস্থা বদলে দিতে তিনি সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা নেবেন এবং চাঁদাবাজদের সিন্ডিকেট ভেঙে দেবেন বলে সংকল্প ব্যক্ত করেন।

    পাবলা সবুজ সাথী প্রি-ক্যাডেট স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে বকুল আরও বলেন, জনগণের আস্থায় নির্বাচিত হয়ে সংসদে যেতে পারলে তিনি একটি সুন্দর, নিরাপদ ও সন্ত্রাসমুক্ত খুলনা উপহার দেবেন। তিনি ধানের শীষ প্রতীককে শান্তির প্রতীক হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, এই প্রতীক জয়ী হলে সাধারণ মানুষের অধিকার পুনরায় ফিরে আসবে।

    বকুল অভিযোগ করেন, খুলনার সম্পদ লুটে খাওয়া এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে শাসন করার পেছনে একটি বিশেষ গোষ্ঠীর হাত রয়েছে। এই অনিয়ম থামাতে আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ মার্কায় ভোট দেনোর আহ্বান জানান তিনি।

    তিনি জানান, তার মূল লক্ষ্য খুলনার প্রত্যেক পাড়া-মহল্লায় শান্তি ফিরিয়ে আনা। নির্বাচিত হলে কোনো দলীয় পরিচয় নিয়ে কেউ চাঁদাবাজি বা জমি দখল করতে পারবে না—এমন কড়া হুশিয়ারিও দেন তিনি।

    অনুষ্ঠানে সবুজ সাথী প্রি-ক্যাডেট স্কুলের অধ্যক্ষ মোঃ শাহীন অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী, সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক মোঃ চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন, সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ মুশাররফ হোসেন, দৌলতপুর থানা বিএনপির সভাপতি মুর্শিদ কামাল, বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান খন্দকার আলমগীর কবির, পাবলা সবুজ সংঘের সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম, খুলনা মহানগর জাসাসের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার নুর ইসলাম বাচ্চু এবং পাবলা সবুজ সংঘ মসজিদের সভাপতি আলহাজ্ব এইচ.এ. রহিম।

    আরও উপস্থিত ছিলেন মোঃ মতলেবুর রহমান, মিতুল, প্রফেসর সাইফুল ইসলাম, জয়নাল আবেদীন, শেখ আনসার আলী সহ দৌলতপুর থানা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বহু নেতাকর্মী।

  • ওশিওয়ারায় গুলি চালানোর অভিযোগে বলিউড অভিনেতা কামাল আর খান গ্রেফতার

    ওশিওয়ারায় গুলি চালানোর অভিযোগে বলিউড অভিনেতা কামাল আর খান গ্রেফতার

    মুম্বাইয়ের ওশিওয়ারা এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে গুলিবর্ষণের ঘটনায় বলিউড অভিনেতা ও চলচ্চিত্র সমালোচক কামাল আর খান, পরিচিত নাম কেআরকে,কে মুম্বাই পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) তাকে আদালতে তোলা হবে।

    পুলিশ জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ওই এলাকায় চারটি গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীর বিবৃতির ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করলে সন্দেহের তির কাটে কেআরকের দিকে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন যে গুলিগুলো তার লাইসেন্সপ্রাপ্ত বন্দুক থেকেই ছোড়া হয়েছিল, তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে কাউকে আঘাত করার উদ্দেশ্য তার ছিল না।

    অভিনেতার ভাষ্য অনুযায়ী, বন্দুক পরিষ্কার করার পর সেটি ঠিকঠাক কাজ করছে কি না পরীক্ষা করার জন্য তিনি বাড়ির সামনে থাকা ম্যানগ্রোভের দিকে গুলি ছোড়েন। বায়ুর গতিবেগের কারণে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে গুলিগুলো পাশের একটি আবাসিক ভবনে লেগে যায়—এমনটাই তিনি পুলিশের সামনে দাবি করেন।

    মুম্বাই পুলিশ ঘটনার ব্যাপারে বিস্তারিতভাবে তদন্ত চালাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি ও প্রত্যক্ষ প্রমাণ শনাক্তের চেষ্টা করছে।

    কামাল আর খান বলিউডে বিতর্কিত একটি ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। ২০২২ সালে তিনি একটি যৌন হেনস্থার মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এবং সামাজিক মাধ্যমে তারকাদের নিয়ে কটাক্ষ বা উসকানিমূলক মন্তব্য করলে তার বিরুদ্ধে একাধিক মানহানি ও আইনগত মামলা হয়েছে।

  • নিশো ও পুতুল সেরা অভিনেতা–অভিনেত্রী, সেরা সিনেমা ‘সাঁতাও’

    নিশো ও পুতুল সেরা অভিনেতা–অভিনেত্রী, সেরা সিনেমা ‘সাঁতাও’

    রাতভর অপেক্ষার পর অবশেষে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এল — জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২৩-র বিজয়ীরা। প্রায় নয় মাস আগে যখন বিচারকরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেন, তখন থেকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ জমা পড়ে। তবুও পুরস্কারের নাম ঘোষণা করা হয়েছে অনেক সময় পর। বৃহস্পতিবার তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানানো হয়, মোট ২৮টি বিভাগে পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।

    প্রধান ফলাফলগুলোতে দেখা যায় যে রায়হান রাফীর ‘সুড়ঙ্গ’ সর্বোচ্চ আটটি বিভাগে পুরস্কার জিতে নিয়েছে। পরপর ছয়টি পুরস্কার পেয়েছে হিমেল আশরাফের ‘প্রিয়তমা’। আর খন্দকার সুমনের ‘সাঁতাও’ চলচ্চিত্রই প্রাপ্ত হলো সেরা সিনেমার খেতাব—এছাড়াও সে ছবির জন্য খন্দকার সুমন সেরা পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন এবং আইঅনুন নাহার পুতুল সেরা অভিনেত্রী।

    এ বছর জীবনী সম্মাননা দেওয়া হয়েছে চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও প্রখ্যাত চিত্রগ্রাহক ও নির্মাতা আব্দুল লতিফ বাচ্চুকে। আর ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে সেরা অভিনেতা হয়েছেন আফরান নিশো (সুড়ঙ্গ), সেরা অভিনেত্রী হয়েছেন আইনুন পুতুল (সাঁতাও)। খলচরিত্রে সেরা হয়েছেন আশীষ খন্দকার (অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন) এবং সেরা কৌতুক অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছেন শহীদুজ্জামান সেলিম (সুড়ঙ্গ)।

    শিশুশিল্পীর ক্ষেত্রে মো: লিয়ন (আম কাঁঠালের ছুটি) ও আরিফ হাসান (আম কাঁঠালের ছুটি) পেয়েছেন আলাদা ও বিশেষ স্বীকৃতি। সঙ্গীত ও প্রযুক্তিগত বিভাগেও নানা ছবির কলাকুশলী স্বীকৃত হয়েছেন। নীচে পূর্ণতালিকা দেওয়া হলো:

    আজীবন সম্মাননা: তারেক মাসুদ; আব্দুল লতিফ বাচ্চু

    সেরা সিনেমা: সাঁতাও (পরিচালক: খন্দকার সুমন)

    সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র: মরিয়ম (পরিচালক: চৈত্রালী সমদ্দার)

    সেরা প্রামাণ্য চলচ্চিত্র: লীলাবতী নাগ: দ্য রেবেল (পরিচালক: এলিজা বিনতে এলাহী)

    সেরা অভিনেতা: আফরান নিশো (সুড়ঙ্গ)

    সেরা অভিনেত্রী: আইনুন পুতুল (সাঁতাও)

    সেরা পার্শ্ব অভিনেতা: মনির আহাম্মেদ শাকিল (সুড়ঙ্গ)

    সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী: নাজিয়া হক অর্শা (ওরা সাত জন)

    সেরা খল অভিনেতা: আশীষ খন্দকার (অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন)

    সেরা কৌতুক অভিনেতা: শহীদুজ্জামান সেলিম (সুড়ঙ্গ)

    সেরা শিশুশিল্পী: মো: লিয়ন (আম কাঁঠালের ছুটি)

    শিশুশিল্পী শাখায় বিশেষ পুরস্কার: আরিফ হাসান আনাইরা খান (আম কাঁঠালের ছুটি)

    সেরা সংগীত পরিচালক: ইমন চৌধুরী (অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন)

    সেরা নৃত্য পরিচালক: হাবিবুর রহমান (লাল শাড়ি)

    সেরা গায়ক: বালাম (গান: ‘ও প্রিয়তমা’, সিনেমা: প্রিয়তমা)

    সেরা গায়িকা: অবন্তী দেব সিথি (গান: ‘গোটা পৃথিবীতে খুঁজো’, সিনেমা: সুড়ঙ্গ)

    সেরা গীতিকার: সোমেস্বর অলি (গান: ‘ঈশ্বর’, সিনেমা: প্রিয়তমা)

    সেরা সুরকার: প্রিন্স মাহমুদ (গান: ‘ঈশ্বর’, সিনেমা: প্রিয়তমা)

    সেরা কাহিনিকার: ফারুক হোসেন (প্রিয়তমা)

    সেরা চিত্রনাট্যকার: নিয়ামুল মুক্তা (রক্তজবা)

    সেরা সংলাপ রচয়িতা: রায়হান রাফী ও সৈয়দ নাজিম উদ দৌলা (সুড়ঙ্গ)

    সেরা সম্পাদক: সালাহ উদ্দিন আহমেদ বাবু (ওরা সাত জন)

    সেরা শিল্প নির্দেশক: শহীদুল ইসলাম (সুড়ঙ্গ)

    সেরা চিত্রগ্রাহক: সুমন কুমার সরকার (সুড়ঙ্গ)

    সেরা শব্দগ্রাহক: সুজন মাহমুদ (সাঁতাও)

    সেরা পোশাক ও সাজসজ্জা: বিথী আফরিন (সুড়ঙ্গ)

    সেরা মেকআপম্যান: সবুজ (প্রিয়তমা)

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হলো যে বিভাগভিত্তিক আরও পুরস্কার রয়েছে, এবং পৃথক অনুষ্ঠানে বা মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য ঘোষণায় তাদের তুলে ধরা হবে। এই ফলাফলগুলোতে গত বছরের বিভিন্ন ধাঁচের চলচ্চিত্র ও শিল্পীদের প্রচেষ্টা ও বৈচিত্র্যের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে—অভিনয়, মিউজিক আর প্রযুক্তিগত দক্ষতা মিলিয়ে বাংলা সিনেমা বছরে নানা সফলতা পেয়েছে।

  • ইসি অনলাইনে নয়, ম্যানুয়ালি ইস্যু করবে সাংবাদিক কার্ড

    ইসি অনলাইনে নয়, ম্যানুয়ালি ইস্যু করবে সাংবাদিক কার্ড

    আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা সাংবাদিকদের আইডি কার্ড ও গাড়ির স্টিকার সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে ম্যানুয়ালি কার্ড ইস্যু করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

    ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ম্যানুয়ালি কার্ড ইস্যু করার বিস্তারিত প্রক্রিয়া খুব শিগগিরই জানিয়ে দেওয়া হবে।

    তিনি আরো জানান, যারা ইতোমধ্যে অনলাইনে আবেদন করেছেন তাদের পুনরায় কিছু করার প্রয়োজন নেই। আর যারা অনলাইনে আবেদন করেননি তাদেরকে অনলাইনে আবেদন করতে হবে না; তারা সরাসরি নির্বাচন ভবনে এসে কার্ড ও স্টিকার নিতে পারবেন।

    এর আগে ইসি নির্বাচনি দায়িত্ব পালনকারী সাংবাদিকদের জন্য অনলাইনে আবেদনের আহ্বান জানায়। তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন এই প্রক্রিয়াকে ‘ইউজার ফ্রেন্ডলি নয়’ বলে উল্লেখ করে দ্রুত সমাধান দেয়ার আশ্বাস দেন।

    সাংবাদিক নেতারা সংগঠিতভাবে আগামী রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত এসব জটিলতা মেটাতে ইসিকে আলটিমেটাম দিলে আভাস মেলেনি, এরপরই ইসি অনলাইনে-only পদ্ধতি থেকে সরে এসে ম্যানুয়ালি ইস্যু করার সিদ্ধান্ত নেয়।

  • নির্বাচন কমিশন: সরকারি কর্মকর্তারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ প্রচারণা চালাতে পারবেন না

    নির্বাচন কমিশন: সরকারি কর্মকর্তারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ প্রচারণা চালাতে পারবেন না

    নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, আসন্ন গণভোটে সরকারি কর্মকর্তারা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’—কোনও পক্ষের প্রচারণা চালাতে পারবেন না। এ সংক্রান্ত নির্দেশনা ইতোমধ্যে সকল রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠানো হয়েছে।

    ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত ওই চিঠি বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ধারা ২১ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ৮৬ অনুযায়ী এমন নিয়ম আরোপ করা হয়েছে।

    চিঠিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ‘‘প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি গণভোট বিষয়ে জনগণকে অবহিত ও সচেতন করতে পারবেন; তবে তিনি কোনোভাবে জনসাধারণকে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট প্রদানের আহবান জানাতে পারবেন না।’’

    ইসি জানিয়েছে, সরকারের কর্মচারীদের পক্ষ-পক্ষান্তরে কথা বলার ফলে গণভোটের ফলাফল প্রভাবিত হতে পারে এবং তা উল্লেখিত বিধানের পরিপ্রেক্ষিতে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। তাই রিটার্নিং অফিসারদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

    এর আগে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি)ও ইসি জানিয়েছিল যে, নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা গণভোটে কোনো একটি পক্ষের পক্ষপাতমূলক প্রচারণায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন না; তবে তারা ভোটারদের গণভোটে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে পারবেন।

    নির্বাচন কমিশন কর্তৃক জারি করা এই নির্দেশনা সরকারি কর্মীদের আচরণগত সুষমতা নিশ্চিত করে গণভোটের নিরপেক্ষতা রক্ষায় কেন্দ্রীয় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র রুখতে জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে: তারেক রহমান

    নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র রুখতে জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে: তারেক রহমান

    বনিবিধ যে দেশের ভবিষ্যৎ জনগণই নির্ধারণ করবেন ১২ ফেব্রুয়ারি — এমন মন্তব্য করেছে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি দাবি করেন, কিছু মহল নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে এবং সেটি রুখে দিতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় উপস্থিত লাখো মানুষের উদ্দীপনা এবং উত্তেজনা লক্ষ্যণীয় ছিল।

    তারেক রহমান রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষির উন্নয়ন ও সেচবিপ্লব টেকসই করার লক্ষ্যে ১০০০ কোটি টাকার আটকে থাকা পদ্মা সেচ প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি জানান, ধানের শীষের বিজয়ে এই প্রকল্পের সুফল রাজশাহী থেকে শুরু করে পঞ্চগড় পর্যন্ত প্রতিটি কৃষকের ঘরে পৌঁছে দেয়া হবে।

    চেয়ারম্যান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয় এবং পরে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার শাসনামলে নেওয়া বড় সেচ প্রকল্পগুলো উত্তরবঙ্গের কৃষিকে সমৃদ্ধ করেছিল। কিন্তু পদ্মা কেন্দ্রিক ওই বিশাল সেচ প্রকল্পটি গত ১৬ বছরে পরিকল্পিতভাবে থামিয়ে রাখা হয়েছে, যার ফলে এখন সেটি প্রায় বন্ধপ্রায় অবস্থায় পৌঁছেছে। তিনি আশ্বস্ত করেন, তাঁরা ক্ষমতায় এলে এই ঐতিহাসিক প্রকল্পকে পূর্ণ শক্তিতে পুনরায় চালু করবেন।

    তারেক রহমান বলেন, সেচ ব্যবস্থা শুধু রাজশাহীতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; রাজশাহী থেকে পঞ্চগড় পর্যন্ত প্রতিটি মাঠে সেচের পানি পৌঁছে দিতেই তারা কাজ করবেন। উৎপাদন বাড়লে কৃষকের আয় বাড়বে—কৃষক হাসলে পুরো দেশের মঙ্গল হবে, বলেও তিনি যোগ করেন।

    রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম চাষীদের কষ্টের কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে আম সংরক্ষণের কোনো আধুনিক ব্যবস্থাপনা নেই। ক্ষমতায় এলে তারা আম সংরক্ষণের জন্য বিশেষায়িত কোল্ড স্টোরেজ ও আধুনিক গুদাম নির্মাণ করবে, যাতে মৌসুমে আম নষ্ট হওয়ার ভয় থেকে চাষীরা মুক্তি পায় এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হয়।

    সেচ প্রকল্পের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের যাতায়াত বদলাতে পদ্মা নদীর ওপর নতুন ‘পদ্মা ব্রিজ’ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তিনি বলেন, এটি হবে উত্তরবঙ্গের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি।

    প্রান্তিক নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য প্রতিটি পরিবারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়ে তিনি জানান, এই কার্ডের মাধ্যমে মা-বোনেরা সরাসরি সরকারি সুবিধা পাবেন এবং তাদের স্বাবলম্বী হয়ে উঠার পথ তৈরি হবে।

    ২২ বছর পর রাজশাহীতে তারেক রহমানের সশরীর উপস্থিতি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা জাগিয়েছে। তিনি উপস্থিত দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দেন, উন্নয়নের এই বার্তাগুলো নিয়মিতভাবে প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। তিনি বলেন, ‘ধানের শীষ’ শুধু প্রতীক নয়—উত্তরবঙ্গের কৃষকের ভাগ্য বদলের চাবিকাঠি।

    সমাবেশে রাজশাহী বিভাগের আট জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে লক্ষাধিক মানুষ সমাগম করেন, যা পুরো রাজশাহী মহানগরীকে কার্যত অচল করে দেয়।

  • এক দল সারা দেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে: নাহিদ ইসলাম

    এক দল সারা দেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘‘একটি দল নির্বিচারের মতো সারা দেশে মামলা দিয়ে, মামলা-বাণিজ্য করে ও প্রতারণা চালাচ্ছে। তারা ৩১ দফার প্রতিশ্রুতিতেও মানুষকে প্রতারিত করছে; কেউ মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে বিভ্রান্ত হবেন না।’’

    আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল শহরে আয়োজিত নির্বাচনী পথসভায় এসব অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। এই জনসভা মৌলভীবাজার-৪ আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত এনসিপি প্রার্থী প্রীতম দাশের পক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

    নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘‘৫ আগস্টের পর বাংলাদেশ নতুনভাবে গড়ে উঠবে। ৫ আগস্টের আগে যে অন্ধকার সময়ের পরিণতি আমরা দেখেছি, আমরা আর তা চাই না। আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে; যারা অবিচার করেননি তাদের হয়রানি করা হবে না।’’

    তিনি দাবি করেন, ‘‘আমরা দেখেছি—এক দল সারা দেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে। জামায়াতে ইসলামীর একজন উপজেলা সেক্রেটারি হত্যা করা হয়েছে। ১১ দলীয় জোট এই সংরূপ সহিংসতা সহ্য করবে না; জনগণ নির্বাচনের মাধ্যমে এর জবাব দেবে।’’

    নাহিদ ইসলাম নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘‘নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকায় নেই। তাদের নিরপেক্ষ হতে হবে, নয়তো ১১ দলীয় জোট এটি মেনে নিবে না।’’

    তিনি জোটের প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে উল্লেখ করেন, নির্বাচিত হলে ১১ দলীয় জোট শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও তরুণদের কর্মসংস্থান শক্তিশালী করার জন্য কাজ করবে।

    আহ্বায়ক বলেন, ‘‘আমরা এই আসনে প্রীতম দাশকে মনোনীত করেছি। আমরা মৌলভীবাজারের চার আসনকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। প্রীতম দাশ চা-শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি আদায়ের সংগ্রামে জেলও কেটেছেন; তিনি ফ্যাসিস্ট শাসনামলে কারাবাসভোগ করেছেন।’’

    নাহিদ ইসলাম শেষ করে বলেন, ‘‘১১ দলীয় জোট ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়বে; সবাই একসাথে কাজ করবে। আমরা চাই না চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের হাতে আবার ক্ষমতা দিয়ে দেওয়া হোক বা নতুন কোনো স্বৈরাচারের উত্থান ঘটুক। আমরা মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকবো। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ফল আমাদের হবেই, ইনশা আল্লাহ। মৌলভীবাজার-৪ থেকে এনসিপির যাত্রা আমরা আজ শুরু করলাম।’’

    এ নির্বাচনী পথসভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র ও নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, মৌলভীবাজার-৪ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী প্রীতম দাশসহ অন্যান্য স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।