Category: জাতীয়

  • মার্চে ৬১৯ নিহত, ১৫৪৮ আহত সড়ক দুর্ঘটনা: যাত্রী কল্যাণ সমিতি

    মার্চে ৬১৯ নিহত, ১৫৪৮ আহত সড়ক দুর্ঘটনা: যাত্রী কল্যাণ সমিতি

    দেশে মার্চ মাসে মোট ৬১৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬১৯ জন নিহত এবং ১,৫৪৮ জন আহত হয়েছেন। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগ যেখানে ১৬০টি দুর্ঘটনায় ১৭০ জন নিহত ও ৩২০ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, বরিশাল বিভাগের দুর্ঘটনা সংখ্যা সবচেয়ে কম। একই সময়ে মোট ৯৭৫টি যানবাহনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২১ দশমিক ৬৪ শতাংশ ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান ও লরি, ১৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ বাস, ১৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ৮ দশমিক ৪১ শতাংশ নছিমন-করিমন, মাহিন্দ্রা, ট্রাক্টর ও লেগুনা এবং ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ কার, জিপ ও মাইক্রোবাস।

    বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট দুর্ঘটনার ৩৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৩২ দশমিক ৪৬ শতাংশ গাড়িচাপা বা ধাক্কা, ২১ দশমিক ৪২ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, এছাড়া অন্যান্য কারণেও দুর্ঘটনা ঘটে। স্থান অনুযায়ী দেখা গেছে যে এসব দুর্ঘটনার ৪০ দশমিক ৯০ শতাংশ ঘটে জাতীয় মহাসড়কে, ৩০ দশমিক ০৩ শতাংশ আঞ্চלিক মহাসড়কে, এবং ২২ দশমিক ০৭ শতাংশ ফিডার রোডে। এছাড়া ঢাকায় ৫ দশমিক ৫১ শতাংশ, চট্টগ্রামে ০ দশমিক ৪৮ শতাংশ এবং রেলক্রসিংয়ে ০৯৭ শতাংশ দুর্ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে।

    সংগঠনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে দুর্ঘটনার বড় কারণগুলো হলো মোটরসাইকেল, রিকশা, অটোরিকশার অবাধ চলাচল, মহাসড়ক ও রেলক্রসিংয়ে সুরক্ষা সংক্রান্ত কমতি, ট্রাফিক আইন অমান্য, নির্মাণ ত্রুটি, চালকদের অদক্ষতা, অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন ও অদক্ষ চালক। এসব কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে এবং ঝুঁকি সৃষ্টি হচ্ছে।

    সংগঠনটি দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বিভিন্ন সুপারিশ উপস্থাপন করেছে, যেমন সড়কে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, স্মার্ট ভাড়া ব্যবস্থা, নীতিনির্ধারণে মানোন্নয়ন, সড়ক আলোকসজ্জা, লাইসেন্সের দক্ষতা পরীক্ষা, ডিজিটাল ফিটনেস ব্যবস্থা, ট্রাফিক আইন পালন ও সড়কের উন্নয়ন। এছাড়াও ঈদযাত্রায় নিরাপদ পরিবহন নিশ্চিত করতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, ঢাকাসহ বড় শহরগুলোর জনসংখ্যার চাপ কমানো এবং সব পর্যায়ে ট্রাফিক নিয়মকানুন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি।

  • ফরিদপুরের ভাঙ্গায় দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষ, শতাধিক আহত

    ফরিদপুরের ভাঙ্গায় দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষ, শতাধিক আহত

    ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে একের পরে এক সংঘর্ষে পুরো এলাকা এখনও রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষ শনিবার সকাল পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে, এতে পুলিশসহ কমপক্ষে শতাধিক লোক গুরুতর আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ও পুলিশ কর্মকর্তারা।

    বিস্তারিত জানানো হয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার সকালে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদি ইউনিয়নের মুনসুরাবাদ বাজারে ফের সংঘর্ষ শুরু হয়। এই সংঘর্ষে দুটি পক্ষ—একদিকে মুনসুরাবাদ গ্রামের লোকজন এবং অন্যদিকে খাপুরা, মাঝিকান্দা ও সিংগাড়িয়া গ্রামের লোকজন—যুক্ত হয়। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই বিরোধের জেরেই মূলত এই সংঘর্ষের সূত্রপাত বলে জানা গেছে।

    প্রথম দফায় শুক্রবার সন্ধ্যার পর এই এলাকার তিন যুবককে আখের রস খাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। এর জের ধরে প্রথম দফার দাঙ্গা দুই ঘণ্টা চালার পর রাত্রিযাপন করে অবসর নেন উভয়পক্ষ। কিন্তু সকালে সঙ্গবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আবারও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন তারা। যারা এই সংঘর্ষের সময় বিল্ডিংয়ের ছাদে, বাসা বাড়ির ছাদে, দোকানের ছাদে, টিনের চালসহ বিভিন্ন আড়ালে থেকে ইটপাটকেল ছুঁড়তে থাকেন। এতে উভয় পক্ষের শতাধিক সমর্থক আহত হন।

    আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই অস্থিতিশীল যে, পুলিশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা সতর্ক করে দিয়েছেন, এভাবেই চলতে থাকলে বড় ধরনের হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে। তারা দাঙ্গা থামানোর জন্য দ্রুত পুলিশি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

    আঞ্চলিক পুলিশ কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার মো. রেজওয়ান দীপু বলেন, ‘শুক্রবার এক দফা সংঘর্ষের পর আজ ভোরে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। আমরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছি। আপাতত কিছুটা কমলেও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এখনো অনেক আহত হয়েছে যারা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।’ তিনি আরো জানান, সংঘর্ষ চলাকালীন মশিউর রহমান নামে একজন পুলিশ কনস্টেবলও আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি যতক্ষণ না সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসবে, তখনই হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা বলা সম্ভব নয়।

  • মালয়েশিয়া থেকে আসে ৩৪ হাজার টন ডিজেল

    মালয়েশিয়া থেকে আসে ৩৪ হাজার টন ডিজেল

    চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে মালয়েশিয়া থেকে আসা ৩৪ হাজার টন ডিজেল ভর্তি চীনের পতাকাবাহী জাহাজ ‘শান গ্যাং ফা জিয়ান’। আজ শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এই জাহাজটি গতকাল শুক্রবার গভীর রাতে বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া চ্যানেল মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের বাইরে পৌঁছেছে।

    জাহাজটি ২৯ মার্চ মালয়েশিয়া থেকে রওনা দিয়েছিল। এর আঞ্চলিক এজেন্ট হলো প্রাইড শিপিং লাইনস। মূল পার্টনার নজরুল ইসলাম জানান, জাহাজে মোট ৩৪ হাজার টনের বেশি ডিজেল রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার টন ডিজেল আলাদা ছোট জাহাজে খালাস (লাইটারিং) করতে হবে। এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে অন্তত দুই দফায় অপারেশন প্রয়োজন হবে।

    তিনি আরও জানান, সবকিছু ঠিক থাকলে রোববার (৫ এপ্রিল) এই জাহাজটি পতেঙ্গার ডলফিন জেটিতে ভিড়তে পারে।

    এর আগে, গতকাল দুপুর ২টার দিকে সিঙ্গাপুর থেকে আসা ‘ইয়ান জিং হে’ নামে আরেকটি জাহাজ ২৭ হাজার ৩০০ টন ডিজেল নিয়ে পদ্মা অয়েলের ডলফিন জেটি-৬ এ খালাস কার্যক্রম শুরু করে। এই জাহাজটি রোববার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বন্দর ত্যাগ করবে। এর স্থানীয় এজেন্টও প্রাইড শিপিং।

    চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানিয়েছেন, চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বার্থিং দেয়া হচ্ছে।

    বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, এই নিয়ে মাঝ পথে পৌঁছানো হলো চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো দশম ডিজেল জাহাজ। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য পাইপলাইন সরবরাহের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে অন্য উৎস থেকে পর্যাপ্ত জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

  • অন্য কেউ সরকারে এলে জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়: চিফ হুইপ

    অন্য কেউ সরকারে এলে জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়: চিফ হুইপ

    জাতীয় সংসদের সরকারি দলের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মণি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অন্য কোনো দল সরকারে এলেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না। তিনি শনিবার (৪ এপ্রিল) ঢাকা শহরের সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘নারী স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারে আইন শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক একটি নীতি সংলাপে এই মন্তব্য করেন।

    চিফ হুইপ আরো বলেন, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশে এ ক্ষেত্রে দাম বাড়ানো হয়নি। যদি অন্য কেউ সরকারে থাকত, তবেও এই পরিস্থিতিতে দাম বাড়ানোই সম্ভব হত, কারণ পরিস্থিতি এরই মধ্যে অনেক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রয়োজনের চেয়েও দ্বিগুণ জ্বালানি সরবরাহ সত্ত্বেও বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছে না সরকার; বর্তমানে দুই লাখ মেট্রিকটন তেল মজুত রয়েছে এবং আরো দুই লাখ তেল আসছে। তবে পত্রিকা খুললে বেশিরভাগ সংবাদই নেতিবাচক খবর দেখা যায়, আর তেমনি ইতিবাচক কিছু পাওয়া যায় না।

    ধূমপান নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে নুরুল ইসলাম বলেন, একজন ধূমপান করলে অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত হন। মানব সম্পদ ছাড়া আমাদের দেশে অন্য কোনো মূলধন নেই, তাই মানুষকে রক্ষা করতে হলে সিগারেটের ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করতে হবে। তিনি ই-সিগারেটের বিষয়েও বলেন, এর নেতিবাচক প্রচারণা বা ভুল খবরের মাধ্যমে বিস্তার বাড়ানো হচ্ছে। দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের উচিত এই বিষয়গুলো নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করে সমাধানে এগিয়ে আসা।

    চিফ হুইপ আরো উল্লেখ করেন, বিএনপি সরকার আগেই তামাকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে বেশ কার্যকরী ভূমিকা রেখেছে, যেখানে প্রচার ও বিপণন বন্ধে অগ্রগতির বেশ ভাল ফলাফল দেখা গেছে।

  • ১০ মাস পরে জীবিত থেকে মৃত অবস্থায় ফিরে এলেন আজিজুর

    ১০ মাস পরে জীবিত থেকে মৃত অবস্থায় ফিরে এলেন আজিজুর

    সীমান্তে ঘাস কাটতে গিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক আটক হন আজিজুর রহমান (৫০)। তাকে ধরে নিয়ে নির্যাতন চালানো হয়। মারধরের ফলে তিনি গুরুতর আহত হন এবং এরপর শিলিগুড়ি জেলার কারাগারে পাঠানো হয়। প্রায় সড়ে ছয় মাস পর, গত ২২ মার্চ অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে শিলিগুড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তবে সম্প্রতি জানা গেছে, ঘটনাটি ছিল আরও জটিল। গত শুক্রবার বিকেল তিনটার দিকে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশের বিজিবি ও বিএসএফ’র উপস্থিতিতে আজিজুর রহমানের লাশ বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তেঁতুলিয়া মডেল থানার পুলিশ, কূটনীতিক ও স্বজনরা সকলে উপস্থিত ছিলেন এই ঘটনাস্থলে। আজিজুরের স্বজনরা জানান, তিনি ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকৈল উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নের বাসিন্দা। ২০২৫ সালের ১৪ মে সীমান্তে ঘাস কাটার সময় ভারতের আমবাড়ি বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা তাকে আটক করে। পরিবারের দাবি, আটককালে তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। পরে তাকে শিলিগুড়ি জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। ভিন্ন সূত্র বলছে, তার অসুস্থতার কারণে চলতি বছরের ২২ মার্চ শিলিগুড়ি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পরে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সভয়তা ও যোগাযোগ শুরু হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় আজিজুরের লাশ বাংলাদেশে ফিরিয়ে এসেছের। তার ভাতিজা সোহেল রানা জানিয়েছেন, লাশ বুঝে পাওয়ার পরে তিনি দ্রুত বাড়িতে নিয়ে আসছেন। রাণীশংকৈল উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম বলেন, আজিজুরকে আটক করার সময় বিএসএফ তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়েছিল। এরপর তাদের নির্যাতনের শিকার হন তিনি। পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর কারাগারে মারা যান। তেঁতুলিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাশেদুল ইসলাম জানান, গত বছরের ১৪ মে আজিজুর রহমান ভারতের সীমান্তে বিএসএফের হাতে আটক হয়েছিলেন। তখন তিনি শিলিগুড়ি কারাগারে ছিলেন। অসুস্থ হয়ে পড়ার পর, ২২ মার্চ তার মৃত্যু হয়। আজ শুক্রবার বিকেলে বাংলাদেশের হাইকমিশন, ভারতের বিএসএফ ও পুলিশ লাশ হস্তান্তর করে। এ সময় বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। লাশ বুঝে পাওয়ার পরপরই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

  • মার্চে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৬১৯, আহত ১৫৪৮, যাত্রী কল্যাণ সমিতির রিপোর্ট

    মার্চে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৬১৯, আহত ১৫৪৮, যাত্রী কল্যাণ সমিতির রিপোর্ট

    দেশে মার্চ মাসে মোট ৬১৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬১৯ জন নিহত এবং ১,৫৪৮ জন আহত হয়েছেন। এছাড়াও, একই সময়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে ২২২টি, যেখানে নিহতের সংখ্যা ২৩৭ জন এবং আহতের সংখ্যা ১৯৭ জন। এই দুর্ঘটনার মোট সংখ্যার শতকরা ৩৬.০৩ ভাগ, নিহতের ৩৮.৬১ ভাগ এবং আহতের ১২.৭২ ভাগ।

    আজ শনিবার (৪ মার্চ) বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। সংগঠনটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চ মাসে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এই বিভাগে মোট ১৬০টি দুর্ঘটনায় ১৭০ জন মৃত্যু এবং ৩২০ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে বরিশাল বিভাগে।

    মার্সের এই সময়ে জড়িত যানবাহনের মধ্যে ৯৭৫টি শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২১ দশমিক ৬৪ শতাংশ ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান ও লরি, ১৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ বাস, ১৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ৮ দশমিক ৪১ শতাংশ নসিমন-করিমন, মাহিন্দ্রা, ট্রাক্টর ও লেগুনা এবং ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ কার, জিপ ও মাইক্রোবাস।

    দুর্ঘটনার মূল ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট দুর্ঘটনার ৩৭.৬৬ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৩২.৪৬ শতাংশ গাড়িচাপা বা ধাক্কা, ২১.৪২ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়া, ৭.১৪ শতাংশ বিবিধ কারণে, ০.৩২ শতাংশ চলন্ত যানবাহনের চাকায় ওড়না পেঁচানো এবং ০.৯৭ শতাংশ ট্রেন-যানবাহনের সংঘর্ষে ঘটেছে।

    স্থানীয় পর্যায়ে বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৪০.৯০ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে জাতীয় মহাসড়কে, ৩০.০৩ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে ও ২২.০৭ শতাংশ ফিডার রোডে। এছাড়া, মোট দুর্ঘটনার ৫.৫১ শতাংশ ঘটে ঢাকা মহানগরীতে, ০.৪৮ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে এবং ০.৯৭ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে।

    বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে, মার্চ মাসে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হলো দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে স্বল্প সচেতনতা, অব্যবস্থাপনা ও যানবাহনের অনিয়ম। আরও উল্লেখ করা হয়—মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল, মহাসড়কে প্রয়োজনীয় সাইন ও মার্কিং এর অভাব, রেলক্রসিংয়ে হঠাৎ যানবাহন উঠে আসা, ডিভাইডার অনুপস্থিতি, নির্মাণের ত্রুটি, যানবাহনের ত্রুটি ও ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন, উল্টো পথে চলা, চাঁদাবাজি, পন্যবাহী ট্রাকের জনতালুট ও অদক্ষ চালক। এছাড়াও, এটি দেখা গেছে দীর্ঘসময় ধরে গাড়ি চালানো, ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও অপ্রতুল ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের কারণে দুর্ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাচ্ছে।

    সংগঠনটি দুর্ঘটনা এড়াতে বিভিন্ন সুপারিশ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে প্রযুক্তির used বৃদ্ধি, স্মার্ট ভাড়া পদ্ধতি চালু, মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশার আমদানি ও নিবন্ধন বন্ধ, রাতের বেলায় মহাসড়কে আলোকসজ্জা নিশ্চিত করা, দক্ষ ড্রাইভার তৈরির জন্য প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি, যানবাহনের ডিজিটাল ফিটনেস সিস্টেম চালু, সঠিক লাইসেন্স প্রদান, পরিবহন খাতে শাসন প্রতিষ্ঠা, মহাসড়কে সার্ভিস লেন চালু, চাঁদাবাজি বন্ধ, চালকদের বেতন ও শ্রমঘণ্টা নির্ধারণ, সড়কসজ্জা ও রোড মার্কিং স্থাপন, আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গঠন, মানসম্পন্ন নির্মাণ ও দ্রুত মেরামত, নিয়মিত সড়ক সেফটি অডিট চালু, ও দুর্ঘটনা গবেষণা ইউনিট গঠন।

    সংগঠনটি বলেছে, ঈদযাত্রায় সাধারণ জনগণের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি, ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে জনসংখ্যার চাপ কমানোর প্রয়োজন রয়েছে।

  • ফরিদপুরের ভাঙ্গায় দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষে শতাধিক আহত, পরিস্থিতি উদ্বেগজনক

    ফরিদপুরের ভাঙ্গায় দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষে শতাধিক আহত, পরিস্থিতি উদ্বেগজনক

    ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদি ইউনিয়নের মুনসুরাবাদ বাজারে আধিপত্য নিয়ে দ্বিতীয় দফায় চার গ্রামবাসীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে চলতে থাকায় পুরো এলাকাটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এই সংঘর্ষে পুলিশসহ উভয় পক্ষের নারী, পুরুষ এবং কিশোররা মিলিয়ে কমপক্ষে একশোর বেশি মানুষ আহত হয়েছে। পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

    শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে এই সংঘর্ষ পুনরায় বাধেঁ। সংঘর্ষে অংশ নেওয়া ছিলেন মুনসুরাবাদ গ্রামের লোকজন এবং অন্যদিকে খাপুরা, মাঝিকান্দা ও সিংগাড়িয়া গ্রামের সমর্থকরা। জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে এই চার গ্রামের মধ্যে আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। সম্প্রতি, শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় খাপুরা গ্রামের তিন যুবককে আখের রস খাওয়া নিয়ে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। এর জের ধরে প্রথম দফায় সন্ধ্যার কিছু পরে ২ ঘণ্টার জন্য সংঘর্ষ শুরু হয়। রাত হলে তা বন্ধ হয়ে যায়। এই সংঘর্ষে কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।

    সকালেই উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে একে অপরের উপর চড়াও হয় এবং এরপর থেকে আবারও সংঘর্ষের সূচনা হয়। এতে মুনসুরাবাদ এলাকায় পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠে। দোতালার ছাদ থেকে দোকান, বাসা-বাড়ির ছাদ থেকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের মধ্যে দিয়ে চলতে থাকে ব্যাপক ধাওয়া-ধাওয়া। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না।

    স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এভাবে চলতে থাকলে প্রাণহানি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। তারা দাবি করেন, দাঙ্গা এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জরুরি পদক্ষেপ নেয়া উচিত।

    সহকারী পুলিশ সুপার ভাঙ্গা সার্কেল মো. রেজোয়ান দীপু জানান, গতকাল সংঘর্ষ প্রথম দফায় কিছুটা কমলেও আজ ভোর থেকে আবার শুরু হয়েছে। তারা নিয়ন্ত্রণের জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন। আরম্ভের চেয়ে এখন কিছুটা হলেও কমে এসেছে সংঘর্ষ, তবে পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব হয়নি। প্রচুর হতাহতের আশঙ্কা থাকায় তা এখনো সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না। আহতদের মধ্যে একজন পুলিশ কনেস্টর, মশিউর রহমানও গুরুতর আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত হতাহতের সংখ্যাও নিশ্চিত করে বলা সম্ভব হচ্ছে না।

  • বোমা পিডিএফ ছড়ানো ও ইসকন মন্দিরে হামলা পরিকল্পনার অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার

    বোমা পিডিএফ ছড়ানো ও ইসকন মন্দিরে হামলা পরিকল্পনার অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার

    ঢাকা: নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন ‘নব্য জেএমবি’‑র সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে এক কিশোরকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। পুলিশের অভিযোগ, সে অনলাইনে উগ্রবাদী প্রচারণা চালানোসহ বোমা তৈরির পিডিএফ ফাইল ছড়ানো এবং শিয়া মসজিদ, পুলিশের চেকপোস্ট ও ইসকন মন্দিরে হামলার পরিকল্পনা ও উসকানির সঙ্গে জড়িত ছিল।

    ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার হবিগঞ্জ থানার ওই কিশোরকে বৃহস্পতিবার কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের একটি দল হেফাজতে নেয়। ডিএমপির এক বিজ্ঞপ্তিতে শুক্রবার এই তথ্য জানানো হয়। পুলিশ বলেছে, প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়ায় তাকে শিশু হিসেবে কিন্ডার জুডিশিয়াল প্রসেসে পাঠানো হয়েছে।

    পুলিশ জানিয়েছে, এই গ্রেফতারি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নব্য জেএমবি‑র সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে করা প্রথম আটক। সিটিটিসি সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, সে রাজধানীর জিয়া উদ্যান থেকে গত ৩১ জানুয়ারি গ্রেফতার হওয়া আহসান জহির খান (৫০) নামের এক ব্যক্তিসহ কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত। ওই ঘটনায় শেরে বাংলা নগর থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করা হয়েছিল এবং সেই মামলার সূত্র ধরে হবিগঞ্জ থেকে কিশোরটিকে হেফাজতে নেয়া হয়।

    ডিএমপির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জিয়া উদ্যান থেকে গ্রেফতার আহসান জহির খান, দানিয়েল ইসলাম হাসান ও রাসেল ওরফে পলাশ ওরফে আবু বাছের আল ফারুকীর সঙ্গে ওই কিশোরের যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কিশোরটি অনলাইনে অত্যন্ত সক্রিয় ছিল, আইএস‑সমর্থক উগ্রবাদী পোস্ট শেয়ার করে সদস্য সংগ্রহে জড়িত ছিল এবং বোমা তৈরির নির্দেশিকা ও সম্পর্কিত পিডিএফ ছড়ানোতে অংশ নেয়।

    পুলিশের ধারণা, সে ঘনিষ্ঠসহযোগীদের মাধ্যমে উস্কানি ও হামলার পরিকল্পনা Fabrique করছিল। তদন্তকারীরা বলছেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রে উল্লিখিত নানা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার যথেষ্ট প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে, তবে বিস্তারিত তদন্ত এখনো চলছে।

    একটি পুলিশ সূত্র ওই কিশোরের বয়স আনুমানিক ১৬ বছর বলে জানিয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলেছে, সব ধরনের প্রমাণ সংগ্রহ ও বিচারের জন্য শিশু আইন অনুযায়ী তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

    বিগত সময়ে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আন্তর্জাতিক সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)‑এর অনুসারীদের ব্লক হিসেবে ‘নব্য জেএমবি’ পরিচিত করেছিল। র‌্যাব ওই গোষ্ঠীকে ‘তামিম‑সারওয়ার গ্রুপ’ হিসেবেও উল্লেখ করেছিল। সরকার পরিবর্তনের পর থেকে আবার নব্য জেএমবি‑র সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেফতারির ঘটনা সামনে এসেছে, যা বর্তমানে তদন্তের বিষয়।

    পুলিশ বলেছে, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রমাণ যাচাই ও ঘটনা পরিব্যাপ্তি নিশ্চিত করতে দ্রুত কাজ চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • নারী এমপিদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য: কী বললেন কুষ্টিয়া-৩ এমপি আমির হামজা

    নারী এমপিদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য: কী বললেন কুষ্টিয়া-৩ এমপি আমির হামজা

    কুষ্টিয়া-৩ থেকে নির্বাচিত জামায়াতে ইসলামি এমপি ও আলোচিত ইসলামী বক্তা আমির হামজা সংসদে নারী সদস্যদের নিয়ে করা কটূক্তি সংক্রান্ত বিতর্কিত ভিডিও নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, বিষয়টি তার মনে নেই এবং ঘটনাটি এক দেড় ঘণ্টার আলোচনা অংশমাত্র ছিল।

    সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, সংসদের পাশে বসা কয়েকজন নারী এমপির শারীরিক গঠন নিয়ে হাসি-ঠাট্টা ও অবমাননাকর মন্তব্য করছেন আমির হামজা। ভিডিওতে তিনি রুমিন ফারহানা ও নারী ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিনকে উল্লেখ করে কটূক্তি করেন এবং ফরিদপুর-৩ আসনের এমপি নায়াব ইউসুফ আহমেদের নামও নেন। ভিডিওর এক অংশে তিনি এমন মন্তব্য করেন যে কিছু এমপির ভুঁড়ি এত বড় যে ভুঁড়ি ছিঁড়লে ভেতর থেকে ব্রিজ-কালভার্ট বের হবে, এবং মহিলারা তাদের দেখে লজ্জা পাবেন।

    জমায়াতের এমপি ওই মন্তব্য নিয়ে গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে বলেন, এটি দেড় ঘণ্টার আলোচনা ছিল, সেখানে কী কী বলা হয়েছে সব মনে রাখা সম্ভব না; মিডিয়ার কি আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নেই। তিনি আরও বলেন, ‘‘গত কয়েক দিনে আমি এটি করেছি কিনা, সেটাও আমি জানি না।’’

    এই বিবৃতিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক এবং সামাজিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্ট নারী এমপিরা কঠোর সমালোচনা করেছেন এবং ঘটনাটিকে নারীকে অবমাননা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।

    রুমিন ফারহানা বলছেন, এই মন্তব্য তার চোখে দুই দিন থেকে আছে এবং আমির হামজার অতীত কর্মপন্থা বিবেচনায় এটা কোনও ব্যতিক্রম নয়। তিনি অবাক হয়েছেন যে সংসদে যাওয়ার পরও কেউ বলে যে সদস্যদের কোথায় বসতে হয় তা জানে না; বাস্তবে প্রতিটি এমপির নির্দিষ্ট আসন রয়েছে। রুমিন বলেন, ‘‘এটি নারীদের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। একটি নারীবিদ্বেষী সমাজে এ ধরনের কথা অস্বাভাবিক নয়, কিন্তু দুঃখজনক যে এসব মানুষ এখন জনগণের আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধি।’’

    প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন বলেন, তিনি ভিডিওটি দেখেছেন এবং এই ধরনের মন্তব্যের উত্তর দেওয়া তার মর্যদার নিচে। তিনি বলেন, ‘‘এই বক্তব্য শুধু কয়েকজন নারী এমপিকেই নয়, সংসদের প্রতিটি সদস্য এবং দেশের প্রতিটি নারীকে অপমান করেছে—এমনকি তার নিজের মাকেও।’’ আইনি ব্যবস্থা নেবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে এমন অশালীন ব্যক্তির প্রতিউত্তর দেওয়ার চেয়ে তার আরও গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে।

    ফরিদপুর-৩ এমপি নায়াব ইউসুফ আহমেদ এই মন্তব্যকে আমির হামজার ‘‘চরম সংকীর্ণ মানসিকতার’’ পরিচয় আমলে নিচ্ছেন। তিনি বলেন, যারা নারীদের এভাবে দেখেন, তারা কীভাবে তাদের নেতৃত্বর দাবি করবেন তা অনুধাবন করা যায় না; এমন মানসিকতা ধর্মের নাম তুলে নারীদের দমন করে।

    অন্যদিকে জেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক সুজা উদ্দিন জোয়ার্দার বলেন, ‘‘মানুষ প্রতিদিন অনেক কিছু বলেই থাকেন; সবকিছু শেখানো কি সম্ভব?’’ তিনি জানান, আমির হামজাকে দলীয় পর্যায়ে কেন্দ্র ও স্থানীয়ভাবে সতর্ক করা হয়েছে এবং তার বন্ধুদেরও তাকে বোঝানোর জন্য বলা হয়েছে। তিনি বলেন, দল হিসেবে তারা এই ঘটনার জন্য খুবই বিব্রত।

    বিষয়টি এখনও আলোচনার বিষয় এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে। ঘটনাটির পরবর্তী আইনগত বা সরকারি পদক্ষেপ থাকতে পারে বলে অনেকে ধর্মীয় ও সংসদীয় মর্যাদার দিক থেকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছেন।

  • নারী এমপিদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য: যা বললেন কুষ্টিয়া-৩ এমপি আমির হামজা

    নারী এমপিদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য: যা বললেন কুষ্টিয়া-৩ এমপি আমির হামজা

    কুষ্টিয়া-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর এমপি ও ইসলামি বক্তা আমির হামজা সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে নারী সংসদ সদস্যদের নিয়ে করা কটূক্তির ঘটনায় নিজের موقف পরিষ্কার করেছেন। তিনি বলেছেন, ওই বিতর্কিত মন্তব্যগুলি তার মনে নেই এবং ‘‘এটি দেড় ঘণ্টার আলোচনা ছিল, কোথায় কী বলেছি তা কি মনে রাখা সম্ভব?’’ তিনি মিডিয়াকে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খুঁজে দেখার কথাও বলেন।

    ভিডিওতে আমির হামজা পাশে বসা নারী এমপিদের শারীরিক গঠন নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন। তিনি রুমিন ফারহানা ও প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিনের নাম উল্লেখ করে কটাক্ষ করেন এবং ফরিদপুর-৩ আসনের এমপি নায়াব ইউসুফ আহমেদের কথাও উল্লেখ করেন। ভিডিওর একাংশে তিনি বলেন যে তার ডান-বামে-বামে ভুঁড়িওয়ালা লোক দেখা গেছে এবং এমনভাবে উপহাস করেন যে ‘‘মনে হয় ভুঁড়ি ছিঁড়লে ভেতর থেকে ব্রিজ-কালভার্ট বের হবে’’ এবং মহিলা এমপিরা তাদের দেখলে লজ্জা পাবে—এমন কথা বলেন।

    ঘটনাটি ফাঁস হওয়ার পর রাজনীতিক ও সংশ্লিষ্ট নারী এমপিরা তীব্র কড়া প্রতিক্রিয়া দেন। রুমিন ফারহানা বললেন, ‘‘এ মন্তব্যটি দুই দিন আগে আমার নজরে এসেছে। তার অতীত রেকর্ড বিবেচনায় এটা কোনো ব্যতিক্রম নয়।’’ তিনি আরও অবাক পেয়েছেন যে সংসদে এক সপ্তাহ যাওয়ার পরও আমির হামজা জানেন না যে প্রত্যেক সদস্যের নির্দিষ্ট আসন থাকে—যদিও জামায়াতের এমপি হিসেবে তিনি সাধারণত নিজের দলের লোকদের সঙ্গে বসেন। রুমিন মন্তব্য করেন, এ ধরনের বক্তব্য নারীদের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন; একটি নারীবিদ্বেষী সমাজে এ ঘটনাকে অস্বাভাবিক মনে করা যায় না, কিন্তু দুঃখজনক যে এখন এরা জনগণের আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধি।

    নারী ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন বলেন, তিনি ভিডিওটি দেখেছেন এবং এ ধরনের কথা বলা তাঁর মর্যাদার নিচে। তিনি বলেছেন, এই বিবৃতি শুধু নারী এমপিদের নয়, সংসদের প্রতিটি সদস্য এবং দেশের প্রতিটি নারীকে অপমান করেছে। আইনি ব্যবস্থা নেবেন কি—এই ধরনের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন বর্তমানে এমন একজন অশালীন ব্যক্তির জবাব দেওয়ার চেয়ে তার আরও গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে।

    ফরিদপুর-৩ এমপি নায়াব ইউসুফ আহমেদ এই মন্তব্যকে ‘‘চরম সংকীর্ণ মানসিকতার’’ পরিচয় বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘তারা নারীদের মানুষ হিসেবে দেখে না; যেন আমরা অন্য গ্রহের মানুষ। এমন দৃষ্টিভঙ্গি কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।’’

    এদিকে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক সুজা উদ্দিন জোয়ার্দার সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘মানুষ প্রতিদিন অনেক কিছু কথা বলে; সবকিছু কি তাকে শেখাতে হবে? তাকে দলীয়ভাবে বারবার সতর্ক করা হয়েছে—কেন্দ্র থেকে, স্থানীয়ভাবে। আমরা তার বন্ধুদেরও তাকে বোঝানোর জন্য বলছি। আমরা খুব বিব্রত।’’

    প্রধান আলোচ্য ভিডিও ও তার পরবর্তী প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা ও বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে। আমির হামজার বক্তব্য মেনে নেওয়া হয়নি, এবং সংঘটিত ঘটনার উপযোগী প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী পদক্ষেপ বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।