আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী চারদিন ধরে বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টির সাময়িক ঝুঁকি রয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত এক আবহাওয়া বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রংপুর, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া, বিদ্যুৎচমক সহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাত প্রত্যাশিত। এই প্রবণতা আরও বাড়তে পারে এবং সপ্তাহের বিভিন্ন সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝড়বৃষ্টির অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে আগামী সোমবার (৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যাবধি দেশজুড়ে কিছু ক্ষেত্রে বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে। তবে আবহাওয়ার দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলছে, বৃষ্টিপাত বা বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা কমতে পারে এবং আস্তে আস্তে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে। শনিবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে দেশের সর্বোচ্চ ৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে সিলেটে। এর পাশাপাশি মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল, ফেনী ও কুড়িগ্রামের রাজারহাটেও বৃষ্টি হয়।
Category: জাতীয়
-

সংস্কৃতিমন্ত্রী: পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রা ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামে হবে
সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রার নাম নিয়ে গণমাধ্যমে ছড়ানো বিভ্রান্তি সম্পর্কে স্পষ্ট মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, তিনি কখনও বলেননি যে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামে আবার ফিরে যাওয়া হবে; তার আগের বক্তব্যকে সঠিক প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করা হয়নি।
তবে মন্ত্রী জানান, এবারের শোভাযাত্রা নতুন আঙ্গিকে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামে আয়োজন করা হবে। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, ইউনেস্কো যদি ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামে স্বীকৃতি দিলেও সে স্বীকৃতি আমাদের ঐতিহ্য বা স্থানীয় নাম পরিবর্তনের বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করে না। উৎসবের মূল চেতনা অক্ষুণ্ণ রেখেই দেশের ঐতিহ্য ও সর্বজনীনতা বজায় রাখার তাগিদেই এ নামকরণ করা হচ্ছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে মাগুরা জেলায় উন্নয়ন প্রকল্পের মহম্মদপুর ডাকবাংলোর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী গণমাধ্যমে ছড়ানো বিভ্রান্তির জবাব দেন এবং পুনর্ব্যাখ্যা করে বলেন তিনি কোথাও বলেননি যে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামকে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও শিগগিরই ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের বিষয়টি চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি সম্পর্কিত দিকনির্দেশনা দ্রুত দেওয়া হবে বলে জানান।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে মন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, বাংলাদেশের অতীত সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সঠিক নেতৃত্বের অভাবে দেশের উন্নয়ন পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। দেশের সম্পদ বিদেশি শক্তিগুলো বিভিন্ন সময়ে কাজে লাগিয়েছিল, যার ফলেই আজকের চ্যালেঞ্জগুলো সামনে এসেছে—এমন মন্তব্যও করেন তিনি।
মন্ত্রী এই সুযোগে পুনর্ব্যক্ত করেন যে, নাম বদল হলেও উৎসবের প্রকৃত অর্থ ও চেতনাকে টিকিয়ে রাখা হবে এবং সকল স্তরে ঐতিহ্যকে মর্যাদা দিয়ে উদযাপন করা হবে।
-

জ্বালানি সংকটে অফিসের নতুন সময়সূচি: সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা
বৈশ্বিক জ্বালানী তেলের সংকট মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি অফিসের কাজের ঘন্টা বদল করেছে সরকার। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন আজ রোববার (৪ এপ্রিল) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা হয়েছে।
মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৫ এপ্রিল থেকে সব সরকারি ও বেসরকারি অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কার্যক্রম চালাবে, যাঁরা পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত এই সময়সূচি মেনে চলবেন। সপ্তাহের ছুটি রয়ে গেছে শুক্রবার ও শনিবার। জরুরি পরিষেবা এই নতুন সময়সূচির বাইরে থাকবে।
প্রজ্ঞাপন জানায়, মন্ত্রিসভার বৈঠকে গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এই অফিস সময় এক ঘণ্টা কমিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সময়সূচিও সমন্বয় করা হয়েছে — অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা এবং ব্যাংকিং সেবা সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত চলবে। এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংককে দেওয়া হয়েছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে প্রাসঙ্গিক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
আদালতের অফিস সময় নির্ধারণে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে সুপ্রিম কোর্ট, বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ আছে। তবে শনিবার রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত এ বিষয়ে রূপরেখা চূড়ান্ত হয়নি।
বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কলকারখানা ও কর্মস্থলের কর্মঘন্টার বিষয়টি শ্রম আইন অনুসারে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় নির্ধারণ করবে — এমনটাই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাধারণ জনগণ ও প্রতিষ্ঠানগুলো ঐতিহ্যগত অফিস সময়ের পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন থাকবে এবং জরুরি ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট যোগাযোগ করতে বলেছে।
-

পহেলা বৈশাখে শোভাযাত্রার নাম হবে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’: সংস্কৃতি মন্ত্রী
সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত গণমাধ্যমে ছড়ানো বিভ্রান্তি পরিষ্কার করেছেন। তিনি বলেন, তিনি কোথাও বলেননি যে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামেই ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।
তবে মন্ত্রী জানান, এবারের আয়োজনকে নতুন আঙ্গিকে ‘‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’’ নামে ডাকা হবে। তিনি বলেন, ইউনেস্কো যদি ‘‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’’ নামে স্বীকৃতি দিলেও তাতে আমাদের একই নাম ব্যবহার করতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। দেশের স্থানীয় ঐতিহ্য ও সর্বজনীনতা রক্ষা করেই নতুন নামকরণ করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে মাগুরা জেলা পরিষদের উন্নয়ন প্রকল্পের মুহম্মদপুর ডাকবাংলোর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন সংস্কৃতি মন্ত্রী। অনুষ্ঠানে পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রা বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি আগের তার বক্তব্যকে গণমাধ্যম সঠিক প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করেনি বলে অভিযোগ করেন এবং পুনরায় স্পষ্ট করেন যে তিনি ‘‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’’ নামে ফিরিয়ে আনবার কথা বলেননি।
মন্ত্রী বলেন, উৎসবের মূল চেতনা অক্ষুণ্ণ রেখেই নাম পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রা এখন থেকে ‘‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’’ নামেই উদযাপিত হবে।
আলোচনার এক পর্যায়ে মন্ত্রী দেশ পরিচালনায় নেতৃত্বের ঘাটতির পক্ষেও আক্ষেপ জানিয়ে বলেন, অতীতের ভুল নেতৃত্বের কারণে দেশের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও যথাযথভাবে কাজে লাগানো হয়নি; বিভিন্ন সময়ে বাইরে থেকে শক্তি বা স্বার্থান্বেষীরা বাংলার সম্পদ আহরণ করেছে, যার ফলে আজ দেশ নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।
-

মার্চে সড়ক দুর্ঘটনায় ৬১৯ নিহত, ১,৫৪৮ আহত: যাত্রী কল্যাণ সমিতি
বাংলাদেশে মার্চ মাসে ৬১৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬১৯ জন নিহত এবং ১,৫৪৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী আজ শনিবার (০৪ মার্চ) প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে ওই সময়ের মধ্যে ২২২টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২৩৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১৯৭ জন আহত হয়েছেন। মোট দুর্ঘটনার মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার অংশ ৩৬.০৩ শতাংশ, নিহতের ৩৮.৬১ শতাংশ এবং আহতের ১২.৭২ শতাংশ।
আঞ্চলিকভাবে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে—এখানে মার্চে ১৬০টি দুর্ঘটনায় ১৭০ জন নিহত এবং ৩২০ জন আহত হয়েছেন। অপরদিকে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা হয়েছে বরিশাল বিভাগে।
সংগঠন ৯৭৫টি দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের পরিচয় শনাক্ত করেছে। শনাক্তকৃত যানবাহনের মধ্যে ২৬.৭৬ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২১.৬৪ শতাংশ ট্রাক/পিকআপ/কাভার্ডভ্যান/লরি, ১৩.৮৪ শতাংশ বাস, ১৪.৫৬ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৭.২৮ শতাংশ সিএনজি অটোরিকশা, ৮.৪১ শতাংশ নছিমন-করিমন/মাহিন্দ্রা/ট্রাক্টর/লেগুনা এবং ৭.৪৮ শতাংশ কার/জিপ/মাইক্রোবাস ছিল।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে—মোট দুর্ঘটনার ৩৭.৬৬ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৩২.৪৬ শতাংশ গাড়িচাপা বা ধাক্কা, ২১.৪২ শতাংশ নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে খাদে পড়া, ৭.১৪ শতাংশ বিবিধ কারণে, ০.৩২ শতাংশ চলন্ত যানবাহনের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে এবং ০.৯৭ শতাংশ ট্রেন-যানবাহনের সংঘর্ষে ঘটেছে।
স্থানভিত্তিক বিশ্লেষণে জাতীয় মহাসড়কে দুর্ঘটনার হার সবচেয়ে বেশি—মোটের ৪০.৯০ শতাংশ। আঞ্চলিক মহাসড়কে ৩০.০৩ শতাংশ এবং ফিডার রোডে ২২.০৭ শতাংশ দুর্ঘটনা হয়েছে। পাশাপাশি মোট দুর্ঘটনার ৫.৫১ শতাংশ ঢাকায়, ০.৪৮ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে এবং ০.৯৭ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে ঘটেছে।
প্রতিবেদনে-মতে প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে—মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশার অপ্রতিবন্ধক চলাচল; জাতীয় মহাসড়কে রোড সাইন, রোড মার্কিং ও সড়কবাতির অভাব; রেলক্রসিংয়ে আচমকা যান ওঠা; সড়কে মিডিয়ানে বিভাগকারী ডিভাইডার না থাকা ও অন্ধ বাঁকে গাছপালা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধ সৃষ্টি করা; মহাসড়কের নির্মাণজনিত ত্রুটি; যানবাহনের প্রযুক্তিগত ত্রুটি ও ট্রাফিক আইন অমান্য; উল্টো পথে চলাচল ও চাঁদাবাজি; পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন; অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন; বেপরোয়া গতি ও দীর্ঘসময় চালানো; এবং ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার ফলে ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল বৃদ্ধি পাওয়া।
দুর্ঘটনা কমানোর জন্য যাত্রী কল্যাণ সমিতি সড়কে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো ও স্মার্ট ভাড়া পদ্ধতি চালু করার সুপারিশ করেছে। তাদের উল্লেখিত প্রধান সুপারিশগুলো হল—মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশার আমদানি ও নিবন্ধন শিথিল না করা; জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে রাত্রিকালীন আলোকসজ্জা নিশ্চিত করা; দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ নেওয়া এবং যানবাহনের ডিজিটাল মাধ্যমে ফিটনেস যাচাই কার্যক্রম শুরু করা।
আরও সুপারিশে বলা হয়েছে—বিআরটিএ অনুমোদিত ড্রাইভিং স্কুলে অন্তত ৬০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ ছাড়া লাইসেন্স না দেয়া, পরিবহন খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং মালিক সমিতির একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ত্যাগ, গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে সার্ভিস লেন চালু করা, সড়কে চাঁদাবাজি রোধ করা ও চালকদের বেতন-কর্মঘণ্টা নির্ধারণ করা। এছাড়া মহাসড়কে ফুটপাত ও পথচারীর পারাপার ব্যবস্থা তৈরি, রোড সাইন ও রোড মার্কিং স্থাপন, আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক তৈরি, বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি, মানসম্মত সড়ক নির্মাণ ও মেরামত নিশ্চিতকরণ এবং নিয়মিত রোড সেফটি অডিট চালুর ওপর জোর দেয়া হয়েছে। সংগঠনটি সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে দুর্ঘটনা গবেষণা ইউনিট গঠনেরও আহ্বান জানিয়েছে।
সংগঠনটি আরও বলেছে, বিশেষত ঈদযাত্রার সময় ব্যাপক ভ্রমণ সুষ্ঠু ও নিরাপদ করতে স্বল্প-মধ্য-দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা নেয়া দরকার এবং ঢাকার ওপর জনসংখ্যার চাপ কমানোও জরুরি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের একটি অংশ।
-

বিকল্প ছিল না — অন্য কোনো দল হলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতেই হতো: চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মণি
জাতীয় সংসদের সরকারি দলের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মণি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যদি অন্য কোনো দলই সরকারে থাকতো, তখন জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো ছাড়া উপায় ছিল না। তিনি এই মন্তব্য করেছেন শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘নারী স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার আইন শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক নীতি সংলাপে অংশগ্রহণকালে।
চিফ হুইপ বলেন, “সমগ্র পৃথিবীতে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে দাম বাড়ানো হয়নি। অন্য কোনো দল সরকারে এলে দাম বাড়ানো ছাড়া কোনো উপায় ছিল না।” তিনি জানান, দেশে তেলের মজুত রয়েছে—এ সময় তিনি দুই লাখ মেট্রিকটন তেলের মজুদ এবং আরও দুই লাখ মেট্রিকটন তেল আসছে বলে উল্লেখ করেন। তারপরও তিনি বলেন, প্রয়োজনের চেয়ে দ্বিগুণ জ্বালানি সরবরাহ করলেও তা পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে যথেষ্ট হচ্ছে না।
মণি আরও মন্তব্য করেন যে সংবাদপত্র খেলে নেতিবাচক খবর বেশি দেখা যায় এবং ইতিবাচক সংবাদ কম প্রকাশ হচ্ছে। তাঁর ভাষ্যে, ‘‘পত্রিকা খুললে ১০টির মধ্যে ৯টিই নেতিবাচক—ইতিবাচক খবর নেই।’’
ধূমপান নিয়ন্ত্রণ ও তামাকবিরোধী নীতির ওপরও চিফ হুইপ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘‘একজন ধূমপায়ী হলে তার পাশের নয়—প্রকৃতপক্ষে ১০ জন মানুষ প্রভাবিত হন। মানুষের স্বাস্থ্য মানেই আমাদের মানবসম্পদ; মানবসম্পদ ছাড়া কোনো বাস্তব সম্পদই নেই। তাই মানুষকে বাঁচাতে সিগারেটের ব্যবহার কমাতে হবে।’’
তিনি ই-সিগারেট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, নেগেটিভ প্রচারণার কারণে ই-সিগারেটের পরোক্ষ বিস্তার ঘটছে। এই সমস্যার সমাধান চিকিৎসা বা সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নয়, বরং দায়িত্বশীলদের কাছে স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে করণীয় নির্ধারণ করার মাধ্যমে করা উচিত।
বলা হয়, বিএনপি শাসনামলে তামাকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে প্রচার ও বিপণন বন্ধে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে—এও দাবি করেন চিফ হুইপ। তিনি নীতি সংলাপে অংশগ্রহণকারী শ্রোতাদের উদ্দেশে সরকারি ও চাকরিজীবী স্তরের পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগ আরও জোরদার করার আহ্বান জানান যাতে নারী স্বাস্থ্য ও জনস্বাস্থ্য রক্ষা করা যায়।
-

৬–৫৯ মাসের সকল শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্য ও পরিবেশ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে হামে আক্রান্ত শিশুদের ছাড়া ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সের সকল শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। তিনি শনিবার (৫ এপ্রিল) মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই ঘোষণা দেন।
মন্ত্রী বলেন, টিকাদান কার্যক্রমে ইতিমধ্যেই টিকা নেওয়া শিশুদেরও পুনরায় টিকা দেওয়া হবে এবং যারা বর্তমানে হাম বা জ্বরসহ অসুস্থ রোগী হিসেবে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে তাদের তাত্ক্ষণিকভাবে টিকা দেয়া হবে না; তাদের প্রয়োজনীয় ভিটামিন এ দেওয়া হবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন যে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমের বাইরে থাকা শিশুদের আবারও মিজেলস/হামের টিকা দিলে কোনো চিকিৎসাগত সমস্যা হবে না।
মন্ত্রী আরও জানান, রোববার থেকে দেশব্যাপী যেখানে হামের প্রকোপ বেশি সেগুলোকে প্রথম ধাপে চিহ্নিত করে ৩০টি উপজেলায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হচ্ছে। তবে এটি কেবল শুরু; লক্ষ হতে হচ্ছে দেশজুড়ে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সের প্রতিটি শিশুকে টিকা নিশ্চিত করা। তারা বলছেন, এসব এলাকায় যে শিশুরা টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আসছে, অধিকাংশই ২০২০ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত জাতীয় ক্যাম্পেইনের পর জন্ম নেয় অথবা তখন টিকাপ্রাপ্ত হয়নি, তাই তাদের বুস্টার/নতুন করে টিকা দেওয়া জরুরি।
রোববার থেকে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হওয়ার ৩০টি উপজেলা হলো: রাজশাহীর গোদাগাড়ী, ঢাকার নবাবগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জের লৌহজং, সদর ও শ্রীনগর, ঝালকাঠির নলছিটি, ময়মনসিংহের ত্রিশাল, সদর ও ফুলপুর, চাঁদপুরের হাইমচর ও সদর, বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ, পাবনার ঈশ্বরদী, সদর, আটঘরিয়া ও বেড়া, নওগাঁর পোরশা, গাজীপুর সদর, নেত্রকোনার আটপাড়া, শরীয়তপুরের জাজিরা, বরগুনা সদর, মাদারীপুর সদর, কক্সবাজারের মহেশখালী ও রামু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, শিবগঞ্জ, ভোলাহাট, নাটোর সদর এবং যশোর সদর।
মন্ত্রীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দ্রুত ও ব্যাপক টিকাদানের মাধ্যমে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আনা এবং শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এ পদক্ষেপের প্রধান উদ্দেশ্য।
-

মালয়েশিয়া থেকে এসেছে ৩৪ হাজার টন ডিজেল
চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে মালয়েশিয়া রপ্তানি করা ৩৪ হাজার টন ডিজেল ভর্তি একটি জাহাজ। এই খবর নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম। তিনি জানান, ‘শান গ্যাং ফা জিয়ান’ নামে এই চীনা পতাকাবাহী জাহাজটি বুধবার (০৩ এপ্রিল) রাতে বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া চ্যানেলে পৌঁছায়।
জাহাজটি গত ২৯ মার্চ মালয়েশিয়া থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেয়। এর স্থানীয় এজেন্ট প্রাইড শিপিং লাইনস। এর ম্যানেজিং পার্টনার নজরুল ইসলাম বলেন, জাহাজে মোট ৩৪ হাজার টনের বেশি ডিজেল রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার টন ডিজেল ছোট জাহাজে লাইটারিং করে খালাস করতে হবে, যা অন্তত দু’বার অপারেশন চালানোর প্রয়োজন হবে।
নজরুল ইসলাম আরও জানান, সব কিছু ঠিক থাকলে রোববার (৫ এপ্রিল) জাহাজটি পতেঙ্গার ডলফিন জেটিতে ভিড়তে পারে। এর আগে, একই দিন দুপুর ২টার দিকে সিঙ্গাপুর থেকে আসা আরেকটি জাহাজ ‘ইয়ান জিং হে’ ২৭ হাজার ৩০০ টন ডিজেল নিয়ে পদ্মা অয়েলের ডলফিন জেটিতে খালাসের কাজ শুরু করে। এই জাহাজটিও রোববার বন্দর ত্যাগ করবে। এর স্থানীয় এজেন্টও প্রাইড শিপিংই।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, চলমান জ্বালানি সংকটের কারণে তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বার্থিং দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর এটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো দশম ডিজেল জাহাজ। দেশের জ্বালানি আবর সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে, পাইপলাইনের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য উৎস থেকে পর্যাপ্ত জ্বালানি আমদানির জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
-

অন্য কোনো দল সরকারে এলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো ছাড়া উপায় ছিল না: চিফ হুইপ
অন্য কোনো দল সরকারে এলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোই একমাত্র সম্ভব ছিল বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের সরকারি দলের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। তিনি শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘নারী স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারে আইন শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক নীতিমালা সংলাপে এসব কথা বলেন।
চিফ হুইপ বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছেন, কিন্তু বাংলাদেশে তা এখনও বাড়ানো হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, যদি অন্য কোনো দল সরকারে আসে, তাহলে এই পরিস্থিতিতে দাম বাড়ানোর ছাড়া উপায় ছিল না।
প্রয়োজনের দ্বিগুণ জ্বালানি সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না বলে জানান তিনি, ‘প্রায় দুই লক্ষ মেট্রিক টন তেল মজুত রয়েছে, আসছে আরও দুই লক্ষ টেল। তবে পত্রিকা খুললেই ৯০ শতাংশ খবর নেতিবাচক। কোনও ইতিবাচক খবর নেই।’
ধূমপান নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে নুরুল ইসলাম বলেন, ‘একজন ধূমপান করলে ১০ জন মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ে। মানব সম্পদ ছাড়া আমাদের আর কোনও সম্পদ নেই, তাই মানুষকে রক্ষায় সিগারেটের ব্যবহার কমাতে হবে।
ই-সিগারেটের বিষয়েও তিনি বলেন, নেতিবাচক প্রচারণার মাধ্যমে এর বিস্তার বাড়ানো হচ্ছে। এজন্য দায়িত্বশীলদের কাছে বার্তা পৌঁছে দ্রুত কার্যকর সমাধান করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, বিএনপি সরকারের সময় তামাক নির্ধারিত প্রচার ও বিপণন বন্ধে অনেক বেশি কার্যকর ভূমিকা রেখেছিল। এটাই এই খাতে সরকারের সফলতা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
-

১০ মাস পর দেশে ফিরলেন বিএসএফের হাতে জীবনদায়ী নির্যাতন সই করে নিহত আজিজুরের লাশ
সীমান্তে ঘাস কাটতে গিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক আটক হয়েছিলেন আজিজুর রহমান (৫০)। এরপর শুরু হয় নির্যাতনের brutal উপাখ্যান। বেধড়ক মারধরে গুরুতর আহত হন তিনি, এরপর তাকে ভারতে একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ সাড়ে ১০ মাস পরে, একঝলক বেদনা নিয়ে আজিজুরের লাশ দেশে ফেরত আসে। শুক্রবার বিকেল তিনটায় পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা সীমান্ত দিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের উপস্থিতিতে লাশ হস্তান্তর করা হয়। এ সময় তেঁতুলিয়া মডেল থানার ওসি রাশেদুল ইসলাম, বাংলাবান্ধা বিওপির কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার ইউনুস, ভারতের কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশি উপহাই কমিশনারের প্রতিনিধি, এবং আজিজুরের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। এরপর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়, যার মাধ্যমে আজিজুরের স্বজনরা পায় গভীর শোক।
