প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চারজন বিশেষ সহকারী নিয়োগের আদেশ জারি করেছেন। তাঁদের মধ্যে দুজনকে প্রতিবন্ত্রীর পদমর্যাদা দেওয়া হয়েছে, একজনকে সচিব পদে ও অন্যজনকে গ্রেড-২ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই চারজনের মধ্যে দুইজনই পূর্বে সরকারি চাকরিজীবী ছিলেন। আরও জানানো হয়, সাবেক একজন আমলা বিজন কান্তি সরকারকে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃগোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একইসাথে তানভীর গনি পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগ বিষয়ক বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী, এই দুইজনের নিয়োগ ও দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানায়। এছাড়াও মোঃ শাকিরুল ইসলাম খানকে সচিব পদমর্যাদায়, তিনি এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক দায়িত্বে থাকবেন, এবং মোঃ সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহকে গ্রেড-২ পদে, যুব কর্মসংস্থান বিষয়ক বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা সবাইচুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন, এ সম্পর্কিত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
Category: জাতীয়
-

এপ্রিলে ঘূর্ণিঝড় ও তীব্র কালবৈশাখীর আশঙ্কা বৃদ্ধি
চলমান এপ্রিল মাসে বঙ্গোপসাগরে একটি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়েছে, যা আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রভাব ফেলতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আসন্ন এপ্রিলে ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে দেখা দিতে পারে তীব্র কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টি। এছাড়াও, বিভিন্ন দফায় তাপপ্রবাহ দেখা যেতে পারে, যার ফলে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠে যেতে পারে।
অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, এই মাসে সাধারণত স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার মধ্যে একটি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। এ মাসে অন্তত ৩ দিন তীব্র কালবৈশাখীসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে, পাশাপাশি কয়েক দিন হালকা থেকে মাঝারি ধরনের শিলাবৃষ্টি হতে পারে।
প্রেডিকশনে বলা হয়েছে, এপ্রিল মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ২-৪টি মৃদু বা মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ হতে পারে, যার তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৯.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এর মধ্যে থাকতে পারে। তদ্ব্যতীত, কিছু জায়গায় ১-২টি তীব্র তাপপ্রবাহের সম্ভাবনাও রয়েছে, যেখানে তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪১.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠতে পারে।
আবহাওয়া অফিস আরও জানিয়েছে, এ মাসে দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর প্রবাহ স্বাভাবিক থাকবে। এছাড়াও, দেশের গড় বাষ্পীভবনের পরিমাণ থাকবে ৩ থেকে ৫ মিঃ মিঃ এবং সূর্য কিরণের গড় দৈনিক মেয়াদ থাকবে ৫.৫ থেকে ৭.৫ ঘণ্টার মধ্যে।
-

সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহকে প্রধানমন্ত্রীর যুব কর্মসংস্থানের বিশেষ সহকারী নিয়োগ
প্রধানমন্ত্রীর যুব কর্মসংস্থান বিষয়ক বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহ। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার প্রজ্ঞাপন জারি করে তাকে চুক্তিভিত্তিকভাবে ওই পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এই নিয়োগ গ্রেড-২ পদের আওতায় করা হয়েছে এবং প্রার্থীকে চুক্তির শর্তে অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক ত্যাগ করতে হবে।
নিয়োগটি যোগদানের তারিখ থেকেই কার্যকর হবে। এছাড়া, প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ আছে যে, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ অথবা প্রধানমন্ত্রীর সন্তুষ্টি (যেটি আগে ঘটে) পর্যন্ত এই নিয়োগ বহাল থাকবে। নিয়োগের আনুষ্ঠানিক অন্যান্য শর্তাবলী চুক্তিপত্রে নির্ধারণ করা হবে।
নিয়োগ সংক্রান্ত এই পদক্ষেপটি যুব কর্মসংস্থান বিষয়ক নীতি ও প্রোগ্রাম বাস্তবায়নে নতুন দায়িত্বশীলতা ও সমন্বয় বাড়াতে নেওয়া হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
-

অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা; দোকান-মার্কেট বন্ধ হবে সন্ধ্যা ৬টায়
বৈশ্বিক জ্বালানিসংকট মোকাবিলার প্রেক্ষিতে সরকার অফিস ও বাণিজ্যিক সময়সূচিতে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন নির্দেশে সরকারি ও বেসরকারি অফিসগুলো সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে; বর্তমানে এসব অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলছে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের সব দোকানপাট, বাণিজ্যিক বিতান ও শপিং মল সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ করে দিতে হবে।
এই সিদ্ধান্তগুলো থাকবে মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদিত। বৈঠকটি বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৯টায় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে শুরু হয়, প্রধানমন্ত্রীর ঐ সভায় সভাপতিত্বে চলে এবং প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলে; পরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি ব্রিফিংয়ে এসব সিদ্ধান্ত জানান।
এর আগে সকালে বাংলাদেশ দোকান মালিক ব্যবসায়ী সমিতি দেশের সব দোকানপাট, শপিং মল ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছিল। তবে হোটেল, ফার্মেসি ও জরুরি পরিষেবা সংক্রান্ত দোকান এবং কাঁচাবাজার এসব বিধির আওতায় থাকবে না।
-

মো. সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহকে প্রধানমন্ত্রীর যুব কর্মসংস্থান বিষয়ক বিশেষ সহকারী নিযুক্ত
প্রধানমন্ত্রীর যুব কর্মসংস্থান বিষয়ক বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহ। বিস্তারিত জানায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মো. সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহকে চুক্তিভিত্তিক গ্রেড-২ পদের মাধ্যমে ওই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নিয়োগের শর্ত হিসেবে তাকে অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা বা সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি কোনও প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে থাকা কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগ করতে বলা হয়েছে।
নিয়োগ কার্যকর হবে যোগদানের তারিখ থেকে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল বা প্রধানমন্ত্রীর সন্তুষ্টি সাপেক্ষে (যেটি আগে ঘটে) তিনি এই পদে থাকবেন। নিয়োগ সংক্রান্ত অন্যান্য শর্তাবলী চুক্তিপত্রে নির্ধারিত হবে।
-

আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ চুক্তি পুনর্বিবেচনার পথে সরকার
সরকার ২০১৭ সালের আলোচিত বিদ্যুত্ ক্রয় চুক্তি পুনর্বিবেচনা করার চিন্তা করছে, যা আদানি পাওয়ার (ঝাড়খণ্ড) লিমিটেডের সঙ্গে করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সংসদে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেন জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
মন্ত্রী জানান, চুক্তিতে অস্বাভাবিকভাবে উচ্চ মূল্য ও অনুকূলে না থাকা শর্তাদি প্রকাশ পাওয়ার পর সরকার এটি নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। চুক্তিটি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, তখনকার দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারদরের তুলনায় বিদ্যুতের মূল্য অনেক বেশি ধার্য করা হয়েছিল।
সরকারি পর্যায়ে এই চুক্তি পর্যালোচনার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছিল। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, আইনজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ ও চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসহ কমিটি চুক্তির প্রতিটি দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেছে এবং আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতামতও গ্রহণ করা হয়েছে।
কমিটির প্রতিবেদন ও পর্যালোচনার সারসংক্ষেপ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘অস্বাভাবিক শর্ত ও উচ্চমূল্যের কারণে এই চুক্তি এখন দেশের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বর্তমানে দুইটি পথ বিবেচনা করছে — আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে (আর্বিট্রেশন) বিষয়টি নিয়ে যাওয়া বা সরাসরি আদানি পাওয়ারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে চুক্তির শর্ত সংশোধন করে বিদ্যুতের দাম কমিয়ে আনা।
মন্ত্রী আরও বলেন, জাতীয় কমিটির সুপারিশের আলোকে দেশের স্বার্থ রক্ষায় যে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সরকারের লক্ষ্য চুক্তির বিতর্কিত শর্ত ঠিক করা ও ভোক্তা ও জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থ রক্ষা করা।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে স্বাক্ষরিত ওই চুক্তি ২৫ বছরের মেয়াদের এবং ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানির কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়ে। শুরু থেকেই চুক্তিটি স্বচ্ছতা ও মূল্য নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন ও সমালোচনার জন্ম দেয়। সরকার এখন সেই সমালোচনার প্রেক্ষিতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আইনি ও কৌশলগত বিকল্পগুলো যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেবে।
-

অফিস সময়সূচি নিয়ে ভাইরাল পত্র ভুয়া: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুটি দিনের হোম অফিস চালুর নির্দেশসম্বলিত একটি স্মারকपত্র ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তা ভুয়া বলে জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। জনসংযোগ কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ০৫.০০.০০০০.১১০.২২.০৪৫.২৬.১২০ নম্বর স্মারক শিরোনামে যে নথিটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে, তা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা হয়নি। মন্ত্রণালয় সবাইকে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ করেছে।
সংবাদে ছড়ানো ওই নথিতে উল্লেখ করা হয়েছিল যে আগামী ৫ এপ্রিল থেকে আদেশ না দেয়া পর্যন্ত সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থার কর্মচারীরা সপ্তাহে দুই দিন বাড়ি থেকে কাজ করবে এবং বাকি তিন দিন (রবি, সোম, মঙ্গল) অফিস খোলা থাকবে; বুধবার ও বৃহস্পতিবার হোম অফিস থাকবে; সাপ্তাহিক ছুটি হবে শুক্র ও শনিবার। নথিতে অফিসের কার্যঘন্টা সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছিল। জরুরি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান (হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সরবরাহ ইত্যাদি) এই নির্দেশনার বাইরে থাকবে—এমনটিই সামাজিক মাধ্যমে বলা হয়েছিল।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, যদিও জ্বালানি সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক ভয়াবহ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানো, কর্মকর্তাদের জন্য ওয়ার্ক ফ্রম হোম সুবিধা ও অফিস সময়সূচি নিয়ে পরিবর্তনের কথা ভাবছে—তবুও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। উল্লেখ্য, মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার কথা থাকায় সভার আগেরদিনেই ওই ভুয়া পত্রটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পুনরায় تاکید করেছে যে সরকারি নির্দেশনা জানতে হলে শুধুমাত্র মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অফিসিয়াল ঘোষণা দেখুন এবং অননুমোদিত কাগজপত্র বা সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টে বিভ্রান্ত হবেন না।
-

এসএসসি পরীক্ষা: কেন্দ্র সচিবদের জন্য ৩১ দফা নির্দেশনা
ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এসএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে অনুষ্ঠিত করতে কেন্দ্র সচিবদের জন্য জরুরি ৩১ দফার নির্দেশনা জারি করেছে। বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম কামাল উদ্দিন হায়দারের স্বাক্ষরে এই নির্দেশনা বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল কেন্দ্র সচিবদের কাছে পাঠানো হয়।
নির্দেশনায় প্রশ্নপত্র সুরক্ষা, সতর্কতা, সময়সূচি ও কেন্দ্র ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। মূল নির্দেশনাগুলো সংক্ষেপে নিম্নরূপ:
প্রশ্নপত্র সংরক্ষণ ও যাচাই: পরীক্ষার তিন দিন পূর্বে ট্রেজারি/থানার লকার ট্রাংকে রাখা প্রশ্নপত্রের প্যাকেট ও তার বিবরণী তালিকা সঠিকভাবে যাচাই করতে হবে। যাচাই কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট ট্রেজারি অফিসার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কেন্দ্র সচিব ও পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সদস্যদের বাধ্যতামূলকভাবে উপস্থিত থাকতে হবে।
সেট এবং প্যাকেজিং: প্রতিটি প্রশ্নপত্র দুই সেট (সৃজনশীল এবং বহুনির্বাচনী) হিসেবে তৈরি করা হবে এবং তারিখভিত্তিক আলাদা সিকিউরিটি খামে প্যাকেট করতে হবে। যাচাইয়ের দিন ওই সেটগুলো গামের মাধ্যমে সীল করে কার্টুন টেপে মোড়ানো হবে এবং খামের ওপর পরীক্ষার তারিখ, বিষয় কোড ও সেট কোড স্পষ্টভাবে লিখতে হবে। কোনো ত্রুটি দেখা গেলে তা কেন্দ্র সচিবের অবহেলা হিসেবে গণ্য হবে।
প্রশ্নপত্র গ্রহণ ও পরিবহন: ট্রেজারি অফিসার পরীক্ষার দিনগুলোতে সংশ্লিষ্ট দিনের সিকিউরিটি খাম—সৃজনশীল দুই সেট ও বহুনির্বাচনী এক সেট—কেন্দ্রে হস্তান্তর করবেন। ট্যাগ অফিসার ও পুলিশ প্রহরা নিয়ে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করে প্যাকেট কেন্দ্রের কক্ষে আনতে হবে।
সেট কোড যাচাই: মোবাইল এসএমএসে সেট কোড পাওয়ার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার ও পুলিশের সামনে সেট কোড প্রদর্শন করে প্যাকেট খোলা যাবে। যে সেটটি ব্যবহার করা হবে তা নিশ্চিত করে অন্য সেটের প্যাকেট টেবিল থেকে সরিয়ে ট্রাংকে রাখতে হবে। অব্যবহৃত সেটের খাম অক্ষত অবস্থায় বোর্ডে ফেরত দিতে হবে। নির্ধারিত সেটের পরিবর্তে অন্য সেট ব্যবহার করলে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মোবাইল ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিষেধাজ্ঞা: কেন্দ্র সচিব ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। কেন্দ্র সচিব শুধুমাত্র এমন মোবাইল ব্যবহার করতে পারবেন যাতে ছবি তোলা যায় না।
পরীক্ষার সময় ও প্রবেশাধিকার: সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা সকাল ১০টায় শুরু হবে। পরীক্ষা শুরু হওয়ার ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের কক্ষে প্রবেশ করানো বাধ্যতামূলক। এর পর যদি কোনো পরীক্ষার্থী late আসে, তখন কেন্দ্র সচিব বিশেষ বিবেচনায় রেজিস্টার খাতে রোল নম্বর ও অন্যান্য তথ্য লিপিবদ্ধ করে কেন্দ্র প্রবেশের অনুমতি দিতে পারবেন; পরীক্ষার পর রেজিস্টার বোর্ডে জমা দিতে হবে।
পর্যবেক্ষক ও ভর্তুকি: প্রতি ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন কক্ষ পরিদর্শক (ইনভিজিলেটর) দায়িত্ব পালন করবেন এবং প্রতিটি কক্ষে অন্তত দুইজন দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করতে হবে।
আসন ব্যবস্থা: পাঁচ-ছয় ফুট লম্বা বেঞ্চে প্রতি বেঞ্চে দুইজন এবং চার ফুট লম্বা বেঞ্চে একজন করে বসাবেন; এতে কোনো ব্যতিক্রম গ্রহণযোগ্য নয়।
কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও যানজট নিয়ন্ত্রণ: পরীক্ষা কেন্দ্র 주변ে পরীক্ষার্থী, অভিভাবক বা অন্য কেউ যাতে জটলা তৈরি করতে না পারে তার ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে হ্যান্ড মাইক ব্যবহার ও সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে। বোর্ড থেকে সরবরাহকৃত নকল প্রতিরোধক পোস্টার প্রবেশপথের দৃশ্যমান স্থানে টাঙাতে হবে।
প্রবেশপত্র ও উপকরণ গ্রহণ: কেন্দ্র সচিবরা দরকারি প্রবেশপত্র ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে গ্রহণ করবেন এবং পরীক্ষা শুরুর অন্তত ১০ দিন আগে প্রতিটি বিদ্যালয়ের প্রধানকে হস্তান্তর নিশ্চিত করবেন। পরীক্ষা পরিচালনার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত সময়ে গ্রহণ করতে হবে।
উত্তরপত্র সংক্রান্ত নির্দেশনা: ত্রুটিপূর্ণ উত্তরপত্র পরীক্ষার্থীদের কাছে সরবরাহ করা যাবে না। প্রতিটি বিষয়ের উত্তরপত্র আলাদা আলাদা প্যাকেট করতে হবে। ইংরেজি ভার্সনের পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র আলাদা প্যাকেট করতে হবে এবং ইংরেজি ভার্সনের প্রশ্নপত্রে তাদের পরীক্ষা নিতে হবে। নতুন ও পুরাতন সিলেবাস অনুযায়ী প্রতিটি প্যাকেটে ৫০টি করে উত্তরপত্র করোগেটেড শিটে প্যাকেট করতে হবে; দুই সিলেবাসের উত্তরপত্র একত্রে প্যাকেট করা যাবে না। প্যাকেটের গায়ে কোনো চিহ্ন বা অপ্রয়োজনীয় লেখা থাকলে কেন্দ্র সচিব দায়বদ্ধ থাকবেন।
গোপনীয়তা ও তল্লাশি: পরীক্ষা শুরুর পর কেন্দ্রের টয়লেটসহ সব সম্ভাব্য স্থানে তল্লাশি করাতে হবে এবং কোনো ধরনের নকলের সামগ্রী পাওয়া গেলে তা উচ্ছেদ করতে হবে। পরীক্ষা চলাকালীন শুধুমাত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা/কর্মচারী ও প্রত্যবেক্ষক ছাড়া কেন্দ্রের ভিতরে অন্য কেউ অবস্থান করতে পারবেন না।
ক্যালকুলেটর ও অন্যান্য বিধি: বোর্ড অনুমোদিত ক্যালকুলেটার ব্যতীত অন্য কোনো ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে না। পরীক্ষায় নিয়োজিত ট্যাগ অফিসার প্যাকেট গ্রহণ, পরিবহন ও কেন্দ্রের কক্ষে প্যাকেট খোলা—সব কাজে সংশ্লিষ্ট থাকবেন। তাদের যাতায়াত ও সম্মানী কেন্দ্র সচিব কেন্দ্র ফি থেকে ব্যবস্থাপনা করবেন।
হাজিরা, נע্যাণ ও রিপোর্টিং: পরীক্ষার্থীর হাজিরা শিটে স্বাক্ষর নিতে হবে; অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের জন্য লাল কালি দিয়ে ‘অনুপস্থিত’ লিপিবদ্ধ করতে হবে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা নিতে হবে এবং উত্তরপত্রের প্যাকেট বোর্ডের পরীক্ষা শাখা/স্ক্রিপ্ট রুমে বস্তায় সিলগালাকৃত অবস্থায় পৌঁছে দিতে হবে।
রেজিস্ট্রেশন ও প্রবেশপত্র সংশোধন: পরীক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন কার্ড অথবা প্রবেশপত্রে কোনো ত্রুটি থাকলে তা প্রবেশপত্র গ্রহণের পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে বোর্ডের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে সংশোধন করে নিতে হবে।
ক্লাস পরিচালনা: পরীক্ষা চলাকালীন কেন্দ্রের সব ক্লাস বন্ধ রাখতে হবে; অবশ্যই পরীক্ষা নেই এমন দিনগুলোতে সাধারণ শ্রেণিকক্ষে পাঠক্রম চালু রাখা যাবে।
অতিরিক্ত নিয়মভঙ্গ: রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্রে উল্লেখিত বিষয়ের বাইরে অন্য কোনো বিষয়ের পরীক্ষা গ্রহণ করা যাবেনা; কোনো জটিলতা তৈরি হলে কেন্দ্র সচিব দায়ী হবেন। এছাড়া প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র পরিবহনের সময় পুলিশের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করতে হবে।
এই নির্দেশনাগুলো কঠোরভাবে পালন করা হবে এবং নির্ধারিত বিধি ভঙ্গ করলে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কেন্দ্র সচিবদের ওপর পরীক্ষার সুষ্ঠুতায় সরাসরি দায় অপরিহার্য—তাই নির্দেশনা নিয়ে কোনো শিথিলতা গ্রহণযোগ্য নয়।
-

অপ্রতিরোধ্য ধারণা: এপ্রিল মাসে জ্বালানি তেলের সংকট হবে না, জানালেন জ্বালানি সচিব
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেছেন, আগামী এপ্রিল মাসে বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের কোনো ধরনের সংকট দেখা দেবে না। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বাজারে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে। সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করার অপচেষ্টাগুলির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। অবৈধ মজুতদারির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনের আওতায় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, বলেছেন তিনি।
মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির অবনতি স্বত্ত্বেও, মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহে হয়তো কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে, তবে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে এবং অনুমোদন পেলে দ্রুত সরবরাহ শুরু হবে।
বর্তমানে দেশের জ্বালানি আমদানির কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে পরিশোধিত জ্বালানি তেল স্বাভাবিকভাবে সরবরাহিত হচ্ছে, এর পাশাপাশি চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে ক্রুড অয়েল পরিশোধনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ফলে, কোনো জ্বালানি ঘাটতি থাকছে না বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।
মজুতদারি ও কৃত্রিম সংকটের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, সরকার ইতিমধ্যেই কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নানা অভিযান চালাচ্ছে। অবৈধভাবে জ্বালানি মজুত করলে প্রচলিত আইনের আওতায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া, যেখানে সম্ভব হয়, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, উদ্ধারকৃত জ্বালানি তেল সরাসরি দেশের খোলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষ সুবিধা পায়।
কৃষকদের জন্য ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে নিয়মিতভাবে জেলা প্রশাসন ও কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের তালিকা অনুযায়ী ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে, এ বিষয়ে কঠোর নজরদারির কথা জানান।
ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভিআইপিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, এরকম কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। সবাইকে সমান গুরুত্ব দিয়ে জ্বালানি সরবরাহের নীতিতে স্থান দেওয়া হয়।
জ্বালানি সাশ্রয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ও ব্যক্তিগত পর্যায়েও সাশ্রয়ী হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এই সমস্যা বৈশ্বিক, তাই সম্মিলিত প্রচেষ্টাই এর সমাধানের মূল চাবিকাঠি।
বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের সরবরাহ গতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাড়ানো হয়েছে কিনা, সেটির উত্তর দিয়ে তিনি জানান, চাহিদার ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় চলছে।
অতএব, নতুন কোন উৎস থেকে জ্বালানি তেল আমদানির পরিকল্পনা আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি জানান, ভবিষ্যতে সরবরাহ আরও স্থিতিশীল করতে মধ্য এশিয়ার উজবেকিস্তান, কাজাখস্তানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি, সিঙ্গাপুরসহ আঞ্চলিক বাজার থেকে জ্বালানি সংগ্রহের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
-

সরকারি অফিসের সময়সূচি নিয়ে ছড়ানো পত্রটি ভুয়া: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে দুটি দিনব্যাপী হোম অফিস সংক্রান্ত একটি নথি ভাইরাল হয়েছে। তবে এ বিষয়ে স্পষ্ট করে জানিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে সরকারি অফিসের সময়সূচি পরিবর্তন এবং সপ্তাহে তিন দিন অফিস পরিচালনার বিষয়ে গত ১ এপ্রিল একটি স্মারকপত্র সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ ধরনের কোন পত্র জারি করেনি। সবাইকে বিভ্রান্তি থেকে সতর্ক থাকতে অনুরোধ জানানো হয়।
বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানো, কর্মকর্তাদের জন্য ঘরে বসে কাজ করার সুবিধা, এবং অফিসের সময়সূচিতে পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে। তবে এই বিষয়ে এখনো কোন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হলেও, তার আগের দিন বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হোম অফিস সংক্রান্ত একটি ভুয়া নথি ছড়িয়ে পড়ে। এ নথিতে বলা হয়, আগামী ৫ এপ্রিল থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থাগুলোর কর্মচারীরা সপ্তাহে দু’দিন এইভাবে ঘরে থেকে কাজ করবেন। বাকি তিন দিন—রবি, সোম ও মঙ্গলবার—অফিসে উপস্থিত থাকবেন। বুধবার ও বৃহস্পতিবার ঘরে থেকে কাজের ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। এছাড়া, শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক বন্ধ থাকবে।
নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এই তিন দিন অফিস খোলা থাকলে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কাজ চলবে। অন্য দিনগুলোতে দফতর খোলা থাকলেও, কর্মচারীরা ডিজিটাল পদ্ধতিতে ঘরে বসে কাজ করবেন। তবে, জরুরি পরিষেবা দানকারী সংস্থাগুলোর (হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সরবরাহ সংস্থাগুলো) এ নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে না, তারা নিজস্ব বিধি অনুসারে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাবে বলে ও প্রচারিত নথিতে উল্লেখ করা হয়।
