চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর (ডিএফপি) এর উদ্যোগে আঞ্চলিক ও স্থানীয় পত্রিকার সম্পাদকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সভার লক্ষ্য ছিল ‘ছাপাখানা ও প্রকাশনা (ঘোষণা ও নিবন্ধনকাল) আইন ১৯৭৩’ এবং ‘সংবাদপত্র ও সাময়িকীর মিডিয়া তালিকাভুক্তি ও নিরীক্ষা নীতিমালা ২০২২’ সম্পর্কিত তথ্য প্রদান। সোমবার বেলা ১১টায় ঢাকা শহরের সার্কিট হাউস রোডের তথ্য ভবনের হল রুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খালেদা খানম। অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও প্রকাশনা) মুহাম্মদ শিপলু জামান সঞ্চালনা করেন, সেখানে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক (বিজ্ঞাপন ও নীরীক্ষা) সুফি আব্দুলাহিল মারুফ, উপ-পরিচালক (বিজ্ঞাপন ও নীরিক্ষা ও নিবন্ধন) মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান, সহকারী পরিচালক (বিজ্ঞাপন ও নীরিক্ষা) তন্বী তাবাসসুম সহ অন্যান্য কর্মকর্তাও।
Blog
-

ফকিরহাটে ১৩ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার
ফকিরহাটে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৬) অভিযান চালিয়ে ১৩ কেজি গাঁজাসহ একটি মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে। অভিযানে মো. ইব্রাহিম হাওলাদার নামে ১৯ বছর বয়সী এক যুবককে আটক করা হয়, যা মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) ভোরের সময় কাটাখালী মোড় সংলগ্ন এলাকায় পরিচালিত হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন খুলনার র্যাব-৬ এর মিডিয়া সেল।
গ্রেফতারকৃত ইব্রাহিম খুলনা সদর থানার গগণ বাবু রোড এলাকায় অবস্থিত আবু জাফর হাওলাদার এর ছেলে। র্যাব জানিয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতির অংশ হিসেবে তারা নিয়মিত অভিযানে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করেন। খবরের অনুযায়ী, অভিযানে তার হেফাজত থেকে ওই পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার করা হয় এবং তাকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব আরও জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত গাঁজাসহ গ্রেফতারকৃতের বিরুদ্ধে ফকিরহাট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র্যাব এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে বলে নিশ্চিত করেছে।
ফকিরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, “কাটাখালী এলাকায় ১৩ কেজি গাঁজাসহ একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিকে বাগেরহাটের বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলছে।”
-

কুষ্টিয়ায় ব্রাশফায়ারে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাসহ ১০ গুলিবিদ্ধ
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এক বিরল ঘটনার মধ্য দিয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাতে দুষ্কৃতকারীদের এলোপাতাড়ি গুলির শিকার হয়েছেন সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা রবিউল ইসলামসহ আরও নয়জন। এতে তাদের মধ্যে দুইজন গুরুতর আহত হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
ঘটনা ঘটেছে দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের মাজদিয়াড় গ্রামে, রাত সাড়ে ১২টার দিকে। স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিউল ইসলাম (৩৬) মরিচা ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এবং মো. হাফেজ প্রামাণিকের ছেলে। এ সময় তার সঙ্গে আরও আটজন গুলিবিদ্ধ হন, যাদের মধ্যে তিনজন নারী এবং পাঁচজন পুরুষ।
গুরুতর আহত রবিউল ইসলামকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে। অন্য গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সোহেল রানা (৪৫), তার স্ত্রী তমা খাতুন (২৬), কামরুল ইসলাম (৩৭), মুন্নি (২৪), রুনা খাতুন (২৭), মিতা খাতুন (৩০), তৌহিদুল ইসলাম (৩০) ও তার স্ত্রী মেরিনা (২৫)।
স্থানীয়দের বরাতে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, সোমবার রাতে মরিচা ইউপির মাজদিয়াড় গ্রামে একটি মুখোশধারী দুষ্কৃতকারী দল স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা রবিউল ইসলামকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। স্থানীয় লোকজন শুনে তার চিৎকারে ছুটে আসলে, দুষ্কৃতকারীরা ব্রাশফায়ার ও শটগান দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এ ঘটনায় উপজেলা ও এলাকাবাসী আতঙ্কিত হলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।
ওসি বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনার পরপরই এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
-

নগরীতে দুর্বৃত্তের হামলায় এক পরিবারের চারজন আহত, গ্রেফতার একজন
নগরীর জোড়াগেট এলাকার সূর্যগাছীর বাড়িতে ছোটখাটো একটি দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে, যেখানে দুর্বৃত্তের হামলায় এক পরিবারের চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার ভোর ৫টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন হাসিবুর রহমান আছিব (২১), আসলাম (৩৬), মোঃ বাপ্পি শেখ (৩৫) এবং ঝুমু আক্তার (২৬)। আহতদের যথাযথ চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার রাত ৮টার দিকে আসামি সুমন তাদের কাছে জরুরি কথা বলার জন্য তাদের বাড়িতে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে তাকে মারধর করে লোহার রড ও কাঠের বাটার মাধ্যমে শরীরে আঘাত করা হয়। ভোর ৫টার দিকে আছিব পালিয়ে বাড়িতে ফিরে আসেন। তবে আগে থেকেই খবর পেয়ে সুমনসহ আরও দুর্বৃত্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার বাড়িতে প্রবেশ করে অকথ্য মারপিট শুরু করে।
আহতদের রক্ষা করার জন্য পরিবারের অন্য সদস্যরা এগিয়ে আসলে পরিস্থিতি আরও মারাত্মক হয়ে উঠে। তখন ফারুক সরদারের হাতে থাকা চা পাতা দিয়ে আসলামকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে জখম করে। পাশাপাশি বাপ্পি শেখকে কাঠের বাটা দিয়ে মারাত্মক আঘাত করা হয়। ঝুমু আক্তারকে চুলের মুঠি ধরে ফেলে জামাকাপড় ছিঁড়ে শ্লীলতাহানি চালানো হয় এবং তার বাম হাতে ছুরি দিয়ে পোচ দেয়। এরপর দুর্বৃত্তরা আছিবের ঘরে প্রবেশ করে নগদ ১৫ হাজার টাকা নিয়ে যায়।
এই ঘটনার পর ঝুমু আক্তার বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই হামলার সঙ্গে ফারুখ শিকদার ও জিম সাদী নামে দুজন দুর্বৃত্ত জড়িত, যারা আগে থেকেই বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত। তারা এলাকার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। পলিশি চেষ্টা চালিয়ে গোপনে এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে।
খুলনা সদর থানার এসআই সাত্তার জানান, পুলিশ এই হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সুমন নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে। তিনি আরো বলেন, ওই পরিবারের অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে ও অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
-

প্রবাসী আয়ে ফের রিজার্ভ ছাড়ালো ৩৫ বিলিয়ন ডলার
গত মার্চ মাসে রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) এসেছে, যা অর্থনীতির জন্য খুবই ইতিবাচক সংকেত। এই ধারা চলতি এপ্রিলেও অব্যাহত রয়েছে, যার ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সঞ্চয় বা রিজার্ভ আবারও বৃদ্ধি পেয়ে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের ওপর উঠে গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের মাসের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এই হিসাবের মধ্যে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ৩০ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার। এক মাস আগে, অর্থাৎ ১৬ মার্চ, এই রিজার্ভ ছিল ৩৪ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার, যা থেকে জানুয়ারি মাসের তুলনায় প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে, সমস্ত রিজার্ভ ব্যবহারযোগ্য নয়। স্বল্পমেয়াদি দায় ও অন্য বাধ্যবাধকতা বাদ দিলে যে নিট বা প্রকৃত ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ থাকে, সেটিই দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ব্যাংক এই ব্যবহারের যোগ্য রিজার্ভ হিসেবে বর্তমানে প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলার দেখায়। সাধারণত, দেশের মোট আমদানি ব্যয় কমপক্ষে তিন থেকে পাঁচ মাসের জন্য এই রিজার্ভ ধরে রাখা নিরাপদ বিবেচিত। অতীতে রিজার্ভ চাপে পড়ে ১৪ বিলিয়ন ডলার নিচে নেমে গেলেও, বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে সেগুলো আবার বৃদ্ধি পায়। ২০২৪ সালে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর, নতুন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি কমিয়ে দেন এবং হুন্ডি ও অর্থপাচার রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেন। এর ফলে, রিজার্ভ ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, প্রবাসী আয় বাড়ার ফলে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং রিজার্ভ আবারো সুদৃঢ় হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে, ডলার উদ্ধারের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজন অনুযায়ী ডলার কিনছে, যা রিজার্ভের পরিমাণ বজায় রাখতে সহায়ক। তিনি সতর্ক করে বলেন, ডলারের দাম খুব বেশি কমে গেলে প্রবাসী আয়ের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ২০২১ সালের আগস্টে বাংলাদেশের রিজার্ভ ছিল ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলার, পরে ঋণ ও অর্থপাচারসহ নানা কারণে কমে গিয়েছিল। ২০২৪ সালের আগস্টে, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের সময়, রিজার্ভ অর্ধেকের বেশি কমে ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে নেমে যায়। তখন ডলার মুদ্রা বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়, এবং ডলার মূল্যে একশো টাকার ওপর উঠে যায়। অর্থনীতির সামাল দিতে তখন বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। তবে সরকারের নতুন উদ্যোগে, বাজারভিত্তিক ডলার বিনিময় ব্যবস্থা এবং প্রবাসী আয় বৃদ্ধির জন্য নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এসব কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে, যা রিজার্ভ পুনরুদ্ধারে সহায়তা করছে। চলতি এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে, দেশে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ১৭৯ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১.৫% বেশি। গত বছরের প্রথম ১৫ দিনে মোট প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ছিল ১৪৭ কোটি ডলার। এই উন্নতি দেখে বেশিরভাগ বিশ্লেষক মনে করছেন, প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে দেশের অর্থনীতি আরো শক্তিশালী হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক এই সময়ে, অর্থাৎ চলতি অর্থবছরে, বিভিন্ন ব্যাংক থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৫৬১ কোটি ডলার ডলার কিনেছে, যা রিজার্ভের পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক মার্কেটের বিভিন্ন অস্থিরতা, যেমন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের উত্তেজনা ও জ্বালানি তেলের দাম ওঠানামা, এসব পরিস্থিতিতে রিজার্ভ বৃদ্ধির বিষয়টি বাংলাদেশসহ বিশ্লেষকদের জন্য বেশ স্বস্তিদায়ক বলে মনে করা হচ্ছে।
-

সৌজন্যে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ চুক্তি এসএমই ফাউন্ডেশন ও প্রাইম ব্যাংকের
দেশের শিল্প খাতে নতুন দিগন্তের সূচনা করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে এসএমই ফাউন্ডেশন এবং প্রাইম ব্যাংক। তারা একত্রিত হয়ে ক্ষুদ্র, মাইক্রো এবং মাঝারি (CMSME) শিল্পের উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো, সরকারের ৩০০ কোটি টাকার ‘রিভলভিং ফান্ড’-এর আওতায় এবং ক্রেডিট হোলসেলিং নির্দেশনা অনুসারে, তৃণমূল পর্যায়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও गतিশীল করা। রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি শিল্প উন্নয়নের জন্য সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য একটি ব্যবসা বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করা আমাদের অগ্রাধিকার।
চুক্তির বাস্তবায়নের মাধ্যমে, প্রাইম ব্যাংক যোগ্য উদ্যোক্তাদের বার্ষিক সর্বোচ্চ ৮ শতাংশ সুদে স্বল্পমূল্যের ঋণ দেবে। এই অর্থায়নের সুবিধা খুবই সহজ, যেখানে প্রতিষ্ঠানের ধরন অনুযায়ী ১ লক্ষ টাকা থেকে ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মূলধন সংগ্রহে আর্থিক চাপ কমাতে এই কর্মসূচিতে ঋণের পরিশোধের সময়সীমা রাখা হয়েছে সর্বোচ্চ চার বছর, যার মধ্যে রয়েছে ছয় মাসের একটি গ্রেস পিরিয়ড। ফলে উদ্যোক্তারা তাদের ব্যবসা থেকে মুনাফা অর্জনের পরপরই কিস্তি পরিশোধ শুরু করতে পারবেন।
এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য হলো অর্থনৈতিক বিস্তার ও সমাজে সমতা নিশ্চিত করা। চুক্তি অনুযায়ী, তহবিলের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ নারী উদ্যোক্তা, নির্দিষ্ট শিল্প ক্লাস্টার ও তরুণ উদ্ভাবকদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি আইসিটি খাতের উদ্ভাবক, আমদানি-প্রতিকল্প পণ্য উৎপাদনকারী, ও জলবায়ু সংকটপ্রবণ বা সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলের উদ্যোক্তাদের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। ১০ লক্ষ টাকার ভেতরে কোনও জামানত বা স্থাবর সম্পত্তির বাধ্যবাধকতা থাকছেনা, ফলে যারা পর্যাপ্ত সম্পদ নেই, তারাও সহজে ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধন সংগ্রহ করতে পারবেন।
অর্থনৈতিক উন্নয়নে এই তহবিলের প্রভাব নিয়ে রয়েছে উচ্ছ্বাস ও আশাবাদ ব্যক্ত করেছে এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা এবং প্রাইম ব্যাংকের শীর্ষ নেতৃত্ব। এই কর্মসূচি কেবল ঋণ দেওয়া পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়; এটি পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করে টেকসই শিল্পায়নের পাশাপাশি, দেশের বাইরে থেকে ফেরত আসা অভিবাসীদের উৎপাদনশীল কাজে যুক্ত করার লক্ষ্যেও কাজ করছে।
প্রাইম ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম নাজিম এ. চৌধুরী এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই অংশীদারিত্ব কেবল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে না, বরং বাংলাদেশের সিএমএসএমই খাতের সামগ্রিক সক্ষমতাকেও আরও জোরদার করবে।
-

এসএসসি পরীক্ষা এখনই: সিসি ক্যামেরা ও প্রশ্নপত্র সম্পর্কিত জরুরি নির্দেশনা
আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ এবং নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করার জন্য ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশনা অনুযায়ী, কেন্দ্রগুলোকে সিসি ক্যামেরার সংক্রান্ত তথ্য এবং প্রশ্নপত্র গ্রহণকারী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিস্তারিত তথ্য দ্রুত পাঠানোর জন্য বলা হয়েছে। কথাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং অত্যাবশ্যকীয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
রোববার, ১৯ এপ্রিল, বোর্ডের একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়, সিসি টিভির আইডি ও পাসওয়ার্ড, পাশাপাশি যারা প্রশ্নপত্র গ্রহণ করবেন তাদের নাম, ঠিকানা এবং মোবাইল নম্বর [email protected] এই ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠাতে হবে। এ ছাড়া, প্রশ্নপত্র গ্রহণের জন্য যে শিক্ষক ও কর্মচারীরা যুক্ত থাকবেন, তাদেরও এই তথ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়েছে।
উপযুক্ত সময়ের মধ্যে এই তথ্য পাঠানোর জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, অর্থাৎ আজ রোববার অফিস সময়ের মধ্যে নির্ধারিত ই-মেইলে এসব তথ্য পাঠাতে হবে।
শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার শুরু হবে আগামী ২১ এপ্রিল। প্রথম দিনে বাংলা প্রথমপত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে ২০ মে। এরপর, ৭ জুন থেকে শুরু হয়ে চলবে ১৪ জুন পর্যন্ত ব্যবহারিক পরীক্ষা।
অতএব, এই নির্দেশনা মানা এবং সময়মতো প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠানো অত্যন্ত জরুরি, যেন সব কিছু সুষ্ঠুভাবে ও সততার সঙ্গে সম্পন্ন হয়।
-

এপ্রিলের ১৮ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১৮০ কোটি ডলার
এপ্রিল মাসের প্রথম ১৮ দিনে দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন মোট ১৮০ কোটি ডলার। এই পরিমাণ রেমিট্যান্সের মান বিভিন্ন দেশের বিনিময় হার ধরা হলে, প্রতি ডলার ১২৩ টাকায় গণনা করলে টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২২ হাজার ১৪০ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই রেমিট্যান্সের পরিমাণ ১৬.২ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান আজ রোববার এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে (জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত) মোট রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ২ হাজার ৮১৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২ হাজার ৩৪৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অর্থাৎ, এই সময়ে রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি হয়েছে মূলত ২০.২ শতাংশ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পদক্ষেপ, প্রণোদনা ব্যবস্থা এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নতি রেমিট্যান্সের পরিমাণ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মাসভিত্তিক প্রবাসী আয়ের চিত্র দেখা যায়, জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ, সেপ্টেম্বর ২৬৮ কোটি ৫৫ লাখ, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ, নভেম্বর ২৮৮ কোটি ৯৭ লাখ, ডিসেম্বর ৩২২ কোটি ৩৬ লাখ, জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ১৬ লাখ, ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি এবং মার্চে রেকর্ড ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার সংগ্রহ হয়েছে।
-

১৯ দিনে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছাড়াল দুই বিলিয়ন ডলার
চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১৯ দিনেই দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে রেমিট্যান্স। এই সময়ের মধ্যে দেশে এসেছে মোট ২.১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ২১২ কোটি ৭০ লাখ ডলার। দৈনিক গড় প্রবাহ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ কোটি ১৯ লাখ ডলার। সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, একই সময়ে গত বছর এই সময়ে দেশে এসেছিল মোট ১৭১ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এর ফলে দেখা গেছে, বছর ভিত্তিক রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই মাস থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৮৩৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ২০ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি। দেশীয় অর্থনীতির জন্য এই রেমিট্যান্সের গুরুত্ব অপরিসীম।
এর আগে, মার্চ মাসে রেকর্ড সৃষ্টি করে সীমান্তের ওপার থেকে দেশে এসেছিল ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ। ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারি মাসেও যথাক্রমে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ও ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ডলার রেমিট্যান্স প্রবাহিত হয়। ডিসেম্বরে আসে ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার, নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ এবং সেপ্টেম্বর মাসে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার।
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে প্রভাব ফেলছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ডলের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় মুদ্রার বিপরীতে ডলার বিনিময় হার বেড়েছে, যার ফলে প্রবাসীরা দেশে টাকা পাঠানোর সময় বেশি টাকা পেয়ে থাকেন।
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, যদি মধ্যপ্রাচ্যের সংকট অব্যাহত থাকে বা আরও দীর্ঘ হয়, তবে বাংলাদেশের অর্থনীতিও তার ফলে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এজন্য তারা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্ত অবস্থানে রাখতে পরামর্শ দিচ্ছেন, যাতে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
-

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর তালিকা ঘোষণা
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বিএনপি চূড়ান্ত করেছে ৩৬ জন প্রার্থীর নাম। এই তালিকা সচেতনভাবে প্রকাশিত হয় স্থানীয় এবং জাতীয় পর্যায়ে সক্রিয় ও দক্ষ নেত্রীদের মনোনয়ন হিসেবে। সোমবার (২০ এপ্রিল) বিএনপির মুখপাত্র ও দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সংবাদ সম্মেলন করে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন।
নির্বাচন বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দলের ত্যাগী ও সক্রিয় নেত্রীদের মধ্যে এই প্রার্থীরা নির্বাচন করা হয়। তারা সবাই দলের বড় স্বপ্ন এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের অংশ হিসেবে বিবেচিত।
প্রার্থীদের মধ্যে notable নামগুলো হলো সেলিমা রহমান, শিরীন সুলতানা, রাশেদা বেগম হীরা, রেহানা আকতার রানু, নেওয়াজ হালিমা আরলী, মোসা. ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, সাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলোফার চৌধুরী মনির, নিপুণ রায় চৌধুরী, জেবা আমিন খান, মাহমুদা হাবিবা, মোছা. সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিনজ এবং সুবর্ণা শিকদার।
অতিরিক্তভাবে মনোনয়ন লাভ করেছেন শামীম আরা বেগম স্বপ্না, মোসাম্মৎ শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বিথীকা বিনতে হোসাইন, মোছা. সুরাইয়া জেরিন, মানছুরা আক্তার, জহরত আদীব চৌধুরী, মমতাজ আলম, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, মোছা. সানজিদা ইয়াসমিন, নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আরা আক্তার, মাধবী মারমা, সেলিনা সুলতানা এবং রেজেকা সুলতানা।
বিএনপি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এই প্রার্থীদের মাধ্যমে নারীর রাজনৈতিক দরজাটি আরো প্রসারিত করবে বলে আশা প্রকাশ করছে। এই মনোনয়নগুলো দলটির ভবিষ্যৎ এগিয়ে নেওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
