Blog

  • আফরোজা আব্বাস, পাপিয়া ও কনকচাঁপাসহ বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট নারীরা বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন

    আফরোজা আব্বাস, পাপিয়া ও কনকচাঁপাসহ বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট নারীরা বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন

    বাংলাদেশের চলমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বিএনপি সম্প্রতি সংরক্ষিত নারী আসনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। দীর্ঘ দুই দশকের রাজনৈতিক বিরতির পর আবারো ক্ষমতায় ফিরে আসার পথে এই ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ এক ধাপ হিসেবে বিবেচনা হচ্ছে। তবে উল্লেখযোগ্য হলো, এই তালিকায় জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস, সাবেক সাংসদ সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া এবং জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা সহ কিছু পরিচিত ও প্রভাবশালী নারী নেত্রী থাকছেন না। তাদের পাশাপাশি, অন্যান্য নারী নেত্রীরা যারা বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন, তারাও এই তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন।

    আজ সোমবার (২০ এপ্রিল) দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এই তালিকা প্রকাশ করেন। তালিকায় বাদ পড়া হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করেন, মহিলা দলের সভাপতি ও মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস, শিক্ষামন্ত্রী আ.ন.ম. এহছানুল হক মিলনের স্ত্রী ও মহিলা দলের সহ-সভাপতি নাজমুন নাহার বেবী।

    এছাড়াও, মহিলা দলের কৃষিবিষয়ক সম্পাদক সেলিনা হাফিজ, গীতিকার কনকচাঁপা, বেবী নাজনীন, বিএনপির প্রয়াত নেতা মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা জসিমউদ্দীন মওদুদ, খিলগাঁও মডেল কলেজের শিক্ষক রোকেয়া চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর স্ত্রী রুমানা মাহমুদ, ছোট পর্দার অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক এবং সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া উল্লেখযোগ্য।

    সংবাদ সম্মেলনে রিজভী জানান, মোট ৩৬ জন প্রার্থীকে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনয়ন দিতে জাতীয় কমিটির সদস্যরা দু’দিনব্যাপী সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছিলেন। সাক্ষাৎকারের পর মনোনয়ন বোর্ড এই ৩৬ প্রার্থীকে মনোনীত করেছেন। ঘোষণার মাধ্যমে এবারের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হয়, যা ম্যাচ করেছে দলের ভবিষ্যৎ নির্বাচনি পরিকল্পনার সাথে।

  • নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন ছাত্রদল নেত্রী মানসুরা আক্তার

    নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন ছাত্রদল নেত্রী মানসুরা আক্তার

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এ তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি মানসুরা আক্তার। সোমবার (২০ এপ্রিল) নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তিনি তার নাম ঘোষণা করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

    মানসুরা আক্তার বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে পড়াশোনা করছেন, ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ছাত্রদলের একজন তৎপর নেতা হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপির রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি বিভিন্ন সময় মামলার শিকার হয়েছেন এবং হামলার মুখোমুখি হয়েছেন।

    বিশেষ করে, ২০২২ সালের মে মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের একটি মিছিলে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। এ ঘটনার ফলশ্রুতিতে তার হাত ভেঙে যায়, এবং দলীয় কর্মীরা তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। এই ঘটনায় তিনি ছাত্রলীগের ৩৩ জন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলার দায়ের করেছেন।

    তারই পাশাপাশি, বেড়ে চলা সংঘর্ষের ঘটনা ২০২৩ সালের এপ্রিলে আবার ঘটেছে। ঢাকাস্থ ঢাকা মেডিকেল কলেজের বাহিরের গেটে অবস্থানকালে ছাত্রলীগের কর্মীরা তার উপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় তিনি ছাড়া অন্য ছাত্রদল নেতারা ও আহত হন। মানসুরা আক্তার একজন সাহসী ও সংগ্রামী এই নেত্রী, যিনি রাজপথে প্রবলভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন এবং আশা করা যায়, এবারের নির্বাচনে তার অংশগ্রহণ নজরকাড়া হবে।

  • সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির নতুন মুখ ২৮, পুরাতন ৮

    সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির নতুন মুখ ২৮, পুরাতন ৮

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি ৩৬ জন সদস্যের চূড়ান্ত মনোনয়ন ঘোষণা করেছেন। সোমবার (২০ এপ্রিল) নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই তালিকা প্রকাশ করেন।

    বিশ্লেষণে জানা গেছে, এই তালিকায় নতুনদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এর অর্থ, এবারের সংসদে ২৮ জন নারী প্রথমবারের মতো বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন এবং সংসদ সদস্য হচ্ছেন। অন্যদিকে, ৮ জনের নাম এমন যারা আগেই সংরক্ষিত কোটায় সংসদে আসছেন।

    তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য, সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, রেহান আক্তার রানু, রাশেদা বেগম হীরা, বিলকিস ইসলাম, হেলেন জেরিন খান, নিলুফার চৌধুরী মনি, সুলতানা আহমেদ ও নেওয়াজ হালিমা আর্লি।

    এছাড়াও, দুই নারী রয়েছেন যাদের স্বামী বা বাবা সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী। এই তালিকায় থাকছেন বিএনপি নির্বাহী সদস্য ও ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুন রায় চৌধুরী, যাঁর বাবা সংস্কৃতির মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এবং শ্বশুর গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, যিনি বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৩ আসনের সংসদ। আরেকজন হলেন শিরিন সুলতানা, যাঁর স্বামী বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন।

    বিএনপির ঘোষিত তালিকায় আরও দেখা গেছে, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি প্রয়াত শফিউল বারী বাবুর স্ত্রীয়েস্বামী বিথিকা বিনতে হোসাইনও মনোনয়ন পেয়েছেন।

    অতীতে সংসদে সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিয়ে যারা পরাজিত হয়েছেন, সেই তিনজনও এই সংরক্ষিত কোটায় যোগ দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আছেন ঢাকা-১৪ আসনের সানজিদা ইসলাম তুলি, যশোর-২ আসনের সাবিরা সুলতানা ও শেরপুর-১ আসনের সানসিলা জেবরিন।

    মহিলা দল থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান।

    এছাড়াও, বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন মাহমুদা হাবিবা ও শাম্মী আক্তার।

    ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির কমিটি থেকে ৩ জন মনোনয়ন পেয়েছেন—ফেরদৌস আহমেদ, আরিফা সুলতানা ও নাদিয়া পাঠান। এরা সবই ঢাকা মহানগর বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।

    বর্তমানে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে একজন জ্যেষ্ঠ মনোনয়ন পেয়েছেন, তিনি হলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মানসুরা আখতার, যিনি সবচেয়ে কনিষ্ঠ এই সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের মধ্যে। তার বাবা প্রয়াত অ্যাডভোকেট এবাদুর রহমান চৌধুরী।

    বিজ্ঞাপন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কিছু আমলাতান্ত্রিক বা দলের সক্রিয় রাজনীতি থেকে অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিরাও এই তালিকায় স্থান পেয়েছেন। এর মধ্যে একজন হলেন, মোবাইল অপারেটর বাংলা লিংকের সিইও জহরত আবিদ চৌধুরী।

    বিএনপির মিডিয়া সেলের অন্যতম সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, অভিজ্ঞ রাজপথে নিপীড়িত ও নির্যাতিত যারা তারা মূল্যায়িত হয়েছেন। এটি দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন ও বর্তমান দলের ভারপ্রাপ্ত নেতা তারেক রহমান দলের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

  • বিএনপি সংখ্যালঘু চার নারীকে মনোনীত করল ত্রয়োদশ সংসদে নারী আসনে

    বিএনপি সংখ্যালঘু চার নারীকে মনোনীত করল ত্রয়োদশ সংসদে নারী আসনে

    ত্রয়োদশ সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। সোমবার নয়াপল্টনে দলের কার্যালয়ে নারী প্রার্থীদের নামের ঘোষণা দেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের চার নারী প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন নিপুণ রায় চৌধুরী, আন্না মিঞ্জ, সুবর্ণা সিকদার ও মাধবী মারমা। এই মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় ব্যতিক্রমধর্মী ও সামাজিক প্রতিনিধিত্বের গুরুত্ব দিয়েছে বিএনপি। বিশেষ করে আন্না মিনজ আলোচিত, তিনি একজন উন্নয়নকর্মী এবং আদিবাসী ওঁরাও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি। তিনি ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র ডিরেক্টর (প্রোগ্রাম) হিসেবে কাজ করছেন। নাটোরের বাসিন্দা আন্না মিনজ সংখ্যালঘু খ্রিস্টান ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ক্ষুদ্র আদিবাসী ওঁরাও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করবেন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। তার স্বামী জন গোমেজ বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ধর্মবিষয়ক সহ-সম্পাদক। সংরক্ষিত আসনে মনোনয়নপ্রাপ্ত অন্য দুই নারী হলো সুবর্ণা সিকদার ও মাধবী মারমা। সুবর্ণা গোপালগঞ্জ থেকে ও মাধবী বান্দরবান থেকে মনোনীত হয়েছেন। সুবর্ণা সিকদার মথুয়া বহুজন সমাজ ঐক্যজোটের প্রধান উপদেষ্টা এবং একজন প্রতিষ্ঠিত শিক্ষক। তার মনোনয়ন ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা পরীক্ষানিরীক্ষা ও আলোচনা হচ্ছে। তবে তিনি বলছেন, ‘আমি বিএনপি’র একজন সমর্থক এবং আমি কোনো কমিটিতে নেই।’ তার স্বামী পদ্মনাভ ঠাকুর একসময় যুবদলের নেতা ছিলেন। আর মাধবী মারমা বান্দরবান জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য ও মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক। দলটির শীর্ষ নেতারা বলছেন, সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যাতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হয়।

  • মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

    মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে ‘নাস্তিক’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’ বলার অভিযোগে কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও ইসলামি বক্তা মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মামলা করে আদালত। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বেলা পৌনে ১২টার দিকে সিরাজগঞ্জের চৌহালী আমলি আদালতের বিচারক সুমন ভুঁইয়া এই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

    এর আগে, ২ এপ্রিল সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ূন কবীর কর্নেল বাদী হয়ে এই মামলাটি করেন। এরপর, বিচারক সুমন ভুঁইয়া মামলাটি গ্রহণ করে সমন জারির নির্দেশ দেন।

    বাদীপক্ষের আইনজীবী ও সিরাজগঞ্জ জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট শাকিল মোহাম্মদ শরিফুল হাকিম জানিয়েছেন, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু একজন সম্মানিত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলেন। তিনি বিভিন্ন মসজিদ ও মাদরাসা প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু মুফতি আমির হামজা একটি অপ্রকাশ্য বক্তব্যে ইকবাল হাসান মাহমুদকে নাস্তিক বলেন, যা ধর্ম ও আইনের দৃষ্টিতে গুরুতর অপরাধ।

    এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হন বাদী হুমায়ূন কবীর। তিনি সিরাজগঞ্জের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের চৌহালী উপজেলার আমলি আদালতে দণ্ডবিধির ২৯৬, ৫০০, ৫০৪ ধারায় মানহানি মামলাটি দায়ের করেন। মামলার শুনানি শেষে, আদালত আজ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।

  • নওগাঁয় পরিবারের ৪ জনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় ধীরেধীরে রহস্য উন্মোচন

    নওগাঁয় পরিবারের ৪ জনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় ধীরেধীরে রহস্য উন্মোচন

    নওগাঁয়ের নিয়ামতপুরে প্রকাশ্যে আবারো এক জঘন্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলো। সোমবার (২০ এপ্রিল) রাতে বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে একই পরিবারের চার জন সদস্যকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে আসে।

    নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। নিহতরা হলেন— বাহাদুরপুর গ্রামের নমির উদ্দিনের ছেলে হাবিবুর রহমান (৩২), তার স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), তাদের এক ছেলে পারভেজ (৯) এবং ছোট মেয়ে সাদিয়া আক্তার (৩)।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাতে পরিবারের সদস্যরা সাধারণভাবেই ঘুমিয়ে ছিল। সকাল সাড়ে চারটায় ফজরের নামাজের জন্য উঠার সময়, এক বৃদ্ধা প্রতিবেশী দরজার খোলা দেখেন। এরপর তিনি পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত গ্রামবাসী ও পুলিশকে খবর দেন। গ্রামে এসে দেখা যায়— হাবিবুর, তার স্ত্রী, সন্তান ও মেয়ের গলা কাটা মরদেহ।

    সকাল ৮টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এই ক্রূর হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়রা বলছেন, এই নৃশংস কাজের জন্য দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে বিচারের দাবি জানানো হচ্ছে।

    নিহত পপি আক্তারের বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, “আমার মেয়ে, জামাই ও নাতি-নাতনিকে যারা হত্যা করেছে, তাদের ফাঁসি চাই।”

    নিয়ামতপুর থানার ওসি মাহবুবুর রহমান বলেন, “মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ জেলার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং কোনোরকম গোপনীয়তা ও বিচারহীনতার পথে এড়ানো হবে না।”

  • পুলিশের পোশাকের রং পরিবর্তনে নতুন উদ্যোগ, আগের রঙ ফিরছে

    পুলিশের পোশাকের রং পরিবর্তনে নতুন উদ্যোগ, আগের রঙ ফিরছে

    বাংলাদেশ পুলিশের পোশাকের রঙ পরিবর্তন নিয়ে চলমান নানা আলোচনা ও সমালোচনার পর আবারও নতুন রং নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি প্রস্তাবিত নতুন সংস্কারে পুলিশ পোশাকের গাঢ় নীল এবং হালকা অলিভ (জলপাই) রঙের ঐতিহ্যবাহী সংমিশ্রণ ফিরে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে পুলিশ ড্রেস রুলস, ২০২৫-এর সংশোধনের প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

  • টেকনাফে পাহাড় থেকে তিন যুবকের মরদেহ উদ্ধার

    টেকনাফে পাহাড় থেকে তিন যুবকের মরদেহ উদ্ধার

    কক্সবাজারের টেকনাফে গহীন পাহাড়ের মধ্য থেকে তিন যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল দশটার দিকে, উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর শীলখালী এলাকার একটি পাহাড়ের গভীরে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে ঐ এলাকার শ্রমিকরা পাহাড়ের পূর্ব পাশে কাজ করতে গেলে আচমকা তিনটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে যান ও পুলিশকে খবর দেন। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতরা হলেন- উত্তর শীলখালী এলাকার রুহুল আমিনের ছেলে আমিনুল ইসলাম রবি (১৯), মৃত নুরুল কবিরের ছেলে মুজিবুর রহমান (৩৮), এবং নুরুল ইসলামের ছেলে নুর বশর (২০)। তারা সবাই স্থানীয় বাসিন্দা। নিহতদের পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা মরদেহ শনাক্ত করেন। রুহুল আমিন তাঁর ছেলে রবির মরদেহ দেখে টের পান যে, তার ছেলে আর নেই। অন্যদিকে, বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য হুমায়ুন কাদের বলেন, সকাল থেকেই স্থানীয়রা পাহাড়ের পাশে তিনটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেছেন। এই ঘটনায় আরও দুইজন নিখোঁজ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তাদের খোঁজ চালানো হচ্ছে। এরই মধ্যে ব্যারাকচাপা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ দুর্জয় বিশ্বাস বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করেছে। মরদেহগুলো প্রাথমিকভাবে সুরতহাল করে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাল্টা বিশ্লেষণে, এই প্রাণহানির কারণে পুরো এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং পরিস্থিতি এখনই পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

  • বাস ও লঞ্চে একচেটিয়া ভাড়া বৃদ্ধির পাঁয়তারা করছে মালিকেরা, অভিযোগ যাত্রী কল্যাণ সমিতির

    বাস ও লঞ্চে একচেটিয়া ভাড়া বৃদ্ধির পাঁয়তারা করছে মালিকেরা, অভিযোগ যাত্রী কল্যাণ সমিতির

    বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি অভিযোগ করেছেন যে বাস ও লঞ্চের প্রভাবশালী মালিকেরা অবৈধভাবে একচেটিয়া ভাড়া বৃদ্ধির পরিকল্পনা চালাচ্ছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক জরুরি সাংবাদিক সম্মেলনে তারা এই বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

    সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, “জ্বালানি তেলের মূল্য যখন বাড়ে, তখন স্বাভাবিকভাবেই গণপরিবহনগুলোর ভাড়া বেশি হয়। তবে এই পর্যায়ে এসে কিছু মালিক সমিতি সরকারের কর্মকর্তাদের সিন্ডিকেটে মিলে যাত্রীদের প্রতিনিধিত্ব এড়িয়ে একচেটিয়া বা অপ্রয়োজনীয় ভাড়া নির্ধারণের পাঁয়তারা করছে। এমন ঘটনাগুলো জনস্বার্থের জন্য ক্ষতিকর এবং এগুলো গোপনভাবে করা হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।”

    তিনি আরও বলেন, “বাড়তি ভাড়া নিয়ে যাত্রীরা মারামারি, হাতাহাতি ও লাঞ্ছনার শিকার হন। অথচ এই ভাড়া নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় যাত্রীদের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত না থাকায় তারা এই প্রতারণাকে চমৎকার উপায়ে দেখতে পাচ্ছেন না।”

    সমিতি দেশের যাত্রী সাধারণের হয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারের নজর আকর্ষণ করেন, যেমন:

    1. ৫২ আসনের বাসে ভাড়া নির্ধারিত হয়, কিন্তু বাস্তবে ৪০, ৫৫ বা ৬০ আসনের বাসের ভাড়া তালিকা তৈরি হয় না। এর ফলে যাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণা হয় এবং অপ্রকাশ্য ভাড়া আদায় করা হয়।
    2. ভাড়া নির্ধারণের জন্য ব্যবহৃত ২১টি উপাদানের মূল্য বিশ্লেষণে মালিকেরা নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী মানদণ্ড তৈরি করে থাকেন, যেখানে সরকারের বা অন্য কোন পক্ষের যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ নেই।
    3. ঢাকা ও চট্টগ্রামের অপ্রচলিত পুরোনো বাসগুলোতে অস্বাভাবিক দামের ভাড়া দেখানোর মাধ্যমে ভাড়া বাড়ানো হয়।
    4. পুরোনো বাস চলাচলের সময় যাত্রী অসুবিধা হয়, কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের নামে অস্বাভাবিক খরচ দেখানো হয়।
    5. চালক, সহকারী এবং ভাড়া দানকারী এই তিনজনের বেতনও ভাড়ার একটি অংশ হিসেবে ধরা হয়, যা বাস্তবে জানা যায় না।

    এছাড়াও, বিভিন্ন দিক থেকে ভাড়া বৃদ্ধির নামে প্রতারণা, অপ্রয়োজনীয় রুট পরিবর্তন, বিভিন্ন ধরনের অতিরিক্ত ভাড়া এবং অপ্রতুল মনিটরিং ব্যবস্থা বিবরণে উল্লেখ করেন।

    সমিতি সরকারকে আহ্বান জানায় যে, এই সমস্ত অনিয়ম বন্ধ করতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তারা জানান, জ্বালানি তেলের মূল্য কমার প্রেক্ষিতে বাসের ভাড়া কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তবে যদি তা কার্যকরের পূর্বে মূল্যবৃদ্ধি বা অপ্রয়োজনীয় ভাড়া বাড়ানো হয়, তাহলে কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।

    অতিসম্প্রতি, বাস ও লঞ্চের মালিকেরা সরকারকে ম্যানেজ করে নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারণ করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির ভুঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, মাহমুদুল হাসান রাসেল ও অন্যান্য নেতারা।

  • যাত্রী কল্যাণ সমিতি: বাস ও লঞ্চ মালিকরা একচেটিয়া ভাড়া বাড়ানোর পাঁয়তারা করছে

    যাত্রী কল্যাণ সমিতি: বাস ও লঞ্চ মালিকরা একচেটিয়া ভাড়া বাড়ানোর পাঁয়তারা করছে

    বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি অভিযোগ করেছে, বাস ও লঞ্চের প্রভাবশালী মালিক সমিতির নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক ভোক্তা অধিকার আইন লঙ্ঘন করে একচেটিয়া ভাড়া বৃদ্ধির পাঁয়তারা চলছে। সোমাবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে অনুষ্ঠিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এসব কথা বলেন।

    তিনি জানান, জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়লে অনুপাতে ভাড়া বাড়বে—এটাই স্বাভাবিক। তবুও মালিক সমিতি সরকারের কিছু কর্মকর্তা-নীতিনির্ধারক ম্যানেজ করে যাত্রীদের প্রতিনিধি বা দরকষাকষি বাদ দিয়ে একচেটিয়া ভাড়া নির্ধারণের চেষ্টা করছে। ভাড়া নির্ধারণের প্রক্রিয়া গোপন রাখা হচ্ছে, মিডিয়াও বাদ রাখা হচ্ছে। এতে সাধারণ যাত্রী প্রতারিত হচ্ছেন বলেই তার দাবি।

    মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়াকে কেন্দ্র করে বাস ও লঞ্চে যাত্রীদের সঙ্গে হাতাহাতি, লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটছে। অথচ ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে যাত্রীদের প্রতিনিধিত্ব না থাকায় এসব অনিয়ম রোধ করা যায় না। তিনি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কয়েকটি প্রধান অভিযোগ উত্থাপন করেন—

    ১. ৫২ আসনের বাসের জন্য ভাড়া নির্ধারণ থাকলেও বাস্তবে ৫২ আসনের কোনো বাসের ভাড়া তালিকা প্রকাশ করা হয় না। আরামদায়ক দেখানোর নাম করে ৪০ আসনের ভাড়া তালিকায় ৫২, ৫৫ বা ৬০ আসনের বাসে বেশি ভাড়া আদায় করা হয়, যা প্রতারণার শামিল।

    ২. ভাড়া নির্ধারণের ব্যয় বিশ্লেষণে ২১টি উপাদান যোগ করা হয়। এসব উপাদান মালিকদের স্বার্থমতো সাজানো হয় এবং সরকারের বা তৃতীয় পক্ষের কাছে যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ রাখা হয় না, ফলে একচেটিয়া ভাড়া নির্ধারণ সম্ভব হয়ে যায়।

    ৩. ঢাকা ও চট্টগ্রামের লক্কড়-ঝক্কর বাসগুলোর খরচ রীতিমতো বাড়িয়ে দেখিয়ে টেবিলে তুলে ভাড়া বাড়ানো হয়, যাত্রীবৃন্দই এর ভুক্তভোগী।

    ৪. পুরনো বাসগুলো মাঝপথে ঠেকিয়ে যাত্রীদের দুর্ভোগ সৃষ্টি করে; আবার রুটিন মেইনটেন্যান্স ও পার্টসের অনুপযুক্ত দাম দেখিয়ে অতিরিক্ত খরচ ধরা হয়।

    ৫. চালক, সহকারী ও ভাড়া আদায়কারীর বেতনকে ভাড়ার উপাদান হিসেবে দেখানো হয়; বাস্তবে অনেক বাসে তারা নিয়মিত বেতন-বোনাস পান না—মালিকদের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক কাজ করায় এটি ভাড়া বৃদ্ধির আরেকটা ফাঁদ।

    ৬. ঢাকা-চট্টগ্রামসহ নগরীর বাসগুলোর অনেকেই কমপ্রিহেনসিভ ইনস্যুরেন্স ছাড়াই চালিত হলেও টেবিলে ইনস্যুরেন্স, দুর্ঘটনা ঝুঁকি, গ্যারেজ ভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বড় দেখিয়ে ভাড়া বাড়ানো হয়।

    ৭. মালিকদের সুবিধামতো ভাড়ার তালিকা, স্টপেজ নির্ধারণ ও দূরত্ব বা কিলোমিটার কৃত্রিমভাবে চুরি করা হচ্ছে; যাত্রীদের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিনিধি না থাকার কারণে এসব প্রতারণা দেখা যাচ্ছে না।

    ৮. দূরপাল্লার বাসে কিলোমিটারের ভিত্তিতে ভাড়া থাকলেও স্বল্পদূরত্বে গিয়েতেও পুরো গন্তব্যের ভাড়া আদায় করা হয়।

    ৯. সিএনজি চালিত ও ডিজেল চালিত বাসের আলাদা ভাড়া হলেও একসাথে উভয় ধরনের বাসে বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে; মনিটরিং মালিকদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় প্রতারকাচর্চা রোধ করা যাচ্ছে না।

    ১০. ভাড়া নির্ধারণে চালক-সহকারী-ভাড়া আদায়কারীর জন্য ঈদে বোনাসের নাম করে অতিরিক্ত ভাড়া ধার্য করা হয়, অথচ বাস্তবে বোনাস প্রদান হয় না; ফলে প্রতিবার ঈদে যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত ভাড়া চাপ বাড়ে।

    ১১. দেশের বিভিন্ন সময়ে—সকালে এক ভাড়া, বিকেলে অন্য ভাড়া, বৃষ্টিতে আলাদা ভাড়া, ঈদের আগে–পরে ভিন্ন ভাড়া—এমন নৈরাজ্য প্রতিদিনের রুটিনে পরিণত হয়েছে। যাত্রী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত না থাকায় ও সড়ক পরিবহন আইন মালিক সমিতির প্রভাবাধীন থাকায় কোটি মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন।

    ১২. সিটি সার্ভিসের ৫০/৫২/৬০ আসনের বাসের সামনে দরজা, ভাঙা জানালা, ছাদ ফাটার কারণে যাত্রীদের নিরাপত্তাহানির সমস্যা চলছে; চলন্ত বাসে অনিয়মে যাত্রী ওঠা-নামা ও রুটের শর্তবিপরীত চালনা—এসব সমস্যা কারা দেখবে, প্রশ্ন তোলেন তিনি।

    মো. মোজাম্মেল হক আরো বলেন, সম্প্রতি জ্বালানি তেলের মূল্য তিন দফায় কমার সময় প্রতি ১ টাকার জন্য ভাড়া ১ পয়সা করে কমানো হয়েছিল। এখন যদি প্রতি লিটারে ১৫ টাকার মতো মূল্য বৃদ্ধি হয়, তাহলে সূত্রানুযায়ী ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে সর্বোচ্চ ১৫ পয়সা বাড়ানো যেতে পারে—নাহলে যাত্রী কল্যাণ সমিতি কঠোর আন্দোলনে যাবে বলে হুশিয়ারি দেন তিনি।

    সংবাদ সম্মেলনে কনজুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির ভুঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, মাহমুদুল হাসান রাসেল, আলমগীর কবির বিটু, মঞ্জুর হোসেন ইসা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন এবং তাদের বক্তব্যে যাত্রীদের দাবির পক্ষে সমর্থন জানানো হয়।

    সমিতি সরকারের কাছে দাবি করেছে—ভাড়া নির্ধারণে যাত্রী প্রতিনিধিদের বাধ্যতামূলক অন্তর্ভুক্তি, খরচের উপাদানগুলোর স্বচ্ছতা ও যাচাই-বাছাই, গণমাধ্যমে ভাড়া সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ এবং মাননীয় সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্বরিত হস্তক্ষেপ। না হলে তারা কঠোর আন্দোলন ও জনআন্দোলনের কথা ভাবছেন।