Blog

  • অত্যন্ত চ্যালেঞ্জের মধ্যে সহজ জয়ে বাংলাদেশ

    অত্যন্ত চ্যালেঞ্জের মধ্যে সহজ জয়ে বাংলাদেশ

    রাজশাহীর শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল শ্রীলঙ্কা নারী দলের বিরুদ্ধে ৩ উইকেটে জয় অর্জন করে। এই ম্যাচে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কঠিন লড়াই হলেও অভিজ্ঞতা, মনোবল ও সংগ্রামী মনোভাব দেখিয়ে টাইগ্রেসরা ম্যাচটি নিজেদের করে নিয়েছে। এই জয় দিয়ে সিরিজে তারা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল।

    শুরুতে টস জিতে শ্রীলঙ্কা দল ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয়। নির্ধারিত ৫০ ওভারে তারা ৯ উইকেট হারিয়ে ২০৫ রান করে। দলের হয়ে হানসিমা করুণারত্নে ৭১ বলে ৫৪ রানে সর্বোচ্চ অবদান রাখেন এবং ইমেশা দুলানি ৭৭ বলে ৫২ রান করেন। কাভিশা দিলহারি ৩৮ বলে ৩০ এবং ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হাসিনি পেরেরা ৪১ বলে ২৭ রান যোগ করেন। বাংলাদেশের বলალია রিতু মনির বোলিং বিশেষ করে উল্লেখযোগ্য, তিনি ৩ উইকেট নিতে সক্ষম হন। পাশাপাশি নাহিদা আক্তার ২টি, সোবহানা মোস্তারী, রাবেয়া খান, সুলতানা খাতুন ও মারুফা আক্তার ১টি করে উইকেট নিয়ে শৃঙ্খলিপূর্ণ বোলিং প্রদর্শন করেন।

    জবাবে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ দলের শুরুটা বেশ কঠিন হয়। মাত্র ১ রানে ওপেনিং জুটি ভেঙে যায়। শারমিন সুলতানা ৩ বলে শূন্য রানে ফিরে যান, এরপর জুরাইরিয়া ফেরদৌস ৫ বলে ৫ রান করে আউট হন। তবে এর পরে অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ও শারমিন আকতার সুপ্তা ক্রিজে পৌঁছে পরিস্থিতি সামলে নেন।

    জ্যোতি ২৯ বলে ১৩ রান করে গল্প হারালেও, তার জায়গায় আসেন সোবহানা মোস্তারী। এই দুজনের মধ্যে একটি দারুণ জুটি গড়ে ওঠে। শারমিনের বোলিং ফিফটির কাছাকাছি পৌঁছে যায়, এবং তিনি অনেক সংগ্রাম করে রান করে যান। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ৫৬ বলে ৪১ রান করে আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয়।

    সেসময়ে স্বর্ণা আক্তার সঙ্গে জুটি বানিয়ে খেলতে থাকেন শারমিন, যিনি দলের জন্য ৫০+ রানের এক গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস উপহার দেন। দল ১৯৯ রানে পৌঁছে গেলে হঠাৎ করে ধস নামে; ১২৭ বলে ৮৬ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলে আউট হন শারমিন। এর পর স্বর্ণা আক্তার ৪৮ বলে ৩৫ রান করে ফিরে যান। এরপর রিতু মনির ও রাবেয়া খানের দ্রুত আউট হওয়ায় চাপ আরও বাড়ে।

    শেষ ওভারে বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল ৫ রান। তবে মালকি মাদারা ও নিমাশা মীপাগের বল তুলে নেওয়া কঠিন করে তুলে লঙ্কান বোলাররা। শেষ পর্যন্ত সুলতানা খাতুন ও নাহিদা আক্তার অপরাজিত থাকায় বাংলাদেশ ট্রাইটন্য গোল গোল করে লক্ষ্য পূরণ করে এবং ম্যাচ জিতে নেয়। নাহিদা ৭ বলে ৩ রান করেন, আর সুলতানা ১ রানে অপরাজিত থাকেন। শ্রীলঙ্কার হয়ে দেওমি ভিহঙ্গ ৩ উইকেট নেন, মালকি মাদারা ২টি, এবং নিমাশা মীপাগে ও ইনোকা রানাবীরা ১টি করে উইকেট লাভ করেন।

  • তানজিদ-শান্তের ফিফটিতে বাংলাদেশ ফিরল সমতায়

    তানজিদ-শান্তের ফিফটিতে বাংলাদেশ ফিরল সমতায়

    তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশ ২৬ রানে হেরেছিল নিউজিল্যান্ডের কাছে। এই হার যেন সিরিজের খেলা থেকে 영역 হারানোর মতো ছিল। তাই দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ই ছিল স্বাগতিক দলের জন্য একমাত্র মানে, যাতে সিরিজের সমতা ফিরে আসে। মিরপুরের মাঠে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা দুর্দান্ত মনোভাব 보여 দিয়ে কোনো ভুল করেননি। বাংলাদেশের পরিশ্রম আর অধ্যাবসায়ের ফলস্বরূপ তারা নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকে্যাটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফিরিয়েছে।

    প্রথমে ব্যাট করে নিউজিল্যান্ডের ইনিংস খুব טוב শুরু করতে পারেনি। তারা সব মিলিয়ে ১৯৮ রানে অলআউট হয়। বাংলাদেশের জন্য এই লক্ষ্য সহজ ছিল। এর জবাবে শুরুতেই বাংলদেশের ব্যাটসম্যানরা দৃঢ়তার সাথে খেলেছেন। ৮৭ বল আর ৬ উইকেট হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ।

    ১৯৯ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামেন সাইফ হাসান। প্রথম বলেই চার হাঁকান তিনি, আর একই ওভারে আরও একটি চার মারেন। কিন্তু তার ঝলক দেখানোর পরই চতুর্থ বলেই আউট হয়ে যান। এরপর সৌম্য সরকার ক্রিজে আসেন। প্রথম বলেই দুই রান নিয়ে শুরু করেন। কিছু সময় ধরে ধীরস্থির খেলা শুরু করেন তিনি। কিন্তু চতুর্থ ওভারের দ্বিতীয় বলের অসাধারণ হাঁকানো ছক্কা দিয়ে শুরু করেন দ্রুত রান সংগ্রহ। তবে শেষ ওভারে ফক্সক্রফটের হাতে ক্যাচ দিয়ে তিনি আউট হন ১১ বলে ৮ রান করে।

    তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে নাজমুল হোসেন শান্ত আসায় দলীয় স্কোর বড় করতে শুরু করেন। তার সহযোগিতায় তানজিদ হাসান তামিম জুটি গড়ে ১২০ রান তুলেন। এই জুটির ওপর ভর করে জয়ের ভিত্তি নির্মিত হয়। শান্ত ৭১ বলে ৫০ রান করে আউট হন, তিনি চারটি চার ও একটি ছক্কা মারেন। অন্যদিকে, তানজিদ হাসান ফিফটির কাছাকাছি পৌঁছে ৭৬ রান করে আউট হন। তিনি ৫৮ বল খেলে চারটি চার ও চারটি ছক্কা মারেন। শান্ত অবশ্য আউট হননি। নিজের শেষ ইনিংসটি রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন।

    অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ডের শুরুটা হতাশাজনক ছিল। টস জিতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত তারা নিয়েছিল, কিন্তু বাংলাদেশের শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের কাছে খুব দ্রুতই বিপদে পড়েন। পাওয়ার প্লের ১০ ওভারে তারা ২৮ রানে ২ উইকেট হারায়। দুই উইকেটই নাহিদ হাসান নিয়েছেন—the প্রথমে হেনরির LBW, পরের বলে উইল ইয়াংয়ের ক্যাচ। এরপর অধিনায়ক টম লাথামকেও সৌম্য সরকারের ক্যাচে ফেরান নাহিদ।

    নিউজিল্যান্ডের ওপেনার নিক কেলি ৫৬ রানে আউট হওয়ার আগে ৫১ বলে ১৪ চারসহ ১০২ রান করেন। মুহাম্মদ আব্বাসের ইনিংসটি ১৯ রানে শেষ হয়, তাকে ক্যাচ আউট করেন লিটন দাস। এরপর, ৫২ রানে ৩ উইকেট পড়ার পর নিক কেলি ও জশ ক্লার্কসন মিলে জুটি গড়েন। কেলি ১০২ বল খেলে ১৪ চার ও ১ ছক্কায় ১০২ রান করেন। কিন্তু এরপর দ্রুতই তাদের উইকেট ঝরে পড়ে। শরিফুল ইসলাম তাকে ৮৩ রানে আউট করেন।

    নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং ভেঙে পড়ার পরপরই বাংলাদেশি বোলাররা ধারাবাহিকভাবে উইকেট তুলতে থাকেন। রিশাদ হোসেন জশ ক্লার্কসনকে আউট করেন, এরপর ডিন ফক্সক্রফটের ১৫ রান তুথিয়াদে তাঁকে ফিরিয়ে দেন। ব্লেয়ার টিকনারের ক্যাচও ধরেন শরিফুল। নিজের শেষ ওভারে নাহিদ পঞ্চম উইকেটটি নেন। জেইডেন লেনক্স বোল্ড হয়ে যান ইয়র্কারে। এই পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের ৯ উইকেট নেন নাহিদ, কিন্তু ১৮৩ রানে অলআউট হন তারা।

    তাদের প্রথম ইনিংসের মতোই অপেক্ষায় ছিল বাংলাদেশের পাল্টা জবাব। শেষ পর্যন্ত, বাংলাদেশের বোলাররা সমানতালে লড়াই চালিয়ে যান। দুর্দান্ত এই জয় নিশ্চিত করে দলটি বর্তমানে সিরিজে সমতা প্রতিষ্ঠা করেছে। এই ম্যাচের পর সিরিজটি এখন তিনটি করে ম্যাচে সমান। আগামী ম্যাচের জন্য বাংলাদেশ নিজের প্রস্তুতিও অনেকটাই বেড়ে গেছে।

  • অনূর্ধ্ব-১৪ জাতীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত

    অনূর্ধ্ব-১৪ জাতীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত

    খুলনায় ইয়ং টাইগার্স অনূর্ধ্ব-১৪ জাতীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৫-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে সম্পন্ন হয়েছে। এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা প্রশাসক ও খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার আহবায়ক হুরে জান্নাত, যিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে ছিলেন জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মোঃ আলীমুজ্জামান, যিনি খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব।

  • জুনেই অনুষ্ঠিত হবে বিসিবির নির্বাচন: তামিম

    জুনেই অনুষ্ঠিত হবে বিসিবির নির্বাচন: তামিম

    সাবেক বাংলাদেশ অধিনায়ক তামিম ইকবাল এখন শুধু মাঠের ক্রিকেটারই নন, বরং তিনি দেশের ক্রিকেটের প্রশাসনিক দায়িত্বও বহন করছেন। সোমবার বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ম্যাচের সময় প্রেসবক্সে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, আগামী জুনের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তামিম জানান, তারা চান, অ্যাডহক কমিটির তিন মাসের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন নির্বাচন আয়োজন করতে। এর মাধ্যমে বোর্ডের কার্যক্রমে কোনও ব্যাঘাত না হয়, সেটাই তাদের মূল লক্ষ্য।

    গত ৭ এপ্রিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে ১১ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করে। এই কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান তামিম ইকবাল। ওই দিনই জানানো হয়, তিন মাসের মধ্যে নতুন নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।

    অগাস্টে, অর্থাৎ গত বছরের অক্টোবরে, বিসিবির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তখন তামিম নেতৃত্বাধীন একটি প্যানেল পরিচালকের পদে মনোনয়ন পান, কিন্তু পরে তারা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায়। এখন অ্যাডহক কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে তিনি সরাসরি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

    অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ সীমিত হওয়ায়, তামিম ও তার টিম চান মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এক স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও দীর্ঘস্থায়ী পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হোক। এর ফলে বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রশাসনিক স্থিরতা আবার ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • জ্বালানি সংকট নিয়ে সংসদে উত্তপ্ত আলোচনা

    জ্বালানি সংকট নিয়ে সংসদে উত্তপ্ত আলোচনা

    বাংলাদেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট নিয়ে জাতীয় সংসদে উত্তপ্ত বিতর্ক ও আলোচনা চলেছে। সংসদ অধিবেশন মুলতবি রেখে এই मुद्दায় আলোচনা করার প্রস্তাব করেছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। তবে স্পিকার এই প্রস্তাব গ্রহণ না করে, বিকল্প বিধিতে আলোচনা চালানোর জন্য নির্দেশ দেন। সোমবারের অধিবেশনে বিরোধীদলের নেতা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্পিকারের মধ্যে এই বিষয়ে তর্কবিরোধ হয়। তারা বিভিন্ন যুক্তি উপস্থাপন করেন। অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

    অধিবেশন মুলতবি করে আলোচনা করতে না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘জনগণ তাঁদের প্রয়োজনের জন্য আমাদের এখানে পাঠিয়েছে; আমাদের কাজ হলো তাদের হতাশ না করা। যদি আমরা এই প্রয়োজন পূরণ করতে না পারি, তবে এই সংসদে থাকার আর কোনো অর্থ থাকে না। আমাদের চেয়ারসংখা দিয়ে জনগণের ট্যাক্সের অর্থ ব্যয় করছি—এটা আমাদের দায়িত্ব।’

    জ্বালানি সংকট বিষয়ে সরকারের বিবৃতি ও কার্যক্রমের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘সরকার বলছে তেলের সংকট নেই, কিন্তু বাস্তব চিত্র আলাদা। মানুষ খুবই অসন্তুষ্ট। আমি নিজেও এই পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেছি। সংকট থাকায় হাইকোর্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতেও ভার্চুয়াল কোর্ট চালু হয়েছে’। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা কাউকে দোষারোপ করতে চাই না, বরং পরিস্থিতি সহজে সমাধানের জন্য অবদান রাখতে চাই। অনুগ্রহ করে এই নোটিশটি অপসারণ করুন এবং আলোচনার জন্য সূচি ঠিক করুন।’

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এর জবাবে বলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতা যে প্রস্তাবটি আনেন, তা অবশ্যই আলোচনা দাবি করে। তবে, সংসদীয় ইতিহাসে সাধারণত প্রস্তাব মুলতবি করা ট্রেজারী বেঞ্চের কাজ বাধাগ্রস্ত করতে ব্যবহৃত হয়। এই সেশনে দুইটি মুলতবি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যা খুবই বিরল। যদি আরো একটি হয়, তাহলে সেটি ভুল দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশের জ্বালানি তেল ও গ্যাসের কোনো সংকট নাই। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, মূল্যবৃদ্ধি সীমিত রাখা হয়েছে। তবে, যখন অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তখন অপচয় ও পাচার বন্ধে আমরা ধীরে ধীরে মূল্যবৃদ্ধি করেছি। তাই এই মুহূর্তে আলোচনার প্রয়োজন নেই। তবে, ৬৮ অনুযায়ী যদি বিরোধী দলীয় নেতা নোটিশ দেন, সেক্ষেত্রে এক ঘণ্টার আলোচনা সম্ভব।’

    বিরোধী দলের নেতা এটাই শুনে বলেন, ‘আপনি বলছেন, কোনো সংকট নেই। কিন্তু বাস্তবে যা দেখা যাচ্ছে, দেশের বাইরে এবং সংসদের বাইরে এই সংকট। এমনকি হাইকোর্টের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় ভেরচুয়াল কোর্টের মাধ্যমে জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমাদের সংসদে নয়, বাইরে এই সংকট। বাস্তবের চিত্র ভিন্ন, এবং সেটাই উদ্বেগজনক।’

    দ্বিপক্ষের বক্তব্য শুনে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘আলোচকরা আলোচনা চালিয়ে যেতে চান। তবে সংসদ মুলতবি না করাই সমীচিন। ইতিমধ্যে প্রায় আধাঘণ্টার আলোচনা হয়েছে। তাই আমরা ৬৮ অনুসারে সাধারণ আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত নিই, যা এক ঘণ্টার বেশি হতে পারে না।’

    পরবর্তীতে, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সংসদ নেতার (প্রধানমন্ত্রী) উপস্থিতিতে এই আলোচনার দাবি জানান। স্পিকার তাকে ৬৮ বিধিতে নতুন করে নোটিশ দেওয়ার পরামর্শ দেন এবং আলোচনা উৎসাহিত করতে আশ্বাস দেন।

  • টিুনের নেতৃত্বে বদলে যাচ্ছে নেপাল, নতুন আশা জেগে উঠছে বিশ্বজুড়ে

    টিুনের নেতৃত্বে বদলে যাচ্ছে নেপাল, নতুন আশা জেগে উঠছে বিশ্বজুড়ে

    গত সেপ্টেম্বরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে গণআন্দোলন ও তরুণ প্রজন্মের জাগরণের মধ্যে দিয়ে বদলে গেছে নেপালের রাজনৈতিক চিত্র। ২৮ বছর বয়সী বাবলু গুপ্তা তখন এক রক্তক্ষুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই নেপালের পার্লামেন্ট থেকে লাশ টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন, আর নিরাপত্তা বাহিনী তখন বিক্ষোভকারীদের দমন-পীড়ন চালাচ্ছিল। এই অভ্যুত্থানে সরকারের উৎখাত এবং জাতীয় প্রতিরোধের ঘটনা ঘটলেও, এই চেতনা ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছিল নতুন আশা নিয়ে। বাবলু গুপ্তা ও তার সহযোগীরা পার্লামেন্টে তার প্রার্থিতাকে সমর্থন জানাতে গ্রামবাসীর সঙ্গে একত্রিত হন, প্রাচীন রাজনীতি ও অপরাধের বিরুদ্ধের এই আন্দোলন দু’মাস আগে শুরু হয়েছিল। মার্চ মাসের নির্বাচনের ঠিক আগে, জনতা বাবলুর মুখে আবির মাখিয়ে তাকে উৎসাহিত করে, তার মুখের রঙ প্রথমে সবুজ, পরে বেগুনি, হলুদ ও শেষে লাল হয়ে উঠল। এই বীর যুব নেতা জয়লাভ করেন, এবং তার সঙ্গে আরও অনেক তরুণ বিপ্লবীও জয়ের হাসি হাসেন। নির্বাচনে যুবনেতাদের নেতৃত্বে তৈরি যুব-চালিত রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) ব্যাপক সাফল্য অর্জন করে। নেপালের বর্তমান সংসদে প্রায় ১০ শতাংশ সদস্যই এখন ৩০ বা তার নিচে, যেখানে আগে এই হার ছিল খুবই নগণ্য। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পরিবর্তনের জন্য আগ্রহ এসেছে, কারণ তারা দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, সমাজের উচ্চবিত্তের বিলাসবহুল জীবনযাত্রা ও সরকারের সামাজিক মাধ্যমে চাপ দেওয়ার নীতির বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ। বাবলু গুপ্তা বলছেন, “আমরা একেবারে মরিয়া হয়ে উঠেছিলাম। শুধু আমাদের দেশই নয়, পুরো বিশ্বে তরুণ প্রজন্ম এমনই ছিল।” তার নেতৃত্বে, সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া জেন-জি বিক্ষোভের সরাসরি ফলাফল হলো জাতির ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। এই জাগরণের মধ্যে শত শত মানুষ সত্তরোর্ধ্ব প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে এসেছিলেন। ওই আন্দোলনে প্রাণহানি ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছিল, তবে এই বিপ্লবের ধুলিকণায় আশার সূর্য আবার উদয় হয়। বিপ্লবের পর গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বাবলু গুপ্তা, যিনি বলেছেন, “গত বছর ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো আমাদের মানসিকভাবে আঘাত করেছিল, কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, এই ক্ষত গুলিকে আসামী করে আরও সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবো।” তরুণ প্রজন্মের অবিচ্ছিন্ন আন্দোলন বিশ্বজুড়ে জেগে উঠেছে। ইন্দোনেশিয়া, পেরু, টোগো, মরক্কো, কেনিয়া ও ফিলিপাইনের মতো দেশে তরুণেরা আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। বাংলাদেশও ২০২৪ সালে সফল জেন-জি বিদ্রোহের সাক্ষী, যেখানে ভোটাররা এককভাবে প্রতিষ্ঠিত দলকেই পছন্দ করেছে, তবে এই পরিবর্তন এখনও শাশ্বত নয়। নেপাল অবশ্য ১৮ বছর আগেই রাজতন্ত্রে শেষ কথা বলে দিয়েছে, একুশ বছর আগে মাওবাদী বিদ্রোহ দমনকল্পে বর্বর সংগ্রাম চালিয়েছে। দেশটি এখনো বারবার নতুন অনুপ্রেরণার খোঁজে এগিয়ে যাচ্ছে। ২৭ মার্চ, ৩৫ বছর বয়সী র‌্যাপার ও সাবেক কেন্দ্রীয় শুভেচ্ছা নেপালের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন, তিনি জনপ্রিয় সরকারপ্রধানের মধ্যে অন্যতম, যিনি তরুণ প্রজন্মের আশা-আকাঙ্ক্ষা প্রতিনিধিত্ব করেন। নতুন সরকারের প্রথম দিনগুলোতে, ওলির সহকারীরা যে অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন, তারা আবার মুক্তি পান। রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের অভিযোগ তদন্ত চলছে। তরুণ সংগঠক সুদান গুরুং বলেন, “এখন দেশ এক নতুন পথে চলতে শুরু করেছে।” তবে, এই পরিবর্তনের স্থায়িত্ব নিয়ে আশঙ্কাও রয়ে গেছে, কারণ অতীতে যতবারই পরিবর্তনের আশার আলো দেখানো হয়েছে, ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলের গড়া শক্ত গণ্ডি তাদের পুনরায় ক্ষমতায় ফিরিয়ে নেয়। পার্লামেন্টের অনেক তরুণ নেতা বলছেন, পরিবর্তন একদিনই আসবে, কিন্তু এটা টেকসই করতে হলে, আমাদের সত্যিকারের সুশাসন ও দলগত কাজের ওপর জোর দিতে হবে। এর মধ্যে নবীন নেতৃত্বের উত্থান ঘটছে, যেমন ৩০ বছর বয়সী রঞ্জু দর্শনা, যিনি নির্বাচনী প্রচারণার শেষ প্রান্তে তার প্রথম সন্তানের জন্মের কারণে উপস্থিত থাকতে পারেননি, তবে তার বিজয় ছাপিয়ে গেছে। তিনি আসেন তরুণদের জন্য ও তাদের স্বপ্নের জন্য, বলছেন, “আমরা এই পরিবর্তনকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।” ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত ইসলামি দলটি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যক্রম চালাচ্ছে। দেশের বাইরে কর্মরত তরুণরা তাদের স্বপ্ন দেখছে উন্নত, সমতাভিত্তিক সমাজের। সেই সঙ্গে, নতুন নেতৃত্বের ঘোষণা দিলেন, বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি—১২ লাখ নতুন চাকরি, universal health coverage, এবং সম্পূর্ণ ডিজিটাল নেপাল। তবে, এই দুর্দশাগ্রস্ত দেশেও, বেশির ভাগ অভিবাসী কর্মী আবার ফিরে আসার স্বপ্ন দেখছে, কারণ তারা জানে, স্বপ্নের নেপালের জন্য কঠোর সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। সার্বিকভাবে, নেপাল ইতিমধ্যে বদলাচ্ছে, কিংবা বলাই যায়, অনেকটাই বদলে গেছে। তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই পরিবর্তন হয়তো দীর্ঘদিনের উপকারে আসবে, এমনটাই আশা ব্যক্ত করছে বিশ্লেষকরা। ইতিহাসের বাঁকে, এই দেশ আবারো দেখিয়েছে যে মূলত বদলো অপ্রত্যাশিত পথে আসে, আর যে আন্দোলন শুরু হয়, তার ফলে উদীয়মান হয় নতুন স্বপ্ন এবং নতুন ভবিষ্যৎ।

  • ইরানের ইউরেনিয়াম পুনরুদ্ধারে ট্রাম্পের মন্তব্য: দীর্ঘ ও কঠিন প্রক্রিয়া দরকার

    ইরানের ইউরেনিয়াম পুনরুদ্ধারে ট্রাম্পের মন্তব্য: দীর্ঘ ও কঠিন প্রক্রিয়া দরকার

    ইরানের ইউরেনিয়াম পুনরুদ্ধার করতে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি দীর্ঘ ও কঠিন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে বলে মনে করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এই মন্তব্য করেন সেই সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অভিযান ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর প্রসঙ্গে। ২০২৫ সালের জুন মাসে ইরানের বিরুদ্ধে চালানো এই অপারেশনের মাধ্যমে নিউক্লিয়ার ডাস্ট বা ইউরেনিয়াম সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল। এই ধ্বংসযজ্ঞের ফলে এখন এই ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলি থেকে ইউরেনিয়াম পুনরুদ্ধার করা একদমই সহজ নয়, সেটি খুবই জটিল, দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া। গতকাল সোমবার তিনি হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের কাছে এ কথা বলেন।

    ট্রাম্প বলেন, ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ চালানোর সময়ই ইরানের বিভিন্ন নিউক্লিয়ার স্থাপনাগুলোকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়। তাই এখন এই ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থাপনাগুলো থেকে ইউরেনিয়াম খুঁজে বের করা বা পুনরুদ্ধার করা খুবই কঠিন, কারণ সেটি দীর্ঘ ও কঠিন প্রক্রিয়া।’

    এদিকে, ২০২৫ সালের ৬ জুন জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইএইএ একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানিয়ে ছিল, ইরানের কাছে কয়েকশ কেজি উচ্চ পরিশোধিত (৬০ শতাংশ এনরিচড) ইউরেনিয়াম রয়েছে। যদি এই পরিশোধনের মান ৯০ শতাংশে উন্নীত করা হয়, তাহলে ইরান একের পর এক পারমাণু বোমা বানানোর ক্ষমতা অর্জন করতে পারে।

    আইএইএ-র এই তথ্যের কয়েক দিন পর ইসরায়েল ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলোর ওপর ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে আঘাত করে। এর কিছু দিন পরে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ শুরু হয়। এই দু’টি অপারেশন ১২ দিন ধরে চলতে থাকায় ইরানের পরমাণু প্রকল্পের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে ধ্বংস করে দেন। তবে, এই অভিযানের ফলে ইরানের পরমাণু মজুতের ওপর প্রভাব পড়েনি।

    পূর্ববর্তী সময়ে, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এক সঙ্গে ইরানে সামরিক অভিযান চালিয়েছিল, যার মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের ইউরেনিয়াম সংগ্রহ ও হস্তগত করা। এই সব কর্মকাণ্ডের সূত্রপাত ছিল বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে।

  • পাকিস্তানের সতর্কতা: ট্রাম্পকে ইরান বিষয়ে শান্ত থাকার আহ্বান

    পাকিস্তানের সতর্কতা: ট্রাম্পকে ইরান বিষয়ে শান্ত থাকার আহ্বান

    শিগগিরই ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই বৈঠকের নির্দিষ্ট সময় এখনো নিশ্চিত নয়। এর আগে পরিস্থিতি সামাল দিতে পাকিস্তান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জনসমক্ষে রাজনীতির ভাষা বা কঠোর মন্তব্য থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করেছে। এই বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে, যেখানে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদের তরফ থেকে ট্রাম্পের কাছে এ বার্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    পাকিস্তান এই উদ্যোগে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। তারা আশা করছে, এই মোড়লে ইরানের সঙ্গে আলোচনাকে সফল করতে পারবে। এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ‘আমরা ইরানের থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি। পরিস্থিতি আলোর পথে এগোচ্ছে, এবং আমরা বিশ্বাস করি, আগামীকাল বা পরদিনই ইরানি প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেবে।’ তিনি আরও জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই তাহরান ও ওয়াশিংটন সরাসরি যোগাযোগ রাখতে সক্ষম হয়েছে।

    অপর দিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি আলোচনায় তাড়াহুড়ো করবেন না। তবে একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন দ্রুত একটি চুক্তি হবে, যা ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত জেসিপিওএ চুক্তির চেয়েও উন্নত হবে। ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, ইরান প্রতিদিন প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতির মুখে পড়ছে কারণ মার্কিন অবরোধ কার্যকর রয়েছে। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেছেন, ইরানকে অবশ্যই পারমাণবিক অস্ত্রের সক্ষমতা থেকে সরে আসতে হবে, অন্যথায় কঠোরভাবেই নজরদারি চালানো হবে। ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, চুক্তি না হলে পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে আবার যুদ্ধ শুরু হতে পারে।

    অন্যদিকে, তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার ছাড়া কোনও আলোচনা করবে না। এই বিষয়ে তারা বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধপূর্ণ ও অবৈধ আচরণ কূটনীতির জন্য বিরূপ এবং কূটনৈতিক আলোচনাকে ব্যাহত করছে। তারই আলোকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পাকিস্তান ও রাশিয়ার সঙ্গে ফোনালাপে এই আহ্বান জানান।

  • কোরআন পোড়ানো ও চরমপন্থী হিসেবে পরিচিত ভ্যালেন্টিনা গোমেজের যুক্তরাজ্যে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

    কোরআন পোড়ানো ও চরমপন্থী হিসেবে পরিচিত ভ্যালেন্টিনা গোমেজের যুক্তরাজ্যে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

    ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্য ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার কঠোর বিরোধিতার মুখে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ ভ্যালেন্টিনা গোমেজকে দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সোমবার এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

    দৈনিক দা ইন্ডিপেনডেন্টের রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামী ১৬ মে লন্ডনের ট্রাফালগার স্কয়ারে কট্টর ডানপন্থী নেতা টমি রবিনসনের (আসল নাম স্টিফেন ইয়াক্সলি-লেনন) উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘ইউনাইট দি কিংডম’ র‌্যালিতে বক্তব্য দেওয়ার জন্য গোমেজের আমন্ত্রণ ছিল। তবে এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটার (অ্যাক্সে) গোমেজ দাবি করেছিলেন যে তিনি যুক্তরাজ্যের ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথোরাইজেশন (ইটিএ) পেয়েছেন। তবে ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তার উপস্থিতি ‘জনস্বার্থের জন্য ক্ষতিকর’ হওয়ায় তাকে প্রবেশাধিকার দেওয়া হচ্ছে না।

    সরকারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, গণতান্ত্রিক মতপ্রকাশের অজুহাতে ঘৃণা ও চরমপন্থা ছড়িয়ে দেয়া মানা। এরই অংশ হিসেবে চলতি মাসের শুরুতে জনপ্রিয় মার্কিন র‌্যাপার কেনি ওয়েস্টকে (বর্তমানে ‘ইয়ে’ নামে পরিচিত) যুক্তরাজ্যে প্রবেশে বাধা দেয়া হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষী মন্তব্য ও নাৎসি প্রতীক ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

    ২৬ বছর বয়সী গোমেজ, যিনি মার্কিন মিজৌরি অঙ্গরাজ্যের সেক্রেটারি অব স্টেট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ব্যর্থ হয়েছেন, তিনি মুসলমানদের বিরুদ্ধে açıkভাবে বিদ্বেষমূলক কার্যকলাপের জন্য পরিচিত। তিনি পবিত্র কোরআনে আগুন দেওয়ার ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন এবং ক্ষমতা পেলে টেক্সাস থেকে মুসলিমদের নির্মূলের শপথ নেন। এক ভিডিওতে তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা যদি চিরতরে ইসলাম প্রচার বন্ধ না করি, তবে আপনার কন্যারা ধর্ষিত হবে এবং ছেলেরা শিরচ্ছেদ হবে।’ এছাড়াও মুসলিমদের উদ্দেশ্যে অপমানজনক মন্তব্য করে তাদেরকে বিশ্বের ৫৭টি মুসলিম রাষ্ট্রে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

    ১৬ মে তার জন্যে নির্ধারিত র‌্যালিতে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই ব্রিটিশ চ্যারিটি ‘সেন্টারপয়েন্ট’ গৃহহীনদের জন্য কাজরত সংস্থা, শ্যারন ওসবোর্নের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করে। ১৭ এপ্রিলে এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, এই ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড তাদের মূল্যবোধের পরিপন্থী এবং ভবিষ্যতে শ্যারনের সঙ্গে কাজ করার তাদের কোনও পরিকল্পনা নেই।

    গত বছরের সেপ্টেম্বরের ঐ র‌্যালিতে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নেন। সেখানে গোমেজ ভিডিওর মাধ্যমে বক্তব্য দেন। এই অনুষ্ঠানে বিশ্ববিখ্যাত ইলন মাস্কও দূর থেকে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দিয়েছিলেন, যা নিয়ে ব্রিটিশ সরকার কঠোর সমালোচনা করে।

  • হামের প্রাদুর্ভাব ও টিকাদানে সতর্কতা: খুলনা সিটি কর্পোরেশনের আবেগপূর্ণ প্রতিবেদন

    হামের প্রাদুর্ভাব ও টিকাদানে সতর্কতা: খুলনা সিটি কর্পোরেশনের আবেগপূর্ণ প্রতিবেদন

    খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু জানিয়েছেন, হামের প্রাদুর্ভাবের কারণে ইতোমধ্যে বহু শিশু ঝরে পড়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে শিশুদের হামের টিকা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। আজ থেকে শুরু হয়েছে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের প্রথম দিন, যেখানে সবাইকে বিশেষ করে মহিলাদের বেশি সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে। হামের মতো ভাইরাসজনিত রোগের ভয়াবহতা মোকাবেলা করতে হলে উন্নত মানের টিকাদান কর্মসূচি প্রয়োজন। জনসাধারণকে অনুরোধ জানানো হয়েছে, শিশুদের টিকা কেন্দ্রে আনার জন্য মহিলাদের আরও যত্নবান হতে। সরকারি এই উদ্যোগের সফলতা নির্ভর করছে সকল নাগরিকের সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতার ওপর, যাতে ভয়ঙ্কর এই রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। অনুষ্ঠানে তিনি এতদিনের কার্যক্রমের উদ্বোধন করে স্বাগত জানান।

    খুলনা সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের আয়োজনকৃত এই টিকাদান কর্মসূচি আজ ২২ নম্বর ওয়ার্ডে কাস্টমঘাট আমিরাবানু বেগম নগর মাতৃসদনে উদ্বোধন করা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, হামের মতো ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে টিকার গুরুত্ব খুবই বেশি। এর পূর্বে বক্তব্যে জানানো হয় যে, কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক মোঃ আরিফুল ইসলাম, কেএমপির উপ-কমিশনার (অপারেশন) আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, সিভিল সার্জন ডাঃ মোছাঃ মাহফুজা খানম, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাঃ সুজাত আহমেদ, খুলনা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ রফিকুল ইসলাম ও অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং স্বেচ্ছাসেবক।

    এ কর্মসূচির আওতায় ২০ মে পর্যন্ত চলবে মহানগরীর বিভিন্ন টিকাদান কেন্দ্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই ক্যাম্পেইনের কার্যক্রম চলবে। পুরো নগরীকে ৩১টি ওয়ার্ডে বিভক্ত করে ৪টি জোনে স্থাপন করা হয়েছে মোট ৩৫৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ২৫৬টি টিকা কেন্দ্র, যেখানে ৬২ জন সুপারভাইজার, ১৪৪ জন টিকাদান কর্মী এবং ২০৬ জন স্বেচ্ছাসেবী নিয়োজিত থাক Artem। লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী ৯৩,৭৮৮ শিশুকে এক ডোজ হাম-রুবেলা টিকা দেওয়ার।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এই ৩১ ওয়ার্ডের মধ্যে স্কুল ও কমিউনিটি শিশু মিলিয়ে লক্ষ্যমাত্রার সংখ্যা সেই ৯৩ হাজার ৭৮৮ জন, যার মধ্যে স্কুল শিশুর সংখ্যা রয়েছে ১৩,৩৮৮ এবং কমিউনিটি শিশুর ৮০,৪০৪ জন। এই প্রচেষ্টা সফল করার জন্য সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ও সচেতনতার প্রয়োজন।