Category: রাজনীতি

  • স্বাধীনতা দিবসে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা: ‘নৈতিক দায়িত্ব পালন করতে এসেছি’, বললেন জামায়াত আমির

    স্বাধীনতা দিবসে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা: ‘নৈতিক দায়িত্ব পালন করতে এসেছি’, বললেন জামায়াত আমির

    মহান স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তারা এখানে এসেছে নৈতিক দায়িত্ব পালন করতে। তিনি বলেন, এটা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ উৎসব—সবার মতো তাদেরও শ্রদ্ধা জানানো উচিত ছিল।

    বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মোনাজাতে অংশ নিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের জন্য দোয়া করার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

    জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘‘আমরা বীর শহীদদের মর্যাদা রক্ষায় আল্লাহর দরবারে দোয়া করেছি। দেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও জনজীবনে শান্তি-বিশ্রাম ও রহমত বর্ষিত হোক—এই প্রত্যাশা নিয়েই দোয়া করেছি।’’

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তারা একটি অহিংস, দুর্নীতিমুক্ত ও বৈষম্যহীন মানবিক বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি সাধারণ মানুষকে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

    এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান এমপি, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কামাল হোসেন এমপি।

  • গণরায়ের বিরুদ্ধে গেলে জনগণই তাদের প্রত্যাখ্যান করবে: আসিফ মাহমুদ

    গণরায়ের বিরুদ্ধে গেলে জনগণই তাদের প্রত্যাখ্যান করবে: আসিফ মাহমুদ

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, যদি সরকার গণরায়কে উপেক্ষা করে সামনে এগোতে চায় তাহলে জনগণ তা মেনে নেবে না এবং একে ইতিহাসও প্রত্যাখ্যান করবে। তিনি এই মন্তব্য করেন বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) স্বাধীনতা দিবসে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়।

    আসিফ মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে শক্তিশালী অনেক সরকার গঠন করেছেন, কিন্তু যারা কখনোই গণরায়ের বিরুদ্ধে গিয়েছেন তারা ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে গেছেন। ‘‘আপনারা দেখেছেন, যারা গণরায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে—they শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে নাই,’’ তিনি যুক্ত করেন।

    তিনি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জনগণের রায় পাওয়া সত্ত্বেও ক্ষমতা হস্তান্তর না করাই ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধের প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিল। একইভাবে ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন শেষ পর্যন্ত পরিবর্তন এনেছিল। এরপরও দীর্ঘ ১৭ বছরের দমনপীড়নের পর জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে শাসন কায়েমের যে চেষ্টা হয়েছিল, সেটাও জনগণের বিক্ষোভের মুখে টিকেনি, যোগ করেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের এই উপদেষ্টা।

    তিনি আরও বলেন, ‘‘এখনও যদি গণরায় ও গণভোটের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করা হয় এবং তা উপেক্ষা করে সরকার এগিয়ে যেতে চায়, তাহলে জনগণ তা মেনে নেবে না।’’

    গণভোটে বিপুলসংখ্যক মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘‘আমরা বলি, এত রক্তের বিনিময়ে যে সংস্কার এবং নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন আমাদের শহীদদের পরিবার, বাবা-মা ও আহত সহযোদ্ধারা দেখেছে—সেগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। যদি এই জনরায় বাস্তবায়ন না করা হয়, তাহলে যাঁরা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলেছেন—দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ—তাঁরা রাস্তায় নামতে দ্বিতীয়বার ভাববে না।’’

    তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে দেশের ভবিষ্যত গঠন করার জন্য সবাইকে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাবেন এবং সতর্ক করে বলেন, ‘‘আপনারা জনগণের বিপক্ষে গেলে আমাদের আবার স্বাধীনতা রক্ষার জন্য মাঠে নামতেই হতে পারে।’’

  • স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা: ‘নৈতিক দায়িত্ব পালন করতে এসেছি’—জামায়াত আমির

    স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা: ‘নৈতিক দায়িত্ব পালন করতে এসেছি’—জামায়াত আমির

    মহান স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘‘আমরা একটা নৈতিক দায়িত্ব পালন করতে এসেছি।’’ তিনি বলেন, এটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আচার-অনুষ্ঠানের অংশ; সবার মতো তারা ও শ্রদ্ধা জানানোর জন্য এসেছিলেন।

    বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের মোনাজাত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।

    জামায়াত আমির আরও জানান, তারা বীর শহীদদের জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করেছেন। দেশের সার্বভৌমতা ও স্বাধীনতা অটুট রাখার, এবং দেশভর যেন শান্তি ও রহমত বর্ষিত হয়—এসব কামনায় তারা দোয়া করেছেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘‘আমরা সবাই মিলে একটি অহিংস, দুর্নীতিমুক্ত ও বৈষম্যহীন মানবিক বাংলাদেশ গঠন করতে চাই।’’ তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে সারাদেশবাসীকে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের শুভেচ্ছাও জানান।

    এই সময় জামায়াতের অন্যান্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন: নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান এমপি, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কামাল হোসেন এমপি।

  • গণরায়ের বিরুদ্ধে গেলে জনগণই তাদের প্রত্যাখ্যান করবে: আসিফ মাহমুদ

    গণরায়ের বিরুদ্ধে গেলে জনগণই তাদের প্রত্যাখ্যান করবে: আসিফ মাহমুদ

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, গণরায়কে উপেক্ষা করে সরকার এগোতে চাইলে জনগণ তা মেনে নেবে না এবং গতকালই তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। তিনি এই কথা বলেন বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) স্বাধীনতা দিবসে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে।

    আসিফ মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসই শিক্ষণীয় উদাহরণ — বহু শক্তিশালী শাসক ও সরকার بوده, কিন্তু যখন তারা জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে গিয়েছে, তারা শেষ পর্যন্ত ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে গেছে। তিনি মনে করিয়ে দিলেন, জনভবিষ্যৎকে উপেক্ষা করলেই শাসন স্থায়ী থাকে না।

    তিনি ১৯৭০ সালের নির্বাচনের পরও ক্ষমতা হস্তান্তর না করায় ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধের উদ্ভবের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। একইভাবে ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার বিরোধী গণআন্দোলন শেষ পর্যন্ত পরিবর্তন এনেছিল। দীর্ঘ ১৭ বছরের দমন-পীড়নের পরেও যদি জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে শাসন কায়েমের চেষ্টা করা হয়, শেষ পর্যন্ত সেই প্রচেষ্টা জনগণের শক্তির সামনে পিছু হটতেই বাধ্য হবে—এমনটাই তাঁর আশা ও সতর্কতা।

    আসিফ আরও বলেন, এখনও যদি গণরায় ও সম্প্রতি নেয়া গণভোটের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করা হয় এবং তা উপেক্ষা করে সরকার সামনে এগোতে চায়, তাহলে জনগণ তা মেনে নেবে না। তিনি উল্লেখ করেন যে গণভোটে বিপুলসংখ্যক মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন এবং সেই ভোটের মানে ও ঐতিহাসিক ত্যাগকে অগ্রাহ্য করা যাবে না।

    তিনি বলেন, ‘‘এতো রক্তের বিনিময়ে যে সংস্কার ও নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন আমাদের শহীদদের পরিবার, বাবা-মা ও আহত সহযোদ্ধারা দেখেছেন, সেটা বাস্তবায়ন করতে হবে। যদি এই জনরায় বাস্তবায়ন না করা হয়, তাহলে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ যারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জানিয়েছেন, তারা রাস্তায় নামতে দ্বিতীয়বার ভাববে না।’’

    শেষে তিনি সকলকে জনগণের পাশে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘‘আমরা সবাই মিলে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে চাই। যদি জনগণের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়, আমাদেরকে স্বাধীনতা রক্ষার জন্য আবার মাঠে নামতেই হতে পারে।’’

  • স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা: ‘নৈতিক দায়িত্ব পালন করতে এসেছি’—জামায়াত আমির

    স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা: ‘নৈতিক দায়িত্ব পালন করতে এসেছি’—জামায়াত আমির

    মহান স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা এখানে একটি নৈতিক দায়িত্ব পালন করতে এসেছি। এটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আচার; সবার মতো আমরা ও শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি।

    বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের জন্য মোনাজাত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

    জামায়াত আমির বলেন, বীর শহীদদের উদ্দেশে আল্লাহর দরবারে আমরা দোয়া করেছি। দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা অটল রাখতে, এবং দেশের উপর আল্লাহর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক—এসব উদ্দেশ্যেই আমাদের দোয়া ছিল।

    তিনি আরও বলেন, ‘‘একটি অহিংস, দুর্নীতিমুক্ত ও বৈষম্যহীন মানবিক বাংলাদেশ গড়তে আমরা সবাই মিলে কাজ করব।’’ পাশাপাশি তিনি সারাদেশবাসীকে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের শুভেচ্ছাও জানান।

    এই সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামের নায়েবে আমির এমপি এটিএম আজহারুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান এমপি, নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কামাল হোসেন এমপি।

  • গণরায়ের বিরোধিতা করলে জনগণই তাদের প্রত্যাখ্যান করবে: আসিফ মাহমুদ

    গণরায়ের বিরোধিতা করলে জনগণই তাদের প্রত্যাখ্যান করবে: আসিফ মাহমুদ

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, গণরায়কে উপেক্ষা করে সরকার যদি সামনের দিকে এগোতে চায়, জনগণ তা মেনে নেবে না এবং শেষ পর্যন্ত ইতিহাস তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। তিনি এই মন্তব্য করেন বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) স্বাধীনতা দিবসে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়।

    আসিফ মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসই এটা প্রমাণ করে—যে কেউ গণরায়ের বিরুদ্ধে গিয়েছে, তিনি ইতিহাসের পাতায় থেকে মুছে গেছেন। অনেকেই ক্ষমতাশালী ছিলেন, কিন্তু গণরায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেই তাদের কদর কমে গিয়েছে।

    তিনি ১৯৭০ সালের নির্বাচন ও পরবর্তী ঘটনাসমূহ স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, তখনও জনগণের রায় সাদরে গ্রহণ না করায় ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। একই রকম ১৯৯০ সালে গণআন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরশাসন পরাজিত হয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছরের দমন-পীড়নের পরও যদি ক্ষমতা জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করা হয়, তখন জনগণের আন্দোলন শেষ পর্যন্ত সেটাকে টেকতে দেয়নি।

    সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ আরও বলেন, আজও যদি গণরায় ও গণভোটের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করা হয় এবং তা উপেক্ষা করে সরকার এগোতে চায়, তাহলে জনগণ তা মেনে নেবে না। তিনি উল্লেখ করেন যে গণভোটে বিপুলসংখ্যক মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন এবং তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা গুরুত্বের সঙ্গে বাস্তবায়ন করতে হবে।

    ‘এত রক্তের বিনিময়ে যে সংস্কার এবং নতুন বাংলাদেশ সম্পর্কে আমাদের শহীদদের পরিবার, বাবা-মা ও আহত মুক্তিযোদ্ধারা স্বপ্ন দেখেছেন, তা বাস্তবায়ন করা বাধ্যতামূলক,’ তিনি বলেন। তিনি সতর্ক করে জানান, যদি এই জনরায় বাস্তবায়ন না করা হয়, তাহলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া প্রায় ৭০ শতাংশ জনগণ রাস্তায় নামতে দ্বিতীয়বার দ্বিধা করবে না।

    শেষে তিনি সবাইকে জনগণের পক্ষে এসে একসঙ্গে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান এবং উল্লেখ করেন, ‘‘জনগণের বিপক্ষে গেলে আমাদেরকে আবারও স্বাধীনতা রক্ষায় মাঠে নামতে হতে পারে।’’

  • গণরায়ের বিরুদ্ধে গেলে জনগণই প্রত্যাখ্যান করবে: আসিফ মাহমুদ

    গণরায়ের বিরুদ্ধে গেলে জনগণই প্রত্যাখ্যান করবে: আসিফ মাহমুদ

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, যদি সরকার গণরায়কে উপেক্ষা করে আগাতে চায় তালে জনগণ তা মেনে নেবে না। তিনি এ মন্তব্য করেন বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) স্বাধীনতা দিবসে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনকালের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়।

    আসিফ মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে যারা শক্তিশালী ভূমিকা রেখেছে, বহুবার দেখা গেছে—তারা যখনই গণরায়ের বিরুদ্ধে গিয়েছে, তখনই ইতিহাসের পাতায় থেকে মুছে গেছে। ‘‘আপনারা দেখেছেন, অনেকেই মহাপরাক্রমশালী ছিলেন, শক্তিশালী ছিলেন, কিন্তু যখন তারা গণরায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, তারা ইতিহাস থেকে হারিয়ে গেছে।’’

    তিনি ১৯৭০ সালের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, তখনও জনগণের রায় স্বীকৃতি না দেওয়ায় ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। অনুরূপভাবে ১৯৯০ সালের গণআন্দোলন স্বৈরাচ্যকে উৎখাত করে গণতান্ত্রিক পরিবর্তন আনে। দীর্ঘ ১৭ বছরের দমন-পীড়নের পরও যদি জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে শাসন কায়েমের চেষ্টা করা হয়, সেটি শেষ পর্যন্ত গণআন্দোলনের সামনে টিকতে পারে না—মতো তার।

    আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, ‘‘এখনও যদি গণরায় ও গণভোটের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করা হয় এবং তা উপেক্ষা করে সরকার এগোতে চায়, তাহলে জনগণ তা গ্রহণ করবে না।’’

    তিনি গণভোটে বিপুলসংখ্যক মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে উল্লেখ করে বলেন, ‘‘এত রক্তের বিনিময়ে যে সংস্কার ও নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন শহীদের পরিবাররা, বাবা-মা ও আহত মুক্তিযোদ্ধারা দেখেছেন, সেটি বাস্তবায়ন করতে হবে। যদি এই জনরায় বাস্তবায়ন না করা হয়, তাহলে যে ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে—তারা রাস্তায় নামতে দ্বিতীয় বার ভাববে না।’’

    সুতরাং তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে আবেদন করেন—জনগণের পাশে এসে সবাই মিলেমিশে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার তাগিদ কার্যকর করুন। অন্যথায় স্বাধীনতা রক্ষার কথা বলে আবারও জনগণ মাঠে নামতে বাধ্য হতে পারে, এমন সতর্কতা তার বক্তব্যের শেষাংশে ছিল।

  • ‘নৈতিক দায়িত্ব পালন করতে এসেছি’ — স্মৃতিসৌধে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান

    ‘নৈতিক দায়িত্ব পালন করতে এসেছি’ — স্মৃতিসৌধে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান

    মহান স্বাধীনতা দিবসের সকালে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা এখানে একটি নৈতিক দায়িত্ব পালন করতে এসেছি। তিনি বলেন, এটি রাষ্ট্রের একটি সর্বোচ্চ আচার; সবার মতো আমাদেরও এখানে এসে শ্রদ্ধা জানানো প্রয়োজন।

    বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের জন্য মোনাজাত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা জানান তিনি। জামায়াত আমির বলেন, বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আল্লাহর দরবারে দোয়া করা হয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব এবং স্বাধীনতার জন্য, এবং দেশে শান্তি ও রহমত বর্ষিত হওয়ার জন্য তিনি দোয়া করার কথাও উল্লেখ করেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা সবাই মিলে একটি অহিংস, দুর্নীতিমুক্ত ও বৈষম্যহীন মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করতে চাই। তিনি সমগ্র দেশবাসীকে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের শুভেচ্ছাও জানান।

    এ সময় অন্যান্য নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান এমপি, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কামাল হোসেন এমপি।

  • কেউ কষ্ট পেলে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    কেউ কষ্ট পেলে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    ঢাকা-৮ আসনে অংশগ্রহণের পর থেকেই নানা প্রসঙ্গে আলোচিত ও সমালোচিত হয়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মন্তব্যগুলো অনেকবার ভাইরাল হয়েছে। আজ বুধবার সকালে একটি পোস্টে তিনি লিখেছেন, অনিচ্ছাকৃতভাবে কারো কষ্টের কারণ হয়ে থাকলে তিনি আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছেন।

    পোস্টে তিনি জানান, ‘‘গত কয়েক দিনে বয়োজ্যেষ্ঠ বন্ধু, রাজনৈতিক শুভাকাঙ্ক্ষী, মন্ত্রী-এমপি ও প্রিয় সহযোদ্ধাদের সাথে কিছু আন্তরিক কথা বলার সুযোগ হয়েছে। সবার কাছ থেকেই একটি সুন্দর দিকনির্দেশনা পেয়েছি—ব্যক্তিগত আক্রমণ এড়িয়ে চলা, অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা ত্যাগ করা এবং গঠনমূলক আলোচনায় মনোযোগ দেওয়া।’’

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, তিনি বিনয়ের সঙ্গে ঐ পরামর্শগুলো গ্রহণ করছেন এবং bundan আরও শান্ত ও দায়িত্বশীলভাবে পথ চলার চেষ্টা করবেন। তিনি যোগ করেছেন, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অগ্রগতির জন্য নিজের ক্ষমতা অনুযায়ী কাজ করে যেতে চান।

    তিনি পুনরায় বলেছেন, ‘‘আমার কোনো কথা বা কাজে অনিচ্ছাকৃতভাবে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আপনাদের দোয়া, ভালোবাসা ও পরামর্শ আমার পথচলার শক্তি।’’

    এনসিপির এই নেতা আরও জানান, গতকাল ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে কিয়ামুল লাইলের মাধ্যমে তিনি এই আত্মিক যাত্রার নীরব সূচনা করেছেন এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও সঠিক পথে পরিচালনার দোয়া করেছেন।

  • জামায়াত-এনসিপি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন মনিরুল হক চৌধুরী

    জামায়াত-এনসিপি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন মনিরুল হক চৌধুরী

    জাতীয় সংসদে জামায়াত ও এনসিপি-সম্পর্কিত প্রশ্ন তুলে বিএনপির সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, স্বাধীনতার পর একটি মেধাবী শ্রেণি এসেছিল যারা পরে জাসদ গঠন করেছিল; তাদের অতিরিক্ত কর্মকাণ্ড দেশ ও জাতির জন্য ক্ষতিকর হয়েছে। তিনি প্রত্যাশা করেন ঈশ্বর যেন আমাদের সবকিছু সহ্য করার তৌফিক দেন।

    রোববার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন মনিরুল হক। ওই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথাও স্মরণ করে তিনি বলেন, ১৯৯১ সালের সংসদে তিনি নেত্রীর নেতৃত্বে আপনারা সঙ্গে কাজ করেছেন। যখন আপনাদের বিরুদ্ধে প্রশ্ন ওঠে মনে হয় যেন এই দেশে বিএনপি ১৫-২০ বছর ছিলই না। দেশের স্বার্থে অনেকেই জামায়াতের সঙ্গে কাজ করেছেন; সেই ন্যারেটিভটাও স্মরণ করা উচিত। তিনি বলেন, ইতিহাস মূল্যায়ন করার বুদ্ধি-বিদ্যা রাজনীতিতে থাকা প্রতিটি নেতার আছে—যথাসম্ভব সেই বিবেচনা করা প্রয়োজন।

    মনিরুল হক আরও বলেন, সংসদে দাঁড়িয়ে কথাবার্তা বলতেও তিনি এখন ভয় পান—কারণ আগে যাদের বিরুদ্ধে কথা বলতাম তাদের চিনতাম, আর আজ যারা বিরোধী দল হিসেবে আছে, তাঁদেরকে তিনি চেনেন না। তিনি তারেক রহমানের করা ‘কঠিন নির্বাচন’ মন্তব্যের কথাও উল্লেখ করে বলেন, অনেকেই তখন তা বুঝতে পারেননি, পরে নির্বাচন করে দেখেছি তা সত্যিই কতো কঠোর ছিল।

    তিনি অভিযোগ করেন, যে সব কারণে আজ আমাদের সম্পর্কে প্রশ্ন উঠছে, তাদের মধ্যে রয়েছে এমনও যে মুক্তিযোদ্ধাদেরকেই প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে—মুক্তিযুদ্ধ ও ১৯৭১ সালের এ যুদ্ধকে এক কাতারে আনার অপচেষ্টা চলছে। যদি ফ্যাসিস্ট শাসনের সময়ে বিচারের নামে অন্যায় করা হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে সেটি আলাদা বিষয়।

    শেষে তিনি সংসদে জামায়াতকে একটি বার্তা দেন: স্বাধীনতার পর কিংবা এনসিপি-র নেতারা বয়সে ছোট হলেও তিনি তাদের সম্মান করেন—কারণ তারা সাহসী সন্তান, এ যুগের চাহিদা সেটাই।