Category: জাতীয়

  • প্রধানমন্ত্রী চলতি মাসে ঝিনাইদহ ও ফেনীতে খাল খনন উদ্বোধন করবেন: পানি সম্পদ মন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী চলতি মাসে ঝিনাইদহ ও ফেনীতে খাল খনন উদ্বোধন করবেন: পানি সম্পদ মন্ত্রী

    পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, চলতি এপ্রিল মাসে ঝিনাইদহ ও ফেনীতে দুইটি খাল খননের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি এই তথ্য জানিয়েছেন সচিবালয়ে বুধবার (১ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এক সভা শেষে সাংবাদিকদের।

    মন্ত্রী জানান, দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় একটি খালের উদ্বোধনী কাজ ইতোমধ্যেই সমাপ্ত এবং ওই খালের কাজও চলমান আছে। এবারের আয়োজনের মতো আরও দুটি খাল খননের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হচ্ছে, যার উদ্বোধন সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দ্বারা করা হবে। একটিকে চিহ্নিত করা হয়েছে ঝিনাইদহের শৈলকূপা হিসেবে, আরেকটিকে সম্ভাব্যভাবে ফেনীতে নেয়া হবে—চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শেষে তা নিশ্চিত করা হবে।

    কমিশন সভায় মন্ত্রী আরও জানান, খাল খনন কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ১৮০ দিনের সময়সীমা অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে যাতে জনগণের সামনে দেয়া প্রতিশ্রুতি সময়মতো বাস্তবায়িত করা যায়। দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচি কার্যকর ও দৃশ্যমান করা।

    মন্ত্রী বলেছেন, পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে—অনেক নদী মরে গেছে, দখল হয়ে গেছে, শিল্প কলকারখানার বর্জ্য-আবর্জনা জমে আছে এবং অনেক জায়গায় দোকানপাট বা বাড়িঘর নির্মাণ হয়েছে। এসব অবরোধ সরাতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে যাতে খালগুলো পরিষ্কার করে নলেজ্যানো যায় এবং প্রকল্পের গতি বাড়ে। তিনি জানান, মিটিংয়ে অংশগ্রহণকারীরা আশাবাদী যে প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও উদ্যোগ নিয়েই কাজগুলো সম্পন্ন করা হবে।

    তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বললেন, এই বিষয়ে নিয়মিতভাবে ছোট পরিসরের টেকনিক্যাল সভা হচ্ছে। কারিগরি বিশেষজ্ঞরা বিস্তারিত পরিকল্পনা ও কাজের দিকগুলো নিয়ে কাজ করছে; বিষয়টি এখনও এমন পর্যায়ে পৌঁছায়নি যে তা নিয়ে বড় ঘোষণা দেওয়া যায়। তবে কাজ অব্যাহত রয়েছে এবং রুটিন মিটিংগুলো চলবে।

    ভারত-বাংলাদেশের গঙ্গা চুক্তি সম্পর্কেও তিনি জানালেন, ৩০ বছরের মেয়াদি ওই চুক্তির মেয়াদ ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে এবং এ বিষয়ে টেকনিক্যাল টিম কাজ করছে। রুটিন ভিত্তিতে বিষয়টি দেখভাল করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

    মোটের ওপর মন্ত্রী এই উদ্যোগগুলো সময়মতো বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে বলেন, পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে জনসাধারণের কাছে প্রতিশ্রুতিমতো কাজ তুলে ধরাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

  • ইরান: যুদ্ধ ইস্যুতে ঢাকার বিবৃতি সন্তোষজনক নয় — ঢাকায় ইরানি রাষ্ট্রদূত

    ইরান: যুদ্ধ ইস্যুতে ঢাকার বিবৃতি সন্তোষজনক নয় — ঢাকায় ইরানি রাষ্ট্রদূত

    ঢাকায় নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহনাবাদি বলেছেন, তেহরান ঢাকার যুদ্ধ সংক্রান্ত বিবৃতি নিয়ে সন্তুষ্ট নয়। তিনি বুধবার সকালে ইরান দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান।

    রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘এ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকার আমাদের এই যুদ্ধের ব্যাপারে যে সমস্ত বিবৃতি দিয়েছে, সে সম্পর্কে আমাদের কিছু কষ্টের জায়গা আছে।’ তিনি উল্লেখ করেন যে, স্পেনসহ অনেক ইউরোপীয় দেশে এবং যুক্তরাষ্ট্রেও ব্যাপক জনসমাবেশ হয়েছে এবং সেসকল দেশ ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই যুদ্ধকে সরাসরি নিন্দা করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে বাংলাদেশ অস্পষ্ট বক্তব্য না দিয়ে সুস্পষ্ট অবস্থান নেবে।

    জাহনাবাদি আরও বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশকে আমাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও ভাই মনে করি। এজন্য আমরা চাই আমাদের সম্পর্ক আরও সুন্দর ও মসৃণ হোক। আমরা চাই একে অপরকে সহযোগিতায় রেখে ভবিষ্যতে এগিয়ে যাই।’ তিনি সম্পর্ক উন্নয়নের গুরুত্বও পুনর্ব্যক্ত করেন।

    রাষ্ট্রদূত দাবী করেন যে, প্রকাশিত বিবৃতিগুলোতে মূলত উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, অথচ তাদের মতে যুক্তরাষ্ট্র এখানে সরাসরি আগ্রাসীর ভূমিকা নিয়েছে এবং যে কোনো আগ্রাসন নিন্দার দাবির যোগ্য। তিনি জানান, স্পষ্টভাবে নিন্দা জানানোই তাদের প্রত্যাশা। একই সঙ্গে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে বাংলাদেশের কয়েক মিলিয়ন শ্রমিক মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রয়েছেন এবং তাদের অনিচ্ছাকৃতভাবে অস্বস্তিতে ফেলতে চান না।

  • প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক দিচ্ছে জামানতবিহীন ১০ লাখ টাকার ঋণ

    প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক দিচ্ছে জামানতবিহীন ১০ লাখ টাকার ঋণ

    প্রবাসে কর্মসংস্থান খুঁজে পাওয়া বাংলাদেশিদের জন্য সুখবর হলো—প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক নতুন একটি ঋণ কর্মসূচি চালু করেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিগত সময়ের মতো আর জামানত না দিয়েই, যোগ্য আবেদনকারী ব্যক্তিরা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকার ঋণ সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। এই ঋণের লক্ষ্য হলো প্রবাসে যাদের স্পেশাল ট্রেনিং বা ভাষার দক্ষতা অর্জন করতে ইচ্ছুক, তাদের প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দেয়া।

    প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যারা বিদেশে ভাষা শেখা বা বিশেষ কোনো দক্ষতা উন্নয়নের জন্য ঋণ নিতে চান, তাদের জন্য সহজ শর্তে এই সুবিধা চালু করা হয়েছে। ঋণের সাহায্যে তারা সরাসরি বৈদেশিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টিউশন ফি পাঠাতে পারবেন, বিদেশে থাকার সময়ের থাকা-খাওয়ার খরচ নির্বাহ করতে অর্থ পাঠাতে পারবেন এবং বিশেষ করে কোরিয়া, জাপান, চীন ও জার্মানিতে পড়াশোনা করতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য এই সুবিধা আরও সহজ করেছে ব্যাংক।

    আবেদনকারীদের অবশ্যই সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা হতে হবে এবং বয়স ৪০ বছরের নিচে হতে হবে। সাথে প্রয়োজনীয় নথিপত্র হিসেবে যেন নিজ দেশে পাসপোর্ট, ইস্যুকৃত অফার লেটার, মধ্যম স্তরের ভাষার সনদ ( যেমন: জাপানের জন্য এন-৫, কোরিয়ার জন্য টিওপিআইকে লেভেল ৩), জাতীয় পরিচয়পত্র, শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট ও জামিনদারদের নথি জমা দিতে হবে।

    ঋণের বার্ষিক সুদের হার হচ্ছে ১১ শতাংশ, এবং মেয়াদ সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত। অন্যান্য ফি ও চার্জের বিষয়গুলো প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।

    অতিরিক্ত বিস্তারিত জানার জন্য আগ্রহী ব্যক্তিরা নিকটস্থ প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের শাখা অথবা সরাসরি হেল্পलाइन ১৬২৩৮ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন। এছাড়া, ব্যাংকের ওয়েবসাইট www.pkb.gov.bd থেকেও প্রয়োজনীয় তথ্য জানা যাবে।

  • অর্থমন্ত্রী বললেন, টাকা ছাপানো নয়, বিনিয়োগ বাড়ানোই মূল লক্ষ্য

    অর্থমন্ত্রী বললেন, টাকা ছাপানো নয়, বিনিয়োগ বাড়ানোই মূল লক্ষ্য

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন ঋণনির্ভর থেকে বেরিয়ে এসে বিনিয়োগনির্ভর হয়ে উঠছে। বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কথা বলেন। ওই বলেন, ‘আমরা টাকা ছাপাতে চাই না। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো বিদেশি ও দেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা, যাতে করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।’ তিনি আরও বলেন, প্রায়ই বলা হয় বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত কম, এবং জিডিপির আকার নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এর প্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, জিডিপির আকারের সঙ্গে কর-জিডিপি অনুপাতের সম্পর্ক রয়েছে। অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে না পারলে, ভবিষ্যতেও কর collection বাড়ানো কঠিন হবে। তিনি স্পষ্ট করেন, তাঁর লক্ষ্য হলো ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে মুক্ত হয়ে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর ঘটানো। তিনি আবারো emphasizes করেন, টাকা ছাপানো তার একমাত্র কর্ম নয়, বরং বিভিন্ন উৎস থেকে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করে দেশের অর্থনীতির গতি বাড়ানোই তাঁর মূল উদ্দেশ্য। অর্থমন্ত্রী বলেন, এই লক্ষ্য রেখেই আগামী বাজেট তৈরি হবে, যাতে বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের উপর আস্থা রাখতে পারেন। পাশাপাশি, তিনি উল্লেখ করেন যে, দীর্ঘমেয়াদী নীতিগুলো সম্ভব হলে বজায় রাখতে হবে, কারণ নীতির হঠাৎ পরিবর্তন বিনিয়োগকারীদের জন্য ভুল বার্তা পাঠাতে পারে।

  • ইরানে অনুমতি পেল বাংলাদেশের ছয়টি জাহাজ হরমুজ প্রণালী পেরোনোর

    ইরানে অনুমতি পেল বাংলাদেশের ছয়টি জাহাজ হরমুজ প্রণালী পেরোনোর

    সোমবার (১ এপ্রিল) ইরানের নিরাপত্তা কাউন্সিল অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশের ছয়টি জাহাজের হরমুজ প্রণালী দিয়ে passagem করার জন্য। এ তথ্য জানান ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহীমি জাহানাবাদী। তিনি বলেন, আমরা ইতিমধ্যে তেহরানকে জানিয়েছি এই ছয়টি জাহাজের বিষয়ে; ইরানের নিরাপত্তা কাউন্সিল তাদের অনুমোদন দিয়েছে। যদিও জাহাজগুলোর বিশদ স্পেসিফিকেশন আমাদের কাছে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আসেনি, তবে আমরা বাংলাদেশ সরকারের কাছে সেই তথ্য চাচ্ছি। গত সপ্তাহে আমাদের কাছে এই স্পেসিফিকেশন এসেছে, এবং এর উপর কাজ চলছে। বাংলাদেশে জাহাজ চলাচলে কোনো সমস্যা হবে না—এই ব্যাপারে আমরা পুরোপুরি সহযোগিতা করব।

  • মার্চে দেশে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতন ও হত্যার ভয়াবহতা

    মার্চে দেশে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতন ও হত্যার ভয়াবহতা

    দেশের উন্নতি ও সমতা প্রতিষ্ঠার পথে মার্চ মাসে নারীদের পাশে এক গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে দেশের নারী সমাজ। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের নারী ও কন্যা নির্যাতন-বিষয়ক মাসিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই এক মাসে দেশে মোট ৪৭ নারী ও কন্যাশিশু হত্যা হয়েছে, যেখানে পাশাপাশি ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৫৭ জন। এই তথ্যগুলো ১৫টি প্রধান দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে এ মাসে প্রকাশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে জানানো হয়, মার্চের মাসে ১৯০ জন নারী ও কন্যা—যাদের বয়স ১৮ বছরের নিচে—নির্যাতনের শিকার হয়েছে। পাশাপাশি, ৩৫ জন কন্যাসহ মোট ৫৭ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছে, এর মধ্যে ১৪ জন দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার। ধর্ষণের পরে পাঁচজন নিহত হয়েছে, আর ছয়জনকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছে ১২ জন। বিভিন্ন কারণে যথা রহস্যজনক পরিস্থিতিতে ৪৭ জন নারী ও কন্যার জীবন end হয়েছে। এ ছাড়াও, ১৭ জনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। আর এই মাসে অ্যাসিড দগ্ধ হয়েছে একজন নারী, অগ্নিদগ্ধ হয়েছে তিনজন, যার মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে অগ্নিদগ্ধের কারণে। যৌতুকের কারণে নির্যাতনের শিকার হয়েছে পাঁচজন, যার মধ্যে তিনজন হত্যা হয়েছে। পারিবারিক সহিংসতায় দুজন নারী শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে, আর একটি গৃহকর্মীর মৃত্যু হয়। নিজের জীবন বাঁচানোর জন্য ১৪ জন নারী ও কন্যা আত্মহত্যা করেছে, এর মধ্যে পাঁচজন আত্মহত্যার প্ররোচনার শিকার। আরও একজন আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। সেই সঙ্গে, দু’জন কন্যাসহ পাঁচজন অপহরণের শিকার হয়েছে। এই প্রতিবেদন প্রতিনিয়ত দেশের নারী সমাজের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে, যা আমাদের সবাইকে সচেতন হতে ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করে।

  • জেন-জিকে প্রতিনিধিত্ব করেন, জামায়াতের প্রজন্ম হতে দেবো না

    জেন-জিকে প্রতিনিধিত্ব করেন, জামায়াতের প্রজন্ম হতে দেবো না

    বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পারথ সংসদে অভিযোগ করেছেন যে বিএনপির লক্ষ্য হচ্ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইস্যুতে দেশকে বিভক্ত করে বিভ্রান্ত করা। তিনি বলছেন, সত্যি কথা বলতে গেলে, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে সেই অপপ্রচেষ্টা থেকে সতর্ক হওয়া। তিনি মন্তব্য করেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে July’s issue নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা, যেন কেউ আবার ৭১ এর যুদ্ধের প্রজন্মের সাথে যেন জড়িত হতে না পারে।’ তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও একই ধরনের অপচেষ্টা লক্ষ্য করা যায়। যখন তারা কিছু বলতো, তখন বলা হতো উনি যুদ্ধাপরাধের বিচার চান না। আবারও দেখা যাচ্ছে, এমনই এক অপপ্রচার।’

    আন্দালিভ রহমান আরও বলেন, ‘জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সকল সদস্য ও যারা মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে জড়িত তারা যেন এ বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত থেকে বুঝতে পারেন, আপনি জেন-জিকে প্রতিনিধিত্ব করেন। জামায়াতের প্রজন্ম যেন না হয়ে যায়।’

    মঙ্গলবার সংসদ অধিবেশনে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত একটি প্রস্তাব বিতর্কিত হওয়ার সময় এসব কথা বলেন তিনি। তিনি বলছেন, ‘জুলির সনদে কোনো মৌলিক আপত্তি নেই; তবে এর বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিরোধীদলের পক্ষ থেকে যেভাবে এটি সম্পন্ন করতে চাচ্ছেন, আমরা সে ব্যাপারে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে রেখেছি। আপনাদের কেন বিপ্লবী সরকার এর আগে গড়ে তোলেনি? কেন সাধারণ সরকারের অধীনে যেতে হলো? অন্তর্বতীকালীন বিপ্লবী সরকার গঠন করার প্রয়োজন ছিল। সংবিধান ছিঁড়ে নতুন করে বানানোর অপচেষ্টা অগ্রহণযোগ্য।’

    আন্দালিভ রহমান বলেন, ‘১৯৭৫ সালে সংবিধান প্রণয়নের সময় আমরা রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কমানোর ব্যাপারে আলোচনা করলেও, ফলস্বরূপ প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছিল। এখন পরিবর্তনের প্রয়োজন। সংবিধান ও জুলাই সনদকে সমন্বয় করে এগিয়ে যেতে হবে।’

    তিনি সংবিধান সংস্কার পরিষদের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং বলেন, ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ কোথা থেকে আসছে? আমরা সাধারণত যে পদ্ধতিতে সংবিধান পরিবর্তন করি, সেটি অনুসরণ করবো। আপনারা বসে থাকুন, আমরা আমাদের আপত্তি জানাবো।’

    অন্তর্বতী সরকার গণভোটে ৭০ শতাংশ

  • সরকার তৃণমূলে ডিজিটাল লেনদেন ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে

    সরকার তৃণমূলে ডিজিটাল লেনদেন ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে

    বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেছেন, নগদ অর্থের ব্যবহার কমিয়ে তৃণমূলে ডিজিটাল লেনদেন বিস্তৃত করা সরকারের উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য। তিনি মঙ্গলবার মানিকগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বাংলাদেশ ব্যাংকের আয়োজিত ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ উদ্যোগ’ সম্প্রসারণ বিষয়ে সেমিনারে এই কথা জানান।

    আরিফ হোসেন খান বলেন, প্রতি বছর কাগজ নোট ছাপানো, নোট পরিবহন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার প্রচুর অর্থ ব্যয় করে। তবে ক্যাশলেস লেনদেন, বিশেষত বাংলা কিউআর ব্যবহারের পরিধি বাড়ালে এসব ব্যয় অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে এবং একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের আর্থিক নিরাপত্তাও বৃদ্ধি পাবে।

    তিনি আরও জানান, টাকার নোট বহন ও সংরক্ষণ ঝুঁকিপূর্ণ—চুরি, ডাকাতি বা এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে পারে। পুরনো বা ঝুলে থাকা নোট লেনদেনে সমস্যা তৈরি করে এবং নগদের মাধ্যমে রোগ-জীবাণু ছড়ানোর ঝুঁকিও থাকে। ডিজিটাল লেনদেন সময় বাঁচায়, আর্থিক নিরাপত্তা বাড়ায় এবং ঝুঁকি কমায়, তাই তৃণমূলে ক্যাশলেস ব্যবস্থার প্রসার অপরিহার্য।

    সেমিনারে দর্শক ও অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে তিনি ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমের সহজতর ব্যবহার, বাংলা কিউআর প্রণালী প্রসারে সরকারের নীতিমালা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আলেখ্য তুলে ধরেন।

  • প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পদোন্নতি বঞ্চিত ১,৮২১ বিসিএস (স্বাস্থ্য) কর্মকর্তার আবেদন গ্রহণ

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পদোন্নতি বঞ্চিত ১,৮২১ বিসিএস (স্বাস্থ্য) কর্মকর্তার আবেদন গ্রহণ

    দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি বঞ্চনার অভিযোগ করা বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের একদল কর্মকর্তা মঙ্গলবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আকস্মিকভাবে অনানুষ্ঠানিকভাবে দেখা করতে সক্ষম হয়েছেন। তারা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তাদের দীর্ঘদিনের বিব্রত ও দাবি সম্বলিত লিখিত আবেদন হস্তান্তর করেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কর্মকর্তারা আগে থেকে আনুষ্ঠানিক সাক্ষাতের আবেদন জমা দিয়েছিলেন, কিন্তু ওই দিন আনুষ্ঠানিকতার আগেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সাক্ষাতের সুযোগ পান। খুবই বিনয়ের সঙ্গে তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের বঞ্চনা, প্রশাসনিক জটিলতা ও ন্যায্য দাবিগুলো ব্যক্ত করেন।

    কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন যে মোট ১,৮২১ জন বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের কর্মকর্তা দীর্ঘকাল ধরে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত। তাদের দাবি, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, জ্যেষ্ঠতা ও অন্যান্য শর্ত পূরণ সত্ত্বেও বিগত অন্তর্বতীকালীন সময়ে কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা ছাড়া তাদের পদোন্নতি আটকে রাখা হয়েছে। এর ফলে প্রশাসনিক কাঠামোতে ব্যত্যয় সৃষ্টি হয়েছে—অনেক জুনিয়র কর্মকর্তা পদোন্নতি পেয়ে সিনিয়রদের ওপর দায়িত্ব পালন করছেন।

    প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাদের বক্তব্য খুব মনোযোগসহকারে শুনেন এবং বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি সেসময় তাদের লিখিত আবেদন গ্রহণও করেন।

    অভিযোগে প্রশাসনিক বৈষম্য, পদোন্নতি সংক্রান্ত জটিলতা ও মানবিক কষ্টের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। কর্মকর্তারা দ্রুত এবং স্বচ্ছভাবে সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়েছেন যাতে প্রশাসনিক ভারসাম্য ও কর্মপরিসরের ন্যায্যতা পুনরুদ্ধার করা যায়।

    প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এই আবেদন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট কমিশনে পাঠিয়ে দ্রুত সমাধান ব্যবস্থার কথা ভাবা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পদোন্নতি বঞ্চিত কর্মকর্তারা এখন দ্রুত ও ন্যায্য নিষ্পত্তির প্রত্যাশায় রয়েছেন।

  • ইরাকে বাংলাদেশি হত্যা: অভিযুক্ত ইরাকি নাগরিককে যাবজ্জীবন

    ইরাকে বাংলাদেশি হত্যা: অভিযুক্ত ইরাকি নাগরিককে যাবজ্জীবন

    বাগদাদের একটি আদালত ইরাকে একজন বাংলাদেশি নাগরিককে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত ইরাকি নাগরিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। ইরাকের বাংলাদেশ দূতাবাস মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) এক বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    দূতাবাস জানিয়েছে, গত ১১ সেপ্টেম্বর কাজে কাজিমিয়া এলাকায় বাংলাদেশি নাগরিক আজাদ আলীকে নিহত করার অভিযোগে মুসা জাসিম নামের এক ইরাকি নাগরিককে অভিযুক্ত করা হয়। হত্যা সংক্রান্ত ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট থানা-আদালতে মামলা দায়ের ও প্রয়োজনীয় সকল আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

    বাগদাদের ফৌজদারি আদালত গঠন করা সাক্ষ্য ও প্রমাণাদি পর্যবেক্ষণ করে গত ২৯ মার্চ অভিযুক্ত মুসা জাসিমের বিরুদ্ধে সম্পর্কিত অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। পাশাপাশি, অভিযুক্তের পরিবারের কাছ থেকে আদায় করা ২৫ হাজার মার্কিন ডলার নিহত আজাদ আলীর পরিবারে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে দূতাবাস জানায়।

    দূতাবাসের বরাত দিয়ে খবরটি জানানো হলেও তদন্ত এবং বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য বিশ্বস্ত সূত্র থেকে পাওয়া না যাওয়া পর্যন্ত সংরক্ষিত আছে।