Category: জাতীয়

  • শিক্ষা ব্যবস্থা চালুর জন্য অনলাইন-অফলাইন সমন্বিত পরিকল্পনা ভাবা হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা ব্যবস্থা চালুর জন্য অনলাইন-অফলাইন সমন্বিত পরিকল্পনা ভাবা হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী

    জ্বালানি সংকট, ট্রাফিক জট এবং অন্যান্য পরিস্থিতির কারণে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা পুনরায় চালুর জন্য সরকারের মধ্যে একটি নতুন পরিকল্পনা উঠছে। এর অংশ হিসেবে অনলাইন ও অফলাইনে সমন্বিত (ব্লেন্ডেড) পদ্ধতিতে শিক্ষাদান চালুর চিন্তা করা হচ্ছে, যা নীতিনির্ধারকদের আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। শিগগিরই এই পরিকল্পনা মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ. ন. ম. এহসানুল হক মিলন।

    মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেছিলেন, সাম্প্রতিক সময়ের রোজার ছুটি, বিভিন্ন আন্দোলন এবং অন্যান্য কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদানের সময়সূচিতে বিঘ্ন ঘটেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য শিক্ষাব্যবস্থায় সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস চালুর কথা ভাবা হচ্ছে, যেখানে এখনকার মতো শনিবার ও রবিবার দিনটি বন্ধ থাকবে না। পাশাপাশি, অনলাইন শিক্ষাকে আরও গুরুত্ব দিয়ে কিছু ক্লাস ভার্চুয়ালি নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

    সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৫৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ও অভিভাবক আংশিক অনলাইন শিক্ষার পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন। তবে পুরোপুরি অনলাইন শিক্ষার ক্ষেত্রে কিছু সামাজিক সমস্যা দেখা দিতে পারে—এ বিষয়টিও সরকার গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা অনুযায়ী চলমান এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আগামী বৃহস্পতিবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়।

    প্রাথমিকভাবে স্কুল পর্যায়েই এই পদ্ধতি চালুর দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, তবে কলেজে ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও এর প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ে এই পদ্ধতি কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।

    তদ্ব্যতীত, মহানগরীগুলোর ট্রাফিক, জ্বালানি সংকট ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার চিন্তা রয়েছে। এর মধ্যে বাস সার্ভিস চালু, বৈদ্যুতিক বাস, মেট্রো ও সৌরশক্তিচালিত পরিবহনের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে যাতে শিক্ষার্থীরা সহজে শিক্ষা কার্যক্রমে যোগ দিতে পারেন। এই ধরনের আধুনিক ও বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থার পরিকল্পনা এখন আলোচনায় রয়েছে।

  • সাত দিনের পূর্বাভাস: বৃষ্টি বাড়বে, তবে বন্যার আশংকা কমে

    সাত দিনের পূর্বাভাস: বৃষ্টি বাড়বে, তবে বন্যার আশংকা কমে

    দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকা ও উজানে আগামী সাত দিন বেশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তবে এই সময়ের মধ্যে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশংকা খুবই কম বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো)। সোমবার প্রকাশিত সাত দিনের পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ৩১ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে হাওরাঞ্চলে বিভিন্ন এলাকায় স্থানভেদে ১০০ থেকে ১২৫ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হতে পারে। তবে এই সময়ের পরের তিন দিন, অর্থাৎ ৭ থেকে ১০ এপ্রিল, ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা কম। এছাড়াও, পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই সময়ে হাওর এলাকাজুড়ে প্রধান নদী ও উপনদীগুলোর পানি স্তর কিছুটা বাড়তে পারে, বিশেষ করে সপ্তাহের প্রথমার্ধে। তবে পরের দিকে তা আবার কমতে শুরু করবে বলে মনে করা হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে, নদীগুলোর পানি প্রাক-মৌসুমি বিপদসীমার নিচে থাকবে বলে ধারণা করা হয়েছে। এক নজরে দেখা যায় যে, সুরমা এবং কুশিয়ারা নদীর পানি এখন কমছে, অন্যদিকে ধনু এবং বাউলাই নদীর পানি বাড়ছে। ভুগাই ও কংস নদীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে। তবে সব নদীর পানি এখনো প্রাক-মৌসুমি বিপদসীমার নিচে রয়েছে। দিনের দিন ধরে এই পূর্বাভাসে বলা হয়েছে যে, ৩১ মার্চ ও ১ এপ্রিল মাঝারি থেকে মাঝারি-ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে, যার ফলে নদীর পানি সাময়িকভাবে কিছুটা বাড়বে, তবে বিপদসীমার নিচে থাকবে। ২ থেকে ৬ এপ্রিলের মধ্যে বৃষ্টিপাতের অঙ্ক কিছুটা কমে যাবে, ফলে পানি স্তর ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হয়ে কমতে পারে। মোটকথা, টানা বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলেও, হাওরাঞ্চলে এখনই বড় আকারে বন্যার আশংকা নেই। তবে উজানের বৃষ্টিপাতের প্রবণতা এবং নদীর পানি পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দিয়েছেন বাপাউবো।

  • ভারত থেকে আরও ৭ হাজার টন ডিজেল আসছে

    ভারত থেকে আরও ৭ হাজার টন ডিজেল আসছে

    মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে জাহাজের সূচি ব্যাপকভাবে ব্যাহত হওয়ায় বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহে তাৎক্ষণিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার সমুদ্রপথের পাশাপাশি অন্তর্গত পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানির ওপর জোর দিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ভারতের নুমালীগড়ের বাজার থেকে পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোতে ইতোমধ্যে ৭ হাজার টন ডিজেল পৌঁছেছে। এই চালানটি দিয়ে মার্চ মাসে মোট ২২ হাজার টন ডিজেল আমদানি হয়েছে।

    সকাল সাড়ে ৯টায় এই ডিজেল সরবরাহের নিশ্চিত করেছেন পার্বতীপুর পদ্মা ওয়েল পিএলসি রেলহেড ডিপোতে কর্মরত ডেপুটি ম্যানেজার আহসান হাবিব চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, ২৮ মার্চ শনিবার প্রাতঃকালীন সময়ে (সকাল ৭টা) পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেলের সরবরাহ শুরু হয়। এই প্রক্রিয়ায় পূর্বনির্ধারিত ১৪৬ ঘণ্টা ধরে ভারতের নুমালীগড় রিফাইনারিজ লিমিটেডের পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশের পার্বতীপুরে পৌঁছানো হয়েছে।

    দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার অবিরতভাবে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানি চালিয়ে যাচ্ছে। এর আগে ১১ মার্চ প্রথম দফায় দিনাজপুরের পার্বতীপুরে ৫ হাজার টন ডিজেল আসে। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ছুটির দিনেও ডিপো খোলা রাখা হয়। এর পরের দফায় আরও ১০ হাজার টন ডিজেল আসে, ফলে মার্চ মাসে মোট তিন ধাপে ১৫ হাজার টন এবং সর্বশেষ ৭ হাজার টনসহ মোট ২২ হাজার টন ডিজেল আমদানি সম্পন্ন হয়।

    জ্বালানি নিরাপত্তার অংশ হিসেবে, ভারতীয় রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন লিমিটেড এবং আসামের নুমালীগড় রিফাইনারি থেকে এপ্রিল মাসে আরও ৪০ হাজার টন ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি সপ্তাহে ১০ হাজার টন করে ডিজেলের সরবরাহ চলমান থাকবে, যা বাংলাদেশের পার্বতীপুর রিসিপ্ট টার্মিনালে পৌঁছাবে। এর ফলে দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে আরও সচেষ্ট হওয়া সম্ভব হবে।

  • সাবেক সেনা কর্মকর্তা আফজাল নাছেরের ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

    সাবেক সেনা কর্মকর্তা আফজাল নাছেরের ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

    ঢাকার সিএমএম আদালত সোমবার (৩০ মার্চ) ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক ও বরখাস্তকৃত সেনা কর্মকর্তা আফজাল নাছেরকে ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

    আদালতে হাজির করা হলে বিচারক মো. হাসিব উল্লাহ পিয়াস এই আদেশ দেন। রিমান্ড শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ আফজাল নাছেরের বিরুদ্ধে আদালতে বিএনপি নেতাদের নির্যাতন এবং তাদের ভিডিও ধারণের অভিযোগ তুলে।

    আফজাল নাছের ২০০৬ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ডিজিএফআইতে কর্মরত ছিলেন। ওই সময়কে উল্লেখ করে বিচারবিভাগীয় অভিযোগে তার নাম উঠে আসে; এই সময়কালে বিএনপি নেতারা এবং অন্য রাজনৈতীক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ জানানো হয়েছে।

    পুলিশি সূত্রে জানা গেছে, মিরপুরের দেলোয়ার হত্যা মামলার ঘটনায় গত রোববার মধ্যরাতে আফজাল নাছেরকে গোয়েন্দা পুলিশ-ডিবি আটক করে। এরপর সোমবার বিকেলে তাকে আদালতে হাজির করা হলে রিমান্ড আবেদন করা হয়—প্রথমে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হলেও বিচারক ছয় দিন মঞ্জুর করেন।

    রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী। আসামিপক্ষের আইনজীবী হেলাল উদ্দিন রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করেন। দুই পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের নির্দেশ দেন।

    আফজাল নাছের ২০০৯ সালে সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হন। তার বাবা মনিহারুল (মফজেলুর রহমান) ভূঁইয়া মৃত। বর্তমানে তিনি মিরপুর, ডিওএসএইচএস এভিনিউ-২ এলাকায় বাসা করেন; গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগের মুজিবখিল। অফিসিয়াল রেকর্ডে তার কর্মজীবন শুরু হয় ১৯৮৪ সালে এবং ডিজিএফআইতে তার দায়িত্ব পালন ছিলেন ২০০৬ সালের মার্চ থেকে ২০০৮ সালের মার্চ পর্যন্ত।

  • সাবেক ডিআইজি আব্দুল জলিল মণ্ডল ধানমন্ডি থেকে গ্রেপ্তার

    সাবেক ডিআইজি আব্দুল জলিল মণ্ডল ধানমন্ডি থেকে গ্রেপ্তার

    ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সোমবার সন্ধ্যায় সাবেক ডিআইজি ও চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার আবদুল জলিল মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করেছে। তাকে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার বাসা থেকে আটক করা হয়।

    এ ঘটনার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত মামলায় জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা অনুসারে জলিল মণ্ডলকে আটক করা হয়েছে। ওই পরোয়ানাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জারি করেছে।

    ডিবি সূত্রে জানানো হয়েছে, আবদুল জলিল মণ্ডল পটভূমিতে পাবনার বাসিন্দা। তিনি পুলিশ বাহিনীতে দীর্ঘ সময় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন। এক সময় তিনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং শাপলা চত্বরের সময়কালীন আন্দোলনের সময় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ছিলেন। এছাড়া তিনি র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

    গ্রেপ্তারের পর ডিবি ঘটনার বিস্তারিত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরে প্রকাশ করবে বলে জানা যায়।

  • রাশিয়া থেকে ৬ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ

    রাশিয়া থেকে ৬ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ

    বাংলাদেশ রাশিয়া থেকে সাতানব্বই লাখ নয়—কমলা। আসলে, রাশিয়া থেকে অন্তত দুই মাসের জ্বালানি বা প্রায় ৬০ লাখ নয়—এখনই নয়। ঠিক করা যাক: বাংলাদেশ রাশিয়া থেকে ৬ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিষেধাজ্ঞা শিথিল (স্যাংশন ওয়েভার) চেয়ে চিঠি দিয়েছে।

    সোমবার (৩০ মার্চ) সচিবালয়ে সার্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্মসচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট আগে ভারতের জন্য একই ধরনের স্যাংশন ওয়েভার দিয়েছে—আমরা সেটি আমল করে বাংলাদেশকেও এমনই ছাড় দেওয়ার অনুরোধ করেছি। তিনি আরও জানান, ঈদের আগের দিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে সরকারের বৈঠকে তিনি নিজে উপস্থিত ছিলেন এবং সেখানে রাশিয়া থেকে যেন আমাদের অন্তত দুই মাসের জ্বালানি বা ৬ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আনার অনুমতি দেয়া হয়, সেই আবেদন তুলে ধরেন।

    মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যে চিঠি চেয়েছিল তা আমরা ঈদের পরেই পাঠিয়েছি এবং এখন তাদের উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছি। তিনি এটাকেই এ বিষয়ে অগ্রগতির সূচক হিসেবে দেখাচ্ছেন।

    একইসঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের চুক্তি থাকলেও যুদ্ধ-পরিস্থিতির আগে ভারত থেকে মাত্র ৫ হাজার মেট্রিক টন তেল পেয়েছি। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৬০ হাজার মেট্রিক টন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল, তাও পূরণ হয়নি—শুরুতে মাত্র ৫ হাজার মেট্রিক টন পেয়েছিলাম। পরবর্তী কূটনৈতিক যোগাযোগ ও উচ্চপদস্থ বৈঠকের পর সরবরাহ পুনরায় শুরু হয়েছে; এ পর্যন্ত তিনটি পার্সেলে তিনবার ৫ হাজার মেট্রিক টন ও একটি পার্সেলে ৭ হাজার মেট্রিক টন এসেছে—মোট করে প্রায় ২২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পেয়েছি।

    তিনি জানান, ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রতি কার্গো ৬০ হাজার মেট্রিক টনের দুটি শিপ শিগগিরই পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া জ্বালানি সংগ্রহের জন্য বিকল্প উৎস খোঁজা চলছে—সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, এঙ্গোলা, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নিয়মনীতিমালাও আলোচনা চলছে। কিছু ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই আশ্বাসও পেয়েছি; পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া ও এঙ্গোলা থেকে এলএনজি এসেছে বলে তিনি জানান।

    আন্তর্জাতিক সমুদ্রনিরাপত্তা প্রসঙ্গে যুগ্মসচিব বলেন, হরমুজ প্রণালীর সীমিতভাবে পাঁচটি দেশের—ভারত, পাকিস্তান, চীন, রাশিয়া এবং বাংলাদেশ—নৌচলাচলের অনুমতি দেয়ার খবর এসেছে। এর আগে ইরানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত একটি চিঠিও পাঠানো হয়েছে; সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ইতিবাচক সাড়া আশা করা যাচ্ছে। তবু চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে নৌপথে জাহাজ চলাচল এখনও ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিশ্চিত রয়েছে; বিশেষত বাংলাদেশি পতাকা ছাড়া অন্যদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে।

    জ্বালানি বিভাগ বলেন, পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জিং হলেও তারা কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সব পথ খুঁটে দেখতে অব্যাহত রাখছে যাতে দেশের জ্বালানি সরবরাহে খুঁত না পড়ে।

  • কুষ্টিয়া-৩ এমপি মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা

    কুষ্টিয়া-৩ এমপি মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা

    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু) নিয়ে তীব্র অভিযোগ করে কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি দায়ের করেছেন সিরাজগঞ্জ সদর আমলি আদালতে সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম।

    মামলা সূত্রে জানা যায়, অভিযোগ অনুযায়ী গত ২৭ মার্চ কুষ্টিয়ার হাফসাই হরিপুর বড় মসজিদে জুমার নামাজের খুতবার পূর্বে বক্তব্য দেওয়ার সময় মুফতি আমির হামজা মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদকে ‘নাস্তিক’ ও ‘আপাদমস্তক ইসলাম বিদ্বেষী’ বলে অভিহিত করেন। অভিযোগকারীর দাবি, এসব উক্তি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হয় এবং তা মন্ত্রীর খ্যাতি ও মর্যাদাকে ভঙ্গ করেছে।

    আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আমির হামজার পরিচিতি ও বক্তৃতার জনপ্রিয়তার কারণে তার এসব বক্তব্য দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে; ফলে টুকুর পারিবারিক সম্মান ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আন্তর্জাতিকভাবে তাঁর প্রতিরোপ ছড়িয়ে পড়েছে। তাই ১০০ কোটি টাকা মূল্যমানের সম্মানহানি দাবি করে দণ্ডবিধির ৫০০ ধারায় মামলা করে অভিযোগকারী।

    সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর আমলি আদালতের বিচারক সুমন কুমার কর্মকারের আদালতে মামলাটি প্রাপ্ত হয়। শুনানি শেষ হয়েছে এবং বর্তমানে তা আদেশের জন্য রাখা আছে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে। অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট হামিদুল ইসলাম দুলাল ও এপিপি হুমায়ুন কবীর কর্নেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    অভিযোগে আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা (ডব্লিউ-এ) জারির অনুরোধও করা হয়েছে। মামলার дальней পদক্ষেপ ও আদালতের আদেশ সম্পর্কে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।

  • অন্তর্বর্তীকালীন সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রে শওকত মাহমুদকে গ্রেপ্তার দেখানো

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রে শওকত মাহমুদকে গ্রেপ্তার দেখানো

    রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় — তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্র ও প্ররোচনার অভিযোগে রাজধানীর শাহবাগ থানায় দায়েরকৃত মামলায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও জনতা পার্টি বাংলাদেশের মহাসচিব শওকত মাহমুদকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

    সোমবার (৩০ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন। ওই দিন শওকত মাহমুদ আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশ পরিদর্শক মো. আখতার মোরশেদ তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।

    পুলিশি আবেদন ও মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত বছরের ৫ আগস্ট ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি সংগঠন আত্মপ্রকাশ করে। একই বছরের ২৮ আগস্ট সকাল ১০টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) অডিটরিয়ামে ওই সংগঠনের গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের কার্যক্রম পর্যালোচনায় পুলিশ দেখেছে যে, সেখানে অংশ নেওয়া কিছু ব্যক্তি দেশের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত করার উদ্দেশ্যে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিল ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। এ ঘটনায় এজাহারে ১৬ জনের নাম উল্লেখ রয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ৭০–৮০ জন উপস্থিত ছিলেন বলে উল্লেখ আছে। গোয়েন্দা ধাঁচার রমনা বিভাগের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ‘মঞ্চ ৭১’ ব্যানারের আড়ালে কিছু লোক রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল।

    প্রাথমিক তদন্তে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে যে शওকত মাহমুদ ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং তার নির্দেশে তার দলের লোকজন একত্র হয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারমূলক সভা চালিয়েছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায্য বিচারের স্বার্থে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন।

    মামলার বিবরণে আরও বলা হয়েছে যে, ‘মঞ্চ ৭১’ আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রক্ষার ভাস্কর্যে আত্মপ্রকাশ করলেও তদন্তে অভিযোগ উঠেছে যে, কিছু অংশগ্রহণকারী কার্যতায় স্বাধীনতায় সঙ্ঘাত ও বিবৃতি দিয়ে দেশের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি এবং অস্ত্র জোরে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করছিল।

    আকস্মিক ঘটনাস্থল পরিদর্শনে শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমিরুল ইসলাম বেতারের মাধ্যমে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে যাওয়ার নির্দেশ পান। ঘটনাস্থলে পৌছার পনেরো মিনিট পরে তিনি দেখতে পান অনুষ্ঠানস্থলে কিছু লোক একটি ব্যক্তিকে ঘিরে ‘আওয়ামী ফ্যাসিস্ট’ বলে স্লোগান দিচ্ছে এবং একজন বক্তা মঞ্চে বক্তব্য দিচ্ছেন। বাদী ওই বক্তাকে চিনতে পেরে জানান, তিনি সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী। জিজ্ঞাসাবাদে উপস্থিতরা জানায়, আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী ‘মঞ্চ ৭১’ ব্যানারকে পুঁজি করে সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে দেশ অস্থিতিশীল করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার উৎখাতের উসকানি দিচ্ছিলেন। পুলিশ অভিযোগে উল্লেখ করেছে যে তিনি এবং অন্য অজ্ঞাতনামা সমর্থকরা পরস্পর সহায়তায় দেশের অস্থিতিশীলতা ও সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র ও প্ররোচনার অপরাধ করেছেন।

    গত বছরের ২৮ আগস্ট ডিআরইউতে মঞ্চ ৭১-এর গোলটেবিল অনুষ্ঠান থেকে সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে翌দিন ২৯ আগস্ট শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি দায়ের করা হয় এবং তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়।

    মামলার নামজাদা আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান (কার্জন), মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন, মঞ্জুরুল আলম, কাজী এটিএম আনিসুর রহমান বুলবুল, গোলাম মোস্তফা, মো. মহিউল ইসলাম ওরফে বাবু, মো. জাকির হোসেন, মো. তৌছিফুল বারী খান, মো. আমির হোসেন সুমন, মো. আল আমিন, মো. নাজমুল আহসান, সৈয়দ শাহেদ হাসান, মো. শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার, দেওয়ান মোহম্মদ আলী ও মো. আব্দুল্লাহীল কাইয়ুম।

    পুলিশ ও তদন্তকারী কর্মকর্তারা বলেছেন, মামলার সব দিক খতিয়ে দেখে ন্যায়সঙ্গত তদন্ত নিশ্চিত করা হবে।

  • আদালতে অঝোরে কাঁদলেন আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আর এস ফাহিম

    আদালতে অঝোরে কাঁদলেন আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আর এস ফাহিম

    বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন কেন্দ্রীয় গুলশান থানার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আর এস ফাহিম চৌধুরীকে সোমবার (৩০ মার্চ) আদালতে তোলা হলে তাকে অঝোরে কাঁদতে দেখা গেছে। পুলিশ তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করলে হাজতখানায় রাখা হয়।

    মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছুটিতে থাকায় গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জ নথি বলার বদলে আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। পরে শুনানির জন্য বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে তাকে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে তোলা হয়। কড়াকড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে মাথায় হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে তাকে এনে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হলে তিনি কাঁদতে থাকেন; তাঁর আইনজীবীরা তাকে শান্ত থাকতে বলতেন এবং সান্ত্বনা দিতেন।

    এর আগে রোববার (২৯ মার্চ) বিকেলে মিরপুর চিড়িয়াখানা এলাকা থেকে জনতা ও একদল শিক্ষার্থী ফাহিমকে আটক করে এবং পরে শাহ আলী থানার পুলিশকে সোপর্দ করেন। পুলিশ তাঁকে মেজর পরবর্তীভাবে গুলশান থানায় হস্তান্তর করে।

    মামলায় বলা হয়েছে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯ জুলাই গুলশানের শাহজাদপুর সুবাস্তু মার্কেটের সামনে হাজারো ছাত্র-জনতা মিছিল করছিল। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী তৎকালীন সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতাদের নির্দেশনায় আন্দোলন দমন করতে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং কিছু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলির অভিযোগ আছে।

    অভিযোগে বলা হয়, ওই ঘটনায় মো. ইমরান (৩০) কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে আন্দোলনকারীদের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে স্লোগান দেন এবং অজ্ঞাত আসামিদের গুলিতে গুরুতরভাবে আহত হন। পরে তাঁকে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিটে তিনি মারা যান।

    এই ঘটনায় তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের এপ্রিলে গুলশান থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলা ও গ্রেপ্তারের পরের কার্যক্রম আদালতে চলছে এবং সংশ্লিষ্টরা মামলার পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

  • ১০ এপ্রিলের মধ্যে এমপিদের বাসা বরাদ্দ, সংসদের অডিও বিভ্রাটে তদন্ত হবে

    ১০ এপ্রিলের মধ্যে এমপিদের বাসা বরাদ্দ, সংসদের অডিও বিভ্রাটে তদন্ত হবে

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কার্যক্রম গতিশীল করতে জাতীয় সংসদ কমিটির প্রথম বৈঠকে সংসদ সদস্যদের আবাসন বরাদ্দ এবং অধিবেশন চলাকালীন ঘটে যাওয়া অডিও সমস্যার তদন্ত নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভায় বলা হয়, আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে সকল সংসদ সদস্যকে বাসা বরাদ্দ করার চেষ্টা চালানো হবে এবং অডিও বিভ্রাটের কারণ জানতে আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    শনিবার (২৮ মার্চ) বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সরকারদলীয় চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম মনি। বৈঠকে বিরোধী দলীয় উপনেতা ডা. আবদুল্লাহ তাহেরসহ কমিটির ১১ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

    বৈঠক শেষে সরকারের চিফ হুইপ মনি জানান, সংসদ সদস্যদের কাজের সুবিধা বিবেচনায় তাদের সংসদের কাছাকাছি রাখা প্রয়োজন, তাই দ্রুতবাসস্থানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ১০ এপ্রিলের মধ্যে বাসা বরাদ্দের কাজ শেষ হয়ে যাবে। এছাড়া আগামী ৩০ মার্চ হাউজ কমিটির আরেকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বাসা বরাদ্দ নিয়ে এমপিরাও সেই বাসা নিজস্বভাবে ব্যবহার করবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে।

    অডিও বিভ্রাটের বিষয়ে মনি বলেন, সংসদ অধিবেশনে সাউন্ডের ত্রুটি ও গরমিলের অভিযোগ পাওয়া গেছে; ঘটনার সঠিক কারণ বের করতে যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, সে কমিটি ৩ এপ্রিল প্রতিবেদন জমা দেবে। স্মরণীয়, ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের দিন স্পিকারটি মাইকে কথা বলার সময় বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হন এবং অনেক সংসদ সদস্য কানে লাগানো হেডফোনে সঠিকভাবে শব্দ শুনতে না পারায় সমালোচনা উঠেছে।

    একই দিন বিকেল ৪টায় সংসদ ভবনের সরকার দলীয় সভাকক্ষে সরকারি দলের সংসদীয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে সম্ভবত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ায় এরপর থেকে সংসদের কার্যক্রম নিয়মিত ও গতিশীল করতে নানা প্রস্তুতি চালানো হচ্ছিল। আজকের বৈঠকের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদীয় কমিটিগুলোর কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।