Category: জাতীয়

  • হামের প্রকোপ মোকাবিলায় স্কুল বন্ধের জন্য হাইকোর্টে রিট

    হামের প্রকোপ মোকাবিলায় স্কুল বন্ধের জন্য হাইকোর্টে রিট

    হামের গুরুতর প্রকোপ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ চেয়ে সম্প্রতি হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়েছে। সেই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিবেদন এসেছে, যেখানে হামের কারণে গত কিছুদিনে অন্তত ৪৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনাগুলোর উপর উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনেরও দাবি জানানো হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট জমা দেওয়া হয়। আশাকরা হচ্ছে, আগামী সপ্তাহে এই বিষয়ে একটি ডিভিশন বেঞ্চের শুনানি হবে।

    এদিকে, এর আগের দিন, বুধবার (১ এপ্রিল), বাংলাদেশ সরকারের কাছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামের টিকার ব্যবস্থা করা জন্য আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এই নোটিশটি বাংলাদেশ মানবাধিকার কর্মী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী একলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া কর্তৃক পাঠানো হয়েছে।

    নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন স্থানে হামের কারণে শিশুদের অসুস্থতা এবং মৃত্যুর ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান না হলে, হাইকোর্টে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রিট দায়ের করা হবে।

    নোটিশে আরও জানানো হয়েছে, দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের আক্রান্ত শিশুর মৃত্যুর খবর এবং উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়ার শতাধিক প্রতিবেদন সংযুক্ত করা হয়েছে। মানবাধিকার কর্মী ও আইনজীবী একলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, যদি পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে এই রোগের প্রকোপ বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে সরকার।

  • সরকার হাম মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    সরকার হাম মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    সারা দেশের মধ্যে হামে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে, যা উদ্বেগজনক বিষয়। বিভিন্ন স্থান থেকে শিশু হামের ছোঁয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে, এবং এ পরিস্থিতি সবার মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতিতে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বচ্ছন্দে বলেছেন যে, সরকার হাম প্রতিরোধে পুরোটাই প্রস্তুত এবং কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে।

    বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল), রাজধানীর শিশু হাসপাতালে হামজনিত নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টের রোগিদের জন্য বাবল সিপ্যাপের ব্যবহার সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানান তিনি।

    সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, হাম যেন বজ্রপাতের মতো এসেছে — একেবারে ঝড়ের মতো। আগে এ ধরনের কোনও প্রস্তুতি ছিল না, কিন্তু বর্তমানে অল্প সময়ের মধ্যে হাম মোকাবিলায় আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত। স্বাস্থ্য বিভাগ সবসময় যথাযথভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং শর্টকাটে পরিস্থিতি সামলানোর জন্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

    মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, কিছু হাসপাতালের অবহেলার কারণে অনেক শিশু মারা গেছে, যা তিনি খুবই দুঃখজনক বলে মনে করেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বলতে চান, এই ধরনের ঘটনা আর কখনো ঘটবে না।

    চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আল্লাহ বিপদ দেন, পাশাপাশি তিনি সাহায্যও করেন। আপনাদের যদি এই পেশায় অবহেলা থাকে, তাহলে একবার চিন্তা করুন— আপনি কারা? আর আপনারা যদি দায়িত্বশীল থাকেন, তবে দেশের জন্য বড় ক্ষতি থেকে রেহাই পাবেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে, ডাক্তাররা পেশাগত দায়িত্বে অবিচল থাকলে রোগীরা সঠিক চিকিৎসা পান।

    বিশেষ করে, তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, করোনা মহামারীর সময়ে চিকিৎসকদের উল্লেখযোগ্য অবদান ছিল, এবং সবাই এর জন্য তাদের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, আপনাদের সেই সব অবদান স্মরণ করবে সবাই, এর জন্য তারা গর্বিত।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমানে স্বাস্থ্যকর্মীরা অনেক সংকটের মধ্যে আছেন, কিন্তু তিনি আশ্বাস দেন যে, দ্রুত সময়ের মধ্যে এই সকল সমস্যা সমাধানে চেষ্টা চালানো হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে, সবাই একযোগে কাজ করে গেলে হাম প্রতিরোধ সম্ভব।

    তিনি বলেন, ঢাকাসহ রাজশাহী এলাকাতেও হামের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিছু হাসপাতালে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে হামের চিকিৎসার জন্য। রাজশাহী ও মানিকগঞ্জে ভেন্টিলেটর সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে এবং অন্যান্য হাসপাতালেও এই ব্যবস্থা চালু রয়েছে। চিকিৎসক ও নার্সেরা প্রস্তুত রয়েছেন আক্রান্ত রোগীদের সুস্থ করতে।

    মন্ত্রী আরও জানান, ২০১৮ সালের পর থেকে দেশের কোন করোনাভাইরাস রোগের টিকা ক্যাম্পেইন চালানো হয়নি। তবে, নতুন করে টিকা সংগ্রহের জন্য ইতিমধ্যে ৬০৪ কোটি টাকার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই ইউনিসেফের মাধ্যমে এই জরুরি টিকা সরবরাহ শুরু হবে, ফলে হামের বিস্তার রোধের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ গ্রহণ সম্ভব হবে।

  • প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য: কৃষক ও নারীরা কার্ডের টাকা বিদেশে পাচার করবেন না

    প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য: কৃষক ও নারীরা কার্ডের টাকা বিদেশে পাচার করবেন না

    ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষক কার্ডে ব্যয় হওয়া অর্থের কারণে যদি মূল্যস্ফীতি ঘটে, এই বিষয়টি নিয়ে সংসদে বিরোধী দলের সদস্যরা প্রশ্ন তুলেছিলেন। তার জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট করেন, ‘আমরা টাকা ছাপিয়ে দিচ্ছি না, যা থেকে মূল্যস্ফীতি সৃষ্টি হবে। সুতরাং, এই লক্ষ্য নয় যে মূল্যস্ফীতি হবে। বরং আমরা যারা এই টাকা পাবেন, অর্থাৎ কৃষক ও নারীরা, তারা নিশ্চয়ই এই অর্থ বিদেশে যেমন সিঙ্গাপুর কিংবা অন্য কোনো দেশে পাচার করবেন না। বরং এই টাকা এদেশের অর্থনীতিতে সরাসরি ব্যয় হবে। এর ফলে স্থানীয় অর্থনীতিতে বিনিয়োগ বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।’ বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে চলমান অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান প্রথমবারের মতো প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের উত্তর দেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এ প্রশ্নোত্তর কার্যক্রমের প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত ছিল। এ সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আখতার হোসেন তাঁর সম্পূরক প্রশ্নে জানতে চান, ‘কত জন এবং কত পরিবারকে কার্ড প্রদান করা হবে, এই প্রকল্পের জন্য মোট কত বাজেট বরাদ্দ হয়েছে? এছাড়াও, যদি এই প্রকল্পের চলাকালে বা বাস্তবায়নের সময় মুদ্রাস্ফীতি বা মূল্যস্ফীতি বাড়তে শুরু করে, তখন সরকারের অবস্থা কী হবে?’

  • সাগর-রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন ১২৫ বার পেছালো

    সাগর-রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন ১২৫ বার পেছালো

    সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আবারও দাখিল করতে পারেনি তদন্তকারী সংস্থা। বুধবার (১ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালতে নির্ধারিত দিনে পিবিআইর তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল না করায় আদালত তা ৭ মে পর্যন্ত ঝুলি করেন। এ নিয়ে মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সূচি মোট ১২৫ বার পিছিয়েছে।

    এই মামলা দীর্ঘ সময় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) কাছে তদন্তাধীন ছিল। বাদীপক্ষের আবেদনের পর গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ হাইকোর্ট একটি টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন। বর্তমানে মামলার তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

    মামলায় এখন পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্যতম রুনির বন্ধু তানভীর রহমান। অন্য আসামিরা হলেন বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী এনাম আহমেদ (ওরফে হুমায়ুন কবির), রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মিন্টু (ওরফে বারগিরা মিন্টু/মাসুম মিন্টু), কামরুল হাসান অরুন, পলাশ রুদ্র পাল এবং আবু সাঈদ। এদের মধ্যে তানভীর ও পলাশ রুদ্র জামিনে রয়েছে; বাকি আসামিরা এখনও কারাগারে রয়েছেন।

    মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে সাগর সরওয়ার (মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক) ও মেহেরুন রুনি (এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক) খুন হন। পরদিন ভোরে তাদের ক্ষত-বিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ১২ ফেব্রুয়ারি রুনির ভাই নওশের আলী রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা দায়ের করেন। প্রথমদিকে শেরেবাংলা নগর থানার একজন কর্মকর্তা মামলাটি তদন্ত শুরু করেন, পরে ১৬ ফেব্রুয়ারি তদন্তভার পান গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. রবিউল আলম।

    তারপর দুই মাস পর হাইকোর্টের আদেশে মামলার তদন্ত দেওয়া হয় র‌্যাবকে। বহুবছর বিভিন্ন ধাপে তদন্ত ও আদালতী কার্যক্রম চলার পরেও দীর্ঘ বিরতি ও দফায় দফায় সময় বদলে প্রতিবেদন দাখিল বাকি থাকায় পরিবার ও সাংবাদিক মহলে নিরাশা দেখা দিয়েছে। আগামী ৭ মে আদালত যখন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন ধার্য করেছেন, তখন কেবল তখনই মামলার তদন্তকাজে অগ্রগতি কতটা হয়েছে তা জানা যাবে।

  • সংবিধান সংস্কার ঘিরে বিরোধীদলের সংসদীয় ওয়াকআউট

    সংবিধান সংস্কার ঘিরে বিরোধীদলের সংসদীয় ওয়াকআউট

    বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশন থেকে বিরোধী দলের সদস্যরা বিরোধ প্রকাশ করে কক্ষে ত্যাগ করেছেন। তাদের অভিযোগ, সংবিধান সংস্কার পরিষদ আহ্বানের প্রশ্নে সংসদে দীর্ঘ আলোচনা হলেও এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত আসেনি, তাই তারা প্রতিবাদ হিসেবে বিরতিহীনভাবে সেশন ত্যাগ করেন।

    অনির্ধারিত আলোচনায় ডা. শফিকুর রহমান আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, মন্ত্রীর বক্তব্যে তার পূর্বের বক্তব্য ঠিকভাবে অনুধাবন হয়নি—তবে তিনি বিশ্বাস করতে চান না যে তা ইচ্ছে করে করা হয়েছে। তিনি স্মরণ করান যে গতকালের প্রধান আলোচনার বিষয় ছিল গণভোট ও সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত প্রস্তাবিত পরিষদ আহ্বান।

    আলোচনার এক পর্যায়ে মন্ত্রীর এক প্রস্তাবের প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর বলেন, যদি সংস্কার পরিষদকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ কমিটি গঠিত হয়, আমরা সেটিকে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করব। এমন কমিটিতে সরকার ও বিরোধী দল থেকে সমান সংখ্যক সদস্য থাকলে তা অধিক কার্যকর ও ফলদায়ী হবে। আমরা সংসদে এসেছে বিদ্যমান সংকট সমাধানের জন্য—নতুন সংকট তৈরির জন্য নয়।

    বিরোধীদলীয় নেতার কথ্য দাবি ছিল, এটি একটি জনগণের জীবনের সঙ্গে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—গণভোটের মতো—যেখানে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের রায়ের প্রশ্ন জড়িত। তিনি স্পিকারের মাধ্যমে এর একটি সুনির্দিষ্ট প্রতিকার বা স্পষ্ট ব্যাখ্যা আশা করেছিলেন, যা তিনি এখনও পাননি।

    স্পিকার ঘটনাস্থলে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, গতকালের প্রস্তাবটি একটি মুলতবি (অ্যাজর্নমেন্ট) প্রস্তাব ছিল, যা তার অনুপস্থিতিতে ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে গ্রহণ করা হয়েছিল। তিনি যোগ করেন যে স্বাধীন বাংলাদেশের ৫৩ বছরের সংসদীয় ইতিহাসে এধরনের মুলতবি প্রস্তাব মাত্র তিনবার গৃহীত হয়েছে—একটি আনোয়ার হোসেন মঞ্জুরের時, একটি গ্রেনেড হামলা সংক্রান্ত এবং আরেকটি নূরুল ইসলাম মণির কোস্টগার্ড সংক্রান্ত প্রস্তাব। সাধারণত বছরের পর বছর এ ধরনের প্রস্তাব দেখা যায় না।

    স্পিকার আরও বলেন, যেসব সমস্যা কেবল আইনপ্রণয়নের মাধ্যমে সমাধানযোগ্য, তাদের বিষয়ে সাধারণত মুলতবি প্রস্তাব করা হয় না; তবু সংসদে প্রাণবন্ত আলোচনা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে বিরোধী দলকে উদারভাবে কথা বলার সুযোগ দেয়া হয়েছিল। তিনি জানান, এ সংক্রান্ত আরও একটি নোটিস আজ বিবেচনায় আনা হবে এবং যারা কথা বলতে চান তাদের আজ বা আগামীকাল পর্যাপ্ত আলোচনা-সময়সহ সুযোগ দেয়া হবে।

    স্পিকার MPs-দের স্মরণ করিয়ে দেন যে এটি জনগণের সংসদ; জাতীয় গুরুত্ব সম্পন্ন যে কোনো বিষয়ে সরকারি ও বিরোধী দল মিলেই আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি (রুলস অব প্রসিডিউর) মেনে আলোচনা ফলপ্রসূ করার দায়িত্বও MPs-দেরই।

    সংক্ষিপ্তভাবে বলতে গেলে, সংবিধান সংস্কার ও সংশ্লিষ্ট কমিটি গঠনের ওপর মতবিরোধ ও স্পষ্ট সিদ্ধান্তের অনিশ্চয়তার কারণে বিরোধী দল আজ অধিবেশন ত্যাগ করেছে; স্পিকারের আশ্বাস রয়েছে যে বিষয়টি পরবর্তী আলোচনায় উন্মুক্ত করে সমাধান খোঁজা হবে।

  • আইনমন্ত্রী জানান, ২৩৫৮৬৫ রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার হয়েছে

    আইনমন্ত্রী জানান, ২৩৫৮৬৫ রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার হয়েছে

    রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলাগুলোর প্রত্যাহারে সরকারের কার্যক্রম আরও জোরদার হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে, গঠিত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এখন পর্যন্ত ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। বুধবার (১লা এপ্রিল) জাতীয় সংসদে এ তথ্য জানান আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। সংসদ অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সভাপতিত্ব করছিলেন, এবং এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে তিনি এ তথ্য দেন।

    মন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক দল ও নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কতগুলো মামলা দায়ের হয়েছে, তার বিস্তারিত পরিসংখ্যান সরকারের কাছে সংরক্ষিত নেই। তবে, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সাল থেকে ২০২৫ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত এ দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মোট ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩টি মিথ্যা এবং হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর, গত ৫ মার্চ জেলা পর্যায়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি কমিটি পুনর্গঠিত হয়। এই কমিটি মামলার আবেদনপত্র, এজাহার, অভিযোগপত্র (চার্জশিট) এবং পাবলিক প্রসিকিউটরের মতামত পর্যালোচনা করে। যদি দেখা যায় যে মামলাটি রাজনৈতিক হয়রানির উদ্দেশ্যে এবং জনস্বার্থে চালানো দরকারি নয়, তবে সেটি প্রত্যাহারের সুপারিশ করে।

    সংসদে আরও জানানো হয়, এই সুপারিশগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কার্যকর করতে ২০২৬ সালের ৮ মার্চ একটি কেন্দ্রীয় ছয় সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়, যার নেতৃত্ব দেন আইনমন্ত্রী। এই কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই এতদিনে ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহার হয়েছে। এখনো যারা মামলা প্রত্যাহার হয়নি, তাদের বিরুদ্ধে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে রাজনৈতিক হয়রানি কমানোর পাশাপাশি আইনী প্রক্রিয়াগুলো আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করার আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

  • প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করলেন, আওয়ামী লীগ আমলে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার অর্থপাচার হয়েছে

    প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করলেন, আওয়ামী লীগ আমলে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার অর্থপাচার হয়েছে

    বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বাংলাদেশের অর্থসম্পদের অপচয় এবং অবৈধ অর্থপ্রবাহের বিষয়ে জাতীয় সংসদে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, নিজেদের স্বগুপ্ত সিন্ডিকেট ও অপ্রতুল জবাবদিহিতার কারণে দেশের অর্থনীতি বিপদে পড়ছে এবং দেশের বাইরে কোটি কোটি ডলার অর্থ পাচার হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদে প্রকাশ করেন, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থপাচার হয়েছে। এই পরিমাণ অর্থে বছরে গড় ১৬ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১ দশমিক ৮ লাখ কোটি টাকা দেশের বাইরে চলে গেছে। পাচারের অর্থ বিভিন্ন দেশের ব্যাংক ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রক্রিয়ায় স্থানান্তরিত হওয়ার কারণে তা উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সাথে তথ্য বিনিময়, সম্পদ শনাক্তকরণ, ও আইনগত সহযোগিতা জোরদার করা হচ্ছে।

    প্রধানমন্ত্রী জানিয়ে থাকেন, প্রাথমিকভাবে ১০টি দেশে—যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও হংকং-চীন—অর্থপাচার গন্তব্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি দেশে (মালয়েশিয়া, হংকং, সংযুক্ত আরব আমিরাত) পারস্পরিক আইনগত সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। বাকি সাতটির সঙ্গে চুক্তি অনুমোদনের কাজ চলমান। এই কাজে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য সংস্থা নিবিড়ভাবে কাজ করছে।

    অর্থপাচারকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নেতৃত্বাধীন একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠিত হয়েছে। এই টাস্কফোರ್ಸি এখন পর্যন্ত ১১টি মামলায় পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার জন্য কার্যক্রম চালাচ্ছে। এই মামলার তদন্ত ও অনুসন্ধান চলমান। তদন্তে সহযোগিতা দেয় বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, যেমন দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ সিআইডি, এনবিআর সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল ও শুল্ক গোয়েন্দা সংস্থা।

    সম্পদ জব্দের তথ্যও তুলে ধরা হয়। সংসদে জানানো হয়, আদালতের নির্দেশে দেশের বিভিন্ন স্থানে মোট ৫৭ হাজার ১৬৮ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া বিদেশে ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি ১৩ লাখ টাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ জব্দ ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশের বাইরে-বিদেশে মোট প্রায় ৭০ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকার সম্পদ সংযুক্ত ও অবরুদ্ধ রাখা হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার ও তদন্তের জন্য ইতোমধ্যে ১৪১টি মামলায় চার্জশিট দাখিল এবং ৬টি মামলার রায় দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দুর্নীতি, মানিলন্ডারিং ও অর্থনৈতিক অপরাধ দমনে কঠোর কৌশল গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে বিদেশে পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

    সর্বশেষে, প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, আওয়ামী লীগ আমলে সংঘটিত অর্থপাচার ও দুর্নীতির বিষয়ে একটি বিস্তারিত শ্বেতপত্র প্রকাশ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা প্রক্রিয়াধীন। এটি সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, দেশের অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

  • সাগর-রুনি হত্যা মামলার প্রতিবেদন ফের পেছালো ১২৫ বার

    সাগর-রুনি হত্যা মামলার প্রতিবেদন ফের পেছালো ১২৫ বার

    সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবারও পিছিয়ে গিয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত এ মামলার প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন দিন ধার্য করেন। এই দিনটি ছিল নির্ধারিত ছিল, তবে বিচারক যথাসময়ে তদন্তকারীর অনুসন্ধান প্রতিবেদন না পেয়ে নতুন তারিখ ৭ মে নির্ধারণ করেন। এভাবে এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ১২৫ বার পেছানো হয়েছে। 

    সাগর-রুনি হত্যা মামলা দীর্ঘদিন ধরে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) তদন্তাধীন ছিল। বাদীপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে, ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্তের জন্য এক টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন হাই কোোর্ট। বর্তমানে মামলার তদন্তকারী সংস্থা হিসেবে পিবিআই কাজ করছে। 

    উল্লেখ্য, এই মামলার প্রধান আসামি হিসেবে রুনির বন্ধু তানভীর রহমানসহ মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবির, রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মিন্টু ওরফে বারগিরা মিন্টু ওরফে মাসুম মিন্টু, কামরুল হাসান অরুন, পলাশ রুদ্র পাল ও আবু সাঈদ। তাদের মধ্যে তানভীর ও পলাশ জামিনে থাকলেও অন্যরা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। 

    মামলার বিবরণীতে জানা যায়, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারে সাংবাদিকদম্পতি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি তাদের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন। আগের দিন অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারি ভোরে তাদের ক্ষত-বিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি রুনির ভাই নওশের আলী রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। প্রথমে মামলার তদন্ত দায়িত্ব ছিল শেরেবাংলা নগর থানার একজন কর্মকর্তার ওপর, পরে ১৬ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্তের ভার দেয়া হয় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. রবিউল আলমের ওপর। দুই মাস পরে হাইকোর্টের আদেশে, মামলার তদন্তের কাজটি র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) ওপর অর্পিত হয়।

  • সংসদ থেকে বিরোধী দলের ওয়ার্কআউট

    সংসদ থেকে বিরোধী দলের ওয়ার্কআউট

    বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিরোধীদলীয় সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশনের প্রশ্নে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে সংসদ থেকে ওয়ার্কআউট করেছেন। বিরোধী দলের নেতার নেতৃত্বে তারা অধিবেশন ত্যাগ করেন।

    সংসদে দীর্ঘক্ষণ আলোচনার পরেও সংবিধান সংস্কার পরিষদে আয়োজিত সভার সিদ্ধান্ত নিয়ে স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়ায় বিরোধীদল এই পদক্ষেপ নেন। নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আইনমন্ত্রী হয়তো আমার বক্তব্যকে পুরোপুরি লক্ষ্য করেননি, তবে আমি বিশ্বাস করি না যে এটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে করা হয়েছে। মূলত আমাদের আলোচনাতে প্রধান বিষয় ছিল গণভোট এবং এর সংস্কার সংক্রান্ত প্রস্তাবিত পরিষদে সভা আহ্বানের বিষয়।

    তিনি আরও যোগ করেন, সংকট নিরসনের জন্য যদি সংস্কার পরিষদে কোনও বিশেষ কমিটি গঠিত হয়, তবে আমরা সেটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করব। সেই সঙ্গে প্রস্তাব দিয়েছি, এই কমিটিতে সরকারি ও বিরোধী দল থেকে সমান সংখ্যক সদস্য রাখা হলে তা আরও কার্যকরী হবে। আমাদের লক্ষ্য হলো বিদ্যমান সংকট সমাধান, নতুন সমস্যা সৃষ্টি নয়।

    বিরোধী দলের নেতা শফিকুর রহমান বলেন, আইনমন্ত্রী তার বক্তব্যে আমার আগের কথার প্রেক্ষিতে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। আমার বক্তব্যটি আগে শেষ ছিল বলে আমি বললাম, এটি জনআকাঙ্ক্ষা ও গণভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যেখানে লাখ লাখ মানুষ অংশগ্রহণ করবে। আমরা আশা করেছিলাম স্পিকারের মাধ্যমে এর জন্য কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত বা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে শেষ পর্যন্ত কি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা আমি স্পষ্ট বুঝতে পারছি না। আমি আপনার কাছ থেকে এই বিষয়ে পরিষ্কার ও স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রত্যাশা করছি।

    এর উত্তরে স্পিকার উল্লেখ করেন, গতকালের প্রস্তাবটি ছিল একটি মুলতবি প্রস্তাব, যা তার অনুপস্থিতিতে গৃহীত হয়। বাংলাদেশের ৫৩ বছরের সংসদীয় ইতিহাসে মাত্র তিনটি মুলতবি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে, যার মধ্যে ছিল আনোয়ার হোসেন মঞ্জুরের, গ্রেনেড হামলা ও নূরুল ইসলাম মণির কোস্টগার্ড সংক্রান্ত প্রস্তাব। সাধারণত, আটকে থাকা বছরের পর বছর কোনো প্রস্তাব মুলতবি করা হয় না। তবে সংসদে ভোটের উত্তেজনা ও আলোচনার জন্য ডেপুটি স্পিকার এই প্রস্তাব গ্রহণ করেন।

    তিনি আরও বলেন, সমস্যার সমাধান কেবল আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সম্ভব, অতএব সাধারণত মুলতবি প্রস্তাব গৃহীত হয় না, তবে ভোটের মাধ্যমে সংসদে সবদলের মতামত নেওয়ার জন্য এটি গ্রহণ করা হয়েছে। আজ আমরা এই সংক্রান্ত অন্য একটি নোটিশ বিবেচনা করব। আপনার যদি বক্তব্য বাকী থাকলে আজ বা আগামীকাল আলোচনা চলবে। এটি আমাদের জনগণের সংসদ, এখানেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুসরণ করে আলোচনা ফলপ্রসূ করতে আপনাদের সরাসরি দায়িত্ব।

  • একসঙ্গে জন্ম নেওয়া যমজ ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু ট্রেনে ধাক্কায়

    একসঙ্গে জন্ম নেওয়া যমজ ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু ট্রেনে ধাক্কায়

    ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার ভুষনা লক্ষণদিয়া রেলক্রসিং এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় তাইয়েব ও তাহমিদ নামে চার বছর বয়সী যমজ ভাই নিহত হয়েছে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে, যখন তারা মধুখালি থেকে গোপালগঞ্জের ভাটিয়াপাড়া যাওয়ার পথে রেলক্রসিং পার হচ্ছিলেন।

    নিহত দুই ভাই শহরের লক্ষণদিয়া গ্রামের আকাশ শেখ ও রিমা বেগম দম্পতির সন্তান। তাদের পিতা-মাতা এখন শোকে বিহ্বল, কারণ তারা হারিয়েছেন তাদের আদরের দুলাল দুজনকেই। তারাও পাগলপ্রায় হয়ে উঠেছেন, সন্তানদের হারানোর শোক তারা সহ্য করতে পারছেন না। প্রতিবেশী ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    জানা যায়, বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে যখন তারা ট্রেনের আসার সময় পাশে থাকা একটি দোকানে চকলেট কিনতে যায়। ঠিক তখনই দ্রুতগতির ট্রেনের ধাক্কায় তারা কয়েক ফুট দূরে ছিটকে পড়ে। ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়।

    স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আকাশ ও রিমার বিয়ে পাঁচ বছর আগে হয়। তাদের সন্তান হওয়ার পর পরিবারের খুশির শেষ ছিল না। তারা আশা করেছিল তাদের লালিত সন্তানরা বড় হয়ে ভালো মানুষ হবে, কিন্তু এই মর্মান্তিক মৃত্যু তাদের স্বপ্নগুলো বিনাশ করে দিয়েছে।

    অভিভাবকদের চোখের জল যেন বয়সের অজুহাতে কমছে না; রিমা বেগম কেঁদে কেঁদে বলছেন, ‘ছেলেদের ফিরিয়ে দাও, ফিরে আয়।’ তার বুকের কান্না কেবেলায় পরিণত হয়েছে।

    এদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ, এই রেলক্রসিংটি অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে, যেখানে চার থেকে পাঁচটি গ্রামবাসীর নিয়মিত যাতায়াত। এর আগে নানা দুর্ঘটনায় কমপক্ষে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এর জন্য রেলক্রসিংটি দ্রুত সুরক্ষিত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

    মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান জানান, তিনি ঘটনাস্থলে এসে ট্রেনে অসুস্থ এবং মৃতদেহ উদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করবেন। তিনি বলেন, ‘আমরা নিহতের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে পরবর্তীতে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’