Category: অর্থনীতি

  • ৮ মাসে বাংলাদেশের বার্ষিক বাণিজ্য ঘাটতি দুই লাখ কোটি টাকায় পৌঁছাল

    ৮ মাসে বাংলাদেশের বার্ষিক বাণিজ্য ঘাটতি দুই লাখ কোটি টাকায় পৌঁছাল

    চলতি অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে বাংলাদেশে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭০৩ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকা। এই পরিমাণ প্রায় দুই গুণ বেশি গত অর্থবছরের একই সময়ে বাণিজ্য ঘাটতির তুলনায়, যেখানে ছিল ১ হাজার ৩৭১ কোটি ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক লেনদেনের সাম্প্রতিক রিপোর্টে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফেব্রুয়ারি মাসে রমজান ও তার আশেপাশে সময়ের কারণে ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল, ছোলা ও খেজুরসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি অনেক বেড়েছে। পাশাপাশি, একই সময়ের মধ্যে রপ্তানি আয় অপ্রত্যাশিতভাবে কমে যাওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতিতে আরও বাড়তি চাপ পড়ে। এর ফলস্বরূপ, দেশের অর্থনীতি যতদিন পর্যন্ত আমদানি নিয়ন্ত্রণ ও রপ্তানি বৃদ্ধি করতে না পারবে, ততদিন এই সমস্যা আরও জটিল হতে পারে।

    সরকারি হিসাব বলছে, জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ের মধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মোট ৪৬১৭ কোটি ডলার পণ্য আমদানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৪৩৭৪ কোটি ডলার। অন্যদিকে, এই সময়ের মধ্যে পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৩০০৬ কোটি ডলার, যেখানে গত বছর এই পরিমাণ ছিল ২৯০৬ কোটি ডলার। এ কারণে আমদানি-রপ্তানি ব্যবধান বেড়ে চলেছে, আর সেই কারণেই প্রথম ৮ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি আরও বৃদ্ধি পায়।

    অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, দেশের অর্থনীতি টেকসই রাখতে হলে আমদানি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রপ্তানি বাড়াতে হবে। অন্যথায়, চলমান চাপের মধ্য থেকে出口ে অপ্রত্যাশিত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের চলতি হিসাবের ঘাটতি সামান্য হলেও রয়েছে, যা ফেব্রুয়ারি শেষে দাঁড়িয়েছে ১০০ কোটি ডলার। আগের বছরের একই সময়ে সেই ঘাটতি ছিল ১৪৭ কোটি ডলার। খেয়াল করলে দেখা যাবে, সামগ্রিক লেনদেনের (ওভারঅল ব্যালেন্স) অবস্থা ইতিবাচকভাবে উন্নতি হচ্ছে, এই সময়ে তা ৩৪৩ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছর ছিল ঋণাত্মক ১১৫ কোটি ডলার।

    প্রবাসীরা অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন, তাদের পাঠানো রেমিটেন্স এই সময়ে ২ হাজার ২৪৫ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি।

    অন্যদিকে, দেশের বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) উজ্জীবিত হলেও, শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ কমে গেছে। গত বছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ের মধ্যে বিদেশি বিনিয়োগ ছিল ১০৬ কোটি ডলার, চলতি অর্থবছরে তা হ্রাস পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৮৭ কোটি ডলারে। এই সংকটজনক পরিস্থিতির কারণে বিদেশি বিনিয়োগের পোর্টফোলিও ধারায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, যেখানে প্রথম ৮ মাসে নিট বিনিয়োগ কমেছে ৮ কোটি ডলার।

  • যদি যুদ্ধ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকে, তাহলে মূল্যস্ফীতির হার ১২% ছাড়াতে পারে

    যদি যুদ্ধ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকে, তাহলে মূল্যস্ফীতির হার ১২% ছাড়াতে পারে

    মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমবে এবং জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। এসব কারণে ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের মূল্যস্ফীতির হার এখনকার ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ১২ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। পাশাপাশি, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হবে, কারণ আমদানির চাহিদা বেড়ে গেলে রিজার্ভের ব্যবহারে বৃদ্ধি হবে। বর্তমানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আনুমানিক ৩১.১২ বিলিয়ন ডলার থেকে কিছুটা কমে ২৪.২৪ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ২,৪২৪ কোটি ডলারে নেমে আসতে পারে বলে প্রাথমিক ধারণা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

    প্রসঙ্গত, যদি যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম এই বছর প্রথম প্রান্তিকে ৭০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকে অন্তত ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, তবে দেশের বাজারে দাম সামঞ্জস্য করতে হবে। এছাড়া, ডলারের বিপরীতে টাকার মান যদি ধীরে ধীরে হারায়—প্রথমত ৫ শতাংশ এবং পরে আরও ৫ শতাংশ অবমূল্যায়ন হয়—তাহলে ডিসেম্বরের মধ্যে মূল্যস্ফীতির হার ১১.৬৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এই সময়ের জন্য মূল্যস্ফীতির ভিত্তি ধরা হয়েছে ৯.৫৬ শতাংশ। একই সময়ের জন্য বৈদেশিক মুদ্রার ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে ৩ হাজার ২৭২ কোটি ডলার।

    এছাড়া, যদি চলতি বছর প্রথম প্রান্তিকে ডলারের বিপরীতে টাকার মান ৫ শতাংশ অবমূল্যায়িত হয় এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকে আরও ১০ শতাংশ অবমূল্যায়ন হয়, তাহলেও জ্বালানি তেলের অপ্রত্যাশিত মূল্যবৃদ্ধি হলে দেশের মূল্যস্ফীতির হার আরও বেশি বাড়তে পারে, যা কিনা ১২.২৮ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এর পাশাপাশি, রিজার্ভের পরিমাণ কমে যেতে পারে উল্লেখিত সময়ের মধ্যে ২ হাজার ৪২৪ কোটি ডলার পর্যন্ত।

    প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সব হিসাবই বিভিন্ন অনুমান ও ধারণার ভিত্তিতে প্রস্তুত, যেখানে জ্বালানি তেল ও ডলারের দামে বড় ধরনের অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন না হলে, ডিসেম্বরের মধ্যে মূল্যস্ফীতির হার ১০ শতাংশের বেশি হবে না। তবে, যদি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ে, তাহলে আমদানি খরচ বাড়বে এবং রিজার্ভে চাপ বাড়বে। এ পরিস্থিতিতে, সরকার যদি অভ্যন্তরীণভাবে রাজস্ব বাড়ায় ও জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখে, তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

    প্রতিবেদনটি আরও উল্লেখ করে, যদি জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বেশি বাড়ে ও ডলারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, তবে এটি দেশের মুদ্রাবাজারে দুর্বলতা সৃষ্টি করবে। মুদ্রার বিনিময় হার দুর্বল হয়ে গেলে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন পড়বে, যার ফলে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করতে হতে পারে। এর ফলে রিজার্ভ দ্রুত কমবে, এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ক্ষুণ্ন হতে পারে।

    এই পরিস্থিতি এড়াতে, রিজার্ভের চাপ কমাতে ও ডলারের সরবরাহ নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিনিময় হার কিছুটা নমনীয় করতে পারে বা ডলারের দাম কিছুটা বাড়ানোরও প্রয়োজন হতে পারে। একই সঙ্গে, দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম সামঞ্জস্য রাখতে হতে পারে, অন্যথায় মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে যাবার আশঙ্কা রয়েছে।

    সব মিলিয়ে, দেখা যাচ্ছে যে তেলের দাম বৃদ্ধির সাথে ডলার অবমূল্যায়নের প্রভাব সরাসরি দেশের মূল্যস্ফীতিতে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে, যা ভোক্তার জন্য ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতি মোটের ওপর দেশের অর্থনৈতিক ভারসাম্য ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

  • সোনার দাম আবার বেড়েছে, ভরিতে আড়াই লাখের বেশি মূল্য

    সোনার দাম আবার বেড়েছে, ভরিতে আড়াই লাখের বেশি মূল্য

    দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে সোনার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার পর আজ থেকেই নতুন দাম কার্যকর হচ্ছে। জনপ্রিয় ২২ ক্যারেটের সোনার ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) এখন নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ৫২ হাজার ৪০৯ টাকা, যা পূর্বের দাম থেকে সাড়ে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বেশি। এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে। বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এই নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, অন্যান্য ক্যারেটের সোনার দামও বেড়েছে। ২১ ক্যারেটের ভরি হবে ২ লাখ ৪০ হাজার ৯২০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৬ হাজার ৫১১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৫ টাকায়। আরও গুরুত্বপূর্ন বিষয় হলো, রুপার দামও বাড়ছে। ভরিতে ৩৫০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের রুপার দাম নির্ধারিত হয়েছে ৫ হাজার ৮৯০ টাকা। একইভাবে, ২১ ক্যারেটের রুপা ভরি হবে ৫ হাজার ৫৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৭৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ৩ হাজার ৬১৬ টাকায়। এই দাম বৃদ্ধির ফলে বাজারে সোনার ও রুপার বিক্রেতাদের জন্য নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি হয়েছে, যা ক্রেতাদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

  • ১৭ ব্যাংক লোকসানে, সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধে নেমে গেল

    ১৭ ব্যাংক লোকসানে, সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধে নেমে গেল

    ২০২৪ সালে বাজে আর্থিক অবস্থার দাপটে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে সংকট গভীর হলো—সেই বছর ১৭টি ব্যাংক নিট মুনাফা করতে ব্যর্থ হয়। সেই আর্থিক ধাক্কায় পরবর্তীতে কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে ব্যয়ও নাটকীয়ভাবে কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআর সংক্রান্ত প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালের (জানুয়ারি–ডিসেম্বর) ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মোট সিএসআর ব্যয় দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা—প্রায় ৪২ শতাংশ—কম।

    এটি গত এক দশকের মধ্যে সিএসআর খাতে সবচেয়ে নিম্নস্তরের ব্যয়। আগের নিম্নতম রেকর্ড ছিল ২০১৫ সালে, তখন খরচ ছিল ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা; তুলনায় এবারের ব্যয় প্রায় ১৮২ কোটি টাকা কম হয়েছে (৩৪.৫৭ শতাংশ)।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সিএসআর খাতে খরচ হয়েছিল ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, যা ২০২৩ সালের ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকার তুলনায় ৩০৮ কোটি টাকা বা প্রায় ৩৩ শতাংশ কম। ২০২২ সালে সিএসআর ব্যয় ছিল ১,১২৯ কোটি টাকা—অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে খরচ প্রায় ৫১৩ কোটি টাকা বা ৪৫ শতাংশেরও বেশি কমেছে।

    খাত বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হওয়া ছাত্র-জনতার আন্দোলন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পরবর্তী সরকার পরিবর্তন ব্যাংকিং খাতে বড় ধাক্কা দিয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন ব্যাংকের অনিয়ম, লুটপাট ও অর্থপাচারের তথ্য প্রকাশ পেলে কাগজে-কলমে দেখানো মুনাফা আর বাস্তব আর্থিক চিত্রের মধ্যে ফাঁক উন্মোচিত হয়। খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়ায় প্রকৃত লোকসান প্রকাশ্যে আসে এবং বিশেষ করে শরিয়াভিত্তিক কয়েকটি ব্যাংক বড় ধরনের চাপের মুখে পড়ে। সরকারি হস্তক্ষেপে দুর্বল ব্যাংকগুলোর স্থিতিশীলতা ফেরাতে একাধিক ব্যাঙ্ক একীভূত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

    ব্যাংকারদের বক্তব্য, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনও সিএসআর ব্যয় কমার একটি বড় কারণ। রাজনৈতিক সরকারের সময়ে বিভিন্ন পর্যায় থেকে অনুদান ও সহযোগিতার জন্য চাপ থাকায় ব্যাংকগুলো অনেক সময় উচ্চ মাত্রায় খরচ করত; এমনকি প্রায়শই সেগুলো সিএসআর-এর পরিধির বাইরে চলে যেত। ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের আন্দোলন ও সরকারের বদলের পর সেই চাপ অনেকটাই কমে যাওয়ায় ব্যাংক এখন তুলনামূলকভাবে বিচারে সিএসআর ব্যয় করছে।

    অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেন, সিএসআর ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জরুরি। রাজনৈতিক চাপ বা অনিয়মের কারণে অর্থ অনুৎপাদনশীল প্রকল্পে চলে গেলে সামাজিক দায়বদ্ধতার মৌলিক উদ্দেশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে—ব্যাংকগুলোকে তাদের নিট মুনাফার একটি অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে হবে; তা-ই নির্দেশে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে যথাক্রমে ৩০ শতাংশ করে, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ২০ শতাংশ এবং বাকিটা অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় করার কথা বলা হয়েছে। তবে বাস্তবে নির্দেশনার সঙ্গে মিল নেই। ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি—৩৬ শতাংশ—ব্যয় করেছে ‘অন্যান্য’ খাতে। শিক্ষায় গিয়েছে ২৮.৫৩ শতাংশ, স্বাস্থ্য খাতে জমেছে উল্লেখযোগ্য অংশ, আর পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে মাত্র ১০ শতাংশ বরাদ্দ হয়েছে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আলোচিত সময়ে ১১টি ব্যাংক সিএসআর খাতে একটিও টাকা খরচ করেনি। ওই ব্যাংকগুলো হলো: জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    এছাড়া ২০২৪ সালে লোকসানে থাকা ব্যাংকগুলোর তালিকায় রয়েছে জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    উল্লেখ্য, এই লোকসান মোকাবিলার সময়েও ছয়টি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংক সিএসআর খাতে টাকা দিয়েছে—এগুলো হল এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক।

    সারমর্মে, আর্থিক চাপ, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও প্রকাশিত অনিয়ম মিলিয়ে ব্যাংকখাতের সিএসআর ব্যয় গত কয়েক বছরে দ্রুতভাবে কমেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যাতে সামাজিক উন্নয়ন কার্যক্রম পিছিয়ে না পড়ে, তার জন্য সিএসআর-র পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও লক্ষ্যভিত্তিক বরাদ্দ জরুরি।

  • জুলাই–ফেব্রুয়ারিতে বাণিজ্য ঘাটতি ১,৬৯১ কোটি ডলার—প্রায় ২ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকা

    জুলাই–ফেব্রুয়ারিতে বাণিজ্য ঘাটতি ১,৬৯১ কোটি ডলার—প্রায় ২ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকা

    বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছর (২০২৫–২৬) জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারির প্রথম আট মাসে দেশের পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১,৬৯১ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি। এ পরিমাণ আগের অর্থবছরের একই সময়ে থাকা ১,৩৭১ কোটি ডলারের তুলনায় বাড়।

    রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ওই সময়ের আমদানি ছিল ৪ হাজার ৬১৭ কোটি ডলার (প্রায় ৪৬.১৪ বিলিয়ন ডলার), যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে পণ্য রপ্তানি আয় হয়েছে ৩০.০৩ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি বা পরিবর্তনের সীমা তুলনায় কম থাকায় আমদানির তুলনায় রপ্তানি বাড়তি চাপ সামাল দিতে পারেনি। আমদানি বৃদ্ধি এবং রপ্তানির ধীরগতির সমন্বয়ে বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ার প্রধান কারণগুলো রপ্তানি-খাত সংশ্লিষ্টরা এবং অর্থনীতিবিদরা হিসেবে দেখাচ্ছেন।

    অর্থনীতিবিদরা বলেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রমজানকে সামনে রেখে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, ডাল, খেজুরসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি বাড়ার ফলে সামগ্রিক আমদানির পরিমাণ বেড়ে গেছে। একই সময় রফতানিতে প্রয়োজনীয় গতি না থাকায় আয়ের ফারাক আরও বেড়েছে। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে আমদারি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রপ্তানি বাড়ানো প্রয়োজন; তা না হলে বাণিজ্য ঘাটতি দীর্ঘমেয়াদে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

    চলতি হিসাব ও মোট ব্যালান্স:

    বাংলাদেশ ব্যাংকের বিবরণী অনুযায়ী, কারেন্ট অ্যাকাউন্টে (চলতি হিসাব) সামান্য ঋণাত্মক অবস্থান রয়েছে। চলতি অর্থবছরে ফেব্রুয়ারির শেষে কারেন্ট অ্যাকাউন্টের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০০ কোটি ডলার, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে ঘাটতি ছিল ১৪৭ কোটি ডলার। অন্যদিকে সামগ্রিক ব্যালান্স (ওভারঅল ব্যালান্স) ইতিবাচক আছে—আলোচিত সময়ে সামগ্রিক লেনদেনের উদ্বৃত্ত ৩৪৩ কোটি ডলার এসেছে; আগের বছরের একই সময়ে এটি ঋণাত্মক ১১৫ কোটি ডলার ছিল। এই উদ্বৃত্ত অর্থাৎ সামগ্রিক ব্যালান্সে ইতিবাচকতা সরকারের বৈদেশিক দেনা-ভারি কমাতে সহায়ক বলে বিশ্লেষকরা বলছেন।

    রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক বিনিয়োগ:

    প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, উল্লেখিত আট মাসে প্রবাসী কর্মীরা মোট ২,২৪৫ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের একই সময়ের ১,৮৮৭ কোটি ডলারের তুলনায় প্রায় ২১.৪ শতাংশ বেড়েছে।

    প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) গত অর্থবছরের জুলাই–ফেব্রুয়ারিতে ছিল ১০৬ কোটি ডলার; চলতি বছর একই সময় এফডিআই এসেছে ৮৭ কোটি ডলার—অর্থাৎ কিছুটা কমেছে। শেয়ারবাজারে পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্টের দিক থেকে বিদেশি নিট অবস্থান আলোচিত সময়ে নেতিবাচক ছিল; শেয়ারবাজারে নিট বৈদেশিক বিনিয়োগ হিসেবে প্রায় ৮ কোটি ডলার নেয়া গেছে, যা আগের বছরের সেই সময়ের সমান ঘাটতির কাছাকাছি।

    সমাপ্তি:

    বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও বিভিন্ন পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদার কারণে আমদানির চাপ বাড়ায় ঘাটতির জায়গা তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে অনুরূপ ঝুঁকি মোকাবিলায় আমদানিতে নিয়ন্ত্রণ এবং রপ্তানি বৃদ্ধি—দুই দিকেই জোর দেওয়ার পরামর্শ অর্থনীতিবিদদের। দ্রুতগতিতে বৈদেশিক ভাণ্ডার শক্ত করতে নীতি প্রণেতাদের সময়মতো এবং সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

  • ৮ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ছাড়ালো ২ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকা

    ৮ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ছাড়ালো ২ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকা

    চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) প্রথম আট মাসে রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেশি থাকায় দেশের পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ ব্যালান্স অব পেমেন্ট (বিওপি) রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই সময়ের পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি এক হাজার ৬৯১ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা বাংলাদেশি টাকায় দুই লাখ সাত হাজার কোটি টাকার বেশি। গত অর্থবছরের একই সময় এই ঘাটতি ছিল এক হাজার ৩৭১ কোটি ডলার।

    রপ্তানি কমা ও আমদানির বাড়তি চাপই প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন অর্থনীতিবিদরা। বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও বহু পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকায় আমদানির খরচ বেড়েছে। এছাড়া বর্তমানে ফেব্রুয়ারি মাসে রমজানকে কেন্দ্র করে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, ডাল ও খেজুরের মতো নিত্যপণ্যের আমদানি বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক আমদানিও হাঁকেছে। একদিকে আমদানির চাপ বাড়লেও রপ্তানি আয় অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে কমে গেলে বাণিজ্য ঘাটতি তীব্র হয়।

    ব্যাংকের তথ্যে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই–ফেব্রুয়ারি সময়ে দেশে পণ্যের আমদানি হয়েছে ৪ হাজার ৬১৭ কোটি ডলার (৪৬.১৪ বিলিয়ন ডলার), যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫.৬ শতাংশ বেশি। একই সময় পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩০.০৩ বিলিয়ন ডলার। আমদানি ও রপ্তানির এই ব্যবধানেই চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ার প্রধান কারণ দেখা গেছে।

    খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে আমদানি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রপ্তানি বাড়াতে হবে। তিনি না হলে মুদ্রাস্ফীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা উভয় ক্ষেত্রেই চাপ বাড়বে এবং অর্থনীতিকে জটিল পরিস্থিতিতে পড়তে হতে পারে।

    চলতি হিসাব (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট) সম্পর্কে রিপোর্টে বলা হয়েছে, দেশ এখন সামান্য ঋণাত্মক অবস্থায় আছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে ফেব্রুয়ারি শেষে কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১০০ কোটি ডলার, যেটি আগের বছর একই সময়ে ছিল ১৪৭ কোটি ডলার।

    অন্য সূচকে সামগ্রিক লেনদেন বা ওভারঅল ব্যালান্স ভালো অবস্থায় আছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আলোচিত সময়ে সামগ্রিক লেনদেনের অবস্থান বেড়ে ৩৪৩ কোটি ডলার হয়েছে; যেখানে আগের বছরের একই সময়ে এটি ঋণাত্মক করে ১১৫ কোটি ডলার ছিল।

    রেমিট্যান্স ও বিনিয়োগের দিকে গেলে, অর্থবছরের প্রথম আট মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা মোট ২ হাজার ২৪৫ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা আগের বছরের তুলনায় শতকরা প্রায় ২১.৪ শতাংশ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।

    প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) কিছুটা কমেছে। গত অর্থবছরের জুলাই–ফেব্রুয়ারি সময়ে এটি ছিল ১০৬ কোটি ডলার, আর চলতি অর্থবছরে তা নামিয়ে এসেছে ৮৭ কোটি ডলারে। তবে শেয়ারবাজারে পোর্টফোলিও বিনিয়োগ নেগেটিভ অবস্থায় রয়েছে; প্রথম আট মাসে নিটভাবে বিদেশি বিনিয়োগে ৮ কোটি ডলার বেরিয়ে গেছে, যা আগের বছরের অনুরূপ অবস্থার সঙ্গে মিলে যায়।

    সংক্ষেপে, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ও দেশজ আমদানির বাড়তি চাহিদা মিলিত হয়ে চলতি অর্থবছরের আট মাসে বাণিজ্য ঘাটতি বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এখন আমদানি নিয়ন্ত্রণ, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ও বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের দিকে ফলপ্রসূ নীতি নেওয়া জরুরি।

  • ১৭ ব্যাংক লোকসানে; সিএসআর খাতে ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে

    ১৭ ব্যাংক লোকসানে; সিএসআর খাতে ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে

    ২০২৪ সালে দেশের ব্যাংক খাতের আর্থিক অবনতি সরাসরি পড়েছে কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে। রোববার প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নানা চাপের ফলেই গত বারো মাসে সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নামেছে এবং ১৭টি ব্যাংক নিট মুনাফা অর্জন করতে পারেনি।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে (জানুয়ারি–ডিসেম্বর) ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক মোট সিএসআর খাতে ব্যয় করেছে মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা — যা আগের বছরের তুলনায় ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা প্রায় ৪২ শতাংশ কম। এটি গত এক দশকে সিএসআর খাতে নথিভুক্ত সর্বনিম্ন ব্যয়; এর আগে ২০১৫ সালে সর্বনিম্ন ছিল ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। ওই বছরের তুলনায় এবার ব্যয় প্রায় ১৮২ কোটি টাকা (৩৪.৫৭%) কমেছে, যা খাতে নতুন নিম্নমুখী প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।

    ট্রেন্ড আরও স্পষ্ট: ২০২৪ সালে সিএসআর খাতে ব্যয় ছিল ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, যা ২০২৩ সালের ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকার তুলনায় ৩০৮ কোটি টাকা (৩৩%) কম। ২০২২ সালের ব্যয় ছিল ১,১২৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ গত দুই বছরে সিএসআর ব্যয় ৫১৩ কোটি টাকার বেশি কমেছে — প্রায় ৪৫% ক্ষেত্রে হ্রাস।

    ব্যাংকার ও খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও পরবর্তীতে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সরকার পরিবর্তনের প্রভাব ব্যাংকিং খাতকে কড়া আঘাত হেনেছে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন ব্যাংকের অনিয়ম, লুটপাট ও অর্থ পাচারের তথ্য প্রকাশ্যে আসায় কাগজে-কলমে দেখা মুনাফার বিপরীতে প্রকৃত আর্থিক চিত্র সামনে এসেছে। খেলাপি ঋণ বাড়ায় অনেক ব্যাংকের প্রকৃত লোকসান প্রকাশ পায় এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোর স্থিতিশীলতা রক্ষায় সরকার কয়েকটি ব্যাংক একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেয়।

    ব্যাংকাররা আরও জানাচ্ছেন, রাজনৈতিক প্রভাবও সিএসআর ব্যয়ের কমতে থাকা একটি বড় কারণ। রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল সময়ে বিভিন্ন পর্যায় থেকে অনুদান বা সহায়তার জন্য চাপ থাকায় ব্যাংকগুলো অনুগতভাবে ব্যয় করে; অনেক ক্ষেত্রেই এসব ব্যয় সিএসআরের প্রকৃত উদ্দেশ্য ছাড়া অন্যখাতেও হয়েছে। ২০২৪-এর জুলাই-অগাস্টে আন্দোলন ও সরকার পরিবর্তনের পর সেই চাপ অনেকটা ফুরিয়েছে, ফলে ব্যাংকগুলো এখন তুলনামূলকভাবে সংযতভাবে সিএসআর ব্যয় করছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে তাদের নিট মুনাফার একটি অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে বলা হয়েছে — তার মধ্যে ৩০% শিক্ষা, ৩০% স্বাস্থ্য, ২০% পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং বাকী ২০% অন্যান্য খাতে। কিন্তু বাস্তবে নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি ৩৬% ব্যয় করেছে ‘অন্যান্য’ খাতে; শিক্ষায় ব্যয় মাত্র ২৮.৫৩%, এবং পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে কেবল ১০% হয়েছে।

    প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, আলোচিত সময়ে ১১টি ব্যাংক সিএসআর খাতে একটাও টাকা ব্যয় করেনি। সে সব ব্যাংকের নাম — জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    একইসঙ্গে ২০২৪ সালে লোকসানে থাকা ব্যাংকগুলোর তালিকায় রয়েছেন: জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান। এর মধ্যেই ছয়টি ব্যাংক—এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক—মুনাফা না করেও সিএসআর খাতে অর্থও ব্যয় করেছে।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সিএসআর খাতের উদ্দেশ্য রক্ষা করতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জরুরি। রাজনৈতিক চাপ ও অনিয়মের কারণে অনেকসময়ই এই অর্থ অনুৎপাদনশীল কাজে ব্যয় হয়, যা সামাজিক দায়বদ্ধতার মূল লক্ষ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তারা মনে করান, ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফেরানো এবং প্রকৃত সিএসআর কার্যক্রম নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোর আর্থিক স্বচ্ছতা, কড়াকড়ি নজরদারি ও সঠিক নীতিমালা অনবশ্যক।

  • ৮ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ছাড়ালো ২ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি

    ৮ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ছাড়ালো ২ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি

    বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ বিবেচনায় চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) প্রথম আট মাসে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৬৯১ কোটি ডলারে, যা বাংলাদেশি টাকায় দুই লাখ সাত হাজার কোটি টাকায়ের বেশি। এক বছর আগে একই সময় এই ঘাটতি ছিল ১,৩৭১ কোটি ডলার।

    ইকোনোমিস্টরা বলছেন, রপ্তানির তুলনায় আমদানি দ্রুত বেড়ে যাওয়া এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দাম ঊর্ধ্বগমনের কারণে ঘাটতি বাড়েছে। বিশেষ করে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রমজানকে সামনে রেখে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, ডাল ও খেজুরের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানিতে তীব্র বাড়বাড়ন্ত হয়েছিল, যা সামগ্রিক আমদানি ব্যয় বাড়িয়েছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে দেশের ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন পণ্য আমদানি করেছেন ৪,৬১৭ কোটি ডলার (৪৬.১৪ বিলিয়ন ডলার), যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫.৬ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ৪,৩৭৪ কোটি ডলার (৪৩.৭৪ বিলিয়ন ডলার)।

    অপর দিকে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩০.০৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২.৬ শতাংশ বাড়তি। তবে রপ্তানির এই বৃদ্ধিও আমদানির ঊর্ধ্বগামী প্রবণতা মেটাতে পর্যাপ্ত হয়নি; আমদানি ও রপ্তানির ব্যবধান থেকেই বাণিজ্য ঘাটতি জোরালো হয়েছে।

    খাত সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে তাৎক্ষণিকভাবে অপ্রয়োজনীয় আমদানি নিয়ন্ত্রণ করা এবং রপ্তানি বাড়ানোর উপর জোর দিতে হবে। নীতিনির্ধারকরা দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে বৈদেশিক লেনদেন ও মুদ্রা সংরক্ষণে চাপ বেড়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

    চলতি হিসাব-ঘাটতি: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে ফেব্রুয়ারি শেষ পর্যন্ত কারেন্ট অ্যাকাউন্টের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১০০ কোটি ডলার, যেখানে এক বছর আগে একই সময় এটি ছিল ১৪৭ কোটি ডলার। অর্থাৎ চলতি হিসাবের ঘাটতি কিছুটা সংকুচিত হয়েছে।

    ওভারঅল ব্যালান্স: সামগ্রিক লেনদেনের (ওভারঅল ব্যালান্স) অবস্থাও ভালো রয়েছে — আলোচিত সময়ে এটি ধনাত্মক অবস্থায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪৩ কোটি ডলার, যেখানে আগের বছর একই সময়ে এটি ঋণাত্মক ১১৫ কোটি ডলার ছিল।

    রেমিট্যান্স ও বিনিয়োগ: অর্থবছরের প্রথম আট মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা মোট ২,২৪৫ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ২১.৪ শতাংশ বাড়িয়েছে (গত বছর ছিল ১,৮৮৭ কোটি ডলার)।

    প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) কিছুটা কমে এসেছে — গত বছর জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে ১০৬ কোটি ডলারের বিপরীতে চলতি বছরে এফডিআই এসেছে ৮৭ কোটি ডলার। অন্যদিকে শেয়ারবাজারে পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্টে নেট আউটফ্লো হয়েছে; চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে শেয়ারবাজারে বিদেশি নিট বিনিয়োগ থেকে প্রায় ৮ কোটি ডলার বাইরে গেছে, যা গত বছরের পর্যায়ও ছিল প্রায় একই রকম ঋণাত্মক পরিমাণ।

    সারসংক্ষেপ: তথ্যগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, যদিও রেমিট্যান্স ও সামগ্রিক ব্যালান্স ধনাত্মক করে দেশের অবস্থান সচ্ছল রাখা হয়েছে, তবু আমদানির অতিবৃদ্ধি ও বৈশ্বিক মূল্য ওঠানামার কারণে পণ্য বাণিজ্যের ঘাটতি বাড়ছে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য আমদানির নিয়ন্ত্রণ ও রপ্তানি বাড়ানোর সুষ্পষ্ট নীতি গ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন বিশ্লেষকরা।

  • লোকসানে ১৭ ব্যাংক, সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নামল

    লোকসানে ১৭ ব্যাংক, সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নামল

    ২০২৪ সালে দেশের ব্যাংক খাত কঠিন বাস্তবতার মুখে পড়ে: বছরজুড়ে আর্থিক চাপের কারণে ১৭টি ব্যাংক নিট মুনাফা অর্জন করতে পারেনি। তারই প্রভাব পরস্পরেই পড়েছে কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে — বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে ২০২৫ সালের (জানুয়ারি–ডিসেম্বর) সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক ২০২৫ সালে সিএসআর খাতে মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। এটি আগের বছরের তুলনায় ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা প্রায় ৪২ শতাংশ কম। এ ব্যয় গত এক দশকে সবচেয়ে ন্যূনতম; আগে সর্বনিম্ন ছিল ২০১৫ সালে ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা — তাতে এই বার প্রায় ১৮২ কোটি টাকা বা ৩৪.৫৭ শতাংশ কমতি রয়েছে, যা খাতে নতুন নিম্নমুখী প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।

    তথ্যগুলো আরো বলছে, ২০২৪ সালে সিএসআর ব্যয় ছিল ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, যা ২০২৩ সালের ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকার তুলনায় প্রায় ৩০৮ কোটি টাকা বা ৩৩ শতাংশ কম। ২০২২ সালে খাতে ব্যয় ছিল ১,১২৯ কোটি টাকা; অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে সিএসআর ব্যয় কমেছে ৫১৩ কোটি টাকার ওপরে, যা ৪৫ শতাংশেরও বেশি।

    খাতের প্রতিনিধিরা ও ব্যাংকাররা বলছেন, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি ছাত্র-জনতার আন্দোলন, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং পরে সরকারের পরিবর্তন ব্যাংকিং খাতে বড় ধাক্কা দিয়েছে। একই সময়ে ব্যাংকগুলোর অনিয়ম, লুটপাট ও অর্থপাচারের অনেক তথ্য প্রকাশ্যে আসায় কাগজে-কলমে প্রদর্শিত মুনাফার সঙ্গে প্রকৃত আর্থিক চিত্রের ফারাক খুলে পড়ে। খেলাপি ঋণ বাড়ার ফলে প্রকৃত লোকসান সামনে আসে এবং বিশেষ করে শরিয়াভিত্তিক কয়েকটি ব্যাংক বড় ধরনের চাপগ্রস্ত হয়। দুর্বল ব্যাংকগুলোর স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার একাধিক ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

    ব্যাংকাররা আরও বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনও সিএসআর ব্যয় হ্রাসে একটি বড় কারণ। পূর্ববর্তী রাজনৈতিক সময়ে বিভিন্ন পর্যায় থেকে অনুদান বা সহায়তার জন্য চাপ থাকায় ব্যাংকগুলোকে অনেকে অনুরোধ পেত — শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিভিন্ন অনুষ্ঠান ইত্যাদিতে ব্যয় করতে হতো; এমনকি অনেক ক্ষেত্রেই এসব খরচ সিএসআরের প্রকৃত আওতার বাইরে চলে যেত। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলন ও আগস্টে সরকারের পরিবর্তন পর সেই চাপ অনেকটাই কমে যায়; ফলে ব্যাংকগুলো এখন তুলনামূলকভাবে বিবেচনা করে সিএসআর ব্যয় করছে।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি, কারণ রাজনৈতিক প্রভাব কিংবা চাপের কারণে অনেক সময় এই অর্থ অনুৎপাদনশীল কাজে ব্যয় হয় এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার মূল উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংকগুলোকে তাদের নিট মুনাফার একটি অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে বলা হয়েছে: তাতে ৩০ শতাংশ শিক্ষা, ৩০ শতাংশ স্বাস্থ্য এবং ২০ শতাংশ পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ব্যয়ের কথা বলা আছে; বাকি ২০ শতাংশ অন্যান্য খাতে ব্যয় করা যায়। বাস্তবে অনুপাত ভাঙাচোড়া হয়ে গেছে: ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি ৩৬ শতাংশ ব্যয় করেছে ‘অন্যান্য’ খাতে, শিক্ষায় ব্যয় ছিল ২৮.৫৩ শতাংশ, স্বাস্থ্য খাতে উল্লেখযোগ্য অংশ এবং পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে মাত্র ১০ শতাংশ।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে আলোচিত সময়ে ১১টি ব্যাংক সিএসআর খাতে কোনো অর্থই ব্যয় করেনি। এসব ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে: জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    একই প্রতিবেদনে ২০২৪ সালে লোকসানে থাকা ব্যাংকগুলোর তালিকাও দেয়া হয়েছে। তাতে রয়েছে: জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান। এর মধ্যে ছয়টি ব্যাংক মুনাফা না করেও সিএসআর খাতে অর্থ ব্যয় করেছে: এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক।

    সংক্ষেপে, ব্যাংকিং খাতে আর্থিক অবনতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব সরাসরি সিএসআর ব্যয়ের সংকোচনে দেখা যাচ্ছে। এটি সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে—তাই কেবল ব্যয়ের পরিমাণ নয়, ব্যয়ের লক্ষ্য ও স্বচ্ছতাও নিশ্চিত করা এখন সময়োপযোগী সমস্যাগুলোর মধ্যে একটি।

  • ৮ মাসে বাংলাদেশে বাণিজ্য ঘাটতি ছাড়ালো দুই লাখ কোটি টাকা

    ৮ মাসে বাংলাদেশে বাণিজ্য ঘাটতি ছাড়ালো দুই লাখ কোটি টাকা

    চলতি অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেশি হওয়ায় এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানিসহ নানা পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। দেশের বাণিজ্য ঘাটতি এখন দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকা বা ১ হাজার ৬৯১ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের এই সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। detailed তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৩৭১ কোটি ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, দেশের বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্য এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ চিত্র দেখাচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, রমজান মাসে ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল, ছোলা ও খেজুরসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি বেড়ে যাওয়ায় এবং একই সময়ে রপ্তানি কমে যাওয়ায় এই ঘাটতি আরও বেড়েছে। দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে হলে আমদানি নিয়ন্ত্রণ এবং রপ্তানি বাড়ানো জরুরি, অন্যথায় অর্থনৈতিক সংকট অব্যাহত থাকবে। এবার এক নজরে অর্থনীতির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো: চলতি বছর জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের পণ্য আমদানি হয়েছে ৪৬ হাজার ১৭ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। অপর দিকে, একই সময়ে পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৩০ হাজার ৩ ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ২ দশমিক ৬ শতাংশ কম। এই আমদানি ও রপ্তানির ব্যবধানই মূল কারণ, যাতে চলতি বছরে বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষकों বলছেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানিসহ পণ্যের মূল্য‌্য ঊর্ধ্বমুখী থাকায় দেশের বাণিজ্য পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। দেশের বৈদেশিক চালান বা প্রবাসী রেমিট্যান্সও আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে; প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স এই বছর প্রথম আট মাসে ২১ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২ হাজার ২৪৫ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। তবে, দেশের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) কিছুটা কমে যাচ্ছে, গত বছর জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে এই বিনিয়োগ ছিল ১০৬ কোটি ডলার, যা এবার ৮৭ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, দেশের শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ নেতিবাচক অবস্থানে যাচ্ছে, অর্থাৎ বিদেশি বিনিয়োগ বন্ধ বা কমে যাচ্ছে। প্রথম আট মাসে শেয়ার বাজারে বিদেশিদের নিট বিনিয়োগ ৮ কোটি ডলার কমেছে, যা আগের বছরও ছিল ঋণাত্মক। এই পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হলে দ্রুত উন্নতি ও সমন্বয় দরকার।