Category: অর্থনীতি

  • যুদ্ধের অব্যাহত থাকলে মূল্যস্ফীতি ১২% ছাড়াতে পারে

    যুদ্ধের অব্যাহত থাকলে মূল্যস্ফীতি ১২% ছাড়াতে পারে

    মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দেশের অর্থনীতির উপর নেতিবাচक প্রভাব আরও কঠোরভাবে আঘাত হানবে। এর ফলে ডলারপ্রতিরোধে টাকার মান কমে যাবে, এবং জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। এই দুই চ্যালেঞ্জ দেশের মূল্যস্ফীতির হার ডিসেম্বরের মধ্যে বর্তমানে ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ১২ শতাংশের কাছাকাছি চলে যেতে পারে, পাশাপাশি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও চাপ বাড়বে।

    বিশ্লেষকদের মতে, এ পরিস্থিতিতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ সম্ভবত ৩১ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ২৪ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলারে নামতে পারে, যা বিপুল অর্থনৈতিক চাপে পরিণত হবে। তবে যদি জ্বালানি তেলের দাম বেশি না বাড়ে এবং সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকে, তাহলে ধীরে ধীরে অর্থনীতি স্বাভাবিক হতে পারে। এর ফলে আমদানির চাপ কমে যাবে এবং টাকার মূল্যবৃদ্ধি বা অবমূল্যায়ন কমে আসবে, যা মূল্যস্ফীতির ওপর কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আনতে পারে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক এই বিষয়ক এক বিশ্লেষণে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম যদি প্রথম প্রান্তিকে ৭0 শতাংশ এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকে আরও ৩০ শতাংশ বাড়ে, তাহলে দেশের বাজারে তেলের দাম বাড়াতে হবে। এর সাথে ডলারের বিপরীতে টাকার মান যদি ৫ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ অবমূল্যায়িত হয়, তাহলে ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ১১ দশমিক ৬৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এই সময়ের জন্য মূল ভিত্তি ধরা হয়েছে ৯ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

    প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সম্ভবত ৩ ট্রিলিয়ন ২৭২ কোটি ডলার থেকে কমে ২ ট্রিলিয়ন ৬০৬ কোটি ডলারে নেমে আসতে পারে, যদি এই হার অব্যাহত থাকে ও জ্বালানি মূল্যের অপ্রত্যাশিত বৃদ্ধি ঘটে। তবে, যদি বিশ্ববাজারে তেলের দাম অপ্রত্যাশিতভাবে না বাড়ে, তাহলে ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতির হার প্রায় ১০ শতাংশের কাছাকাছি থাকতে পারে।

    এছাড়াও, অন্য এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যদি প্রথম প্রান্তিকে ডলারের বিপরীতে টাকার মান ৫ শতাংশ এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১০ শতাংশ অবমূল্যায়িত হয়, এবং জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, তাহলে এই বছর ডিসেম্বরের মধ্যে মূল্যস্ফীতির হার ১২ দশমিক ২৮ শতাংশে যেতে পারে, এবং রিজার্ভ ২ ট্রিলিয়ন ২৪২ কোটি ডলারে নেমে যেতে পারে।

    সিদ্ধান্তে দেখা যায়, মূল্যস্ফীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ে হিসাবের ওপর ভিত্তি করে এসব প্রাক্কলন করা হয়েছে। এর সাথে মনে রাখতে হবে, যদি আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বড় ধরনের পরিবর্তন না ঘটে, তবে ডিসেম্বরের মধ্যে মোট মূল্যস্ফীতির হার প্রায় ১০ শতাংশের মতো থাকতে পারে।

    উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মার্চ মাসে দেশের মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৭১ শতাংশ, এবং রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ৪৪৩ কোটি ডলার।

    অন্যদিকে, বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই বছর প্রথম প্রান্তিকে ডলার-টাকার বিনিময় হার ৫ শতাংশ অবমূল্যায়িত হয়, দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১০ শতাংশ অবমূল্যায়িত হয় এবং জ্বালানি তেলের দাম অপ্রত্যাশিতভাবে বাড়ে, তবে ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ১২.২৮ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এর ফলে রিজার্ভের পরিমাণ কমে যেতে পারে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য চিন্তার কারণ।

    সার্বিকভাবে দেখা যায়, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি ও ডলের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত মূল্যস্ফীতির চাপ সৃষ্টি করবে। এই পরিস্থিতিতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংককে হস্তক্ষেপ করতে হতে পারে, এর ফলে বাজারে ডলার বিক্রির পরিমাণ বাড়বে, রিজার্ভ কমে যাবে। পাশাপাশি, দেশের অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে জ্বালানি তেলের দামের সামান্য বাড়ানো প্রয়োজন হতে পারে।

    সব শেষে, বিশ্লেষকদের মতে, এই সব প্রভাবে তেলের দামের বৃদ্ধির সঙ্গে ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন মূলত দেশের ভোক্তার জীবনযাত্রার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়িয়ে দেবে।

  • সোনার দাম বড় রকমের বৃদ্ধি, ভরিতে বেড়েছে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার টাকা

    সোনার দাম বড় রকমের বৃদ্ধি, ভরিতে বেড়েছে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার টাকা

    দেশের বাজারে আবারো বড় ধরনের বৃদ্ধি পেয়েছে সোনার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ঘোষণা করেছে যে, আগামী থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে। ভরিতে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার টাকার বেশি যোগ হয়ে এখন এক ভরি ২২ ক্যারেটের সোনার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫২ হাজার ৪০৯ টাকা।

    বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে আসন্ন বাজেট ও বাজার পরিস্থিতির পর্যালোচনায় এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বাজুসের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) দামে বৃদ্ধির ফলে এই নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন দামে, ২২ ক্যারেটের সোনার প্রতি ভরি কিনতে হবে ২ লাখ ৫২ হাজার ৪০৯ টাকা। অন্য ক্যারেটে অর্থাৎ, ২১ ক্যারেটের জন্য ২ লাখ ৪০ হাজার ৯২০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ৬ হাজার ৫১১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার ক্ষেত্রে প্রতি ভরি দাম রাখা হয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৫ টাকা।

    সোনার পাশাপাশি রুপার দামেও বৃদ্ধি দেখতে পাওয়া গেছে। ভরিতে ৩৫০ টাকা বাড়িয়ে রুপার নতুন দাম হল ৫ হাজার ৮৯০ টাকা ২২ ক্যারেটের জন্য। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৫ হাজার ৫৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৭৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য নির্ধারিত ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৬১৬ টাকা।

  • জিডিপির প্রবৃদ্ধি আবার নিম্নমুখী

    জিডিপির প্রবৃদ্ধি আবার নিম্নমুখী

    চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশের মোট জিডিপির বৃদ্ধি আবার কমে গেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, অক্টোবর-ডিসেম্বরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৩.০৩ শতাংশ, যা আগে গত বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে ছিল ৪.৯৬ শতাংশ। এর আগে, গত অর্থবছরের একই সময়ে প্রবৃদ্ধি ছিল ৩.৩৫ শতাংশ। এই দুই সময়ের তুলনায় অর্থনীতির উন্নয়ন ধীর হয়ে এসেছে। এতে বোঝা যায় যে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি আবার হতাশাজনক হয়ে পড়ছে।

    বিবিএসের প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে যে, বিশ্ববাজারে গ্যাস এবং জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে, কারণ সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়, যার পরে যুদ্ধ আরও ছড়িয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং দেশের জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব সরাসরি দেশীয় অর্থনীতির ওপর পড়ছে, ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি, বিগত নির্বাচিত ও নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরও অর্থসংকটের কারণে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে পর্যাপ্ত অর্থ বিনিয়োগ করা যাচ্ছে না। এসব কারণে দেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি গতিবেগ থমকে দাঁড়িয়েছে।

    সংবাদ অনুযায়ী, এই প্রান্তিকে শিল্পখাতে সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যা ১.২৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এর مقابلতে কৃষি খাতে ৩.৬৮ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৪.৪৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। মনে রাখতে হবে, এর আগে অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে শিল্পখাতে প্রবৃদ্ধি ছিল ৬.৮২ শতাংশ, যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। কৃষি ও সেবা খাতে আগের বছরের সঙ্গে তুলনা করলে এখনো প্রবৃদ্ধি বাড়ছে, কিন্তু শিল্পখাতে কমে যাওয়ায় মোট জিডিপির মানে বেশ اثر ফেলছে।

    অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ছিল ২.০৫ শতাংশ, যেখানে প্রথম প্রান্তিকে তা বেড়ে ৪.৯৬ শতাংশে চলেছিল। এখন আবার কমে যাওয়ায় সংশয় তৈরি হয়েছে যে, এই বছর জিডিপির নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সমস্যা দেখা দিতে পারে। সবমিলিয়ে, বর্তমানে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বেশ অনিশ্চিত, এবং আরও চ্যালেঞ্জ পত্ৰের মুখোমুখি দেশের অর্থনীতি।

  • ২০২৪ সালে ব্যাংক খাতে লোকসান ও সিএসআর ব্যয়ের ধারাবাহিক হ্রাস

    ২০২৪ সালে ব্যাংক খাতে লোকসান ও সিএসআর ব্যয়ের ধারাবাহিক হ্রাস

    ২০২৪ সাল বাংলাদেশের ব্যাংক শিল্পের জন্য ছিল একটি চ্যালেঞ্জপূর্ণ বছর। অর্থনৈতিক অস্থিরতা, রাজনৈতিক হিংসা-অশান্তি এবং ব্যাংকিং খাতে বিভিন্ন অন্যায্য স্বেচ্ছাচারিতা এই শিল্পের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। বছরজুড়ে বেশ কিছু ব্যাংক নিট মুনাফা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং এমন পরিস্থিতিতে তাদের কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

  • ৮ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ছাড়ালো ২ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকা

    ৮ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ছাড়ালো ২ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকা

    চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) প্রথম আট মাসে রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেশি থাকায় দেশে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি বেড়ে এক হাজার ৬৯১ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। এটি বাংলাদেশি টাকায় প্রায় দুই লাখ সাত হাজার কোটি টাকার বেশি। গত অর্থবছরের একই সময়ে ওই ঘাটতি ছিল এক হাজার ৩৭১ কোটি ডলার।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ ব্যালান্স অব পেমেন্ট (বিওপি) প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা এবং খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও নানা পণ্যের দাম বাড়ায় এবং ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, ডাল, খেজুরসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে রপ্তানি আয় সেভাবে বাড়েনি, ফলে বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ার চাপ বাড়েছে।

    তথ্য অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের জুলাই–ফেব্রুয়ারি সময়ে পণ্যের আমদানি হয়েছে ৪৬.১৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫.৬ শতাংশ বেশি (গত বছর একই সময়ে আমদানি ছিল ৪৩.৭৪ বিলিয়ন ডলার)। পক্ষান্তরে ওই সময়ে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩০.০৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় অল্প বাড়া—প্রায় ২.৬ শতাংশ বেশি (গত বছর ছিল ২৯.২৬ বিলিয়ন ডলার)। আমদানি ও রপ্তানির এই ব্যবধানেই চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে বড় আকারের বাণিজ্য ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

    খাত সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করছেন, দেশের অর্থনীতি স্বাভাবিক রাখতে আমদানিকে নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রপ্তানি বাড়ানো অতীব জরুরি। তা না হলে বৈদেশিক ভারসাম্যে আরও চাপ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    চলতি হিসাব বা কারেন্ট অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাধারণভাবে চলতি অ্যাকাউন্ট উদ্বৃত্ত থাকলে দেশের নিয়মিত লেনদেনে বহির্বিশ্বের কাছে নির্ভরতা কম থাকে; কিন্তু বর্তমানে কারেন্ট অ্যাকাউন্ট সামান্য ঋণাত্মক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি শেষে চলতি হিসাব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১০০ কোটি ডলার, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে ঘাটতি ছিল ১৪৭ কোটি ডলার।

    সমগ্র ব্যালান্সে বাংলাদেশের অবস্থান ভালো থাকবে—আলোচিত সময়ে ওভারঅল ব্যালান্স ইতিবাচক ৩৪৩ কোটি ডলার হয়েছে, যেখানে前年 একই সময়ে এটি ঋণাত্মক ১১৫ কোটি ডলার ছিল।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অর্থবছরের প্রথম আট মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা মোট ২,২৪৫ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২১.৪ শতাংশ বৃদ্ধি (গত বছর ছিল ১,৮৮৭ কোটি ডলার)।

    প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) নিয়েও পাল্লা মেলে—গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই–ফেব্রুয়ারিতে দেশ পেয়েছিল ১০৬ কোটি ডলারের এফডিআই; এ বছর ওই সময়ে এফডিআই এসেছে ৮৭ কোটি ডলার। অন্য দিকে শেয়ারবাজারে পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্ট নেট হিসেবে নেতিবাচক অবস্থায় আছে; চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে শেয়ারবাজারে নিটভাবে প্রায় ৮ কোটি ডলার বেরিয়ে গেছে, যা আগের অর্থবছরেও অনুরূপভাবেই ছিল।

    বিশ্ববাজারের মূল্যউত্থান, বিশেষ করে জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং রপ্তানি বৈচিত্র্য বাড়ানো—এই দুই কার্যকর উপায় অবলম্বন না করলে ভবিষ্যতে বৈদেশিক মুদ্রার অভাব ও আর্থিক চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েই যায়, মনে করাচ্ছে অর্থনীতিবিদরা।

  • ১৭টি ব্যাংক লোকসানে, সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধেক কমেছে

    ১৭টি ব্যাংক লোকসানে, সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধেক কমেছে

    ২০২৪ সালে দেশের বীমা-ব্যাংকিং খাত একটি কষ্টকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছে—বছরজুড়ে আর্থিক চাপের ফলে ১৭টি ব্যাংক নিট মুনাফা করতে পারেনি এবং মুনাফা করা ব্যাংকগুলোরও আয় প্রত্যাশার চেয়ে বেশ কমেছে। তার প্রভাব সরাসরি পরিলক্ষিত হয়েছে কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) ব্যয়ে; ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ সিএসআর সংক্রান্ত প্রতিবেদন বিশ্লেষণে বলা হয়েছে যে ২০২৫ সালের (জানুয়ারি–ডিসেম্বর) সময়কালে দেশের ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক সিএসআর খাতে মোট মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা খরচ করেছে। এর ফলে আগের বছরের তুলনায় ব্যয় কমেছে ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা, যা প্রায় ৪২ শতাংশ পতন।

    গত এক দশকে এটি সিএসআর খাতে সর্বনিম্ন ব্যয়। এর আগে ২০১৫ সালে সেক্টরে সর্বনিম্ন ব্যয় ছিল ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা—তার তুলনায় এবারের ব্যয় প্রায় ১৮২ কোটি টাকা বা প্রায় ৩৪.৫৭ শতাংশ কমেছে, যা খাতে নতুন নিম্নমুখী প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যান্য পরিসংখ্যানও উদ্বেগজনক: ২০২৪ সালে ব্যাংকগুলোর সিএসআর ব্যয় ছিল ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ৩০৮ কোটি টাকা বা ৩৩ শতাংশ কম। ২০২৩ সালে ব্যয় ছিল ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা এবং ২০২২ সালে ১,১২৯ কোটি টাকা—অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে সিএসআর ব্যয় কমেছে ৫১৩ কোটি টাকা, যা ৪৫ শতাংশের বেশি পতন।

    শিল্প-জ্ঞ এবং ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ের ছাত্র ও জনতা আন্দোলন, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আগস্টে সরকার পরিবর্তনের প্রভাব ব্যাংকিং খাতে বড় ধাক্কা দিয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন ব্যাংকের অনিয়ম, লুটপাট ও অর্থ পাচারের তথ্য প্রকাশ্যে আসায় কাগজে-কলমে দেখানো ‘মুনাফা’ আর বাস্তব আর্থিক চিত্রের সঙ্গে মিলে যায়নি। খেলাপি ঋণ বাড়ায় প্রকৃত লোকসানের হিসাবও সামনে এসেছে। বিশেষ করে শরিয়াভিত্তিক কয়েকটি ব্যাংক বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার কিছু দুর্বল ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

    ব্যাংক কর্মকর্তাদের মতের এক বড় কারণ অভ্যন্তরীণ: রাজনৈতিক চাপও সিএসআর ব্যয় কমার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। আগে রাজনৈতিক সরকারের সময় বিভিন্ন পর্যায় থেকে অনুদান বা সহায়তার জন্য চাপ থাকত, ফলে ব্যাংকগুলো নানা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সাংস্কৃতিক বা স্থানীয় কাজে বেশি ব্যয় করত—অনেক ক্ষেত্রেই তা সিএসআর-এর মূল উদ্দেশ্যের বাইরে গিয়েছিল। ২০২৪ সালের আন্দোলন ও পরে সরকার বদলের পর সেই চাপ অনেকটাই কমেছে; ফলে ব্যাংকগুলো এখন তুলনামূলকভাবে কড়া বিবেচনায় সিএসআর খরচ করছে।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা আবশ্যক। রাজনৈতিক চাপ বা অনিয়মের কারণে অনুৎপাদনশীল প্রকল্পে অর্থ খরচ হলে সামাজিক দায়বদ্ধতার মূল উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা আছে যে ব্যাংকগুলোকে তাদের নিট মুনাফার একটি অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে হবে—তার মধ্যে ৩০ শতাংশ শিক্ষায়, ৩০ শতাংশ স্বাস্থ্যখাতে এবং ২০ শতাংশ পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় রাখতে হবে; বাকি ২০ শতাংশ অন্যান্য খাতে ব্যয় করা যাবে। কিন্তু বাস্তবে নির্দেশনা পুরোপুরি মানা হচ্ছে না। ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি—৩৬ শতাংশ—ব্যয় করেছে ‘অন্যান্য’ খাতে; শিক্ষায় ব্যয় হয়েছে ২৮.৫৩ শতাংশ এবং পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে কেবল মাত্র ১০ শতাংশ।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী আলোচিত সময়কালে ১১টি ব্যাংক সিএসআর খাতে কোনো অর্থই ব্যয় করেনি। সেসব ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে: জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    আরেকটি উদ্বেগজনক দিক—বিগত বছরে লোকসানে থাকা ব্যাংকের সংখ্যা ছিল বেশি। ২০২৪ সালে লোকসানে থাকা ব্যাংকের তালিকায় রয়েছেন জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    উল্লেখযোগ্যভাবে, এসব লোকসানেথিত ব্যাংকের মধ্যে ছয়টি—এিবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক—এনবিছেও সিএসআর খাতে অর্থ ব্যয় করেছে।

    সিইও ও নীতি নির্ধারকদের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো—কিভাবে ব্যাংকিং খাতকে আর্থিকভাবে স্থিতিশীল করা যায় এবং একই সঙ্গে সিএসআর-কে অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও সামাজিক প্রয়োজনের সঙ্গে মিল রেখে স্বচ্ছভাবে কার্যকর করা যায়। ব্যাংকিং নিয়ম ও তদারকি শক্ত করা, সিএসআর-এ জবাবদিহিতা আর উদ্যোগগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে বাস্তবায়ন করাই ভবিষ্যতে খাতের স্থিতিশীলতা এবং সমাজসেবা নিশ্চিত করার পথ হবে।

  • ১৭ ব্যাংক লোকসানে, সিএসআর খাতে ব্যয় প্রায় অর্ধেক কমেছে

    ১৭ ব্যাংক লোকসানে, সিএসআর খাতে ব্যয় প্রায় অর্ধেক কমেছে

    ২০২৪ সালে বাংলাদেশের ব্যাংক খাত এক বড় আর্থিক ধাক্কার মুখে পড়ে; বছরজুড়ে ১৭টি ব্যাংক নিট মুনাফা অর্জন করতে পারেনি। আর্থিক চাপের এ ছিটকায় কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে ব্যয়ও ব্যাপকভাবে কমে আসে। রোববার প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআর সংক্রান্ত প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে এই চিত্র উঠে এসেছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের (জানুয়ারি–ডিসেম্বর) হিসাবসময়ে দেশের ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক সিএসআর খাতে মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। এটি আগের বছরের তুলনায় কমেছে ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা, অর্থাৎ প্রায় ৪২ শতাংশেরও বেশি। গত এক দশকে এ খাতে এটিই সর্বনিম্ন ব্যয়; পূর্বের রেকর্ড নেমে এসেছিল ২০১৫ সালে ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকায়—তার চেয়েও এবার প্রায় ১৮২ কোটি টাকা (৩৪.৫৭%) কম ব্যয় হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য আরও বলছে, ২০২৪ সালে সিএসআর ব্যয় ছিল ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ৩০৮ কোটি টাকা (প্রায় ৩৩%) কম। ২০২৩ সালে ব্যয় ছিল ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা এবং ২০২২ সালে ১,১২৯ কোটি টাকার থাকার তথ্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। অর্থাৎ দুবছরের ব্যবধানে সিএসআর ব্যয় গড়ে কমেছে ৫১৩ কোটি টাকারও বেশি—প্রায় ৪৫ শতাংশ।

    খাত সংশ্লিষ্টদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সরকার পরিবর্তন ব্যাংকিং খাতে বড় প্রভাব ফেলে। একই সময়ে বিভিন্ন ব্যাংকের অনিয়ম, লুটপাট ও অর্থ পাচারের তথ্যে আসায় কাগজে-কলমে দেখানো মুনাফার বিপরীতে প্রকৃত আর্থিক চিত্র ধরা পড়ে। খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পেলে নৈবৃত্তিক লোকসান স্পষ্ট হয়; বিশেষ করে শরিয়াভিত্তিক কয়েকটি ব্যাংক এ ধাক্কায় পড়ে। মাথাপিছু অনিয়ম ও অপরাধের কারণে দুর্বল ব্যাংকগুলোর স্থিতিশীলতা ফেরাতে রাষ্ট্র একাধিক ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

    ব্যাংকাররা বলছেন, সিএসআর খাতে ব্যয় কমে যাওয়ার একটি বড় কারণ হলো রাজনৈতিক পটপরিবর্তন। রাজনৈতিক সরকারের সময় বিভিন্ন স্তর থেকে অনুদান বা সহায়তা দেওয়ার চাপ থাকায় ব্যাংকগুলোকে অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত সিএসআর উদ্দেশ্যের বাইরে খরচ করতে বাধ্য হতে হতো। জুলাই–আগস্ট ২০২৪ সালের ঘটনাগুলোর পরে এমন ধরনের চাপ অনেকটাই কমে গেছে, ফলে ব্যাংকগুলো এখন তুলনামূলকভাবে জোর করে নয় বরং বিচক্ষণভাবে সিএসআর ব্যয় করে।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সিএসআর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। রাজনৈতিক চাপের কারণে অনানুষ্ঠানিক বা অনুৎপাদনশীল খাতগুলোতে অর্থ বরাদ্দ হলে সমাজকল্যাণমূলক প্রকৃত উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশনা আছে যে ব্যাংকগুলোকে তাদের নিট মুনাফার একটি অংশ সিএসআর খাতে রাখতে হবে: এর মধ্যে ৩০% শিক্ষা, ৩০% স্বাস্থ্য, ২০% পরিবেশ ও জলবায়ু মোকাবিলা এবং বাকি ২০% অন্যান্য খাতে ব্যয় করার কথা বলা হয়েছে। বাস্তবে এই নির্দেশিকা পুরোপুরি মানা হচ্ছে না—প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫ সালে ব্যয়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অংশ (৩৬%) গেছে ‘অন্যান্য’ শিরোনামের প্রকল্পে; শিক্ষায় ব্যয় হয়েছে ২৮.৫৩%, আর পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে মাত্র ১০% বরাদ্দ হয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে ১১টি ব্যাংক সিএসআর খাতে একটাও টাকা ব্যয় করেনি। এসব ব্যাংকের নাম হলো: জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    একই সময়ে ২০২৪ সালে লোকসানে থাকা ব্যাংকের তালিকায় ছিল জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান। এদের মধ্যে ছয়টি—এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক—লোকসানে থাকা সত্ত্বেও সিএসআর খাতে কিছু অর্থ ব্যয় করেছে।

    প্রতিবেদনের আলোকে স্পষ্ট যে, ব্যাংক খাতে মুনাফা সংকুচিত হলে সামাজিক দায়বদ্ধতার জন্য বরাদ্দ অর্থও প্রভাবিত হয়। নীতিনির্ধারণ ও প্রয়োগে আরও জোরালো তদারকি, স্বচ্ছ রিপোর্টিং ও সরকারি নির্দেশনার কড়াকড়ি না থাকলে সিএসআর তহবিলের সঠিক ব্যবহার ও লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে না।

  • প্রথম ৮ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ছাড়ালো দুই লাখ সাত হাজার কোটি টাকা

    প্রথম ৮ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ছাড়ালো দুই লাখ সাত হাজার কোটি টাকা

    রপ্তানির তুলনায় আমদানি দ্রুতবেগে বাড়ায় এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও অনুষঙ্গী পণ্যের দাম বাড়ায় চলতি অর্থবছর (২০২৫-২৬) প্রথম আট মাসে দেশের পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি বাড়ে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ ব্যালান্স অব পেমেন্ট (বিওপি) প্রতিবেদনে দেখা যায়, এই সময়ের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি হয়েছে এক হাজার ৬৯১ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় দুই লাখ সাত হাজার কোটি টাকার বেশি। গত অর্থবছরের একই সময় এই ঘাটতি ছিল এক হাজার ৩৭১ কোটি ডলার।

    রপ্তানি আয় কমে যাওয়াও ঘাটতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই–ফেব্রুয়ারি সময়কালে পণ্যের রপ্তানি আয় হয়েছে ৩০.০৩ বিলিয়ন ডলার, যা গতবছরের একই সময়ের তুলনায় ২.৬ শতাংশ কম। অন্যদিকে আমদানি বেড়ে হয়েছে ৪৬.১৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৫.৬ শতাংশ বেশি। আমদানি–রপ্তানির এই ব্যবধানেই চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে পণ্য বাণিজ্যে বড় নেগেটিভ বেরিয়াল দেখা গেছে।

    খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত ফেব্রুয়ারি রমজানকে সামনে রেখে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, ডাল ও খেজুরসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি বেড়েছিল। একই সময়ে বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি আমদানি ব্যয়ের চাপ বাড়িয়েছে। ফলে সামগ্রিক আমদানিই রপ্তানিকে ছাপিয়ে গেছে। তারা সাবধান করে বলেন, আমদানি নিয়ন্ত্রণ না করে এবং রপ্তানি ত্বরান্বিত না করলে দেশের অর্থনীতি সংকটগ্রস্ত হতে পারে।

    বছরের প্রথম আট মাসে কারেন্ট অ্যাকাউন্টে অবস্থা সামান্য ঋণাত্মক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আরও তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে ফেব্রুয়ারি শেষে চলতি হিসাব অর্থাৎ কারেন্ট অ্যাকাউন্টের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১০০ কোটি ডলার, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে ঘাটতি ছিল ১৪৭ কোটি ডলার।

    তবে সামগ্রিক লেনদেন (ওভারঅল ব্যালান্স) ভালো অবস্থায় রয়েছে বলে রিপোর্টে দেখানো হয়েছে। আলোচিত সময়ের ওভারঅল ব্যালান্স ৩৪৩ কোটি ডলার হয়েছে, যেখানে গত বছর একই সময়ে এটি ঋণাত্মক ১১৫ কোটি ডলার ছিল।

    অন্যান্য চলমান প্রবাহের মধ্যে রেমিট্যান্স উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা পাঠিয়েছেন দুই হাজার ২৪৫ কোটি ডলার রেমিট্যান্স, যা আগের বছরের দুই হাজার ১৮৭ কোটি ডলারের তুলনায় প্রায় ২১.৪ শতাংশ বেশি।

    প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) কিছুটা কমেছে। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই–ফেব্রুয়ারি সময়ে বাংলাদেশ পেয়েছিল ১০৬ কোটি ডলার এফডিআই; চলতি অর্থবছরে একই সময়ে এফডিআই এসেছে ৮৭ কোটি ডলার। আর শেয়ারবাজারে প্রবাহিত বিদেশি পুঁজি (পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্ট) এই সময় নেতিবাচক অবস্থায় নেমে গেছে; প্রথম আট মাসে শেয়ারবাজার থেকে বিদেশি বিনিয়োগ হিসেবে নেট আউটফ্লো হয়েছে ৮ কোটি ডলার।

    সংক্ষেপে, রপ্তানি আয় বৃদ্ধির তুলনায় আমদানির দ্রুত বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বাড়ায় দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছে। খাত বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে আমদানি নিয়ন্ত্রণ-পরিকল্পনা alongside রপ্তানি ত্বরান্বিত করা প্রয়োজন। না হলে চলতি হিসাব ও সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর আরও চাপ বাড়তে পারে।

  • ১৭টি ব্যাংক লোকসানে, সিএসআরে ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নেমেছে

    ১৭টি ব্যাংক লোকসানে, সিএসআরে ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নেমেছে

    ২০২৪ সালে বাংলাদেশে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এক কঠিন বছর পার করল—বহু ব্যাংক আর্থিক চাপের মুখে পড়ে এবং সিএসআর খাতে ব্যয়ও নাটকীয়ভাবে কমেছে। বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রিপোর্ট করা ওই সময়ে ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক সিএসআর খাতে মোট মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। আগের বছরের তুলনায় এটি প্রায় ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা প্রায় ৪২ শতাংশ কম।

    অর্থাৎ বিগত এক দশকে সিএসআর খাতে এটিই সর্বনিম্ন ব্যয়। পূর্বে ২০১৫ সালে খাতে সবচেয়ে কম ব্যয় ছিল ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা—তার তুলনায় এ বার প্রায় ১৮২ কোটি টাকা (৩৪.৫৭ শতাংশ) কম ব্যয় হওয়া খাতটিতে নতুন নিম্নমুখী প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়। পাশাপাশি সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ধারাবাহিকভাবে সিএসআর ব্যয় কমছে: রিপোর্টে ২০২২ সালে ব্যয় ছিল ১,১২৯ কোটি টাকা, ২০২৩ সালে ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ এবং পরবর্তী বছরে ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকায় নামে আসে—দুই বছরের ব্যবধানে সিএসআর ব্যয় প্রায় ৫১৩ কোটি টাকা বা ৪৫ শতাংশের বেশি কমে গেছে।

    ব্যাংক খাতের সূত্রগুলোর মতে, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতা—বিশেষ করে ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও সরকার পরিবর্তনের প্রভাব এবং কিছু ব্যাংকের অনিয়ম ও অর্থ পাচারের তথ্য প্রকাশ—ব্যাংকিং খাতে বড় আঘাত করেছিল। কাগজে-কলমে প্রদর্শিত মুনাফার বিপরীতে প্রকৃত আর্থিক অবস্থা সামনে আসতে থাকে, খেলাপি ঋণের কারণে প্রকৃত লোকসান প্রকাশ পায় এবং কিছু শরীয়াভিত্তিক ব্যাংক বিশেষভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। দুর্বল ব্যাংকগুলোর স্থিতিশীলতা ফেরাতে সরকার কয়েকটি ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

    ব্যাংকারদের দাবি, রাজনৈতিক চাপও সিএসআর ব্যয় কমানোর একটি বড় কারণ। পূর্বের রাজনৈতিক সময়ে বিভিন্ন স্তর থেকে অনুদান বা সহায়তার জন্য ব্যাংকগুলোর ওপর চাপ থাকাতো; ফলে অনেক ক্ষেত্রেই ব্যয় প্রকৃত সামাজিক দায়বদ্ধতার আওতার বাইরেও চলে যেত। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনাবলি ও পরবর্তী গঠনতন্ত্র পরিবর্তনের পরে সেই ধরনের চাপ অনেকটাই কমে গেছে, ফলে ব্যাংকগুলো এখন তুলনামূলকভাবে সংযতভাবে সিএসআর খরচ করছে।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জরুরি, কারণ রাজনৈতিক প্রভাব থাকলে এই অর্থ অনুৎপাদনশীল কাজে খরচ হতে পারে এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার মূল উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের দিকনির্দেশনায় ব্যাংকগুলোর নিট মুনাফার একটি অংশ সিএসআর হিসেবে ব্যয় করার কথা বলা আছে—যার মধ্যে প্রস্তাবিত অনুপাত: ৩০ শতাংশ শিক্ষা, ৩০ শতাংশ স্বাস্থ্য, ২০ শতাংশ পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং বাকি ২০ শতাংশ অন্যান্য ক্ষেত্রে। তবে প্রতিবেদনের অনুযায়ী, বাস্তবে নির্দেশনার সঙ্গে পুরোপুরি মানা হচ্ছে না: ওই রিপোর্টকালে ব্যাংকগুলো তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে বেশি (৩৬ শতাংশ) ব্যয় করেছে ‘অন্যান্য’ খাতে; শিক্ষায় ব্যয় ছিল ২৮.৫৩ শতাংশ, পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে মাত্র ১০ শতাংশ এবং স্বাস্থ্য খাতেও উল্লেখযোগ্য অংশ আছে।

    প্রতিবেদন অনুসারে রিপোর্টকালে ১১টি ব্যাংক সিএসআর খাতে কোনো তৎপরতা দেখায়নি। সেগুলো হলো—জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    আরও উল্লেখযোগ্য, ২০২৪ সালে মোট ১৭টি ব্যাংক নিট মুনাফা অর্জন করতে পারেনি। লোকসানবহুল ব্যাঙ্কগুলোর তালিকায় রয়েছে: জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান। এর মধ্যে ছয়টি লোকসানকারী ব্যাংক সত্ত্বেও সিএসআর খাতে অর্থ ব্যয় করেছে—এবং সেগুলো হলো এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক।

    সংক্ষেপে, ব্যাংকিং খাতে সংকটের ছায়া ও রাজনৈতিক ও আর্থিক অনিশ্চয়তার প্রভাবেই সিএসআর ব্যয় নাটকীয়ভাবে কমেছে; বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই গ্রাফ বদলানো গেলে সমাজকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোর উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে—তাই স্বচ্ছতা, নিয়মনীতি মেনে চলা ও কার্যকর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

  • ৮ মাসে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি দ্বিগুণ: দুই লাখ কোটি টাকার ওপরে

    ৮ মাসে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি দ্বিগুণ: দুই লাখ কোটি টাকার ওপরে

    চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) প্রথম আট মাসে বাংলাদেশে পণ্যের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৬৯১ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকার ওপরে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই ঘাটতি ছিল ১,৩৭১ কোটি ডলার। এসব তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যালান্স অব পেমেন্ট (বিওপি) হালনাগাদ প্রতিবেদন।

    প্রধান কারণগুলোতে রয়েছে আমদানি বৃদ্ধি ও বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে দেশের আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪,৬১৭ কোটি ডলার (প্রায় ৪৬.১৪ বিলিয়ন ডলার), যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫.৬ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরে একই সময়ে আমদানি ছিল প্রায় ৪৩.৭৪ বিলিয়ন ডলার।

    অন্যদিকে পণ্য রপ্তানি আয় হয়েছে ৩০.০৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের ২৯.২৬ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় মোটামুটি স্থিতিশীল—আনুমানিক ২.৬ শতাংশ অনুকূল পরিবর্তন। অর্থাৎ রপ্তানির প্রবৃদ্ধি আমদানির বৃদ্ধিকে ধরতে পারেনি; ফলে পণ্যের বাজারে এই স্বল্পতার কারণে সামগ্রিক বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধি পেয়েছে।

    খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশেষ করে গত ফেব্রুয়ারি মাসে রমজানকে সামনে রেখে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, ডাল ও খেজুরসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি বাড়ায় সার্বিক আমদানিই বেড়ে যায়। একই সময়ে রপ্তানি আয় ততোটা দ্রুত বাড়েনি—এই ছেদই বাণিজ্য ঘাটতির প্রধান কারণ বলে তারা মনে করছেন। তাদের পরামর্শ, দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে আমদানি নিয়ন্ত্রণ ও রপ্তানি বুস্ট করার ওপর জোর দিতে হবে।

    চলতি হিসাব-অবস্থা (কারেন্ট একাউন্ট) বর্তমানে সামান্য ঋণাত্মক; ফেব্রুয়ারি শেষে কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ঘাটতির পরিমাণ ছিল আনুমানিক ১০০ মিলিয়ন ডলার, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে তা ছিল ১৪৭ মিলিয়ন ডলার। তবে সমগ্র আর্থিক বিনিময়ের ওপর নেগেটিভ প্রভাব পড়লেও ওভারঅল ব্যালান্স উন্নত অবস্থায় আছে—আলোচিত সময়ের সামগ্রিক লেনদেন (ওভারঅল ব্যালান্স) ছিল ৩৪৩ মিলিয়ন ডলার, যেখানে আগের বছর একই সময়ে এটি -১১৫ মিলিয়ন ডলার (ঋণাত্মক) ছিল।

    রেমিট্যান্সও বৃদ্ধি পেয়েছে: অর্থবছরের প্রথম আট মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা মোট ২,২৪৫ কোটি ডলার (প্রায় ২২.৪৫ বিলিয়ন ডলার) রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের একই সময়ের ১,৮৮৭ কোটি ডলারের তুলনায় প্রায় ২১.৪ শতাংশ বাড়তি।

    প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) ঘাটতি বা উত্থান-পতন দেখিয়েছে—গত অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে এফডিআই ছিল ১০৬ কোটি ডলার, কিন্তু চলতি সময়ে তা নামিয়ে এসেছে ৮৭ কোটি ডলারে। পাশাপাশি শেয়ারবাজারে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগ নিট হিসেবে নেতিবাচক অবস্থায় আছে; চলতি অর্থবছরে শেয়ারবাজারে বাইরের বিনিয়োগে নেট আউটফ্লো প্রায় ৮ মিলিয়ন ডলার হয়েছে, যা আগের বছরের সমপরিমাণ নেতিবাচকের কাছাকাছি অবস্থানই নির্দেশ করে।

    সংক্ষেপে বলা যায়, বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে অভ্যন্তরীণ আমদানির তীব্রতার ফলে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে। নীতিনির্ধারকরা আমদানি নিয়ন্ত্রণ, রপ্তানি বাড়ানো ও বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার পরামর্শ দিচ্ছেন, অন্যথায় অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়তে পারে।