Category: অর্থনীতি

  • এসএমই ফাউন্ডেশন ও প্রাইম ব্যাংকের চুক্তি: ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের স্বল্প সুদে সহজ ঋণ

    এসএমই ফাউন্ডেশন ও প্রাইম ব্যাংকের চুক্তি: ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের স্বল্প সুদে সহজ ঋণ

    দেশের কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (CMSME) শিল্পকে শক্তিশালী করা এবং তৃণমূল পর্যায়ে অর্থনৈতিক গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এসএমই ফাউন্ডেশন ও প্রাইম ব্যাংকের মধ্যে একটি পুনঃঅর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সরকারের ৩০০ কোটি টাকার রিভলভিং ফান্ড এবং ক্রেডিট হোলসেলিং নির্দেশিকা অনুসরণ করে এই উদ্যোগে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে ঋণের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।

    রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প, বাণিজ্য ও বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ তৈরি করার প্রতি সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং এই তহবিলের মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তা ও ছোট উদ্যোগগুলোকে বড় হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

    চুক্তির শর্ত অনুযায়ী প্রাইম ব্যাংক যোগ্য উদ্যোক্তাদের বার্ষিক সর্বোচ্চ ৮ শতাংশ সুদে ঋণ দেবে। ঋণের পরিমাণ প্রতিষ্ঠানভেদের উপর নির্ভর করে সর্বনিম্ন ১ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে। কিস্তি-পরিশোধের মেয়াদ সর্বোচ্চ চার বছর পর্যন্ত রাখা হয়েছে এবং এর মধ্যে ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ড রয়েছে, যা উদ্যোক्तাদের প্রথমে ব্যবসা চালু করে আয়ের ভিত্তিতে কিস্তি শুরু করার সুযোগ দেবে।

    আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের কেন্দ্রীয় উদ্দেশ্য। তহবিলের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ নারী উদ্যোক্তা এবং নির্ধারিত শিল্প ক্লাস্টারে কাজ করা উদ্যোক্তাদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। এছাড়া আইসিটি খাতে তরুণ উদ্ভাবক, আমদানি-আপেক্ষিক পণ্যের বিকল্প উৎপাদনকারী এবং জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ বা সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলের উদ্যোক্তাদের বিশেষ অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

    ১০ লাখ টাকার মধ্যে দেওয়া ঋণের জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক জামানত বা স্থাবর সম্পত্তি প্রদানের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি, ফলে নগদ বা সম্পদের সীমাবদ্ধতায় থাকা উদ্যোক্তারা সহজেই প্রয়োজনীয় মূলধন নিয়ে ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে পারবেন।

    এসএমই ফাউন্ডেশন ও প্রাইম ব্যাংক এই তহবিলকে কেবল ঋণ প্রদানের একটি মাধ্যম হিসেবেই দেখছে না; এটিকে টেকসই শিল্পায়ন উদ্দীপ্ত করার জন্য পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি চালু করা, এবং বিদেশ ফেরত কর্মীদের উৎপাদনশীল কাজে যুক্ত করার একটি সুযোগ হিসেবেও ধরা হচ্ছে।

    প্রাইম ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম নাজিম এ. চৌধুরী এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী উভয়েই বলেন, এই কৌশলগত অংশীদারিত্ব শুধুমাত্র নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে না, বরং বাংলাদেশের CMSME খাতের সার্বিক সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে। বার্তাটি স্পষ্ট—ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের পেছনে আর্থিক সহায়তা বাড়ালে জাতীয় অর্থনীতির মেরুদণ্ড দৃঢ় হবে।

  • প্রবাসী আয় বাড়ায় রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

    প্রবাসী আয় বাড়ায় রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

    মার্চে রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয় আসার পর চলতি এপ্রিলেওremittance প্রবাহ ইতিবাচক রয়েছে। এর প্রভাব পড়ে বাংলাদেশ ব্যাংক আবার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কেনা শুরু করেছে এবং দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যে বলা হয়েছে, ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের মোট (গ্রোস) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫.০৪ বিলিয়ন ডলারে। একই হিসাব IMF-এর BPM-6 পদ্ধতিতে করলে রিজার্ভ ছিল ৩০.৩৬ বিলিয়ন ডলার। এক মাস আগের, ১৬ মার্চে গ্রোস রিজার্ভ ছিল ৩৪.২২ বিলিয়ন ডলার এবং BPM-6 অনুযায়ী ২৯.৫২ বিলিয়ন — ফলে প্রায় এক বিলিয়ন ডলারের মতো বৃদ্ধি দেখা গেছে।

    তবে সব রিজার্ভই ব্যবহারযোগ্য নয়। স্বল্পমেয়াদি দায়-দায়িত্ব এবং কিছু নির্দিষ্ট খাত বাদ দিলে যে নিট বা ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ থাকে, সেটিই বাস্তবে জরুরি। বাংলাদেশ ব্যাংক অভ্যন্তরীণভাবে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ হিসাব করে; সেখানে IMF-এর এসডিআর, ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা ক্লিয়ারিং হিসাব এবং কিছু নির্দিষ্ট অন্তর্ভুক্তি বাদ দেয়া হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিশদ পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয় না, কিন্তু ব্যাংকের সূত্র বলছে বর্তমানে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলার।

    এই হিসেব ধরলে, মাসিক আমদানি ব্যয় গড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার ধরা হলে এই রিজার্ভ দিয়ে পাঁচ মাসের বেশি আমদানি খরচ মিটানো সম্ভব। সাধারণত অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয়ের সমপরিমাণ রিজার্ভকে নিরাপদ বিবেচনা করা হয়।

    অতীতে রিজার্ভ চাপে পড়ে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ ১৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল। তখন বিদেশি ঋণ ও বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার সংগ্রহ করে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর নতুন গভর্নর আহসান এইচ। মনসুর রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি কমিয়েছেন এবং হুন্ডি ও অর্থপাচার রোধে ও বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা জোরদারে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন উৎস থেকে ডলার সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার ফলে রিজার্ভ ধীরে ধীরে পুনরায় শক্ত হওয়ার লক্ষণ দেখা দিয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়ায় দেশে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বেড়েছে এবং রিজার্ভ শক্তিশালী হচ্ছে। বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার ক্রয় করছে, তাই রিজার্ভ ভালো অবস্থায় আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ডলারের মূল্য অতিরিক্তভাবে সংকুচিত হলে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, তাই প্রয়োজন অনুযায়ী নীতিগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

    পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২১ সালের আগস্টে দেশের রিজার্ভ ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ওপরে গিয়েছিল এবং তখন প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল প্রায় ৮৪.২০ টাকা। পরে ঋণ অনিয়ম ও অর্থপাচারসহ নানা কারণে রিজার্ভে চাপ পড়ে তা কমে যায়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রিজার্ভ নেমে আসে ২৫.৯২ বিলিয়ন ডলারে (IMF হিসাব অনুযায়ী ২০.৪৮ বিলিয়ন ডলার) এবং একই সময়ে বৈদেশিক মুদ্রাবাজার অস্থির হয়ে ডলারের দাম ১২০ টাকার ওপরে পৌঁছায়; তখন আমদানি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

    এরপর বাজারভিত্তিক বিনিময় হার পুনঃপ্রবর্তন ও প্রবাসী আয় বাড়াতে নেওয়া উদ্যোগের ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়তে শুরু করে। চলতি বছরের প্রথম কয়েক মাস ধরেই রেমিট্যান্সে ঊর্ধ্বমুখী ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে — মার্চে প্রবাসীরা এক মাসে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন; এটি দেশের ইতিহাসে একক মাস হিসেবে সর্বোচ্চ। ফেব্রুয়ারিতে এসেছে ৩০২ কোটি, জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি এবং ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ডলার। চলতি এপ্রিলের প্রথম ১৫ দিনে প্রবাসী আয় এসেছে ১৭৯ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১.৫ শতাংশ বেশি (গত বছর ছিল ১৪৭ কোটি)।

    রেমিট্যান্স বাড়ায় বাজার থেকে ডলার সংগ্রহ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকগুলো থেকে ৫৬১ কোটি ডলার ক্রয় করেছে, যা রিজার্ভ পুনরুদ্ধারে সহায়ক হয়েছে।

    একই সময়ে আন্তর্জাতিক কারণে জ্বালানি তেলের দামের অস্থিরতা বাজায়; যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার প্রভাব বিশ্ববাজারে দেখা যায়। এই পরিস্থিতিতে রিজার্ভ বৃদ্ধি সংশ্লিষ্টদের জন্য স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • রেমিট্যান্স বাড়ায় রিজার্ভ পুনরায় ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

    রেমিট্যান্স বাড়ায় রিজার্ভ পুনরায় ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

    গেল মার্চে রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয় আসার পর চলতি এপ্রিলেও রেমিট্যান্স প্রবাহ ধরে থাকায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও শক্তিশালী হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কেনা শুরু করার ফলে মোট রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে ৩৫.০৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। আইএমএফের BPM-6 পদ্ধতিতে তা দাঁড়িয়েছে ৩০.৩৬ বিলিয়ন ডলার।

    এক মাস আগে, ১৬ মার্চ রিজার্ভ ছিল ৩৪.২২ বিলিয়ন ডলার (BPM-6 অনুযায়ী ২৯.৫২ বিলিয়ন)। অর্থাৎ এক মাসে রিজার্ভ প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে। তবে দেশের মোট রিজার্ভের সবটিই ব্যবহারযোগ্য নয়। স্বল্পমেয়াদি দায় এবং অন্যান্য বাধ্যবাধকতা বাদ দিলে যে নিট রিজার্ভ থাকে, সেটিই অর্থনীতির জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

    বাংলাদেশ ব্যাংক অভ্যন্তরীণভাবে ‘ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ’ হিসাব করে, যেখানে আইএমএফের এসডিআর, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা ক্লিয়ারিং হিসাব ও অন্য কিছু খাত বাদ দেওয়া হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে এটি প্রকাশ করা না হলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্র জানিয়েছে বর্তমানে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলার। মাসিক আমদানি ব্যয় গড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার ধরে নিলে এই রিজার্ভ দিয়ে পাঁচ মাসের বেশি আমদানি ব্যয় মিটানো সম্ভব। সাধারণত কমপক্ষে তিন মাসের আমদানির সমমূল্যের রিজার্ভই নিরাপদ ধরা হয়।

    বিশ্লেষকরা মনে করান, অতীতে রিজার্ভের চাপ বাড়লে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ ১৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল। তৎপরতায় বিদেশি ঋণ ও বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার সংগ্রহ করে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বতী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরে নতুন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি কমিয়ে দেন এবং হুন্ডি ও অর্থপাচার রোধে ও বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা জোরদারে নানা পদক্ষেপ নেন। বিভিন্ন উৎস থেকে ডলার সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগের ফলে ধীরে ধীরে রিজার্ভ ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়ায় বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বেড়েছে এবং রিজার্ভ পুনরায় শক্তিশালী হচ্ছে। বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনে ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কেনছে। তিনি আরও জানান, ডলারের মূল্য অতিরিক্তভাবে কমে গেলে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে; তাই বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    ইতিহাস প্রসঙ্গে বলা যায়, আগস্ট ২০২১ সালে রিজার্ভ ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল, তখন ডলারের বিনিময় হার ছিল প্রতি ডলারে ৮৪.২০ টাকা। পরে বিভিন্ন ঋণ অনিয়ম ও অর্থপাচারের কারণে রিজার্ভে চাপ পড়ে এবং স্তর কমতে থাকে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রিজার্ভ নেমে আসে ২৫.৯২ বিলিয়ন ডলারে (আইএমএফের হিসাবে ২০.৪৮ বিলিয়ন)। তখন বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা তৈরি হয় এবং ডলারের মূল্য ১২০ টাকার ওপরে ওঠে; পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমদানিতে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল।

    অতঃপর অন্তর্বতী সরকার কৌশল বদলে ধাপে ধাপে বাজারভিত্তিক বিনিময়হার চালু করে, রেমিট্যান্স বাড়াতে উদ্যোগ নেয় এবং আমদানির ওপর বিধিনিষেধ শিথিল করে। অপেক্ষাকৃত উদার বাণিজ্যনীতি ও রেমিট্যান্স বৃদ্ধির ফলে রিজার্ভ পুনরুদ্ধারে সহায়তা মিলেছে।

    চলতি এপ্রিলের প্রথম ১৫ দিনে দেশে এসেছে ১৭৯ কোটি ডলার প্রবাসী আয়, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১.৫ শতাংশ বেশি (গত বছর ছিল ১৪৭ কোটি ডলার)। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রেমিট্যান্স ঊর্ধ্বমুখী: মার্চে প্রবাসীরা পাঠিয়েছে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার — একক মাস হিসেবে সর্বোচ্চ; ফেব্রুয়ারি ছিল ৩০২ কোটি, জানুয়ারি ৩১৭ কোটি এবং ডিসেম্বর ৩২২ কোটি ডলার।

    এদিকে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকগুলো থেকে মোট ৫৬১ কোটি ডলার কিনেছে, যা রিজার্ভকে পুনরায় মজবুত অবস্থায় নিতে সহায়ক হয়েছে। বিশ্ববাজারে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান সংক্রান্ত উত্তেজনার কারণে জ্বালানী তেলের দামে অস্থিরতা থাকায় রিজার্ভ বৃদ্ধিকে সংশ্লিষ্টরা স্বস্তিদায়ক হিসেবে দেখছেন।

  • LG InnoFest 2026: এশিয়ার বাজারের জন্য স্মার্ট হোম সলিউশন ও বৃদ্ধির কৌশল উপস্থাপন

    LG InnoFest 2026: এশিয়ার বাজারের জন্য স্মার্ট হোম সলিউশন ও বৃদ্ধির কৌশল উপস্থাপন

    বিশ্ববিখ্যাত ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ড LG Electronics তাদের InnoFest 2026 APAC ইভেন্টে এশিয়া প্যাসিফিক বাজারের জন্য নতুন হোম অ্যাপ্লায়েন্স ও বৃদ্ধির কৌশল উন্মোচন করেছে। কোরিয়ার বুসানে ৭-১০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এই সামিটে প্রায় ২০টি দেশ থেকে ২০০-এর বেশি ব্যবসায়িক পার্টনার ও গণমাধ্যম অংশগ্রহণ করে। এটি LG-এর ২০২৬ InnoFest সিরিজের সমাপনী আয়োজন ছিল।

    ‘Innovation, Forward Together’ থিমকে সামনে রেখে LG প্রদর্শনিতে দেখিয়েছে কীভাবে স্থানীয় জীবনধারা, আবাসনের সীমাবদ্ধতা এবং ব্যবহারিক চাহিদা বিবেচনায় রেখে প্রযুক্তিভিত্তিক সমাধান তৈরি করা হচ্ছে। এশিয়ার পরিচিত সাংস্কৃতিক রীতিনীতি এবং K-Tech উদ্ভাবনকে মিলিয়ে কোম্পানি স্থানীয় বাজারে প্রযোজ্য ও টেকসই পণ্য তুলে ধরেছে।

    কাপড় পরিচর্যায় উন্নয়ন ও স্থানসংরক্ষণ

    LG এই অঞ্চলের জন্য তাদের লন্ড্রি পোর্টফোলিও শক্তিশালী করেছে নতুন WashTower™ লাইনআপের মাধ্যমে। এতে রয়েছে এশীয় ঘর ও অ্যাপার্টমেন্টের জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা নতুন ২৫ ইঞ্চি মডেল, পাশাপাশি ২৪ ও ২৭ ইঞ্চি সংস্করণ, যা সীমিত জায়গায় সর্বোচ্চ সুবিধা দেবে—বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ বাজার যেমন বাংলাদেশে।

    নতুন টপ-লোড ওয়াশারগুলোতে AI Direct Drive™ (AI DD™) প্রযুক্তি যোগ করা হয়েছে, যা কাপড়ের ধরন ও দাগের মাত্রা অনুযায়ী ধোয়ার পদ্ধতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় করে। TurboWash™ 3D প্রযুক্তির ফলে সম্পূর্ণ ওয়াশ সাইকেল ৩০ মিনিটের কম সময়ে শেষ করা সম্ভব এবং স্বয়ংক্রিয় ডিটারজেন্ট ডিসপেনসার প্রতিটি লোডের জন্য সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করে।

    একই সঙ্গে LG WashCombo™ অল-ইন-ওয়ান ওয়াশার-ড্রায়ার এক ইউনিটে ধোয়া ও শুকানোর সুবিধা দেয়। Inverter HeatPump™ প্রযুক্তির কারণে বিদ্যুৎ সাশ্রয় সম্ভব, যা বিদ্যুতের ব্যয় অনুকূল করার প্রয়োজনীয়তায় বাংলাদেশের মতো বাজারে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

    স্মার্ট ও কমপ্যাক্ট কিচেন সলিউশন

    রান্নাঘরের বাস্তবতা মাথায় রেখে LG নতুন প্রজন্মের রেফ্রিজারেটর উন্মোচন করেছে। Fit & Max ডিজাইন এবং Zero Clearance Hinge-র মাধ্যমে দেয়ালের পাশে ফাঁকা জায়গা না লাগিয়ে বিল্ট-ইন লুক বজায় রেখে স্টোরেজ সর্বোচ্চ করা হয়েছে।

    LG-এর উন্নত Ice Solution চার ধরনের বরফ অপশন দেয়—Craft Ice™, Cubed, Crushed ও Mini Craft—যা দৈনন্দিন ব্যবহারের পাশাপাশি অতিথি আপ্যায়নে কার্যকর। ডিশওয়াশার বিভাগে এক ঘণ্টার ওয়াশ-এন্ড-ড্রাই সাইকেল, QuadWash™ Pro ও Dynamic Heat Dry+ প্রযুক্তি দ্রুত ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিষ্কার নিশ্চিত করে। উল্লেখযোগ্যভাবে গুরুত্বপূর্ণ মডেলগুলোতে A গ্রেড এনার্জি এফিসিয়েন্সি অর্জিত হয়েছে।

    AI চালিত স্মার্ট হোম অভিজ্ঞতা

    প্রদর্শনীতে LG তাদের AI Home Vision প্রদর্শন করে, যেখানে ThinQ ON™ AI Home Hub-এর মাধ্যমে স্মার্ট অ্যাপ্লায়েন্স ও IoT ডিভাইসগুলো একসঙ্গে সংযুক্ত হয়ে ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন কার্যক্রম আরও স্বয়ংক্রিয় ও সুবিধাজনক করে তোলে। এই প্ল্যাটফর্ম ধাপে ধাপে এশিয়ার বিভিন্ন বাজারে চালু হবে।

    বর্ধিত সার্ভিস ও সাবস্ক্রিপশন মডেল

    দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি কৌশলের অংশ হিসেবে LG তাদের LG Subscribe সাবস্ক্রিপশন সার্ভিসও এশিয়ায় সম্প্রসারণ করছে। এই সেবায় গ্রাহকরা কিস্তিভিত্তিক পেমেন্টের পাশাপাশি পণ্য রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধাও পাচ্ছেন, যা বাংলাদেশসহ উদীয়মান বাজারগুলোর জন্য আকর্ষণীয় বিকল্প হতে পারে।

    কোম্পানির মন্তব্য

    LG Electronics Asia Pacific-এর আঞ্চলিক সিইও জেসুং কিম বলেন, “এশিয়া আমাদের অন্যতম দ্রুতবর্ধনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বাজার। InnoFest 2026 আমাদের পার্টনারদের সঙ্গে ভবিষ্যৎ ভিশন ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ভাগ করে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। আমরা স্থানীয় জীবনধারা বিবেচনায় রেখে AI চালিত হোম সলিউশন বাজারে আনছি।”

    কোম্পানি পরিচিতি

    LG Home Appliance Solution Company (HS) হোম অ্যাপ্লায়েন্স এবং AI হোম সলিউশনে বিশ্বব্যপী অন্যতম নেতৃস্থানীয় প্রতিষ্ঠান। কোম্পানি উদ্ভাবনী কোর প্রযুক্তি, শক্তি সাশ্রয়ী ডিজাইন ও টেকসই সমাধানের মাধ্যমে গ্রাহকদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে। বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন: www.LG.com/global/newsroom/

  • প্রবাসী আয়ে রিজার্ভ ছাড়াল ৩৫ বিলিয়ন ডলার

    প্রবাসী আয়ে রিজার্ভ ছাড়াল ৩৫ বিলিয়ন ডলার

    গত মার্চে রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) ঢুকে এ প্রবাহ চলতি এপ্রিলেও ইতিবাচক রয়েছে। তার প্রভাবেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক আবার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনতে শুরু করেছে—ফলশ্রুতিতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বা রিজার্ভ বেড়ে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের ঘর ছাড়িয়েছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের মোট (গ্রোস) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ হিসাবপদ্ধতিতে হিসাব করলে রিজার্ভটি ৩০ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার। এক মাস আগের তুলনায়—১৬ মার্চে—মোট রিজার্ভ ছিল ৩৪ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ২৯ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার; ফলে এক মাসে রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার।

    তবে সম্পূর্ণ রিজার্ভ অর্থনীতির জন্য ব্যবহারযোগ্য হয় না। স্বল্পমেয়াদি দায়-দেনা ও কিছু নির্দিষ্ট হিসাব বাদ দিলে যে নিট বা ‘ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ’ থাকে, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ব্যাংক অভ্যন্তরীণভাবে এই ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ নির্ণয় করে থাকে; আইএমএফের এসডিআর, ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা ক্লিয়ারিং অ্যাকাউন্ট এবং আকুর বিলের মতো কিছু খাত সেখানে বাদ দেওয়া হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না করলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্রে জানা গেছে বর্তমানে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলার।

    প্রতি মাসে গড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয় ধরা হলে এই রিজার্ভ দিয়ে প্রায় পাঁচ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। সাধারণভাবে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয়ের সমপরিমাণ রিজার্ভকে নিরাপদ ধরা হয়। অতীতে চাপে পড়ে paggamitযোগ্য রিজার্ভ ১৪ বিলিয়ন ডলারের নীচে নেমে গিয়েছিল; তখন বৈদেশিক ঋণ ও বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার সংগ্রহ করে পরিস্থিতি সামাল দিতে কষ্ট করা হয়েছিল।

    ২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বতী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর রিজার্ভ থেকে বিক্রি করা ডলার সীমিত করেছেন। পাশাপাশি হুন্ডি ও অর্থপাচার ঠেকাতে, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে ও বিভিন্ন উৎস থেকে ডলার সরবরাহ বাড়াতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হলে রিজার্ভ ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হতে শুরু করে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, প্রবাসী আয় বাড়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বেড়েছে এবং রিজার্ভ শক্তিশালী হচ্ছে। বাজারে ভারসাম্য রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনছে; তাই রিজার্ভের অবস্থান ভালো। তিনি আরও বলেন, ডলারের দর অতিরিক্ত কমে গেলে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, তাই পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    ঐতিহাসিকভাবে দেশের রিজার্ভ সর্বোচ্চ ছিল ২০২১ সালের আগস্টে, তখন প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছুঁয়েছিল—সেই সময়ে প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ৮৪ টাকা ২০ পয়সা। পরবর্তীতে ঋণ-অনিয়ম ও অর্থপাচারসহ নানা কারণে রিজার্ভে চাপ পড়ে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় রিজার্ভ নেমে আসে ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে; আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী তখন তা ছিল ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা দেখা দেয় এবং ডলারের দাম ১২০ টাকার ওপরে উঠে যায়, তখন আমদানিতে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল।

    পরবর্তীতে বাজারভিত্তিক বিনিময় হার চালু ও রেমিট্যান্স বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার ফলে প্রবাসী আয় বাড়তে শুরু করে এবং আমদানির ওপর বিধিনিষেধ ধাপে ধাপে শিথিল হয়—এসব মিলিয়ে রিজার্ভ পুনরুদ্ধারে সহায়তা করেছে।

    পতাকা তথ্য অনুযায়ী চলতি এপ্রিলের প্রথম ১৫ দিনে দেশে এসেছে ১৭৯ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি; গত বছর ওই সময় এসেছিল ১৪৭ কোটি ডলার। গত কয়েক মাস ধরে রেমিট্যান্সে ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় রয়েছে—মার্চে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা একক মাস হিসেবে দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগে ফেব্রুয়ারি ছিল ৩০২ কোটি, জানুয়ারি ৩১৭ কোটি এবং ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ডলার।

    রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে ডলারের সরবরাহ সংগ্রহ করছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৫৬১ কোটি ডলার কিনেছে; এর ফলে রিজার্ভের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।

    একই সময়ে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল–ইরান সংক্রান্ত উত্তেজনার কারণে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা রয়েছে। এসব আলোচনায় রিজার্ভে ইতিবাচক বৃদ্ধিকে সংশ্লিষ্টরা স্বস্তিদায়ক হিসেবে দেখছেন।

  • এশিয়ার বাজারের জন্য LG এর উদ্ভাবনী হোম সলিউশন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

    এশিয়ার বাজারের জন্য LG এর উদ্ভাবনী হোম সলিউশন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

    বিশ্বখ্যাত ইলেকট্রনিকস প্রতিষ্ঠান LG Electronics (LG) কোরিয়ার বুসানে ৭ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত আয়োজিত LG InnoFest 2026 APAC এশিয়া প্যাসিফিক বাজারের জন্য তাদের সর্বশেষ উদ্ভাবনী হোম অ্যাপ্লায়েন্স ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এ অনুষ্ঠানে এশিয়া প্যাসিফিকের প্রায় ২০টি দেশের প্রায় ২০০-এর বেশি ব্যবসায়িক অংশীদার ও গণমাধ্যম প্রতিনিধির উপস্থিতিতে LG এর ২০২৬ সালের ইনোফেস্ট সিরিজের মূল আকর্ষণগুলো তুলে ধরা হয়।

    ‘Innovation, Forward Together’ এই থিমের ওপর 기반 করে, LG দেখিয়েছে কিভাবে এশিয়ার ভোক্তাদের দৈনন্দিন জীবন, আবাসন এবং ব্যবহারিক চাহিদা মাথায় রেখে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর হোম সলিউশন তৈরি করা হচ্ছে। সাংস্কৃতিক উপাদান এবং K Tech উদ্ভাবনের সমন্বয়ে অঞ্চলজুড়ে বাস্তবসম্মত ও টেকসই সমাধান বাস্তবায়নে LG কাজ করছে।

    বাংলাদেশ সহ এশীয় বাজারের জন্য LG তাদের পোশাক পরিচর্যার (Laundry Care) ক্ষেত্রেও আরো শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে নতুন WashTower™ লাইনআপের মাধ্যমে। এতে ২৫ ইঞ্চি, ২৪ ইঞ্চি ও ২৭ ইঞ্চি মডেল অন্তর্ভুক্ত, যা সীমিত জায়গার মধ্যে সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করে। এই টপ লোড ওয়াশারগুলোতে রয়েছে AI Direct Drive™ (AI DD™) প্রযুক্তি, যা কাপড়ের ধরন ও ময়লার মাত্রা অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওয়াশ মোশন সমন্বয় করে। TurboWash™ 3D প্রযুক্তির মাধ্যমে ৩০ মিনিটের মধ্যে পুরো ওয়াশ সাইকেল সম্পন্ন করা যায়। এছাড়া স্বয়ংক্রিয় ডিটারজেন্ট ডিসপেনসার প্রতিটি লোডের জন্য উপযুক্ত পরিমাণের ডিটারজেন্ট নির্ধারণ করে দেয়।

    LG WashCombo™ অল-ইন-ওয়ান ওয়াশার ড্রায়ার ইউনিটের সুবিধা থাকায় একদিকে ধোয়া, অন্যদিকে শুকানোর কাজ সম্পন্ন হয়। Inverter HeatPump™ প্রযুক্তির কারণে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়, যা বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ বাজারের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

    স্মার্ট ও কমপ্যাক্ট কিচেন সলিউশনের জন্য LG নতুন প্রজন্মের রেফ্রিজারেটর উন্মোচন করেছে। Fit & Max ডিজাইনের এই রেফ্রিজারেটরটি Zero Clearance Hinge-এর মাধ্যমে দেয়াল ও ফাঁক ফোকর কমিয়ে দেয়, ফলে বিল্ট-ইন লুকের মতো দেখায় এবং স্টোরেজ ক্যাপাসিটি আরও বাড়ানো হয়েছে। এর Ice Solution প্রযুক্তি চার ধরনের বরফ অপশন দেয়—Craft Ice™, Cubed, Crushed ও Mini Craft—যা দৈনন্দিন ব্যবহার এবং অতিথি আপ্যায়নে কার্যকর।

    ডিশওয়াশার বিভাগেও LG গুরুত্বপূর্ণ নতুন প্রযুক্তি এনেছে, যার মধ্যে রয়েছে এক ঘণ্টার ওয়াশ ও ড্রাই সাইকেল, QuadWash™ Pro এবং Dynamic Heat Dry+ প্রযুক্তি। এসব প্রযুক্তি দ্রুত এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিষ্কার নিশ্চিত করে। পাশাপাশি এই মডেলগুলো এনার্জি এফিশিয়েন্সি এ গ্রেড অর্জন করেছে।

    LG তাদের AI Home Vision এর মাধ্যমে স্মার্ট হোম অভিজ্ঞতা তুলে ধরছে। ThinQ ON™ AI Home Hub এর মাধ্যমে LG এর স্মার্ট অ্যাপ্লায়েন্স ও IoT ডিভাইসগুলো সংযুক্ত হয়ে ব্যবহারকারীর জীবন আরও স্বয়ংক্রিয় ও সহজ করে তুলছে। এই প্ল্যাটফর্ম ধাপে ধাপে এশিয়ার বিভিন্ন বাজারে চালু হবে।

    LG এশিয়ায় দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির অংশ হিসেবে LG Subscribe সাবস্ক্রিপশন সার্ভিসও সম্প্রসারণ করছে, যেখানে গ্রাহকরা কিস্তি ভিত্তিক পণ্য ব্যবহারের পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধাও পাচ্ছেন। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের মতো বাজারে এর বড় সম্ভাবনা রয়েছে।

    LG Electronics Asia Pacific এর আঞ্চলিক প্রধান জেসুং কিম বলেন, এশিয়া আমাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও দ্রুত বর্ধনশীল বাজার। InnoFest 2026 একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম যেখানে আমরা আমাদের পার্টনারদের সঙ্গে ভবিষ্যৎ ভিশন ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি আলোচনা করছি। আমরা এখানে স্থানীয় জীবনধারাকে বিবেচনা করে AI চালিত ভৃত্য সমাধান আরও সম্প্রসারণ করব।

    LG Home Appliance Solution Company বিশ্বব্যাপী হোম অ্যাপ্লায়েন্স ও AI হোম সলিউশনে শীর্ষ স্থানীয় প্রতিষ্ঠান। তারা উদ্ভাবনী প্রযুক্তি, শক্তি সাশ্রয়ী ডিজাইন এবং টেকসই সমাধানের মাধ্যমে গ্রাহকদের জীবনমান উন্নত করছে। বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন: www.LG.com/global/newsroom/

  • বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বৃদ্ধি পেল

    বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বৃদ্ধি পেল

    দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভে এক নতুন নতুন উন্নতি দেখা গেছে। বর্তমানে এই রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ৮৭৩ দশমিক ৩২ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৩৪.৮৭ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বুধবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি বলেছেন, ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ এই স্তরে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী, এর পরিমাণ হয়েছে ৩ হাজার ২০১ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ডলার।

    এর আগে, ৯ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩৪.৬৪ বিলিয়ন ডলার। আইএমএফের হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী, এই পরিমাণ ছিল ২৯.৭৬ বিলিয়ন ডলার।

    অপরদিকে, চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১১ দিনে দেশের প্রবাসীরা মোট ১২১ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। যেখানে প্রতি ডলার মূল্য ধরে নেওয়া হয়েছে ১২২ টাকা, যার অর্থ প্রায় ১৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকার বেশি। এই হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে लगभग ১১ কোটি ৭ লাখ ডলার।

  • প্রথম ১৪ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৬০৭ মিলিয়ন ডলার

    প্রথম ১৪ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৬০৭ মিলিয়ন ডলার

    চলতি এপ্রিল মাসের প্রথমার্ধে দেশে প্রবাসী আয়ে উল্লেখযোগ্য বিস্ময়কর অগ্রগতি দেখা গেছে। প্রথম ১৪ দিনে মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ reaching ১ হাজার ৬০৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সূচক।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের বুধবার (১৫ এপ্রিল) প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ এবং ১৪ এপ্রিল দুদিনের মধ্যে দেশে মোট ১৭১ মিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে। এই সুসংবাদ দেশের অর্থনীতির মধ্যে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি উৎসাহ যোগাচ্ছে।

    অতীতে, এপ্রিলের প্রথম ১৪ দিনে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ২৮৪ মিলিয়ন ডলার। এর তুলনায় এ বছর প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ২৫.২ শতাংশ। অর্থাৎ, গত বছর এ সময়ে যেখানে এই পরিমাণ ছিল, সেখানে বর্তমানে প্রবৃদ্ধির হার বিস্তৃত।

    অপরদিকে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ৮১৬ মিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০.৬ শতাংশ বেশি। এটি বোঝায় যে, দেশের প্রবাসী আয়ের ধারা অব্যাহতভাবে বৃদ্ধির দিকে যাচ্ছে, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখছে।

  • দেশে সোনা ও রুপার দাম বাড়ছে: ভরি মূল্য জানুন

    দেশে সোনা ও রুপার দাম বাড়ছে: ভরি মূল্য জানুন

    বাংলাদেশের বাজারে সোনা ও রুপার দাম বর্ধিত ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। এ ঘোষণা অনুযায়ী, বুধবার (১৫ এপ্রিল) থেকে প্রতি ভরি সোনার দাম সর্বোচ্চ ২,২১৬ টাকা পর্যন্ত বেড়ে বর্তমানে ২,৫০,১৯৩ টাকা বা তার বেশি হয়েছে। এর আগে, মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) এই দাম ছিল ২,৪৭,৯৭৭ টাকা। এই মূল্যবৃদ্ধির খবর সকাল ১০টার দিকে সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে, যা এখন থেকে কার্যকর।

    সংগঠনটি জানিয়েছে, তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের বাজারে এই দাম বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে, ২২ ক্যারেট মানের সোনার এক ভরি এখন ২,৫০,১৯৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য ক্যারেটের দামের তথ্য হলো: ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২,৩৮,৮২০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২,৪,০৭৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার জন্য এক ভরি দাম ১,৬৬,৭৩৭ টাকা।

    তালিকা অনুযায়ী, রুপার দামের ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানা যায়, ২২ ক্যারেটের রুপার এক ভরি এখন ৬,০৬৫ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৫,৭৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪,৯৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ৩,৭৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বিশ্বজুড়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবশালী কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম সাম্প্রতিক সপ্তাহে ক্রমাগত বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্র মতে, বর্তমানে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪,৮২৩ ডলার পার হয়ে গেছে। এর আগে, ৩০ জানুয়ারি এই দাম ছিল প্রায় ৫,২০০ ডলার, এবং ২৯ জানুয়ারি তা বেড়ে ৫,৫৫০ ডলার হয়েছিল।

    পাশাপাশি, গত মাসের শেষের দিকে বিশ্ববাজারে সোনার দামে দ্রুত উর্ধ্বগতি দেখা দেয়, যার প্রভাব পড়ে দেশের বাজারেও। ২৯ জানুয়ারি সকালেই এক ভরি সোনার দাম এক লাফে ১৬ হাজার ২১০ টাকা বাড়িয়ে নতুন দর নির্ধারণ করা হয়, যার ফলে সোনার এক ভরি দাম দাঁড়ায় ২,৮৬,০০০ টাকার বেশি। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামে বিক্রয় হওয়ার রেকর্ড। এই মহাকাব্যিক মূল্যবৃদ্ধি প্রভাব ফেলেছে পুরো দেশের স্বর্ণশিল্পে, এবং ভবিষ্যতেও দাম বৃদ্ধি অব্যাহত থাকার আশঙ্কা সামনে এসেছে।

  • প্রবাসী আয়ে ফের রিজার্ভ ছাড়ালো ৩৫ বিলিয়ন ডলার

    প্রবাসী আয়ে ফের রিজার্ভ ছাড়ালো ৩৫ বিলিয়ন ডলার

    গত মার্চ মাসে রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয় (রেমিটেন্স) দেশে প্রবাহিত হয়েছে। চলতি এপ্রিলেও এই অগ্রগতি অব্যাহত রয়েছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য অনেক আশার বার্তা। এর ফলে বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক আবারও ডলার কিনতে শুরু করেছে, যার কারণে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবার বৃদ্ধি পেয়ে ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) মনিটরিং হিসাব অনুযায়ী, এই সংখ্যা ৩০ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলারে। এক মাস আগের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ মার্চ দেশের মোট রিজার্ভ ছিল ৩৪ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার, যা বাস্তবায়নের জন্য ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ ছিল ২৯ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার। এর মানে এক মাসের মধ্যে রিজার্ভ প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার বেড়ে গেছে।

    তবে সব রিজার্ভ ব্যবহারযোগ্য নয়। স্বল্পমেয়াদি দায় ও অন্যান্য বাধ্যবাধকতা বাদ দিয়ে যে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভ থাকে, সেটিই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ব্যাংক অভ্যন্তরীণভাবে ‘ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ’ হিসাব করে, যেখানে আইএমএফের এসডিআর, ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা ক্লিয়ারিং হিসাব এবং আকুর বিলের মতো কিছু খাত বাদ দেওয়া হয়, তবে এই তথ্য সরকারিভাবে প্রকাশ করা হয় না।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্র মতে, বর্তমানে দেশের ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলার। সাধারণত মাসিক ৫ বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয় ধরা হলে, এই রিজার্ভ দিয়ে প্রায় পাঁচ মাসের বেশি আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। আন্তর্জাতিকভাবে জানানো হয়, তিন মাসের আমদানি ব্যয়ের সমপরিমাণ রিজার্ভ নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত হয়।

    অতীতে, রিজার্ভ চাপে পড়ে ডুবে গিয়ে তা ১৪ বিলিয়ন ডলার নিচে নামার পর, বৈদেশিক ঋণ ও বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার সংগ্রহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়। ২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বতী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর, নতুন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি কমিয়ে দেন। পাশাপাশি হুন্ডি ও অর্থপাচার চাপানো বা ঠেকানোর পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এর ফলে ধীরে ধীরে রিজার্ভ আবার শক্তিশালী হতে শুরু করে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং রিজার্ভ আবার মজবুত হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ডলারের দাম বেশি না হলে, প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এজন্য প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, ২০২১ সালে দেশের রিজার্ভ ছিল ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলার, তখন প্রতি ডলার ৮৪ টাকা ২০ পয়সায় বিনিময় হতো। তবে পরবর্তীতে নানা কারণের কারণে, যেমন ঋণ অনিয়ম, অর্থপাচার ও অস্থিরতার জন্য, রিজার্ভ কমতে থাকে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, সরকারের পতনের সময় রিজার্ভ নেমে যায় ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলার, আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার। ওই সময় বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়, ডলারের দাম ১২০ টাকার ওপরে উঠে যায়। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে তখন বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

    অন্তর্বতী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর, ধীরে ধীরে অংকট কমিয়ে বাজারভিত্তিক ডলারের বিনিময় হার চালু হয়। প্রবাসী আয় বাড়ানোর জন্য নানা উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং আমদানির উপর বিধিনিষেধ ধাপে ধাপে শিথিল করা হয়। এই উদারনীতি প্রয়োগের ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়তে শুরু করে, যা রিজার্ভ পুনরুদ্ধারে সহায়তা করেছে।

    এপ্রিলের প্রথম ১৫ দিনে দেশে এসেছে ১৭৯ কোটি ডলার প্রবাসী আয়, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১.৫ শতাংশ বেশি। গত বছর এই সময় রেমিট্যান্স ছিল ১৪৭ কোটি ডলার। কিছু মাস ধরে রেমিট্যান্সের অগ্রগতি অব্যাহত থাকায় বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের দরকারি ডলার সংগ্রহ করছে। চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৫৬১ কোটি ডলার কিনেছে, এর ফলে রিজার্ভ আবারও শক্ত অবস্থানে ফিরছে।

    বিশ্ববাজারে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা থাকায় জ্বালানি তেলের দাম অস্থিরতা চলছে। এসব পরিস্থিতিতে রিজার্ভের বৃদ্ধি স্বস্তিদায়ক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই উন্নতি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং ভবিষ্যৎেও নিত্যপ্রয়োজনীয় উন্নয়ন ও কার্যক্রমের জন্য সহায়ক হবে বলে মনে করছে বিশ্লেষকরা।