Category: অর্থনীতি

  • এসএসসি: সিসি ক্যামেরা ও প্রশ্নপত্র গ্রহণকারীদের তথ্য পাঠানোর ‘অতীব জরুরি’ নির্দেশ

    এসএসসি: সিসি ক্যামেরা ও প্রশ্নপত্র গ্রহণকারীদের তথ্য পাঠানোর ‘অতীব জরুরি’ নির্দেশ

    ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এসএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্তভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে কেন্দ্রগুলোকে জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে। বোর্ড নির্দেশ দিয়েছে, প্রতিটি কেন্দ্র তাদের সিসি ক্যামেরা সংক্রান্ত তথ্য ও প্রশ্নপত্র প্রাপ্তির সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাঠাবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কেন্দ্রে স্থাপিত সিসি টিভি ক্যামেরার আইডি ও পাসওয়ার্ডসহ ট্রেজারি থেকে যারা শিক্ষক বা কর্মচারী হিসেবে প্রশ্নপত্র গ্রহণ করবেন তাদের নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর অবশ্যই প্রেরণ করতে হবে। এই সব তথ্য নির্ধারিত ই-মেইল ঠিকানায় পাঠানোর নির্দেশনা ‘অতীব জরুরি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত ই-মেইল ঠিকানা হলো: [email protected] [/cdn-cgi/l/email-protection]।

    নির্দেশনা অনুযায়ী, কেন্দ্রগুলোকে রোববার (১৯ এপ্রিল) আজ অফিস সময়ের মধ্যে উক্ত ই-মেইলে এসব তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে। বোর্ডের এই ব্যবস্থা পরীক্ষার নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই নেওয়া হয়েছে।

    এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সূচি অনুযায়ী השנה পরীক্ষা শুরু হবে ২১ এপ্রিল; প্রথম দিন বাংলা প্রথমপত্র অনুষ্ঠিত হবে। লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে ২০ মে এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ৭ জুন থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত।

  • এসএসসি পরীক্ষা: সিসি ক্যামেরা ও প্রশ্নপত্র গ্রহণকারীর তথ্য দাখিলের ‘অতীব জরুরি’ নির্দেশ

    এসএসসি পরীক্ষা: সিসি ক্যামেরা ও প্রশ্নপত্র গ্রহণকারীর তথ্য দাখিলের ‘অতীব জরুরি’ নির্দেশ

    ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে কেন্দ্রগুলোর কাছে জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনাকে ‘অতীব জরুরি’ বলা হয়েছে।

    বোর্ড নির্দেশ করেছে যে প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে থাকা সিসি ক্যামেরার আইডি ও পাসওয়ার্ড এবং ট্রেজারি থেকে প্রশ্নপত্র গ্রহণ করার দায়িত্বে যারা নিয়োজিত থাকবেন তাদের নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বরসহ আরও প্রাসঙ্গিক বিস্তারিত তথ্য নির্ধারিত ইমেইল ঠিকানায় আজ (রোববার) অফিস সময়ের মধ্যে পাঠাতে হবে।

    নির্দেশনায় বলা হয়েছে এসব তথ্য দ্রুত এবং যোগ্যভাবে পাঠানো জরুরি, যাতে কেন্দ্র পর্যায়ে পরীক্ষা পরিচালনা ও নজরদারির কাজে কোনো ঘাটতি না থাকে। কেন্দ্রগুলোকে বলা হয়েছে যে ইমেইলে পাঠানো তথ্য সঠিক ও হালনাগাদ হবে এবং প্রয়োজনে বোর্ড তা যাচাই করবে।

    শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার শুরু আগামী ২১ এপ্রিল। প্রথম দিনে বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। লিখিত পরীক্ষা সমাপ্ত হবে ২০ মে এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা শুরু হবে ৭ জুন থেকে চলবে ১৪ জুন পর্যন্ত।

    কেন্দ্রসমূহকে নির্দেশনা মেনে তথ্য দ্রুত পাঠানোর জন্য শিক্ষা বোর্ডের অনুরোধ করা হয়েছে, যাতে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হতে পারে।

  • এসএমই ফাউন্ডেশন ও প্রাইম ব্যাংকের চুক্তি: ক্ষুদ্র-মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে স্বল্প সুদে ঋণ

    এসএমই ফাউন্ডেশন ও প্রাইম ব্যাংকের চুক্তি: ক্ষুদ্র-মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে স্বল্প সুদে ঋণ

    দেশের কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (CMSME) শিল্পকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এসএমই ফাউন্ডেশন ও প্রাইম ব্যাংকের মধ্যে একটি পুনঃঅর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সরকারের ৩০০ কোটি টাকার ‘রিভলভিং ফান্ড’ এবং ক্রেডিট হোলসেলিং নির্দেশিকা অনুযায়ী তৃণমূল পর্যায়ে অর্থনৈতিক গতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

    রাজধানীতে আয়োজিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্প, বাণিজ্য ও বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং বলেন, এমন উদ্যোগ তৃণমূল পর্যায়ে কর্মসংস্থান ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াবে।

    চুক্তি অনুযায়ী প্রাইম ব্যাংক যোগ্য উদ্যোক্তাদের বার্ষিক সর্বোচ্চ ৮ শতাংশ সুদে ঋণ দেবে। ঋণের পরিমাণ প্রতিষ্ঠানভেদে ন্যূনতম ১ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যাবে। আর্থিক বোঝা কমাতে সর্বোচ্চ চার বছরের মেয়াদ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ড রয়েছে—এই সময়ে ঋণগ্রহীতা কিস্তি শুরু করার আগে ব্যবসা থেকে আয় বাড়ানোর সুযোগ পাবেন।

    আগ্রাসী অন্তর্ভুক্তি নীতির অংশ হিসেবে তহবিলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ নারী উদ্যোক্তা এবং নির্দিষ্ট শিল্প ক্লাস্টারে কর্মরত উদ্যোক্তাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। তদুপরি, আইসিটি খাতের তরুণ উদ্ভাবক, আমদানি-বিকল্প পণ্য উৎপাদনকারী শিল্প এবং জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ ও সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলের উদ্যোক্তাদেরও বিশেষ অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

    ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে কোনো আনুষ্ঠানিক জামানত বা স্থাবর সম্পত্তি বাধ্যতামূলক না থাকায়, যারা প্রচুর সম্পদ রাখেন না তাদের কাছেও ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য সহজে মূলধন সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হবে। এই সুবিধা ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ে বিশেষ করে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য দরোজা খুলে দেবে।

    এসএমই ফাউন্ডেশন ও প্রাইম ব্যাংকের শীর্ষ নেতৃত্ব চুক্তিটির মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব প্রত্যাশা করেছেন। তারা বলেন, এ কর্মসূচি কেবল ঋণ প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি উৎসাহিত করে টেকসই শিল্পায়ন এবং দেশ ফিরে আসা অভিবাসীদের উৎপাদনশীল কর্মসংস্থানে যুক্ত করার মতো উদ্যোগও এতে অন্তর্ভুক্ত।

    প্রাইম ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. নাজিম এ. চৌধুরী এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসাইন চৌধুরী উভয়েই জোর দিয়ে বলেন যে, এই কৌশলগত অংশীদারিত্ব কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং দেশের CMSME খাতের সামগ্রিক সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে।

    এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ছোট ও মাঝারি উদ্যোগগুলো দ্রুত সম্প্রসারণের সুযোগ পাবে, আর তাতে অন্তত মাঝারি মেয়াদে পণ্যের বহুগুণ বৃদ্ধি, দক্ষতার উন্নতি ও স্থানীয় কর্মসংস্থান বৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

  • এসএসসি: সিসি ক্যামেরা ও প্রশ্নপত্র গ্রহণকারীর তথ্য দিতে কেন্দ্রকে ‘অতীব জরুরি’ নির্দেশ

    এসএসসি: সিসি ক্যামেরা ও প্রশ্নপত্র গ্রহণকারীর তথ্য দিতে কেন্দ্রকে ‘অতীব জরুরি’ নির্দেশ

    ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড আসন্ন এসএসসি পরীক্ষাকে সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত রাখতে কেন্দ্রগুলোর জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রগুলোকে সিসি ক্যামেরার আইডি ও পাসওয়ার্ডসহ সিসি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য এবং ট্রেজারি থেকে প্রশ্নপত্র গ্রহণ করবে এমন শিক্ষক ও কর্মচারীদের নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর দ্রুত পাঠাতে বলা হয়েছে। বোর্ড এই নির্দেশনাকে ‘অতীব জরুরি’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

    রোববার (১৯ এপ্রিল) প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিসি টিভির আইডি ও পাসওয়ার্ডসহ উল্লেখিত ব্যক্তিদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য বোর্ডের নির্ধারিত ই-মেইলে পাঠাতে হবে। নির্দেশনা অনুযায়ী এই তথ্য আজ রোববার অফিস সময়ের মধ্যে পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

    পরীক্ষার সময়সূচি অনুযায়ী এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ২১ এপ্রিল; প্রথম দিন বাংলা প্রথমপত্র অনুষ্ঠিত হবে। লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে ২০ মে। ব্যবহারিক পরীক্ষা শুরু হবে ৭ জুন এবং চলবে ১৪ জুন পর্যন্ত।

    বোর্ডের এই তৎপরতা পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়ম প্রতিরোধই লক্ষ্য করেছে। কেন্দ্রগুলোকে নির্দেশ মেনে সময়মতো তথ্য প্রদান করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

  • এসএমই ফাউন্ডেশন ও প্রাইম ব্যাংকের চুক্তি: ক্ষুদ্র-মধ্যম উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে স্বল্প সুদের ঋণ

    এসএমই ফাউন্ডেশন ও প্রাইম ব্যাংকের চুক্তি: ক্ষুদ্র-মধ্যম উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে স্বল্প সুদের ঋণ

    দেশের কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (CMSME) শিল্পকে ত্বরান্বিত করতে এসএমই ফাউন্ডেশন এবং প্রাইম ব্যাংকের মধ্যে পুনঃঅর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। সরকারের ৩০০ কোটি টাকার ‘রিভলভিং ফান্ড’-এর আওতায় এবং ক্রেডিট হোলসেলিং নির্দেশিকা অনুযায়ী এই তহবিল তৃণমূল পর্যায়ে ব্যবসায়িক গতিশীলতা ফিরিয়ে আনা ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করাই উদ্যোগটির প্রধান উদ্দেশ্য।

    চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে, যা সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল, প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ গঠনে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং এই তহবিলের সম্ভাব্য ইতিবাচক প্রভাবের ওপর গুরুত্ব দেন।

    চুক্তি অনুযায়ী প্রাইম ব্যাংক যোগ্য উদ্যোক্তাদেরকে বার্ষিক সর্বোচ্চ ৮ শতাংশ সুদে ঋণ দেবে। ঋণের পরিমাণ প্রতিষ্ঠানের ধরন অনুযায়ী সর্বনিম্ন ১ লক্ষ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। আর্থিক চাপ কমাতে এসব ঋণের পরিশোধ সময়সীমা সর্বোচ্চ চার বছর—যার মধ্যে ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ডও রয়েছে। এই গ্রেস পিরিয়ড উদ্যোক্তাদেরকে কিস্তি শুরুর আগে ব্যবসা থেকে মুনাফা তোড়ার সুযোগ করে দেবে।

    বিশেষ সুবিধা হিসেবে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে কোনো আনুষ্ঠানিক জামানত বা স্থাবর সম্পত্তি দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি, ফলে সম্পদ-অভাবী উদ্যোক্তারা সহজে মূলধন সংগ্রহ করে ব্যবসা প্রসার করতে পারবেন। তহবিলের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ নারী উদ্যোক্তা ও নির্দিষ্ট শিল্প ক্লাস্টারে কাজ করা উদ্যোক্তাদের জন্য রিজার্ভ রাখা হয়েছে। এছাড়া আইসিটি খাতের তরুণ উদ্ভাবক, আমদানি-বিকল্প পণ্য উৎপাদনকারী এবং জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ বা সুবিধাবঞ্চিত এলাকার উদ্যোক্তাদের আলাদা অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

    এসএমই ফাউন্ডেশন ও প্রাইম ব্যাংকের শীর্ষ নেতৃত্ব এই যৌথ উদ্যোগকে জাতীয় অর্থনীতির জন্য সহায়ক বলে দেখছেন। তাদের মতে, শুধুমাত্র ঋণ প্রদানেই সীমাবদ্ধ না থেকে এই কর্মসূচি পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি উৎসাহিত করে টেকসই শিল্পায়ন এবং বিদেশ ফেরত অভিবাসীদের উৎপাদনশীল কাজে যুক্ত করার ক্ষেত্রও খুলে দেবে।

    প্রাইম ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. নাজিম এ. চৌধুরী এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী উভয়েই বলেছেন, এই কৌশলগত অংশীদারিত্ব কেবল নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে না, বরং দেশের CMSME খাতের সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতা-ক্ষমতাও শক্তিশালী করবে।

    উদ্যোক্তারা আশা করেন যে এই সহজ শর্তের ও স্বল্প সুদের ঋণ তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণে ও স্থিতিশীল আয় গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সরকারি তহবিল ও বেসরকারি ব্যাংকের এই মিলিত উদ্যোগ তৃণমূল স্তরে অর্থনৈতিক সুযোগ বাড়ানোর একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • LG Electronics এশিয়ার জন্য উদ্ভাবনী হোম সলিউশন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থাপন

    LG Electronics এশিয়ার জন্য উদ্ভাবনী হোম সলিউশন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থাপন

    বিশ্বখ্যাত ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ড LG Electronics (LG) সম্প্রতি কোরিয়ার বাসানে ৭ থেকে ১০ এপ্রিলের মধ্যে আয়োজিত LG InnoFest 2026 APAC-এ এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য তাদের সর্বশেষ উদ্ভাবনী হোম অ্যাপ্লায়েন্স এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টে অংশগ্রহণ করে প্রায় ২০টির বেশি এশীয় দেশ থেকে আসা ২০০ এর মতো বাণিজ্যিক পার্টনার এবং মিডিয়া প্রতিনিধি। এটি LG-র ২০২৬ সালের InnoFest সিরিজের সমাপনী আয়োজন ছিল।

    ‘Innovation, Forward Together’ – এই থিমের আলাদা গুরুত্ব দিয়ে LG দেখিয়েছে কিভাবে এশীয় ভোক্তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, আবাসন সুবিধা ও ব্যবহারিক প্রয়োজন বিবেচনা করে টেকনোলজি নির্ভর হোম সমাধান তৈরি করা হচ্ছে। স্থানীয় সংস্কৃতি ও K Tech উদ্ভাবনের সমন্বয়ে LG নিজেদের বাজারের জন্য এমন বাস্তবসম্মত ও টেকসই সমাধান উপস্থাপন করেছে।

    বাংলাদেশসহ অন্যান্য এশিয়া উপমহাদেশের জন্য উন্নত পোশাক পরিচর্যা (Laundry Care) সমাধান হিসেবে LG নতুন WashTower™ লাইনআপে আরও শক্তিশালী পণ্য এনেছে। এই সিরিজের মধ্যে রয়েছে ২৫ ইঞ্চি, ২৪ ইঞ্চি ও ২৭ ইঞ্চি মডেল, যা ছোট জায়গায় বেশি সুবিধা দেয়। এতে রয়েছে AI Direct Drive™ (AI DD™) প্রযুক্তি, যা কাপড়ের ধরন এবং ময়লার স্তর অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওয়াশের মুভমেন্ট সামঞ্জস্য করে।

    TurboWash™ 3D প্রযুক্তির মাধ্যমে শুধুমাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে সম্পূর্ণ ওয়াশ সাইকেল শেষ করা সম্ভব। এছাড়া, স্বয়ংক্রিয় ডিটারজেন্ট ডিসপেনসার প্রয়োজন অনুযায়ী ডিটারজেন্ট নির্ধারণ করে দেয়। LG এর WashCombo™ অল ইন ওয়ান ড্রাইয়ার ইউনিটে ধোয়া ও শুকানোর সুবিধা একসঙ্গে থাকায় কম জায়গায় বেশ কার্যকর। Inverter HeatPump™ প্রযুক্তি বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে, যা বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ বাজারে বিশেষ উপযোগী।

    স্মার্ট ও কমপ্যাক্ট কিচেন সমাধানের জন্য LG নতুন প্রজন্মের রেফ্রিজারেটর উন্মোচন করেছে। ফিট ও ম্যাক্স ডিজাইন ও Zero Clearance Hinge ব্যবস্থা দিয়ে এই রেফ্রিজারেটরগুলো জানালা নষ্ট না করে বিল্ট-ইন স্টাইল দিয়ে স্টোরেজে বেশি জায়গা দেয়। এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে চার ধরনের বরফের অপশন—Craft Ice™, Cubed, Crushed ও Mini Craft—যা দৈনন্দিন খাবার ও অতিথি আপ্যায়নে খুবই কার্যকর।

    ডিশওয়াশার বিভাগে LG এক ঘণ্টার দ্রুত ওয়াশ এবং ড্রাই সাইকেল, QuadWash™ Pro ও Dynamic Heat Dry+ প্রযুক্তি দিয়ে দ্রুত ও পরিষ্কার ফলাফল দেয়। এর পাশাপাশি, অনেক গুরুত্বপূর্ণ মডেলে A গ্রেড এনার্জি এফিসিয়েন্সি অর্জিত হয়েছে।

    প্রদর্শনীতে LG তাদের AI Home Vision এর মাধ্যমে স্মার্ট হোম অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছে। ThinQ ON™ AI Home Hub এর মাধ্যমে LG এর স্মার্ট অ্যাপ্লায়েন্স ও IoT ডিভাইসগুলো একসঙ্গে সংযুক্ত হয়ে জীবনযাত্রাকে আরও সহজ, স্বয়ংক্রিয় ও সুবিধাজনক করে তুলছে। এই প্ল্যাটফর্ম ধাপে ধাপে এশিয়ার বিভিন্ন বাজারে চালু হচ্ছে।

    অঞ্চলীয় বিশ্লেষণে LG এশিয়ায় দীর্ঘমেয়াদি বৃদ্ধি কৌশলের অংশ হিসেবে LG Subscribe সাবস্ক্রিপশন সার্ভিসও সম্প্রসারিত করছে। এতে গ্রাহকরা কিস্তিতে পণ্য ব্যবহারের পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণের সুবিধা পাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের মতো বাজারে বেশ সম্ভাবনাময়।

    LG Electronics Asia Pacific এর আঞ্চলিক CEO জেসুং কিম বলেন, এশিয়া আমাদের অন্যতম মূল বাজার এবং দ্রুত বর্ধনশীল। InnoFest 2026 আমাদের অংশীদারদের সঙ্গে ভবিষ্যৎ ভিশন ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ভাগ করে নেওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি প্ল্যাটফর্ম। তিনি আরও বলেন, আমরা স্থানীয় জীবনধারা ও প্রয়োজন অনুযায়ী AI চালিত হোম সলিউশন নিয়ে কাজ করছি।

    LG Home Appliance Solution Company বিশ্বখ্যাত হোম অ্যাপ্লায়েন্স ও AI হোম সলিউশনের প্রতিষ্ঠান। তারা উদ্ভাবনী প্রযুক্তি, শক্তি সাশ্রয়ী ডিজাইন এবং টেকসই সমাধানের মাধ্যমে গ্রাহকদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন: www.LG.com/global/newsroom/

  • বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে

    বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে

    দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ৮৭৩ দশমিক ৩২ মিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ ৩৪.৮৭ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৪ হাজার ৮৭৩ দশমিক ৩২ মিলিয়ন ডলার বা ৩৪.৮৭ বিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী, এ সংরক্ষণ ছিল ৩ হাজার ২০১ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ডলার। এর আগে, ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩৪.৬৪ বিলিয়ন ডলার। আইএমএফের হিসাব পদ্ধতি অনুসারে, সেটি ছিল ২৯.৯৫ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, চলতি এপ্রিলের প্রথম ১১ দিনে দেশের প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন মোট ১২১ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। প্রতিটির মূল্য ধরেছি ১২২ টাকা, যার অর্থ ধার্য্য করে বাজারে বাংলাদেশের অর্থনীতি উপকৃত হচ্ছে। এই পরিমাণের কারণে মাসের গড়ে প্রতি দিন গড়ে ১১ কোটি ৭ লাখ ডলার অর্থাৎ ১৪ হাজার ৮۰۰ কোটি টাকার বেশি রেমিট্যান্স এসেছে দেশে।

  • চলতি এপ্রিলের প্রথম ১৪ দিনে রেমিট্যান্স প্রবাহ ১.৬০৭ বিলিয়ন ডলার

    চলতি এপ্রিলের প্রথম ১৪ দিনে রেমিট্যান্স প্রবাহ ১.৬০৭ বিলিয়ন ডলার

    চলমান এপ্রিল মাসের প্রথমার্ধে দেশের প্রবাসী আয়ে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। প্রথম ১৪ দিনে মোট রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ১.৬০৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের বুধবার (১৫ এপ্রিল) প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ১৩ ও ১৪ এপ্রিল দুদিনেই দেশে এসেছে ১৭১ মিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ রেমিট্যান্স। আগের বছরের একই সময়ে এপ্রিলের প্রথম ১৪ দিনে রেমিট্যান্স এসেছিল ১.২৮৪ বিলিয়ন ডলার, যার ফলে এই মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রায় ২৫.২ শতাংশ বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া, অর্থবছর ২০২৫-২৬এর জুলাই থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২৭.৮১৬ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের রিপোর্টের সঙ্গে তুলনা করলে ২০.৬ শতাংশ বেশি। এই বৃদ্ধির ফলে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধি আরও শক্তিশালী হওয়ার আভাস দেখা যাচ্ছে।

  • ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ দেবে এসএমই ফাউন্ডেশন ও প্রাইম ব্যাংক

    ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ দেবে এসএমই ফাউন্ডেশন ও প্রাইম ব্যাংক

    দেশের শিল্প খাতে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন লক্ষ্য করেই আরও সহজ ও সুবিধাজনকভাবে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও মোটামুটি আকারের (CMSME) শিল্পের উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণের ব্যবস্থা করেছে এসএমই ফাউন্ডেশন ও প্রাইম ব্যাংক। এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো তৃণমূল পর্যায়ে অংকের অর্থনৈতিক গতিশীলতা বাড়ানো, সরকারের ৩০০ কোটি টাকার ‘রিভলভিং ফান্ড’ ও ক্রেডিট হোলসেলিং নির্দেশিকা অনুসরণ করে নতুন অর্থায়ন সুবিধা চালু করা। সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, যিনি দেশের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

    এই চুক্তির অধীনে, প্রাইম ব্যাংক যোগ্য উদ্যোক্তাদের বছরে সর্বোচ্চ ৮ শতাংশ সুদে কম সুদে ঋণ প্রদান করবে। উদ্যোক্তারা এই সুবিধা ব্যবহার করে ১ লক্ষ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। ঋণের পরিমাণ অনুযায়ী কমপক্ষে চার বছরের সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছে, যার মধ্যে ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ড রয়েছে। এই সুবিধার মাধ্যমে উদ্যোক্তারা কিস্তির আরম্ভের আগে ব্যবসা থেকে উপার্জন করতে সক্ষম হবেন।

    আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও সামাজিক সাম্য নিশ্চিত করতে এই প্রকল্প বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, তহবিলের কিছু অংশ নারী উদ্যোক্তা, নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহী তরুণ উদ্যোক্তা, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল এবং আয়তন অনুযায়ী ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে বিনিয়োগকারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষভাবে বরাদ্দ থাকবে। এছাড়া, ১০ লক্ষ টাকার অতিরিক্ত ঋণে কোনও জামানত বা স্থাবর সম্পত্তির বাধ্যবাধকতা নেই, ফলে সম্পদের অভাবে যারা ব্যবসা বাড়াতে চান, তারা এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।

    প্রাইম ব্যাংক ও এসএমই ফাউন্ডেশনের শীর্ষ নেতৃত্ব এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া, এই কর্মসূচি শুধু ঋণ প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি গ্রহণ ও প্রচারে উৎসাহিত করে টেকসই শিল্পায়ন ও বিদেশ থেকে ফিরে আসা অভিবাসীদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার লক্ষ্যও রয়েছে।

    প্রাইম ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম নাজিম এ. চৌধুরী এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী এই উদ্যোগ দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানোসহ কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে দৃঢ় প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

  • প্রবাসী আয় বৃদ্ধির কারণে রিজার্ভ ছাড়ালো ৩৫ বিলিয়ন ডলার

    প্রবাসী আয় বৃদ্ধির কারণে রিজার্ভ ছাড়ালো ৩৫ বিলিয়ন ডলার

    গত মার্চ মাসে রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) এসেছে এবং চলতি এপ্রিলেও এই প্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও বৃদ্ধি পেয়ে ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫.০৪ বিলিয়ন ডলারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ হিসেবপদ্ধতিতে এটি ৩০.৩৬ বিলিয়ন ডলার। এক মাস আগে, ১৬ মার্চ, এই রিজার্ভ ছিল ৩৪.২২ বিলিয়ন ডলার, যা থেকে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এটি পুরোটা ব্যবহারযোগ্য নয়; স্বল্পমেয়াদি দায় ও অন্যান্য বাধ্যবাধকতা বাদ দিলে যে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভ থাকায়, সেই পরিমাণিই অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ব্যাংক স্বজ্ঞানে ‘ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ’ হিসেবে দেখায়, যেখানে আইএমএফের এসডিআর, ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা ক্লিয়ারিং হিসাব এবং আকুর বিলের মতো কিছু খাত বাদ দেওয়া হয়। বর্তমান সময়ের হিসাব বলছে, দেশের ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলার। সাধারণত, প্রতি মাসে গড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয় ধরা হলে, এ রিজার্ভ দিয়ে পাঁচ মাসের বেশি আমদানি ব্যয় পূরণ করা সম্ভব। এ জন্য কমপক্ষে তিন মাসের আমদানি ব্যয় সমান রিজার্ভ যথেষ্ট নিরাপদ হিসেবে ধরা হয়। অতীতে এই রিজার্ভ চাপে পড়ে ১৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল। তখন বৈদেশিক ঋণ ও বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার সংগ্রহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়। ২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বতী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বিক্রি কমিয়ে দেন ডলার, পাশাপাশি হুন্ডি ও অর্থপাচার রোধে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এর ফলস্বরূপ রিজার্ভ ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেছেন, প্রবাসী আয় বৃদ্ধির কারণে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ছে এবং রিজার্ভ শক্তিশালী হচ্ছে। তখন ডলার কিনে বাজারে ভারসাম্য রক্ষা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, ফলে রিজার্ভ ভালো অবস্থানে রয়েছে। তিনি আরও জানান, যদি ডলারের দাম খুব বেশি কমে যায়, তাহলে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২১ সালের আগস্টে দেশের রিজার্ভ ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়, তখন ডলারের মূল্য ছিল ৮৪ টাকা ২০ পয়সা। তবে পরে ঋণ অনিয়ম ও অর্থপাচার, বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে রিজার্ভ কমতে শুরু করে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময়ে রিজার্ভ নেমে আসে ২৫.৯২ বিলিয়ন ডলার; আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী ছিল ২০.৪৮ বিলিয়ন ডলার। এই সময় বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয় ও ডলারের দাম ১২০ টাকার ওপরে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। পরে অন্তর্বতী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ধীরে ধীরে বাজারভিত্তিক ডলারের বিনিময় হার প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রবাসী আয় বাড়াতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং আমদানির ওপর বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়। এর ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহের বৃদ্ধি ঘটে, যা ফলে রিজার্ভ আবার বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি এপ্রিলের প্রথম ১৫ দিনে দেশে এসেছে ১৭৯ কোটি ডলার প্রবাসী আয়, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১.৫ শতাংশ বেশি। গত বছর একই সময়ে রেমিট্যান্স ছিল ১৪৭ কোটি ডলার। এসব কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক এখন পর্যন্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যাংকগুলো থেকে মোট ৫৬১ কোটি ডলার কিনেছে, এর ফলে রিজার্ভ আবার শক্ত অবস্থানে ফিরে আসছে। পাশাপাশি বিশ্ববাজারে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার কারণে জ্বালানি তেলের মূল্য অস্থির থাকায় এই রিজার্ভ বৃদ্ধি বেশ স্বস্তিদায়ক হিসেবে দেখা হচ্ছে।