Blog

  • সোনার দাম কমল, প্রতি ভরিতে নতুন দাম কত?

    সোনার দাম কমল, প্রতি ভরিতে নতুন দাম কত?

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) দেশের বাজারে সোনার দাম কমানোর ঘোষণা করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এবার প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ২ হাজার ২৫৮ টাকা পর্যন্ত দাম কমানো হয়েছে। নতুন মূল্য মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

    বাজুসের ঘোষণায় সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার প্রতিভর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ৪০ হাজার ৩৩৭ টাকা। এর আগে সোমবার (৪ মে) এটি ছিল দুই লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা। সংগঠনের ভাষ্য অনুযায়ী তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দাম কমায় স্থানীয় বাজারেও মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

    অন্য ক্যারেটগুলোর নতুন দরগুলো হচ্ছে: ২১ ক্যারেট প্রতি ভরি দুই লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেট প্রতি ভরি এক লাখ ৯৬ হাজার ৬৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি এক লাখ ৬০ হাজার ১৪৭ টাকা।

    সোনার দাম পরিবর্তনের সঙ্গে মিল রেখে রুপার দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি দাম রয়েছে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা; ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ১৯০ টাকা; ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৪৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা।

    আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটেও গত কিছু সময় সোনার মূল্য ওঠানামা করেছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের পর বিশ্ববাজারে সোনার দাম বাড়ে, পরে মূল্য সমন্বয়ের মধ্য দিয়ে ওঠা-নামা করেছে। বিশ্বস্ত সূত্র গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি অনুযায়ী বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৫০০ ডলারে। এর আগে ৩০ জানুয়ারি ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি একসময় ৫ হাজার ৫৫০ ডলারে তা উঠেছিল।

  • টানা দ্বিতীয় দফায় সোনার দাম বাড়ল

    টানা দ্বিতীয় দফায় সোনার দাম বাড়ল

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) টানা দ্বিতীয় দফায় সোনার দাম বাড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানায় যে বাজারে সোনার মূল্য প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়ানো হয়েছে এবং নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার এক ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা, যা গতকের তুলনায় বেড়েছে৷ গতকাল ২২ ক্যারেটের দাম ছিল দুই লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা।

    অন্যান্য ক্যারেটের নির্ধারিত দামগুলো হলো: ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২১৩ টাকা (২০০,২১৩ টাকা) এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকা। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দামের ওঠানামা বিবেচনা করে স্থানীয় বাজারে এই সমন্বয় করা হয়েছে।

    সোনার সঙ্গে রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ২২ ক্যারেট মানের রুপার এক ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ২১ ক্যারেট রুপা ৫ হাজার ৫৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেট রুপা ৪ হাজার ৭২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা।

    বিশ্ববাজারে সোনার মূল্য ঊর্ধ্বমুখী থাকার পেছনে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সংঘাতসহ ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাব উল্লেখ করেছে বাজার বিশ্লেষকরা। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানানো হয়েছে, বর্তমানে আন্তর্জাতিক দর প্রতি আউন্স সোনার দাম প্রায় ৪ হাজার ৭০০ ডলারে পৌঁছেছে।

    তথ্য অনুযায়ী গত ৩০ জানুয়ারি আউন্সপ্রতি দাম ছিল প্রায় ৫ হাজার ২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি তা ৫ হাজার ৫৫০ ডলারে ওঠে। এছাড়া গত মাসের শেষের দিকে বিশ্ববাজারে সোনার ধারাবাহিক উত্থানের কারণে দেশীয় বাজারেও দাম বাড়তে থাকে। ২৯ জানুয়ারি সকালে একবারে ভরিপ্রতি ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়ে বাজুস ২২ ক্যারেট সোনার দাম সংগ্রহ করে এক পর্যায়ে দুই লাখ ৮৬ হাজার টাকায় পৌঁছে দিয়েছিল; যা দেশের ইতিহাসে রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হয়।

    বাজুসের 이번 ঘোষণায় স্থানীয় ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে মূল্য ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা বাড়বে বলে 예상 করা হচ্ছে। বাজার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক দর ও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত সোনার দর ওঠানামা করতে পারে।

  • রাজ্যপাল ভেঙে দিলেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা; মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৫ বছরের শাসনের অধ্যায় বন্ধ

    রাজ্যপাল ভেঙে দিলেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা; মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৫ বছরের শাসনের অধ্যায় বন্ধ

    রাজ্যপাল আর এন রবি বৃহস্পতিবার (৭ মে) পশ্চিমবঙ্গের সপ্তদশ বিধানসভা ভেঙে দিয়েছেন। রাজ্যপালের অফিস থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভারতের সংবিধানের ১৭৪(২)(খ) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে ৭ মে থেকে বিধানসভা বিলুপ্ত করা হলো।

    এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই টানা ১৫ বছর রাজ্যের শাসনভারোমধ্য ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসপ্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের অধ্যায় বিচ্ছিন্ন হলো বলে রাজনৈতিক পর্যালোচকদের কয়েকটি মন্তব্যে দেখা যাচ্ছে। মমতা প্রথমবার ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হন এবং এরপর তিনবারের জন্য রাজ্য পরিচালনা করেন।

    গত ৪ মে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনের সরকারি ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পর ২৯৪ আসনের মধ্যে ২০০-এর বেশি আসনে জয় পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি), ফলে প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের পথে এগিয়ে এসেছে কেন্দ্রীয় শাসিত দলটি। নির্বাচনের ফল প্রকাশের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই শরীরগত ও সাংবিধানিকভাবে নতুন সরকারের পথ পরিষ্কার হচ্ছে।

    নির্বাচনের ফলের পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথা অনুযায়ী রাজভবনে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেননি, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে সন্দেহ ও আলোচনা দেখা দিয়েছিল। রাজ্যপালের এই সিদ্ধান্তের পরে সেই অনিশ্চয়তা অনেকাংশে কাটল এবং এখন নতুন মন্ত্রিসভা গঠন ও নতুন মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন—এই প্রক্রিয়া শুরু হবে। বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সম্ভবত ৯ মে (রবীন্দ্রজন্মজয়ন্তী) হতে পারে; কেন্দ্র ও রাজ্য পর্যায়ের নেতা-নেত্রীরা ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছেন।

    এর মধ্যে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ বিবেচনায় নেমে এল আরও এক উত্তেজক ঘটনা। বুধবার রাতে কলকাতা থেকে ফেরার পথে মধ্যমগ্রামের দোহারিয়ার কাছে হামলা চালিয়ে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন এবং গাড়িচালক বুদ্ধদেব বেরা আহত হন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী এই ঘটনায় তিনজনকে সন্দেহজনক হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।

    ঘটনার পর রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে; তদন্তকারীরা সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা, আলামত সংগ্রহ ও অন্যান্য অনুসন্ধান চালাচ্ছেন। পুলিশ জানিয়েছে হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত দোষীদের খুঁজে বের করতে সব রকম চেষ্টা চলছে।

    এই ঘটনার দায় চাপানোর লড়াইয়ে বিজেপি তৃণমূলকে অভিযুক্ত করেছে, ট্যাগার অপরদিকে ঘটনার নিন্দা জানিয়ে কোনো রাজনৈতিকভাবে সম্পর্কিত হতেই অস্বীকার করেছে এবং নির্বাচনের পরের সহিংসতার সব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করেছে।

    সরকার গঠন, শপথ ও নিরাপত্তা-পরিস্থিতি—এসব মিলিয়ে এখন পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। আগামী কয়েক দিনে কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য স্তরের সিদ্ধান্ত এবং তদন্তের অগ্রগতি রাজ্যের রাজনৈতিক চিত্র আরও স্পষ্ট করবে।

  • ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২২৮ ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত

    ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২২৮ ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত

    ইরানের সঙ্গে চলমান ৪০ দিনের সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত অন্তত ২২৮টি ঘাঁটি বা স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে বলে স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে বুধবার প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল বিমানসংরক্ষণ কভার, ব্যারাক, জ্বালানি মজুদ কেন্দ্র, বিমানসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ রাডার, যোগাযোগ ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সরকারি স্বীকারোক্তির চেয়েও অনেক বেশি বলে সাংবাদিকদের কাছে বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন।

    এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন বলেছিলো যে অঞ্চলের কমপক্ষে ১৬টি মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু ওয়াশিংটন পোস্টের স্যাটেলাইটভিত্তিক বিশ্লেষকরা অন্যান্য অনেক স্থাপনারও ক্ষয়ক্ষতি শনাক্ত করেছেন, ফলে মোট সংখ্যা অনেক বেড়েছে।

    পেন্টাগন সূত্রে জানা গেছে, হামলার হুমকি কিছু ঘাঁটিকে এমনভাবে ঝুঁকিপূর্ণ করেছে যে সেখানে স্বাভাবিকভাবে সেনা মোতায়েন কড়াকড়ি করা হয়েছে। কমান্ডাররা যুদ্ধ শুরুর প্রথম থেকেই তাদের বাহিনীর বড় অংশকে ইরানের লক্ষ্যভূমি থেকে সরিয়ে এনেছেন যাতে আরও বড় আঘাত এড়ানো যায়।

    তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সামরিক মুখপাত্র ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেছেন যে বিশেষজ্ঞদের বর্ণনা থেকে সরাসরি ‘বিস্তৃত ভঙ্‌গ’ বা সম্পূর্ণ ব্যর্থতার ছবি আঁকাটা ঠিক নয়। ক্ষতির নিরূপণ জটিল এবং কিছু ক্ষেত্রে স্যাটেলাইট চিত্র থেকে তৈরি ধারণা বিভ্রান্তিকর হতে পারে। তিনি যোগ করেছেন, যুদ্ধ শেষ হলে কমান্ডাররা পূর্ণাঙ্গ ও নিশ্চিত তথ্য দেবেন।

    গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেট কংগ্রেসে জানিয়েছিলেন যে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে খরচ দাঁড়াবে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার (২৫০০ কোটি ডলার)। তিনি আরও বলেছেন যে ব্যবহৃত গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম পুনরায় সংগ্রহ করতে মাস কিংবা বছর লাগতে পারে।

    একই সঙ্গে পেন্টাগন ২০২৭ অর্থবছরের জন্য কংগ্রেসের কাছে প্রায় ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি বাজেট চেয়েছে, যা আগের তুলনায় প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বেশি।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালায় এবং উত্তরে পাল্টা আঘাত করলে সংঘাত দ্রুত পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ে। তেহরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ করে যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে রাখে, বদলে ওয়াশিংটন ইরানের উপকূলীয় বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করে দেশটির অর্থনীতিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। এই কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা অঞ্চলজুড়ে স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকিতে ফেলেছে।

    ওয়াশিংটন পোস্টের রিপোর্টটি সার্বিকভাবে ইঙ্গিত করে যে সংঘাতের মানবিক ও কৌশলগত প্রভাব অনেক বিস্তৃত এবং শুধুমাত্র ঘাঁটিগুলোর ক্ষয়ক্ষতি হিসেব দিয়ে পুরো চিত্র বোঝা যাবে না। পরিস্থিতি সম্পর্কে চূড়ান্ত ও পরিমাপযোগ্য তথ্য যুদ্ধবিরতি বা যুদ্ধাবস্থার শেষে সামরিক ও সরকারি কর্তৃপক্ষই দিতে পারবে।

  • বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও রূপসার পিঠাভোগ: ঠাকুর বংশের ঐতিহ্য

    বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও রূপসার পিঠাভোগ: ঠাকুর বংশের ঐতিহ্য

    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কেবল বাংলা সাহিত্যের প্রতিস্ঠিত কবি ছিলেন না—তিনি বাঙালি জাতির সাংস্কৃতিক ও মানসিক পরিচয়ের এক অনিবার্য প্রতীক। তাঁর পরিবারগত শিকড় খুঁজলে রূপসার পিঠাভোগ গ্রামের সাথে জোড়া ইতিহাসটি চলে আসে। রূপসা উপজেলার ঘাটভোগ ইউনিয়নের পিঠাভোগ পল্লী ঠাকুর বংশের পৈতৃক স্মৃতিবাহী স্থান হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    পিঠাভোগ-ঘাটভোগ ভৈরব নদীর তীরভূমিতে গড়ে ওঠা প্রাচীন জনপদ। ভৈরব অববাহিকার স্রোতের ধারায় বহু প্রাচীন বসতি গড়ে উঠেছিল; ইতিহাসে জানা যায়, হযরত খানজাহান আলীর আগমনেরও আগে এখানেই জনপদ গড়ে উঠেছিল। পিঠাভোগের প্রাচীন গোত্রীয় ব্রাহ্মণ পরিবারগুলোর মধ্যে কুশারী গোত্র বিশেষভাবে পরিচিত।

    কুশারী বংশের উত্‍পত্তি কন্যাকুঞ্জ (কান্যকুব্জ) থেকে আগত শাণ্ডিল্য গোত্রীয় ব্রাহ্মণদের সঙ্গে যুক্ত। বংশগাথায় বলা হয়, খিতীশ নামক এক শাণ্ডিল্য বংশীয় পুরুষের বংশধর বঙ্গদেশে সারি জুড়ে বসতি গড়েন এবং বর্ধমানের ‘কুশ’ গ্রাম থেকে কুশারী গোত্রের উৎপত্তি ঘটে। মধ্যযুগে কুশারী বংশের বিভিন্ন শাখা ঢাকা, বাকুড়া ও খুলনার দিকে ছড়িয়ে পড়ে। খুলনার পিঠাভোগে উত্তর পার্শ্বে রামগোপাল কুশারী বসতি স্থাপন করেন; তাঁর পুত্র জগন্নাথ কুশারীই পরবর্তীকালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতৃকূলের মূল পুরুষ বলে পরিচিত।

    পিরালী জাতের সংক্ষিপ্ত কাহিনি ঐ অঞ্চলের সামাজিক ইতিহাসের একটি অদ্ভুত অধ্যায়। খুলনা জেলার দক্ষিণ ডিহি গ্রামের রায়-চৌধুরী পরিবার থেকে সৃষ্ট পিরালী ব্রাহ্মণের উত্পত্তি সম্পর্কিত কথারা এলাকায় প্রচলিত। ঐ সময়ের প্রশাসনিক পরিবেশ, স্থানীয় সম্পর্ক ও ধর্মান্তরের ঘটনাবলি মিশে গিয়ে পিরালী শাখার আবির্ভাব ঘটে। ইতিহাসে উল্লেখিত এক বিবরণের সূত্রে জানা যায়, প্রশাসনিক পরিস্থিতি ও ব্যক্তিগত সংঘর্ষের ফলে কিছু পরিবার ইসলাম গ্রহন করলে অন্য কিছুকে পিরালী নামে ডাকা হয়; এই বংশেই পরবর্তীতে পিঠাভোগের জগন্নাথ কুশারীর সঙ্গে বিবাহসূত্র ঘটে।

    কুশারী থেকে ‘ঠাকুর’ উপাধি উদ্ভবের কথাও লোকজ এসেছে। পঞ্চানন কুশারী নামে এক ব্যক্তি ভাগীরথীর তীরবর্তী গোবিন্দপুরে (কলকাতা-অঞ্চলের কাছে) বসতি স্থাপন করেন। তিনি নৌ-সংক্রান্ত ব্যবসা ও খাদ্যসামগ্রী সরবরাহের কাজ করায় স্থানীয় নাবিক ও শ্রমিকরা তাঁকে আনৈতিক সম্মানসূচকভাবে ‘ঠাকুর’ বলে ডাকা শুরু করেন; সময়ের ধারায় সেই ডাকটি উপাধি হয়ে যায়। পঞ্চাননের সেই বংশধর নীলমণি ঠাকুর জোড়াসাঁকোতে বসতি স্থাপন করেন। ঐ বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারে ১৮৬১ সালে জন্ম নেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

    রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিকর্ম বিস্তৃতি ও বৈচিত্র্য অনন্য—কবিতা, গান, উপন্যাস, ছোটগল্প, প্রবন্ধ ও নাটকসহ বহু শৈলীর মধ্যে তিনি কাজ করেছেন। তাঁর রচনাবলি ব্যাপক: প্রায় ৫২টি কব্যগ্রন্থ, আনুমানিক ২০০০ গান, কুড়ি-প্লাস উপন্যাস ও অচিন্ত্যনীয় সংখ্যক ছোটগল্প ও প্রবন্ধ—এক কথায় সমগ্র জীবন জুড়ে সাহিত্যচর্চা ছিল তাঁর মূল আকর্ষণ। তাঁর সমগ্র রচনা ‘রবীন্দ্র রচনাবলী’ হিসেবে ৩২ খন্ডে সংকলিত হয়েছে; চিঠিপত্র পৃথকভাবে ১৯ খন্ডে প্রকাশিত আছে। রবীন্দ্রনাথ রবীন্দ্রনৃত্যের প্রবর্তক; আর শিল্পচর্চায় তিনি সত্তর পেরিয়ে চিত্রাঙ্কনে মন দেন—প্রায় ২৫০০-এরও বেশি স্কেচ ও ছবি আঁকা রেকর্ড করা আছে, যার একটি বড় অংশ শান্তিনিকেতনেই সংরক্ষিত। ১৯২৬ সালে তাঁর চিত্র প্রদর্শনী প্যারিসে অনুষ্ঠিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক দিক থেকেও তা প্রশংসিত হয়।

    কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্য ও সাহিত্যকর্ম — ‘কবি কাহিনী’, ‘বনফুল’, ‘মানসী’, ‘সোনার তরী’, ‘চিত্রা’, ‘গীতাঞ্জলি’— এবং উপন্যাসের মধ্যে ‘গোরা’, ‘ঘরে বাইরে’, ‘চতুরঙ্গ’, ‘নৌকাডুবি’ ইত্যাদি জাতীয় ও আঞ্চলিক পাঠকপ্রিয়। নাটক, প্রবন্ধ ও অনুবাদ-রচনাতে তাঁর অবদান সমসাময়িক বিষয় ও সাংস্কৃতিক প্রশ্নে গভীর প্রভাব ফেলে।

    শেষ কথা—পিঠাভোগ কেবল একটি গ্রাম নয়; এটি রবীন্দ্রনাথের পূর্বপুরুষদের স্মৃতি ও কুশারী-ঠাকুর বংশের ইতিহাস সংরক্ষিত একটি ঐতিহ্যভূমি। যদিও বংশের কিছু শাখা বাড়তি সম্পদ ও সামাজিক অবস্থান লাভ করলেও সময়ের সাথে বিচার-বিবাদ ও বিভাজন তাদের জীবিকা ও সম্পত্তি প্রভাবিত করেছে। তবু পিঠাভোগের কুশারী বাড়ি বাঙালি ইতিহাসে একটি স্মরণীয় স্থান হিসাবে থেকে যায়—রবীন্দ্রনাথকে ব্যক্তিগত ও ঐতিহাসিক প্রসঙ্গে বোঝার এক গুরুত্বপূর্ণ সূত্র।

    সূত্র: যশোর–খুলনার ইতিহাস

  • চিতলমারীতে জুস নিয়ে তর্ক: জামায়াত নেতা মোজাহিদকে কুপিয়ে হত্যা

    চিতলমারীতে জুস নিয়ে তর্ক: জামায়াত নেতা মোজাহিদকে কুপিয়ে হত্যা

    বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় জুস কেনাকে কেন্দ্র করে সড়াসড়ি কাটা কথাকাটির পর মোঃ মোজাহিদ মোল্লা (৪২) নামে এক মুদি দোকানীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার হিজলা ইউনিয়নের হিজলা পশ্চিমপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

    নিহত মোজাহিদ মোল্লা ওই গ্রামের সরোয়ার মোল্লার ছেলে এবং বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামের হিজলা ইউনিয়ন শাখার ৩নং ওয়ার্ডের সভাপতি ছিলেন। তার মৃত্যুর খবর পেয়ে স্থানীয় ও দৃষ্টান্তশীল রাজনৈতিক নেতারা শোক জানিয়েছেন; এগুচ্ছে বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মশিউর রহমান ও উপজেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দের সমবেদনার কথা।

    পুলিশ, হাসপাতালে অনলাইন খবর ও এলাকাবাসী জানান, বৃহস্পতিবার সকালে মোজাহিদ দোকানের সামনে বসে ছিলেন। তখন বায়জিদ শেখ (৪০) নামে এক ব্যক্তি তার কাছ থেকে একটি জুস কিনে এক কস ঢালি নিয়ে বলেন জুসটি ভালো লাগছে না। দোকানদার মোজাহিদ জুসটি চেখে জানায় এটা খারাপ না—এমনই কথাকাটাকাটির সূত্র ধরে উভয়ের মধ্যে বাকবিতন্ডা শুরু হয়।

    এক পর্যায়ে বায়জিদ হাতে থাকা হাসুয়া (ঘাস কাটার ধরনের কাস্তে) দিয়ে মোজাহিদের গলার কাছে কোপ দেন। কোপ লেগে মোজাহিদ গুরুতর আহত হন। উত্তেজিত জনতা পরে বায়জিদের বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে তাকে পিটিয়ে আহত করে। স্থানীয়রা আহত মোজাহিদকে দ্রুত চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে আহত বায়জিদকে পুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে।

    ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন চিতলমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নজরুল ইসলাম। তিনি জানান, ঘটনার পর পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার প্রতিযোগিতা বিধিতে বায়জিদ শেখকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মামলা দায়ের ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    অপরদিকে, বায়জিদ খাপাড়া গ্রামের বাদশা শেখের ছেলে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। সংঘটিত ঘটনায় এলাকায় শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করায় পুলিশ অতিরিক্ত সতর্ক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

    নিহত মোজাহিদ মোল্লার একজন স্ত্রী এবং তিনটি কন্যাসহ—হাফিজ, ফারিয়া ও ফারহানা—নামে তিনটি শিশু সন্তান রয়েছে। স্থানীয় সমাজ ও রাজনৈতিক নেতারা পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে এবং দ্রুত ন্যায়বিচার দাবি করেছে। কর্তৃপক্ষ ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধান করছে এবং তদন্ত চলমান আছে।

  • জেলা পর্যায়ের প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট সমাপ্ত

    জেলা পর্যায়ের প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট সমাপ্ত

    জেলা পর্যায়ের প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক ও বালিকা)-২০২৬-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় খালিশপুর পোর্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের আয়োজনে ওই অনুষ্ঠান হয়।

    উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ অহিদুল আলম সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চ্যাম্পিয়ন ও রানার-আপ দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) কানিজ ফাতেমা লিজা।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক পরিচালক খান জুলফিকার আলী জুলু এবং খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক এস এম আসাদুজ্জামান মুরাদ। শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় সমর্থকদের উপস্থিতিতে প্রতিযোগিতার বিজয়ী শিক্ষার্থীরা সনদপত্র ও পুরস্কার গ্রহণ করে।

    টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা মাঠে হার-জয় উভয় থেকেই মূল্যবান অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। জেলা পর্যায়ের এই প্রতিযোগিতা প্রাথমিক স্তরের খেলাধুলা ও প্রতিভা উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং ভবিষ্যতে অধিকতর ক্রীড়া সম্ভাবনার পথ প্রশস্ত করবে—এমনটাই জানান আয়োজকরা।

  • বিপিএলে দুর্নীতিতে অভিযুক্ত পাঁচজনকে সাময়িক নিষিদ্ধ করল বিসিবি

    জরুরি সংবাদ সম্মেলনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ২০২৬ সালের বিসিএল (বিপিএল) সংক্রান্ত দুর্নীতির তদন্তে অভিযুক্ত পাঁচজনের নাম প্রকাশ ও তাদের বিরুদ্ধে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সংবাদ সম্মেলনে ডিসঅ্যাড-কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল আগেই দ্রুত নাম ঘোষণা করার ব্যাপারে ইঙ্গিত দেন; এরপরই বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

    বিসিবির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী কোডের বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের সন্দেহে চট্টগ্রাম রয়্যালসের ম্যানেজার মোহাম্মদ লাবলুর রহমান, নোয়াখালী এক্সপ্রেসের সহ-স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ তাওহিদুল হক তৌহিদ, ঘরোয়া ক্রিকেটার অমিত মজুমদার, টিম ম্যানেজার রেজওয়ান কবির সিদ্দিক এবং ক্রিকেট সংগঠক সামিনুর রহমান—এই পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

    বিসিবি ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের (বিসিবিআইইউ) পরিচালিত তদন্তে মূলত ২০২৬ সালের বিপিএলকে কেন্দ্র করে দুর্নীতিমূলক আচরণ, জুয়া-সংক্রান্ত কার্যক্রম, তদন্তে সহযোগিতা না করাসহ তদন্তে বাধা দেওয়ার ঘটনাগুলো浮 উঠে এসেছে। তদন্তে অভিযোগে বলা হয়েছে, কথিত জুয়া সংক্রান্ত যোগাযোগ, দুর্নীতির প্রস্তাব ও আইসিসি কোডের ৪.৩ ধারায় জারি করা ডিমান্ড নোটিশ মানতে ব্যর্থতা, প্রয়োজনীয় যোগাযোগ মুছে ফেলা এবং মনোনীত দুর্নীতি দমন কর্মকর্তার (ড্যাকো) সাথে সহযোগিতা না করা—এসব প্রশ্ন রয়েছে।

    কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ এসেছে

    – লাবলুর রহমান (চট্টগ্রাম রয়্যালসের টিম ম্যানেজার): ধারা ২.৪.৬ অনুসারে তদন্তে ড্যাকোকে যথাযথ সহযোগিতা না করা বা ৪.৩ ধারার ডিমান্ড নোটিশ মানতে ব্যর্থ হওয়া এবং ধারা ২.৪.৭ অনুসারে তদন্তে বাধা বা বিলম্ব ঘটানো; প্রাসঙ্গিক যোগাযোগ ও তথ্য গোপন বা ধ্বংস করার অভিযোগ রয়েছে।

    – মোহাম্মদ তৌহিদুল হক তৌহিদ (নোয়াখালী এক্সপ্রেসের সহ-স্বত্বাধিকারী): ধারা ২.৪.৬ ও ২.৪.৭ অনুসারে তদন্তে সহযোগিতা না করা, নোটিশ না মানা এবং তথ্য গোপন বা ধ্বংস করার অভিযোগ।

    – অমিত মজুমদার (ঘরোয়া ক্রিকেটার): ধারা ২.২.১ অনুযায়ী ম্যাচে বাজি বা বেটিং কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগ।

    – রেজওয়ান কবির সিদ্দিকি (টিম ম্যানেজার): ধারা ২.২.১ অনুসারে ম্যাচ-সংক্রান্ত বেটিং কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার অভিযোগ।

    – সামিনুর রহমান (ক্রিকেট সংগঠক): ৯ম, ১০ম ও ১১তম বিপিএলে দুর্নীতির জড়িত থাকার অভিযোগের প্রেক্ষিতে ‘বিসিবি এক্সক্লুডেড পারসন পলিসি’ অনুযায়ী একটি এক্সক্লুশন অর্ডার জারি করা হয়েছে; তদন্তে দেখা গেছে তিনি জুয়া সংক্রান্ত কার্যক্রমে ও খেলোয়াড় ও এজেন্টদের কাছে দুর্নীতির প্রস্তাব দেওয়ার অনুশীলনে জড়িত ছিলেন এবং বেটিং সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন। নোটিশ পাওয়ার পর তিনি আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার ত্যাগ করে বহিষ্কারাদেশটি মেনে নিয়েছেন।

    বিসিবি জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাদের সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে এবং অভিযোগপত্র পাওয়ার পর থেকে ১৪ দিনের মধ্যে তারা তাদের জবাব দিতে পারবেন। আপাতত বিসিবি এই বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করবে না।

    বিসিবি ইন্টেগ্রিটি ইউনিট পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং প্রয়োজনে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এই ধরনের অভিযোগের বিরুদ্ধে কঠোর নীতির আওতায় দ্রুত ও স্বচ্ছ বিচারের প্রতি বোর্ডের জোর।

  • ‘থালাপতি’ বিজয় ভাঙলেন তামিলনাড়ুর ৪৯ বছর পুরনো রেকর্ড

    ‘থালাপতি’ বিজয় ভাঙলেন তামিলনাড়ুর ৪৯ বছর পুরনো রেকর্ড

    নিজের প্রথম নির্বাচনে বিশাল সাফল্য এনে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে চমক সৃষ্টি করেছেন জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর, সাধারণভাবে ‘থালাপতি বিজয়’ নামেই পরিচিত। মাত্র ২০২4 সালে রাজনৈতিকভাবে আত্মপ্রকাশ করা তার দল তামিলাগা ভেট্টরি কোজাগাম (টিভিকে) বিধানসভা নির্বাচনে দুর্দান্ত ফল করে—বিজয় নিজে জয়ী হওয়ার পাশাপাশি টিভিকে পেয়েছে ১০৮টি আসন।

    তামিলনাড়ুর ইতিহাসে চলচ্চিত্র জগত থেকে এসে নিজ দলের নেতৃত্বে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার নজির ছিল মাত্র একবার: ১৯৭৭ সালে এমজি রামাচন্দ্রান (এমজিআর) দেশীয় সিনেমা থেকে রাজনীতিতে এসে নির্বাচিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী হন এবং ১৯৮৭ সালের মৃত্যুর আগে পর্যন্ত ওই পদে ছিলেন। পরবর্তীতে তামিল ফিল্মের বড় নায়িকা জয়ললিতা মুখ্যমন্ত্রী হলেও তিনি নিজে নতুন কোনো দল গঠন না করে এমজিআরের এআইএডিএমকে-র মধ্যেই থেকে অভ্যুত্থান করেছিলেন। এরপর দীর্ঘদিন কোনো অভিনয়শিল্পীও সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেননি।

    এবার বিজয় তার প্রথম নির্বাচনী প্রচারণা ও শক্ত ভক্তশ্রেণীর ভিত্তিতে সেই পুরনো ছবিটিকে পুনরায় অনুলিপি করেছেন—যেটি ৪৯ বছর আগে শুরু হয়েছিল। তামিলনাড়ুর মোট বিধানসভা আসন সংখ্যা ২৩৪; একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য দরকার ১১৮টি আসন। টিভিকে এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও ১০৮ আসন নিয়ে এটি নির্বাচনের অন্যতম প্রধান চালক শক্তি হয়ে উঠেছে। ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার গঠনের জন্য টিভিকেকে অবশ্যই কোনো সমঝোতা বা জোট করতে হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জোট যেভাবেই গঠিত হোক, সেটির কেন্দ্রীয় ভূমিকায় টিভিকেই থাকতে হবে—এবং সে কারণেই বিজয়কে তামিলনাড়ুর পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে অনেকে সম্ভাব্য মনে করছেন।

    বিজয়ের রাজনৈতিক যাত্রাও ছিল পরিকল্পিত। ২০০৯ সালের দিকে নিজের ভক্তসমর্থকদের সংগঠিত করা শুরু করেন তিনি; ভক্তদের সংগঠনকে কেন্দ্রীয় করে গড়ে তোলেন বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কাম। ২০১১-২০২০ সময়ে এই সংগঠন আংশিকভাবে এমজিআর-নেতৃত্বাধীন এআইএডিএমকে-কে সমর্থন করলেও ২০২১ সালে সমর্থন প্রত্যাহার করে বিজয় নিজেই রাজনৈতিকভাবে স্বতন্ত্র পথ বেছে নেন। ২০২৪ সালে তিনি তামিলাগা ভেট্টরি কোজাগাম গঠন করে সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে নামেন এবং সেই দলকে নিয়ে এই নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য আনে।

    এই নির্বাচনের ফলাফল নজিরবিহীন হলেও রাজনৈতিক বাস্তবতা অনুযায়ী টিভিকেকে জোটবদ্ধ করে সরকার গঠন করতে হবে; তারপরেই নিশ্চিত হবে বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রীত্ব। ভক্তনির্ভর সাংগঠনিক শক্তি ও দ্রুত রাজনৈতিক আত্মপ্রকাশ—এই দুইয়ের সমন্বয়েই বিজয় ৪৯ বছর পুরনো এমজিআর-রেকর্ডের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার মতো অবস্থায় পৌঁছেছেন।

    সূত্র: এনডিটিভি

  • রুনা লায়লা জানালেন: আমার মৃত্যু নিয়ে অদ্ভুত গুজব, আমি সুস্থ

    রুনা লায়লা জানালেন: আমার মৃত্যু নিয়ে অদ্ভুত গুজব, আমি সুস্থ

    উপমহাদেশের প্রখ্যাত গায়িকা রুনা লায়লার মৃত্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি অদ্ভুতরকম এক গুজব ছড়িয়ে পড়ে। ভক্তদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ বাড়লে নিজেই সর্তকভাবে বিষয়টি খণ্ডন করেছেন এই কিংবদন্তি শিল্পী।

    রুনা লায়লা বর্তমানে ভারতের দিল্লিতে ‘মিনার–ই–দিল্লি’ পুরস্কার গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবার জন্য অবস্থান করছেন। এ সময়ই দেশ-বিদেশে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে এসে অনেকে হতবাক ও চিন্তিত হয়ে পড়েন।

    ঘটনা নজরে আসার পরে তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে স্পষ্ট করে বলেন, “আমার প্রিয় ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশ্যে — আমার মৃত্যু নিয়ে কিছু অদ্ভুত গুজব ছড়িয়েছে।” পোস্টে তিনি ব্যক্ত করেন যে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ এবং ভালো আছেন।

    ভিত্তিহীন এই খবরটি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে রুনা লায়লা আরও লিখেছেন, “আমি পরিষ্কারভাবে জানাতে চাই যে আমি বহাল তবিয়তে বেঁচে আছি। অনুগ্রহ করে এমন কোনো পোস্ট শেয়ার করার আগে তথ্য যাচাই করে নিন; এ ধরনের গুজব আমার এবং আমার পরিবারের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক।”

    তার এই পোস্টে অনেক অনুরাগী সহজে শ্বাস ফেলেছেন এবং অনেকে দ্রুত গুজব ঠেকানোর আহ্বান জানিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে সংগীতাঙ্গনের একজন কিংবদন্তি হিসেবে তার স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা না করে মিথ্যা খবরে কান না দিতে অনুরোধ করা হয়েছে।

    প্রসঙ্গত, ১৯৬৬ সালে লায়লা উর্দু চলচ্চিত্র ‘হাম দো’তে গাওয়া ‘নাজরো সে মোহাব্বত কা জো পয়গাম মিলা’ গানেই তিনি প্রথমবার খ্যাতি পান। ১৯৬০-এর দশকে নিয়মিত পাকিস্তান টেলিভিশনে পরিবেশনা শুরু করেন এবং ‘ও মেরা বাবু চেল চাবিলা’ ও ‘দামা দম মাস্ত কালান্দার’ প্রভৃতির মতো গান দিয়ে ভারতের মধ্যেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

    শেষে রুনা লায়লা তার ভক্তদের উদ্দেশ্যে ভালোবাসা জানিয়ে বলেছেন, “সবার জন্য অনেক ভালোবাসা রইল।”