Blog

  • রেললাইনের ঘেঁষে কোরবানির হাট বসানো যাবে না: রেল মন্ত্রণালয়

    রেললাইনের ঘেঁষে কোরবানির হাট বসানো যাবে না: রেল মন্ত্রণালয়

    রেল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আসন্ন ঈদুল আজহার আগে রেলওয়ের খোলা অবস্থান, রেললাইন সংলগ্ন এলাকা ও রেলস্টেশনের প্রবেশপথে কোরবানির পশুর হাট স্থাপন নিষিদ্ধ। এসব স্থানে হাট বসাতে হলে রেলওয়ের পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক হবে।

    প্রেস বিজ্ঞপ্তিে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদকে এই নির্দেশনা অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে যাতে ট্রেন চলাচল ও জননিরাপত্তায় কোন বিঘ্ন না ঘটে। বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা রেজাউল করিম সিদ্দিকী।

    ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনির অভ্যন্তরে যদি পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তা হলে হাটটি মৈত্রী সংঘ মাঠ সংলগ্ন এলাকায় সীমাবদ্ধ রাখতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে রেললাইনের খুব কাছাকাছি কোনো স্থানে হাটের অনুমোদন দিলে, ইজারাদারকে ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন না ঘটানোর লক্ষ্যে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে বাঁশ বা উপযুক্ত উপকরণ দিয়ে মজবুত বেষ্টনী নির্মাণ করতে হবে।

    বেষ্টনী এমনভাবে স্থাপন করতে হবে যাতে ট্রেন চলাচল স্বাচ্ছন্দ্য বজায় থাকে এবং হাটে আসা মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হয়। জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে স্থানীয় পুলিশ ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে সমন্বয়ে কাজ করতে বলা হয়েছে, যাতে ট্রেন চলাচল ও জননিরাপত্তা নির্বিঘ্নভাবে বজায় থাকে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

    ঢাকা মহানগরের অভ্যন্তরে বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে নির্বিঘ্ন ট্রেন চলাচল ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করায় বিশেষ মনোযোগ দেয়া হবে। মন্ত্রণালয় এই সব নির্দেশনা দিয়ে জনসাধারণের নিরাপত্তা ও রেলসেবা স্বচ্ছন্দ রাখতে চাইছে।

  • ইসলামপুরে নবম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড; প্রধান আসামি সাদিক খালাস

    ইসলামপুরে নবম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড; প্রধান আসামি সাদিক খালাস

    জামালপুরের ইসলামপুরে নবম শ্রেণির একটি স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড ও প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে জরিমানা করেছেন আদালত। একই সাথে মামলার প্রধান আসামি সাদিককে খালাস দিয়েছেন আদালত।

    বৃহস্পতিবার (৭ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ কোর্টের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আব্দুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ইসলামপুর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের শীলদহ গ্রামের মো. শিপন, ইব্রাহিম ও ইউসুফ।

    সংক্ষিপ্তভাবে মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ওই স্কুলছাত্রী ও তার চাচাতো ভাই সাদিকের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০২৪ সালের ১৯ এপ্রিল রাত প্রায় ৯টার দিকে সাদিক ছাত্রীটিকে ডেকে একটি জঙ্গলে নিয়ে যায় ও তাকে ধর্ষণ করে। ঘটনাস্থলের কাছাকাছি ওত পেতে থাকা শিপন, ইব্রাহিম ও ইউসুফ তখন যায় এবং সাদিক পালিয়ে যায়। পরে তারা পালাক্রমে ঐ ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। সবচেয়ে মারাত্মকভাবে, ঘটনার পর আক্রান্ত কলেজছাত্রী জ্ঞান হারায়; পরে জ্ঞান ফিরলে স্থানীয়রা তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে দেয়।

    মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফজলুল হক বলেন, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় প্রথম দিকে মামলা করা যায়নি; এরপর গ্রামবাসীর সহায়তায় ভুক্তভোগীর বাবা ঘটনার ১৬ দিন পর ইসলামপুর থানায় চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্তরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

    মামলা দায়েরের تقریباً দুই বছর পর, ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এই রায় দেয়। রায়ের পর দণ্ডপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োগযোগ্য আইন অনুযায়ী শাস্তি ও আর্থিক জরিমানা কার্যকর হবে বলে জানা গেছে।

  • এনসিপিতে যোগ দিলেন নিজামীর ছেলে, হাজী শরীয়তুল্লাহর উত্তরসূরি ও ‘ওয়ারিয়র্স অব জুলাই’ সদস্যরা

    এনসিপিতে যোগ দিলেন নিজামীর ছেলে, হাজী শরীয়তুল্লাহর উত্তরসূরি ও ‘ওয়ারিয়র্স অব জুলাই’ সদস্যরা

    জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) নতুন করে যোগ দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামীর ছোট ছেলে ড. মোহাম্মদ নাদিমুর রহমান, ফরায়েজী আন্দোলনের নেতা হাজী শরীয়তুল্লাহর বংশধর আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন, গাজীপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক এম এ এইচ আরিফ এবং ‘ওয়ারিয়র্স অব জুলাই’ সংগঠনের বহু সদস্য। মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলামটর রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁরা এনসিপিতে যোগ দেন।

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ড. মোহাম্মদ নাদিমুর রহমান বর্তমানে তুরস্কের এক বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত থাকায় সশরীরে উপস্থিত ছিলেন না; তিনি অনলাইনের মাধ্যমে সংযুক্ত ছিলেন এবং দলীয় আনুষ্ঠানিকতা অনলাইনে সম্পন্ন করেন। आयोजকরা দাবি করেছেন যে ‘ওয়ারিয়র্স অব জুলাই’ সংগঠনের প্রায় চার হাজার সদস্য দলটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, যদিও ওই সংখ্যার মধ্যে সবাই উপস্থিত ছিলেন না — সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের মাত্র ৫০ জন সদস্য।

    হাজী শরীয়তুল্লাহর বংশধর আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তিনি নিজেকে হাজী শরীয়াতুল্লাহর উত্তরসূরি হিসেবে দেখলেন, তবে দলভিত্তিক কাজকে গুরুত্ব দিয়ে এনসিপিতে একজন কর্মী হিসেবে কাজ করবেন। তিনি বলেন, “হাজী শরীয়াতুল্লাহ কোনো রাজা ছিলেন না; তিনি সাধারণ কৃষক জনগণের নেতা ছিলেন। নেতা আর রাজা হওয়ার মধ্যে পার্থক্য আছে। আমরা কোনো নেতার উপাসনা করি না। আমরা দল করি যাতে যদি কোনো নেতা বিপথগামী হয়, আমরা তাঁকে ভুল থেকে ফিরিয়ে আনতে পারি এবং দলের ভুল সিদ্ধান্তে ন্যায়ের পক্ষে কথা বলতে পারি।”

    এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, দেশের পথ হারানো রাজনীতির নেতৃত্ব ধরে নেয়া হবে এনসিপির মাধ্যমে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সংসদে প্রতারক ও বিশ্বাসঘাতকতার পরিচয় দিচ্ছে বিএনপি এবং এর ফল ভালো হবে না। তিনি অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

    দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম জানালেন, স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোকে সরকার নিজেদের ভাগবাটোয়ারা ও লুটপাটের একটি মাধ্যম বানানোর চেষ্টা করছে। তিনি দাবি করেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে এবং তা এ বছরের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত।

    দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় অভিযোগ আনেন। তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং সেটা তারা সংসদে বুক ফুলিয়ে বলছে। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জার বিষয়। ইতিহাসে দেখা গেছে, যারা জনগণের সাথে প্রতারণার আশ্রয় নেয়, তাদেরই জনগণ নিকৃষ্ট স্থানে ঠেলে দিয়েছে।” তিনি আরও বলেন, হোসাইন মুহাম্মদ এরশাদের সময়ের মতো প্রশাসক নিয়োগের ব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি ঘটছে এবং কিছু নেতারা গণতন্ত্রকে কেবল তাদের রাজনৈতিক উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

    সংবাদ সম্মেলনে নতুন যোগদানের অংশগ্রহণকারী নেতাদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় এবং দলীয় নেতৃত্ব ভবিষ্যতে সক্রিয়ভাবে কাজ করার আহ্বান জানায়।

  • এনসিপি ১০ মে ঘোষণা করবে উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থীর তালিকা

    এনসিপি ১০ মে ঘোষণা করবে উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থীর তালিকা

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেছেন, তারা আগে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভার জন্য উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু ব্যক্তিগত ও সংগঠনিক কিছু কারণে এ সময়সূচি পিছিয়ে গেছে।

    তিনি জানান, এখন আশা করা হচ্ছে আগামী ১০ মে’র মধ্যে এনসিপি প্রাথমিকভাবে সমর্থিত উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থীদের তালিকা ঘোষণা করতে পারবে। এই কথা তিনি মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর বাংলামোটর রূপায়ণ টাওয়ারে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে নাগরিক, রাজনৈতিক ও বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধি যোগদান অনুষ্ঠানে বলেন।

    সারজিস আলম আরও বলেন, এ মাসে সাতটি সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রার্থীর নামও ঘোষণা করা হবে। বর্তমানে এনসিপি ১১ দলের জোটে রয়েছে এবং বিরোধী ভূমিকা পালন করলেও দলটি এককভাবে সংগঠনিক ও রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী করে স্থানীয় নির্বাচনে নিজস্ব প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

    তিনি বিএনপির প্রতি কড়া আক্রমণ করে বলেন, বিএনপি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে টালবাহানা করে তা পিছিয়ে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। একই সঙ্গে, বিএনপির কর্তারা জেলা ও সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ করেছে—এছাড়া উপজেলা পরিষদকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।

    সারজিস আলম বলেন, উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিতভাবে কার্যকর চেয়ারম্যান নেই বলে পরিস্থিতি অনিরাপদ হয়ে পড়ছে এবং উপজেলা পরিষদ বিলুপ্ত করার লক্ষ্যে যে হাতখড়গোড় চলছে, সেটা তাদের জন্য হিতের বিপরীত হচ্ছে। এজন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচন এ বছরের মধ্যেই অনুষ্ঠিত করতে হবে।

  • সোনার দাম কমল: প্রতি ভরি নতুন দাম কত?

    সোনার দাম কমল: প্রতি ভরি নতুন দাম কত?

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) জানিয়েছে দেশের বাজারে সোনার দাম কমানো হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে জারি করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ২,২৫৮ টাকা পর্যন্ত দাম কাটা হয়েছে। নতুন দর সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে।

    বাজুসের নির্ধারিত দামের অনুসারে সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার এক ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২,৪০,৩৩৭ টাকা। এতে এর আগের (সোমবার, ৪ মে) যে দাম ছিল—২,৪২,৪৯৫ টাকা—তার তুলনায় পতন হয়েছে।

    অন্য কেরাটভিত্তিক দামগুলো হচ্ছে: ২১ ক্যারেট প্রতি ভরি ২,২৯,৪৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেট প্রতি ভরি ১,৯৬,৬৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১,৬০,১৪৭ টাকা।

    বাজুস জানিয়েছে, তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার আন্তর্জাতিক দর কমে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে দাম সমন্বয় করা হয়েছে। একই সময়ে রূপার দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। নির্ধারিত অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৫,৪৮২ টাকা; ২১ ক্যারেট ৫,১৯০ টাকা; ১৮ ক্যারেট ৪,৪৯০ টাকা; এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৩,৩৮৩ টাকা প্রতিভরি রয়েছে।

    বিশ্ববাজারে গত কয়েক মাসে মূল্য ওঠানামা করেছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল নিয়ে উত্তেজনার পর আন্তর্জাতিকভাবে সোনার দাম প্রথমে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছিল, পরে দর সামান্য নামজাদা হয়েছে। বিশ্বস্ত সূত্র গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজারে এখন প্রতি আউন্স সোনার দাম কমে প্রায় ৪,৫০০ ডলার। তুলনামূলক হিসেবে বলা যেতে পারে—আগের দিকে ৩০ জানুয়ারি এমন দাম ছিল প্রায় ৫,২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি তা ৫,৫৫০ ডলারে পৌঁছেছিল।

    ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য স্থানীয় দর ও আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা নজর রাখাই উপযোগী হবে, কারণ বিশ্ববাজারে ওঠা-নামা স্থানীয় দরে দ্রুত প্রভাব ফেলতে পারে।

  • বাজুস আবার বাড়ালো সোনার দাম, ২২ ক্যারেট ভরি ২,44,711 টাকা

    বাজুস আবার বাড়ালো সোনার দাম, ২২ ক্যারেট ভরি ২,44,711 টাকা

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) টানা দ্বিতীয়বারের মতো সোনার দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে। এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সর্বোচ্চ ভরিতে দাম সর্বোচ্চ ২,২১৬ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে—ফলে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম নির্ধারিত হলো ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা। গতকাল এ সুস্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা।

    বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নতুন এই মূল্য বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল ১০টা থেকে কার্যকরি হয়েছে। বাজুস জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দাম বাড়ায় স্থানীয় বাজারে এই সমন্বয় আনা হয়েছে।

    নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী অন্যান্য কেরাটের দামগুলো হলো:

    – ২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা

    – ১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ২১৩ টাকা

    – সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকা

    সোবার পাশাপাশি রূপার দামও বাড়ানো হয়েছে। অনুযায়ী রূপার ভরিডে দামগুলো হল:

    – ২২ ক্যারেট রূপা: ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা

    – ২১ ক্যারেট রূপা: ৫ হাজার ৫৪০ টাকা

    – ১৮ ক্যারেট রূপা: ৪ হাজার ৭২৪ টাকা

    – সনাতন পদ্ধতির রূপা: ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা

    বিশ্ববাজারে চলমান উত্তেজনা—ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষকালীন পরিস্থিতি—সোনার দর ঊর্ধ্বমুখী রাখছে। আন্তর্জাতিক সূত্র গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি জানিয়েছে, বর্তমানে আউন্সপ্রতি সোনার দাম প্রায় ৪,৭০০ ডলার। এর আগে গত ৩০ জানুয়ারিতে আউন্সপ্রতি দাম ছিল প্রায় ৫,২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারিতে তা পৌঁছে গিয়েছিল ৫,৫৫০ ডলারে।

    গত মাসের শেষের দিকেও বিশ্ববাজারে সোনার দ্রুত মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব দেশীয় বাজারে স্পষ্ট হয়েছিল। তখন বাজুস এক ধাপে ভরিপ্রতি ১৬ হাজার ২১৩ টাকা যোগ করে ২২ ক্যারেট সোনার মূল্য এক সময়ে বেড়ে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় পৌঁছেছিল—যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায় হিসেবে রেকর্ড হয়েছে।

  • ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২২৮ সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত

    ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২২৮ সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত

    মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে চলমান ৪০ দিনব্যাপী সংঘর্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত অন্তত ২২৮টি সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে, স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট।

    পত্রিকাটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই হামলায় লক্ষ্যবস্তুও ছিলেন সেখানে থাকা বিমান সংরক্ষণ কাঠামো, ব্যারাক, জ্বালানী ডিপো, বিমানসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম এবং গুরুত্বপূর্ণ রাডার, যোগাযোগ ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এতটাই বেশি যে তা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সরকারি স্বীকারোক্তি বা পূর্বের কোনো প্রতিবেদনের চেয়ে অনেক বড় মনে হচ্ছে।

    এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছিল, অঞ্চলের অন্তত ১৬টি মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এবার ওয়াশিংটন পোস্টের বিশ্লেষণ সেই সংখ্যাকে অনেক বড় অংশে বাড়িয়েছে।

    কিছু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার মতে, চলমান বিমান হামলার হুমকি কিছু মার্কিন ঘাঁটিকে স্বাভাবিকভাবে কর্মসংস্থান ও অপারেশন চালানোর জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক করে তুলেছে। তাই যুদ্ধ শুরুর প্রথম থেকেই কমান্ডাররা তাদের বাহিনীর বড় অংশকে ঝুঁকির বাইরে সরিয়ে নিয়েছেন।

    তবে এক সামরিক মুখপাত্র ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেছেন যে বিশেষজ্ঞদের দেওয়া ক্ষয়ক্ষতির বর্ণনা সবসময়ই ‘ব্যাপক ধ্বংস’ বা ব্যর্থতার সরাসরি প্রমাণ হিসেবে দেখা উচিত নয়। ক্ষতির পুরো পরিসর নির্ধারণ জটিল এবং কখনো কখনো স্যাটেলাইট চিত্র ও তথ্য ভিন্ন ধারনা সৃষ্টি করতে পারে। তিনি আরও জানিয়েছেন, যুদ্ধ শেষ হলে সামরিক কমান্ডাররা ঘটনার আরও পূর্ণাঙ্গ চিত্র প্রদান করবেন।

    গত সপ্তাহে মার্কিন যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেট কংগ্রেসে জানান, ইরানের সাথে দ্বন্দ্বের সরাসরি যুদ্ধ ব্যয় হবে প্রায় ২৫ বিলিয়ন (২৫০০ কোটি) ডলার। তবে তিনি স্বীকার করেন, এই যুদ্ধের ব্যবহৃত গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম পুনর্গঠন করতে মাস কিংবা বছর লেগে যেতে পারে।

    একই সময়ে পেন্টাগন কংগ্রেসের কাছে ২০২৭ অর্থবছরের জন্য ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি বাজেট চেয়েছে, যা আগের তুলনায় প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে।

    ঘটনাচক্রটি আরো বড় আকার নেয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালায়। এর প্রতিশোধ হিসেবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায়, ফলে সংঘাত পুরো অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। তেহরান হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ করে যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ দেওয়ার চেষ্টা করে; অপর দিকে ওয়াশিংটন ইরানের উপকূলীয় বন্দরে আসা-যাওয়া করা জাহাজের ওপর অবরোধ আরোপ করে দেশটির অর্থনীতি দুর্বল করার চেষ্টা চালায়।

  • পুশব্যাক নিয়ে ভারত: বাংলাদেশকে দ্রুত নাগরিকত্ব যাচাই সম্পন্ন করার আহ্বান

    পুশব্যাক নিয়ে ভারত: বাংলাদেশকে দ্রুত নাগরিকত্ব যাচাই সম্পন্ন করার আহ্বান

    পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর সীমান্তে ‘পুশব্যাক’ বা জোরপূর্বক মানুষ ফেরত পাঠানোর সম্ভাবনা নিয়ে শীর্ষ পর্যায়ের যে মন্তব্যগুলো উঠেছে, তা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। বৃহস্পতিবার (৭ মে) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এসব বক্তব্যকে মূলত অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গ হিসেবে দেখা উচিত এবং এ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের দ্রুত সহযোগিতা প্রয়োজন।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, গত কয়েক দিনে এমন মন্তব্য লক্ষ্য করা গেছে। তবে মূল ফোকাস থাকা উচিত ভারতে থাকা অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো — এবং এ কাজ সফল করতে বাংলাদেশ সরকারের নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুততর করা প্রয়োজন।

    মুখপাত্র আরও জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের কাছে নাগরিকত্ব যাচাই সংক্রান্ত প্রায় ২ হাজার ৮৬০টির বেশি মামলা ঝুলে আছে; এর মধ্যে অনেক আবেদন পাঁচ বছরেরও অধিক সময় ধরে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘যদি যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হয়, তাহলে অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো সহজ ও সুশৃঙ্খলভাবে করা সম্ভব হবে।’’

    একই ব্রিফিংয়ে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অভিন্ন নদীর সংখ্যা ৫৪টি এবং এসব নদী-সংক্রান্ত সব ইস্যু আলোচনার জন্য দুই দেশের স্থাপন করা দ্বিপক্ষীয় কাঠামো সক্রিয় রয়েছে। তিনি জানান, পানিবণ্টন ও নদী ব্যবস্থাপনাসহ বিদ্যমান যৌথ প্রক্রিয়াগুলো নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে এগিয়ে চলছে, তবে তিস্তা চুক্তি বিষয়ে নতুন কোনো অগ্রগতি বা নির্দিষ্ট সময়সীমা তিনি উল্লেখ করেননি।

    অন্যদিকে, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সীমান্তে সম্ভাব্য পুশব্যাক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বুধবার (৬ মে) বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের পর এমন কোনো ঘটনা ঘটবে বলে তিনি আশঙ্কা করেন না, তবুও সীমান্ত পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানও এ বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। বিএনপির একটি অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বক্তব্যে তিনি বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর যদি সীমান্তে ‘পুশ ইন’ বা জোরপূর্বক মানুষ ঢোকানোর ঘটনা ঘটে, তাহলে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

    ব্যাপক প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে বিজেপি অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকে বড় রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে তুলে ধরেছে এবং তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করে আসছে যে তারা সীমান্তে নরম বিধান করছে; তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তারা দীর্ঘদিন ধরে করে আসছে, যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল বারবার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

    সারসংক্ষেপে, ভারত সুচিত করেছে যে সীমান্ত ও অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত যে সব কথাবার্তা হচ্ছে, সেগুলোকে অবৈধ অভিবাসীদের প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গে দেখা উচিত এবং এ কাজে দ্রুত নাগরিকত্ব যাচাই করে বাংলাদেশের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হবে। একই সঙ্গে দুই দেশ নদী-বিষয়ক দ্বিপক্ষীয় কাঠামো বজায় রেখে তিস্তা ও অন্যান্য নদীর ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত আলোচনা চালিয়ে যাবে।

  • শার্শায় জমিজমা বিবাদের জেরে ককটেল বিস্ফোরণ ও মোটরসাইকেল ছিনতাই, একজন আটক

    শার্শায় জমিজমা বিবাদের জেরে ককটেল বিস্ফোরণ ও মোটরসাইকেল ছিনতাই, একজন আটক

    যশোরের শার্শায় জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘ দিনের বিরোধের জেরে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এক বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয় এবং দুটি মোটরসাইকেল ছিনতাই করে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

    ঘটনাটি উপজেলার উলাশী ইউনিয়নের মাটিপুকুরিয়া গ্রামে ঘটে। স্থানীয় ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে ওই গ্রামের রবি হোসেনসহ অজ্ঞাত আরো ২–৩ জন ওই এলাকার ইয়াকুব আলীর বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা বাড়ির সদস্যদের গালিগালাজ ও হুমকি দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

    একপর্যায়ে অভিযুক্তরা ইয়াকুব আলীর একতলা পাকা বাড়ির দেয়ালে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। বিস্ফোরণের ভয়াবহ শব্দে আশপাশের মানুষ দৌড়ে এসে ছুটেন এবং পুরো এলাকায় ভয়ে কাপতে থাকে। পরে দুর্বৃত্তরা বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে একটি লাল-কালো পালসার এবং একটি হিরো স্প্লেন্ডার মোটরসাইকেল জোরপূর্বক নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

    ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ তৎপর হয়ে বেনাপোল এলাকা থেকে রবি হোসেনকে গ্রেফতার করে। তার কাছ থেকে লুট হওয়া দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, ঘটনার সাথে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, ইয়াকুব আলী ও প্রতিবেশী রবি হোসেনের মধ্যে দীর্ঘদিন থেকেই বাড়ির পাশের জমিতে পুকুর খননকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলছিল। তারা বলেন, অতিরিক্ত গভীরতা দিয়ে পুকুর খননের ফলে ইয়াকুব আলীর বাড়ি ও আশপাশের স্থাপনার ভাঙার আশঙ্কা দেখা দেয় এবং এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে বহুবার তর্কবিতর্ক হয়েছে।

    এছাড়া স্থানীয়রা আরো জানান, রবি হোসেন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা পাওনা দাবিও করছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

    শার্শা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন জানান, ঘটনাটি তদন্তাধীন এবং সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তদন্তের পরে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

  • চিতলমারীতে জামায়াত নেতা মোজাহিদ মোল্লা কুপিয়ে নিহত

    চিতলমারীতে জামায়াত নেতা মোজাহিদ মোল্লা কুপিয়ে নিহত

    বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় জুস কেনাকে কেন্দ্র করে জামায়াত নেতা ও মুদি দোকানী মোঃ মোজাহিদ মোল্লা (৪২)কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে হিজলা ইউনিয়নের হিজলা পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত মোজাহিদ মোল্লা একই গ্রামের সরোয়ার মোল্লার ছেলে এবং বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী হিজলা ইউনিয়ন শাখার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি ছিলেন। স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিনের মতো বাড়ির সামনে দোকানে বসে থাকা অবস্থায় ওই সময় বায়জিদ শেখ (৪০) নামে এক ব্যক্তি জুস কিনেন। বায়জিদ জুসটি এনে বলেন এটি ভালো নয়—এ নিয়ে দুইজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়।

    পরে বায়জিদ হাতে থাকা হাসুয়া দিয়ে মোজাহিদের গলায় কোপ দেন। গুরুতর রক্তক্ষরণে স্থানীয়রা তাকে চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    এই ঘটনার পর এলাকার লোকজন ক্ষোভে বায়জিদের বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর এবং বায়জিদকে পিটিয়ে আহত করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং আহত বায়জিদকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। বায়জিদ হিজলা খাপাড়া গ্রামের বাদশা শেখের ছেলে বলে জানানো হয়েছে।

    চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং বায়জিদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নতদন্তের জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে এবং এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ।

    নিহতের মৃত্যু সংবাদ ছড়ালে স্থানীয় জামায়াত ও এলাকার নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মশিউর রহমান ও উপজেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

    নিহত মোজাহিদের পরিবারে স্ত্রী এবং তিন সন্তানের মধ্যে আছে—হাফিজ, ফারিয়া ও ফারহানা। পুলিশ ও স্থানীয়রা আরও জানিয়েছে, ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত চলছে।