Blog

  • যথার্থ ফ্র্যাঞ্চাইজি না হলে বিপিএল আয়োজন হবে না: তামিম

    যথার্থ ফ্র্যাঞ্চাইজি না হলে বিপিএল আয়োজন হবে না: তামিম

    বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) নিয়ে ইতিবাচক খবরের চেয়ে নেতিবাচক খবরই বেশি শোনা যাচ্ছে—এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল। তিনি বলেন, ফিক্সিং, খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক ঠিকমতো না দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ থাকলে এইভাবে টুর্নামেন্ট চালানো সম্ভব নয়।

    জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তামিম জানান, আগে বিপিএল একটি লাভজনক টুর্নামেন্ট ছিল। এখন প্রতিবারের আয়োজন থেকে লোকসান হওয়ার ঘটনা ঘটছে; তিনি ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০–১৬ কোটি টাকার ধাঁচের বলছেন। এ অবস্থায় ফ্র্যাঞ্চাইজিদের কাঠামো ও নিয়ম-কানুন পুনর্বিবেচনা করা ছাড়া টুর্নামেন্ট টিকে থাকা দুষ্কর হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

    তামিম বলেন, ‘‘আগে এই টুর্নামেন্ট এক সময় লাভ করত। আজ সেই টুর্নামেন্টে ১০ থেকে ১৪, ১৫, ১৬—সংখ্যাগুলো যাই হোক, দেখছি এটা আর পূর্বের মতো নেই। এভাবে করে আর কয়দিন? আমাদের আরও কিছু করার আছে।’’ তিনি জোর দিয়ে জানান, যদি যথাযথ মানের ও দায়িত্বশীল ফ্র্যাঞ্চাইজি না পাওয়া যায়, তাহলে বাইচকে (বিপিএল) আয়োজন করা উচিত হবে না।

    বিসিবির অ্যাডহক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে তামিম বারবার বলেছেন, টুর্নামেন্টের স্বচ্ছতা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি। আগামী দিনগুলোতে ফ্র্যাঞ্চাইজির মানোন্নয়ন এবং খেলার ইন্টিগ্রিটি রক্ষায় কী পদক্ষেপ নেয়া হবে—সেই সিদ্ধান্তই ভবিষ্যতে বিপিএলের আয়োজনের দৃষ্টিভঙ্গি নির্ধারণ করবে।

  • বিপিএলে দুর্নীতি: পাঁচজনকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করল বিসিবি

    জরুরি সিদ্ধান্তে বিপিএল দুর্নীতির অভিযোগে পাঁচজনকে সাময়িক নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল আগেই জানান যে, শিগগিরই ফিক্সিংয়ের অভিযোগে নাম প্রকাশ করা হবে—সংবাদ সম্মেলনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সেই নামগুলো প্রকাশ করল বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট পাঁচজনকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

    বিসিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ইন্টেগ্রিটি ইউনিট (বিসিবিআইইউ) পরিচালিত তদন্তের ভিত্তিতে আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী বিধি ভাঙার অভিযোগ আনা হয়েছে। চট্টগ্রাম রয়্যালসের ম্যানেজার মোহাম্মদ লাবলুর রহমান, নোয়াখালী এক্সপ্রেসের সহ-স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ তাওহিদুল হক তাওহিদ, ঘরোয়া ক্রিকেটার অমিত মজুমদার, টিম ম্যানেজার রেজওয়ান কবির সিদ্দিক এবং ক্রিকেট সংগঠক সামিনুর রহমান—এই পাঁচজনের বিরুদ্ধে ২০২৬ সালের বিপিএলকে ঘিরে দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তোলা হয়েছে।

    তদন্তে উঠে এসেছে মূলত বেটিং বা জুয়া সংক্রান্ত কার্যক্রম, দুর্নীতির প্রস্তাব দেওয়া, তদন্তে সহযোগিতা না করা, প্রাসঙ্গিক যোগাযোগ মুছে ফেলা এবং আইসিসি কোড অনুযায়ী জারি করা ‘ডিমান্ড নোটিশ’ (ধারা ৪.৩) মানতে ব্যর্থতা। এছাড়া তদন্তকে বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগও আছে।

    কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ

    – মোহাম্মদ লাবলুর রহমান (চট্টগ্রাম রয়্যালস টিম ম্যানেজার): ধারা ২.৪.৬ ও ২.৪.৭ অনুযায়ী তদন্তে ড্যাকোকে সহযোগিতা করতে ব্যর্থ হওয়া, ডিমান্ড নোটিশ মানতে না চাওয়া এবং প্রাসঙ্গিক যোগাযোগ লুকোনো বা ধ্বংসের মাধ্যমে তদন্তে বাধা দেওয়া।

    – মোহাম্মদ তাওহিদুল হক তাওহিদ (নোয়াখালী এক্সপ্রেস সহ-স্বত্বাধিকারী): ধারা ২.৪.৬ ও ২.৪.৭ অনুযায়ী একই ধরনের সহযোগিতা না করা, তথ্য গোপন বা ধ্বংস করা ও তদন্তে বাধা দেওয়া।

    – অমিত মজুমদার (ঘরোয়া ক্রিকেটার): ধারা ২.২.১—ক্রিকেট ম্যাচের ফলাফল, অগ্রগতি বা পরিচালনা ইত্যাদির ওপর বাজি ধরা বা বেটিং কার্যক্রমে অংশ নেওয়া।

    – রেজওয়ান কবির সিদ্দিকী (টিম ম্যানেজার): ধারা ২.২.১—ম্যাচ সংক্রান্ত বেটিং কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগ।

    অপর একজন, ক্রিকেট সংগঠক সামিনুর রহমানের বিরুদ্ধে বিসিবি ‘এক্সক্লুডেড পারসন পলিসি’ (বহিষ্কৃত ব্যক্তি নীতি) অনুসারে একটি এক্সক্লুশন অর্ডার জারি করেছে। তদন্তে দেখা গেছে তিনি বিগত বিপিএলের কয়েকটি আসরে জুয়া সংক্রান্ত কার্যক্রমে, খেলোয়াড় ও এজেন্টদের দুর্নীতির প্রস্তাব দেওয়া এবং দেশি-বিদেশি বেটিং সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে ম্যাচ সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিতে ভূমিকা রেখেছেন। নোটিশ পেয়ে জনাব সামিনুর রহমান আন্তরিকভাবে আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার ত্যাগ করে ওই বহিষ্কারাদেশ মেনে নিয়েছেন।

    বিসিবি জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র পাওয়ার পর প্রতিজনকে ১৪ দিনের মধ্যে জবাব দিতে হবে। আপাতত বিসিবি এই বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করবে না। ঘটনায় বোর্ডের ইনটেগ্রিটি ইউনিট তদন্ত চালিয়ে যেতে থাকবে এবং প্রক্রিয়াধীন কার্যক্রম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

  • বিজয় ভাগ করলেন তামিলনাড়ুর ৪৯ বছরের এমজি রেকর্ড

    বিজয় ভাগ করলেন তামিলনাড়ুর ৪৯ বছরের এমজি রেকর্ড

    থালাপতি বিজয়—ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সুপরিচিত তারকা জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর—রাজনীতিতে তাঁর প্রথম নির্বাচনী যুদ্ধে তাক লাগানো সাফল্য দেখিয়েছেন। এই ভোটে শুধু ব্যক্তিগতভাবে তিনি জয়ী হয়েছেন না, তার নেতৃত্বে সদ্য গঠিত দল তামিলাগা ভেট্টরি কোঝাগাম (টিভিকে) তামিলনাড়ুর ৪৯ বছরের পুরনো এক রেকর্ডেও ভাগ বসিয়েছে।

    ১৯৭৭ সালে এমজি রামাচন্দ্রন (এমজিআর) চলচ্চিত্র জীবনের থেকে সরাসরি রাজনীতিতে এসে একটি নিজস্ব দল গঠন করে মুখ্যমন্ত্রী হয়ে ছিলেন—এ ধরনের ঘটনা তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বিরল। এমজিআর ১৯৭৭ সালে ক্ষমতায় ওঠেন এবং ১৯৮৭ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রাজ্যকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন; তার রাজনৈতিক দল ছিল এআইএডিএমকে। পরবর্তীতে জয়া ললিতা এসেও মুখ্যমন্ত্রী হন, কিন্তু তিনি নিজে কোনো নতুন রাজনৈতিক দল গঠন না করে এমজিআরের পার্টি এআইএডিএমকে-তেই নেতৃত্ব গ্রহণ করেছিলেন। এরপর কোনো চলচ্চিত্রতারকা ওই চূড়ান্ত রাজনৈতিক শীর্ষস্থানে আর উঠতে পারেননি।

    এবারের নির্বাচনে বিজয় ও তাঁর দল সেই ইতিহাসের অনুকরণে একই সোপানে পৌঁছেছি বলে বলা হচ্ছে। তামিলনাড়ুর বিধানসভার মোট আসন ২৩৪; একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১১৮ আসন। বিজয় নিজে জয় পেয়েছেন এবং টিভিকে এই বিধানসভায় ১০৮টি আসনে বিজয়ী হয়েছে—২০২৪ সালে গঠিত একটি নতুন রাজনৈতিক দলের জন্য অপ্রত্যাশিত ও অসাধারণ ফল। পার্লামেন্টারি গণতান্ত্রিক রীতিতে এককভাবে সরকার গঠন করতে টিভিকে যথেষ্ট নয়, তাই অন্য কোনো দলের সঙ্গে জোট নিয়ে সরকার গঠন করতে হবে; তবু জোটের নেতৃত্ব টিভিকের কাঁধেই থাকলেও এবং বিজয়ই তামিলনাড়ুর পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণের অপেক্ষায় আছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।

    কীভাবে এই সাফল্য? এমজিআরের মতোই বিজয়ও দীর্ঘ সময় ধরে ভক্তশ্রেণিকে সংগঠিত করে রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করেছেন। ২০০৯ সালের দিকে থেকে তিনি ভক্তদের সংগঠিত করা শুরু করেন এবং বিভিন্ন ভক্তগোষ্ঠীকে একত্র করে বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কাম নামে একটি ঐক্য গড়েছেন। এই সংগঠন ২০১১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত এমজিআরের দল এআইএডিএমকে-কে সমর্থনও দিয়েছে। ২০২১ সালে সে সমর্থন প্রত্যাহার করে বিজয় নিজে রাজনৈতিক দলের দিকে আরও গুরুত্ব দিতে থাকেন এবং ২০২৪ সালে টিভিকে আত্মপ্রকাশ করে।

    ফলত: চলচ্চিত্র দুনিয়া থেকে উঠে এসে নিজ দল গঠন করে প্রথমবারের নির্বাচনে এত বড় প্রভাব দেখা দেওয়া—তাই এই নির্বাচনের মাধ্যমে বিজয়কে এমজিআরের তৈরি করা ঐতিহ্যের সঙ্গে জুড়ে দেখা হচ্ছে। সূত্র: এনডিটিভি।

  • রুনা লায়লা: আমার মৃত্যু নিয়ে বিভ্রান্তিকর গুজব, আমি সম্পূর্ণ সুস্থ

    রুনা লায়লা: আমার মৃত্যু নিয়ে বিভ্রান্তিকর গুজব, আমি সম্পূর্ণ সুস্থ

    উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী রুনা লায়লার মৃত্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হঠাৎ করেই অদ্ভুত ও বিভ্রান্তিকর গুজব ছড়িয়ে পড়ে। গুজবে উদ্বিগ্ন ভক্ত-অনুরাগীরা যদি একটু সান্ত্বনা পান, সেই কাজে নিজেই এগিয়ে এসে ভক্তদের আশ্বস্ত করেছেন এই কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী।

    বর্তমানে তিনি ভারতের দিল্লিতে ‘মিনার–ই–দিল্লি’ পুরস্কার প্রদানের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছেন। ঘটনাস্থলে থাকা বা অনুষ্ঠানসংক্রান্ত খবর ছড়ানোর মধ্যেই দেশের বাইরে–ভিতরে তার মৃত্যুর খবরে চরম বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়।

    এই বিষয়টি নজরে আসার পরে রুনা লায়লা নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে সরাসরি সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমার প্রিয় ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে আমার মৃত্যু নিয়ে কিছু অদ্ভুত গুজব ছড়িয়েছে।’ তিনি স্পষ্ট করে জানান, ‘আমি বহাল তবিয়তে বেঁচে আছি।’

    ভিত্তিহীন এই সংবাদে দুঃখপ্রকাশ করে তিনি ভক্তদের তথ্য যাচাই করার অনুরোধ জানিয়েছেন—শেয়ার করার আগে খবরের উৎস দেখে নেবেন, কারণ এসব গুজব তার ও তার পরিবারের প্রতি কষ্টদায়ক। শেষ পর্যন্ত তিনি সবাইকে অনেক ভালোবাসা জানিয়েছেন।

    উল্লেখ্য, ১৯৬৬ সালে উর্দু চলচ্চিত্র ‘হাম দোনো’তে গাওয়া ‘নজরো সে মহব্বত…’ গানটির মাধ্যমে রুনা লায়লা প্রথমবারের মতো ব্যাপক পরিচিতি পান। ১৯৬০-এর দশকে তিনি নিয়মিত পাকিস্তান টেলিভিশনে পরিবেশনা শুরু করেন এবং পরবর্তীতে ‘ও মেরা বাবু চেল চাবিলা’ ও ‘দামা দম মাস্ত কালান্দার’ মতো হিট গানে ভারতেও অসাধারণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

    ফলে, বর্তমানে গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে রুনা লায়লার কথাতেই ভক্তরা নিঃশ্বাস ফেলেছেন—তিনি জীবিত ও সুস্থ, এবং সবাইকে অনুরোধ করেছেন সতর্ক থাকতে ও সংবাদ যাচাই করে শেয়ার করতে।

  • জামালপুরে কিশোরী ধর্ষণ মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড, প্রধান আসামি সাদিক খালাস

    জামালপুরে কিশোরী ধর্ষণ মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড, প্রধান আসামি সাদিক খালাস

    জামালপুরের ইসলামপুরে নবম শ্রেণির এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের মামলায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড ও প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মামলার প্রধান আসামি সাদিককে আদালত খালাস দিয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (৭ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আব্দুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হচ্ছেন ইসলামপুর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের শীলদহ গ্রামের মো. শিপন, ইব্রাহিম ও ইউসুফ।

    মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফজলুল হক জানিয়েছন, শীলদহ এলাকায় কিশোরীর সঙ্গে তার চাচাতো ভাই সাদিকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ২০২৪ সালের ১৯ এপ্রিল রাত প্রায় ৯টায় সাদিক কিশোরীকে ডেকে একটি জঙ্গলে নিয়ে যায় এবং সেখানে ধর্ষণ করে। ঘটনার কাছেই ওত পেতে থাকা শিপন, ইব্রাহিম ও ইউসুফ পরে আসে; সাদিক তখন দৌড়ে পালিয়ে যায়। এরপর ওই তিনজন কিশোরীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে, ফলে কিশোরী ঘটনাস্থলে অজ্ঞান হয়ে যায়। পরে জ্ঞান ফিরে এসে ওই তিনজন কিশোরীকে বাড়িতে পৌঁছে দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

    ফজলুল হক আরও বলেন, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় প্রথমে মামলা দায়ের করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু গ্রামবাসীর সহায়তায় ঘটনাটি সামনে আসার পর ভুক্তভোগীর বাবা ১৬ দিন পর ইসলামপুর থানায় চার জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেন। পরে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

    আদালত দুই বছর ধরে মামলার শুনানি শেষে মোট নয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের পর এই রায় দেন। রায়ে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড ও প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে, আর সাদিককে অভিযোগ প্রমাণের অভাবে খালাস ঘোষণা করা হয়েছে।

  • সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের বিচার শুরু; গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

    সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের বিচার শুরু; গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

    ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধভাবে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী ও প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়েছে। ঢাকা বিভাগীয় স্পেশাল জজ বেগম শামীমা আফরোজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) আসামিদের অব্যাহতি আবেদন নামঞ্জুর করে চার্জ গঠন করেন এবং একই সঙ্গে আগামী ২২ জুন সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য তারিখ নির্ধারণ করে দেন।

    আসামিদের মধ্যে তিন জনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। প্রধান অভিযুক্ত তোফায়েল আহমেদ। মামলায় আরও নামে আছেন ম্যাডোনা অ্যাডভারটাইজিং লিমিটেডের প্রধান হিসাবরক্ষক মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম এবং ভোলার মোশারফ হোসেন। আদালতে উপস্থিত ছিলেন মোশারফ হোসেন; বাকি দুই জন বর্তমানে পলাতক। চার্জ গঠনকালে পলাতক দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তোফায়েল আহমেদের আইনজীবী মো. খায়ের উদ্দিন শিকদার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০০২ সালে দুর্নীতি দমন ব্যুরোর পরিদর্শক কাজী শামসুল ইসলাম অভিযোগটি দায়ের করেন। এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে যে তোফায়েল আহমেদ ক্ষমতার অপব্যবহার করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা গোপনে রাখার উদ্দেশ্যে সহযোগীদের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে অর্থ স্থানান্তর ও উত্তোলন করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সোনালী ব্যাংকের মতিঝিল কর্পোরেট শাখা থেকে ওই টাকা বিভিন্ন কিস্তিতে স্থানান্তর ও উত্তোলন করা হয়। তদন্ত শেষে তদন্তকারী প্রতিষ্ঠান তিন জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করে।

    আগে এই মামলার কার্যক্রম উচ্চ আদালতের আদেশে দীর্ঘ সময় স্থগিত ছিল; এরপর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট উচ্চ আদালত নিজ উদ্যোগে (সুয়োমটো) মামলাটি পুনরায় কার্যকর করে এবং নিম্ন আদালতে পাঠায়। এবার নিম্ন আদালত চার্জ গঠন করে বিচার শুরু করেছেন। পরবর্তী শুনানিতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে বলে আদালত জানিয়েছে।

  • এনসিপি ১০ মে ঘোষণা করবে উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থী

    এনসিপি ১০ মে ঘোষণা করবে উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থী

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম জানান, তারা পূর্ব নির্ধারিত সময়সূচি থেকে সামান্য পিছিয়ে ১০ মে-এর মধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র প্রার্থীদের প্রথম ধাপের তালিকা প্রকাশ করবেন।

    তিনি বলেন, আগে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে দেশের ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভার চেয়ারম্যান ও মেয়রপ্রার্থীর নাম ঘোষণা করার পরিকল্পনা ছিল। তবে ব্যক্তিগত ও সংগঠনিক কিছু কারণে তারিখটি সাময়িকভাবে পিছিয়ে গেছে।

    সারজিস আলম এসব কথা বলেন মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর বাংলামোটর রূপায়ণ টাওয়ারের দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে রাজনৈতিক ও বিভিন্ন পেশার নাগরিকদের যোগদান অনুষ্ঠানে।

    তাঁর কথায়, ‘‘আমরা আশা করছি আগামী ১০ মে’র মধ্যে এনসিপি থেকে প্রাথমিকভাবে সমর্থিত উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থীদের তালিকা ঘোষণা করতে পারবো।’’ তিনি আরও জানান, এ মাসের মধ্যেই সাতটি সিটি কর্পোরেশনের মেয়রপ্রার্থীদের নামও প্রকাশ করা হবে।

    সারজিস বলেন, এখনই তারা একাদশ দলীয় জোটের অংশ হিসেবে বিরোধী ভূমিকা পালন করলেও, একই সঙ্গে এনসিপিকে সাংগঠনিক ও রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী করে গড়ে তোলার কাজ জোরদার করা হচ্ছে। তাই স্থানীয় স্তরে এনসিপি এককভাবে প্রার্থীদের ঘোষণা করবে।

    তিনি বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন যে, তারা স্থানীয় সরকার নির্বাচন টালাতে চাইছে এবং সেটা ২০২৭ সালের ডিসেম্বরে নেওয়ার কথাও ভাবছে। ‘‘তারা ইতোমধ্যে জেলা পরিষদ ও সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে এনে দিয়েছে,’’ তিনি বলেন।

    সারজিস আলম আরও বলেন, ‘‘উপজেলা পর্যায়ে বর্তমানে কোনো স্থিতিশীল নেতৃত্ব নেই। কেউ ক্ষমতা কুক্ষিগত করার চেষ্টা করলে তা তাদের জন্য ক্ষতিকর হবে। এমন পরিকল্পনা হলে আমরা এর বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখবো।’’ তিনি সম্প্রতি সংসদে ও রাজনীতিতে দলের সক্রিয়তা অব্যাহত থাকবে জানিয়ে বছরের মধ্যেই সব সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা ও পৌরসভা ভোট বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

  • সোনার দাম কমলো: প্রতি ভরির নতুন দর কত?

    সোনার দাম কমলো: প্রতি ভরির নতুন দর কত?

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) মঙ্গলবার দেশের বাজারে সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, সর্বোচ্চ প্রতি ভরি ২ হাজার ২৫৮ টাকা পর্যন্ত দাম কমানো হয়েছে। ফলে সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার এক ভরির মূল্য দুই লাখ ৪০ হাজার ৩৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগের দিন, সোমবার (৪ মে) ওই দাম ছিল দুই লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা।

    বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে নতুন দাম মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে। সংগঠনের ব্যাখ্যা, তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার আন্তর্জাতিক দাম কমায় স্থানীয় বাজারেও মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

    নতুন নির্ধারিত দরগুলো সুত্রানুযায়ী হলো:

    – ২২ ক্যারেট (এক ভরি): ২,৪০,৩৩৭ টাকা

    – ২১ ক্যারেট (এক ভরি): ২,২৯,৪৩১ টাকা

    – ১৮ ক্যারেট (এক ভরি): ১,৯৬,৬৫৫ টাকা

    – সনাতন পদ্ধতি (এক ভরি): ১,৬০,১৪৭ টাকা

    রুপার দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। নির্ধারিত রুপার দামগুলো হলো: ২২ ক্যারেটের এক ভরি ৫ হাজার ৪৮২ টাকা, ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ১৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৪৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা প্রতি ভরি ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা।

    আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটেও সোনার দাম ওঠানামা করছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনার প্রভাব বিশ্ববাজারে সোনার মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে; পরে মূল্য সমন্বয়ের কারণে ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি-র তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম কমে ৪,৫০০ ডলারে নেমে এসেছে। এর আগে ৩০ জানুয়ারি সেই দাম ছিল ৫,২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি তা ৫,৫৫০ ডলারে পৌঁছেছিল।

    গ্রাহক ও গোয়ালীরাদের জন্য গুরুত্বপূর্ন নোট: বাজারে নতুন দাম ইতোমধ্যেই কার্যকর, তাই কেনা-বেচার সময় উপরে দেওয়া নির্ধারিত দর তা মিলিয়ে দেখতে হবে।

  • সোনার দাম ফের বাড়ল

    সোনার দাম ফের বাড়ল

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) টানা দ্বিতীয় দফায় সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। বাজুস জানিয়েছে, সর্বোচ্চ ভরিতে দাম ২,২১৬ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। নতুন দাম বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

    সংগঠনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম বাড়ায় স্থানীয় বাজারে সমন্বয় করে দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর ফলে সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরির দাম নির্ধারিত হয়েছে ২,৪৪,৭১১ টাকা। গতকাল এটি ছিল ২৪২,৪৯৫ টাকা।

    বাজুসের নির্ধারিত অন্যান্য মূল্য অনুযায়ী ২১ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরির দাম আছে ২,৩৩,৫৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২,০২,২১৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির (পুরনো পদ্ধতি) প্রতি ভরি সোনার দাম ১,৬৩,০৬৩ টাকা।

    সোনার সঙ্গে সূচকীয়ভাবে রূপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ২২ ক্যারেট সমমানের রুপার প্রতি ভরি দাম নির্ধারিত হয়েছে ৫,৭৭৪ টাকা; ২১ ক্যারেট রুপা ৫,৫৪০ টাকা; ১৮ ক্যারেট ৪,৭২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার প্রতি ভরি ৩,৫৫৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বিশ্ববাজারে স্থিতিশীল নয় এমন ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি—বিশেষ করে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল প্রেক্ষাপট—সোনার দামের ওপর চাপ তৈরি করেছে। মূল্য সমন্বয়ের কারণে স্থানীয় বাজারেও ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। বিশ্বস্ত ওয়েবসাইট GoldPrice.org অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজারে এখন প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম প্রায় ৪,৭০০ ডলার।

    গত বছরের জানুয়ারির শেষ দিকে বিশ্ববাজারে সোনার দাম দ্রুত বাড়ার প্রভাব পড়ে দেশের বাজারেও রেকর্ডগত মূল্য লক্ষ করা গিয়েছিল। ২৯ জানুয়ারিতে বাজুস এক ধাক্কায় প্রতি ভরিতে ১৬,২১৩ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট সোনার দাম একসময় ২,৮৬,০০০ টাকা পর্যন্ত উঠিয়ে দিয়েছিল, যা ছিল দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

  • গভর্নর রাজি নন, বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রী শপথ আজ স্থগিত

    গভর্নর রাজি নন, বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রী শপথ আজ স্থগিত

    তামিলনাড়ুর বড় জয়ের মধ্যেও থালাপতি বিজয় আজ (বৃহস্পতিবার) রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন না। রাজ্যের রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকর এখনও টিভিকের কাছে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে বলে নিশ্চিত হননি—এমনটাই জানিয়েছে এনডিটিভির প্রতিবেদন। ফলে শপথগ্রহণ আজকার আনুষ্ঠানিক সূচি নিয়ে স্থগিতির সিদ্ধান্ত এসেছে।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকটি সূত্র বলছে, কংগ্রেস zwar বিজয়ের দলকে সমর্থন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও সব জোটদল ও নির্দলীয়দের সমর্থন পাকা করে নেওয়া এখনও সময়ের ব্যাপার। তাই সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করার জন্য বিজয়ের শিবিরকে আরো এক-दুই দিন লাগতে পারে।

    ঘটনার ধারাবাহিকতায় বলা হচ্ছে, রাজ্যপাল ইতিমধ্যে বিধানসভা ভেঙে দিয়েছেন এবং তারপর কেরালার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন—সেখানে তিনি অতিরিক্ত দায়িত্বও সামলান। গতকাল এক বৈঠকে বিজয় রাজ্যপালের কাছে সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছেন। সূত্র জানায়, টিভিকে সাধারণ সম্পাদক আধভ অর্জুনও তাঁদের আইনি দলকে সঙ্গে নিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করবেন।

    সংখ্যানিক অবস্থান বোঝাতে গেলে: টিভিকে বিধানসভায় ১০৮টি আসন জিতেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য মোট ১১৮টি আসন দরকার। কংগ্রেসের পাঁচটি আসনের সমর্থন যোগ হলেও (প্রসঙ্গত—বিজয় দুইটি আসনে জয়ী হয়েছেন, তার একটিকে বাদ ধরার প্রেক্ষাপটে) টিভিকের এখনও প্রয়োজনীয় সংখ্যায় পৌঁছতে ছয়টি আসনের ঘাটতি রয়ে গেছে। পরবর্তী স্বাভাবিক ধাপ হবে—বিধানসভায় বিজয় তাঁর সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করা।

    তবে কাদের সমর্থন নিয়ে সরকার গড়া হবে, সে ব্যাপারে এখনও নির্দিষ্ট চিত্র সামনে আসেনি। টিভিকে-র দুইটি আসনে জয়ী বিধায়কদের দলের সঙ্গে বুধবার চেন্নাইয়ে এক বৈঠক হওয়ার কথা ছিল; সেই বৈঠককে শুক্রবার পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে, কারণ দুই বামপক্ষ তাঁদের সিদ্ধান্ত নিতে ৮ মে পর্যন্ত সময় চেয়েছে। বামদের ৪টি আসনের মধ্যে দুটি সিপিআই এবং দুটো সিপিআই(এম)-এর।

    এক বিকল্প জোট-ছকও শোনা যাচ্ছে—টিভিকে এবং এআইএডিএমকের জোট, যেখানে এআইএডিএমকের ৪৭টি আসন যুক্ত হলে তা সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়েও বেশি হতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, এআইএডিএমকের অন্তত ৩০ জন বিধায়ক টিভিকে সমর্থন করতে রাজি হতে পারেন।

    তামিলনাড়ু কংগ্রেসকে টিভিকেকে সমর্থন দেওয়ার স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে। তামিলনাড়ু কংগ্রেস ইনচার্জ গিরিশ চোদানকর জানিয়েছেন, দক্ষিণে বিজেপিকে ক্ষমতায় আসার সুযোগ দেয়ার চেয়ে ধর্মনিরপেক্ষ সরকারের পক্ষে থাকা শ্রেয়। কংগ্রেস বুধবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারে যোগ দেয়ার ঘোষণা দিলে দলের কর্মীরা সদর দপ্তরে উল্লাস করেছেন। কংগ্রেস বলেছে, তাদের একমাত্র শর্ত—সংবিধানকে অস্বীকারকারী সাম্প্রদায়িক শক্তিকে জোটের বাইরে রাখা।

    এদিকে বিরোধী দল ডিএমকে কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্তকে আ লীগের জন্য ঘাঁটা ব্যর্থতা বলে আখ্যা দিয়েছে। ডিএমকের মুখপাত্র সারাভানান আনাতুরাই বলেছেন, কংগ্রেস টিভিকের সঙ্গে মন্ত্রিসভার দুটি পদের লোভে নিজেকেই ধ্বংস করছে এবং তামিলনাড়ুর জনগণের পিঠে ছুরি মারার কাজ করেছে। বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা তাত্কার্য্য বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত ইন্ডিয়া জোটের ভাঙন নির্দেশ করে।

    গত বিধানসভা নির্বাচনে টিভিকের বড় জয় তামিলনাড়ুর দীর্ঘকালের দ্বৈত রাজনীতিকে বদলে দিয়েছে। ডিএমকে-র প্রভাব হ্রাস পাওয়ার প্রেক্ষিতে কোলাথুর আসনে টিভিকের ভি এস বাবুকে হারিয়ে এম কে স্টালিন ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

    সংক্ষিপ্তভাবে: আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও বিজয়ের শপথগ্রহণের দিন চূড়ান্ত হয়নি—রাজ্যপালের সম্মতি ও বিভিন্ন দলের চূড়ান্ত সমর্থন জানার পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।