Blog

  • ইআরজিসি: ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন পুরোদমে অব্যাহত, সক্ষমতা ‘২০’ বললেন মুখপাত্র

    ইআরজিসি: ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন পুরোদমে অব্যাহত, সক্ষমতা ‘২০’ বললেন মুখপাত্র

    ইস্রায়েলের প্রধানমন্ত্রীর এক দাবির জবাবে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের কাজ এখনও পুরোদমে চলছে। আইআরজিসির মুখপাত্র জেনারেল আলি মোহাম্মদ নাঈনি শুক্রবার স্থানীয় রাষ্ট্রায়ত্ত দৈনিক ‘‘ইরান’’ে প্রকাশিত বিবৃতিতে এ কথা বলেছেন।

    নাঈনি বলেন, আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্পের সক্ষমতার স্কোর ২০ — যা ইরানের শিক্ষাব্যবস্থায় পূর্ণাঙ্গ বা নিখুঁত হিসেবে বিবেচিত। তিনি বলেন, ‘‘এ বিষয়ে কোনও উদ্বেগ নেই। আমরা এমনকি যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছি, যা নিজেই বিস্ময়কর। মজুত রাখার ক্ষেত্রেও আমাদের কোনো বিশেষ সমস্যা নেই।’’

    এটি একদিন আগে, বৃহস্পতিবার, ইস্রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর এক সংবাদ সম্মেলনের দাবি ছাড়পত্রের পর এসেছে; সেখানে তিনি বলেছিলেন যে ইরানের আর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা রইলো না এবং দাবি করেছিলেন, ‘‘আমরা জয়ী হতে যাচ্ছি এবং ইরান ধ্বংস হচ্ছে।’’

    নাঈনি আরও বলেছেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত চলবে এবং দেশের জনমত অনেকে চায় শত্রু পুরোপুরি নিঃশেস না হওয়া পর্যন্ত লড়াই অব্যাহত থাকুক। তাঁর কথায়, ‘‘দেশ থেকে যুদ্ধের ছায়া সরে গেলেই কেবল এই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটবে।’’

    এই বিবৃতি এবং ঘটনার খবরে এএফপি ও আল জাজিরার রিপোর্ট উল্লেখ করা হয়েছে।

  • খুলনায় ঈদের জামাত: কখন ও কোথায়?

    খুলনায় ঈদের জামাত: কখন ও কোথায়?

    পবিত্র মাহে রমজান শেষ হয়ে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় শনিবার (২১ মার্চ) দেশে উদযাপিত হবে ঈদুল ফিতর। প্রশাসন জানায়, শুক্রবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টা ১৬ মিনিটে কক্সবাজারে শাওয়াল চাঁদ দেখা গেছে, ফলে দেশজুড়ে ঈদের দিন নির্ধারণ হয়েছে।

    গত বৃহস্পতিবার খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু সার্কিট হাউস মাঠের প্রস্তুতি পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, সার্কিট হাউস ময়দান একটি ঐতিহ্যবাহী স্থান যেখানে প্রতি বছর বহু মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করেন। নামাজের জন্য মাঠে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা দ্রুতগতিতে শেষ করা হয়েছে যাতে কেউ স্বাচ্ছন্দ্যে অংশগ্রহণ করতে পারে।

    ঈদের জামাতের সময় ও স্থান সংক্ষেপে:

    – খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে প্রধান জামাত সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে।

    – দ্বিতীয় জামাত সকাল ৯টায় ও তৃতীয় জামাত সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে খুলনা টাউন জামে মসজিদে।

    – আবহাওয়া প্রতিকূল হলে তিনটি জামাতই খুলনা টাউন জামে মসজিদে সকাল ৮টা, ৯টা ও ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে।

    অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জামাতের সময়:

    – খুলনা আলিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন মডেল মসজিদ ও বয়রা মডেল মসজিদে সকাল ৮:৩০টায় জামাত।

    – খালিশপুর ঈদগাহ ও বসুপাড়া ইসলামাবাদ ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টায় জামাত।

    – বায়তুন নূর জামে মসজিদে দুইটি জামাত: সকাল ৮টায় প্রথম জামাতে ইমামতি করবেন খতিব হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ ইমরান উল্লাহ, এবং সকাল ৯টায় দ্বিতীয় জামাতে ইমামত করবেন ইমাম হাফেজ মাওলানা মোঃ জাকির হোসেন।

    – খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সকাল ৭:৩০টায় জামাত; এ জামে মহিলাদের জন্য আলাদা নামাজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

    – খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (KUET) কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে জামাত সকাল ৭:৩০টায় অনুষ্ঠিত হবে।

    – নগরের শান্তিধাম মোড়ের আল-হেরা জামে মসজিদে সকাল ৮টায়, জাতিসংঘ শিশু পার্কে সকাল ৮:৩০টায়, আব্দুর রাজ্জাক জামে মসজিদে সকাল ৭:৩০টায় জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

    – ময়লাপোতা মোড়ের বায়তুল আমান জামে মসজিদে প্রথম জামাত সকাল ৮টায় এবং দ্বিতীয় জামাত সকাল ৯টায়। মোল্লাপাড়া জামে মসজিদে সকাল ৭:৩০টায় জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

    খুলনা সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় প্রতিটি ওয়ার্ডেই আলাদা করে জামাতের আয়োজন করা হয়েছে এবং ওয়ার্ডভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তদারকি করবেন। উপজেলার পর্যায়েও সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো তাদের সুবিধা অনুযায়ী জামাতের সময় নির্ধারণ করবে।

    ঈদের আনন্দ নিরাপদ রাখতে নগরীতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মহানগর ও পার্শ্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টহল জোরদার করবে। একই সঙ্গে আতশবাজি ও পটকা ফোটানো, রাস্তা বন্ধ করে স্টল বসানো, উচ্চশব্দে মাইক বা ড্রাম ব্যবহার, রঙিন পানি ছিটানো এবং বেপরোয়া মোটরসাইকেল চालन কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে এসব নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সকল ধর্মভীরু জনসাধারণকে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও আনন্দময় ঈদ অনুষ্ঠান কামনা করছি।

  • বাগেরহাট কচুয়ায় আগুনে ৮ দোকান ভস্মিভূত, ব্যবসায়ীদের আনুমানিক অর্ধ কোটি টাকার ক্ষতি

    বাগেরহাট কচুয়ায় আগুনে ৮ দোকান ভস্মিভূত, ব্যবসায়ীদের আনুমানিক অর্ধ কোটি টাকার ক্ষতি

    বাগেরহাটের কচুয়ায় শুক্রবার (২০ মার্চ) ভোররাতে আগুনে ৮টি দোকান ভস্মিভূত হয়ে গেছে। কচুয়া উপজেলা সদরের বাজার ব্রিজের ওপারের মঘিয়া অংশে ঘটনাটি ঘটলে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষণে আটটি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে।

    ঈদ আগের সময়ই একমাত্র আয়ের উৎস হিসেবে থাকা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো পুড়ে যাওয়ায় মালিকরা অস্থির ও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। বহু পরিবারই একমাত্র ভরণ-পोषণ ছিল দোকানেই; এখন তাদের সামনের দিনগুলোকে ঘিরে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

    চায়ের দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা সোহাগ মাঝি বলেন, অনেক কষ্ট করে দোকানটি গড়ে তুলেছি। এনজিও থেকে নেয়া ঋণ ও আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধার করে দুটি ফ্রিজ কিনেছি, ঈদ উপলক্ষে ভালো মালের স্টক ছিল — সবই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। কীভাবে ঋণ পরিশোধ করব আর কীভাবে আবার ব্যবসা শুরু করব, তা জানি না।

    ক্ষতিগ্রস্ত সার ডিলার ‘মীম এ্যান্ড মুন’-এর স্বত্বাধিকারী মাসুদুর রহমান জানান, ঈদের ছুটি ও জ্বালানি সংকটের প্রভাবে তার দোকানে প্রায় ২০ লাখ টাকার সার মজুদ ছিল, যা আগুনে সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। এছাড়া মুদি দোকান, বিকাশ-নগদ-ফ্লেক্সিলোডের বুথ, লন্ড্রি, সেলুন ও অন্যান্য চায়ের দোকানও ধ্বংস হয়েছে। তিনি ও অন্য ব্যবসায়ীরা বলেন, এই আগুন তাদের জন্য মারাত্মক অর্থনৈতিক ধাক্কা প্রয়োগ করেছে।

    ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ, কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আলী হাসান, বাজার কমিটির নেতা ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা। প্রাথমিকভাবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়েছে; পরবর্তীতে আর্থিক ও প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান।

    এছাড়া সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের নগদ অর্থ ও টিনশেড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি আছে বলে জানানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তরা দ্রুত সহায়তা পেলে পুনরায় ব্যবসা শুরু করতে সক্ষম হবে বলে অনেকে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তদন্ত করে আগুন লাগার সঠিক কারণ নির্ণয় করা হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

  • আইপিএলে একের পর এক বিদেশি খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি

    আইপিএলে একের পর এক বিদেশি খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি

    আইপিএল শুরুর আগেই franchises-গুলোকে কাঁধে হাত দিতে হচ্ছে—একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে আকাশপথ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় খেলোয়াড়দের আনাচে–পাঁচে বিকল্প রুট বেছে নিতে হচ্ছে, অন্যদিকে চোট ও ব্যক্তিগত কারণে একের পর এক বিদেশি তারকার অনুপস্থিতি দেখা দিচ্ছে। আগামী ২৮ মার্চ শুরু হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে এখন অনেক ফ্র্যাঞ্চাইজিই খেলোয়াড়ের ফিটনেস এবং ভ্রমণ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। নিচে মূল কয়েকজন বিদেশি ক্রিকেটারের সাম্প্রতিক অবস্থার সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো।

    প্যাট কামিন্স: অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট অধিনায়ক কামিন্স এখনও পিঠের চোটে কষ্ট পাচ্ছেন। তাই অবিলম্বে হায়দরাবাদে উপস্থিত না থাকতে পারে—সানরাইজার্স হায়দরাবাদ আইপিএলের শুরুতে অধিনায়কত্ব ইশান কিষাণকে দিয়েছেন। তবে পরবর্তী সপ্তাহে কামিন্স দলের সঙ্গে যোগদানের সম্ভাবনা আছে; সবকিছু ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার আনুষ্ঠানিক নোটিশ এবং ফিটনেস রিপোর্টের ওপর নির্ভর করবে।

    মিচেল স্টার্ক: স্টার্ক কোনো আঘাতে ভুগছেন না, তবে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততা ও বিশ্রামের প্রয়োজন বিবেচনায় তিনি ব্যবস্থাপনা অধিকারিদের কাছে ঝুঁকি তৈরি করছেন। অ্যাশেজে কামিন্স ও হ্যাজলউডের অনুপস্থিতিতে স্টার্ককে অ্যাসিং দায়িত্ব সামলাতে হয়েছে, এরপর থেকেই তিনি বিরতিতে আছেন। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া যদি ফিটনেস নিয়ে সবুজ সংকেত দেয় তবেই দিল্লি ক্যাপিটালসের আশাবাদ বাড়বে।

    জশ হ্যাজলউড: গত আসরে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর ট্রফি জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা হ্যাজলউড এবার শুরুর ম্যাচগুলো মিস করতে পারেন। হ্যামস্ট্রিং ও অ্যাকিলিস সংক্রান্ত সমস্যা його অস্ট্রেলিয়ান গ্রীষ্ম ও টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও খেলতে দেয়নি। তিনি বর্তমানে পুনর্বাসনে রয়েছেন এবং ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ফিটনেস টেস্টে পাস করলেই যোগ দেওয়ার অনুমতি পাবেন।

    নাথান এলিস: সাদা বলের দলে গুরুত্বপূর্ণ হলেও হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে এলিস পুরো আইপিএল থেকেই ছিটকে গেছেন। চেন্নাই সুপার কিংস তার ওপর নির্ভর করার পরিকল্পনা করেছিল, কিন্তু এখন তাদের বিকল্প বোলার খুঁজতে হচ্ছে।

    স্যাম কারান: ইংল্যান্ডের অলরাউন্ডার স্যাম কারানকে চেন্নাই থেকে ট্রেড হয়ে রাজস্থান রয়্যালসে নেওয়া হয়—তবে তিনি এখনই নতুন ক্লাবের জার্সি গায়ে তুলছেন না। গ্রোয়িন ইনজুরির কারণে এখনকার পুরো মৌসুমে তিনি রয়েছেন না; তার অনুপস্থিতিতে রাজস্থানের দলীয় ভারসাম্যে প্রভাব পড়ার আশা করা হচ্ছে।

    জ্যাক এডওয়ার্ডস: সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে অভিষেকের প্রত্যাশা রাখা এ অস্ট্রেলিয়ান পেসার পায়ের চোটে পুরো আইপিএল থেকেই বাদ পড়েছেন। বিগ ব্যাশে ১৩ উইকেট নেওয়া এই বোলারটি নিলামে একমাত্র আনক্যাপড বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে আলোচিত ছিলেন। এডওয়ার্ডস এবং কামিন্স দুজনেরই শুরুতে অনুপস্থিতি হায়দরাবাদের বোলিং বিভাগে বড় ধাক্কা দিয়েছে।

    লকি ফার্গুসন: পাঞ্জাব কিংসের কিউই পেসার লকি ফার্গুসন ব্যক্তিগত কারণে আইপিএলের প্রথম পর্ব মিস করবেন—হালনাগাদ সূত্র বলছে, সম্প্রতি বাবা হওয়ায় তিনি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে চান। তিনি টুর্নামেন্টের শেষ দিকে দলে যোগ দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চলমান টি‑টোয়েন্টি সিরিজের তৃতীয় ম্যাচেও তিনি অনুপস্থিত ছিলেন।

    সমস্যার প্রভাব ও পরবর্তী 전망: ভ্রমণ রুটের পরিবর্তন, ফিটনেস যাচাই ও দ্রুত বিকল্প খেলোয়াড় খোঁজার কাজ এখন ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর অগ্রাধিকার। কিছু খেলোয়াড় আইপিএলের মাঝামাঝি সময়ে যোগ দিতে পারেন, আবার কেউ পুরো আসর থেকে অনুপস্থিত থেকেও দলকে বিপদে ফেলতে পারেন। আইপিএলের শুরুতে চূড়ান্ত স্কোয়াড ও খেলোয়াড় উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার জন্য আগামী কয়েক দিনের ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ও সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনগুলোর ঘোষণা অপেক্ষা করতে হবে।

  • পিএসএলে খেলতে এনওসি পেলেন মুস্তাফিজ-শরিফুলসহ পাঁচ বাংলাদেশি

    পিএসএলে খেলতে এনওসি পেলেন মুস্তাফিজ-শরিফুলসহ পাঁচ বাংলাদেশি

    পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) খেলতে এনওসি পেয়েছেন বাংলাদেশের পাঁচ ক্রিকেটার—মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, রিশাদ হোসেন, নাহিদ রানা ও পারভেজ হোসেন ইমন। বিসিবি থেকে তারা সময়সীমাবদ্ধ ছাড়পত্র পেয়েছেন; ওই ছাড়পত্র ১২ এপ্রিল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

    পিএসএল আগামী ২৬ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে। লাহোর কালান্দার্স সরাসরি চুক্তিতে নিয়েছিল বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে। নিলামে রিশাদ হোসেন, নাহিদ রানা ও পারভেজ ইমন দল পেয়েছেন। এরপরই পঞ্চম বাংলাদেশি হিসেবে শরিফুল ইসলামও প্রথমবারের মতো ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে ডাক পেয়েছেন—সবকিছু ঠিক থাকলে তিনি পেশোয়ার জালমির হয়েই খেলবেন এবং সেখানে নাহিদ রানার সঙ্গী হিসেবে দেখা যেতে পারে।

    লাহোরে মুস্তাফিজের সঙ্গে থাকবেন পারভেজ ইমন, আর রিশাদ রাওয়ালপিন্ডির জার্সি গায়ে খেলবেন। পিএসএলের উদ্বোধনী ম্যাচেই (২৬ মার্চ) লাহোর কালান্দার্স মাঠে নামবে—সেদিন মুস্তাফিজ ও ইমন খেলতে পারেন। এরপর ২৮ মার্চের ম্যাচে রিশাদ, নাহিদ ও শরিফুল খেলতে পারলে তারা একসাথে এক ম্যাচেও নামতে পারবেন; সেই ম্যাচে পেশোয়ার জালমি এবং রাওয়ালপিন্ডি পিন্ডিগসের টিম পরিচয় তাদের মুখোমুখি করতে পারে। ফলে জাতীয় দলের সতীর্থদের মধ্যে পেস অগ্রজরা এই টুর্নামেন্টে একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারেন।

    বিসিবির এক বিশ্বস্ত সূত্র ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন, পাঁচজনকেই অনাপত্তি দেওয়া হয়েছে। তবে এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে বাংলাদেশের মাটিতে নিউজিল্যান্ডের তিন ম্যাচ ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ রয়েছে—এই কারণে খেলোয়াড়দের দেশভিত্তিক সিরিজে অংশ নেওয়ার জন্য ১২ এপ্রিল পর্যন্তই ছাড়পত্র মঞ্জুর করা হয়েছে।

    বিসিবি ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমুল আবেদীন ফাহিমও এ বিষয়ে বলেছিলেন, ‘যাদের এখানে প্রয়োজন আমরা ওয়ানডেতে কোনো আপস করব না। যদি মনে করি কোনো খেলোয়াড়কে সেখানে পাঠানো তার টি-টোয়েন্টি উন্নতির জন্য ভালো হবে এবং একইসঙ্গে আমাদের বিকল্পও থাকে, তবেই ছাড় দেয়া হবে।’

    সার্বিকভাবে এখান থেকে বোঝা যায়, জাতীয় দলের চাহিদা ও আন্তর্জাতিক সূচি মাথায় রেখে বিসিবি সীমিত সময়ের জন্য পিএসএলে খেলার ছাড়পত্র দিয়েছে—খেলোয়াড়দের অবশ্য পাকিস্তান থেকে ফিরে দেশের মাটিতে নিউজিল্যান্ড সিরিজের আগে উপস্থিত থাকতে হবে।

  • চাঁদরাতে প্রকাশ হবে জাহিদ নিরবের বাবা-ভাইদের নিয়ে প্রথম গান ‘শুকরিয়া হাসনাহ’

    চাঁদরাতে প্রকাশ হবে জাহিদ নিরবের বাবা-ভাইদের নিয়ে প্রথম গান ‘শুকরিয়া হাসনাহ’

    দেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পীরা জাহিদ নিরবের সুর ও সংগীতে ইতিমধ্যে অনেক গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। এবার ব্যক্তিগত এক অনুভূতি থেকে তৈরি হওয়া এক কাওয়ালী — ‘শুকরিয়া হাসনাহ’— চাঁদরাতে প্রকাশ করতে যাচ্ছেন তিনি। এটি জাহিদের প্রথম গান যেখানে বাবাকে ও দুই ভাইকে সঙ্গে নিয়ে মিউজিকে অংশ করানো হচ্ছে।

    গানটি জাহিদ নিরবের অফিসিয়াল ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ হবে। পাশাপাশি প্রাইম ব্যাংক নিবেদিত এই গানটির ভিডিও উন্মুক্ত করা হবে প্রাইম ব্যাংকের অফিসিয়াল চ্যানেলে।

    নিজের বাড়ির পরিবেশেই গানটির ধারণা এসেছে জানিয়ে জাহিদ নিরব বলেন, ‘‘বাসায় আমরা সব সময় একসঙ্গে গান করি। আব্বা হারমোনিয়াম বাজান, আমি মাইক্রোফোনের সামনে গাই—এভাবেই আমার সংগীত জীবনের শুরু। বড় ভাই জুবায়েদ আল নাঈম তবলা, ছোট ভাই হাসিবুল নিবিড় গিটার, আর মেহেদী হাসান তামজিদ রাবাব বাজিয়েছেন। মুন্সীগঞ্জের সেই মঞ্চের পরিবেশনা এবার গান আকারে প্রকাশ করছি।’’

    গানের কথাগুলো লিখেছেন মঞ্জুর এলাহি। তিনি বলেন, ‘‘কথাগুলোতে ওইসব নীরব কৃতজ্ঞতার কথা জড়িয়ে আছে—সৃষ্টিকর্তার যে অসংখ্য নিয়ামত আমাদের দিয়েছেন, আমরা তাদের 얼마나 খুঁজে পাই বা কৃতজ্ঞতা জানাই, সেই উপলব্ধিতেই গানটি করা।’’

    জাহিদ জানান, গানটি মূলত প্রাইম ব্যাংকের একটি জিঙ্গেল ছিল—‘প্রাইম ব্যাংক হাসানাহ’। জিঙ্গেলের ভাবনা ও কথা তিনি পছন্দ করায় অনুমতি নিয়ে সেটিকে পূর্ণাঙ্গ গান হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। ভিডিও নির্মাণে longtime সহযোগী কাওসার ইসলাম প্রান্ত ও তার টিম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বলে জানান তিনি।

    ব্যক্তিগত জীবনেও এবারের ঈদটি জাহিদের জন্য বিশেষ অপেক্ষা করছে—গত বছর গায়ক বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন, তাই এবারই তার প্রথম ঈদ। নিরব বলেন, ‘‘বিয়ের পর প্রথম ঈদ—সবকিছুই একটু আলাদা লাগছে।’’

    তবে বিশ্রুতির সময় নেই। নিয়মিত কাজের পাশাপাশি ঈদ উপলক্ষে ব্যস্ততা তুঙ্গে। জাহিদ জানান, ঈদের ছবির ‘বনলতা এক্সপ্রেসে’র পুরো সংগীত পরিচালনার দায়িত্ব ছিল তার কাঁধে; তানিম নূর ভাই সঙ্গে কাজ করে সেটা সহজ করেছেন। রায়হান রাফীর পরিচালিত ‘প্রেশার কুকার’ সিনেমায়ও তার একটি গান থাকছে—গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন অঙ্কন কুমার, কথা ও সুর-দুটি জাহিদেরই।

    নাটকে গানও কম করেননি তিনি। ‘তবুও মন’ নাটকের জন্য তৈরি করা গানে—‘এভাবেও হতে পারে প্রেম’—কথা লিখেছেন তারিক তুহিন, সুর-সংগীত করেছেন জাহিদ, কণ্ঠ দিয়েছেন সালমান ও মাশা। আর নাটক ‘লিলিথ’-এ ‘পিছু ডেকো না’ গানে কণ্ঠ দিয়েছেন দোলা রহমান; কথায় আছেন তানিন নিনাত।

    রমজানেও ব্যাপকভাবে কাজ করেছেন নিরব। মুক্তি পেয়েছে ওয়েবফিল্ম ‘মিউ’র গান ‘কেন এমন হয়’ এবং শিশুতোষ গান ‘মিউ মিউ মিউ’। জিঙ্গেল কাজে ব্যস্ততার পাশাপাশি প্রবাসীদের জন্য প্রাইম ব্যাংকের এক মিউজিক ভিডিও করেছেন, যার আনপ্লাগড ভার্সনও শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।

    তার নিয়মিত একটি বড় কাজ হচ্ছে ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ সিজন ৫—সেটির মিউজিক ডিরেক্টর তিনি। ঈদে ধারাবাহিকটির একটি বিশেষ এপিসোডও দেখা যাবে। সব মিলিয়ে কাজের তীব্রতা আর ব্যক্তিগত উচ্ছ্বাস মিলিয়ে এবারের ঈদটি জাহিদ নিরবের কাছে বিশেষ ও স্মরণীয় হয়ে উঠেছে।

  • ১৪ কনসার্টে দিলজিৎ দোসাঞ্জের আয় প্রায় ৯৪৩ কোটি

    ১৪ কনসার্টে দিলজিৎ দোসাঞ্জের আয় প্রায় ৯৪৩ কোটি

    কেবল গান নয়—কনসার্ট এখন একটি বড় অর্থনৈতিক শক্তিও। সাম্প্রতিক ডিল-লুমিনাটি ট্যুরে তা স্পষ্টভাবে চোখে পড়েছে। মাত্র ১৪টি শোতে ১৩টি শহরে পারফর্ম করে দিলজিৎ দোসাঞ্জ আনুমানিক ৯৪৩ কোটি টাকা আয় করেছেন।

    আয়ের ভাঙন বলছে, টিকিট বিক্রি থেকে এসেছে ২২১ কোটি, স্পনসরশিপের ধরনের আয়ের পরিমাণ ছিল ৩৩ কোটি, আর সরাসরি রাজস্ব ও ফি হিসেবে সরকারের কোষাগারে জমা পড়েছে একশো চৌদ্দ কোটি টাকার বেশি। প্রতিটি শো এখন কেবল বিনোদন নয়—একটি অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে।

    সবচেয়ে বড় অবদান এসেছে পরোক্ষ অর্থনীতিতে। ভক্তদের ভ্রমণ, হোটেল ভাড়া, খাবার, বাজারজাত পণ্য ও স্থানীয় কেনাকাটা মিলিয়ে তৈরি হয়েছে প্রায় ৫৫৩ কোটি টাকার অর্থনৈতিক প্রভাব। সমীক্ষায় দেখা গেছে, দর্শকদের প্রায় ৩৮ শতাংশ অন্য শহর থেকে এসে কয়েক দিন অতিরিক্ত থাকছেন; ফলে স্থানীয় পর্যটন, হোটেল ও রেস্তোরাঁ ব্যবসা উল্লেখযোগ্যভাবে লাভবান হয়েছে।

    ডিল-লুমিনাটি ট্যুরে মোট উপস্থিতি ছিল ৩ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি; একটিমাত্র দিল্লির শোয়ই ছিল প্রায় ৫৫ হাজার দর্শক। ১৪টি শোর অধিকাংশই হাউসফুল ঘোষণা করেছে। বিশ্ববাজারে বড় তারকাদের সঙ্গে তুলনা করলে এখনও কিছু ক্ষেত্রে পথ বাকি থাকলেও, এ সাফল্য দিলজিৎকে আন্তর্জাতিক ট্যুরিং মানচিত্রে আরও দৃশ্যমান করেছে।

    শুধু বিতরণ করা অর্থই নয়—এই ট্যুর কর্মসংস্থান তৈরি করতেও বড় ভূমিকা রেখেছে। লজিস্টিক, নিরাপত্তা, প্রোডাকশন, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার কর্মঘণ্টার কাজ হয়েছে। অর্থাৎ প্রত্যেক কনসার্ট এখন শুধু গানের অনুষ্ঠান নয়, একটি পূর্ণাঙ্গ ইকোসিস্টেম যা লোকসকলের আয়-রোজগার ও স্থানীয় অর্থনীতিকে ত্বরান্বিত করে।

    সংক্ষেপে, ১৪টি কনসার্টের এই ট্যুর গান ও বিনোদনের সঙ্গে সঙ্গে বিশাল অর্থনৈতিক প্রভাব ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করেছে—এটি আধুনিক লাইভ ইভেন্টের ক্ষমতা ও সম্ভাবনার একটি ঝলক।

  • ঈদযাত্রায় ৩ দিনে পদ্মা সেতুতে ১৩ কোটি ২১ লাখ ৫১ হাজার ৮০০ টাকার টোল আদায়

    ঈদযাত্রায় ৩ দিনে পদ্মা সেতুতে ১৩ কোটি ২১ লাখ ৫১ হাজার ৮০০ টাকার টোল আদায়

    পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঘরমুখো মানুষের যাত্রায় তিন দিনে পদ্মা সেতুতে ব্যাপক যানবাহন চলাচল ও রেকর্ড পরিমাণ টোল আদায় করা হয়েছে।

    গত মঙ্গলবার—শুরু হিসেবে ১৭ মার্চ থেকে বুধবার ১৮ মার্চ ও বৃহস্পতিবার ১৯ মার্চ পর্যন্ত মাওয়া ও জাজিরা প্রান্ত দিয়ে মোট ১ লাখ ১৯ হাজার ৬৮২টি যানবাহন পারাপার করা হয়েছে। যেখানে ২০২৫ সালের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৮০২টি। একই সময়ের টোল আদায় হয়েছে ১৩ কোটি ২১ লাখ ৫১ হাজার ৮০০ টাকা, যা ২০২৫ সালে ছিল ১২ কোটি ৭৮ হাজার ৪০০ টাকা। ফলত চলতি বছরে টোল আদায়েও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে।

    বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা শিকদার এবং পদ্মা সেতুর সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাদ নিলয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    দিনগুলোয় প্রতিদিনের বিবরণ অনুযায়ী, ১৭ মার্চ পদ্মা সেতু দিয়ে ৩৮ হাজার ৫১৭টি যানবাহন পারাপার হয় এবং টোল আদায় হয় ৪ কোটি ১৮ লাখ ৬০ হাজার ৯০০ টাকা। ১৮ মার্চ ৪১ হাজার ৮৮৫টি যানবাহন চলাচল করে, ওইদিন টোল আদায় হয় ৪ কোটি ৫৪ লাখ ৫ হাজার ২৫০ টাকা। ১৯ মার্চ ৩৯ হাজার ২৮০টি যানবাহন পারাপারের বিপরীতে টোল আদায় হয় ৪ কোটি ৪৮ লাখ ৮৫ হাজার ৬৫০ টাকা।

    মো. মাসুদ রানা শিকদার স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সুপরিকল্পিত প্রস্তুতি ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার ফলে পদ্মা সেতুতে রেকর্ড পরিমাণ যানবাহন পারাপার এবং টোল আদায় সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি পদ্মা সেতু দিয়ে একদিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক যানবাহন চলাচল ও সর্বোচ্চ টোল আদায়ের নতুন মাইলফলকও অতিক্রম করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত সচিব ও পরিচালক (প্রশাসন) আলতাফ হোসেন শেখ জানান, টোল প্লাজায় একাধিক লেন সচল রাখায় যানবাহন দ্রুতগতিতে পারাপার করা সম্ভব হয়েছে, ফলে ঈদযাত্রায় আগের মতো ভোগান্তি কমেছে। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু উত্তরের অংশে যানজট নেই, যা ঢাকা–মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ও সেতু এলাকায় যাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করেছে।

    প্রসঙ্গত, পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে ঈদকেন্দ্রিক সময়ে ধারাবাহিকভাবে টোল আদায় ও যানবাহন চলাচলে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হচ্ছে, যা স্থানীয় ও জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

  • ঈদুল ফিতরে পদ্মা-যমুনা সেতুতে রেকর্ড যানবাহন পারাপার ও টোল আদায়

    ঈদুল ফিতরে পদ্মা-যমুনা সেতুতে রেকর্ড যানবাহন পারাপার ও টোল আদায়

    পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পদ্মা ও যমুনা সেতু দিয়ে যানবাহন পারাপার এবং টোল আদায়ের নতুন রেকর্ডের তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার (২০ মার্চ) সেতু কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা শিকদার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এই খবর জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান এবং সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফের নেতৃত্বে পরিকল্পিত প্রস্তুতি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার ফলে এই সাফল্য এসেছে। মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, সরকার ও মন্ত্রণালয়ের তদারকিতে মানুষের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং এ কাজে সংশ্লিষ্টরা সর্বোচ্চ মনোযোগ দিয়েছেন।

    পদ্মা সেতুতে ২০২৬ সালের ১৭-১৯ মার্চ পর্যন্ত তিন দিনে মোট ১,১৯,৬৮২টি যানবাহন পারাপার হয়েছে; এটি ২০২৫ সালের একই সময়কালের পরিসংখ্যার তুলনায় বেশি (২০২৫ সালে ছিল ১,০০,৮০২টি)। তিনদিনে মোট টোল আদায় হয়েছে ৳১৩ কোটি ২১ লাখ ৫১ হাজার ৮০০। তার মধ্যে দৈনিক বিবরণ হলো:

    – ১৭ মার্চ: যানবাহন পারাপার ৩৮,৫১৭টি, টোল আদায় ৳৪ কোটি ১৮ লাখ ৬০ হাজার ৯০০।

    – ১৮ মার্চ: যানবাহন পারাপার ৪১,৮৮৫টি, টোল আদায় ৳৪ কোটি ৫৪ লাখ ৫ হাজার ২৫০।

    – ১৯ মার্চ: যানবাহন পারাপার ৩৯,২৮০টি, টোল আদায় ৳৪ কোটি ৪৮ লাখ ৮৫ হাজার ৬৫০।

    যমুনা সেতুতে ২০২৬ সালের ১৮ মার্চ একদিনে সর্বোচ্চ ৫১,৩৮৪টি যানবাহন পারাপার হয়; ২০২৫ সালের একই দিনে এটি ছিল ৪৮,৩৬৮টি। ঐ দিনে যমুনা সেতুতে মোট টোল আদায় হয়েছে ৳৩ কোটি ৫১ লাখ ৮২ হাজার ৬০০, যা ২০২৫ সালের তুলনায় বেশি (২০২৫ সালে ছিল ৳৩ কোটি ৪৬ লাখ ২৭ হাজার ৮৫০)। চলতি বছরে যানবাহনের চাপ বেশি থাকলেও বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা দীর্ঘস্থায়ী যানজট ঘটেনি। সেতু কর্তৃপক্ষ এটিকে তাদের পরিকল্পনা ও তৎপরতার প্রতিফলন হিসেবে দেখেছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এ সফলতার পেছনে নেওয়া কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি ও ব্যবস্থা ছিলঃ টোল কালেক্টরদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষ কর্মী নিয়োগ, সার্বক্ষণিক টোল লেন চালু রাখা, মোটরসাইকেল লেন বাড়ানো, নন-স্টপ ইটিসি সেবা কার্যকর করা, মাওয়া ও এলেঙ্গা বাস-বে উন্মুক্তকরণ, উন্নত সার্ভেইল্যান্স ক্যামেরা দিয়ে ট্রাফিক মনিটরিং, উচ্চ পর্যায়ের সার্বক্ষণিক মনিটরিং টিম গঠন, দুর্ঘটনা প্রতিহত ও দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা (কর্ণফুলী টানেল থেকে আনা ভারি রেকারসহ মোট তিনটি রেকার মোতায়েন), ইমার্জেন্সি টোল লেন চালু রাখা, এবং যাত্রীদের জরুরি সহায়তা ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা। পাশাপাশি সেতুর প্রতি ৫০০ মিটার অন্তর নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন ও ইফতার সামগ্রী বিতরণের মতো সার্বিক সেবা চালানো হয়েছে।

    বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ বলেছে, এই কার্যক্রম ও প্রস্তুতিই ঈদযাত্রীদের নিরাপদ, দ্রুত এবং সুশৃঙ্খল যাত্রা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

  • কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পর থেকে নানা মন্তব্য ও বাড়তি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর কিছু বক্তব্য দ্রুত ভাইরাল হওয়ায় গত কয়েক দিনে তিনি বেশ আলোচিত-সমালোচিত হয়েছেন।

    বুধবার সকালে দেওয়া নিজের এক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, অনিচ্ছাকৃতভাবে কারো কষ্টের কারণ হয়ে থাকলে তিনি আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছেন। পোস্টে তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বয়োজ্যেষ্ঠ বন্ধু, রাজনৈতিক শুভাকাঙ্ক্ষী, মন্ত্রী-এমপি ও প্রিয় সহযোদ্ধাদের সঙ্গে কিছু আন্তরিক আলোচনা করার সুযোগ পেয়েছেন।

    প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, সবার কাছ থেকে যে পরামর্শগুলো পেয়েছি — ব্যক্তিগত আক্রমণ এড়িয়ে চলা, অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা থেকে বিরত থাকা এবং গঠনমূলক আলোচনায় মনোযোগ দেওয়া — আমি বিনয়ের সঙ্গে গ্রহণ করছি। তিনি বলেন, এসব পরামর্শ অনুযায়ী আরও শান্তভাবে ও দায়িত্বশীলভাবে পথ চলার চেষ্টা করবেন।

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অগ্রগতির জন্য নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করে যেতে চান তিনি। তিনি উপস্থিত সবাই ও সমর্থকদের দোয়া, ভালোবাসা ও পরামর্শকে নিজের পথচলার শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।

    একই সঙ্গে তিনি সবাইকে অনুরোধ করে বলেন, যদি তাঁর কোনো কথা বা কাজে অনিচ্ছাকৃতভাবে কারো অনুভবে আঘাত লেগে থাকে, তবে তিনি ক্ষমা চান। পোস্টে তিনি লখনিভাবে অনুশোচনার সুর ধরে বলেন, ‘‘আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আপনারা দোয়া করবেন।’’

    তিনি জানান, গতকাল ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে কিয়ামুল লাইল আদায় করে এই আত্মিক যাত্রার নীরব সূচনা করেছেন। শেষ করে তিনি সবাইকে প্রার্থনা করে বলেন—আল্লাহ আমাদের সবারকে ক্ষমা করুন এবং সঠিক পথে পরিচালিত করুন।