Blog

  • এপ্রিল মাসে সড়ক, নৌ ও রেল দুর্ঘটনায় ৪৩৪ জনের মৃত্যু

    এপ্রিল মাসে সড়ক, নৌ ও রেল দুর্ঘটনায় ৪৩৪ জনের মৃত্যু

    বিগত এপ্রিল মাসে দেশে সড়ক, নৌ ও রেলপথে সংঘটিত মোট ৫০৪টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪৩৪ জন নিহত। তারা আরও আহত হয়েছেন ৭৩৭ জন। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের একটি বিস্তারিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে, যেখানে এ বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে। আজ, (৬ মে), এই প্রতিবেদনটি গণমাধ্যমের কাছে প্রকাশিত হয়েছে।

    প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এ মাসে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাগুলোর সংখ্যায় রয়েছে ১৪২টি, যার ফলে ১১৩ জন নিহত হয়েছে, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ২৭.৯৭ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৩০.৬৬ শতাংশ।

    এছাড়া, দুর্ঘটনায় ১০২ জন পথচারী প্রাণ হারিয়েছেন, যা মোট নিহতের ২৫.২৪ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারীদের মধ্যে ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা ১১.৩৮ শতাংশ।

    যানবাহনের ভিত্তিতে বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাসের যাত্রী ৩০ জন (৭.৪২%), ট্রাক, কাঅভার্ডভ্যান, পিকআপ, ট্রাক্টর, ট্রলি, লরি, ট্রাক্টর চালকদের অন্তর্ভুক্ত করে মোট ৫১ জন (১২.৬২%), প্রাইভেটকার ও জীপের যাত্রীরা ২৪ জন (৫.৯৪%)। থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক, সিএনজি, অটোরিকশা, অটোভ্যান, লেগুনা) হচ্ছে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ, যেখানে ৬১ জন (১৫.০৯%) নিহত হয়েছেন। স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের মধ্যে ভটভটি, টমটম, মাহিন্দ্রের যাত্রীরা ১০ জন (২.৪৭%) এবং রিকশা-বাইসাইকেল আরোহী ১৩ জন (৩.২১%) এর মতো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

    রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনার বেশিরভাগই ঘটেছে বিভিন্ন রাস্তায়—১৬৮টির (৩৬.২৮%) জাতীয় মহাসড়ক, ১৯৩টি (৪১.৬৮%) আঞ্চলিক সড়ক, ৪৫টি (৯.৭১%) গ্রামীণ সড়ক ও ৫৭টি (১২.৩১%) শহরের সড়কে।

    দুর্ঘটনাগুলোর ধরন অনুযায়ী, মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে ৯৭টি (২০.৯৫%), নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গেছে ১৯৪টি (৪১.৯০%), পথচারীকে চাপা দেওয়া হয়েছে ১০৬টি (২২.৮৯%), এবং অন্যান্য ঘটনাগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ১৪টি (৩.০২%)।

    সংযুক্ত যানবাহনের তালিকায় দেখা যায়, ট্রাক, কাঅভার্ডভ্যান, পিকআপ, ট্রাক্টর, ট্রলি, লরি ও অন্যান্য বৃহৎ যানবাহন মোট ৬৫৯টি দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত ছিল। এর মধ্যে বাস ৮৪টি, ট্রাক ৯১টি, কাঅভার্ডভ্যান ২২টি, পিকআপ ২৩টি, ট্রাক্টর ১২টি, ট্রলি ১৪টি, লরি ৬টি, ট্যাংকলরি ২টি, সিটি করপোরেশনের ময়লার ট্রাক ১টি, মাইক্রোবাস ১৯টি, প্রাইভেটকার ১৭টি, জীপ ৩টি, মোটরসাইকেল ১৫৩টি, থ্রি-হুইলার ১১২টি, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ৪৩টি, রিকশা ১৩টি, বাইসাইকেল ৮টি ও অন্যান্য অজ্ঞাত যানবাহন ৩৬টি।

    আঞ্চলিক ভিত্তিতে, ঢাকা বিভাগে ঘটেছে ২৩.৫৪% দুর্ঘটনা ও ২৫.২৪% প্রাণহানি। রাজশাহী বিভাগে দুর্ঘটনা ১১%, প্রাণহানি ১০.৩৯%; চট্টগ্রাম বিভাগে দুর্ঘটনা ২২.৪৬%, প্রাণহানি ২৩.২৬%; খুলনা বিভাগে দুর্ঘটনা ১৩.১৭%, প্রাণহানি ১২.৩৭%; বরিশাল বিভাগে দুর্ঘটনা ৬.৯১%, প্রাণহানি ৫.৯৪%; সিলেট বিভাগে দুর্ঘটনা ২.৫৯%, প্রাণহানি ২.৯৭%; রংপুর বিভাগে দুর্ঘটনা ১২.৭৪%, প্রাণহানি ১৫.০৯%; এবং ময়মনসিংহ বিভাগে দুর্ঘটনা ৫.৩৯%, প্রাণহানি ৪.৭০%।

    বিশেষ করে, ঢাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা—১০৯টি—ঘটেছে, যেখানে মৃত্যু হয়েছে ১০২ জনের। আর সিলেটে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটে, মোট ১২টি, যেখানে মৃত্যু হয়েছে ১২ জনের। রাজধানীতে ৩৬ দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত ও ৬৭ জন আহত হয়েছেন।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন পুলিশ সদস্য একজন, বিজিবি সদস্য দুজন, শিক্ষক ছয়জন, সাংবাদিক তিনজন, চিকিৎসক একজন, প্রকৌশলী দুজন, আইনজীবী দুজন, ব্যাংক ও বীমা কর্মকর্তাসহ মোট ১১ জন, এনজিও কর্মী ১৪ জন, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ১৯ জন, স্থানীয় ব্যবসায়ী ২২ জন, ঔষধি ও পণ্য বিক্রয় করে থাকেন এমন ১৭ জন, মসজিদের ইমাম বা খতিব ৩ জন, পোশাক শ্রমিকেরা পাঁচজন, ধানকাটা শ্রমিক ১২ জন, নির্মাণ শ্রমিক ৩ জন, প্রতিবন্ধী ৩ জন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৪৯ শিক্ষার্থী।

    সড়ক দুর্ঘটনাগুলোর মূল কারণগুলো হলো—ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা ও মানসিক অবসাদ, বেতন ও কর্মঘণ্টার অনিয়ম, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহনের চলাচল, তরুণ ও যুবকদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, জনসাধারণের ট্রাফিক আইন না জানা ও মানার অভ্যেস, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাসহ বিআরটিএ এর সক্ষমতার ঘাটতি এবং অবশেষে, গণপরিবহনখাতে চাঁদাবাজির প্রবণতা।

  • গরুর হাটে চাঁদাবাজি সহ্য করা হবে না: প্রতিমন্ত্রীর কড়া বার্তা

    গরুর হাটে চাঁদাবাজি সহ্য করা হবে না: প্রতিমন্ত্রীর কড়া বার্তা

    স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, এবারের কুরবানির পশুর হাটে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি সহ্য করা হবে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যদি কেউ চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। বুধবার (৬ মে) সকালে রাজধানীর গাবতলি পশুর হাট পরিদর্শন শেষে এসব কথা বলেন তিনি।

    প্রতিমন্ত্রী জানান, কুরবানির পশু আনা-নেয়ার সময় সড়কে চাঁদাবাজি রোধে সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, এবং এ ধরনের কোনও অভিযোগ পেলে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হবে।

    গাবতলি হাটের সীমানা ও প্রধান সড়কের নিরাপত্তা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কিছু অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটতে পারে। গাবতলি হাটে টার্গেট করা হয়েছে এক লাখ গরু আনার, কিন্তু অনেক বেশি এসে পৌঁছেছে। ব্যবসায়ীরা আমাদের সরাসরি জানায় না কত গরু তারা আনবেন বা বিক্রি করবেন। এজন্য আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। আমরা মনিটরিং চালিয়ে যাচ্ছি, এবং ঈদের কয়েক দিন আগে আবারও আমাদের টিম হাটে আসবে। সব ব্যবস্থাপনা সঠিক থাকছে কিনা তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে, এবং প্রশাসনের নেতৃত্বে আবারও সমন্বয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

    প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, হাটগুলোর নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। পুলিশের পাশাপাশি র‍্যাব ও সেনাবাহিনীও মাঠে থাকবে। এর পাশাপাশি, ইজারাদারদের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক (ভলেন্টিয়ার) দল হাট ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করবে।

    তিনি বলেন, বিভিন্ন পক্ষ থেকে যে সুপারিশসমূহ পাওয়া গেছে, সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই সমন্বিত efforts এর মাধ্যমে কাজ চলবে। এছাড়া, হাট এলাকায় ওয়াচটাওয়ার নির্মাণের পাশাপাশি নকল টাকা বানানোর রোধে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞ: সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল রাজসাক্ষী হতে চান

    শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞ: সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল রাজসাক্ষী হতে চান

    রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে ঘটানো হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল রাজসাক্ষী হওয়ার আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন। Aufgrund তার অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে আজ তার জামিনের জন্য আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়, যা আদালত শুনেন আইনজীবী মোহাম্মদ আলী হায়দার।

    বুধবার (৬ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ শুনানি হয়। এই প্যানেলের অন্যান্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    অধিকারের পক্ষ থেকে আইনজীবী মো. আলী হায়দার বলেন, আমার মক্কেল আবদুল জলিল দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। তার বয়স ৬০ বছর। শাপলা চত্বরে সংঘটিত ঘটনার সময় তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ছিলেন। তবে তার এই ঘটনার সঙ্গে কোনও সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তিনি। তিনি আরও জানান, তার হার্টে সাতটি ব্লক ধরা পড়েছে, তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য জামিনের প্রয়োজন।

    এর পর ট্রাইব্যুনাল বলেন, স্বাস্থ্য প্রতিবেদন অনুযায়ী তার অবস্থা সংকটাপন্ন নয়। একই সঙ্গে একজন বিচারপতির উদাহরণ দেন, যিনি হার্টে ১৭-১৮টি ব্লক থাকলেও নিয়মিত বিচার কার্য পরিচালনা করছেন।

    প্রসঙ্গত, জলিলের আইনজীবী বলেছেন, তার মক্কেল চিকিৎসার জন্য দেশেই থাকতে চান। তিনি বলছেন, নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া এই সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার পাসপোর্ট ট্রাইব্যুনাল জব্দ করতে পারেন, তবে তিনি চাইলে বাসায় থেকেই চিকিৎসা গ্রহণ করবেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, ট্রাইব্যুনাল চাইলে এ মামলায় সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে তার মক্কেল, এমনকি প্রয়োজনে রাজসাক্ষী হওয়ার ইচ্ছাও আছে। তবে এ ব্যাপারে জামিনের আবেদন বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

    পরে আইনজীবী আলী হায়দার সাংবাদিকদের জানান, শাপলা চত্বরের এ মামলাটি এখনো তদন্ত চলছে। এতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আবদুল জলিলের নামও আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি কখনো দেশ থেকে পালানোর চেষ্টা করেননি। ২০২০ সাল থেকে তার হার্টের সমস্যা রয়েছে, নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছেন। সেই পরিস্থিতিতে আজ তারা জামিনের জন্য আবেদন করেন।

    তিনি আরও বলেন, ট্রাইব্যুনালে হার্টের সমস্যা সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। যদিও চিকিৎসা চললেও তার প্রোন্নি হয় না বলে মনে করি। ন্যায়বিচারের স্বার্থে ট্রাইব্যুনাল যদি অনুমতি দেন, তবে তিনি বিচার কাজে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তবে এ জন্য তাকে রাজসাক্ষী হতে হবে। সবমিলিয়ে, ট্রাইব্যুনাল জামিনের আবেদন নাকচ করেন।

    অতীতে, ৩১ মার্চ এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চ। চলতি মাসের ৩০ মার্চ সন্ধ্যায় রাজধানীর সবুজবাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

    ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতের আন্দোলনের সময় আবদুল জলিল ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন।

  • এনসিপির নুসরাত তাবাসসুম শপথ নিলেন ত্রয়োদশ সংসদে সংসদ সদস্য হিসেবে

    এনসিপির নুসরাত তাবাসসুম শপথ নিলেন ত্রয়োদশ সংসদে সংসদ সদস্য হিসেবে

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে অংশ নেওয়া জামায়াত জোটের প্রার্থী ও এনসিপির নেতা নুসরাত তাবাসসুম আজ বুধবার (৬ মে) দুপুর ১২টায় সংসদে শপথ গ্রহণ করেছেন। এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানটি সংসদ ভবনের নিজ কার্যালয়ে সম্পন্ন হয়, যেখানে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তার শপথ বাক্য পাঠ করান।

    সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, শপথ গ্রহণের সময় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া এ প্রক্রিয়া পরিচালনা করেন। শপথ নিবন্ধনের পর, সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সংসদ সচিবের রুমে উপস্থিত হয়ে শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে ডেপুটি স্পিকার, বিরোধী দলের চিফ হুইপ, সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ছিল।

    অভূতপূর্ব উত্তেজনাপূর্ণ এই নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল ২১ এপ্রিল বিকেল ৪টা। তবে নুসরাত তাবাসসুম ওই দিন ৪টা ১৯ মিনিটে মনোনয়নপত্র জমা দেন, যার কারণে নির্বাচন কমিশন (ইসি) তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। এ বিষয়টি নিয়ে তিনি উচ্চ আদালত অব্দি রিট করেন। আদালত ইসিকে নির্দেশ দেন, তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ কর ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে। পরে নির্বাচন কমিশন তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে। এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তিনি এবার সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হয়েছেন।

  • সেনাপ্রধানের মতে, দেশের ইতিহাসে এত সুন্দর নির্বাচন আগে হয়নি

    সেনাপ্রধানের মতে, দেশের ইতিহাসে এত সুন্দর নির্বাচন আগে হয়নি

    সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, দেশের ইতিহাসে এত সুন্দর এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আগে কখনো হয়নি। তিনি আরও বলেন, সামরিক ও অসামরিক বাহিনী একসঙ্গে কাজ করলে কঠিন কাজও সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করা সম্ভব, এবং এই নির্বাচনে তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে উপস্থিত হয়েছিলেন সেনাপ্রধান। সম্মেলনের শুরুতে নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী প্রধান ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টাও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন। সেনাপ্রধান বলেন, ‘আমি সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। আপনারা দেশের জন্য এক অসাধারণ নির্বাচন আয়োজন করেছেন। আমরা আপনাদের পাশে ছিলাম, তবে নির্বাচনের সম্পূর্ণ দায়িত্ব ছিল আপনারাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘একসময় দেশের পরিস্থিতি ছিল উদাসীনতা আর আশঙ্কার মধ্যে। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, নির্বাচন হবে না। কিন্তু আমরা সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে দেশ ও জাতিকে একটি গণতান্ত্রিক পথে ফিরিয়ে এনেছি। এটি একটি বড় অর্জন।’ ডিসিদের উদ্দেশে সেনাপ্রধান উল্লেখ করেন, ‘যেকোনো প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনীর সহায়তা চেয়ে জেনে নিন। সংশ্লিষ্ট সেনা ফরমেশন যত দ্রুত সম্ভব আপনাদের সহায়তা করবে। দুর্যোগ, দুর্ঘটনা বা অন্য যেকোনো বিপর্যয়ে তারা প্রস্তুত রয়েছে আপনাদের সহায়তা করতে।’

  • ঈদুল আজহা: ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রির সময়সূচি ঘোষণা

    ঈদুল আজহা: ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রির সময়সূচি ঘোষণা

    আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বাংলাদেশ রেলওয়ে অনলাইনে আগাম টিকিট বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঈদে ঘরমুখো মানুষের জন্য অনলাইনে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে ১৩ মে থেকে, আর ঈদের পর ফিরতি যাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে ২১ মে থেকে।

    ঈদ যাত্রার টিকিট বিক্রির সময়সূচি সংক্ষেপে:

    – ১৩ মে: ২৩ মে যাত্রার টিকিট বিক্রি শুরু

    – ১৪ মে: ২৪ মে যাত্রার টিকিট পাওয়া যাবে

    – ১৫ মে: ২৫ মে যাত্রার টিকিট পাওয়া যাবে

    – ১৬ মে: ২৬ মে যাত্রার টিকিট পাওয়া যাবে

    – ১৭ মে: ২৭ মে যাত্রার টিকিট পাওয়া যাবে

    ফিরতি যাত্রার টিকিট বিক্রি শুরু হবে ২১ মে থেকে। ফিরতি সূচি:

    – ২১ মে: ৩১ মে টিকিট ইস্যু শুরু

    – ২২ মে: ১ জুন টিকিট পাওয়া যাবে

    – ২৩ মে: ২ জুন টিকিট পাওয়া যাবে

    – ২৪ মে: ৩ জুন টিকিট পাওয়া যাবে

    – ২৫ মে: ৪ জুন টিকিট পাওয়া যাবে

    নিয়মাবলি ও নির্দেশনা:

    – একজন যাত্রী উল্লিখিত ঈদ আগমন ও ফেরত যাত্রার ক্ষেত্রে প্রতিটি ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ একবার টিকিট ক্রয় করতে পারবেন এবং প্রতি ক্রয়ে সর্বোচ্চ চারটি টিকিট নিতে পারবেন।

    – ঈদ অগ্রিম ও ফেরতযাত্রার টিকিট রিফান্ডযোগ্য নয়।

    – যাত্রীদের অনুরোধে, যাত্রার দিনে মোট আসনের ২৫ শতাংশ পর্যন্ত স্ট্যান্ডিং টিকিট (উচ্চ শ্রেণি ব্যতীত) স্টেশন কাউন্টার থেকে বিক্রয় করা হবে।

    – উল্লেখিত তারিখ অনুসারে ফেরত টিকিটগুলো প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে ইস্যু করা হবে।

    যাত্রীদের উদ্দেশ্যে অনুরোধ করা হয়েছে—অনলাইনে টিকিট কেনার সময় নির্দিষ্ট নির্দেশনা মেনে চলুন এবং যাত্রা নিশ্চিতের আগে টিকিট ও ভ্রমণের শর্তাবলি ভালভাবে যাচাই করে নিন।

  • মেহেরপুরে স্ত্রীর সামনে স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা

    মেহেরপুরে স্ত্রীর সামনে স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা

    মেহেরপুর সদর উপজেলার শেখ পাড়ায় মঙ্গলবার (৫ মে) সন্ধ্যায় স্ত্রীর সামনেই স্বামীকে ধারালো অস্ত্রে কুপিয়ে হত্যা করেছে এক ব্যক্তি—এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    নিহত গোলাম হোসেন (৪৫) ছিলেন পেশায় রিকশাচালক ও ওই এলাকার বাসিন্দা; তিনি রিয়াসিন আলীর ছেলে। নিহতের স্ত্রী আলিয়া খাতুন জানান, ওই দিন সন্ধ্যায় গোলাম বাড়ি ফিরে গোসল করছিলেন। হঠাৎ পেছন থেকে কালু নামে একজন এসে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।

    অভিযোগ অনুযায়ী, কালু স্থানীয় বাসিন্দা আকবর আলীর ছেলে এবং নিহতের খালাতো ভাই। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র বলছে—ঘটনার পটভূমি হতে পারে দুই দিন আগে ঘটে যাওয়া একটি তুচ্ছ বিবাদ, যেখানে গোলামের রিকশা স্থানীয় এক নারী বন্যার বাড়ির প্রাচীরে ধাক্কা লাগে। এর পরে কালু ও বন্যার সঙ্গে গোলামদের মধ্যে ঠেকাঠেঁজি হয়, যা পরে স্থানীয়ভাবে মিটিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

    ঘটনার পর এলাকাবাসী ও পরিবার সদস্যরা গোলামকে উদ্ধার করে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

    মেহেরপুর সদর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে পরিদর্শন করেছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে; হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।

    ঘটনার সঠিক কারণ, আহত বা অন্য কোনো ব্যক্তির সম্পৃক্ততা সম্পর্কে তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে বলে পুলিশ সূত্রে বলা হয়েছে।

  • খুলনায় নেতৃত্বহীন ছাত্রদল: সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থবির, পদপ্রত্যাশীরা লবিংয়ে ব্যস্ত

    খুলনায় নেতৃত্বহীন ছাত্রদল: সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থবির, পদপ্রত্যাশীরা লবিংয়ে ব্যস্ত

    খুলনায় বড় আরেকটি অস্থিরতার দিক হিসেবে দেখা যাচ্ছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কার্যক্রমের প্রধান শূন্যতা। মহানগর ও জেলা পর্যায়ে দীর্ঘদিন কোনো স্থায়ী কমিটি না থাকা এবং কেন্দ্রীয় স্তরের সিদ্ধান্তের কারণে সংগঠনের কার্যক্রম পড়ে আছে স্থবিরতায়।

    রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরে—বিশেষ করে ৫ আগস্ট ২০২৪—এক পর্যায়ে নতুন আগ্রহ ও আলোচনা সৃষ্টি হলেও চূড়ান্ত নেতৃত্ব না থাকার কারণে মাঠে কোনো সুস্পষ্ট দিশা নেই। সূত্র জানায়, খুলনার ছাত্রদলের শীর্ষ দলে দাঁড়াতে স্থানীয় পর্যায়ে কয়েক ডজন নেতা-কর্মী মুখিয়ে আছে এবং এখন তারা লবিং ও সমর্থন জোগাড়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

    দলীয় নথি অনুযায়ী, ২৪ মার্চ ২০২১ সালে খুলনা মহানগর ছাত্রদলের কমিটি গঠন করা হয়। তখন ইশতিয়াক আহমেদ ইস্তিকে আহবায়ক ও তাজিম বিশ্বাসকে সদস্য সচিব করা হয়। সেই কমিটি ১৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ৫টি থানা ও মহানগরের ৩১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৫টিতে ইউনিট কমিটি গঠন করেছিল। কিন্তু আনুমানিক তিন বছর পরে, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪-এ ওই মহানগর কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

    জেলার পরিস্থিতিও অনুরূপ। ১৩ অক্টোবর ২০১৬ সালে মান্নান মিস্ত্রিকে সভাপতি ও গোলাম মোস্তফা তুহিনকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত জেলা কমিটি আট বছর দায়িত্ব পালন করে। তাদের দায়িত্বকালে জেলা জুড়ে ৩১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ৯টি থানায় ইউনিট কমিটি করা হয়েছিল। মহানগরের সঙ্গে একই দিন, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪-এ ওই জেলা কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়।

    দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৫ আগস্ট ২০২৪-এর রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নিজস্ব মেয়াদোত্তীর্ণতার কয়েকটি কারণ দেখিয়ে মহানগর ও জেলা স্তরের কমিটিগুলো বিলুপ্ত করে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ কথা জানালেও জাতীয় নির্বাচনের আগের রাজনীতির অনিশ্চয়তার কারণে নতুন কমিটি ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি। ফলে লোকাল ইউনিটগুলো মাঠে কার্যকর থাকলেও উপরের কোনো ‘অভিভাবক’ না থাকায় সংগঠনভাবে নেতৃত্বহীনতা দেখা দিয়েছে।

    একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে এখন ব্যাপক যাচাই-বাছাই ও অনুসন্ধান চলছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল নিজে এই প্রক্রিয়াটি তদারকিতে যুক্ত আছেন।

    মহানগর নেতৃত্বে যাদের নাম আলোচনা রয়েছে—তাদের মধ্যে রয়েছেন তাজিম বিশ্বাস, আরিফুল ইসলাম আরিফ, হেদায়েত উল্লাহ দিপু, মো. শাকিল আহমেদ, মাজহারুল ইসলাম রাসেল, আব্দুল হক শাহিন, হাসান ফকির, সৈয়দ ইমরান, নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া, রাজু আহমেদ, আব্দুস সালাম, রাশিউর রহমান রুবেল, রাজিবুল ইসলাম বাপ্পি, নাজমুল ইসলাম ও মুশফিকুর রহমান অভি। জেলার নেতাদের তালিকায় এগিয়ে আছেন গাজী শহিদুল, মাসুম বিল্লাহ, মশিউর রহমান শফিক, ফিরোজ আহমেদ আদল, অনিক আহমেদ, ইয়ামিন ইসলাম, ইসমাইল হোসেন খান, আবু জাফর ও ইমতিয়াজ সুজন।

    জেলা ছাত্রদলের পুরনো নেতা অনিক আহমেদ বলেন, “মামলার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন কমিটি করা হলে প্রকৃত ত্যাগীরাই নেতৃত্বে আসবে।” মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব তাজিম বিশ্বাস বলেন, “ছাত্রদল বিএনপি’র সহযোগী সংগঠন হলেও এটি দলের প্রাণ। ছাত্রদলের মাধ্যমেই নতুন কর্মীরা দলেকে প্রবেশ করে—বর্তমান সংসদের অনেক মন্ত্রী-মন্ত্রনির্হারই ছাত্রনেতা ছিলেন। দলকে গতিশীল করতে দ্রুত কমিটি দরকার।”

    সংক্ষেপে, খুলনায় ছাত্রদলের সামনে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে সময়োপযোগী ও বিশ্বাসযোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা। কেন্দ্রে চলমান যাচাই-বাছাই ও লোকজন নির্ধারণের প্রক্রিয়া শেষ হলে স্থানীয় গতিশীলতা ফিরবে—তবে ততক্ষণ পর্যন্ত মাঠে শীর্ষ নেতৃত্বের অভাবই থাকছে প্রধান প্রতিবন্ধকতা।

  • ১০ মে এনসিপি ঘোষণা করবে উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থীদের

    ১০ মে এনসিপি ঘোষণা করবে উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থীদের

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেছেন, তাদের উদ্দেশ্য ছিল ৩০ এপ্রিলের মধ্যে ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভার জন্য উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করা। তবে কিছু ব্যক্তিগত ও সামগ্রিক কারণের মন্থরতার ফলে নির্ধারিত তারিখ পিছিয়ে গেছে।

    তিনি বলেন, আমরা আশা করছি আগামী ১০ মে’র মধ্যে এনসিপি থেকে প্রাথমিকভাবে সমর্থিত উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থীদের তালিকা ঘোষণা করতে পারব।

    সারজিস আলম এই মন্তব্যগুলো করেন মঙ্গলবার (০৫ মে) রাজধানীর বাংলামোটর রূপায়ণ টাওয়ারের দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে, যেখানে রাজনৈতিক ও বিভিন্ন পেশার নাগরিকরা দলের সঙ্গে যোগদান করেন।

    তিনি আরও জানান, এ মাসের মধ্যে সাতটি সিটি কর্পোরেশনে এনসিপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করা হবে। বর্তমানে এনসিপি একটি ১১ দলীয় জোটের অংশ হিসেবে বিরোধী ভূমিকা পালন করলেও সংসদে কার্যকরভাবে কাজ করার পাশাপাশি দলটির সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক শক্তি এককভাবে গড়ে তোলার উদ্যোগও চলছে। এজন্য স্থানীয় স্তরে অনেক জায়গায় এনসিপি নিজস্ব প্রার্থী ঘোষণা করবে বলেও জানান তিনি।

    সারজিস আলম অভিযোগ করেন, বিএনপির পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা করে এগুলো ২০২৭ সালের ডিসেম্বরে নেওয়ার পরিকল্পনা আছে এবং তারা ইতোমধ্যে জেলা পরিষদ ও সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্হা করছে—এই ধরনের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তিনি অবস্থান ব্যক্ত করেন।

    তিনি আরো বলেন, উপজেলা পর্যায়ে কার্যকরভাবে কাজ করা কোনো উপজেলা চেয়ারম্যান নেই এবং শোনা যাচ্ছে যে কেউ কেউ উপজেলা পরিষদ বিলুপ্ত করার চেষ্টা শুরু করেছে। এমন পন্থা সর্বশেষে তাদের জন্য ক্ষতিকর হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন। তাই সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচন এতির মধ্যে আয়োজন করার জন্য তিনি দাবি করেন।

  • বাজুস জানাল: সোনার দাম কমল, প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ২,১৫৮ টাকা পর্যন্ত হ্রাস

    বাজুস জানাল: সোনার দাম কমল, প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ২,১৫৮ টাকা পর্যন্ত হ্রাস

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) মঙ্গলবার (৫ মে) ঘোষণা করেছে যে দেশের স্থানীয় বাজারে সোনার দাম হ্রাস করা হয়েছে। সমিতির দেওয়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

    বাজুস জানিয়েছে, তেজাবি (পিওর গোল্ড) আন্তর্জাতিক বাজারে কমে আসায় স্থানীয় দোকানভিত্তিক সোনার দামও সমন্বয় করা হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ চল্লিশ হাজার তিনশত সাতত্রিশ টাকা (১,৪০,৩৩৭ টাকা)। এটি সপ্তাহের শুরুতে (সোমবার, ৪ মে) থাকা দুই লাখ বাইঁতালিশ হাজার চারশত পঁচান্ন টাকা (২,৪২,৪৯৫ টাকা) থেকে কমে এসেছে—অর্থাৎ প্রতি ভরি প্রায় দুই হাজার একশত আটান্ন টাকা (২,১৫৮ টাকা) হ্রাস পেয়েছে।

    অন্যান্য কট্‌রা অনুযায়ী নতুন দামগুলো হল: ২১ ক্যারেট প্রতি ভরি দুই লাখ উনত্রিশ হাজার চারশত একত্রি টাকা (২,২৯,৪৩১ টাকা), ১৮ ক্যারেট প্রতি ভরি এক লাখ নিকেয়ানব্বই হাজার ছয়শত পঞ্চান্ন টাকা (১,৯৬,৬৫৫ টাকা) এবং সনাতনী পদ্ধতির প্রতি ভরি দাম এক লাখ ষাট হাজার একশত সাতত্রিশ টাকা (১,৬০,১৪৭ টাকা)।

    রুপার দাম অচল আছে বলে জানায় বাজুস। ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি দাম রাখা হয়েছে পাঁচ হাজার চারশত বাইশ দুই টাকা (৫,৪৮২ টাকা)। সেই সঙ্গে ২১ ক্যারেট রুপা ৫,১৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেট রুপা ৪,৪৯০ টাকা এবং সনাতনী পদ্ধতির রুপা ৩,৩৮৩ টাকা প্রতিভরি নির্ধারণ করা হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক পটভূমি নিয়ে বলা হয়েছে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর বিশ্ববাজারে সোনার দাম উঠে যায়। পরে দাম উঠানামা করে এবং সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি অনুযায়ী প্রতি আউন্স সোনার দাম এখন কমে প্রায় ৪,৫০০ ডলার নেমে এসেছে। এর আগে গত ৩০ জানুয়ারি দাম ছিল প্রায় ৫,২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি তা ৫,৫৫০ ডলারে পৌঁছেছিল।

    বাজুসের এই সিদ্ধান্তি স্থানীয় বাজারে মূল্যের সাময়িক সমন্বয় হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে; ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুবিধার্থে নতুন মূল্য তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।