Blog

  • এক ভরির সোনার দাম ছাড়াল ২ লাখ ৭০ হাজার ৪৩০

    এক ভরির সোনার দাম ছাড়াল ২ লাখ ৭০ হাজার ৪৩০

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) টানা দ্বিতীয় দিন সোনার দাম বাড়িয়েছে। বুধবার (১১ মার্চ) সকালে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার এক ভরির দাম ২ লাখ ৭০ হাজার ৪৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

    বাজুস বলেছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সোনার নতুন মূল্য তালিকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট সোনার দাম পড়বে ২,৭০,৪৩০ টাকা। একই বিবেচনায় ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি দাম হয়েছে ২,৫৮,১২৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২,২১,২৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১,৮০,৬১৭ টাকা।

    সোনার দর বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। রুপার দাম ভরিতে ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম রাখা হয়েছে ৬,৭০৭ টাকা। তদুপরি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৬,৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫,৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৪,০৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বাজুসের এই সিদ্ধান্ত বাজারে কাঁচামালের মূল্য ওঠানামা ও স্থানীয় চাহিদার প্রভাবকে মাথায় রেখে নেওয়া হয়েছে বলে তারা জানিয়েছে। মূল্যবৃদ্ধি গ্রাহক ও গহনা ব্যবসায়ীদের ক্রয়-বিক্রয়ে প্রভাব ফেলতে পারে, তাই ক্রেতাদের সাবধানতা ও ব্যবসায়ীদের স্টক পরিকল্পনা আপডেট করার পরামর্শ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

  • কেসি-১৩৫ বিধ্বস্তে সব ছয় ক্রুর মৃত্যু নিশ্চিত; ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তে ইসরায়েলে সতর্কতা

    কেসি-১৩৫ বিধ্বস্তে সব ছয় ক্রুর মৃত্যু নিশ্চিত; ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তে ইসরায়েলে সতর্কতা

    যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) শুক্রবার জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার পশ্চিম ইরাকে বিধ্বস্ত হওয়া কেসি-১৩৫ জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানের ছয়টি ক্রু সদস্যের সবার মৃত্যুও নিশ্চিত হয়েছে।

    প্রাথমিকভাবে সেনাবাহিনী চার ক্রুর মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল এবং দুইজনকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছিল। কিন্তু উদ্ধারকাজের পর তারা ও জীবিত উদ্ধার করা যায়নি বলে সেন্টকম জানায়।

    পেন্টাগনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে যুদ্ধের ভয়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেন, “যুদ্ধ মানেই নরক। যুদ্ধ মানেই বিশৃঙ্খলা।” তিনি নিহত সৈন্যদের ‘আমেরিকান হিরো’ বলেন এবং ডোভারে তাদের অভিবাদনের কথা উল্লেখ করেন, পাশাপাশি তাদের আত্মত্যাগকে চলমান মিশনে শক্তি যোগাবে বলেও তোরণ করেছেন।

    সেন্টকম জানায়, কেসি-১৩৫ ট্যাঙ্কার বিমানটি মাঝা-আকাশে অন্য একটি বিমানের সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পশ্চিম ইরাকে বিধ্বস্ত হয়। সংঘর্ষের অপর বিমানটি ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে—বিমানটির লেজের অংশের কিছু অংশ নিখোঁজ রয়েছে। সেন্টকম দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে।

    একই দিনে ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শনাক্ত হওয়ার পর ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দেশজুড়ে সতর্কতা জারি করেছে। সামরিক সূত্রে বলা হয়েছে, সতর্কবার্তা হাতে লাগার সঙ্গে সঙ্গেই নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    এই ঘটনাগুলোর প্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আঘাতের ফলে একদিন ইরানের জনগণ তাদের সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্যে উঠে দাঁড়াতে পারে, তবে তা সঙ্গে সঙ্গেই ঘটবে না। ফক্স নিউজ রেডিওকে দেওয়া সেই সাক্ষাৎকারে তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আগামী সপ্তাহে আমরা তাদের ওপর খুব কঠোর আঘাত হানতে যাচ্ছি।” তিনি একই সঙ্গে স্বীকার করেছেন যে এখন পর্যন্ত ইরানিসদের মধ্যে সরকারের বিরুদ্ধে বড় ধরনের প্রতিবাদের লক্ষণ দেখা যায়নি।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন ট্রাম্প প্রশাসন ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সামরিক সফলতার মাধ্যমে ঘরোয়া জনমতকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছে। দোহায় অবস্থিত ডোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের মোহাম্মদ এলমাসরি আল-জাজিরাকে বলেছেন, ট্রাম্প ও হেগসেথ জনগণকে যুদ্ধের সাফল্য নিয়ে নিশ্চিন্ত করতে চাইছেন। এলমাসরি বলেন, হেগসেথ প্রায়ই ইরানের সামরিক সক্ষমতা নস্যাৎ করার বড়াই করেছেন, যা বাস্তবে ইরানি বাহিনীকে অবমূল্যায়ন করে এবং এটি আমেরিকান প্রোপাগান্ডার অংশ হতে পারে।

    এতে উত্থিত উদ্বেগগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়া। সাম্প্রতিক সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১,৩০০’রও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে—এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি এবং সামরিক অভিযানের সম্ভাব্য তীব্রতা অঞ্চলটিকে আরও অস্থির করতে পারে।

    সূত্র: সিএনএন, আল-জাজিরা।

  • কাবুলে পাকিস্তানি বিমান হামলায় অন্তত ৪ নিহত, আহত ১৫

    কাবুলে পাকিস্তানি বিমান হামলায় অন্তত ৪ নিহত, আহত ১৫

    আফগান কর্তৃপক্ষ জানায়, রাজধানী কাবুলসহ সীমান্তবর্তী কয়েকটি প্রদেশে পাকিস্তান রাতভর বিমান হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় কাবুলে অন্তত চারজন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন। হামলায় শহরের কয়েকটি আবাসিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছেন বলে কাবুল পুলিশ মুখপাত্র খলিল জাদরান নিশ্চিত করেছেন।

    পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, তারা মূলত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) জঙ্গিগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে এসব অভিযান চালিয়েছে। পাকিস্তান দাবি করেছে, সাম্প্রতিক সময়ে তাদের দেশের ওপর বাড়তি জঙ্গি হামলার জেরে ইসলামাবাদ গত মাস থেকেই আফগানিস্তানের ভেতরে বিভিন্ন জায়গায় বিমান হামলা জোরদার করেছে।

    তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে; তারা বলছে যে আফগান ভূখণ্ড থেকে কোনো জঙ্গি তৎপরতা পরিচালিত হয় না। তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, কাবুল ছাড়াও দক্ষিণাঞ্চলের কান্দাহার ও পাকিস্তান সীমান্তবর্তী পাকতিয়া ও পাকতিকা প্রদেশেও পাকিস্তানের হামলার খবর পাওয়া গেছে।

    কান্দাহারে বিমানবন্দরের কাছে বেসরকারি বিমান সংস্থা কাম এয়ারের এক জ্বালানি ডিপোতেও হামলার সংবাদ পাওয়া গেছে। ওই ডিপো থেকে বেসামরিক এবং জাতিসংঘের উড়োজাহাজে জ্বালানি সরবরাহ করা হয়। পাকিস্তান দাবি করেছে, ওই অভিযানে কোনো বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়নি। তবে দুই পক্ষের দেওয়া হতাহতের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।

    সীমান্তপেরিয়ে বিমান হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি তীব্রভাবে উত্তপ্ত থাকায় আন্তর্জাতিক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে; আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বেসামরিক নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য সুস্পষ্ট এবং স্বচ্ছ তল্লাশি ও তদন্তের আহ্বান জানানো হচ্ছে।

  • ঝিনাইদহে সংঘর্ষে আহত বিএনপি কর্মী তরু মিয়া ঢাকায় মারা গেছেন

    ঝিনাইদহে সংঘর্ষে আহত বিএনপি কর্মী তরু মিয়া ঢাকায় মারা গেছেন

    ঝিনাইদহের মাধবপুরে জামায়াত ও বিএনপির কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত বিএনপির কর্মী তরু মিয়া (৪৮) শুক্রবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। হাসপাতাল সূত্রে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়।

    পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে জামায়াতের নারী কর্মীদের একটি আলোচনা সভায় বাধা দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ ঘটনায় উভয়পক্ষ মিলিয়ে অন্তত আটজন আহত হন।

    আহতদের প্রথমে ঝিনাইদহ জেনারেল হাসপাতালে আনা হয় বলে জানিয়েছেন ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি আবু কালাম। তিনি বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হলে তরু মিয়া বমি করছিলেন এবং তার শারীরিক অবস্থা সংকটজনক হওয়ায় চিকিৎসক তাকে ঢাকায় স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। ঢাকায় এসে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তার মরদেহ বর্তমানে বাড়িতে নেওয়া হচ্ছে।

    নিহত তরু মিয়ার বাড়ি মাধবপুর গ্রামে। পরিবার বলছে, তিনি প্রায় দুই যুগ বিদেশে ছিলেন এবং পাঁচ মাস আগে দেশে ফিরে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যেতেন। তার ছেলে শিপন রহমান ইউনিয়ন ছাত্রদলের কর্মী বলেও জানা গেছে।

    ঘটনাস্থলের একপক্ষ জানতে চাইলে সদর উপজেলা জামায়াতের আমির ড. হাবিবুর রহমান দাবি করেন, জামায়াতের নারী কর্মীদের তালিম কর্মসূচিতে বিএনপির নেতা-কর্মীরা অনায়াসে হামলা চালায়, তা সত্ত্বেও হামলার ঘটনা সংঘটিত হয়।

    অন্যদিকে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু অভিযোগ করেন, জামায়াতের নারী কর্মীরা বিএনপি পরিবারের নারীদের জোর করে তালিমে নিতে চেয়েছিল; বিষয়টি জানতে গেলে আগে থেকেই ওত-পেতে থাকা জামায়াত কর্মীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।

    ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) শেখ বিলাল হোসেন ঘটনায় তরু মিয়ার ঢাকায় মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, পরিস্থিতি যাতে শিগগিরই নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, সেজন্য এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, র‌্যাব ও সেনাসদস্যরা টহল দিচ্ছেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি মনিটর করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    উপজেলা ও পুলিশ সূত্র মতে, ঘটনার সঠিক কারণ ও হামলার পর্যায়ক্রমিক দায়-দায়িত্ব নির্ণয়ের জন্য তদন্ত চলছে। পুলিশ এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

  • খুলনায় প্রতি ৫০০ টন বর্জ্যের মধ্যে ১৫% প্লাস্টিক ও ১০% ই-বর্জ্য

    খুলনায় প্রতি ৫০০ টন বর্জ্যের মধ্যে ১৫% প্লাস্টিক ও ১০% ই-বর্জ্য

    নগর ভবনের জিআইজেড মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় খুলনা সিটি কর্পোরেশনের আয়োজনে ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক বর্জ্য (ই-বর্জ্য) ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) কর্তৃক প্রেরিত “ডিমান্ড ফর জাস্টিস” শীর্ষক নোটিশের প্রেক্ষিতে কেসিসি এই সভার আয়োজন করে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর, বেলা ও বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

    সভায় গবেষণার তথ্য উদ্ধৃত করে জানানো হয়, প্রতি ৫০০ টন বর্জ্যের মধ্যে প্রায় ১৫ শতাংশ প্লাস্টিক (প্রায় ৭৫ টন) এবং ১০ শতাংশ ই-বর্জ্য (প্রায় ৫০ টন) রয়েছে। এছাড়া বলা হয় এই হার বছরে ২০–৩০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ই-বর্জ্য মাটি, পানি ও বায়ু দূষণের কারণ হয়ে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত, শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যা ও দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারের মতো গুরুতর রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

    সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়: ই-বর্জ্য পৃথক করে সংগ্রহের ব্যাপারে জনগণকে জানানো হবে, ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে প্রচারপত্র বিতরণ ও বিলবোর্ডে প্রদর্শনের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানো হবে, কেসিসি ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সক্রিয়ভাবে প্রচারে যুক্ত করার অনুরোধ জানানো হবে এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হবে। এছাড়া বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    সভায় ইলেকট্রনিক পণ্যের ব্যবহার হ্রাস, প্রতিটি পণ্যের সম্ভাব্য আয়ু বাড়ানো ও মেরামত-রিপেয়ার উৎসাহিত করার পাশাপাশি নির্মাণাধীন বর্জ্য রিসাইক্লিং প্ল্যান্টে ই-বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ও রিসাইক্লিং-এর সুযোগ রাখা হলে সমস্যার সমাধানে সহায়ক হবে বলে সুপারিশ করা হয়।

    সভায় বক্তৃতায় কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, মহানগরকে ঝুঁকিমুক্ত, সবুজ ও সুস্থ শহর হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। এর প্রথম ধাপ সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ; বর্জ্য সংগ্রহকারী থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সকল অংশধারীকে পরিকল্পনার আওতায় এনে কাজ শুরু করতে হবে, তিনি বলেন।

    সভায় উপস্থিত ছিলেন কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. মোঃ মুজিবুর রহমান, চীফ প্ল্যানিং অফিসার আবির উল জব্বার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ শরীফ শাম্মিউল ইসলাম, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কোহিনুর জাহান, নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আনিচুজ্জামান, শেখ মোঃ মাসুদ করিম, কনজারভেন্সি অফিসার প্রকৌশলী মোঃ আনিসুর রহমান, মোঃ অহিদুজ্জামান খান, আর্কিটেক্ট রেজবিনা খানম, ভেটেরিনারি সার্জন ড. পেরু গোপাল বিশ্বাস, আইটি ম্যানেজার শেখ হাসান হাসিবুল হক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোল্লা মারুফ রশীদ, এস্টেট অফিসার গাজী সালাউদ্দিনসহ অন্যান্য ওয়ার্ড পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ।

    বিকেলে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু নগর ভবনের শহিদ আলতাফ মিলনায়তনে কেসিসি’র পূর্ত বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে এক সভায় মিলিত হন। সেখানে তিনি চলমান বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। জলাবদ্ধতা নিরসনকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদ্যমান ড্রেন ব্যবহারের মাধ্যমে তা মোকাবিলা করতে হবে। পাশাপাশি নগর সম্প্রসারণ, ময়ূর নদ সংস্কার, রিভারসাইড সড়ক নির্মাণ ও ক্ষতিগ্রস্ত শহর রক্ষা বাঁধ মেরামতের পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

    পূর্ত বিভাগের সভায় উপস্থিত ছিলেন কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, চীফ প্ল্যানিং অফিসার আবির উল জব্বার, নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আনিচুজ্জামান, শেখ মোঃ মাসুদ করিম, সিসিএইউডি প্রকল্পের টিম লিডার ক্যামেরুন ল।, মেহেদী হাসানসহ সহযোগী প্রকৌশলী ও সহকারীরা।

  • বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে বাংলাদেশকে হারিয়ে সিরিজে সমতা পাকিস্তানের

    বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে বাংলাদেশকে হারিয়ে সিরিজে সমতা পাকিস্তানের

    পাকিস্তানকে সিরিজের প্রথম ম্যাচে হারানোর পরে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বৃষ্টি বাধার মধ্যেই বাংলাদেশকে হারিয়ে সিরিজে সমতা করেছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের শক্তিশালী শুরু ও বাংলাদেশ ব্যাটিং স্তব্ধ হওয়ার ফলে বৃষ্টির পরে নির্ধারিত লক্ষ্যও বাংলাদেশকে ছুঁতে পারেনি — তারা ৩২ ওভারে নেওয়া ২৪৩ রানের লক্ষ্যের বিপরীতে মাত্র ১১৪ রানে অলআউট হয়ে বসে, ফলে হারেছে ১২৮ রানে।

    পাকিস্তানের ইনিংসটি শক্তিশালীভাবে শুরু হয়। ওপেনিং জুটিতে তারা ১০৩ রানের সঙ্গে প্লে-অফ ঘরোয়া চাপ সৃষ্টি করে। মাঝের ওভারে হাতে বর্তমান ব্যাটসম্যান মাজ সাদাকাত ঝড় তোলেন; তিনি দুর্দান্ত ব্যাট করে ৪৬ বলে ৭৫ রান করেন এবং ইনিংসের সর্বোচ্চ সংগ্রাহক হন। তাতে পাওয়ার প্লেতে থেকেই সেঞ্চুরি সম্ভাবনার সুর গড়ে ওঠে, কিন্তু মেহেদী হাসান মিরাজ তাকে ফিরিয়ে দিয়ে বাংলাদেশকে ব্রেকথ্রু এনে দেন।

    এরপর দ্রুত আরও দুই উইকেট হারানোর পর অভিজ্ঞ সালমান আলী আঘা ও মোহাম্মদ রিজওয়ান চতুর্থ উইকেটে ১০৯ রানের বড় জুটি গড়ে দলকে নিয়ন্ত্রণে রাখেন। সেই জুটি সালমানের অদ্ভুত রানের আউটের পর ভেঙে যায়; তিনি ৬২ বলে ৬৪ রান করে স্টাম্পে গিয়ে আউট হন। রিজওয়ান ৪৪ রান করে ফেরেন। মিরাজের স্পেল, রিশাদ হোসেনের দক্ষ বোলিং এবং তাসকিন-মুস্তাফিজদের সমর্থনে পাকিস্তানের ইনিংস ২৭৪ রানে শেষ হয়। বাংলাদেশের পক্ষে রিশাদ সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন, মিরাজ দুটি উইকেট নেন এবং তাসকিন, মুস্তাফিজুর রহমান ও নাহিদ একটি করে উইকেট নেন।

    চেজে নামার পর বাংলাদেশের শুরু ভাঙন ধরায়। ওপেনিং পৌঁছতেই তারা তিন উইকেট হারায় এবং ১৩ রানে তানজিদ হাসান তামিমকে হারায়; তিনি মাত্র ১ করে ফেরেন। সাইফ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্তও শূন্য ও কম ঝুঁকিতে আউট হয়ে দলকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেন। ৬.৩ ওভারে স্কোর তখন ২৭/৩; সেই পর্যায়ে বৃষ্টি নামলেও খেলা প্রায় এক ঘণ্টা তিনেক বন্ধ থাকে। পুনরায় খেলা শুরু হলে ওভার কমে যাওয়ায় লক্ষ্যও ঘাটতি করে ৩২ ওভারে ২৪৩ রানে নির্ধারিত হয়।

    কম করা লক্ষ্যেও বাংলাদেশি ব্যাটাররা জুটির হিসাবে বড় কিছু করতে পারেনি। লিটন দাস ও তাওহিদ হৃদয়ের ৫৮ রানের জুটি সাময়িক আশার সঞ্চার করলেও লিটনের আউট হয়ে ফিরে যাওয়ায় সেটি ভেঙে পড়ে; লিটন ৩৩ বলের মোকাবেলায় ৪১ করে ফেরেন। এরপর আফিফ হোসেনও বড় করতে না পেরে ১৫ বল খেলে ১৪ রানে আউট হন। মিরাজ মাত্র কয়েক বল খেলতে পেরে ফেরেন এবং দলের পতন থামাতে পারলেন না — ১০১ রানে বাংলাদেশের দাঁড়ানোই শেষ শুরুটা; দ্রুত ৭ উইকেট হারানোর পর হৃদয়ও ৩৮ বল করে ২৮ রানে এলবিডব্লিউ হন। অবশেষে বাংলাদেশের ইনিংস অলআউট হয় লজ্জাজনক ১১৪ রানে।

    পাকিস্তানের জয়ের পথে ওপেনার মাজ সাদাকাতের ঝড়ো ব্যাটিং এবং সালমান-রিজওয়ানের বড় জুটি মূল ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে রিশাদ তিনটি উইকেট নিলেও টপ-অর্ডার ও মধ্যম қатарের ব্যর্থতা এবং বৃষ্টির ফলে রিডিউসড টার্গেটের চাপ বাংলাদেশের পক্ষে জয়ের পথে বড় বাধা হয়। সিরিজ এখন ১-১ সমতায় পৌঁছে গেছে।

  • মুস্তাফিজ দ্য হান্ড্রেডে প্রথম বাংলাদেশি—বার্মিংহ্যামে বেথেল, ব্রুকসসহ সতীর্থরা

    মুস্তাফিজ দ্য হান্ড্রেডে প্রথম বাংলাদেশি—বার্মিংহ্যামে বেথেল, ব্রুকসসহ সতীর্থরা

    ইংল্যান্ডের ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট দ্য হান্ড্রেডের ২০২৬ আসরের নিলামে মুস্তাফিজুর রহমানকে কিনে ইতিহাস গড়ল বার্মিংহ্যাম ফিনিক্স। এতে মুস্তাফিজ হলেন লিগে খেলবার প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার।

    আগে ছয়টি আসরে খেলোয়াড় বাছাই প্লেয়ার্স ড্রাফটের মাধ্যমে করা হতো। এবার প্রথমবারের মতো নিলামের মাধ্যমে দল গঠন করা হলে মুস্তাফিজকে ১ লাখ পাউন্ডে (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১ কোটি ৬৪ লাখ) ভাড়া নেওয়া হয়েছে। একই নিলামের চূড়ান্ত তালিকায় আরেক বাংলাদেশি পেসার রিশাদ হোসেন থাকলেও তিনি কোনো দল পায়নি।

    বহু ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে মুস্তাফিজকে আগে থেকেই চাহিদার মধ্যে থাকা ক্রিকেটার হিসেবেই দেখা হয়। বাঁহাতি পেসারের হিসেবে দ্য হান্ড্রেডে ও লিগের বিভিন্ন ম্যাচে তাঁর অভিষেকের অপেক্ষায় ফ্যানরা। দলগত দলে নাম নেয়ার পর মুস্তাফিজকে সুদৃঢ় করে খেলতে দেখা যাবে।

    বার্মিংহ্যাম ফিনিক্সের দলগত কেনাকাটায় সবচেয়ে দামী সাইনিং হয়ে উঠেছেন ইংল্যান্ডের তরুণ ব্যাটিং অলরাউন্ডার জ্যাকব বেথেল—তাকে ৩ লাখ ৪০ হাজার পাউন্ডে নেওয়া হয়েছে। বেথেল সাম্প্রতিক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনালে বিধ্বংসী সেঞ্চুরি করেছিলেন; অল্প সময়ের মধ্যেই তিন ফরম্যাটেই তাঁর দায়িত্ব পাকাপোক্ত হয়েছে।

    অন্য সাইনিংগুলোর মধ্যে রয়েছেন: ইংল্যান্ডের লেগস্পিন অলরাউন্ডার রেহান আহমেদ (২৫০,০০০ পাউন্ড), দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটার দোনোভান পেরেইরা (২১০,০০০ পাউন্ড), অস্ট্রেলিয়ার আগ্রাসী ব্যাটার মিচেল ওয়েন (১৩০,০০০ পাউন্ড), পেসার সাকিব মাহমুদ (১৫০,০০০ পাউন্ড), পাকিস্তানি স্পিনার উসমান তারিক (১৪০,০০০ পাউন্ড), লরি ইভানস (৮৫,০০০ পাউন্ড) ও ইথান ব্রুকস (৭০,০০০ পাউন্ড) প্রমুখ।

    দ্য হান্ড্রেডের সপ্তম আসর শুরু হবে ২১ জুলাই থেকে এবং চলবে ৬ আগস্ট পর্যন্ত। দল পেয়ে মুস্তাফিজ নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লিখেছেন, “দ্য হান্ড্রেডে খেলতে পাওয়ায় খুবই খুশি। বার্মিংহ্যাম ফিনিক্সের সঙ্গে আসন্ন মরসুমটি ভালোভাবে কাটানোর জন্য অধীর অপেক্ষায় আছি। সবাইকে ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ।”

    বার্মিংহ্যাম ফিনিক্সের স্কোয়াড (টাকায় উল্লেখিত নিলামমূল্য):

    জ্যাকব বেথেল (৩৪০,০০০ পাউন্ড), রেহান আহমেদ (২৫০,০০০ পাউন্ড), দোনোভান পেরেইরা (২১০,০০০ পাউন্ড), মিচেল ওয়েন (১৩০,০০০ পাউন্ড), সাকিব মাহমুদ (১৫০,০০০ পাউন্ড), উসমান তারিক (১৪০,০০০ পাউন্ড), জো ক্লার্ক (৮৫,০০০ পাউন্ড), উল স্মিদ (৫৫,০০০ পাউন্ড), জর্ডান থম্পসন (৬০,০০০ পাউন্ড), স্কট কুরি (২১০,০০০ পাউন্ড), লরি ইভানস (৮৫,০০০ পাউন্ড), ক্রিস উড (৭০,০০০ পাউন্ড), ইথান ব্রুকস (৭০,০০০ পাউন্ড) ও মুস্তাফিজুর রহমান (১০০,০০০ পাউন্ড)।

    মুস্তাফিজের সর্বশেষ দলগত সফর ও ফ্র্যাঞ্চাইজি খেলায় তাঁর পারফরম্যান্স ভক্তদের কাছে একটি আকর্ষণীয় কাহিনি হিসেবে দেখায় যে তিনি আন্তর্জাতিক ও লিগ উভয় মঞ্চেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

  • ৬৬ বছরে নীনা গুপ্তা মা হচ্ছেন? নিজেই উড়িয়ে দিলেন গুজব

    ৬৬ বছরে নীনা গুপ্তা মা হচ্ছেন? নিজেই উড়িয়ে দিলেন গুজব

    কয়েকদিন ধরে সামাজিক মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে যে জ্যেষ্ঠ অভিনেত্রী নীনা গুপ্তা ৬৬ বছর বয়সে গর্ভবতী—এমন গুঞ্জন ছড়িয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নেটে নানা কল্পনা ও আলোচনা শুরু হলে শেষ পর্যন্ত মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী নিজে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, খবরটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব।

    সম্প্রতি দক্ষিণী তারকা বিজয় দেবেরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানার বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্বামী বিবেক মেহরার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নীনা গুপ্তা। সেখানে আইভরি রঙের সিল্ক শাড়িতে তাঁর কিছু ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিগুলোতে পেটের ওপর হাত রেখে দাঁড়ানো ভঙ্গিতে তিনি কিছুটা ভরাট দেখাচ্ছিলেন, এবং সেটি থেকেই অনেকে এই অনুমান করতে শুরু করেন যে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হতে চলেছেন।

    এই জল্পনা প্রসঙ্গে নীনা মজার ছলে জবাব দিয়ে বলেন, বাস্তবে ‘‘একটা ‘বাধাই হো’ হলে তো ভালো হতো’’—এতে স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল তাঁর 유명 ২০১৮ সালের ছবির প্রতি, যেখানে তিনি বয়সে বড় এক নারী হিসেবে গর্ভবতীর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। ছবিটির ইমেজ থেকেই অনেকেই এই টানাপোড়েন করছিলেন বলে বুঝা যায়।

    নীনা আরও ব্যাখ্যা করেন যে ওই দিন পরা শাড়িটির কাপড় মোটা হওয়ার কারণে ছবিতে পেটের অংশ কিছুটা ফোলা দেখা গেছে। তিনি বিরক্ত না হয়ে, বরং মজার ছলে বলেন, এমন জল্পনা যে তাঁর উপর ইতিবাচক মনোভাবও তৈরি করছে—এটি ভালো।

    ব্যক্তিগত জীবনে সরাসরি স্বভাবের জন্য পরিচিত নীনা গুপ্তা ২০০৮ সালে দিল্লির ব্যবসায়ী বিবেক মেহরাকে বিয়ে করেন। এর আগে তাঁর সম্পর্ক ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেট কিংবদন্তি ভিভিয়ান রিচার্ডসের সঙ্গে। তাদের একমাত্র কন্যা মাসাবা গুপ্তা এখন ভারতের একজন পরিচিত ফ্যাশন ডিজাইনার।

    ২০১৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘বাধাই হো’ ছবিতে বয়স্ক গর্ভবতী নারীর চরিত্রে নীনা গুপ্তার অভিনয়কে সমালোচক ও দর্শক—উভয়ই প্রশংসা করেছেন। এই প্রসঙ্গও যে কারণে বহু দর্শক এবং নেটিজেন তাঁর সাম্প্রতিক ছবি দেখে একই কাহিনি মনে করেছেন, তা বলা চলে। তবে অভিনেত্রী নিজে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন—বর্তমানে তিনি অন্তঃসত্ত্বা নন এবং চলমান সমস্ত গুজব ভিত্তিহীন।

  • রাক্ষস ছবির আইটেম গানে বলিউড অভিনেত্রী নাতালিয়া

    রাক্ষস ছবির আইটেম গানে বলিউড অভিনেত্রী নাতালিয়া

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ঘুরে বেড়ানো একটি ছবির ব্যাপারে জল্পনা বেড়েছে—অনেকে বলছেন এটি ‘রাক্ষস’ ছবির আইটেম গানের শুটিংয়ের সেট থেকে নেওয়া। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রিয়েল এনার্জি প্রডাকশন এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    রিয়েল এনার্জির কর্ণধার আজিম হারুন জানান, ছবিটি সত্যিই তাদের পরিচালনায় হওয়া ‘রাক্ষস’ ছবির আইটেম গানের একটি দৃশ্য; কীভাবে শুটিং সেট থেকে ছবিটি লিক হলো, তা তারা যাচাই করছেন। ছবিতে দেখা যাওয়া নকল নেই—তাঁরা নিশ্চিত করেছেন যে সেটে উপস্থিত ছিলেন বলিউড অভিনেত্রী নাতালিয়া জানোসজেক, যিনি গানে সিয়াম আহমেদের সঙ্গে নাচ করেছেন। আজিম বলেন, সম্ভবত এটি নাতালিয়ার প্রথম প্লেব্যাকে বাংলা চলচ্চিত্রে অংশগ্রহণ।

    নাতালিয়া হলেন ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত এক বলিউড অভিনেত্রী, যিনি কখনও কখনও হলিউড প্রোডাকশনে কাজ করেছেন। তার কাজের তালিকায় রয়েছে ‘হাউজফুল ৫’, ‘মাস্তি ৪’ ও ‘৩৬৫ ডেইজ’-এর মতো ছবি; পাশাপাশি তিনি জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘বিগ বস’-এও অংশগ্রহণ করেছেন।

    প্রযোজনা সংস্থার আরেক কর্ণধার শাহরীন আখতার সুমি জানান, আইটেম গানের কোরিওগ্রাফি করেছেন বলিউডের প্রসিদ্ধ কোরিওগ্রাফার আদিল শেখ। গানটির সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন জিএম আশরাফ, আর গানে কণ্ঠ দিয়েছেন জিএম আশরাফ ও দোলা। তিনি বলেন, গানটি তৈরি করা হচ্ছে বড় বাজেটে এবং দেশের বাইরে বড় আকারে এর শুটিং চলছে। প্রযোজকরা আশা করছেন দর্শকরা গানটিকে ভালোই গ্রহণ করবেন এবং ছবিটি এবারের ঈদে সেরা ছবিগুলোর মধ্যে থাকবে।

    মেহেদী হাসান হৃদয় পরিচালিত ‘রাক্ষস’-ে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন সিয়াম আহমেদ ও কলকাতার অভিনেত্রী সুস্মিতা চ্যাটার্জি। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রিয়েল এনার্জি আগে ‘বরবাদ’ নামক ছবি নির্মাণ করেছিল, যেখানে শাকিব খান অভিনয় করেছিলেন; সেই ছবিটি ব্যবসাসফল ছিল।

    প্রযোজনা সংস্থা লিক হওয়া ছবিটি নিয়ে আরও বিবরণ যাচাই করছে বলে জানায়; দর্শক ও অনলাইন ভিউয়ারদের মধ্যে কৌতুক ও আগ্রহ তৈরি হয়ে যাওয়ায় শিগগিরই আরও অফিসিয়াল ক্লিপ বা ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • মির্জা আব্বাসকে আপাতত সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে না

    মির্জা আব্বাসকে আপাতত সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে না

    উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে মির্জা আব্বাসকে সিঙ্গাপুর পাঠানোর পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা বিদেশে নেওয়ার উপযুক্ত নয়, এ কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, বর্তমানে তাঁকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে না। পরিবার দেশের চিকিৎসার প্রতি আস্থাশীল থাকায় প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা চালানো হবে; ভবিষ্যতে মেডিকেল বোর্ড যদি পরামর্শ দেন, তখন উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

    ডা. রফিকুল আরও জানান, আজ মির্জা আব্বাসের চিকিৎসায় একটি ভার্চুয়াল মেডিকেল বোর্ড বসে সব বিষয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অস্ত্রোপচারের অনুমতি দিয়েছে। পরিবারের সম্মতিতে তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি আইসিইউতে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন।

    এর আগে জুমার নামাজের পর বিএনপির নেতা তারেক রহমান বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়ে মির্জা আব্বাসকে দেখতে যান। ঐ সময় মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা তাকে রোগীর সাম্প্রতিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানায়।

    ডা. রফিকুল জানান, মির্জা আব্বাসের দ্রুত সুস্থতা কামনায় পরিবার এবং চিকিৎসক দল দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

    উল্লেখ্য, গত বুধবার ইফতার শেষে অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারালে তাকে রাজধানীর বসুন্ধরায় অবস্থিত এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।