Category: অর্থনীতি

  • খেলাপি ঋণ ও অন্যান্য ঝুঁকি আগাম শনাক্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের কড়া নির্দেশনা

    খেলাপি ঋণ ও অন্যান্য ঝুঁকি আগাম শনাক্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের কড়া নির্দেশনা

    বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি ঋণসহ বিভিন্ন ঝুঁকি আগাম শনাক্ত করার লক্ষ্যে তদারকি জোরদার করেছে। দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলোকে নিরীক্ষা সংক্রান্ত অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে আর্থিক দুর্বলতা ও অনিয়ম সময়মতো ধরা পড়ে।

    বৃহস্পতিবার ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ‑২ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে। সার্কুলারে বলা হয়েছে, ‘ব্যাংক‑কোম্পানি বহিঃনিরীক্ষণ বিধিমালা, ২০২৪’ অনুযায়ী নিরীক্ষা বছরের নবম মাসভিত্তিক একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন প্রস্তুত করে তা নিরীক্ষা বছরের শেষ তারিখ পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে। ২০২৫ সালভিত্তিক এবং এর পরের সময়ের সব প্রতিবেদনও একই নিয়মে দাখিল করতে হবে।

    সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, ব্যাংকিং খাতের তদারকি আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সুপারভিশন কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং ঝুঁকিভিত্তিক সুপারভিশন (রিস্ক‑বেইজড সুপারভিশন বা আরবিএস) চালু করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, নতুন ব্যবস্থায় সব ব্যাংককে সমান চোখে না দেখে যেগুলোতে ঝুঁকি বেশি সেগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হবে।

    অতিরিক্ত নজরদারি ও ঝুঁকিভিত্তিক তদারকির মাধ্যমে সম্ভাব্য আর্থিক দুর্বলতা, অনিয়ম এবং খেলাপি ঋণের প্রবণতা আরো আগে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। ফলে ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা—বিশেষ করে ঋণঝুঁকি ও এনপিএলের গতিবিধি—নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা যায় এবং সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হয়। কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে এই নির্দেশনার ফলাফল হবে খেলাপি ঋণ কমানো, ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং জবাবদিহিতার উন্নতি।

  • মার্চে রপ্তানি আয় ১৮.০৭% কমে ৩ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার

    মার্চে রপ্তানি আয় ১৮.০৭% কমে ৩ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার

    বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের পতন মার্চেও চলেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) বৃহস্পতিবার জানায়, মার্চে রপ্তানি আয় ১৮.০৭ শতাংশ কমে ৩ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যেখানে গত বছরের একই সময় এটি ছিল ৪ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার।

    চলতি অর্থবছর ২০২৫-২৬ সালের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত মোট রপ্তানি আয় ৪.৮৫ শতাংশ কমে ৩৫ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে; গত অর্থবছরের একই সময় এই আয় ছিল ৩৭ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার। এ নিয়ে টানা আট মাস রপ্তানি আয়ে নিম্নগতি দেখা গেল।

    রপ্তানির প্রধান খাত তৈরি পোশাকেও নেতিবাচক প্রবণতা বজায় রয়েছে। এই খাতে আয় ৫.৫১ শতাংশ কমে ২৮ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে, যেখানে গত বছর একই সময়ে আয় ছিল ৩০ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার।

    ইপিবি বলছে, চলতি অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় দেশের বেশিরভাগ প্রধান রপ্তানি খাতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। যদিও কিছু খাতে ইতিবাচক ফল পাওয়া গিয়েছে—হিমায়িত ও জীবিত মাছ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য এবং প্রকৌশল পণ্য থেকে ভালো রপ্তানি এসেছে, যা সামগ্রিকভাবে কিছুটা ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করেছে।

    সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে যে বৈশ্বিক বাইরের প্রভাব রপ্তানিকে চাপে রেখেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান সংবলিত ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি বাড়িয়ে দিয়েছে, ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মতো মূল রপ্তানি গন্তব্যে ক্রয়ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    ইপিবি জানায়, এসব কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কমে যাচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে রপ্তানি আদেশ স্থগিত বা বাতিল হয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধিকে নেতিবাচক প্রভাবিত করেছে। সংস্থা বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাজার পর্যবেক্ষণ ও কৌশলগত সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে।

  • খেলাপি ঋণসহ ঝুঁকি শনাক্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশ

    খেলাপি ঋণসহ ঝুঁকি শনাক্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশ

    বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি ঋণসহ বিভিন্ন আর্থিক ঝুঁকি আগেভাগেই শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ জোরদার করেছে। তফসিলি ব্যাংকগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরীক্ষা-সংক্রান্ত অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন (interim audit report) জমা দিতে বলা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ থেকে একটি সার্কুলার জারি করে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। সার্কুলারে বলা হয়েছে, ‘ব্যাংক-কোম্পানি বহিঃনিরীক্ষণ বিধিমালা, ২০২৪’ অনুযায়ী নিরীক্ষা বছরের নবম মাসভিত্তিক একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন প্রস্তুত করে তা নিরীক্ষা বছরের শেষ তারিখের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে। ২০২৫ সালভিত্তিক এবং পরবর্তী সব প্রতিবেদনও একই নিয়মে দাখিল করতে হবে।

    সার্কুলারে বলা হয়েছে, ব্যাংকিং খাতের তদারকি আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী উন্নীত করতে সুপারভিশন কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ঝুঁকিভিত্তিক সুপারভিশন (রিস্ক-বেইজড সুপারভিশন বা আরবিএস) চালু করা হয়েছে।

    প্রতিষ্ঠানটির অভিভাবকরা বলছেন, নতুন ব্যবস্থায় সব ব্যাংক একসঙ্গে না দেখে ঝুঁকি বেশি যেখানে সেখানে নজরদারি বাড়ানো হবে। এতে সম্ভাব্য আর্থিক দুর্বলতা, অনিয়ম এবং খেলাপি ঋণের প্রবণতা আগে থেকেই ধরা পড়ার সুযোগ বাড়বে। ফলে ব্যাংকগুলোর ঋণঝুঁকি ও আর্থিক পরিস্থিতি আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।

    বিশ্বস্ত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে এই উদ্যোগ খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে এবং সামগ্রিকভাবে ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে góp করবে। সার্কুলারে বিধির সঠিক প্রয়োগ এবং নিয়মিত রিপোর্টিংয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

  • করদাতারা বছরজুরে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন

    করদাতারা বছরজুরে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান জানিয়েছেন, এখন থেকে করদাতারা পুরো বছরে যেকোনো সময় আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। তিনি বলেন, কেননা এ পরিবর্তনের ফলে করদাতাদের জন্য সুবিধা হবে, যাতে তারা তাদের সময়মতো রিটার্ন দাখিল করতে পারেন। সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, এই প্রক্রিয়া চার ধাপে ভাগ করে সম্পন্ন করা হবে।

    এ ছাড়া, তিনি উল্লেখ করেন যে, চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের দিকে এগোছে দেশের রাজস্ব সংস্থা। তিনি জানান, আগামী তিন মাসের মধ্যে রাজস্ব সংগ্রহের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সাধারণত, প্রতিবার জুনের শেষে পরবর্তী নভেম্বর মাসের মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা দেয়ার নিয়ম থাকলেও, এই বছর সময় বৃদ্ধি করে ৩১ মার্চ পর্যন্ত রিটার্ন দাখিলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই পরিবর্তনগুলো করদাতা এবং দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন এনবিআর চেয়ারম্যান।

  • রাজস্ব কমে বাজেট বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ: সিপিডি

    রাজস্ব কমে বাজেট বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ: সিপিডি

    সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) মনে করছে যে, দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বড় বাধা হলো দীর্ঘদিন ধরে রাজস্ব আহরণের দুর্বলতা। যদি নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী পর্যাপ্ত রাজস্ব না ওঠে, তবে দেশের উন্নয়নমূলক বাজেট ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনাগুলোর বাস্তবায়নে সমস্যার সৃষ্টি হবে এবং চাপ বেড়ে যাবে।

    মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ঢাকার ধানমন্ডিতে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘নতুন সরকারের প্রথম বাজেট নিয়ে ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনাসভায় এ বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। এতে বক্তব্য প্রদান করেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

    তিনি বলেন, যদি জ্বালানি আমদানি ব্যয় বাড়ে, তাহলে দেশের চলতি হিসাবের ঘাটতি আরও বৃদ্ধি পাবে এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকছে। ফলে এই বিষয়গুলোকে স্বাগত ও সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করে বাজেট প্রণয়ন করা জরুরি।

    ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরও বলেন, দেশের রাজস্ব আহরণের দীর্ঘদিনের দুর্বলতা একটি বড় সমস্যা, যা বাজেটের বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করছে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব না পাওয়া হলে, উন্নয়ন কাজের ব্যয় ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় চাপ বাড়ে।

    তিনি ব্যাখ্যা করেন, আগে নেওয়া ঋণের ভার ও বর্তমান জ্বালানি সংকটের কারণে অর্থনীতি সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। তাছাড়া, মূল্যস্ফীতি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা ও আমদানি ব্যয়ের বৃদ্ধি দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন সরকারের বাজেট বাস্তবসম্মত ও প্রয়োজনীয় সংস্কারভিত্তিক হওয়া উচিত।

    করসংক্রান্ত বিষয়ের দিকে লক্ষ্মী করে তিনি বলেন, এখনও যারা করের আওতায় আসেননি, তাদের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া দরকার। তবে, করের আওতা বাড়ানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ওপর করের চাপ কমানোর বিষয়েও মনযোগী হতে হবে।

    সিপিডি বর্তমানে সরকারি ব্যাংক ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের আয় বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে। তারা বলছে, এই প্রতিষ্ঠানগুলো যদি অভ্যন্তরীণ আয়ের ভার বাড়াতে না পারে, তবে ভর্তুকি দিয়ে চালিয়ে যাওয়ার যুক্তি সংকুচিত হবে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হবে।

  • মার্চ মাসেও বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ে পতন, ১৮ শতাংশ কমে গেছে

    মার্চ মাসেও বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ে পতন, ১৮ শতাংশ কমে গেছে

    এছাড়াও, এই পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কমে গেছে এবং অনেক ক্ষেত্রে রপ্তানি আদেশ স্থগিত বা বাতিল করা হয়েছে, যা দেশের মোট রপ্তানি প্রবৃদ্ধির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, বলে জানিয়েছে ইপিবি।

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা: খেলাপি ঋণসহ ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা: খেলাপি ঋণসহ ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা

    দেশের ব্যাংকখাতে খেলাপি ঋণ এবং অন্যান্য ঝুঁকি এখন থেকেই শনাক্ত ও পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক তদারকি ও নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা জোরদার করছে। এর অংশ হিসাবে, তফসিলি ব্যাংকগুলোকে নিরীক্ষা-সংক্রান্ত অন্তর্বতী প্রতিবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়।

    সার্কুলারে বলা হয়, ‘ব্যাংক-কোম্পানি বহিঃনিরীক্ষণ বিধিমালা, ২০২৪’ অনুযায়ী, নিরীক্ষা বছরের নবম মাসের ভিত্তিতে একটি অন্তর্বতীকালীন প্রতিবেদন তৈরি করে তা নিরীক্ষার শেষ তারিখের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে। একই নিয়মে ২০২৫ সাল এবং পরবর্তী বছরগুলোর সব প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।

    অতিরিক্তভাবে, ব্যাংকিং খাতের তদারকি ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে সুপারভিশন কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে, ঝুঁকিভিত্তিক সুপারভিশন বা রিস্ক বেইজড সুপারভিশন (আরবিএস) চালু করা হয়েছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নতুন ব্যবস্থা অনুযায়ী ব্যাংকের সবগুলোর ওপর সমান নজর না রেখে, যেখানে ঝুঁকি বেশি সেখানে আরও নিবিড় মনিটরিং চালু করা হবে। এর ফলে, সম্ভাব্য আর্থিক দুর্বলতা, অনিয়ম ও দুর্বলতার সূচক আগেই চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি, এই পদ্ধতি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে। এতে পুরো শিল্পের আর্থিক স্বাস্থ্য ও স্থিতিশীলতা আরও मजबूत হবে।

  • মার্চে দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স পাঠানো হয়েছে

    মার্চে দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স পাঠানো হয়েছে

    বিশ্ববাজারে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও বাংলাদেশে প্রবাসীদের থেকে রেমিট্যান্স পাঠানোর ধারাটা অব্যাহত রয়েছে। সদ্য শেষ হওয়া মার্চ মাসে দেশে মোট ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা প্রায় ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা একক মাসের হিসেবে সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

    তথ্য বলছে, মার্চের পুরো সময়জুড়ে দেশের প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন মোট ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫ হাজার ডলার। এই পরিমাণ মার্চের আগের মাস ফেব্রুয়ারির চেয়ে প্রায় ৭৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার বেশি। আর গত বছরের একই সময়ের তুলনায় (মার্চ ২০২৪) এই রেমিট্যান্সের পরিমাণ ৪৬ কোটি ডলার বেশি। ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্স এসেছে ৩০২ কোটি ডলার, আর গত বছরের মার্চে তা ছিল ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল গত বছরের মার্চ মাসে, যেখানে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিল ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার (প্রায় ৩.২৯ বিলিয়ন)। এর পরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল ডিসেম্বর, যেখানে দেশে এসেছে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার (প্রায় ৩.২৩ বিলিয়ন)। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে জানুয়ারি, যার পরিমাণ ছিল ৩১৭ কোটি বা ৩.১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

    খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মার্চ মাসে ঈদ উৎসবের কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহে বৃদ্ধি এসেছে, যা স্বাভাবিক। মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোতে এখনো কাজের সুযোগ বহাল রয়েছে এবং বেকারত্বের পরিস্থিতি খুব বেশি নয়। পাশাপাশি জীবনযাত্রার খরচও খুব একটা বাড়েনি, তাই প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠানোর সক্ষমতাও স্থিতিশীল।

    আরও জানা গেছে, সদ্য শেষ হওয়া মার্চ মাসে দেশের রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো মোট ৬৪ কোটি ডলার বেশ রেমিট্যান্স পেয়েছে। বিশেষ করে ব্যাংকগুলো থেকে একে অপরের মধ্যে রেমিট্যান্সের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য, যেমন কৃষি ব্যাংক থেকে এসেছে ৪৬ কোটি ৪৭ লাখ ডলার। বেসরকারি ব্যাংকগুলো পাচ্ছে মোট ২৬৪ কোটি ডলার, আর বিদেশি ব্যাংক থেকে এসেছে এক কোটি ২০ হাজার ডলার।

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশ খেলাপি ঋণসহ ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশ খেলাপি ঋণসহ ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই নতুন ব্যবস্থায় সব ব্যাংককে একইভাবে দেখা না হয়ে, ঝুঁকি বেশি থাকা ব্যাংকগুলোকে বেশি নজরদারির বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। এর ফলে সম্ভাব্য আর্থিক দুর্বলতা, ঋণ ঝুঁকি ও খেলাপি ঋণের ত্রুটি দ্রুত চিহ্নিত করা সহজ হবে। পাশাপাশি, এ পদ্ধতি কার্যকর হলে ব্যাংকগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও বৃদ্ধি পাবে। ফলে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হওয়ার পাশাপাশি সার্বিকভাবে ব্যাংকিং খাতে উন্নয়ন ও অস্থিরতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল মার্চে

    ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল মার্চে

    দেশে সদ্য সমাপ্ত মার্চ মাসে বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা প্রায় ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এটি একক মাসের হিসেবে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স সংগ্রহের রেকর্ড। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

    প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্চ মাসে মোট ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫ হাজার ডলার রেমিট্যান্স পাঠানো হয়েছে। এর আগের মাস ফেব্রুয়ারির তুলনায় এই পরিমাণে প্রায় ৭৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার বেশি অর্জিত হয়েছে। একই সময়ের তুলনায়, গত বছর মার্চে ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার, যা এই বছরের মার্চের চেয়েও কম ছিল।

    বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দেশের ইতিহাসে মার্চ মাসে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল ২০২১ সালে, যেখানে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার। দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে ডিসেম্বর, যেখানে রেমিট্যান্স গেছে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। তৃতীয় স্থানে রয়েছে জানুয়ারি, যেখানে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ৩১৭ কোটি ডলার।

    কর্তৃপক্ষের মতে, মার্চ মাসে রেমিট্যান্সের এই বৃদ্ধি ঈদ উৎসবের কারণে স্বাভাবিকভাবেই হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক থাকায় ভাবনা কম এবং কর্মসংস্থান পরিস্থিতিও স্থিতিশীল রয়েছে। এদিকে, জীবনযাত্রার ব্যয় খুব বেশি বাড়েনি বলে প্রবাসীরা তাদের পাঠানো অর্থের পরিমাণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি।

    তথ্য থেকে জানা গেছে, সদ্য শেষ হওয়া মার্চ মাসে দেশের মোট রেমিট্যান্সের অর্ধেকের বেশিই দেশের রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে, যা ৬৪ কোটি ডলারের বেশি। এর মধ্যে বিশেষ করে কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে প্রায় ৪৬ কোটি ৪৭ লাখ ডলার। বেসরকারি ব্যাংকগুলো এই সময়ে পাঠিয়েছে মোট ২৬৪ কোটি ডলার, যেখানে বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে মাত্র ১ কোটি ২০ হাজার ডলার।