Category: অর্থনীতি

  • সিপিডি: রাজস্ব আহরণের দীর্ঘ অনীহা বাজেট বাস্তবায়নের বড় বাধা

    সিপিডি: রাজস্ব আহরণের দীর্ঘ অনীহা বাজেট বাস্তবায়নের বড় বাধা

    রাজস্ব আহরণে দীর্ঘদিন ধরে দেখা দেওয়া দুর্বলতা দেশের বাজেট বাস্তবায়নে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে — এমন ধারণা প্রকাশ করেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থার সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাজধানীর ধানমন্ডিতে অনুষ্ঠিত ‘নতুন সরকারের প্রথম বাজেট নিয়ে ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনায় এই সতর্কতা দেন। অনুষ্ঠানটি এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত হয় এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তিনি।

    ড. দেবপ্রিয় বলেন, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করতে না পারলে উন্নয়ন খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় চাপ আরও বাড়বে। রাজস্ব ঘাটতির ফলে সরকারকে উন্নয়ন কাজে বরাদ্দের পরিবর্তে ব্যয় মোতাবেক কাটছাঁট করতে হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে উন্নয়নপ্রক্রিয়াকে ব্যাহত করবে।

    তিনি আরও বলেন, জ্বালানি আমদানি ব্যয় বাড়লে চলতি হিসাবের ঘাটতি বেড়ে যেতে পারে এবং বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বাজেট নির্মাণে এসব ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে সতর্ক ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

    সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো বলেন, পূর্বের ঋণের বোঝা ও বর্তমান জ্বালানি সংকটকে সামনে রেখে সরকার নতুন করে ঋণ নিয়ে অর্থনীতি সচল রাখলে জটিলতা বাড়বে। এ সঙ্গে মূল্যস্ফীতির সম্ভাবনা আছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অবস্থা ও আমদানি ব্যয়ের বৃদ্ধি দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে। তাই নতুন সরকারের প্রথম বাজেটকে বাস্তবসম্মত ও সংস্কারভিত্তিক করতে হবে।

    কর ব্যবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, যাদের এখনও করের আওতায় আনা হয়নি তাদের তালিকাভুক্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে করের বোঝা বাড়ানোর সময়ে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে সে দিকেও গুরুত্ব দেওয়া দরকার। করভিত্তি বিস্তৃত করতে কর প্রশাসন শক্তিশালী করা, করচুরি নিয়ন্ত্রণ ও করভ্যাটনিরোধী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    সরকারি ব্যাংক ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর আয় বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে ড. দেবপ্রিয় বলেন, এসব প্রতিষ্ঠান যদি নিজেদের আয় বৃদ্ধি করতে না পারে তাহলে সরকারি ভর্তুকি দিয়ে চালিয়ে যাওয়ার যৌক্তিকতাই প্রশ্নের মুখে পড়বে। তাই প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা বাড়ানো, আর্থিক স্থিতিশীলতা জোরদার করা ও অপ্রয়োজনীয় ভর্তুকি কমানোর পন্থা নিতে হবে।

    সংক্ষিপ্তভাবে তিনি জানান, ঘাটতি মোকাবিলায় রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানো, বাজেট বাস্তবসম্মত রাখা ও কাঠামোগত সংস্কার চালুর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা সম্ভব। নতুন সরকারের প্রথম বাজেট এমনই সমন্বিত উদ্যোগের ওপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত, যাতে অস্থিরতা কমে এবং দেশের উন্নয়ন কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নেয়া যায়।

  • বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে

    বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে

    বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন আবার ৩৪ বিলিয়ন ডলার থেকে নিচে নেমে এসেছে। রোববার দিনের শেষে দেশের মোট রোজা রোজা ছিল বলে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৯ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার।

    আরিফ হোসেন খান বলেন, এই অবনমন প্রধাণত বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আমদানিযোগ্য পণ্য ও জিনিসপত্রের মূল্য পরিশোধের কারণে ঘটেছে। তবে ভালো প্রবাসী আয়ের প্রবাহের কারণে রিজার্ভের ওপর চাপ কিছুটা কমে এসেছে। অন্যথায়, রিজার্ভ আরও কমে যেতে পারত। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে রিজার্ভের অবস্থা মোটামুটি সন্তোষজনক।

    প্রসঙ্গত, এর আগে গত ১৬ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ছিল ৩৪ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার, আর আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী ছিল ২৯ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্তঃস্থ মূল বা ‘নিট’ রিজার্ভের তথ্যে জানা যায়, বর্তমানে প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার মতো রয়েছে, যা দেশের প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট।

    বর্তমানে এই রিজার্ভ দিয়ে গড়ে সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার মাসিক আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব, যা মোটামুটি পাঁচ মাসের আমদানি প্রয়োজনীয়তা ঢাকতে সক্ষম। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী, কোন দেশের জন্য তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর মতো রিজার্ভ থাকা আবশ্যক। এই দিক থেকে বাংলাদেশ এখনো নিরাপদে রয়েছে। তবে, এই রিজার্ভ দেশের অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়।

  • করদাতাদের জন্য চলবে সারা বছর আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সুবিধা

    করদাতাদের জন্য চলবে সারা বছর আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সুবিধা

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান জানিয়েছেন, এখন থেকে করদাতারা বছরের যে কোনো সময়ই আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। তিনি বলেন, এ সিদ্ধান্তের ফলে করদাতারা আরও সুবিধা পাবেন, বিশেষ করে যারা সময়মতো রিটার্ন জমা দেন তাদের জন্য। সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য প্রদান করেন মঙ্গলবার। চেয়েছেন, আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াটি চার ধাপে ভাগ করে সহজ করে তোলা হবে।

  • রাজস্ব দুর্বলতা বাজেট বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ: সিপিডি

    রাজস্ব দুর্বলতা বাজেট বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ: সিপিডি

    সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) মনে করছে, দীর্ঘদিন ধরে দেশের রাজস্ব আহরণের দুর্বলতা বাজেটের সফল বাস্তবায়নের বড় বাধা। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় যথাযথভাবে না হলে দেশের উন্নয়নমূলক ব্যয় এবং মোট অর্থনৈতিক পরিকল্পনাগুলো প্রভাবিত হয়ে আরও চাপের মুখোমুখি হবে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাজধানীর ধানমন্ডিতে আয়োজিত ‘নতুন সরকারের প্রথম বাজেট নিয়ে ভাবনা’ শীর্ষক এক আলোচনায় এই বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়, যেখানে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি সতর্ক করে বলছেন, জ্বালানি আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পেলে চলতি হিসাবের ঘাটতি বেড়ে যাবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে সর্তকতা অবলম্বন জরুরি। ড. ভট্টাচার্য আরও জানান, দীর্ঘ দিন ধরে রাজস্ব আহরণের দুর্বলতা দেশের বাজেট বাস্তবায়নের পথে বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব সংগ্রহে ব্যর্থতা অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় চাপ সৃষ্টি করছে যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তিনি জানিয়েছেন, অতিরিক্ত ঋণের বোঝা, জ্বালানি সংকট এবং বৈশ্বিক বাজারের অস্থিতিশীলতার কারণে দেশের অর্থনীতি সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে, নতুন সরকারের প্রথম বাজেট অবশ্যই বাস্তবসম্মত ও প্রয়োজনীয় সংস্কারমূলক হওয়া জরুরি। এসব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা এখনো করের আওতায় আসেননি, তাদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, পাশাপাশি করের আওতা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের ওপর করের চাপ কমানোর বিষয়েও নজর দিতে হবে। সরকারের অনুমোদিত ব্যাংক ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়ের দিকেও গুরুত্ব দেন তিনি, কারণ এসব প্রতিষ্ঠান যদি নিজেদের আয় বাড়াতে না পারে, তাহলে ভর্তুকি চালিয়ে যাওয়ার ব্যয়বহুলতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠবে।

  • দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পেয়েছে

    দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পেয়েছে

    দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মোট ৩৪ হাজার ৫৭ দশমিক ৪৮ মিলিয়ন ডলার বা ৩৪ দশমিক ০৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা। সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য প্রকাশ করেন।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৩০ মার্চ পর্যন্ত দেশের মোট গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৪ দশমিক ০৫ বিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ এর আওতায় রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ৩৫৯ দশমিক ০৭ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ২৯ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার।

    আগের সপ্তাহে, অর্থাৎ ২৯ মার্চ পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৩ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ২৯ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার।

    নিট রিজার্ভের হিসাব করা হয় আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে, যেখানে মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বাদ দিয়ে প্রকৃত বা নিট রিজার্ভের পরিমাণ নির্ণয় করা হয়। এই রিজার্ভের বৃদ্ধি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ভালো খবর বলে মনে করা হচ্ছে।

  • প্রবাসী আয়ের নতুন রেকর্ড: ২৮ দিনে ৩৩৩ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে রেমিট্যান্স

    প্রবাসী আয়ের নতুন রেকর্ড: ২৮ দিনে ৩৩৩ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে রেমিট্যান্স

    চলতি মার্চ মাসে দেশের প্রবাসী আয়ের ইতিহাসে নতুন এক রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র ২৮ দিনের ব্যবধানে বাংলাদেশে পাঠানো রেমিট্যান্স আকারে এসেছে ৩৩৩ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা সাধারণত এক মাসের চেয়েও বেশি। এভাবে এটি দেশের অর্থনীতিতে সংখ্যালঘু এক নজির স্থাপন করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি জানান, মার্চের ২৮ দিনে দেশের প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন এই বিশাল পরিমাণে রেমিট্যান্স, যা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এর আগে এপ্রিল মাসে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার পাঠানো হয়েছিল। অর্থাৎ, চলতি মাসে এই সংখ্যার মধ্যে আরও বৃদ্ধি দেখা গেছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, রমজান ও ঈদের সময়ে সাধারণত প্রবাসীদের অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বেড়ে যায়। এছাড়াও, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনা চলমান থাকায় অনেক প্রবাসী তাদের সঞ্চিত অর্থ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দেশে ফিরিয়ে আনছেন। এর ফলে, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থনীতি শক্তিশালী হচ্ছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত এখন পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৫৭৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে, যা আগের বছর একই সময়ের চেয়ে ১৮.৮ শতাংশ বেশি। এর পাশাপাশি, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আনুমানিক ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৩৩ হাজার কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠানো হয়েছে, এই অর্থবছরটি এখন পর্যন্ত দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

    তবে, বাংলাদেশ ব্যাংক সতর্ক করছে যে, ইরান-সংক্রান্ত সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা প্রবাসী আয়ের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, সংঘাত দ্রুত শেষ হলে নেতিবাচক প্রভাব কমে যাবে। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী সংঘর্ষ হলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে, যা দেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য ব্যাহত করতে পারে।

    অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় ৪৭ শতাংশ আসে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে। এই অঞ্চলের অর্থনীতির ওপর কোনও ধরনের সংকটের প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশের কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স প্রবাহকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে, এই অঞ্চলের কোনো বিশৃঙ্খলা বা সংঘর্ষ দেশের অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

  • করদাতারা এখন সারা বছরই আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন

    করদাতারা এখন সারা বছরই আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান জানান, এবার থেকে করদাতারা সারা বছর জুড়ে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। তিনি মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, যারা আগে রিটার্ন জমা দেবেন তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে।

    চেয়ারম্যান বলেন, “আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার বিষয়টি চার ধাপে ভাগ করা হবে।” তিনি এ পদক্ষেপকে রিটার্ন দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ ও জটিলতা কমানোর অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।

    এনবিআর চেয়ারম্যান আরও বলেন, চলতি অর্থবছরে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণের আশাবাদ রয়েছে এবং আগামী তিন মাসে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর পরিকল্পনা চলছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে কর সংগ্রহ আরো কার্যকর ও সময়োপযোগী করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

    প্রসঙ্গত, আগে প্রতি বছর করবর্ষ (জুন শেষে) শেষ হওয়া পর পরবর্তী বছরের নভেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার নিয়ম থাকত। তবে চলতি বছরে সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে; ফলে ৩১ মার্চ পর্যন্ত রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এনবিআর বলছে, নতুন উদ্যোগ চালু হলে করদাতাদের জন্য আরও সুবিধাজনক ও নমনীয় সময়সীমা নিশ্চিত করা হবে।

  • রাজস্ব সংগ্রহের দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতা বাজেট বাস্তবায়নে বড় বাধা: সিপিডি

    রাজস্ব সংগ্রহের দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতা বাজেট বাস্তবায়নে বড় বাধা: সিপিডি

    রাজস্ব সংগ্রহের দীর্ঘদিনের দুর্বলতা দেশের বাজেট বাস্তবায়নে বড় ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে, নির্ধারিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হলে উন্নয়ন খরচ এবং সার্বিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় চাপ বৃদ্ধি পাবে।

    মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাজধানীর ধানমন্ডিতে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আয়োজনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় ‘নতুন সরকারের প্রথম বাজেট নিয়ে ভাবনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব সমস্যা উত্থাপন করেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

    ড. দেবপ্রিয় বলেন, জ্বালানি আমদানি ব্যয় বাড়লে চলতি হিসাবের ঘাটতি বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে এবং তা বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। এসব ঝুঁকি মাথায় রেখে বাজেট প্রণয়নে সতর্ক ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

    তিনি আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদি রাজস্ব সংকটের কারণে নির্ধারিত রাজস্ব আদায় না হলে উন্নয়ন বাজেট সংকুচিত হবে এবং দীর্ঘকালীন অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। আগে নেওয়া ঋণের বোঝা এবং সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকট বিবেচনায় নিয়ে নতুন করে ঋণ নেওয়া দিয়ে অর্থনীতি সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে, ফলে মূল্যস্ফীতির আরও বাড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

    বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা ও আমদানি ব্যয়ের বৃদ্ধি দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এই প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, নতুন সরকারের প্রথম বাজেটটি বাস্তবসম্মত হওয়া দরকার এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারমুখী নীতিগুলো প্রতিফলিত করতে হবে।

    কর ব্যবস্থার বিষয়ে ড. দেবপ্রিয় বলেছেন, যারা এখনো করের আওতায় নেই তাদের করব্যবস্থায় আনা জরুরি; তবু করাধারীদের পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা কমানোর দিকেও মনোযোগ দিতে হবে।

    সরকারি ব্যাংক ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর আত্মনির্ভর আয় বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠান যদি নিজেদের আয়ের উৎস শক্ত করতে না পারে তবে সিস্টেমটিকে টিকিয়ে রাখতে বাড়তি ভর্তুকি দেওয়া যুক্তিযুক্ত হবে না। ফলে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং পরিচালনায় সংস্কার দরকার।

    সিপিডির তরফে বলা হয়েছে—অবস্থানগত বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে রাজস্ব বাড়ানোর কৌশল, সরকারি খরচের জবাবদিহিতা ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারমুখী উদ্যোগ গ্রহণই ভবিষ্যৎ বাজেটকে কার্যকর করে তুলতে পারে।

  • রিজার্ভ কমে ৩৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে

    রিজার্ভ কমে ৩৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে

    বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ গত কিছুদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে কমে গিয়ে এখন ৩৩.৯৯ বিলিয়ন ডলারে এসে পৌঁছিয়েছে। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের 최신 তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৯.৩০ বিলিয়ন ডলার।  

    আরিফ হোসেন খান উল্লেখ করেন, “মূলত বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আমদানির জন্য পণ্য আমদানি মূল্য পরিশোধের কারণে রিজার্ভে কমতি এসেছে। তবে, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ ভালো থাকায় রিজার্ভের ওপর কিছুটা চাপ কমে গেছে। অন্যথায়, এটি আরও কমে যেতে পারতো। বর্তমানে বাংলাদেশের রিজার্ভ এখনও সন্তোষজনক অবস্থানে রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।”

    সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, এর আগে গত ১৬ মার্চ রিজার্ভ ছিল ৩৪.২২ বিলিয়ন ডলার, এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ছিল ২৯.৫২ বিলিয়ান ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ হিসাব অনুযায়ী, নিট বা প্রকৃত রিজার্ভ (এনআইআর) বা ব্যয়যোগ্য রিজার্ভ বর্তমানে প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি।

    বর্তমানে এই রিজার্ভ দিয়ে প্রতি মাসে গড়ে সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব, যা মোটামুটি পাঁচ মাসের আমদানি প্রয়োজনীয়তা পূরণে সক্ষম। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, দেশের কমপক্ষে তিন মাসের আমদানি ব্যয় নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত রিজার্ভ থাকা জরুরি। সেই দিক থেকে দেখা হলে, বাংলাদেশ এখনও স্বস্তিতে রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দেশের অর্থনীতি ও অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়।

  • সারা বছরই করদাতারা আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন

    সারা বছরই করদাতারা আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান জানিয়েছেন, এখন থেকে করদাতারা বছরের যে কোনও সময়ে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। তবে যারা দ্রুত রিটার্ন জমা দেবেন, তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা থাকবে। তিনি মঙ্গলবার সাংবাদিকদের এ তথ্য দেন। এনবিআর চেয়ারম্যান আরও বলেন, আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া এখন চার ধাপে বিভক্ত করা হয়েছে, যাতে এটি সহজ ও স্বচ্ছ হয়।

    প্রতিবছর জুনের শেষে এবং নভেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্নের জন্য নির্ধারিত থাকলেও, করোনা মহামারির কারণে চলতি বছর সময় বৃদ্ধি করে ৩১ মার্চ পর্যন্ত রিটার্ন দেওয়ার সুযোগ থাকছে। তিনি আরও জানান, চলতি অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা পূরণের আশা করছে এনবিআর। এছাড়া, পরবর্তী তিন মাসে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর জন্য নতুন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে, যাতে থেকে সরকারের রাজস্ব আয়ের প্রবাহ আরো জোরদার হয়।