Blog

  • ভূমধ্যসাগরে নৌকাভাঙায় ২৬ অভিবাসীর প্রাণহানি

    ভূমধ্যসাগরে নৌকাভাঙায় ২৬ অভিবাসীর প্রাণহানি

    উন্নত জীবনের আশায় ইউরোপগামী এক নৌকাপটকে ভূমধ্যসাগরে প্রাণ হারালেন কমপক্ষে ২৬ জন অভিবাসী—রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা থেকে পালানোর পথে থাকা এসব মানুষ আট দিন ধরে সাগরে ভাসছিলেন।

    বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আট দিন ধরে ভেসে থাকার পর বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের অভাবে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে এবং আরও ৯ জন নিখোঁজ। তাতে মোট ২৬ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া যাচ্ছে; পাশাপাশি ঘটনায় সাতজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

    রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা লিবিয়ার ন্যাশনাল আর্মি নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সহযোগিতায় মিসর সীমান্তের কাছে পূর্ব লিবিয়ার তোবরুক শহরের উপকূল থেকে তাদের উদ্ধার করে। নিরাপত্তা সূত্রে বলা হয়েছে, নিখোঁজ নয়জনের মরদেহ আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তীরে ভেসে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে হতাহতদের পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

    যাত্রীদের অভিযোগ, নৌকাটি বিকল হয়ে দীর্ঘ সময় সাগরে ভাসার ফলে পানিশূন্যতা ও খাবার সংকট দেখা দেয় এবং একপর্যায়ে বহুজন মারা যান। লিবিয়া অনেক সাব-সাহারান আফ্রিকান অভিবাসীর জন্য ইউরোপে যাওয়ার প্রধান ট্রানজিট রুট; যুদ্ধ, সহিংসতা ও দারিদ্র্য থেকে বাঁচার আশায় অনেকে মরুভূমি ও সমুদ্র পাড়ি দিয়ে বিপজ্জনক পথ বেছে নেন।

    রেড ক্রিসেন্ট যে ছবি সামাজিকমাধ্যমে পোস্ট করেছে, তাতে দেখা গেছে উদ্ধারকর্মীরা মরদেহগুলো কালো প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে পিকআপ ট্রাকে তোলা হচ্ছে—দুর্দশার চিত্র যা মানবপাচার ও ঝুঁকিপূর্ণ পথে যাত্রার ভুক্তভোগীর বাস্তবতা উন্মোচন করে।

    এই নৌকাপৎনের ঘটনায় লিবিয়ার বিচার বিভাগেরও অভিযান চলছে। ত্রিপোলি ফৌজদারি আদালত পশ্চিম লিবিয়ার জুয়ারার একটি ‘অপরাধী চক্র’-এর চার সদস্যকে মানবপাচার, মুক্তিপণের জন্য অপহরণ ও নির্যাতনের দায়ে সর্বোচ্চ ২২ বছরের কারাদণ্ড দেন, বলে অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছিলেন। একই সাথে তোবরুক থেকে অন্য একটি জরাজীর্ণ নৌকা পাঠানোর দায়ে আরেক চক্রকে গ্রেপ্তারের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে; ওই নৌকাটির ডুবে যাওয়ার ঘটনায় ৩৮ জন সুদানি, মিশরীয় ও ইথিওপিয়ান নাগরিকের মৃত্যু হয়েছিল।

    অভিবাসনপ্রক্রিয়া নিরাপদ ও মানবিক করার আহ্বান জানিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেন, নিয়মিতভাবে মানুষ পাচার করে এমন পাহাড়িমুখী চক্রগুলোকে চিহ্নিত করে দমন করা না গেলে এ ধরনের দুর্ঘটনা অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে দ্রুততর মানবিক সহায়তা ও তদন্ত নিশ্চিত করার কথা বলা হচ্ছে।

  • ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ: জ্বালানি তেলের মূল্য তুঙ্গে

    ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ: জ্বালানি তেলের মূল্য তুঙ্গে

    ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে নতুন পরিকল্পনার খবলের পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তেলের দাম তীব্রভাবে বাড়েছে। এ খবর সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গে অপরিশোধিত তেলের মূল্য বড় পরিসরে বাড়তে শুরু করেছে।

    বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) এশিয়ার লেনদেনে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৭% বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলারেরও বেশি পৌঁছায় — যা ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকেই সর্বোচ্চ। একই সময়ের মার্কিন বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ২.৩% বাড়ে এবং ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০৯ ডলারে দাঁড়ায়।

    জুন ডেলিভারির ব্রেন্ট ফিউচার চুক্তির মেয়াদ বৃহস্পতিবার শেষ হচ্ছে। ফিউচার চুক্তি হলো ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট একটি তারিখে কোনো সম্পদ ক্রয়-বিক্রয়ের প্রতিশ্রুতি। এদিকে এশিয়ার সকালের লেনদেনে তুলনামূলকভাবে সক্রিয় julio (জুলাই) মাসের চুক্তিটি আনুমানিক ২% বাড়তি নিয়ে প্রায় ১১৩ ডলারে গেছে।

    অ্যাক্সিওসের সূত্রে জানা গেছে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক, স্বল্পকালীন ও শক্তিশালী আক্রমণের একটি পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে এবং তা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জানানো হতে পারে। এই পরিকল্পনায় অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

    আরও একটি বিকল্প পরিকল্পনা ছিল হরমুজ প্রণালির একটি অংশ দখল করে সেটিকে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুনরায় খুলে দেয়া — এবং এই কাজের জন্য স্থলভাগে সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন হতে পারে।

    বিবিসি এ ব্যাপারে মন্তব্য জানতে সেন্ট্রাল কমান্ড ও হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। সূত্রগুলো বলছে, যতদিন তেহরান হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে চাওয়া জাহাজগুলোকে হুমকি দেখতে থাকবে, ততদিনই মার্কিন পক্ষ ইরানের বন্দরগুলো অবরোধে রাখার প্রস্তুতি রাখছে, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।

    খবর প্রকাশের পর বুধবার তেলের দাম প্রায় ৬% বৃদ্ধি পেয়েছিল। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের সামরিক উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য অবরোধ জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ায়, যা দর বাড়ার এক প্রধান কারণ। ভবিষ্যতে পরিস্থিতি কেমন হবে তা largely কূটনৈতিক পদক্ষেপ ও সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণের উপর নির্ভর করবে, এবং বাজার নজর রাখছে সব আপডেটের ওপর।

  • একযুগের সঞ্চয় বজ্রপাতে ছাই, দম্পতির জীবন রক্ষা হলোও সবটাই পুড়ে গেছে

    একযুগের সঞ্চয় বজ্রপাতে ছাই, দম্পতির জীবন রক্ষা হলোও সবটাই পুড়ে গেছে

    বাগেরহাটের চিতলমারীর দড়িউমাজুড়ি গ্রামে একজোড়া দম্পতির এক যুগ ধরে গড়া ছোট সংসার বজ্রপাতে ছাই হয়ে গেছে। রাত পোনে ১২টার সময় ঘটে যাওয়া আগুনে আনন্দ মিস্ত্রি (৪০) ও লোপা হালদার (৩৩) দম্পতির ঘরপোড়া সব имущества পুড়ে যায়;幸ৎ তখন তারা ঘরেই ছিলেন না, তাই জীবন রক্ষা পেয়েছে।

    ঘটনাটি বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাত পোনে ১২টার দিকে ঘটে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।夫妻দের এগারো বছর বয়সী মেয়ে সংগীতা পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী; ঘটনায় তার স্কুল জীবনে বাধা পড়েছে।

    ক্ষতিগ্রস্ত দম্পতি আনন্দ মিস্ত্রি ও লোপা হালদার জানান, দিনমজুরি করে তারা সংসার চালাতেন। প্রায় এক যুগ ধরে তিলে তিলে সঞ্চিত সামান্য জিনিসপত্র আর ঘরবাড়ি গড়ে তোলেন—সবই এখন লুপ্ত। তাদের কথায়, “পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই বাকি নেই। আত্মীয়দের বাড়িতে না গেলে হয়তো আমরা পুড়ে মারা যেতাম।”

    চিতলমারী ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের লিডার এস এম আব্দুর রহিম জানান, আগুনের খবর পেয়ে রাতেই তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবু তাদের পৌঁছানোর আগেই দম্পতির অধিকাংশ মালপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

    ঘটনার খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার ও বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মশিউর রহমান খানের প্রতিনিধি—উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা গাজী মুনিরুজ্জামান—পরিদর্শনে যান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করেন এবং জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।

    অপরাধ-প্রশ্ন না উত্থাপন করে তারা বলেন, প্রাথমিকভাবে শুকনো খাবার দিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো হয়েছে; চাহিদা অনুযায়ী পরবর্তী সহায়তা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে দেয়া হবে।

    স্থানীয় পরিবারটি বর্তমানে সম্পূর্ণ নিঃস্ব; তাদের ফের ঘরবাড়ি ও জীবিকা পুনরুদ্ধারের জন্য তাত্ক্ষণিক সহায়তা প্রয়োজন। সংগীতার পড়াশোনাও এখন স্থগিত রয়েছে, যেটি দ্রুত স্বাভাবিক করতে পারলে পরিবারটিকে মানসিক সান্ত্বনা মিলবে।

  • যশোরের সেই শিশুর জন্য উপহার পাঠালেন বিএনপি নেতা তারেক রহমান

    যশোরের সেই শিশুর জন্য উপহার পাঠালেন বিএনপি নেতা তারেক রহমান

    যশোরে বাস থেকে ডেকে নেওয়া সেই মা ও তার শিশুর জন্য উপহার পাঠিয়েছেন বিএনপি নেতা তারেক রহমান।

    বুধবার নয়—বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে ‘‘আমরা বিএনপি পরিবার’’ নামের সংগঠনের সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল শিশুটির বাড়িতে গিয়ে তারেক রহমানের পাঠানো উপহার পৌঁছে দেয়।

    উপস্থিত ছিলেন ‘‘আমরা বিএনপি পরিবার’’-এর অন্য সদস্যরা, যশোর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাজিদুর রহমান সাগর ও মাসুদ রানা লিটনসহ অন্যান্য নেতারা।

    ঘটনাটি তারেক রহমানের যশোর আগমনের সঙ্গে জড়িত। গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) তিনি যশোরে পৌঁছান। তাকে বহনকারী ‘‘সবার আগে বাংলাদেশ’’ শ্লোগানবাহী বাসসহ গাড়িবহর যখন শহরের ইনস্টিটিউটের সামনে যাচ্ছিল, তখন নিলিমা নামের এক মা নিজের কোলের শিশুকে নিয়েই ফুল হাতে দাঁড়িয়ে প্রধান অতিথিকে শুভেচ্ছা জানাতে চান।

    তাতে তারেক রহমানের নজরে পড়ে তিনি গাড়ি থামিয়ে নেমে শিশুটিকে দেখেন। তাদের মধ্যে যে আলাপ-আড্ডা হয় এবং নিলিমার ওই মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও দ্রুত নিলিমার ফেসবুক পেজ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

    পরে তারেক রহমান বিষয়টি লক্ষ্য করে অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে নির্দেশ দেন নিলিমা ও শিশুর জন্য উপহার পাঠানোর। বৃহস্পতিবার সেই উপহার পৌঁছে দেওয়া হয়।

  • রামপাল গোল্ডকাপ ২০২৬: বালিকায় আদাঘাট, বালকে কুমলাই একাদশ চ্যাম্পিয়ন

    রামপাল গোল্ডকাপ ২০২৬: বালিকায় আদাঘাট, বালকে কুমলাই একাদশ চ্যাম্পিয়ন

    রামপাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬ উদযাপিত হয়ে বুধবার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুই দিনব্যাপী এই টুর্নামেন্টের সমাপনী দিন উপজেলা মাঠে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ তামান্না ফেরদৌসি অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন নবাগত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার ও সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ শাহিনੁਰ রহমান। টুর্নামেন্ট কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন রামপাল সরকারি কলেজের শরীরচর্চা শিক্ষক মোঃ তৌহিদুল ইসলাম। খেলা পরিচালনা করেন গোলাম আক্তার বাচ্চু, নাহিদুল ইসলাম ও কামরুল ইসলাম।

    ফাইনাল খেলায় বড়কাটাখালী সপ্রাবি বালিকা একাদশ ও আদাঘাট সপ্রাবি বালিকা একাদশ অংশগ্রহণ করে; টাইব্রেকারে আদাঘাট বালিকা একাদশ চ্যাম্পিয়ন হয়। অপর ফাইনালে কুমলাই সপ্রাবি বালক একাদশ ২-০ গোলে গিলাতলা সপ্রাবি বালক একাদশকে হারিয়ে শিরোপা জিতে নেয়।

    খেলা শেষে প্রধান অতিথি মিজ তামান্না ফেরদৌসি বিজয়ী ও পরাজিত দলের মধ্যে মেডেল ও ট্রফি তুলে দেন। এ সময় উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাবৃন্দ, শিক্ষক, সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। দুই দিন ধরে উৎসবমুখর পরিবেশে সুসংগঠিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে প্রতিযোগিতা সম্পন্ন হয়।

  • বুথফেরত জরিপে থালাপতি বিজয়ের দলকে ৯৮–১২০ আসনের ইঙ্গিত

    বুথফেরত জরিপে থালাপতি বিজয়ের দলকে ৯৮–১২০ আসনের ইঙ্গিত

    তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর সবার নজর এখন বুথফেরত জরিপের দিকে। এই নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চমক ছিলেন দক্ষিণী সুপরিচিত অভিনেতা থালাপতি বিজয় ও তাঁর freshly-formed দল তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম (টিভিকে), যারা মুখ্যমন্ত্রী এম.কে. স্টালিনের শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে নেমেছেন।

    নির্বাচনের আগের জনসভা ও প্রচারণায় বিজয়ের ব্যাপক উপস্থিতি রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে ছাপ ফেলেছে। অনেক পর্যবেক্ষক বলছেন, যদি বুথফেরত জরিপের পূর্বাভাস মেনে চলে, তাহলে তামিলনাড়ুতে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে।

    বিভিন্ন সংস্থার বুথফেরত জরিপে দেখা যাচ্ছে, প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিজয়ের দল 98 থেকে 120 আসন পর্যন্ত পেতে পারে। অন্যদিকে পিপলস পালস ও পিপলস ইনসাইট অনুমান করছে, ডিএমকে ও তার জোট 120–145 আসনে এগিয়ে থাকতে পারে এবং এআইএডিএমকে জোট পেতে পারে 60–80 আসনের মতো শক্ত অবস্থান।

    প্রজা পোল ও পি-মার্কের জরিপে মোটমিলিয়ে ডিএমকে জোটকে এগিয়ে দেখানো হয়েছে — প্রজা পোল টিভিকেকে মাত্র 1–9টি আসন দিলে, পি-মার্ক বলেছে তারা 16–26টি আসন পেতে পারে। ম্যাট্রিজ ও জেভিসি-এর জরিপে ডিএমকে ও এআইএডিএমকের মধ্যে কড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তাতে contrast-এ কামাখ্যা অ্যানালিটিক্স একটু ভিন্ন স্বর রাখে — তাদের অনুসারে, যদি টিভিকে 67–81 আসন পায়, তাহলে রাজ্য সরকার গঠনে তাদের বড় ভূমিকা থাকতে পারে।

    নির্বাচন কমিশনের তথ্যে বলা হয়েছে, 23 এপ্রিল তামিলনাড়ুর 234টি আসনে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যেই ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে; বিকেল 5টা পর্যন্ত ভোটার উপস্থিতি ছিল 82.24 শতাংশ। এখন ফলাফল ঘোষণা ও পরবর্তী রাজনৈতিক রকমফের যে পথে যাবে, তা নির্ভর করছে যেমন বুথফেরত জরিপের ধারাবাহিকতার উপর, তেমনই আসন্ন সরকারি ফলাফলের ওপর।

  • পেছন থেকে জুম করে ছবি তোলায় ক্ষোভ প্রকাশ করলেন কারিশমা কাপুর

    পেছন থেকে জুম করে ছবি তোলায় ক্ষোভ প্রকাশ করলেন কারিশমা কাপুর

    সেলিব্রিটিদের ব্যক্তিজীবন ও লাইফস্টাইল নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ সবসময়ই থাকে। এদের পেছনেই ছায়ার মতো লেগে থাকেন পাপারাজ্জিরা—আলোচিত ব্যক্তিদের প্রতিটি মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দী করতে তারা পিছপা হন না। সম্প্রতি পেছন থেকে জুম করে ছবি তোলার কারণে পাপারাজ্জিদের ওপর ক্ষোভ উগরে দিলেন বলিউড নায়িকা কারিশমা কাপুর।

    পেছন থেকে জুম করে ছবি তোলা অনেক তারকাই ভালোভাবে নেন না, বিশেষত মহিলারা। কারিশমাও এ বিষয়ে অসহযোগী—একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি পাপারাজ্জিদের এমন আচরণ নিয়ে সরাসরি সতর্ক করেন এবং কঠোর ভঙ্গিমায় বিরক্তি প্রকাশ করেন। ভিডিওতে তাঁর রাগ অনায়াসে চোখে পড়ে।

    ঘটনাটি ঘটে ‘ইন্ডিয়া’স বেস্ট ড্যান্সার সিজন ৫’-এর শুটিং সেটে; সেখানে তিনি বিচারকের আসনে ছিলেন। তাঁর সঙ্গে বিচারক হিসেবে আছেন গীতা কাপুর, টেরেন্স লুইস ও জাভেদ জাফরি। শুটিংস্থলে ঢোকার আগে সবাই আলোকচিত্রীদের সামনে পোজ দেন; সেই সময় কারিশমা ক্যামেরাম্যানদের উদ্দেশে সতর্ক হয়ে বলেন এবং পোজ নেওয়ার এলাকা থেকে সরে পড়েন। তিনি বলেছিলেন, “বেশি জুম করবেন না। আপনাদের অনেকে খুবই খারাপভাবে ছবি তুলতে চান।” অভিনেত্রী এমন মনোভাবকে ‘অসুস্থ’ হিসেবে অভিহিত করেন।

    কারিশমার কড়া বার্তার ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এবং অনেকেই তার জন্য সমর্থন জানিয়েছেন। সম্প্রতি আরেকটি বিতর্কিত ভিডিওতে দেখা গিয়েছিল, যখন এক অনুষ্ঠানে সিড এবং কিয়ারা পোজ দিচ্ছিলেন; তখন পাপারাজ্জিরা ভিডিও থেকে সিডকে সরিয়ে কিয়ারাকে জুম করেন, যা নিয়ে প্রচুর সমালোচনা ওঠে।

    বলিউডে দীর্ঘদিন ধরে অবদান রাখা কারিশমাকে অনেকে তাঁর সচেতনতা প্রদর্শনের জন্য প্রশংসা করছেন। ঘটনাটি পাপারাজ্জিদের আচরণ নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু করেছে—নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ বজায় রাখার জন্য অধিক শ্রদ্ধাশীল আচরণ জরুরি বলে many অনুরাগীরা মনে করছেন।

  • জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী: নারীদের জন্য এলপিজি কার্ডে ভর্তুকি মূল্যে সিলিন্ডার

    জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী: নারীদের জন্য এলপিজি কার্ডে ভর্তুকি মূল্যে সিলিন্ডার

    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, দেশের নারীদের রান্নার কাজ সহজ ও সাশ্রয়ী করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘এলপিজি কার্ড’ প্রদানের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। এই কার্ড পেলে গৃহিণীরা ভর্তুকি মূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে পারবেন।

    বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় তিনি এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

    প্রতিমন্ত্রী জানান, যশোর থেকে আনা ঘোষণায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ভবিষ্যতে প্রত্যেক মহিলাকে রান্নার কাজ সহজ করতে একটি করে এলপিজি কার্ড প্রদান করা হবে। কার্ডধারীরা সরকারি ভর্তুকি সুবিধা পেয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে সিলিন্ডার কিনতে পারবে, ফলে গ্যাসের খরচে পরিবারের উপর চাপ অনেক কমবে।

    এই আলোচনা চলাকালে প্রতিমন্ত্রী একটি দুঃখজনক স্মৃতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গতকাল রাজপথের সাথি কচুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন ইরান উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আসার পথে মারা গেছেন। তিনি আরও জানান, যশোরে একটি পূর্ণাঙ্গ করোনারি কেয়ার ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগ ২০ বছর আগে নেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বাক্সবন্দি অবস্থায় পড়ে আছে। তার ফলে হৃদরোগীরা ঢাকা বা খুলনা জেতার পথে প্রাণ হারাচ্ছেন; এই বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

    প্রতিমন্ত্রী আরও স্মরণ করান, গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) যশোরের শার্শায় এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নিজেই ‘এলপিজি কার্ড’ চালুর কথা ঘোষণা করেন। তিনি বলছেন, পারিবারিক সচ্ছলতার জন্য চালু থাকা ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর পাশাপাশি গৃহিণীদের রান্নার জ্বালানি সংকট দূর করতে এই বিশেষ কার্ড ব্যবহার করা হবে।

    সরকারি এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে গৃহিণীদের দৈনন্দিন রান্নার খরচে লক্ষণীয় সুবিধা আসার পাশাপাশি গ্রামীণ ও নগর ভোক্তাদের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

  • সংসদের রীতি মেনে প্রধানমন্ত্রীর আচরণ প্রশংসিত

    সংসদের রীতি মেনে প্রধানমন্ত্রীর আচরণ প্রশংসিত

    বুধবার (২৯ এপ্রিল) মধ্যাহ্ন বিরতির পর সংসদের বিকেল অধিবেশনে আইনমন্ত্রীর বক্তব্য চলাকালীন কক্ষে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। তিনি নিজ আসনে না বসে বক্তার সামনের সারির ওপর দিয়েই পেছনে দুই সারি বসেন এবং আইনমন্ত্রীর বক্তৃতা শেষ হওয়ার পরে নিজের আসনে ফিরে যান।

    সংসদের চলমান রীতির মধ্যে আছে—যখন কোনো সদস্য কেন্দ্রীয় মঞ্চে বক্তব্য দিচ্ছেন, তখন তাঁর সামনে দিয়ে হেঁটে যাওয়া বা ওই লাইনের সামনে বসা উচিত নয়। প্রধানমন্ত্রীর এই আচরণকে সেই রীতি মেনে চলা হিসেবে দেখা হয়েছে।

    এ ঘটনার পর ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল তা উত্থাপন করে সংসদ সদস্যদের কাছে এ থেকে শিক্ষা গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “মাননীয় সদস্যবৃন্দ, আমরা মহান জাতীয় সংসদে সর্বদা একটি শৃঙ্খলা চাই। আজকে মাননীয় সংসদ নেতা যে ডিসেন্সি এবং শৃঙ্খলার নিদর্শন দেখিয়েছেন, আমরা অন্যান্য সম্মানিত সদস্যরা তা পর্যবেক্ষণ করব। মাননীয় আইনমন্ত্রীর সামনের আসন ছিল মাননীয় সংসদ নেতার; যেহেতু ফ্লোর ক্রসিং হবে, তাই তিনি দুই সারি পেছনে বসেন। এটা আমি একটা উদাহরণ দিচ্ছি, আসুন আমরা শিক্ষা গ্রহণ করি।”

    ডেপুটি স্পিকারের মন্তব্যে সংসদিক শৃঙ্খলা ও পার্লামেন্টারি রীতির প্রতি গুরুত্ব আরোপিত হয়েছে। সংসদ সদস্যদের মধ্যে ভদ্রতা ও নিয়মাবলীর প্রতিফলন বজায় রাখার আহ্বানও তিনি জানান।

  • জামায়াত আমির শফিকুর রহমান: বিএনপি ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে

    জামায়াত আমির শফিকুর রহমান: বিএনপি ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিএনপি পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদের পথে হেঁটে চলছে। এসব মন্তব্য তিনি শনিবার (২৫ এপ্রিল) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত সমাবেশে করেন।

    ডা. শফিকুর বলেন, ‘‘একসময় আমরা একসঙ্গে মজলুম ছিলাম। আমি বিনয়ের সঙ্গে বলতে চাই—আপনারা হাজার চেষ্টা করলেও ওই আওয়ামী লীগ হতে পারবেন না; বড়জোর দুর্বল আওয়ামী লীগ হতে পারবেন। যে আওয়ামী লীগ একসময় পুরো জাতিকে নিয়ে কিংবা বিরোধী দলকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করত, আজ তাদের কী দশা? আপনারা ঠিক একই কাজ শুরু করেছেন।’’

    তিনি সতর্ক করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় এবং পরে আওয়ামী লীগ তাদের পোষ্য লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে, তবে কটূক্তি করে বলেন, আজ তাদের সেই ‘লাঠিয়াল’দের কেউ পাশে এসে দাঁড়ায়নি।

    জামায়াত আমির অভিযোগ করেন যে রাষ্ট্রসংস্থাগুলোতে প্রয়োজনীয় সংস্কার না হলে সুশাসন নিশ্চিত করা যাবে না। তিনি বলেন, ‘‘রাষ্ট্রের মৌলিক যে সমস্ত জায়গায় পরিবর্তন দরকার—সুশাসন স্থাপন ও সত্যিকার স্বাধীনতার স্বাদ জনগণকে দেওয়ার লক্ষ্যে—প্রতিটি বিষয়ে বিএনপি বিরোধিতা করে চলেছে। এটি জাতির সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণা।’’

    শফিকুর রহমান আরও বলেন, বিএনপি তাদের ইশতেহারে থাকা ৩১ দফা কর্মসূচিরই বিরোধিতা করছে এবং কখনো কখনো নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিও ভুলে যাচ্ছে। তিনি জেলহ্যাঁত সহকর্মীদের স্মরণ করে বলেন, যারা বিদেশে ছিলেন তারা জাতীয় পরিবর্তনের সুবাদে দেশে ফিরতে পেরেছেন; কিন্তু কিছু নেতা এখন মহিমা দাবি করে আন্দোলনের একনায়ক হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে—যা ভুল দাবি, বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    অতীতের ত্যাগ ও শহীদ পরিবারদের কথা স্মরণ করে জামায়াত আমির অনুরোধ করেন, তাদের সম্মান করতে শিখুন। তিনি বলেন, ‘‘জুলাই আন্দোলনের নায়করা জীবন বাজি রেখে তরণী নিয়ে ঘাটে ভিড়েছে, ছাত্র সমাজ, শ্রমিক, মায়েরা সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে—এই বিজয় ও ত্যাগ ভুলে যাবেন না।’’

    সংসদে প্রথম দিন থেকেই তারা সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি তোলেন এবং শপথ গ্রহণ করে থাকলেও অন্যরা তা করেনি—এমন অভিযোগও তোলেন তিনি। তিনি আরো বলেন, জরুরি আইন সংশোধন এবং অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন না হলে স্বৈরাচারী মনোভাব পরিবর্তন হবে না, আর বিএনপি সেই পুরোনো স্বৈরাচারী ব্যবস্থাকে বজায় রাখতে চাইছে বলে তিনি মনে করেন।

    সমাবেশে তিনি সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিভিন্ন স্থানে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে সংঘটিত সহিংসতার কথা উল্লেখ করে বলেন, গণভোটের রায় অস্বীকার করার পর থেকেই বিএনপি ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে।

    শেষে ডা. শফিকুর বলেন, ‘‘আমরা এমন এক বাংলাদেশ চাই যেখানে শিশুরা, কিশোর-কিশোরী, যুবক-যুবতীরা, আমাদের মা-বোনেরা নিরাপদে সড়কে বের হতে পারবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বই-কলম দেখতে চাই; হাতে দা-কুড়াল দেখতে চাই না। যদি এই সংস্কৃতি বন্ধ না করা হয়, তখন প্রতি বছর ‘জুলাই’ ফিরে আসবে এবং ফাইনালি ফ্যাসিবাদের কবর লেখা হবে। জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান দেখান; গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে আমাদের লড়াই সংসদের ভেতরেও এবং খোলা ময়দানেও চলবে, ইনশাআল্লাহ।’’