Blog

  • মহান মে দিবস আজ: শ্রমিক অধিকার ও পেশাগত সুরক্ষার ডাক

    মহান মে দিবস আজ: শ্রমিক অধিকার ও পেশাগত সুরক্ষার ডাক

    শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের দীর্ঘ সংগ্রামের স্মরণে আজ বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে মহান মে দিবস। বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে পালনকৃত এবারের অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য— ‘‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নব প্রভাত’’। দিবসটি বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৮০টির বেশি দেশে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালন করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে উদযাপিত হচ্ছে।

    দিবসটির ঐতিহাসিক সূচনা ঘটে ১৮৮৬ সালের ১ মে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে। শিল্প বিপ্লবের পরে শ্রমিকরা দিনে ১০–১৬ ঘণ্টা কাজ করতে বাধ্য হওয়ায় তারা দৈনন্দিন কর্মদিবস আট ঘণ্টায় সীমাবদ্ধ করার দাবিতে সংগঠিত হয়। ঐ বছরের ১ মে ব্যাপক ধর্মঘট ও বিক্ষোভ শুরু হয়; আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ৪ মে হে মার্কেটে বোমা বিস্ফোরণ ঘটে এবং পুলিশের গুলিতে বহু মানুষ আহত ও নিহত হন। পরে কয়েকজন শ্রমিকনেতাকে বিতর্কিতভাবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও প্রতিবাদকে জ্বালানি দেয়। ১৮৮৯ সালের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে গ্রহণের পর থেকে এই দিনটি বিশ্বজুড়ে শ্রমিক অধিকার ও ন্যায়তার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

    দিবসটি উপলক্ষে সকল গণমাধ্যম নানা রচনা ও অনুষ্ঠান প্রচার করবে। বাংলাদেশে সরকারি ছুটির পাশাপাশি কর্মসূচি, আলোচনা ও সমাবেশের মাধ্যমে দিনটি গুরুত্ব ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালিত হবে।

    রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন ‘মহান মে দিবস এবং জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে বলেছেন, দেশের উন্নয়নে শ্রমজীবী মানুষের অবদান অপরিসীম; শ্রমিকরাই দেশের অগ্রযাত্রার মূল চালিকাশক্তি। তিনি শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি করা এবং সামাজিক সুরক্ষা জোরদারের ওপর জোর দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি জানান, মালিক-শ্রমিক মধ্যে সুসম্পর্ক ও পেশাগত স্বাস্থ্য সুরক্ষার মাধ্যমে একটি শ্রমিকবান্ধব, মানবিক ও ন্যায়নিষ্ঠ রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বের অগ্রপংক্তিতে অবস্থান করবে—এটাই তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও মহান মে দিবস এবং পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস উপলক্ষে প্রদত্ত বাণীতে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি নিয়মিত মজুরি পর্যালোচনার মাধ্যমে ন্যায্য মজুরি ও নারী-পুরুষ সমান মজুরি নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। পাশাপাশি প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য আর্থিক সুরক্ষা ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতের লক্ষ্যে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও তিনি ব্যক্ত করেছেন।

    দিবসটি উপলক্ষে কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকাল ১০টায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এক আলোচনা সভা, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। সভার সভাপতি থাকবেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

    এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে নয়াপল্টনে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন তারেক রহমান। বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান জানান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ পর্যায়ের জাতীয় ও শ্রমিক নেতারা সেখানে বক্তব্য দেবেন এবং তারা লক্ষাধিক শ্রমজীবী মানুষের উপস্থিতির প্রত্যাশা করছে।

    মহান মে দিবস স্মরণ করিয়ে দেয় শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাস ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকারকে; একই সঙ্গে আজকের দিনে এই দাবিগুলোকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার আহ্বান আরও শক্তিশালী হবার উপযুক্ত মুহূর্ত।

  • চুয়াডাঙ্গায় ইউপি পরিষদে সংঘর্ষ: চেয়ারম্যান লোটাসকে ঘেরাও, দুই চেয়ারম্যানকে ধাওয়া

    চুয়াডাঙ্গায় ইউপি পরিষদে সংঘর্ষ: চেয়ারম্যান লোটাসকে ঘেরাও, দুই চেয়ারম্যানকে ধাওয়া

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুর ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান মোজাহিদুর রহমান জোয়ার্দ্দার (লোটাস) কে ঘেরাও করে রাখা এবং ইট-পাটকেল ছোড়াসহ বিরোধী লোকেরা হামলা চালানোর ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বেলা প্রায় ১১টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এসব ঘটনা ঘটে।

    ঘটনার বর্ণনায় জানা যায়, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জেলা প্রশাসন খাদিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোজাহিদুর রহমান জোয়ার্দ্দার লোটাসকে সাময়িকভাবে অপসারণ করে সেখানে প্রশাসক নিয়োগ দেয়। পরে চেয়ারম্যান হাইকোর্টে রিট করেন এবং আদালত তাকে পরিষদে বসে দাপ্তরিক কার্যক্রম চালানোর অনুমতি দেন।

    হাইকোর্টের নির্দেশের পর বৃহস্পতিবার সকালে লোটাস পরিষদে গিয়ে অফিস শুরু করলে স্থানীয় কিছু মানুষ সেখানে গিয়ে তাকে সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে। ঘিরে ধরে তাঁকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়া হয় এবং চেয়ারম্যানের কক্ষে ঢুকে চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করা হয়। কিছু সময় কক্ষে বন্ধ করে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন চেয়ারম্যান। পরে তার সমর্থকরাও ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলাকারীদের ধাওয়া করলে হামলাকারীরা পালানোর সময় পড়িয়ে রেখেযাওয়া চারটি মোটরসাইকেলে ভাঙচুর চালানো হয়।

    চেয়ারম্যান মোজাহিদুর রহমান জোয়ার্দ্দার বলেন, সকালে অফিস করছিলাম। কিছু লোক এসে আমাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়, দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে এবং কিছুক্ষণ কক্ষে আটকে রেখে হামলা চালায়। পুরো ঘটনা সিসিটিভি ক্যামেরায় রেকর্ড আছে, পরে আমার গ্রামের লোক এসে আমাকে উদ্ধার করে।

    একই সময়ে উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এজাজ ইমতিয়াজ বিপুল এবং কালিদাসপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শেখ আশাদুল হক মিকাও একই ধরনের বাধার সম্মুখীন হন। তারা respective পরিষদে বসে অফিস করতে গেলে স্থানীয়রা তাদের সরিয়ে দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় উভয়স্থলে থানা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

    চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, ঘটনাগুলো সম্পর্কে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। খাদিমপুর ঘটনায় জসিম নামের এক ব্যক্তিকে থানায় নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

    আলমডাঙ্গার সঙ্গে সম্পর্কিত আরও এক খবর হলো, হাইকোর্টের রিটের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন একইভাবে চিৎলা ইউপি চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান সরোয়ার, খাসকররা ইউপি চেয়ারম্যান তাসফির আহমেদ লাল ও ডাউকি ইউপি চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলামকেও ইউনিয়ন পরিষদে বসে দাপ্তরিক কার্যক্রম করার অনুমতি দিয়েছে।

    পুলিশি তৎপরতা ও স্থানীয় নেতাদের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি আপাতত শান্ত থাকলেও ঘটনাটি এলাকায় উত্তেজনা ও রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • দেশে ফেরাতে সেভাবে কোনো উদ্যোগ হয়নি: সাকিব

    দেশে ফেরাতে সেভাবে কোনো উদ্যোগ হয়নি: সাকিব

    সাকিব আল হাসান বলেছেন, দেশে ফিরানোর ব্যাপারে জোরালো কোনো উদ্যোগ না থাকায় লম্বা সময় অপেক্ষা আর অনিশ্চয়তা চলেছে, তবে তিনি আশাবাদী যে এ বছরের শেষ নাগাদ দেশে ফিরতে পারবেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই আশার কথা জানিয়েছেন।

    ২০২৪ সালের আগস্টের অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হিসেবে দেশীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে যাওয়ায় সাকিবের দেশে ফেরা জটিল হয়ে পড়ে। তাঁর বিরুদ্ধে মামলার কারণেই তিনি তৎকালীন সময়ে ঝুঁকি নেননি এবং পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে থেকে সময় কাটাচ্ছেন। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে ক্রিকেট ও ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলা হলেও তখন পর্যন্ত ঠিক করে ফিরবেন কখন, তা তিনি জানাননি।

    দ্য হিন্দুর সঙ্গে সাম্প্রতিক একান্ত আলাপে সাকিব বলেন, ‘‘ভবিষ্যৎ কী হবে সেটা এখনো পুরোপুরি নির্ধারণ করা হয়নি। তবে আমি মনে করি এ বছরের শেষদিকে পরিস্থিতি সহজ হতে পারে। আমি শুধুই দোয়া করছি। একটি ব্যাপার নিশ্চিত: যেকোনোভাবে আমাকে বাংলাদেশে ফিরতেই হবে — প্রশ্ন শুধু কত দ্রুতে সেটা হবে। আমি আশাবাদী যে বছরের শেষ নাগাদ ফেরত যেতে পারব।’’

    সাকিব নিজেই বলেছেন যে পরিস্থিতি একে একে বদলে যেতে পারে এবং তাই দিকটা এখন জটিল হলেও আশা বজায় রেখেছেন। তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশের পরিস্থিতি যে কোনো সময় বদলে যেতে পারে, আগামীকাল কী হবে তা বলা কঠিন। এজন্যই আমি আশাবাদী। পরিবার নিয়ে আছি, যখন সুযোগ পাচ্ছি তখন ক্রিকেট খেলছি। কিন্তু দেশে যাওয়ার ব্যাপারটা আমার একচ্ছত্র সিদ্ধান্তে নেই — আমি সমাধান খোঁজার চেষ্টা করছি।’’

    অন্য এক সাক্ষাৎকারে (স্পোর্টসস্টার) সাকিব উল্লেখ করেছেন, আগে যে বোর্ড তাকে ফেরানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল, বলা আর বাস্তবায়নের মধ্যে বড় পার্থক্য আছে। ‘‘আমি শুনছি সবাই আমাকে ফেরাতে চায়, কিন্তু বাস্তবে কাউকেও তেমন উদ্যোগ নিতেও দেখিনি,’’ তিনি যোগ করেছেন।

    ক্রিকেটে বিদায়ের প্রসঙ্গে সাকিব অব্যাহতভাবে বলেছেন যে তিনি কেবল একটি বিদায়ী ম্যাচ খেলে চলে যেতে চান না। এখনও নিজেকে ফিট মনে করেন এবং দলের জন্য অবদান রাখতে চান—‘‘যতদিন অবদান রাখতে পারব, খেলতে চাই; যখন মনে হবে আমি বোঝা হয়ে যাচ্ছি, তখন আর খেলব না।’’

    তিনি জানিয়েছেন, এক পর্যায়ে কানাডায় এক সমর্থকের কাছ থেকে ‘‘দেশের জন্য কী করেছেন?’’ এমন প্রশ্ন শুনে আঘাত পেয়েছিলেন। প্রায় দুই দশক দেশের হয়ে খেলবার পর এমন প্রশ্নে তিনি বিস্মিত হয়েছিলেন এবং পরে ধারণা করেন এগুলো কিছুটা পরিকল্পিতই ছিল।

    ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে সাকিব বলেছেন যে ক্রিকেট ছাড়ার পর রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার ইচ্ছে আছে, পাশাপাশি তিনি কোচিং বা ম্যাচ রেফারির মতো ভূমিকাতেও নিজেকে দেখতে চান। তিনি বলছেন, সময় ও পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবেন।

  • পদত্যাগের কোনো পরিকল্পনা নেই, নির্বাচনে অংশ নেব: তামিম ইকবাল

    পদত্যাগের কোনো পরিকল্পনা নেই, নির্বাচনে অংশ নেব: তামিম ইকবাল

    অমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বিসিবি পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে ফেলার পর সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের নেতৃত্বে গঠিত ১১ সদস্যের অ্যাড-হক কমিটি ক’দিন আগে দায়িত্ব গ্রহণ করে। ওই কমিটির প্রধান কাজ আগামী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদের নির্বাচন আয়োজন করা।

    অ্যাড-হক কমিটির সভাপতি হিসেবে নির্বাচনে নিজের অংশগ্রহণের ঘোষণা ইতোমধ্যে দিয়েছিলেন তামিম। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) মিরপুরের শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে এসে তিনি আবার জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে তিনি পদত্যাগের কোনো চিন্তা করছেন না।

    তামিম বলেন, আগামী রোববার (৩ মে) বিসিবির বোর্ডের একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে, সেখানে পরবর্তী নির্বাচনের তারিখ ও কার্যবিধি নির্ধারণ করা হবে। তিনি বলেন তিনি গঠনতন্ত্রেই অনুগত থাকবেন এবং গঠনতন্ত্র অনুযায়ীই সব সিদ্ধান্ত নেবেন।

    নিজের অবস্থান সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘পদত্যাগের কথা আমি ব্যক্তিগতভাবে চিন্তা করিনি। প্রথম দিন থেকেই বলেছি—I will contest the election—আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব। অ্যাড-হক কমিটি থেকে পদত্যাগ করার কোনো চিন্তাই আমার নেই।’

    তামিম আরও আশা প্রকাশ করেন যে কমিটির অধীনে স্বচ্ছ ও ন্যায্য নির্বাচন হবে। তার কথায়, ‘ফেয়ার ইলেকশন নিয়ে আমরা অনেক কথা বলেছি; ইনশাআল্লাহ আমাদের অধীনে সেটাই হবে।’ অ্যাড-হক কমিটি এখন নির্বাচনের প্রস্তুতি ও তফসিল ঠিক করতে কাজ শুরু করেছে।

  • বুথফেরত জরিপ: জীবনের প্রথম নির্বাচনে থালাপতি বিজয়ের দল ৯৮–১২০ আসন পেতে পারে

    বুথফেরত জরিপ: জীবনের প্রথম নির্বাচনে থালাপতি বিজয়ের দল ৯৮–১২০ আসন পেতে পারে

    তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হতে খুব বেশি দেরি হয়নি। এখন সবার নজর বুথফেরত জরিপের দিকে—আর সেখানে সবচেয়ে বড় চমক স্বল্প সময়ের মধ্যে রাজনীতিতে প্রবেশ করা দক্ষিণি তারকা থালাপতি বিজয় ও তার দল ‘‘তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম’’ (টিভিকে)। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী এম. কে. স্টালিনকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে নামা এই অভিনেতার অংশগ্রহণ রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন ঘটনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    নির্বাচন প্রচারের সময় বিজয়ের জনসভায় প্রচণ্ড সমর্থকের উপস্থিতি রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তন এনেছে। দীর্ঘদিন ধরে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে প্রধানত দুই প্রধান শক্তি—ডিএমকে ও এআইএডিএমকে—কেন্দ্র করে লড়াই চলে আসলেও এবার থালাপতি বিজয়ের আবির্ভাব সেই দ্বিধাকে চ্যালেঞ্জ করেছে এবং ভোটারদের মনোভাবকে উদ্বুদ্ধ করেছে।

    বিভিন্ন সংস্থার করা বুথফেরত জরিপে দেখা যাচ্ছে, প্রথমবার সংসদীয় নির্বাচনে অংশ নিলে টিভিকে দলটি ৯৮ থেকে ১২০ আসন পেতে পারে। যদি এই পূর্বাভাস বজায় থাকে, তাহলে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে বলেই মনে করছেন অনেকে।

    তবে সব জরিপ একসুরে কথা বলছে না। পিপলস পালস এবং পিপলস ইনসাইটের জরিপে দেখা গেছে ডিএমকে ও তাদের জোট ১২০ থেকে ১৪৫টি আসনে এগিয়ে থাকতে পারে, আর এআইএডিএমকে জোট ৬০ থেকে ৮০টির মধ্যে থাকতে পারে। এ থেকে বোঝা যাচ্ছে রাজ্যজুড়ে ঐতিহ্যবাহী জোটগুলোর প্রতিও শক্ত সমর্থন রয়েছে।

    প্রজা পোল এবং পি-মার্কের জরিপগুলো ডিএমকে জোটকে এগিয়ে রেখেছে। প্রজা পোল সেখানে টিভিকে-কে মাত্র ১ থেকে ৯টি আসন দিচ্ছে, কিন্তু পি-মার্কের অনুমান তুলনায় বেশি—১৬ থেকে ২৬টি আসন। অন্যদিকে ম্যাট্রিজ ও জেভিসি-র জরিপগুলোতে ডিএমকে ও এআইএডিএমকে জোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের চিত্র পাওয়া যায়।

    কামাখ্যা অ্যানালিটিক্সের জরিপ বিজয়ের সমর্থকদের মধ্যে আশাবাদ সৃষ্টি করেছে—তাদের হিসাব অনুযায়ী যদি টিভিকে ৬৭ থেকে ৮১টি আসন পায়, তাহলে তারা সরকার গঠন বা সংবিধান বিন্যাসে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। এঙ্গেজিং এবং বিভক্ত ফলাফল বোঝাচ্ছে যে রাজ্যের ভোটাররা এখনো শেষ সিদ্ধান্তে পৌঁছে যায়নি।

    নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী ২৩ এপ্রিল তামিলনাড়ুর ২৩৪টি আসনে ভোটগ্রহণ উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে; বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত মোট ভোটার উপস্থিতির হার ছিল ৮২.২৪ শতাংশ। যে কোনো আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা হওয়া পর্যন্ত এখনই নিশ্চিত করে বলা যাবে না কোন জোট বা দল শেষ পর্যন্ত কেমন অবস্থান করবে—তবে এখানকার বুথফেরত জরিপগুলো স্পষ্টতই নির্বাচনকে আরও অনিশ্চিত ও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

  • পেছন থেকে জুম করে ছবি তুলতে পাপারাজ্জিদের কড়া সতর্ক করলেন কারিশমা কাপুর

    পেছন থেকে জুম করে ছবি তুলতে পাপারাজ্জিদের কড়া সতর্ক করলেন কারিশমা কাপুর

    তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ স্বাভাবিকভাবে থাকে। কিন্তু অনেক সময় সেই আগ্রহ অস্বস্তিকর পর্যায়ে পৌঁছায়, যখন পাপারাজ্জিরা ছায়ার মতো লেগে থেকে অনভিপ্রত মুহূর্তগুলো জুম করে ক্যামেরাবন্দী করেন। সম্প্রতি এমনই এক ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে রেগে গেছেন বলিউড তারকা কারিশমা কাপুর।

    ঘটনাটি ঘটেছে ‘India’s Best Dancer’ সিজন ৫–এর শুটিং সেটে, যেখানে তিনি বিচারক হিসেবে রয়েছেন; সঙ্গে আছেন গীতা কাপুর, টেরেন্স লুইস ও জাভেদ জাফর। অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে বিচারকমণ্ডলী যখন আলোকচিত্রীদের জন্য পোজ দিচ্ছিলেন, তখন কিছু ক্যামেরাম্যান পেছন থেকেই অতিরিক্ত জুম করে ছবি তুলতে শুরু করেন।

    এপর্যায়ে কারিশমা পোজ নেওয়ার জায়গা থেকে সরে এসে ক্যামেরাম্যানদের উদ্দেশ্যে সরল ও কড়া কণ্ঠে বলেন, ‘বেশি জুম করবেন না। আপনাদের অনেকে খুবই খারাপভাবে ছবি তুলতে চান।’ তিনি এই মনোভাবকে ‘অসুস্থ’ বলেও উল্লেখ করেন।

    কারিশমার ওই কড়া সতর্কতার ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে বহু সমর্থন পাচ্ছে। অনেকে মনে করছেন, সেলিব্রিটিদের নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষায় এমনই সতর্কতা জরুরি।

    এটা নতুন কোনো ঘটনা নয়—কয়েকদিন আগে সিড ও কিয়ারা এক অনুষ্ঠানে একসঙ্গে পোজ দিচ্ছিলেন; তখনও পাপারাজ্জিরা ভিডিও থেকে সিডকে সরিয়ে কিয়ারাকে জুম করায় তীব্র সমালোচনা ওঠে।

    দীর্ঘদিন ভারতীয় চলচ্চিত্রে অবদান রাখা এই অভিনেত্রীকে এমন সচেতন প্রতিক্রিয়ার জন্য প্রশংসা করা হচ্ছে। (সূত্র: এই সময় অনলাইন)

  • অর্থমন্ত্রী: বিএনপির আমলেই শেয়ারবাজারে লুটপাটের সুযোগ ছিল না, এবারও হবে না

    অর্থমন্ত্রী: বিএনপির আমলেই শেয়ারবাজারে লুটপাটের সুযোগ ছিল না, এবারও হবে না

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বিএনপি সরকারের কোনো সময় শেয়ারবাজারে লুটপাটের সুযোগ ছিল না এবং এখনও কেউ এ ধরনের লুটপাট করতে পারবে না। তিনি বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এসব কথা বলেন।

    অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩ জনিত বিষয়ে সংশোধনী প্রস্তাব — বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬— বিশেষ কমিটির সুপারিশসমূহ বিবেচনায় আনার প্রস্তাব দেন।

    বিলটি জনমত যাচাইয়ের জন্য পাঠানোর প্রস্তাব সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা আনে। তিনি বলেন, পুঁজিবাজার দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ, কিন্তু শেয়ারবাজারে জড়িত অনীয়া কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে ১৯৯৬ ও ২০১০ সালে দেশের শেয়ারবাজার ভয়াবহ পতনের শিকার হয়েছিল।

    রুমিন ফারহানা আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রকাশিত শ্বেতপত্র অনুযায়ী গত ১৫ বছরে শেয়ারবাজার থেকে এক লাখ কোটি টাকার বেশি লুটপাট হয়েছে — এ টাকা সাধারণ মানুষের সঞ্চয়; অনেকের জীবনভর জমা-पूজি বিনিয়োগে গেছে। তিনি জোর দিয়ে দাবি করেন, যারা এই লুটপাটে জড়িত তাদেরকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা দরকার এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) দক্ষ ও যোগ্য লোক বাৎলে শেয়ারবাজারকে আস্থাভিত্তিক করা সম্ভব হবে।

    রুমিন ফারহানার দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করলেও অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশেষ কমিটি বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে এবং সংসদে উপস্থাপন করেছে; তাই এটিকে পুনরায় জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রয়োজন তিনি দেখেন না। পরে সংসদে বিলটি জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়।

    অন্য দিকে ডা. শফিকুর রহমান মন্তব্য করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নিয়োগ ও বিদায় সংক্রান্ত যে পরিবর্তন এসেছে তা দেশের জনগণ ও গণতন্ত্রকে সমর্থন করে না; যোগ্য লোককে যোগ্য স্থানে বসাতে হবে। তিনি আশঙ্কা করেন, এভাবে চললে দেশের অগ্রগতি দৃশ্যমান হবে না।

    এর জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান গভর্নরের পারফরম্যান্স আগের যেকোনো গভর্নরের তুলনায় ভালো। প্রধানমন্ত্রী ফিন্যান্সিয়াল সেক্টরে রাজনৈতিক নিয়োগ করা হবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কোনো রাজনৈতিক নিয়োগ হলে সবাই দেখতে পাবে।

    বিরোধীদলীয় উপনেতা ও কুমিল্লা-১১ আসনের সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন—এমন তথ্য তুলে ধরে প্রশ্ন করেন, তাই তাঁকে বদলে নতুন নিয়োগ করা হবে কি না। এর উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, দলের প্রতি সমর্থন দেওয়া মানে দলের লোকদের নিয়োগ করা নয়।

    অধিবেশনে পরে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) বিল-২০২৬ কণ্ঠভোটে পাস হয়। দুই বিলেই বিরোধী দলের আপত্তি থাকলেও সংসদে সময় চেয়ে জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়েছে।

  • বিদ্যুৎ বিভাগের দাবি: দুই দিন দেশের কোথাও লোডশেডিং হয়নি

    বিদ্যুৎ বিভাগের দাবি: দুই দিন দেশের কোথাও লোডশেডিং হয়নি

    বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, দেশের কোথাও বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে টানা দুই দিন লোডশেডিং হয়নি। সংস্থাটি বলছে, গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ও বুধবার (২৯ এপ্রিল) সারাদেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে। এই তথ্য বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হয়।

    এর আগে, গত ২৭ এপ্রিল বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু) বলেছিলেন যে পরবর্তী সপ্তাহ থেকে দেশের বিদ্যুতের পরিস্থিতি ভালো হবে এবং লোডশেডিং কমে আসবে। কিন্তু তার আগের দিন, ২৩ এপ্রিল বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্মসচিব উম্মে রেহানা জানিয়েছিলেন যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি আমদানিতে বিঘ্ন ঘটিয়েছে, ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটায় চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ বজায় রাখা কঠিন ছিল।

    উক্ত সমস্যার প্রেক্ষিতে গ্রাম ও শহরের মধ্যে লোডশেডিং সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে রাজধানী ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং চালু করার কথাও জানিয়েছিলেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত—সংসদে তিনি বলেছিলেন, বৈষম্য কমাতে প্রয়োজনে শহরে লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ এই ঘটনার ধারাবাহিকতা ও সাম্প্রতিক সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে বিবৃতি প্রদান করেছে এবং নিজেদের দাবিতে ২৮ ও ২৯ এপ্রিল সারাদেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছিল বলে জানিয়েছে।

  • সংবিধান সংস্কারের দাবিতে ১১ দলের বিভাগীয় সমাবেশ কর্মসূচি

    সংবিধান সংস্কারের দাবিতে ১১ দলের বিভাগীয় সমাবেশ কর্মসূচি

    সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি নিয়ে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) মগবাজারের জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর এক ব্রিফিংয়ে সেই ঘোষণা আসে।

    ব্রিফিংয়ে ১১ দলের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, নির্বাচনের আগে সরকার সংবিধান সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল; কিন্তু গণভোটে জনগণের কাছে যে সিদ্ধান্ত এসেছে — প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংবিধান সংস্কারের পক্ষে — তা সরকার উপেক্ষা করছে। তিনি সরকারের চলমান কর্মপন্থাকে সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে ‘‘ছলচাতুরি’’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বসেছে।

    হামিদুর রহমান আযাদ সভার পর জানায়, নতুন কর্মসূচির সূচনা হবে ১৬ মে রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশ থেকে। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিভাগীয় শহরগুলোতে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। ঘোষিত সমাবেশ সূচি যথাক্রমে:

    ১৬ মে — রাজশাহী

    ১৩ জুন — চট্টগ্রাম

    ২০ জুন — খুলনা

    ২৭ জুন — ময়মনসিংহ

    ১১ জুলাই — রংপুর

    ১৮ জুলাই — বরিশাল

    ২৫ জুলাই — সিলেট

    তিনি জানান, আসন্ন ঈদুল আজহার কারণে মে মাসে কেবল একটি বিভাগীয় সমাবেশ রাখা হয়েছে; ঈদের ছুটির পর জুন থেকে পুনরায় পূর্ণমাত্রায় আন্দোলন ও সমাবেশ শুরু হবে। বিভাগীয় স্তরের এই সমাবেশগুলোতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সব জেলা ও মহানগরের নেতা-কর্মী এবং সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    সমাবেশের পাশাপাশি ১১ দল ব্যক্তি ও পেশাভিত্তিক মতবিনিময় সভার মধ্যেও কার্যক্রম চালাবে। বিশেষত শিক্ষক, আইনজীবী, চিকিৎসক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপচারিতার মাধ্যমে জনমত গঠন করা হবে। পাশাপাশি দেশের সাতটি বিভাগে বিষয়ভিত্তিক সেমিনারও চলমান থাকবে, দাবি করেন সমন্বয়ক।

    সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘‘জনগণের রায় নিয়ে ছিনিমিনি খেলা চলছে; এ’র বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন আরও বেগবান করতে হবে।’’ তিনি ছাত্রসমাজকেও এই আন্দোলনে জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

    হামিদুর আরও উল্লেখ করেন যে, ‘গণভোট অনুমোদিত জুলাই আদেশ’ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবি নিয়ে বর্তমানে জোটের দুই সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি চলছে। ইতোমধ্যে ১৮ এপ্রিল রাজধানীতে এবং ২৫ এপ্রিল অন্যান্য মহানগরে ১১ দল গণমিছিল করেছে। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী আগামী ২ মে দেশের সব জেলা শহরে গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে।

  • নাহিদ: সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন, এনসিপি আপনাদের পাশে থাকবে

    নাহিদ: সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন, এনসিপি আপনাদের পাশে থাকবে

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সারাদেশের তরুণরা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেবে — এনসিপি তাদের পাশে থাকবে ও সমর্থন দেবে। শুক্রবার বিকেলে কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

    অনুষ্ঠনে যোগদানকারীদের স্বাগত জানিয়ে নাহিদ বলেন, বর্তমান সরকার স্থানীয় প্রশাসন ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করছে। নির্বাচনের পর জনগণের ভোট ও গণঅভ্যুত্থানের নীতিকে উপেক্ষা করে ক্ষমতা হস্তান্তরকে স্বাভাবিক পুরনো পথেই ফিরিয়ে আনা হচ্ছে—এবং সংবিধান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের অধ্যাদেশগুলো বাতিলের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ক্ষুন্ন করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ব্যাংক লুটেরাদের জন্য সুযোগ তৈরি হচ্ছে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্ষমতার্তক রাজনীতি বাড়ছে।

    নাহিদ আরও বলেন, ‘‘ফ্যাসিবাদী কোনো প্রবণতা বা নতুন কোনো স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হলে জনগণ পুনরায় সংগঠিত হবে। এনসিপির ছায়াতলে মানুষ ঐক্যবদ্ধ হবে—এটাই আমরা দেশব্যাপী দেখছি।’’ তিনি দেশের রাজনীতিসচেতন মানুষ ও তরুণদের একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘‘যারা রাজনীতি করতে চান, পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেন, তারা ঐক্যবদ্ধ হোন। এনসিপি আপনাদের ধারণ করে সামনে এগোতে চায়।’’

    নাহিদ বলেন, বর্তমান সরকার ক্রমান্বয়ে ব্যর্থতার দিকে যাচ্ছেন—অর্থনীতি অস্থিতিশীল, গণতন্ত্র নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণের পাশে দাঁড়ানো ছাড়া উপায় নেই, তিনি জানান।

    অনুষ্ঠানটি মূলত ‘‘রাজনৈতিক নেতা ও নাগরিকদের এনসিপিতে যোগদান’’ শিরোনামে আয়োজন করা হয়েছিল। এতে বিএনপি’র বহিষ্কৃত নেতা ইসহাক সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দেন। এছাড়াও অবিভক্ত বাংলার নেতা শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবাল (ফ্লোরা), কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনি (যিনি রেলের অনিয়ম নিয়ে আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন) এনসিপিতে যোগদান করেন। ফেরসামিন বিদেশে থাকায় তিনি উপস্থিত থাকতে পারেননি; বাকি যোগদানকারীরা মঞ্চে ছিলেন।

    নাহিদ ও দলের নেতৃত্ব নতুনদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। তিনি বলেন, ‘‘আমরা সারাদেশে সংগঠন গড়ে তুলছি—প্রতি সপ্তাহেই যোগদান কর্মসূচি চলবে। সব রাজনীতিসচেতন মানুষ এবং তরুণদের দায়িত্ব নেওয়ার অনুরোধ করছি; এই দেশকে আর বিপথে যেতে দেবো না।’’