Blog

  • বজ্রপাতে এক দশক গড়া সংসার ছাই; ঘরে না থাকায় দম্পতি ও ১১ বছর বয়সী মেয়ের প্রাণ বাঁচল

    বজ্রপাতে এক দশক গড়া সংসার ছাই; ঘরে না থাকায় দম্পতি ও ১১ বছর বয়সী মেয়ের প্রাণ বাঁচল

    বাগেরহাটের চিতলমারীর দড়িউমাজুড়ি গ্রামে বজ্রপাতে একযুগে তিলে তিলে গড়া আনন্দ মিস্ত্রি (৪০) ও লোপা হালদার (৩৩) দম্পতির সংসার এক মুহূর্তে ছাই হয়ে গেছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাত পোনে ১২ টার দিকে আগুন লাগার ঘটনায় পরনো কাপড় ছাড়া তাদের আর কিছুই রক্ষা পায়নি। সেই সময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ঘরে না থাকায় দম্পতি ও তাদের ১১ বছরের মেয়ে সংগীতা মতান্তরে মারা যাওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছে।

    স্থানীয়রা জানায়, আনন্দ ও লোপা দিনমজুরি করে সংসার চালান। প্রায় দশ বছর ধরে কষ্টে-করাটে নিজেদের ঘর সাজিয়ে তুলেছিলেন তারা। কিন্তু ওই রাতে বজ্রপাতের ফলে ঘরে হঠাৎ আগুন লেগে তাদের সব সঞ্চয়, জিনিসপত্র এবং ঘর-আসবাব পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এখন তাঁরা সম্পূর্ণ নিঃস্ব; মেয়েটির বিদ্যালয়ে যাওয়া সৃষ্টি স্থগিত হয়েছে। আনন্দ ও লোপা বলেন, ‘বার বছর ধরে কষ্ট করে যা করেছি সব ফুলকপি হয়ে গেল। যদি রাতের ওই সময়ে আমরা বা বাকি আত্মীয়রা ঘরে থাকতাম, হয়তো প্রাণও হারাতাম।’

    ঘটনার পর বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০ টায় চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মশিউর রহমান খানের প্রতিনিধি ও উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা গাজী মুনিরুজ্জামানও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ইউএনও ক্ষতিগ্রস্থ দম্পতির মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ করেন এবং জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পরবর্তী সহায়তার আশ্বাস দেন।

    চিতলমারী ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের লিডার এস এম আব্দুর রহিম বলেন, খবর পেয়ে রাতে তারা ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে তখন পর্যন্ত দম্পতির অধিকাংশ সম্পদই পুড়ে গেছে।

    স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজসেবকদের উদ্যোগে প্রাথমিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। ভবিষ্যতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আর্থিক ও পুনর্বাসনমূলক সহায়তা দেয়া হবে বলে ইউএনও জানান। স্থানীয়রা বলছেন, দ্রুত প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না গেলে এ পরিবার খুব দ্রুত দিনমজুরির ওপর নির্ভরশীল অবস্থায় আরও কষ্টে পড়বে।

  • দেশে ফেরাতে যথেষ্ট উদ্যোগ হয়নি: সাকিব আশাবাদী দ্রুতই ফিরবেন

    দেশে ফেরাতে যথেষ্ট উদ্যোগ হয়নি: সাকিব আশাবাদী দ্রুতই ফিরবেন

    বিশ্বে ও দেশে ক্রিকেটপ্রেমীদের অপেক্ষা শেষ হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন সাকিব আল হাসান। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্যা হিন্দুকে দেয়া সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ২০২৬ সালের শেষ দিকে—or সাক্ষাৎকারের ভাষায় ‘এ বছরের শেষ নাগাদ’—বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন বলে আশাবাদী।

    ২০২৪ সালের আগস্টের অভ্যুত্থানের পর থেকে তাঁর দেশে ফেরা জটিল পরিণতিতে পড়েছিল। আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক পরিবেশ ও তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার কারণে সাকিব কোনো ঝুঁকি নেননি; তাই এখন পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। এরপরেও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে ক্রিকেট ও ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেছেন, তবে আগে দেশের ফিরবার নির্দিষ্ট সময় প্রকাশ্যে বলে দেননি।

    হিন্দুকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেন, ‘ভবিষ্যৎ কী হবে তা এখনো পুরোপুরি ভাবিনি। তবে আমি মনে করি এ বছরের শেষদিকে সবকিছু সহজ হয়ে যাবে। এখন শুধু দোয়া করছি। একটা বিষয় নিশ্চিত, যেকোনোভাবে আমাকে বাংলাদেশে ফিরতেই হবে। প্রশ্ন শুধু কত দ্রুত সেটা হবে। আমি আশাবাদী যে এ বছরের শেষ নাগাদ ফিরতে পারব।’

    তার মন্তব্যগুলো থেকে বোঝা যায় তিনি দেশে ফেরার বিষয়ে যথেষ্ট অনুপ্রাণিত, যদিও পরিস্থিতি পরিবর্তনশীল। নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ব্যাপারটা হলো, যেকোনো কিছু যেকোনো সময় বদলে যেতে পারে। আগামীকাল কী হবে, তা আপনি বলতে পারবেন না। এজন্যই আমি আশাবাদী। পরিবার নিয়ে আছি, যখন ক্রিকেট খেলার সুযোগ হচ্ছে খেলছি। কিন্তু বাংলাদেশে যাওয়ার ব্যাপারটা আমার হাতে নেই, আমি সমাধান খোঁজার চেষ্টা করছি।’

    এদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম স্পোর্টসস্টারের এক সাক্ষাৎকারে সাকিব আরও বলেন, আগের বোর্ড তাঁকে ফেরানোর ইচ্ছা জানিয়েছিল। কিন্তু মুখে বলা আর সেটাকে বাস্তবে রূপ দেয়া—দুটোর মধ্যে বড় পার্থক্য আছে। ‘আমি শুনি সবাই আমাকে ফেরাতে চায়। কিন্তু দুঃখের বিষয়, সত্যিকার অর্থে কেউ তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি,’ তিনি যোগ করেন।

    সাকিব পরিস্কার করেছেন যে তিনি কেবল একটি বিদায়ী ম্যাচ খেলে বিদায় নিতে চান না। এখনো তিনি ফিট আছেন এবং দলের জন্য কাজে আসতে চান। ‘যতদিন অবদান রাখতে পারব, খেলতে চাই। যখন মনে হবে আমি বোঝা হয়ে যাচ্ছি, তখন আর খেলব না,’ তিনি বলেন।

    সাক্ষাৎকারে তিনি এক ব্যক্তিগত আঘাতও ব্যক্ত করেছেন—শেখ হাসিনা বিরোধী আন্দোলনের সময় কানাডায় এক সমর্থকের ‘দেশের জন্য কী করেছেন?’ প্রশ্নটি তাকে কষ্ট দিয়েছিল। দীর্ঘ দুই দশক দেশের প্রতিনিধিত্ব করার পর এমন প্রশ্ন পেয়ে তিনি হতবাক হয়েছিলেন এবং পরে মনে হয় এটি পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছিল।

    ক্রিকেটের পর রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার আগ্রহ পুনরায় প্রকাশ করেছেন সাকিব; পাশাপাশি তিনি ভবিষ্যতে কোচিং বা ম্যাচ রেফারির মতো ভূমিকা নিয়েও নিজেকে দেখতে চান। দেশে ফিরলে ঠিক কীভাবে এবং কখন কীভাবে তাকে কাজে লাগানো হবে—তার সেই অপেক্ষার পালা এখনও চলছে।

  • প্রথম নির্বাচনে থালাপতি বিজয়: বুথফেরত জরিপে দলের সম্ভাব্য ১২০ আসন

    প্রথম নির্বাচনে থালাপতি বিজয়: বুথফেরত জরিপে দলের সম্ভাব্য ১২০ আসন

    তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হবার পর রাজনৈতিক মনোযোগ ঘুরে দাঁড়িয়েছে বুথফেরত জরিপের দিকে। দক্ষিণী জনপ্রিয় অভিনেতা থালাপতি বিজয় ও তার দল তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম (টিভিকে) এবারের নির্বাচনকে অপ্রত্যাশিতভাবে উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে—প্রথমবার ভোটে তাদের সফলতা রাজ্য রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    নির্বাচনের আগের জনসমর্থন ও বড় সভায় বিজয়ের উপস্থিতি বেশ চার্চা সৃষ্টি করেছে। বহু বছর ধরে তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক চিত্র বড় দুটি দল—ডিএমকে ও এআইএডিএমকে—এর মধ্যে লড়াইতে কেন্দ্রীভূত থাকলেও এবারে যেন তাতে নতুন এক প্রতিদ্বন্দ্বী মিশে গেছে। অনেকেই মনে করছেন, টিভিকে যদি সাফল্য পায় তবে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ পাল্টে যেতে পারে।

    বিভিন্ন সংস্থার বুথফেরত জরিপে দেখা গেছে যে বিজয়ের দল প্রথম নির্বাচনে ৯৮ থেকে ১২০টি আসন পেতে পারে। এই পূর্বাভাস যদি স্থায়ী হয়, তাহলে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন যুগের সূচনা হতে পারে।

    তবে সব জরিপ একই দিশা দেখাচ্ছে না। পিপলস পালস এবং পিপলস ইনসাইটের অনুসারে ডিএমকে ও তাদের জোট ১২০–১৪৫টি আসন পেয়ে এগিয়ে থাকতে পারে, আর এআইএডিএমকে জোট পেতে পারে প্রায় ৬০–৮০টি আসন। প্রজা পোল এবং পি-মার্ক ডিএমকে জোটকে এগিয়ে দেখাতে থাকে—প্রজার জরিপ টিভিকেকে মাত্র ১–৯টি আসন দিয়েছে, তখন পি-মার্ক বলছে তারা ১৬–২৬টি আসন পেতে পারে।

    অন্য দিকে ম্যাট্রিজ ও জেভিসি’র জরিপে ডিএমকে ও এআইএডিএমকে জোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ছাপ দেখা যাচ্ছে। কামাখ্যা অ্যানালিটিক্স যদিও টিভির সমর্থকদের একটু আশাবাদী করে তুলেছে; তাদের জরিপ বলছে, টিভিকে যদি ৬৭–৮১টি আসন পায় তবে তারা সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

    চূড়ান্ত ফলাফল না আসা পর্যন্ত রাজ্যের রাজনীতির চিত্র অনিশ্চিতই থাকবে—কোনো এক জোট সামনের দিকেই থাকবে, নাকি তৃতীয় শক্তি হিসেবে টিভিকে বড় ভূমিকা পালন করবে, সেটা পরিস্কার হবে যখন আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশিত হবে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী ২৩ এপ্রিল তামিলনাড়ুর ২৩৪টি আসনে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে; বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটার উপস্থিতি ছিল ৮২.২৪ শতাংশ।

  • পেছন থেকে জুম করবেন না, সতর্ক করলেন কারিশমা কাপুর

    পেছন থেকে জুম করবেন না, সতর্ক করলেন কারিশমা কাপুর

    তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মানুষের কৌতূহল সবসময়ই তীব্র। সেই কৌতূহলের ফাঁকে পাপারাজ্জিরা ছায়ার মতো লেগে থাকে—তাদের প্রতিটি ঝলকে অনেক সময় উঠে আসে নানা বিতর্ক।

    সম্প্রতি এমনই এক ঘটনায় গুরুগম্ভীর কণ্ঠে পাপারাজ্জিদের সতর্ক করে দিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী কারিশমা কাপুর। অভিযোগ, পেছন থেকে জুম করে বেআইনিভাবে ছবি তোলা হচ্ছে, যা অনেক তারীকেই অস্বস্তিতে ফেলে।

    ঘটনাটি ঘটেছে রিয়েলিটি শো ‘India’s Best Dancer’ সিজন ৫-এর শুটিং সেটে, যেখানে বিচারক হিসেবে কারিশমার সঙ্গে রয়েছেন গীতা কাপুর, টেরেন্স লুইস ও জাভেদ জাফরি। শুটিংয়ের আগে যখন সবাই ক্যামেরার সামনে পোজ দেয়ার জন্য দাঁড়িয়েছিল, তখন কারিশমা সেটে উপস্থিত ক্যামেরাম্যানদের উদ্দেশে বললেন—“বেশি জুম করবেন না। আপনাদের অনেকেই খুবই খারাপভাবে ছবি তুলতে চান।” তিনি ওই মনোভাবকে ‘অসুস্থ’ বলে অভিহিত করেন এবং পেছন থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত জুম করার বিরুদ্ধে কড়া সুর বজায় রাখেন।

    ভিডিওতে দেখা যায়, এই সময়ে অভিনেত্রীর অসন্তোষ স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়; মৃদু নয়, বরং তিনি অনেকটাই রেগে গিয়েছিলেন এবং পোজ দেওয়ার জায়গা থেকে সরে এসে বিষয়টি জানিয়ে দেন।

    কারিশমার সতর্কতার ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল; নেটিজেনদের একটি অংশ তার এই স্ট্যান্ডকে সমর্থন জানাচ্ছেন এবং পাপারাজ্জিদের এমন অনৈতিক আচরণকে নিন্দা করছেন। কয়েকদিন আগে একই ধরনের একটি ঘটনার কথা মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে—সিড ও কিয়ারা এক অনুষ্ঠানে একসঙ্গে পোজ দিতে গিয়েছিলেন, তখন পাপারাজ্জিরা ভিডিও থেকে সিডকে সরিয়ে কিয়ারাকে জুম করে ফোকাস করলে তোলপাড় পড়ে গিয়েছিল।

    বলিউডে দীর্ঘদিনের অবদানের প্রেক্ষিতে অনেকেই কারিশমার এই সচেতনতামূলক বার্তাকে প্রশংসা করছেন। প্রশ্ন উঠছে পাপারাজ্জির আচরণ নিয়ন্ত্রণের এবং সেলিব্রিটির ব্যক্তিগত মর্যাদা রক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে—এই আলোচনা এখন আরও জোরালো হচ্ছে।

  • সংসদে নাহিদ ইসলাম: রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ ও গ্রেপ্তার করা হোক

    সংসদে নাহিদ ইসলাম: রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ ও গ্রেপ্তার করা হোক

    বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অপসারণ ও গ্রেপ্তার করা উচিত। তিনি আরও বলেছেন, এই ব্যক্তি বঙ্গভবনে থাকা বা সংসদে বক্তব্য দেওয়ার কোনো নৈতিক অধিকার রাখেন না।

    এই মন্তব্য করেন নাহিদ সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রতি ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে। ঘটনা ঘটেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৫তম দিনে, বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল। অধিবেশনটি ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল পরিচালনা করছিলেন।

    সংসদে বক্তব্যে নাহিদ বলেন, ‘‘রাষ্ট্রপতির বক্তব্য আমি শুনিইনি, পড়িওনি। সেই বক্তব্য এবং এখানে কথা বলার সুযোগ আমাদের পক্ষ থেকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। আমরা পরিষ্কারভাবে বলেছি—এই রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ ও গ্রেপ্তার করতে হবে। তার আর বঙ্গভবনে থাকার বা এখানে এসে বক্তব্য দেওয়ার কোনো অধিকার নেই।’’

    নাহিদ আরও অভিযোগ করেন, সাহাবুদ্দিন আগে দুদকের কমিশনার ছিলেন এবং তাকে তিনটি নির্দিষ্ট ‘অ্যাসাইনমেন্ট’ দেওয়া হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এগুলো ছিল: খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার শাস্তি নিশ্চিত করা; পদ্মা সেতু সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগ থেকে সরকারকে মুক্ত করা; এবং ফখরুদ্দিন মঈনউদ্দিন সরকারের সময় শেখ হাসিনা ও অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া দুর্নীতির মামলাগুলো বাতিল করা।

    তিনি আরও বলেন, ২০০৯ সালে—যাকে তিনি ‘‘শেখ হাসিনার ক্যাঙ্গারু কোর্ট’’ বলছেন—সেই নির্দেশে সাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের একটি জুডিশিয়াল ইনকোয়্যারী কমিশন ২০০১ সালের সংখ্যালঘু নির্যাতন সংক্রান্ত প্রতিবেদন তৈরি করে। নাহিদ দাবি করেন, ওই প্রতিবেদনে বিএনপির ২৬ হাজার নেতাকর্মী, ২০০১ সালে ক্ষমতাসীন থাকাকালে বহু হিন্দুকে হত্যা করার মতো অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছিল এবং সেই রিপোর্ট আওয়ামী লীগ তাদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে বহুল প্রচার করেছিল।

    অধিকন্তু, নাহিদ অভিযোগ করেন, সাহাবুদ্দিন ইসলামী ব্যাংক লুটের ‘‘কর্তৃত্বকারী’’ এবং দুই কোটি আমানতকারীকে পথরে দিয়েছেন; তাঁর ভূমিকা ও সম্পর্ক জুলাই গণহত্যা ও ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িত—এসব কারণে তিনি তাঁকে ‘দুর্নীতিবাজ, অপদার্থ, মিথ্যুক, গণহত্যার দোসর’ বলে অভিহিত করেন। নাহিদ বললেন, ‘‘প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন দুদকের কমিশনার থাকাকালীন ফরমায়েশি রায় দিয়েছিলেন; তিনি ইসলামী ব্যাংক লুণ্ঠনের এজেন্ট এবং জুলাই ঘটনোয় সংশ্লিষ্ট—এই অপদার্থ ও মিথ্যুক রাষ্ট্রপতিকে আমরা প্রত্যাখ্যান করছি।’’

    বক্তব্যের এক পর্যায়ে নাহিদ স্মরণ করান যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ছাত্ররা তখন রাষ্ট্রপতির অপসারণ দাবি করেছিল। তখন বিএনপি সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার দোহাই দিয়ে সাহাবুদ্দিনের পক্ষে দাঁড়ায়। নাহিদ প্রশ্ন করেন—এখন দেশের একটি নির্বাচিত সরকার আছে, তবুও কেন তাকে এখনো বদলানো হচ্ছে না?

    এই অভিযোগ ও দাবিগুলো সংসদে উপস্থাপন করা হলেও, সরকার বা রাষ্ট্রপতির তরফ থেকে পর্যালোচিত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

  • বিদ্যুৎ বিভাগ দাবি: টানা দুই দিন দেশে লোডশেডিং হয়নি

    বিদ্যুৎ বিভাগ দাবি: টানা দুই দিন দেশে লোডশেডিং হয়নি

    বিদ্যুত্‌ সঙ্কট না থাকায় গত দু’দিন দেশের কোথাও লোডশেডিং হয়নি বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। সংস্থাটির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) এবং বুধবার (২৯ এপ্রিল) সারাদেশে বিরামহীন বিদ্যুত্‌ সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।

    এই তথ্য বিদ্যুৎ বিভাগ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) একটি বার্তায় নিশ্চিত করে। বার্তায় বলা হয়েছে, উল্লেখ করা দুই দিন বিদ্যুৎ ঘাটতি ছাড়াই গ্রাহকদের কাছে পাওনা বন্ধনী পৌঁছে গেছে।

    এর আগে গত ২৭ এপ্রিল বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু) তুলে ধরেছিলেন যে, পরবর্তী সপ্তাহ থেকে দেশে বিদ্যুত্‌ পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং লোডশেডিং ধীরে ধীরে কমে আসবে।

    তবে কয়েক দিন আগেও বিভাগীয়টু জানানো হয়েছিল যে পরিস্থিতি মসৃণ নয়—২৩ এপ্রিল বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্মসচিব উম্মে রেহানা বলেছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে প্রয়োজনীয় জ্বালানি আমদানিতে সমস্যা দেখা দিয়েছে, ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে এবং চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ দিতে ক্রমান্বয়ে অসুবিধা হচ্ছিল।

    এসব অনিশ্চয়তা রোধ করতে গ্রাম ও শহরের মধ্যে লোডশেডিং সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাশাপাশি রাজধানী ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে ১১০ মেগাওয়াট করে লোডশেডিং চালুর কথা জানিয়েছিলেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত—সংসদে তিনি বলেন, বৈষম্য কমাতে প্রয়োজনে শহরেও লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বিদ্যুৎ বিভাগের সাম্প্রতিক দাবির পরও ভবিষ্যতে স্থিতিশীল সরবরাহ বজায় থাকবে কিনা তা নির্ভর করছে জ্বালানি আমদানি ও উৎপাদন পরিস্থিতির উপর। অংশ—পর্যবেক্ষণ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং জনগণকে খবরের আপডেট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

  • নাহিদের তরুণদের আহ্বান: সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন, এনসিপি দেবে সমর্থন

    নাহিদের তরুণদের আহ্বান: সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন, এনসিপি দেবে সমর্থন

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সারাদেশের তরুণরা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিন — এনসিপি তাদের পাশে থাকবে। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    নাহিদ ইসলাম দাবি করেন ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করছে। তিনি বলেন, ‘‘আপনারা সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন। এনসিপি আপনাদের সমর্থন জানাবে।’’

    তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি জাতীয় নির্বাচনের পর গঠিত সরকার গণভোটের ফলাফলকে অস্বীকার করেছে এবং সেই নির্বাচনকে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানপরবর্তী উত্তরের ধারাবাহিকতা থেকে বিচ্ছিন্ন করে সাধারণ ক্ষমতার পরিবর্তনের নির্বাচন হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। সংবিধান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারবিষয়ক অধ্যাদেশগুলোও একে একে বাতিল করা হচ্ছে, অভিযোগ করেন তিনি।

    নাহিদ বলেন, ‘‘ব্যাংক লুটেরাদের সুবিধা করে দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন উপায়ে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠাগুলো দলীয়করণ করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও পেশিশক্তি এবং ক্ষমতার রাজনীতির প্রভাব আবার নতুন করে বেড়ে উঠছে।’’

    তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি ফ্যাসিবাদ বা নতুন/পুরোনো কোনো স্বৈরতন্ত্র বজায় রাখতে চেষ্টা করা হয়, জনগণ পুনরায় সংগঠিত হয়ে ওঠবে এবং এনসিপির ছায়াতলে ঐক্যবদ্ধ হবে। ‘‘আমরা সারা দেশ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছি,’’ যোগ করেন তিনি।

    অনুষ্ঠানে এনসিপির আহ্বায়কের বক্তব্যে দলের সারাদেশে কর্মসূচি জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দেন নাহিদ। তিনি বলেন, ‘‘প্রতি সপ্তাহেই আমাদের যোগদান কর্মসূচি চলবে। রাজনীতিসচেতন মানুষ ও তরুণদের আমরা আহ্বান জানাচ্ছি—এই দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এনসিপি আপনাদের ধারণ করে সামনে এগিয়ে যেতে চায়।’’

    বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অসন্তোষ প্রকাশ করে নাহিদ বলেন, ‘‘সরকার ক্রমশ ব্যর্থতার দিকে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল, দেশের গণতন্ত্র নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তাও প্রশ্নবিদ্ধ। এই পরিস্থিতিতে জনগণের পাশে একজোট হয়ে দাঁড়ানো ছাড়া আমাদের কোনো বিকল্প নেই।’’

    ইভেন্টে বিএনপি’র বহিষ্কৃত নেতা ইসহাক সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দেন। এছাড়া অবিভক্ত বাংলার প্রখ্যাত রাজনৈতিক নেতার স্ত্রী শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবাল (ফ্লোরা), কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারী মহিউদ্দিন রনি এনসিপিতে যোগদান করেন। ফেরসামিন বিদেশে থাকায় উপস্থিত থাকতে পারেননি; অন্যরা অনুষ্ঠানমঞ্চে ছিলেন। নাম ঘোষণা হওয়ার পর ইসহাক সরকার, নুরুজ্জামান কাফি ও মহিউদ্দিন রনিকে ফুল দিয়ে বরণ করেন নাহিদ ইসলাম।

    এর মধ্যে নাহিদ আরও বলেন, ‘‘আমাদের সারা দেশ থেকেই যোগদান এবং সমর্থনের ঢেউ দেখা যাচ্ছে। যারা রাজনীতি করতে চান এবং পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেন, তারা এনসিপিতে এসে ঐক্যবদ্ধ হন—আমরা তাদের গ্রহণ করে সামনে এগোতে চাই।’’

  • সংবিধান সংস্কারের দাবিতে জামায়েত নেতৃত্বাধীন ১১ দলের নতুন কর্মসূচি; খুলনায় বিভাগীয় সমাবেশ ২০ জুন

    সংবিধান সংস্কারের দাবিতে জামায়েত নেতৃত্বাধীন ১১ দলের নতুন কর্মসূচি; খুলনায় বিভাগীয় সমাবেশ ২০ জুন

    সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও গত গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।

    জোটের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, আগামী ১৬ মে রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচি শুরু হবে এবং এরপর ধাপে ধাপে দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহরগুলোতে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

    বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলের বৈঠকের পর অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ।

    হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘‘সংবিধান সংস্কারের পক্ষে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ রায় দিলেও সরকার সেই রায়কে উপেক্ষা করে যাচ্ছে। নির্বাচনের আগে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল তা অমান্য করা হচ্ছে; সরকার সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ছলচাতুরি করছে।’’

    তিনি কর্মসূচির বিস্তারিত সূচিও ঘোষণা করেন — ১৬ মে রাজশাহী; ১৩ জুন চট্টগ্রাম; ২০ জুন খুলনা; ২৭ জুন ময়মনসিংহ; ১১ জুলাই রংপুর; ১৮ জুলাই বরিশাল এবং ২৫ জুলাই সিলেটে বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

    সমন্বয়ক জানান, আসন্ন ঈদুল আজহার কারণে মে মাসে কেবল একটি সমাবেশ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঈদের ছুটির পর জুন থেকে পুনরায় অনুষ্ঠানের পরিমাণ বাড়িয়ে পূরোদমে আন্দোলন ও সমাবেশ চালানো হবে। প্রতিটি বিভাগীয় সমাবেশে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সব জেলা ও মহানগরের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষকে অংশগ্রহণে আহ্বান জানানো হবে।

    তথ্য অনুযায়ী, একই সঙ্গে ১১ দল বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণিপেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় সভারও আয়োজন করবে। শিক্ষক, আইনজীবী, চিকিৎসক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে এক নারী ও সামাজিক সংগঠনের অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করে জনমত গঠন করা হবে। দেশের সাতটি বিভাগে বিষয়ভিত্তিক সেমিনারও চলমান থাকবে।

    সরকারকে কঠোর ভাষায়批ুক্তি করে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘‘জনগণের রায় নিয়ে ছিনিমিনি খেলা করা হলে চলবে না। আমাদের আন্দোলনকে আরও জোরালো করতে হবে এবং ছাত্র সমাজকেও এতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।’’

    তিনি জানান, ‘গণভোট অনুমোদিত জুলাই আদেশ’ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবিতে জোট ইতিমধ্যে দুই সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। এর আগে গত ১৮ এপ্রিল রাজধানীতে এবং ২৫ এপ্রিল অন্যান্য মহানগরে জোটের গণমিছিল হয়েছে। পূর্বঘোষণামতো আগামী ২ মে দেশের সব জেলা শহরে গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে।

  • সোনার দাম টানা চার দফা কমলো

    সোনার দাম টানা চার দফা কমলো

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) জানিয়েছে, দেশের বাজারে সোনার দাম টানা চার দফা কমানো হয়েছে। সংগঠনটি বলছে, সর্বোচ্চ এক ভরিতে ২,২৫৮ টাকা পর্যন্ত দাম কমানো হয়েছে। ফলে ২২ ক্যারেট মানের এক ভরি সোনার দাম এখন দুই লাখ ৪০ হাজার ৩৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে; গতকাল তা ছিল দুই লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা।

    বাজুস বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল ১০টার বক্তব্যে এই তথ্য জানায় এবং নতুন মূল্য তখন থেকেই কার্যকর হওয়ার কথা বলা হয়েছে। সংগঠনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে তেজাবি (পিওর গোল্ড) আন্তর্জাতিক দামের প্রভাবের কারণে স্থানীয় বাজারে দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

    বেঁধে দেওয়া দাম অনুযায়ী বিভিন্ন ক্যারেটের এক ভরির মূল্য হচ্ছে:

    – ২২ ক্যারেট: দুই লাখ ৪০ হাজার ৩৩৭ টাকা

    – ২১ ক্যারেট: দুই লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা

    – ১৮ ক্যারেট: এক লাখ ৯৬ হাজার ৬৫৫ টাকা

    – সনাতন পদ্ধতি অনুযায়ী: এক লাখ ৬০ হাজার ১৪৭ টাকা

    সোনা বাড়লেও রুপার দাম অপরিবর্তিত আছে। রুপার বিক্রয়মূল্য হিসেবে জানানো হয়েছে:

    – ২২ ক্যারেট: ৫ হাজার ৪৮২ টাকা

    – ২১ ক্যারেট: ৫ হাজার ১৯০ টাকা

    – ১৮ ক্যারেট: ৪ হাজার ৪৯০ টাকা

    – সনাতন পদ্ধতি: ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা

    আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটেও ওঠানামা লক্ষ্য করা গেছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সংঘাত শুরু হওয়ার পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল; পরে মূল্য সমন্বয় ও ওঠানামা দেখা যায়। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে বলা হয়েছে, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম প্রায় ৪,৫০০ ডলার। তার আগে জানুয়ারিতে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১,৫৫০ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল।

    এই পরিবর্তনটি গহনা ব্যবসায়ী ও ছোট-বড় ক্রেতাদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে — উপভোক্তা ও বিনিয়োগকারীরা এখন বাজার পরিস্থিতি মেপে কেনাবেচা করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

  • একদিনের ব্যবধানে আবার কমলো স্বর্ণের দাম

    একদিনের ব্যবধানে আবার কমলো স্বর্ণের দাম

    দেশের বাজারে গত ২৪ ঘণ্টায় আবারও স্বর্ণের দাম কমেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে প্রকাশ করা বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই দাম সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি (পিওর গোল্ড) স্বর্ণের দর কমে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় করে দাম পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। এই সমন্বয়ের ফলে ২১, ১৮ ক্যারেট ও সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরির দামও সংশ্লিষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন দাম অনুযায়ী ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম রাখা হয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার ৬০৫ টাকা।

    এর আগে গত ২৮ এপ্রিল সকালে বাজুস দেশে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল। তখনও ২২ ক্যারেটের এক ভরির দাম ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই সময় ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ছিল ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ছিল ২ লাখ ২১৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি ছিল ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকা—সবই ওইদিন সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়।

    চলতি বছর পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম মোট ৫৮ বার সমন্বয় করা হয়েছে; এর মধ্যে দাম বাড়ানো হয়েছে ৩২ দফায় ও কমানো হয়েছে ২৬ দফায়। উল্লেখ্য, গত ২০২৫ সালে স্বর্ণের দাম দেশে মোট ৯৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল — সেই বছর দাম বাড়ানো হয়েছিল ৬৪ বার এবং কমানো হয়েছিল ২৯ বার।

    স্বর্ণের দাম কমলেও রুপার দাম অপরিবর্তিত আছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রূপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৪৮২ টাকায়। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রূপার দাম ৫ হাজার ১৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৪৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রূপা ৩ হাজার ৩৮৩ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

    চলতি বছর রুপার দাম এখন পর্যন্ত ৩৬ দফা সমন্বয় করা হয়েছে; এর মধ্যে দাম বাড়ানো হয়েছে ১৯ দফায় এবং কমানো হয়েছে ১৭ দফায়। গত ২০২৫ সালে রুপার দাম দেশে মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল—তাতে ১০ বার দাম বেড়েছিল এবং মাত্র ৩ বার কমেছিল।