Blog

  • দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ: জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বিশ্ব অর্থনীতির শঙ্কা

    দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ: জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বিশ্ব অর্থনীতির শঙ্কা

    মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা তীব্র হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচা তেলের দাম দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে উঠেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অন্তর্কলহ ও ঝুঁকির সতর্কবার্তা জারি করেছে। কাতারের জ্বালানি মন্ত্রী ও কাতার এনার্জির প্রধান নির্বাহী সাদ আল-কাবি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে উপসাগরীয় তেল ও গ্যাস রফতানিকারক দেশগুলো কয়েক দিনের মধ্যে উৎপাদন বন্ধ করে দিতে পারে—এমন ঘটনা বিশ্ববাজারে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে।

    ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কাবি বলেন, যদি সংঘাত বাড়ে তা হলে বিশ্ব অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। শনিবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একদিনে প্রায় ৯ শতাংশ বাড়ে এবং প্রতি ব্যারেল প্রায় ৯৩ ডলারের ওপরে উঠে যায়—এটি ২০২৩ সালের শরৎকালী স্তরের পর সর্বোচ্চ।

    বিশ্লেষকেরা বলছেন, তেলদামের এই উত্থান অব্যাহত থাকলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় সরাসরি প্রভাব পড়বে। পরিবহনে খরচ বেড়ে যাবে, গৃহতাপন ও বিদ্যুৎ খরচ বাড়বে, এবং কাঁচামালের লাগামছাড়া মূল্য বৃদ্ধির ফলে খাদ্য ও আমদানিকৃত পণ্যের দাম তীব্রভাবে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কাতার এনার্জি জানিয়েছে তাদের এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্র সামরিক হামলার কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে; কাবি সতর্ক করেছেন, যদি যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হয় তাহলে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১৫০ ডলারে পৌঁছে যেতে পারে।

    কাবি আরও বলেন, এই পরিস্থিতি জারি থাকলে বিশ্বজুড়ে জিডিপি বৃদ্ধির গতি থমকে যেতে পারে, জ্বালানির মূল্য আকাশছোঁয়া হবে এবং কারখানা ও সরবরাহশ্রেনি বিঘ্নিত হলে পণ্যের ঘাটতি দেখা দেবে।

    বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত সপ্তাহে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল সংক্রান্ত উত্তেজনা তীব্র হওয়ার পর ওই সংকীর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচল অনেকটাই বন্ধ হয়ে গেছে, যার ফলে চীন, ভারত ও জাপানসহ তেল-রফতানির উপর নির্ভরশীল বড় অর্থনীতিগুলো কোনও কদাচিৎ কঠোর চাপে পড়েছে।

    রাইস্ট্যাড এনার্জির বিশ্লেষক জর্জে লিওন এই পরিস্থিতিকে ‘বাস্তব ঝুঁকি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন এবং বলেছেন, যদি সরবরাহ দু’সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বাধাগ্রস্ত থাকে তাহলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে তা মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।

    যুক্তরাজ্যের বাজারতদারকি সংস্থার সিএমএ ও জ্বালানি নিয়ন্ত্রক অফিস অফজেম পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে; ইতোমধ্যে সেখানে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে গেছে।

    বিশ্লেষকরা মনে করাচ্ছেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো কাছে যে কয়েক সপ্তাহের তেল মজুদ আছে তা সাময়িক সহায়তা দিতে পারে—কিন্তু মজুদ ফুরিয়ে গেলে বা উৎপাদন স্থায়ীভাবে বন্ধ হলে বাজার স্থির রাখা কঠিন হবে। এমন পরিস্থিতিতে বিস্তৃতি রোধে বিভিন্ন দেশের সরকার জরুরি তেল মজুদ মুক্ত করার মতো পদক্ষেপ বিবেচনা করতে পারে, যেভাবে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘর্ষের সময় করা হয়েছিল।

  • নথিতে দাবি: কিশোরী বয়সে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ

    নথিতে দাবি: কিশোরী বয়সে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ

    বিচার বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস) বৃহস্পতিবার কয়েকটি এফবিআই সাক্ষাৎকারের সারসংক্ষেপ প্রকাশ করেছে, যেগুলোতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠে এসেছে। প্রকাশিত নথিগুলোতে একজন নারীর বক্তব্যের সারমর্ম তুলে ধরা হয়েছে, তিনি দাবি করেছেন—কৈশোর বয়সে ট্রাম্প তাকে যৌন নির্যাতনের চেষ্টা করেছিলেন।

    বিচার বিভাগের প্রকাশিত তিনটি এফবিআই ‘৩০২’ ফাইলে দেওয়া সারসংক্ষেপ অনুযায়ী ওই নারী জানিয়েছেন, জেফরি এপস্টেইনের মাধ্যমে ট্রাম্পের সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছিল এবং তখন তিনি কেবল ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সী ছিলেন। সাক্ষাৎকারের নোটে বলা হয়েছে, একপর্যায়ে ট্রাম্প তাকে জোর করে যৌন কর্মকাণ্ড চালাতে চেয়েছিলেন; আত্মরক্ষায় ওই নারী ট্রাম্পের ‘বিশেষ অঙ্গে’ কামড় দেন, এবং পরে ট্রাম্প তাকে আঘাত করে বলে তিনি দাবি করেছেন।

    ট্রাম্প এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। জেফরি এপস্টেইন সম্পর্কিত কয়েকটি অভিযোগের বিষয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধে অভিযোক্তার ওঠা হয়নি এবং এপস্টেইনের পক্ষে ট্রাম্পের জড়িত থাকার সুগঠিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি—এও নথিতে উল্লেখ আছে। বিচার বিভাগ বহু নথি প্রকাশের সময় উল্লেখ করেছে যে অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত প্রমাণ বা প্রেক্ষাপটের ঘাটতি রয়েছে এবং কিছু নথিতে ‘অসত্য বা চাঞ্চল্যকর দাবি’ থাকতে পারে। রয়টার্স জানিয়েছে তারা এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই করতে পারেনি।

    সোশ্যাল মিডিয়ায় বিচার বিভাগ জানিয়েছে, যে ১৫টি নথি বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে কিছু প্রথমে ভুলবশত ‘ডুপ্লিকেট’ হিসেবে চিহ্নিত থাকায় আগে প্রকাশ হয়নি। এফবিআইর নথিগুলো ইঙ্গিত করে, ২০১৯ সালের পর থেকে তদন্তকারীরা ওই নারীকে আর কোনোভাবে অনুসরণ বা যোগাযোগ করেনি।

    হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এসব অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ আখ্যা দিয়েছেন এবং দাবি করেছেন, অভিযোগকারী ‘মানসিকভাবে বিপর্যস্ত’ এবং তার একটি দীর্ঘ অপরাধমূলক অতীত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, জো বাইডেন প্রশাসনের বিচার বিভাগ দীর্ঘ সময় এসব তথ্য জেনেও কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি, যা ট্রাম্পের নির্দোষতার প্রমাণ বলে হোয়াইট হাউসের মত।

    প্রকাশিত নথিতে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে এফবিআই ওই নারীর সঙ্গে চারবার সাক্ষাৎকার নেয়; এর আগে বিচার বিভাগ সূত্রে চারটির মধ্যে কেবল একটি সাক্ষাৎকারের সারসংক্ষেপ প্রকাশ করা হয়েছিল। নতুন নথিতে অভিযোক্তার দাবি রয়েছে যে ১৯৮০-এর দশকে নিউইয়র্ক বা নিউ জার্সিতে এপস্টেইন তাকে ট্রাম্পের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন এবং একটি বড় কক্ষে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করানো হয়। সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেছেন যে ট্রাম্প ‘বয়-গার্ল’ বলতে যে ধরনের মেয়েদের বোঝাতেন, তিনি সেই ধরনের ছিলেন না—সেই কথাও নোটে আছে।

    প্রকাশিত নথিতে আরও উল্লেখ আছে, এফবিআইর এক সাক্ষাৎকার প্রতিবেদনে নারীটিকে ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল ট্রাম্প সম্পর্কে আরও তথ্য দিতে তিনি আগ্রহী কি না; তার উত্তর ছিল, ‘আমার জীবনের এই পর্যায়ে আরও তথ্য দিয়ে লাভ কী, যখন খুব সম্ভবত এ বিষয়ে আর কিছুই করা যাবে না।’

    এই নথি প্রকাশকে কেন্দ্র করে কংগ্রেসেও প্রশ্ন উঠেছে; কিছু পর্যবেক্ষক বলেন ট্রাম্প-সংক্রান্ত নথি গোপন করা হয়েছিল। প্রতিনিধি পরিষদের একটি কমিটি বিচার বিভাগের নথি প্রকাশ প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলকে তলব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    প্রকাশিত এসব তথ্যের উৎস হিসেবে পলিটিকোকে উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রাম্পের পক্ষ থেকে আগে বলা হয়েছে, এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্ক ২০০০-এর মাঝামাঝি কেটে গিয়েছিল এবং এপস্টেইনের অপরাধ সম্পর্কে তিনি কখনোই অবগত ছিলেন না। পূর্বে প্রকাশিত অন্য এক নথিতে দেখা গেছে ১৯৯০-এর দশকে ট্রাম্প কয়েকবার এপস্টেইনের বিমান ব্যবহার করেছিলেন—যা ট্রাম্প অস্বীকার করেছেন।

    দায় না মেনে জানানো ভালো যে এখানে বর্ণিত অভিযোগগুলোর বেশিরভাগই দাবি পর্যায়ে রয়েছে এবং বিচারের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়নি; প্রকাশিত নথিতেও এ বিষয়ে স্পষ্ট প্রমাণের অভাব ও সানন্দে ভুল তথ্য থাকার কথাও বলা হয়েছে।

  • ড্রোন-সদৃশ বস্তু প্রতিহত হওয়ার পর দুবাই বিমানবন্দর কার্যক্রম স্থগিত

    ড্রোন-সদৃশ বস্তু প্রতিহত হওয়ার পর দুবাই বিমানবন্দর কার্যক্রম স্থগিত

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আজ শনিবার, ৭ মার্চ, আবারও সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিমানবন্দরের কাছাকাছি আকাশে ড্রোন-সদৃশ একটি বস্তু প্রতিহত করার ঘটনাকে ছোটিয়ে দেখে কর্তৃপক্ষ যাত্রী, বিমানবন্দর কর্মী ও এয়ারলাইন্স ক্রুদের নিরাপত্তার স্বার্থে কার্যক্রম স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে দুবাই মিডিয়া অফিস সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে জানিয়েছে।

    প্রতিবেদকদের কাছে পৌঁছানো এক প্রত্যক্ষদর্শীর মন্তব্যে জানা গেছে, ঘটনার সময় তিনি তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শুনে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখতে পান। এই ঘোষণা আসে ঠিক তখনই যখন বিমানবন্দরের নিকটবর্তী আকাশে সন্দেহভাজন বস্তুটির অস্তিত্ব শনাক্ত ও প্রতিহত করা হয়। ফ্লাইটট্র্যাকিং সাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এও এক পর্যায়ে কিছু বিমানের বিমানভ্রমণ বাতাসে চক্কর খাওয়াতে দেখা গেছে।

    উল্লেখ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাতে পরিবেশের ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন স্থানে ড্রোন হামলার ঘটনা চলছিল; গত সোমবার দুবাইয়ের প্রধান বিমানবন্দর থেকে আংশিকভাবে ফ্লাইট পুনরায় চালু করা হয়েছিল। তবে আজ (শনিবার) মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম এয়ারলাইন এমিরেটস জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত দুবাই থেকে সব আগমন ও বহির্গমন ফ্লাইট স্থগিত থাকবে। কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি যাচাই করে পরবর্তী ঘোষণা দেবে বলে expectation করা হচ্ছে।

  • ড্রোন সাদৃশ্য বস্তু প্রতিহত: দুবাই বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ

    ড্রোন সাদৃশ্য বস্তু প্রতিহত: দুবাই বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ

    সংযুক্ত আরব আমিরাত, দুবাই — শনিবার (৭ মার্চ) দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দুবাই মিডিয়া অফিস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, যাত্রী, বিমানবন্দর কর্মী ও এয়ারলাইন্স ক্রুর নিরাপত্তার স্বার্থে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

    বিমানবন্দরের কাছাকাছি আকাশে একটি ড্রোন সাদৃশ্য বস্তু প্রতিহত করার পরই এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা এএফপিকে জানিয়েছেন, তারা একটি জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন এবং এরপর ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে।

    ফ্লাইটরাডার২৪ের মতো ট্র্যাকিং সাইটে দেখা গেছে কিছু বিমান ছায়াছবির মতোভাবে আকাশে চক্কর দিচ্ছে। গত কয়েক দিনের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন স্থানে ড্রোন হামলার ঘটনা বাড়ায় ইতোমধ্যেই নিরাপত্তা সতর্কতা বজায় রাখা হচ্ছিল; গত সোমবার দুবাইয়ের প্রধান বিমানবন্দর থেকেও আংশিকভাবে ফ্লাইট চালু হয়েছিল।

    তবে আজকে মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম এয়ারলাইন এমিরেটস ঘোষণা দিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত দুবাই থেকে সব আগমন এবং প্রস্থানের ফ্লাইট স্থগিত থাকবে। বিমানযাত্রীরা সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স ও কর্তৃপক্ষের আপডেট অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

  • ডিজোপি প্রকাশ করেছে এফবিআই সাক্ষাৎকার সারসংক্ষেপে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কিশোরী নির্যাতনের অভিযোগ

    ডিজোপি প্রকাশ করেছে এফবিআই সাক্ষাৎকার সারসংক্ষেপে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কিশোরী নির্যাতনের অভিযোগ

    যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস) বৃহস্পতিবার এফবিআইর একাধিক সাক্ষাৎকারের সারসংক্ষেপ প্রকাশ করেছে, যেখানে এক নারী দাবি করেছেন যে কৈশোরে তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। প্রকাশিত নথিগুলো মূলত ২০১৯ সালে এফবিআই প্রস্তুত করা ৩০২ ফাইলের সারসংক্ষেপ—যেখানে ওই নারীর সঙ্গে করা সাক্ষাৎকারের বিবরণ রাখা আছে।

    সাক্ষাৎকারগুলোর সারসংক্ষেপে ওই নারী জানিয়েছেন, তার পরিচয় হয়েছিল অভিযুক্ত যৌন পাচারকারী জেফরি এপস্টেইনের মাধ্যমে। তখন তিনি প্রায় ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সী ছিলেন বলে নথিতে উল্লেখ আছে। নারীর দাবি, এপস্টেইন তাকে নিউইয়র্ক বা নিউ জার্সির একটি উচ্চ ভবনের বড় কক্ষে নিয়ে যান এবং সেখানে ট্রাম্পের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।

    এসব নথিতে আরও বলা হয়েছে—তাঁর কথায়, ট্রাম্প তাঁকে জোর করে যৌন সম্পর্কের চেষ্টা করলে আত্মরক্ষার্থে তিনি ট্রাম্পের ‘বিশেষ অঙ্গে’ কামড় দেন; এরপর ট্রাম্প তাঁকে আঘাত করেন, এমনটাই ওই সাক্ষাৎকারে উল্লেখ আছে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, ১৯৮০-এর দশকে এপস্টেইনের মাধ্যমে পরিচয়ের পরে ট্রাম্প তাকে ওরাল সেক্সে বাধ্য করার চেষ্টা করেছিলেন।

    ট্রাম্প এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট অভিযোগগুলোকে “সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন” আখ্যা দিয়ে বলেন, এগুলোর পক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ নেই এবং তিনি অভিযোগকারীকে মানসিক ও অপরাধমূলক অতীতসম্পন্ন বলে উল্লেখ করেন।

    বিচার বিভাগ প্রকাশ্যে সতর্কও করেছে যে, প্রকাশিত কিছু নথিতে ‘‘অসত্য ও চাঞ্চল্যকর দাবি’’ থাকতে পারে এবং সব তথ্য সমগ্র প্রেক্ষাপটে যাচাই করা হয়নি। রয়টার্স অনুসন্ধান করে জানিয়েছে যে তারা ওই অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। এফবিআইর নথিতে ইঙ্গিত আছে, ২০১৯ সালের পরে তদন্তকারীরা ওই নারীর সঙ্গে আর যোগাযোগ করেননি।

    বিচার বিভাগ বলেছে, বৃহস্পতিবার প্রকাশিত নথিগুলো ১৫টি কাগজপত্রের অংশ, যেগুলো আগে ভুলবশত ‘‘ডুপ্লিকেট’’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় প্রকাশ বাদ পড়েছিল।

    এপস্টেইন সংক্রান্ত নথি প্রকাশের ঘটনার পর কংগ্রেসেও প্রশ্ন উঠেছে—কোভর্ক করে অভিযোগ করা হচ্ছে যে ট্রাম্প-সংক্রান্ত কিছু নথি গোপন করা হয়েছিল। অভিযোগ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের একটি কমিটি অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডিকে তলব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে তারা জানতে পারে সরকার কীভাবে এসব নথি প্রকাশের বিষয়টি পরিচালনা করছে।

    নথিতে আরও দেখা গেছে, ১৯৯০-এর দশকে ট্রাম্প কয়েকবার এপস্টেইনের ব্যক্তিগত বিমানে ভ্রমণ করেছিলেন—যা নিয়ে ট্রাম্পের নিজস্ব মন্তব্য আলাদা। এছাড়া এক নথিতে বলা আছে, এপস্টেইনের বিরুদ্ধে প্রথম যৌন অসদাচরণের অভিযোগ ওঠার পর ট্রাম্প পাম বিচের পুলিশের প্রধানকে ফোন করে বলে ছিলেন যে ‘‘সবাই জানত সে এসব করছিল।’’

    ২০১৯ সালের একটি শেষ সাক্ষাৎকারের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, তখন ট্রাম্পের প্রথমবারের প্রেসিডেন্ট মেয়াদকাল চলছিল এবং এফবিআই এজেন্টরা ওই নারীকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন ট্রাম্প সম্পর্কে আরও তথ্য দিতে তিনি আগ্রহী কি না। তার প্রতিক্রিয়া ছিল—‘‘আমার জীবনের এই পর্যায়ে আরও তথ্য দিয়ে লাভ কী, যখন খুব সম্ভবত এ বিষয়ে আর কিছুই করা যাবে না।’’

    এই অনলাইন প্রকাশনার তথ্যসূত্র হিসেবে পলিটিকোকে উল্লেখ করা হয়েছে। বিচার বিভাগ নথি প্রকাশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সতর্কবার্তাও দিয়েছেন—সকল দাবিই যাচাইসাপেক্ষ।

  • ইবি শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনা হত্যায় দুই শিক্ষক ও এক কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

    ইবি শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনা হত্যায় দুই শিক্ষক ও এক কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

    ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) প্রশাসন সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। একই সঙ্গে ঘটনার তীব্রতা ও জটিলতা বিবেচনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় — এই নির্দেশনা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর শনিবার পৃথক অফিস আদেশে জারি করে।

    অফিস আদেশে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি শৃঙ্খলা বিধির ১৫(খ) ধারা অনুযায়ী তিনজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত তালিকায় আছেন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার, পাশাপাশি মামলার আসামি হিসেবে নাম রয়েছে বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস (২নং আসামি), সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও মামলার ৩নং আসামি শ্যাম সুন্দর সরকার এবং একই বিভাগের অন্য সহকারী অধ্যাপক ও মামলার ৪নং আসামি হাবিবুর রহমান। বরখাস্তকালীন সময়ে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী জীবনধারণ ভাতা পাবেন বলে আদেশে উল্লেখ আছে।

    হারানো শিক্ষকের হত্যাকাণ্ডের ঘটনার স্বচ্ছ ও দ্রুত তদন্তের লক্ষ্যে গঠন করা তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে হিসাববিজ্ঞান ও তথ্যপদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানকে, আর উপ-রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) গোলাম মওলাকে করা হয়েছে সদস্যসচিব। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক রশিদুজ্জামান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম এবং লালন শাহ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক গাজী আরিফুজ্জামান খান। প্রশাসন কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে।

    আবেগে ক্ষুব্ধ সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থীরা ওই হত্যাকাণ্ডের দায়ে জড়িতদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার জন্য এবং অন্যান্য দাবি জানিয়েও উপাচার্যের কাছে পাঁচ দফা স্মারকলিপি দিয়েছেন। তাদের দাবি তালিকায় আছে নিহত আসমা সাদিয়া রুনার পরিবারের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিভাগের সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত পুনঃচলমান করা, বিভাগ প্রতিষ্ঠার থেকে চলা সব আর্থিক লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা এবং আসমা সাদিয়ার স্মৃতি স্মরণীয় রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নামকরণ করা—এসব বিষয় দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি করা হয়েছে।

    এদিকে আগামীকাল (রোববার) সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের উদ্যোগে আসমা সাদিয়া রুনার স্মরণে শোকসভা ও দোয়া মাহফিল আয়োজিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রদায় ও শিক্ষার্থীরা হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিয়ে গভীর সচেতনতা ও দ্রুত ন্যায়বিচার দাবিতে একযোগে এগিয়ে আসছেন। প্রশাসন তদন্ত ও বিচারের প্রক্রিয়া দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করার আশ্বাস দিয়েছে।

  • ফকিরহাটে ৯ বছরের শিশুর ধর্ষণ মামলার আসামী মো. রমজান মোড়ল চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার

    ফকিরহাটে ৯ বছরের শিশুর ধর্ষণ মামলার আসামী মো. রমজান মোড়ল চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার

    ফকিরহাটে আলোচিত এক ধর্ষণ মামলার একমাত্র আসামী মো. রমজান মোড়ল (৭০)কে চট্টগ্রামের পটિયા থেকে গ্রেপ্তার করে ফকিরহাট থানার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তাকে শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে ফকিরহাট মডেল থানা থেকে বাগেরহাট আদালতে পাঠানো হয়।

    গ্রেপ্তারকৃত রমজান মোড়ল উপজেলার কামটা গ্রামের মৃত পাচু মোড়লের ছেলে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৩০ অক্টোবর উপজেলার এক দরিদ্র ভ্যানচালকের বাড়ির ৯ বছর বয়সী মাদ্রাসা ছাত্রী বাড়ির পাশে খেলতে থাকা অবস্থায় পাশের বাড়ির অন্য কিছু শিশুর সঙ্গে থাকা অবস্থায় রমজান তাকে ফাঁকা বাড়িতে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে বাড়ির গোয়াল ঘরে নিয়ে গিয়ে ধারালো অস্ত্র (হাসুয়া) দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করার অভিযোগ রয়েছে।

    শিশুটি চিৎকার করলে পাশের বাড়ির এক নারী দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে রমজান পালিয়ে যায়। ঘটনার সময় শিশুটির পরিবারের কেউ বাড়িতে ছিলেন না বলে জানা গেছে।

    শিশুটির বাবা বাদী হয়ে মো. রমজান মোড়লকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-৯(১) ধারায় ফকিরহাট থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেন (মামলা নং-৭, এজাহার তারিখ-১১/১১/২০২৫ ইং)। অভিযোগের পর রমজান এলাকায় থেকে পালিয়ে যায়।

    এজাহারভুক্ত একমাত্র আসামিকে খুঁজতে তদন্ত পরিচালনা করার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৭ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে রমজানকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর তাকে স্থানীয় পটিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয় এবং পরবর্তীকালে ফকিরহাট মডেল থানা পুলিশ শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায় তাকে ফকিরহাটে নিয়ে আসে।

    ফকিরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ধর্ষণ মামলার একমাত্র অভিযুক্ত মো. রমজান মোড়লকে শনিবার দুপুরে প্রতিবেদনসহ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের খবর দুর্ঘটনায় আহত পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে সন্তোষের সঞ্চার করেছে। নিরাপত্তা ও ন্যায়প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার কথাও পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

  • ফকিরহাটে ৯ বছরের ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলার প্রধান আসামী চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার

    ফকিরহাটে ৯ বছরের ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলার প্রধান আসামী চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার

    ফকিরহাটে প্রকাশ্য বিতর্কিত একটি শিশুধর্ষণ মামলার একমাত্র আসামী মো. রমজান মোড়ল (৭০)কে চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রবিবার (৭ মার্চ) দুপুরে ফকিরহাট মডেল থানা থেকে তাকে বাগেরহাট আদালতে প্রেরণ করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

    পুলিশের বরাতে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত মো. রমজান মোড়ল উপজেলার কামটা গ্রামের মৃত পাচু মোড়লের ছেলে। র‌্যাব-৭ের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে নিকটস্থ পটিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয় এবং শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায় ফকিরহাট মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে নিয়ে আসে।

    পুলিশ ও মামলার ব্যাখ্যা অনুসারে, ঘটনাটি ঘটে গত বছরের ৩০ অক্টোবর। 당시 ওই এলাকার এক দরিদ্র ভ্যান চালকের ৯ বছর বয়সী মাদ্রাসা ছাত্রী (দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী) বাড়ির পাশের খেলার সময় অভিযুক্ত তাকে পাশের ফাঁকা বাড়িতে ডেকে নিয়ে যান। এরপর শিশুটিকে বাড়ির গোয়ালঘরে নিয়ে গিয়ে ধারালো অস্ত্র (হাসুয়া) দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়।

    শিশুটি চিৎকার করলে পাশের বাড়ির একজন নারী ঘটনাস্থলে ছুটে এসে কঠোরতা ঠেকানোর চেষ্টা করলে অভিযুক্ত পালিয়ে যায়। ঘটনার সময় শিশুটির পরিবারের কেউই বাড়িতে ছিলেন না বলে জানায় পুলিশ।

    শিশুটির বাবা বাদী হয়ে ফকিরহাট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-৯(১) ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-৭, তারিখ-১১/১১/২০২৫ইং হিসেবে নথিভুক্ত রয়েছে।

    মামলাটি দীর্ঘ সময়ের তদন্ত ও গোপন সংবাদের পর গত বৃহস্পতিবার আসামিকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরিবার গ্রেপ্তার খবর পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

    ফকিরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ধর্ষণ মামলার একমাত্র আসামী মো. রমজান মোড়লকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও রিপোর্ট তৈরীর পর শনিবার দুপুরে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

  • ইবি: আসমা সাদিয়া রুনা হত্যায় দুই শিক্ষক ও এক কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত, পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি

    ইবি: আসমা সাদিয়া রুনা হত্যায় দুই শিক্ষক ও এক কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত, পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি

    ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিনজনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে এবং একই ঘটনার তদন্তের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে পৃথক অফিস আদেশে এই তথ্য জানানো হয়।

    অফিস আদেশে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি শৃঙ্খলা বিধির ১৫(খ) ধারা অনুযায়ী ওই তিনজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকৃতদের মধ্যে রয়েছেন আয়েশা সিদ্দিকা হলে অফিসে থাকা সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস (হত্যা মামলার ২ নম্বর আসামি), সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও মামলার ৩ নম্বর আসামি শ্যাম সুন্দর সরকার এবং একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও মামলার ৪ নম্বর আসামি হাবিবুর রহমান। বরখাস্তের সময় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী জীবনধারণ ভাতা পাবেন বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

    তদন্ত কমিটিতে হিসাববিজ্ঞান ও তথ্যপদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানকে আহ্বায়ক করে নিয়োগ করা হয়েছে এবং উপ-রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) গোলাম মওলাকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক রশিদুজ্জামান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম এবং লালন শাহ হলে প্রভোস্ট অধ্যাপক গাজী আরিফুজ্জামান খান। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কমিটিকে দ্রুততম সময়ে ঘটনার সঠিক তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে।

    এদিকে সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের কাছে একটি স্মারকলিপি দিয়ে-five দফা দাবি তুলেছেন। তাদের দাবি ছিল- আসমা সাদিয়া রুনার পরিবারের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দ্রুত বিভাগীয় সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পুনরায় চালু করা, বিভাগের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সব আর্থিক লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা, আসমা সাদিয়া রুনার স্মৃতি স্মরণীয় রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নামকরণ করা এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা (১৫ দিনের মধ্যে)।

    এ ছাড়া সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের উদ্যোগে আগামীকাল আসমা সাদিয়া রুনার স্মরণে শোকসভা ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং ছাত্রসমাজের উদ্যোগে তদন্ত ও দায়ভার নিশ্চিত করার অগ্রগতি নিয়ে ভবিষ্যতে সরকারি ও প্রশাসনিক পর্যায়ে আরও তথ্য জানানো হবে।

  • নিউজিল্যান্ড সিরিজে দলে ফিরতে আশা রাখছেন সাকিব

    নিউজিল্যান্ড সিরিজে দলে ফিরতে আশা রাখছেন সাকিব

    দেশে না থাকলেও ক্রিকেটাঙ্গনে এখনও সাকিব আল হাসানের নাম শোনা যায় প্রতিনিয়তই। জাতীয় দলে তার প্রত্যাবর্তন নিয়ে এখন গুঞ্জন তুঙ্গে; ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী থেকে বিসিবির উর্ধ্বতন ব্যক্তিত্বরা এবং দলের ক্রিকেটাররাও সাকিবকে দলে ফেরানোর বিষয়টি বিস্তৃতভাবে আলোচনায় এনেছেন। জাতীয় দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও মত দিয়েছেন, সাকিবের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড় থাকলে অধিনায়কের কাজ অনেক সহজ হয়।

    আলোকপাত হয়েছিল যে ঘরের মাঠে আয়োজন করা পাকিস্তান সিরিজে হয়তো তাকে দলে ফেরানো হতে পারে। কিন্তু বিসিবি যখন পাকিস্তান সিরিজের হতাশাজনক স্পষ্ট স্কোয়াড ঘোষণা করেছে, সেখানে সাকিবের নাম ছিল না। তার দেশে ফেরার পথে অগ্রগতি না থাকায় এবং মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে আপাতত সে সম্ভাবনা থমকে আছে।

    তবে দুঃখ নয় — সাকিব নিজেই ঢাকা পোস্টকে খুদে বার্তায় জানিয়েছেন, আগামী মাসে নিউজিল্যান্ড সিরিজ থেকেই দলে ফিরতে চান। তিনি নিয়মিত কড়া প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছেন যাতে ফিটনেস বজায় থাকে এবং ফিরে ক্রিকেটে পুরোপুরি নিজেকে প্রস্তুত রাখেন।

    এ বিষয়ে গত ৪ মার্চ কক্সবাজার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিসিবির পরিচালক আসিফ আকবর জানিয়েছিলেন, সাকিবের বিষয়টি চলছে এবং বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় ও বিসিবি মিলিয়ে আইনগত টিমের সঙ্গে কাজ করছে এবং দ্রুত সমাধানের আশায় তারা অনড়। আসিফ আরও যোগ করেছিলেন, আমরা সারা বাংলাদেশের মতোই অপেক্ষা করছি এবং যত দ্রুত সম্ভব সাকিবকে মাঠে দেখার আশাবাদী।

    প্রসঙ্গত, সাকিব আল হাসান সর্বশেষ জাতীয় দলের হয়ে খেলেছিলেন ২০২৪ সালে। সংসদ সদস্য হিসেবে পদে আসার পর থেকে তাকে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে এবং একাধিক মামলার কারণে তিনি দেশে ফিরতে পারেননি। একবার দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিয়েও দুবাই পর্যন্ত এসে পরে নিজেই সিদ্ধান্ত বদলাতে হয়েছে। এখন থেকে লক্ষ তার নিউজিল্যান্ড সিরিজই, যেখানে ভক্তরা আবার তাঁকে দলের ঘর দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন।