Blog

  • নাহিদ ইসলাম বলছেন, সারাদেশে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস ছড়িয়ে পড়েছে

    নাহিদ ইসলাম বলছেন, সারাদেশে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস ছড়িয়ে পড়েছে

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মোঃ নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, দেশজুড়ে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি এবং সন্ত্রাসের আধিপত্য বিস্তার করছে। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের ভোটাধিকার অস্বীকার করা হয়েছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক ভিত্তিকে ক্ষতিগ্রস্থ করছে। এই পরিস্থিতিতে একটি শক্তিশালী বিকল্প আন্দোলন গড়ে তুলতে এবং বৈষম্যহীন, অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য সবাইকে একত্র হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। রোববার দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, বর্তমান বৈষম্যবিরোধী কমিটির নেতারা ও তার দলের (এবি পার্টি) ব্যারিস্টার সানি সহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি আজ আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দিচ্ছেন। তিনি উল্লেখ করেন, তরুণদের একত্রিত করে আমরা একটি বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলছি, যারা জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিলেন, তাদের আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য হলো একটি শক্তিশালী অ্যালায়েন্স বা কোয়ালিশন গঠন, কারণ আমরা আরেকবার আগের মতো অকার্যকর ব্যর্থ ব্যবস্থায় ফিরে যেতে চাই না।

    এনসিপির আহ্বায়ক বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, বর্তমান সরকারের পরিবর্তে আওয়ামী লীগই আসরে এসেছে। তিনি বলেন,

  • বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন পেলেন যারা

    বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন পেলেন যারা

    জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বিএনপি তার প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করেছে। এই তালিকায় এখন পর্যন্ত ৩৪ জনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে আরও দুটি নাম পরে ঘোষণা করবে দলটি। সোমবার (২০ এপ্রিল) বিএনপির পক্ষ থেকে এই নামগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন দলের প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

    মনোনয়নপ্রাপ্তরা যাচাই-বাছাই শেষে দলের ত্যাগী ও সক্রিয় নেত্রীদের মধ্য থেকে বেছে নেওয়া হয়েছে, যারা সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য আবেদন করেছেন। রিজভী জানান, এসব প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন দলটির মূল সারির নেত্রী ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী কর্মী হিসেবে।

    নির্বাচিত প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, রাশেদা বেগম, হিরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আর্লি, মোছাম্মত ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, শাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলুফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, জেবা আমিন খান, মাহমুদা হাবিবা, সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিঞ্জ, সুবর্ণা শিকদার, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বিথীকা বিনতে হুসাইন, সুরাইয়া জেরিন, মানছুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলম, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, সানজিদা ইয়াসমিন, শওকত আর আক্তার, মাধবী মারমা, সেলিনা সুলতানা ও রেজেকা সুলতানা।

  • বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে হেভিওয়েটরা থাকছেন না

    বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে হেভিওয়েটরা থাকছেন না

    বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনে ৩৬ প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে বিএনপি। দীর্ঘ দুই দশক পর ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার পর দেশের রাজনীতিতে অনেক নতুন মুখ এসেছে, কিন্তু এ বছর সংরক্ষিত আসনের মনোনয়ন তালিকায় বেশ কয়েকজন পরিচিত ও প্রভাবশালী নেত্রী স্থান পাননি। বিশেষ করে, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস, সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়ার মতো নারী নেত্রীরা এবার মনোনয়নের তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। এছাড়াও, বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী কেড়েকজন নারী নেত্রীর নামও এই তালিকায় নেই।

    আজ সোমবার (২০ এপ্রিল) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এই তালিকা প্রকাশ করেন। তিনি জানিয়েছেন, আলোচনা ও সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছেন ৩৬ জন প্রার্থী। বাদ পড়া হেভিওয়েট প্রার্থীরা হলেন, নারী দলের সভাপতি ও মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস, শিক্ষামন্ত্রী আ.ন.ম. এহছানুল হক মিলনের সহধর্মিণী ও মহিলা দলের সহ-সভাপতি নাজমুন নাহার বেবী, কৃষিবিষয়ক সম্পাদক সেলিনা হাফিজ, কণকচাঁপা, বেবী নাজনীন, বিএনপির সাবেক নেতা মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসিনা জসিমউদ্দীন মওদুদ, খিলগাঁও মডেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষক রোকেয়া চৌধুরী, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর স্ত্রী রুমানা মাহমুদ, ছোট পর্দার অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক ও সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া।

    সংবাদ সম্মেলনে রিজভী জানান, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য জাতীয় কমিটির সদস্যরা দুই দিনব্যাপী সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন। শেষ পর্যায়ে মনোনয়ন বোর্ড ৩৬ জন প্রার্থীকে চূড়ান্ত করে মনোনীত করেছে।

  • প্রধানমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন: ন্যায়বিচার এত দয়া নয়, এটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার

    প্রধানমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন: ন্যায়বিচার এত দয়া নয়, এটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ন্যায়বিচার কেবল দয়া বা অনুগ্রহের বিষয় নয়, এটি প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। সোমবার (২০ এপ্রিল) বগুড়া জেলা আইনজীবী সমিতির নতুন ভবনের ফলক উন্মোচন শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, বিচার ব্যবস্থা দেশের ন্যায়বিচার ও শাসনের মূল ভিত্তি। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আদালত ও বিচারব্যবস্থা দলীয়করণ করা হয়েছিল, যেখানে রাতের আঁধারে বেআইনি আদেশ নেমে আসত এবং আইনের শাসন ব্যাহত হত। প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য, আদালত হচ্ছে মানুষকে হয়রানি নয়, বরং আস্থা ও বিশ্বাসের স্থান। তিনি বলেন, ইবেইল বন্ডের মাধ্যমে জামিনে হয়রানি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ দেড় দশকব্যাপী ফ্যাসিবাদী শাসনের পর জনগণ ভোটের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার পেয়েছে। এখন আমাদের দায়িত্ব হলো সমস্ত ধরনের স্বৈরাচার ও অবিচার রোধ করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা, যেন নাগরিকেরা তাদের সাংবিধানিক অধিকার নির্বিঘ্নে পেতে পারে। এছাড়াও, তিনি ঘোষণা করেন যে, সরকারের পক্ষ থেকে বগুড়া কোর্ট ভবনের নির্মাণে ১৫ লাখ টাকা এবং লাইব্রেরির জন্য ৫ লাখ টাকা অর্থ প্রদান করা হবে, মোট ২০ লাখ টাকা। এ সময় তিনি গার্ড অব অনার প্রদান করেন এবং নব নির্মিত ভবনের ফলক উন্মোচন করেন। একই সঙ্গে, ই-বেইল বন্ড কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এরপর তিনি বগুড়া শহরে নবনির্মিত বগুড়া সিটি করপোরেশনের ফলক উন্মোচন করেন, যা ১৮৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বগুড়া পৌরসভাকে উন্নীত করে নতুন পর্যায়ে নিয়ে গেছে। প্রায় ২০ বছর পরে তিনি গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি গ্রামে নিজস্ব বাসভবনে যাবেন। দুপুরে সেখানে জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতালে জরুরি হাম রুবেলা টিকা ক্যাম্প উদ্বোধন করবেন। পরে শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে দ্বিতীয় ধাপের ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। এরপর নশিপুর ইউনিয়নের বাগবাড়ি গ্রামে চৌকিরদহ খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। সবশেষে, পৈত্রিক বাড়িতে অবস্থান শেষে বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেসা খেলার মাঠে জনসভায় যোগ দেবেন তিনি।

  • মেহেরপুরে বিএনপি নেতাকে গুলি

    মেহেরপুরে বিএনপি নেতাকে গুলি

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলাতে ঘটে গেছে এক দুঃখজনক ঘটনা, যেখানে বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাহারবাটি ইউনিয়ন বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মুকুল হোসেনকে দুর্বৃত্তরা গুলি করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (২০ এপ্রিল) ভোর ৫টায় কাথুলি সড়কের সাহারবাটি ও ভাটপাড়া এলাকার মধ্যবর্তী কাশেম মোড় নামক স্থানে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুর্বৃত্তদের হামলায় মুকুল হোসেনের বুকে ও পিঠে পাঁচটি গুলি লাগে, তিনি বর্তমানে কঠিন অবস্থায় গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছেন এবং দ্বিতীয় চিকিৎসার জন্য তাকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। দুপুরের দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উত্তম কুমার দাসের নেতৃত্বে একটি তদন্ত টিম গুলি খোসা ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও মুকুল হোসেনের উপরে দুই দফায় বোমা হামলা চালানো হয়েছিল, যা স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধের কারণে ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশের কাছ থেকে জানানো হয়, ঘটনার তদন্ত চলমান এবং এলাকায় আরো নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

  • প্রধানমন্ত্রী বগুড়া সিটি করপোরেশন উদ্বোধन করলেন

    প্রধানমন্ত্রী বগুড়া সিটি করপোরেশন উদ্বোধन করলেন

    বগুড়া জেলা হিসেবে দেশের ১৩তম সিটি করপোরেশন হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল। সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় পৌর ভবনে উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সামনে ফলক উন্মোচন করা হয়, যেখানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে বগুড়ার জনগণের দীর্ঘদিনের ভাষা বাস্তবায়নে এই সিদ্ধান্তের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বগুড়ার মানুষের বহুদিনের প্রত্যাশা ছিল একটি সিটি করপোরেশনের। ২০০১ সাল থেকে সরকার নানা পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করে, এবং ২০০৬ সালে এই সুবিধাগুলোর ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। আজ গণপ্রতিনিধিত্বশীল এই নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হলো।’ তিনি আরও বলেন, ‘নিজের শহরকে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর রাখতে সকলেরই উদ্যোগী হওয়া দরকার। সরকার প্রশাসন সবসময় জনগণের সেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত, তবে নাগরিকে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পালন করতে হবে।’

    উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, স্থানীয় সরকার সচিব শহীদুল হাসান, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ও জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

    এর আগে, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত ১২টি সিটি করপোরেশন হলো—ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, রংপুর, গাজীপুর ও ময়মনসিংহ।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকালে বগুড়ার সার্কিট হাউসে পৌঁছান। এ সময় জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান ফুল দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। এটি তার নিজ জেলা বগুড়ায় প্রথম সফর।

    সকাল ৬টায় রাজধানীর গুলশান থেকে সড়কপথে বগুড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। সফরে তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। সব কাজ শেষে সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি ঢাকায় ফেরার জন্য রওনা হবেন।

  • পুলিশের ৬ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি

    পুলিশের ৬ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি

    বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে, যেখানে ছয়জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বদলি করা হয়েছে। রোববার (১৯ এপ্রিল) পুলিশ সদর দপ্তরের পেরসোনেল ম্যানেজমেন্ট শাখা-১ থেকে এ ব্যাপারে আদেশ জারি করেন অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেল রায়হান উদ্দিন খান। এই বদলির মূল লক্ষ্য হলো পুলিশের কার্যকর্মে গতি আনা ও জনসেবা আরও উন্নত করা।

    আদেশ অনুযায়ী, মুন্সিগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. বিল্লাল হোসেনকে একই জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশারকে একই পদে মুন্সিগঞ্জে বদলি করা হয়েছে। এছাড়া, যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রুহুল আমিনকেও পুলিশ সদর দপ্তরে তুলে নেওয়া হয়েছে। মাগুরা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপংকর ঘোষকে নারায়ণগঞ্জের খ-সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও নৌ পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার মো. ইমতিয়াজ আহম্মেদকে ফেনীর ছাগলনাইয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

    আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আদেশে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের খ-সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও বর্তমানে টাঙ্গাইলের গোপালপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মো. ইমরান আহম্মেদকে মুন্সিগঞ্জের পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে, টাঙ্গাইলের গোপালপুরে বদলির之前 দেওয়া তাঁর বদলি আদেশ বাতিল করা হয়েছে।

    অফিসিয়াল আদেশে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে এ পরিবর্তনগুলো অবিলম্বে কার্যকর করা হবে। এই বদলিগুলোর মাধ্যমে পুলিশ বিভাগে শক্তি ও কার্যক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জনগণের সেবা আরও উন্নত করার প্রত্যাশা ফুটে উঠেছে।

  • নৌপথে ৪২% ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব লঞ্চ মালিকদের

    নৌপথে ৪২% ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব লঞ্চ মালিকদের

    জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে অভ্যন্তরীণ নৌপথে লঞ্চের ভাড়ার উর্ধগতি আনতে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে লঞ্চ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থা। তারা প্রস্তাব করেছে, ভাড়া ৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা উচিত। রোববার এই প্রস্তাবের একটি চিঠি পাঠানো হয় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যানের কাছে। সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বদিউজ্জামান বাদল স্বাক্ষরিত এই চিঠিতে বলা হয়েছে, ১৮ এপ্রিল সরকার ডিজেলের দামে লিটারে ১৫ টাকা বৃদ্ধি করে নতুন দাম নির্ধারণ করেছে, যার ফলে লঞ্চ পরিচালন ব্যয় অনেক বেশি বেড়ে গেছে। পাশাপাশি প্লেট, এল, প্রপেলার, ইঞ্জিনের খুচরা যন্ত্রাংশ, ফুয়েলিং রড, গ্যাস, রং এবং অন্যান্য যন্ত্রাংশের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে মোট পরিচালন ব্যয় প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

    চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যাত্রীভাড়ার প্রস্তাব অনুযায়ী, ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বের জন্য প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ১ টাকা বাড়িয়ে ৩ টাকা ৭৭ পয়সা করা সুপারিশ করা হয়েছে, যা প্রায় ৩৬ শতাংশ বাড়ে। আর ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বের জন্য প্রতি কিলোমিটারে বর্তমান ১ টাকা বাড়িয়ে ৩ টাকা ৩৮ পয়সা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা প্রায় ৪২ শতাংশ বৃদ্ধি। এছাড়া, করোনা ও অন্যান্য জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে সর্বনিম্ন যাত্রী ভাড়া ২৯ টাকার পরিবর্তে ৩৫ টাকা নির্ধারণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    বিআইডব্লিউটিএ নৌপথে ভাড়া নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। তাদের অনুমোদিত ভাড়ার তালিকা নদীবন্দর, টার্মিনাল, ঘাট ও নৌযানে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান রাখার নির্দেশনা রয়েছে।

    সংগঠনের চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার মানোন্নয়নের কারণে অনেক যাত্রী এখন সড়কপথে যাতায়াত পছন্দ করছেন, ফলে নৌপথে যাত্রীর সংখ্যা কমে গেছে। ফলে প্রচুর সংখ্যক যাত্রী না পাওয়ায় ও ব্যবসার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছিল। এই পরিস্থিতিতে ভাড়া সমন্বয় না করলে নৌর ব্যবসা চালিয়ে রাখা খুবই কঠিন হয়ে পড়বে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে বলে প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন লঞ্চ মালিকরা।

    অপরদিকে, সংগঠনের মহাসচিব সিদ্দিকুর রহমান সমকালকে জানিয়েছেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে লঞ্চের চালানোর খরচ প্রায় ২১ হাজার টাকার মতো বেড়ে গেছে। ঢাকা থেকে বরিশাল যাওয়ার জন্য সাধারণত ৬ থেকে ৭ হাজার লিটার ডিজেল লাগে। প্রতি লিটার ডিজেলে ১৫ টাকা করে বৃদ্ধির ফলে ঢাকার অর্ধেক দামে মোট খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৫ হাজার টাকা। তাই ভাড়ার এই বৃদ্ধি প্রস্তাব করা হয়েছে।

    বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তারা বলছেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির এই পরিস্থিতিতে তারা বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেবেন এবং তৎক্ষণাৎ সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর বিষয়টি এখনো সংশ্লিষ্ট নয়।

  • সিটি ও আন্তঃজেলা বাসে প্রতি কিলোমিটারে ২২ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আজ হতে পারে

    সিটি ও আন্তঃজেলা বাসে প্রতি কিলোমিটারে ২২ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আজ হতে পারে

    জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি সামনে রেখে সিটি ও আন্তঃজেলা বাসের ভাড়া সমন্বয়ের প্রস্তাব নিয়ে সরকারগতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। ভাড়া পুনঃনির্ধারণ কমিটি প্রতিটি কিলোমিটারে ২২ পয়সা বাড়ানোর বিষয়ে মোটামুটি একমত হলেও এখনও চূড়ান্ত অনুমোদন হয়নি; এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আজ হতে পারে।

    রোববার রাতে বনানীর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কার্যালয়ে ওই ১২ সদস্যের ভাড়া পুনঃনির্ধারণ কমিটির বৈঠক হয়। সভা সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে শুরু হয়ে প্রায় রাত ১০টার দিকে শেষ হলেও তখন ভাড়া চূড়ান্ত করা হয়নি, বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

    কমিটির এক সদস্য জানান, আলোচনা চলাকালে সদস্যেরা সাধারণত এক মোতায়েনে এসেছেন। প্রস্তাব অনুযায়ী ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের সিটি বাসে ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে বর্তমান ২ টাকা ৪৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৬৭ পয়সা এবং আন্তঃজেলা বাসে ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৩৪ পয়সা করার সমঝোতা হয়েছে। অর্থাৎ দুই ক্ষেত্রেই প্রতি কিলোমিটারে ২২ পয়সা বৃদ্ধি ধরেই আলোচনা এগেছে।

    তবে এই প্রস্তাব এখনও রেজোলিউশনের আকারে অনুমোদিত হয়নি বা চূড়ান্ত স্বাক্ষর হয়নি। আগামীকাল (সোমবার) সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পরামর্শ শেষে চূড়ান্ত ভাড়া নির্ধারণ করা হবে এবং মন্ত্রণালয় গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে নতুন ভাড়া কার্যকর হবে। ফলে প্রস্তাবিত ২২ পয়সা ভাড়া কিছুটা কমবেশি হতে পারে।

    বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, বাস মালিকপক্ষ বৈঠকে সাম্প্রতিক সময়ে যানবাহনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বেড়েছে এমন বিষয়গুলো জোরালোভাবে তুলে ধরে ভাড়া বৃদ্ধির যুক্তি দিয়েছেন। তাদের মতে পরিচালনার খরচ বেড়ে যাওয়ায় ভাড়া বাড়ানো প্রয়োজনীয়।

    বিআরটিএ কর্মকর্তারা জানান, ভাড়া নির্ধারণের সময় পরিবহন ব্যয়ের বিশ্লেষণ করা হয় এবং কমিটির সুপারিশ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়; মন্ত্রণালয় সেই সুপারিশের ভিত্তিতে সরকারি গেজেট জারি করে নতুন ভাড়া কার্যকর করে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, জ্বালানি তেলের দাম প্রতি লিটারে ১ টাকা বাড়লে ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১ পয়সা বাড়ে।

    এর আগে শনিবার রাতে সরকার জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য ঘোষণা করে। এতে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে ১৩০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা এবং পেট্রোল ১১৬ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যাত্রীরা এখন ভাড়া চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।

  • কুইক রেন্টাল প্রকল্পে লুটপাট ও পাচার হওয়া টাকা দেশে ফিরিয়ে আনা হবে: বিদ্যুৎমন্ত্রী

    কুইক রেন্টাল প্রকল্পে লুটপাট ও পাচার হওয়া টাকা দেশে ফিরিয়ে আনা হবে: বিদ্যুৎমন্ত্রী

    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, কুইক রেন্টাল প্রকল্পের আড়ালে লুটপাট করে বিদেশে পাঠানো অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এ কাজে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক যৌথভাবে কাজ করছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

    রোববার (১৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুলের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান। অনুষ্ঠানটি ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

    মন্ত্রী জানান, গত সময়ে ’বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০’ নামে একটি আইন প্রণীত হয়েছিল, যা উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সুযোগ করে দিয়েছিল। পরে সেই আইনই অনিয়মের সুযোগ তৈরি করে এবং অসংগত মূল্যে পারিশ্রমিক নির্ধারণ হওয়ার রাস্তা খুলে দেয়।

    আইনের ৫ ধারার অধীনে গঠিত নেগোসিয়েশন কমিটির মাধ্যমে ট্যারিফ নির্ধারণ করা হতো—মন্ত্রী বলেন, অনেক ক্ষেত্রে অস্বাভাবিকভাবে উচ্চ ক্যাপাসিটি চার্জ ও অতিরিক্ত মূল্য ধার্য করা হয়েছিল। এসব প্রকল্পে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী ব্যক্তি ও তাদের ঘনিষ্ঠজনদের সম্পৃক্ততা থাকা নিয়ে অভিযোগ রয়েছে, যার ফলে বিপুল অঙ্কের অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে।

    মন্ত্রী আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ওই বিশেষ বিধান বাতিল করে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল এবং পরে ৭ এপ্রিল ২০২৬ সালে তা জাতীয় সংসদে বিল হিসেবে পাস হয়েছে। এ পদক্ষেপের মাধ্যমে অনিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সুযোগ বন্ধ করা হয়েছে।

    অবশেষে তিনি বললেন, পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও კომিটি কাজ করছে। তদন্ত ও অর্থ রিকভারি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার ওপর সরকার জোর দিচ্ছে।