Blog

  • ৪০ পেরোলেন মাহমুদউল্লাহ, প্রাইম ব্যাংকে ফিরলেন ক্রিকেটের পুরোনো আশা

    ৪০ পেরোলেন মাহমুদউল্লাহ, প্রাইম ব্যাংকে ফিরলেন ক্রিকেটের পুরোনো আশা

    আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে এক বছর আগে বিদায় নেওয়ার পর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের বয়স এখন ৪০ ছুঁইছুঁই। তবে তার ক্রিকেটের প্রতিভা ও আবেগ এখনো অটুট। বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যতম বৃহৎ উৎসব ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএল) নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার। তিনি এবার মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ছেড়ে যোগ দিয়েছেন প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের দলে।

    শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সিসিডিএম কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দলবদল সম্পন্ন করেন মাহমুদউল্লাহ। দীর্ঘ বিরতি ও নানা আলোচনার পর প্রাইম ব্যাংকের জার্সিতে ফেরেন তিনি, যা তার জন্য গর্বের ও উদ্দীপনার বিষয়।

    সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়া মাহমুদউল্লাহ নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমি অত্যন্ত খুশি এই দলে থাকি। টপ অর্ডার থেকে শুরু করে পুরো স্কোয়াডের মিল। সব মিলিয়ে এক দুর্দান্ত দল হয়েছে বলে আমি মনে করি।

    বিশেষ করে, আজিজুল হাকিম, তামিম ইকবাল, শাহাদাত হোসেন দীপু ও অন্যদের উপস্থিতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, মিডল অর্ডারে আমি ও শামীম হোসেন পাটোয়ারির পাশাপাশি তরুণ ক্রিকেটাররাও জায়গা পেয়েছেন। পেস ও স্পিন বিভাগে আলিস আল ইসলাম, তানজিম হাসান সাকিব, রায়ান রাফসান ও এনামুলের মতো দক্ষ বোলাররা দলের শক্তি বাড়িয়েছে। মাহমুদউল্লাহ যোগ করেন, তরুণ ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের এই সংমিশ্রণ আমাকে খুব আশাবাদী করে তোলে।

    প্রায় দশ বছর পরে আবার প্রাইম ব্যাংকের জার্সিতে খেলতে পেয়ে তিনি ক্লাবকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ২০১৫ সালের পর এবার আবার সুযোগ পেলাম। প্রাইম ব্যাংক দীর্ঘ দিন ধরে ক্রিকেটারদের উন্নত সুযোগ-সুবিধা ও পারিশ্রমিকের ব্যবস্থা করে আসছে। এটি তাদের সত্যিই প্রশংসনীয় ব্যাপার।

    তিনি আরও যোগ করেন, মাঠে কষ্ট করে খেলার পর ক্রিঙ্কাররা চান তাদের পারিশ্রমিক যেন ঠিকঠাক পায়। প্রাইম ব্যাংক এই ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান।

    একই সময়ে বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবালকেও কৃতিত্ব দেন মাহমুদউল্লাহ। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ নেওয়ার জন্য অবশ্যই তামিমকে ধন্যবাদ। ও আসলে ক্রিকেটের অধিনায়ক, যে এই উদ্যোগটি শুরু করেছে। এটা সত্যিই ক্রিকেটারদের জন্য বড় আয়ের উৎস। তবে আমাদের মূল লক্ষ্য হলো, খেলোয়াড়রা মাঠে থাকুক, খেলতে ইচ্ছুক থাকুক। মাঠে খেলার সুযোগ না পেলে কিছুই হয় না।

  • ‘এমন ফর্মে আমি জাতীয় দলে থাকার যোগ্য নই’

    ‘এমন ফর্মে আমি জাতীয় দলে থাকার যোগ্য নই’

    পাকিস্তানের ক্রিকেটার মোহাম্মদ রিজওয়ান বর্তমানে টি-টোয়েন্টি ফর্মের দুর্বলতার জন্য বেশ সমালোচনার মুখোমুখি হচ্ছেন। এক সময়ের নির্ভরযোগ্য এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার টানা ব্যর্থতার কারণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে দূরে চলে গিয়েছেন। চলমান পাকিস্তান সুপার লিগেও (পিএসএল) তার সঙ্গী হয়নি ভাগ্য; তার দল রাওয়ালপিন্ডিজ টানা সাত ম্যাচে হারের স্বাদ নিচ্ছে।

    যখন তাকে প্রশ্ন করা হয় তার পুনরায় জাতীয় দলে ফিরবার সম্ভবনা সম্পর্কে, রিজওয়ান সততার সাথে নিজ অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি বোঝান যে, বর্তমান পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে তিনি পাকিস্তান দলে জায়গা পাওয়ার জন্য উপযুক্ত নন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমি যখন বিগ ব্যাশে খেলছিলাম, তখন দল নির্বাচন করা হয়েছিল। তখন আমি বলেছিলাম যে, আমার এই পারফরম্যান্স দিয়ে পাকিস্তান দলের জন্য যোগ্যতা অর্জন করতে পারছি না।”

    তবে ফর্ম না থাকলেও তিনি হাল ধরছেন না। উল্টো তিনি দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেন দ্রুত ছন্দে ফিরে আসার। অতীতের এক ঘটনা স্মরণ করে তিনি বলেন, “আমি সেই ব্যক্তি, যিনি একবার শুনছিলেন যে আমি ছক্কা মারতে পারি না। আমি সত্যি বলতে যাচাই করতে চাইছিলাম নিজেকে। হ্যারিস (রউফ) পেছনে বসে থাকাকালে, আমি তাকে বলেছিলাম যে, আমার পারফরম্যান্স বর্তমানে দলের জন্য উপযুক্ত নয়।”

    আরো যোগ করেন, “আমরাও মানুষ। আমি সবসময় প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব, আমি জানি আমার ভুল হয়েছে। তবে এটাই জীবন নয় যে আমি হতাশ হয়ে বসে থাকবো বা ক্রিকেট ছেড়ে দেব। যতক্ষণ আমার শরীরে শক্তি, ততক্ষণ আমি লড়াই চালিয়ে যাব।”

    নিজের সততার পরিচয় দিয়ে রিজওয়ান বলেন, “যখনই আমার পারফরম্যান্স খারাপ হয়, আমি নিজের অর্ধেক ক্রিকেটারদের জানাই যে, অন্য কাকে সুযোগ দেওয়া উচিত। যখন সরফরাজ ভাই দলের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তখনও আমি এমনটা করেছি। সত্যি বলতে, আমি কাউকে ভয় পাই না।”

    ক্রিকেটকে জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ক্রিকেটই আমার গন্তব্য। আমি টি-টোয়েন্টি, টেস্ট ও ওয়ানডে সব ফরম্যাটে খেলি কারণ আমি ক্রিকেটকে ভালোবাসি। জীবনে আমি অন্য কিছু জানি না। আমার কোনো ব্যবসা বা অন্য কোনো খেলা নেই।”

    খারাপ সময়ে নিজেকে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং পরিশ্রমী বলে উল্লেখ করেন তিনি। আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “অবশ্যই এই মুহূর্তগুলো কঠিন, পারফরম্যান্সের রেকর্ড ভাল নয়। তবে আমি আল্লাহর অনুগ্রহে অনড় থাকব। আমি বিশ্বাস করি, আমার কঠোর পরিশ্রমই ফের আমাকে গৌরবের সাথে মাঠে ফিরিয়ে আনবে।”

  • সরকারি ক্রীড়া ভাতায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি হামজা ও শমিত

    সরকারি ক্রীড়া ভাতায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি হামজা ও শমিত

    ক্রীড়াবিদদের আর্থিক অনিশ্চয়তা দূর করে খেলাধুলায় পেশাদারি বজায় রাখতে সরকারের ‘ক্রীড়া ভাতা’ কর্মসূচির আওতা সম্প্রসারিত হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে আরও ১৭১ জন খেলোয়াড় নতুনভাবে এই ভাতার সুবিধা পাচ্ছেন। এর ফলে, বর্তমানে এই প্রকল্পের আওতায় আসা ক্রীড়াবিদ সংখ্যা দাড়িয়েছে ৩০০-এ।

    আজ রাজধানীর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অডিটোরিয়ামে এক অনুষ্ঠানে নতুন অন্তর্ভুক্ত খেলোয়াড়দের হাতে ‘ক্রীড়া কার্ড’ ও প্রতি জনের জন্য ১ লাখ টাকার চেক তুলে দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। এই তালিকায় বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের প্রতিযোগী ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের পাশাপাশি নতুন করে যুক্ত হয়েছেন ফুটবল, হকি ও ব্যাডমিন্টনের তারকা ও তুখোড় ক্রীড়াবিদরা।

    ফুটবলাররা সাধারণত ক্লাব থেকে প্রতি মৌসুমে বড় অঙ্কের পারিশ্রমিক পান। তবে চলতি মৌসুমে ক্লাবগুলো অর্থের জন্য হিমশিম খাচ্ছে। নারী ও পুরুষ ফুটবল দল মিলিয়ে মোট ৩৬ ফুটবলার এ ভাতা পাচ্ছেন। তবে এই তালিকায় রাখা হয় নি প্রবাসী ফুটবলার হামজা চৌধুরী ও শমিত সোমদের মতো খেলোয়াড়দের।

    আরেকটি বড় চমক হলো, প্রথমবারের মতো গঠিত হয়েছে জাতীয় নারী হকি দল। আজ রাতে তারা ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়বে এশিয়ান গেমসের বাছাইপর্বে অংশ নিতে। দেশ ছাড়ার আগে এই স্বীকৃতি তাদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

    সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই মাসিক ভাতার আওতায় পুরোly ৫০০ ক্রীড়াবিদকে আনা হবে। গত ৩০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১২৯ খেলোয়াড়ের হাতে ‘ক্রীড়া কার্ড’ তুলে দিয়ে এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। প্রতিটি চার মাস পর পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে তালিকা পর্যালোচনা ও হালনাগাদ করা হয়।

  • এশিয়ায় নিজেদের বলয় হারাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, মিত্ররা ঝুঁকছে প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির দিকে

    এশিয়ায় নিজেদের বলয় হারাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, মিত্ররা ঝুঁকছে প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির দিকে

    মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষের কারণে জ্বালানি তেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ায় এশিয়ার বিভিন্ন দেশ নতুন বিকল্প খুঁজে নেওয়ার জন্য বাধ্য হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়া ও ফিলিপাইন রাশিয়া ও ইরানের সঙ্গে সরাসরি চুক্তি করে তাদের তেল ক্রয় বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা আগে খুবই সীমিত ছিল। গত বছর পর্যন্ত এশিয়ার পশ্চিমা মিত্র দেশগুলো রাশিয়া থেকে তেল কেনা এড়াতে এবং ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত খুবই সামান্য পর্যায়ে। তবে এখন পরিস্থিতি বদলে গেছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলে হামলা চালানোর ফলে এই দৃশ্যপট সম্পূর্ণ পরিবর্তন হয়েছে। যুদ্ধের কারণে তেলের বাজারে যে ধাক্কা লেগেছে, তাতে অনেক এশীয় দেশই জেনে গেছে তাদের জন্য বিকল্প খুঁজে নেওয়া জরুরি। মস্কো ও তেহরানের সঙ্গে বৈঠক বা আলোচনা এখন তাদের অন্যতম মূল কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সোমবার দক্ষিণ কোরিয়ার একজন বিশেষ দূত পারস্য উপসাগরে আটকা পড়া জাহাজগুলো নিয়ে আলোচনা করতে ইরানিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। একইদিনে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো মস্কোতে যান রাশিয়ার সঙ্গে তেল কেনাকাটা নিয়ে আলোচনা করতে। উল্লেখ্য, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার আগে বেশির ভাগ তেল এই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে গন্তব্যস্থল হিসেবে পাঠানো হতো, যার প্রায় ৮০ শতাংশই এশিয়ায় পৌঁছাত। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে suddenly তেলের অভাব দেখা দিয়েছে, ফলে ফিলিপাইনসহ অনেক দেশই এখন নতুন উৎস খুঁজছে। এর মধ্যে অনেক দেশই এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ রাশিয়া ও ইরানের সঙ্গে সরাসরি চুক্তি শুরু করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই অনিশ্চয়তার মাঝে রুশ তেলের দাম এখন বাজারের গড় দাম থেকে ১০ শতাংশ বা তার বেশি বেশি হলেও, দরকারের তেল কিনে রাখার জন্য অনেকেই বিকল্প অঙ্গীকারে জড়িয়ে পড়ছে। দক্ষিণ কোরিয়া যেমন দেশের তেল মজুত রাখতে রাশিয়া থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ ন্যাপথা আমদানি করে। ২০২৩ সালের মার্চে দেশটি রাশিয়া থেকে ২৭,৯০০ টন ন্যাপথা আমদানির অনুমোদন দিয়েছিল। এই পরিস্থিতি দেশগুলোতে জ্বালানি নিরাপত্তার দুর্বোধ্য পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে, জাপান এই পরিস্থিতিতে বেশ হাসিঠাট্টার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে। বেশ কয়েক বছর ধরে এই দুই দেশের সঙ্গে তেল সরবরাহের সম্পর্ক ছিল, কিন্তু ২০১৫ সালে ইরানের পারমাণবিক চুক্তিতে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে জাপান স্বল্পমূল্যে ইরানের কাছ থেকে তেল ক্রয় বন্ধ করে দেয়। তবে সম্প্রতি জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা করেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ও বন্দি জাপানি নাগরিককে মুক্তি দেওয়ার জন্য। অন্যদিকে, মার্কিন চাপের কারণেই জাপান ও কিছু অন্যান্য দেশ ইরানের ওপর থেকে নিজেদের অবদান প্রত্যাহার করলেও, বিদ্রোহকারী ধাক্কাই কমিয়ে আনতে কিছু দেশ রাশিয়া ও ইরান থেকে সরাসরি তেল সংগ্রহের পথ বেছে নিচ্ছে। ফিলিপাইন তাদের দেশের অন্যতম পুরোনো মিত্র, যেখানে তেলের অভাব এতটাই প্রকট যে দেশের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে হয়। সেই সঙ্গে তারা রাশিয়া, কানাডা ও ভারতের ওপর নির্ভরতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর দেশটি এখন খুব শক্তিশালী কৌশল অবলম্বন করছে। উত্তর কোরিয়া, ফিলিপাইন ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশ রাশিয়া থেকে তেল ক্রয়ে আগ্রহ বাড়াচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের সময়ে রাশিয়া থেকে তেল সংগ্রহে শিথিলতা দেখা দিলেও, এই তেল এখন বৈশ্বিক বাজারের তুলনায় বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশ নিজের তেল মজুতের জন্য কঠিন পর্যায়ের পদক্ষেপ নিচ্ছে, যেমন দক্ষিণ কোরিয়া রাশিয়া থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল আমদানি করেছে, যা সুপারিশকৃত। জাপান, অর্থাৎ এই অঞ্চলের বৃহৎ দেশটি, ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণে রেখেই তার আড়ালে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যাতে তেহরানের সঙ্গে সম্পর্কের অস্থিত্ব বজায় থাকে। দেশটির প্রধানমন্ত্রীর ফোনকলে ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনাও এরই অংশ। বাংলাদেশ ও ভারতের মতো দেশগুলোও এই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে তৈরি হচ্ছে, ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি চালিয়ে যাচ্ছে, সঙ্গে বাড়ছে তার দাম। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এই বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অস্থিরতা বাড়াতে পারে।

  • যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকধারীর গুলিতে ৯ নিহত, তাদের মধ্যে ৮ শিশু

    যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকধারীর গুলিতে ৯ নিহত, তাদের মধ্যে ৮ শিশু

    যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের শ্রেভেপোর্ট শহরে এক ভয়াবহ বন্দুক হামলায় এখন পর্যন্ত নয়জন হতাহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে আটজনই শিশু। স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক বিবাদের কারণে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মার্কিন সংবাদসংস্থা এবিসি নিউজ ও ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ঘটনা রোববার সকাল ৬টার সময় ঘটে। নিহত শিশুদের বয়স কয়েক মাস থেকে ১৪ বছর পর্যন্ত হয়েছিল। পুলিশ কর্মকর্তা ওয়েন স্মিথ এই ঘটনার ভয়াবহতা বর্ণনা করে বলেন, এই ধরনের ঘটনা অনেকের জন্য চেতনার বাইরে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় মোট ১০ জন গুলিবিদ্ধ হন। হামলাকারী গাড়ি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করতে গেলে পুলিশ তাকে গুলিতে নিহত করে। স্মিথ আরও বলেছেন, নিহত শিশুদের মধ্যে কিছুজন ওই বন্দুকধারীর আত্মীয় ছিল। এদিকে, এখনো সম্পূর্ণ কারণ জানা যায়নি। লুইজিয়ানা স্টেট পুলিশ এই মামলার তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তকারীরা এখন চলমান তথ্য সংগ্রহের কাজ করছেন, এবং সাধারণ জনগণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে, যদি কেউ এই ঘটনায় কোনও ছবি, ভিডিও বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ধারণ করে থাকেন, তবে সেটি দ্রুত পুলিশের সঙ্গে শেয়ার করুন।

  • লিবিয়ায় উপকূলে বাংলাদেশিসহ ১৭ অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার

    লিবিয়ায় উপকূলে বাংলাদেশিসহ ১৭ অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার

    লিবিয়ার পশ্চিম উপকূলে বাংলাদেশিসহ অন্তত ১৭ জন অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় সবাই অভিবাসনের জন্য চেষ্টা চালাচ্ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে এক বাংলাদেশি নাগরিকের মরদেহ শনাক্ত করা গেছে বলে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি জানিয়েছে। শনিবার ত্রিপোলির একটি চিকিৎসক দল এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর পাশাপাশি, লিবিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ইমার্জেন্সি মেডিসিন অ্যান্ড সাপোর্ট সেন্টার জানিয়েছে, রাজধানী ত্রিপোলি থেকে প্রায় ১১৭ কিলোমিটার পশ্চিমে জুওয়ারা উপকূল থেকে গত কয়েক দিনে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ১৭ মরদেহের মধ্যে ১৪ জনকে যথাযথভাবে দাফন করা হয়েছে। শনাক্ত হওয়া বাংলাদেশের নাগরিকের মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে, বাকি দুই মরদেহের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সেন্টারের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, উদ্ধারকারীরা মরদেহগুলো সাদা প্লাস্টিক ব্যাগে ভরে অ্যাম্বুলেন্সে তুলছেন। ২০১১ সালে ন্যাটো-সমর্থিত বিদ্রোহের মাধ্যমে তৎকালীন শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে লিবিয়া ইউরোপগামী অভিবাসীদের জন্য অন্যতম ট্রানজিট রুটে পরিণত হয়েছে। আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মানুষ যুদ্ধ, দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তা থেকে রেহাই পেতে লিবিয়া হয়ে বিপজ্জনক মরুভূমি ও ভূমধ্যসাগর পার হয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।

  • ইরানের যুদ্ধ ৫০ দিন, ক্ষতি ৫০ বিলিয়ন ডলার

    ইরানের যুদ্ধ ৫০ দিন, ক্ষতি ৫০ বিলিয়ন ডলার

    প্রায় ৫০ দিন ধরে চলা ইরান-আমেরিকা সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহে ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে সর্বমোট মূল্য এখনও পর্যন্ত ৫০ বিলিয়নেরও বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন বিশ্লেষক। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকটের প্রভাব আগামী কয়েক মাস বা এমনকি কয়েক বছর পর্যন্ত থাকতেও পারে। বৈশ্বিক পণ্য ও বাণিজ্যের ওপর এই বিরূপ প্রভাবের বাস্তবতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে কেপলার ডাটার লাইভ ডাটা পর্যবেক্ষণে। তারা জানিয়েছে, এই বছর ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যখন সংকট শুরু হয়, তখন থেকে বৈশ্বিক বাজারে প্রায় ৫০ কোটির বেশি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এবং কনডেনসেটের সরবরাহ কমে গিয়েছে।

    এটি আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঘটনা হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই পরিমাণ তেল দিয়ে বিশ্বজুড়ে পাঁচ দিনের অর্থনৈতিক কার্যক্রম চালানো সম্ভব ছিল। এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় এক মাসের তেলের চাহিদা কিংবা ইউরোপের এক মাসেরও বেশি সময়ের জ্বালানি চাহিদার সমান।

    গত মার্চ মাসে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর দৈনিক তেল উৎপাদন প্রায় ৮০ লাখ ব্যারেল কমে যায়। এটি বিশ্বের দুই বড় তেল কোম্পানি এক্সনমোবিলের সম্মিলিত উৎপাদনের কাছাকাছি। এ ছাড়া, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন এবং ওমানে থেকে জেট ফুয়েল রফতানি গত ফেব্রুয়ারি মাসের প্রায় ১৯৭ লাখ ব্যারেল থেকে নেমে মার্চ ও এপ্রিল মিলিয়ে মাত্র ৪১ লাখ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে।

    তেলের গড় মূল্য প্রতি ব্যারেল ধরে ১০০ ডলার হিসাব করলে, এই ঘাটতির আর্থিক মূল্য প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার বলে জানিয়েছেন ডাটা সংস্থা কেপলার-এর গবেষক জোহানেস রাউবল।

    বিশ্লেষকদের মনে হচ্ছে, হরমুজ প্রণালি খোলা হলেও উৎপাদন ও সরবরাহ স্বাভাবিক হতে এখনও কিছু সময় লাগবে। বিশেষ করে কুয়েত ও ইরাকের ভারী তেলক্ষেত্র স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে চার থেকে পাঁচ মাসের মতো সময় লাগতে পারে।

    এছাড়া, বিভিন্ন শোধনাগারগুলো ও কাতারের রাস লাফান এলএনজি কমপ্লেক্সের ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থার কারণে আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামো পুরোপুরি পুনরুদ্ধার করতে কয়েক বছরও লেগে যেতে পারে। এই পরিস্থিতি ভবিষ্যতেও জ্বালানির দামে অস্থিরতা বজায় রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

  • ভারতে আতশবাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহত ১৯

    ভারতে আতশবাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহত ১৯

    ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের বিরুধুনগর জেলার কাট্টানারপট্টি গ্রামে একটি আতশবাজির কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ৬ জন আহত হয়েছেন, যাঁরা কাছাকাছি একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। উদ্ধার অভিযান এখনো চালিয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট জনেরা। জানা গেছে, এই দুর্ঘটনা ঘটেছে সেই স্থান থেকে যেখানে বেশ কিছুদিন ধরে কারখানাটি অনিয়ম করে চালু ছিল, যদিও মূলত নির্ধারিত সাপ্তাহিক বন্ধের দিন হওয়া সত্ত্বেও কারখানা চালু ছিল। দুর্ঘটনার সম্পূর্ণ কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থা। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে চারটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে দোষীদের শনাক্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য চেষ্টা চলছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এই দুর্ঘটনাকে “গভীরভাবে মর্মান্তিক” হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং আহত ব্যক্তিদের দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া ও শুভকামনা জানিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধীও শোকপ্রকাশ করেন। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন এবং আহতদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের জন্য মানবিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। স্থানীয় মন্ত্রী কেকেএসএসআর রামচন্দ্রন ও থাঙ্গাম থেন্নারাসু ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার তৎপরতা মনিটরিং করছেন। উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে তামিলনাড়ুর বিরুধুনগরে আতশবাজি উত্পাদনের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় বেশ কয়েকটি অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ২০২৬ সালের ১৩ এপ্রিল সাট্টুরের কাছে মাদাথুপট্টির এক্সেল আতশবাজি কারখানায় বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে। এর আগে, ২০২৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি এই ই এলাকাতেই একটি বিস্ফোরণে ১০ জন নিহত ও সাতজনের বেশি আহত হন। একই বছরের ২৯ জুন আরও এক আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণে চারজন নিহত ও একজন আহত হন। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে।

  • তেরখাদায় সাবেক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক দোকান দখলের অভিযোগ

    তেরখাদায় সাবেক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক দোকান দখলের অভিযোগ

    তেরখাদা উপজেলার ছাগলাদাহ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দ্বীন ইসলাম বিরুদ্ধে জোরপূর্বক দোকান ঘর দখলের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছেন, বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করে তারা ন্যায় বিচার চাচ্ছেন। গত যোগ্য নির্ধারিত জমির ওপর দীর্ঘদিন থেকে ভোগদখল করে আসছিলেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা, কিন্তু সম্প্রতি সৈয়দ দ্বীন ইসলাম তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে হঠাৎ করে তাদের দোকান ভেঙে ফেলার ও লুটপাটের অভিযোগ করেন। অভিযোগকারীরা জানান, তাদের দীর্ঘদিনের হস্তগত জমি নদীভাঙনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলে তারা লাখ লাখ টাকা খরচ করে নদী রোধে কাজ করেন এবং ৮টি দোকান নির্মাণ করেন। এর মধ্যে বেশ কিছু ব্যাবসায়ী দীর্ঘ ১৫-১৬ বছর ধরে সেখানে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু চরম অন্যায় করে দ্বীন ইসলাম দোকানগুলো ভেঙে ফেলে নিজস্ব মার্কেট নির্মাণ করেছেন। স্থানীয় সমাজসেবক এমদাদুল হক বলেন, যখন ইউনিয়নের জন্য জমির প্রয়োজন হয়েছিল তখনই জমি দিয়ে ছিলেন। ভুক্তভোগীরা জানান, দোকান ভাঙার সময় স্থানীয় ভারপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেও ফল পাননি। ভুক্তভোগী ইয়াসমিন বেগম বলেন, “আমার স্বামী অসুস্থ, ছেলেমেয়েরা না খেয়ে জীবনযাপন করছেন। অনেক কষ্টে দোকান করেছি, কিন্তু হঠাৎ ভেঙে দেয়ায় আমরা অসহায়। চেয়ারম্যানের লোকজন মারপিটও করেছেন। এরপর উপজেলা প্রশাসনের কাছে বিচার চাইলে তারা আশ্বাস দিয়েছেন, দোকান ফিরিয়ে দেবেন। কিন্তু এখনো কিছুই পাননি।” দোকান মালিকের ছেলে বোরহান উদ্দিন বলেন, “আমরা খুবই অসহায়। সুষ্ঠু তদন্ত করে আমাদের জীবিকা চালানোর উপায় ফিরিয়ে দিতে চাই।’’ বাজারের প্রশাসনিক কমিটির সভাপতি মাসুম গাজী বলেন, “প্রথমে তরফদাররা দোকানদার ছিলেন। নদী ভাঙন রোধে তারা অনেক টাকা ব্যয় করেন। কিন্তু এরপর চেয়ারম্যান দ্বীন ইসলাম তার দলবল নিয়ে দোকানগুলো জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছেন।” স্থানীয় ইউপি সদস্য শেখ মনজুরুল আলম বলেন, “সাবেক চেয়ারম্যান দ্বীন ইসলাম জোড়া হত্যার মামলায় ৩২ বছর সাজাপ্রাপ্ত। তার সন্ত্রাসী বাহিনী আমার চোখের সামনে দোকানগুলো ভেঙে দিয়েছে।” দ্বীন ইসলাম জানান, “উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তখনকার সময় আমি কি বলেছি জানি না, তবে থানায় অভিযোগ করলে আমি জোরপূর্বক মার্কেট করছি বলে আসলে কিছু বলিনি। আমি বলেছি, এটা আমাদের জমি না, তবে সরকারি নির্দেশে কিছু করেছি।” তেরখাদা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শহীদুল্লাহ বলেন, “দোকানদারদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে, বিষয়টি জানি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে পরিস্থিতির জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও ভুক্তভোগীদের মাঝে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

  • ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ থেকে মুক্তির জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের গুরুত্ব

    ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ থেকে মুক্তির জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের গুরুত্ব

    খুলনা জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির এপ্রিল মাসের সভা রোববার জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাতের সভাপতিত্বে তাঁর সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিভিল সার্জন ডাঃ মোছাঃ মাহফুজা খাতুন বলেন, সারাদেশে হাম-রুবেলা সংক্রমণের মহূর্ত চলছে। আগামী ১০ মে পর্যন্ত, সারাদেশের ৬ মাস বয়স থেকে ৫ বছর বয়সী সকল শিশুকে এক ডোজ হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হবে। এই তালিকায় রয়েছে খুলনা বিভাগের সব জেলা, উপজেলা, সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভায় বিভিন্ন টিকাদান ক্যাম্পেইন। তিনি আরও তিনি জানান, ডেঙ্গু, চিকุนগুনিয়া ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ থেকে রক্ষা পেতে জেলা পর্যায়ে সকলে নিজ নিজ উদ্যোগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো জরুরি। এতে নগর ও গ্রামীণ এলাকাগুলিতে পানি জমা বন্ধসহ সচেতনতা বৃদ্ধি হবে। এই কার্যক্রম সফল করতে সকল দপ্তর ও মানুষকে একযোগে এগিয়ে আসার আহ্বান রইল।

    অপরদিকে, ওজোপাডিকো লিমিটেডের প্রতিনিধিরা জানান, খুলনা জেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সরকারের উদ্যোগে সন্ধ্যাকালীন সার্কুলার অনুযায়ী বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা হচ্ছে। এ জন্য সকলে নিজেদের বিদ্যুৎ বিল নিয়মিত পরিশোধ করার অনুরোধ জানানো হয়।

    এছাড়াও, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ বদরুজ্জামান বলেন, মৎস্য সংরক্ষণ বিধিমালা অনুযায়ী কোন ধরনের ক্ষতিকর জাল, যেমন- চটজাল, কারেন্ট জাল, টংজাল, বেড়জাল, জগত বা বেহেন্দি জাল, ব্যবহার করতেは禁止। ফাল্গুন থেকে শ্রাবন মাস পর্যন্ত এসব ক্ষতিকর জাল ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত বিশেষ অপারেশন পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে মোট ৬ ধাপে ২৫৭টি অভিযান ও ৫১টি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ১৭৮টি বেহেন্দি জাল, ১৪.২৬ লক্ষ মিটার কারেন্ট জাল ও অন্যান্য জাল জব্দ ও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে, খুলনা জেলায় ৪৫ দিনে ১৭৮টি বেহেন্দি জাল ও অন্যান্য ক্ষতিকর জাল ধ্বংস করা হয়েছে এবং জরিমানা আদায় করা হয়েছে। সভায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার দপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ আরিফুল ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।