Blog

  • মার্কিন সিনেটে ট্রাম্পের যুদ্ধ ক্ষমতা কমানোর জন্য ভোটের প্রয়োজনীয়তা উঠলো

    মার্কিন সিনেটে ট্রাম্পের যুদ্ধ ক্ষমতা কমানোর জন্য ভোটের প্রয়োজনীয়তা উঠলো

    আগামী সপ্তাহে মার্কিন সিনেটে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য দৃষ্টান্তমূলক উদ্যোগ নেওয়া হবে। এই প্রস্তাবে বলা হচ্ছে, কোনও সামরিক পদক্ষেপের আগে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে। সিনেটের বিরোধী দলীয় নেতা চাক শুমার জানিয়েছি, এ ব্যাপারে উচ্চকক্ষের ভোটাভোটির আয়োজন করা হবে। খবর রয়টার্সের।

    বুধবার (৮ এপ্রিল), সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার এ ঘোষণা দিয়ে বলেন, ট্রাম্পের অস্ত্রের ক্ষমতা কেবলই একান্ত ব্যক্তিগত বিষয় নয়, বরং দেশের স্বার্থে এই ক্ষমতা স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিকভাবে নিয়ন্ত্রিত হওয়া দরকার। এর আগে কয়েক ঘণ্টা আগে, ট্রাম্প দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। নিউ ইয়র্কের তার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে শুমার বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে কংগ্রেসের কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা অত্যাবশ্যক, যাতে কোন অপ্রয়োজনীয় সামরিক হস্তক্ষেপ এড়ানো যায়।

    গত মঙ্গলবার, ট্রাম্প তেহরানকে অবরুদ্ধ করে রাখার হুমকি দেয়ার পাশাপাশি, তিনি হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার আল্টিমেটাম দেন। তবে ঐ দিনই, ট্রাম্প নিজেই হঠাৎ ঘোষণা করেন যুদ্ধবিরতি। এর আগে, ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন যে, আজ রাতে পুরো পৃথিবী ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে। এই উস্কানিমূলক ভাষা বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে ডেমোক্র্যাট সদস্যরা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কঠোর নিন্দা ও পদত্যাগের দাবি তুলেছেন।

    বৈঠকগুলোতে, মানবিক আচরণের বাধ্যবাধকতা হিসেবে ১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশন উল্লেখ করে বলা হয়, সেগুলোর স্থানগুলোতে হামলা বন্ধ করতে হবে, যেখানে বেসামরিক নাগরিকেরা নিরাপদ। এই পরিস্থিতিতে, শুমার ট্রাম্পের ক্রোধ ও মন্তব্যকে উসকে দিয়ে একে ‘উন্মাদ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি আরও বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ার কারণেই এই যুদ্ধের সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দামও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

    ইরান দাবি করেছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন একে চূড়ান্ত বিজয় হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। হোয়াইট হাউস বলছে, সীমিত সামরিক অভিযান ঘোচানোর জন্য ট্রাম্পের নেওয়া নির্দেশ নিশ্চয়তা দেয়, যেখানে সরকারি দৃষ্টিতে তার পদক্ষেপ আইনসম্মত।

    সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা বারংবার ট্রাম্বের পার্মানিক যুদ্ধের অনুমতি নেওয়ার চেষ্টা করেন; তবে সফল হননি। বিপরীতে, সহকর্মী রিপাবলিকান প্রতিনিধিরা ট্রাম্পের নীতিগুলির ব্যাপক সমর্থন দিয়ে আসছেন। তবে সংবিধানে বলা আছে, যুদ্ধের ঘোষণা কেবলই কংগ্রেসের অধিকার; তবুও, তাৎক্ষণিক হুমকি বা স্বল্পমেয়াদী অভিযানে এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়।

    অন্যদিকে, প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিস বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধের জন্যও সংসদে ভোট হওয়া উচিত। তিনি বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের অযৌক্তিক ও অনির্বচনীয় এই যুদ্ধের পরিকল্পনাকে রুখে দিতে হবে, এজন্য একটি স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।

  • ইরানের শর্তে হরমুজ প্রণালি খোলার সম্ভাবনা

    ইরানের শর্তে হরমুজ প্রণালি খোলার সম্ভাবনা

    ইরান এই মুহূর্তে হরমুজ প্রণালি দিয়ে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে চায়, তবে এর জন্য নিজের কিছু শর্তাবলি পূরণ করতে হবে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথটির উপর নির্ভর করে অনেক দেশ তাদের জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখে। তবে, ইরানের বার্তাটা স্পষ্ট—‘যুদ্ধ’ এবং ‘যুদ্ধবিরতি’ একসাথে চলতে পারে না, একে অন্যের পরিপূরক নয়। তাই এই দুই পরিস্থিতির মধ্যে একটি নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে চরমভাবে জানিয়েছেন তেহরানের পক্ষ থেকে। বুধবার ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা বিবিসিকে এক সাক্ষাৎকারে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহ এই বার্তা দেন। তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে হাজার বছর ধরে এই প্রণালী বন্দরে ছিল, এবং এটি কোনো আন্তর্জাতিক জলসীমার অন্তর্ভুক্ত নয়। ইরানের ভাষায়, নিরাপদ চলাচল প্রমাণ করতে হলে তেহরান ও ওমানে ‘সদিচ্ছার’ ঠিকঠাক দেখাতে হবে। তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি এই আগ্রাসনের থেকে সরে না এলে, প্রণালী পুনরায় খোলা হবে না। মূলত, এই বক্তব্যে ইরান লেবাননে ইসরায়েলি হামলার দিকেও আঙ্গুল তুলেছেন বলে ধারণা করা হয়। সাংবাদিক নিক রবিনসনের প্রশ্নে, তিনি জানিয়েছেন, ইরানের লক্ষ্য প্রণালিটিকে ‘শান্তিপূর্ণ’ রাখা। ইরান আন্তর্জাতিক আইন মানবে, তবে নিরাপদ চলাচল দ্বিপাক্ষিক বিষয় এবং তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজের অপব্যবহার বরদাস্ত করবে না। এর আগে যুদ্ধবিরতির কয়েক ঘণ্টা পরে, ইরান অভিযোগ তোলে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গত সপ্তাহে চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন হয়েছে। এর ফলে তারা আবার হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। ইরানের ভাষ্য, যে ১০ দফা শর্তের ভিত্তিতে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, তার মধ্যে তিন দফা লঙ্ঘিত হয়েছে। লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকছেও নতুন করে অভিযোগে উঠেছে, ড্রোন হামলার শিকার হওয়ারও কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে অভিযোগ তুলেছে তেহরান। ফলে, ইরানের এই কার্যক্রমের কারণে বিভিন্ন দেশের তেলবাহী জাহাজরা ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সাফ বলে দিয়েছেন, ‘ইরান ও আমেরিকার যুদ্ধবিরতির শর্ত স্পষ্ট। Either যুদ্ধবিরতি থাকবে বা যুদ্ধ চালিয়ে যাবে, দুটিই একসঙ্গে চালানো সম্ভব নয়। লেবাননের হামলা বিশ্বজুড়ে নজরদারি করছে।’ তেহরানের বার্তাটি দিয়ে বোঝানো হয়, ‘এখন সময় এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে সিদ্ধান্তের অপেক্ষা।’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য তারা ইরানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী। তিনি বলেছিলেন, এই প্রণালী দিয়ে চলা জাহাজগুলির কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে, এখন পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে এবং ইরানের শর্তের প্রতি গুরুত্ব দিয়েই পরিস্থিতির সমাধান খুঁজে বের করতে তৎপরতা চলছে। সূত্র: আলজাজিরা, বিবিসি

  • হরমুজ প্রণালি বন্ধ ও যুদ্ধবিরতি নিয়ে উদ্বেগে বিশ্ববাজারে তেল Prices উদ্বেথ

    হরমুজ প্রণালি বন্ধ ও যুদ্ধবিরতি নিয়ে উদ্বেগে বিশ্ববাজারে তেল Prices উদ্বেথ

    ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির অনিশ্চয়তা এবং হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধ হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যায়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, গ্রীষ্মকালীন মানদণ্ডের ব্রেন্ট ক্রুড ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী প্রতি ব্যারেল দাম প্রায় ২.৬৯ ডলার বা ৩.১ শতাংশ বেড়ে ৯৭.৭১ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ক্রুডের দাম ২.৯৯ ডলার বা ৩.২ শতাংশ বেড়ে ৯৭.৪০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

    এর আগে, গত বুধবার ইরান ও মার্কিন যুদ্ধবিরতির ঘোষণা প্রত্যাশায় হরমুজ প্রণালি আবার চালু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল, যার কারণে তেলবাজারে এর দামের কিছুটা পতন হয়। দ্রুতই, বিকেলের দিকে লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলার খবর সামনে আসতেই আবারও তেলের দাম বৃদ্ধি পেতে শুরু করে।

    বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উদ্বেগজনক পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের দোদুল্যমান করে তুলেছে। যদি যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যায়, তবে তেল সরবরাহের ওপর এর প্রভাব কতটা গুরুতর হবে, এ বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত বার্তা আসেনি।

    তেলবাজার পর্যবেক্ষণ সংস্থা ভান্দা ইনসাইটস-এর জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক বন্দনা হরি উল্লেখ করেছেন, শিগগিরই প্রণালিটি গুরুত্বপূর্ণভাবে পুনরায় খোলার সম্ভাবনা খুবই কম, যা বাজারে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে, কিছু আবহাওয়া ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা থাকায় এই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

    গত বুধবারই যুদ্ধবিরতির কয়েক ঘণ্টা পরই ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধ করে দেয়। ইরানের দাবি, তিনটি মূল শর্ত লঙ্ঘিত হয়েছে, এর মধ্যে রয়েছে লেবাননে ইসরায়েলের হামলা ও ড্রোন আক্রমণের মতো ঘটনা। পাশাপাশি, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের প্রশ্নেও তারা শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে।

    এ পরিস্থিতিতে, ইরান আবারও হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার ঘোষণা দেওয়ায় বিভিন্ন দেশের তেলবাহী জাহাজগুলোতেও চলাচল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

    ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলছেন, ‘ইরান ও মার্কিন যুদ্ধবিরতির শর্ত স্পষ্ট। বা তো যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে, বা ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পূর্ণ যুদ্ধ শুরু হবে। এই দুইটি বিষয় একসাথে চালানো সম্ভব নয়। লেবাননের হামলা সব বিশ্ব দেখছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখন পুরো দায়িত্ব মার্কিন পক্ষের হাতে। তারা কি প্রতিশ্রুতি রাখবে, তা বিশ্ব দেখছে।’ সূত্র: রয়টার্স।

  • যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ড্রোন হামলায় ইরানের শীর্ষ ৫২ কর্মকর্তা নিহত

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ড্রোন হামলায় ইরানের শীর্ষ ৫২ কর্মকর্তা নিহত

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক সামরিক ও গোয়েন্দা অভিযানের ফলে ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের সামরিক, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ব্যাপক আঘাতের মুখোমুখি হয়েছে। এই বছরগুলিতে অন্তত ৫২ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও কমান্ডার প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেকেই ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডের প্রভাব ব্যক্তিগত ক্ষতিপূরণ ছাড়িয়ে গেছে; এটি মূলত ইরানের সামরিক কর্মকাণ্ড, কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারে গুরুতর পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে।

    ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিত্বদের ওপর এই আঘাত খুবই নাটকীয়। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নাম হলো আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, যিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এবং সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্তার দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর মৃত্যু ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক কাঠামোতে অভূতপূর্ব শূন্যতা সৃষ্টি করেছে। তিনি ছিলেন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তদাতা, যার অভাবের ফলে দেশের সংহতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

    তাঁর মৃত্যুর পর জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব হিসেবে আব্দুল্লা লারিজানি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে পরিচিত এই রাজনীতিবিদের ওপরও ইসরায়েলি হামলার মাধ্যমে আঘাত হানা হয়। একইভাবে, প্রতিরক্ষা পরিষদের সচিব আলী শামখানি ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আদর্শ ব্যক্তি। তাঁর ওপরও হামলা হয়, যা ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলোকে আরও প্রভাবিত করে।

    সামরিক নেতৃত্বের ধারাবাহিক ক্ষতি দেখা গেছে। আইআরজিসি চিফ অব স্টাফ মোহাম্মদ বাঘেরিকে যুদ্ধের প্রথম দিনেই হত্যা করা হয়। তাঁর দায়িত্ব ছিল সামরিক বাহিনী, পুলিশ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় স্থাপন করা। তার পরে, এই দায়িত্বে থাকা অন্যরা দ্রুত মারা গেলে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা ভেঙে পড়ে। খাতাম আল-আনবিয়া সদর দপ্তরের কমান্ডার গোলামালি রশিদও যুদ্ধকালীন অপারেশনের প্রধান ছিলেন, তাকে হত্যা করে ইরানের যুদ্ধ পরিকল্পনা দুর্বল হয়ে যায়।

    আইআরজিসির শীর্ষ কমান্ডার হোসেইন সালামি, যিনি মার্কিন ও ইসরায়েলের অদম্য বিরোধিতার জন্য পরিচিত ছিলেন, তিনি নিহত হন। এরপর দায়িত্ব পান মোহাম্মদ পাকপোর, কিন্তু তিনিও খুব দ্রুত মারা যান। এই ধারাবাহিকতাটি ইরানের সামরিক শক্তির অঙ্গপ্রতঙ্গকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করে। মহাকাশ বাহিনীর প্রধান আমির আলী হাজিজাদেহ, নৌবাহিনীর প্রধান আলিরেজা তাংসিরি এবং আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতাও এতে সহায়তা করেন। ফলে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তি, সামরিক শক্তি ও আঞ্চলিক দাপট কমে যাওয়ার আশঙ্কা দানা বাঁধে।

    গোয়েন্দা বিভাগের ক্ষতি ছিল আরও মারাত্মক। গোয়েন্দা মন্ত্রী ইসমাইল খাতিব ও তার বেশ কয়েকজন সহকারী দ্রুত মারা যান। আইআরজিসির গোয়েন্দা প্রধান মোহাম্মদ কাজেমি একজন বিভ্রান্তিমূলক অপারেশনে নিহত হন, পরে দায়িত্ব নেয়া মজিদ খাদেমিও। এর ফলে বোঝা যায় যে, ইরানের গোয়েন্দা কার্যক্রমে ভেঙে পড়েছে সমন্বয় ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা, গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের কার্যকারিতা অনেকটাই কমে এসেছে।

    প্রশ্নের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা, যাঁরা এদেরও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিলেন। মোহসেন ফাখরিজাদেহ, যাঁর ওপর হত্যাজনক অস্ত্র হামলা হয়, ছিল অন্যতম। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন বৈঠক ও নেতৃত্বও আক্রান্ত হয়। এতে বোঝা যায়, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পরিচালনায় থাকা ব্যক্তিদের ওপরও শত্রুপক্ষের নজরদারি ও আঘাত পরিচালিত হচ্ছে।

    আঞ্চলিক প্রভাবের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। কাসেম সোলাইমানি, যিনি ইরানের মূল আঞ্চলিক নেতৃস্থানীয় ছিলেন, ২০২০ সালে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হন। এর ফলে সিরিয়া, লেবানন এবং অন্যান্য অঞ্চলে ইরানের প্রতিলিপি ও নেটওয়ার্ক দুর্বল হয়। মোহাম্মদ রেজা জাহেদি ও আব্বাস নিলফোরোশানসহ অন্য শীর্ষ নেতাদের ক্ষতি হয়, যা ইরানের আঞ্চলিক আধিপত্যের ওপর প্রভাব ফেলে।

    অভ্যন্তরীণ দমননীতি ও নিরাপত্তাও আঘাতপ্রাপ্ত হয়। বাসিজ বাহিনী প্রধান গোলামরেজা সোলাইমানি ও তার ডেপুটি মারা যাওয়ায় দেশের ভেতরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অসুবিধায় পড়ে। এই বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে বিক্ষোভ দমন ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

    এই ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডগুলো স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ইরানে গভীরভাবে গোয়েন্দা অনুপ্রবেশ হয়েছে, যা শীর্ষ সিদ্ধান্তের স্তর পর্যন্ত ট্র্যাক করা সম্ভব। হামলাগুলো খুবই নিখুঁতভাবে পরিচালিত হয়েছে, যা আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও পরিকল্পনামূলক আক্রমণের দিক নির্দেশ করে। এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সামরিক সমন্বয় দুর্বল হয়ে পড়েছে। আঞ্চলিক শক্তি ও প্রক্সি নেটওয়ার্কের ক্ষতি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, এই হত্যাকাণ্ডগুলো শুধুমাত্র সামরিক ক্ষতি নয়, বরং একটি রাষ্ট্রের ক্ষমতা ও শক্তির কেন্দ্রবিন্দুতে আঘাতের বহুমাত্রিক চিত্র। এটি নিঃসন্দেহে ইঙ্গিত দেয় যে, আধুনিক যুদ্ধ এখন আর শুধু ময়দানে নয়; বরং গোয়েন্দা তথ্য, প্রযুক্তি ও লক্ষ্যবস্তু হত্যার মাধ্যমে চালানো হচ্ছে। ইরানের জন্য এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো নতুন নেতৃত্ব গঠন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্গঠন এবং অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার। তবে এই ধারাবাহিক ক্ষতির পরে সেই পথ কতটা সহজ হবে, তা সময়ই স্থির করবে।

  • অবশেষে ৪০ দিন পর আল-আকসা মসজিদ পুনরায় খুলে দেওয়া হলো

    অবশেষে ৪০ দিন পর আল-আকসা মসজিদ পুনরায় খুলে দেওয়া হলো

    ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সোমবার পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী আল-আকসা মসজিদটি পুনরায় খোলেন, যা চলতি বছরের ৩ নভেম্বর থেকে প্রায় ৪০ দিন বন্ধ ছিল। এই বিরতিটা ছিল নজিরবিহীন, যেখানে মুসল্লিদের জন্য এই পবিত্র স্থানটি দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল।

    উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যৌথ হামলার পর এই প্রথমবারের মতো মুসল্লিদের জন্য আল-আকসা পুনরায় খুলে দেওয়া হলো। প্রথম দিন ফজরের নামাজে অংশ নেওয়া মুসল্লিদের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩০০০-এর বেশি, যারা এই ঐতিহ্যবাহী স্থানটিতে দীর্ঘ সময়ের বিরতির পর ফিরে আসামাত্রই আনন্দে আত্মহারা হন।

    অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, মসজিদের ফটক খোলার সঙ্গে সঙ্গে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি সেখানে প্রবেশ করছে এবং তারা দীর্ঘদিন পর হতেই এই পবিত্র স্থানটিতে ফিরতে পেরে উচ্ছ্বসিত। একই সঙ্গে ভিডিওগুলো দেখাচ্ছে স্বেচ্ছাসেবক ও মসজিদের কর্মীদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পূর্ণ প্রস্তুতির কাজ, যেন আগের মতোই ইসলামি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার জন্য সব কিছু প্রস্তুত।

    প্রায় দুবছর ধরে ইসরায়েল এই স্থানটি বন্ধ করে রেখেছিল, এমনকি রমজান, ঈদুল ফিতর ও জুমার নামাজের সময়েও আল-আকসা বন্ধ ছিল। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এই বন্ধকে নিরাপত্তা উদ্বেগের নাম দিয়েও নির্দেশ দিয়েছে, তবে ফিলিস্তিনিরা এই যুক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে বলছে, এই সমস্ত কঠোরতা এবং দখলদারিত্বের মাধ্যমে ইসরায়েল পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে। এই সময়ে অন্যত্র ইহুদিদের বড় ধর্মীয় সমাবেশের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে, যা তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করে চলেছে।

    অভিযোগ উঠেছে, যুদ্ধের অজুহাত দেখিয়ে ইসরায়েল এই ঐতিহাসিক স্থানটির নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করছে। প্রবেশের সময়, কার্যক্রম এবং কার্যপ্রণালীতে প্রবল পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা মূলত এই স্থানের প্রাথমিক কর্তৃত্বের সাথে সাংঘর্ষিক।

    আল-আকসা মসজিদটি মূলত পুরোনো জেরুজালেম শহরে অবস্থিত এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে এটি পরিচালিত হয়। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে মুসলিম কর্তৃপক্ষকে এই স্থানটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া ছিল। কিন্তু ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবস্থার লঙ্ঘন করে আসছে, যেখানে মুসলিম ছাড়াও উগ্র জাতীয়তাবাদী কিছু ইসরায়েলি প্রার্থনা ও প্রবেশের অনুমতি পেয়ে থাকেন।

    বিশেষ করে, পশ্চিম জেরুজালেমসহ এই অঞ্চলে দখলদারিত্বের ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই কার্যক্রমের বিরোধিতা করছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, দখলদার শক্তির এই নিয়ন্ত্রণের কোনও বৈধতা নেই এবং শর্ত অনুসারে এই ভূমির সার্বভৌমত্ব বর্তমান দখলদারদের নয়।

    পুনরায় মসজিদটি খোলার পর থেকে এই অঞ্চলে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ রোজই উগ্র সম্প্রদায়ের প্রবেশ ও কার্যক্রম বাড়িয়েছে, এমনকি প্রবেশের সময়সীমাও বেড়ে গেছে। বর্তমান সময়সূচি অনুযায়ী, সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে শুরু হয়ে এই প্রবেশের সময়কাল সাড়ে ছয় ঘণ্টার বেশি। আগে এই সময় ছিল ছোট ছোট পর্যায়ে বিভক্ত এবং সীমিত সংখ্যক মুসল্লির জন্য। এখন এই সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে, যা আল-আকসার নিয়ন্ত্রণ ও অবস্থা আরও জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    জেরুজালেমের গভর্নরেট এই সময় বৃদ্ধি নিয়ে বলছে, এটি হঠাৎ উত্তেজনা বাড়াচ্ছে এবং এই পরিবর্তনটি আল-আকসার পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। তারা বলছেন, এই অপ্রত্যাশিত সময় বাড়ানো ‘স্ট্যাটাস-কো’ ব্যবস্থাকে দুর্বল করে ফেলছে এবং নতুন বাস্তবতা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এই পরিস্থিতি ও উদ্বেগের মধ্যেই, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মুসলিম নীতিনির্ধারকেরা এই পরিস্থিতিকে শান্তিপূর্ণ ও ধারণাপূর্ণভাবে মোকাবেলা করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

  • খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের ৩১ শিক্ষার্থী আর্ককেইউ-বার্জার এ্যাওয়ার্ড লাভ

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের ৩১ শিক্ষার্থী আর্ককেইউ-বার্জার এ্যাওয়ার্ড লাভ

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য ডিপারমেন্টের ৩১ জন শিক্ষার্থী একাডেমিক উৎকর্ষের স্বীকৃতি হিসেবে আর্সকেইউ-বার্জার এ্যাওয়ার্ড লাভ করেছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট, সনদপত্র এবং চেক তুলে দেওয়া হয়।

    এছাড়াও, ‘থিসিস অব দ্য ইয়ার-২০২৬’ প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন মোঃ মোস্তাকিম বিল্লাহ। তারকা তাহসিন তন্নি দ্বিতীয় এবং সুমাইয়া খাতুন তৃতীয় স্থান পান। এর পাশাপাশি, রাব্বি ও হৃদয় নামে দুটি শিক্ষার্থী কেড়ে নেন কমেন্ডেশন অ্যাওয়ার্ড।

    বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষে ডিগ্রি লাভকারী শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত হন। ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের মধ্যে মোঃ হাসিবুল ইসলাম মিশু, কানিজ ফাতিমা খুশি, মোঃ মিজানুর রহমান ও আমিনা তাবাস্সুম প্রমা। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে পুরস্কার পান বৃষ্টি পাইক, সুরেশ বিশ্বকর্মা, তাসাদ্দুক হোসেন, শেখ ফারিয়া ফাইজা ও মোঃ হাসান শাহরিয়ার। ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা হলেন তাহমিন রহমান, ফাতিমা করিম খুশি, তিথী সরকার, সুরেশ বিশ্বকর্মা, মধুশ্রী রায় ও শেখ সাকিব রহমান। ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে পুরস্কৃত হন মোঃ আশিফুর রহমান অমি, সুরাইয়া নওশিন, বৃষ্টি পাইক, সুরেশ বিশ্বকর্মা ও কানিজ ফাতিমা খুশি। আর ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছেন আফ্রিদা বিনতে আমির হামীন, এথেনা বারিকদার, তাহমিন রহমান, মোঃ ফেরদৌস মন্ডল রনি, সীমান্ত সাহা রাতুল ও মোঃ নাদিম হোসেন।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থাপত্য বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. রুমানা আসাদ। সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যা স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ আশরাফুল আলম; রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. এস এম মাহবুবুর রহমান; বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের চিফ অপারেটিং অফিসার ও পরিচালক মোঃ মোহসিন হাবিব চৌধুরী; চিফ বিজনেস অফিসার (সেলস ও মার্কেটিং) একেএম সাদিক নেওয়াজ; চিফ মার্কেটিং অফিসার সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং জেনারেল সেলস ম্যানেজার সাব্বির আহমেদ।

    স্বাগত বক্তব্য দেন ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক ও এক্সটার্নাল রিসোর্স কো-অর্ডিনেটর শিবু প্রসাদ বসু।

    বক্তারা বলেন, পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত মেধাবী এবং এই সম্মান ভবিষ্যৎ জীবনে তাদের জন্য অনুপ্রেরণা যোগাবে। সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে বার্জার পেইন্টস এই উদ্যোগ নিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইমন কুমার সাহা বিষ্ণুপদ ও এথেনা বারিকদার। এই সময়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বার্জার পেইন্টসের কর্মকর্তাসহ অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • খুলনায় শিশুকালীন বলৎকারের মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন দণ্ড

    খুলনায় শিশুকালীন বলৎকারের মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন দণ্ড

    খুলনায় ১১ বছরের শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন। এর পাশাপাশি তাঁকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং জরিমানা না পরিলে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে রাখা হবে। অভিযুক্ত যুবক সিয়াম হোসেন কাজল (২০), যিনি নগরীর শিববাড়ি মোড় পালপাড়া এলাকার বাসিন্দা শেখ আবুল ফজল বাবলুর ছেলে। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এই মামলার রায় বৃহস্পতিবার খুলনা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাম্মদ আকরাম হোসেন প্রদান করেন। আদালতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার নিশ্চিতকরণে জানা গেছে, রায় কার্যকর হয়।

  • কয়রা নৌকাডুবিতে নিখোঁজ দুই জেলের লাশ দু’দিন পর উদ্ধার

    কয়রা নৌকাডুবিতে নিখোঁজ দুই জেলের লাশ দু’দিন পর উদ্ধার

    কয়রার শাকবাড়িয়া নদীতে আকস্মিক ঝড়ে ঘটেছে নৌকাডুবির ঘটনা, যার ফলে নিখোঁজ হন দুইজন জেলে। দীর্ঘ দুদিন ধরে চলা উদ্ধার অভিযান শেষে আজ (বুধবার) দুপুরে উপেন মৃধা (৫০) এর লাশ এবং বিকেলে মুকেন্দ মন্ডল (৪২) এর লাশ নদীর তীরে ভেসে ওঠায় স্থানীয়রা তা দেখতে পান। খবর পেয়ে দ্রুত নৌ পুলিশ ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করেন। নিহত দুই জেলে উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের জোড়শিং গ্রামের বাসিন্দা। তারা দীর্ঘদিন ধরে শাকবাড়িয়া নদী ও সুন্দরবনে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন। নিখোঁজের পর থেকে টানা দুদিন পর্যন্ত পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালিয়েছেন, কিন্তু তাদের খোঁজ মেলেনি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল বাকির তথ্যমতে, মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে কয়রার শাকবাড়িয়া নদীতে মাছ ধরার সময় হঠাৎ ঝড়ের কারণে একটি নৌকা ডুবে যায়। ওই নৌকায় থাকা জেলেদের মধ্যে একজন সাঁতরে তীরে পৌঁছাতে সক্ষম হলেও উপেন মৃধা ও মুকেন্দ মন্ডল নিখোঁজ হন। খবর পেয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর ডুবুরি দল। স্থানীয়রা নদীতে ভাসমান অবস্থায় তাদের লাশ দেখতে পান এবং খবর দিলে দ্রুত উদ্ধার করে পুলিশ। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এই দুর্ঘটনার ফলে এলাকায় শোকের ছায়া এবং গভীর শোক প্রকাশ করছে পরিবার ও স্থানীয় সমাজ।

  • খুলনায় ছেলের লাঠির আঘাতে মা মৃত্যুর ঘটনা

    খুলনায় ছেলের লাঠির আঘাতে মা মৃত্যুর ঘটনা

    খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের খান মোহাম্মাদপুর গ্রামে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে গেছে। পারিবারিক বিরোধের জেরে ছেলেকে লাঠির আঘাতে গুরুতর আহত হন তার মা, যার কারণে তিনি মারা গেছেন। ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে। নিহতের নাম মিম্মি বেগম (৪৪), তিনি স্থানীয় বাসিন্দা এবং হামিদুল ইসলামের স্ত্রী। অভিযুক্ত তার ছেলে, নাদিম ইসলাম, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত আটক করে।

    সূত্র মতে, সকাল ৮টার দিকে পারিবারিক বিবাদে উত্তেজনা বাড়লে, নাদিম তার মা মিম্মি বেগমের ওপর চড়াও হয়। এক পর্যায়ে পাশের গাছের ডাল দিয়ে তার মাথায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।

    খবর পেয়ে সকাল পৌনে ৯টার দিকে আইচগাতি ক্যাম্পের পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত নাদিমকে আটক করে। এ সময় তাকে ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় কিছু বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি বাধা দেয়। এর পর পুলিশকে লক্ষ্য করে অপ্রত্যাশিতভাবে হামলা চালানোর ঘটনা ঘটে, যেটা রোধে পুলিশ সদস্যরা পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন।

    খুলনা জেলা পুলিশের উচ্চ স্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। সার্কেল এসপি এ সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

    রূপসা উপজেলার আইচগাতি ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. উজ্জ্বল হোসেন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ চলছে এবং এই ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

  • খুলনা দেশের অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা

    খুলনা দেশের অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা

    প্রতিনিধিদল ফেডারেল রিপাবলিক অব জার্মানি পার্লামেন্টের পরিবেশ委员会 থেকে বুধবার খুলনায় পৌঁছেছেন। এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো শহরজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জগুলোকে গভীরভাবে বুঝে নেওয়া এবং স্থানীয় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা। দুপুরে একটি আধুনিক হোটেলে কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জুসসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে তাদের এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কেসিসির পক্ষ থেকে অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, খুলনা দেশের অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল। এই অঞ্চল সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধির, লবণাক্ততা ব্যাপকতা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। এই সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই সমাধান জরুরি।