Blog

  • সংসদ সদস্যরা একদিনে দুটি শপথ নেবেন

    সংসদ সদস্যরা একদিনে দুটি শপথ নেবেন

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা একদিনে দুইটি শপথ গ্রহণ করবেন। প্রথমে সংসদ সদস্য হিসেবে, এরপর আলাদাভাবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন তারা। এ ঘটনা খুব শিগগিরই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যাতে সব প্রস্তুতি নিয়েছে জাতীয় সংসদ সচিবালয়। সচিব কানিজ মওলা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। শপথের এই কার্যক্রমের পাশাপাশি, একইদিন বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সংসদ মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

    জাতীয় ভোটাভুটিতে ‘হ্যাঁ’ ভোটে জয়ী হওয়ায় এখন সংবিধান সংস্কার সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের জন্য জুলাই মাসে সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত একটি বিশেষ সনদ প্রকাশ করা হয়। এই সনদের ভিত্তিতে, নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা একসাথে দু’টি শপথ নেবেন—একটি হিসেবে তারা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিবেন, অন্যটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে।

    সংসদ শপথ গ্রহণের জন্য নির্ধারিত ফরম প্রস্তুত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। শপথের এইসময়, সংসদ সদস্যরা শপথবইয়ে সই করবেন। এ জন্য প্রস্তুতিপত্র তৈরি হচ্ছে। এছাড়া, জুলাই সনদে থাকা সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের জন্যে সংসদ সদস্যদের দ্বিতীয় শপথের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

    জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা জানান, মঙ্গলবার নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা প্রথমে সংসদ সদস্য হিসেবে, এরপর সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন। এর ফলে, সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবগুলো কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।

    জুলাই সনকের বিরুদ্ধে বিএনপি কিছু প্রস্তাবে ভিন্ন মত পোষণ করেছে, তবে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এই প্রস্তাবের অধিকাংশ অংশে একমত। তারা পুরো সংবিধান সংস্কার প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নে আগ্রহী।

    বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দীর্ঘ আলোচনা শেষে মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের জন্য ঐকমত্য গড়ে ওঠে। এর মধ্যে ৪৮টি প্রস্তাব সরাসরি সংবিধান সংশ্লিষ্ট যা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটে পাস হয়।

    সংবিধান সংশ্লিষ্ট এই প্রস্তাবগুলোর বাস্তবায়নের জন্য তিন ধাপে কার্যক্রম চালানো হয়। প্রথম ধাপে, গত বছর ১৩ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি এই সংক্রান্ত আদেশ জারির মাধ্যমে আইনি ভিত্তি তৈরি করেন। এরপর, ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট হয়, যেখানে প্রস্তাবগুলোতে সমর্থন পায়। এখন, তৃতীয় পর্যায়ে, সংসদ সদস্যদের দ্বারা সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও কার্যক্রম শুরু হবে।

    সংস্কারকাজের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা কিছুটা কমানো, রাষ্ট্রপতির কিছু নিয়োগের ক্ষমতা বাড়ানো, সংসদ দ্বি-নক্ষত্রবিশিষ্ট করা, এবং সংবিধানে নিয়োগ প্রক্রিয়া সোজা করে দেওয়া।

    তবে, উচ্চকক্ষের গঠন ও কিছু সংবিধানবিরোধী প্রস্তাবের ক্ষেত্রে বিএনপি নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমত প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে থাকা বেশ কিছু সংবিধান সংস্কারে তাদের মতামত একাত্মতা দেখায়।

  • এনসিপি সন্ধ্যায় যমুনায় যাবেন জুলাই সনদে স্বাক্ষর করতে

    এনসিপি সন্ধ্যায় যমুনায় যাবেন জুলাই সনদে স্বাক্ষর করতে

    অবশেষে সম্প্রতি জুলাই সনদে স্বাক্ষর কর_confirmation করছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আজ সোমবার সন্ধ্যায় দলটির একজন প্রতিনিধি দল প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনায় উপস্থিত হয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ স্বাক্ষর কার্যক্রমে অংশ নেবে। দুপুর দেড়টার দিকে এনসিপির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ খবর জানানো হয়।

    বিবৃতিতে বলা হয়, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল আজ সন্ধ্যা ৬টায় যমুনায় যাবে। এই দলে থাকবেন— সদস্য সচিব আখতার হোসেন, যুগ্ম সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম মূসা, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, মনিরা শারমিন ও জাবেদ রাসিন।

    উল্লেখ্য, গত বছর ১৭ অক্টোবর জুলাই সনদে স্বাক্ষর করা হয়, যেখানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন। পাশাপাশি, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজসহ কমিশনের অন্য সদস্যরাও এই সনদে স্বাক্ষর করেন।

    তবে, চলতি সময় পর্যন্ত এনসিপি জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেনি। এর পাশাপাশি, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাসদ (মার্ক্সবাদী) এবং বাংলাদেশ জাসদও এই সনদে স্বাক্ষর করেনি।

    উল্লেখ্য, এই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর কার্যক্রমে অংশ নেয় ২৫টি রাজনৈতিক দল। এর মধ্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, নাগরিক ঐক্যের মহাসচিব মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) শীর্ষ নেতা, খেলাফত মজলিসের নেতৃবৃন্দ ও অন্যান্য দলের প্রতিনিধি থেকে শুরু করে বিভিন্ন মনোভাবাপন্ন নেতারা উপস্থিত ছিলেন এই অনুষ্ঠানে। এই স্বাক্ষর কার্যক্রম আগামী দিনগুলোয় দেশব্যাপী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জাতীয় ঐকমত্য বাড়ানোর লক্ষ্যে অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শুরু, থাকবেন ১২শ’ বিদেশি-দেশি অতিথি

    শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শুরু, থাকবেন ১২শ’ বিদেশি-দেশি অতিথি

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্য ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রীর শপথ গ্রহণের জন্য ইতোমধ্যে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলমান। এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে প্রায় ১২শ’ দেশি-বিদেশি অতিথির উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে বিএনপি। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় ঢাকার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের এক মহামূল্যবান অনুষ্ঠান। সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ। নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা এ দিন শপথ নেবেন এবং তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদে সদস্য হিসেবে পৃথকভাবে শপথগ্রহণ করবেন। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা রীতির বাইরে এবার এই শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে বঙ্গভবনের পরিবর্তে সরাসরি জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। নতুন মন্ত্রী পরিষদের শপথ পরিচালনা করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব এম সিরাজ মিয়া। বাংলাদেশ রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন। বিএনপির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই অনুষ্ঠানে প্রায় ১২শ’ জন দেশি-বিদেশি অতিথি উপস্থিত থাকবেন। এর মধ্যে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল এবং মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু উল্লেখযোগ্য। এছাড়া নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মা এবং শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যমন্ত্রী নলিন্দা জয়তিসার অনুষ্ঠানে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। যুক্তরাজ্যের ভারত–প্রশান্ত মহাসাগর বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি সীমা মালহোত্রার উপস্থিতির সম্ভাবনাও রয়েছে। শপথ অনুষ্ঠানে সার্কভুক্ত দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এ ঘটনার মাধ্যমে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে ব্যাপক উত্তেজনা ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।

  • এবার একুশে পদক পাচ্ছেন ৯ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠান

    এবার একুশে পদক পাচ্ছেন ৯ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠান

    সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের পাবলো বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় ৯ জন ব্যক্তিকে এবং একট প্রতিষ্ঠানকে একুশে পদক-২০২৬ প্রদান করার জন্য। রোববার সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অনুষ্ঠান শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। এই স্বীকৃতি পেতে মনোনীত ব্যক্তিরা হলেন অভিনয়ে জনপ্রিয় নায়িকা ফরিদা আক্তার ববিতা, চারুকলার প্রফেসর ডাঃ মোঃ আব্দুস সাত্তার, স্থাপত্যে মেরিনা তাবাসসুম, সংগীতের জন্য আইয়ুব বাচ্চু (মরণোত্তর), নৃত্যে অর্থি আহমেদ, পালাগানে ইসলাম উদ্দিন পালাকার, সাংবাদিকতায় শফিক রেহমান, শিক্ষায় প্রফেসর ডাঃ মাহবুবুল আলম মজুমদার এবং ভাস্কর্য্যে তেজস হালদার জস। এছাড়াও সংগীতের মাধ্যমে ওয়ারফেজ নামক সংগঠনকে এ বছর এই পুরস্কার প্রদান করা হবে। এই পদক দেশের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকার স্বীকৃতি হিসেবে দারুণ সাড়া ফেলেছে।

  • জাতীয় পার্টির বিপর্যয়: খাতাই খুলতে পারেনি দলটি

    জাতীয় পার্টির বিপর্যয়: খাতাই খুলতে পারেনি দলটি

    প্রতিষ্ঠার পর থেকে চার দশকের এক বিস্ময়কর মাইলফলক হিসেবে দেশের সংসদ নির্বাচনে বেশির ভাগ সময়ই শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছিল জাতীয় পার্টি (জাপা)। তবে এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন চেহারা দেখিয়েছে এই দল। ১৪তম সংসদ নির্বাচনে দলটি প্রার্থী দিয়েছিল ১৯৬টি আসনে; কিন্তু কোনওটিতেই জয় লাভ করতে পারেনি। বিশেষ করে রংপুরের দলটির ‘দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত আসনগুলোতেও দেখা গেছে হতাশাজনক ফলাফল। এই ভয়াবহ পরাজয়ে সবচেয়ে বড় আঘাত এসেছে দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের এবং মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারীর শোচনীয় নৈখিক হার। তারা নিজ নিজ আসনে তৃতীয় স্থানেইহ করেছেন।

    রংপুরের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বাড়ি রয়েছে এই শহরে। আর এখানেই ছিল দলের মূল শক্তির কেন্দ্র। অতীতে এখান থেকে উচ্চমানের ভোট পেয়ে নিজেদের অবস্থান জোরদার করত দলটি। আলবানী ঢেলে দিয়ে ১৯৯১ সালে এক নজির সৃষ্টি করে ২২১টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৩৫টি আসনে জয় পায় জাপা। এরপর ১৯৯৬ সালে ৩২টি, ২০০১ সালে ১৪টি আসনে তারা জয়লাভ করে। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের অংশ হিসেবে ২৭টি আসনে জয় অর্জন করে। ২০১৪ সালে একতরফা নির্বাচনে দলের ৩৪ জন প্রার্থী বিজয়ী হয়। ২০১৮ সালে মহাজোটের অংশ হিসেবে ২২টি আসনে জয় ছিনিয়ে নেয় দলটি। আর সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনে পায় ১১টি আসন। কিন্তু এবার পুরো নির্বাচনে তাদের চোখে কিছুই পড়েনি — দলের কোনও আসন থেকেই জোরদার প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা জয় পাওয়া সম্ভব হয়নি।

    রংপুর-৩ আসনটি একসময় দলটির অবিসংবাদিত ‘দুর্গ’ ছিল। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। পরে তার ছেলে সাদ এরশাদ ও একবার উপনির্বাচনে রওশন এরশাদও জয় লাভ করেছিলেন। এই আসন ছিল তৃণমূলের সংগঠনের মূল কেন্দ্র। কিন্তু এবার দেখা গেছে, জামায়াত জোট এই ঐতিহ্যবাহী আসনটি জয় করে নিয়েছে। রংপুর-৩ এর এই জয় রংপুরের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।

    অন্যদিকে, রংপুর-৩ সদর আসনে দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। কিন্তু তিনি এই আসনে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। এখানে জামায়াতের প্রার্থী মাহবুবুর রহমান বেলাল ১ লাখ ৭৫ হাজার ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী সামসুজ্জামান সামু পেয়েছেন ৮৪,৫৭৮ ভোট। আর জিএম কাদের পেয়েছেন মাত্র ৪৩,০০০ ভোট, যা দলের দীর্ঘদিনের আধিপত্য এবং গৌরবময় শক্তির অবসান ঘটিয়েছে।

    অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচনের দিন জিএম কাদের ভোটদানেও যাননি। তিনি পুরো সময়টাই ছিলেন নিউসেনপাড়া মহল্লার বাসায় এবং কোনও কেন্দ্রও পরিদর্শন করেননি। এই অনুপস্থিতি এবং সামগ্রিক নৈরাজ্য ভোটের মাঠে দলের পরাজয়কে আরও নিশ্চিত করে তুলেছে, পাশাপাশি ভোটারদের মনোবল কমিয়ে দিয়েছে।

    অন্যদিকে গাইবান্ধা-১ আসনে মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারীও তৃতীয় হয়েছেন। এখানে জামায়াতের মো. মাজেদুর রহমান সংসদ সদস্য হিসেবে বিজয়ী হন। বিএনপির জিয়াউল ইসলাম মোহাম্মদ আলী দ্বিতীয় হয়েছেন। তবে শামীম হায়দার পাটোয়ারী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পিছিয়ে থেকেও তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।

    এসব ফলাফলের পেছনে রয়েছে দলটির ভূমিকায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলা বহু কারণ। দীর্ঘদিন ধরে দলটির রাজনীতি ও কর্মকাণ্ড ভোটারদের মধ্যে আস্থা হারিয়েছে। বিশেষ করে, দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের সাথে জোটে থাকা দলের ভাবমূর্তি লাইনচ্যুত হয়েছে। ভোটাররা এখন মনে করছেন, তারা এক স্বতন্ত্র ও শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি না; বরং জনশূন্য ও দুর্বল।

    এছাড়া দলের অভ্যন্তরে কোন্দল, নেতৃত্বের সংকট ও বিভাজন দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রমে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নেতাদের মধ্যে মতানৈক্য, সিদ্ধান্ত গ্রহণে অসঙ্গতি এবং নেতৃত্বের অভাব দলীয় প্রচারাভিযান ও মাঠের রাজনীতিকে দুর্বল করে ফেলেছে। নির্বাচনকালীন সময়েও দলের শীর্ষ নেতারা সক্রিয় না থাকায় ও পরোভাগে অনুপস্থিত থাকায় ভোটারদের মনোবল কমে গেছে। দলের চেয়ারম্যান ও মহাসচিবের কেন্দ্রীয় নির্বাচনী কার্যক্রমে উপস্থিত না থাকাও ভোটের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

  • জনগণ ইতোমধ্যে তাদের রিজেক্ট করেছেন: মির্জা ফখরুল

    জনগণ ইতোমধ্যে তাদের রিজেক্ট করেছেন: মির্জা ফখরুল

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যখন গণতন্ত্র দুর্বল থাকছে, তখন উগ্রবাদী শক্তিগুলোর উত্থান ঘটে। এই পরিস্থিতিতে তারা মাথা তুলে দাঁড়ায়। দেশের জামায়াতে ইসলামীর ক্ষেত্রেও এমন কিছু ঘটনা দেখা গেছে। তিনি আরও বলেন, বিএনপি কখনই জনপ্রিয়তা হারায়নি কারণ এটি সবসময় জনগণের জন্য কাজ করেছে। এইটাই দলের সবচেয়ে বড় শক্তি। বিএনপি সরকারে থাকার সময় তাদের কাজে মনোযোগী ছিল এবং জনগণের গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছিল। তিনি শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল সকাল ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা সবসময় আমাদের অঙ্গীকারের প্রতি দৃঢ় থাকি। যারা গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন, তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন এবং তাদেরকেই নিয়ে আমরা ভবিষ্যতে সরকার গঠন করব। তিনি উল্লেখ করেন, ইতোমধ্যে জনগণ তাদের রিজেক্ট করে দিয়েছে। বিএনপি তিন ভাগের দুটি মোটেও অন্যতম সংখ্যা পেয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, মানুষ আবারও সৎ ও কল্যাণমুখী রাজনীতির মাধ্যমে সকল অপপ্রবণতা রুখে দেবে। এ সময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

  • বিএনপি ভারতের কাছে হাসিনার প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানাবে

    বিএনপি ভারতের কাছে হাসিনার প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানাবে

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তার দল ভারতের কাছেও তিনি হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তিনি জানান, বাংলাদেশে বিএনপি আইনানুযায়ী হাসিনার প্রত্যর্পণের জন্য তার ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করবে, যেখানে মূলত বিষয়টি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আলোচনা হবে। তারা চান, ভারতের মাধ্যমে হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করা হোক।

  • ইতিবাচক আচরণকে দুর্বলতা ভাববেন না: জামায়াত আমিরের হুঁশিয়ারি

    ইতিবাচক আচরণকে দুর্বলতা ভাববেন না: জামায়াত আমিরের হুঁশিয়ারি

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সম্প্রতি কয়েকটি নির্বাচনি ঘটনা তুলে ধরে অভিযোগ করেছেন যে, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়নি। তিনি শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ১১ দলের জরুরি বৈঠকের শেষে এই মন্তব্য করেন।

    বৈঠকে জামায়াতের নেতৃত্বে উপস্থিত ছিলেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার, এনসিপির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মামনুল হক। তারা নির্বাচনের ফলাফলের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কিছু ফলাফল বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বদলানো হচ্ছে, যেমন তারকাছাড়া হয়, ফলাফল বন্ধ করা হয় বা পরিবর্তন আনা হয়। তিনি বলেন, যেসব প্রার্থী প্রতিকার চাইছেন, তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একে বিচার চান। যদি বিচার না হয়, তাহলে তারা কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবেন।

    তাঁর ভাষায়, কিছু স্থানে হঠাৎ করে ফলাফল বন্ধ করা হয়েছে, যেখানে এগিয়ে থাকলেও হারানো হয়েছে। অনেক কষ্ট করে ফল ধরে রাখতে হয়েছে, আবার কোথাও ফলাফল ঘোড়ামাচা অথবা দখল করে নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। বিদেশি পর্যবেক্ষকরাও যা দেখেছেন, তারা তা প্রকাশ করবেন বলে জানান তিনি। তিনি জানান, তারা তাঁদের আপত্তির বিষয়ে তুলে ধরবেন এবং ছাত্র-রাজনীতি বা বিদেশি অন্ধকারে ফিরে যেতে চান না।

    অন্য দিকে, তিনি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের গুরুত্ব আবারো তুলে ধরে বলেন, আমাদের ভদ্রতা ও ইতিবাচক আচরণকে দুর্বলতা ভাবলে ভুল হবে। এখনো বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় কর্মী সমর্থকদের ওপর হামলা হচ্ছে, যা ফ্যাসিবাদী লক্ষণ। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যদি ফের ফ্যাসিবাদ ফিরে আসে, তবে এর জন্য তারা কাউকে ছাড় দেবেন না।

    জনসমাগমে উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আজ থেকে তারা জনগণের পাশে আরও দৃঢ়ভাবে থাকবেন। তরুণ সমাজের ত্যাগের মূল্যবোধকে সম্মান জানিয়ে বলেন, তারা দেশপ্রেমের জন্য রক্ত দিয়েছেন। তিনি জানান, আন্দোলনের পথে নামতে তারা প্রস্তুত।

    আরো তিনি আহ্বান জানিয়েছেন, ১১ দলের ঐক্যবদ্ধতা অব্যাহত রাখতে ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যেতে। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করবো, যারা আইনি কাঠামোর মধ্যে নেই, তাদের ফলাফল স্থগিত করুন।

    তিনি বলেন, গণভোটে হ্যাঁ ভোটের ব্যাপারে নিশ্চিত, এবং জুলাইয়ের সার্টিফিকেটের পর্যায়ে সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। যদি তা না হয়, তাহলে তারা তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবে। তারা অনেক নিয়মবিরোধী কাজের পরও কেন সরকার বা অন্যান্য দল সন্তুষ্ট নহে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং বলেন, তারা আর কি চায়।

  • ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সরকার গঠনের পরিকল্পনা মির্জা ফখরুলের

    ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সরকার গঠনের পরিকল্পনা মির্জা ফখরুলের

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে বাইরে নয়, সেদিনের মধ্যে নতুন সরকার গঠনের লক্ষ্য নিয়ে তিনি কাজ করছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয় দেখে জনগণের প্রত্যক্ষ ভালোবাসা ও আস্থার প্রতিফলন হয়েছে। মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি কোনো ক্যাডারভিত্তিক সংগঠন নয়, এটি মূলত জনগণের দল। শুক্রবার সকালে ঠাকুরগাঁওয়ে নিজের বাসভবনে সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খুলতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

    সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াতে ইসলামীর উত্থান নিয়ে একটি প্রশ্নে মির্জা ফখরুল এটিকে তিনি ‘রাজনৈতিক বিজ্ঞান’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। বলেন, নানা ফ্যাসিস্ট শাসনের কারণে গত ১৫ বছরে উগ্রবাদের এই অবস্থা তৈরি হয়েছে। যখনই গণতন্ত্রকে চেপে ধরা হয়, মানুষের কণ্ঠ রোধ করা হয়, তখনই নানা উগ্রপন্থির উত্থান ঘটে। আওয়ামী লীগের দমন-পীড়ন ও বিরোধী দলদের রাজনৈতিক অর্গানাইজেশন করতে দেয়নি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    ফখরুল বলেন, আমি অত্যন্ত বিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি যে, বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ ইতোমধ্যে তাঁদের রক্ষা করেছেন। সাধারণ ভোটাররা দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে, যা তাদের সুস্থ ও জনকল্যাণমুখী রাজনীতির প্রতি আস্থার প্রতিফলন। জনগণ এই ভোটের মাধ্যমে সব ধরণের অপপ্রবণতা রুখে দিচ্ছে।

    নির্বাচনী জয়ের ব্যাপারে তিনি বলেন, বিএনপির ঘোষিত রাষ্ট্র সংস্কার, ৩১ দফার প্রতিশ্রুতি ও কর্মসূচির প্রতি জনগণের অটুট সমর্থন ছিল বলেই এই বিশাল বিজয় সম্ভব হয়েছে।

    জাতীয় সরকার গঠনের বিষয়ে তিনি assert করেন, তারা নিজেদের প্রতিশ্রুতি অটুট রাখবেন। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যারা গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সামিল হয়েছিলেন, তাদের সঙ্গে নিয়ে ইনশাআল্লাহ, নতুন সরকার গঠন করতে চান।

    জুলাই সনদ প্রসঙ্গে ফখরুল যুক্ত করেন, বিএনপি যেসব অংশে সই করেছে, সেগুলোর প্রাধান্য দিয়ে তা বাস্তবায়ন করবেন। পাশাপাশি ৩১ দফা কর্মসূচিও পর্যায়ক্রমে কার্যকর করা হবে।

    রংপুর বিভাগে জামায়াতের ভালো ফলাফলের কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। তবে উল্লেখ্য, বৃহত্তর দিনাজপুর জেলার ১১টি আসনে বিএনপি জয় লাভ করেছে, যেখানে জামায়াত কোনো আসন পায়নি। তিনি জানান, যদি জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে কর্মকাণ্ড চালানো যায়, তবে উগ্রবাদী প্রবণতাও দূর করা সম্ভব।

    এ সময় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি সভাপতি পয়গাম আলীসহ দল ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সকালে, নিজ বাসভবনে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন মির্জা ফখরুল।

    উল্লেখ্য, ঠাকুরগাঁও-১ আসনসহ জেলার তিনটি আসনে বিএনপি প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন।

  • হাতবোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে দুইজনের মৃত্যু

    হাতবোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে দুইজনের মৃত্যু

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের ফাটাপাড়ায় হাতবোমা তৈরির সময় একটি ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ ঘটে, resulting in the tragic deaths of two individuals। এছাড়া আরও তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, তারা সারা শরীরের ঝলসানো আঘাত পেয়েছেন।

    ঘটনা xảyেছে শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৫টার দিকে, যখন এলাকার একটি বাড়িতে সামরিক বা অপহরণমূলক কার্যকলাপের জন্য বোমা প্রস্তুত করছিলেন কিছু ব্যক্তিরা। এই ঘটনায় শোচনীয় বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলে দুজনের মৃত্যু হয়।

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এনএম ওয়াসিম ফিরোজ এই তথ্য নিশ্চিত করেন। নিহত ব্যক্তিদের নামতালিকা এখনও পাওয়া যায়নি।

    আহত ব্যক্তিরা হলেন— ফাটাপাড়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে বজলুর রহমান (২০), জেনারুল ইসলামের ছেলে মিনহাজ (২২) এবং অপর একজন, রফিজুল ইসলাম এর ছেলে শুভ (২০), যারা সবাই আহত অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও ভর্তি করা হয়।

    পুলিশের মতে, রাতে ওই বাড়িতে বোমা তৈরির কাজে অংশ নেওয়ার সময় বিস্ফোরণ ঘটে, যার ফলে ঘটনাস্থলে দুইজনের মৃত্যু হয় এবং তিনজন গুরুতর আহত হন। আহতদের ফিরে স্বজনরা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়।

    এই বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের দলরা উপস্থিত হয় এবং উদ্ধার কাজ শুরু করে। বিস্ফোরণে আহতদের শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে গেছে, এবং যেখানে ঘটনার মূল স্থান ছিল সেখানে বাড়িটি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    পুলিশ অবস্থিতি এখনও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে, বিস্ফোরণের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও বিস্তারিত জানানো হবে।