Blog

  • খুলনায় হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন

    খুলনায় হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন

    খুলনা সিটি কর্পোরেশনের আয়োজনে ২২নং ওয়ার্ডের কাস্টমঘাটে অবস্থিত আমিরাবানু বেগম নগর মাতৃসদনে আজ সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। উদ্বোধনী সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি জানান, হাম রোগের প্রাদুর্ভাবের কারণে ইতোমধ্যে অনেকে আক্রান্ত ও কয়েকজন শিশুও ঝরে পড়েছে। তাই সরকার দ্রুততার সঙ্গে শিশুদের নিরাপদে টিকার আওতায় আনার সব আয়োজন সম্পন্ন করেছে। আজ থেকে শুরু হওয়া এ ক্যাম্পেইনকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি বলেন, হাম ভাইরাসজনিত রোগ করোনার মতো দ্রুত ছড়াতে পারে; এজন্য সবাইকে টিকাদানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিতে হবে এবং কোনো শিশুকে টিকাদান থেকে বাদ পড়তে দিতে হবে না। বিশেষ করে মায়েদের আরও সচেতন হয়ে তাদের শিশুকে নির্দিষ্ট টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। আর জনগণের অবশ্যই নাগরিক দায়িত্ব পালন করলে জাতিকে বড় ধরনের দুর্যোগ থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। অনুষ্ঠানের শেষে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ক্যাম্পেইন উদ্বোধন করেন।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব আহমেদ সভাপতিত্ব করেন। বক্তব্য রাখেন খুলনা উপ-পুলিশ কমিশনার (অপারেশন) আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, স্থানীয় সরকার দফরের উপপরিচালক মো. আরিফুল ইসলাম, খুলনা সিভিল সার্জন ডা. মোছা. মাহফুজা খানম, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সুজাত আহমেদ, খুলনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম, থানা শিক্ষা অফিসার মো. শাহজাহান এবং ইউনিসেফের ন্যাশনাল ইপিআই স্পেশালিস্টের প্রতিনিধি। অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা করেন কেসিসি’র প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মীউল ইসলাম।

    প্রতিষ্ঠাব্যুর তথ্য অনুযায়ী, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ৩১টি ওয়ার্ডে এই ক্যাম্পেইনে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের নিচের মোট ৯৩,৭৮৮ জন শিশুকে এক ডোজ হাম-রুবেলা টিকা প্রদানের। এর মধ্যে স্কুলভিত্তিক লক্ষ্য ১৩,৩৮৮ জন এবং কমিউনিটি ভিত্তিক লক্ষ্য ৮০,৪০৪ জন। সেবাটি ২৫৬টি টিকাদান কেন্দ্রে পরিচালিত হবে। টিকাদান কার্যক্রমে নিয়োজিত থাকবে ১৪৪ জন টিকাদান কর্মী, ২০৬ জন স্বেচ্ছাসেবী এবং ৬২ জন সুপারভাইজার—মোট ৮২টি টিম দায়িত্ব পালন করবে। ক্যাম্পেইনটি ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চালু থাকবে।

    টিকাদান কর্মসূচি ২০ এপ্রিল থেকে ১০ মে ২০২৬ পর্যন্ত চলবে এবং পূর্বে এমআর টিকা গ্রহণ করা শিশু সহ সকল ৬ মাস থেকে ৫ বছরের নিচের শিশুকে এক ডোজ হাম-রুবেলা টিকা দেয়া হবে। এর আওতায় খুলনার সব স্থায়ী ও অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে টিকাদান কার্যক্রম চলমান থাকবে।

    খুলনা সিটি কর্পোরেশন এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের অনুরোধ করেছে দ্রুত শিশুদের টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে এসে এই কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার জন্য। যাতে কোনো শিশু টিকাদান থেকে বঞ্চিত না হয় এবং সম্প্রদায়ের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দৃঢ় হয়।

  • সানজিদা ইয়াসমিন তুলি পেলেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন

    সানজিদা ইয়াসমিন তুলি পেলেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন সাতক্ষীরার পুত্রবধূ সানজিদা ইয়াসমিন তুলি। মনোনয়নের তালিকা সোমবার (২০ এপ্রিল) নয়াপল্টনের বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঘোষণা করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

    তুলি সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার চন্দনপুর ইউনিয়নের দাঁড়কি গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামী ব্যাংকার ইলিয়াস হোসেন। তুলি নাটোরের আক্তার হোসেনের কন্যা। রাজনৈতিক জীবন শুরু থেকেই তিনি ছিলেন ছাত্র-রাজনীতির সঙ্গে জড়িত; ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন এবং বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে উপস্থিত থেকেছেন।

    মনোনয়ন পাওয়ায় সাতক্ষীরা জেলা ও স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীরা খুশি হয়েছিলেন এবং দলের প্রধান তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। মনে করা হচ্ছে, তুলি নিজ এলাকার সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবেশে সাড়া ফেলতে সক্ষম হবেন।

  • শ্রীলঙ্কাকে ৩ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে এগিয়ে বাংলাদেশ

    শ্রীলঙ্কাকে ৩ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে এগিয়ে বাংলাদেশ

    রাজশাহীর শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কাকে ৩ উইকেটে হারিয়ে দুর্দান্ত শুরু করেছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। শেষ মুহূর্তে চাপ বাড়লেও অভিজ্ঞতা ও লড়াকু মানসিকতায় টাইগ্রেসরা ম্যাচ নিজের করে নেয় এবং সিরিজে ১-০ liderança নিয়ে এগিয়ে যায়।

    টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় শ্রীলঙ্কা। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে তারা সংগ্রহ করে ২০৫ রান। দলের হয়ে হানসিমা করুণারত্নে ৭১ বলে ৫৪ ও ইমেশা দুলানি ৭৭ বলে ৫২ রান করেন। কাভিশা দিলহারি ৩৮ বলে ৩০ এবং ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হাসিনি পেরেরা ৪১ বলে ২৭ রান যোগ করেন। বাংলাদেশের জন্য রিতু মনি সবচেয়ে সফল বোলার; তিনি নেন ৩ উইকেট। নাহিদা আক্তার পেয়েছেন ২টি উইকেট, আর সোবহানা মোস্তারী, রাবেয়া খান, সুলতানা খাতুন ও মারুফা আক্তার নেন একজন করে উইকেট।

    জবাবে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ শুরুতেই ধাক্কা খায়। মাত্র ১ রানে ওপেনিং জুটির একটি ভেঙে যায়; শারমিন সুলতানা ৩ বলে শূন্য রানে ফিরেন। দ্রুত আরও এক উইকেট হারায় দল—জুরাইরিয়া ফেরদৌস ৫ বলে ৫ রান করে আউট হন।

    তবে এরপর অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ও শারমিন আক্তার (সুপ্তা) জায়গা দাঁড় করান। জ্যোতি ২৯ বলে ১৩ রান করে তখনই ফিরলেও, ক্রিজে এসে সোবহানা মোস্তারী যোগ দেন এবং শারমিনের সঙ্গে ভালো জুটি গড়েন। শারমিন অস্থির শুরু কেটে ফেলে ক্যারিশম্যাটিক ইনিংস খেলেন—তিনি ফিফটি তুলে নেন ও সেঞ্চুরির পথে এগোচ্ছিলেন।

    সোবহানাও দিনটি ঠিক রাখতে পারছিলেন না, ৫৬ বলে ৪১ রান করে আঘাত পেয়ে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন। শারমিন ও স্বর্ণা আক্তারের জুটি দলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে আসে; দল ১৯৯ রানে পৌঁছালে হঠাৎ ধস নামে। দীর্ঘ ১২৭ বল খেলে ৮৬ রান করা শারমিন আউট হলে উভয় পা মাটিতে কি টান পড়ে। পরেই ৪৮ বলে ৩৫ রান করা স্বর্ণাও ফিরে যান।

    এরপর রিতু মনি ও রাবেয়া খানও দ্রুত আউট হলে ম্যাচ আবার কমিশনে যায়। শেষ ৩ ওভারে মাত্র ৫ রান দরকার ছিল, কিন্তু লঙ্কান বোলাররা টাইট লাইন-লেংথে বোলিং করে রান তোলা কঠিন করে তুলে দেন।

    চাপে থাকা মুহূর্তে সুলতানা খাতুন ও নাহিদা আক্তার একপ্রকার ধৈর্য ও অভিজ্ঞতার পরিচয় দিয়ে অপরাজিত রয়ে জয় নিশ্চিত করেন—নির্ধারিত লক্ষ্য they পূরণ করে ৯ বল বাকি রেখে। নাহিদা ৭ বলে ৩ অপরাজিত এবং সুলতানা ১ বলে ১ রানে অপরাজিত ছিলেন।

    শ্রীলঙ্কার পক্ষে দেওমি ভিহঙ্গ চাপিয়ে তিনটি উইকেট নেন, মালকি মাদারা পেয়েছেন ২টি, আর নিমাশা মীপাগে ও ইনোকা রানাবীরা একজন করে উইকেট নেন। বাংলাদেশের পথে থাকা জয়ের নায়ক ছিল দলগত লড়াকু মনোভাব ও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দায়িত্ব নেওয়া ব্যাটসম্যানরা—এবার সিরিজে চলছে তাদের দাপট।

  • তানজিদ ও শান্তের ফিফটিতে সিরিজে ফিরলো বাংলাদেশ

    তানজিদ ও শান্তের ফিফটিতে সিরিজে ফিরলো বাংলাদেশ

    তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ২৬ রানে হেরে সিরিজ হার ঠেকাতে মিরপুরে দ্বিতীয় ম্যাচে বিজয় ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না স্বাগতিক বাংলাদেশে। সেই চাপ সামলে মিরাজদের কোনো ভুল করা লাগল না — নিউজিল্যান্ডকে ছয় উইকেটে হারিয়ে সিরিজ সমতায় ফিরে এসেছে বাংলাদেশ।

    নিউজিল্যান্ড প্রথমে ব্যাট করতে নেমে সব উইকেট হারিয়ে ১৯৮ রানে অলআউট হয়। পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রভাবে আক্রমণ চালায়; প্রথম ১০ ওভারেই ২৮ রান দিয়ে ২ উইকেট তুলেন নাহিদ। অষ্টম ওভারে নাহিদ হেনরি নিকোলসকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন (১৩) এবং পরের ওভারে উইল ইয়াংকে সৌম্য সরকারের ক্যাচে ফেরান। পরে সৌম্যই প্রতিপক্ষ অধিনায়ক টম লাথামের উইকেটও তুলে নেন।

    ৫২ রানে চার উইকেট পড়ে বিপদে পড়ে কিউইরা, কিন্তু নিক কেলি ও মুহাম্মদ আব্বাস ৫৬ রানের জুটি গড়ে দলকে সময় দেন। ২৭তম ওভারের শেষ বলে কেলি লেগে ফিফটি করেন। নাহিদই ঐ জুটি ভাঙেন—আব্বাসকে ১৯ রানে ফেরান নাহিদ এবং উড়ন্ত ক্যাচে তাকে ফেরান লিটন। কেলি এরপর সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়েও থামেন; ১০২ বলের ইনিংসে তিনি ৮৩ করে চারে ১৪টি চারলেও যান। শারিফুলের বলে তাওহীদ হৃদয়ের ক্যাচে লিপ্ত হন কেলি।

    কয়েকটি উইকেট পড়ার পর নিউজিল্যান্ডের অংশীদারিত্ব ভেঙে পড়ে। রিশাদ হোসেন জশ ক্লার্কসনকে ফেরান, নাহিদ ডিন ফক্সক্রফটকে আউট করেন এবং শারিফুল ইসলাম ব্লেয়ার টিকনারকে আউট করেন—আফিফ হোসেনই তাকে ক্যাচ দিয়ে দেন। নাহিদ নিজের শেষ ওভারে জেইডেন লেনক্সকে ইয়র্কারে বোল্ড করে প্রত্যাবর্তন ঘটান। শেষদিকে টাসকিন আহমেদের বলে উইলিয়াম ও’রোর্কের ক্যাচ নেন তাওহীদ হৃদয়। ৪৮.৪ ওভারে নিউজিল্যান্ডের ইনিংস অন্ত হয়েছে, মোট ১৯৮ রান।

    জবাবে লক্ষ্যমাত্রা মোকাবিলায় নেমে বাংলাদেশ দ্রুতই গতি ধরেন। শুরুতেই ওপেনার সাইফ হাসান প্রথম বলেই চার হাঁকান, কিন্তু প্রথম ওভারেই তিনি ফিরে যান—আউট হওয়ার আগে করেন ৮ রান। এরপর ক্রিজে আসা সৌম্য সরকার আগ্রাসী ব্যাটিং দেখালেও মাত্র ১১ বলে ৮ রান করে ষষ্ঠ ওভারের শেষ বলে ফক্সক্রফটের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন।

    তৃতীয় উইকেটে নাজমুল হোসেন শান্তের সঙ্গে একযোগে নামা তানজিদ হাসান তামিম ও শান্ত এক ঝলমলে জুটি গড়ে দলকে জয়পথে ফিরিয়ে দেন। দুজন মিলে ১২০ রানের বড় জুটি করেছেন, যা বাংলাদেশকে দৃঢ় ভিত্তি দিয়েছে। তানজিদ ৫৮ বলে ৭৬ রান করে যান—১০ চার ও ৪ ছয়ে সাজানো ইনিংসটি জেইডেন লেনক্সের বলে কটবিহাইন্ড হয়ে শেষ হয়। শান্ত অবশ্য আউট হননি—রিটায়ার্ড হার্ট হওয়ায় মাঠ ছাড়েন; তিনি ৭১ বল খেলে ৫টি চার ও ১ ছক্কায় ৫০ রান করেন।

    শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ লক্ষ্যটি হাতে রেখেই জিতেছে; ১৯৯ রানের জবাবে ৮৭ বলে এবং ৬ উইকেট বাঁচিয়ে ম্যাচ সেভ করেছে সূচকরা। মিরপুরে এ জয়ে সিরিজ এখন ১-১।

  • সুইমিংপুলে অচেতন উদ্ধার, হাসপাতালে মারা গেলেন অভিনেত্রী নাদিয়া ফারেস

    সুইমিংপুলে অচেতন উদ্ধার, হাসপাতালে মারা গেলেন অভিনেত্রী নাদিয়া ফারেস

    ইউরোপীয় চলচ্চিত্র জগৎ এখন শোকে ভাসছে — আলো, ক্যামেরা আর অভিনয়ের মাঝেই চিরবিদায় নিয়েছেন ফরাসি-মরোক্কান অভিনেত্রী নাদিয়া ফারেস। তার শেষ যাত্রাটা একদমই সিনেমাটিকই ছিল।

    পরিবারের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ১৭ এপ্রিল প্যারিসের একটি ব্যক্তিগত ক্রীড়া কমপ্লেক্সের সুইমিংপুলে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাকে কৃত্রিম কুমায় (ইনডিউসড কোমা) রাখেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত হৃদযন্ত্র ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ৫৭ বছর বয়সে তিনি মারা যান। চিকিৎসকদের প্রাথমিক চেষ্টার পরও তার বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

    ফ্রান্সের প্রভাবশালী দৈনিক লে ফিগারো জানিয়েছে, ঘটনার জন্য তদন্ত শুরু হয়েছে; প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো অপরাধমূলক ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। পরিবার ও সহকর্মীরা এই শোকের মধ্যেই ঘটনার কারণ জানতে তদন্তের ফলশ্রুতির অপেক্ষায় রয়েছে।

    নাদিয়া ফারেস আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ছিলেন ‘দ্য ক্রিমসন রিভার্স’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে। তিনি সিরিজ ‘মার্সেই’-তে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের নজর কাড়েন এবং কয়েকটি হলিউড প্রযোজনায়ও কাজ করেছেন। শিল্পজগতে তার মূহূর্তগুলো বিশেষভাবে স্মরণীয় ছিল।

    ১৯৬৮ সালের ২০ ডিসেম্বর মরক্কোর মারাকেশে জন্মগ্রহণ করেন নাদিয়া। শৈশব কাটে ফ্রান্সের নিস শহরে; পরে অভিনয়ের স্বপ্ন নিয়ে প্যারিসে আসেন এবং ১৯৯২ সালে চলচ্চিত্রে পা রাখেন। ২০০৯ সালে প্রযোজক স্টিভ চ্যাসম্যানকে বিয়ে করার পর কিছু সময়ের জন্য অভিনয় থেকে বিরতি নিয়েছিলেন। ২০১৬ সালে পুনরায় কেরিয়ারে ফিরেছিলেন এবং ২০২২ সালে পুনরায় ফ্রান্সে ফিরে এসেছিলেন।

    তার অনুপস্থিতি শুধু পরিবারের কাছে নয়, পুরো ইউরোপীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনের জন্যও বড় ক্ষতি। সহকর্মী ও ভক্তরা সোশ্যাল মিডিয়ায় শোক প্রকাশ শুরু করেছেন এবং তার কাজগুলো স্মরণ করছেন। পরিবারের প্রতি শোক ও সম্মান জানিয়ে চলচ্চিত্র মহল তাকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।

  • ‘গ্যাংস্টার’ ২০: অনুরাগ বসুর অজানা গল্প ও সিনেমার পেছনের কাহিনি

    ‘গ্যাংস্টার’ ২০: অনুরাগ বসুর অজানা গল্প ও সিনেমার পেছনের কাহিনি

    অনুরাগ বসু পরিচালিত বলিউড কাল্ট ক্লাসিক ‘গ্যাংস্টার: এ লাভ স্টোরি’ ২০২৬ সালের ২৮ এপ্রিল মুক্তির ২০ বছর পূর্ণ করছে। ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত এই ছবিটি সম্পর্কে সম্প্রতি পরিচালক নিজের কিছু অজানা ও মজার স্মৃতি শেয়ার করেছেন, যা সিনেমার ভক্তদের জন্য নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

    অনুরাগ জানান, সিনেমাটির মূল ধারণাটি আসলে মহেশ ভটের দেওয়া এক লাইন থেকেই এসেছে — “একজন গ্যাংস্টারকে তার প্রেমিকা ধোঁকা দিচ্ছে।” এই ছোট বীজ থেকে জন্ম নেয় পুরো গল্প। তখন অনুরাগ ‘লাইফ ইন আ মেট্রো’র চিত্রনাট্য নিয়ে কাজ করছিলেন, কিন্তু সেই কাজ থেকে বিরতি নিয়ে মাত্র দুই সপ্তাহেরও কম সময়ে তিনি ‘গ্যাংস্টার’র সম্পূর্ণ স্ক্রিপ্ট লিখে ফেলেন।

    সিমরান চরিত্রের জন্য অনুরাগ অনেক অডিশন নিয়েছিলেন। বহু প্রতিযোগীর পর কঙ্গনা রানাউতকে প্রথমবার দেখেই মনে হয়েছিল তিনি নন্দিত চরিত্রের সেরা মিল। তবুও বাঁকে আগ্নেয়তা দেখিয়ে অনুরাগ কঙ্গনাকে নেওয়ার আগে আরও ৫–৬ দিন অপেক্ষা করেছিলেন, হয়তো আর কাউকে পাওয়া যাবে কি না—অবশেষে কঙ্গনাই হয়ে ওঠেন বলিউডের নতুন সেনসেশন।

    একটি বিস্ময়ের মতো তথ্য—শুটিংয়ের সময় অনুরাগ বসু তখন ক্যানসারের চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। আশেপাশেররা বিশ্রাম নেয়ার পরামর্শ দিলেও, তিনি জেদ করে দক্ষিণ কোরিয়াতে শুটিংতে গেছেন—নিজের কথায় কাজ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

    বাজেট ছিল তুলনামূলকভাবে কম—সাড়ে তিন কোটি টাকার মতো (অনেকে ৩–৫ কোটি বলে থাকেন)। খরচ কমাতে ছোট একটি ইউনিটে কাজ করা হয়েছিল এবং ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডও নিজদল সামলাতো; অনুরাগ স্মৃতিচারণায় বলেছেন, তখন তারা নিজেদের খাবার রান্না করত—তিনি ডাল রাঁধতেন আর কঙ্গনা পেঁয়াজ কাটতেন।

    কম বাজেট, পরিচালক ও অভিনেতাদের ব্যক্তিগত ত্যাগ আর নতুন প্রতিভার সংমিশ্রণে তৈরি এই ছবি কেবল বাণিজ্যিকভাবে সফলই হয়নি, বরং সাংস্কৃতিকভাবে ঝাঁকুনিও এসেছে। কঙ্গনা রানাউত ও এমরান হাশমির অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল এবং ২০০৬ সালের ২৮ এপ্রিল মুক্তির পর থেকে ছবিটি দ্রুত বক্স অফিসে সাফল্য পায়। রিপোর্ট অনুযায়ী ছবিটি বিশ্বব্যাপী প্রায় ১৬.৮৫ কোটি টাকারও বেশি আয় করে।

    প্রীতমের সুরে ছবির গানগুলো দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে—বিশেষ করে ‘ইয়া আলী’ আজও কালজয়ী সংগীত হিসেবে স্মরণীয়। কঙ্গনা তার প্রথম ছবির জন্য ৫২তম ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডে ‘সেরা নবাগত অভিনেত্রী’ পুরস্কার জিএন।

    উপরন্তু, অনেকেই মনে করেন ‘গ্যাংস্টার’ ছবিটি আংশিকভাবে ভারতের কুখ্যাত আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন আবু সালেম এবং অভিনেত্রী মনিকা বেদীর সম্পর্কের ছায়া থেকে অনুপ্রাণিত। এই ধারণাগুলো সময়ের সঙ্গে ছবির রহস্য ও চর্চাকে আরও গভীর করেছে।

    অল্প বাজেট, ব্যক্তিগত কষ্ট ও সাহসী সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে গঠিত ‘গ্যাংস্টার’ আজও এক বিশেষ স্থানে দাঁড়িয়েছে—অনুরাগ বসুর দৃষ্টিভঙ্গি, কঙ্গনা ও এমরানের তীব্র অভিনয় এবং সুরকার প্রীতমের সংগীত মিলেই ছবিটিকে বলিউডের একটি কালজয়ী কাজে পরিণত করেছে।

  • ব্যক্তিগত সফরে সরকারি সেবা নিলে খরচ নিজে পরিশোধ করতে হবে: মন্ত্রিপরিষদ

    ব্যক্তিগত সফরে সরকারি সেবা নিলে খরচ নিজে পরিশোধ করতে হবে: মন্ত্রিপরিষদ

    মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা ব্যক্তিগত সফরে সরকারি যানবাহন, আবাসন বা অন্যান্য সরকারি সেবা গ্রহণ করলে তার মূল্য নিজে পরিশোধ করতে হবে। নির্দেশনাটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব নাসিমুল গনির স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে দেওয়া হয়েছে।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, কোনো সফর সরকারি না ব্যক্তিগত—এটি স্পষ্টভাবে সফরসূচি বা সফরের চিঠিতে উল্লেখ করতে হবে। সরকারি সফর হলে চলাচল ও আবাসনের দায়ভার সরকার বহন করবে; কিন্তু ব্যক্তিগত সফরে যদি সরকারি সুবিধা নেওয়া হয়, তাহলে বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যয় মন্ত্রণালয় বা ব্যক্তিকে নিজে বহন করতে হবে।

    নির্দেশনায় মন্ত্রিসভার সদস্যদের যাত্রা-বিষয়ক প্রটোকলও সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। বিমানবন্দরে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীর আগমন ও প্রস্থানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব বা যুগ্ম সচিব উপস্থিত থাকবেন। দেশের ভেতরকার সফরে ঢাকায় যাত্রা ও প্রত্যাবর্তনের সময় তাদের একান্ত সচিব উপস্থিত থাকবেন।

    জেলা পর্যায়ে সফরের সময় যথাসম্ভব জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আগমন ও বিদায়ের সময় অভ্যর্থনা ও বিদায় জানাবেন। প্রয়োজনে জেলা প্রশাসক বা পুলিশ সুপার নিজ দায়িত্বে নির্ধারিত সরকারি সফর পরিবর্তন না করে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বা অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে দায়িত্ব দিয়ে কাজ চালিয়ে নিতে পারবেন। মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী চাইলে তাদের ব্যক্তিগত সফরসূচি পরিবর্তন করতেও পারবেন।

    উপজেলা পর্যায়ে সফরের দায়িত্ব পালন করবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী পুলিশ সুপার ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। অপ্রয়োজনে জেলা প্রশাসক বা পুলিশ সুপারের সরাসরি উপস্থিতি বাধ্যতামূলক নয়। বিমানবন্দর বা রেলস্টেশনে আগমন ও প্রস্থানের সময়ও প্রয়োজন না হলে জেলা প্রশাসক বা পুলিশ সুপারের উপস্থিতির বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়নি; তবে ট্রানজিট ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলার প্রশাসনের প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন।

    নির্দেশনায় পুলিশকে সফরসূচি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রেলপথে গেলে রেলওয়ে পুলিশ সংশ্লিষ্ট স্টেশনগুলোকে অবহিত করবে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোতে পুলিশ কর্মকর্তার উপস্থিতি নিশ্চিত করবে। এছাড়া সফরসূচি সময়মতো সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো এবং কোনো পরিবর্তন হলে দ্রুত জানানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

    চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, সার্কিট হাউজ বা সরকারি রেস্ট হাউজের বাইরে অবস্থান করলেও নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়মাবলি প্রযোজ্য থাকবে। নির্দেশনাটি সব বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদেরও পাঠানো হয়েছে এবং এর মাধ্যমে ২০২৪ সালের ২৭ আগস্টে জারি করা আগের নির্দেশনাটি বাতিল করা হয়েছে।

    সূত্র: বাসস

  • বিগত আওয়ামী লীগ সরকার গ্যাস উত্তোলনে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি: তথ্যমন্ত্রী

    বিগত আওয়ামী লীগ সরকার গ্যাস উত্তোলনে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি: তথ্যমন্ত্রী

    তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ভঙ্গুর স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও কট্টর অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে দায়িত্বভার নিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ চলছে। তিনি বলেন, চলমান কাজের লক্ষ্য একটি শক্তিশালী ও টেকসই রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা।

    সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে বরিশালের গৌরনদী উপজেলা কেএ অনুষ্ঠেয় দেশের টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরে সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    তথ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, দেশের মাটির নিচে পর্যাপ্ত গ্যাস মজুদ থাকা সত্ত্বেও বিগত আওয়ামী লীগ সরকার তা উত্তোলনে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। পরিকল্পনার ঘাটতি ও স্বার্থসংরক্ষণের কারণে গ্যাসক্ষেতে স্বনির্ভরতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়নি, ফলে আমদানি নির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা তৈরি হয়ে বর্তমান জ্বালানি সংকটের জন্ম হয়েছে—এই পরিস্থিতির জন্য পুরোনো সরকারকে দায়ী করেন তিনি।

    সরকারি উদ্যোগ সম্পর্কে স্বপন জানান, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশীয় সম্পদ সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগানো, নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান, বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

    স্বাস্থ্য খাত নিয়ে মন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯সহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দেশে টিকাদান কার্যক্রমকে জোরদার করে জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করাই সরকারের অগ্রাধিকার। তিনি সবাইকে টিকাদান কার্যক্রমে 적극 অংশগ্রহণ ও সহযোগিতার আহ্বান জানান।

    একই সঙ্গে তিনি গণমাধ্যমকে সতর্ক করে বলেন, অবাধ তথ্যপ্রবাহের এই যুগে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা অপরিহার্য। অনির্ভরযোগ্য তথ্য ও গুজব যাতে ছড়ায় না, তা নিশ্চিত করতে সংবাদকর্মীদের সতর্ক থাকার ওপর জোর দেন। সঠিক ও বিশ্বাসযোগ্য সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে উল্লেখ করেন।

    অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা টিকাদান কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে সমাজের সব স্তরের সম্মিলিত প্রচেষ্টার গুরুত্ব অনুধাবন করার পরামর্শ দেন।

  • নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন ছাত্রদল নেত্রী মানসুরা আক্তার

    নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন ছাত্রদল নেত্রী মানসুরা আক্তার

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকায় নাম পেয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেত্রী মানসুরা আক্তার। সোমবার (২০ এপ্রিল) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তার মনোনয়নের সংবাদ কার্যকরভাবে ঘোষণা করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

    মানসুরা আক্তার বর্তমানে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১২–১৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। দীর্ঘসময় ধরে ছাত্রদলের কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত থেকে বিএনপির রাজপথ আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।

    আক্রমণ ও মামলা থেকে মুক্ত ছিলেন না—আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিভিন্ন সময়ে তিনি হামলা ও মামলা লক্ষ্য হয়ে পড়েছেন। ২০২২ সালের মে মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের এক মিছিলে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন; এ ঘটনায় তার হাত ভেঙে যায় এবং সহকর্মীরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করায়। পরে তিনি এ ঘটনায় ছাত্রলীগের ৩৩ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন।

    এর আগে ২০২৩ সালের এপ্রিলেও মানসুরা আক্তার পুনরায় ছাত্রলীগের হামলার শিকার হন। ঢাকা মেডিকেল কলেজের বহির্বিভাগের গেটের সামনে অবস্থানকালে হামলায় তার পাশাপাশি ছাত্রদলের আরও কয়েকজন নেতা আহত হন।

    বিএনপির মনোনয়ন পেলে সংরক্ষিত নারী আসন থেকেই তিনি সংসদে পরিবেশ করার সম্ভাবনা পাবেন। দলীয় পদের পাশাপাশি রাজপথে তার দীর্ঘ কার্যক্রম এবং অভিজ্ঞতা তাকে দলের নারীতন্ত্রে নতুন ভূমিকা দিতে পারে।

  • সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি: ২৮ নতুন মুখ, ৮ অভিজ্ঞ

    সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি: ২৮ নতুন মুখ, ৮ অভিজ্ঞ

    তৃতীয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি ৩৬ জনকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) নয়াপল্টনের বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই তালিকা প্রকাশ করেন।

    বিএনপির ঘোষিত তালিকা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দলের মনোনীত ৩৬ জনের মধ্যে নতুনদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। ২৮ জন প্রথমবার সংসদ সদস্য হচ্ছেন, আর ৮ জনই পূর্বে সংরক্ষিত কোটায় সংসদ সদস্য ছিলেন। পুরনো পর্যায়ের এই आठজন হলেন: সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, রেহান আক্তার রানু, রাশেদা বেগম হীরা, বিলকিস ইসলাম, হেলেন জেরিন খান, নিলুফার চৌধুরী মনি, সুলতানা আহমেদ এবং নেওয়াজ হালিমা আর্লি।

    তালিকায় এমন দু’জন নারীর নামও রয়েছে যাদের পরিবারের সদস্যরাও রাজনীতিতে সম্মানজনক পোস্টে আছেন। ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও দলীয় নির্বাহী সদস্য নিপুন রায় চৌধুরীর বাবা সাংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এবং শ্বশুর বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। অন্যদিকে শিরিন সুলতানার স্বামী বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন।

    তালিকায় অনেকে রাজনৈতিক পরিবার ও সংস্থার সঙ্গে যুক্ত; এক নমুনা হিসেবে দেশের স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রয়াত সভাপতি শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বিথিকা বিনতে হোসাইন রয়েছেন।

    এছাড়া সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হলেও সংরক্ষিত কোটায় জায়গা পেয়েছেন তিনজন— ঢাকা-১৪ আসনের সানজিদা ইসলাম তুলি, যশোর-২ আসনের সাবিরা সুলতানা এবং শেরপুর-১ আসনের সানসিলা জেবরিন।

    মহিলা দলের সম্ভ্রান্ত নেতৃত্ব থেকেও মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে; সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ এবং সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান যেন সেই অংশ। বিএনপির মিডিয়া সেল থেকেও মনোনয়ন পেয়েছেন মাহমুদা হাবিবা ও শাম্মী আক্তার। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের কমিটি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন ফেরদৌস আহমেদ, আরিফা সুলতানা ও নাদিয়া পাঠান।

    বর্তমান ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মানসুরা আক্তারও সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন; তিনি এ তালিকার সর্বকনিষ্ঠ সদস্য এবং তার বাবা প্রয়াত অ্যাডভোকেট এবাদুর রহমান চৌধুরী। তালিকায় এমন কয়েক জনও আছেন যারা দলীয় রাজনীতিতে খুব সক্রিয় নন— এর মধ্যে রয়েছেন মোবাইল অপারেটর বাংলা লিংকের সিইও জহরত আবিদ চৌধুরী।

    বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, ‘অভিজ্ঞ রাজপথে নিপীড়িত ও নির্যাতিত যারা আছেন, তাদের মূল্যায়ন করা হয়েছে; এটি দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।’ তিনি আরও বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান ও রাষ্ট্রবিক্ত হিসেবে তরিক রহমান এবং দলের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে সমন্বয় করে এই মনোনয়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

    বিএনপির এই তালিকা নতুন মুখের উত্থান ও অভিজ্ঞ নেতাদের সংমিশ্রণ দেখায়— দলটি সংরক্ষিত নারী আসনে তরুণ নেতৃত্বকে সুযোগ দিতে চায়, একই সঙ্গে পূর্বের অভিজ্ঞতাও কাজে লাগাতে আগ্রহী।