Blog

  • ‘গ্যাংস্টার’ মুক্তির ২০ বছর: সিনেমার অজানা কাহিনি প্রকাশ্যে

    ‘গ্যাংস্টার’ মুক্তির ২০ বছর: সিনেমার অজানা কাহিনি প্রকাশ্যে

    অনুরাগ বসু পরিচালিত বলিউডের কাল্ট ক্লাসিক ‘গ্যাংস্টার: এ লাভ স্টোরি’ ২০২৬ সালের ২৮ এপ্রিলে মুক্তির ২০ বছর পূর্ণ করতে যাচ্ছে। ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত এই ছবিকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশ পেয়েছে কিছু অজানা ও মজার ঘটনা।

    পরিচালক অনুরাগ বসু জানিয়েছেন, সিনেমাটির মূল ভাবনা তিনি পেয়েছিলেন মহেশ ভাটের কাছ থেকে। ভাট সাহেব শুধু একটি লাইন বলেছিলেন— ‘একজন গ্যাংস্টারকে তার প্রেমিকা ধোঁকা দিচ্ছে।’ এই এক লাইন থেকেই জন্ম নেয় পুরো গল্পটির ধারণা।

    সেই সময়ে অনুরাগ ‘লাইফ ইন আ মেট্রো’র চিত্রনাট্য নিয়ে কাজ করছিলেন। তবু বিরতি নিয়ে মাত্র দুই সপ্তাহেরও কম সময়ে তিনি ‘গ্যাংস্টার’ সম্পূর্ণ করে ফেলেন।

    চিত্রনাট্য অনুযায়ী ‘সিমরান’ চরিত্রের জন্য পরিচালক একজন পাহাড়ি মেয়ে খুঁজছিলেন। বহু অডিশনের পরে কঙ্গনা রানাউতকে দেখিয়ে অনুরাগের মনে হল—শুধু এটাই তিনি খুঁজছিলেন। কঙ্গনাকে নেবার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি আরও ৫-৬ দিন অপেক্ষা করেছিলেন, মনে হয়েছিল হয়তো আরও কেউ উপরি আসতে পারে। কিন্তু শেষপর্যন্ত কঙ্গনাই হয়ে ওঠেন বলিউডের নতুন সেনসেশন।

    অন্য একটি অজানা দিক হলো—শুটিং শুরু হওয়ার সময় অনুরাগ বসু ক্যান্সারের চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। চিকিৎসকেরা বিশ্রামের পরামর্শ দিলেও অনুরাগ দৃঢ়চিত্তে কাজে ফিরে দক্ষিণ কোরিয়ায় শুটিং করেন।

    বাজেট নিয়ে চমক ছাড়েন সিনেমাটি; ‘গ্যাংস্টার’ ছিল খুবই স্বল্প বাজেটের—প্রায় সাড়ে তিন কোটির কাছাকাছি। খরচ বাঁচাতে তারা একটি ছোট ইউনিট নিয়েই কাজ চালিয়েছিল এবং সেটে নিজেরাই রান্না করতেন। অনুরাগ বলেছিলেন, তিনি ডাল রাঁধতেন আর কঙ্গনা পেঁয়াজ কাটতেন—ছোট ছোট এমন মুহূর্তগুলোও দলের বন্ধন গড়ে তুলেছিল।

    অল্প বাজেট, শারীরিক অসুস্থতা এবং নতুন প্রতিভাদের নিয়ে তৈরি হওয়া এই সিনেমা আজ বলিউডের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। অনুরাগের সাহসী পরিচালনা এবং কঙ্গনা রানাউত ও ইমরান হাশমির অভিনয় দর্শককে মুগ্ধ করেছিল।

    ২০০৬ সালের ২৮ এপ্রিল মুক্তির পর ছবিটি কমার্শিয়ালি সফল হয়। রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রায় ৩–৫ কোটির বাজেটে নির্মিত এই ছবি বিশ্বব্যাপী ১৬.৮৫ কোটিরও বেশি আয় করে। প্রীতমের সুরে গাওয়া গানগুলি দর্শকদের কাছে জনপ্রিয়তা পায়; বিশেষ করে ‘ইয়া আলী’ আজও কালজয়ী। কঙ্গনা রানাউত ইনিই প্রথম সিনেমায় পারফর্ম করে ৫২তম ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডে ‘সেরা নবাগতা অভিনেত্রী’ পুরস্কার জিতেন।

    প্রসঙ্গে, অনেকে মনে করেন ছবিটির কাহিনি আংশিকভাবে ভারতের কুখ্যাত আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন আবু সালেমের ওপর অনুপ্রাণিত এবং অভিনেত্রী মনিকা বেদীর বাস্তব সম্পর্কের কিছু ছায়াও ফুটে উঠেছে চরিত্রগুলোর মধ্যে—তবে এসব ব্যাখ্যা প্রায়ই অনুমানভিত্তিক।

    মোটকথা, ‘গ্যাংস্টার’—স্বল্প সংস্থান, ব্যক্তিগত সংগ্রাম ও তাজা প্রতিভার সহযাত্রায় গড়ে ওঠা একটি ছবি, যা মুক্তির দুই যুগ পেরিয়ে এখনও দর্শকের মনে তার স্থান বজায় রেখেছে।

  • অ্যান হ্যাথাওয়ের ‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নেটদুনিয়া সরগরম

    অ্যান হ্যাথাওয়ের ‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নেটদুনিয়া সরগরম

    সিসেমি স্ট্রিটের লাল পুতুল এলমোর ‘আসসালামু আলাইকুম’ নিয়ে তোলপাড় চলা দাবানলের মধ্যেই হঠাৎ হলিউড অভিনেত্রী অ্যান হ্যাথাওয়ে এক সাক্ষাৎকারে ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দটি বলেই সকলের নজর কেড়ে নিলেন।

    সম্প্রতি পিপল ম্যাগাজিনকে দেওয়া দুইভাগ সাক্ষাৎকারে চল্লিশোর্ধ্ব জীবনের কথা বলেন এই অস্কারজয়ী তারকা। দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন কামনা করে তিনি বলেন, আমি একটি দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন কাটাতে চাই ইনশাআল্লাহ। আমি সেটাই আশা করি। এই সংক্ষিপ্ত উচ্চারণের পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায় এবং নেটিজেনরা অনান্যভাবে বিস্মিত ও উচ্ছ্বসিত প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে।

    অনেক ফ্যান মন্তব্য করেছেন যে হ্যাথাওয়ে শব্দটি সঠিক প্রসঙ্গে, সঠিক উচ্চারণে ব্যবহার করেছেন—তাই বোঝা যায় তিনি এর ব্যাকগ্রাউন্ড ও গভীরতা সম্পর্কে জানেন। অন্যরা তাঁর এই অন্তর্ভুক্তিমূলক মনোভাব ও ভদ্রতা প্রশংসা করেছেন।

    কথোপকথনে শুধু এই একটা বাক্যই নয়, হ্যাথাওয়ে তার বার্ধক্য ও জীবনদর্শন সম্পর্কেও নিজের প্রাপ্ত প্রজ্ঞা ভাগ করে নিয়েছেন। চার দশকের অভিজ্ঞতা নিয়েই তিনি বলেন যে পেছনে ফিরে দেখলে বুঝতে পারা যায় অতীতের সিদ্ধান্তগুলো কীভাবে বর্তমানকে গঠন করেছে, এবং সেটাই ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।

    বয়স বাড়ার সঙ্গে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি বদলে গেছে—তিনি এখন জীবনকে সহজভাবে গ্রহণ করতে চান। তিনি বলেন, বার্ধক্যকে ভয় না করে কৌতূহলের সঙ্গে নিতে পছন্দ করেন। হ্যাথাওয়ের কথায়, বয়স ১১ হোক বা ৪৩—জীবন সবসময় অনিশ্চিত; পরের মোড়ে কী অপেক্ষা করছে তা কেউ জানে না।

    এই ঘটনার ফলে ইন্টারনেটে হঠাৎভাবে আলোচনা জাগে—কিছু অংশ বিস্ময় প্রকাশ করেছে, আবার মুসলিম ভক্তরা তাঁর এই ভাষাবিনিময় ও সহনশীল মনোভাবকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। সাধারণভাবে, একটি ভিন্ন সাংস্কৃতিক শব্দ সরাসরি ব্যবহার করে এমন বিনয়শীল অ্যাকশনের জন্য হ্যাথাওয়েকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া বেশী মাত্রায় পেয়েছেন।

  • পুলিশের পোশাক ফের বদল: গাঢ় নীল ও হালকা জলপাই রং ফিরছে

    পুলিশের পোশাক ফের বদল: গাঢ় নীল ও হালকা জলপাই রং ফিরছে

    বাংলাদেশ পুলিশের পোশাকের রঙ ফের বদল আনার প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী পুরোনো গাঢ় নীল ও হালকা অলিভ (জলপাই) রঙের সংমিশ্রণ আবার ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এই পরিবর্তন পুলিশ ড্রেস রুলস, ২০২৫ সংশোধনের মাধ্যমে কার্যকর করা হবে।

    পুলিশ সদর দপ্তরের লজিস্টিকস শাখার অতিরিক্ত ডিআইজি মো. সারোয়ার জাহান স্বাক্ষরিত চিঠিতে সংশোধনের প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সূত্রগুলো বলছে, সংশ্লিষ্ট বিধিগুলোতে একাধিক পরিবর্তন আনতে হবে এবং এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের খসড়া ইতিমধ্যে তৈরি করে পাঠানো হয়েছে।

    পরিবর্তনের পটভূমিতে বলা হয়েছে, আগে জারি করা এসআরও অনুযায়ী পুলিশের শার্ট ছিল গাঢ় ধূসর এবং প্যান্ট ছিল গাঢ় নীল; পরে শার্ট লৌহ রং ও প্যান্ট কফি রঙ নির্ধারিত হয়েছিল। মাঠপর্যায় এই রঙ বদলের পর পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে বিষয়টি বাহিনীর ভেতরে-বাইরে আলোচনা ও সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। সেই প্রতিক্রিয়া ও আলোচনার পরেই রং পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

    প্রস্তাবিত নতুন রঙবিন্যাসে সব মেট্রোপলিটন (মহানগর) পুলিশের শার্ট হবে হালকা অলিভ (জলপাই) রঙের। অন্যদিকে, এপিবিএন, এসপিবিএন, এসবি, সিআইডি ও র‍্যাব ছাড়া অন্যান্য ইউনিটের শার্ট হবে গাঢ় নীল। উভয় ক্ষেত্রেই প্যান্টের রঙ নির্ধারণ করা হয়েছে টিসি টুইল খাকি।

    সরকারি কাগজপত্রে বলা হয়েছে, পোশাক সরবরাহ ব্যবস্থা বিবেচনায় নেওয়া হলে নতুন এই পরিবর্তনে অতিরিক্ত কোনো বড় আর্থিক বোঝা সরকারের ওপর পড়বে না—সরবরাহযোগ্যতার ভিত্তিতেই রং নির্ধারণ করা হচ্ছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্রস্তাবটি কার্যকর হওয়ার সময়সীমা এখন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে।

  • ময়মনসিংহে কলেজছাত্র ইকবাল হত্যা মামলায় ৭ জনের ফাঁসি

    ময়মনসিংহে কলেজছাত্র ইকবাল হত্যা মামলায় ৭ জনের ফাঁসি

    ময়মনসিংহের রুমডো পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের ছাত্র শাহীনুর আলম ওরফে ইকবাল হত্যা মামলায় সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড ও দুইজনকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। রায় আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে ময়মনসিংহ জেলা ও দায়রা জজ কোর্টের বিচারক মোহাম্মদ জাকির হোসেন ঘোষণা করেন।

    ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের নাম হচ্ছে: আসিফ রানা, গোলাম হোসেন, আব্দুল হেলিম, মোহাম্মদ আলী, ফরিদ আহম্মেদ, ইউনুছ আলী ও শামছুল হক। অপরদিকে খালেদা আক্তার ও রেহেনা খাতুনকে সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও একে-এক জনের বিরুদ্ধে ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    বিবরণে জানা যায়, নিহত শাহীনুর আলম (১৯) ২০২১ সালের ৩১ মে রাত সাড়ে ১১টার পর নিখোঁজ হন। পরে তার বড় ভাই ইঞ্জিনিয়ার মো. সেলিম মিয়া তদন্তের জন্য তারাকান্দা থানায় অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ২০২১ সালের ৫ জুন পুলিশ স্টোর থেকে নয়, বরং সেপটিক ট্যাংক থেকে ওই কলেজছাত্রের লাশ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে এবং মামলায় তদন্তের পর কিছু আসামির স্বীকারোক্তিতে আরও নাম উঠে আসে।

    আদালতে মোট নয়জন আসামির উপস্থিতিতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড ও দুইজনকে দণ্ডিত করা হয়। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে নিহতের বড় ভাই ইঞ্জিনিয়ার সেলিম মিয়া বলেন, ‘পুলিশ ও আইনজীবীদের নিঃস্বার্থ সহযোগিতার কারণে এমন রায় এসেছে। দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানাচ্ছি।’

    কোর্টের এই রায়ে মামলার পক্ষ ও স্থানীয় জনমniej্য রেশন মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে; বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া সাপেক্ষে পরবর্তী কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

  • সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন পেলেন চার সংখ্যালঘু নারী

    সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন পেলেন চার সংখ্যালঘু নারী

    বিএনপি সংরক্ষিত নারী আসনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের চার নারী প্রার্থীকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে। সোমবার নয়াপল্টনের দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই মনোনয়ন তালিকা ঘোষণা করেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। মনোনীত চারজনের নাম হলো নিপুণ রায় চৌধুরী, আন্না মিঞ্জ, সুবর্ণা শিকদার এবং মাধবী মারমা।

    মোনোনয়নের মধ্যে সামাজিক ও সম্প্রদায়ভিত্তিক প্রতিনিধিত্বকে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য প্রতিনিধি আন্না মিঞ্জ উন্নয়নকর্মী ও আদিবাসী ওঁরাও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র ডিরেক্টর (প্রোগ্রাম) এবং নাটোরের বাসিন্দা। আন্না মিঞ্জ জানিয়েছেন, তিনি সুবিধাবঞ্চিত সংখ্যালঘু, খ্রিস্টান ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভেতর থেকে তাদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরবেন। তার স্বামী জন গোমেজ বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ধর্মবিষয়ক সহ-সম্পাদক।

    সুবর্ণা শিকদার গোপালগঞ্জ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি শিক্ষক ও ‘‘মথুয়া বহুজন সমাজ ঐক্যজোট’’ের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে পরিচিত। মনোনয়ন ঘোষণা হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু প্রশ্ন উঠেছে যে তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগে রয়েছেন—তথ্যটি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। এসব জল্পনায় সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে সুবর্ণা শিকদার গণমাধ্যমকে বলেছেন, “আমি বিএনপির একজন সমর্থক। কোনো কমিটিতে নেই।” তার স্বামী পদ্মনাভ ঠাকুর আগে যুবদলের নেতা ছিলেন।

    আরেক জন মনোনীত প্রার্থী মাধবী মারমা বান্দরবান থেকে প্রতিষ্ঠান ও আইনজীবী মহলে পরিচিত। তিনি বান্দরবান জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য ও দলের মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক।

    দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বলেছেন, সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরিই এ উদ্যোগ গ্রহণের মূল লক্ষ্য। তারা বলেন, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব বাড়ালে জোরালো ও বহুমাত্রিক নেতৃত্ব গঠন সহজ হবে।

  • সঠিক পথে না গেলে নারী এমপিরাও প্রতিবাদে সামিল হবেন: হামিদুর রহমান আযাদ

    সঠিক পথে না গেলে নারী এমপিরাও প্রতিবাদে সামিল হবেন: হামিদুর রহমান আযাদ

    জামায়াতের সহকারী সাধারণ সম্পাদক হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, সরকার যদি ভুল পথে চলে বা জনবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তাতে বিরোধীদলের অন্যান্য সদস্যদের মতো সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যরাও মুখ খুলে প্রতিবাদ করবেন। তিনি এই মন্তব্যগুলো নির্বাচন ভবনে জামায়াত জোটের মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সংবাদ সম্মেলনে করেন।

    আযাদ জানান, সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য তারা ১৩টি কম্বাইন তালিকা জমা দিয়েছে এবং আশা করেন এইসব আসনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকবে না। ফলে এই ১৩ আসনই তালিকা অনুযায়ী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সম্পন্ন হবে বলে তাদের প্রত্যাশা। তিনি আরও বলেন, কমিশনের সঙ্গে কথাবার্তা হয়েছে এবং তারা চান যে সংসদে সময় মতো নারী প্রতিনিধির উপস্থিতি নিশ্চিত করা হোক—এতে জাতি ও নারী সমাজের প্রত্যাশা পূরণ হবে। কমিশন যেন এই ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিঘ্ন তৈরি না করে, সেটাই তাদের বিশ্বাস ও অনুরোধ।

    আযাদ বলেন, মনোনীত ১৩ নারী সংসদ সদস্য ১১ দলের ঐক্যের পক্ষে পার্লামেন্টে নারীর প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করবেন। দেশের উন্নয়ন, জনগণের স্বার্থ এবং আইন প্রণয়নসহ সংসদের সব কার্যক্রমে তারা স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে অংশ নিয়ে তাদের সাংবিধানিক অধিকারের পূর্ণ ব্যবহার করবেন। তিনি বলেন, সংবিধান নারীদের সেই সুযোগ দিয়েছে।

    তিনি আশা প্রকাশ করেন যে বিরোধীদল হিসেবে ৭৭ জনের সঙ্গে এই ১৩ জন যুক্ত হয়ে মোট প্রায় ৯০ জন বিরোধীদলীয় সদস্য একসঙ্গে সুসংহত ভূমিকা রাখবেন। সরকারের বিরুদ্ধে যদি কোনো অন্যায় বা জনবিরোধী সিদ্ধান্ত আসে, সেখানে এই নারী এমপিরাও বিরোধীদলের পাশে থেকে সোচ্চার ভূমিকা পালন করবেন—এটাই তাদের প্রত্যাশা।

    গণভোট ও সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে আযাদ বলেন, গণভোটের রায় অনুযায়ী সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠন হওয়ার কথা ছিল; সেটি না হওয়ায় ১১ দল সংসদের ভেতরে ও বাইরে সরকারের জনবিরোধী কাজের প্রতিবাদে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও রাজপথে কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

    মনোনয়ন সংক্রান্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াতে পরিবারগত দু’জন সদস্য সংসদে থাকা নীতি না মানায় দলের আমিরের সহধর্মিণীকে সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। বরং শহীদ পরিবারের মা, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির অবদান রাখেন এমনদের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।

    এনসিপির প্রার্থী মুনিরা শারমিনের বিষয়ে আভাস দিয়ে তিনি বলেন, সরকারি চাকরি থেকে অবসরের তিন বছর পূর্ণ না হলে প্রার্থী হওয়া যাবে না—এই নিয়মের কারণে মনোনয়ন বাতিল হবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।

    জানানো হয়, তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র বাছাই ২২ ও ২৩ এপ্রিল, আপিল ২৬ এপ্রিল, আপিল নিষ্পত্তি ২৭ ও ২৮ এপ্রিল, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৯ এপ্রিল, প্রতীক বরাদ্দ ৩০ এপ্রিল এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে।

  • এপ্রিলের প্রথম ১৮ দিনে রেমিট্যান্স ১৮০ কোটি ডলার

    এপ্রিলের প্রথম ১৮ দিনে রেমিট্যান্স ১৮০ কোটি ডলার

    এপ্রিলের প্রথম ১৮ দিনে বৈধ পথে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ১৮০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স। এক ডলারের মান ১২৩ টাকা ধরে এ রেমিট্যান্সের মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ২২ হাজার ১৪০ কোটি টাকা।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসাইন খান রোববার এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ বার রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৬ দশমিক ২ শতাংশ।

    ব্যাংকের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় নয় মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৮১৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৩৪৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার। আনুমানিক ভিত্তিতে আলোচ্য সময়ে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২০ দশমিক ২ শতাংশ।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যকর উদ্যোগ, প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের উন্নতি রেমিট্যান্স বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানে চলতি অর্থবছরের মাসগুলোয় রেমিট্যান্সের প্রবাহ ছিল এভাবে: জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বর ২৬৮ কোটি ৫৫ লাখ ডলার, অক্টোবর ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ ডলার, নভেম্বর ২৮৮ কোটি ৯৭ লাখ ডলার, ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৩৬ লাখ ডলার, জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ১৬ লাখ ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি ডলার এবং মার্চে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

  • রেমিট্যান্সের স্রোত তীব্র: ১৯ দিনে দেশে এসেছে ২.১৩ বিলিয়ন ডলার

    রেমিট্যান্সের স্রোত তীব্র: ১৯ দিনে দেশে এসেছে ২.১৩ বিলিয়ন ডলার

    চলতি এপ্রিলের প্রথম ১৯ দিনে দেশে এসেছে ২.১৩ বিলিয়ন বা ২১২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। এতে দৈনিক গড় প্রবাহ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ কোটি ১৯ লাখ ডলার, সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য জানিয়েছেন। গত বছরের একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৭১ কোটি ৯০ লাখ ডলার, যা year-on-year তুলনায় স্পষ্ট বৃদ্ধি দেখায়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৮৩৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২০ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি। মার্চ মাসে একক মাস হিসেবে রেকর্ডভাবে আসে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

    অন্যান্য মাসগুলোতে প্রাপ্ত রেমিট্যান্স ছিল: জানুয়ারি ৩১৭ কোটি ৯ লাখ, ফেব্রুয়ারি ৩০২ কোটি ৭ লাখ, ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ, নভেম্বর ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ, অক্টোবর ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ এবং সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার।

    মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা বৈদেশিক মুদ্রা বাজারেও প্রভাব ফেলেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের চাহিদা বাড়ায় স্থানীয় মুদ্রার বিপরীতে ডলারের বিনিময় হার বেড়ে গেছে, ফলে প্রবাসীরা যখন টাকা পাঠাচ্ছেন তখন তুলনামূলকভাবে বেশি টাকাই পাচ্ছেন।

    অর্থনীতিবিদরা জানান, যদি মধ্যপ্রাচ্যের সংকট দীর্ঘায়িত হয় তবে তার প্রভাব বাংলাদেশে অর্থনীতিতে পড়তে পারে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় তারা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্ত অবস্থায় রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন, যাতে ভবিষ্যতে ছন্দপতন এড়ানো যায়।

  • ইরানের কোনো প্রতিনিধি এখনও ইসলামাবাদে পৌঁছায়নি

    ইরানের কোনো প্রতিনিধি এখনও ইসলামাবাদে পৌঁছায়নি

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে মঙ্গলবার চুক্তি হবে—এমন দাবি ট্রাম্প তার সামাজিক মঞ্চ ট্রুথ সোশ্যালে করলেও, ইরান এখনো ইসলামাবাদে কোনো প্রতিনিধি পাঠায়নি বলে নিশ্চিত করেছে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা।

    ইরনা তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে জানায়, এখনও পর্যন্ত ইরান থেকে কোনো উচ্চ পর্যায়ের, মাঝারি পর্যায়ের বা আগের বৈঠকের ফলোআপ কোনো প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদ পাঠানো হয়নি। আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত যে সব খবর বলছে ইরানের প্রতিনিধিদল রওনা দিয়েছে বা পৌঁছেছে—সেগুলোকে তারা ‘গুজব’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

    একই সঙ্গে ইরান মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে তাদের পুরাতন নীতি পুনর্ব্যক্ত করেছে: চাপের মুখে আত্মসমর্পণ করা হবে না।

    পটভূমি হিসেবে বলা হয়েছে, প্রথম দফার সংলাপ ১১ এপ্রিল ব্যর্থ হওয়ার পর পাকিস্তান দ্বিতীয় দফার সংলাপ আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করে; ওই আলোচনার জন্য ২২ এপ্রিল নির্ধারিত ছিল। তবে প্রথম পর্বে ব্যর্থতার পর ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী ও ইরানের কিছু বন্দর অবরোধের নির্দেশ দিলে দ্বিতীয় দফার সম্ভাবনা অনেকাংশেই ক্ষীণ হয়ে পড়ে।

    সম্প্রতি পাকিস্তানের সেনা প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ট্রাম্পকে হরমুজ ও ইরানি বন্দরগুলো থেকে অবরোধ প্রত্যাহারের পরামর্শ দেন—কারণ তিনি বলেন, এই অবরোধ সংলাপের পথে অন্তরায়। ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ওই পরামর্শ বিবেচনা করবেন।

    উল্লেখ্য, গতকাল ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক্সে মন্তব্য করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গভীর অনাস্থা এবং আমেরিকার ‘অগঠনমূলক’ মনোভাবই সংলাপের বড় বাধা। তিনি বলেন, অর্থপূর্ণ কোনো সংলাপের জন্য প্রতিশ্রুতির প্রতি সম্মান বাধ্যতামূলক; কিন্তু আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় ইরান ঐতিহাসিকভাবে আস্থা সংকটে ভোগে এবং বিভ্রান্তিকর সংকেত এই সমস্যাকে তিক্ত করে তুলেছে।

    সূত্র: বিবিসি

  • ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পকে সতর্কবার্তা দিল পাকিস্তান

    ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পকে সতর্কবার্তা দিল পাকিস্তান

    সংক্ষিপ্তভাবে: সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার উদ্যোগের আগে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জনসমক্ষে কড়া বা উত্তেজক ভাষা পরিহার করার জন্য সতর্ক করেছে। ইসলামাবাদ এই মধ্যস্থতার মাধ্যমে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার আলোচনার সফলতা লক্ষ করছে।

    আলোচনার পটভূমি

    যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার বৈঠকে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যদিও বৈঠক কখন শুরু হবে সে বিষয়ে এখনও অনিশ্চয়তা আছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে পাকিস্তান দ্য ওয়াশিংটন পোষ্টকে জানিয়েছে যে তারা ট্রাম্পকে সংযত ও কূটনৈতিক ভাষা ব্যবহারের অনুরোধ জানায়।

    পাকিস্তানের মধ্যস্থতা

    পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় থেকে দুইপক্ষের মধ্যে সফল আলোচনা চান। ইসলামাবাদ সূত্রে পাওয়া বার্তায় বলা হয়েছে, এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ট্রাম্পকে জনসমক্ষে অপ্রয়োজনীয় কঠোরতা বা বাগাড়ম্বরপূর্ণ মন্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে যাতে আলোচনার পরিবেশ ভাঙে না।

    ইরানের প্রতিক্রিয়া ও সময়সূচি

    রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। তিনি বলেন পরিস্থিতি পরিবর্তন হচ্ছে এবং আগামীকাল বা পরদিনের মধ্যে তেহরান থেকে একটি প্রতিনিধি দল আলোচনায় অংশ নিতে পারে।

    যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক যোগাযোগ

    এই কর্মকর্তা আরও বলেন, চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পাকিস্তান তেহরান ও ওয়াশিংটনের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছে, যাতে উত্তেজনা বিবর্তিত হওয়ার আগেই কূটনৈতিক পথ খোলা থাকে।

    ট্রাম্পের অবস্থান

    একদিকে ট্রাম্প বলেছেন যে তিনি আলোচনায় তাড়াহুড়ো করবেন না, আবার একই সঙ্গে দাবি করেছেন দ্রুত একটি চুক্তি হবে এবং তা ২০১৫ সালের জেসিপিওএ এর চেয়েও ভাল হবে। তিনি অভিযোগ করেন যে সংযুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে ইরান প্রতিদিন প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। ট্রাম্প আরও জোর দিয়ে বলেছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র সক্ষমতা ত্যাগ করতেই হবে এবং এ বিষয়ে কোনো ছাড় নেই; চুক্তি না হলে যুদ্ধ পুনরায় শুরু হতে পারে বলে সতর্কও করেছেন।

    তেহরানের শর্ত

    অন্যদিকে তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার না করলে তারা কোনো আলোচনা শুরু করবে না। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পাকিস্তান ও রাশিয়ার সঙ্গে ফোনালাপে জানিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধপূর্ণ ও অবৈধ আচরণ কূটনীতির সঙ্গে সংঘর্ষ সৃষ্টি করছে।

    সম্ভাব্য ফলাফল

    পেশাগত কূটনীতি ও সংযত ভাষা প্রয়োগ যদি বজায় থাকে, তবে দুই দেশের মধ্যকার আলোচনায় অগ্রগতি ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে উভয়পক্ষের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকলে কূটনৈতিক উদ্যোগ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতা এই মুহূর্তে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে স্থিতিশীল রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ চেষ্টায় পরিণত হয়েছে।