Blog

  • বিসিবির নতুন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার

    বিসিবির নতুন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার

    বিসিবি এবার নতুন প্রধান নির্বাচক হিসেবে হাবিবুল বাশারকে নিয়োগের পরিকল্পনা করছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে গাজী আশরাফ হোসেন লিপু দুই বছরের জন্য প্রধান নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। ওই সময় তিনি চুক্তি করেন যার মেয়াদ শেষ হবে এই মাসে। গত দুই বছর তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন, তবে ব্যক্তিগত কারণের কারণে তিনি এখন আর এই দায়িত্বে থাকতে আগ্রহী নন। সম্প্রতি তিনি বিসিবিকে চিঠি দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদে থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

    চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, লিপুর মেয়াদ এই মাসে শেষ হচ্ছে। বিসিবি তার মেয়াদ আরও বাড়াতে চেয়েছিল, তবে পারিবারিক কারণে তিনি দীর্ঘ সময়ের জন্য চুক্তিতে আগ্রহী না হওয়ায় বিষয়টি জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুতই এই পদে নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজন চলমান পরিস্থিতিতে।

    খবর অনুযায়ী, বিসিবি সাবেক নির্বাচক ও দেশের সেরা অধিনায়ক হাবিবুল বাশারকে প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিসিবির কাছ থেকে। তবে এখনই এই প্রস্তাব গ্রহণ করছেন না বলে জানা গেছে। তিনি আরো কিছু দিন সময় চেয়েছেন। তবে তিনি এই দায়িত্ব নিতে আগ্রহী। ফলে শিগগিরই নিশ্চিত হতে পারে, দেশের ক্রিকেটের দায়িত্বে থাকছেন হাবিবুল বাশার।

  • বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার মেসুত ওজিল এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে

    বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার মেসুত ওজিল এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে

    আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে উপস্থিত হন জার্মানির সাবেক বিশ্বকাপ জয়ী ফুটবল তারকা মেসুত ওজিল। তিনি বর্তমানে একটি আধুনিকায়ন ও নতুন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছেন। এই অনুষ্ঠানে তিনি ‘শহিদ বুদ্ধিজীবী ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা মেডিকেল সেন্টার’-এর উন্নয়ন কাজের শুভ সূচনা করেন। নিশ্চিত করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক মিনহাজ উদ্দীন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ছেলে বিলাল এরদোয়ান, তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খানসহ অন্য বিশিষ্ট অতিথিরা। মিনহাজ উদ্দীন জানান, এর পরের দিন অর্থাৎ আগামীকাল, মেসুত ওজিল কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইফতার করবেন।

  • বাংলাদেশ ২০২৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সরাসরি খেলবে, আইসিসির ঘোষণা

    বাংলাদেশ ২০২৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সরাসরি খেলবে, আইসিসির ঘোষণা

    বাংলাদেশ কি ২০২৮ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সরাসরি অংশ নিতে পারবে? এ প্রশ্ন অনেকের মনেই ছিল, বিশেষ করে যখন এবারের বিশ্বকাপটি ভারতে এবং শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অবশেষে, এই প্রশ্নের উত্তর দিলেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তিতে আইসিসি জানিয়েছে, বাংলাদেশ ২০২৮ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলবে। এই আসরটি অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে র‌্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে।

    বিশ্বকাপের যোগ্যতা নিশ্চিত করতে বর্তমানে চলমান সুপার এইটের লাইনের খেলোয়াড়রা এই নিশ্চিত করেছে। বুধবার কলম্বোতে নামিবিয়ার বিপক্ষে পাকিস্তানের জয় এই নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই জয়ের মাধ্যমে পাকিস্তান, ভারত, শ্রীলঙ্কা, জিম্বাবুয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং নিউজিল্যান্ড সবাই সুপার এইটে পৌঁছেছে।

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপ্রক্রিয়া অনুযায়ী, সুপার এইটে থাকা সব দলই ২০২৮ সালের বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার অধিকার পায়। এর মধ্যে নিউজিল্যান্ড অগ্রাধিকার হিসেবে আগে থেকেই নিশ্চিত ছিল, কারণ তারা আসরের একজন আয়োজক। অস্ট্রেলিয়া ও স্বাগতিক হিসেবে খেলা নিশ্চিত করেছে, তবে এইবার তারা সুপার এইটে যায়নি।

    আইসিসি জানিয়েছে, ২০ দলীয় বিশ্বকাপে মোট ৮টি দল বাছাইপর্বের মাধ্যমে আসবে। এর মধ্যে ৯টি দল পারফরম্যান্স এবং স্বাগতিক হওয়ার ভিত্তিতে নিশ্চিত হয়েছে, আর ছাড়া ৩টি দল র‌্যাঙ্কিংয়ের ওপর নির্ভর করে জায়গা পাবে। আগামী ৯ মার্চ, ফাইনালের পরদিন, র‌্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে এই তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।

    বাংলাদেশের র‌্যাঙ্কিং ৯ নম্বর, আফগানিস্তান ১০ এবং আয়ারল্যান্ড ১২ নম্বরে অবস্থান করছে। এই তিন দলের জন্য ৯ মার্চের পর কোনও আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচের ফল তাদের র‌্যাঙ্কিংয়ে প্রভাব ফেলবে না, অর্থাৎ তারা আগামী আসরে খেলার জন্য অবিলম্বে নিশ্চিত। ফলে, বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ডের ভবিষ্যত নিশ্চিত মনে করা হচ্ছে।

  • বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তিতে ২৮ ক্রিকেটার, কীভাবে বেতন নির্ধারিত হলো দেখুন বিস্তারিত

    বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তিতে ২৮ ক্রিকেটার, কীভাবে বেতন নির্ধারিত হলো দেখুন বিস্তারিত

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এই বছরও তার নিয়মিত কেন্দ্রীয় ক্রিকেট চুক্তির তালিকা প্রকাশ করেছে। আজ (বৃহস্পতিবার) এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ২০২৬ সালের জন্য বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তির আওতায় থাকা ক্রিকেটারদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এই বছর মোট ২৮ জন ক্রিকেটার এই চুক্তিতে সই করেছেন। উল্লেখ্য, এবারের চুক্তিতে ‘এ’ গ্রেড নেই, যা আগে থেকেই জানা ছিল। নতুন যুক্ত হয়েছেন পারভেজ ইমন, তানভীর ইসলাম ও হাসান মুরাদ। অন্যদিকে, সাইফ হাসান, নুরুল হাসান সোহান, নাঈম হাসান ও শামীম হোসেন আবার চুক্তিতে ফিরে এসেছেন। আগের চুক্তি থেকে কেউই বাদ পড়েনি।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বর্তমান চুক্তির ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন গ্রেডে ক্রিকেটারদের বেতন নির্ধারিত হয়েছে। ‘এ’ গ্রেডে রয়েছেন (প্রতি মাসে ৮ লাখ টাকা বেতন) – নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন কুমার দাস, তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ।

    ‘বি’ গ্রেডে রয়েছেন (৬ লাখ টাকা) – মুশফিকুর রহিম, মুমিনুল হক, তাইজুল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, তাওহীদ হৃদয়, হাসান মাহমুদ, নাহিদ রানা, সাদমান ইসলাম, তানজিদ হাসান, তামিম ইকবাল, রিশাদ হোসেন ও শেখ মেহেদী হাসান।

    ‘সি’ গ্রেডে (৪ লাখ টাকা) আছেন – সৌম্য সরকার, জাকের আলি অনিক, শরিফুল ইসলাম, নাসুম আহমেদ, খালেদ আহমেদ ও তানজিম হাসান সাকিব।

    অন্যদিকে, ‘ডি’ গ্রেডে (২ লাখ টাকা) আছেন – পারভেজ হোসেন ইমন, সাইফ হাসান, নাঈম হাসান, তানভীর ইসলাম, হাসান মুরাদ, নুরুল হাসান সোহান ও শামীম হোসেন। এই বিভাগে থাকা ক্রিকেটাররা প্রত্যেকেই দেশের জন্য আগামী দিনে সফলতার প্রত্যাশায় এগিয়ে চলছেন।

  • এশিয়ায় মার্কিন যুদ্ধবিমান ও সামরিক অভিযান বাড়ছে

    এশিয়ায় মার্কিন যুদ্ধবিমান ও সামরিক অভিযান বাড়ছে

    অমেরিকা-ইরান পারমাণবিক চুক্তি এখনও অনেক দূরে। দুই দেশ দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনায় বসে থাকলেও কোনও ফলাফলের দেখা মেলেনি। এর মধ্যেই পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক শক্তির উপস্থিতি দ্রুত বেড়ে চলেছে, যা বিশ্বনেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।

    বর্তমানে সেখানে ৫০টির বেশি মার্কিন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। এফ-১৬, এফ-২২ এবং এফ-৩৫ সহ একাধিক উন্নতমানের বিমান এই কার্যক্রমের অংশ। তবে কেন এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তা স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

    গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পশ্চিম এশিয়ায় ইরানের কাছাকাছি মার্কিন বিমানবাহিনীর উপস্থিতি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে বলে मीडिया প্রতিবেদনে জানা গেছে। এ তথ্যের সূত্র জানিয়েছে একটি মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা। ঐ অঞ্চলে আরও কয়েকটি উন্নতমানের বিমান পাঠানো হয়েছে, যা আকাশসীমায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতির বাড়তি ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    এর আগে, ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ও তার সঙ্গে থাকা তিনটি ডেস্ট্রয়ার দক্ষিণ চীন সাগর থেকে পশ্চিম এশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে ইরান উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান নিয়েছে এই জাহাজগুলো। এর পাশাপাশি, দক্ষিণ আমেরিকা উপকূলে মোতায়েন এক মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ডও এখন পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থান নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

    অপর দিকে, ইরান পাল্টা শক্তি দেখাতে হরমুজ প্রণালীতে ক্ষেপণাস্ত্র ফেলেছে। ইরানের দাবী, এগুলো ছিল পরীক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ, তবে মজুতদার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি হতে পারে উত্তেজনা বৃদ্ধির একটি প্ররোচনামূলক পদক্ষেপ। হরমুজ প্রণালীতে অবস্থিত মার্কিন জাহাজগুলো এই ঘটনাকে ঘিরে সমালোচনাও বাড়ছে।

    এমন পরিস্থিতিতে, মার্কিন-ইরান সম্পর্কের উত্তেজনা অব্যাহত থাকলেও পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনাও চলতে থাকছে। যদিও বৈঠকগুলো ফলপ্রসূ হয়েছে বলে এখনও স্পষ্ট নয়। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেভি ভান্স জানিয়েছেন, ইরান মূল শর্তগুলো মানতে ব্যর্থ হয়েছে।

    অন্যদিকে, মার্কিন পক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, তারা ইরানকে আরও দু’সপ্তাহ সময় দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। ইরানের দাবি, দ্বিতীয় দফায় আলোচনা হয়েছে এবং কোনও সাধারণ সমঝোতা হয়েছে। তবে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে পারমাণবিক চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার কোনও সম্ভাবনা দেখছেন না। এ পরিস্থিতিতে, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।

  • আল আকসায় প্রথম রমজানের তারাবি আদায় করেছেন হাজারো মুসল্লি

    আল আকসায় প্রথম রমজানের তারাবি আদায় করেছেন হাজারো মুসল্লি

    আল-আকসা মসজিদ পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত, যা প্রস্তাবিত ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে বিবেচিত। এক সময় এটি মুক্ত ছিল, কিন্তু ১৯৫৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পরে ইসরায়েল এই এলাকাটি দখল করে নেয়। বর্তমানে, এই অঞ্চল ইসরায়েলের দখলে রয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান শুরু হলে, জেরুজালেমে মুসল্লিদের প্রবেশে ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। তবে, ২০২৫ সালে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ কিছু শর্ত শিথিল করে, মুসল্লিদের জন্য কিছু সীমাবদ্ধতা কমে এসেছে।

  • করাচিতে গ্যাস বিস্ফোরণে ভবন ধসে নিহত ১৬

    করাচিতে গ্যাস বিস্ফোরণে ভবন ধসে নিহত ১৬

    পাকিস্তানের করাচি শহরের সোলজার বাজার এলাকায় বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে একটি আবাসিক ভবনের গ্যাস পাইপলাইনে বিস্ফোরণে ঘটে যাওয়া ঘটনার ফলে কমপক্ষে ১৬ জন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন আরও ১৮ জন। ঘটনা ঘটার পরপরই উদ্ধার কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন।

    ঘটনাটি মূলত গুল রানা কলোনির একটি বাড়িতে ঘটেছে। প্রতিবেদনে জানা গেছে, সিভিল হাসপাতালে ট্রমা সেন্টারের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ সাবির মেমন বলেছেন, মৃতের সংখ্যা এখন ১৩ জনে পৌঁছেছে এবং আহত ১৮ জনকে درمانের জন্য ভর্তি করা হয়েছে।

    প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, গ্যাস লাইনে লিকের কারণে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে, যার ফলস্বরূপ ভবনের কিছু অংশ ধসে পড়ে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় দ্রুত উপস্থিত হয়ে উদ্ধার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। উদ্ধারকারীরা গাঢ় অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

    সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলী শাহ ঘটনাটির খবর নিয়ে শোক প্রকাশ করেছেন এবং বলেন, ওই মানুষজনের প্রাণহানির ঘটনায় তিনি দুঃখিত। তিনি আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে ফেঁপে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধার ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

    অতিরিক্তভাবে, তিনি করাচির ঘটনার ব্যাপারে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে, সিন্ধুর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিয়াউল হাসানও এই দুর্ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি উদ্ধার কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে এবং আহতদের জন্য যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

  • দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    দক্ষিণ কোরিয়ার ঐতিহাসিক আদালত দক্ষিণের সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। এই রায়ের ভিত্তিতে তাঁকে মূলত রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে, যা তিনি ২০২৪ সালে সামরিক আইন জারির ব্যর্থ প্রচেষ্টার জন্য করেছিলেন। দেশের ইতিহাসে এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা যেখানে একজন শাসককে অত্যন্ত কঠিন শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

    শুক্রবার (১২ ফেব্রুয়ারি), সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট कोर्टের তিন বিচারকের প্যানেল এই রায় ঘোষণা করেন। শুনানিতে আরও জানানো হয়, অভিযোগের মধ্যে ছিল সেই সময়ের বিরোধীদলীয় নেতা এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংকে আটক করার জন্য সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়ার দাবি, যা ইউনের বিরুদ্ধে আনীত হয়।

    প্রসিকিউটররা এই মামলায় সাবেক প্রেসিডেন্টের জন্য মৃত্যুদণ্ডের দাবি তুলেছিলেন, কিন্তু আদালত প্রায় ৬৫ বছর বয়সী ইউনকে কঠিন শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। এছাড়াও, এই মামলায় অন্য অভিযুক্তরা—সাবেক গোয়েন্দা প্রধান রোহ সাং-উন, পুলিশ প্রধান চো জি-হো, সিউল মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক প্রধান কিম বং-সিক ও ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি পুলিশ গার্ডের সাবেক প্রধান মোক হিউন-তায়েক—কে বিভিন্ন সময়ের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।

    আদালত জানিয়েছে, দণ্ডপ্রাপ্তরা এক সপ্তাহের মধ্যে আপিল করতে পারবেন।

    এ ছাড়া, এর আগে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সামরিক আইন জারির ব্যর্থ প্রচেষ্টার জন্য সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লি সাং-মিনের সাথে আরও কয়েকজনকেও দণ্ড দেওয়া হয়। তাকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি মূলত পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের সরকারের সমালোচনামূলক গণমাধ্যমের বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধের নির্দেশ দেন।

    অপরদিকে, গত জানুয়ারিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী হান ডাক-সুকে ২৩ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন, তবে এই মামলাটি মূলত সামরিক আইন জারি বা না জারির ঘটনায় কেন্দ্রীভূত ছিল।

    প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল সামরিক আইন জারি করেছিলেন, কিন্তু ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে মাত্র ছয় ঘণ্টা পরে সেটি প্রত্যাহার করেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে, ১৪ ডিসেম্বর তাঁদের পার্লামেন্টে অভিশংসন করা হয় ও প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। পরে, ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

    এই ঘটনাগুলোর মধ্য দিয়ে দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাস নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করলো, যেখানে একজন সাবেক প্রেসিডেন্টকে দীর্ঘশিক্ষাজীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।

  • পাঞ্জাবে ৮ মাসে বিচার বহির্ভূত হত্যার সংখ্যা ৯২৪ জন

    পাঞ্জাবে ৮ মাসে বিচার বহির্ভূত হত্যার সংখ্যা ৯২৪ জন

    গত নভেম্বরের একটি দিন পাকিস্তানের পাঞ্জাব রাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা বাহাওয়ালপুরে ঘটে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। সেখানে উদ্বেগজনকভাবে পুলিশ বাহিনী বাহাওয়ালপুরের বাসিন্দা জুবাইদা বিবি ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর পরিচালিত হয়। তখন এ পুলিশ বাহিনী ক্রাইম কন্ট্রোল ডিপার্টমেন্টের (সিসিডি) এক সশস্ত্র টিম বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের মোবাইল ফোন, নগদ অর্থ এবং অলংকার লুট করে নিয়ে যায়। সেই সঙ্গে ধরে নিয়ে যায় জুবাইদা বিবির তিন ছেলে ইমরান (২৫), ইরফান (২৩) ও আদনান (১৮), এবং দুই জামায়াত ব্যক্তিকে।

    ঘটনার মাত্র চব্বিশ ঘণ্টা পর পাঞ্জাবের বিভিন্ন জেলায় উদ্ধার হয় তাদের পাঁচজনের মরদেহ। এক বিবৃতিতে জুবাইদা বিবি বলেছেন, পুলিশ বাহিনী তাদের বাড়িতে ঢুকে এমনভাবে হামলা চালায় যেন ক্ষোভের আগুনে জ্বলছে। তিনি বলেন, “তারা ঝড়ের মতো বাহাওয়ালপুরে এসে আমাদের ঘর-বাড়ি ভেঙে দেয় এবং মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নেয়।”

    অবৈধভাবে তাদের পলায়ন-প্রয়াস ব্যর্থ করে দিতে জন্য, জুবাইদা ও তার স্বামী আবদুল জব্বার লাহোর পর্যন্ত গিয়ে অভিযোগ করেন। কিন্তু এরপরই তাদের তিন ছেলে মারাত্মকভাবে হত্যা করা হয়। পরিবারটি আদালতের কাছে বিচার চাইলেও, পাঞ্জাব পুলিশের হুমকিতে তারা অভিযোগ প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন। পুলিশ তাদের সতর্ক করে দেয়, যদি অভিযোগ উঠানো না হয়, তবে তাদের পরিবারের সর্বস্তরকেই হত্যা করা হবে। এই ভয়ঙ্কর হুমকির মুখে বাধ্য হয়েই তারা অভিযোগ প্রত্যাহার করেন।

    আবদুল জব্বার বলেন, “আমরা ছিলাম সাধারণ মানুষ, অপরাধে জড়িত না, কোন অতীত অপরাধের রেকর্ডও নেই। তারা সবসময় আমাদের কর্মজীবী মানুষ, বিবাহিত ও সন্তানের পিতা।”

    এই ঘটনার কয়েক দিন পরে, ১৭ ফেব্রুয়ারি, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অব পাকিস্তান (এইচআরসিপি) একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেখানে এই ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়। সংস্থাটি জানায়, গত ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৮ মাসে পাঞ্জাবের বিভিন্ন জেলায় ৬৭০টি ‘এনকাউন্টার’ অভিযান চালিয়েছে সিসিডি। এই অভিযানের মধ্যে নিহত হয়েছেন মোট ৯২৪ জন।

    সিসিডি গঠনের কথাও উল্লেখ করা হয়, যা মে ২০২৫ সালে মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের অধীনে গঠিত হয়। এই বিভাগটি পাঞ্জাবের সংগঠিত অপরাধগুলো মোকাবিলা করতে, গ্যাং ও সংঘবদ্ধ অপরাধীদের ধরতে তৈরি। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, সিসিডি এক প্রশিক্ষিত বাহিনী, যারা গুরুতর অপরাধীদের দ্রুত এবং কঠোরভাবে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম। এর এলাকা বা কর্তৃত্ব শুধুমাত্র পাঞ্জাবই, অন্যান্য অঞ্চলে এর কোন কার্যকারিতা নেই।

    তবে, এইচআরসিপির অভিযোগ হলো, বাস্তবে এই সিসিডি একটি ‘সমান্তরাল পুলিশ বাহিনী’ হিসেবে কাজ করছে এবং অলিখিত দায়মুক্তির সুবিধা নিয়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড দিনকে দিন বাড়িয়ে তুলছে। সংস্থার পরিচালক ফারাহ জিয়া আলজাজিরাকে বলেন, “১৯৬০ সালের পর থেকে পাঞ্জাবের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে বিচারের বাইরে হত্যাকাণ্ড শুরু। তবু এখন, ২০২৪ সাল থেকে ২০২৫ পর্যন্ত মাত্র ৮ মাসে, পাঞ্জাবেই নিখোঁজ হয়ে গেছে ৯২৪ জনেরও বেশি মানুষ—এটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও নড়বড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির संकेत।” তিনি আরো বলেন, “পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালে জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরে পর্যন্ত দুই রাজ্যে মোট ৩৪১টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল, কিন্তু ২০২৫ সালে এই সংখ্যা মাত্র ৮ মাসে পাঞ্জাবেই পৌঁছে গেছে ৯২৪-এ, যা উদ্বেগজনক।

  • ডাকাত আতঙ্কে দুবলার চরের ১০ হাজারের বেশি মৎস্যজীবী মাছ ধরা বন্ধ রেখেছেন

    ডাকাত আতঙ্কে দুবলার চরের ১০ হাজারের বেশি মৎস্যজীবী মাছ ধরা বন্ধ রেখেছেন

    দুবলার চরে বনদস্যুদের আতঙ্কে শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ রেখেছেন দশ হাজারের বেশি শুঁটকিকরণ জেলে। গত দুই দিনেও নিখোঁজ হয়েছে সোমবার রাতে অপহৃত ২০ জেলেকে। মাছ ধরা বন্ধ থাকায় বনবিভাগের রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন।

    দুবলার ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ কামাল উদ্দিন আহমেদ বুধবার দুপুরে মোবাইল ফোনে বলেন, সুন্দরবন ও সাগরে বনদস্যুদের অবাধ বিচরণ ও নিরাপত্তার অভাবের কারণে জেলেরাই এখন মাছ ধরা বন্ধ রেখেছেন। তারা এখন চরে বিশ্রাম নিচ্ছেন এবং মৌসুমের শেষ সময়ে এসে কীভাবে বাড়ি ফিরবেন সে চিন্তায় আতঙ্কে থেকের। তিনি আরও জানান, সুন্দরবনে সক্রিয় রয়েছে চারটি বনদস্যু গ্রুপ; এগুলোর মধ্যে রয়েছে জাহাঙ্গীর, সুমন, শরীফ ও করিম। দস্যুরা বেপরোয়া হয়ে সুন্দরবন ও সাগরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এবং জেলেদের ধরে নিয়ে মুক্তিপণ দাবি করছে। যারা টাকা দিতে পারছে না, তাদের উপর হামলা চালাচ্ছে। গত সপ্তাহে দস্যুদের হামলায় চার জেলে গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তাদের রামপাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    সুন্দরবনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনও দৃশ্যমান তৎপরতা না থাকার কারণে দস্যুরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ২০১৮ সালে তৎকালীন সরকার সুন্দরবনকে দস্যু মুক্ত ঘোষণা করলেও, বর্তমানে আবার বন্দুকের নলের মুখে পড়েছেন জেলেরা।

    আলোরকোলের রামপাল জেলে সমিতির সভাপতি মোতাসিম ফরাজী জানান, আগে ছিলো ‘জলে কুমির, ডাঙ্গায় বাঘ’—এখন বলি, সাগরে গেলে ডাকাত। দস্যুদের তান্ডবে মাছ ধরা বন্ধ করে দিতে হয়েছে। গত ১৫ দিনে অনেক জেলে দস্যুদের হাতে অপহৃত হয়েছেন। এখনো কমপক্ষে শতাধিক জেলে দস্যুদের একটি গ্রুপের কবজায় আছেন। গত সোমবার রাতে ২০ জেলেকে অপহরণ করার সময় দস্যুরা তাদের সাথে যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বর দিয়ে গেছে। এতদিনেও তাদের কেউ উদ্ধার বা সন্ধান পাওয়া যায়নি।

    সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের দপ্তর ও সরঞ্জামাদির কার্যালয় সূত্র জানায়, দস্যু আতঙ্কে জেলেরা মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছে, ফলে রাজস্ব আদায় ও আয়ের বড় ক্ষতি হচ্ছে। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মোঃ খলিলুর রহমান বলেন, বনদস্যুদের তৎপরতা বাড়ায় জেলেরা সুন্দরবনে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকছেন। এ কারণে তাদের মাসিক রাজস্বের লক্ষ্য ভেঙে পড়ছে।

    অন্যদিকে, শরণখোলা বাজারের মুদি দোকানদাররা বলেন, জেলেরা বনদস্যুদের ভয়ে সুন্দরবনে যাচ্ছে না, ফলে তাঁদের বিক্রিও কমে গেছে।

    সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসিএফ) মোঃ শরীফুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনে বেড়ে গেছে বনদস্যুদের তৎপরতা, বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে। বনরক্ষীরা জেলেদের নিরাপত্তায় সতর্ক রয়েছেন।