Blog

  • নতুন অর্থমন্ত্রী বললেন, পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি চলতে দেওয়া যাবে না

    নতুন অর্থমন্ত্রী বললেন, পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি চলতে দেওয়া যাবে না

    নতুন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী jasno করেছেন, পৃষ্ঠপোষকতার ভিত্তিতে অর্থনীতি চলতে দেওয়া যাবে না। তিনি আরও বলেছেন, দেশের অর্থনীতিতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতেই হবে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রথম অফিসের দিন সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

    অর্থমন্ত্রী জানান, আমাদের রাষ্ট্রের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান বর্তমানে খুবই দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। সেই জন্য এই প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনরুদ্ধার করোনোর জন্য কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। প্রতিষ্ঠানে পেশাদারিত্ব ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে, পাশাপাশি দক্ষতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। এই উপাদানগুলো না থাকলে কোন কর্মসূচির আলোকবর্তিকা প্রয়োজনেও সফলতা আসবে না।

    নতুন অর্থমন্ত্রী বলেন, পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি বন্ধ করতে হবে এবং বাংলাদেশে অর্থনীতির মূলমন্ত্র হতে হবে সুবিন্যস্ত ও সকলের জন্য সমান সুযোগের ব্যবস্থা। দেশের প্রতিটি মানুষ যেন অর্থনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ পায় এবং এর সুফল পৌঁছে যায় প্রত্যেকের কাছে, সেজন্যই সব ধরনের সমালোচনা ও সেনসিটিভ নিয়ন্ত্রণ শিথিল করতে হবে।

    অর্থনীতিকে মুক্ত করতে গিয়ে বলেন, বাংলাদেশ মূলত ওভার রেগুলেটেড হয়ে গেছে। পৃষ্ঠপোষকতা ও রাজনৈতিক পদক্ষেপের কারণে এই রেগুলেশন অতিরিক্ত বাড়ে গেছে। তাই এখনই এটি ডিরেগুলেটেড এবং শিথিল করতে হবে। সরকারের নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে লিবারলাইজেশন বা মুক্ত বাজার নীতিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। যাতে সবার সমান অধিকার আসে এবং অর্থনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ সম্ভব হয়।

    অর্থমন্ত্রীর আরও বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি সকলের জন্য সমানভাবে প্রসারিত হবে এবং প্রাপ্ত সুফল সবার কাছে পৌঁছাবে।

    অতিরিক্ত হিসেবে উল্লেখ্য, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১১ আসন থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য। তিনি বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য, এবং এর আগে ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় বাণিজ্য মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

  • নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণের পেছানোর উদ্যোগ নেবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণের পেছানোর উদ্যোগ নেবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    নতুন বাণিজ্য, শিল্প ও বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়ার জন্য নতুন সরকার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তিনি জানান, এই গ্র্যাজুয়েশন ডেফার করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং ইতোমধ্যে সরকার এই ব্যাপারে কাজ শুরু করে দিয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে প্রথমদিনের অফিসের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

    বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার এলডিসি উত্তরণের মেয়াদ পেছানোর বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং এ সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় করে দ্রুত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষাপটে তিনি জানান, সরকার এ উদ্যোগে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয় এবং প্রথম সপ্তাহেই প্রয়োজনীয় চিঠি পাঠানোর পরিকল্পনা চলছে।

    রপ্তানি পরিস্থিতির নতুন চ্যালেঞ্জের বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের রপ্তানি কাঠামো এখনো খুব সংকীর্ণ। দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশই এক ধরনের পণ্যে নির্ভরশীল। এই একঘেয়ে পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে হলে বিভিন্ন পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে হবে, নতুন বাজার খুঁজে বের করতে হবে এবং রপ্তানি বিস্তারিত সম্প্রসারণে জোর দিতে হবে। পাশাপাশি, বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাসও দেন তিনি।

    বিশ্ব বাণিজ্য পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতিতে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতি অস্থিরতায় পড়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ সীমিত সুযোগের মধ্যেই টিকে থাকার চেষ্টা করছেন। দেশের মার্জিন কম, তাই ভুলের জায়গা নেই—এমন পরিস্থিতিতে গত কয়েক মাসের মন্থর গতি দ্রুততার সঙ্গে ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ শুরু করবে।

    রমজান মাসের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে বললেন, সবই স্বাভাবিক থাকলে বাজার স্থিতিশীল থাকবে। প্রয়োজনীয় পণ্য পর্যাপ্ত মজুদ আছে, পাইপলাইনে সরবরাহও অপর্যাপ্ত নয়। ফলে বাজারে অপ্রয়োজনীয় আতঙ্কের কোনও কারণ দেখছেন না তিনি।

    রমজান এলেই বাজারে সিন্ডিকেটের কথা ওঠে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, তিনি শুধু কথা বলতে চান না, কাজের মাধ্যমে ফল দেখিয়ে পরবর্তীতে সাফল্য প্রকাশ করবেন। বলেন, “আমি সাউন্ড বাইট দেব না, ইনশাআল্লাহ কাজ করে দেখাব।”

    শুরুতেই কিছু পণ্যের দাম বাড়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি সাধারণত এককালীন চাহিদা বৃদ্ধির ফল। পুরো মাসের বাজার একসঙ্গে করায় দাম চোখে পড়ে, কিন্তু এ প্রভাব বেশিদিন স্থায়ী হয় না।

    বৈদেশিক ও দেশীয় বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনিশ্চয়তার মধ্যে বিনিয়োগ আসে না। স্থিতিশীল পরিবেশে বিনিয়োগকারীরা তাদের পুঁজি ও শ্রমের বিনিময়ে প্রত্যাশিত রিটার্ন পাবেন, এই নিশ্চয়তা দরকার। তিনি আরও বলেন, দেশে তরুণ শ্রমশক্তি আছে, প্রতি বছর লাখ লাখ নতুন মানুষ কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করছে। দীর্ঘসময় বিনিয়োগের স্থবিরতা দেশের জন্য বড় চাপ সৃষ্টি করছে, যা দ্রুত কাটিয়ে উঠতে না পারলে কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতে বড় ঝুঁকি থাকতে পারে।

    নতুন সরকারের উদ্বোধনের সঙ্গে রমজান শুরু হওয়া এক চ্যালেঞ্জ—এমন প্রশ্নে বাণিজ্যমন্ত্রী বললেন, রমজান সামাল দেওয়া এখন প্রধান পরীক্ষার বিষয়। মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সরকারকে সফল হতে হবে, আর এ জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, এটি ব্যক্তিগত বিষয় নয়, দেশের স্বার্থের বিষয়। সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করলে দেশ অগ্রসর হতে পারে। মৌলিক উদ্দেশ্য হলো দেশের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা, এবং এ জন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।

  • ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৮ দিনে রেমিট্যান্স ছাড়াল দুই বিলিয়ন ডলার

    ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৮ দিনে রেমিট্যান্স ছাড়াল দুই বিলিয়ন ডলার

    প্রবাসীদের দেশের অর্থ পাঠানো আগের চাইতে আরও বেড়েছে devido জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আসন্ন পবিত্র রমজান মাস। এই দুই গুরুত্বপূর্ণ সময়ের জন্য সুবিধাজনক উপায়ে বৈধভাবে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যার ফলে ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৮ দিনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পর্যবেক্ষকরা আশাবাদী হচ্ছেন। এই সময়ের মধ্যে দেশে মোট ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে, যা একটি ইতিহাসের রেকর্ড। যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, মাসের শেষ নাগাদ এটি ৩ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচন এবং রমজানের কারণে পরিবারের অতিরিক্ত খরচ মেটাতে প্রবাসীরা বেশি অর্থ পাঠাচ্ছেন। এই রেমিট্যান্স প্রবাহের বৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের জন্য খুবই ইতিবাচক। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, এই জানুয়ারিতে প্রবাসীরা মোট ৩১৬.৭৪ কোটি ডলার (৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) পাঠিয়েছেন, যা দেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ মাসের রেকর্ড। এর আগে গত ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ডলার পাঠানো হয়েছিল, যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে মার্চে, ঈদুল ফিতরকেন্দ্রিক চাহিদার কারণে, তখন এই সংখ্যা ছিল ৩২৯ কোটি ডলার।

    সর্বশেষ টাটা বছরে (২০২৫ সালে), মোট প্রবাসী আয় এসে পৌঁছেছে ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ২২.৩ শতাংশ বৃদ্ধি। এই সময়ে দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই অর্থ প্রবাহ দেশের মুদ্রা বৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করছে।

    অর্থনীতির মাসভিত্তিক চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুলাইতে রেমিট্যান্স ছিল ২৪৭.৭৮ কোটি ডলার, আগস্টে ২৪২.১৯ কোটি, সেপ্টেম্বরে ২৬৮.৫৮ কোটি, অগাস্টে ২৫৬.৩৫ কোটি, নভেম্বর ২৮৮.৯৫ কোটি, ডিসেম্বরে ৩২২.৬৬ কোটি এবং জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ডলার।

    অর্থ্যাৎ, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট প্রবাসী আয় হয়েছে ২ হাজার ১৫৬ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছরের এই সময়ের তুলনায় ২২.৩ শতাংশ বেশি। আগের বছরে এই সময়ে রেমিট্যান্স ছিল ১ হাজার ৭৬৩ কোটি ডলার।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের বলছে, ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪.৫৪ বিলিয়ন ডলার, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী (আইএমএফের বিপিএম-৬ মোডে) হিসাব করলে ২৯.৮৬ বিলিয়ন ডলার।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই প্রবাসী আয়ে পুনরুত্থান শুরু হয়। ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, অর্থ পাচার কমে যাওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের বিনিময় হার স্থিত থাকায় প্রবাসীরা বৈধ উপায়ে অর্থ পাঠাতে আগ্রহী হচ্ছেন। এর ফলে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় আরও শক্তিশালী প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • খুলনা অঞ্চলে কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক দামের әсерে পাটকলের উৎপাদন বন্ধ

    খুলনা অঞ্চলে কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক দামের әсерে পাটকলের উৎপাদন বন্ধ

    খুলনা অঞ্চলের ইজারা দেওয়া ও বেসরকারি পাটকলগুলোতে কাঁচা পাটের মূল্যবৃদ্ধির কারণে উৎপাদন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। দাম বাড়ার ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বেশ কিছু মিল নিজেদের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে, যা হাজার হাজার শ্রমিকের জন্য কাজের অশান্তির মুখে ফেলে দিয়েছে। পাশাপাশি মিলগুলোর আর্থিক ক্ষতি ও বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।

    দৌলতপুর এলাকার দৌলতপুর জুট মিলসহ প্রায় এক ডজন মিলের প্রায় দেড় মাস ধরে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। শ্রমিকরা প্রতিদিন মিলের সামনে এসে কাজের জন্য অপেক্ষা করছে, কিন্তু কাঁচা পাটের সংকটের কারণে তারা কিছুই করতে পারছেন না। শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্কিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, যদি এ অবস্থা চলতেই থাকে, তবে তারা স্থায়ীভাবে কাজ হারানোর আশঙ্কায় আছেন।

    দৌলতপুর জুট মিলের শ্রমিক আসাদুজ্জামান বলেন, গত দেড় মাস ধরে আমি এবং অন্য সহকর্মীরা মিল বন্ধ অবস্থায় আছি। কাঁচা পাট না থাকায় মালিকেরা মিল চালাতে পারছেন না। যদি এভাবে চলতে থাকলে, হয়তো তারা আমাদের কাজ থেকে ছাঁটাই করবে, আর আমাদের জন্য সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাবে। নতুন কোনও কাজের সন্ধানও পাবো না।

    আরেক শ্রমিক হাবিবুল্লাহ বলেন, আমাদের দিয়ে কাজ করিয়ে মালিকরা দিনে দুই টাকা উপার্জন করেন, আর আমাদের দিতে হয় এক টাকা। গত তিন বছর ধরে এই মিল ভালোই চলছিল, কিন্তু গত দেড় মাস ধরে কাজ বন্ধ। মালিকরা বলছেন, যদি না বাঁচে, তবে আমাদের শ্রমিক হিসেবে রাখবেন না। কাঁচা পাটের এই সংকট সমাধানে সরকারের যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

    মিল মালিকরা জানান, মৌসুমের শুরুতে কাঁচা পাটের দাম ছিল প্রতি মণ প্রায় ৩২০০ টাকা, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫২০০ টাকায়। দাম দ্বিগুণের কাছাকাছি বেড়ে গেলেও বাজারে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়নি, ফলে উৎপাদন খরচ বেড়েই চলেছে, কিন্তু লাভের রেট কমে গেছে। এর ফলে উদ্যোক্তারা উৎপাদন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

    দৌলতপুর জুট মিলের উৎপাদন কর্মকর্তা মোঃ ইসরাফিল মালিকের বক্তব্যে জানা যায়, বাড়তি দামে পাট কিনে মিল চালানো এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আগে যেখানে প্রতি মণ ৩২০০ টাকা দরে পাট কিনে এক বস্তা ৮০ টাকা বিক্রি করতাম, এখন পাটের দাম দাঁড়িয়েছে ৫২০০ টাকা। বস্তা তৈরির খরচ ১২০ টাকার বেশি, অথচ বিক্রির মূল্য ততটা নয়। ফলে মিল কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ রেখেছেন।

    মালিকরা অভিযোগ করেছেন, কিছু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে পাট মজুত রাখছে, যার কারণে বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে এবং দাম বাড়ছে। বাংলাদেশ জুট মিল অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক মোঃ জহির উদ্দিন বলেন, নতুন সরকারের কাছে বাজার নিয়ন্ত্রণ, ভর্তুকি ও তদারকি বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে। কিছু অসাধু মহল অবৈধভাবে পাট মজুত করছে, যার ফলে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ব্যাংক ঋণ পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে, যা এই খাতে বড় সমস্যার সৃষ্টি করছে।

    পাট অধিদফতর জানিয়েছে, তারা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছেন। খুলনা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সরজিত সরকার জানান, একজন আড়তদার এক মাসে সর্বোচ্চ ৫০০ মণ পাট মজুত করতে পারেন। কেউ যদি এই নিয়ম অমান্য করে বেশি মজুত রাখে, তা খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।মূলত, বাজারে দাম সমন্বয় রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

    খুলনা অঞ্চলে ইজারাকৃত ও বেসরকারি মিল মিলিয়ে মোট ২০টি পাটকল রয়েছে। এই পাটকলগুলো মাসে প্রায় ২৫ হাজার মেট্রিক টন পণ্য উৎপাদন করে, যার বড় অংশ বিদেশে রপ্তানি হয়। তবে এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে উৎপাদন ও রপ্তানির ক্ষেত্রে মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

  • নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা দুবার শপথ নিলেন এনসিপির

    নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা দুবার শপথ নিলেন এনসিপির

    অবশেষে নানা গুঞ্জনের পর সংসদ অধিবেশনে শপথ গ্রহণ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। তারা একইসঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দ্বিতীয় ধাপের শপথটি সম্পন্ন করেছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টায় দলের তরুণ সদস্যরা সংসদে শপথ গ্রহণ করেন, যা নির্বাচন কমিশনের প্রধান এএমএম নাসির উদ্দিনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

    এনসিপির সংসদ সদস্যরা হলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ, নাহিদ ইসলাম, আকতার হোসেন, আব্দুল হান্নান মাসুদ, আতিকুর রহমান মোজাহিদ ও আব্দুল্লাহ আল আমিন।শপথ নেওয়ার আগে তাদের সঙ্গে শপথ নিয়েছেন জামায়াত জোটের অন্যান্য এমপি। তারা একসঙ্গে দুই দফা শপথ গ্রহণ করেন। তবে এ সময় এনসিপির এমপিরা শপথে অংশ নেবেন না বলে কিছু গণমাধ্যমে খবর ছড়ায়। হান্নান মাসুদ ও আতিকুর ইসলাম গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, তারা শপথে অংশ নেবে না। তবে শেষ পর্যন্ত তারা শপথ গ্রহণে অংশ নেন।

    শপথের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় দুপুর ১টা ২২ মিনিটে, যখন সংসদ ভবনের লবিতে কোরআন তেলওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। শপথ গ্রহণের সময় হাসনাত আব্দুল্লাহকে দেখা গেছে চিরচেনা গেঞ্জি পরে, আকতারকে কোট এবং নাহিদ ইসলামের পােলে শার্ট পরে শপথ নিতে। এই আয়োজনে সবার মধ্যে গৃহীত হয় বাংলাদেশের সংসদে নতুন সদস্যদের দৃঢ় প্রত্যয় ও আনুষ্ঠানিকতা।

  • বিএনপি জুলাই সনদ সম্পূর্ণ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: সালাহউদ্দিন আহমদ

    বিএনপি জুলাই সনদ সম্পূর্ণ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: সালাহউদ্দিন আহমদ

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী দল বিএনপি নিশ্চিতভাবে বছরের জুলাইয়ে প্রদত্ত অঙ্গীকারপত্র (জুলাই সনद) সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করবে বলে জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, জনগণ যে প্রত্যাশা নিয়ে আমাদের বিপুল আস্থা ও সমর্থন দিয়েছে, তা পূরণে দল কঠোর প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জুলাই সনদে নির্ধারিত প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়নের জন্য সরকার গঠনের পর থেকেই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে জাতীয় সংসদে শপথ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, এই সনদ স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ব্যাপারে দল দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি জানান, জনগণের রায়ের প্রতিফলন ঘটাতে এবং দেশের উন্নয়নকে নতুন দিশায় পরিচালনার জন্য সংসদই হবে মূল মাধ্যম। প্রয়োজনীয় সংশোধনী ও আইনি পরিবর্তন দিয়ে এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

    তিনি আরও বলেন, সংবিধানে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ অনুমোদিত বা তার সদস্যদের শপথ পড়ানোর এখতিয়ার নেই। এজন্য এমন কোনো কার্যক্রম অংশ নেয়া হয়নি বা অনুসরণ করা হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, সবাই সংবিধানের নিয়মনীতি মেনে চলছেন। ভবিষ্যতেও রাষ্ট্র পরিচালনা পুরোপুরি সংবিধান অনুসারে চালানো হবে।

    সালাহউদ্দিন আরও জানান, নির্বাচনের বিজয়, শপথ গ্রহণ, সরকার গঠন এবং ভবিষ্যতের রাষ্ট্র পরিচালনা—all কিছুই আজকের সংবিধান অনুযায়ী হয়েছে এবং এভাবেই চলবে। এ ছাড়া, সংসদীয় দলের বৈঠকে তারেক রহমানকে দলের নেতৃত্বে বসানো হয়েছে, এবং রাষ্ট্রপতির কাছে সরকার গঠনের জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে।

    শপথের ব্যাপারে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জনগণের মতামত ও নির্বাচনী ফলাফল বাস্তবায়নের জন্য সংসদে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ও সংবিধান সংশোধন করতে হবে। সংশোধনের পরে তৃতীয় তফসিলে শপথের ফরম সংযুক্ত করার সিদ্ধান্ত সংসদই নেবে।

    তারেক রহমানের সংসদীয় নেতা নির্বাচনের পর তিনি জানান, বৈঠকে সবাই একমত হয়ে তাকে দলের নেতা নির্বাচিত করেছেন। একই সঙ্গে, তাকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠিও পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, যারা শপথ নিয়েছেন—সবার স্বাক্ষর রয়েছে এই সিদ্ধান্তে।

    সালাহউদ্দিন আরও বলেন, নতুন নেতৃত্ব ও নিয়মের ভিত্তিতে, সংসদ সদস্য হিসেবে সুবিধা পেতে অপসংস্কৃতি দমন করতে হবে। বিশেষ সুবিধা লাভ বা সরকারি প্লট গ্রহণের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে অবিলম্বে কাজ শুরু হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এখন থেকে বদলাচ্ছে প্রথাগত ধারণা—সংসদ সদস্যরা যেন শুধু সুবিধাবঞ্চিত নয়, দেশের উন্নতিতে সত্যিকারভাবে অংশ নেয়।

  • সরকারের প্রধান দায়িত্ব ভূমিকা পালন করে আসামিদের ফেরত আনা ও বিচার সম্পন্ন করা

    সরকারের প্রধান দায়িত্ব ভূমিকা পালন করে আসামিদের ফেরত আনা ও বিচার সম্পন্ন করা

    জুলাই মাসে সংগঠিত গণ-অভ্যুত্থানের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায়, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সব আসামিকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করা সরকারের একান্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসেন।

    বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সম্মেলন কক্ষে এ ব্যাপারে এক প্রেস ব্রিফingtে তিনি এসব কথা বলেন। আখতার হোসেন আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনাসহ আসামিদের বিদেশ থেকে আনতে হবে এবং বিচার কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। এটাই সরকারের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। কোনওভাবেই যেন বিচারপ্রক্রিয়া ধীরগতি ও বাধাগ্রস্ত হয়।’

    তিনি বলেন, ‘জুলাই-অগাস্টে সংঘটিত গণহত্যার মূল আসামিদের এখনো গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনতে পারেনি সরকার। এটি আমাদের ব্যর্থতা। এই ব্যর্থতা শুধুমাত্র বিএনপি সরকারের ওপর আরোপ করা যায় না, বরং বর্তমান সরকারেরও দায়।’’

    এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, ‘সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত বিষয়ে বিএনপি শপথ নিচ্ছে না, তার মানে তারা প্রমাণ করছে যে, যারা সংস্কারে সমর্থ হবে, তাদের সঙ্গে তারা পক্ষপাতিত্ব করবে। তারা শুরু থেকেই সংস্কারের বিরুদ্ধে ছিল। জনদাবিতে পড়ে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলার জন্য প্রচার করেছে।’

  • সরকারি দল গণভোটের গণরায়ের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ

    সরকারি দল গণভোটের গণরায়ের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সরকারি দল সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ না করে, গণভোটে যারা হ্যাঁ’র পক্ষে গণরায় দিয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। তিনি বলেন, শপথ গ্রহণের দিন এবং মন্ত্রিসভার শপথের সময় থেকেই বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে প্রতারণা শুরু হয়েছে। সেই সময় তারা গণভোটে অংশ নেওয়া এবং গণতান্ত্রিক প্রত্যাশার প্রতিফলন হিসেবে হ্যাঁ’র ভোট দেওয়া সব মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। গণভোটের ফলাফল অনুযায়ী, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ মোতাবেক এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সচেতনভাবে নির্বাচিত ত্রয়োদশ সংসদ এবং গণভোট ছিল দেশের জন্য এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এটি ছিল দেশের গণতন্ত্রের পুনর্বিবেচনা ও সংস্কারের প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সড়ক থেকে শহীদদের রক্তের বিনিময়ে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও, নানা বিষয়বার কারণে সেটি যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, যদিও ভোটপ্রক্রিয়া সুষ্ঠ ছিল, কিন্তু ফলাফলে কারচুপি পরিলক্ষিত হয়েছে। তারপরও দেশের স্বার্থে এবং স্থিতিশীলতার জন্য এই ফল মেনে নেওয়া হয়। এরপর তারা শপথ গ্রহণ করে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করে। কিন্তু সেখানেও প্রতারণার আশংকা দেখা দেয়। তিনি বলেন, যেদিন শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান হয়, ঠিক সেই দিনই বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে, যারা সংস্কার চাইছিল, গণভোটে ভোট দিয়ে যাদের প্রত্যাশা ছিল, তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়। সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে সরকারের দল শপথ নেয়নি, যা খুবই দুঃখজনক।

    নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, সংবিধান সংশোধনের জন্য দৃঢ় প্রতিশ্রুতির জন্য ঘোষণা করা হয়েছিল যে, সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যরা একই দিনে শপথ নেবেন এবং এক সঙ্গে কাজ করবেন। তবে কিছু ভুল ব্যাখ্যার কারণে সেই প্রতিশ্রুতি অমান্য করা হয়েছে। তিনি মনে করেন, এটি দেশের প্রত্যাশিত পরিবর্তনের সঙ্গে প্রতারণা এবং গণরায়ের প্রতি অশ্রদ্ধা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত তারা শপথ নেবেন এবং এই সংস্কার কাজ সম্পন্ন করবেন। তিনি আরও বলেন, এই সংবিধান সংস্কার পরিষদ ছাড়া বর্তমান জাতীয় সংসদ কোনো মূল্য রাখে না, তাই তাদের শপথ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

  • জামায়াতের আমিরের অভিযোগ: গণমাধ্যমে নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ ও প্রতিবেদনের প্রতিবাদ

    জামায়াতের আমিরের অভিযোগ: গণমাধ্যমে নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ ও প্রতিবেদনের প্রতিবাদ

    সরকারের বিরোধী দলকে পরিকল্পিতভাবে অ obedience করছি বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন যে, গণমাধ্যমের ওপর নির্লজ্জভাবে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ঢাকা-১৫ সংসদীয় আসনে এতিম শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘‘সরকার যদি বিরোধীদলের পরামর্শ না মানে, তাহলে আন্দোলন ও প্রতিবাদ আরও কঠোরভাবে গড়ে তোলা হবে। কেউ যদি শুধু দলীয় পরিচয় বা রাজনৈতিকarputে জুলুমের শিকার হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার হবো। আমরা চাই, সকলের অধিকার রক্ষা ও বিচার প্রতিষ্ঠা হোক।’’

    তিনি আরও জানান, সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করলে দেশের মানুষের অধিকার সুরক্ষিত হবে। জননেতাদের একসঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা সম্ভব—এই প্রত্যাশা প্রকাশ করেন তিনি।

    এতিম শিক্ষার্থীদের প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘‘আমরা চাই এতিমদের মন থেকে মনিমুক্তা বের করে আনি। তাদেরকে এমনভাবে গড়ে তুলব, যাতে তারা দেশ ও জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’’ তিনি এও বলেন, ‘‘অ Allah সন্তুষ্ট হওয়ার মতো কাজ আমরা করব, এমন প্রত্যাশা রয়েছে।’’

    একে অপরাধ হিসেবে দেখছেন, সম্প্রতি টেলিভিশনের চার সাংবাদিকের চাকরি হারানোর ঘটনায় প্রশ্নে সাংবাদিকদের জবাবে জামায়াতের আমির বলেন, ‘‘এটি হল সাংবাদিকতার স্বাধীনতার ওপর নির্লজ্জ আঘাত। আমরা সরকারের কাছে প্রত্যাশা করব— তাদের চাকরি ফিরিয়ে দিতে। অন্যথায় মনে করব, সরকার একনায়কতন্ত্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।’’

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগর উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক।

    সভাপতির বক্তব্যে সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘‘বাংলাদেশের মানুষ ইসলাম ও কোরআনপ্রিয়। তারা কোরআনের চেতনায় বিশ্বাস করে ও জীবনের মূল ভিত্তি হিসেবে মানে।’’ এটাও উল্লেখ করেন, দেশের উন্নয়নে সবাই একযোগে কাজ করলে স্বস্তি আসবে।

    উল্লেখ্য, এই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগর উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মুসা, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগর উত্তরের প্রচার সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং থানা নেতৃবৃন্দ।

  • নোয়াখালীতে তেলবাহী ট্রাক দোকানে ঢুকে দুই নিহত

    নোয়াখালীতে তেলবাহী ট্রাক দোকানে ঢুকে দুই নিহত

    নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় অবিবার্তন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি তেলবাহী ট্রাক দোকানে ঢুকে পড়লে দুইজন নিহত ও আরও তিনজন আহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায়, তবে এখনও আহত ও নিহতের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। এর আগে সকালে, সাড়ে ১০টায়, ট্রাকটি ট্রান্সমিটার এলাকায় গেলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজামুল উদ্দিন ভুঁইয়া জানান, নোয়াখালীর সোনাপুর থেকে কবিরহাট যাওয়ার পথে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি দোকানে ঢুকে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই দুইজন নিহত হন। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হয়ে সড়ক অবরোধ করেন। ঘটনার বিস্তারিত জানানো হবে বলে ওসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।