Category: জাতীয়

  • বিএনপি জানালো জাইমা রহমানের ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম আইডি

    বিএনপি জানালো জাইমা রহমানের ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম আইডি

    বিএনপি জানিয়েছে, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একমাত্র কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের মধ্যে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে একটি করে আইডি রয়েছে। এই তথ্য বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপির ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মাহদী আমিন নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আমরা নিশ্চিত করছি যে, তারেক রহমানের কন্যা জাইমার ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম আইডি মেটা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সম্প্রতি ভেরিফায়েড করা হয়েছে। ব্লু টিক যুক্ত এই দুটি সোশ্যাল মিডিয়া পেজ ছাড়া তার অন্য কোনো অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট নেই। মাহদী এও জানান, বিএনপির আইটি দপ্তর এখন পর্যন্ত ৫০টিরও বেশি ফেক আইডি ও পেজ রিমুভ করেছেন, যেখানে ডিপফেইক ও এআই-জেনারেটেড ভিডিও পোস্ট করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছিল। কিছু আইডি ও পেজ এখনো অবশিষ্ট রয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে মেটার সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে দল। জাইমা রহমানের এই আইডিগুলোর লিঙ্কগুলো হলো- ফেসবুক: https://www.facebook.com/zzrahman25 এবং ইনস্টাগ্রাম: https://www.instagram.com/zzrahman25।

    তিনি আরও জানান, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রীর নামেও বেশ কিছু ফেক ফেসবুক পেজ খোলা হয়েছে, যেখানে এআই ব্যবহার করে বানানো মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে। এ ব্যাপারে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ডাঃ জোবায়দা রহমানের কোনো সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট বা পেজ নেই। সবাইকে বিভ্রান্তিতে না পড়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়।

    মাহদী আরও বলেন, এটি দুঃখজনক যে, নির্বাচন কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক অপপ্রচার ও misinformation, disinformation ছড়িয়ে পড়ছে। এরই প্রেক্ষিতে বিএনপি নির্বাচন কমিশনের কাছে একটি ফ্যাক্ট-চেকিং সেল গঠনের দাবি জানায়। তারা সরকারের কাছে অনুরোধ করে, দ্রুত এই ফ্যাক্ট-চেকিং সেল কার্যকর করার জন্য।

  • রাজধানীতে ভবনে ভয়াবহ আগুন, নিহত ৩

    রাজধানীতে ভবনে ভয়াবহ আগুন, নিহত ৩

    রাজধানীর উত্তরায় একটি সাত তলার ভবনের দ্বিতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও নির্বাপণের কাজ শুরু করে। এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় সকাল আটটা বিশ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে, তবে এরপরও পুরোপুরি নিভে যেখানে যায়নি। সকাল দশটার মধ্যে আগুনের সম্পূর্ণ আগুন নিভিয়ে ফেলা সম্ভব হয়। নিহতের মধ্যে দুই জন নারী এবং একজন পুরুষ রয়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া, আহত হন কমপক্ষে ১৩ জন, যাদের কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।প্রাথমিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা যায়নি। ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন বিষয়টি তদন্ত করছে। এখনো নিহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। এই ভয়াবহ ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে, তবে উদ্ধার ও তদন্ত কাজ দ্রুত চলমান রয়েছে।

  • প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তারেক রহমানের প্রায় দুই ঘণ্টার সাক্ষাৎ

    প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তারেক রহমানের প্রায় দুই ঘণ্টার সাক্ষাৎ

    অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে কথা বললেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাত ৯টা ১১ মিনিটে তিনি ও তার পরিবারের অন্য সদস্যরা সরকারি বাসভবন যমুনা থেকে বেরিয়ে গুলশানের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এর আগে সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিটে তিনি গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে বের হয়ে বাসভবনে যান। বাসভবনে ঢুকলেন ৬টা ৪৭ মিনিটে এবং ৬টা ৫২ মিনিটের মধ্যে বাসভবন ত্যাগ করে তিনি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নামক বাসে করে যমুনার দিকে রওনা হন। বিএনপি চেয়ারম্যান হিসেবে এটি তার প্রথমবারের মতো অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ। এই সাক্ষাৎকালে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। এই দীর্ঘ সাক্ষাৎ ও আলোচনা সম্পর্কিত আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য বিএনপি বা সরকারের প্রেস উইং থেকে আগের রাতে, রাত ৯টা ২৫ মিনিটের আগে প্রকাশ করা হয়নি। উল্লেখ্য, গত ২৫ ডিসেম্বর ১৭ বছর পর দেশে ফিরে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পা রাখার মুহূর্তে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। তখনই তিনি তারেক রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। দেশে ফেরার ২১ দিন পর আজ তিনি তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য বাসভবনে যান। এর মধ্যে, ৩১ ডিসেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজায় তিনি ড. ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এছাড়া, গত বছর ১৩ জুন লন্ডনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তারেক রহমানের মধ্যে একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা যৌথ বিবৃতি দেন। এই বৈঠক থেকেই বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনের তারিখ নির্ধারিত হয় বলে জানা গেছে।

  • ইসি সচিবের ব্যাখ্যা: পোস্টাল ব্যালটে ধানের শিেশের অবস্থান সম্পর্কে

    ইসি সচিবের ব্যাখ্যা: পোস্টাল ব্যালটে ধানের শিেশের অবস্থান সম্পর্কে

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পোস্টাল ব্যালটে বিএনপি’র নির্বাচনী প্রতীক ‘ধানের শীষ’ ভাঁজের মধ্যে পড়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করেছে। ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ব্যালট পেপার প্রিন্টিংয়ের ক্ষেত্রে সরকারি গেজেটের ধারাবাহিকতা বা ক্রম অনুসরণ করা হয়েছে। তিনি বুধবার বিকেলে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

    আখতার আহমেদ আরও বলেন, যতটুকু জানা গেছে, সরকারিভাবে প্রকাশিত গেজেটের অর্ডার অনুযায়ীই ব্যালটগুলো তৈরি করা হয়েছে। তিনি বিভিন্ন সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে যোগ করেন, এই স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সব প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান অভিযোগ করেন, ধানের শীষ প্রতীকটি intentionally ভাঁজের মধ্যে রাখা হয়েছে, যা সহজে নজরে পড়বে না। তিনি আরও বলেন, যদি সংশ্লিষ্ট ব্যালটগুলো ভুলক্রমে পাঠানো হয়ে থাকে, তবে সেগুলোর সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

    এদিকে, ব্যালট আবার ছাপা হবে কি না, এ বিষয়টি নিয়ে ইসি সচিব বলেন, এই ব্যাপারে এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়। নির্বাচন কমিশনের সভায় আলোচনার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

  • ইসির সীমানা অনুযায়ী ১২ ফেব্রুয়ারি পাবনা দুই সংসদীয় আসনে নির্বাচন হবে

    ইসির সীমানা অনুযায়ী ১২ ফেব্রুয়ারি পাবনা দুই সংসদীয় আসনে নির্বাচন হবে

    গত ৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনের দ্বারা জারি করা গেজেটের সীমানা অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পাবনা-১ ও ২ আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আদালত থেকে নির্দেশনা দিয়েছে আপিল বিভাগ। এই নির্দেশনা অনুযায়ী, সাথিয়া উপজেলাকে আলাদাভাবে পাবনা-১ আসনের অংশ হিসেবে গণ্য করা হবে; অন্যদিকে, সুজানগর ও বেড়া উপজেলা মিলিয়ে পাবনা-২ আসন হিসেবে ধরা হবে।

    পাবনা-১ আসনের চারটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা ছাড়াই এই নির্বাচন করতে হবে, যা আগে নির্বাচনী সীমানার বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছিল। এর ফলে, নির্বাচন কমিশনের ২০২৪ সালের গেজেটের এই অংশটি অবৈধ ঘোষণা করে আদালত স্থগিত করে, এবং এই রায় কার্যকর থাকবে যতক্ষণ না নতুন করে সিদ্ধান্ত হয়।

    বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। তারা উল্লেখ করেন, নির্বাচন কমিশনের গেজেটের এই পরিবর্তন আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে বৈধ নয়, তাই তা স্থগিত থাকবে।

    এই মামলায় আদালতে ইসির পক্ষ থেকে ছিলেন ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক। জামায়াতের পক্ষ থেকে ছিলেন ব্যারিস্টার ইমরান আবদুল্লাহ সিদ্দিকী, আর বিএনপির পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী।

    এর আগে, ১৪ জানুয়ারি, হাইকোর্ট পাবনা-১ আসন থেকে চারটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বাদ দিয়ে গেজেটটি অবৈধ ঘোষণা করে। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের জন্য বৃহস্পতিবার শুনানি ধার্য করা হয়।

    অক্টোবরের ১৩ তারিখে, এ সম্পর্কিত আপিলের উপর শুনানি শেষে, নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) নির্দেশনা দেওয়া হয় যেন ভোটের কার্যক্রম স্থগিত থাকে যতক্ষণ না নতুন নির্দেশনা আসে। এর আগে, ৫ জানুয়ারি, পাবনা-১ ও ২ আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে ২৪ ডিসেম্বর জারি করা গেজেটও স্থগিত দেয় আপিল বিভাগ।

    অতএব, এই নির্দিষ্ট সীমানাগ্রহণের ফলে, নির্বাচনের ঠিক তারিখে ভোট গ্রহণের প্রক্রিয়া বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে। আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে এই আসনগুলোর নির্বাচন যথাসময়ে হবে যখন সব আইনি দিক পরিষ্কার হবে।

  • তিন ধরনের কোর্টকে বিশেষ জজ আদালত হিসেবে ঘোষণা

    তিন ধরনের কোর্টকে বিশেষ জজ আদালত হিসেবে ঘোষণা

    সারাদেশের বিভিন্ন আদালত ব্যবস্থাকে আরো কার্যকর ও স্বচ্ছ করতে সরকার সম্প্রতি তিন ধরনের আদালতকে বিশেষ জজ আদালত হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই সিদ্ধান্তের আওতায় পারিবারিক আপিল আদালত, শিশু ধর্ষণ ও অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল এবং ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনালকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গত ১২ জানুয়ারি আইন ও বিচার বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে এই সিদ্ধান্ত জানায়।

    প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারের আশ্রয় নেওয়া ‘বিশেষ আদালত (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আইন ২০০৩’ এর ক্ষমতাবলে, এসব আদালত ও ট্রাইব্যুনালকে জেলা জজ আদালত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এটি বলা হয়েছে তারা এখন থেকে ‘বিশেষ জেলা জজ আদালত’ নামে পরিচিত হবে। একইসঙ্গে, ফৌজদারী মামলার বিচারেও এগুলিকে দায়রা জজ আদালত হিসেবে দেখা হবে, যা ‘বিশেষ দায়রা জজ আদালত’ হিসেবে পরিচিত হবে।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সারাদেশে বিদ্যমান সব পারিবারিক আপিল আদালত, শিশুর নিরাপত্তা ও ধর্ষণের মতো অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল এবং ল্যান্ড সার্ভে সম্পর্কিত আপিল ট্রাইব্যুনাল এই ঘোষণা কার্যকর হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে বিচার প্রক্রিয়া আরও দ্রুততর ও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিতের আবেদন

    লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিতের আবেদন

    নিরাপত্তার শান্তির জন্য উদ্বিগ্ন হয়ে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় লুণ্ঠিত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র এখনও উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আসন্ন জাতীয় নির্বাচন স্থগিতের জন্য হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়েছে। এই রিটটি করেছেন আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান, যা বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দাখিল করা হয়েছে। এখানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশনের সচিব, আইজিপি এবং র‍্যাবের মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে।

    রিটে উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুসারে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন থানায় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যালয়ে থেকে প্রায় ৫ হাজার ৭৫০টি অস্ত্র ও ৬ লাখ ৫১ হাজার ৬০৯ রাউন্ড গোলাবারুদ লুট হয়ে গেছে। সরকার এসব অস্ত্র উদ্ধার করতে পুরস্কার ঘোষণা করেও বেশিরভাগ অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি যা খুবই উদ্বেগজনক।

    রিটে আরও বলা হয়েছে, এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে থাকায় আগামী নির্বাচনগুলো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষত, ঢাকার ৮ নম্বর আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদির গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনা এই উদ্বেগের একটি বলিষ্ঠ প্রমান। অবৈধ অস্ত্রের উপস্থিতি থাকলে নির্বাচনী পরিবেশ রক্তাক্ত হতে পারে বলে সতর্কতা জারি করেছেন নির্বাচন কমিশনের সাবেক ব্রিগেডিয়ার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

    সরকার কিছু নির্বাচনী প্রার্থীকে গ্যারাজম্যান বা নিরাপত্তাকর্মীর ব্যবস্থা করলেও, সাধারণ ভোটার ও প্রার্থীদের জন্য কার্যকর নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে, অস্ত্রের উপস্থিতি ও অনিরাপত্তার কারণে নির্বাচনকে রক্তক্ষয়ী করে তুলতে পারে বলে মনে করে রিটের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন।

    অতএব, এই পরিস্থিতিতে রিটের দাবি উঠেছে, যতক্ষণ না পর্যন্ত সব লুণ্ঠিত অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার হয় এবং নির্বাচনের পরিবেশ নিরাপদ হয়, ততক্ষণ নির্বাচন স্থগিত রাখতে নির্দেশ দেওয়া হোক।

  • চার্জশিট গ্রহণে অনীহা প্রকাশে বাদীপক্ষের নারাজি তদন্তে ‘অসন্তোষ’ জানিয়ে

    চার্জশিট গ্রহণে অনীহা প্রকাশে বাদীপক্ষের নারাজি তদন্তে ‘অসন্তোষ’ জানিয়ে

    ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব শরিফ ওসমান হাদির হত্যার মামলায় দাখিল হওয়া চার্জশিট গ্রহণের বিষয়ে বাদীপক্ষ নারাজি দাখিল করেছেন। এ পরিস্থিতিতে আদালত সিদ্ধান্তে অপেক্ষমান থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশীতা ইসলামের আদালতে চার্জশিটের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষ চার্জশিট গ্রহণের পক্ষে মত প্রকাশ করলেও, মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে নারাজি আবেদন করেন।

    আদালতের সূত্রে জানা গেছে, বাদীপক্ষের নারাজি বিবেচনা করে আদালত নির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে, সিদ্ধান্ত অপেক্ষমান রেখেছেন। এর আগে, চার্জশিটের বিস্তারিত পর্যালোচনার জন্য রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা দুদিনের সময় চাইলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। সেই অনুযায়ী, আজকের শুনানিতে চার্জশিটের বিষয়টি আলোচনা হয়।

    মামলার তদন্তে সহায়তার জন্য আদালত তিনজন বিশেষ আইনজীবী নিয়োগ দেন, যারা হলেন- জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আব্দুস সোবহান তরফদার, ব্যারিস্টার এস এম মইনুল করিম ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মুস্তাফিজুর রহমান মুকুল।

    শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আদালতকে জানিয়েছেন, তারা চার্জশিটের প্রতিটি দিক সুনির্দিষ্টভাবে পর্যালোচনা করেছেন এবং তদন্তে পর্যাপ্ত আইনগত উপাদান রয়েছে। কিন্তু, বাদীপক্ষ দাবি করেন, তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় উপেক্ষিত হয়েছে, যা পুনরায় যাচাইয়ের প্রয়োজন।

    গত ৬ জানুয়ারি, তদন্তকারী কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ফয়সাল করিম মাসুদ বা রাহুলসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। পরের দিন আদালত এই চার্জশিটটি দেখিলাম মর্মে সই করেন এবং বাদীর বক্তব্য শোনার জন্য দিন ধার্য করেন।

    প্রসঙ্গত, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে দুর্বৃত্তদের গুলিতে শরিফ ওসমান হাদি আহত হন। প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।

    শরিফ ওসমান হাদির মরদেহ ১৯ ডিসেম্বর দেশে আনা হয় এবং ২০ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম স্মৃতিসৌধের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

    ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে মনে করে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে, শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যু হওয়ায় বিষয়টি হত্যা মামলায় রূপ নেয়।

  • প্রথম ঘণ্টায় ৩৬ আপিল, ৫ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল

    প্রথম ঘণ্টায় ৩৬ আপিল, ৫ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্রের নির্বাচনপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জোরদারের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সকালে প্রথম ঘণ্টায় ৩৬টি আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ২৮টি আপিল মঞ্জুর করা হয়েছে, ৫টি নাকচ হয়েছে, একটি আপিল বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত পেন্ডিং রয়েছে এবং ২টি আপিলের বাদি অনুপস্থিত ছিলেন।

    নির্বাচন ভবনে সকাল ১০টা ২০ মিনিটে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের অডিটোরিয়ামে এই আপিল শুনানি শুরু হয়। প্রথম বিরতিটা দেওয়া হয় বেলা সাড়ে ১১টায়। এই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন আসনে মনোনয়ন বাতিলের কারণ ও আপিলের বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়।

    বিশেষ করে রাজশাহী-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আল-সাআদের মনোনয়ন বাতিলের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, তার জমা দেওয়া ভোটার তালিকা থেকে দৈবচয়নে ১০ জনের মধ্যে একজনকেও যাচাই করা যায়নি। একইভাবে মানিকগঞ্জ-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আব্দুল আলী বেপারীর জন্য এই তথ্য প্রযোজ্য, যেখানে তিনি ১০ জনের মধ্যে ৮ জনের যাচাই করতে পারেননি। সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের মো. হুমায়ুন কবিরের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রশ্ন উঠে আসে, যেখানে তার মনোনয়ন বাতিলের কারণ হিসেবে কাজ করে ভোটার তালিকা থেকে অনিশ্চয়তা। তাছাড়া, ঋণখেলাপির দায়ে চট্টগ্রাম-১৩ আসনের গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

    অন্যদিকে, কুমিল্লা-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপি নেতা আব্দুল মতিনের মনোনয়ন বৈধতা প্রশ্নে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে, একই আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়ার আপিল খারিজ করে দেওয়া হয়। নির্বাচন কমিশন জানায়, আব্দুল মতিনের মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

  • মার্কিন কূটনীতিকদের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন ও পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা

    মার্কিন কূটনীতিকদের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন ও পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা

    আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে, এ বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের দুজন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক আলবার্ট গোম্বিস ও মার্স ট্যানের সাথে প্রধান উপদেষ্টার সাক্ষাৎকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

    প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, নির্বাচনের সময়কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ভুয়া খবর ও পরিকল্পিত বিভ্রান্তি ছড়ানো হলেও সরকারের প্রতিশ্রুতি অটুট থাকবে। তিনি বলেন, নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে। নির্বাচনকালীন সময়ে সর্বস্তরের রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে ও একটি নিরপেক্ষ প্রশাসন গড়ে তুলবে অঙ্গীকার করে তিনি আরও বলেন, ফলাফল ঘোষণা শেষে ক্ষমতা শান্তিপূর্ণভাবে হস্তান্তর হবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়।

    তিনি জানান, ‘কে কী বলল, তা বিবেচ্য নয়। নির্ধারিত ১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে; একদিনও আগে বা পরে নয়।’ একইসাথে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভোট প্রদান হবে বেশ উৎসবমুখর ও সুন্দর পরিবেশে।

    সাবেক আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট আলবার্ট গোম্বিস এবং সাবেক অ্যাম্বাসাডর-অ্যাট-লার্জ মার্স ট্যান এখন বাংলাদেশে সফর করছেন এবং প্রায় এক ঘণ্টাজনক বৈঠকে তারা আসন্ন নির্বাচন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও এর পরবর্তী পরিস্থিতি, তরুণ আন্দোলন, ভুয়া খবর ও মিসইনফরমেশন, রোহিঙ্গা সংকট এবং নির্বাচনের পরের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়াও, তারা ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন।

    প্রফেসর ইউনূস বলেন, ভবিষ্যতে গঠনমূলক ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন সম্ভব হবে যদি অপরাধীরা তাদের ভুল স্বীকার করে, অনুশোচনা প্রকাশ করে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই এই স্বীকারোক্তি করেনি, বরং বর্বরোচিত অপরাধের জন্য সম্পূর্ণ অস্বীকার করছে।

    তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের সমর্থকেরা নির্বাচন নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য ভুয়া খবর ও অপতথ্য ছড়াচ্ছে। জনগণ সচেতন হয়ে পড়ছে, এবং প্রযুক্তির উন্নতির ফলে তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও চিনতে পারছে।’

    গোড়া থেকে প্রচারিত এটি গণতন্ত্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে গোম্বিস বলেন, ‘ভুয়া খবর বিশ্বে গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান শত্রু। এ হুমকি মোকাবেলায় আরও জোরালো উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজন।’

    অতিথিরা সরকারের ভূমিকা, নির্বাচন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রশংসা করেন এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেন। প্রফেসর ইউনূস জানান, দক্ষিণ আফ্রিকার ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশনের আদলে বাংলাদেশে বর্তমানে এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের সম্ভবনা খুবই কম, কারণ এখনও অনেক অপরাধী নিজের ভুল স্বীকার করেননি। তিনি বলেন, ‘সময় এখনো আসেনি। ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশনের জন্য প্রয়োজন হয় অপরাধের স্বীকারোক্তি এবং অনুশোचन।’ তিনি উপসংহার তুলে বলেন, ‘অধিকাংশ অপরাধী এখনও সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বসে আছেন, যা দেশের জন্য খুবই দুঃখজনক।’