Category: অর্থনীতি

  • দুদক চট্টগ্রাম-মোংলা বন্দর ও শিপিং করপোরেশনের প্রকল্পে অনিয়ম তদন্ত শুরু

    দুদক চট্টগ্রাম-মোংলা বন্দর ও শিপিং করপোরেশনের প্রকল্পে অনিয়ম তদন্ত শুরু

    চট্টগ্রাম বন্দর, মোংলা বন্দর এবং বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতি ও নিয়োগবিষয়ক অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির উপ-পরিচালক নাজমুচ্ছায়াদাতকে প্রধান করে চারটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    রোববার (১৫ মার্চ) দুদক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

    দুদকের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বর্তমান চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে একাধিক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষত শিপিং করপোরেশনের এমডি থাকাকালীন সময়ে ২,৪৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়টি জাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল; কিন্তু শেষ পর্যন্ত শুধু চারটি জাহাজ কেনা হয়েছে। এ কারণে প্রকল্পে প্রায় ৪৮৬ কোটি টাকার আর্থিক অসঙ্গতি ধরা পড়েছে বলে দুদক উল্লেখ করেছে।

    এছাড়া মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেল সংরক্ষণ ড্রেজিং প্রকল্পে ১,৫৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে। এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো থেকে নথিপত্র তলব করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

    দুদকের অনুসন্ধানকারী দল বলেছে, তদন্তের স্বার্থে সব প্রাসঙ্গিক কাগজপত্র সংগ্রহ করে ঘটনাসমূহের সত্যতা যাচাই করা হবে এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • চট্টগ্রাম–মোংলা বন্দর ও শিপিং করপোরেশনে অনিয়ম: দুদকের চার অনুসন্ধান কমিটি

    চট্টগ্রাম–মোংলা বন্দর ও শিপিং করপোরেশনে অনিয়ম: দুদকের চার অনুসন্ধান কমিটি

    দুর্নীতি ও নিয়োগ সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরসহ বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের কয়েকটি প্রকল্প তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। উপ-পরিচালক নাজমুচ্ছায়াদাতকে প্রধান করে চারটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    রোববার (১৫ মার্চ) দুদক সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে বিভিন্ন আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়মের প্রমাণ উঠেছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বর্তমান চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে একাধিক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকাকালীন ২,৪৮৬ কোটি টাকার বাজেটে ছয়টি জাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়; কিন্তু শেষ পর্যন্ত চারটিই কেনা হয়। এতে প্রায় ৪৮৬ কোটি টাকার আর্থিক অসঙ্গতি শনাক্ত করা হয়েছে বলে দুদক জানিয়েছে।

    এছাড়া মোংলা বন্দরের ‘পশুর চ্যানেল সংরক্ষণ ড্রেজিং’ প্রকল্পে ১,৫৩৮ কোটি টাকার বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতির এ ধরনের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে নথিপত্র তলব করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

    দুদকের অনুসন্ধানকারীরা বিষয়গুলো দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে বলে কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানানো হয়েছে। তদন্ত এখনও চলমান; প্রয়োজন অনুসারে আরও তথ্য সংগ্রহ ও সাক্ষ্যগ্রহণ করা হবে।

  • খেলাপি ঋণ দ্রুত আদায়ে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের নির্দেশ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

    খেলাপি ঋণ দ্রুত আদায়ে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের নির্দেশ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

    খেলাপি ঋণ সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিরসন এবং আদালতে মামলা দায়েরের আগেই ‘প্রাক-মামলা মধ্যস্থতা’ পদ্ধতিতে समाधान নিশ্চিত করতে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে দক্ষ মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার বুধবার জারি করেছে।

    নতুন উদ্যোগের উদ্দেশ্য হচ্ছে বিচার ব্যবস্থায় মামলা কমানো এবং অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩ ও দেউলিয়া আইন, ১৯৯৭-এর আওতায় পড়তে পারে এমন ঋণবিষয়ক বিরোধগুলো আদালতে যাওয়ার আগেই সমাধান করার সুযোগ তৈরি করা।

    সার্কুলারে বলা হয়েছে, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) পদ্ধতির মাধ্যমে ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে তাদের মোট খেলাপি ঋণের অন্তত ১ শতাংশ নিষ্পত্তি করে দেখাতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সময়সীমা নির্ধারণকে ব্যাংক খাতের তারল্য ও আর্থিক স্থিতি উন্নয়নে নিয়ন্ত্রকের গুরুত্বারোপ হিসেবে বর্ণনা করেছে। বর্তমান অনাদায়ী ঋণের পর্যাপ্ত পরিমাণের প্রেক্ষাপটে মধ্যস্থতার মাধ্যমে ১ শতাংশ আদায়কে জাতীয় পর্যায়ের ঋণ পুনরুদ্ধার কর্মসূচিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    এ নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ২২ মে জারি করা বিএরপিডি সার্কুলার নং-১১-এর ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হলেও এবার বিশেষভাবে আদালতে যাওয়ার আগেই বিরোধ নিষ্পত্তির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও মান নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশ দিয়েছেন যে, Banks must select mediators from panels constituted by specialised dispute-resolution service providers in accordance with existing law. এসব প্যানেলে সাধারণত অবসরপ্রাপ্ত বিচারক, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং অন্যান্য অভিজ্ঞ পেশাজীবীকে রাখা যেতে পারে।

    সার্কুলারে মধ্যস্থতাকারী নির্বাচনের জন্য দশটি যোগ্যতা ও অযোগ্যতার মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্যানেল সদস্যপদ যাচাই, নিরপেক্ষতা, পেশাগত সুনাম, বিশেষজ্ঞ দক্ষতা, মধ্যস্থতা সংক্রান্ত জ্ঞান, প্রমাণিত অভিজ্ঞতা, পরিষ্কার আইনগত রেকর্ড, আর্থিক সততা, খেলাপি ঋণগ্রাহক না হওয়া এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক সক্ষমতা।

    নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মধ্যস্থতাকারী নিয়োগে ব্যাংকগুলোকে একটি কঠোর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হলফনামা ও অঙ্গীকারপত্র গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া তফসিলি ব্যাংকগুলোকে গ্রাহকদের কাছে এই মধ্যস্থতা সুবিধা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সক্রিয় হতে বলা হয়েছে, যাতে গ্রাহকরা আদালতের বাইরে দ্রুত সমঝোতার সুবিধা বুঝে তা গ্রহণ করতে পারে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেন, আদালতের বাইরে দ্রুত ও স্বল্পখরচে বিরোধ নিষ্পত্তি করে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার বিকল্প একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ কমলে না শুধু মামলার জট কমবে, বরং ব্যাংক খাতের আর্থিক চাপও হালকা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • টানা তিনদিন সোনার দাম কমে ভরি ২ লাখ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকা

    টানা তিনদিন সোনার দাম কমে ভরি ২ লাখ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকা

    দেশীয় বাজারে টানা তৃতীয় দিনও কমল সোনার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ২২ ক্যারেট (ভরি/১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম ভরিতে ২ হাজার ৬৮৫ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকা নির্ধারণ করেছে। নতুন এই দাম শনিবার (১৩ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হবে।

    বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার দাম কমার প্রেক্ষিতে স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

    বিশদে, ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরিতে ২ হাজার ৬৮৫ টাকা কমিয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকা। ২১ ক্যারেটের একটি ভরির দাম ২ হাজার ৫০৮ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার ৩৬৮ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দামও ২ হাজার ১৫৭ টাকা কমে ২ লাখ ১৪ হাজার ৬১৮ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা করা হয়েছে।

    সোনার সঙ্গে রুপার দামও কমানো হয়েছে। ২২ ক্যারেট রুপার এক ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৬৫ টাকা। ২১ ক্যারেট রুপা ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেট রুপা ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার প্রতি ভরি দাম ৩ হাজার ৭৩২ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

    এর আগে শুক্রবারও বাজুস সোনার দাম ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা ও রুপার দাম ভরিতে ৩৯২ টাকা কমিয়েছিল। তখন ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরি দাম ছিল ২ লাখ ৬৪ হাজার ৯৪৮ টাকা এবং রুপার ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি দাম ছিল ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা।

    চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ৪৩ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে; এর মধ্যে ২৬ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ১৭ বার কমানো হয়েছে।

  • খেলাপি ঋণ দ্রুত আদায়ের জন্য মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের নির্দেশ দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক

    খেলাপি ঋণ দ্রুত আদায়ের জন্য মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের নির্দেশ দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক

    খেলাপি ঋণ সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত ও কার্যকরভাবে সমাধান করার লক্ষ্যে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে দক্ষ মধ্যস্থতাকারী (মেডিয়েটর) নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বুধবার এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে বলেছে, আদালতে মামলা করার আগে ‘প্রাক-মামলা মধ্যস্থতা’ পদ্ধতির মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তিকে উৎসাহিত করতে হবে।

    সার্কুলারে বলা হয়েছে, বিকল্প বিরোধাবিধি (এডিআর) পদ্ধতির মাধ্যমে ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে মোট খেলাপি ঋণের অন্তত ১ শতাংশ নিষ্পত্তি করতে হবে। ব্যাংক খাতে তারল্য ও আর্থিক স্থিতি রক্ষার পরিপ্রেক্ষিতে এই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে অনাদেয় ঋণের পরিমাণকে ঘিরে সমস্যা থাকায় সার্কুলারটি জাতীয় পর্যায়ে ঋণ পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    নতুন নীতিমালা ২০২৪ সালের ২২ মে জারি করা বিএরপিডি সার্কুলার নং-১১-এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখছে, তবে এবারে আদালতে মামলা দায়েরের আগেই বিরোধ নিষ্পত্তির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আরও বলা হয়েছে, মধ্যস্থতাকারী নির্বাচন করতে হবে আইন অনুযায়ী গঠিত বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর প্যানেল থেকে।

    প্যানেলে সাধারণত অবসরপ্রাপ্ত বিচারক, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও অভিজ্ঞ পেশাজীবীরা থাকবেন। সার্কুলারে মধ্যস্থতাকারী নির্বাচনের জন্য ১০টি যোগ্যতা ও অযোগ্যতার শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে প্যানেল সদস্যপদ যাচাই, নিরপেক্ষতা, পেশাগত সুনাম, বিশেষজ্ঞ দক্ষতা, মধ্যস্থতা সংক্রান্ত জ্ঞান, প্রমাণিত অভিজ্ঞতা, পরিষ্কার আইনগত রেকর্ড, আর্থিক সততা, খেলাপি না থাকা ও পর্যাপ্ত আর্থিক সক্ষমতা।

    মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে কঠোর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার জন্য মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে হলফনামা ও অঙ্গীকারপত্র গ্রহণ বাধ্যতামূলক রাখা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রাহকদের এডিআর সুবিধা সম্পর্কে সচেতন করতে ও মোবাইলে, শাখাভিত্তিক বিজ্ঞপ্তি ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তথ্য দিতে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে সক্রিয় ভূমিকা নিতে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, আদালতের বাইরের দ্রুত সমঝোতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করে দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল আইনি প্রক্রিয়ার বিকল্প একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। এতে না sólo মামলার জট কমবে, বরং ব্যাংকের ликুইডিটি ও সমগ্র আর্থিক স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • সোনার দাম কমলো তৃতীয় দিনেও — ভরি ২ লাখ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকা

    সোনার দাম কমলো তৃতীয় দিনেও — ভরি ২ লাখ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকা

    দেশের বাজারে সোনার দাম টানা তৃতীয় দিনও নামল। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ২২ ক্যারেটের সবচেয়ে ভালো মানের সোনার প্রতি ভরি দাম ২ হাজার ৬৮৫ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকা নির্ধারণ করেছে। এই নতুন দাম শনিবার (১৩ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হবে।

    বাজুস বলেছে, স্থানীয় তেজাবী (পাকা) সোনার দাম কমায় স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

    শুরুতে ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতিটি ভরি ২ হাজার ৬৮৫ টাকা কমে ২ লাখ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকা হয়েছে। ২১ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরি দাম ২ হাজার ৫০৮ টাকা কমে এখন ২ লাখ ৫০ হাজার ৩৬৮ টাকা। ১৮ ক্যারেট সোনার এক ভরির দাম ২ হাজার ১৫৭ টাকা কমে ২ লাখ ১৪ হাজার ৬১৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সনাতন পদ্ধতির সোনার প্রতি ভরির দামও ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমে এখন ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা হয়েছে।

    সোনার পাশাপাশি রুপার দামও কমানো হয়েছে। ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ২১ ক্যারেট রুপা ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেট রুপা ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ৭৩২ টাকা করা হয়েছে।

    আগামীকালের আগে, অর্থাৎ শুক্রবারেও বাজুস সোনার দাম প্রতি ভরি ২ হাজার ১৫৮ টাকা এবং রুপার দাম প্রতি ভরি ৩৯২ টাকা কমিয়ে ঘোষণা করেছিল। ঐ সময় ২২ ক্যারেট সোনার দাম ছিল ২ লাখ ৬৪ হাজার ৯৪৮ টাকা এবং ২২ ক্যারেট রুপার দাম ছিল ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা।

    এ বছর এখন까지 দেশের বাজারে সোনার দাম মোট ৪৩ বার সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৬ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ১৭ বার কমানো হয়েছে। বাজারপ্রবণতা ও আভ্যন্তরীণ চাহিদা-যোগানের হিসেব মেনে বাজুস নিয়মিতভাবে দাম সমন্বয় করে থাকে।

  • খেলাপি ঋণ আদায় ত্বরান্বিত করতে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগে নির্দেশনা জারি

    খেলাপি ঋণ আদায় ত্বরান্বিত করতে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগে নির্দেশনা জারি

    বাংলাদেশ ব্যাংক তফসিলি ব্যাংকগুলোকে খেলাপি ঋণ সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য দক্ষ মধ্যস্থতাকারী (মেডিয়েটর) নিয়োগের নির্দেশনা জারি করেছে। বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ উদ্দেশ্যে একটি সার্কুলার প্রকাশ করেছে যা আদালতে মামলা দায়েরের আগেই ‘প্রাক-মামলা মধ্যস্থতা’ পদ্ধতিকে গুরুত্ব দেয়।

    নতুন উদ্যোগটির লক্ষ্য বিচার ব্যবস্থায় মামলার চাপ কমানো এবং এমনসব বিরোধ আদালতে যাওয়ার আগেই সমাধানের সুযোগ তৈরি করা, যেগুলো অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩ এবং দেউলিয়া আইন, ১৯৯৭-এর আওতায় পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    সার্কুলারে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে বলা হয়েছে যে, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) পদ্ধতির মাধ্যমে ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে মোট খেলাপি ঋণের অন্তত ১ শতাংশ সমাধান করতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সময়সীমা নির্ধারণকে ব্যাংক খাতের তারল্য ও আর্থিক অবস্থা শক্তিশালী করার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে। বর্তমান অনাদায়ে ঋণের উচ্চ মাত্রা বিবেচনা করে এই এক শতাংশ লক্ষ্যকে জাতীয় ঋণ পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের এক সফল সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    নীতিমালায় বিশেষ করে আদালতে মামলা দায়েরের আগেই বিরোধ নিষ্পত্তিতে জোর দেয়া হয়েছে এবং এডিআর প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্যানেলভিত্তিক মধ্যস্থতাকারী নির্বাচন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মধ্যস্থতাকারীদের প্যানেলে স্থান পেতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারক, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ অন্যান্য অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের অন্তর্ভুক্তি করা যেতে পারে।

    মধ্যস্থতাকারী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সার্কুলারে ১০টি যোগ্যতা ও অযোগ্যতার শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে প্যানেল সদস্যপদ যাচাই, নিরপেক্ষতা, পেশাগত সুনাম, বিশেষজ্ঞ দক্ষতা, মধ্যস্থতা সম্পর্কে জ্ঞান, প্রমাণিত অভিজ্ঞতা, কোনো বৈধ অপরাধমূলক রেকর্ড না থাকা, আর্থিক সততা, ঋণখেলাপি না থাকা এবং যথাযথ আর্থিক সক্ষমতা।

    মধ্যস্থতাকারী নিয়োগে ব্যাংকগুলোকে কঠোর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হলফনামা ও অঙ্গীকারপত্র গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে, এসব মধ্যস্থতা সুবিধা সম্পর্কে গ্রাহকদের সচেতন করতে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে সক্রিয় ভূমিকা নিতে বলা হয়েছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, দ্রুত এবং আদালতের বাইরে সমঝোতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করে দীর্ঘমেয়াদি আইনি ঝামেলা কাটিয়ে উঠা যায় এবং এটি ঋণ পুনরুদ্ধারে একটি কার্যকর বিকল্প গঠন করবে। নতুন নির্দেশনাটি ২০২৪ সালের ২২ মে জারি করা বিএরপিডি সার্কুলার নং-১১-এর ধারাবাহিকতা বজায় রেখে প্রাক-মামলা পর্যায়ে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে।

  • টানা তিনদিনও কমলো সোনার দাম, ভরি ২ লাখ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকা

    টানা তিনদিনও কমলো সোনার দাম, ভরি ২ লাখ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকা

    দেশের বাজারে টানা তৃতীয় দিনও সোনার দাম কমেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ২২ ক্যারেটের সবচেয়ে ভালো মানের সোনার প্রতি ভরির দাম ২ হাজার ৬৮৫ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করেছে ২ লাখ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকা। নতুন এই দাম শনিবার (১৩ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হবে।

    স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পাকা সোনা) দর কমার প্রেক্ষাপটে বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের স্বাক্ষরে একটি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

    বাজুস সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরিতে ২ হাজার ৬৮৫ টাকা কমিয়ে নতুন দাম ২ লাখ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকা করা হয়েছে। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরিতে ২ হাজার ৫০৮ টাকা কমিয়ে নতুন দাম রাখা হয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার ৩৬৮ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরিতে ২ হাজার ১৫৭ টাকা কমিয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৬১৮ টাকা। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে নতুন দাম করা হয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা।

    সোনার সঙ্গে রুপার দামেরও সমন্বয় করা হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৬৫ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম রাখা হয়েছে ৩ হাজার ৭৩২ টাকা।

    এর আগে শুক্রবারও বাজুস সোনার দাম প্রতি ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা ও রুপার দাম প্রতি ভরিতে ৩৯২ টাকা কমিয়েছিল। আগের দামে ওই দিনে ২২ ক্যারেটের সোনার প্রতিভরি ছিল ২ লাখ ৬৪ হাজার ৯৪৮ টাকা এবং ২২ ক্যারেট রুপা ছিল ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা।

    চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ৪৩ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে; এর মধ্যে ২৬ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ১৭ বার দাম কমানো হয়েছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য নতুন এই দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর বলে বাজুস জানিয়েছে।

  • খেলাপি ঋণ দ্রুত আদায়ের জন্য মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের নির্দেশ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

    খেলাপি ঋণ দ্রুত আদায়ের জন্য মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের নির্দেশ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

    খেলাপি ঋণ সংক্রান্ত বিরোধ আদালতে যাওয়ার আগেই সমাধান করতে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে দক্ষ মধ্যস্থতাকারী (mediator) নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন এক সার্কুলার জারি করে এই উদ্যোগ ঘোষণা করেছে।

    সার্কুলারে বলা হয়েছে, তফসিলি ব্যাংকগুলোকে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) পদ্ধতির মাধ্যমে ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে মোট খেলাপি ঋণের অন্তত ১ শতাংশ এভাবে নিষ্পত্তি করতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এ সময়সীমা ব্যাংক খাতের তারল্য ও আর্থিক স্থিতি উন্নয়নের জন্য জরুরি কর্তন নির্দেশনা বহন করে।

    নতুন এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো বিচার ব্যবস্থায় মামলার জট কমানো ও অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩ এবং দেউলিয়া আইন, ১৯৯৭-এর আওতায় পড়ে যেতে পারে এমন মামলাগুলো আদালতে না গিয়েই সমাধানের সুযোগ তৈরি করা। দ্রুত মধ্যস্থতার মাধ্যমে দীর্ঘ আইনগত প্রক্রিয়ার বিকল্প, দ্রুত ও কার্যকর সমঝোতা গড়ে তোলা হবে বলেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা প্রকাশ করেছে।

    সার্কুলারে বলা হয়েছে, মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী মধ্যস্থতা সেবাদানকারী বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের তৈরি প্যানেল থেকে মধ্যস্থতাকারী বেছে নিতে হবে। এসব প্যানেলে অবসরপ্রাপ্ত বিচারক, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং অভিজ্ঞ পেশাজীবীরা রাখা যেতে পারে।

    মধ্যস্থতাকারী নির্বাচনের ক্ষেত্রে ১০টি যোগ্যতা ও অযোগ্যতার শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্যানেল সদস্যপদ যাচাই, নিরপেক্ষতা, পেশাগত সুনাম, বিশেষজ্ঞ দক্ষতা ও মধ্যস্থতার বাস্তব জ্ঞান, প্রমাণিত অভিজ্ঞতা, পরিষ্কার আইনি রেকর্ড, আর্থিক সততা, ঋণখেলাপি না থাকা এবং যথোপযুক্ত আর্থিক সক্ষমতা।

    নতুন নির্দেশনায় ব্যাংকগুলোকে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগে কঠোর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা ও সংঘর্ষ এড়াতে হলফনামা ও অঙ্গীকারপত্র গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া গ্রাহকদেরকে এসব মধ্যস্থতা সুবিধা সম্পর্কে সক্রিয়ভাবে অবহিত করার নির্দেশও দেয়া হয়েছে।

    বর্তমান সময়ে ব্যাংকখাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অনাদায়ী ঋণ থাকার পটভূমিতে এই একটি শতাংশ লক্ষ্যকে জাতীয় পর্যায়ের ঋণ পুনরুদ্ধার অভিযানের প্রথম ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে, আদালতের বাইরে দ্রুত সমঝোতার সুযোগ সৃষ্টি করে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার বিকল্প হিসেবে এ উদ্যোগ ব্যাংকগুলোর আর্থিক স্থিতি ও সার্বিক বাজারের স্থিতিশীলতা বাড়াতে সহায়ক হবে।

    এই নির্দেশনা ২০২৪ সালের ২২ মে জারি করা বিএরপিডি সার্কুলার নং-১১-এর ধারাবাহিকতা বজায় রেখে করা হলেও নতুন নীতিমালায় আদালতে মামলা দায়েরের আগেই বিরোধ নিষ্পত্তিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পর্যবেক্ষণ করবে।

  • খেলাপি ঋণ দ্রুত আদায়ে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক

    খেলাপি ঋণ দ্রুত আদায়ে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক

    বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি ঋণ সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে দক্ষ মধ্যস্থতাকারী (মিডিয়েটর) নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে। বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে একটি সার্কুলার জারি করে বলা হয়েছে, আদালতে মামলা দায়েরের আগে ‘প্রাক-মামলা মধ্যস্থতা’ পদ্ধতির মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগকে ত্বরান্বিত করতে হবে।

    সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে, তফসিলি ব্যাংকগুলোকে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) পদ্ধতির মাধ্যমে ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে মোট খেলাপি ঋণের অন্তত ১ শতাংশ নিষ্পত্তি করতে হবে। এই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয় ব্যাংক খাতের তারল্য ও আর্থিক স্থিতি উন্নয়নে নিয়ন্ত্রকের গুরুত্বকে প্রতিফলিত করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, এতে বিচার ব্যবস্থায় মামলার চাপ কমবে এবং অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩ ও দেউলিয়া আইন, ১৯৯৭-এর আওতায় পড়তে পারে এমন অনেক বিরোধ আদালতে যাওয়ার আগেই সমাধান সম্ভব হবে।

    নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মধ্যস্থতাকারীর নির্বাচন হবে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানগুলো দ্বারা গঠিত প্যানেলের মধ্য থেকে। এসব প্যানেলে থাকা যেতে পারে অবসরপ্রাপ্ত বিচারক, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও অন্যান্য অভিজ্ঞ পেশাজীবী।

    মধ্যস্থতাকারী নির্বাচনে যেসব যোগ্যতা ও অযোগ্যতার শর্ত রাখা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে—প্যানেল সদস্যপদ যাচাই, নিরপেক্ষতা ও পক্ষপাতহীনতা, পেশাগত সুনাম, উপযুক্ত দক্ষতা ও বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান, মধ্যস্থতা সংক্রান্ত প্রমাণিত অভিজ্ঞতা, পরিষ্কার আইনি রেকর্ড, আর্থিক সততা, ঋণখেলাপি নন-থাকা এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক সক্ষমতা। মোট দশটি শর্ত পূরণ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

    ব্যাংকগুলোকে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের ক্ষেত্রে কঠোর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার জন্য হলফনামা ও অঙ্গীকারপত্র গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রাহকদের মধ্যস্থতা সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে অবহিত করতে তফসিলি ব্যাংকগুলোর সক্রিয় ভূমিকা নেয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, আদালতের বাইরে দ্রুত সমঝোতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করে দীর্ঘমেয়াদি আইনি প্রক্রিয়ার বিকল্প একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি এটি জাতীয় পর্যায়ে ঋণ পুনরুদ্ধার কার্যক্রমকে শক্তিশালী করে ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা ও তাত্ক্ষণিকতার উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।