মহান শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে জামালপুরের বকশীগঞ্জে বগারচর ইউনিয়নের এক শহীদ স্মরণে ATV নেতাকর্মীরা বিশেষ আয়োজন করেছেন। তারা সংগঠনের নিষিদ্ধ ঘোষিত অবস্থানের মধ্যেই ভাষা শহীদদের জন্য দোয়া ও মাতৃভাষার মর্যাদার প্রতীক হিসেবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে সংগঠনের কার্যালয়ের সামনে ‘জয়বাংলা’ স্লোগান দিয়ে এই পতাকা উত্তোলনের ঘটনা ঘটে। এই অনুষ্ঠানে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে নেতাকর্মীরা মোনাজাত পরিচালনা করেন। পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ কাদির সাজু, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য রেজাউল করিম, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আইয়ুব আলী, তাঁতী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি নিয়ামত উল্লাহ সহ কিছু নেতাকর্মী। মনে রাখা প্রয়োজন, এই নেতাকর্মীরা এতদিন সংগঠনের নিষিদ্ধ ঘোষণার পক্ষে নানা কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। তবে পতাকা উত্তোলনের পরই সংগঠনের নেতাকর্মীরা দ্রুত মুহূর্তে সেখানে থেকে সটকে পড়েন। এই অনাকাঙ্খিত ঘটনার ফলস্বরূপ বগসারচর ইউনিয়নে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বকশিগঞ্জের গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক শাহরিয়ার আহমেদ সুমন। তিনি ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘আজ ভোরে বগারচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা পতাকা উত্তোলন ও নানা স্লোগান দেন। এই ঘটনা চিরকাল স্বীকার করতে হবে যে, এখনো কিছু দুর্নীতিপূর্ণ রাজনীতিবিদ ও নেতারা বিচার থেকে অব্যাহতি পেয়ে চলেছেন। পুলিশ অনেক বছর ধরে তাদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যক্রম নিচ্ছে না। তিনি আগামীর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপরাধী দোসরদের গ্রেফতার করার দাবি জানান, না হলে ছাত্রজনতা তা সম্পূর্ণভাবে উপযুক্ত জবাব দেবে বলে হুঁশিয়ারি দেন। স্থানীয়সহ বিভিন্ন মহলে এই ঘটনা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়, কিন্তু ওই সময় কথা বলা নেতাকর্মীরা পালিয়ে যান। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Blog
-

হৃদরোগে আক্রান্ত সেলিমা রহমান, হাসপাতালে ভর্তি
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী বেগম সেলিমা রহমান হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজে এই তথ্য জানানো হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সেলিমা রহমানের পরিবার এবং বিএনপির পক্ষ থেকে দেশবাসীর জন্য তার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করা হয়। সেলিমা রহমান ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তৎকালীন বিএনপি সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ভাইস-চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন সেলিমা রহমান, যার মধ্যে বেশ কয়েকবার কারাবরণও রয়েছে।
-

আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলায় সরকারের অনুমতি নেই: মির্জা ফখরুল
কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে দলের কার্যালয় খোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, যা নিয়ে নানা আলোচনা উঠে এসেছে। এ ব্যাপারে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, সরকারের অনুমতি ছাড়া এই কার্যালয় খোলার বিষয়টি তাদের অনুমোদন নেই। তিনি উল্লেখ করেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সরকারী বিভাগ দেখবে।
বৃহস্পতিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য দেন। এর আগে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর প্রথমবারের মতো দলীয় কার্যালয় ঘুরে দেখলেন মির্জা ফখরুল। এ সময় তিনি দলের প্রিয় নেতা ও সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতিচারণ করেন এবং তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, সারাদেশে আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার অনুমতি সরকার দেয়নি। কারণ, আইনগতভাবে তাদের কার্যক্রম এই সময়ে সাময়িক নিষিদ্ধ। তাই আমরা সেটি চাইনি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট বিভাগ বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবে।
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। তার নেতৃত্বে দেশের মানুষ নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, দল ও সরকার একসঙ্গে কাজ করে সফলতা অর্জন করবে।
সাংবাদিকদের কাছে গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধারে তারেক রহমানের নেতৃত্বের ভূমিকা অমর হয়ে থাকবে বলে দাবি করেন তিনি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কিছু প্রথাগত নিয়ম রয়েছে— সেগুলো শেষ হলে নির্বাচন সম্পন্ন হবে। দলের নারীদের মনোনয়নও দেওয়া হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা মুনির হোসেন, মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খানসহ আরও কিছু নেতা।
-

সারজিস আলম পেলেন নতুন দায়িত্ব
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে একটি নতুন কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং বর্তমান সদস্যসচিব সারজিস আলম। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি দ্রুতই কার্যক্রম শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন।
সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে এনসিপির দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মসংস্থান ও সংগঠন শক্তিশালী করতে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশে এই ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটি’ তৈরি করা হয়েছে।
কমিটিতে সদস্যসচিব হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ এর সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ। এছাড়াও, সদস্য হিসেবে থাকবেন আরিফুল ইসলাম আদীব, আলাউদ্দীন মোহাম্মদ, তাহসীন রিয়াজ এবং অ্যাডভোকেট মনজিলা ঝুমা। সব বিভাগের সংগঠনিক সম্পাদকরা এক্স-অফিসিও হিসেবে কমিটিতে থাকবেন এবং গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করবেন।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এই কমিটির কার্যক্রমে সবসময় সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান করবেন।
সারজিস আলম তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেন, ‘আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি—সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রার্থীদের জন্য। যারা প্রার্থী হতে চান, আপনারাও প্রস্তুত হয়ে যান। আমরা সবাই আপনাদের খুঁজে বের করব।’
আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনের জন্য এই দ্রুত কৌশলগত কার্যক্রম এবং প্রার্থী সন্ধানী উদ্যোগগুলো দলের প্রস্তুতিকে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে দলের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাতে জানা গেছে।
-

আসন্ন স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে এনসিপির প্রস্তুতি: এককভাবে প্রার্থী ঘোষণা, জোটের দরজা খোলা রাখছে দল
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কয়েকটি নগর ও সদর উপজেলা নির্বাচনে এককভাবে প্রার্থী ঘোষণা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে দলটির নেতাদের ইঙ্গিত, প্রয়োজন পড়লে দেশের স্বার্থে এবং জোটের অংশ হিসেবে শেষ মুহূর্তে জোটগতভাবে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে দলটির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা প্রকাশ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি ট্রাইবাল ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম জানান, দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও পৌরসভায় দলীয়ভাবে প্রাথমিক প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। ঈদ পরে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার ও যাচাই-বাছাই চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এখন পর্যন্ত দলটি এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করছে। তবে দলের উচ্চ পর্যায় থেকে বলা হচ্ছে, দেশের বৃহৎ স্বার্থে ১১ দলের জোট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শেষ মুহূর্তে একত্রিত হলে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
সারজিস আলম বলেন, ‘আমরা আশাকরি দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রত্যেক এলাকায় প্রার্থী ঘোষণা করব। এখনো সিদ্ধান্ত হলো যে, আমরা এককভাবে এই নির্বাচনে অংশ নিব। তবে শেষ মুহূর্তে পরিস্থিতি বিবেচনা করে ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে, সবকিছু স্বার্থে নির্ভর করে। আমাদের প্রত্যাশা, সাংগঠনিকভাবে কোনো সমস্যা হবে না।’
দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে আইন অনুযায়ী দলীয় মার্কা বা মনোনয়ন থাকছে না, সব প্রার্থী ব্যক্তিগতভাবে লড়বেন। তবে দলের সংগঠনের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা আমাদের মাধ্যমে যোগাযোগ করবেন। এসব নির্ধারণ করবে আমাদের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি।’
সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি ওয়ার্ড পর্যায় ও স্থানীয় নেতাদের নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়। বিভিন্ন পেশার স্বেচ্ছাসেবী ও আগ্রহী ব্যক্তিদেরও যোগাযোগের জন্য বলা হয়।
সারজিস আলম উল্লেখ করেন, মাসগুলো আগেই নির্বাচন প্রস্তুতি নেওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আগে থেকে কর্মসূচি শুরু করেছে এনসিপি।
অতিরিক্ত, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের ব্যাপারে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, প্রজ্ঞাপনে মেয়াদ উল্লেখ না থাকায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তিনি দাবি করেন, ১২টি সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষে গেছে এবং নির্বাচন আয়োজনের সময় যাওয়ার উপযুক্ত সময় অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। সেই জন্য তাঁরা দ্রুত সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি ঘোষণা করার দাবি জানান।
পাশাপাশি, সম্প্রতি পুলিশের অভিযান ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দলটি নিন্দা জানিয়েছে। দলের নেতারা বলেন, যৌক্তিক কারণে আন্দোলন ও মতপ্রকাশের অধিকার সাংবিধানিক স্বীকৃতি পায়, এটি যদি হ্রাস পায় বা দমন করা হয়, তাহলে তা সত্যিকারের গণতন্ত্রের জন্য হুমকি ডেকে আনবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও যোগ দেন স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব, দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মুখ্য সমন্বয়ক, এবং নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ, আলাউদ্দিন মোহাম্মদ, তাহসীন রিয়াজ ও মঞ্জিলা ঝুমা।
-

মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম অভিযোগের বিষয়ে মুখ খুললেন, চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। একই সঙ্গে তিনি এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ বা তথ্য দেখাতে না পারার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন। মঙ্গলবার এক লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি এ সব কথা বললেন।
বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, গতকাল এবং আজ বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একজন প্রসিকিউটরের বরাতে তাঁর সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য প্রচার করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি বলেন, এসব বক্তব্যের কোন ভিত্তি নেই এবং কোনো প্রমাণ দেখা যায়নি।
তাজুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাঁর ও প্রসিকিউশন দলের সব ধরনের পদক্ষেপ ছিল স্বচ্ছ ও আইনি। তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, বিচার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যা ষড়যন্ত্রের অংশ।
তিনি আরও জানান, পতিত স্বৈরাচার ও গণহত্যাকারীদের বিরুদ্ধে চলমান ও চলতীয় বিচারপ্রক্রিয়া থেকে দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য কিছু মহল সুপরিকল্পিতভাবে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে, যাতে বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়।
দায়িত্ব পালনকালে তিনি পরিষ্কারভাবে বলেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে কেউ কোনো প্রশ্ন তুলতে পারেনি। বিদায় নেওয়ার পর কিছু মহল গণহত্যাকারীদের সুবিধা দিতে বিনা ভিত্তিতে অভিযোগ তুলে বিচার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তাজুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের মিথ্যাচার ও অপপ্রচার থেকে সকল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সতর্ক থাকা দরকার। তিনি সবাইকে এই ধরণের অপপ্রচারের হাত থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ জানান।
উল্লেখ্য, সরকার ক্ষমতায় আসার পর কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন আনা হয়। এর অংশ হিসেবে গতকাল সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের পদ থেকে মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে সরিয়ে দিয়ে নতুন চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আমিনুল ইসলামকে।
-

বরিশালে আদালতভুক্ত আইনজীবীদের হট্টগোল ও অশান্তি
বরিশাল জেলা আদালতের অডিটোরিয়ামে ঘটে এক বেশ জটিল ও উত্তপ্ত ঘটনা, যেখানে আইনজীবীরা আদালতে ঢুকে মারাত্মক হট্টগোল ও ধাক্কাধাক্কি চালিয়েছেন। মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে আওয়ামী লীগের নেতাদের জামিনের ঘটনা, যা নিয়ে বিশদ আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া সেই ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, কিভাবে আদালতের ডেস্কে ও আদালতকক্ষে আইনজীবীরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন।
প্রতিবেদনে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও আদালত সূত্র বলছেন, তখন আদালত বলপ্রয়োগ ও উত্তেজনার মধ্য দিয়ে চলে যায়। এদিনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ করে দেন বিএনপি পন্থী আইনজীবীরা,কিন্তু পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়। সেই সময় তারা বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের সামনে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানান এবং বিচারক ও বিচারব্যবস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরীয়তউল্লাহ একজন মামলার শুনানি চলার সময়, আদালতের ভেজানো দরজা থেকে একজন আইনজীবী চিৎকার করে প্রবেশ করেন। তাঁর পেছনের আরও বেশ কয়েকজন আইনজীবী তাকে অনুসরণ করেন। তারা আদালত কক্ষে বেঞ্চগুলোতে আঘাত করে আইনগত কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করেন এবং বিচারকের সামনে গিয়ে অশোভন ভাষায় অভিযোগ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা বেঞ্চগুলো ধাক্কা দেয় এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
আইনজীবীদের সূত্র জানায়, প্রথম প্রবেশকারী আইনজীবী বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকন। তিনি জানান, আদালত থেকে ৩০-৪০ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে অপ্রত্যাশিতভাবে জামিন অনুমোদন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুসের জামিনে এক ধরনের দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। অবিশ্বাস্য হলেও এটা সত্যি।” তিনি আরও বলেন, ‘আমরা একাধিকবার জামিন বাতিলের জন্য আবেদন করবো এবং পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে চাই।’
অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজিব আহমেদ জানান, ‘ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা চলছে, আমি এখন আর বিস্তারিত বলতে পারছি না।’
প্রতিদ্বন্দ্বী দল ও আইনজীবীদের মধ্যে এই উত্তেজনার ঘটনা পাল্টা ক্ষোভ ও প্রতিবাদের জন্ম দিয়েছে। বরিশালের এই পরিস্থিতির মধ্যে, আদালত থেকে জামিনপ্রাপ্ত কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে ওঠা প্রশ্নে তদন্ত চলছে। উল্লেখ্য, এর আগে ১৭ ফেব্রয়ারি বরিশালের বেশ কিছু রাজনৈতিক নেতা ও সংগঠনের সদস্য জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন। তার মধ্যে রয়েছে, সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ, বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জসিম উদ্দিন ও যুবলীগের নেতা মাহমুদুল হক খান। এই ঘটনা আরও একটি বার্তা হিসেবে প্রতীয়মান হলো যে, বরিশালের বিচারব্যবস্থা ও রাজনৈতিক চলাচল কোথাও কোথাও অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। -

স্বার্থ রক্ষা হলে জাপানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি বজায় থাকবে: হুমায়ুন কবির
দায়িত্বের শেষ পর্যায়ে জাপানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করেছে সদ্য বিদায়ী সরকার। যদি এটি দেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তাহলে চুক্তিটি অব্যাহত থাকতে পারে বলে মনে করেন। তবে, যদি দেশের স্বার্থের বিপরীতে হয়, তাহলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের মুহূর্তে তিনি এসব কথা বলেন। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি। পরবর্তীতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার জাপানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা খাতে যে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, তা নিয়ে নতুন সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চাওয়া হয়। তিনি জানিয়েছেন, জাপানের রাষ্ট্রদূত স্বয়ং বলেছেন, সরকার অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে কী চুক্তি করেছে, তা দেখার পরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দেখব, অন্তর্বর্তী সরকার কী চুক্তি করেছে, সেটার ভিত্তিতে আমাদের সিদ্ধান্ত নেব। যদি দেশের স্বার্থে থাকে, তাহলে চুক্তি চালিয়ে যেতে পারে। আর যদি দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধ হয়, তবে বিবেচনা করে দেখব।’ তিনি সংযোজন করেন, ‘আমরা এখনো জানি না, অন্তর্বর্তী সরকার আমাদের জন্য কী রেখে গেছে। এজন্য এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়।’
জাপানের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়টি আমি পরিষ্কার ভাবে তুলে ধরেছি। চুক্তি যেন সুষ্ঠুভাবে চলতে পারে, সেটাও বলেছি।’ তিনি আরও জানিয়ে দেন, জাপান বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানোতে সহায়তা করবে। তিনি বলেন, ‘দক্ষ শ্রমিক সুবিধার্থে আমরা আলোচনা করেছি।’
রাষ্ট্রদূত আরও জানান, বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, ইন্দো-প্যাসিফিক নীতি, কৌশলগত অংশীদারিত্ব, মাতারবাড়ি প্রকল্পসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহাদি আমিন (প্রতিমন্ত্রীর সমমান), পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া।
-

নগদে বড় বিদেশি বিনিয়োগ আসছে, সমন্বয় করছেন ব্যারিস্টার আরমান
ডাক বিভাগের মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান নগদে বড় ধরনের বিদেশি বিনিয়োগের প্রক্রিয়া এখন চলছে, এবং এ বিষয়ে তিনি তার নিজস্ব দিক থেকে সমন্বয় কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রাথমিক যোগাযোগের অধিকাংশটাই তার মাধ্যমেই হচ্ছে।
মঙ্গলবার দুপুরে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে একটি জরুরী বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকে। এই বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের কাছে নিজের মতামত ব্যক্ত করেন।
ব্যারিস্টার আরমান জানান, প্রস্তাবিত বিনিয়োগকারীরা বিদেশী এবং তারা নগদে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বিনিয়োগে আগ্রহী। তিনি তাদের দেশের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে এই প্রক্রিয়ার সমন্বয় করছেন। বলেন, তারা যখন দেশে আসবে, তখন মূল আলোচনা শুরু হবে। তবে তিনি কোন দেশের বা কোন প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কাজ করছেন—এ বিষয়ে এখনো স্পষ্ট করেননি।
অপরদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, নগদের বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতি হলেও এটি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর জন্য বড় পরিমাণে বিনিয়োগ প্রয়োজন। তিনি বলেন, দেশের বা আন্তর্জাতিক উৎস থেকে যে কোনও বিনিয়োগ এলে তা স্বাগত জানানো হবে।
তিনি আরও বলেন, এক সময় নগদ বড় ধরনের সংকটে পড়েছিল। বিশাল গ্রাহকভিত্তির কথা বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি প্রশাসক দল নিয়োগ করেছিল। দীর্ঘ সময় তারা দায়িত্ব পালন করায় বিভিন্ন আর্থিক সূচক ও লেনদেনে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
তবে এসবই স্থায়ী সমাধান নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, নগদ বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান। এটি টিকিয়ে রাখতে না পারলে বাজারে একচেটিয়া পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যা গ্রাহকদের জন্য ক্ষতিকর হবে।
তিনি আরও জানান, অতীতে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্রের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঐ উদ্যোগের সঙ্গে একমত ছিল, তবে সরকারের অন্তর্বর্তী সময়ের কারণে তা চূড়ান্ত হয়নি। এখন নতুন সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের আলোকে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পাশাপাশি, নগদের মালিকানার সঙ্গে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের সম্পৃক্ততা থাকায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ব্যাপারে সরকারের মতামত জরুরি—এ বিষয়ে মুখপাত্র উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সরকারকে পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেবে।
উল্লেখ্য, নগদে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করে ইতোমধ্যে তিন থেকে চারটি আবেদন পাওয়া গেছে। এসব আবেদন একসঙ্গে মূল্যায়ন করে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
-

বাংলাদেশের শ্রমবাজার খুলতে উদ্যোগের ঘোষণা, প্রবাসী কল্যাণে নতুন পরিকল্পনা
সরকার মালয়েশিয়া, ওমানে এবং বাহরাইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজারগুলো পুনরায় চালুর জন্য সক্রিয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর লক্ষ্য হলো আগামী তিন মাসের মধ্যে অন্তত দুইটি বন্ধ হয়ে যাওয়া শ্রমবাজার খুলে দেওয়া এবং শ্রম বাজারগুলি পুনরূদ্ধার করা। পাশাপাশি, অভিবাসন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি প্রতারক রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর এ কথা জানান। তিনি বলেন, অভিবাসন ব্যয় নির্দিষ্ট করতে, প্রতারণার সঙ্গে জড়িত রিক্রুটিং এজেন্সির নিবন্ধন স্থগিত করতে এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ বা সীমিত থাকায় শ্রমবাজারগুলো দ্রুত চালুর লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে অন্তত একটি বা দুটি শ্রমবাজার পুনরায় চালু করা হবে। একইসঙ্গে, কিছু দেশের জন্য অভিবাসন ব্যয় নির্ধারণ করে কার্যকর করার প্রক্রিয়া চলছে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশে প্রায় তিন হাজার রিক্রুটিং এজেন্সি লাইসেন্সকর্তা রয়েছেন, কিন্তু অনেকেই সঠিকভাবে কাজ করছে না। সাব-এজেন্সির মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার শিকার করা হচ্ছে এবং ফলে দেশের আন্তর্জাতিক চিত্রের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সেই সঙ্গে, যেসব এজেন্সির বিরুদ্ধে প্রতারণা বা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়, তাদের নিবন্ধনও স্থগিত করা হবে।
শ্রমবাজার খোলার বিষয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতি জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়া সরকারের ১০টি শর্ত পূরণের জন্য সক্ষম রিক্রুটিং এজেন্সি ও কোম্পানির তালিকা পাঠানো হয়েছে। এখন এই বিষয়টি কূটনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে পর্যবেক্ষণে রয়েছে। এ ছাড়াও, বাংলাদেশি দূতাবাসগুলোতে লেবার উইং বাড়ানোর জন্য আলোচনা চলমান।
অন্যদিকে, জাপানে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বললেন, বাংলাদেশ থেকে আগামী পাঁচ বছরে এক লাখ শ্রমিক পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর জন্য সরকারি প্রশিক্ষণ ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পরিকল্পনাটি এক লাখের বেশি কর্মী পাঠানোর দিকে এগোচ্ছে এবং সরকার সেটি ১০ লাখে উন্নীত করার চিন্তাভাবনা করছে।
প্রবাসীদের কল্যাণে নতুন উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে, বিদেশে মারা যাওয়া শ্রমিকদের মরদেহ রাষ্ট্রীয় খরচে দেশে আনার ব্যবস্থা পুনরায় চালুর আলোচনা। আরও দুটি নতুন ফ্রিজিং গাড়ি যোগ হয়ে গেছে, যা মরদেহ পাঠানোর জন্য ব্যবহৃত হবে।
অপরদিকে, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত তিন লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হয়, যা সম্ভবত বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে অভিবাসন ব্যয় অনেক ক্ষেত্রে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত হয়ে যায়, যা আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এজন্যই এই ব্যয় হ্রাস করে একটি সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসার লক্ষ্য রয়েছে।
মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ জার্নালিস্টস এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি পার্থ সারথি দাস, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রায়হানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
