Blog

  • আইসিসি শাস্তি দিলো নাহিদা আক্তার ও সারমিন সুলতানাকে

    আইসিসি শাস্তি দিলো নাহিদা আক্তার ও সারমিন সুলতানাকে

    আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের দুজন খেলোয়াড়—নাহিদা আক্তার ও সারমিন সুলতানাকে শাস্তি দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। দুজনকেই ম্যাচ ফি’র ১০ শতাংশ জরিমানার পাশাপাশি প্রত্যেকের নামের পাশে একটি করে ডিমেরিট পয়েন্ট যুক্ত করা হয়েছে।

    আইসিসির ছাপানো বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নাহিদা আচরণবিধির ২.৫ ধারা ভঙ্গ করেছেন; যার মধ্যে আসে আউট হওয়া কোনো ব্যাটারকে উদ্দেশ্য করে অবমাননাকর ভাষা, আচরণ বা অঙ্গভঙ্গি করা। অপরদিকে সারমিন ২.৮ ধারা ভঙ্গ করেছেন, যা আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশের সঙ্গে সম্পর্কিত।

    ঘটনা ঘটেছে রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলার সময়। সফরকারীদের ইনিংসের ১৭তম ওভারে বাংলাদেশি কিপার-ব্যাটসম্যান চামারি আতাপাত্তু আউট হলে নাহিদা তাঁকে প্যাভিলিয়নের দিকে ইঙ্গিত করে বিদায় জানান—যা আইসিসি বিবেচনায় অনুচিত আচরণ হিসেবে ধরা হয়েছে। এদিকে বাংলাদেশ ইনিংসের ১৬তম ওভারে একটি এলবিডব্লিউ সিদ্ধান্তের পর সারমিন ব্যাট দেখিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং অপেক্ষাকৃত দেরিতে মাঠ ছাড়েন।

    দুই ক্রিকেটারই তাদের দোষ স্বীকার করেছেন এবং আইসিসির আন্তর্জাতিক ম্যাচ রেফারি প্যানেলের সদস্য সুপ্রিয়া রানি দাসের প্রস্তাবিত শাস্তি মেনে নিয়েছেন; তাই অফিসিয়াল শুনানির প্রয়োজন পড়েনি। অভিযোগগুলোর সূচনা করেছিলেন ম্যাচের অন-ফিল্ড আম্পায়ার এলয়িস শেরিডান ও রোকেয়া সুলতানা, তৃতীয় আম্পায়ার হিসেবে ছিলেন ডলি রানি সরকার এবং চতুর্থ আম্পায়ার ছিলেন শাথিরা জাকির জেসি।

    দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কা চার উইকেটে জয় তুলে নিয়ে সিরিজে সমতা ফিরিয়ে আনে। প্রথম ওয়ানডেতে তিন উইকেটে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। দুই ম্যাচে ১-১ হওয়ার ফলে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি এখন নির্ধারণী ম্যাচ হিসেবে দাঁড়িয়েছে—ট্রফি জয়ের লড়াই নিয়ে আজ মাঠে নামছে দুদল।

  • ফাইনাল টিকিটের দাম আকাশছোঁয়া: একটির শেডা প্রায় ২৫.৬ কোটি টাকা

    ফাইনাল টিকিটের দাম আকাশছোঁয়া: একটির শেডা প্রায় ২৫.৬ কোটি টাকা

    কয়েক দিনের মধ্যেই মাঠে গড়াবে ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬—তাই উন্মাদনায় কেঁপে উঠেছে ভক্তেরা। তবে ফাইনাল ম্যাচের কিছু টিকিটের দাম শুনে চোখ কপালে ওঠার মতো: আগামী ১৯ জুলাই মেটলাইফ স্টেডিয়ামের গোলপোস্টের ঠিক পেছনের ‘ক্যাটাগরি-১’ আসনের একটি টিকিট পুনর্বিক্রয়ে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে ২,২৯৯,৯৯৮.৮৫ মার্কিন ডলারে—বাংলা টাকায় প্রায় ২৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা। একই ক্যাটাগরির চারটি আসন একসঙ্গে পেতে কয়েক বন্ধু মিলালেও খরচ দাঁড়াবে ১০০ কোটি টাকারও বেশি।

    রোববার প্রকাশিত তালিকায় আরও একটি টিকিট দেখা গেছে একই দামে (২,২৯৯,৯৯৮.৮৫ ডলার); তবে সেটি ‘ক্যাটাগরি-৩’-এর, যা স্টেডিয়ামের ওপরের ডেকে গোলপোস্টের পেছনে অবস্থিত। বিপরীতে, ক্যাটাগরি-১-এর ওই চারটির ঠিক দুই সারি সামনের আসনগুলো পুনর্বিক্রয়ে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র কিছু বেশি অর্থ—প্রায় ১৬ হাজার ডলার। এমনকি মাঠের আরও কাছের কিছু টিকিটও বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২৪ হাজার ডলারে।

    এসবে দেখা যাচ্ছে, এগুলো ফিফার নিজস্ব টিকিট পুনর্বিক্রয় ওয়েবসাইট ‘রিসেল মার্কেটপ্লেস’-এ তালিকাভুক্ত। এটি একটি অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্ম যেখানে টিকিটধারীরা তাদের টিকিট অন্যদের কাছে বিক্রি করতে পারেন; তবে প্ল্যাটফর্মে পুনর্বিক্রয়ের দাম নির্ধারণে ফিফার নিয়ন্ত্রণ নেই—বিক্রেতারা নিজেদের মতোই দাম ঠিক করেন। প্রতিটি লেনদেন থেকে ফিফা ক্রেতা ও বিক্রেতা—উভয়ের কাছ থেকে ১৫ শতাংশ করে কমিশন কেটে নেয়।

    ফিফার এক মুখপাত্র সিএনএন স্পোর্টসকে বলেছেন, “ফিফার রিসেল মার্কেটপ্লেস সমর্থকদের জন্য নিরাপদ, স্বচ্ছ ও সুরক্ষিত পরিবেশে টিকিট কেনাবেচার সুযোগ করে দেয়। এখানে প্রযোজ্য ফি উত্তর আমেরিকার ক্রীড়া ও বিনোদন খাতের প্রচলিত নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।” প্ল্যাটফর্মটি কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক ভক্তদের জন্য উন্মুক্ত থাকলেও স্থানীয় আইনের কারণে মেক্সিকোর নাগরিকরা এখানে গায়ের দামের চেয়ে বেশি মূল্য দাবিতে তালিকাভুক্ত করতে পারবেন না।

    বর্তমান তালিকায় ফাইনাল ম্যাচের সাধারণ টিকিটের সবচেয়ে নিন্ম পুনর্বিক্রয় মূল্য প্রায় ১১ হাজার ডলার, আর হুইলচেয়ার ব্যবহাকারীদের জন্য সংরক্ষিত টিকিটের ন্যূনতম মূল্য দেখা গেছে প্রায় ১৫ হাজার ডলারে। পাশাপাশি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, ফিফা সম্প্রতি তাদের অফিসিয়াল সাইটে ফাইনালের নতুন কিছু টিকিট ছাড়া হয়েছিলো—এসবের প্রতি টিকিটের মূল্য রাখা হয়েছিল ১০,৯৯০ ডলার।

    ফিফা বলছে, টিকিটের দাম ও ক্যাটাগরি নির্ধারণ করা হয়েছে বাজারের চাহিদা বিবেচনায়; টিকিটগুলো বিভিন্ন ধাপে ছাড়ার সময় সবচেয়ে সাশ্রয়ী ‘ক্যাটাগরি-৪’ এবং অংশগ্রহণকারী দেশগুলোকে বরাদ্দ করে প্রতিটি ম্যাচেই অন্তত ১,০০০টি টিকিট রাখা হয়েছে মাত্র ৬০ ডলারে। তবু ইতিহাসে সবচেয়ে ‘সাশ্রয়ী’ বিশ্বকাপ হিসেবে এ আয়োজনের ঘোষণা থাকা সত্ত্বেও পুনর্বিক্রয় বাজারে দেখা এমন আকাশছোঁয়া দর সাধারণ দর্শকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে—বিশেষত টিকিট ছাড়াও ভ্রমণ, থাকার খরচ বেড়ে যাওয়া নিয়ে।

    উচ্চমূল্যের টিকিট বিক্রির সমালোচনার মাঝেই ফিফা বারবার উল্লেখ করেছে যে সংগঠনটি অলাভজনক এবং এই আয় ফুটবলের উন্নয়নে পুনরায় বিনিয়োগ করা হবে। তবু ভক্তদের কাছে চূড়ান্ত প্রশ্ন রয়ে গেছে: সুখবরটি কি হবে কেবল অনেকেই যে কদাচিৎই টিকিট পৌঁছে দিতে পারবে, নাকি টিকিটের ন্যায্যতা ও সাশ্রয়িতা সকলের জন্য নিশ্চিত করা যাবে?

  • ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই হেরে মারা গেলেন তারিকুজ্জামান তপন

    ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই হেরে মারা গেলেন তারিকুজ্জামান তপন

    ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন — টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা তারিকুজ্জামান তপন আর নেই।

    শুক্রবার রাত সাড়ে আটটার দিকে দীর্ঘদিনের ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। অভিনেতার প্রয়াণের খবর ‘‘অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ’’ এর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে জানানো হয়। সংঘের শোকবার্তায় বলা হয়েছে, সংগঠনের সম্মানিত সদস্য ও প্রিয় সহকর্মী তপন আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন; সংগঠন তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেছে এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছে।

    পরিবার সূত্রে জানা যায়, তপন দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন। গত ডিসেম্বর মাসে তাঁর খাদ্যনালিতে ক্যান্সার ধরা পড়ে এবং চিকিৎসক জানিয়েছিলেন রোগটি চতুর্থ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এর মধ্যে তিনি তিন দফা কেমোথেরাপি সম্পন্ন করেছিলেন।

    সাম্প্রতিক সময়ে শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অভিনেতার ছেলে তাছফিক।

    দীর্ঘ কর্মজীবনে তারিকুজ্জামান তপন টেলিভিশন নাটক ও চলচ্চিত্রে বিশেষ করে কৌতুক চরিত্রে দর্শকপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। ‘আলতা বানু’, ‘ঠিকানা’, ‘জোড়া শালিক’, ‘হাতছানি’সহ অসংখ্য নাটক ও সিনেমায় তার অভিনয় মানুষ মনে রেখেছে। তাঁর প্রয়াণে বিনোদন অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সকল প্রত্যাশা থাকল—ইন্নালিল্লাহি—তার আত্মার শান্তি কামনা করি এবং শোকগ্রস্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।

  • ফ্রান্সের নিকন স্বল্পদৈর্ঘ্য উৎসবে একমাত্র বাংলাদেশি সিলেকশন: সিনেমা ‘আনসিন’

    ফ্রান্সের নিকন স্বল্পদৈর্ঘ্য উৎসবে একমাত্র বাংলাদেশি সিলেকশন: সিনেমা ‘আনসিন’

    ফ্রান্সের জনপ্রিয় স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতা নিকন চলচ্চিত্র উৎসবের ১৬তম আসরে একমাত্র বাংলাদেশি সিনেমা হিসেবে অফিসিয়াল সিলেকশন পেয়েছে নির্মাতা সৈয়দ সাহিলের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘আনসিন’।

    বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে জমা পড়া প্রায় ছয় হাজার চলচ্চিত্রের মধ্যে প্রথম ধাপে প্রায় ২ হাজার ৫১১টি সিনেমার শর্টলিস্টে থাকায় জায়গা করে নেয় ‘আনসিন’। পরে উৎসবের জন্য এসব চলচ্চিত্র দর্শকভোটে তোলা হলে ব্যাপক সমর্থনের ফলে মোট ১ হাজার ১৫৮টি শর্ট ফিল্মের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে এই সিনেমা।

    এবারের উৎসবের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘বিউটি’ বা সৌন্দর্য। নির্মাতা সৈয়দ সাহিল তাঁর ছবিতে প্রচলিত দৃশ্যমান সৌন্দর্যের বাইরে থাকা মানবিক অভিব্যক্তি, অনুভূতি ও অদৃশ্য বাস্তবতাকে তুলে ধরেছেন। নির্মাতার কথায়, ‘আনসিন’-এর মাধ্যমে এমন এক সৌন্দর্য খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা চোখে দেখা যায় না — সেই অনুভূতিগুলো যেগুলো আমরা প্রায়ই উপেক্ষা করে চলি এবং যেসব মানুষকে আমরা প্রকৃত অর্থে দেখতে পাই না।

    প্যারিসে নির্মিত ছবিটি সম্পূর্ণ ফরাসি সংলাপে হওয়া সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক দর্শকদের জন্য ইংরেজি সাবটাইটেল যুক্ত করা হয়েছে। চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেছেন সাবরিনা ইসলাম। এতে অভিনয় করেছেন ফরাসি শিল্পী জঁ-লুক জ্যাকো, জুলিয়েট পিরোত্তে, এলিজাবেথ সেলেম এবং বাংলাদেশি অভিনেতা ইমতিয়াজ রনি।

    জানা গেছে, বর্তমানে ‘আনসিন’ ইউরোপের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে জমা দেওয়া হয়েছে এবং আরও প্রেক্ষাগৃহে পরিচিতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • ২০২৫ সালে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় দেড় কোটিরও বেশি মানুষ

    ২০২৫ সালে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় দেড় কোটিরও বেশি মানুষ

    জাতিসংঘের সমর্থিত ‘গ্লোবাল রিপোর্ট অন ফুড ক্রাইসিস’–এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকটে থাকা মানুষের দুই-তৃতীয়াংশ মাত্র ১০টি দেশে concentrated—তার মধ্যে বাংলাদেশের নামও আছে। শুক্রবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে এই তথ্য উপস্থাপিত হয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় থাকা মানুষের বড় অংশ আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, মিয়ানমার, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া ও ইয়েমেনে অবস্থান করছিল। এর মধ্যে শুধুমাত্র সুদান, নাইজেরিয়া ও কঙ্গো—এই তিন দেশেই মোট আক্রান্ত মানুষের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ রয়েছে।

    সামগ্রিকভাবে ২০২৫ সালে বিশ্বে প্রায় ২৬ কোটি ৬০ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছে, যা ২০১৬ সালের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। বিশ্লেষকরা বলছেন চলমান সংঘাত ও চরম জলবায়ু ঘটনার কারণে খাদ্য সঙ্কটও এতটাও জটিল ও বিস্তৃত হয়েছে।

    প্রতিবেদন সতর্ক করে যে ২০২৬ সালে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির সম্ভাবনা সীমিত; অনেক দেশে সংকট আরও গভীর হতে পারে। চলমান যুদ্ধ, অস্থিতিশীলতা ও সরবরাহ শৃঙ্খলের বিঘœত ছাড়াও আন্তর্জাতিক অনুদান কমে যাওয়ার আশঙ্কা সমস্যা বাড়াচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

    তথ্য অনুযায়ী, কিছু দেশে—যেমন বাংলাদেশ ও সিরিয়ায়—কিছু প্রগতি লক্ষ্য করা গেলেও আফগানিস্তান, কঙ্গো ও মিয়ানমারে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে গিয়েছে। আন্তর্জাতিক সহায়তার সংকোচন অনেক দুর্বল জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রায় সরাসরি প্রভাব ফেলবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।

    জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের প্রধান আলভারো লারিও সংবাদমাধ্যমে বলেন, রোপণের মৌসুমে জ্বালানি ও সারের দাম বাড়লে খাদ্য উৎপাদন সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি স্থানীয়ভাবে সার উৎপাদন বাড়ানো, মাটির উর্বরতা উন্নত করা এবং জলবায়ু সহনশীল ফসলের দিকে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর জোর দেন।

    সংক্ষিপ্তভাবে, প্রতিবেদনটি সতর্ক করছে যে সংঘাত ও জলবায়ু ঝুঁকি কমিয়ে আনতে ও স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে দ্রুত ও সমন্বিত সহায়তা প্রয়োজন।

    সূত্র: এএফপি।

  • ঢাকা থেকে ৭ বিভাগীয় শহরের বাসভাড়া বেড়েছে — নতুন ভাড়া কত হয়েছে?

    ঢাকা থেকে ৭ বিভাগীয় শহরের বাসভাড়া বেড়েছে — নতুন ভাড়া কত হয়েছে?

    সরকার জ্বালানি তেলের দামের সঙ্গে সমন্বয় করে দূরপাল্লার বাসভাড়া বাড়িয়েছে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনে প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ১১ পয়সা করে বাড়িয়ে তা ২.২৩ টাকা করেছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নতুন ভাড়া টোলসহ সাবধানে নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বিআরটিএ ৪০ সিটের বাসের ভাড়া নিরূপণের জন্য যে সূত্রটি ব্যবহার করে তা হলো: (প্রতি কিলোমিটার ভাড়া × দূরত্ব × ৫১) ÷ ৪০। রুটভিত্তিক দূরত্ব নির্ধারণে রোডসেন, সেতু কর্তৃপক্ষ, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন এবং সওজের দেওয়া তথ্য অনুসরণ করা হয়েছে।

    নতুন ঘোষিত ভাড়ায় ঢাকা থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রুটের পরিবর্তনগুলো হলো —

    – ঢাকা (গাবতলী) — পঞ্চগড় (রুট-৯৩), দূরত্ব ৪২৪ কিমি: আগে ভাড়া ছিল ১,১৮০ টাকা। ৬০ টাকা বাড়িয়ে নতুন ভাড়া হয়েছে ১,২৪০ টাকা।

    – ঢাকা (সায়দাবাদ) — টেকনাফ (রুট-৫০), দূরত্ব ৪৬২ কিমি: আগে ভাড়া ছিল ১,২৭০ টাকা। ৬৫ টাকা বাড়িয়ে নতুন ভাড়া হয়েছে ১,৩৩৫ টাকা।

    – ঢাকা (সায়দাবাদ) — চট্টগ্রাম (রুট-৪৮), দূরত্ব ২৪২ কিমি: আগে ভাড়া ছিল ৬৭০ টাকা। ৩৪ টাকা বাড়িয়ে নতুন ভাড়া ৭০৪ টাকা।

    – ঢাকা (গাবতলী) — রাজশাহী (রুট-৮২), দূরত্ব ২৪৭ কিমি: আগে ছিল ৭০০ টাকা। ৩৮ টাকা বাড়িয়ে নতুন ভাড়া ৭৩৮ টাকা।

    – ঢাকা (সায়দাবাদ) — খুলনা (রুট-৯৬), দূরত্ব ২০৫ কিমি: আগে ছিল ৬৫০ টাকা। ৩০ টাকা বাড়িয়ে নতুন ভাড়া ৬৮০ টাকা।

    – ঢাকা (সায়দাবাদ) — বরিশাল (রুট-৩৫), দূরত্ব ১৭১ কিমি: আগে ছিল ৫৬৫ টাকা। ২৬ টাকা বাড়িয়ে নতুন ভাড়া ৫৯১ টাকা।

    – ঢাকা (সায়দাবাদ) — সিলেট (রুট-৫৭), দূরত্ব ২৫৭ কিমি: আগে ছিল ৭০০ টাকা। ৪০ টাকা বাড়িয়ে নতুন ভাড়া ৭৪০ টাকা।

    – ঢাকা (গাবতলী) — রংপুর (রুট-৮৮), দূরত্ব ৩০৮ কিমি: আগে ছিল ৮৭০ টাকা। ৪১ টাকা বাড়িয়ে নতুন ভাড়া ৯১১ টাকা।

    – ঢাকা (মহাখালী) — ময়মনসিংহ (রুট-১৫), দূরত্ব ১১৬ কিমি: আগে ছিল ৩১৫ টাকা। ১৫ টাকা বাড়িয়ে নতুন ভাড়া ৩৩০ টাকা।

    এ ছাড়াও যে রুটগুলোতে ভাড়া বাড়তি পরিবর্তন হয়েছে —

    – ঢাকা (সায়দাবাদ) — কক্সবাজার (রুট-৪৯), দূরত্ব ৩৯৬ কিমি: আগে ভাড়া ছিল ১,০৯০ টাকা। ৫৭ টাকা বাড়িয়ে নতুন ভাড়া ১,১৪৭ টাকা।

    – ঢাকা (সায়দাবাদ) — কুমিল্লা (রুট-১৮), দূরত্ব ১০২ কিমি: আগে ছিল ২৯০ টাকা। ১৬ টাকা বাড়িয়ে নতুন ভাড়া ৩০৬ টাকা।

    – ঢাকা (গাবতলী) — বগুড়া (রুট-৮৪), দূরত্ব ১৯১ কিমি: আগে ছিল ৫৫০ টাকা। ২৮ টাকা বাড়িয়ে নতুন ভাড়া ৫৭৮ টাকা।

    – দিনাজপুর — টেকনাফ (অন্যান্য রুট-১৬৮), দূরত্ব ৮৪৪ কিমি: আগে ছিল ২,৩৪০ টাকা। ১১৭ টাকা বাড়িয়ে নতুন ভাড়া ২,৪৫৭ টাকা।

    বিআরটিএর গত বছরের (২০২৫ সালের মে) হিসাব এবং সড়ক পরিকাঠামোর তথ্যের ভিত্তিতেই এই ভাড়া হালনাগাদ করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, উল্লিখিত প্রতিটি ভাড়া টোলসহ আদায়যোগ্য। যাত্রীদের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনায় ভবিষ্যতে আরও সমন্বয় হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

  • পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও জ্বালানি সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছে: মির্জা ফখরুল

    পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও জ্বালানি সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছে: মির্জা ফখরুল

    ঠাকুরগাঁও: পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও দেশে জ্বালানি সংকট তৈরি করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে ঠাকুরগাঁও শহরের মির্জা রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ঢেউটিন, চেক ও বরাদ্দপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক সংঘটিত পরিস্থিতি—ইরান ও আমেরিকা ও ইসরায়েলের মধ্যে বিবাদ—বিশ্বরাজনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এবং বাংলাদেশেও তার ছায়া পড়েছে। তিনি বলেন, “এ অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা বেড়েছে এবং ফলশ্রুতিতে জ্বালানি তেলের দাম উঠে গেছে; কিন্তু স্থানীয়ভাবে যে তেল সংকট দেখা দিচ্ছে, সেটা সরবরাহ কম হওয়ার কারণে নয়, কিছু ক্ষেত্রে সৃষ্টি করা হচ্ছে।”

    তিনি আরও বলেন, পেট্রোল পাম্পগুলোর সামনে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি চোখে পড়ে। এই ভোগান্তি একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। অনেকেই এখানে তেল কেটে নিয়ে কালোবাজারে বিক্রি করছে—এ ধরনের অনৈতিক ব্যবসা দেশের স্বার্থের বিরোধী। “আমি ডিসি সাহেবকে বলেছি—এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে, আর যারা দুর্নীতির মাধ্যমে তেল বিক্রি করে লেনদেন করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে,” বলেন ফখরুল।

    মির্জা ফখরুল তেল সংকটের পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নানা নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, সরকারের এসব কাজ মানুষের জীবনযাত্রা বদলাতে এবং দেশকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে কাজ করবে।

    কৃষি ও জলবায়ু ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করে মির্জা ফখরুল বলেন, কৃষকরা যাতে সঠিকভাবে পানি পান করতে পারে সে লক্ষ্য নিয়ে খাল খনন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে এবং কাজ চলমান আছে। এছাড়া কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের উদ্যোগ চলছে। তিনি বলেন, বিএনপি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করে যাচ্ছে।

    অনুষ্ঠানে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, জেলা বিএনপির সভাপতি ফয়সাল আমীন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ সরকারি কর্মকর্তারা ও রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানে ঘূর্ণিঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত ৭১০টি পরিবারের প্রতিটি পরিবারকে এক বান করে ঢেউটিন ও নগদ পাঁচ হাজার টাকা করে বিতরণ করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য মোট ২৯৪টি প্রকল্পের মাধ্যমে ১৪ কোটি ৭০ লাখ টাকার চেক ও বরাদ্দপত্র প্রদান করা হয়েছে।

  • ইসহাক সরকার, মহিউদ্দিন রনি ও নুরুজ্জামান কাফি এনসিপিতে যোগ দিলেন

    ইসহাক সরকার, মহিউদ্দিন রনি ও নুরুজ্জামান কাফি এনসিপিতে যোগ দিলেন

    বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ইসহাক সরকার, সোশ্যাল অ্যাকটিভিস্ট মহিউদ্দিন রনি ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তে যোগ দিয়েছেন।

    শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় সদস্যপদ গ্রহণ করেন। এ সময় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা ফুল দিয়ে তাদের বরণ করেন ও সংক্ষিপ্ত পরিচিতি বৈঠক করেন।

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ইসহাক সরকারকে দলের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্বে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তাকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। এ প্রেক্ষাপটে বর্তমান আহ্বায়ক আলাউদ্দিন মোহাম্মদের পদত্যাগের সম্ভাব্যতা নিয়েও দলের মধ্যে কথাবার্তা চলছে।

    ইসহাক সরকার ছাত্রদল এবং যুবদলে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন। আওয়ামী লীগ শাসনামলে বিএনপির আন্দোলনে সক্রিয়তার কারণে তার বিরুদ্ধে আনা হয়েছিল কয়েকশ মামলার অভিযোগ; পরে কিছু মামলায় আদালত খালাস দিয়েছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসনের জন্য বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ফলে দল থেকে বহিষ্কার হন।

    একই অনুষ্ঠানে মহিউদ্দিন রনি এবং নুরুজ্জামান কাফিও আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দেন। রেল খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীরূপে পরিচিত রনি ইতোমধ্যে জনমত তৈরি করেছেন। নুরুজ্জামান কাফি সামাজিক সচেতনতামূলক ভিডিও ও কনটেন্টের মাধ্যমে সমালোচনায় এবং জনসংযোগে সক্রিয় পরিচয় গড়েছেন।

    দলটির নেতারা মনে করেন, এ নতুন সংযুক্তি এনসিপির সাংগঠনিক শক্তি ও জনসংযোগ আরও জোরদার করবে। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, দলীয় কর্মকাণ্ডে এই তিনজনের ভূমিকা দলের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

  • ২৮ দিনে নয় — ২২ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ২.৪২ বিলিয়ন ডলার

    ২৮ দিনে নয় — ২২ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ২.৪২ বিলিয়ন ডলার

    রেমিট্যান্স প্রবাহের ইতিবাচক ধারা এপ্রিলেও অব্যাহত রইল। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ মাসের প্রথম ২২ দিনে প্রবাসীরা মোট ২.৪২ বিলিয়ন (২৪১ কোটি ৭০ লাখ) মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন। বর্তমান বাজারদর প্রতি ডলারে ১২২ টাকা ধরে এটির মূল‍্য দাঁড়ায় প্রায় ২৯ হাজার ৪৮৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

    বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জানানো হয়েছে, গত বছরের একই সময়ে সেই পরিমাণ ছিল ২০৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার। এতে,今年 একই সময়ের তুলনায় এ বছর ৩৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার বেশি এসেছে, যা টাকায় প্রায় ৪ হাজার ৪৪০ কোটি ৮০ লাখ টাকার সমতুল্য।

    এর আগে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় রেকর্ড করা হয় চলতি বছরের মার্চে, তখন দেশে এসেছে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছিল গত বছরের মার্চে (৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার), তৃতীয় সর্বোচ্চ ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে (৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার) এবং চতুর্থ সর্বোচ্চ ছিল চলতি বছরের জানুয়ারি (৩১৭ কোটি ডলার)।

    অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও তার প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্ত অবস্থানে রাখার মাধ্যমে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।

    রেমিট্যান্স প্রবাহের স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে কি না—এটি বড়োভাবে নির্ভর করছে ভবিষ্যতে বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।

  • জ্বালানি উদ্বেগে স্থগিত পোশাক খাতের নতুন অর্ডার, বাড়ছে রপ্তানির আতঙ্ক

    জ্বালানি উদ্বেগে স্থগিত পোশাক খাতের নতুন অর্ডার, বাড়ছে রপ্তানির আতঙ্ক

    দেশে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় বিদেশি ক্রেতারা নতুন ক্রয়াদেশ স্থগিত রাখছেন — জানিয়েছেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম (পারভেজ) চৌধুরী।

    বৃহস্পতিবার নয়, বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি উল্লেখ করেন, আগামী দুই থেকে তিন মাসে জ্বালানি ও বিদ্যুতের পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে ধারণা। এই ভয়ের প্রেক্ষিতে অনেক বিদেশি ক্রেতা বাংলাদেশে নতুন অর্ডার দিতে এখন সতর্কতা অবলম্বন করছেন। ফলে তৈরি পোশাক খাতসহ দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী শিল্পগুলো বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

    আনোয়ার-উল আলম বলেন, বিশ্ববাজারে অস্থিরতা ও দেশের বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ করে জুলাই ও আগস্ট মাসের সম্ভাব্য অর্ডারগুলোর গতিধীরে পড়া শুরু করেছে। কিছু বড় ক্রেতা নেতিবাচক সিগন্যাল দিচ্ছে এবং অংশ নিয়ে অর্ডার ভারতসহ অন্য দেশে স্থানান্তরের প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে। ঢাকায় অবস্থানকারী ক্রেতা অফিসগুলো পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও তাদের শীর্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী পর্যায় নতুন অর্ডার দেওয়ার বিষয়ে পিছু হটছেন, তিনি যোগ করেন।

    বিসিআই সভাপতি বর্তমান কর কাঠামোকে ব্যবসাবান্ধব নয় বলে উল্লেখ করে বলেন, লাভ-লোকসানের উপর বিবেচনা না করে এক শতাংশ হারে ন্যূনতম কর পরিশোধের বাধ্যবাধকতা অনেক প্রতিষ্ঠানের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। বিশেষত ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তারা এ থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন; অনেক ক্ষেত্রেই মুনাফা না থাকলেও কর দিতে হচ্ছে, যা তাদের জন্য টিকে থাকা কঠিন করে তুলছে। তিনি ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস এবং রপ্তানি আয় থেকে উৎস কর কমানোর আবেদন জানান।

    তবে উৎস কর কমানোর প্রস্তাবকে নাকচ করেন এনবিআর চেয়ারম্যান মোঃ আবদুর রহমান খান। আর আয়কর আইন ২০২৩-এর ১৪৭ ধারা প্রসঙ্গে আনোয়ার-উল আলম সতর্ক করে বলেন, কর যাচাইয়ের নামে প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার সিস্টেম ও নথি জব্দ করার অনির্দিষ্ট ক্ষমতা ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে এবং পরিবেশে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে।

    প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) দাবি জানায় ব্যাংক আমানতের মুনাফার ওপর আরোপিত উৎস কর ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা এবং নিট সম্পদের ওপর আরোপিত সারচার্জ ধাপে ধাপে বাতিল করার প্রস্তাব। তারা বলেছে, করের বোঝা বাড়িয়ে নয়, ব্যবসা-উপযোগী ও সহজ-কাঠামোর দিকে যাওয়া উচিত।

    শিল্প উদ্যোক্তারা সতর্ক করে জানিয়েছেন—জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল না হলে এবং কর কাঠামো সহজীকরণ না করা হলে দেশের রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়বে। তাই সময়োপযোগী নীতি সিদ্ধান্ত না নিলে রপ্তানিতে ব্যাপক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।