Blog

  • খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নজরুল ইসলাম মঞ্জুর যোগদান

    খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নজরুল ইসলাম মঞ্জুর যোগদান

    খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মহানগর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও দুই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাতে তিনি এই পদে যোগদান পত্র তুলে দেন। একই সময়ে দেশের অন্যান্য পাঁচ নগরীর প্রশাসক ও যোগদান পত্রের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

    যোগদান শেষে সাংবাদিকদের কাছে মন্তব্য করে নজরুল ইসলাম মঞ্জু জানান, দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে গণতান্ত্রিক সরকারের পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়েছে, যা তিনি অত্যন্ত স্বস্তির ও ইতিবাচক খবর হিসেবে দেখছেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, দীর্ঘ সময় ধরে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা অকার্যকর ছিল এবং দলীয় স্বার্থে নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াকাঠি চলত। এখন থেকে জনগণের স্বার্থে সত্যিকার অর্থে ষড়যন্ত্র মুক্ত ও স্বচ্ছ নির্বাচন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

    মঞ্জু আরও বলেন, জনগণের মৌলিক সেবাগুলো নিশ্চিত করতে না পারাটা একটি বড় ক্ষতি ছিল। নতুন সরকার আসার পরে এই খাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনা যায়। তিনি জানান, নিজেকে দায়িত্বশীল হিসেবে মানিয়ে নিতে শুধুমাত্র নগরীর উন্নয়নে কাজ করবেন না, বরং জনগণের প্রত্যাশা ও চাহিদাগুলো সরকারের নজরে আনবেন এবং সহযোগিতা নিয়ে সেই সব সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট হবেন।

    প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, জনগণের অধিকার এবং নাগরিক সুবিধার ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া, মশা নিধন, মোছা সমস্যাসহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ জোরদার করতে তিনি একাদিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

    নজরুল ইসলাম মঞ্জু এই দায়িত্ব গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও দলের প্রধান তারেক রহমানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, খুলনাবাসীর উন্নয়নের জন্য সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবেন। সকল সুখ-দুঃখে তারা তাদের পাশে থাকবেন এবং খুলনাকে মাদকমুক্ত ও দখলমুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাবেন।

  • কালীগঞ্জে মোটরসাইকেলের সিটের ভেতর বিষধর সাপ উদ্ধার

    কালীগঞ্জে মোটরসাইকেলের সিটের ভেতর বিষধর সাপ উদ্ধার

    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে একটি মোটরসাইকেলের সিটের ভেতর থেকে বিষধর একটি সাপ উদ্ধার করেছেন বন বিভাগ। ঘটনাটি ঘটে ২৪ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে কালীগঞ্জের মেইন বাসস্ট্যান্ডের পাশে মনসুর প্লাজা সংলগ্ন এলাকায়। প্রথম মুহূর্তে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হলেও বন বিভাগের দ্রুত প্রশিক্ষিত ও কার্যকর উপস্থিতির ফলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঈদ বাজারের জন্য কেনাকাটার সময় একজন ব্যক্তি তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি মার্কেটের সামনে পার্কিং করেন। কিছুক্ষণ পরে আশপাশের পথচারীরা লক্ষ্য করেন, সিটের ভেতর থেকে একটি বিষধর সাপ মাথা বের করে দেখাচ্ছে। বিষয়টি বুঝে তারা দ্রুত আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং আশেপাশের মানুষকে সতর্ক করেন। ঘটনাটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে জনসমাগম বাড়তে থাকে।

    লোকজনের অনেকেরই ধারণা, সাপটি মোটরসাইকেলের সিটের ভিতরই আশ্রয় নেয়া। মাঝেমধ্যেই তার মাথা দেখা যাচ্ছিল, যা দেখে উপস্থিত সবাই খুবই আতঙ্কিত হন। পরে, মোটরসাইকেল মালিক বন বিভাগের জরুরি খবর দেন।

    খবর পেয়ে বন বিভাগের ট্রেইনার আদনান মীম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি সতর্কতার সঙ্গে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ব্যবহার করে মোটরসাইকেলের সিট খুলে সাপটিকে শনাক্ত করেন এবং খুবই দক্ষতার সঙ্গে তাকে উদ্ধার করেন। ধারণা করা হয়, উদ্ধারকৃত সাপটি বিষধর।

    আনন্দদায়ক খবর হলো, আদনান মীম ও তাদের দলের তৎপরতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। তিনি জানান, এ ধরনের পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ নিজেদের সাপ ধরা বা হাতের কাছে থাকা কোনও কিছু দিয়ে সাপ ধরানোর চেষ্টা না করে, অবিলম্বে পেশাদার বন বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষিত ব্যক্তিদের খবর দেওয়া উচিত। এভাবে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

    উদ্ধারকৃত সাপ পরে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে তার প্রাকৃতিক আবাসস্থলে ফিরে নিয়ে যায়।

    অঞ্চলের ব্যবসায়ী ও পথচারীরা বলছেন, এত বড় ও জনবহুল এলাকায় এই ধরনের ঘটনা খুবই বিরল। তারা বন বিভাগের দ্রুত ও পেশাদারী পদক্ষেপের জন্য প্রশংসা করে।

    সম্পূর্ণ ঘটনাটি আশপাশে অল্প সময়ের জন্য আতঙ্ক এবং কৌতূহলের সৃষ্টি করলেও, বন বিভাগের দ্রুত উপস্থিতি ও কার্যকর পদক্ষেপের ফলে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসে।

  • গোপালগঞ্জে ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে দুই স্কুল ছাত্রের মৃত্যু

    গোপালগঞ্জে ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে দুই স্কুল ছাত্রের মৃত্যু

    গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় ট্রাকের সাথে সংঘর্ষে দুই তরুণ স্কুল ছাত্রের প্রাণ হারানোর ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের উপজেলার রিশাতলা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে মুকসুদপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন নিশ্চিত করেছেন। নিহতরা হলেন, মুকসুদপুর পৌরসভার দক্ষিণ চন্ডিবরদী এলাকার জাহিদ শেখের ছেলে ও সরকারি এস জে উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র রাফসান রাফি, এবং টেংরাখোলা গ্রামের শিশির মজুমদারের ছেলে ও একই ক্লাসের শিক্ষার্থী অনুজ কর্মকার। দুর্ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, ট্রাকের সাথে সংঘর্ষের পর মোটরসাইকেলটি সড়কের উপর ছিটকে পড়ে and পড়ে। এতে দুই আরোহী আহত হয়। অন্যদিকে, ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সাথে ধাক্কা খায়। স্থানীয়রা আহত দুজনকে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে তাঁদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসকরা রাফসান রাফিকে মৃত ঘোষণা করেন ও অনুজকে ঢাকা নেওয়ার পথে মৃত্যুবরণ করেন। মুকসুদপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, ঢাকা যাওয়ার পথে দুজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। তারা দুজনের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করছে পুলিশ। ঘটনাটি হাইওয়েতে ঘটায় ভাঙ্গা হাইওয়ে থানাকে অবহিত করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হলে মরদেহ স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

  • সুন্দরবনে দস্যু আতঙ্কে যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু

    সুন্দরবনে দস্যু আতঙ্কে যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু

    সুন্দরবনে বনদস্যুদের তাণ্ডব, অপহরণ ও মারধরের ঘটনার কারণে সাধারণ জেলেদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত এক সপ্তাহে অন্তত ৫০ জন জেলে অপহৃত হওয়ার ঘটনায় অনেক জেলেই এখন সাগর ও নদীতে মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছেন। এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে জিম্মি জেলেদের রক্ষা ও দস্যু দমনের জন্য সুন্দরবনে বৃহৎ প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে যৌথ বাহিনীর বিশেষ কম্বিং অপারেশন।

    কোস্ট গার্ড ও জেলে মহাজনরা জানিয়েছেন, বনদস্যুপত্রনেএবং অপহরণের ঘটনাগুলো সাধারণ জেলেদের জীবনে চরম নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করেছে। দস্যুদের দ্বারা অপহরণ, মারধর, এবং মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে, যা না দিতে পারায় অনেক জেলেকে নৈরাশ্যকর নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। এই আতঙ্কে দুবলার চরসহ উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকার কয়েক হাজার ট্রলার ও নৌকা বর্তমানে তীরে বন্ধ অবস্থায় রয়েছে।

    সুন্দরবনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আজ মঙ্গলবার সকাল থেকেই দ্ববলা, হারবাড়িয়া, কোকিলমনি, নন্দবারা ও জোংড়াসহ বিভিন্ন গহীন খালে যৌথ বাহিনীর অভিযান চালানো হয়। এই বিশেষ কম্বিং অপারেশনে র‌্যাব, কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী ও পুলিশ একযোগে অংশ নিয়েছেন।

    দিনভর বনের বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি চালানো হলেও এখনো পর্যন্ত অপহৃত জেলেকে উদ্ধার বা দস্যুদের আটক করতে সক্ষম হয়নি। তবে বাহিনী জানিয়েছেন, জেলেদের উদ্ধার ও সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত না করা পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

    দুবলা ফিশারম্যান গ্রুপের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাগরে মাছ ধরা শেষ মৌসুমে দস্যু আতঙ্কের কারণে জেলেরা মাছ ধরা বন্ধ রেখেছেন, যার ফলে কোটি কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা উঠেছে। উপকূলীয় এলাকাগুলো এখন উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। জেলেরা দ্রুত তাঁদের উদ্ধার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।

  • বাগেরহাটে জমি বিরোধে মারামারিতে একজন নিহত

    বাগেরহাটে জমি বিরোধে মারামারিতে একজন নিহত

    বাগেরহাটে জমি সংক্রান্ত পুরোনো বিরোধের জের ধরে ভাইয়ের ছেলেদের সাথে মারামারির ঘটনায় মোঃ ইদ্রিস আলী Sheekh (৫০) প্রাণ হারিয়েছেন। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

    এ ঘটনার আগের দিন সকালে, একই এলাকার কালিপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে ইদ্রিস ও তার ভাই সিদ্দিকের ছেলেদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে ইদ্রিসসহ তার ছেলে এমরান, মামুন, শামীম এবং এনামুল গুরুতর আহত হন। আহত অবস্থায় ইদ্রিসকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত ইদ্রিস আলী কালিপুর গ্রামের হাশেম আলীর ছেলে।

    স্থানীয়রা জানান, সকালে বিরোধপূর্ণ জমির উপর নির্মাণের জন্য সিদ্দিকের ছেলে আলী শেখ, নিজাম শেখ, নাজিমউদ্দীন শেখ ও রুবেল শেখসহ কয়েকজন যায়। সেখানে বাঁধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। ঘর নির্মাণের চেষ্টা রুখতে গেলে উভয় পক্ষের মাঝে মারামারি শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এই ঘটনায় অন্তত সাতজন আহত হন।

    বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মাসুম খান বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এই মারামারিতে মোঃ ইদ্রিস আলী গুরুতর আহত হন। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ইতিমধ্যে তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এখনো কেউ কোন অভিযোগ করেননি, তবে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হামলাকারীদের শনাক্ত ও আটক করতে পুলিশ অভিযানে নেমেছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

  • নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণ পেছানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণ পেছানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    নতুন বাণিজ্য, শিল্প ও বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, সরকার স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে দেশের উত্তরণের সময়সীমা আরও এক দফা পিছিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করবে। তিনি বললেন, এই লক্ষ্য সামনে রেখে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে, এবং ইতোমধ্যে সরকার এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে। মার্চ ১৮ তারিখে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রথম দিনের অফিস কাজের সময় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    বাণিজ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, সরকার এ ট্রিগার ডিফার করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং সম্পর্কিত বিভাগের সাথে সমন্বয় করে দ্রুত প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করবে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ী সংগঠনের দাবি অনুধাবন করে তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণের পেছানোর বিষয়টি সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে, আর প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই এ নিয়ে কার্যক্রম শুরু করা হবে, যদিও এ বিষয়টি একেবারেই বাধ্যতামূলক নয়।

    রপ্তানিSector-এর সাম্প্রতিক ধীরগতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে রপ্তানির কাঠামো এখনও খুবই সংকীর্ণ। দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশই নির্ভরশীল একেকটি পণ্যের উপর। এই স্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে হবে, নতুন পণ্য অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং নতুন বাজার অনুসন্ধানে জোর দিতে হবে। পাশাপাশি, বেসরকারি পর্যায়ে যারা ব্যবসা ও বিনিয়োগে আগ্রহী, তাদের সহায়তার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।

    বিশ্ব বাণিজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতিতে সাম্প্রতিক পরিবর্তন জগৎজুড়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ খুবই সীমিত সুযোগ নিয়ে টিকে আছে। তার মতে, দেশের মার্জিন অব এরোর খুবই কম, তাই ভুলের সম্ভাবনা এড়াতে হলে সতর্ক থাকতে হবে। গত কিছু মাসের মন্থর গতি দ্রুততা পূরণের জন্য সরকার কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

    রমজানের বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, যদি পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে তবে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে। রমজান মাস ও এর পরের সময়ের জন্য প্রয়োজনীয় পণ্যਦੇয়া পর্যাপ্ত মজুদসহ পাইপলাইনে পণ্যও রয়েছে, ফলে আতঙ্কের কিছু নেই। শঙ্কা জাগাতে পারে বাজারে সিন্ডিকেটের অভিযোগ—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, কাজের মাধ্যমে ফল দেখাতে চান, কথা দিয়ে নয়। তিনি বলেন, “আমি সাউন্ড বাইট দেব না, ইনশাআল্লাহ কাজ করে দেখাব।”

    রমজানের শুরুতে কিছু পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি ব্যাখ্যা করেন, এটি মূলত এককালীন চাহিদা বৃদ্ধির ফল। সাধারণত এক মাসের জন্য বাজারে ভোগের চাহিদা বেশি হলে দাম ওঠে, তবে এ ধরণের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী নয় বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

    বৈদেশিক ও দেশীয় বিনিয়োগের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, অনিশ্চয়তার মধ্যেও বিনিয়োগ আসে না। উত্তম বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজন একটি স্থিতিশীল পরিবেশ। দেশের বড় জনগোষ্ঠী রয়েছে, এবং প্রতিবছর প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। কিন্তু গত দুই-তিন বছর ধরে বিনিয়োগের মনোভাব দুর্বল হওয়ায় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এ পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবেলা না করলে কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতে বড় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

    নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর রমজান মাসের শুরুতে এই সময়টিকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন, বলে বলেন, সরকারের জন্য রমজান পরিস্থিতি সামাল দেওয়া বড় এক পরীক্ষা। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সবাই একত্রে কাজ করতে হবে, এর জন্য সরকারকেও সফল হতে হবে। তিনি বলেন, এ বিষয়টি ব্যক্তিগত নয়, বরং দেশের স্বার্থে, সুতরাং সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতা করতে আহ্বান জানান। ভুলত্রুটি হলে ক্ষমা চেয়ে, সবাই মিলে একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়াই দেশের অগ্রগতির মূল চাবিকাঠি।

  • খুলনা অঞ্চলের পাটকলে অস্বাভাবিক দামে কাঁচা পাটের সংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধ

    খুলনা অঞ্চলের পাটকলে অস্বাভাবিক দামে কাঁচা পাটের সংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধ

    খুলনা অঞ্চলের ইজারা ও বেসরকারি পাটকলগুলোর মধ্যে উৎপাদন কার্যক্রম একেবারে স্থবির হয়ে পড়েছে, কারণ কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি ঘটছে। অন্যান্য সময়ের তুলনায় দামের বাইরেও বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে অনেক মিল পাটপণ্য উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে হাজার হাজার শ্রমিকের কাজ হারানোর শঙ্কা দেখা দিয়েছে, পাশাপাশি মিলগুলোও আর্থিক ক্ষতিতে পড়েছে এবং বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

    দৌলতপুর এলাকার দৌলতপুর জুট মিলটি প্রায় দেড় মাস ধরে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। শ্রমিকরা দিন দিন মিলগুলোতে এসে বসে থাকলেও কার্যকর কোনো কাজ করতে পারছেন না, কারণ কাঁচা পাটের সংকট প্রকট। একইভাবে অন্যান্য মিলগুলোর শতাধিক কর্মসূচি থেমে গেছে বা খুবই সীমিত আকারে চলছে। শ্রমিকরা ভীত, যদি এই অবস্থা দীর্ঘদিন অব্যাহত থাকে তাহলে তারা স্থায়ীভাবে কাজ হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন।

    দৌলতপুর জুট মিলের শ্রমিক আসাদুজ্জামান বলেন, দেড় মাস ধরে আমরা শ্রমিকরা বসে আছি, কাজ কিছুই হচ্ছে না। কাঁচা পাট না থাকায় মালিকরা মিল চালাতে পারছেন না। যদি এই অবস্থা দীর্ঘদিন থাকে, তবে আমাদের চাকরি চলে যাবে, এবং নতুন কাজও কঠিন হয়ে পড়বে। অন্য একজন শ্রমিক হাবিবুল্লাহ জানান, আমাদের দিয়ে মালিকরা কাঁচা পাট থেকে এক টাকা আয় করলে আমাদের মাঝে সেটার এক пайызও দেওয়া হয় না। এই মিলটি গত তিন বছর ভালোই চলছিল, কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। তিনি বলেন, ‘আমরা সবসময় কাঁচা পাটের সংকটের জন্য সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের আশায় আছি।’

    মিলের মালিকরা জানান, মৌসুমের শুরুতে কাঁচা পাটের দাম ছিল প্রতি মণ প্রায় ৩২০০ টাকা, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫২০০ টাকায়। দ্বিগুণ দামে পাট কেনায় উৎপাদন খরচ ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে, তবে পণ্যMarket এর মূল্য ততটা বৃদ্ধি না পাওয়ায় উদ্যোক্তারা উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন।

    দৌলতপুর জুট মিলের উৎপাদন কর্মকর্তা মোঃ ইসরাফিল মলি­ক বলেন, বাড়তি দামে পাট কিনতে গিয়ে এখন মিল চালানো খুবই কঠিন। আগে প্রতি মণ পাট ৩২০০ টাকায় কিনে আমরা প্রতিটি বস্তা বিক্রি করতাম ৮০ টাকায়, কিন্তু এখন ৫২০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। তবে উদ্যোক্তারা শ্রমিকের কথা চিন্তা করে মিল চালু রেখেছিলেন, কিন্তু এখন পাটের দাম এত বেড়ে গেছে যে, একটি বস্তা উৎপাদনে খরচ হয় ১২০ টাকার বেশি, কিন্তু বিক্রি মূল্য খুবই কম, ফলে মিল এখন বন্ধ।

    তিনি আরো জানান, কাঁচা পাটের এই সংকট কৃত্রিম বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘এ বছর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাটের উৎপাদন কম হয়নি, কিন্তু ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে রেখেছেন। সরকার যদি তদারকি না করে, তাহলে মিল চালানো সম্ভব হবে না।’

    যদিও কৃষি বিভাগ বলছে, গত দুই বছর ধরে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও নড়াইলের উৎপাদন প্রায় একই স্তরে রয়েছে। কৃষি অধিদফতরের তথ্য অনুসারে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই অঞ্চলে ৩৯ হাজার ৩৪৪ হেক্টরে ৯৪ হাজার ৬৬৬ মেট্রিক টন এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩৮ হাজার ২৬৮ হেক্টরে ৯১ হাজার ১৩৫ মেট্রিক টন পাট উৎপাদিত হয়েছে। তবে মিল মালিকেরা অভিযোগ করেন, কিছু ব্যবসায়ীর মজুতের কারণে সিন্ডিকেট করে তারা দাম বাড়াচ্ছে।

    বাংলাদেশ জুট মিল অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক মোঃ জহির উদ্দিন বলেন, সৌদি বাজারে বাজার নিয়ন্ত্রণ, ভর্তুকি ও তদারকি বাড়ানোর জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন, কয়েকটি অসাধু ব্যবসায়ী কাঁচা পাট অবৈধভাবে মজুত করে বাজার অস্থিতিশীল করে রেখেছে, যার কারণে দাম বাড়ছে। ব্যাংকের থেকে ঋণ নেওয়া কষ্টকর হচ্ছে, সরকার যেন এ বিষয়গুলোতে উদ্যোগ নেয়।

    এদিকে, পাট অধিদফতর বাজারে নিয়মিত নজরদারি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। সহকারী পরিচালক সরজিত সরকার বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি। একজন আড়তদার বা ডিলার এক মাসে সর্বোচ্চ ৫০০ মণের বেশি পাট মজুত করতে পারবেন না, তা নিশ্চিত করতে তদারকি করা হচ্ছে। দাম সহনীয় রাখার জন্য নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। আশা করা যায় শিগগিরই পাটের বাজার স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরবে।’

    খুলনা অঞ্চলের মোট ২০টি ইজারাকৃত ও বেসরকারি পাটকল রয়েছে, যেখানে প্রতি মাসে মোট প্রায় ২৫ হাজার মেট্রিক টন পাটপণ্য উৎপাদিত হয়। এর একটি বড় অংশ বিদেশে রফতানি হয়ে থাকে। তবে এখন যে সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে উৎপাদন ও রফতানি দুই ক্ষেত্রেই বড় ক্ষতি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

  • ফেব্রুয়ারির ১৮ দিনে রেমিট্যান্স ছাড়ালো দ্বিগুণ ডলার 측

    ফেব্রুয়ারির ১৮ দিনে রেমিট্যান্স ছাড়ালো দ্বিগুণ ডলার 측

    জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পবিত্র রমজান মাসের approaching কারণে দেশের বাইরে থেকে অর্থ পাঠানোর হার বেড়েছে। বিশেষ করে প্রবাসীরা দেশের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পরিবারের খরচ মেটাতে বেশি করে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। এর ফলস্বরূপ, চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ১৮ দিনে দেশের বাইরে থেকে প্রাপ্ত রেমিট্যান্সের হার ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি ছাড়িয়েছে। যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তবে মাসের শেষে এটি ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হচ্ছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নামাজের মৌসুমে প্রবাসীরা পরিবারে জন্য বাড়তি অর্থ পাঠাচ্ছেন। এই রেমিট্যান্স প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে প্রবাসীরা মোট ৩১৭ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা দেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর আগে ২০২২ সালের মার্চে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সর্বোচ্চ ৩২২ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল।

    প্রবাসী আয়ের সাম্প্রতিক ধারাবাহিক বৃদ্ধির ফলে, ২০২৫ সালে দেশে মোট প্রবাসী আয়ে এসেছে ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলার। জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যবর্তী সময়ে এই প্রবৃদ্ধি ২২.৩ শতাংশ ছাড়িয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ৭৬৩ কোটি ডলার।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ পরিসংখ্যান বলছে, ১৭ ফেব্রুয়ারির অবধি দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার। তবে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব অনুযায়ী প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ একটু কম, যা ২৯ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকেই প্রবাসী আয়ে পুনরায় গতি ফিরে এসেছে। ব্যাংক খাতে অবৈধ হুন্ডি ব্যবসার প্রভাব কমে যাওয়ার পাশাপাশি, ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলার বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকায় প্রবাসীরা অনায়াসে বৈধ মাধ্যমে অর্থ পাঠাচ্ছেন। সেই সঙ্গে, দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ভবিষ্যতেও রেমিট্যান্সের ধারাকে সচল রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • সোনার দাম ভরি প্রতি তিন হাজার ২৬৬ টাকা বেড়েছে

    সোনার দাম ভরি প্রতি তিন হাজার ২৬৬ টাকা বেড়েছে

    বাংলাদেশ স্বর্ণ পরিবেশক সংস্থা বাজুস আজ জানিয়েছে, সোনার দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতি ভরি (বড় মানের ২২ ক্যারেট) সোনার দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এখন একটি ভরি সোনার মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকায়, যা আগের দিন ছিল ২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৮ টাকা।

    বাজুসের পক্ষ থেকে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য ঘোষণা করা হয়। নতুন দাম সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে কার্যকর হয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছ, তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে।

    নতুন নির্ধারিত দামে দেখা গেছে, ২২ ক্যারেটের সোনার এক ভরি দাম এখন ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। এর পাশাপাশি অন্যান্য ক্যারেটের দাম অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের সোনার প্রতি ভরি দাম ২ লাখ ৪৭ হাজার ১০২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা, আর সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম এখন ১৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।

    সোনার দামের সঙ্গে রুপার দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার মূল্য এখন ৬ হাজার ৭০৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৪ হাজার ৮২ টাকা।

    এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারেও স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী। বিশ্ববাজারের সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টা ২৫ মিনিটে আউন্সপ্রতি স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ১০৬ ডলার। এর আগে আগের দিন এটি ছিল ৪ হাজার ৯৭৮ ডলার।

    অতীতে, ৩০ জানুয়ারিতে স্বর্ণের দাম ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার, আর ২৯ জানুয়ারি পৌঁছেছিল ৫ হাজার ৫৫০ ডলার।

    বিশ্ববাজারে গত মাসের শেষে স্বর্ণের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করে, যার ফলে দেশের বাজারেও মারাত্মক মূল্যবৃদ্ধি হয়। ২৯ জানুয়ারির স্মরণীয় দিন, বাজুস ভরিতে ১৬ হাজার ২১৩ টাকা মূল্য বাড়িয়ে দিযেছে, ফলে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দাম অনুযায়ী এক ভরি স্বর্ণের মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। এই দামে দেশের ইতিহাসে কখনো এত বেশি দাম পরিশোধ হয়নি।

  • দুই দিনের ব্যবধানে ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম

    দুই দিনের ব্যবধানে ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম

    দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন দরে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা। এটি গত দুই দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বার দাম বাড়ছে।

    সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে বাজুস একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করে। নতুন দামে বিক্রি শুরু হয়েছে সকাল ১০টা থেকে। সংগঠনটি জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

    নতুন মূল্য অনুযায়ী, ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা। অন্য ক্যারেটের স্বর্ণের দাম: ২১ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এই দামের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও বাজুসের নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ হবে। গহনা ডিজাইন ও মান অনুযায়ী মজুরির পরিমাণ আলাদা হতে পারে বলে সংগঠনটি জানিয়েছে।

    এর আগে, ২১ ফেব্রুয়ারি স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। তখন ২২ ক্যারেটের ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।

    এ বছর এখন পর্যন্ত মোট ৩২ বার স্বর্ণের দাম পরিবর্তন করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০ দফায় দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ১২ দফায় কমানো। গত বছর মোট ৯৩ বার মূল্য সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো ও ২৯ বার কমানো হয়।

    অপরদিকে, রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেট রুপার ভরি বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৭০৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের ভরি ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৪ হাজার ৮২০ টাকা।

    চলতি বছরে রুপার দাম ১৮ দফায় সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ বার দাম বেড়েছে এবং ৭ বার কমেছে। গত বছরে মোট ১৩ দফায় দাম পরিবর্তন হয়েছিল, যার মধ্যে ১০ বার দাম বাড়ছিল এবং ৩ বার কমছিল।