Blog

  • বুথফেরত জরিপ অগ্রাহ্য করে মমতা: ‘তৃণমূল রেকর্ড জয়ের পথে’

    বুথফেরত জরিপ অগ্রাহ্য করে মমতা: ‘তৃণমূল রেকর্ড জয়ের পথে’

    পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের বুথফেরত জরিপের পূর্বাভাসকে অস্বীকার করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেস আবারও রাজ্যে ‘‘মা, মাটি, মানুষের সরকার’’ গঠন করবে এবং রেকর্ড সংখ্যক আসনে জয়ী হবে।

    দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণের পরের দিন বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ প্রকাশ করা ভিডিও বার্তায় মমতা এই আস্থা ব্যক্ত করেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘‘তৃণমূল ২২৬টিরও বেশি আসনে জয়ী হবে,’’ যা দলটির গত নির্বাচনে পাওয়া 215 আসনের রেকর্ডকেও ছাপাবে বলে দাবি করেন।

    এ বছর পশ্চিমবঙ্গে ২৯৪টি আসনের জন্য দুই দফায়—২৩ ও ২৯ এপ্রিল—ভোটগ্রহণ হয়েছে। নির্বাচনে অংশগ্রহণের হার রেকর্ডভিত্তিক ৯০ শতাংশের ওপরে উঠেছে, যা নির্বাচনকে আরও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মঞ্চে পরিণত করেছে।

    তৃণমূলের আত্মবিশ্বাসের বিপরীতে বিজেপিও জয়ের দৃঢ় প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে। কর্ণাটকের বিজেপি সভাপতি বি. ওয়াই. বিজয়েন্দ্র পশ্চিমবঙ্গে ঐতিহাসিক জয়ের আশা জানান এবং বলেন, অন্য রাজ্যগুলোর মতো এখানে থেকেও বিজেপি-নেতৃত্বাধীন এনডিএ শক্তিশালী ফল করতে চলেছে। তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব—প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও জাতীয় সভাপতির গতিশীল নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে রাজ্যের কর্মীদের সতর্ক পরিশ্রমের প্রশংসাও করেন। বিজয়েন্দ্র দাবি করেন যে, লাখ লাখ কর্মীর প্রচেষ্টার ফলে পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো বিজেপি সরকার গড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    বুথফেরত সমীক্ষাগুলো একেবারেই একস্বরে ফল প্রকাশ করছে না; তারা রাজ্যে বিভক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। একাধিক সংস্থার প্রাথমিক পূর্বাভাসে দেখা গেছে—কিছু সমীক্ষায় বিজেপি সামান্য এগিয়ে দেখানো হয়েছে, আবার অন্য কোথাও তৃণমূলের বড় জয়ের ভবিষ্যদ্বাণী রয়েছে।

    কয়েকটি সমীক্ষার উল্লেখযোগ্য আউটপুটগুলো এভাবে জানানো হয়েছে: চাণক্য স্ট্র্যাটেজিস বিজেপিকে ১৫০–১৬০ ও তৃণমূলকে ১৩০–১৪০ আসন দিয়েছে; ম্যাট্রাইজের পূর্বাভাসে বিজেপি ১৪৬–১৬১ ও তৃণমূল ১২৫–১৪০; পি-মার্কের রেঞ্জে বিজেপি ১৫০–১৭৫ ও তৃণমূল ১১৮–১৩৮ আসন পেতে পারে। জেভিসির জরিপে যদিও লড়াই কড়া হবে বলা হয়েছে, সেখানে বিজেপিকে ১৩৮–১৫৯ ও তৃণমূলকে ১৩১–১৫২ আসনে দেখানো হয়েছে। অন্যদিকে পিপলস পালস তৃণমূলকে ১৭৮–১৮৭ আসনের একচেটিয়া জয়ের পূর্বাভাস দিয়েছে; তাদের তালিকায় বিজেপি ৯৫–১১০ এবং অন্যান্যরা ২–৩টি আসন পেতে পারে।

    কয়েকটি সমীক্ষার গড় হিসেব করলে ২৯৪ আসনের বিধানসভায় বিজেপি ও তৃণমূল—দুই দলই প্রায় ১৪৫টি করে আসনে টগবগ করছে, কিন্তু পৃথক জরিপভিত্তিক রেঞ্জগুলো ফলাফলকে অনিশ্চিত রেখেছে। নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা নির্ধারিত হবে না।

    সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।

  • ভূমধ্যসাগরে নৌকা বিকল: ২৬ অভিবাসীর মৃত্যুর আশঙ্কা

    ভূমধ্যসাগরে নৌকা বিকল: ২৬ অভিবাসীর মৃত্যুর আশঙ্কা

    উন্নত জীবনের আশায় ইউরোপগামী একটি নৌকা বিকল হয়ে আট দিন ধরে ভূমধ্যসাগরে ভেসে থাকার পর পানিশূন্যতা ও খাদ্যসংকটের কারণে অন্তত ১৭ অভিবাসীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে; আরও নয়জন নিখোঁজ থাকায় মোট ২৬ জনের মৃত্যুর সম্ভাবনা রয়েছে। ঘটনায় সাতজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলেছে, এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার শিকাররা মূলত সাব-সাহারা আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অভিবাসনপ্রত্যাশী ছিলেন। তাদের নৌকা মিশরের সীমান্তঘেঁষা লিবিয়ার পূর্ব তোবরুক শহরের উপকূলের কাছে চিকিৎসা ও ত্রাণ কর্মীদের দ্বারা উদ্ধার করা হয়। রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মি নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের সহযোগিতায় উদ্ধারকার্য চালায়।

    উদ্ধারকারীরা জানান, আট দিন সমুদ্রে ভাসার ফলে বিশুদ্ধ পানীয় ও খাবার শেষ হয়ে যাওয়ায় বেশিরভাগের অবস্থা দ্রুত খারাপ হয়ে যায় এবং তারা মারা যান। উদ্ধারকাজের সময় তোলা ছবিতে দেখা গেছে মরদেহগুলো কালো প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে পিকআপে বোঝাই করা হচ্ছে। নিরাপত্তা সূত্র জানায়, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নিখোঁজ নয়জনের মরদেহ তীরে ভেসে আসার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    ঘটনায় মৃতদের পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি। লিবিয়া দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপগামী অভিবাসীদের একটি প্রধান ট্রানজিট পথ—অনেকেই যুদ্ধ, দারিদ্র্য ও মানবাধিকার সংকট থেকে পালিয়ে মরুভূমি ও সমুদ্র পেরিয়ে ঝুঁকি নিয়ে এই পথ বেছে নেন।

    এদিকে ত্রিপোলির অ্যাটর্নি জেনারেল মঙ্গলবার জানিয়েছেন, পশ্চিম লিবিয়ার জুয়ারা এলাকায় একটি ‘অপরাধী চক্র’-এর চার সদস্যকে মানবপাচার, মুক্তিপণের জন্য অপহরণ ও নির্যাতনের দায়ে সর্বোচ্চ ২২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসূত্রে বলা হয়, তোবরুক অঞ্চল থেকে একটি ভাঙাচোরা নৌকায় অভিবাসীদের পাঠানোর অভিযোগে আরেকটি চক্রকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে; একই ধরনের নৌকাপ্রচলে একটি ভূষণীয় সুনামহানির কারণে আগে ৩৮ জন সুদানি, মিশরীয় ও ইথিওপীয় নাগরিকের মৃত্যু হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এই ঘটনা আবারও মানুষের পেশাদারি পাচার চক্র ও অঠটভয়ের পথে রফতানির ভয়াবহতা সামনে এনে দিল। আন্তর্জাতিক দাতাবৃন্দ এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে এবং লিবিয়ায় বাসস্থানের শর্ত, সীমান্ত নজরদারি ও উদ্ধার সক্ষমতা উন্নয়ন করা জরুরি বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

  • রূপসা সরকারি কলেজকে ‘বেলফুলিয়া সরকারি কলেজ’ নামকরণের আবেদন

    রূপসা সরকারি কলেজকে ‘বেলফুলিয়া সরকারি কলেজ’ নামকরণের আবেদন

    খুলনা জেলার আইচগাতি ইউনিয়নে অবস্থিত রূপসা সরকারি কলেজকে ‘বেলফুলিয়া সরকারি কলেজ’ নামে পুনঃনামকরণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। আবেদনটি খুনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল স্বাক্ষরে গত ২৩ এপ্রিল মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

    আবেদনে বলা হয়েছে, খুলনা-৪ আসনটি রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ অঞ্চলে একই নামে দু’টি কলেজ থাকায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও প্রশাসনিক দফতরগুলোর মধ্যে অনেক ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

    পটভূমি তুলে ধরে আবেদনে বলা হয়, স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে ঐতিহ্যবাহী বেলফুলিয়া এলাকায় একটি কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়ে ‘বেলফুলিয়া কলেজ’ নামে পরিচিতি অর্জন করে। পরে কলেজটি সরকারিকরণের সময় তৎকালীন সংসদ সদস্য (আওয়ামী লীগ) কলেজটির নামের বেলফুলিয়া অংশটি বাদ দিয়ে ‘বঙ্গবন্ধু সরকারি কলেজ’ নামে নামকরণ করেন।

    অপর দিকে ১৯৮৬ সালে রূপসা উপজেলার বাগমারা এলাকায় ‘রূপসা কলেজ’ নামে একটি বেসরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ওই প্রতিষ্ঠান উচ্চমাধ্যমিক থেকে স্নাতকোত্তর পর্যায় পর্যন্ত সুনামের সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে এবং ছাত্রসংখ্যাও কয়েক হাজারের ওপরে।

    আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আগস্ট বিপ্লবের পর কিছু অজ্ঞতাবশত স্থানীয় বেলফুলিয়ায় অবস্থিত কলেজটির নামের ‘বঙ্গবন্ধু’ অংশটি সরিয়ে ‘রূপসা সরকারি কলেজ’ বলা শুরু করলে একই নামের দুটি কলেজের সমস্যা দেখা দেয়। এর ফলে ভর্তিকাল, তথ্য প্রেরণ, সরকারি-বেসরকারি নথিপত্র, বোর্ড ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা ও বরাদ্দ বণ্টনসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্রশ্নপত্র প্রেরণ, রেজিস্ট্রেশন ও ফলাফল সংক্রান্ত কার্যক্রমেও প্রভাব পড়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ আছে।

    স্থানীয় শিক্ষাবিদ, জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্টজনদের মতামত বিবেচনায়, বর্তমানে রূপসা সরকারি কলেজ হিসেবে যত নাম ব্যবহৃত হচ্ছে তা সংশোধন করে কলেজটি যে ঐতিহ্যবাহী স্থানে রয়েছে সেই নাম অনুসারে ‘বেলফুলিয়া সরকারি কলেজ’ নামে পুনঃনামকরণের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল শিক্ষামন্ত্রণালয়ের নিকট এই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছে।

  • অগ্রণী ব্যাংকের ক্যাশ অফিসারকে অর্থ আত্মসাৎ মামলায় ১০ বছর কারাদণ্ড

    অগ্রণী ব্যাংকের ক্যাশ অফিসারকে অর্থ আত্মসাৎ মামলায় ১০ বছর কারাদণ্ড

    খুলনার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালত বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ অগ্রণী ব্যাংকের ক্যাশ অফিসার সৈয়দ শিওন সাইফকে অর্থ আত্মসাৎ মামলায় তিনটি ধারায় মোট ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। আদালত তাকে ৩৬ লাখ ৭৯ হাজার ৩৫০ টাকা জরিমানা করেছেন; জরিমানার অনাদায়ে আরও ৫ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড কার্যকর হবে। রায় ঘোষণা করেন বিভাগীয় স্পেশাল জজ মোঃ আশরাফুল ইসলাম।

    আদালত রায়ে উল্লেখ করেছেন, দণ্ডবিধির ৪৬৮ ধারায় সাইফকে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩ হাজার টাকা জরিমানা (অনাদায়ে এক মাস বিনাশ্রম), ৪৭৯ ধারায় ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩ হাজার টাকা জরিমানা (অনাদায়ে এক মাস বিনাশ্রম) ও ৪০৯ ধারায় ৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩৬ লাখ ৭৯ হাজার ৩৫০ টাকা জরিমানা (অনাদায়ে তিন মাস বিনাশ্রম) দেয়া হয়েছে। এই তিন দণ্ড ধারাবাহিকভাবে চালু হবে, ফলে মোট সাজা দাঁড়ায় ১০ বছর এবং অনাদায়ে একযোগে পাঁচ মাসের অতিরিক্ত কারাদণ্ড।

    আদালতে রায় ঘোষণার সময় অভিযুক্ত সৈয়দ শিওন সাইফ পলাতক ছিলেন। তিনি নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার এনএসখোলা নওয়াগ্রামের বাসিন্দা, নাজমুল হকের ছেলে এবং বয়স ৪১ বছর বলে বর্ণিত হয়েছে। মামলার অপর আসামি ও ওই শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক মিসেস সাফিয়া বেগমকে আদালত খালাস দিয়েছেন; তিনি বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ থানার বারইখালি গ্রামের মুজিবুর রহমান ফকিরের স্ত্রী।

    আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোঃ ইয়াসিন আলী নথির উল্লেখে জানান, বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংক শাখায় সৈয়দ শিওন সাইফ ক্যাশ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ২০১১ সালের ৮ ডিসেম্বর থেকে ২০১৫ সালের ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত; আর ব্যবস্থাপক সাফিয়া বেগম শাখায় ছিলেন ২০১৩ সালের ৩ মে থেকে ২০১৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ওই সময়ে তারা পরস্পর যোগসাজসে ব্যাংক শাখার বিভিন্ন ঋণ হিসেবে কাল্পনিক পোস্টিং (ভাউচার ছাড়া কম্পিউটারে এন্ট্রি) করে ২৩ লাখ ১০ হাজার টাকা মূল্যের দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়।

    ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক দীপক কুমার কুন্ডু বাদী হয়ে মোরেলগঞ্জ থানায় মামলা নং-১১ দায়ের করেন। ২০১৭ সালের ২০ জুলাই দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক আবুল হাসেম কাজী অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেছেন অ্যাডভোকেট মোঃ আবুল হোসেন হাওলাদার। আদালতের রায়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় উপরের সাজা ও জরিমানা কার্যকর করা হয়।

  • পদত্যাগ ভাবিনি, নির্বাচনে অংশ নেব: তামিম ইকবাল

    পদত্যাগ ভাবিনি, নির্বাচনে অংশ নেব: তামিম ইকবাল

    আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার পর সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের নেতৃত্বে গঠিত ১১ সদস্যের অ্যাড-হক কমিটি কয়েক দিন আগে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এই কমিটির প্রধান দায়িত্ব আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করা।

    অ্যাড-হক কমিটির সভাপতি হিসেবে তামিম ইতোমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন তিনি আসন্ন নির্বাচনে লড়বেন। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) মিরপুর শের-ই-বাংলায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তামিম বলেছেন, নির্বাচনের আগে তিনি পদত্যাগের কথা ভাবছেন না।

    তিনি জানিয়েছেন, আগামী রোববার (৩ মে) বিসিবির বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হবে; সেই সভায় পরের নির্বাচনের তারিখ ও সিডিউল ঠিক করা হবে। তামিম বলেন, ‘‘পদত্যাগের কথা আমি ব্যক্তিগতভাবে চিন্তা করিনি, আমি অবশ্যই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব। গঠনতন্ত্রে যেটা অনুমোদন দেবে আমি সেটাই অনুসরণ করব। অ্যাড-হক কমিটি থেকে পদত্যাগ করার কথা চিন্তাই করিনি। প্রথম দিন থেকেই আমি বলেছি আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো।’’

    তিনি আরও যোগ করেছেন, ‘‘ফেয়ার ইলেকশন নিয়ে আমরা এত কথা বলেছি, আমি আশা করি আমাদের অধীনে ইনশাআল্লাহ ফেয়ার ইলেকশন হবে।’’

    সংবাদ সম্মেলনে তামিম নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং গঠনতন্ত্র মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেন বলে জানান।

  • দেশে ফেরাতে সেভাবে কেউ উদ্যোগ নেয়নি: সাকিব

    দেশে ফেরাতে সেভাবে কেউ উদ্যোগ নেয়নি: সাকিব

    সাকিব আল হাসান বিশ্বকাপ-সংলগ্ন অপেক্ষাকে শেষ করতে পারেন বছরের শেষ নাগাদ — এমনটাই জানালেন তিনি নিজেই। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেন, ২০২৬ সালের শেষের দিকে তিনি দেশে ফিরতে পারবেন বলে আশাবাদী। এতে তার দীর্ঘদিনের ভক্তদের প্রত্যাশা জাগছে।

    সংবাদমাধ্যমকে সাকিব জানান, ২০২৪ সালের আগস্টের অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশের ফিরতি পথ জটিল হয়ে পড়েছে। একজন আলাদা পরিচয়ে — ‘আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য’ হিসেবে — তার অবস্থান আর আগের মতো স্বচ্ছ নয়। মামলার শঙ্কায় তিনি ঝুঁকি নেননি এবং বর্তমানে পরিবারকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। তবে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে ক্রিকেট ও ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেছেন, কবে দেশে ফিরবেন তা এতদিন স্পষ্ট করে বলেননি।

    দ্য হিন্দুকে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যৎ কী হবে তা এখনো পুরোপুরি ভাবিনি। তবে আমি মনে করি এ বছরের শেষদিকে সবকিছু সহজ হয়ে যাবে। এখন শুধু দোয়া করছি। একটা বিষয় নিশ্চিত, যেকোনোভাবে আমাকে বাংলাদেশে ফিরতেই হবে। প্রশ্ন শুধু কত দ্রুত সেটা হবে। আমি আশাবাদী যে এ বছরের শেষ নাগাদ ফিরতে পারব’।

    সাকিব নিজেই বুঝিয়েছেন কেন এতদিন নির্দিষ্ট করে কথা বলছিলেন না। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ব্যাপারটা হলো, যেকোনো কিছু যেকোনো সময় বদলে যেতে পারে। আগামীকাল কী হবে, তা বলা যায় না। এজন্যই এখন আমি আশাবাদী যে দেশে ফিরতে পারব। কী হতে পারে, তা নিয়ে অনেক বেশি ভাবছি না। পরিবারের সঙ্গে আছি, যখন খেলার সুযোগ পাচ্ছি খেলছি। কিন্তু বাংলাদেশে যাওয়ার ব্যাপারটা আমার হাতে নেই; আমি সমাধান খুঁজে যাচ্ছি।’

    আরও এক সাক্ষাৎকারে (স্পোর্টসস্টার) সাকিব বলেন, ‘আগের বোর্ড সত্যিই আমাকে ফেরানোর ইচ্ছে প্রকাশ করেছিল। কিন্তু মুখে বলা আর সেটাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া— দুটির মধ্যে অনেক পার্থক্য থাকে। এখনো শুনি সবাই আমাকে ফেরাতে চায়, কিন্তু দুঃখের বিষয়, সত্যিই কেউ তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি।’

    তিনি আরও জোর দিয়েছেন যে নিজেকে কেবল একটি বিদায়ী ম্যাচ দিয়েই বিদায় জানাতে চান না। ‘আমি এখনো ফিট আছি এবং দলকে অবদান রাখতে চাই। যতদিন আমি দলকে ইউনিট হিসেবে সাহায্য করতে পারব, খেলতে চাই। যখন মনে হবে আমি বোঝা হয়ে যাচ্ছি, তখনই আর খেলব না,’— বলেছেন সাকিব।

    এক পর্যায়ে কানাডায় এক সমর্থকের ‘দেশের জন্য কী করেছেন?’ প্রশ্ন তাকে আহত করেছিল। সাকিব বলেছিলেন, দুই দশক ধরে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার পর এমন প্রশ্ন শুনে তিনি বিস্মিত হন এবং পরে মনে হয় এসব পরিকল্পিত ছিল।

    ক্রিকেট ছাড়া ভবিষ্যতে রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার ইচ্ছাও পুনরায় জানিয়েছেন সাকিব। পাশাপাশি তিনি কোচিং বা ম্যাচ রেফারির মতো ভূমিকাতেও নিজেকে দেখতে চান।

    বর্তমানে পরিস্থিতি অনিশ্চিত থাকলেও সাকিবের ভাষায় আশা ও ইচ্ছা স্পষ্ট: তিনি দেশে ফিরবেন এবং যতদিন পারেন দলের জন্য খেলবেন—এটাই তার লক্ষ্য।

  • প্রথমবার নির্বাচনে থালাপতি বিজয়ের দল পেতে পারে ৯৮–১২০ আসন: বুথফেরত জরিপ

    প্রথমবার নির্বাচনে থালাপতি বিজয়ের দল পেতে পারে ৯৮–১২০ আসন: বুথফেরত জরিপ

    তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর এখন সবার নজর পড়েছে বুথফেরত জরিপে। রাজ্যের রাজনৈতিক চিত্রে এ বার সবচেয়ে বড় চমক হচ্ছেন দক্ষিণী সুপারস্টার থালাপতি বিজয় ও তাঁর নতুন দল তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম (টিভিকে)। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী এম. কে. স্টালিনকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেই মাঠে নামা এই অভিনেতা মুহূর্তেই রাজ্য রাজনীতিতে আলোড়ন তৈরি করেছেন।

    নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জনসভায় বিজয়ের বিশাল সমর্থক সমাগম রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিয়েছে। বহু ভোটারকে অনুপ্রাণিত করে জনসমর্থন উঠে এসেছে, আর তাই বুথফেরত জরিপগুলোর ফলাফলে এখন নতুন রাজনৈতিক সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেখা দিচ্ছে।

    কয়েকটি সংস্থার বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নেওয়া টিভিকে দলটি ৯৮ থেকে ১২০টি আসন পেতে পারেঃ যদি এইটা বাস্তবে অর্থ বহন করে, তামিলনাড়ুর রাজনীতি একটি নতুন দিগন্তে পৌঁছে যাবে বলে রাজ্যের মানুষ মনে করছেন।

    অন্যদিকে পিপলস পালস ও পিপলস ইনসাইটের জরিপে দেখা গেছে ডিএমকে ও তাদের জোট ১২০ থেকে ১৪৫টি আসনের মধ্যে থাকতে পারে, আর এআইএডিএমকে জোট পেতে পারে প্রায় ৬০ থেকে ৮০টি আসন — যে ছবিটি তাতে একটি শক্ত উত্তরবাই পড়ে।

    প্রজা পোল এবং পি-মার্ক বেশি মনোগ্রাহী ফল দেখিয়েছে ডিএমকে জোটকে এগিয়ে রেখে। প্রজা পোল যেখানে টিভিকেকে মাত্র ১ থেকে ৯টি আসন দিয়েছে, পি-মার্ক বলছে টিভিকে পেতে পারে ১৬ থেকে ২৬টি আসন। ম্যাট্রিক্স এবং জেভিসি’র জরিপগুলোতে ডিএমকে ও এআইএডিএমকে জোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলেছে।

    তবে কামাখ্যা অ্যানালিটিক্স একটু ভিন্ন ছবি দেখিয়েছে — তাদের জরিপে দেখা গেছে যদি টিভিকে ৬৭ থেকে ৮১টি আসন পায়, তাহলে তারা রাজ্য সরকার গঠনে বড় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হতে পারে, অর্থাৎ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হতে পারে বিজয়ের দল।

    সব মিলিয়ে বুথফেরত জরিপগুলো রাজ্যের রাজনীতি এখনও অনিশ্চিত রেখেছে। বিভিন্ন সংস্থার ভিন্ন-মত ছাড়াও ভোটারের অনুপ্রেরণা এবং গ্রামে-শহরে রূপ নেওয়া প্রবণতা শেষ ফলাফল পর্যন্ত বড় ভূমিকা রাখবে।

    নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, ২৩ এপ্রিল তামিলনাড়ুর ২৩৪টি আসনে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। বিকেল ৫টা পর্যন্ত মোট ভোটার উপস্থিতির হার ছিল ৮২.২৪ শতাংশ। এখন অপেক্ষা সরকারের গঠন ও চূড়ান্ত ফলাফল—আর সেই পর্যন্ত রাজ্যের রাজনৈতিক বাতাসে উত্তেজনা বিরামহীন থাকবে।

  • আসামের মুখ্যমন্ত্রীর বিতর্কিত মন্তব্যে ঢাকায় কড়া প্রতিবাদ, হাইকমিশনারকে তলব

    আসামের মুখ্যমন্ত্রীর বিতর্কিত মন্তব্যে ঢাকায় কড়া প্রতিবাদ, হাইকমিশনারকে তলব

    ঢাকা আক্রমণাত্মক মন্তব্য দাঁড় করাতে cijjh? — correction: likely a stray — I’ll produce final JSON without stray

    ঢাকা আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সম্প্রতি করা আপত্তিকর মন্তব্য সম্পর্কে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পবন কুমার ভাদেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে বাংলাদেশের ওই প্রতিবাদ জানানো হয় এবং একটি কূটনৈতিক নোট হস্তান্তর করা হয়।

    ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগে ডেকে এনে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানানো হয়। এইজন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দপ্তরে রাজ্যপাল ইশরাত জাহান পড়েছিলেন।

    ঘটনাচক্রে আসামের মুখ্যমন্ত্রী একটি টিভি সাক্ষাৎকারে (এবিপি লাইভ) প্রশ্নের উত্তরে বলেন, বাংলাদেশের ‘উৎসের’ সন্দেহভাজন অনিবন্ধিত ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানো ভারতের জন্য নিয়মতান্ত্রিকভাবে কঠিন। তিনি মন্তব্য করেন যে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ রাত অবধি অপেক্ষা করে এবং যখন সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কেউ উপস্থিত থাকে না, তখন অন্ধকারে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের সীমান্তে ঠেলে দেয়া হয়।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কূটনৈতিক পত্রে উল্লেখ করেছে, আসামের মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের পরিপ্রেক্ষিতে অবমাননাকর ও বিভ্রান্তিকর। বিশেষ করে যে জাতীয় ‘পুশব্যাক’ বা সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বলা হয়েছে, তা বাংলাদেশ সরকার অনাকাঙ্ক্ষিত ও অগ্রহণযোগ্য বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

    কূটনৈতিক নোটে আরও বলা হয়েছে, স্পর্শকাতর দ্বিপাক্ষিক ইস্যুতে কোন প্রকার তথ্য-প্রমাণ ছাড়া জনসমক্ষে এমন মন্তব্য করা দুই দেশের সম্পর্কের পক্ষে সহায়ক নয়। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ ও সীমান্ত সংক্রান্ত যে কোনো সমস্যার সমাধান আন্তর্জাতিক বিধি এবং বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক কাঠামোর মাধ্যমে চায়।

    ঢাকা হাইকমিশনারের মাধ্যমে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের প্রত্যেককে এমন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে, যেগুলো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারে। হাইকমিশনার পবন কুমার ভাদা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য গ্রহণ করেছেন এবং তা তাঁর সরকারের নিকট পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

    দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সংবেদনশীল বিষয়গুলো কূটনৈতিক চ্যানেল ও আলোচনা-সমাধানের মাধ্যমে মোকাবিলা করার ওপর জোর দিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সংযম ও সংলাপের আহ্বান করা হয়েছে।

  • বিদ্যুৎ বিভাগের দাবি: দুই দিন দেশে লোডশেডিং ছিল না

    বিদ্যুৎ বিভাগের দাবি: দুই দিন দেশে লোডশেডিং ছিল না

    বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, দেশের কোথাও টানা দুই দিন লোডশেডিং হয়নি। তাদের দাবি, গত মঙ্গলবার ও বুধবার (২৮ ও ২৯ এপ্রিল) সারাদেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে বিদ্যুৎ বিভাগ।

    এর আগে গত ২৭ এপ্রিল বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছিলেন যে পরবর্তী সপ্তাহ থেকে দেশে বিদ্যুতের পরিস্থিতি উন্নত হবে এবং লোডশেডিং কমে আসবে।

    তবে কিছুদিন আগেই, ২৩ এপ্রিল বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্মসচিব উম্মে রেহানা জানিয়েছিলেন যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধজনিত পরিস্থিতির কারণে প্রয়োজনীয় জ্বালানি আমদানিতে বিঘ্ন ঘটেছে। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ দেয়া যাচ্ছিল না।

    এই পরিস্থিতিতে গ্রাম ও শহরের মধ্যে লোডশেডিং সমন্বয় করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, রাজধানী ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে প্রতি এলাকায় ১১০ মেগাওয়াট করে লোডশেডিং চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং প্রয়োজনে শহরেও লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যাতে বৈষম্য কমানো যায়।

  • সংবিধান সংস্কারের দাবিতে ১১ দলের নতুন কর্মসূচি, খুলনায় বিভাগীয় সমাবেশ ২০ জুন

    সংবিধান সংস্কারের দাবিতে ১১ দলের নতুন কর্মসূচি, খুলনায় বিভাগীয় সমাবেশ ২০ জুন

    সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।

    জোটটি জানিয়েছে, ১৬ মে রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হবে এবং পরবর্তীতে দেশের সব বিভাগীয় শহরে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। খুলনায় প্রথম ধাপে ইতিবাচক সমাবেশের দিন ধার্য করা হয়েছে ২০ জুন।

    বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলের বৈঠকের পর এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ।

    হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সংবিধান সংস্কারের পক্ষে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ রায় দিয়েও সরকার সেই জনভোটকে উপেক্ষা করছে। নির্বাচনের আগেই প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন সরকার সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভরসায় সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ এড়িয়ে ছলচাতুরি করছে।

    জোটের ঘোষিত বিভাগীয় সমাবেশের সূচি মতে: ১৬ মে রাজশাহী; ১৩ জুন চট্টগ্রাম; ২০ জুন খুলনা; ২৭ জুন ময়মনসিংহ; ১১ জুলাই রংপুর; ১৮ জুলাই বরিশাল এবং ২৫ জুলাই সিলেট।

    আযাদ বলেন, আসন্ন ঈদুল আজহার কারণে মে মাসে কেবল একটি বিভাগীয় সমাবেশ রাখা হয়েছে; ঈদের ছুটির পর জুন থেকে পূরোদমে আন্দোলন ও সমাবেশ পুনরায় শুরু হবে। প্রতিটি বিভাগীয় সমাবেশে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সব জেলা ও মহানগরের নেতা-কর্মী এবং সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করা হবে।

    তিনি আরও জানান, বিভাগীয় সমাবেশের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় সভারও আয়োজন করা হবে। বিশেষ করে শিক্ষক, আইনজীবী, চিকিৎসক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথোপকথনের মাধ্যমে জনমত গঠন করা হবে। দেশের সাতটি বিভাগে বিষয়ভিত্তিক সেমিনারও চালানো হবে।

    সরকারকে উদ্দেশ্য করে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক বলেন, জনগণের রায় নিয়ে ‘‘ছিনিমিনি খেলা’’ চলছে এবং এ অবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও জোরালো করতে হবে। তিনি ছাত্র সমাজকেও এই আন্দোলনে সক্রিয় ও সজাগ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

    জোটের বক্তব্য অনুযায়ী, ‘গণভোট অনুমোদিত জুলাই আদেশ’ অনুসারে সংবিধান সংস্কারের দাবিতে বর্তমানে তাদের দুই সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি চলছে। গত ১৮ এপ্রিল রাজধানীতে এবং ২৫ এপ্রিল অন্যান্য মহানগরে ১১ দল গণমিছিল করেছে। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী আগামী ২ মে দেশের সব জেলা শহরে গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে।

    বৈঠক ও ব্রিফিংয়ে দলীয় নেতৃত্বের এই বার্তা— সংবিধানভিত্তিক দাবি বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে এবং বৃহত্তর অংশগ্রহণের মাধ্যমে সরকারের পরিকল্পিত কৌশলকে প্রতিহত করা হবে।