Blog

  • পবিত্র ঈদুল ফিতর আজ দেশজুড়ে উদযাপন

    পবিত্র ঈদুল ফিতর আজ দেশজুড়ে উদযাপন

    এক মাসের ত্যাগ ও ইবাদতের পর শনিবার (২১ মার্চ) দেশের মুসলিম সমাজ আনন্দ ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করবে। রাজধানীসহ সারাদেশে লাখ লাখ মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায়ের প্রস্তুতি নিয়েছেন। দুর্যোগজনিত কোনো বাধা শঙ্কা থাকা সত্ত্বেও জাতীয় ঈদগাহসহ বড় ময়দান ও মসজিদগুলোতে জামাতের সব ব্যবস্থা সম্পন্ন হয়েছে।

    এবার প্রধান ঈদজামাত অনুষ্ঠিত হবে সকালে সাড়ে আটটায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। যদি আবহাওয়ার কারণে তা সম্ভব না হয়, তবে সকাল ৯টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। বায়তুল মোকার্রমের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক প্রধান ইমামত করবেন; তার অনুপস্থিতিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফাসসির ড. মাওলানা মো. আবু ছালেহ পাটোয়ারী বিকল্প ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

    স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় ঈদগাহে দেশের মানুষকে নিয়ে প্রধান জামাতে অংশ নেবেন। জাতীয় ঈদগাহে যাবতীয় আয়োজন ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম ঢাকাবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং পরিবারের সঙ্গে প্রধান জামাতে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

    এবার জাতীয় ঈদগাহে তিন হাজার পাঁচ যোজনার নারীসহ মোট ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নারীদের জন্য আলাদা গেট, ওজু ও নামাজের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সাধারণ মুসল্লিদের সুবিধার্থে পর্যাপ্ত ওজুখানা ও জরুরি চিকিৎসা টিমও ময়দানে মোতায়েন থাকবে।

    নিরাপত্তা বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার বলেছেন, জামাতকে কেন্দ্র করে কোনো নির্দিষ্ট সন্ত্রাসী বা নিরাপত্তা ইস্যু পাওয়া যায়নি; তবুও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ সতর্কতা গ্রহণ করা হয়েছে। পুরো ঈদগাহ ও আশপাশ সিসিটিভি ক্যামেরা দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হবে। মৎস্য ভবন, প্রেসক্লাব ও শিক্ষা ভবন মোড়ে ব্যারিকেড দিয়ে যানবাহন প্রবেশ রোধ করা হবে। প্রবেশমুখে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর স্থাপন করা হবে; ডগ স্কোয়াড ও স্পেশাল ব্রাঞ্চের সুইপিং টিম মোতায়েন থাকবে। প্রধান জামাতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিচারপতিগণ, মন্ত্রিসভার সদস্য ও বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের অংশগ্রহণের আশা করা হচ্ছে।

    ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) আগারগাঁওয়ের পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে সকাল ৮টায় কেন্দ্রীয় ঈদ জামাত আয়োজন করেছে। প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান নগরবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে পরিবারের সঙ্গে অংশগ্রহণের অনুরোধ করেছেন। সেখানে তিনটি গেট, নারীদের জন্য পৃথক প্রবেশপথ ও নামাজের ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত ওজুসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে ডিএমপির পক্ষ থেকে দুই প্লাটুন পুলিশ মোতায়েন করা হবে।

    জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে গতানুগত্যে পাঁচটি জামাত আয়োজন করা হয়েছে — সকাল ৭টা, ৮টা, ৯টা, ১০টা ও বেলা পৌনে ১১টায়। বিভিন্ন জামাতে দায়িত্ব পালন করবেন- প্রথম জামাতে সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান, দ্বিতীয় জামাতে মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী, তৃতীয় জামাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মাওলানা মো. জাকির হোসেন, চতুর্থ জামাতে ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির মাওলানা যোবায়ের আহমেদ আল আযহারী এবং পঞ্চম জামাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ইমামত করবেন। বিকল্প ইমাম হিসেবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারী লাইব্রেরিয়ান মাওলানা শহীদুল ইসলাম প্রস্তুত থাকবেন।

    জাতীয় সংসদ দক্ষিণ প্লাজায় ঈদের জামাত সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে; এ জামাতে সংসদের স্পিকার, হুইপ ও সাংসদরা, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সবাই অংশ নিতে পারবেন। জামাত সাধারণ জনগণের জন্যও উন্মুক্ত।

    খুলনায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে সকাল ৮টায়; দ্বিতীয় জামাত সকাল ৯টায় ও তৃতীয় জামাত সকাল ১০টায় খুলনা টাউন জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে এসব জামাত শরীরের ভেতরে স্থানান্তর করা হবে বলে জানানো হয়েছে। শহরের বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে পৃথক সময়ে জামাত আয়োজন করা হয়েছে; কিছু কেন্দ্রীয় স্থানে মহিলাদের পৃথক নামাজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

    খুলনা সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে প্রতিটি ওয়ার্ডে আলাদা করে জামাতের ব্যবস্থা করা হয়েছে; উপজেলার কমিটিগুলোও নিজ উদ্যোগে সময় নির্ধারণ করেছে। ঈদ উপলক্ষে নগরীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় টহল জোরদার করা হবে। তাছাড়া আতশবাবি ও পটকা ফোাটা, রাস্তায় স্টল বসানো, উচ্চস্বরে মাইক বা ড্রাম বাজানো, রঙিন পানি ছিটানো ও বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    ঈদ উদযাপনের সুবিধার্থে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু সদন, বৃদ্ধ নিবাস, পুনর্বাসন কেন্দ্র, আশ্রয়কেন্দ্র, সেফ হোম ও অন্যান্য সামাজিক সেবাকেন্দ্রে উন্নত মানের খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সাধারণভাবে বলা যায়, এবারও ঈদ উদযাপন শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। মহান আল্লাহর কাছে প্রত্যেকের জন্য আনন্দ, শান্তি ও সুস্বাস্থ্যের প্রার্থনা করা হচ্ছে।

  • খুলনায় ধর্মীয় মর্যাদা ও উৎসাহের সঙ্গে পালিত পবিত্র ঈদুল ফিতর

    খুলনায় ধর্মীয় মর্যাদা ও উৎসাহের সঙ্গে পালিত পবিত্র ঈদুল ফিতর

    যথাযোগ্য মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে আজ শনিবার খুলনায় পবিত্র ঈদুল ফিতর সজিভভাবে উদযাপিত হলো। ভোর থেকেই শহরজোড়া উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল—বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং প্রধান সড়কগুলো বাংলা ও আরবি ভাষায় লেখা ‘ঈদ মোবারক’ ব্যানারে সাজানো ছিল।

    ঈদের প্রধান জামাত সকাল আটটায় খুলনা টাউন জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে ইমামতি করেন টাউন জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মোহাম্মদ সালেহ। সকাল নয়টায় দ্বিতীয় ও দশটায় তৃতীয় জামাত একই মসজিদে আয়োজন করা হয়। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনাসহ বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরে উপস্থিত মুসল্লীরা একে অপরের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

    ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মখতার আহমেদ, কেসিসি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকারসহ প্রশাসনিক উর্দ্ধতনরা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বও স্থান নেন এবং প্রচুর ধর্মভীরু মানুষ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

    শহরের অন্যান্য প্রধান মসজিদে নিয়ন্ত্রিত সময়সূচি অনুযায়ী জামাত অনুষ্ঠিত হয়—খুলনা আলিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন মডেল মসজিদ ও বয়রা মডেল মসজিদে সকাল সাড়ে আটটায় জামাত হয়েছে। খালিশপুর জামে মসজিদ ও বসুপাড়া ইসলামাবাদ জামে মসজিদে সকাল আটটায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া খুলনা সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডে পৃথকভাবে নির্ধারিত সময়ে আয়োজিত জামাতে হাজারীব্যাপী মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন।

    নগরের বিভিন্ন পয়েন্টে বিশেষভাবে আয়োজিত জামাতের মধ্যে ছিল নিউমার্কেট সংলগ্ন বায়তুন-নুর জামে মসজিদ, ডাকবাংলা জামে মসজিদ, ময়লাপোতা বায়তুল আমান জামে মসজিদ, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় জামে মসজিদ, সোনাডাঙ্গা হাফিজনগর জামে মসজিদ, খুলনা ইসলামাবাদ জামে মসজিদ, পিটিআই জামে মসজিদ, পশ্চিম টুটপাড়া আশরাফিয়া জামে মসজিদ, রহমানিয়া জামে মসজিদ, জাতিসংঘ শিশু পার্ক সংলগ্ন মসজিদ, কেডিএ এলাকার মসজিদ, নিরালা জামে মসজিদ, সিদ্দিকীয়া মাদ্রাসা, দারুল উলুম মাদ্রাসা, সোনাডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল মসজিদ, রূপসা বায়তুশ শরফ জামে মসজিদ, ফেরিঘাটের আবু বকর সিদ্দিক (রা.) জামে মসজিদ, গোবরচাকা জামে মসজিদ, আড়ংঘাটা, নতুন রাস্তা জামে মসজিদ, দক্ষিণ কাশিপুর জামে মসজিদ, টুটপাড়া, মিয়াপাড়া, শেখপাড়া, বসুপাড়া, জোড়াগেট সিএন্ডবি কলোনী মসজিদ, বয়রা মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন এলাকায় মসজিদ, খালিশপুর ক্রিসেন্ট জুট মিলস মসজিদ, বিএল কলেজ এলাকার মসজিদ, দেয়ানা ও সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার মসজিদ, খানজাহান নগর খালাসী মাদ্রাসা, দৌলতপুর, মহেশ্বরপাশা, খালিশপুর ও খানজাহান আলী থানা এলাকায় হওয়া মসজিদসমূহ উল্লেখযোগ্য।

    ঈদ উপলক্ষে সামাজিক সেবামূলক উদ্যোগও চলমান ছিল। শহরের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল, কারাগার, শিশুসদন, ছোটমনি নিবাস, সামাজিক প্রতিবন্ধী কেন্দ্র, শিশু বিকাশ কেন্দ্র, আশ্রয়কেন্দ্র, সেফহোম, ভবঘুরে কল্যাণ কেন্দ্র ও দুস্থ কল্যাণ কেন্দ্রে বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হয়।

    বাংলাদেশ বেতারের খুলনা কেন্দ্র ঈদ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করে এবং স্থানীয় সংবাদপত্রগুলোও নিজেদের ব্যবস্থাপনায় বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করে। উপকেন্দ্র ও উপজেলা পর্যায়েও অনুরূপভাবে স্থানীয় কর্মসূচি ও জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে স্থানীয়ভাবে মানুষের মধ্যে উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে।

    সারা শহরে ঈদের আনন্দ ও ভ্রাতৃত্ববোধ ছড়িয়ে পড়ে; মুসল্লিরা একে অপরকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে দিনটিকে ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে পালিত করেন।

  • আইপিএলে দুশ্চিন্তা: আকাশপথ অনিশ্চয়তা ও বিদেশি তারকাদের চোট

    আইপিএলে দুশ্চিন্তা: আকাশপথ অনিশ্চয়তা ও বিদেশি তারকাদের চোট

    আইপিএলের শুরু (২৮ মার্চ) ঘিরে এখন দুই ধরনের সমস্যা ফ্র্য়াঞ্চাইজিগুলোর জন্য চাপ বাড়াচ্ছে — মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বিমান পথে যাতায়াতে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বিদেশি খেলোয়াড়দের সময় মতো আনা-নেওয়া জটিল হচ্ছে, এবং একের পর এক ক্রিকেটারের চোট দলগুলোর পরিকল্পনায় বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। এবারের টুর্নামেন্টে বেশ কয়েকজন বিদেশি তারকা বা তো পুরো আসর মিস করছেন, বা শুরুর কয়েকটি ম্যাচে থাকবেন না। নিচে প্রধান কয়েকটি আপডেট দিলাম।

    প্যাট কামিন্স: অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট অধিনায়ক প্যাট কামিন্স সানরাইজার্স হায়দরাবাদের অধিনায়কত্ব করার কথা থাকলেও পিঠে চোটের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে সমস্যায় ভুগছেন। পরিণামে হায়দরাবাদ শুরুতেই নেতৃত্ব ইশান কিষাণের কাঁধে তুলে দিয়েছে। কামিন্স হয়ত টুর্নামেন্টের প্রথম সপ্তাহে যোগ দেবেন — তবে সেটি নিশ্চিত হবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার আনুষ্ঠানিক ফিটনেস আপডেটের পরেই।

    মিচেল স্টার্ক: স্টার্ক বর্তমানে সরাসরি কোনো ইনজুরিতে না থাকলেও অতিরিক্ত কাজের চাপ ও সাম্প্রতিক সিরিজগুলো খেলানোর ফলে তাঁর ফিটনেস নিয়ে সতর্কতা রয়েছে। কামিন্স ও হ্যাজলউডের অনুপস্থিতিতে অ্যাশেজে অস্ট্রেলিয়ার পেস বিভাগ সামলানোর পরে তিনি বিশ্রামে ছিলেন। দিল্লি ক্যাপিটালসও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ইতিবাচক ফিটনেস রিপোর্ট পেলেই মাত্র তাকে দলে স্বাগত জানাতে আগ্রহী।

    জশ হ্যাজলউড: রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর জন্য গতবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা হ্যাজলউড এবার শুরুর কয়েকটি ম্যাচ মিস করতে পারেন। হ্যামস্ট্রিং ও অ্যাকিলিসের চোটে তিনি অস্ট্রেলিয়ার গ্রীষ্মকালীন সিরিজ ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন। বর্তমানে তিনি পুনর্বাসন পর্যায়ে আছেন; ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ফিটনেস টেস্টে উত্তীর্ণ হলে আইপিএলে যোগ দেওয়ার অনুমতি পাবেন।

    নাথান এলিস: সাদা বলের ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য নাথান এলিস হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে পুরো আইপিএল থেকেই বাইরে। চেন্নাই সুপার কিংসের পেস আক্রমণে তাঁর না থাকা বড় ধাক্কা হতে পারে, ফলে দল বিকল্প বোলার খুঁজছে।

    স্যাম কারান: ইংল্যান্ডের অলরাউন্ডার স্যাম কারানকে রাজস্থান রয়্যালস ট্রেডের মাধ্যমে পেয়েছে — কিন্তু গ্রোয়িন ইনজুরির কারণে তিনি সম্ভবত পুরো মৌসুম মিস করবেন। এতে নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজির পরিকল্পনাও প্রভাবিত হবে।

    জ্যাক এডওয়ার্ডস: সানরাইজার্স হায়দরাবাদের দলে অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা অস্ট্রেলিয়ান পেসার জ্যাক এডওয়ার্ডস পায়ের চোটে পুরো টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছেন। এর ফলে হায়দরাবাদের বোলিং অপশনেও বড় ফাঁক পড়েছে।

    লকি ফার্গুসন: পাঞ্জাব কিংসের কিউই পেসার লকি ফার্গুসন ব্যক্তিগত কারণে আইপিএলের শুরুটা মিস করবেন — সম্প্রতি তিনি বাবা হয়েছেন এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে চান। ঘটনার প্রেক্ষিতে তিনি টুর্নামেন্টের শেষ দিকেই দলে যোগ দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

    মোটকথা, এই সব অনিশ্চয়তা ও চোটের খবর ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর জন্য বড় মাথাব্যথা। দলের শুরুর একাদশে পরিবর্তন, বিকল্প খেলোয়াড় খোঁজা এবং জরুরি কভার প্ল্যান তৈরি করতে এখনই তৎপর হতে দেখা যাচ্ছে দলগুলিকে। একই সঙ্গে আকাশপথে চলমান নিরাপত্তাজটিলতা আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়দের সময়মতো পৌঁছে দেওয়া নিয়ে অতিরিক্ত রীতিনীতি ও ব্যাবস্থাপনা দাবি করছে।

  • পিএসএলে খেলতে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত এনওসি পেলেন মুস্তাফিজ-শরিফুলসহ পাঁচ বাংলাদেশি

    পিএসএলে খেলতে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত এনওসি পেলেন মুস্তাফিজ-শরিফুলসহ পাঁচ বাংলাদেশি

    পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) খেলতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পাঁচ ক্রিকেটারকে অনাপত্তি পত্র (এনওসি) জারি করেছে। আগামী ২৬ মার্চ থেকে শুরু হওয়া টুর্নামেন্টে তারা অংশ নিতে পারবেন, তবে এনওসি সীমিত করে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে।

    সরকারি সূত্র ও ঢাকাপোস্টকে বিসিবির এক বিশ্বস্ত ব্যক্তি নিশ্চিত করেছেন যে—মুস্তাফিজুর রহমান, রিশাদ হোসেন, নাহিদ রানা, পারভেজ হোসেন ইমন এবং শরিফুল ইসলাম সবাইকে এনওসি দেওয়া হয়েছে। তবে নিউজিল্যান্ডের বাংলাদেশ সফরকে সামলে নিতে বোর্ড তাদের ছাড়পত্র সীমিত সময়ের জন্য দিয়েছে।

    পিএসএলে সরাসরি চুক্তিতে লাহোর কালান্দার্সে গিয়েছেন বাঁ-হাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। নিলামে নামতে পারার পর রিশাদ হোসেন, নাহিদ রানা ও পারভেজ ইমনকে দল পায়। সর্বশেষ পঞ্চম বাংলাদেশি হিসেবে কয়েক দিন আগে প্রথমবারের মতো ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের ডাক পেয়েছেন শরিফুল ইসলাম। যদি সবকিছু ঠিক থাকে, নাহিদ রানাকে দেখা যাবে পেশোয়ার জালমির জার্সিতে।

    লাহোরে মুস্তাফিজের সঙ্গে একাই থাকবেন না—পারভেজ ইমনও লাহোর কালান্দার্সের খেলোয়াড়। রিশাদ হোসেনকে ক্যাম্পে পাওয়া যাবে রাওয়ালপিন্ডির (পিন্ডিজ) হয়ে। ফলে একাধিক ম্যাচে জাতীয় দলের সতীর্থরা একে অপরের বিরুদ্ধে নামতে পারেন।

    টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে ২৬ মার্চ লাহোর কালান্দার্স মুখোমুখি হবে হায়রাবাদ হিউস্টনের সঙ্গে; অর্থাৎ প্রথম দিনেই মাঠে নামার সুযোগ আছে মুস্তাফিজ ও ইমনের। আর ২৮ মার্চের ম্যাচে নামবেন রিশাদ, নাহিদ ও শরিফুল—যদি তিনজনই একাদশে থাকেন, তাহলে পেশোয়ার জালমি (নাহিদ ও শরিফুল) রাওয়ালপিন্ডির বিপক্ষে লড়বে, যেখানে রিশাদ থাকতে পারেন।

    বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন ফাহিমও এ বিষয়ে কয়েক দিন আগে কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, ওয়ানডে সিরিজে দলের প্রয়োজন বিবেচনায় রাখাই তাদের অগ্রাধিকার; যেখানে একজন খেললে তার টি-টোয়েন্টি উন্নতির জন্য উপকার হবে এবং পাশাপাশি আমাদের উপযুক্ত বিকল্প থাকলে সেই খেলোয়াড়কে ছাড় দেওয়া হবে। অর্থাৎ দেশের প্রতিনিধিত্ব ও সিরিজ কর্তৃক বাধ্যবাধকতা মাথায় রেখে সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নিউজিল্যান্ড দলের বাংলাদেশে আসা তিন ম্যাচ ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে—তাই পিএসএল থেকে ফিরে আগে স্থানীয় সিরিজে অংশ নেওয়ার জন্য মুস্তাফিজ, রিশাদ ও অন্যরা বাংলাদেশে ফিরবেন।

    সংক্ষেপে, পিএসএলে খেলতে বিসিবি থেকে সীমিত মেয়াদের এনওসি পাওয়া গেলেও জাতীয় দলে খেলোয়াড়দের উপস্থিতি ও জাতীয় সিরিজের গুরুত্ব সবার আগে রাখা হয়েছে।

  • ১৪ কনসার্টে দিলজিৎ আয় ৯৪৩ কোটি, কনসার্টে তৈরি হলো বিশাল অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেম

    ১৪ কনসার্টে দিলজিৎ আয় ৯৪৩ কোটি, কনসার্টে তৈরি হলো বিশাল অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেম

    কনসার্ট শুধু গান আর আলো-ঝলক নয়—এটা এখন বড় একটা অর্থনীতির নাম। সেই বাস্তবতাই প্রমাণ করলেন পপ তারকা দিলজিৎ দোসাঞ্জ। ১৪টি শোতে ১৩টি শহরে অনুষ্ঠিত ডিল-লুমিনাটি ট্যুর থেকে মোট আয় দাঁড়ালো প্রায় ৯৪৩ কোটি টাকা।

    এই আয়গুলো বিভিন্ন উৎস থেকে এসেছে। টিকিট বিক্রি থেকে এসেছে ২২১ কোটি, স্পনসরশিপ থেকে ৩৩ কোটি এবং সরাসরি কর ও ফিসহ সরকারি রাজস্ব হয়েছে ১১৪ কোটি টাকারও বেশি। প্রতিটি শো একেকটি মিনি-অর্থনীতির মতো কাজ করেছে—শিল্পকলা ও বিনোদন থেকে শুরু করে স্থানীয় ব্যবসা-ব্যবসায় পর্যন্ত প্রভাব ফেলেছে।

    কিন্তু সবচেয়ে চমকপ্রদ ছিল পরোক্ষ অর্থনৈতিক প্রভাব। ভ্রমণ, হোটেল, খাবার, শপিং ও স্থানীয় সেবাসমূহ মিলিয়ে তৈরি হয়েছে প্রায় ৫৫৩ কোটি টাকার অর্থনৈতিক প্রভাব। জরিপ অনুযায়ী দর্শকদের প্রমাণিত প্রায় ৩৮% অন্য শহর থেকে এসে কয়েক দিন অতিরিক্ত থেকেছেন, ফলে কনসার্ট শহুগুলোতে পর্যটন ও ব্যবসায় তফাৎ পরিমিত বৃদ্ধি পেয়েছে।

    ভক্তপ্রবাহও অভূতপূর্ব—১৪টি শোতেই মোট দর্শকসংখ্যা ৩,২০,০০০-এর ওপরে, আর দিল্লির এক কনসার্টে ছিল প্রায় ৫৫,০০০ দর্শক। প্রতিটি শো আগেই হাউসফুল ঘোষণা করা হয়েছিল। যদিও বিশ্বব্যাপী শীর্ষ তারকাদের সঙ্গেও তুলনা করলে এখনও কিছুটা পথ বাকি, তবু এই সাফল্য দিলজিৎকে বৈশ্বিক ট্যুরিং মানচিত্রে শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছে।

    শুধু আয় নয়, এই ট্যুর নতুন কর্মসংস্থানের দরজা খুলেছে। প্রায় ১,১৮,০০০ কর্মঘণ্টার কাজ সৃষ্টির মাধ্যমে লজিস্টিকস, নিরাপত্তা, প্রোডাকশন ও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট দাঁড়িয়েছে সরব। অর্থাৎ একেকটি কনসার্ট এখন কেবল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়—এটি সম্পূর্ণ এক অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেম, যে শহরগুলোতে গিয়েছে সেগুলোর স্থানীয় অর্থনীতিকে নতুন করে স্তিমিত করেছে।

    সংক্ষেপে, দিলজিৎ দোসাঞ্জের ডিল-লুমিনাটি ট্যুর দেখিয়েছে—লাইভ মিউজিক শুধুই বিনোদন নয়, এটি কর্মসংস্থান, রাজস্ব ও স্থানীয় বাণিজ্যের শক্তিশালী উৎস।

  • আসুন সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করি: বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান

    আসুন সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করি: বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান

    বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সকল মুসলমানের প্রতি আন্তরিক ঈদ মোবারক। তিনি দেশবাসীকে আহ্বান জানান ঈদের আনন্দ দুঃস্থ ও সুবিধাবঞ্চিতদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে, যাতে এই উৎসবের রং সবার জীবনেই ছড়িয়ে পড়ে।

    শুক্রবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে এক বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।

    তারেক রহমান বলেন, ঈদুল ফিতর মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসবগুলোর একটি। মাসব্যাপী রোজা, সিয়াম সাধনা ও আত্মসংযমের পর এ উৎসব আমাদেরকে আনন্দ, শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা দেয়। রমজান মাস ভগবানভক্তি, ত্যাগ এবং পরোপকারের অনন্য শিক্ষা দেয়; এ শিক্ষা আমাদেরকে সহমর্মিতা এবং সমাজের অসহায়দের কষ্ট বুঝতে শেখায়।

    তিনি বলেন, রোজার শিক্ষা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে প্রতিফলিত না হলে ঈদের প্রকৃত তাৎপর্য পূর্ণ হবে না। তাই ঈদকে হাতিয়ার করে সকল ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে উঠে পারস্পরিক ভালোবাসা ও সহমর্মিতার বন্ধনকে শক্তিশালী করতে হবে।

    ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার পরামর্শ দিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘‘এই আনন্দোর দিনে আমরা যেন দরিদ্র, অস্বচ্ছল ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের পাশে দাঁড়াই এবং তাদের সঙ্গে ঈদের খুশি ভাগ করে নিই—এই প্রত্যয়ই হোক আমাদের অঙ্গীকার।’’

    তিনি আশা প্রকাশ করেন, পবিত্র ঈদুল ফিতর জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহমর্মিতাকে আরও দৃঢ় করে তুলবে। পাশাপাশি তিনি সবাইকে মিলেমিশে একটি মানবিক, উন্নত, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে কাজ করার আহ্বান জানান।

    শেষে তিনি ঈদের আনন্দ, রহমত ও বরকত সবার জীবনে বর্ষিত হওয়া এবং দেশ-জাতির শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া জানান।

  • জামালপুরে ভাঙা ড্রাম ব্রিজে পড়ে শতাধিক মানুষ, ৩ শিশু নিহত

    জামালপুরে ভাঙা ড্রাম ব্রিজে পড়ে শতাধিক মানুষ, ৩ শিশু নিহত

    জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে শনিবার (২১ মার্চ) বিকেলে একটি ড্রাম ব্রিজ ভেঙে পড়ে ব্রহ্মপুত্র নদে শতাধিক মানুষ ছিটকে পড়েছেন। ঈদের দিন বিকেলে ঘুরতে আসা ভিড় ও ব্রিজের দুর্বলতা মিলিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

    ঘটনায় তিন শিশু নিহত হয়েছেন এবং আরও দুই শিশু এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্টরা। নিহত শিশুরা হলো— কালুরচর এলাকার শের আলীর ছেলে আব্দুল মোতালেব (৬), একই এলাকায় শের আলীর মেয়ে খাদিজা (১২) এবং ডাকাতিয়াপাড়ার জয়নালের মেয়ে মায়ামনি (১০)।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ওই ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। ঈদের সকালে ও বিকেলে ব্রিজ ও তার আশপাশে মানুষের চাপ ছিল বেশি। অতিরিক্ত সংখ্যক মানুষ দাঁড়িয়ে থাকায় হঠাৎ করে ব্রিজ ভেঙে গেলে অনেকে স্রোতে ভাসতে শুরু করে।

    ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেকেই সাঁতার কেটেই তীরে উঠতে সক্ষম হন, তবে কিছু শিশুকে দ্রুত উদ্ধার করা যায়নি। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন উদ্ধার অভিযান শুরু করেন এবং আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

    দেওয়ানগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের লিডার মুবিন খান বলেন, উদ্ধার কাজ চলমান আছে এবং নিখোঁজদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকর্মীরা এখনও ঘটনাস্থলে কাজ করছেন।

    স্থানীয়রা আহত ও নিহতদের পরিবারকে সহায়তা করার জন্য এগিয়ে এসেছে এবং তদন্ত করে দায়িত্বশীলদের এ ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে অনুরোধ করছে। উদ্ধারকাজ ও নিখোঁজদের খোঁজ অব্যাহত রয়েছে।

  • কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি — নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি — নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচন জানার পর থেকে নানা মন্তব্য ও কর্মকাণ্ডের কারণে আলোচনা ও সমালোচনার মুখে রয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সবসময়ের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কিছু কথা ভাইরাল হওয়ায় তিনি জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে বিতর্কেও জড়ান।

    আজ বুধবার সকালে প্রকাশিত এক পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, যদি তার কোনো বক্তব্য বা কাজ অনিচ্ছাকৃতভাবেই কারো কষ্টের কারণ হয়ে থাকে তবে তিনি আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছেন।

    পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘‘গত কয়েক দিনে বয়োজ্যেষ্ঠ বন্ধু, রাজনৈতিক শুভাকাঙ্ক্ষী, মন্ত্রী-এমপি ও প্রিয় সহযোদ্ধাদের সঙ্গে কিছু আন্তরিক আলোচনা হয়েছে। সবার কাছ থেকেই আমি সুন্দর ও যত্নশীল দিকনির্দেশনা পেয়েছি—ব্যক্তিগত আক্রমণ এড়িয়ে চলা, অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা পরিহার করা এবং গঠনমূলক আলোচনায় মনোযোগ দেওয়া।’’

    তিনি আরও বলেছেন, ‘‘আমি বিনয়ের সঙ্গে সেই পরামর্শগুলো গ্রহণ করছি এবং bundan পর আরো শান্ত ও দায়িত্বশীলভাবে পথ চলার চেষ্টা চালাব। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অগ্রগতির জন্য নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করে যেতে চাই।’’

    পাটওয়ারী তার পোস্টে বলেন, ‘‘আমার কোনো কথা বা কাজে অনিচ্ছাকৃতভাবে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আপনাদের দোয়া, ভালবাসা ও পরামর্শই আমার পথচলার শক্তি।’’

    তিনি জানালেন, ‘‘গতকাল ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে কিয়ামুল লাইলের মাধ্যমে এই আত্মিক যাত্রার নীরব সূচনা করেছি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে ক্ষমা করুন এবং সঠিক পথে পরিচালিত করুন—এই দোয়া করি।’’

    পাঠক ও সমর্থকদের প্রতি তার আহ্বান ছিল—সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে গণসেবা ও দেশের উন্নয়নের লক্ষ্যে সক্রিয় থাকতে।

  • জামায়াত–এনসিপি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বিএনপি এমপি মনিরুল হক চৌধুরী

    জামায়াত–এনসিপি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বিএনপি এমপি মনিরুল হক চৌধুরী

    রবিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে জামায়াত ও এনসিপি নিয়ে খোঁজখবরমূলক মন্তব্য করেন বিএনপি সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    তিনি বলেন, স্বাধীনতার পরও একটা মেধাবী অংশ গঠন করেছিল জাসদ; পরে কিছু বাড়াবাড়ির ফলে দেশ ও জাতি যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেটি পুরোপুরি অগ্রাহ্য করা যায় না। এমন সময়ে আমাদের সকলের জন্য তিনি এক অন্তর্যামী কামনা জানান—‘‘আল্লাহ আমাদের যেন সবকিছু হজম করার তৌফিক দেন।’’

    মনিরুল হক চৌধুরী বেগম খালেদা জিয়ার নাম স্মরণ করে বলেন, ১৯৯১ সালের সংসদে তিনি নিজে তাদের সঙ্গে কাজ করেছেন এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কঠোর অবস্থান সত্বেও কখনো দলগত রাজনীতি ছেড়ে দেননি। তিনি দলের অভ্যন্তরে যারা প্রশ্ন করেন তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশে যেন ১৫-২০ বছর বিএনপির অবস্থা ছিল না—এই মনোভাব ঠিক নয়; দেশনেত্রীর সেই নীতি ও অবদানের কথাও অনুধাবন করা উচিত।

    তিনি আরও বলেন, সংসদে দাঁড়িয়ে কখনো কখনো ভয় হয় বলে অনুভব করেন—আগে যাদের বিরুদ্ধে কথা বলতাম, তাদের চিনতাম; আজকের বিরোধীদের কেউ কেউ এখনও চিনিনা। তারেক রহমানের কথার উল্লেখ করে তিনি বলেন,‘‘আমাদের নেতা বলেছিলেন—কঠিন নির্বাচন। তখন অনেকে বোঝেনি, পরে নির্বাচন করে আমরা বুঝেছি কতটা কঠিন পরিবেশ পেরোতে হয়েছে।’’

    এছাড়া তিনি দাবি করেন, এত সংখ্যক সদস্য নিয়ে সংসদে আসার পর আলহামদুলিল্লাহ বলা উচিত ছিল জামায়াতে ইসলামীর মতো সংগঠনের কথাও মনে রাখা। কিন্তু আজ চারপাশে তাদের সম্পর্কে নানা প্রশ্ন ওঠছে—কিছু জীবিত মুক্তিযোদ্ধার ভূমিকা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, এমনকি মুক্তিযুদ্ধকে অন্য কোনো ঘটনার সঙ্গে এক কাতারে আনা হচ্ছে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

    শেষে তিনি বলেন, ‘‘যদি কোনো সময় ফ্যাসিস্ট শাসনামলে বিচারের নামে অন্যায় করা হয়ে থাকে, সেটা আলাদা বিষয়।’’ মহান সংসদকে এই প্রশ্ন রেখে তিনি জামায়াত ও এনসিপি সম্পর্কে একটি ব্যক্তিগত মতও জানান—স্বাধীনতার পরে বা এনসিপির মতো কিছু সংগঠনের নেতা-প্রতিনিধির বয়স কম হলেও তিনি তাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, কারণ তারা সাহসী এবং বর্তমান যুগের দাবি মেটায়।

  • চট্টগ্রাম-মোংলা বন্দর ও শিপিং করপোরেশনে অনিয়ম: দুদক অনুসন্ধান শুরু

    চট্টগ্রাম-মোংলা বন্দর ও শিপিং করপোরেশনে অনিয়ম: দুদক অনুসন্ধান শুরু

    দুর্নীতি ও নিয়োগসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। চট্টগ্রাম বন্দর, মোংলা বন্দর ও বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের একাধিক প্রকল্প নিয়ে অনুসন্ধান চালাতে চারটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার প্রধান হিসেবে রাখা হয়েছে উপ-পরিচালক নাজমুচ্ছায়াদাতকে।

    দুদক সূত্রে রোববার (১৫ মার্চ) জানানো হয়েছে, প্রাথমিক অভিযোগ অনুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে একাধিক আর্থিক অনিয়মের আভাস মেলে। বিশেষত তিনি যখন বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন, তখন ২ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকার বাজেটে ৬টি জাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল; কিন্তু বাস্তবে কেনা হয় মাত্র চারটি জাহাজ। এ ঘটনায় প্রায় ৪৮৬ কোটি টাকার আর্থিক অসঙ্গতি দেখা গেছে বলে দুদকের প্রাথমিক নিরীক্ষায় জানা গেছে।

    এছাড়া মোংলা বন্দরের ‘‘পশুর চ্যানেল সংরক্ষণ ড্রেজিং’’ প্রকল্পে ১ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও তাতে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দুদকের অনুসন্ধানকারী দল সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো থেকে নথিপত্র তলব করেছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের তত্ত্বাবধানে মানুষছে।

    দুদক বলেছে, গঠিত কমিটিগুলো প্রকল্পের নির্ধারণকৃত বাজেট, ঠিকাদারি চুক্তি, অর্থপ্রদানের বিবরণ, নিয়োগ ও প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতা যাচাই করবে এবং প্রয়োজনীয় হলে مزید তদন্ত, নোটিশ বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে। অনুসন্ধানের অগ্রগতি ও ফলাফল সম্পর্কে পরবর্তী বিজ্ঞপ্তি দেয়া হবে।